ইসলাম/মুসলীম ব্যাশিং/ব্যাশার, বিদ্বেষ/বিদ্বেষী……. বিষয়টির নিষ্পত্তি হোক

ইদানিং একটা বিষয় তিক্ত বিতর্কের সৃষ্টি করছে মুক্তমনা ফোরামে। অনেক মুক্তমনা সদস্য ইসলামের সমালোচক সদস্যদের ইসলাম বিদ্বেষী, ইসলাম ব্যাশার, মুসলীম বিদ্বেষী ইত্যাদি বিশেষণে সম্বোধন করে ব্যক্তি আক্রমণাত্মক ভাষায় তিরস্কার করছেন। ব্যাশার কথাটি বহুল ব্যবহৃত। কি অর্থ এর। ইংরেজীতে ব্যাশিং শব্দের অর্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে জোরে আঘাত করা। ইসলামকে জোরে আঘাত করা মানে কি, অবশ্যই কড়া সমালোচনা করা। তাহলে ইসলাম ব্যশিং এর মানে দাঁড়ায় ইসলামের কড়া সমালোচনা। ইসলামের সমালোচনা কে মৃদু বা কড়া এই ভাবে শ্রেনীভুক্ত করাটাই অর্থহীন । ইসলামের সমালোচনা ব্যাপারটাই অনেকের কাছে কড়া জিনিষ। তথ্য যুক্তি দিয়ে ইসলামের যুক্তিনিষ্ঠ সমালোচনা করাটা নরম বা কড়া এভাবে বিভক্ত করা যায় না। যাহোক কেউ “ইসলামের কড়া সমালচনাকারী” হলেও একজন মুক্তমনাদর কাছে তা অতটা খারাপ লাগার কথা নয়। কারণ সমালোচনা কড়া হোক, নরম হোক, সমালোচনা মুক্তচিন্তা চর্চার অবিচ্ছেদ্য অংগ। কিন্তু ইসলাম ব্যশিং বলে একটা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া বা আবেগ সৃষ্টির চেষ্টা সুস্পষ্ট। আসলে “ইসলাম ব্যাশার” এই প্রকাশ ভঙ্গীতে মুসলীম ব্যাশার বা বিদ্বেষী বোঝানোর একটা প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত আছে। কিন্তু ইসলাম ব্যাশিং আর মুসলীম ব্যাশিং এক নয়। এর পার্থক্যটা সুস্পষ্ট, পরে আসছি এর আলোচনায়। এই ইসলাম ব্যাশিং আর মুসলীম ব্যাশিং কে প্রচ্ছন্ননভাবে সমার্থক করার চেষ্টা ইচ্ছাকৃত। কখনো তারা সরাসরিই মুসলীম বিদ্বেষী কথাটাই ব্যবহার করেন। মুসলীম ব্যাশিং কথার ব্যবহার দ্বারা মুসলীমদের ভিক্টিম হিসেবে দেখানোর ইচ্ছাটাও প্রচ্ছন্ন। একই কথা প্রযোজ্য ইসলাম বিদ্বেষ/বিদ্বেষী কথায়। সমালোচনাকে বিদ্বেষ বলে লেবেল দিলে ইসলাম সমালোচকদের ইসলাম বিদ্বেষী এবং প্রচ্ছন্নভাবে মুসলীম বিদ্বেষী হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এতে মুসলীমদের ভিক্টিম হিসেবে গন্য করে তাদের সমর্থনে অবস্থান নেয়া হয়। আলোচনার সুবিধার্থে যে মুক্তমনারা ইসলাম ব্যাশিং বা মুসলীম ব্যাশিং এর ধুয়া তুলে ইসলাম ব্যশারদের ভর্ৎসনা করেন তাদের “এন্টি ইসলাম-ব্যাশার” (অর্থাৎ ইসলাম-ব্যাশারদের ব্যাশার) বলে উল্লেখ করছি। কেন এন্টি ইসলাম-ব্যাশার মুক্তমনাদের এরকম কল্পিত মুসলীম ভিক্টিমের সমর্থনে অবস্থান নেয়া, বিশেষ করে যারা নিজেদের নাস্তিক বলে দাবী করেন? যেসব এন্টি ইসলাম-ব্যাশার মুক্তমনারা মুসলীম বংশে জন্ম নিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে একটা কারণ হতে পারে নাস্তিক হয়েও পরিচয় সঙ্কটের কারণে মুসলীম জাতীয়তাবোধের উপরে উঠতে পারছেন না তারা। ব্লগার সফিক তাঁর এক মন্তব্যে এরকম কথাই বলেছেন। তাই ইসলামের সমালোচনাকে, বিশেষ করে একই বাক্যে যখন অন্য ধর্মকে একই মাত্রায় ব্যাশিং করা না হয় তখন তারা এতে মুসলীম জাতির সদস্য হিসেবে (ইসলামে বিশ্বাসী হিসেবে নয়) একটা হীনমন্যতায় ভুগেন। এই হীনমন্যতাকে কাটিয়ে উঠার জন্য তারা ইসলামের সমালোচনাকেই ব্যাশিং আখ্যা দিয়ে এটাকে একটা হীন কাজ হিসেবে চিত্রিত করতে চান। আবার তারা সব ধর্মই সমান পুতিগন্ধময়, সমান বীষ্ঠাপূর্ণ এইসব বলেও এই হীনমন্যতা থেকে রেহাই পেতে চেষ্টা করেন। কারণ সব সমান খারাপ হলে তো কোন হীনমন্যতার প্রশ্ন উঠে না। এরা কিন্তু শুধু হিন্দু বা খ্রীষ্ঠান ধর্মকে টার্গেট করে সমালোচনা করায় বিচলিত হন না বা হীনমন্যতা বোধ করেন না। কিন্তু একজন প্রকৃত মুক্তমনা, নাস্তিকের জন্য ধর্মীয় জাতীয়তাবোধই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না। তার কাছে একটা বেশি খারাপ, অন্যটা কম খারাপ বলায় বিচলিত হবার কিছু নেই বা এতে হীনমন্যতায় ভোগার কারণও নেই। ধর্মনিরপেক্ষ মুক্ত বিশ্বে পেশা বা সামজিক জীবনে ধর্মীয় জাতীয়তাবোধ কোন বাড়তি সুবিধা দেয়না, বা ধর্মীয় জাতীয়তাবোধের অভাব কোন অসুবিধাও সৃষ্টি করে না। এই ধর্মীয় জাতীয়তাবোধ নিজের নাড়ী বা শিকড়কে ছিঁড়ে বের হতে না পারার মানসিক একটি সীমাবদ্ধতা। মুক্তমনাদের সবাই মনে করেন ধর্ম জাতীয়তার ভিত্তি হতে পারে না। ধর্মীয় ভিত্তিতে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাকেই তারা যেখানে কটাক্ষ করেন, সেখানে তাদের মুসলীম জাতীয়তাবোধ কে আলিঙ্গন করাটা কি একটা চরম স্ববিরোধিতামূলক ব্যাপার হয়ে যায় না ?

আবার যেসব এন্টি ইসলাম-ব্যাশাররা মুসলীম বংশে জন্মাননি তারা স্রেফ রাজনৈতিক শুদ্ধির জন্যই ইসলাম ব্যাশিং এর বিরোধী, বা সব ধর্মই সমান খারাপ এটা বলতে খুবই আগ্রহী, নিজেদের নিরপেক্ষ প্রমাণের চেষ্টায়।

আগেই উল্লেখ করছি যে ইসলাম ব্যাশিং আর মুসলীম ব্যাশিং এক জিনিষ নয়। ইসলাম একটা ধর্ম, মতবাদ ও আদর্শ, কোন ব্যক্তি নয়। আর মুসলীম হল যারা যারা এইধর্মে বিশ্বাস করে, তারা ব্যক্তি। এই ব্যক্তিদের মধ্য সকল চরিত্রের লোকই আছেন, নীতিবান, অহিংস, সহিংস, অসৎ সবই । কাজেই ইসলামের কড়া সমালোচনা করা মানেই মুসলীমদের নির্বিচারে ঘৃণা করা সেটা কখনই আবশ্যিক হতে পারে না। বা ইসলামকে ধর্মকে হেয় করায় মুসলীমদের হেয় করা হয় সেটা ভাবাও ঠিক না। কারণ একজন মানুষের চরিত্র ধর্মের দ্বারা সৃষ্ট হয় না। মানুষ মাত্রই ভাল মন্দ উভয়েরই প্রবণতা নিয়ে জন্মায়। কোন কোন ধর্মের খারাপ দিক তাদের প্রচ্ছন্ন মন্দ প্রবৃত্তিকে উস্কিয়ে দেয়, কোনটা দেয় না বা কম দেয়। কোন ধর্মের সমালোচনা করা হয় সেই ধর্মের খারাপ প্রবৃত্তিকে উস্কিয়ে দেয়ার ক্ষমতার জন্যই, ধর্মের অনুসারীদের হেয় করার জন্য নয়। ইসলামের অনেক কিছুই এই মন্দ প্রবৃত্তিকে উস্কিয়ে দেয়, যেমন অন্য ধর্মের/ অবিশ্বাসীদের প্রতি সহিংসতা/অসহনশীলতা, নারীদের প্রতি অসহনশীলতা বা বৈষম্য ইত্যাদি। ইসলামের কড়া সমালোচককে মুসলীম বিদ্বেষী বলাটা একটা গুরুতর অভিযোগ। উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া কাউকে অমুখ বিদ্বেষী তমুখ বিদ্বেষী বলাটা আইনের চোখে চরিত্রহনন হিসেবে মানহানী মামলার যোগ্য। কোন রাজনৈতিক নেতা বা প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে এইরকম অভিযোগ তুললে লাইবেলের ল স্যুটের সম্মুখীন হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে।

এখানে যেভাবে যথেচ্ছভাবে মুসলীম বিদ্বেষ/বিদ্বেষী শব্দের ব্যবহার হচ্ছে তাতে মুসিলীম বিদ্বেষকে পরিস্কার করে সংজ্ঞায়িত করাটা খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে। আমার মতে মুসলীম বিদ্বেষী সেই, যে শুধু মুসলীম পরিচয়ের জন্য কোন ব্যক্তিকে নির্বিচারে ঘৃণা করে। ঘৃণার প্রমাণ হবে অনিষ্ট করার চেষ্টা, মানবাধিকার লঙ্ঘন করা, বৈষম্য করা, যেমন শুধু মুসলীম হবার জন্যই অধিকতর যোগ্যতা সত্ত্বেও সেই ব্যক্তিকে চাকরী না দিয়ে কম যোগ্যতা সম্পন্ন অন্য ধর্মালম্বীকে চাকরি দেয়া ইত্যাদির দ্বারা। ঘৃণার অপেক্ষাকৃত কম মাত্রার প্রকাশ হল বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করা, এড়িয়ে চলা , বিপদে সাহায্য না করা, নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা বা বিচার করা ইত্যাদি। ঘৃণাটা ব্যক্তির গুনাগুন বিচারের ফলে সৃষ্ট হয় না, গুণাগুণ বিচার ছাড়াই কেবল মুসলীম পরিচয়ের জন্যই নির্বিচারে সৃষ্ট হয়। এর চেয়ে অন্য কোন যুক্তিসঙ্গত সংজ্ঞা চিন্তা করতে পারছি না বিদ্বেষ বা ঘৃণার। মুসলীমদের প্রতি এরকম নির্বিচার ঘৃণা অন্যধর্মের ধর্মান্ধদের মধ্যে থাকতে পারে, যেমন কিছু উগ্র হিন্দু বা খ্রীষ্টানের মধ্যে। তারা মুসলীম নামধারী ইসলাম ব্যাশারদেরকেও তাদের ঘৃণা থেকে রেহাই দেবে না স্রেফ মুসলীম বংশে জন্মাবার কারণে। তাদেরক হয়ত তারা ব্যবহার করতে পারে নিজেদের সুবিধার্থে, যেমন ইসলাম ব্যাশারদের লেখা উদ্ধৃতি দিয়ে । কিন্তু ইসলাম ব্যাশারদের লেখা যদি তাদের সুবিধার্থে লেখা না হয় তাহলে তাদের লেখা মুসলীম বিদ্বেষীরা উদ্ধৃত করলে তার দায়িত্ব ইসলাম ব্যাশারদের উপর বর্তাতে পারে না। অনেক এন্টি ইসলাম-ব্যাশার ইসলাম ব্যাশারদেরকে মুসলীম বিদ্বেষী হিন্দু/খ্রীষ্টাহ্নকদের ভাড়া করা এজেন্ট বলতেও কুন্ঠিত হন না। প্রমাণ ছাড়া এধরনের অভিযোগ করা অন্যায় ও কুরুচিপূর্ণ। মুসলীম বংশে জন্মান ইসলাম ব্যাশাররা ইসলাম ধর্মে মোহভঙ্গের কারণেই ইসলামের সমালোচনা করেন বলা আ,মার বিশ্বাস, অমুস্লীম মুস্লীম বিদ্বেষীদের সুবিধার্থে নয়। মুস্লীম বিদ্বেষীদের সুবিধা টা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে। বলাই বাহুল্য উগ্র মুসলীমদের মধ্যেও হিন্দুদের প্রতি অনুরূপ নির্বিচার ঘৃণা আছে। কিন্তু ইসলামের সমালোচকের মধ্যে এরকম নির্বিচার মুসলীম ঘৃণা থাকার কোন প্রমাণ নেই। থাকতে পারে না তা বলছি না। প্রশ্ন হল ইসলামের সমালোচনা করলেই কি কাউকে আবশ্যিকভাবে নির্বিচারে মুসলীম বিদ্বেষী হতে হবে বা বলা উচিত হবে?। জোর দিয়ে বলব না, কখনই না। শুর করা যাক মুসলীম পরিবারে জন্ম নেয়া ইসলাম সমালোচকদের বাবা মা ভাই বোন দিয়ে। ইসলামের সমালোচকদের অনেকেই এটা পরিস্কার করে বলেন যে ইসলামে গভীর বিশ্বাস সত্বেও তারা তাদের বাবা মা ভাই বোন বন্ধু বান্ধবদের ঘৃণা করেন না। মুসলীম হলেই নির্বিচারে ঘৃণা করার কোন কারণই নেই, যুক্তি দিয়ে চিন্তা করলে। কারণ ইসলামের যে সব ক্ষতিকারক দিক নিয়ে ইসলাম ব্যাশাররা লেখালেখি করেন বেশির ভাগ মুসলীমদের জীবনে তার প্রভাব বা প্রয়োগ নেই। এটা বুঝতে হবে যে ইসলামে অনেক কিছু আছে যা ব্যক্তি পর্যায়ে সীমিত, যা অন্যের অধিকার বা ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ করে না, যেমন নামাজ পড়া, রোজা রাখা, হিজাব পরা ইত্যাদি । এগুলি যুক্তিহীন হলেও অন্যের জন্য ক্ষতিকারক না হওয়াতে ইসলামের সমালোচকেরা এগুলি শুধু অনুসরণ করার জন্যই কারোর প্রতি ঘৃনা পোষণ করেন না, এমনকি এগুলি অনুসরণ করার পরেও ব্যক্তি জীবনে এদের অনেককেই ইসলাম ব্যাশাররা বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে । কিন্তু কাউকে ইসলামের এই আচার মেনে চলতে বাধ্য করা হলে সেটা আর নিরপরাধ বা শান্তিপ্রিয় থাকে না, সেটা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপার হয়ে যায়। ইসলামের সমালোচকেরা এই সব ইসলামিক আচারাদির যুক্তিহীনতা নিয়েও যদি লেখালেখি করেন তাতেও এটা কখনই প্রমাণ হয় না যে তারা এই যুক্তিহীন ইসলামী আচারাদির অনুসরণকারীদের ঘৃণা বা সমালোচনা করেন। যুক্তিহীন ইসলামী আচারাদির সমালোচনা করা মানে এই যুক্তিহীন ইসলামী আচারাদির প্রবর্তক, প্রচারক বা বলপূর্বক বলবৎকারীদের সমালোচনা, অনুসরনকারীদের নয়। এটা বোঝা খুবই দরকারী। বাংলাদেশের এক বিরাট জনগোষ্ঠী যারা দিন আনে দিন খায়, দিন মজুর, কৃষক, রিক্সাচালক, এড়া সবাই ইসলামে বিশ্বাস ও ইসলামী আচারাদি ব্যক্তিজোবনে অনুসরণ করলেও এদের প্রতি ইসলাম সমালোচকেরা ঘৃণা পোষণ করেন না, বা করার প্রমাণ নেই, কারণ এরা তাদের বিশাসকে ব্যক্তি পর্যায়ে সীমিত রাখে। এদেরকে শান্তিপ্রিয় মুসলীম বলা যায়। এরা উত্তরাধিরসূত্রে এই বিশ্বাস পায়, এবং তাদের বিশ্বাসকে জায়েজ করার জন্য সরবে কোন যুক্তি তর্কের অবতারণা করে না, নীরবেই বিশ্বাসটাকে অন্তরে লালন করে। ইসলামে বিশ্বাস রেখেও একজন ভাল মনের মানুষ (নিরপেক্ষ বিচারে) হতে পারে, তাদের ঘৃণা করার কোন যৌক্তিকতা নেই । কাজেই যে যতই ইসলামের কড়া সমালোচক হন না কেন তাকে মুসলীম বিদ্বেষী বলার আগে সাক্ষ্য প্রমাণ লাগবে তার ব্যক্তিগত জীবনের কর্মকান্ডের ভিত্তিতে, কারণ ইসলাম ব্যাশার হয়েও ব্যক্তিজীবনে মুসলীম বিদ্বেষী না হওয়াও সম্ভব। মুসলীম বিদ্বেষী কাউকে খেলো ভাবে প্রয়োগ করার মত শব্দ নয়। এটা গুরুতর একটা শব্দ। সেহেতু প্রমাণ ছাড়া এটা প্রয়োগ করলে এটা বরং উলটো ইসলাম ব্যাশারদের প্রতি এন্টি ইসলাম-ব্যাশারদের বিদ্বেষ বা ঘৃণা কেই প্রমাণ করবে। এন্টি ইসলাম-ব্যাশাররা আবশ্যিকভাবে ইসলাম ব্যাশারদের(ব্যক্তি) ঘৃণা করে, কিন্তু ইসলাম-ব্যাশাররা ইসলামকে ব্যাশ করে,কোন মুসলীমকে নয় (নির্বিচারভাবে তো নয়ই) । এই তফাতটা মনে রাখার দরকার।

আমি গুরুত্বের সাথে একটা কথা বোঝাতে চেয়েছি যে ইসলাম ব্যাশাররা নির্বিচারে মুসলীম বিদ্বেষ পোষন করেন না, মুসলীমদের এক বিরাট জনগোষ্টীর প্রতি তাদের কোন ঘৃণা নেই। এই গোষ্ঠী ইন্টার্নেট পড়ে না বা জানেও না ইসলামের সমালোচনার কথা বা ইসলামের সমর্থনে তর্কে লিপ্ত হয় না । কিন্তু মুসলীম জনগোষ্ঠীর অপর এক অংশ আছে যারা শান্তিপূর্ণ ভাবে ব্যক্তিজীবনে ইসলামকে সীমিত রেখে সন্তুষ্ট নয়। তারা আগ্রাসীভাবে ইসলামের মাহাত্ম্য প্রচারে ব্যাস্ত, ইসলাম যে শ্রেষ্ঠ ধর্ম, কত বৈজ্ঞানিক, শান্তিপ্রিয়, যুক্তিপূর্ণ এটা প্রমাণ করতে একের পর এক পোস্ট দিয়ে যায় । তাদের বক্তব্যের যুক্তিপূর্ণ জবাব দিলে তারা সমালোচকদের প্রতি বিষোদ্গার করতে শুরু করে আর ব্যক্তি আক্রমণে লিপ্ত হয়। এদেরকে ইসলামিস্ট বলা হয়। তারা ইসলামের সমালোচককে শুধু ইসলাম ব্যাশারই বলে না শুধু, তাদের অনেকে ইসলাম ব্যাশারদের প্রতি সহিংস আচরনকে সমর্থন করে, প্রাণ নাশের হুমকিও দেয়, ইসলামের শত্রু, ইহুদী খ্রীষ্টানদের বেতনভুগী দালাল বলে। স্বভাবতই ইসলাম ব্যাশাররও এদের পালটা সমালোচনা করেন। কিন্তু তারা ইসলামিস্টদের প্রাণ নাশের হুমকি দেয়ার মত লেভেলে নামে না। এই তফাতটা লক্ষ্যণীয়। প্রায়ই দেখা যায় এন্টি ইসলাম-ব্যাশাররা ইসলাম ব্যাশারদেরকে ইসলামী চরমপন্থীদের সাথে তুলনা করে। এটা দুঃখজনক, কারণ তুলনাটা খুবই অসমান। ইসলাম-ব্যাশাররা কলমেই তাদের কর্ম সীমিত রাখে। অথচ ইসলামী সন্ত্রাসীরা সহজেই সহিংসতায় লিপ্ত হতে পারে ইসলাম-ব্যাশাররদের প্রতি, যদিও ইসলাম-ব্যাশাররা তাদের বা অন্য কারও প্রতি সহিংসতায় লিপ্ত হয় নি। কখনো কখনো একটা উদ্বেগজনক ব্যাপার লক্ষণীয় সেটা হল এন্টি ইসলাম-ব্যাশার ও ইসলামিস্টদের একটা কমন স্ট্যান্ড হল যে ইসলাম ব্যাশারদের প্রতি সহিংসতাটা সমর্থনযোগ্য কারণ তারা মুসলীমদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করছে, মুসলীমদের মানসিক যন্ত্রণা ইসলাম ব্যাশারদের প্রতি সহিংসতাকে জাস্টিফাই করে। এই ধর্মানুভূতিতে আঘাত করার বুলিটা এন্টি ইসলাম-ব্যাশার ও ইসলামিস্টদের একটা সাধারণ সুর। কিন্তু কতটা যুক্তিযুক্ত এই ধর্মানুভূতিতে আঘাত হানার দাবীটা। আগেই বলেছি ইসলাম ব্যাশারদের ইসলামের সমালোচনা এক বিরাট মুসিলীম জনগোষ্ঠীর প্রতি লক্ষ্য করে নয়। তারা এই ইন্টার্নেট ভিত্তিক ইসলামের সমালোচনার কথা জানেও না। তাদের আঘাত পাওয়ার প্রশ্ন উঠতে পারে না । বাকী থাকল ইন্টার্নেট ব্যবহারকারী ইসলামিস্টরা। তাদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করার বা আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় এন্টি ইসলাম-ব্যাশার মুক্তমনাদের বিচলিত হওয়াটা খুবই আশ্চর্য্যের ব্যাপারই বটে। এই ইসলামিস্টরা মানসিক ভাবে খুব দুর্বল, ইনোসেন্ট বা সুকোমল চিত্তের মানুষ নয় যে তাদের প্রতি এতটা সহানুভূতিতে গলে যেতে হবে। তারা নিজেরাই অন্য বিশ্বাসীদের প্রতি নির্দয় আঘাতের জন্য সদা প্রস্তুত। সহিংসতাতেও পিছপা হয় না। তা ছাড়া ধর্মানুভূতিতে আঘাত করার কথাটার মধ্যে একটা অসঙ্গতি আছে, কথাটা ধোঁয়াটেও বটে। বিশ্বাস কি এমনই একটা ঠুনকো জিনিষ যে বিশ্বাসের সমালোচনায় এতটা বিচলিত বা আঘাতপ্রাপ্ত হতে হবে। বিশ্বাসে পূর্ণ আস্থা থাকলে তো আঘাতকে আঘাত হিসেবে নয় বরং বিশ্বাসকে জোরদার করার পরীক্ষা হিসেবে দেখার কথা। বা ইসলাম ব্যাশারদের সমালোচনা ভুল মনে করলে যুক্তির সাথে সেই ভুল খন্ডন করেও তাদের বিশ্বাসকে জোরদার করতে পারে, বা যুক্তি ঠিক হলে অন্যকেও ইম্প্রেস করে বিশ্বাসের প্রতি আকৃষ্ট করতে পারে । আসলে ধর্মানুভূতিতে আঘাত নয়, তাদের বিশ্বাসকে প্রশ্ন করার প্রতিই তারা অসহনশীল। এই অসহনশীলতাটাই ইসলামী সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর এই অসহনশীলতাটা সহজেই সহিংসতার রূপ নেয়। সর্বোপরী একটা সঙ্গত অভিযোগ তোলা যায় যে, জীবনে অনেক কিছুরই তো সমালোচনা করা হয়, বিজ্ঞানের কোন তত্ত্বকে বা বিশেষ কোন সাহিত্যিককে বা সাহিত্যকর্মকে বা কোন বরেণ্য নেতাকে। কিন্তু বিজ্ঞানের সেই তত্ত্বে বিশ্বাসীদের বা সেই সাহিত্যিক/বরেন্য নেতাদের ভক্তদের অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার কথা তো তোলা হয় না। ইসলামে বিশ্বাসীদের কি একটা বিশেষ প্রিভিলেজ আছে, বা থাকলে তার কারণ কি। ইসলামিস্টরা এই প্রাধান্যপূর্ণ মর্যাদা দাবী করলে অবাক হবার কিছু নেই, কিন্তু এন্টি ইসলাম-ব্যাশার মুক্তমনাদের মুখে এই ধর্মানুভূতিতে আঘাত দেয়ার কথা শুনলে অবাকই হতে হয়। অথচ এই এন্টি ইসলাম-ব্যাশারদের কেউ কেউ রবীন্দ্রনাথের কড়া সমালোচনা (ব্যক্তি সমালোচনা, সাহিত্যিক সমালোচনা নয়) করে লিখেছেনও। রবীন্দ্রভক্তরা যে এতে মনোকষ্ট পান না এটা ভাবার কোন কারণ নেই। ডবল স্ট্যান্ডার্ড অন্তত মুক্তমনাদের কাছ থেকে আশা করা যায় না।

কোন কোন এন্টি ইসলাম-ব্যাশার অবশ্য এটাও বলেন যে তারা ইসলামের সমালোচনা বিরোধী নন per se . তাদের আপত্তি হল যেহেতু সব ধর্মই সমান খারাপ তাই কেন শুধু ইসলামকেই টার্গেট করা হবে? অন্য ধর্মকেও একই সুরে সমালোচনা করতে হবে, তা না হলে এটা একপেশে হয়ে যাবে। এই যুক্তির অসারতা স্পষ্ট। যদি তারা মেনেই নেন যে ইসলাম খারাপ (অন্য ধর্মও খারাপ সেটা মেনেই) , তাহলে খারাপের সমালোচনা তো শর্তহীনভাবেই যৌক্তিক হবার কথা। অন্য ধর্মকে খারাপ না বললে ইসলাম খারাপ বলাটাও অযৌক্তিক বা অগ্রহণযোগ্য হয়ে যায় কি করে। কেই যদি রবীন্দ্রনাথের খারাপ দিক নিয়ে তথ্যযুক্তি দিয়ে সমালোচনামূলক লেখা লেখে তখন কি কেউ বলে (বা বলা উচিত কি?) অমুখ সাহিত্যিকেরও অনেক খারাপ দিক আছে, তাদেরও সমালোচনা না করে শুধু রবীন্দ্রনাথকে টার্গেট করাটা অযৌক্তিক বা অগ্রহণযোগ্য, ওটা টেগোর ব্যাশিং ইত্যদি। দেখা যাচ্ছে যে ইসলাম একটা বিশেষ মর্যাদা পাচ্ছে এই এন্টি ইসলাম-ব্যাশারদের দৃষ্টিভঙ্গীতে। লক্ষণীয় ব্যাপার হল যে খ্রীষ্ট বা হিন্দু সমাজেও তাদের নিজ নিজ ধর্মের কড়া সমালোচক আছেন। ইন্টার্নেট ফোরামেও হিন্দু বা খ্রীষ্টান ধর্মের কড়া সমালোচনা হয়েছে, মুক্তমনার কিছু সদস্যও এই কড়া সমালোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্ত এই ধর্মগুলির দেশে (ভারত, আমেরিকা…) বা ইন্টার্নেট ফোরামে অনুরূপ এন্টি হিন্দু/খ্রীষ্টান-ব্যশারের অস্তিত্বের কথা শুনা যায় না, যারা কেন শুধু হিন্দু বা খ্রীষ্ট ধর্মকেই তাক করা হচ্ছে, অন্য ধর্মকে নয় এরকম ধুয়া তুলেছেন। এটা ইসলাম ধর্মের ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে। এন্টি ইসলাম-ব্যাশাররাও কিন্তু কখনও খ্রীষ্টান বা হিন্দু ব্যাশারদের প্রতি একই রকম তিক্ত মনোভাব পোষন করে অভিযোগ করেন না যে তারা শুধু খ্রীষ্টান বা হিন্দু ধর্মকেই ব্যাশ করছেন। ইসলাম বা অন্য ধর্মকে নয়। কারণ তাদের কাছে ইসলামের ব্যাশিং টাই এক বিশেষ গুরুত্ব পায়। নিজেকে সব ধর্মের উপরে উঠাতে পারলে পৃথিবীর সব সমাজের সব ধর্ম ব্যাশারদের প্রতি সমান ঘৃণা পোষন করার কথা। কিন্তু ইসলাম ব্যাশারদের প্রতি তাদের এক আলাদা মনোভাব দেখা যায়। হিন্দু ব্যাশার বা খ্রীষ্টান ব্যশাররা ইসলাম ব্যাশ না করলেও এন্টি ইসলাম-ব্যাশারদের তাতে কোন সমস্যা নেই, সমস্য্যা শুধু ইসলাম ব্যাশাররা খ্রীষ্ঠান বা হিন্দু ব্যাশিং না করলে। এই পক্ষপাতিত্বের একমাত্র ব্যাখ্যা হল মুসলীম জাতীয়তাবোধের শিকড় ছিঁড়তে না পারা, যেটা আগেই উল্লেখ করেছি। হিন্দু/খ্রীষ্টান ধর্মের নাস্তিক/মুক্তমনারা তাদের স্ব স্ব ধর্মের জাতীয়তাবোধ কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন বলেই হয়ত তাদের মধ্যে এন্টি হিন্দু/খ্রীষ্টান ব্যাশার বেশী দেখা যায় না।

আরেকটা কথা হল যেসব এন্টি ইসলাম-ব্যাশার সব ধর্মই সমান খারাপ প্রচার করে শুধু ইসলামের সমালোচনার বিপক্ষে , তাদেরকে বলি, তাঁরা নিজেরাই তো অন্য ধর্মের খারাপ দিক নিয়ে লিখতে পারেন, অন্য ধর্মের খারাপ দিক নিয়ে লেখাকে তারা যদি এতই আর্জেন্ট মনে করেন। তারা যদি এতটাই নিশ্চিত যে অন্য ধর্মের খারাপ ইসলামের খারাপের সম পরিমান, তাহলে তো তাদের অন্য ধর্মের খারাপ দিক নিয়ে লেখার মত বিশদ জ্ঞান আছে নিশ্চয়। ইসলাম ব্যাশাররা অন্য ধর্মের খারাপ নিয়ে লেখেন না কেন এই অভিযোগ করার কোন কারণ দেখি না। নিজেরা যা করতে পারেন, সেটা অন্যেরা কেন করছে না তাদের মুখে এই ধরনের অভিযোগের সুর খুব ভাল শোনায় না। সব ধর্মের ব্যাশাররা মুক্তভাবে লিখুন না কেন সব ধর্মে খারাপ দিক নিয়ে। পাঠকেরাই বিচার করবে খারাপটা সমান কিনা, যুক্তি বিচার বুদ্ধি ব্যবহার করে। একটা বিশেষ ধর্ম, আইডিওলজি, মতবাদ, কে ব্যাশ করা (কড়া সমালোচনা করা) মুক্তচিন্তা/মুক্তমনের পরিপন্থী হয় কি করে কিছুতেই বুঝা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক শুদ্ধির পরিপন্থী হতে পারে। কিন্তু মুক্তমন/মুক্তচিন্তার আবশ্যিক পূর্বশর্ত তো রাজনৈতিক শুদ্ধি নয়।

আবার কোন কোন এন্টি ইসলাম-ব্যাশার ইসলামের সমালোচনা করার সময়ে কোন বিষয়ে অন্যধর্ম ইসলামের মত অত খারাপ নয় এরকম ইঙ্গিত করাতে ঘোর আপত্তি তোলেন। তাঁদের মতে সব ধর্মই সমান খারাপ। কোন বিষয়ে অন্যধর্ম ইসলামের চেয়ে কম খারাপ বলাটাকে তারা ইসলামকে হেয় করে অন্য ধর্মের জয়গান গাওয়া হিসেবে দেখেন । কিন্তু কম খারাপ বলাটা তো ভাল বলা নয় এই সহজ যুক্তি তারা কি বোঝেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই অন্যধর্ম ইসলামের মত অত খারাপ নয় কথাটা ইসলাম ব্যাশাররা তোলেন এন্টি ইসলাম-ব্যাশারদের সব ধর্মই সমান খারাপ এই দাবীর জবাবে, দাবীটা যে অযৌক্তিক সেটা বোঝাবার জন্যেই তোলেন, আগ বাড়িয়ে অন্য ধর্মের মাহাত্ম্য প্রচারের জন্য নয়। সব ধর্মই সমান খারাপ এটা একটা রাজনৈতিক শুদ্ধি জনিত অবস্থান, যুক্তি বিশ্লেষন জনিত মত নয়। আগে উল্লেখ করেছি মুসলীম জাতীয়তাবোধে বিশ্বাসী নাস্তিকরা (বা ইসলামে অবিশ্বাসীরা) হীনমন্যতা এড়াতে এরকম দাবী করেন। যেটাই হোক যদি তথ্য যুক্তির দ্বারা বস্তুনিষ্ঠভাবে ধর্মের তুলনামূলক সমালোচনা বা গুণাগুণ বিচার করা হয় হয় তাতে আপত্তির কি থাকতে পারে, সেটা তো মুক্তচিন্তার পরিপন্থী নয়। কিন্তু এন্টি ইসলাম-ব্যাশাররা সব ধর্মই সমান খারাপ এই মন্ত্রটা এতই জোরেসোরে আকড়ে থাকেন যে তথ্য যুক্তির দ্বারা বস্তুনিষ্ঠভাবেও কোন ধর্মকে কম খারাপ বা বেশী খারাপ বলার যথার্থতাকে স্বীকারই করেন না। সব ধর্মই সমান খারাপ এটা তাদের একটা অলঙ্ঘনীয় ডগমা।

