আসিফ মহিউদ্দীনের উপর সাম্প্রতিক হামলা, ভবঘুরের পোস্ট নিয়ে ক্যাচাল কিংবা বাচ্চু রাজাকারের বিচারের রায় নিয়ে বিভিন্ন ডামাডোলের মধ্যে অনেকরই হয়তো একটি সংবাদ চোখ এড়িয়ে গেছে। এইডসের সম্ভাব্য প্রতিষেধক খুঁজে পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার একদল বিজ্ঞানী (দেখুন এখানে, কিংবা এখানে)।

গবেষক ডেভিড হ্যারিচের নেতৃত্বে একদল গবেষক জিন থেরাপির মাধ্যমে এইচআইভি ভাইরাসের প্রোটিনকে পরিবর্তন করে দেখেছেন সেটি  ভাইরাসের ভবিষ্যৎ-রেপ্লিকেশন বা পুনরুৎপাদনে বাঁধা দেয়। এর ফলে এইচআইভি ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শেষ পর্যন্ত এইডসে আক্রান্ত হবে না, সুপ্ত ভাইরাস দেহে ধারণ করেই সুস্থভাবে জীবন কাটাতে পারবে।

ড. হ্যারিচ ১৯৮৯ সাল থেকেই এই ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করছিলেন। তখন তিনি ছিলেন আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায় পিএইচডি রত।  তাঁর এইচ আইভি ভাইরাসের জেনেটিক এক্সপ্রেশন সংক্রান্ত গবেষণা অটুট ছিল তিনি ১৯৯৭ সালে অস্ট্রেলিয়াতে পারি জমিয়ে কুইন্সল্যাণ্ড ইন্সটিটিউট অব মেডিক্যাল রিসার্চ-এ যোগদানের পরেও। অন্তিম সফলতা ধরা দেয় ২০০৭ সালে, যখন তিনি তার কিছু ছাত্রকে কথিত  ‘নালবেসিক’ প্রোটিন এইচআইভি ভাইরাসকে প্রশমিত করে অসংক্রামক জীবাণুতে পরিণত দিতে পারে কিনা পরীক্ষা করে দেখতে বলেন।  তার ছাত্র পরীক্ষা করে ফিরে এসে জানালো, সত্যই পারছে!  তিনি তাকে পরীক্ষাটি আবারো করতে বললেন। তারপরে আবারো। প্রতিবারই দেখা গেল প্রোটিনের এই পরিবর্তন এইচআইভির মত বিষধর গোখরা সাপকে একদম নির্বিষ ঢোরা সাপে পরিণত করে দিয়েছে।  তার গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে হিউম্যান জিন থেরাপি জার্নালের সাম্প্রতিক সংখ্যায় ( Hum Gene Ther. 2013 Jan 8 )[1]

 

ডেভিড হ্যারিচ – যিনি সম্প্রতি এইডস-এর প্রতিষেধক পাওয়ার দাবী করেছেন।

ডক্টর হ্যারিচের গবেষণা আমাদের আশাবাদী করে তুললেও স্বভাব-দোষে আজন্ম সংশয়ী মানুষ আমি, আমার কিছুটা সংশয় থেকেই যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার নিউজ-মিডিয়ায় খবরটি ফলাও করে প্রকাশিত হলেও আমি দেখলাম সিএনএন সহ বড় বড় মিডিয়া কিন্তু এ ব্যাপারে এখনো টু শব্দ করেনি। এটার একটা কারণ সম্ভবত: ল্যাবে গবেষণাটি প্রত্যাশিত ফলাফল দিলেও যতক্ষণ না বিভিন্ন প্রাণী এবং মানুষের উপর পরীক্ষা না করা হচ্ছে, ততক্ষণ এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দেওয়াই হবে অভিপ্রেত। যদিও ডক্টর হ্যারিচ তার অস্ট্রেলিয়ান টিভি সাক্ষাৎকারে খুব আস্থার সাথেই বলেছেন যে জিন থেরাপির এ প্রক্রিয়াটি মানুষের উপরেও একইভাবেই কাজ করবে, কিন্তু যতক্ষণ না ব্যাপারটি হচ্ছে লাল ঝাণ্ডা তুলে রাখতেই হচ্ছে।

আমরা বরং এই ফাঁকে এইডস সংক্রান্ত আরো কিছু খোঁজ খবর এবং সাম্প্রতিক অগ্রগতির খবর শুনি। গতবছর সায়েন্টিফিক আমেরিকান ম্যাগাজিনে এইডস নিরাময়ের অন্ততঃ দু দুটো সফল গবেষণার খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে সেখানে যাবার আগে একটু বেসিক জিনিসপত্র ঝালিয়ে নেয়া যাক।

এইডসের অ আ ক খ :

প্রথমেই জেনে নেয়া যাক এইডস সম্বন্ধে প্রাথমিক কিছু তথ্য। এইডস কোন আলাদা রোগ নয়, এটি হচ্ছে কতিপয় উপসর্গের সমষ্টি যা টি-৪ লিম্ফোসাইট (লসিকা কোষ) ধ্বংস, দৈহিক প্রতিরোধ প্রক্রিয়া হ্রাস (যা স্বাভাবিক রোগ প্রতিক্রিয়ার কারণে কখনোই ঘটবে না)  – যেমন নিউমোসিসটিস কারিনি নিউমোনিয়া (PCP) এবং ক্যাপোসিস সারকোমা (KS) ইত্যাদির মাধ্যমে ঘটে।  এইডসের পেছনে দায়ী হচ্ছে একটি ভাইরাস, নাম – হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস সংক্ষেপে এইচআইভি । ১৯৮৩ সালের দিকে রবার্ট গ্যালো এবং লাক মন্টাগনিয়ার পৃথকভাবে এই ভাইরাসটি আবিষ্কার করেন, যদিও নোবেল কমিটির নির্বাচনে রবার্ট গ্যালো বিবেচিত হননি।

দুই ধরণের এইচ আই ভি ভাইরাসের কথা আমরা জানি। এইচআইভি-১ এবং এইচআইভি-২।  প্রথমটি দৃশ্যমান পশ্চিম ইউরোপ, আমেরিকা এবং মধ্য ইউরোপে। দ্বিতীয়টি পশ্চিম আফ্রিকায়। প্রকোপ এবং মাত্রায় কিছুটা পার্থক্য থাকলেও দুটো ভাইরাস একই রকমভাবেই ক্রিয়া করে। এইচআইভি মূলত মূলত লিপিড বাইলেয়ারের চর্বি দিতে আবৃত এক ধরণের ছোট্ট ভাইরাস – আকারে এক মিলিমিটারের দশ হাজার ভাগের একভাগ।  বাইরের আবরণটাকে বলে  ‘ভাইরাল লেফাফা’ (viral envelope or membrane), যেটা থেকে আবার জায়গায় জায়গায় শুঁড়ের মত কতকগুলো  ‘স্পাইক’ বেরিয়ে আসে। এই স্পাইকগুলো  তৈরি হয়   গ্লাইকোপ্রোটিন – জিপি১২০ আর জিপি৪১ নামের প্রোটিন দিয়ে। আর ভাইরাল লেফাফার ঠিক নীচেই পি১৭ নামের প্রোটিন দিয়ে তৈরি ম্যাট্রিক্স নামের একটা স্তর থাকে। আর অভ্যন্তরে থাকে ক্যাপসিড বা ভাইরাল কোর নামে পরিচিত কোনাকার আকৃতির দ্রব্য;  তৈরি হয় পি২৪ প্রোটিন দিয়ে। এর ভিতরেই থাকে পুনরুৎপাদনের জন্য জেনেটিক পদার্থ (আরএনএ) এবং তিন ধরনের এনজাইম  –  রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ, ইন্টেগ্রেজ এবং প্রোটিজ (ছবি দ্রষ্টব্য) [2]

চিত্র:  এইচআইভি ভাইরাস – ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে পাওয়া গঠন থেকে অঙ্কিত চিত্র।

