নেক্রোফিলিয়া

By |2012-12-30T03:30:38+00:00ডিসেম্বর 30, 2012|Categories: কবিতা|6 Comments

আজও আমি ভাসছি।
আমার একটু দূরে মেকি ঘুমে নাক ডাকছে শহর।
আমি শান্ত নই।

মানবের আজন্ম পাপের তুমি যে ঈশ্বর,
তোমার নরকের এত অন্ধকার লুকানোর
যথেষ্ট রাত আমার নেই।

ঢেউয়ের কোলে আজও ভাসছে লাশ-পোড়া গন্ধ।
আমি সুস্থ নই।

তোমার বুকের চাপে গুঁড়ো হয়েছে
আমার সব শুকনো কান্না —
তোমার কামান্ধ চোখের আগুনের তলে
আমি পুড়েই চলেছি তুমি দেখো নি।

তোমার পুজার যজ্ঞে যত লাশ স্তূপ হয়ে আছে
তাদের সনাক্ত করতে যথেষ্ট স্বজনও আর নেই।

তোমার শিশ্নে বিদ্ধ আমার শরীরে
দাগ কাটবার জায়গা নেই আর।

আজও এখনো ভাসছে মাঝির কান্না-ভরা গান —
“বিধি রে, তোমার খেয়ালের শেষ নাই
দয়া নাই তোমার মায়া নাই…”

বিধির এ খেয়ালের তুমি যে বিধাতা,
তোমার খেয়ালের জন্য যথেষ্ট দুঃস্বপ্ন আমার নেই।

আজ আমার মুখে এক পূর্নাঙ্গ নাগরিক জিভ —
নাড়লে তাতে লালা ঝরে, কথা ফোটে না।

ভাস্বতী
২৭ ডিসেম্বর, ‘১২

About the Author:

মন্তব্যসমূহ

  1. সংবাদিকা ডিসেম্বর 31, 2012 at 10:07 অপরাহ্ন - Reply

    কাব্যর নামকরণ মনেহয় স্বার্থক হয়নি 😕

    • সংশপ্তক ডিসেম্বর 31, 2012 at 10:52 অপরাহ্ন - Reply

      @সংবাদিকা,

      কাব্যর নামকরণ মনেহয় স্বার্থক হয়নি

      শুধু স্বার্থক হয়নি বললে তো চলবে না মশায় ! কেন স্বার্থক হয়নি সেটাও বলতে হবে ।

      • সংবাদিকা জানুয়ারী 2, 2013 at 12:53 পূর্বাহ্ন - Reply

        @সংশপ্তক,

        নিম্নে দ্রষ্টব্য 🙂

    • ভাস্বতী জানুয়ারী 1, 2013 at 11:31 অপরাহ্ন - Reply

      @সংবাদিকা,

      কবিতার থেকে যে পাঠক যা নেয় তাই দিয়েই কবিতার ভাব সৃষ্টি হয়। নিজের সৃষ্ট ভাব প্রকাশ করে হয়তো তা কিছুটা হলেও নষ্ট করছি। তবে সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে অনেক ঘটনার ব্যাপারেই এখানে ওখানে যখন পড়ি, মনে হয় বুঝি এসব অনেকটা মৃত মানুষকে ধর্ষণ করার মত (যদি মৃত মানুষকে ধর্ষণ করা সম্ভব হয়ে থাকে), কোন প্রতিক্রিয়ার সুযোগ বা আশা কিছুই বুঝি সেখানে নেই। তাই এক শ্বাসে কবিতাটা লিখে ফেলার পর নামটাও এক লাফে মন টপকে কি-বোর্ডে চলে এলো। হয়ত তা এক্ষেত্রে পাঠকের মনকে নাড়া দিতে পারলো না। তার দায় কাউকেই দেয়া যায় না লেখককে ছাড়া।

      • সংবাদিকা জানুয়ারী 2, 2013 at 12:49 পূর্বাহ্ন - Reply

        @ভাস্বতী,

        নেক্রোফিলিয়াতে আসক্ত ব্যক্তিকে মানসিক রোগী হিসেবে গণ্য করা হয়। লাশের অমর্যাদা করে সে মানুষ হিসেবে নিজের অমর্যাদা করছে, নিজেরও ক্ষতি করছে এবং মানবতার অপমান করছে। এ বোধ শক্তি তার নেই। কিন্তু সমসাময়িক সময়ে বিভিন্ন অমানবিক ঘটনা যারা ঘটাচ্ছে তারা শুধু মানবতার অপমান নয়, রীতিমত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করছে। তারা খুবই সুস্থ ব্যক্তি কিন্তু আপন কুৎসিত ইচ্ছা চরিতার্থ করার জন্য মানুষের ক্ষতি করছে এবং মানব হত্যা করছে; যা অনেক ক্ষেত্রে পশুকেও হার মানায়। তাদের মানসিক রোগী বলে চিকিৎসা দিয়ে এর পর নিরুদ্ধ করে রাখার কোনই মানে নেই। তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দিতে হবে যেন তারা এবং তাদের মত অন্যরা এমন না করাতো দূরে থাক, এমন করার কথা চিন্তাও না করতে পারে।

        কবিতাটি সুখপাঠ্য এবং মননে নাড়া দেবার জন্য এতে যথেষ্ট উপাদান রয়েছে।

        ধন্যবাদ।

        • ভাস্বতী জানুয়ারী 2, 2013 at 2:08 পূর্বাহ্ন - Reply

          @সংবাদিকা,
          বুঝলাম এবং মানলাম। দ্বিমত নেই। কবিতাটা পড়ার জন্য এবং এ বিষয়ে ভাবার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন