মানবদেহে বিবর্তনের চিহ্ন

By |2016-07-02T01:40:16+00:00জানুয়ারী 11, 2013|Categories: জৈব বিবর্তন, মানব বিবর্তন|53 Comments

বিবর্তন একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। আমাদের দৈনন্দিন পর্যবেক্ষণ থেকে এটুকু আমরা বুঝতে পারি, যেকোনো প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াই কম-বেশী এলোমেলো (বিক্ষিপ্ত) এবং নিয়ন্ত্রনহীন। সেকারনে ঝড়ের গতিপথ কথনো সরলরৈখিক হয় না কিংবা নির্দিষ্ট্য জ্যামিতিক আকৃতির কোনো প্রাকৃতিক জলাভূমিও পাওয়া যাবে না। বিবর্তন যেহেতু একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া সেহেতু এই প্রক্রিয়াটিও এলোমেলোভাবে বা বিক্ষিপ্তভাবে হবে এটাই স্বাভাবিক এবং বাস্তবতাও সেটাই। বিবর্তন পুরোপুরিই একটি বিক্ষিপ্ত প্রক্রিয়া।

এখানে প্রশ্ন হতে পারে, বিবর্তন যদি বিক্ষিপ্ত বা এলোমেলো প্রক্রিয়া হয় তাহলে আমাদের শরীর এতো নিখুঁত, এতো সুগঠিত হলো কি করে?এর প্রথম উত্তর হল: প্রাকৃতিক নির্বাচন। প্রকৃতিতে কেবল যোগ্যরাই টিকে থাকে এবং অযোগ্যরা বিলুপ্ত হয়ে যায়। আদি এককোষী ব্যক্টেরিয়ার বংশধরদের মধ্যে যাদের শরীর অন্তত এতটুকু নিখুঁত যে সে অন্তত নতুন বংশধর তৈরি হওয়া পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারবে সে-ই প্রজাতিটিই কিন্তু টিকে যাবে (কারন সে নতুন কয়েকজনকে রেখে মারা গেল; এরাও একইভাবে কয়েকজনকে রেখে মারা যাবে)। নতুন বংশধরের মধ্যে আবার বিবর্তন প্রক্রিয়ায় নতুন বৈশিষ্ট্যের বংশধরের সৃষ্টি হবে এবং এদের মধ্যে যাদের বৈশিষ্ট্যগুলো পরিবেশের সাপেক্ষে বেশি নিখুঁত হবে তারাই টিকে থাকবে। এই প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি বছরের ক্রমাগত বিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের উদ্ভব হয়েছে এবং বলা বাহুল্য মানুষের শরীরও নিখুঁত নয়। আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের বিবর্তনঘটিত বিভিন্ন সমস্যার মুল্য দিয়ে চলেছি। তবে এরপরও প্রজাতি হিসেবে আমরা টিকে আছি কারন আমাদের দৈহিত খুঁতগুলো আমাদের টিকে থাকার জন্য এখনো হুমকি হয়ে ওঠে নি। আমাদের দৈহিক খুঁতগুলো যদি এমন কঠোর হতো যে আমারা আমাদের সন্তান জন্মদানের আগেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি তাহলে আমাদের প্রজাতিটি টিকে থাকতো না। তবে এমন নিশ্চয়ই হয়েছে বিবর্তনের ধারায় কোন প্রাণীর খুঁত অত্যন্ত বেশী হয়ে গেছে ফলে তারা তাদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারে নি। আজ মানবদেহের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ননা করব যেগুলো বিবর্তনীয় প্রক্রিয়ায় মানুষ পুর্বপুরুষের কাছ থেকে বহন করে চলেছে এবং মানুষ যদি কোনো বুদ্ধিমান সত্ত্বার কাছ থেকে সরাসরি সৃষ্টি হতো তাহলে এই খুঁতগুলো থাকত না।

গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাওয়া: শীতের প্রভাবে, রেগে গেলে কিংবা ভয় পেলে আমাদের গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়। যেহেতু মানুষের অধিকাংশ লোম বিবর্তনের ধারায় ঝরে পড়েছে তাই মানবদেহে লোম দাঁড়িয়ে যাওয়ার কোনো তাৎপর্য নেই কিন্তু মানুষের পূর্বপুরুষদের এই বৈশিষ্ট্যটি বিশেষ অর্থবহ ছিলো। শীতের সময় গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেলে লোমের ফাঁকে বাতাস আটকে শরীরকে তাপনিরোধক করা সম্ভব ফলে শীতের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এছাড়া শিকারের সময় কিংবা শিকারী তাড়া করার সময় গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায় এর ফলে প্রাণীটিকে তুলনামূলকভাবে বড় মনে হয় যা তাকে অন্য প্রাণীর সাথে মোকাবেলায় কিছুটা সুবিধা দান করে। আপনারা মোরগের লাড়াই লক্ষ করলে এটা ভালো বুঝতে পারবেন।


হেঁচকি ওঠা:
আমাদের ফুসফুসের নিচে ডায়াফ্রাম নামক একটি অঙ্গ আছে, যার পেশীর নাড়া-চাড়ার মাধ্যমে আমরা শ্বাঁস-প্রশ্বাস নিই। কিছু স্নায়ুর মাধ্যমে এই পেশীর নড়া-চড়া নিয়ন্ত্রিত হয়। হেঁচকি আসলে এই ডায়াফ্রামটিরই অত্যাধিক দ্রুত নড়া-চড়া করার ফসল। খুব দ্রুত খাবার খেতে থাকলে কিংবা অতিরিক্ত পরিমানে খাবার খেলে আমাদের হেঁচকি উঠতে পারে। মানুষের জীবনে হেঁচকি ওঠার খুব বেশী প্রয়োজন নেই। তারপরও হেঁচকি ওঠে এবং একবার হেঁচকি ওঠা শুরু হলে অনেক সময় সহজে থামতে চায় না। হেঁচকি এমনকি বছরেরও অধিককাল স্থায়ী হতে পারে। হেঁচকির উপরের আমারদের সরাসরি নিয়ন্ত্রন নেই এবং এটা আমাদের জন্য খুব একটা প্রয়োজনীয়ও নয়। তাহলে এই অপ্রয়োজনীয় কাজটি আমাদের কেন করতে হয়? কারনটা বিবর্তন ঘটিত। হেঁচকি অবশ্য এই অংশের প্রধান আলোচ্য বিষয় নয়, আলোচ্য বিষয়টি হলো ডায়াফ্রামের পেশীনিয়ন্ত্রনকারী স্নায়ুগুলো স্পাইনাল কর্ডের যে অংশ থেকে বের হয়েছে সেটা হল গলার কাছাকাছি। এই অংশথেকে বের হয়ে স্নায়ুরজ্জুগুলো বিভিন্ন ভাবে প্যাঁচ দিয়ে তারপরে ডায়াফ্রামে গিয়ে ঢুকেছে। ছবিতে দেখুন, ৩, ৪ এবং ৫ নম্বর কশেরুকার থেকে স্নায়ুগুলো বের হয়েছে।

এটা অত্যন্ত অদক্ষ একটি ব্যবস্থা। কেননা এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার জন্য একে অনেক সেনসেটিভ অংশের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে যা ঝুঁকিপুর্ন তাছাড়া এতে শক্তির অপচয়ও হয়। এই কারনে বুকে আঘাত লাগলে আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হয়। স্নায়ুরজ্জুগুলোর জন্য সবচেয়ে এফিশিয়েন্ট হত যদি এগুলো মেরুদন্ডের মাঝামাঝি থেকে বের হয়ে ডায়াফ্রামের মধ্যে ঢুকত। কিন্তু বিবর্তনের মাধ্যমে এই বৈশিষ্ট্যটিকে ব্যখ্যা করা যায়। এটা বোঝার জন্য আমাদেরকে বিবর্তনের ধারায় পিছিয়ে গিয়ে মাছ পর্যন্ত যেতে হবে। মাছের শরীরে এই স্নায়ুগুলো কানকো নড়াচড়ার জন্য ব্যাবহৃত হয় এবং মাছের কানকো থাকে ঘাড়ের কাছাকাছি। ফলে মাছের জন্য ঘাড়ের কাছ থেকেই এই স্নায়ুগুলো বের হওয়া সবচেয়ে দক্ষ ডিজাইন। ক্রমে মাছের বিবর্তন ঘটে যখন উভচর হল, তখন তাদের ফুসফুস গঠিত হল। কিন্তু যেহেতু তারা উভচর, তাদের জীবনের বেশ বড় একটা অংশ পানিতেই কাটত(এখনো কাটে)। ফলে, পানি যাতে ফুসফুসে ঢুকে না যায়, তার একটা প্রতিরোধ ব্যবস্থা হল হেঁচকি। উভচরের ক্ষেত্রে হেঁচকি আরো দীর্ঘ সময়ের প্রক্রিয়া এবং এটা তাদেরকে গভীর পানিতেও ফুসফুসে পানি ঢোকার হাত থেকে রক্ষা করে। উভচর যখন হেঁচকির বৈশিষ্ট্য প্রাপ্ত হল তারপরই এদের একাংশ স্তন্যপায়ীতে পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হল। বলা বাহুল্য স্নায়ুগুলো মাছের মধ্যে যখন একবার ঘাড়ের কাছ থেকে বের হয়ে গেছে এরপর এদের আর ভেতরে ঢোকার সুযোগ হয় নি এবং স্তন্যপায়ীর ক্ষেত্রে ডায়াফ্রাম যেহেতু নিচে নেমে গেছে এদেরকে ওখান থেকেই বের হয়ে নিচে নেমে আসতে হয়েছে। এই আসার পথে তারা সরাসরি না এসে ঘুর পথে এগিয়েছে, পাক দিয়ে এগিয়েছে কেননা বিবর্তনে কেউ হাতে ধরে ডিজাইন করে না। এটা একটা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া আর যেকোনো প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াই এলোমেলোভাবে সম্পাদিত হয়।

কানের অতিরিক্ত পেশি এবং ডারউইন’স পয়েন্ট: বেশকিছু প্রানী কানের বহিরাংশ নাড়াতে পারে। কান নাড়ানোর মাধ্যমে তারা মাথা না নাড়িয়েও শব্দের উৎসের প্রতি আরো বেশী মনোযোগ দিতে পারে। এই কাজে তাদের সাহায্য করে কানের তিন পাশে অবস্থিত বেশ কিছু পেশি। কিন্তু মানুষ যদিও কান নাড়তে পারে না তথাপি কানের এই পেশিগুলো এখনো মানুষের মাঝে বিদ্যমান (ছবিতে দেখুন)।

এছাড়া ডারউইন’স পয়েন্ট নামের আরেকটি অংশ কানের বহির্ভাগে রয়ে গেছে যা অন্যান্য প্রাণীদের শব্দের উৎসের প্রতি মনোযোগ দিতে সাহায্য করে। বলা বাহুল্য এটিও মানুষের কোনো কাজে আসে না।

পুরুষের স্তনের বোঁটা: পুরুষের শরীরে স্তনের বোঁটা কি কাজে আসে বলতে পারেন কি?

অ্যাপেনডিক্স: দীর্ঘদিন ধরে মানুষ শরীরে এপেনডিক্সের কোন কাজ খুঁজে পায় নি (তেমন কোনো কাজ নেই বলেই)। এটা শরীরের জন্য একটা উৎপাত বিশেষ এবং মাঝে মাঝেই আমাদের অ্যাপেন্ডিসাইটিসে ভুগে একে শরীর থেকে বের করে দিতে হয়। কাজ নেই বলে এবং বৃহদান্তের একমাথায় বাড়তি অংশ হিসেবে থাকে বলে একে অ্যাপেনডিক্স বলা হয়।(অ্যাপেনডিক্স হল বাড়তি অংশ, ডিকশনারীতে যেমন বাড়তি অংশ হিসেবে অ্যাপেনডিক্স থাকে)। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় এবং অন্যান্য প্রাণীর উপর গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারলেন, এপেনডিক্স আসলে সেলুলোজ হজমে সহায়তা করে। যেহেতু বিবর্তনের ধারায় মানুষের শরীরে সেলুলোজ হজম করার এনজাইম উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে এবং মানুষ এখন আর সেলুলোজ হজম করে না, তথাপি পুর্বপুরুষের স্মৃতিস্বরুপ এখনো এটি মানুষের শরীরে রয়ে গেছে।


হার্নিয়া সমস্যা:
ব্রিটেনে প্রতি চারজন পুরুষের একজন হার্নিয়ায় আক্রান্ত হয়। হার্নিয়া সাধারণত তলপেটের একটা সমস্যা এবং এতে আক্রান্ত হলে শুক্রাশয়ের বা বৃহদান্তের একটা অংশ স্ফীত হয়ে আবরণের বাইরে চলে যায় এবং তলপেটে সমস্যা সৃষ্টি করে। এটাও একটা বিবর্তন ঘটিত সমস্যা। এই জন্য আবার আমাদের মাছের দিকে ফিরে যেতে হবে। মাছের প্রজননতন্ত্র যকৃতের নিচেই অবস্থান করে। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে এটা অনেকটা নীচে নেমে এসেছে। ভ্রুনাবস্থায় কিন্তু এই অংশটা যকৃতের কাছাকাছিই থাকে। কিন্তু পুর্নাঙ্গ হওয়ার সময় আস্তে নিচের দিকে নেমে যায় যার ফলে এর সাথে কিছু কিছু টিস্যু জড়িয়ে যায়।