এই ভাইরাস সিডি৪ (CD4) সহায়ক লসিকা কোষ (Th সেল বা টিএইচ কোষ হিসেবে পরিচিত)কে আক্রমণ করে।  এই টিএইচ কোষ হচ্ছে শ্বেত কণিকা – দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে।  এরা কার্যকর থাকে বহিস্থ রোগ জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে।  টিএইচ কোষের মারফত কোষভিত্তিক অর্জিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে দেয়ার মাধ্যমেই এইচআইভি ভাইরাস কাজ করে থাকে। এইচআইভি সংক্রমণের ফলে টিএইচ সেলের আবরণীতে থাকা সিডি-৪ গ্লাইকোপ্রোটিন আক্রান্ত হয়, ফলে কোষভিত্তিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে[3]।  আর এদের মিউটেশন এতই দ্রুত হয় যে, এদের বিরুদ্ধে আমাদের দেহের প্রতিরোধ কিংবা বাজারে প্রচলিত ঔষধ খুব একটা কার্যকরী নয় এখনো।

চিত্র:  এইচআইভি ভাইরাসের মাধ্যমে কোষে যেভাবে সংক্রমণ ঘটে

এইচ আইভি মানেই এইডস নয়:

এখানে একটি কথা মনে রাখতে হবে যে, দেহে এইচআইভি ভাইরাস থাকা মানেই এইডস হওয়া নয়। অনেকের মধ্যে এই ভাইরাস দীর্ঘদিন সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে।  যদিও সাধারণভাবে ধরে নেয়া হয় যে, এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তিদের শতকরা পঞ্চাশ ভাগের এইডস হবে অনধিক দশ বছরের মধ্যে, অনেকের জন্যই সেটা সত্য নয়। আমরা তো বিখ্যাত বাস্কেটবল খেলোয়াড় ম্যাজিক জনসনের কথা তো জানিই। উনি ১৯৯১ সালে এইচ আইভি পজিটিভ হিসেবে চিহ্নিত হলেও তার দেহে এখন পর্যন্ত এইডসের সংক্রমণ ঘটেনি। ২২ বছর পরেও উনি দিব্যি সুস্থ সবল আছেন। গত বছর  সায়েন্টিফিক আমেরিকান ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে বেশ কিছু ব্যক্তির উদাহরণ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে যাদের এইচআইভি সংক্রমণের ত্রিশ চল্লিশ বছর পার হয়ে গেলেও এইডসের উপসর্গ দেখা দেয়নি[4]। এই যেমন ধরুন নীচের এই ভদ্রলোকের কাহিনি। স্টিভেন মুয়েনচ নামের এই লোককে ৩৫ বছর আগে এইচ আইভি পজিটিভ হিসেবে সনাক্ত করা হয়েছিল। এর পর থেকে তিনি এর জন্য কোন চিকিৎসাও নেন না, গ্রহণ করেন না কোন ঔষধ। তারপরেও তার মধ্যে এইডসের কোন উপসর্গ বাসা বাঁধেনি। সায়েন্টিফিক আমেরিকানের প্রবন্ধে এ ধরণের অন্তত: গণ্ডা-খানেক এ ধরনের সৌভাগ্যবান লোকের উদাহরণ হাজির করা হয়েছে।

