ডার্ক ম্যাটার – ক্ষুদ্র একখানি নোট

[১৯৮০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে CERNএ W, এবং Z নামে দুটো কণা সনাক্ত করা হয়। এ বছর জুলাই মাসে হিগ্‌স বোসন সৃষ্টি এবং সনাক্তকরণ মহাবিশ্বের আরও একটি মহা বিস্ময় উন্মোচন ত্বরান্বিত করেছে। বিস্ময়টি উন্মোচিত হবে যে কোন দিন, যে কোন ক্ষণে। এখন শুধু সময়ের ব্যাপার। মনে হচ্ছে বিজ্ঞানীরা সজোড়ে দৌড়ে চলেছেন। কে কার আগে চাঞ্চল্যকর খবরটি দিবেন, আর নোবেলের জয়মাল্যখানি উঠবে তাঁরই গলায়।

হিগ্‌স বোসন কণার সাথে নিশ্চয় ডার্ক ম্যাটার কণাও সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু তা সনাক্ত করণের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ছিল না, কিম্বা বিজ্ঞানীরা প্রযুক্তি তখনও পুরোপুরি উদ্ভাবন করতে পারেননি, বা ডার্ক ম্যাটার সনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়নি। তবে মনে হচ্ছে LHC তে শিগ্‌গীরই আরও একটি বিস্ফোরণ ঘটানো হবে।

হিউস্টন ক্রোনিকল প্রফেসর ভাস্কর দত্তের কাছে “অদৃশ্য বস্তু”র (Dark Matter) উপর একটা ছোট নোট চেয়ে পাঠায়। প্রফেসর দত্ত এবং তাঁর সহকর্মী প্রফেসর টোব্যাকের ক্ষুদ্র লেখাটি ক্ষুদ্র লেখাটি গতকাল (২৬ শে ডিসেম্বর ২০১২) প্রকাশ করে। তারই বাংলা ভাষান্তর নীচে।]


প্রায় একশত বছর যাবৎ জ্যোতির্বিদগন একটি অতীন্দ্রিয় বস্তু নিয়ে গবেষণা করে চলেছেন। মনে হয় এই বস্তুটিই আমাদের মহাবিশ্বটাকে ভরে রেখেছে, অজ্ঞানতাবশতঃ আমরা এই বস্তুটিকেই অদৃশ্য বস্তু বা ডার্ক ম্যাটার নামে সনাক্ত করে থাকি। এই বস্তুটি আছে বলে বিশ্বাস করার একটি বড় কারণ হল, আমরা যে গ্যালাক্সি নিয়ে গবেষণা করি, এর তারকাপুঞ্জ এমন ভাবে ধাবমান যেন তারকাগুলো গ্যালাক্সির মাত্র প্রায় ১০% ভর ধারণ করে। বস্তুত, “অদৃশ্য বস্তু” নামটি আমাদের বিশ্বাসেরই প্রতিফলন। অদৃশ্য বস্তুটি বিদ্যমান, কিন্তু আমরা তা দেখতে পাই না।

একশত বছরেরও আগে থেকেই কণা পদার্থবিদরা দেখিয়েছেন আমাদের চারিপাশে যা কিছু আমরা দেখি, চিনি এবং ভালবাসি, যেমন আমাদের এই পৃথিবী, সূর্য্য, আমাদের এই শরীর, সব কিছুই পরমাণু দিয়ে গঠিত। এগুলো আবার ইলেক্ট্রন এবং কোয়ার্ক নামে আদি কণা সমন্বয়ে গঠিত (প্রোটন এবং নিউট্রন আপ এবং ডাউন কোয়ার্ক দিয়ে গঠিত)। ফার্মিল্যাবে টপ কোয়ার্কের আবিস্কার (১৯৯০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে) এবং এই বছরের শুরুতে লার্জ হ্যাড্রন কলাইডারে (LHC) হিগ্‌স বোসন আবিস্কার আমাদের বিশ্বাসকে সংহত করেছে যে অনেক অনাবিস্কৃত কণা এখনও আবিস্কারের অপেক্ষায় আছে। অদৃশ্য বস্তু বিদ্যমান এবং যাকে আমরা অদৃশ্য বস্তু কণা নামে অভিহিত করি, তা বিপুল পরিমানেই বিদ্যমান।

