কোরিয়া ১৯৫০: এক কিশোর সৈনিকের স্মৃতিগাঁথা (পর্ব-৪)

পর্ব-১, পর্ব-২, আগের পর্ব

পর্ব-৪ (ভাষান্তরিত)

[বি.দ্র.: সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস আমাকে কিছু ঐতিহাসিক এ-ঘটনা সম্পর্কিত পটভূমির ছবি সরবরাহ করেছে, পর্যায়ক্রমে ছবি গুলো সংযোজনের ইচ্ছে রইলো]

সিউলের স্বাধীনতা: কোরীয় নৌ-সেনাদলের সদস্যরা রাজধানী সিউলের ক্যাপিটাল বিল্ডিং-এ নতুন কোরীয় পতাকা উত্তোলন করছেন (সেপ্টেম্বর ১৯৫০)।

১৯৪৫ থেকে ১৯৪৮ সময়কালে বিশেষ করে দেশের দক্ষিন অর্ধাংশের সর্বত্র রাজনৈতিক কর্মকান্ড হিসেবে ব্যাপক এবং ভয়ংকর সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ডান এবং বাম মতাদর্শীদের মাঝে ছড়িয়ে পরে। বাম এবং ডান উভয় সংগঠন থেকেই ব্যপক প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়, বিশেষ করে তৎকালীন সংবাদপত্র গুলোর মাধ্যমে দেশের জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক বিতর্কিত চিত্র গনমানসে প্রতিফলিত হতে থাকে। সবকিছুই জাপানী শাষনামল কাল থেকে ভিন্ন বলে প্রতীয়মান হতে থাকে, আর আমরা, প্রত্যাশা মতোই এই সব প্রকাশনা গুলো অনুসরণ করতাম; বিশেষ করে জাতীয় এবং আঞ্চলিক খবরের কাগজ গুলো আমাদের নিরাশ করতো না। আমরা জানতাম যে প্রকাশিত তথ্যগুলো অত্যন্ত একপেশে বা খুব বেশী মাত্রায় পক্ষপাত দোষে দুষ্ট কিংবা মারাত্মক রকমের বিকৃত, কিন্তু তবুও ঐসব থেকেই আমাদের খুঁজে নিতে হতো দেশের প্রকৃত রাজনৈতিক অবস্থা আর প্রয়োজনীয় তথ্য। যেমন একটা উদাহরণ দেওয়া যাক, হঠাৎ একদিন খবরের কাগজ গুলো প্রথমে প্রকাশ করলো যে ইউ এস দশম আর্মির XXIV কোরের কমান্ডার জেনারেল জন হোজ (Gen. John Hodge) কোরিয়ার ইউ এস আর্ম ফোর্সের (USAFIK) কমান্ডিং জেনারেল হিসেবে যোগ দিচ্ছেন! ১৯৪৫ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর জাপানী গভর্নর জেনারেল আবে নবুইয়াকির (Gen. Abe Nobuyaki) হয়ে ইনিই কোরিয়ায় জাপানী ফোর্সের আত্মসমর্পনের আইনগত ঐতিহাসিক দলিলটি গ্রহন করেছিলেন। এর কিছুদিন পরেই, সব জাপানী অফিস কর্মকর্তাবৃন্দের অপসারণ সাপেক্ষে মেজর জেনারেল অরকিবল্ড ভি. আর্নল্ড (Maj. Gen. Archibald V. Arnold) গভর্নর জেনারেল হিসেবে জেনারেল আবে নবুইয়াকির স্থলাভিষিক্ত হলেন। এসময় এই গভর্নর জেনারেল পদবী পরিবর্তন করে রাখা হলো মিলিটারী গভর্নমেন্ট, এর মানে হলো এই ঘোষনার মধ্যদিয়ে দক্ষিন কোরিয়ায় আমেরিকান মিলিটারী গভর্নমেন্ট চালু করা হলো! এই ঘটনার অব্যবহিত পরপরই সারা দেশে এমন ব্যপক রাজনৈতিক সহিংসতা এবং অস্থিরতা দেখা দিলো যে আমরা প্রায়ই প্রশ্ন করতাম, এই স্বাধীন দেশে আমাদের জীবন কি