হাঁটু:
মানুষের হাঁটু এখনো শরীরের ভার বহন করার জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত নয় এবং একটু বয়স হয়ে গেলেই হাঁটা-চলায় সমস্যা দেখা দেয়। মানুষ ছাড়াও চতুষ্পদ জন্তুর ক্ষেত্রেও এই ধরনের সমস্যা দেখা যায়। সাঁতারের উপযোগী অঙ্গের বিবর্তন থেকে পায়ের সৃষ্টি হয়েছে বলেই এই সমস্যা।

তৃতীয় চোখের পাতা বা nictitating membrane: উভচর কিংবা পাখির চোখে nictitating membrane নামক এক ধরনের পাতলা পর্দা থাকে। একটা স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিরল কিন্তু মানুষের চোখে এখনো এর অবশেষ রয়ে গেছে। চোখের দিকে ভালো করে তাকালে তৃতীয় এই পাতা দেখা যায়।

মানব-মস্তিষ্ক: মানব মস্তিষ্ক নিয়ে আমাদের অনেকের মাঝেই একধরনের গর্ববোধ আছে। তবে মানব মস্তিষ্ক যে মোটেই ইন্টেলিজেন্ট কোনো ডিজাইন নয় তার ধারনা পাবেন অভিজিৎ রায়ের এই লেখা থেকে

উপরে আলোচিত বিভিন্ন সমস্যা ছাড়াও, বহু মরাত্মক রোগ যথা: ক্যন্সার, বহুমূত্র, উচ্চরক্তচাপ, হিমোফিলিয়া, সিকলসেল ডিজিজ (এই রোগ হলে মানুষের লোহিত রক্ষা কণিকা স্বাভাবিক আকার ছেড়ে কাস্তের মত সরু হয়ে যায়) সহ আরো অনেক রোগ বিবর্তনের কারনেরই ঘটে।

'সবার জন্য বিজ্ঞান' এই মটো মনে ধারন করে লিখি।

মন্তব্যসমূহ

  1. সাদা-কালো মে 15, 2014 at 1:58 অপরাহ্ন - Reply

    আমি মনে করি মানুষের ভিতরে ব্যাকটেরিয়ার বিবর্তন, বিবর্তনবাদ প্রমানে যথেষ্ট

  2. ভক্ত জানুয়ারী 19, 2013 at 11:26 পূর্বাহ্ন - Reply

    ‍িববতর্ন ‍িবষয়ক এই লেখা‍ট‍ি অনকে ভা‍‍লা লেগেছে।

    মানব জা‍ত‍ির ‍িভতর ‍িকছু সম্প্রদায় তাদের পুরুষদের ‍‍ল‍িেঙ্গর সামনের ‍িদককার ত্বক কটে ফেলে। এটা অত্যন্ত অমান‍িবক যে, ত্বক ‍কটে ফেলার এই ব্যাপারট‍ি সংশ্ল‍িষ্ট ব্যক্ত‍ির অন‍িচ্ছাতেই করা হয় অধ‍িকাংশ ক্ষেেত্র।

    যদ‍ি পুরুষদের ‍‍ল‍িেঙ্গর সামনের ‍িদককার ত্বক কে অপ্রয়োজনীয় বলে কাটা হয় তাহলে পুরুষের স্তনের বোঁটা এবং অ্যাপেনডিক্স কে তারা কেন কেটে ফেলে না?

    পুরুষদের ‍‍ল‍িেঙ্গর সামনের ‍িদককার ত্বক কেটে ফেলার ব্যাপারটি যদি শুধুই ধমীর্য় ব্যাপার হয়ে থাকে তাহলে কোন মুক্ত মনা লেখককে এই ব্যাপারে মত প্রকাশ করতে দেখিনা কেন? আশারাখি মুক্ত মনার শ্রদ্ধেয় লেখকদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে মতামত পাবো।

    • ভক্ত জানুয়ারী 20, 2013 at 10:15 পূর্বাহ্ন - Reply

      @ভক্ত,

      সরি, লেখার সময় ফন্ট সেটিংসে সমস্যা হয়েছিল।

  3. সংবাদিকা জানুয়ারী 14, 2013 at 7:36 পূর্বাহ্ন - Reply

    আজ মানবদেহের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ননা করব যেগুলো বিবর্তনীয় প্রক্রিয়ায় মানুষ পুর্বপুরুষের কাছ থেকে বহন করে চলেছে এবং মানুষ যদি কোনো বুদ্ধিমান সত্ত্বার কাছ থেকে সরাসরি সৃষ্টি হতো তাহলে এই খুঁতগুলো থাকত না।

    বিবর্তনবাদ কি এবং বৈজ্ঞানিক ভাবে এর আলোচনার স্কোপ এখন পর্যন্ত কি এ সম্পর্কে উৎসাহী (এন্থুজিয়াস্টিক-পপুলার সাইন্সের নিরিখে) এর পক্ষের এবং বিপক্ষের মধ্য অনেক ভুল ধারনা আছে ঠিক যেমন আছে নিউক্লিয়ার-কোয়ান্টাম ফিজিক্স সম্পর্কে এমনকি প্রাত্যহিক ব্যবহার্য বিদ্যুৎ সম্পর্কে।

    ১। বিবর্তনবাদ কখনো সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করেনা; বরঞ্চ সৃষ্ট প্রাণী জগতের সময়-কালের বিবর্তনে পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    ২।অনেক সময় ভাবা হয় সব পরিবর্তন “ইভ্যুলুশন” কারণে হয়; তবে এটা ছাড়াও এর সঙ্গে অন্যান্য আরও অনেক কারণ থাকতে পারে যেমন প্রাত্যহিক জীবন যাত্রা, অভ্যাস, জিনগত পরিবর্তন, পরিবেশ, অবস্থান কিংবা অভিপ্রয়াণ। এটা ধারনার থেকেও দ্রুত ঘটে কিংবা কয়েক কোটি বছর লেগে যায়।

    ৩। সৃষ্টিতত্ত্ব ( ব্রহ্মাণ্ড এবং বিভিন্ন অজানা উপাদান সর্বোপরি প্রাণ এবং জড় এর উৎস) অনেক বেশি জটিল এবং ব্যাপক একটি বিষয়। ব্রহ্মাণ্ডের অরিজিন নিয়েই এখনও সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া অনেক দূরের ব্যাপার, এর মোট ভর নিয়েই এখনও প্রহেলিকার মধ্য সবাই।

    আদতে কোন জ্ঞানই সম্পূর্ণ নয়। বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল। ধাপে ধাপে আগায়। সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হবার মত ধাপে এখনও বিজ্ঞান পৌঁছায়নি। এর মানে এই নয় যে এসব সম্পর্কে একদিন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যাবেনা। তবে সত্যি-কথা হল এই একবিংশ শতাব্দীতে যে বৈজ্ঞানিক মাল মশল্লা আছে এটা উক্ত সিদ্ধান্তে আসার জন্য মোটেই যথার্থ নয়। হয়ত আরও কয়েকশ বছর কিংবা আরও হাজার বছর পর।

    এক কালের গ্রহণযোগ্য অনুসিদ্ধান্ত পরে ভুল প্রমাণিত হয়; হয়ত সার্বজনীন ভাবে কিংবা ভিন্ন পরিবেশ এবং অবস্থায়। এ মূহুর্তে মনে পড়ছে- অত্যন্ত যৌক্তিক কারণে এক সময় মনে করা হত আলসারের “কারণ” ব্যাকটেরিয়া হতে পারেনা, এখন জানা যায় এর অন্যতম কারণ এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া। বিংশ শতাব্দীতে মানুষ নিশ্চিত হল, সাধারণ গতিসূত্র সব অবস্থায় খাটেনা। সাধারণ তাপগতি বিদ্যার সূত্র গুলো কোন কোন অবস্থায় অসার হবে, এটা একদিন আবিষ্কৃত হবে কি হবেনা কে জানে ???

    কোন কিছু “কেন” উত্তর না জানা সত্ত্বেও প্রাত্যহিক জীবনে অনেক “কিভাবে” উত্তর ব্যবহার করে অনেক কাজ করা যায়। যেমন প্রাচীন কালে নিউটনের সূত্র জানা না থাকলেও এর অনেক ব্যবহারিক দিক দেখা যায় (যেমন পুলি, ক্রেন কিংবা নিক্ষেপক)। আধুনিক কালেও বলা যায় সুপার-কন্ডাকটিভিটির মূল কারণ নিশ্চিত হবার অনেক আগেই এর প্রাত্যহিক ব্যবহার শুরু হয়ে গিয়েছে।

    ইভ্যুলুশন এর নিরিখে সৃষ্টিতত্ত্ব ব্যাখ্যা করার সময় এখনও আসেনি।

    • কাজী মাহবুব হাসান জানুয়ারী 14, 2013 at 9:30 অপরাহ্ন - Reply

      @সংবাদিকা, আমি মনে করি আপনি যে মন্তব্যটিকে হাইলাইট করেছেন আপনার এর প্রত্যুত্তরে করা মন্তব্যটিতে সেটা আসলেই লেখকে মুল মন্তব্যটির প্রাসঙ্গিকতাকে ধরতে পারেনি;

      আমাদের দেহে যে ভেস্টিজিয়াল অঙ্গ কিংবা রেমন্যান্টগুলো আছে সেটা আমাদের বিবর্তনীয় অতীতের (মাছ, সরীসৃপ, স্তন্যপায়ী) চিহ্ন; যদি বিশেষভাবে ও এককভাবে কোন প্রজাতির সৃষ্টি হতো তাহলে এধরনের কোন অ্যাড হক ভিত্তিতে সৃষ্ট নানা বৈশিষ্যবলী নজরে আসার কথা না; কিন্তু প্রাকৃতিক নির্বাচন কাজ করে ঠিক সেভাবেই, বিদ্যমান বৈশিষ্টগুলোকে গড়ে পিটে, এবং এই পক্রিয়াটি নন রানডোম নয়, কারন যে বৈশিষ্ট্যগুলো আমাদের সারভাইভালে দৃষ্টিভঙ্গীতে ফিটনেস এ সহায়তা করবে, সে বৈশিষ্টগুলোই সুবিধা পায় প্রজাতির জীনপুলে সংখ্যায় বাড়ার;

      আর কোন একটি অঙ্গ ভেস্টিজিয়াল বলার অর্থ এই না যে সেই অঙ্গটি কোন কাজ করবে না বা কোন কাজ থাকবে না, ভেষ্টিজিয়াল কারন এটি যে কারনে বিবর্তিত হয়েছিল, সেটি সেই কাজটি করছে না, সে কারনেই;

      অবশ্যই বিবর্তন জীবনের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করেনা, সেটি অ্যাবায়োজেনেসিস এর ক্ষেত্র, সেই জায়গায়টিতে অসংখ্যএবং অসংখ্য গবেষনাপত্র আছে, ক্ষেত্র টি রসায়ন..ভুতত্ত্ববিদ্যার বিশাল একটি ক্ষেত্র, হয়তো কখনোই প্রমান করা সম্ভব হবে না কিভাবে জীবনের উৎপত্তি হয়েছে, কারন সেই আদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ার কোন জীবাশ্ম হয়না; তবে ব্যাখ্যা যোগ্য টেষ্টেবল বেশ কিছু হাইপোথিসিস আছে, সম্ভাব্য সিনারিও আছে সেটি নিয়ে কাজ চলছে অবিরত, এবং অবশ্যই এ বিষয়ে বলার মত কিছু তথ্য বিজ্ঞানীদের আছে; না কাজ শেষ হয়ে যায়নি, আর বিজ্ঞান সেভাবে কাজও করে না;

      বিবর্তন পক্রিয়ার সাথে পদার্থবিদ্যার সমান্তরাল টানাটাকে প্রশ্ন করা যায়, সন্দেহ নেই বিজ্ঞান তার জানার পরিধিকে প্রশ্ন করেই এগিয়ে যায়, তবে জীববিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কিছু জিনিস মনে রাখতে হবে..বিবর্তন
      প্রক্রিয়ার প্রতিটি টেনেট ই অসংখ্য পরীক্ষা করা সম্ভব এমন সব উপাত্ত, এবং ফিজিক্যাল এভিডেন্স এর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, রাতারাতি উল্টো ঘুরে দাড়াবার মত কোন অবকাশ এখানে নেই; আর এই সব প্রমান এসেছে বিজ্ঞানের নানা শাখা থেকে এবং সেটি অব্যাহত আছে ;