চিত্র – স্টিভেন মুয়েনচ – এইচ আইভি সংক্রমণের ৩৫ বছর পরেও সুস্থ আছেন দিব্যি।

বিবর্তনগত প্রকরণ এবং এইচ আইভি

কেন এদের এইডস হয়নি? ব্যাপারটি বোঝা জটিল নয়। বিবর্তনের মূল বিষয়টা যারা জানেন, তারা বোঝেন এটা না হবার কোন কারণ নেই। অতীত ইতিহাসের দিকে তাকাই। অতীতে সাড়া পৃথিবীতে প্লেগের মহামারী দেখা গিয়েছিল অনেকবারই। এর মধ্যে চোদ্দ’শ শতকে সংগঠিত ‘ব্ল্যাক ডেথ’ হিসেবে চিহ্নিত  প্লেগের মহামারীতে সাড়ে সাত কোটি থেকে বিশ কোটি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছিল। তারপরেও প্লেগের দানব সবাইকে কাবু করতে পারেনি, দেখা গেছে কিছু কিছু লোকের এই রোগের প্রতি জন্মগত প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে। তারা প্লেগে মারা যায়নি। বাংলাদেশে অতীতে বসন্ত কিংবা টাইফয়েডে গ্রামকে গ্রাম উজাড় হয়ে যেত, এর মধ্যেও মানুষ পাওয়া যেত যারা এই দুর্বিপাক অতিক্রম করে টিকে গেছে।  বিবর্তন-গত প্রকরণের কথা যে আমরা হরহামেশা বলি – সেটার কারণেই এটা হয়। এইডসের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একইরকমের হবার কথা। যেহেতু এইডসের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ব্যবস্থা এখনো অজানা, বেশ কিছু বিজ্ঞানী চেষ্টা করছেন এই দুর্লভ কেস-স্টাডি গুলো অনুসন্ধান করে এইডসের বিরুদ্ধে দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা উদ্ভাবন করতে। অন্তত: একটি ক্ষেত্রে তারা সম্প্রতি সফল হয়েছেন[5]। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যাদের দেহে সিসিআর৫ রিসেপ্টর জিনটি অনুপস্থিত, তারা জন্মগত-ভাবেই  এইচআইভি প্রতিরোধে সক্ষম। ডেলটা ৩২ নামে এক বিরল মিউটেশনের কারণে (CCR5-Delta32 mutation) এই ব্যাপারটি ঘটে বলে বিজ্ঞানীরা জেনেছেন। এমনিতে এই মিউটেশন দুর্লভ হলেও উত্তর ইউরোপের অভিবাসীদের বিশেষতঃ জার্মানিতে বহু মানুষের মধ্যেই এটি দৃশ্যমান। এই ধরণের একজন মানুষের দান করা স্টেমসেল থেকে হাড়ের মজ্জা তৈরি করে টিমুথি ব্রাউন নামে এক রোগীকে (যিনি দশ বছর ধরে এইচআইভি এবং লিউকেমিয়াতে আক্রান্ত ছিলেন) সম্পূর্ণ সুস্থ করে ফেলা হয়েছে বলে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে[6]। যে ডাক্তার এই সফল পরীক্ষার মাধ্যমে রোগীকে সুস্থ করেছেন তার নাম গেরো হুটার (Gero Hütter) । তার সাম্প্রতিক সফল ফলাফল সম্বলিত গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ইংল্যণ্ডের একটি বৈজ্ঞানিক জার্নালে[7]

ঐ দিকে আবার পলা ক্যাননের নেতৃত্বে আরেকদল গবেষক-দল একইভাবে সমস্যার সমাধান করেছেন অর্থাৎ সিসিআর৫ রিসেপ্টর জিনটি ছেঁটে ফেলেছেন ‘জিঙ্ক ফিঙ্গার নিউক্লিয়েস’ নামে  ভিন্ন একটি পদ্ধতি অনুসরণ করে। তবে তারা মানুষের উপর না করে সেটা করেছেন ইঁদুরের উপর। তারা দেখেছেন যে ইঁদুরের দলটিতে তারা ‘জিঙ্ক ফিঙ্গার নিউক্লিয়েস’ পদ্ধতি অনুসরণ করে  সিসিআর৫ রিসেপ্টর বাদ দিতে পেরেছেন, তারা এইডসে আক্রান্ত হচ্ছে না। তাদের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে নেচার বায়োটেকনোলজি জার্নালে ২০১০ সালে[8]

চিত্র – ‘জিঙ্ক ফিঙ্গার নিউক্লিয়েস’ পদ্ধতির মাধ্যমে সিসিআর৫ রিসেপ্টর ছেঁটে ফেলে এইচ আই ভির বিস্তার রোধ।