আরেক দল এন্টি ইসলাম-ব্যাশার বলেন যে ইসলামের সমালোচনা করা নয়, যে ভাষায় ইসলামের সমালোচনা করা হয় তাতে তাদের আপত্তি। এটা ব্যাখ্যার দাবী রাখে। রবীন্দ্রনাথকে তস্কর বলা, বা বিবেকানন্দকে ভন্ড বলা, বা গান্ধীকে শিশুকামী বলার ভাষায়ও তো তাদের ভক্তদের কাছে আপত্তিকর হতে পারে, তাদের অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে। কিন্ত কোন এন্টি ইসলাম-ব্যাশাররা ঐসব ক্ষেত্রে এরকম ভাষার ব্যবহারে আপত্তি তোলেন না। না তোলায় সমস্যা নেই। কিন্তু ইসলামের (মুহম্মদ অন্তর্ভুক্ত) সমালোচনার বেলায় তাদের মানদণ্ড অনেক উচু হয়ে যায় কেন সেটার ব্যাখ্যা দরকার। ডবল স্ট্যান্ডার্ড টা সমস্যা। কোন ভাষায় ইসলাম সমালোচনা করা আপত্তিকর সেটা স্পষ্ট করে তারা একটু ব্যাখ্যা করলে সুবিধা হয়। নেতিবাচক সমালোচনা শুনতেই তো খারাপ লাগবে ইসলামিস্টদের। যে ভাষাতেই তা হোক। ভাষাটা গৌণ ব্যাপার। মুহম্মদ কুরায়েশদের নিরস্ত্র বানিজ্যিক কাফেলার উপর অতর্কিতে ঝাপিয়ে পড়ে তাদের মালামাল লুট করতেন (সিরাতে রসুলে বর্ণিত) সেটা বলা আর তিনি ডাকাতি করতেন সেটা বলার মধ্যে বস্তুগত কোন পার্থক্য নেই। যারা মুহম্মদকে মহামানব মেনে অন্ধ ভক্তিতে গদগদ তাদের মানসিক আঘাত সৃষ্টিতে এই দুটোর মধ্যে কোন তফাত নেই। সমালোচনার ভাষা কারো নিরাবেগ, কারো আবেগময়, ঝাঁজালো এটা ঠিকই। এটা অনেকটা ব্যক্তিগত স্টাইলের ব্যাপার। কারো ভাষা বেশী উত্তেজক হয়ে গেলে (তথ্য বা যুক্তির ভুল না থেকে) সেটাকে পরিশীলিত করা নিয়ে পরামর্শ দেয়া যায়, ভাষাকে সংযত করার জন্য। আমি কোন বিশেষ ইসলাম ব্যাশারের সমর্থনে এসব লিখছি না। আমি নিজেও অনেক ইসলাম ব্যাশারদের ভাষাকে নিখুঁত বা ত্রুটিহীন মনে করি না। ইসলাম ব্যাশারদের ভাষাকে মারজিত করে উন্নত করার পরামর্শ দিলে তাঁরা ভাষাকে উন্নত করতে সচেষ্ট হবেন বলাই আমার ধারণা। ইসলামিক আইডিওলজীর ফলশ্রুতিতে যে মাত্রায় মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে ও হচ্ছে তাতে ভাষায় আবেগ বা তিক্ততা সংবরণ করা কঠিন হয়ে যায় অনেকের জন্য, যদিও আইডিয়ালী এটা পরিহার করা সর্বদাই বাঞ্ছনীয়। কিন্তু এক লাফে শুধু ভাষার জন্য সমালোচককে মুসলীম বিদ্বেষী বলার মত চরম পদক্ষেপ নেয়া কখনই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না, যতক্ষণ সমালোচনাতে ভুল যুক্তি বা তথ্য ব্যবহৃত না হচ্ছে। কেউ কেউ বাক স্বাধীনতা মানে যা ইচ্ছা বলার অধিকার নয় বলে মত দিয়েছেন । “যা ইচ্ছা তা ” টা কি হলে সেটা বলার অধিকার হারাবে? স্পেসিফিক ছাড়া এধরনের ধূসর অভিযোগের কোন উপযোগিতা নেই। তা ছাড়া অধিকার হারানোর মানদন্ড টা কি, কে সেই মানদন্ড নির্ধারণ করেছে। এগুলি পরিস্কার করে সংজ্ঞায়িত না করলে এ ধরনের অভিযোগ মূল্যহীন । কোন কোন ইসলাম ব্যাশারের লেখা নাকি পর্নোগ্রাফি সমতুল্য এরকম অভিযোগও উঠেছে। এতদিন তো শুনে আসছি মুক্তমনার বইএ পর্নোগ্রাফি বলে কিছু নেই, বা মুক্তচিন্তার মানদন্ডে পর্নোগ্রাফি খারাপ ভালোর ব্যাপার নয়, যার কাছে যেমন লাগে, সাব্জেক্টিভ ব্যাপার। D H Lawrence এর “What is pornography to one man is the laughter or genius to another” উল্লেখ করতে হয়। পর্নোগ্রাফি হোক বা না হোক, তথ্যগত বা যুক্তিগত ভুল আছে কিনা সেটাই কি বিবেচ্য হওয়া উচিত নয় একজন মুক্তমনার কাছে? স্বীকার করি সিরিয়াস ব্যাপার নিয়ে লিখলে হাল্কা চটুল ভাষা বা যৌনাঙ্গের মত বিষয় টেনে না আনাই ভাল, তথ্য যুক্তির প্রয়জন যতটুকু দরকার তার বাইরে। আমি নিজেও এটা পরিহার করার পক্ষপাতি। কিন্তু সেটা “Suggestion for Improvement” বা গঠন্মূলক সমালোচনার আওতায় পড়ে। এর জন্য আবারো এক লাফে ইসলাম ব্যাশারকে মুসলীম বিদ্বেষী বলাটা বা ব্যক্তি আক্রমণে লিপ্ত হওয়াটা বাড়াবাড়ি মনে হয়। পর্নোগ্রাফি তো কারো প্রতি ব্যক্তি আক্রমণ নয়। ব্যক্তি আক্রমণ তো সুস্পষ্টভাবে মুক্তমনা নীতিমালার বিরুদ্ধে যায়। আর ব্যক্তি আক্রমণ তো এন্টি ইসলাম ব্যাশাররাই প্রথমে আগ বেড়ে করছেন ইসলাম ব্যাশারদের প্রতি, মুক্তমনার সুস্পষ্ট নীতিমালা লঙ্ঘন সত্ত্বেও।

এন্টি ইসলাম-ব্যাশারদের একটা সাধারণ অভিযোগ হল “ইসলাম ব্যাশিং” ই উগ্র ইসলামিস্টদের উস্কিয়ে দেয়। মানে ইসলামিস্টদের উগ্রতার জন্য ইসলাম-ব্যাশাররাই দায়ী এমন ইঙ্গিত করা। এটা অনেকটা মেয়েদের অশালীন পোষাক পরাকেই ধর্ষিত হবার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করার মত। উগ্র কর্মকান্ড উগ্রবাদীরা তাদে স্বাধীন ইচ্ছার দ্বারাই করে। “ইসলাম ব্যাশিং” এর কারণে নয়। তারা ভুলে যান যে ইসলামিস্টদের কারণেই ইসলাম ব্যাশারদের সৃষ্টি। এখানে নীতির (মোরালিটি অর্থে নয়, প্রিন্সিপ্‌ল্‌ অর্থে) প্রশ্ন আছে। যদি ইসলাম ব্যাশিং এর কারণে কোন উগ্র ইসলামিস্ট সহিংসতায় লিপ্ত হয় তার জন্যই কি সেই সমালোচনা বা ব্যাশিং নিন্দনীয় হয়ে যায় ?। এটা কার্যের গুনাগুন বিচার করে কারণের মন্দত্ব বিচার করা)। ইসলাম ব্যাশিং এর পরিণতিতে যদি সহিংসতার না ঘটত তাহলে কি ইসলাম ব্যাশিং কে খারাপ বলতেন তারা? এটা সুবিধাবাদী কার্য-কারণ স্থাপন করার চেষ্টা। কোন কিছুর মন্দ বিচার তার স্বকীয় গুয়াঙ্গুনের দ্বারাই বিচার করা উচিত। রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ বা গান্ধীকে ব্যাশিং করলে তাদের ভক্তরা সহিংসতায় লিপ্ত হয় না, তাই তাদের ব্যাশিং দষের নয়, আর ইসলাম/মুহম্মদের ব্যাশিং করলে ইসলামিস্টরা সহিংসতায় লিপ্ত হয়, কাজেই ইসলাম ব্যাশিং খারাপ। এটা প্রপকারান্তরে ইসলামিস্ট ব্ল্যাকমেইলের প্রতি সারেন্ডার করা।

ইসলামী উগ্রবাদ আছে বলেই প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসলাম ব্যাশিং এর জন্ম। উল্টোটা নয়। ইসলামিস্টদের উস্কিয়ে দিতে হয় না। ইসলাম ধর্মই তাদের উস্কিয়ে দেয়, তাদের সৃষ্টি করেছে। এই ফোরামে ইসলাম ব্যাশারদের লেখা ইসলামী উগ্রবাদ উস্কিয়ে দিয়েছে এমন কোন আলামত দেখা যায় নি। বরং ইসলাম ব্যাশারদের লেখায় অনেকের ইসলাম নিয়ে মোহভংগ ঘটেছে এরকম উদাহরন এন্তার আছে। এন্টি ইসলাম-ব্যাশাররা এই পজিটিভ দিকটা না দেখে কাল্পনিক ইসলামী উগ্রবাদ সৃষ্টির প্যরানয়্যা নিয়ে ভুগছেন।

এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে ইদানিং এন্টি ইসলাম-ব্যাশাররা ইসলাম ব্যাশারদের প্রতি উৎকটভাবে আগ বাড়িয়ে ব্যক্তি আক্রমণে লিপ্ত হচ্ছেন। ইসলাম ব্যাশাররা আগ বাড়িয়ে ব্যক্তি আক্রমনে লিপ্ত হন নি। তারা ইসলাম ব্যশিং এই ব্যস্ত। এন্টি ইসলাম-ব্যাশাররা তাদের ইসলাম ব্যাশিং এ ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের প্রতি ব্যক্তি আক্রমণে লিপ্ত হলে তখন উভয় পক্ষ ব্যক্তি আক্রমণে লিপ্ত হয়ে যায় ঠিকই। কিন্তু এর সূত্রপাত হয় এন্টি ইসলাম-ব্যাশারদের প্রতি প্রথম ব্যক্তি আক্রমণাত্মক পদক্ষেপে, আর তাদের ব্যক্তি আক্রমণের ভাষাটাও বেশি তিক্ত (বোকাচোদা, পা চাটা দালাল, চেলা ইত্যাদি) । এই ব্যক্তি আক্রমণ মুক্তমন/মুক্তচিন্তার পরিপন্থী বলেই জানি। এন্টি ইসলাম-ব্যাশাররদের ইসলাম ব্যাশারদের প্রতি বিজাতীয় ঘৃণা ইসলামিস্টদের প্রতি এন্টি ইসলাম-ব্যাশাররদের ঘৃণাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এটা সত্যি দুঃখজনক। ইসলাম-ব্যাশাররা ভুল তথ্য বা যুক্তি দিয়ে ইসলাম ব্যশিং করলে তা অবশ্যই নিন্দনীয় ও খন্ডনীয়। কিন্তু যৌক্তিকতা বিচার না করে কেবল ইসলাম-ব্যাশিং এর জন্যই ইসলাম ব্যাশারদের প্রতি বিজাতীয় ঘৃণা পোষণ করা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

About the Author:

মুক্তমনা ব্লগার

মন্তব্যসমূহ

  1. গFত্যফফফ ডিসেম্বর 2, 2012 at 1:13 পূর্বাহ্ন - Reply

    Muto mon … Kechu manus bady apnara kau mukto moner non, sabai aky aporer dhormo beddyse. Sabai nejer bebak r kachy nejyky dakhun apnara ke mukto mon nake dhormo beddyse.

    পরবর্তীতে বাঙরেজিতে করা মন্তব্য গ্রহন করা হবে না।

    -মুক্তমনা মডারেটর

  2. সংবাদিকা নভেম্বর 26, 2012 at 12:31 অপরাহ্ন - Reply

    সবকিছুতেই ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক দিক আছে। মানব সমাজ জন্ম থেকে কতগুলো সামাজিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মায়:

    ১।নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য
    ২।ধর্ম
    ৩।ভাষা
    ৪।সামাজিক সংস্কৃতি
    ৫।রাজনৈতিক জাতীয়তা

    মানুষ সামাজিক ভাবে বেঁচে থাকার জন্য আশ্রয় খোঁজে। মানুষের বেঁচে থাকা শুধু খাদ্য অন্বেষণে সীমাবদ্ধ নয়।

    উপরোক্ত পাঁচটি বৈশিষ্ট্য ত্যাগ করা মানুষের জন্য খুব সহজ নয়। কেননা এর প্রাপ্তি তার বুদ্ধি হবার আগ থেকেই হয়, তার মননে গেঁথে যায়।

    পাঁচটি বিষয় নিয়ে তাৎক্ষনিক কিছু প্রশ্ন বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতেই শুধু ঋণাত্মক গুলো মুক্তমনে করা যাক 😕

    বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক বাহিনী এবং তাদের দোসরদের অত্যাচারের কথা প্রায় সবাই জানেন। কিন্তু ঐ সময়ে এবং যুদ্ধের ঠিক পরে, অনেক জায়গায় বাঙালীদেরও পাল্টা অত্যাচার হয়েছিল এবং যুদ্ধে মাঝে মাঝে শিশু সৈনিক ব্যবহারের কথা শোনা যায় এবং শিশু দ্বারা মুক্তিযুদ্ধের কতগুলো অন্যতম সফল আক্রমণ করা হয়েছিল…… এখন স্বাধীন দেশে এটা কে আলোচনা করবে???? করবেনা, ওটা বিদেশীরা করবে অথবা খুব বেশি হলে একাডেমিক আলোচনা হবে…… কিন্তু কখনই পাবলিক নয়। এটাই হওয়া উচিৎ। অনেকে আমাকে জামাত বলে গালি দিতে পারেন এই কথা বলার পর। কিন্তু একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে এসব আমার গায়ে লাগেনা, কেননা কেউ কিছু বললে তেমন কিছু আসে যায়না কারণ মানুষের মুখের কথায় উত্তেজিত হওয়া সবচাইতে বোকামি। পার্শবর্তী দেশ ভারত কিংবা পাকিস্তান সাম্রাজ্য বিরোধী মানবতার কথা বললেও তারা নিজেরা আরও বেশি সাম্রাজ্যবাদীতার পরিচয় দিচ্ছে, কাশ্মীর, আসাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, সিকিম কিংবা বেলুচিস্তান এসব শুধু চেনাগুলো। আরও অনেককিছুই আছে। আসলে, সব কথার শেষ কথা, রাজনৈতিক ভাবে যারা জয়ী হয়, ইতিহাস তাদেরই গুণগান করে। এই বিংশ-একবিংশ শতাব্দীর ইতিহাস রচনা হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে। তাদের অনেক নেগেটিভ সাইটো পজেটিভ ভাবে দেখানোর চেষ্টা করবেন ইতিহাস লেখকগণ।

    পশ্চিমা সাদারা, ভারতীয়দের নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে এক সময় বর্ণবাদী আচরণ করত। গান্ধীকে এক সময় ট্রেনের বগি হতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল, গায়ের রং সাদা না হবার জন্য। আচ্ছা অনেক দক্ষিণ এশীয়রা নিজেরা কি কম বর্ণবাদী। বাঙ্গালীরা বাদামী কিংবা একটু গাড় বাদামী। এই কোয়েজি/সেমি ডার্ক স্কিন নিয়েও বাঙ্গালীরা, পারফেক্ট ডার্ক স্কিনের মানুষদের সুযোগ পেলেই টিটকারি মারে…… মারেনা??? ভারতে দলিত শ্রেণীর কথা বলাই বাহুল্য। বাংলাদেশের অনেক মানুষই মনে করে আফ্রিকা মানে জঙ্গল!!!!!! তারা অসভ্য… অনেকের ধারনাই নাই আফ্রিকার অনেক দেশ বাংলাদেশ হতে অনেক উন্নত এবং মিশর-ইথিওপিয়া বাদেও ওখানে আরও অনেক প্রাচীন সাবসাহারান সভ্য রাষ্ট্র ছিল। চাকমারা দাবী করে তারা বাঙালীদের দ্বারা বিভিন্ন দিক হতে জাতিগত অত্যাচারের স্বীকার; আবার অনেক চাকমাদের কাছেই মারমারা জাতিগত বিভিন্নভাবে নিগৃহীত।

    আমরা আমাদের সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব করি। কিন্তু যেসব নিয়ে আসলেই গর্ব ওসব নিয়ে করা হয়না। গর্ব করা হয় উনবিংশ শতাব্দীতে কলোনিয়াল আমলে যেসব সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে। ফোক এখনো আমাদের খেটে খাওয়া গণমানুষের বিনোদন। অনেকে আবার ট্র্যাডিশনাল বাদ্যযন্ত্র বাদ দিয়ে গিটার দিয়ে ফোক গান গেয়ে খাটি বাঙ্গালী হবার চেষ্টা করেন, দোতারা নিয়েযে ব্যাভেরিয়ান-ভেগাবন্ড স্মার্টনেস ভাব তাদের আসেনা !!!!! অনেকে আবার রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং মরমী সঙ্গীতকে বিনোদনের মাধ্যম থেকে সরিয়ে ধর্মের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। একটু ফিউশনই গেল গেল রব তোলেন যেন সাংস্কৃতিক চরমপন্থা। আবার এক শ্রেণীর মানুষ বাসায় পরিবার সহ বসে চিকনি চামেলি নাচন আর ক্যাটরিনার কোমর দোলান দেখে, কিন্তু বাংলা সিনেমা অশ্লীলতা জন্য দেখেননা…… বিচিত্র হিপোক্রেসি

    বাংলা ভাষা নিয়ে আমাদের গর্বের শেষ নেই। অনেকে অতি আবেগে বলে ফেলেন এটা কয়েক হাজার বছরের পুরোন ভাষা। এর বিরোধিতা অনেকে হজম করতে পারেনা। বিরোধিতা করলেই তাকে ধার্মিক জাতীয়তাবাদী বিশেষণে বিশেষায়িত করা হয়। কিন্তু বাস্তব কথা হচ্ছে হাজার-দের হাজার বছর আগে বাংলা ভাষার লয়াঙ্গুয়েজেনেসিসই হয়নি। যেমন ইংরেজি কিংবা হিন্দি হয়নি। তবে চীনা ম্যান্ডারিন কিংবা ল্যাটিন, সংস্কৃত পালি ব্যতিক্রম।

    আচ্ছা জাতি হিসেবে কি আমরা ঐ পাকিস্তানি পাঞ্জাবি চিন্তা ভাবনা থেকে খুব বেশি দূরে।যুদ্ধের পর স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতা শেখ মুজিব ক্ষুদ্র জাতিসত্তাকে বাঙ্গালী হয়ে যেতে বলেছিলেন, আমার মনে হয় এই কথা জিন্নাহর সেই ৫২র বক্ত্যব্য থেকেও থেকেও নীচ চিন্তা, উর্দু তো জিন্নাহর নিজের মাতৃভাষা ছিলনা কিন্তু শেখ মুজিবের নিজের মাতৃভাষা বাংলা ছিল!!!!