      • সংবাদিকা জানুয়ারী 15, 2013 at 10:51 পূর্বাহ্ন - Reply

        @কাজী মাহবুব হাসান,

        ………..এবং মানুষ যদি কোনো বুদ্ধিমান সত্ত্বার কাছ থেকে সরাসরি সৃষ্টি হতো তাহলে এই খুঁতগুলো থাকত না।

        লেখকের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে লেখক এই যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন আমার আর্গুমেন্ট শুধু সেটা নিয়েই। লক্ষ্য করুন, লেখক কিন্তু “নিশ্চিত” বুঝচ্ছেন; কোন “সম্ভাব্যতা” নয়।

        আমি যুক্তি দেখিয়েছি সরাসরি; তবে আমার উদাহরণ গুলো এনালজি।

        আবারও বলছি, আমার মূল আর্গুমেন্ট-

        ১। “ইভ্যুলুশন” এর গবেষণা এখন পর্যন্ত সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করার পর্যায়ে যায়নি এবং এখন পর্যন্ত তা এর স্কোপের বাহিরে; সমসাময়িক শীর্ষ বিজ্ঞানীগণ এ সম্পর্কে মোটেও আগ্রহী নন।

        এর যুক্তিতে আমার উদাহরণ এবং এনালজি-

        ১।এই একবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত যা বৈজ্ঞানিক (ভৌত+জীব) “মালমসলা” আছে ওটা দিয়ে বিজ্ঞান সম্মত ভাবে সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করার সময় এখনো আসেনি। হয়ত নিকট কিংবা অদূর ভবিষ্যতে আসবে। সৃষ্টিতত্ত্ব এখন পর্যন্ত “ডিভিনিটি-থিউলজি” এবং “বিশ্বাস” এর উপরই সীমাবদ্ধ।

        ২। সর্বসাধারণের মাঝে (layperson) ইভ্যুলুশন নিয়ে ঠিক ততটাই ভুল ধারণা যতটা ভুল ধারণা কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে (এনালজিক্যালি)।

        আমাদের দেহে যে ভেস্টিজিয়াল অঙ্গ কিংবা রেমন্যান্টগুলো আছে সেটা আমাদের বিবর্তনীয় অতীতের (মাছ, সরীসৃপ, স্তন্যপায়ী) চিহ্ন; যদি বিশেষভাবে…………

        এই দুটি প্যারার জন্য ধন্যবাদ। আরও লক্ষণীয় আমি কোথাও উচ্চতর জীববিজ্ঞান কিংবা শারীরবিদ্যা কিংবা চিকিৎসা বিদ্যা নিয়ে আলোচনা করিনি । কেননা আমার শিক্ষা এবং আগ্রহ ভৌতবিজ্ঞান (এবং সমাজবিজ্ঞান) কেন্দ্রিক। এজন্য আমি এনালজির আশ্রয় নিয়েছি যেখানে আমার আগ্রহ। কেননা আমি মনে করি কেবল পপুলার নলেজ এর উপর ভিত্তি করে ট্যাকনিক্যাল কিছুর উপর অর্গুমেন্ট করা উচিৎ নয়।

        আপনার-

        অবশ্যই বিবর্তন জীবনের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করেনা………

        উক্তি লেখকের

        মানুষ যদি কোনো বুদ্ধিমান সত্ত্বার কাছ থেকে সরাসরি সৃষ্টি হতো তাহলে এই খুঁতগুলো থাকত না।

        উক্তিটির সরাসরি বিরোধিতা করে এবং আমার মূল আর্গুমেন্টের সাথে একমত পোষণ করে। আপনি সরাসরি জীব বিজ্ঞানের সাপেক্ষে এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন এজন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

        অফটপিকঃ উৎপত্তিগত ভাবে না হলেও অবস্থাগতভাবে (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পেসমেকার কিংবা কৃত্রিম রক্ত) ভৌত বিজ্ঞান এবং জীব বিজ্ঞানের সম্পর্ক দিনে দিনে নিকটবর্তী হয়ে আসছে। এ সম্পর্কে একটি লেখা হলে ভালো হত।

        • সংবাদিকা জানুয়ারী 15, 2013 at 11:03 পূর্বাহ্ন - Reply

          আরেকটি ব্যাপার, জীবকূলের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক পরিবর্তন শুধুমাত্র “বিবর্তনে” নির্ভর করেনা; অন্যান্য আরও অনেক কারণ হতে পারে; আমি আগেই উল্লেখ করেছি যেমন অভ্যাস, জিনগত পরিবর্তন, পরিবেশ, অবস্থান কিংবা অভিপ্রয়াণ ইত্যাদি হতে পারে। এ সম্পর্কে একটি পপুলার সায়েন্স প্রবন্ধ থাকা প্রয়োজন।

          • কাজী মাহবুব হাসান জানুয়ারী 15, 2013 at 12:27 অপরাহ্ন - Reply

            @সংবাদিকা,
            (((…..এবং মানুষ যদি কোনো বুদ্ধিমান সত্ত্বার কাছ থেকে সরাসরি সৃষ্টি হতো তাহলে এই খুঁতগুলো থাকত না।)))

            লেখকের এই আর্গুমেন্ট সরাসরি ক্রিয়েশনিষ্ট/ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন আর্গুমেন্ট এর বিরোধী একটি প্রস্তাব করেছে, এটি কোন নুতন যুক্তি নয় জীববিজ্ঞানে; আর জীববিজ্ঞানে এখানে কোন সম্ভাবনারও জায়গা নেই, এটি প্রমানিত অসংখ্য সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে;

            আপনার মুল আর্গুমেন্ট :

            ১। “ইভ্যুলুশন” এর গবেষণা এখন পর্যন্ত সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করার পর্যায়ে যায়নি এবং এখন পর্যন্ত তা এর স্কোপের বাহিরে; সমসাময়িক শীর্ষ বিজ্ঞানীগণ এ সম্পর্কে মোটেও আগ্রহী নন।

            আপনি সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে নিয়ে যত ব্যপক সীমানা টানুন না কেন, এই কনটেক্সট এ যে সৃষ্টিতত্ত্ব কে বিবর্তনের বাক্যে যুক্ত করেছেন, সেটা প্রাণের উৎপত্তি হওয়াটা ধরে নিতে হবে; বিবর্তন প্রানের উৎপত্তি নিয়ে কোন প্রস্তাব করে না, এটি বিবর্তনের বিষয়ই না, এটি অ্যাবায়োজেনেসিস এর বিষয়, ক্ষেত্রটি রসায়ন… প্রাণরসায়ণ …ভুতত্ত্ববিদ্যার; সুতরাং বিবর্তন বিদ্যা বা এর থেকে উদ্ভুত সহায়ক কোন শাখারই এ বিষয়ে আলোচনার কোন প্রয়োজন নেই; এটি তার বিষয় না;

            সমসাময়িক শীর্ষ বৈজ্ঞানিকরা এ বিষয়ে (অ্যাবায়োজেনেসিস) এ আগ্রহী নয় এই কথাটি ঠিক নয়; প্রচুর বই আর পিয়ার রিভিউড প্রবন্ধ আছে এ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য, আপনি সেটা সার্চ করলেই দেখতে পাবেন..; অ্যান্ডি প্রস এর একটি সাম্প্রতিক বই What is Life?: How Chemistry becomes Biology যেমন layperson দের জন্য এই বিষয়ে আপাতত যে ধারনাগুলো নিয়ে বিজ্ঞানীরা যে কাজ করছেন তার ব্যাখ্যা আছে;

            জীববিজ্ঞানের সাথে আপনার অ্যানালোজী যুক্তিযুক্ত নয়; এটি সমান্তরাল কোন তাত্ত্বিক অবস্থান না; এছাড়া জীববিজ্ঞানে কোন ডিভিনিটির জায়গা নেই, সেটা ডারউইনই বিদায় করে দিয়েছেন, এখন ডিভিনিটি লুকিয়েছে পদার্থ বিদ্যার খরগোশের গর্তে ; সেখানেও তার জায়গা মিলছে না, যদি অনেকেই উঠে পড়ে লেগেছেন সেখানে তার একটি জায়গা খুজে বের করার জন্য;

            সর্বসাধারনের মধ্যে বিবর্তন সম্বন্ধে ভুল ধারনার কারণ তাদের সে বিষয় সম্বন্ধে অজ্ঞানতার; যদি বলা হয় এই বিষয়ে যথেষ্ট বই নেই , সেটা মিথ্যা বলা হবে, ইংরেজীতে তো বটেই, এখন বাংলায় এ বিষয়েই অসংখ্য প্রবন্ধ আছে , মুক্তমনারই আর্কাইভ আছে বিশাল, ব্লগে সার্চ করলেই আরো অনেকের ব্লগে এ বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে;
            আপনার আগ্রহর বিষয় যে কোন কিছুই হতে পারে তবে সেটা এই লেখা বা জীববিজ্ঞানের প্রাসঙ্গিকায় ব্যাখ্যা করুন; আমি সেই পয়েন্টটাই উল্লেখ করেছি; আর জীববিজ্ঞানের এই আর্গুমেন্টটি আদৌ পপুলার সায়েন্স নির্ভর না; এগুলো প্রমানিত সত্য জীববিজ্ঞানের প্রাসঙ্গিকতায়;

            ((((আরেকটি ব্যাপার, জীবকূলের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক পরিবর্তন শুধুমাত্র “বিবর্তনে” নির্ভর করেনা; অন্যান্য আরও অনেক কারণ হতে পারে; আমি আগেই উল্লেখ করেছি যেমন অভ্যাস, জিনগত পরিবর্তন, পরিবেশ, অবস্থান কিংবা অভিপ্রয়াণ ইত্যাদি হতে পারে। এ সম্পর্কে একটি পপুলার সায়েন্স প্রবন্ধ থাকা প্রয়োজন))))

            আপনি দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক পরিবর্তন বলতে কি বোঝাচ্ছেন আমি জানি না তবে জীববিজ্ঞানের কোন পরিবর্তনের ক্ষেত্র বিবর্তন এর ব্যাখ্যার বাইরে অবস্থান করে না; আমার মনে হয় আপনি বিবর্তনের স্কোপটা ধরতে পেরেছেন জীববিজ্ঞানে; মুক্তমনার আর্কাইভটি ঘেটে এ বিষয়ে অনেক তথ্য পেতে পারেন (এছাড়া আমার নিজের ব্লগে ও বেশ কিছু লেখা ও অনুবাদ আছে ); আপনার উল্লেখ করা ““ অভ্যাস জিনগত পরিবর্তন, পরিবেশ, অবস্থান কিংবা অভিপ্রয়াণ““ এর কোনটাই বিবর্তনের বাইরে অবস্থান করে না; প্রত্যেকটি অ্যাডাপটেশনের ব্যাখ্যাই বিবর্তন দেবার ক্ষমতা রাখে;

            আর অসংখ্য পপুলার সায়েন্স এর বই আছে এসব বিষয়ে, খুজলেই পাবেন। আক্ষেপ করার কারন হতে পারে বাংলায় হয়তো নেই ( তবে চেষ্টা করা হচ্ছে) ; কিন্তু আপনার লেখা পড়ে মনে হয়েছে আপনি ইংরেজীতেও দক্ষ, সে ভাষায় এ বিষয়ে বই এর অভাব আসলেই নেই;

            আসুন বিবর্তন সম্বন্ধে প্রকৃত ধারনা আমরা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেবার চেষ্টায় সামিল হই;

            • বেঙ্গলেনসিস জানুয়ারী 15, 2013 at 1:23 অপরাহ্ন - Reply

              @কাজী মাহবুব হাসান,
              সাংবাদিকা আমার যে পয়েন্টটির ভুল ধরেছেন আমি সেটা মেনে নিয়েছি। এতো কোনো সন্দেহ নেই যে বিবর্তন তত্ত্ব প্রাণের উদ্ভব ও বিকাশ কোন পথে হয়েছে সেটা ব্যখ্যা করে তবে কোনো একজন সৃষ্টিকর্তা সেই পথে প্রাণের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটিয়েছেন কিনা সেটা নিয়ে বিবর্তনবিদ্যার কোনো মাথা ব্যাথা নেই। তথাপি আমার লেখায় সৃষ্টিকর্তার প্রসঙ্গ টেনে আনার কারন, বিবর্তনতত্ত্বের বিরোধীতা যারা করে তারা এর সর্বদা এর বিপরীতে সৃষ্টিতত্ত্ব হাজির করে। কজেই আমি যখন বিবর্তনতত্ত্ব ব্যাখ্যা করব, তখন সৃষ্টিতত্ত্বের বিষয়ে উল্লেখকরাটাও সর্বদা অপ্রাসঙ্গিক নয়। আপনাকে ধন্যবাদ।

            • বেঙ্গলেনসিস জানুয়ারী 15, 2013 at 1:29 অপরাহ্ন - Reply

              @কাজী মাহবুব হাসান,
              আপনার এবং সাংবাদিকার মধ্যকার বিস্তারিত আলোচনা পড়ার সময়-সুযোগ আমি পাচ্ছি না। আপনাদের আলোচনায় সময় করে যোগ দিতে পারলে আমি আনন্দিত হব।