কাজেই এটুকু বলা যায় যে, কেউ যদি এই প্রবন্ধের একদম উপরে বর্ণিত গবেষক ডেভিড হ্যারিচের ফলাফলকে এখনই ‘সফল’ হিসেবে দেখতে না চান, তাতে কুছ নেহি; অন্যান্য গবেষকেরা যেভাবে ব্যাপারটি নিয়ে কাজ করেছেন, তাতে  ভবিষ্যতের এইডসের চিকিৎসা কিন্তু একেবারে তমসাচ্ছন্ন নয়।

তবে এটা ঠিক সবাই তো আর এইচ আইভি প্রতিরোধের অনুপম সৌভাগ্য নিয়ে পৃথিবীতে জন্মায়নি। আর স্টেমসেল থেকে হাড়ের মজ্জা তৈরি করে টিমুথি ব্রাউনকে যেভাবে সুস্থ করা হয়েছে তা কেবল সৌভাগ্যপ্রসূতই নয়, ব্যায়বহুলও।  এ ধরণের একটি অপারেশনে খরচ পড়ে ২৫০, ০০০ আমেরিকান ডলার।  আর তারচেয়েও বড় কথা কাউকে সুস্থ করার জন্য সব কিছু খাপে খাপ মিলে যাওয়া ‘ডোনার’ পাওয়া দুষ্করও।  সাধারণ মানুষ নিঃসন্দেহে এ চিকিৎসা নিতে পারবেন না। তাদের জন্য এখন পর্যন্ত এন্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (antiretroviral therapy, সংক্ষেপে ART)ই ভরসা। এন্টিরেট্রোভাইরাল ড্রাগ আসলে বিভিন্ন ঔষধের সম্মিলিত ককটেল, যা এইচআইভি আক্রান্ত রোগীদের সম্পূর্ণ নিরাময় করতে না পারলেও তাৎক্ষণিক মৃত্যুর ফতোয়াকে অনেকটাই ‘নিয়ন্ত্রণ-সাধ্য দীর্ঘস্থায়ী রোগাবস্থায়’ (manageable chronic disease)  রূপান্তরিত করা সম্ভব হয়েছে[9], বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে প্রত্যাশার চেয়ে দীর্ঘদিন বেশী। এখন কথা হচ্ছে, ডকটর ডেভিড হ্যারিচের পদ্ধতি কাজ করলে আরো পোয়াবারো! এন্টিরেট্রোভাইরাল ড্রাগ ব্যবহার বাদ দিয়ে ‘জিন থেরাপি’র মাধ্যমে মানে এইচআইভি ভাইরাসের প্রোটিনকে পরিবর্তন করে ভবিষ্যতে রোগীদের পুরোপুরি নিরোগ জীবন দেয়া সম্ভব হবে।

দেখা যাক …

তথ্যসূত্র:

[1] Apolloni A, Sivakumaran H, Lin MH, Li D, Kershaw MH, Harrich D., A mutant Tat protein provides strong protection from HIV-1 infection in human CD4+ T cells., Hum Gene Ther. 2013 Jan 8.

[2] Warner C. Greene, AIDS and the Immune System; Scientific American Magazine, September 1993.

[3] Robin A. Weiss, How Does HIV Cause Aids?  Science, Vol. 260, Pages 1273 -1279, May 28, 1993.

[4] Bruce D. Walker, Secrets of the HIV Controllers, Scientific American, July, 2012.
[5] Carl June and Bruce Levin, Blocking HIV’s Attack, Scientific American, March 2012

[6] Tina Rosenberg, The Man Who Had HIV and Now Does Not, New York Magazine, May 29, 2012

[7] Gero Hütter et al., Long-Term Control of HIV by CCR5 Delta32/Delta32 Stem-Cell Transplantation. in New England Journal of Medicine, Vol. 360, No. 7, pages 692–698; February 12, 2009.

[8] Elena E. Perez et al., Establishment of HIV-1 Resistance in CD4+ T Cells by Genome Editing Using Zinc-Finger Nucleases, Nature Biotechnology, Vol. 26, pages 808–816; 2008.

[9] Paul A Volberding, Steven G Deeks, Antiretroviral therapy and management of HIV infection, Lancet, Jul 3;376(9734):49-62,  2010.

[1302 বার পঠিত]