কিছুমাত্র নিরাপদ হলো জাপানী শাষনামলের প্রেক্ষাপটের পরিপ্রেক্ষিতে? প্রকৃতপক্ষে, আমাদের প্রতি জাপান সরকারের অপ্রীতিকর এবং অমর্যাদাকর আচরণ এবং কঠিনতম জীবন যাপন ব্যতিরেকে অন্ততঃপক্ষে পারিবারিক ক্ষেত্রে একধরনের স্থিতিশীলতা আমরা বড় হতে হতে দেখেছি। সেই কষ্টকর সময়টা আমরা পাড় করেছি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের প্রচন্ড অভাবের মধ্যদিয়ে, কিন্তু আমাদের জীবন বিপন্ন হবার মতো হুমকি কখনো দেখা দেয়নি, অন্ততপক্ষে আমি আমার বাল্যকালে তা উপলব্ধি করিনি। জাপান সরকার কর্তৃক আরোপিত অনুশাষনে আমাদের জীবনটা কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রিত হতো কিন্তু আমার ছোটবেলায় অধিকাংশ কোরিয়ান নাগরিকই এক ঘনিষ্ট পারিবারিক বন্ধন বজায় রেখে জীবন নির্বাহ করতে সমর্থ ছিলেন। এর পরেই জাপানীরা কোরীয় জাতিয়তাবাদী যোদ্ধাদের হয় হত্যা করে নতুবা কারারুদ্ধ করে যাবতীয় জাপান বিরোধী তৎপরতা এই কোরীয় উপসাগরীয় আঞ্চলে সম্পূর্নরূপে বন্ধ করতে সমর্থ হয়। কিন্তু জাপানের হাত থেকে স্বাধীনতা লাভের পরপপরই রাজপথের মিছিল মিটিং, দেশব্যপী যখন তখন হরতাল, সন্ত্রাস, অযাচিত চাঁদা-টোল আদায় সর্ব্বপোরি রাজনৈতিক হত্যাকান্ড দক্ষিন কোরিয়ায় আমাদের জীবনকে ভীষন ভাবে ক্ষত-বিক্ষত আর বিধ্বস্ত করে তুলে। ডান এবং বাম উভয় রাজনৈতিক সংগঠন গুলো স্বাধীনতা উত্তরকালে অব্যাহত ভাবে একে অপরকে প্রতিনিয়ত আক্রমন করতে অত্যন্ত কার্যকর ভাবে ক্রিয়াশীল ছিলো। ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয় যে, অতি প্রাচীন কাল থেকেই সতন্ত্র কোরিয়ান জনগোষ্ঠী সমভাবে জাপানী এবং চীনা জাতিসত্তার সাথে এক হয়ে মিশে আছে। কোরিয়ানদের অতি প্রাচীন গর্বিত সতন্ত্র জাতিগত বৈশিষ্ট্য এদের মাঝে এক শক্তিশালী জাতীয় বন্ধন তৈরী করেছে। অগাষ্ট ১৯৪৫ এর একটা সংক্ষিপ্ত সময়ের পর পর এমন একটা মুখোমুখি ডান এবং বাম রাজনৈতিক সংঘাতময় কাল এসে উপস্থিত হলো যে ছেলে বাবার বিরুদ্ধে মুখোমুখি তো পুরনো বন্ধুরা পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে, বুর্জোয়ারা প্রলেতারিয়েতদের বিরুদ্ধে, কার্যতঃ উত্তর দক্ষিনের বিরুদ্ধে পরমশত্রুভাবাপন্ন হয়ে তীব্র আক্রোশে ফেটে পরলো। কোরিয়ান উপদ্বীপের সমগ্র জনগোষ্ঠীর প্রগৈতিহাসিক ভাবে লব্ধ জাতিগত গৌরব পর্যবশিত হলো একে অপরের প্রতি বিদ্বেষে অপরিসীম ঘৃনায়। এমনকি কোচাং এর মতো একটি অক্ষ্যাত ছোট্ট আঞ্চলিক শহরের ডান-বাম রাজনৈতিক মতপার্থক্য এক বিভৎস সংঘাতে রূপ নিলো। ফলে এ অঞ্চলের সাধারন অধিবাসীরা ব্যপক আকারে অমানবিক ভাবে জীবন দিয়ে এর মূল্য দিলো এই সব দলনির্ভর রাজনীতির বলি হয়ে।