            • সংবাদিকা জানুয়ারী 15, 2013 at 2:25 অপরাহ্ন - Reply

              @কাজী মাহবুব হাসান,

              আপনি সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে নিয়ে যত ব্যপক সীমানা টানুন না কেন, এই কনটেক্সট এ যে সৃষ্টিতত্ত্ব কে বিবর্তনের বাক্যে যুক্ত করেছেন, সেটা প্রাণের উৎপত্তি হওয়াটা ধরে নিতে হবে; বিবর্তন প্রানের উৎপত্তি নিয়ে কোন প্রস্তাব করে না, এটি বিবর্তনের বিষয়ই না, এটি অ্যাবায়োজেনেসিস এর বিষয়, ক্ষেত্রটি রসায়ন… প্রাণরসায়ণ …ভুতত্ত্ববিদ্যার; সুতরাং বিবর্তন বিদ্যা বা এর থেকে উদ্ভুত সহায়ক কোন শাখারই এ বিষয়ে আলোচনার কোন প্রয়োজন নেই; এটি তার বিষয় না;

              ১। আপনি নিজেই বলেছেন “ধরে নিতে হবে” মানে hypothesis 🙂
              ২। আমি এখানে abiogenesis (জড় হতে জীব সৃষ্টি) এমনকি astrobiology (জ্যোতি জীববিজ্ঞান) নিয়েও আলোচনা করিনি। এখানে খোদ genesis (সৃষ্টি) তথা (biogenesis এবং cosmogenesis ) এর কথা বলেছি ।

              সমসাময়িক শীর্ষ বৈজ্ঞানিকরা এ বিষয়ে (অ্যাবায়োজেনেসিস) এ আগ্রহী নয় এই কথাটি ঠিক নয়; প্রচুর বই আর পিয়ার রিভিউড প্রবন্ধ আছে এ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য, আপনি সেটা সার্চ করলেই দেখতে পাবেন..; অ্যান্ডি প্রস এর একটি সাম্প্রতিক বই What is Life?: How Chemistry becomes Biology যেমন layperson দের জন্য এই বিষয়ে আপাতত যে ধারনাগুলো নিয়ে বিজ্ঞানীরা যে কাজ করছেন তার ব্যাখ্যা আছে;

              আমি মোটেও বলিনি “সমস্ত শীর্ষ বিজ্ঞানী” 🙂

              জীববিজ্ঞানের সাথে আপনার অ্যানালোজী যুক্তিযুক্ত নয়; এটি সমান্তরাল কোন তাত্ত্বিক অবস্থান না; এছাড়া জীববিজ্ঞানে কোন ডিভিনিটির জায়গা নেই, সেটা ডারউইনই বিদায় করে দিয়েছেন, এখন ডিভিনিটি লুকিয়েছে পদার্থ বিদ্যার খরগোশের গর্তে ; সেখানেও তার জায়গা মিলছে না, যদি অনেকেই উঠে পড়ে লেগেছেন সেখানে তার একটি জায়গা খুজে বের করার জন্য;

              ১।এখানে আপনি আবার ভুল করলেন। আমি জীববিজ্ঞানের সাথে পদার্থবিজ্ঞানের এনালজি করিনি। আমি করেছি সাধারণ মানুষ যারা উক্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নন তাদের “ভুল ধারণা” তথা “misconception” এর “সরূপ” এমন ভুল ধারণা যেমন জীববিজ্ঞান কিংবা পদার্থ বিজ্ঞানের অনেক বিষয় নিয়ে দেখা যায় তেমনি সমর বিদ্যা কিংবা অর্থনীতির অনেক বিষয় নিয়েও থাকে।

              ২।এখানে ডিভিনিটি প্রসঙ্গ এনেছি “সৃষ্টিতত্ত্ব” নিয়ে সমসাময়িক ভাবে প্রধানত কারা কাজ করে এ বিষয়টির জন্য।

              সর্বসাধারনের মধ্যে বিবর্তন সম্বন্ধে ভুল ধারনার কারণ তাদের সে বিষয় সম্বন্ধে অজ্ঞানতার; যদি বলা হয় এই বিষয়ে যথেষ্ট বই নেই , সেটা মিথ্যা বলা হবে, ইংরেজীতে তো বটেই, এখন বাংলায় এ বিষয়েই অসংখ্য প্রবন্ধ আছে , মুক্তমনারই আর্কাইভ আছে বিশাল, ব্লগে সার্চ করলেই আরো অনেকের ব্লগে এ বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে;

              ১।সব কিছুই সব জায়গায় আছে। আইন এবং মেডিক্যাল বিষয়ের সমস্ত কিছুই ইন্টারনেটে আছে। তাই বলে এসব পরে সবাই বিশেষজ্ঞ হয়ে যায়না। layperson তো layperson 🙂

              আপনার আগ্রহর বিষয় যে কোন কিছুই হতে পারে তবে সেটা এই লেখা বা জীববিজ্ঞানের প্রাসঙ্গিকায় ব্যাখ্যা করুন; আমি সেই পয়েন্টটাই উল্লেখ করেছি; আর জীববিজ্ঞানের এই আর্গুমেন্টটি আদৌ পপুলার সায়েন্স নির্ভর না; এগুলো প্রমানিত সত্য জীববিজ্ঞানের প্রাসঙ্গিকতায়;

              ১।আমি আগেও উল্লেখ করেছি আবার করছি, আমি এখানে কিছুই ব্যাখ্যা করিনি। আপনার এমন ধারণা হচ্ছে কারণ আমি কিসের এনালজি করেছি সেটাই আপনি ধরতে পারেননি।
              ২। “ইভ্যুলুশন” এর প্রায় অনেক কিছুই প্রমানিত সত্য। তবে “জড় হতে জীব” আগমন মনে হয় নয় আপনি নিজেই বলেছেন “ধরে নিতে হবে” !!! ওটা নিয়ে আমার মাথা ব্যাথাও নেই এটা এখানে আলোচ্যও না।

              আপনি দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক পরিবর্তন বলতে কি বোঝাচ্ছেন আমি জানি না তবে জীববিজ্ঞানের কোন পরিবর্তনের ক্ষেত্র বিবর্তন এর ব্যাখ্যার বাইরে অবস্থান করে না; আমার মনে হয় আপনি বিবর্তনের স্কোপটা ধরতে পেরেছেন জীববিজ্ঞানে; মুক্তমনার আর্কাইভটি ঘেটে এ বিষয়ে অনেক তথ্য পেতে পারেন (এছাড়া আমার নিজের ব্লগে ও বেশ কিছু লেখা ও অনুবাদ আছে ); আপনার উল্লেখ করা ““ অভ্যাস জিনগত পরিবর্তন, পরিবেশ, অবস্থান কিংবা অভিপ্রয়াণ““ এর কোনটাই বিবর্তনের বাইরে অবস্থান করে না; প্রত্যেকটি অ্যাডাপটেশনের ব্যাখ্যাই বিবর্তন দেবার ক্ষমতা রাখে;

              এটার সাথে একমত; এসবকে কিছুকে বিবর্তনের ছাঁকই ফেলা যায়।

              ধন্যবাদ 🙂

          • মনজুর মুরশেদ জানুয়ারী 17, 2013 at 5:33 পূর্বাহ্ন - Reply

            @সংবাদিকা,

            আরেকটি ব্যাপার, জীবকূলের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক পরিবর্তন শুধুমাত্র “বিবর্তনে” নির্ভর করেনা; অন্যান্য আরও অনেক কারণ হতে পারে; আমি আগেই উল্লেখ করেছি যেমন অভ্যাস, জিনগত পরিবর্তন, পরিবেশ, অবস্থান কিংবা অভিপ্রয়াণ ইত্যাদি হতে পারে।

            আপনার উপরের বাক্যটি ঠিক বুঝতে পারলাম না। বর্তমান জ্ঞান অনুযায়ী দীর্ঘ মেয়াদি শারীরিক পরিবর্তন আসতে হলে প্রথমেই জিনগত পরিবর্তন আসতে হবে, আবার সেই পরিবর্তন শুধু দেহকোষে হলে হবে না, হতে হবে জননকোষে যাতে তা বংশানুক্রমিকভাবে ছড়িয়ে দেয়া যায়। এরপর সেই পরিবর্তনটি জীবের টিকে থাকার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধাজনক হলে প্রতিযোগীতামূলক পরিবেশে পরিবর্তিত জীবগুলো সংখায় বৃদ্ধি পাবে। ধরা যাক, এই নতুন বৈশিষ্ট সম্পন্ন জীবগুলো কোন প্রাকৃতিক বাঁধার কারনে মূল জীবগোষ্ঠি থেকে আলাদা হয়ে গেল এবং সেকারনে তারা কেবলমাত্র নিজেদের মধ্যেই বংশবৃদ্ধি করতে পারল। কালের পরিক্রমায় এই জীবগুলোর মধ্যে আরো নতুন জীনগত পরিবর্তন (জননকোষে) হতে থাকবে এবং এই পরিবর্তনগুলো বংশধরদের মধ্যে নতুন বৈশিষ্ট যোগ করতে থাকবে। এভাবে একপর্যায়ে জীনগতভাবে তারা মূল জীবগোষ্ঠি থেকে এতটাই আলাদা হয়ে যাবে যে দুটি গোষ্ঠির মধ্যে আর বংশবৃদ্ধি করা সম্ভব হবে না; অন্যকথায় একটি নতুন প্রজাতি তৈরী হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে আমরা বিবর্তন বলব। কাজেই আমার মতে “জীবকূলের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক পরিবর্তন শুধুমাত্র “বিবর্তনে” নির্ভর করেনা” বাক্যটি বিভ্রান্তিকর।

            • সংবাদিকা জানুয়ারী 17, 2013 at 6:36 পূর্বাহ্ন - Reply

              @মনজুর মুরশেদ,

              ১। আপনি বোধয় খেয়াল করেননি, একই রকম কুয়েরির উত্তরে আমি আগের দুটি মন্তব্য-

              কাজী মাহবুব হাসানের মন্তব্যর উত্তরে,
              “”এটার সাথে একমত; এসবকে কিছুকে বিবর্তনের ছাঁকই ফেলা যায়।”
              এবং
              বেঙ্গলেনসিসের মন্তব্যর মন্তব্যর উত্তরে,
              “”সহমত”।

              বলেছি।

              ২। আমি আসলে বোঝাতে চেয়েছিলাম, ইভ্যুলুশন শুধু পজিটিভ ন্যাচারাল সিলেকশনের কারণে উন্নত “অগ্রগতিমূলক” অভিযোজনের উদ্দেশ্যই হয়না। পরিবর্তনটির “কার্যকরী কোন প্রভাব” নাও থাকতে পারে এমনকি এর ফলাফল অনেক ক্ষেত্রে পূর্ব সময় হতে “অসুবিধাজনক” হতে পারে।

              ইভ্যুলুশন একটি নিয়মতান্ত্রিক ভাবে হতে পারে আবার মাঝে মাঝে এলোমেলো ভাবেও হতে পারে।

              • মনজুর মুরশেদ জানুয়ারী 17, 2013 at 7:09 পূর্বাহ্ন - Reply

                @সংবাদিকা,

                ১) দুঃখিত, আপনার আগের উত্তরগুলো দেখিনি।

                ২) আমার মতে আপনার এই মন্তব্যে ‘ইভ্যুলুশন’-র পরিবর্তে ‘জেনেটিক মিউটেশন’ শব্দটি বেশী লাগসই হবে। ইভ্যুলুশন অনেকগুলো জেনেটিক মিউটেশনের সমন্বয়ে হয় এবং এর ফলে যে নতুন প্রজাতি তৈরী হয় তাতে সামগ্রিকভাবে নতুন ‘কার্যকরী প্রভাব’ থাকতে বাধ্য, নাহলে সেটি মূল প্রজাতি থেকে আলাদা হবে কিভাবে?

                • সংবাদিকা জানুয়ারী 17, 2013 at 9:59 পূর্বাহ্ন - Reply

                  @মনজুর মুরশেদ,

                  ২) আমার মতে আপনার এই মন্তব্যে ‘ইভ্যুলুশন’-র পরিবর্তে ‘জেনেটিক মিউটেশন’ শব্দটি বেশী লাগসই হবে। ইভ্যুলুশন অনেকগুলো জেনেটিক মিউটেশনের সমন্বয়ে হয় এবং এর ফলে যে নতুন প্রজাতি তৈরী হয় তাতে সামগ্রিকভাবে নতুন ‘কার্যকরী প্রভাব’ থাকতে বাধ্য, নাহলে সেটি মূল প্রজাতি থেকে আলাদা হবে কিভাবে?