    বাংলাদেশ শান্তি প্রিয় “মোডারেট” মুসলিম এবং বাঙ্গালী সংখ্যা প্রধান দেশ। তবে দেশের ১৫ শতাংশ মানুষ মুসলিম না এবং ২ শতাংশ মানুষ বাঙ্গালী না। আমাদের দেশে রাষ্ট্র ধর্ম আছে আবার রাষ্ট্র ভাষাও আছে। যারা এই সাংবিধানিক ভাবে স্বীকৃত রাষ্ট্রীয় বিশেষণে বিশেষায়িত বিশেষ্যর বিরোধিতা করেন তারাও সব কিছুর বিরোধিতা করেননা। বেশিরভাগের রাষ্ট্র ধর্মে চুলকানি থাকলেও রাষ্ট্র ভাষা তে নেই। কোনটির করেন কোনটির করেননা।

    সহজ কথায়, যারা ধর্ম পালন করেননা কিংবা ঈশ্বরে বিশ্বাসী নন তাদের নাস্তিক বলা হয়। সমাজে যেমন ধর্ম কিংবা জাতিসত্তা ভিত্তিক চরমপন্থি আছে তেমন নাস্তিক চরমপন্থিও আছে।

    অনেক প্রগতিশীল গে-লেসবিয়ান বিয়ের অধিকারের ব্যাপারে কথা বলেন তারাই নিজেরা বহুবিবাহের ব্যাপারে উদারতার পরিচয় দেননা। আবার যারা পলিগেমির সমর্থক, তাদের মধ্য বেশিরভাগ পলিযিনি সমর্থন করে কিন্তু পলিএনড্রির ঘোর বিরোধী। পৃথিবীতে স্ট্রেট এর পাশাপাশি লেসবিয়ান-গে আছে আবার হেটারো আছে যারা কোন কিছুর ধার ধারেনা। অনেকে আবার অর্গি-গ্রুপেও মজা পায়। গ্রুপ ম্যারেজের উদাহরণও দেখা যায়, আমি কিছুদিন আগে এক ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমে এটা নিয়ে ফিচার দেখেছি। এখন এই ইন্টারনেটের যুগে আমরা সহজে জানতে পারি জুফিলিয়া-নেক্রোফিলিয়া নামেও শব্দ আছে; আচ্ছা এরা যদি দাবী করে ইন্টারস্পিসিস ম্যারেজ আইন সম্মত করার!!!!! এদের প্রায় সবাই মনে করে পেডোফিলিয়া অপরাধ কিন্তু এর ঘোর বিরোধী যদিও ফ্রেন্স সরকার আবার এক পেডোফিল রোমান পোলানেস্কি কে বিচারের হাত থেকে বাঁচাতে আন্তর্জাতিক চেষ্টার ত্রুটির বিচুতি করেনা। ফ্রেঞ্চরা আবার নিজেদের পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিল্প বোদ্ধা দাবী করে কিনা, এজন্য বোধয় এক ক্রিমিনাল কিন্তু শিল্পিকে বাঁচানোর এই প্রয়াস!!

    এখন আবার পরিবেশ বাদী চরমপন্থাও চোখে পরে!!!!! আমার সবচাইতে হাসি লাগে যখন কেউ প্রাণী মাংস খায়না এই যুক্তিতে যে, এটা খাওয়া মানে প্রকৃতি বিরোধী প্রাণের হত্যা। তারা নাকি “ভেজ” । বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র খুব সফলভাবে দেখিয়েছেন উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে। এটা সু-প্রতিষ্ঠিত। মূল ব্যাপার হওয়া উচিৎ, অপ্রয়োজনীয় নিধন করা অনুচিত, সেটা প্রাণী হোক কিংবা উদ্ভিদ হউক।

    এসবের মত

    ধর্মও একটা ফ্যাক্টর। পৃথিবীর কোন ধর্মই মানবতা বিরোধী কথা বলেনা। কিন্ত যুগে যুগে মানুষ ধর্মকে ব্যবহার করেছে, নিজের ইচ্ছে মত সুবিধাকে প্রাধান্য দিয়ে স্বার্থ আদায় করার জন্য। সব ধর্মেই চরমপন্থা আছে, খৃস্টান, ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, জুডাইজম সহ সব ধর্মেই। আবার এসব ধর্মের ভেতরেও অনেক ফ্যাকশন আছে, যারা একজন আরেকজনকে স্বীকৃত দিতে অনিচ্ছুক।

    যাই হোক, আমার বলার উদ্দেশ্য যে যতই নিজেকে মুক্তমনা দাবী করুক। পৃথিবীতে কেউই শতভাগ মুক্তমনা নয়। সব বাদ দিয়ে শতভাগ মুক্তমনা হলে সমাজ বলে আর কিছু থাকবেনা যার ফলাফল নৈরাজ্য। যেমন গণতন্ত্রের মাঝেও কিছু নিয়মতান্ত্রিকতা থাকতে হয় তানাহলে নৈরাজ্য শুরু হয়ে যায়।

    সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করতে হলে সহমর্মিতা সবার আগে প্রয়োজন। কি দরকার অপরের বিশ্বাসকে ভার্বালি অফেন্স করে তাকে কষ্ট দেওয়া যদি না তা কোন ক্ষতির কারণ হয়ে না দাড়ায়।

    শেষ কথা, সকল প্রকার চরমপন্থা নিন্দনীয়। কোন কিছু আদায় করতে হলে সিস্টেমেটিক ভাবে আগানোই শ্রেয়। মানুষ জন্ম সুত্রে যা পায়, তা থেকে পরবর্তীতে বের হয়ে আসা এত সোজা নয়।

    • মনজুর মুরশেদ নভেম্বর 26, 2012 at 7:33 অপরাহ্ন - Reply

      @সংবাদিকা,

      বেশিরভাগের রাষ্ট্র ধর্মে চুলকানি থাকলেও রাষ্ট্র ভাষা তে নেই।

      রাষ্ট্রের বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনায় ভাষার ব্যবহার অপরিহার্য তাই একটি দেশে বেশীরভাগ জনগনের ভাষাই রাষ্ট্রভাষা হওয়া উচিত। অন্যদিকে রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মের ব্যবহার অপ্রয়োজনীয়। তাই ধর্মকে রাস্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থা থেকে যত দূরে রাখা যায় ততই মঙ্গল। রাষ্ট্র ধর্মে আমার ভীষন চুলকানি ।

      পৃথিবীর কোন ধর্মই মানবতা বিরোধী কথা বলেনা।

      মানতে পারছি না। ইসলাম-সহ আরো অনেক ধর্মেই মানবতা বিরোধী কথাবার্তা আছে। মুক্তমনার বিভিন্ন পোষ্টেই এর প্রমান পাবেন।

      কি দরকার অপরের বিশ্বাসকে ভার্বালি অফেন্স করে তাকে কষ্ট দেওয়া যদি না তা কোন ক্ষতির কারণ হয়ে না দাড়ায়।

      ধর্মপালন আর মুক্তবুদ্ধির চিন্তা পাশাপাশি যায় না। ধর্ম একটি ডগমাকে ধারন করে; ধর্ম পালন মানে একটি ডগমার কাছে আত্নসমর্পন আর তখনি মুক্তচিন্তার সমাপ্তি ঘটে। একজন মুক্তবুদ্ধির মানুষ ধর্মের সমালোচনা করলে যদি কোন আপাত নিরীহ ধর্মপালনকারী অফেন্ডেড হন তাতে কিছু করার নেই।

      • সংবাদিকা নভেম্বর 26, 2012 at 9:00 অপরাহ্ন - Reply

        @মনজুর মুরশেদ,

        রাষ্ট্রের বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনায় ভাষার ব্যবহার অপরিহার্য তাই একটি দেশে বেশীরভাগ জনগনের ভাষাই রাষ্ট্রভাষা হওয়া উচিত।

        এটা আপনার মত, আপনার আগে নেহেরুরও এই মত ছিল। কিন্তু সে পারেনি শুধু হিন্দীকে সরকারী ভাষা করতে, সঙ্গে আরও ২২ টিকে নিয়ে পরে সরকারী ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয় যার মধ্য সবচাইতে সংখ্যা লঘূটির ভাষা ভাষী ১৫ লক্ষরও কম। এর সাথে ৪ টি ঐতিহ্যগত মর্জাদা আছে।

        আমেরিকান ইংরেজী সার্বজনিন ভাষা হলেও খোদ আমেরিকাতেই ইংরেজীকে রাষ্ট্র ভাষা ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

        সরকারি ভাবে লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা ব্যবহার করা এক কথা আর “রাষ্ট্রীয়” স্বীকৃতি দেওয়া আরেক কথা। এখানে লক্ষনীয় “সরকারী ভাষা” এবং “রাষ্ট্র ভাষা” দুটির অফিসিয়াল ডেজিগনেশন ভিন্ন।

        মানতে পারছি না। ইসলাম-সহ আরো অনেক ধর্মেই মানবতা বিরোধী কথাবার্তা আছে। মুক্তমনার বিভিন্ন পোষ্টেই এর প্রমান পাবেন।
        ধর্মপালন আর মুক্তবুদ্ধির চিন্তা পাশাপাশি যায় না। ধর্ম একটি ডগমাকে ধারন করে; ধর্ম পালন মানে একটি ডগমার কাছে আত্নসমর্পন আর তখনি মুক্তচিন্তার সমাপ্তি ঘটে। একজন মুক্তবুদ্ধির মানুষ ধর্মের সমালোচনা করলে যদি কোন আপাত নিরীহ ধর্মপালনকারী অফেন্ডেড হন তাতে কিছু করার নেই।

        এটাও আপনার জন্য যা সুবিধা সেই অনুযায়ী মত। আপনি পারেননা কিন্তু অনেকেই পারে। আবার চীনে মাওয়ের যুগে কিংবা সাবেক সোভিয়েত রাশিয়ায় স্টালিন এর যুগে নাস্তিকরাও মুক্ত চিন্তা সহ্য করতে পারতোনা। এসব যার যার নিজেস্ব ব্যাপার। যে পারে ধ র্ম পালন করেই পারে কিংবা না বিশ্বাস করেই পারে; যে পারেনা সে যেভাবে থাক পারেনা কিংবা পারতে চায়না।

        • মনজুর মুরশেদ নভেম্বর 27, 2012 at 1:37 পূর্বাহ্ন - Reply

          @সংবাদিকা,

          রাস্ট্রভাষার মন্তব্যটি বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে করেছি, ভারতের উদাহরন টানার দরকার নেই। বাংলা যেহেতু আমাদের সরকারী ভাষাও এবং তাতে আপনার আপত্তি নেই, তাহলে বাংলা রাস্ট্রভাষা হলে আপত্তি কোথায়? যে দেশের নাম বাংলাদেশ, যেদেশে >৯৮% বাংলায় কথা বলেন, যেখানে ভাষা আন্দোলনের মত বিরল ঘটনা ঘটেছে সেখানকার অধিবাসীরা বাংলা রাস্ট্রভাষা হলে আপত্তি করবেন না, সেটাই যৌক্তিক। তবুও আমাদের দেশে যারা বাংলাভাষী নন তাদের সেন্টিমেন্টের কথা ভেবে বলছি, বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক হতে পারে যদিও আমার ধারনা রাস্ট্রভাষা বাংলায় তাদের আপত্তি নেই। রাস্ট্রভাষা বাংলা নিয়ে তেমন কোন আপত্তি না শুনলেও, রাস্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে ধর্মীয় সংখালঘুতো বটেই সংখাগরিষ্ঠ অনেকেরই যুক্তিসঙ্গত আপত্তি রয়েছে। ধর্মের ব্যাপারটি ভিন্ন; আধুনিক রাস্ট্র পরিচালনায় কোন বিশেষ ধর্মের ভূমিকা থাকলে তা ধর্মীয় সংখালঘুদের অধিকার হরনসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরী করতে পারে। আর তাছাড়া একজন দূর্নীতিবাজ মিলিটারী ডিক্টেটর দেশগঠনের মূল সুরের তোয়াক্কা না করে হটাত করে আমার উপর রাষ্ট্রধর্মের বোঝা চাপিয়ে দিলেই আমি তা মানতে যাব কেন? আমার ধারনা আমি পরিস্কার করতে পেরেছি কেন আমি রাষ্ট্রভাষা বাংলা সমর্থন করলেও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সমর্থন করি না।

          আমি বলেছি ‘ইসলাম-সহ আরো অনেক ধর্মেই মানবতা বিরোধী কথাবার্তা আছে। মুক্তমনার বিভিন্ন পোষ্টেই এর প্রমান পাবেন।’ এর জবাবে আপনি বলছেন ‘এটাও আপনার জন্য যা সুবিধা সেই অনুযায়ী মত’। কি বলতে চাইছেন ঠিক বুঝতে পারছি না। আমি এখনও আমার মন্তব্যের বিপরীতে কোন প্রমান পাই নি।

          আপনি পারেননা কিন্তু অনেকেই পারে।

          না আমি পারিনা, পারতে চাইও না। অঙ্গুলী হেলনে চন্দ্র বিভাজন, যষ্টির সর্পে রুপান্তর, শুক্রানু বিনা ডিম্ব নিষিক্তকরনের মত আজগুবি কাহিনী মনেপ্রানে বিশ্বাস করে একইসাথে কিভাবে যুক্তিনির্ভর মুক্তবুদ্ধির চর্চা করা যায় তা আমার জানা নেই। আপনার জানা থাকলে বলুন শুধু আমি না অনেকেই উপকৃত হবেন।

          চীনে মাওয়ের যুগে কিংবা সাবেক সোভিয়েত রাশিয়ায় স্টালিন এর যুগে নাস্তিকরাও মুক্ত চিন্তা সহ্য করতে পারতোনা।

          নাস্তিকরা সবাই মুক্তচিন্তার ধারক ও বাহক এ আমি কখন বললাম?

          • অর্ফিউস নভেম্বর 27, 2012 at 10:47 পূর্বাহ্ন - Reply

            @মনজুর মুরশেদ,

            না আমি পারিনা, পারতে চাইও না। অঙ্গুলী হেলনে চন্দ্র বিভাজন, যষ্টির সর্পে রুপান্তর, শুক্রানু বিনা ডিম্ব নিষিক্তকরনের মত আজগুবি কাহিনী মনেপ্রানে বিশ্বাস করে একইসাথে কিভাবে যুক্তিনির্ভর মুক্তবুদ্ধির চর্চা করা যায় তা আমার জানা নেই। আপনার জানা থাকলে বলুন শুধু আমি না অনেকেই উপকৃত হবেন।

            অসাধারণ। (Y) (Y)

            • সংবাদিকা নভেম্বর 27, 2012 at 3:05 অপরাহ্ন - Reply

              @অর্ফিউস, হলিউড দিয়ে যেমন আমেরিকার সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়না তেমনি কয়েকজনের ব্যাখ্যাকে পাইকারি গ্রহনযোগ্যতা দেওয়াও ঠিক না।

              আর এটাও আমি খুব ভালো করেই জানি ২০০ বছর আগের সমসাময়িক বিজ্ঞানের অনেক গ্রহণযোগ্য তথ্য পরে বাতিল হয় কিংবা নতুন সংযোজন হয়, ১০০০ বছর অনেক দূরে। তেমনি আগামী ৫০০ বছর পর নতুন কি বাতিল, সংযোজন কিংবা পরিবর্ধন হবে আমরা কেউ জানিনা।

          • সংবাদিকা নভেম্বর 27, 2012 at 2:56 অপরাহ্ন - Reply

            @মনজুর মুরশেদ, ধর্মের ব্যাপারে আপনার সমস্যা এটা আপনার নিজেস্ব ব্যাপার এবং আপনার চিন্তাকে আমি সম্মান করি।

            নাস্তিকরা সবাই মুক্তচিন্তার ধারক ও বাহক এ আমি কখন বললাম?
            আমি বলিনি এটা আপনি বলেছেন। এটা আমি লিখেছি, কারণ, স্বাধীন চিন্তা করতে ধর্ম বিশ্বাস কিংবা অবিশ্বাস বাধা নয়। এটা যার যার নিজেস্ব ব্যাপার। পৃথিবীতে ধর্ম নিয়ে যেমন রাজনৈতিক ডকট্রিনিজম আছে তেমন নাস্তিকতা নিয়েও আছে।

            ধন্যবাদ 🙂

            • মনজুর মুরশেদ নভেম্বর 28, 2012 at 4:25 পূর্বাহ্ন - Reply

              @সংবাদিকা,

              দেখা যাচ্ছে এই আলোচনায় আমরা একমত পারলাম না। হয়তো ভবিষ্যতে অন্য কিছুতে আমরা একমত হব। ধন্যবাদ!