কোরীয় মুক্তিফৌজের অগ্রাভিযানের প্রারম্ভরেখা: নভেম্বর ২৪ এবং ডিসেম্বর ২৬, ১৯৫০।

 

কোরিয়ার ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্তের ব্যপারে জাতিসংঘের তৎকালীন অস্থায়ী কমিশন সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং উত্তর কোরিয়া প্রশাসনের আপত্তি সত্ত্বেও ১৯৪৮ সালের জানুয়ারী মাসে সিউলে এক আলোচনায় বসে। সকল পক্ষের আলোচনার পরে কোন কোন রাজনৈতিক শক্তির আপত্তিকে অগ্রাহ্য করেই জাতিসংঘ দক্ষিন কোরিয়ায় সাধারন নির্বাচনের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়, যা কিনা মতান্তরে দুই বিভক্ত কোরিয়ার জন্মকেই আইনসিদ্ধ করে তোলে। তখন অনেক কোরিয়ান নাগরিকই উত্তর ও দক্ষিনের সম্মিলিত অবিভক্ত কোরিয়াকেই দেখতে চেয়েছিলেন। আর শেষ পর্যন্ত ১৯৪৮ সালের মে মাসে উপরোক্ত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিন কোরিয়ায় সাধারন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। যদিও এই নির্বাচন, তৎকালীন কোরিয়ার জনগোষ্ঠীর কাছে অত্যন্ত অজনপ্রিয় একটি নির্বাচন ছিলো, এবং মূলতঃ রীহ সাইংম্যান (Rhee Syngman) এবং জাতিসংঘের অতি উৎসাহের কারনে এটি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো বলা চলে। যেমনটি আশা করা হয়েছিলো ঠিক তেমন ভাবেই রীহ সাইংম্যানের রাজনৈতিক গ্রুপটি দক্ষিন কোরিয়ার সংসদের অধিকাংশ আসনেই জয়লাভ করে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। সাধারন নির্বাচনের মাধ্যমে যেভাবে সংসদ সদস্যদের নির্বাচিত করা হয়েছিলো তা ছিলো তৎকালীন দক্ষিন কোরীয়দের কাছে একেবারেই নতুন একটি পদ্ধতি। প্রায় সব গুলো বড় বড় রাজনৈতিক সমাবেশ এবং মিছিল গুলো সাধারনতঃ রীহ-র রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাই সেসময় সংঘটিত করতো। আর আশে পাশের সেইসব বিপুল সংখ্যক জনসাধারন তাতে অংশগ্রহন করতো, এদের অনেকেই মূলতঃ বিনামূল্যে খাদ্য-পানীয়ের লোভে সমবেত হতো। যারা প্রায়ই প্রতিপক্ষের প্রার্থীকেই ভোট দিত, কিন্তু রীহ-র পক্ষের প্রার্থীকে পরাজিত করতে এদের এই প্রদত্ত ভোট কোন বিশেষ ফল বয়ে আনতে যথেষ্ট ছিলোনা।