                  Genetic mutation, Genetic drift, Environment এমনকি Migration এর জন্য জীবকূলে যে প্রকৃতিগত পরিবর্তনগুলো ঘটে তা সবই মোটা দাগে Evolution এর মধ্য ফেলা যায় এবং সেভাবেই compartmentalize করেই গবেষণা করা হয়।

                  “কেন করা হয়?” এর কারণ এ বিষয়ের উপর গবেষক এবং বিশেষজ্ঞগণ ভালো বলতে পারবেন। আবার যারা দীর্ঘকাল ধরে এ বিষয়ে এন্থুজিয়াস্টিক/ ঘাটা ঘাটি করেন তারাও বোধয় জানবেন।

                  ধন্যবাদ 🙂

                  • মনজুর মুরশেদ জানুয়ারী 17, 2013 at 8:10 অপরাহ্ন - Reply

                    @সংবাদিকা,

                    আপনি জীববিজ্ঞানী না হলে বলতে হবে এসম্পর্কে আপনার ধারনা বেশীরভাগের চেয়ে ভাল। তবে “Genetic mutation, Genetic drift, Environment এমনকি Migration এর জন্য জীবকূলে যে প্রকৃতিগত পরিবর্তনগুলো ঘটে তা সবই মোটা দাগে Evolution এর মধ্য ফেলা যায়” বাক্যটি নিয়ে আমার আপত্তি আছে। জেনেটিক মিউটেশন বা ড্রিফট-র কারণে সব প্রকৃতিগত পরিবর্তন কে এমনকি মোটা দাগেও ইভ্যুলুশন বলা যায় না। জেনেটিক মিউটেশনের কথাই ধরা যাক, যা কিনা অহরহই ঘটছে; ধরুন একটি শিশুর রিকেট ধরা পরেছে, যা হয়েছে ভাইটামিন ডি-র রিসেপটর জিনে জন্মগত মিউটেশনের কারণে, অথবা একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির চর্মকোষে জিন মিউটেশনের কারনে টিউমার দেখা দিয়েছে – এগুলো মোটেই ইভ্যুলুশন নয়। আসলে জেনেটিক মিউটেশন, ড্রিফট, ন্যাচারাল সিলেকশন এগুলো ইভ্যুলুশন-র নিয়ামক বা মেকানিজম মাত্র।

                    “কেন করা হয়?” এর কারণ এ বিষয়ের উপর গবেষক এবং বিশেষজ্ঞগণ ভালো বলতে পারবেন। আবার যারা দীর্ঘকাল ধরে এ বিষয়ে এন্থুজিয়াস্টিক/ ঘাটা ঘাটি করেন তারাও বোধয় জানবেন।

                    কোটবদ্ধ প্রশ্নটি আমার নয়। এ বিষয়ের গবেষণার বর্তমান হাল সম্পর্কে আমার কিঞ্চিত ধারনা আছে। 🙂

                    ধন্যবাদ।

                    • সংবাদিকা জানুয়ারী 18, 2013 at 2:32 অপরাহ্ন

                      @মনজুর মুরশেদ,

                      আপনি জীববিজ্ঞানী না হলে বলতে হবে এসম্পর্কে আপনার ধারনা বেশীরভাগের চেয়ে ভাল। তবে “Genetic mutation, Genetic drift, Environment এমনকি Migration এর জন্য জীবকূলে যে প্রকৃতিগত পরিবর্তনগুলো ঘটে তা সবই মোটা দাগে Evolution এর মধ্য ফেলা যায়” বাক্যটি নিয়ে আমার আপত্তি আছে। জেনেটিক মিউটেশন বা ড্রিফট-র কারণে সব প্রকৃতিগত পরিবর্তন কে এমনকি মোটা দাগেও ইভ্যুলুশন বলা যায় না।………………………………। আসলে জেনেটিক মিউটেশন, ড্রিফট, ন্যাচারাল সিলেকশন এগুলো ইভ্যুলুশন-র নিয়ামক বা মেকানিজম মাত্র।

                      আমার মনে হয় “ইভ্যুলুশন এর মধ্যো” বলতে আমিও তাই বুঝাতে চেয়েছি; এসবকিছুই ইভ্যুলুশন এর নিয়ামক। “মাইগ্রেশনকে” কেউ বোধয় ইভ্যুলুশন বলবেনা, তবে এর কারনেও ইভ্যুলুশন হতে পারে!।

                      এ বিষয়ের গবেষণার বর্তমান হাল সম্পর্কে আমার কিঞ্চিত ধারনা আছে।

                      ভালো। 🙂

                  • মনজুর মুরশেদ জানুয়ারী 17, 2013 at 8:15 অপরাহ্ন - Reply

                    @সংবাদিকা,

                    প্রসঙ্গান্তরে, যদি কিছু মনে না করেন, একটি প্রশ্ন করতে চাই। ‘সংবাদিকা’ শব্দের অর্থ কি?

                    • সংবাদিকা জানুয়ারী 18, 2013 at 2:34 অপরাহ্ন

                      @মনজুর মুরশেদ,

                      সংবাদিকা = অণু সংবাদ ।

                      ধন্যবাদ 🙂

                    • মনজুর মুরশেদ জানুয়ারী 19, 2013 at 1:04 পূর্বাহ্ন

                      @সংবাদিকা,

                      ধন্যবাদ! ভাষাগত দূর্বলতার জন্য অনেক সময় হোঁচট খেতে হয়। অভ্র-র সাথে একটা অভিধান থাকলে বেশ হত।

    • বেঙ্গলেনসিস জানুয়ারী 15, 2013 at 1:17 অপরাহ্ন - Reply

      @সংবাদিকা,
      ১. আপনার প্রথম অভিযোগটি আমি মেনে নিচ্ছি। বিবর্তন সৃষ্টিতত্ত্বের যুক্তি খন্ডন করে না এমনকি সৃষ্টিতত্ত্বের ধারও ধারে না। তবে বিবর্তন বিরোধীতা যারা করেন, তারা এর against এ সৃষ্টি তত্ত্ব হাজির করেন বিধায়ই উক্ত কমেন্টটি করা হয়েছে।
      ২. সব পরিবর্তন ইভোলিউশনের কারনে হয় সেটা কোনো গবেষক দাবী করেছেন বলে আমার জানা নেই তাহলে দুর্ঘটনা ঘটিত অঙ্গহানিকেও ইভোলিউশন বলা হত। কিন্তু আপনি যদি বলেন পরিবেশের প্রভাবে কোনো প্রজাতির দেহে যেই পরিবর্তনগুলো আসে যেমন: রোদে চামড়া ট্যান হওয়া, বা কঠিন কোনো কাজে হাতের চামড়া শক্ত হয়ে যাওয়া সেগুলোও বিবর্তন নয়। রোদে চামড়া ট্যান হলেও সন্তানের ট্যান অবস্থার চামড়া নিয়ে জন্ম নেয়ার কোনো সম্ভবনা নেই যতক্ষন না জেনেটিক্যালি মিউটেশন ঘটে থাকে।
      ৩. কোনো জ্ঞান অপরিবর্তনীয় নয় এই কথাটি যেমন ঠিক, তেমনই এটাও ঠিক যে একটা জ্ঞান পরিবর্তিত হলেই তার গ্রহনযোগ্যতা সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায় না। নিউটনের গতিসূত্র যদিও আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সুত্র দিয়ে ভুল প্রমাণিত হয় তথাপি সারা বিশ্বের গতিসম্পর্কিত ইঞ্জিনগুলো এখনো নিউটনের সূত্র অনুযায়ীই তৈরি করা হয় এবং সেটা একটা পরিসরের মধ্যে সম্পূর্ণ কার্যক্ষম। এটা বলা যেতে পারে, নিউটনের গতিসূত্রগুলো হয়তো সবক্ষেত্রে কাজে লাগানো সম্ভব নয় তার মানেই এই নয় যে সেগুলো বাতিল হয়ে গেছে।

      • সংবাদিকা জানুয়ারী 15, 2013 at 2:35 অপরাহ্ন - Reply

        @বেঙ্গলেনসিস,

        ১. আপনার প্রথম অভিযোগটি আমি মেনে নিচ্ছি। বিবর্তন সৃষ্টিতত্ত্বের যুক্তি খন্ডন করে না এমনকি সৃষ্টিতত্ত্বের ধারও ধারে না। তবে বিবর্তন বিরোধীতা যারা করেন, তারা এর against এ সৃষ্টি তত্ত্ব হাজির করেন বিধায়ই উক্ত কমেন্টটি করা হয়েছে।

        সহমত; কোন কিছু ঠিক মত না জেনে শুধু জ্ঞানের জগতে নয় বাস্তব জগতেও এমন করা হয়।

        ২. সব পরিবর্তন ইভোলিউশনের কারনে হয় সেটা কোনো গবেষক দাবী করেছেন বলে আমার জানা নেই তাহলে দুর্ঘটনা ঘটিত অঙ্গহানিকেও ইভোলিউশন বলা হত। কিন্তু আপনি যদি বলেন পরিবেশের প্রভাবে কোনো প্রজাতির দেহে যেই পরিবর্তনগুলো আসে যেমন: রোদে চামড়া ট্যান হওয়া, বা কঠিন কোনো কাজে হাতের চামড়া শক্ত হয়ে যাওয়া সেগুলোও বিবর্তন নয়। রোদে চামড়া ট্যান হলেও সন্তানের ট্যান অবস্থার চামড়া নিয়ে জন্ম নেয়ার কোনো সম্ভবনা নেই যতক্ষন না জেনেটিক্যালি মিউটেশন ঘটে থাকে।

        সহমত।

        ৩. কোনো জ্ঞান অপরিবর্তনীয় নয় এই কথাটি যেমন ঠিক, তেমনই এটাও ঠিক যে একটা জ্ঞান পরিবর্তিত হলেই তার গ্রহনযোগ্যতা সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায় না। নিউটনের গতিসূত্র যদিও আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সুত্র দিয়ে ভুল প্রমাণিত হয় তথাপি সারা বিশ্বের গতিসম্পর্কিত ইঞ্জিনগুলো এখনো নিউটনের সূত্র অনুযায়ীই তৈরি করা হয় এবং সেটা একটা পরিসরের মধ্যে সম্পূর্ণ কার্যক্ষম। এটা বলা যেতে পারে, নিউটনের গতিসূত্রগুলো হয়তো সবক্ষেত্রে কাজে লাগানো সম্ভব নয় তার মানেই এই নয় যে সেগুলো বাতিল হয়ে গেছে।

        আমি বলিনি নিউটনের সূত্র “সম্পূর্ণ ” বাতিল। আসলে জ্ঞানের জগতে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু সংযোজন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন হয় ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় ভিন্ন ভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে।

        আপনাকে ধন্যবাদ 🙂

  4. রবি বাঙ্গালী জানুয়ারী 13, 2013 at 5:55 অপরাহ্ন - Reply

    এই লেখা পড়ে আমার স্কুল জীবনের একটা স্মূতি মনে পড়ে গেল। তখন খুব সম্ভব ক্লাস থ্রিতে পড়ি। আমাদের ক্লাসে নামকাওয়াস্তে পড়ত একছেলে। এরকম হাজিরাখাতা পূর্ন করা ছাত্রের অভাব তখন হত না। সেই ছেলের বিশেষ একটা দুর্বলতা ছিল। কান নাড়াতে পারত। কালেভদ্রে স্কুলে আসলে বা স্কুলের ত্রিসীমানায় দেখলে আমরা তাকে ধরে ক্লাসে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করে দিতাম। তার জন্য নির্ধারিত শাস্তি ছিল কান নাড়ানো। তাই দেখে আমরা ব্যাপক বিনোদন পেতাম। একসময় আমি নিজে কান নাড়ানোর প্র্যাকটিস করতে থাকি এবং কিছুদিনের মধ্যে সফল হই। এখন আমি দিব্বি কান নাড়াতে পারি। এ ব্যাপারে আমি একটু সন্দিহান। এটা কি প্র্যাকটিসের ফল নাকি বিবর্তনের ফল। এ বিষয়ে গবেষণা হওয়া দরকার। আমি আমার বন্ধুদের প্র্যাকটিস করানো শুরু করব ভাবছি। দেখি কতদুর কি হয়।

    • বেঙ্গলেনসিস জানুয়ারী 14, 2013 at 2:54 পূর্বাহ্ন - Reply

      @রবি বাঙ্গালী,
      কান কিভাবে নাড়ান? কানের বহিরাংশ ঘুরিয়ে বিভিন্ন দিকে তাক করতে পারেন কি? অনেকেই কান নাড়তে পারেন বলে শুনেছি। তবে সেটা অন্যান্য প্রানীর মত কিনা যারা কান নেড়ে বিভিন্ন শব্দের উৎসের প্রতি মনোযোগ দিতে পারে সে ব্যাপারে আমার সন্দেহ আছে। আমার এক বন্ধুকে দেখেছি যে কান কিছুটা সামনে-পেছনে নিতে পারত, সেটা সে করত চোয়ালের পেশী নেড়ে। আপনি কি কানের পেশী নাড়াতে পারেন? যদি কানের পেশী নাড়াতে পারেন তাহলে বলা যায় এটা বিবর্তনের ফল।

      • রবি বাঙ্গালী জানুয়ারী 15, 2013 at 8:13 পূর্বাহ্ন - Reply

        @বেঙ্গলেনসিস, তা হলে মনে হয় এটা আমার প্র্যাকটিসের ফল হয়ে থাকবে।

  5. হোরাস জানুয়ারী 13, 2013 at 9:16 পূর্বাহ্ন - Reply

    (Y) (Y)