            • সংশপ্তক নভেম্বর 28, 2012 at 5:35 পূর্বাহ্ন - Reply

              @সংবাদিকা,

              পৃথিবীতে ধর্ম নিয়ে যেমন রাজনৈতিক ডকট্রিনিজম আছে তেমন নাস্তিকতা নিয়েও আছে।

              ডক্ট্রিন এবং ডগমা – এ দুটোর মধ্যে কি কোন পার্থক্য আছে ? যদি থাকে , কি সেটা ? এ বিষয়ে আপনার নিজস্ব মতামত জানতে চাইছি। কোনটা ডক্ট্রিন এবং কোনটা ডগমা – এটা বোঝার উপায় কি? একটা উদাহরণ দিলে ভাল হয়।

              • সংবাদিকা নভেম্বর 28, 2012 at 9:23 পূর্বাহ্ন - Reply

                @সংশপ্তক,

                ডক্ট্রিন এবং ডগমা – এ দুটোর মধ্যে কি কোন পার্থক্য আছে ? যদি থাকে , কি সেটা ? এ বিষয়ে আপনার নিজস্ব মতামত জানতে চাইছি। কোনটা ডক্ট্রিন এবং কোনটা ডগমা – এটা বোঝার উপায় কি? একটা উদাহরণ দিলে ভাল হয়।

                যতটুকু জানি এসব শব্দ ক্যাথলিক থিওলজিতে মূলত বেশি ব্যবহৃত হত। এটার সাথে যদি এনালজি করি তাহলে-

                ->একটি রাষ্ট্রের ভৌগলিক অখন্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার ব্যাপারটি তার জন্য ডগমা

                ->ভৌগলিক অখন্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে, নিজ নাগরিকের স্বার্থে এবং ইচ্ছায় অপর রাষ্ট্রের সাথে পারস্পরিক সমঝোতায় আন্তর্জাতিক কৌশলগত বন্ধুত্ব স্থাপন কিংবা পরিকল্পিত ভাবে কোন রকম রাজনৈতিক সম্পর্ক না রাখা হল সেই রাষ্ট্রের ডকট্রিন

                সমসাময়িককালে, ডগমা শব্দটি মনে হয় প্রোপাগান্ডা কিংবা বুজোয়া শব্দগুলোর মত নেগেটিভ কিংবা সিনিকাল অর্থে ব্যবহৃত হয় যেমন, এখন বাংলায় মাস্তান কিংবা সুশীল শব্দ এভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

                • সংশপ্তক নভেম্বর 29, 2012 at 12:58 পূর্বাহ্ন - Reply

                  @সংবাদিকা,

                  যতটুকু জানি এসব শব্দ ক্যাথলিক থিওলজিতে মূলত বেশি ব্যবহৃত হত।

                  সমসাময়িককালে, ডগমা শব্দটি মনে হয় প্রোপাগান্ডা কিংবা বুজোয়া শব্দগুলোর মত নেগেটিভ কিংবা সিনিকাল অর্থে ব্যবহৃত হয় যেমন, এখন বাংলায় মাস্তান কিংবা সুশীল শব্দ এভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

                  হুম ! আর কোথাও ব্যবহৃত হয় না ? হয়তো ক্যাথলিকবাদ কিংবা যে কোন থিওলজীর চাইতেও বেশী ! দিন রাত , চব্বিশ ঘন্টা !

              • মনজুর মুরশেদ নভেম্বর 28, 2012 at 10:04 পূর্বাহ্ন - Reply

                @সংশপ্তক,

                প্রশ্নটা আমাকে করেন নি; তবুও এসম্পর্কে আমার ধারনা তুলে ধরতে চাই। ভুল হলে আপনাদের কাছ থেকে সঠিকটা জেনে নেব।

                ডক্ট্রিন ও ডগমা ধর্মীয় আলোচনায় বহুল ব্যবহৃত দুটি শব্দ। একটি ধর্মের সার্বিক শিক্ষা কতগুলো ডক্ট্রিনের সমন্বয়ে গঠিত হয়। এই ডক্ট্রিনগুলোর মধ্যে কোনটি যখন কোন প্রমান ছাড়াই বিশ্বাস করা হয় তখন তাকে ডগমা বলে। ধর্মীয় দৃষ্টিতে ডগমা অপরিবর্তনীয় এবং এসম্পর্কে কোন সন্দেহ প্রকাশ করা যাবে না। নীচের আচরনগুলোর সবগুলিই ইসলামের ডক্ট্রিন হতে পারে, তবে ডগমা কেবল এক নম্বরটি (উদাহরনগুলো খুব যুতসই হল না, কিন্তু অন্য কিছু এখন মাথায় আসছে না)

                ১) আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় বিশ্বাস করা

                ২) গরীবকে ভালবাসা

                ৩) অনিষ্টকারীকে ক্ষমা করা

                সুতরাং বলা যায়, সব ডগমাই ডক্ট্রিন বটে, সব ডক্ট্রিন ডগমা নহে। সংক্ষেপে এই হল আমার ডক্ট্রিন আর ডগমার ধারনা।

                • সংশপ্তক নভেম্বর 29, 2012 at 1:03 পূর্বাহ্ন - Reply

                  @মনজুর মুরশেদ,

                  মুগাম্বু খুশ হুয়া ! ‘আসল জায়গা’ ছেড়ে আপনি ভুল জায়গায় চাকুরী করছেন ! এটা আপনি জানেন ?
                  নাকি এখনও সময় আছে বদলাবার ? 🙂

                  • মনজুর মুরশেদ নভেম্বর 29, 2012 at 4:55 পূর্বাহ্ন - Reply

                    @সংশপ্তক,

                    হুমম! বাজারের যা অবস্থা, কিছুই বলা যায় না!! 🙂

                  • মনজুর মুরশেদ নভেম্বর 29, 2012 at 7:02 পূর্বাহ্ন - Reply

                    @সংশপ্তক,

                    রানা এজেন্সীতে পদ খালি থাকলে খবর দিয়েন 🙂

    • আকাশ মালিক নভেম্বর 27, 2012 at 4:29 পূর্বাহ্ন - Reply

      @সংবাদিকা,

      মানব সমাজ জন্ম থেকে কতগুলো সামাজিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মায়:

      ১।নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য
      ২।ধর্ম
      ৩।ভাষা
      ৪।সামাজিক সংস্কৃতি
      ৫।রাজনৈতিক জাতীয়তা

      মানুষ সামাজিক ভাবে বেঁচে থাকার জন্য আশ্রয় খোঁজে। মানুষের বেঁচে থাকা শুধু খাদ্য অন্বেষণে সীমাবদ্ধ নয়।

      উপরোক্ত পাঁচটি বৈশিষ্ট্য ত্যাগ করা মানুষের জন্য খুব সহজ নয়। কেননা এর প্রাপ্তি তার বুদ্ধি হবার আগ থেকেই হয়, তার মননে গেঁথে যায়

      আল্লাহর দোহাই, আগা মাথা কিছুই বুঝি নাই। বুদ্ধি হবার আগ থেকে মানুষ ধর্ম নিয়া জন্ম নেয় কী ভাবে আমার মাথায় ধরেনা। আমি ভাবছিলাম মানুষ নাস্তিক হয়ে জন্মায়। যাক, নিচের বাক্যটার ব্যাখ্যার জোর দাবী জানালাম-

      বেশিরভাগের রাষ্ট্র ধর্মে চুলকানি থাকলেও রাষ্ট্র ভাষা তে নেই।

      • সংবাদিকা নভেম্বর 27, 2012 at 3:12 অপরাহ্ন - Reply

        @আকাশ মালিক, আল্লাহর দোহাই, আগা মাথা কিছুই বুঝি নাই। বুদ্ধি হবার আগ থেকে মানুষ ধর্ম নিয়া জন্ম নেয় কী ভাবে আমার মাথায় ধরেনা। আমি ভাবছিলাম মানুষ নাস্তিক হয়ে জন্মায়। যাক, নিচের বাক্যটার ব্যাখ্যার জোর দাবী জানালাম-

        কেউ জন্মগ্রহণ করার পর তাকে তার বাবা-মা – আত্মীসজন এসব বিষয়েই শিক্ষা দেন। তার বেড়ে উঠাই হয় এই পাঁচটি বিষয় সঙ্গে নিয়ে। এখানে আর বিস্তারিত ব্যখা করছিনা, আশা করি আপনি বুঝেছেন।

        বেশিরভাগের রাষ্ট্র ধর্মে চুলকানি থাকলেও রাষ্ট্র ভাষা তে নেই।

        মনজুর মুরশেদ এর সাথে কথোপকথনে (শব্দচয়ন করলাম) এ এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাবেন।

    • অর্ফিউস নভেম্বর 27, 2012 at 10:40 পূর্বাহ্ন - Reply

      @সংবাদিকা,

      ১।নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য
      ২।ধর্ম
      ৩।ভাষা
      ৪।সামাজিক সংস্কৃতি
      ৫।রাজনৈতিক জাতীয়তা

      মানুষ সামাজিক ভাবে বেঁচে থাকার জন্য আশ্রয় খোঁজে। মানুষের বেঁচে থাকা শুধু খাদ্য অন্বেষণে সীমাবদ্ধ নয়।

      উপরোক্ত পাঁচটি বৈশিষ্ট্য ত্যাগ করা মানুষের জন্য খুব সহজ নয়। কেননা এর প্রাপ্তি তার বুদ্ধি হবার আগ থেকেই হয়, তার মননে গেঁথে যায়।

      😕 :-Y

      বেশিরভাগের রাষ্ট্র ধর্মে চুলকানি থাকলেও রাষ্ট্র ভাষা তে নেই।

      :-s রাষ্ট্র ধর্মে চুলকানি থাকবে না কেন বলে দেখি?

      ধর্মও একটা ফ্যাক্টর। পৃথিবীর কোন ধর্মই মানবতা বিরোধী কথা বলেনা। কিন্ত যুগে যুগে মানুষ ধর্মকে ব্যবহার করেছে, নিজের ইচ্ছে মত সুবিধাকে প্রাধান্য দিয়ে স্বার্থ আদায় করার জন্য। সব ধর্মেই চরমপন্থা আছে, খৃস্টান, ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, জুডাইজম সহ সব ধর্মেই।

      পৃথিবীর কোন ধর্মই মানবতা বিরোধী কথা বলেনা + সব ধর্মেই চরমপন্থা আছে।

      তারমানে দাঁড়াল

      যেহেতু কোন ধর্মই মানবতা বিরোধী কথা বলেনা, মানে সব ধর্মই মানবতার পক্ষে,তাই

      চরমপন্থা( সব ধর্মেই আছে) =মানবতা বিরোধী না =মানবতা প্রতীক

      কি সাঙ্ঘাতিক তাই না??

      আলহামদুলিল্লাহ্‌।এই নাহলে যুক্তি। 😛

      • সংবাদিকা নভেম্বর 27, 2012 at 2:50 অপরাহ্ন - Reply

        @অর্ফিউস, আপনার সদয় আবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, এটা লেখার ভুল। আমি একেবারে লেখে পাবলিশ করে দিয়েছি। লেখাটি অনেক বড়। আর আমি আপনাদের মত নিয়মিত সদস্য নই, লেখা আবার ঠিক করতে পারব। কেননা পাবলিশ করার পর এটা আমি দেখতেই পারিনা… যাই হোক…

        এখানে কতগুলো ভুল হয়েছে… আপনি কতগুলো ধরেছেন কতগুলো এড়িয়ে গেছেন –

        সব ধর্মেই চরমপন্থা আছে, খৃস্টান, ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, জুডাইজম সহ সব ধর্মেই। আবার এসব ধর্মের ভেতরেও অনেক ফ্যাকশন আছে, যারা একজন আরেকজনকে স্বীকৃত দিতে অনিচ্ছুক।

        এখানে “সব ধর্মেই চরম পন্থা আছে” এর জায়গায় পরতে হবে “সব ধর্মেই চরমপন্থী আছে”। পরের বাক্যটি পড়লে অবশ্য বোঝার সমস্যা নয় এটা লেখার ভুল। যাই হোক।

        এমন আরও অনেক জায়গায় হয়েছে – যাদের বোঝার সমস্যা দয়া করে ঠিক করে নিবেন

        কিন্তু ঐ সময়ে এবং যুদ্ধের ঠিক পরে, অনেক জায়গায় বাঙালীদেরও পাল্টা অত্যাচার হয়েছিল এবং

        এখানে “বাঙালীদেরও পাল্টা” এর জায়গায় হবে “বাঙালীদের দ্বারা পাল্টা”।

        আবার অনেক চাকমাদের কাছেই মারমারা জাতিগত বিভিন্নভাবে নিগৃহীত।

        এখানে হবে অনেক চাকমাদের দ্বারা মারমারা বিভিন্নভাবে নিগৃহীত।

        বাস্তব কথা হচ্ছে হাজার-দের হাজার বছর আগে বাংলা ভাষার লয়াঙ্গুয়েজেনেসিসই হয়নি

        এখানে “লয়াঙ্গুয়েজেনেসিসই ” এর বদলে “ল্যাঙ্গুয়েজেনেসিস” হবে।

        যুদ্ধের নেতা শেখ মুজিব ক্ষুদ্র জাতিসত্তাকে বাঙ্গালী হয়ে যেতে বলেছিলেন।

        এখানে যোগ হবে “পার্ব্যত্য চট্টগ্রামের”। কেননা দেশের অন্যান্য এলাকাতেও বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠী আছে যাদের সংখ্যা বাঙালীদের থেকে কম।

        এজন্য বোধয় এক ক্রিমিনাল কিন্তু শিল্পিকে বাঁচানোর এই প্রয়াস!!

        এটাও সহজবোধ্য নয়। বাক্য গঠনে সামান্য সমস্যা। এখানে হওয়া উচিৎ “পেডফিলিক কর্মকান্ডে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত শিল্পী”

        নিজের ইচ্ছে মত সুবিধাকে প্রাধান্য দিয়ে স্বার্থ আদায় করার জন্য

        এই বাক্যটিও সহজবোধ্য নয়। এখানে “ইচ্ছে মত” না পড়াই ভালো।

        এই মন্ত্যব্যটি কথ্য ভাষায় করা অনেক বড়, তাৎক্ষনিক আমার মনে যা এসেছে তাই দিয়েই প্রশ্ন করা। একেবারে লেখা এবং এডিটিংও করা হয়নি। এখানে আমার মন্তব্য অনেক বাক্য ভেঙ্গে এসেছে যেমন “নিগৃ হীত”। আশা করি সবাই এটা ক্ষমা সুন্দর দৃস্টিতেই দেখবেন। শত হোক ইউনিকোডে লেখা একটু হলেও ঝামেলার। আশাকরি দাড়ি-কমা নিয়ে কেউ কোন প্রশ্ন করবেননা:)
        আর্ফিউস কে ধন্যবাদ আমার মন্তব্য মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য 🙂

        • সংবাদিকা নভেম্বর 27, 2012 at 3:32 অপরাহ্ন - Reply

          @সংবাদিকা,
          পুনশ্চ, আমার মন্তব্য আমি কোন কিছুর সমর্থন করিনি কিংবা অসমর্থন করিনি।

          আমার মনের কতগুলো প্রশ্ন করেছি মাত্র।

          আমি নিশ্চিত সমাজ স্বীকৃত সবকিছু ত্যাগ করে এবং সমাজ অস্বীকৃত সব কিছু গ্রহণ করে আসলে কেউই “শতভাগ” মুক্ত হতে পারবেনা, কিছু নিয়মতান্ত্রিকতা অবশ্যই থাকতে হয়। আবার এই নিয়মতান্ত্রিকতাও যদি অতি কঠোর হয় তাহলেও খারাপ। মোট কথা রেডিকেলিজম হতে শ্রুড ব্যালান্সই শ্রেয় এবং সুদূরপ্রসারী স্থায়ীও বটে।

          • সংবাদিকা নভেম্বর 27, 2012 at 3:34 অপরাহ্ন - Reply

            @সংবাদিকা,
            সবাইকে ধন্যবাদ 🙂

            • আকাশ চৌধুরী নভেম্বর 28, 2012 at 9:44 পূর্বাহ্ন - Reply

              @সংবাদিকা, আপনাকেও ধন্যবাদ। এই নিন:
              [img]http://media.somewhereinblog.net/images/jannat007blog_1200810892_1-Talgas.jpg[/img]

        • অর্ফিউস নভেম্বর 28, 2012 at 9:05 পূর্বাহ্ন - Reply

          @সংবাদিকা,

          আর আমি আপনাদের মত নিয়মিত সদস্য নই

          আমিও নিয়মিত সদস্য না। নতুন মন্তব্য করা শুরু করেছি।

          “সব ধর্মেই চরমপন্থী আছে”।

          এইবার ঠিক আছে।বুঝিয়ে না বললে বোঝা একটু মুশকিল বৈকি, কি বলেন আপনি? ব্যাপারটা যেহেতু পুরা অর্থকেই বদলে দিচ্ছে 😉 । যাক এখন পরিষ্কার হল।
          যদিও ধর্মে মানবতা বিরোধী কথা আছে অনেক ।কিন্তু এটা না হয় পরে আলোচনা করব

          আপনাকেও ধন্যবাদ। 🙂

  3. আঃ হাকিম চাকলাদার নভেম্বর 25, 2012 at 7:30 অপরাহ্ন - Reply

    প্রীয় পাঠক বর্গ,
    গতকাল সকাল ৭:৩0 এর বাংলা বিবিসি খবরে শুনতে পেলাম (লিংকটা এখন আর নাই), পাকিস্তানের একটা অংসে শিয়াদের মহরম পালন কালে শিয়া সুন্নীরা পরস্পর সেল ফোনের দ্বারা বোম্ব ফাটিয়ে অসংখ্য শিশু সহ নিরপরাধ মানুষদের হত্যা করেছে।

    সরকার সেখানে এখন সেল ফোনের সংযোগ বন্দ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।

    এর জন্য কিন্তু কোন দেশ বা কোন গোষ্ঠী কোন শোক প্রকাশ ও করেনা।

    এই হত্যা যজ্ঞের মূল ভিত্তি কী, তাহা কি কেহ ব্যাখা দিতে পারেন?