বিভিন্ন কারনেই তখন এই নির্বাচন যথাযথ হয়েছে বলে মনে করার কোন কারন নেই, তবে রীহ সাইংম্যান (Rhee Syngman) ১৯৪৮ সালের ২৪শে জুলাই আইনগত ভাবে দক্ষিন কোরিয়ার প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে অভিষিক্ত হলেন। এরপরে ১৫ই আগষ্ট ১৯৪৮ সালে রাজধানী সিউলের ক্যাপিটাল ভবন থেকে আমেরিকার পতাকা নামিয়ে নতুন রাষ্ট্র দক্ষিন কোরিয়ার পতাকা উত্তোলন করা হলো। আর সেই কারনে তখন থেকেই এই দিনটিকে কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠাদিবস (Foundation day) হিসেবে স্মরণ করা হয়। ১৮৭৫ সালে জন্মগ্রহন করে দক্ষিন কোরিয়ার নতুন রাষ্ট্রপতি মূলতঃ ছিলেন কোরিয়ার ঈ-রাজ পরিবারের (Yi-Dynasty) সর্বশেষ বিদগ্ধ উত্তরাধিকারের সন্তান। স্কুলের পাঠ চুকবার পরপরই রীহ (Rhee) কে উচ্চ শিক্ষার্থে আমেরিকায় পাঠানো হয়েছিলো, এ সময় তিনি সেখানে হর্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ এবং প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পি-এইচ ডি ডিগ্রী লাভ করেন। ইনিই প্রথম কোরীয় নাগরিক যিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহন করেছিলেন। ১৯১০ সালে এক সংক্ষিপ্ত কোরিয়া সফরের পর রীহ (Rhee) চূড়ান্তভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন সেখানকার নাগরিকত্ব গ্রহনের মধ্যদিয়ে, এবং পরবর্তী ৩৫ বছর তিনি সেখানেই ছিলেন। যদিও কোরিয়ার স্বাধীনতার জন্যে তিনি কাজ করেছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে দ্রুত কোরিয়ান জনগন তথা তাঁর অনুসারীদের কাছে তিনি অনাদ্রিত হয়ে পরেন বস্তুতঃপক্ষে তাঁর ব্যক্তিগত মতাদর্শগত অনমনীয়তা এবং অতিরিক্ত মাত্রায় আত্মম্ভরিতার কারণে। তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাবে কমিউনিষ্ট বিরোধী ছিলেন, ফলে তিনি তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অত্যন্ত আদরণীয় ছিলেন কুড়িয়েছিলেন সম্মান, যশ এবং ব্যক্তিগত সহানুভূতি।

রাষ্ট্রপতি রীহ (Rhee) দক্ষিন কোরিয়ায় তৈরী করেছিলেন এক ভীতিকর একনায়কতন্ত্রী শাসনব্যবস্থা। অনেকের কাছে সত্যিই এটি দুর্বোধ্য ছিলো যে, কি করে একজন উচ্চশিক্ষিতের পক্ষে এহেনো অজনপ্রিয় স্বৈরশাসন ব্যবস্থার ধারা বহুল প্রত্যাশিত নিজস্ব স্বাধীন মাতৃভূমিতে আরোপ করা সম্ভব, যে স্বাধীন ভূমির জন্যে আমরা এই দীর্ঘ সংগ্রাম করেছিলাম, যেখানে প্রত্যাশিত যে তিনি পাশ্চাত্যের অধিকতর গনতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সর্বত্র সম্প্রসারিত করবেন। কেউ কেউ ধারনা করেন যে তিনি খুব ক্ষুদ্র এক কোটারী স্বার্থন্বেষী মহলের দ্বারা প্রবলভাবে প্রভাবান্বিত ছিলেন আর এরা ছিলেন তাঁর এতোটাই নিকটের কিংবা নিজের মন্ত্রীপরিষদের অন্তর্ভূক্ত যাদের তিনি কোন ভাবেই অগ্রাহ্য করতে পারেননি। তাঁর শাষনামলে তিনি মূলতঃ এক কেন্দ্রীক শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিলেন। সাথে ছিলো পুলিশী নৃসংসতা এবং তার যুব সংগঠন গুলোকে দিয়ে প্রশাসন কে ব্যবহার করে অন্যান্য অ-সমাজতান্ত্রিক দল ও সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি গুলোকে দমন করতেন সন্ত্রাসের মাধ্যমে। সম্ভবতঃ তিনি মনে করতেন যে, এই ধরনের অস্থির, অনিয়মতান্ত্রিক আর একগুঁয়ে জনতাকে শান্ত রাখতে হলে কঠোর দমননীতিই শ্রেয়!

মুক্তমনা সদস্য। পেশায় শিক্ষক।

মন্তব্যসমূহ

  1. […] পর্ব-২, পর্ব-৩, পর্ব-৪, আগের […]

  2. কেশব অধিকারী ডিসেম্বর 15, 2012 at 2:08 পূর্বাহ্ন - Reply

    অনুমান মোটেও মিথ্যে নয় আদিল মাহমুদ ভাই। আমি কোরিয়াতেই আছি আপাততঃ। তবে শীঘ্রই দেশে ফিরবো আশা করছি। তৎকালীন জাতিসংঘ আর ঐ মুহূর্তের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী রীহ সাইংম্যান এর যৌথ প্রযোজনায় ভাঙনটা তড়ান্বিত হয়েছিলো। যদিও বিষয়টা বিতর্কিত অনেকের মতে। তবে উত্তর কোরিয়া (বর্তমানের) এবং গোটা কোরিয়ার সাধারন জনতা তা কখনো চায়নি। আজও কোরিয়ার নাগরিকেরা মনে করে এই দুই কোরিয়া একীভূত হওয়া বাঞ্ছনীয়।

    আমেরিকা কারো বন্ধু হলে তার শত্রুর প্রয়োজন নেই এই বানী মনে হয় অন্তত দঃ কোরিয়ার ক্ষেত্রে খাটে না।

    আমার কাছেও বিষয়টা তেমনই। এখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এদের পরম হিতৈষী হিসেবেই দেখি। তবে বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেশ কিছুটা মার্কিন বিরোধিতা অনুভব করা যায়। কারন সম্ভবতঃ বানিজ্য ঘাটতি এবং দ্রুত বিকাশমান গ্লোবাল সন্ত্রাস।

    নিজেদের চেষ্টা, অধ্যাবসায় এসব থাকলে ঔপনিবেশিক শক্তির শেকল আসলে দাবিয়ে রাখতে পারে না।

    খুবই সত্যিকথা। এরকম উদাহরণ প্রচুর আছে।

    বাংলাদেশেরও অনেক হতাশার মাঝেও অগ্রগতি নেহায়েত কম না,

    আমার এই চাকচিক্যকে অগ্রগতি বলতে একটু আপত্তি আছে। আমি এইটিকে অনেকটা দূরে প্রদীপের আবছা আলোর মতোই বিবেচনা করি। শিক্ষায়, বিজ্ঞানে, বাণিজ্যে, কৌশলে, যোগাযোগে বিশ্বব্যাপী বিশ্বায়নের যে ঢেউ, সে ঢেউ আমাদের গাঙ্গেয় বদ্বীপেও গিয়ে আছড়ে পরেছে। আমাদের নিজস্ব মৌলিক অর্জন সেখানে প্রায় নেই। আর এগুলোর ডাইনামিসিটির জন্যেই মনে হয় এমনটি হয়েছে, বিশেষ করে মানুষে মানুষে যোগাযোগের প্রকৃয়াটা হঠাৎ বদলে যাওয়াটাই অন্যতম কারণ বলে আমার মনে হয়।

    তবে নিঃসন্দেহে নিজেদের স্বভাব আরেকটু উন্নত হলে এই অগ্রগতির মাত্রা আরো অনেক বেশী হত, কে জানে হয়ত কোরিয়ার কাছাকাছি যাওয়াটা খুব অবাস্তব হত না।

    সেই কথাটাই উপলব্ধি যতো তাড়াতাড়ি আমরা করবো ততই মঙ্গল। দূর থেকে দেশটার কথা ভবলে মনে হয় একদঙ্গল কাঙ্গাল এ ওকে মেরে ধরে খেয়ে বর্তে আছে!
    বর্তমানের বাংলাদেশের দিকে তাকালে কেনো যেনো মনে হয় দক্ষিন কোরিয়ার অতীত ইতিহাসটাই যেনো অনেকাংশে রি-প্লে হচ্ছে!

  3. আদিল মাহমুদ ডিসেম্বর 14, 2012 at 9:15 অপরাহ্ন - Reply

    কেশবদা কি দঃ কোরিয়াতেই থাকেন নাকি? উত্তর এবং দক্ষিন কোরিয়ার ভাগটা ঠিক কেমন করে হল?

    আমেরিকা কারো বন্ধু হলে তার শত্রুর প্রয়োযন নেই এই বানী মনে হয় অন্তত দঃ কোরিয়ার ক্ষেত্রে খাটে না।

    নিজেদের চেষ্টা, অধ্যাবসায় এসব থাকলে ঔপনিবেশিক শক্তির শেকল আসলে দাবিয়ে রাখতে পারে না। বাংলাদেশেরও অনেক হতাশার মাঝেও অগ্রগতি নেহায়েত কম না, তবে নিঃসন্দেহে নিজেদের স্বভাব আরেকটু উন্নত হলে এই অগ্রগতির মাত্রা আরো অনেক বেশী হত, কে জানে হয়ত কোরিয়ার কাছাকাছি যাওয়াটা খুব অবাস্তব হত না।

মন্তব্য করুন