    এই বিষয়টা নিয়ে মুক্তমনাতে আমিও একটা লেখা লিখেছিলাম বেশ কিছুদিন আগে। নিচে লিঙ্কটা দিলাম।

    বিবর্তনের ফলে মানব দেহে রয়ে যাওয়া কয়েকটি অপ্রয়োজনীয় অঙ্গ এবং মাস্‌ল।

    • বেঙ্গলেনসিস জানুয়ারী 13, 2013 at 1:04 অপরাহ্ন - Reply

      @হোরাস,
      আপনার লেখাটিতেও বেশ কিছু পয়েন্ট এসেছে এবং সেই সাথে অ্যাপেন্ডিক্স সম্বন্ধেও আমার জানার বাইরেও আরো কিছু জানতে পারলাম। অনেক ধন্যবাদ।

  6. অভিজিৎ জানুয়ারী 13, 2013 at 6:10 পূর্বাহ্ন - Reply
    • বেঙ্গলেনসিস জানুয়ারী 13, 2013 at 1:05 অপরাহ্ন - Reply

      @অভিজিৎ,
      ভ্রান্ত ধারনাগুলোর অবসান ঘটবে এই আশাই করি।

  7. মরুঝড় জানুয়ারী 12, 2013 at 9:11 পূর্বাহ্ন - Reply

    লেখক সাহেব একবার objections to evolution পড়ে আসুন ,উইকিপিদিয়া তে আছে।

    • বেঙ্গলেনসিস জানুয়ারী 13, 2013 at 12:59 অপরাহ্ন - Reply

      @মরুঝড়,
      আপনার কমেন্টটির প্রত্যুত্তরে অনেক বিশাল কমেন্ট করতে পারতাম। তবে মুক্তমনার বিবর্তন আর্কাইভটি আমার সময় বাঁচিয়ে দিয়েছে। সেখানে আপনার লিংকে দেয়া সবগুলো দাবীর খন্ডন করা হয়েছে যথাযথ তথ্যপ্রমাণ সহ। অনুগ্রহ করে একবার পড়ে নেবেন এই লিংক থেকে।

      • রামগড়ুড়ের ছানা জানুয়ারী 13, 2013 at 4:40 অপরাহ্ন - Reply

        @বেঙ্গলেনসিস,
        মজার ব্যাপার হলো উনি যে লিংক দিয়েছেন সেখানেই দাবীগুলা খন্ডন করা আছে। যেমন Violation of the second law of thermodynamics সেকশনে লেখা আছে:

        “Quantitative estimates of the entropy involved in biological evolution demonstrate that there is no conflict between evolution and the second law of thermodynamics.”

        আবার Instability of evidence অংশে লেখা আছে:

        Much of the evidence for evolution has been accused of being fraudulent at various times, including Archaeopteryx, peppered moth melanism, and Darwin’s finches; these claims have been subsequently refuted

        এই আর্টিকেলটা অনেক আগেই কিছুটা পড়া ছিলো তাই এই লিংক দিয়ে বিবর্তনের বিরুদ্ধে কথা বলতে দেখে অবাক হইসি। তর্কে অংশ নিতে না, ব্যাপারটা খুবই মজা লাগলো বলে কমেন্টদুটি করলাম।

        • আল্লাচালাইনা জানুয়ারী 13, 2013 at 9:21 অপরাহ্ন - Reply

          @রামগড়ুড়ের ছানা, মহান রিচার্ড ফাইনম্যানের বইয়ের ফার্স্ট ভলিউমে একটা কথা আছে, কথাটা আমি সরাসরি কোট করছি ৩৯-১ পৃষ্ঠা হতে-

          ……তাহলে কেনো আমরা এই মুহুর্তে আমরা থার্মোডায়নামিক্স অধ্যয়ন করতে যাচ্ছি? কেনো আরও আধ কিংবা এক বছর পর নয় যখন কিনা আমরা আরেকটু ভালো শিক্ষা করবো প্রবাব্লিটি থিয়োরি এবং কোয়ান্টাম মেকানিক্স? এর উত্তর হচ্ছে- থার্মোডায়নামিক্স একটি খুবই খুবই কঠিন বিষয়, এটি শিখার সর্বোত্তম পন্থা হচ্ছে আস্তে আস্তে শিখা!

          আসলেই থার্মোডায়নামিক্স একটি ড্রেডফুলি ডিফিকাল্ট সাবজেক্ট। খুবই খুবই বিনোদিত হই যখন কিনা এইটা সম্পর্কে ১০০% আত্নবিশ্বাস সহকারে মানুষকে আগর বাগর কথা বলতে দেখি। সেকেন্ড ল যারা কপচায় তারা বলাই বাহুল্য কখনই অনুভব করেনি একটি পপুলার বই বা নিদেনপক্ষে থার্মোডায়নামিক্স বিষয়ক কিছু আর্টিকল উইকি করে কিছু পড়াশুনা শিখার প্রয়োজনীয়তা; সেকেন্ড ল একচুয়ালি ঠিক কি বলে এইটা কি এরা বলতে পার জিজ্ঞেস করলে? যত্তোসব…

      • মরুঝড় জানুয়ারী 15, 2013 at 9:20 পূর্বাহ্ন - Reply

        @বেঙ্গলেনসিস, নীচের লেখাটি সময় করে পড়লে বাধিত হব-The Scientific Case Against Evolution
        by Henry M. Morris, Ph.D.

        Belief in evolution is a remarkable phenomenon. It is a belief passionately defended by the scientific establishment, despite the lack of any observable scientific evidence for macroevolution (that is, evolution from one distinct kind of organism into another). This odd situation is briefly documented here by citing recent statements from leading evolutionists admitting their lack of proof. These statements inadvertently show that evolution on any significant scale does not occur at present, and never happened in the past, and could never happen at all.
        Evolution Is Not Happening Now

        First of all, the lack of a case for evolution is clear from the fact that no one has ever seen it happen. If it were a real process, evolution should still be occurring, and there should be many “transitional” forms that we could observe. What we see instead, of course, is an array of distinct “kinds” of plants and animals with many varieties within each kind, but with very clear and — apparently — unbridgeable gaps between the kinds. That is, for example, there are many varieties of dogs and many varieties of cats, but no “dats” or “cogs.” Such variation is often called microevolution, and these minor horizontal (or downward) changes occur fairly often, but such changes are not true “vertical” evolution.

        Evolutionary geneticists have often experimented on fruit flies and other rapidly reproducing species to induce mutational changes hoping they would lead to new and better species, but these have all failed to accomplish their goal. No truly new species has ever been produced, let alone a new “basic kind.”

        A current leading evolutionist, Jeffrey Schwartz, professor of anthropology at the University of Pittsburgh, has recently acknowledged that:

        . . . it was and still is the case that, with the exception of Dobzhansky’s claim about a new species of fruit fly, the formation of a new species, by any mechanism, has never been observed.1

        The scientific method traditionally has required experimental observation and replication. The fact that macroevolution (as distinct from microevolution) has never been observed would seem to exclude it from the domain of true science. Even Ernst Mayr, the dean of living evolutionists, longtime professor of biology at Harvard, who has alleged that evolution is a “simple fact,” nevertheless agrees that it is an “historical science” for which “laws and experiments are inappropriate techniques”2 by which to explain it. One can never actually see evolution in action.
        Evolution Never Happened in the Past

        Evolutionists commonly answer the above criticism by claiming that evolution goes too slowly for us to see it happening today. They used to claim that the real evidence for evolution was in the fossil record of the past, but the fact is that the billions of known fossils do not include a single unequivocal transitional form with transitional structures in the process of evolving.

        Given that evolution, according to Darwin, was in a continual state of motion . . . it followed logically that the fossil record should be rife with examples of transitional forms leading from the less to the more evolved.3

        Even those who believe in rapid evolution recognize that a considerable number of generations would be required for one distinct “kind” to evolve into another more complex kind. There ought, therefore, to be a considerable number of true transitional structures preserved in the fossils — after all, there are billions of non-transitional structures there! But (with the exception of a few very doubtful creatures such as the controversial feathered dinosaurs and the alleged walking whales), they are not there.

        Instead of filling in the gaps in the fossil record with so-called missing links, most paleontologists found themselves facing a situation in which there were only gaps in the fossil record, with no evidence of transformational intermediates between documented fossil species.4

        The entire history of evolution from the evolution of life from non-life to the evolution of vertebrates from invertebrates to the evolution of man from the ape is strikingly devoid of intermediates: the links are all missing in the fossil record, just as they are in the present world.

        With respect to the origin of life, a leading researcher in this field, Leslie Orgel, after noting that neither proteins nor nucleic acids could have arisen without the other, concludes:

        And so, at first glance, one might have to conclude that life could never, in fact, have originated by chemical means.5

        Being committed to total evolution as he is, Dr. Orgel cannot accept any such conclusion as that. Therefore, he speculates that RNA may have come first, but then he still has to admit that:

        The precise events giving rise to the RNA world remain unclear. . . . investigators have proposed many hypotheses, but evidence in favor of each of them is fragmentary at best.6

        Translation: “There is no known way by which life could have arisen naturalistically.” Unfortunately, two generations of students have been taught that Stanley Miller’s famous experiment on a gaseous mixture, practically proved the naturalistic origin of life. But not so!

        Miller put the whole thing in a ball, gave it an electric charge, and waited. He found that amino acids and other fundamental complex molecules were accumulating at the bottom of the apparatus. His discovery gave a huge boost to the scientific investigation of the origin of life. Indeed, for some time it seemed like creation of life in a test tube was within reach of experimental science. Unfortunately, such experiments have not progressed much further than the original prototype, leaving us with a sour aftertaste from the primordial soup.7

        Neither is there any clue as to how the one-celled organisms of the primordial world could have evolved into the vast array of complex multi-celled invertebrates of the Cambrian period. Even dogmatic evolutionist Gould admits that:

        The Cambrian explosion was the most remarkable and puzzling event in the history of life.8

        Equally puzzling, however, is how some invertebrate creature in the ancient ocean, with all its “hard parts” on the outside, managed to evolve into the first vertebrate — that is, the first fish– with its hard parts all on the inside.

        Yet the transition from spineless invertebrates to the first backboned fishes is still shrouded in mystery, and many theories abound.9

        Other gaps are abundant, with no real transitional series anywhere. A very bitter opponent of creation science, paleontologist, Niles Eldredge, has acknowledged that there is little, if any, evidence of evolutionary transitions in the fossil record. Instead, things remain the same!

        It is a simple ineluctable truth that virtually all members of a biota remain basically stable, with minor fluctuations, throughout their durations. . . .10

        So how do evolutionists arrive at their evolutionary trees from fossils of oganisms which didn’t change during their durations?

        Fossil discoveries can muddle over attempts to construct simple evolutionary trees — fossils from key periods are often not intermediates, but rather hodge podges of defining features of many different groups. . . . Generally, it seems that major groups are not assembled in a simple linear or progressive manner — new features are often “cut and pasted” on different groups at different times.11

        As far as ape/human intermediates are concerned, the same is true, although anthropologists have been eagerly searching for them for many years. Many have been proposed, but each has been rejected in turn.

        All that paleoanthropologists have to show for more than 100 years of digging are remains from fewer than 2000 of our ancestors. They have used this assortment of jawbones, teeth and fossilized scraps, together with molecular evidence from living species, to piece together a line of human descent going back 5 to 8 million years to the time when humans and chimpanzees diverged from a common ancestor.12

        Anthropologists supplemented their extremely fragmentary fossil evidence with DNA and other types of molecular genetic evidence from living animals to try to work out an evolutionary scenario that will fit. But this genetic evidence really doesn’t help much either, for it contradicts fossil evidence. Lewin notes that:

        The overall effect is that molecular phylogenetics is by no means as straightforward as its pioneers believed. . . . The Byzantine dynamics of genome change has many other consequences for molecular phylogenetics, including the fact that different genes tell different stories.13

        Summarizing the genetic data from humans, another author concludes, rather pessimistically:

        Even with DNA sequence data, we have no direct access to the processes of evolution, so objective reconstruction of the vanished past can be achieved only by creative imagination.14

        Since there is no real scientific evidence that evolution is occurring at present or ever occurred in the past, it is reasonable to conclude that evolution is not a fact of science, as many claim. In fact, it is not even science at all, but an arbitrary system built upon faith in universal naturalism.

        Actually, these negative evidences against evolution are, at the same time, strong positive evidences for special creation. They are, in fact, specific predictions based on the creation model of origins.

        Creationists would obviously predict ubiquitous gaps between created kinds, though with many varieties capable of arising within each kind, in order to enable each basic kind to cope with changing environments without becoming extinct. Creationists also would anticipate that any “vertical changes” in organized complexity would be downward, since the Creator (by definition) would create things correctly to begin with. Thus, arguments and evidences against evolution are, at the same time, positive evidences for creation.
        The Equivocal Evidence from Genetics

        Nevertheless, because of the lack of any direct evidence for evolution, evolutionists are increasingly turning to dubious circumstantial evidences, such as similarities in DNA or other biochemical components of organisms as their “proof” that evolution is a scientific fact. A number of evolutionists have even argued that DNA itself is evidence for evolution since it is common to all organisms. More often is the argument used that similar DNA structures in two different organisms proves common evolutionary ancestry.