যারা আমাদের মহাবিশ্ব সৃষ্টি এবং বিবর্তন নিয়ে নিরন্তন গবেষণা করে যাচ্ছেন, সেই কজমোলোজিস্টরা বিশ্বাস করেন, আমাদের শরীর যেমন কোয়ার্ক এবং ইলেক্ট্রন নিয়ে গঠিত তেমনি মহাবিশ্বের ইতিহাসের একটি বিশেষ মূহুর্তে এই সব অদৃশ্য বস্তু কণার সৃষ্টি হয়ে থাকবে। যদি বিগ ব্যাং তত্ত্বটি সঠিক হয়ে থাকে, তবে আজকের মহাবিশ্বটির যে বিশাল এবং ঠান্ডা জায়গাটিকে আমরা জানি, তা শুরু হয়ে থাকবে ১৩ বিলিয়ন বছরেরও আগে একটি ক্ষুদ্র অথচ প্রচন্ড গরম জায়গা থেকে অগনিত ফান্ডামেন্টাল কণার পারস্পরিক ধাক্কাধাক্কি (bashings or collisions) দিয়ে। বিগ ব্যাং এর মাত্র এ পিকো সেকেন্ডের মাথায় উচ্চ শক্তি (high energy) সম্পন্ন এই ধাক্কাধাক্কির মধ্য দিয়েই অদৃশ্য কণা গুলোর সৃষ্টি হয়ে থাকবে। এরা এখনও সর্বত্র ছড়িয়ে আছে এবং গ্যালাক্সিগুলোকে অবিরত ঘুরতে বাধ্য করছে।

লার্জ হ্যাড্রন কলাইডারে (LHC) উচ্চ শক্তির বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিগ ব্যাং এর ঠিক পরের মূহুর্তের অনুরূপ অবস্থাটি সৃষ্টি করা হয়। আমরা অনেকেই বিশ্বাস করি, একই বিস্ফোরণ অদৃশ্য বস্তু কণা গুলোরও সৃষ্টি করবে, এবং তা অতিকায় কণা সনাক্তকারকে ধরা পড়বে। এখন আমাদের জানতে হবে ঠিক কীভাবে এগুলোকে চিনতে হবে এবং ঠিক কোন নির্দিষ্ট জায়গাটি পর্যবেক্ষনে আনতে হবে। এবং এই পর্যবেক্ষনটাই একটা বিশাল কর্মকান্ড। একটি কর্ম পদ্ধতি নিরূপন কল্পে অতি সাম্প্রতিক কালে Mitchell Institute for Fundamental Physics and Astronomy at Texas A&M University এ জ্যোতির্বিদ, পার্টিকল ফিজিসিস্ট, এবং কসমোলোজিসস্টরা মিলিত হন। বিজ্ঞানের অতিকায় অতীন্দ্রিয় বিষয়গুলোর মধ্যে “আমাদের মহাবিশ্বে ডার্ক ম্যাটার” একটা বিরাট প্রশ্ন। মনে হচ্ছে, আমরা সমস্যাটি সমাধানের একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌছে গেছি।

ড. নৃপেন্দ্র নাথ সরকার পেশায় শিক্ষক ও গবেষক। বর্তমানে তিনি টেক্সাসের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, গবেষক এবং প্রোগ্রাম নিরীক্ষা সমন্বয়ক।

মন্তব্যসমূহ

  1. nakib জানুয়ারী 1, 2013 at 9:48 অপরাহ্ন - Reply

    :rotfl: ar hoise….

    পরবর্তীতে বাঙরেজি মন্তব্য প্রকাশ করা হবে না।

    -মুক্তমনা মডারেটর

  2. আঃ হাকিম চাকলাদার ডিসেম্বর 30, 2012 at 3:40 পূর্বাহ্ন - Reply

    জতির্বিজ্ঞান সম্পর্কীয় নিবন্ধ,তারপর আবার ডার্ক ম্যাটার, সম্পর্কীয় বিষয় আমার অত্যন্ত প্রীয় বিষয়। এই রহস্যময় বিষয়টি জানতে আমার অত্যন্ত উৎসাহ লাগে।
    ধন্যবাদ নিবন্ধটির জন্য।

  3. সুদীপ্ত শুভ ডিসেম্বর 28, 2012 at 4:06 অপরাহ্ন - Reply

    আশার খবর শুনলাম। অনেক ধন্যবাদ।

  4. কেশব অধিকারী ডিসেম্বর 28, 2012 at 1:22 পূর্বাহ্ন - Reply

    এক কথায় বিশাল খবর! আমাদের সৃষ্টিরহস্য উন্মোচন এখন সম্ভবতঃ শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার। যদিও খুব সহজ কাজ নয় তবুও একথা বলা চলে যে এক তমসাচ্ছন্ন কালের অবসান ঘটতে চলেছে। ধন্যবাদ আপনাকে উৎসাহ নিয়ে খবরটি জানাবার জন্যে।

মন্তব্য করুন