        Neither argument is valid. There is no reason whatever why the Creator could not or would not use the same type of genetic code based on DNA for all His created life forms. This is evidence for intelligent design and creation, not evolution.

        The most frequently cited example of DNA commonality is the human/chimpanzee “similarity,” noting that chimpanzees have more than 90% of their DNA the same as humans. This is hardly surprising, however, considering the many physiological resemblances between people and chimpanzees. Why shouldn’t they have similar DNA structures in comparison, say, to the DNA differences between men and spiders?

        Similarities — whether of DNA, anatomy, embryonic development, or anything else — are better explained in terms of creation by a common Designer than by evolutionary relationship. The great differences between organisms are of greater significance than the similarities, and evolutionism has no explanation for these if they all are assumed to have had the same ancestor. How could these great gaps between kinds ever arise at all, by any natural process?

        The apparently small differences between human and chimpanzee DNA obviously produce very great differences in their respective anatomies, intelligence, etc. The superficial similarities between all apes and human beings are nothing compared to the differences in any practical or observable sense.

        Nevertheless, evolutionists, having largely become disenchanted with the fossil record as a witness for evolution because of the ubiquitous gaps where there should be transitions, recently have been promoting DNA and other genetic evidence as proof of evolution. However, as noted above by Roger Lewin, this is often inconsistent with, not only the fossil record, but also with the comparative morphology of the creatures. Lewin also mentions just a few typical contradictions yielded by this type of evidence in relation to more traditional Darwinian “proofs.”

        The elephant shrew, consigned by traditional analysis to the order insectivores . . . is in fact more closely related to . . . the true elephant. Cows are more closely related to dolphins than they are to horses. The duckbilled platypus . . . is on equal evolutionary footing with . . . kangaroos and koalas.15

        There are many even more bizarre comparisons yielded by this approach.

        The abundance of so-called “junk DNA” in the genetic code also has been offered as a special type of evidence for evolution, especially those genes which they think have experienced mutations, sometimes called “pseudogenes.”16 However, evidence is accumulating rapidly today that these supposedly useless genes do actually perform useful functions.

        Enough genes have already been uncovered in the genetic midden to show that what was once thought to be waste is definitely being transmitted into scientific code.17

        It is thus wrong to decide that junk DNA, even the socalled “pseudogenes,” have no function. That is merely an admission of ignorance and an object for fruitful research. Like the socalled “vestigial organs” in man, once considered as evidence of evolution but now all known to have specific uses, so the junk DNA and pseudogenes most probably are specifically useful to the organism, whether or not those uses have yet been discovered by scientists.

        At the very best this type of evidence is strictly circumstantial and can be explained just as well in terms of primeval creation supplemented in some cases by later deterioration, just as expected in the creation model.

        The real issue is, as noted before, whether there is any observable evidence that evolution is occurring now or has ever occurred in the past. As we have seen, even evolutionists have to acknowledge that this type of real scientific evidence for evolution does not exist.

        A good question to ask is: Why are all observable evolutionary changes either horizontal and trivial (so-called microevolution) or downward toward deterioration and extinction? The answer seems to be found in the universally applicable laws of the science of thermodynamics.
        Evolution Could Never Happen at All

        The main scientific reason why there is no evidence for evolution in either the present or the past (except in the creative imagination of evolutionary scientists) is because one of the most fundamental laws of nature precludes it. The law of increasing entropy — also known as the second law of thermodynamics — stipulates that all systems in the real world tend to go “downhill,” as it were, toward disorganization and decreased complexity.

        This law of entropy is, by any measure, one of the most universal, bestproved laws of nature. It applies not only in physical and chemical systems, but also in biological and geological systems — in fact, in all systems, without exception.

        No exception to the second law of thermodynamics has ever been found — not even a tiny one. Like conservation of energy (the “first law”), the existence of a law so precise and so independent of details of models must have a logical foundation that is independent of the fact that matter is composed of interacting particles.18

        The author of this quote is referring primarily to physics, but he does point out that the second law is “independent of details of models.” Besides, practically all evolutionary biologists are reductionists — that is, they insist that there are no “vitalist” forces in living systems, and that all biological processes are explicable in terms of physics and chemistry. That being the case, biological processes also must operate in accordance with the laws of thermodynamics, and practically all biologists acknowledge this.

        Evolutionists commonly insist, however, that evolution is a fact anyhow, and that the conflict is resolved by noting that the earth is an “open system,” with the incoming energy from the sun able to sustain evolution throughout the geological ages in spite of the natural tendency of all systems to deteriorate toward disorganization. That is how an evolutionary entomologist has dismissed W. A. Dembski’s impressive recent book, Intelligent Design. This scientist defends what he thinks is “natural processes’ ability to increase complexity” by noting what he calls a “flaw” in “the arguments against evolution based on the second law of thermodynamics.” And what is this flaw?

        Although the overall amount of disorder in a closed system cannot decrease, local order within a larger system can increase even without the actions of an intelligent agent.19

        This naive response to the entropy law is typical of evolutionary dissimulation. While it is true that local order can increase in an open system if certain conditions are met, the fact is that evolution does not meet those conditions. Simply saying that the earth is open to the energy from the sun says nothing about how that raw solar heat is converted into increased complexity in any system, open or closed.

        The fact is that the best known and most fundamental equation of thermodynamics says that the influx of heat into an open system will increase the entropy of that system, not decrease it. All known cases of decreased entropy (or increased organization) in open systems involve a guiding program of some sort and one or more energy conversion mechanisms.

        Evolution has neither of these. Mutations are not “organizing” mechanisms, but disorganizing (in accord with the second law). They are commonly harmful, sometimes neutral, but never beneficial (at least as far as observed mutations are concerned). Natural selection cannot generate order, but can only “sieve out” the disorganizing mutations presented to it, thereby conserving the existing order, but never generating new order. In principle, it may be barely conceivable that evolution could occur in open systems, in spite of the tendency of all systems to disintegrate sooner or later. But no one yet has been able to show that it actually has the ability to overcome this universal tendency, and that is the basic reason why there is still no bona fide proof of evolution, past or present.

        From the statements of evolutionists themselves, therefore, we have learned that there is no real scientific evidence for real evolution. The only observable evidence is that of very limited horizontal (or downward) changes within strict limits.
        Evolution is Religion — Not Science

        In no way does the idea of particles-to-people evolution meet the long-accepted criteria of a scientific theory. There are no such evolutionary transitions that have ever been observed in the fossil record of the past; and the universal law of entropy seems to make it impossible on any significant scale.

        Evolutionists claim that evolution is a scientific fact, but they almost always lose scientific debates with creationist scientists. Accordingly, most evolutionists now decline opportunities for scientific debates, preferring instead to make unilateral attacks on creationists.

        Scientists should refuse formal debates because they do more harm than good, but scientists still need to counter the creationist message.20

        The question is, just why do they need to counter the creationist message? Why are they so adamantly committed to anti-creationism?

        The fact is that evolutionists believe in evolution because they want to. It is their desire at all costs to explain the origin of everything without a Creator. Evolutionism is thus intrinsically an atheistic religion. Some may prefer to call it humanism, and “new age” evolutionists place it in the context of some form of pantheism, but they all amount to the same thing. Whether atheism or humanism (or even pantheism), the purpose is to eliminate a personal God from any active role in the origin of the universe and all its components, including man.

        The core of the humanistic philosophy is naturalism — the proposition that the natural world proceeds according to its own internal dynamics, without divine or supernatural control or guidance, and that we human beings are creations of that process. It is instructive to recall that the philosophers of the early humanistic movement debated as to which term more adequately described their position: humanism or naturalism. The two concepts are complementary and inseparable.21

        Since both naturalism and humanism exclude God from science or any other active function in the creation or maintenance of life and the universe in general, it is very obvious that their position is nothing but atheism. And atheism, no less than theism, is a religion! Even doctrinaire-atheistic evolutionist Richard Dawkins admits that atheism cannot be proved to be true.

        Of course we can’t prove that there isn’t a God.22

        Therefore, they must believe it, and that makes it a religion.

        The atheistic nature of evolution is not only admitted, but insisted upon by most of the leaders of evolutionary thought. Ernst Mayr, for example, says that:

        Darwinism rejects all supernatural phenomena and causations.23

        A professor in the Department of Biology at Kansas State University says:

        Even if all the data point to an intelligent designer, such a hypothesis is excluded from science because it is not naturalistic.24

        It is well known by almost everyone in the scientific world today that such influential evolutionists as Stephen Jay Gould and Edward Wilson of Harvard, Richard Dawkins of England, William Provine of Cornell, and numerous other evolutionary spokesmen are dogmatic atheists. Eminent scientific philosopher and ardent Darwinian atheist Michael Ruse has even acknowledged that evolution is their religion!

        Evolution is promoted by its practitioners as more than mere science. Evolution is promulgated as an ideology, a secular religion — a full-fledged alternative to Christianity, with meaning and morality . . . . Evolution is a religion. This was true of evolution in the beginning, and it is true of evolution still today.25

        Another way of saying “religion” is “worldview,” the whole of reality. The evolutionary worldview applies not only to the evolution of life, but even to that of the entire universe. In the realm of cosmic evolution, our naturalistic scientists depart even further from experimental science than life scientists do, manufacturing a variety of evolutionary cosmologies from esoteric mathematics and metaphysical speculation. Socialist Jeremy Rifkin has commented on this remarkable game.

        Cosmologies are made up of small snippets of physical reality that have been remodeled by society into vast cosmic deceptions.26

        They must believe in evolution, therefore, in spite of all the evidence, not because of it. And speaking of deceptions, note the following remarkable statement.

        We take the side of science in spite of the patent absurdity of some of its constructs, . . . in spite of the tolerance of the scientific community for unsubstantiated commitment to materialism. . . . we are forced by our a priori adherence to material causes to create an apparatus of investigation and set of concepts that produce material explanations, no matter how counterintuitive, no matter how mystifying to the uninitiated. Moreover, that materialism is absolute, for we cannot allow a Divine Foot in the door.27

        The author of this frank statement is Richard Lewontin of Harvard. Since evolution is not a laboratory science, there is no way to test its validity, so all sorts of justso stories are contrived to adorn the textbooks. But that doesn’t make them true! An evolutionist reviewing a recent book by another (but more critical) evolutionist, says:

        We cannot identify ancestors or “missing links,” and we cannot devise testable theories to explain how particular episodes of evolution came about. Gee is adamant that all the popular stories about how the first amphibians conquered the dry land, how the birds developed wings and feathers for flying, how the dinosaurs went extinct, and how humans evolved from apes are just products of our imagination, driven by prejudices and preconceptions.28

        A fascinatingly honest admission by a physicist indicates the passionate commitment of establishment scientists to naturalism. Speaking of the trust students naturally place in their highly educated college professors, he says:

        And I use that trust to effectively brainwash them. . . . our teaching methods are primarily those of propaganda. We appeal — without demonstration — to evidence that supports our position. We only introduce arguments and evidence that supports the currently accepted theories and omit or gloss over any evidence to the contrary.29

        Creationist students in scientific courses taught by evolutionist professors can testify to the frustrating reality of that statement. Evolution is, indeed, the pseudoscientific basis of religious atheism, as Ruse pointed out. Will Provine at Cornell University is another scientist who frankly acknowledges this.

        As the creationists claim, belief in modern evolution makes atheists of people. One can have a religious view that is compatible with evolution only if the religious view is indistinguishable from atheism.30

        Once again, we emphasize that evolution is not science, evolutionists’ tirades notwithstanding. It is a philosophical worldview, nothing more.

        (Evolution) must, they feel, explain everything. . . . A theory that explains everything might just as well be discarded since it has no real explanatory value. Of course, the other thing about evolution is that anything can be said because very little can be disproved. Experimental evidence is minimal.31

        Even that statement is too generous. Actual experimental evidence demonstrating true evolution (that is, macroevolution) is not “minimal.” It is nonexistent!

        The concept of evolution as a form of religion is not new. In my book, The Long War Against God,32 I documented the fact that some form of evolution has been the pseudo-rationale behind every anti-creationist religion since the very beginning of history. This includes all the ancient ethnic religions, as well as such modern world religions as Buddhism, Hinduism, and others, as well as the “liberal” movements in even the creationist religions (Christianity, Judaism, Islam).

        As far as the twentieth century is concerned, the leading evolutionist is generally considered to be Sir Julian Huxley, primary architect of modern neo-Darwinism. Huxley called evolution a “religion without revelation” and wrote a book with that title (2nd edition, 1957). In a later book, he said:

        Evolution . . . is the most powerful and the most comprehensive idea that has ever arisen on earth.33

        Later in the book he argued passionately that we must change “our pattern of religious thought from a God-centered to an evolution-centered pattern.”34 Then he went on to say that: “The God hypothesis . . . is becoming an intellectual and moral burden on our thought.” Therefore, he concluded that “we must construct something to take its place.”35

        That something, of course, is the religion of evolutionary humanism, and that is what the leaders of evolutionary humanism are trying to do today.

        In closing this survey of the scientific case against evolution (and, therefore, for creation), the reader is reminded again that all quotations in the article are from doctrinaire evolutionists. No Bible references are included, and no statements by creationists. The evolutionists themselves, to all intents and purposes, have shown that evolutionism is not science, but religious faith in atheism.

        • বেঙ্গলেনসিস জানুয়ারী 15, 2013 at 1:03 অপরাহ্ন - Reply

          @মরুঝড়,
          আপনার বিশাল লেখাটির আড়ালে আমার এই কমেন্টটি চাপা পড়ে যাওয়ার সম্ভবনা আছে। আপনার লেখাটির প্রত্যুত্তরে আমি যদি আপনাকে বলি উইকীপিডিয়া পুরোটা পড়ে ফেলুন তাতে কি যুক্তি খন্ডিত হবে? আপনি কি আমার আহবানে সাড়া দেবেন? একই ভাবে কেন আপনি ভাবছেন আপনি কপি-পেস্ট করে কোনো একটা লেখা দিলেই সেটা আমি পড়তে বসে যাব? আপনি যেই লেখকের লেখা দিয়েছেন তিনি একজন খৃষ্টীয় সৃষ্টিতত্ত্ববিদ। এইটুকু তথ্যই আপনার দেয়া প্রবন্ধটি উপেক্ষা করার জন্য যথেষ্ট। তাছাড়া আপনার প্রথম লিংকটিও আপনার নিজের অবস্থানের বিরুদ্ধেই যায়, কাজেই এই সন্দেহ করা অবান্তর নয় যে আপনি নিজেই সেটা পড়েছেন কি না। তবে তবুও লেখাটি আমি পড়তে পারি যদি আপনি নিচের কয়েকটি প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দেন:
          ১. লেখক বৈজ্ঞানিকভাবে, যথাযথ মেথডলজি অবলম্বন করে গবেষণা করে প্রবন্ধটি প্রকাশ করেছেন? সারা পৃথিবীতে বিজ্ঞান চর্চার স্বীকৃত পদ্ধতি আছে, স্বীকৃত ইন্সট্রুমেন্ট আছে এমন কি কোন গবেষণাগারে কোন যন্ত্রপাতি আছে এবং সেই গবেষণাগারের একজনের পক্ষে কোন কোন যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুবিধা আছে সেটাও খুজে বের করে জানা সম্ভব। কেউ একজন মনগড়া কোনো যুক্তি দিয়ে বা কোনো গবেষণা লব্ধ তথ্য উপস্থাপন করলেও সেটার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। এই কারনে কোনো গবেষণা যখন কোনো জার্নালে প্রকাশের জন্য সাবমিট করা হয় তখন কয়েকজন reviewer সেটার বিস্তারিত খুঁটি-নাটি দাঁড়ি কমা সহ পর্যবেক্ষণ করে রায় দেন সেটি প্রকাশ যোগ্য কি না।
          ২. লেখক যদি গবেষণা করে থাকেন সেগুলো কি peer reviewed journal এ প্রকাশিত হয়েছে? হয়ে থাকলে সেগুলোর ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর কেমন? সেই গবেষণা পত্রগুলোকি অন্যান্য গবেষণাপত্রে cite করা হয়েছে?
          যদি সন্তোসজনক উত্তর দিতে না পারেন তাহলে অনুগ্রহ করে আর সময় নষ্ট করবেন না।

          • মরুঝড় জানুয়ারী 18, 2013 at 10:20 পূর্বাহ্ন - Reply

            @বেঙ্গলেনসিস, ভায়া আপনাকে যে একটু সময় নষ্ট করতে হবে, আমি বিবর্তন বাদ নিয়েই আছি আপাতত,আপনার লিঙ্ক টা পড়ছি। আমি আপাতত বিবর্তনের বিরুদ্ধে নেটে যা পাওয়া যায় তা আপনাকে জানিয়ে কিছু জানতে চাচ্ছি,এই জন্য ই আমি নিজে কোন মন্তব্য করছি না। খুব শীঘ্রই আপনার সাথে আলোচনা হবে।

            • বেঙ্গলেনসিস জানুয়ারী 18, 2013 at 2:11 অপরাহ্ন - Reply

              @মরুঝড়
              তাহলে বলতে হয় আপনি মনোযোগ দিয়ে পড়ছেন না কারন আপনি প্রথমে যেই লিংকটি দিয়েছেন সেটা আল্টিমেটলি বিবর্তন বিরোধীতা বিষয়ক প্রশ্নগুলোর সমাধানও ব্যাখ্যা করে। আর তাছাড়া মুক্তমনা আর্কাইভটি পড়ে ফেললে অনেক কিছুই খোলাসা হয়ে যাবে বলে মনে হয়। মুক্তমনা আর্কাইভটি পড়ার পরও যদি মনে কোন সংশয় আছে তখন সেটা নিয়ে সুনির্দিষ্ট ভাবে আলোচনা করা যেতে পারে।

        • কাজী মাহবুব হাসান জানুয়ারী 18, 2013 at 10:49 অপরাহ্ন - Reply

          @মরুঝড়, সিডনী এম মরিস ছিলেন একজন প্রথম সারির ইয়ং আর্থ ক্রিয়েশণিষ্ট, এবং খৃষ্টধর্মবাদী, যারা ধর্মের স্বপক্ষে নানা ভাবে সাফাই গেয়ে যাচ্ছেন; যারা বিশ্বাস করেন এই পৃথিবীর বয়স বড় জোর ১০০০০ বছর; যাকে অনেকেই আধুনিক সৃষ্টিবাদ তত্ত্বের জনক বলেন; এমন কেউ যিনি প্রত্যক্ষভাবে পৃথিবীর বয়স সংক্রান্ত কোন বৈজ্ঞানিক তথ্যরই ধার ধারেন না, তার কাছ থেকে আমার মনে হয় না বিবর্তন এর বিরুদ্ধেও প্রাসঙ্গিক কোন বিরোধিতার উপাদান খোজাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে; বিবর্তনের প্রতিটি টেনেটই প্রমানিত হয়েছে, যারা এর বিরোধিতা করেন তাদের বিরোধিতা করার তাড়নাটা অন্য জায়গায়; এখানে তার আক্রমনের ভাষাটাও তাই বলে দিচ্ছে; সুতরাং কোন কিছু সম্বন্ধে স্পষ্ট করে জানতে হলে এটাও জানতে হবে, কে লিখছেন, কেন এবং কোথায় লিখছেন, এবং তিনি যা বলছেন তা আদৌ যুক্তিসঙ্গত কিনা, এর পক্ষে বিপক্ষে কি প্রমান আছে, বিষয়গুলো ক্রিটিক্যালী ভাবতে হবে;

        • অনীক সামীউর রহমান এপ্রিল 26, 2013 at 6:05 অপরাহ্ন - Reply

          @মরুঝড়,
          এ ভাই কপি-পেস্ট ছেড়ে নিজের ভাষায় বলা শিখবেন কবে বলেনতো? আচ্ছা আমাকে একটু ব্যাখ্যা করে বুঝান, নিজের ভাষায় যে বিবর্তন ব্যাপারটা কি? কিকরেই বা হয়? কপি-পেস্ট, আরেকজনকে কোট করা এইসব হাবিজাবি দেখাবেননা।

    • বেঙ্গলেনসিস জানুয়ারী 13, 2013 at 1:01 অপরাহ্ন - Reply
    • রামগড়ুড়ের ছানা জানুয়ারী 13, 2013 at 4:34 অপরাহ্ন - Reply

      @মরুঝড়,

      লেখক সাহেব একবার objections to evolution পড়ে আসুন ,উইকিপিদিয়া তে আছে।

      আপনি পড়েছেনতো? সেখানে কি লেখা আছে? আমিতো দেখলাম প্রথম দিকেই লেখা:

      Since then, nearly all criticisms of evolution have come from religious sources, rather than from the scientific community.

      ক্রিয়েশনিস্টদের বিভিন্ন দাবী পয়েন্ট আকারে সেখানে দেয়া আছে, সেগুলো আবার খন্ডনও করা আছে সেখানে। আপনিই আগে একটু কষ্ট করে পড়ে দেখুন বিশ্বাস না হলে।

      • বেঙ্গলেনসিস জানুয়ারী 14, 2013 at 2:48 পূর্বাহ্ন - Reply

        @রামগড়ুড়ের ছানা,
        ধর্মাতুল কৌতুকিম!! :))

        • মরুঝড় ফেব্রুয়ারী 13, 2013 at 4:17 অপরাহ্ন - Reply

          @বেঙ্গলেনসিস, আলোচনা করা যেতে পারে আপনি কি আছেন নাকি?

  8. karim জানুয়ারী 11, 2013 at 10:00 অপরাহ্ন - Reply

    একটা বড় ভুল চোখে পড়ল-ছাপার ভুল। ”মানুষের হাঁটু এখনো শরীরের ভার বহন করার জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত হয়”-এখানে নয়কে হয় করা হয়েছে।

    • বেঙ্গলেনসিস জানুয়ারী 11, 2013 at 11:33 অপরাহ্ন - Reply

      @karim,
      ভুলটি ধরিয়ে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। পোস্ট সাবমিট করার পর আমারও চোখে পড়েছে। কিন্তু এডিট করার অপশন নেই।

  9. আদিল মাহমুদ জানুয়ারী 11, 2013 at 8:49 অপরাহ্ন - Reply

    মানব দেহের মেরুদন্ডের শেষে Coccyx নামের হাঁড় আছে যা টেইল বোন নামে পরিচিত।

    সেলুলোজ হজম করা ছাড়াও কিন্তু এপেন্ডিক্সের অন্য কিছু কাজ আছে বলে সাম্প্রতিক গবেষনায় জানা গেছে, এখানে দেখতে পারেন। যদিও এপেন্ডিক্স বিহীন অবস্থায় বেঁচে থাকা খুবই সম্ভব।

    • বেঙ্গলেনসিস জানুয়ারী 11, 2013 at 11:31 অপরাহ্ন - Reply

      @আদিল মাহমুদ,
      ধন্যবাদ, শেয়ারের জন্য।

    • হোরাস জানুয়ারী 13, 2013 at 9:23 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আদিল মাহমুদ,

      যদিও এপেন্ডিক্স বিহীন অবস্থায় বেঁচে থাকা খুবই সম্ভব।

      কথাটার মধ্যে একটু অনিশ্চয়তার ভাব আছে বলে মনে হল। আসলে পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ এপেন্ডিক্স কেটে ফেলে দিয়ে বহাল তবিয়তে বেঁচে থাকে/আছে। বরং এপেন্ডিক্স থাকাটাই রিস্কের ব্যাপার। তাছাড়া সংখ্যায় খুবই অল্প হলেও কিছু কিছু মানুষ এপেন্ডিক্স ছাড়াই জন্মগ্রহণ করে।

      • আকাশ মালিক জানুয়ারী 13, 2013 at 9:40 পূর্বাহ্ন - Reply

        @হোরাস,

        এপেন্ডিক্স থাকাটাই রিস্কের ব্যাপার।

        আল্লারে বোকা পাইছেন নি? খামোখা কিচ্ছু বানাইবার লাগি আল্লায় বুদ্ধি নষ্ট করেনা তার সেই সময়ও নাই।

      • আদিল মাহমুদ জানুয়ারী 13, 2013 at 11:16 পূর্বাহ্ন - Reply

        @হোরাস,

        ঠিক বলছেন, এই দেখেন না আমিই লেজ বিহীন জন্মগ্রহন করে দিব্ব্যী আরামে এক জীবন কাটায় দিলাম।

      • বেঙ্গলেনসিস জানুয়ারী 13, 2013 at 12:55 অপরাহ্ন - Reply

        @হোরাস,
        অ্যাপেন্ডিক্সের উপকারিতার চেয়ে রিস্ক বেশী বলেই মনে হচ্ছে। মানুষ যদি জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে না যেত এবং বিবর্তনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিবর্তিত হত (মেডিকেল সায়েন্সের অগ্রগতির ফলে মানুষের উপর স্বাভাবিক বিবর্তন প্রক্রিয়ার প্রভাব কমেছে নিশ্চিতভাবে) তাহলে নিশ্চয়ই অ্যাপেন্ডিক্সবিহীন মানব সন্তান প্রকৃতিতে বেশী সুবিধা পেত। সেই ক্ষেত্রে একপর্যায় অ্যাপেন্ডিক্স যুক্ত মানুষের ট্রেন্ডটি ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যেত (হয়তোবা)।

        আপনার তথ্যের জন্য ধন্যবাদ। অ্যাপেন্ডিক্সবিহীন মানব সন্তান জন্মের বিষয়টি আমার জানা ছিল না।

মন্তব্য করুন