    কোন রাজনৈতিক দ্বন্দ?

    কোন ভূমি লয়ে সংঘর্ষ?

    না, এগুলীর কোনই কারণ নয়।

    এর একটি এবং মাত্র একটিই কারন- আর তাহল “ধর্মীয় বিশ্বাষ” বা ঈমানের জোষ।

    তবে এটা কোন ধর্মের ঈমানের জোষ?

    ঈহদি?
    খৃষ্টান?
    বৌদ্ধ?
    হিন্দু?

    মোটেই নয়।
    একমাত্র সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম “ইছলাম” ধর্মের জোষ।

    কেহ কি একটু ব্যাখ্যা দিতে পারবেন, কেন একমাত্র মুসলমানেরা এভাবে শুধু হত্যা যজ্ঞে লিপ্ত হয়ে বেহেশতে যাইতে ইচ্ছুক?

    আর এই হত্যাযজ্ঞ্যে এদের কোন দলই বা বেহেশত যাইবে?

    @ অর্ফিউস,
    আপনার জন্য “মোহাম্মদ ও ইসলাম পর্ব ২০” এ একটি মন্তব্য রেখেছি।
    ওখানে আসুন আপনার সংগে ধর্ম সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু আলোচনা করা যেতে পারে। কারণ এই ছাইটটা ধর্মীয় আলোচনার ছাইটতো নয়।

    ধন্যবাদ
    ভাল থাকুন

    • অর্ফিউস ডিসেম্বর 25, 2012 at 1:46 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আঃ হাকিম চাকলাদার,

      @ অর্ফিউস,
      আপনার জন্য “মোহাম্মদ ও ইসলাম পর্ব ২০” এ একটি মন্তব্য রেখেছি।
      ওখানে আসুন আপনার সংগে ধর্ম সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু আলোচনা করা যেতে পারে। কারণ এই ছাইটটা ধর্মীয় আলোচনার ছাইটতো নয়।

      ধন্যবাদ
      ভাল থাকুন

      পুরানো প্যাচাল আর নতুন করে শুরু না করাই ভাল। তবে আপনার অবগতির জন্য একটি কথা জানিয়ে রাখি, আর তা হল,আপনার এই মন্তব্য আমার আজকের আগে চোখে পড়েনি। কাজেই আজকেই উত্তর দিচ্ছি; যদিও উত্তর দেয়াটা খুব জরুরী মনে করছি না।হ্যাঁ আপনার মন্তব্য পড়েছি আমি।

      কিন্তু সবিনয়ে বলতে চাই যে, মুক্ত মনায় তিন জন মানুষের সাথে আমি ধর্ম নিয়ে কথাবার্তার আগ্রহ পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছি, আর তাদের ভিতর একজন হচ্ছেন আপনি।বাকি দুজন কে, আশা করি আপনার আর বুঝতে বাকি নেই।

      ধন্যবাদ ভাল থাকুন আপনিও ।

  4. সফিক নভেম্বর 25, 2012 at 1:14 অপরাহ্ন - Reply

    এই মাত্র ইন্টারনেটে দেখলাম ঢাকার আশুলিয়া গার্মেন্ট ফ্যাক্টরীতে আগুনে দেড়শ থেকে দুশো গার্মেন্ট কর্মী পুড়ে অংগার হয়েছে। যেসব সহজ সরল মানুষগুলির অক্লান্ত শ্রমে এই অরাজক দেশটা এখনো টিকে থাকতে পারছে তাদের আসলেই আমরা অর্থনীতির চুল্লীতে জ্বালানীর মতো পোড়াচ্ছি। এই রকম সংবাদের পর ধর্মকর্ম নিয়ে চিল্লাচিল্লী আপাতত ভাল্লাগছে না।

    আশাকরি মুক্তমনা এডমিন ব্যানারে পরিবর্তন আনবেন আর কেউ একজন একটা শোকবই পোস্ট দেবেন।

    • মনজুর মুরশেদ নভেম্বর 25, 2012 at 8:53 অপরাহ্ন - Reply

      @সফিক,

      ধর্মকর্ম নিয়ে চিল্লাচিল্লী আপাতত ভাল্লাগছে না।

      (Y)

      মর্মান্তিক! কিছুদিন পরপরই সীমাহীন লোভের বলি হয় খেটে খাওয়া এই মানুষগুলো। নড়বড়ে বিল্ডিং, দমবন্ধ করা পরিবেশ, অপ্রতুল অগ্নিনির্বাপনের ব্যবস্থা সব মেনে নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেন তারা, আনেন মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অথচ সরকার নির্ধারিত ন্যুনতম মজুরী দিতে কত টালবাহানা মালিকপক্ষের!

    • আদিল মাহমুদ নভেম্বর 25, 2012 at 9:26 অপরাহ্ন - Reply

      @সফিক,

      আসলেই তাই, সকালে দেখেছিলাম ৯ জন নিহত। খুবই অন্যায় হলেও অস্বীকার করছি না যে খবরটা মনে তেমন রেখাপাত করেনি, আমাদের দেশে ৯ জনের মৃত্যু তেমন কোন ব্যাপার নয় বলেই। রাতে এক বন্ধু যখন খবর দিল ১১৩ জন তখন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারিনি। এও সম্ভব? বার বার কেন এমন হয়? কাউকে না কাউকে তো দায় নিতে হবে? আজ পর্যন্ত দায়ী কয়জনের কি পরিমান শাস্তি হয়েছে?

  5. মনজুর মুরশেদ নভেম্বর 25, 2012 at 8:39 পূর্বাহ্ন - Reply

    আমার মতে সমস্যা তখনই হয় যখন একপেশে ধর্ম ব্যাশিং করতে করতে আলোচনাকারী স্বাভাবিক যুক্তি আর মানবতাবোধটুকুও বিসর্জন দিয়ে বসেন। উপরে ফরিদ আহমেদের পাঠানো কোটেশনগুলো তারই প্রমান।

  6. যাযাবর নভেম্বর 25, 2012 at 8:15 পূর্বাহ্ন - Reply

    ইসলাম এবং মহম্মদের ভালদিকগুলি আলোচনা না করে শুধু খারাপ দিক গুলি নিয়ে লিখতে থাকলে তা ব্যাশিং ই হবে।

    রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ, শ্রীরামকৃষ্ণ, গান্ধী প্রমুখের সমালোচনাপূর্ণ লেখায় ভাল দিক কি লেখা হয়? ভাল দিক তো বহুল প্রচারিত, সবারই জানা, তা নিয়ে প্রচুর লেখা হয়, পাঠ্য বইতেও। সেটা তো কমন উইজডমের মধ্যে পড়ে। পাঠ্য বইতে যা আছে সেটা রিপিট করা কি ক্রিটিক্যাল থিংকিংএর কাজ?। খারাপ দিকটাই বরং অনেকে জানে না, তাই ক্রিটিক্যাল থিংকিং এর জন্যই খারাপ দিকটা তুলে ধরা দরকার। কাউকে আদর্শ মানব/ মহা মানব বলে দাবী করলে ক্রিটিক্যাল থিংকিং এর কাজ হবে এই দাবীর যথার্থতা প্রমাণ করা। উপরোক্ত মহামানবের বেলায় যেমন, মুহম্মদের বেলায় ও সেই একই কথা প্রযোজ্য ।

  7. বিপ্লব পাল নভেম্বর 25, 2012 at 7:32 পূর্বাহ্ন - Reply

    ধর্ম ব্যাশিং বিজ্ঞান মনস্ক চিন্তার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। অজ্ঞ মননশীলতার পরিচয় মাত্র।

    ধর্ম সমাজ বিবর্তনের সন্তান। কোন কিছুই এই সামাজিক বিবর্তনের বাইরে নয়।

    হজরত মহম্মদের আয়েশাকে বিয়ে করার জন্যে তাকে পিডোফিলিক ইত্যাদি বলে গালাগাল দিলে বিশ্বের কি উদ্ধার হয় আমি জানি না। বরং হজরত মহম্মদ রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের সাথে সাথে সমসাময়িক রাষ্ট্রনেতাদের মতন বেশী সংখ্যায় স্ত্রঈ নিতে থাকেন। যা হুনরাজ থেকে রাবনরাজ সবাই করতেন সেকালে। সুতরাং হজরত মহম্মদের জীবনে একজন সুদক্ষ রাষ্ট্রনেতার ছাপ পাওয়া যায় যা গৌতম বুদ্ধ বা কনফুসিয়াসের মতন আধ্যাত্মিক দার্শনিকদের জীবনের সাথে বেমানান যারা ত্যাগ এবং জ্ঞানের মাধ্যমে ইতিহাসে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছেন।

    ক্রিটিক্যাল থিংকিং খুব গুরুত্বপূর্ন। ইসলাম এবং মহম্মদের ভালদিকগুলি আলোচনা না করে শুধু খারাপ দিক গুলি নিয়ে লিখতে থাকলে তা ব্যাশিং ই হবে। সেটা মোটেও উন্নত চিন্তার উদাহরণ না। তা সদালাপের অন্য পিঠ হবে। প্রতিটা জিনিসেরই ভাল খারাপ আছে এবং তার একটা বাস্তব ও যুক্তিবাদি আলোচনা হওয়া দরকার।

    • আদিল মাহমুদ নভেম্বর 25, 2012 at 9:34 পূর্বাহ্ন - Reply

      @বিপ্লব পাল,

      ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং এবং ব্যাশিং এর উদাহরন মনে হয় এই আয়েশা এপিসোড থেকে দেওয়া যায়।

      ব্যাশিং – নবী মোহাম্মদ ইতিহাসের সর্বনিকৃষ্ট শিশু নির্যাতনকারী। তাকে যারা নবী মানে তাদের আচরনই তেমনই হবে……

      ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং – শেষ নবী যার জীবন বিধান আমাদের পাথেয় এমন একজন নবী বলতে যে ইমেজ আমাদের দেওয়া হয় এই ঘটনা আমাদের নবী মোহাম্মদ সম্পর্কে তেমন ধারনা দেয় না, তিনি কিছু দিকে সেকালের অন্যান্য লোকের মতই কালের কাছে সীমাবদ্ধ ছিলেন এমন ধারনাই দেয়।

    • কাজি মামুন নভেম্বর 28, 2012 at 11:52 অপরাহ্ন - Reply

      @বিপ্লবদা,

      প্রতিটা জিনিসেরই ভাল খারাপ আছে এবং তার একটা বাস্তব ও যুক্তিবাদি আলোচনা হওয়া দরকার।

      (Y) (Y)

  8. ফরিদ আহমেদ নভেম্বর 25, 2012 at 7:06 পূর্বাহ্ন - Reply

    সফিক সাহেবের মন্তব্যটা যদি বুঝে উঠতে পারেন, তবে আশা করছি যে, আপনি এত বিশাল লেখায় যা বলতে চেয়েছেন তার উত্তর পেয়ে গিয়েছেন। অবশ্য আমার সন্দেহ আছে যে, আপনি আসলে এই উত্তরকে মেনে বা মনে নেবেন কিনা। আমি এখানে সামান্য কয়েকটা মন্তব্য কোট করবো। আশা করবো যে, এগুলো পড়ে আপনি আমাকে সততার সাথে বলবেন, এগুলো ইসলাম ব্যাশিং না মুসলমান ব্যাশিং?

    তবে তার আগে আরো সততার সাথে একটা প্রশ্নের উত্তর আশা করবো (উত্তর না দিলেও ক্ষতি নেই, আপনি বাধ্য নন এর উত্তর দিতে। তবে দিলে সত্যিটা দিয়েন)। আপনি কী একজন নাস্তিক নাকি হিন্দু ধর্মালম্বী? আপনাকে আর ভবঘুরেকে অনেক সময় হিন্দু ধর্মকে ডিফেন্ড করতে দেখেছি। শুধুমাত্র সে কারণেই এই জিজ্ঞাস্য। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি যে, এক ধর্মের বিশ্বাসের বীজ বুকে লালন করে অন্য ধর্মকে সমালোচনা করার অধিকার কারো নেই। মুক্তমনাতেতো আরো নেই। বিরাট ভণ্ডামি এটা।

    এবার আসুন দেখা যাক মুক্তমনায় প্রকাশিত অল্পবিস্তর কিছু নমুনা। আপনি যেহেতু মুক্তমনায় ইসলাম ব্যশিং, মুসলিম ব্যাশিং এর নিষ্পত্তি চেয়েছেন, এগুলো সম্পর্কে আপনার মতামত আশা করবোই আমি। এড়িয়ে যাবেন না প্লিজ।

    এখন যেহেতু উক্ত ১১২ জন মানুষ যারা লঞ্চ ডুবি হওয়াতে পানিতে ডুবে মারা গেছে তাদের জন্য শোক প্রকাশ না করে বরং উল্লাস প্রকাশ করা উচিত কারন তারা এতক্ষনে বেহেস্তে গিয়ে হুরদের সাথে ফুর্তিতে ব্যস্ত। দু:খ প্রকাশ করা উচিত বরং একারনে যে আমরাও কেন ঠিক ওভাবে পানিতে ডুবে মৃত্যু বরন করতে পারলাম না ও শহিদ হয়ে বেহেস্তে যেতে পারলাম না। অনেকে বলতে পারে , কিছু মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে আমি মস্করা করছি। কিন্তু সত্যি সত্যি আমি ধর্মীয় দৃষ্টি কোন থেকে কোনই মস্করা করছি না। বরং আমি ঈর্ষা করছি ঐ ১১২ জনকে যারা অত সহজে বেহেস্তে চলে গেল।

    মোহাম্মদ যে কোন নবী ছিল না , ছিল একটা আস্ত ভন্ড ও মানসিক রোগী তা প্রমান করতে কোরান হাদিস থেকে শত শত উদাহরন টেনে বের করার দরকার নেই। শুধুমাত্র শিশু আয়শাকে বিয়ে করার ঘটনার মাধ্যমেই তা প্রমান করার জন্য যথেষ্ট। একটু চিন্তা করে দেখুন, একটা লোক যার বয়েস ৫১ সে এক ৬ বছর বয়স্কা কন্যা সন্তানের পিতার কাছে যেয়ে বলছে- আল্লাহ তাকে বলেছে তার সেই শিশু কন্যাকে বিয়ে করতে। এটা কি কোন সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষ বলতে পারে ? একমাত্র উন্মাদ ও মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষই এ কাজ করতে পারে। ঠিক একারনেই অধিকাংশ মুসলমানই মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন আর যে কারনে তারা তাদের ধর্ম নিয়ে নিরপেক্ষ আলোচনাকে সব সময়ই এড়িয়ে যায়। অবশ্য যদি পরিবেশ অনুকুল থাকে তাহলে কিন্তু বীর দর্পে আলোচনা চালিয়ে যাবে আর আপনাকে যুক্তিহীনভাবে তুলো ধুনো করে ছাড়ার তালে থাকবে। মুসলমানরা কোন যুক্তি বোঝে না, তর্ক বোঝে না, তারা সুস্থ আলোচনা করতে পারে না। তাদের একটাই পরিচয় তারা মুসলমান ও বলাবাহুল্য চোখ কান থাকতেও অন্ধ ও বধির এক জাতীয় প্রানী।

    এমন ধরনের একটা যৌন বিকৃত, অপ্রকৃতিস্ত, বিকৃতমনা, অস্বাভাবিক চরিত্রের মানুষ মোহাম্মদ ছিলেন বলেই তার অনুসারীরাও ঠিক তার মত- বিকৃত মস্তিষ্ক, অস্বাভাবিক, অসুস্থ ও উন্মাদ। এখন সময় এসেছে- হয় তাদেরকে সুস্থ হতে হবে , নইলে এ দুনিয়া থেকে তাদেরকে সবংশে চলে যেতে হবে। মাঝা মাঝি কোন পথ তাদের জন্য খোলা নেই। এ বিষয়টা যত তাড়াতাড়ি মোহাম্মদের অনুসারীরা বুঝতে পারবে ততই মঙ্গল্। নইলে পৃথিবী সত্যিকার অর্থে একটা ভয়াবহ ও বিশাল ধ্বংস যজ্ঞ প্রত্যক্ষ করবে অদুর ভবিষ্যতে।

    তবে আমার বুঝে আসেনা যদি ঈহুদীরা শত শত ,হাজার হাজার মুসলমানদের এই যুদ্ধে মেরে ফেলে তাহলে এত দুখের কি আছে? মুসলমানেরা তো কিছুই হারাইলনা। বরং এই শত্রুরাই আরো এই পৃথিবী হতে আরো অনেক বেশী উন্নত এবং চিরস্থায়ী সুখের বাসস্থান বেহেশতের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে।
    মুসলমান দের প্রতি এই অবদানের জন্য বরং ঈহুদীদের আরো বেশী ধন্যবাদ দেওয়ার দরকার।
    আর তা ছাড়াও তাদের কে এই পৃথিবী হতে চিরতরে নিশচিহ্ন করার জন্য তো আমরা ১৪০০ বছর আগে, আমাদের জন্ম লগ্ন থেকেই যুদ্ধ ঘোষনা করে দিয়েছি এবং তা সঠিক ভাবে চালিয়ে ও যাচ্ছি। এর জন্য তো আমরা নিজেরাই বেহেশত পাওয়ার জন্য প্রতিদিন আমাদের সম্ভাবনাময়ী তরুনদের বুকে বোম্ব বেধে দিয়ে তাদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য পাঠিয়ে দিচ্ছি।
    যেটা পাওয়ার জন্য আমরা নিজেরাই অতিশয় উদগ্রীব সেটা যদি এই ঈহুদীরা নিজ থেকে যেঁচে এসে দিয়ে যায়, তাতে অসুবিধাটা কোথায়?
    তারা তো আমাদের আকাংখিত বস্তুটাই দিচ্ছে। তাতে আবার অসুবিধা কি করে হতে পারে?
    বরং তাদেরকে সমগ্র ঈমানদার মুসলমানদের আরো বেশী করে ধন্যবাদ দেওয়া উচিৎ।
    তাই নয়কি?
    নাকি তাহলে আমরা বেহেশতে বিশ্বাষী নই? অথবা আমরা বেহেশতে যাইতে আগ্রহী নই?

    এইবার দেখলেন ভাইজান যারা ইসলামকে একমাত্র সত্য ধর্ম মনে করে তারা কত বড় ভন্ড ? কোরান ও হাদিসে আল্লাহ ও মোহাম্মদ ইহুদীদেরকে সব চাইতে বড় শত্রু হিসাবে চিহ্নিত করেছে, তাদেরকে যেভাবে পারা যায় মুসলিম রাস্ট্র থেকে বিতাড়িত করতে বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে সব সময় যুদ্ধ করতে বলেছে, যেটা স্বয়ং মোহাম্মদও করেছিলেন তার জীবনে , মক্কা মদিনার আশ পাশের সকল ইহুদিদেরকে তাদের পৈত্রিক ভিটে মাটি থেকে উচ্ছেদ করে। হামাস বা ফিলিস্তিনীরা সবাই সেই কাজই করে যাচ্ছে। ইতোপূর্বে মিশর জর্ডান এরাও করার চেষ্টা করেছিল। বলাবাহুল্য এগুলো সবই ছিল ইসলাম সম্মত, একই ভাবে জিহাদি কাজ। একাজে যারা মারা যাবে তারা শহিদ হয়ে সরাসরি বেহেস্তে চলে যাবে। ইহুদিরা ইসরাইল নামক রাষ্ট্রটি তৈরী করে মুসলমানদের জন্য বেহেস্তে যাওয়ার এত সুন্দর ও সহজ পথ বাতলে দেয়ার পরেও তারা ইসরাইলকে সমালোচনা করে , এর চাইতে নিমকহারামি আর কি হতে পারে ? যে বেহেস্তে যাওয়ার জন্য প্রতিটি মুসলমান রাত দিন আল্লাহ ও মোহাম্মদের নাম জপ করে , সেই বেহেস্তে যাওয়ার এত সহজ তরিকা বের করে দেয়ার জন্য সকল মুসলমানের তো ইসরাইল তথা ইহুদিদেরকে ধন্যবাদ দেয়া ও চির কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। , তাই নয় কি ? আসলে ইসলামের শিক্ষাই হলো নিমকহারামি করা ও অকৃতজ্ঞ হওয়া আর মহাজোরে মিথ্যা প্রপাগান্ডা করে যাওয়া। এসব কাজেই মুসলমান জাতি রাত দিন ব্যস্ত থাকে , সেকারনে তারা ইহজাগতিক কোন উন্নতি করতে পারে না ।

    ভন্ডামী তার সাক্ষাৎ প্রমান একদিকে আমরা আমাদের তরুনদের বেহেশতে যাওয়ার আসা দিয়ে ঈহুদী খৃষ্টানদের মারতে বুকে বোম্ব বেধে তাদের মারতে ও নিজেকে মরতে পাঠিয়ে দেই। আর অন্যদিকে ঠিক তারা যখন এদেরকে মেরে বেহেশতে পাঠিয়ে দেয় তখন এত চেচামেচি কেন?
    তারা তো আমাদের একমাত্র কাম্য বেহেশত পাওয়ার পথ আরো বেশী করে সুগম করে দিচ্ছে।
    কাজেই তাদেরকে একাজে আমাদের আরো বেশী করে উৎসাহিত ও সহযোগিতা করা উচিৎ।
    কারন তারা তো আমাদেরই মঙ্গলের জন্য করতেছে।
    তাহলে বেহেশত পাইতেআমাদের এত ভয় কেন?
    একটু আমাদেরকে ব্যাখ্যা দিতে পারেন?
    তারপর আবার তাদের সংগে নবী চিরকালের জন্য শত্রুতা করার ও যুদ্ধ ঘোষনা দিয়ে গিয়েছেন সেখানে তো আমাদেরকেও তাদের নিকট থেকে ঠিক তদ্রুপই ব্যবহার আসা করা যেতে পারে।
    সেখানে তাদের নিকট থেকে তো আর আমরা দুধ কলা আসা করতে পারিনা।
    অন্য কোন ধর্মামলম্বী তাদেরকে শত্রু হিসাবে পোষন করেনা, তাই তারাও তাদেরকে শত্রু মনে করেনা।

    • যাযাবর নভেম্বর 25, 2012 at 8:30 পূর্বাহ্ন - Reply

      @ফরিদ আহমেদ,

      ভবঘুরের লেখার কিছু কিছু দিক আমার কাছেও ভাল ঠেকেনি। সেটার সমালোচনাও হয়েছে। কিন্তু আমি নিশ্চিত না যে তিনি নির্বিচার মুসলীম বিদ্বেষী। তাঁর উপরের কোট গুলিতে “মুসলমান” বলতে আমার ধারণা তিনি মৌলবাদী মুসলমানই বুঝিয়েছেন। যেসব প্যাসিভ মুসলীমদের কথা আমি আমার লেখায় উল্লেখ করেছি তারা নয়। বুঝিয়ে থাকলে সেটা স্পষ্ট না করাটা তাঁর লেখার ত্রুটি। তবে আমি যেটা বলতে ছেয়েছি প্যাসিভ মুসলীমরা অযৌক্তিক ইসলামী আচারাদি (যা অন্যের জন্য ক্ষতিকারক নয়) অনুসরণ করলে সেটাকে অযৌক্তিক বল্লেই যে তাদেরকে ঘৃণা করতে হবে এটা আবশ্যিক নয়। তবে তিনি যদি মুসলীম বিদ্বেষী উগ্র হিন্দু (যাদের কথা আমি উল্লেখ করেছি) হয়ে থাকেন তাহলে তিনি নির্বিচার মুসলীম বিদ্বেষী হতেও পারেন, সে ক্ষেত্রে তিনি আবুল কাশেমকেও ঘৃণা করবেন। তাঁরই উচিত নিজের অবস্থান পরিস্কার করা। আমি যেহেতু তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের কথা জানি না তাই তাঁর হয়ে কিছু বলতে পারি না।

      • ফরিদ আহমেদ নভেম্বর 25, 2012 at 8:37 পূর্বাহ্ন - Reply

        @যাযাবর,

        ভবঘুরের লেখার কিছু কিছু দিক আমার কাছেও ভাল ঠেকেনি। সেটার সমালোচনাও হয়েছে। কিন্তু আমি নিশ্চিত না যে তিনি নির্বিচার মুসলীম বিদ্বেষী। তাঁর উপরের কোট গুলিতে “মুসলমান” বলতে আমার ধারণা তিনি মৌলবাদী মুসলমানই বুঝিয়েছেন।

        হাহাহা। লঞ্চডুবিতে মারা যাওয়া ১১২ জন নিরীহ মানুষও তাহলে মৌলবাদী। হইছে। আপনাকে বুঝে গিয়েছি আমি। এই লেখা থেকে বিদায় নিচ্ছি আমি। আপনি নিষ্পত্তি করতে থাকেন সবকিছুর। 😛

        • ভবঘুরে নভেম্বর 25, 2012 at 10:29 পূর্বাহ্ন - Reply

          @ফরিদ আহমেদ,

          আপনাকে বুঝে গিয়েছি আমি। এই লেখা থেকে বিদায় নিচ্ছি আমি। আপনি নিষ্পত্তি করতে থাকেন সবকিছুর। 😛

          আপনাকেও বুঝতে আমাদের বাকি নেই। আমি আপনাকে সরাসরি জামাতি বলে কোন গালি দেই নি। শুধু বলেছি একটা সময় রব উঠেছিল আপনি নাকি জামাত শিবির পন্থি পরে আপনি বিভিন্ন সূত্র উল্লেখ করে নিজেই সেটা প্রমান করেছেন কারও কারও প্রশ্নের প্রত্যুত্তরে। এটা দ্বারা আমি কিভাবে আপনাকে গালি দিলাম তা ঠিক বোধগম্য হলো না। কিন্তু আসলে বিষয়টা শুরু করেছেন আপনি ও আপনার এক ফালতু চামচা , আর শুরু করেছেন সম্পূর্ন উদ্দেশ্যপূর্ণ ভাবে, অত্যন্ত পরিকল্পনা করেই। সর্বপ্রথম আপনি আমার ও আ: হাকিম চাকলাদারের নামে বাজে মন্তব্য করে বিষয়টা উস্কে দিয়েছেন। পরে আমি আপনার নামে বাজে মন্তব্য না করলেও জোর করে আপনি সেটাকে বাজে মন্তব্য ধরে নিয়ে আপনি ও আপনার চামচারা আমার ওপর হামলে পড়েছেন ও অকথ্য ভাষায় আক্রমন করেছেন যা আমি বস্তুত: মুক্তমনাতে কামনা করিনি।আর এটা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন আমি আপনাকে গালি দিয়ে ঘটনাটার সূত্রপাত করেছি আর আপনার চামচারা সেটাকে প্রমান করতে গিয়ে হুক্কা হুয়া শুরু করে দিয়েছিল। ঠিক যেমন নেকড়ে বাঘ ঝাপিয়ে পড়েছিল নিরীহ ভেড়াটির ওপর। আপনারা ঠিক গোয়েবলসীয় কায়দাটার অনুসরণ করেছেন। বেশ ভাল। কিন্তু ভাই কায়দা হিসাবে সেটা খুবই পুরনো, নতুন কিছু থাকলে বলতে পারেন।

          অত:পর ইসলাম সম্পর্কে সমালোচনা করাতে আপনার গায়ে জ্বালা ধরে যায়, তাহলে বিষয়টা কি প্রমান করে ? আপনি আসলে কে? ছদ্মবেশী মৌলবাদি? যদি মনে করেন, আমরা অন্য ধর্ম সুকৌশলে ডিফেন্ড করি , আপনার মত মহা পন্ডিত কি করেন ? আপনারা হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ধর্ম কতটা খারাপ সেটা প্রকাশ করুন। সেটা করে আপনি কত বড় মহা পন্ডিত সেটা সবাইকে দেখান আমরা সেটা দেখে কৃতার্থ হই। ওটাও কেন আমাদেরকে করতে হবে? অত সময় তো ভাই আমাদের নেই। আর তখন যদি আপনার বিরোধিতা করি তখন বলতে পারেন আমরা হলাম মুসলিম বিদ্বেষী বা আপনাদের ভাষায় অশ্লীল যা খুশি। কেন বর্তমানে ইসলাম নিয়ে এত লেখা লেখি সেটা বহুবার বহুভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। অন্য কোন ধর্মের লোক গায়ে বোমা বেধে বা গাড়ীতে বোমা ভর্তি করে বর্তমানে আত্মঘাতী হামলা করে না, করে না তারা দল বেধে ধর্মের নামে বিধর্মী মানুষদেরকে খুন অথবা ভিন্ন মতাবলম্বীদেরকে খুন। ইসলাম গোটা দুনিয়ায় রীতি মতো একটা ত্রাস সৃষ্টি করে ফেলেছে। হিন্দু খৃষ্টান কোন এক অতীত কালে ধর্মের নামে এসব খুন খারাবি করত, এখন করে না। তাই সেটা ফোকাসে নেই। দুনিয়া ব্যপী ফোকাস তাই ইসলাম আর বলা বাহুল্য তার ধারক মুসলমানরা। এখন এসব নিয়ে লেখা লেখি করলে কারও যদি গায় জ্বালা ধরে যায় তো সে লোক খৃষ্টান, হিন্দু , বৌদ্ধ এসব ধর্ম নিয়ে প্রকান্ড প্রকাণ্ড সব নিবন্ধ লিখে গায়ে জ্বালা ধরাটা থামাতে পারে। তা না করে আপনি অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে কতিপয় চামচা নিয়ে অনেকটা সন্ত্রাসী কায়দায় একজোটে গালাগালি ও মিথ্যা প্রপাগান্ডা শুরু করে দিলেন। জানি আপনি বিশ্বাস করবেন না , তার পরও বলি , সত্যি সত্যি ইতোপূর্বে আপনার সম্পর্কে আমার এরকম বাজে ধারনা ছিল না। এখন আপনি মনের সুখে আমাকে যেমন ইচ্ছা গালি দিতে পারেন,আমি আপনার মত হীন মানসিকতার মানুষের কোন মন্তব্যের প্রতি আর কোন উত্তর দেব না। ঠিক করেছিলাম এই মন্তব্যটাও করব না। কিন্তু পরে ভাবলাম ,আপনার ও আপনার চামচাদের এত কীর্তির একটা উপসংহার মূলক বক্তব্য দেয়া দরকার নইলে সাধারণ পাঠকরা বিভ্রান্ত হতে পারেন।

          • ফরিদ আহমেদ নভেম্বর 25, 2012 at 10:55 পূর্বাহ্ন - Reply

            @ভবঘুরে,

            আপনাকেও বুঝতে আমাদের বাকি নেই। আমি আপনাকে সরাসরি জামাতি বলে কোন গালি দেই নি। শুধু বলেছি একটা সময় রব উঠেছিল আপনি নাকি জামাত শিবির পন্থি পরে আপনি বিভিন্ন সূত্র উল্লেখ করে নিজেই সেটা প্রমান করেছেন কারও কারও প্রশ্নের প্রত্যুত্তরে।

            আপনার ঘটে যে মুসলিম বিদ্বেষ ছাড়া কিছু নেই, সেটা এই বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার। আমি ব্লগে জনপ্রিয়তা নিয়ে মাথা ঘামাই না, তাই কয়জন ছদ্মবেশী কাপুরুষ ইসলাম এবং মুসলিম বিদ্বেষী আমার নামে কী বলছে, এ নিয়ে আমি কখনো গা করি নি। বরং কৌতুক হিসাবে নিয়েছি ভীতু কিছু লোকজনের খড়কুটো ধরে বেঁচে থাকার এই প্রচেষ্টাকে। কিন্তু, আর নয়। আপনাকে এবং লন্ডনি হুজুর আকাশ মালিককে আমি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। মুক্তমনার যে কোনো পাঁচজন লোককে দায়িত্ব দিন। বাংলাদেশের চারটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নাম দেবো আমি। এঁরা চারজনই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার সহকর্মী ছিলেন। এঁদের সাথে শিক্ষকতা এবং রাজনীতি করেছি আমি। এনাদের সাথে দেখা করে, ফোন করে বা ইমেইল করে আমার পূর্ব রাজনৈতিক পরিচয় বের করবেন। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে আমি পড়াশোনা করেছি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে আমি শিক্ষকতা করেছি, সেখানেও তাঁরা খোঁজ নিতে পারেন। এর বিপরীতে আপনি এবং আকাশ মালিক তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করবেন মুক্তমনার সদস্যদের কাছে। এতে আপনাদের নিরাপত্তা বিন্দুমাত্রও ক্ষুণ্ণ হবে না। আমি একশত ভাগ নিশ্চিত যে, আপনি এবং আকাশ মালিক এই চ্যালেঞ্জ নেবেন না। কারণ, দেখা যাবে যে, আপনি নিয়মিত মন্দিরে যাওয়া সাম্প্রদায়িক হিন্দু হবেন, আর আকাশ মালিক লন্ডনের কোনো মসজিদের টুপি দাঁড়িওয়ালা ইমাম হবেন, সারাদিন যিনি ইসলামের গুণগান করেন মুসুল্লিদের মধ্যে। বউ, মেয়েকে হিজাবের আবরণে ঢেকে রাখেন।

            বাপের বেটা হলে আপনি আর আকাশ মালিক চ্যালেঞ্জটা নিয়েন।

            • মনজুর মুরশেদ নভেম্বর 25, 2012 at 6:59 অপরাহ্ন - Reply

              @ফরিদ আহমেদ,

              চ্যালেঞ্জ নিন আর না নিন অগনিত পাঠকের কাছে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার একটি দায়বদ্ধতা আকাশ মালিকের আছে। না হলে তার লেখার বক্তব্য আমি অন্তত সিরিয়াসলি নেব না।

          • অর্ফিউস নভেম্বর 25, 2012 at 11:22 পূর্বাহ্ন - Reply

            @ভবঘুরে,

            একজোটে গালাগালি ও মিথ্যা প্রপাগান্ডা শুরু করে দিলেন।

            সাবধান থাকেন ভাইজান 😉 , কথায় কথায়

            “মিথ্যা প্রপাগান্ডা” এই কথাটি কিন্তু আমি রাজাকারদের পত্রিকা গুলিতে বেশি দেখি( তারা খালি কয় যে সব কিছু নাকি ইহুদী প্রপাগান্ডা; যেমন আপনি দুনিয়ার সব কিছুর ভিতরে ইসলামিক প্রপাগান্ডা দেখেন) । আর আপনিও এই শব্দটি বেশি ব্যবহার করেন, আর নিজের মেজাজের উপর নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলেন খুব অল্পতেই । লক্ষণ ভাল না। সবই কিন্তু প্রতিক্রিয়াশীল , মৌলবাদী মুসলিমের লক্ষণ।আচ্ছা আপনি নিজেই তো রাজাকার টাইপ কিছু না যাকে বড় ভাইয়েরা প্ল্যান্ট করেছে মুক্তমনার ১২ টা বাজাতে? 😉 ।

          • মনজুর মুরশেদ নভেম্বর 25, 2012 at 12:08 অপরাহ্ন - Reply

            @ভবঘুরে,

            অন্য কোন ধর্মের লোক গায়ে বোমা বেধে বা গাড়ীতে বোমা ভর্তি করে বর্তমানে আত্মঘাতী হামলা করে না, করে না তারা দল বেধে ধর্মের নামে বিধর্মী মানুষদেরকে খুন

            আবার ভুল তথ্য দিতে শুরু করেছেন। স্বীকার করছি গায়ে বোমা বেধে বা গাড়ীতে বোমা ভর্তি করে আত্মঘাতী হামলা বর্তমানে মুসলিমরাই করছে। কিন্তু আপনার উদ্ধৃতির বোল্ড করা অংশটুকু চরম মিথ্যাচার। বেশীদূর যেতে হবে না, আমাদের পাশের দেশগুলোতেই এসব ঘটনা ঘটছে। এবার আপনিই বলুন গোয়েবলসীয় কায়দা কে অনুসরণ করেছেন। আপনি আপনার এজেণ্ডা বাস্তবায়নের সুবিধার্থে কিছু অসত্য কে সত্য বলে প্রচার করবেন অথবা কিছু তথ্য এড়িয়ে যাবেন তা তো হবে না।

      • অর্ফিউস নভেম্বর 25, 2012 at 10:59 পূর্বাহ্ন - Reply

        @যাযাবর,

        তাঁর উপরের কোট গুলিতে “মুসলমান” বলতে আমার ধারণা তিনি মৌলবাদী মুসলমানই বুঝিয়েছেন।

        :hahahee: :hahahee: আপনারা পারেনও ভাই।

  9. সফিক নভেম্বর 25, 2012 at 12:37 পূর্বাহ্ন - Reply

    শুনুন বিদ্বেষী যাযাবর সাহেব, ইসলাম-মুসলিম বিদ্বেষী বলতে কি বোঝানো হয় সেটা স্রেফ প্রশ্ন করলেই পারতেন, খামোকা এতো বড়ো প্যাচাল লেখার কষ্ট না করলেও হতো।

    ইসলাম-মুসলিম বিদ্বেষী’র সংজ্ঞা হলো, “যে একই দোষে অন্য ধর্ম ও গোষ্ঠীও দুষ্ট, সেই দোষে ইসলাম ও মুসলিমদের সিংগেল আউট করা এবং বলা যে এই দোষটি কেবল ইসলামেই আছে আর কোথাও নেই, এটি হলো ইসলাম বিদ্বেষী’র পরিষ্কার রূপ”।

    উদাহরন দিলে বোধহয় ব্যপারটা আপনার কাছে পরিষ্কার হতে পারে। মুক্তমনায় আমার মন্তব্য শুরুই হয়েছিলো ভবঘুরে সাহেবের একটি পোস্টে, যেখানে এক মোল্লা কতৃক শিশু ধর্ষনের ঘটনা উল্লেখ করে বলেছিলেন যে নিজে দোষ করে সেই দোষ কে শয়তানের প্ররোচনা বলা এটা ইসলামেরই একমাত্র বৈশিষ্ট্য, খ্রীস্টান কিংবা অন্য ধর্মে এটা নেই। পোস্টের মন্তব্যে আমি এবং আরো কয়েকজন পরিষ্কার ভাবে দেখিয়েছিলাম যে শয়তানের উপর দোষ চাপানো ইসলামের চেয়ে খ্রীষ্টধর্মে আরো শক্তিশালী এবং বহুব্যবহৃত ট্র‍্যাডিশন। ভবঘুরে সাহেব বহু ধানাই পানাই করেও একজন প্রকৃত ঘৃনান্ধ মৌলবাদীর মতো নিজের ভুল কখনোই স্বীকার করেননি। তিনি এপর্যন্ত অনেকবার বিভিন্নভাবে যুক্তি তথ্যে নাজেহাল হয়েছেন কিন্তু কখনো নিজের ভুল স্বীকার করেছেন বলে দেখিনি।

    তিনি এবং আরো কেউ কেউ এই জিনিষটি বার বার করেন। যে দোষ অন্য ধর্ম-গোষ্ঠীর মধ্যে কম বেশী আছে সে দোষকে তারা ইসলাম ও মুসলমানদের একক বৈশিষ্ট্য বলেন বারবার। আরো একটা সহজতর উদাহরন দিলে হয়তো জিনিশটি আপনার মাথায় ঢুকবে। ধরুন করিম একটা চিহ্ণিত চোর। এখন করিমের কথা বলতে গিয়ে আপনি যদি বলেন যে সমাজে করিমই একমাত্র চোর, করিমের মতো আর কেউ নেই (আপনি যখন জানেন যে করিমের মতো আরো অনেক চোর চারিদিকে আছে) তখন বুঝতে হবে করিমের প্রতি আপনার বিজাতীয়-অযৌক্তিক ব্যক্তিগত ঘৃনা আছে।

    একটা কমন অজুহাত অনেক ইসলাম বিদ্বেষী বার বার তোলেন যে তবে কি ইসলামের কথা বলতে গেলে সব ধর্মের কথাই বলতে হবে। না বলতে হবে না। ইসলামকে নিয়ে যত ইচ্ছা লিখুন ইসলামকে ধুয়ে ফেলুন, অন্য কোনো ধর্মের কথা উল্লেখ করার কোনো দরকার নেই। কিন্তু লেখাতে যদি ঢাক-ঢোল পিটিয়ে পরিষ্কার মিথ্যাচার করেন যে এই দোষগুলি কেবল ইসলামেই আছে তবে বিদ্বেষীর টাইটেল তো মাথা পেতে নিতে হবে। সকল ধর্মই সমান খারাপ নয়। কোনো ধর্ম হিংসায়, ইনটলারেন্সএ অন্য ধর্মের চেয়ে বেশী খারাপ হতেই পারে। কিন্তু যে বৈশিষ্ট্যগুলি সকল ধর্মে কমবেশী রয়েছে সে কারনে ইসলামকে সিংগেল আউট করে প্রচারনা করলে কথা তো শুনতে হবেই।

    শেষবারের মতো আরেকবার উদাহরন দিয়ে কথা শেষ করছি। কারন আপনাদের মধ্যে যুক্তি ঢোকানো কষ্টকর। ধরুন আপনি ইসলামে নারীর অবমাননা কিং বা দাসপ্রথা নিয়ে লিখছেন। সে আপনি লিখতেই পারেন। শত শত পাতা লিখে ফেলুন ইসলামে কিভাবে অর্ধেক মানবসম্প্রদায়কে হীন করে রাখা হয়েছে, কিংবা দাসপ্রথার মতো অমানবিক রীতিকে রদ করা হয় নি এই সব নিয়ে। কেউ কিচ্ছুটি বলবে না। কিন্তু আপনি যদি লেখার মধ্যে সদম্ভে ঘোষনা করেন যে নারীত্বের চরম অপমান কিংবা দাস প্রথাকে উৎসাহিতকরন কেবল ইসলামেরই ট্রেডমার্ক, তবে আপনাকে অনেক কথা শুনতেই হবে।

    আর ভবঘুরে সাহেবের প্যাথলজিক্যাল মানসিকতার কথা তাকে ফলো করা কেউ ভালো ভাবেই বুঝবেন। সুজিত দাশের মতো তারও প্রিয় ফ্যান্টাসি শতকোটি মুসলিমের রক্তবন্যা। তবে সুজিত দাশ সেটা সরাসরিই বলে ফেলেন। ভবঘুরে সাহেবের সেটা লুকিয়ে রাখার মতো বাহ্যজ্ঞান আছে।

    • আদিল মাহমুদ নভেম্বর 25, 2012 at 11:08 পূর্বাহ্ন - Reply

      @সফিক,

      কিন্তু লেখাতে যদি ঢাক-ঢোল পিটিয়ে পরিষ্কার মিথ্যাচার করেন যে এই দোষগুলি কেবল ইসলামেই আছে তবে বিদ্বেষীর টাইটেল তো মাথা পেতে নিতে হবে।

      – তত্ত্বীয়ভাবে কথাটা ঠিক আছে। মুশকিল হল যে অনেক সময় কিন্তু দোষগুলি কেবল ইসলামেই নেই, অন্যান্য ধর্মেও আছে আছে জাতীয় ডিসক্লেমার দেওয়া ছাড়া মনে হয় আমরা অনেক বিশ্লেষনই করি যাতে আমাদের সকলকেই এই তত্ত্ব অনুয়ায়ী বিদ্বেষী মনে হতে পারে। ধরেন, আমি সাম্প্রতিক লেখাতে বেশ কিছু উদাহরন দিয়েছি যাতে নামী দামী আলেমরা কোরান হাদীস ব্যাবহার করে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িকতা শিক্ষা দিচ্ছেন। আমি কিন্তু এসব একমাত্র ইসলামেই আছে এমন ঘোষনা যদিও দেইনি তেমনি এটাও বলিনি যে অন্য ধর্মগুলিতে এমন কথাবার্তা কমবেশী আছে – এ থেকে কিন্তু কেউ কেউ ইন্টারপ্রেট করতেই পারে যে আমি জেনে শুনে অন্য ধর্মের আবর্জনা চেপে কেবল ইসলামের পেছু লেগেছি (এখানে প্র্যাক্টিকেলি কিন্তু ঘটনা সেটাই হচ্ছে যদিও তার উপযুক্ত কারন আছে) আমাকে কি বিদ্বেষী বলা যেতে পারে? কেউ কৌতূহলী হয়ে অন্য ধর্ম সম্পর্কে কি ভাবি জিজ্ঞাসা করলে এক কথা, কিন্তু জিজ্ঞাসা না করলে আমার কি অবশ্যই দায় থাকবে তেমন কোন ডিসক্লেমার দেওয়ার?

      আরেকটু জটিল উদাহরন দেই। ধরেন মুরতাদ হত্যার ইসলামী বিধানের আলোচনা লেখা হল। এমন কোন বিধান কিন্তু কোরানে নেই, আছে হাদীসে; মানে ইসলামের প্রাইম সোর্সে নেই, আছে নেক্সট সোর্সে। ঐদিকে বাইবেলে সরাসরি আছে।

      এখন আমি মুরতাদ হত্যার বিধান সমসাময়িক বিশ্বে আলোচনা করতে গেলে কিন্তু মুসলমান মূলত প্রধান দেশগুলিকেই টার্গেট করতে হবে, মানে ইসলাম ধরেই টান দিতে হবে। বাইবেলে থাকলেও যেহেতু খৃষ্টান কোন দেশে এমন আইন নেই (আমার জানা মতে) সেহেতু তারা আমার কাছে স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্ব পাবে না। এখানেও কি ডিসক্লেমারের কোন গুরুত্ব আছে? হাত অতিরিক্ত ধোয়ার খুব দরকার আছে? বাইবেল খৃষ্টানদের প্রাইম সোর্স, হাদীস মুসলমানদের প্রাইম সোর্স নয়।

      একইভাবে মুসলমান প্রধান দেশগুলিতে প্রচলিত বাল্যবিবাহ নিয়ে লিখতে গেলেও বলতে হয়। আমাকে কি অবশ্যই হিন্দু ধর্মের নামে ভারতীয় সমাজে এ চলত সেসবের উদাহরন টানতেই হবে? আমি অন্তত দরকার দেখি না। আপনি না টানার পয়েন্ট বুঝলেও কিন্তু আমি পার পাব না, ঠিকই প্রথমেই শুনতে হবে কেবল ইসলামের দোষই দেখেন, অন্য ধর্মের দোষ কেন দেখেন না।

      যদিও যে কোন ক্ষেত্রেই অন্য ধর্মে এসব ধারনা নেই তা সরাসরি বা ঘুরিয়ে দেওয়াও শুধু বিদ্বেষই নয়, সরাসরি মিথ্যাচার। তবে জিজ্ঞাসিত না হলে সেটা কারেক্টনেসের স্বার্থে উপযাচক হয়ে দেওয়াটা আমি অন্তত আবশ্যক মনে করি না।

      • সফিক নভেম্বর 25, 2012 at 11:48 পূর্বাহ্ন - Reply

        @আদিল মাহমুদ,
        আপনিও আমার মূল পয়েন্ট টা পুরো ধরতে না পারায় কিছুটা হতাশ হলাম। আমি কিন্তু জোর দিয়ে বলেছি ইসলাম নিয়ে লেখার জন্যে কোনো রকম ডিসক্লেইমার দেয়ার দরকার নেই কারনে ডিসক্লেইমার দিতে দিতে আসল লেখাই হারিয়ে যাবে। ডিসক্লেইমার না দেয়াতে কেউ যদি মনে করি আপনি ‘ অন্য ধর্মের আবর্জনা চেপে কেবল ইসলামের পেছু লেগেছি’ তবে সেটা তারই ব্যর্থতা। যেমন কেউ কেউ মনে করেছেন যে মালালা’র ইস্যু নিয়ে লিখতে যেয়ে যদি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে হাইলাইট না করি তবে সে মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের চিয়ারলীডার।

        আমার মূল আপত্তি যে আপনি যদি জেনে অথবা না জেনে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেন যে মুরতাদ হত্যা, অতি-সাম্প্রদায়িকতা এই ধরনের অমানবিকতা এই সবই একটি বিশেষ ধর্মের আদি শিক্ষার অংশ, অন্য কোনো ধর্মে এটা নেই, এই ক্ষেত্রে। কারন এই ধরনের কথার পেছনে আসল বক্তব্যই হলো পৃথিবীতে ধর্মান্ধতা, মৌলবাদ, অমানবিক আইডিওলজী এসব কোনো সমস্যা নেই , কখনো ছিলো না, সমস্যা কেবল ইসলাম। পৃথিবীর সকল মুসলিম আপন ধর্ম ত্যাগ করে অন্য কোনো ধর্মের সুশীতল আশ্রয় নিলেই সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। অন্য সকল কথার মধ্যে এই কথাটাই কিন্তু এইসব লেখকের মূল কথা, কেবল ইসলামেই এই সমস্যা ছিলো এবং আছে। একটা পরিষ্কার মিথ্যা কথা বলার সাথে অন্য কিছু গুলিয়ে ফেলা উচিৎ হবে না। বিদ্বেষীরা পরিষ্কার মিথ্যা বলেন ঠিক ধর্মান্ধ মৌলবাদীদের মতোই।

        আপনার লেখা অনুযায়ী কেউ যদি মনে করে আপনি ইসলাম বিদ্বেষী তবে সেটা তাদের সীমাবদ্ধতা। সোজা ভাষায় দেখতে হবে আপনি জেনেশুনে বারবার মিথ্যা বলছেন কিনা কিংবা অমানবিকতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন কিনা। যতদিন এই ধরনের দোষ আপনার লেখায় না থাকবে ততদিন খামোকা ইসলাম বিদ্বেষী’র ট্যাগকে এফেক্টিভ কমপ্লিমেন্ট হিসেবেই বিবেচনা করবেন।

        • আদিল মাহমুদ নভেম্বর 25, 2012 at 12:36 অপরাহ্ন - Reply

          @সফিক,

          আমি মনে হয় ঠিকমত বোঝাতে পারিনি।

          প্রথম কথা, কে কিভাবে ইন্টারপ্রেট করে সেটা কিন্তু খুব বড় ব্যাপার। আমি যে ডিসক্লেমার দেইনি সেটাই কিন্তু অনেকের কাছে বড় প্রমান হবে যে আমি ইসলাম বিদ্বেষী। দিলেও যে রক্ষা পাওয়া যেত এমনও কিন্তু নয়, তখন সাইজ দেখা হত কোনদিকে কতটা লেখা হয়েছে।

          দ্বিতীয় পয়েন্টটা আসলে অনেক জটিল এবং প্র্যাক্টিকেল। সত্য কথা বলতে গেলে মুসলমানদের ধর্মীয় রীতিনীতি কালচারের অনেক কিছুরই আলোচনায় এটা গুরুত্বপূর্ন। মুরতাদের ব্যাপার তো আগে বললাম। পর্দা প্রথা নিয়ে ইসলামী সমাজের বাড়াবাড়ির কথাই ধরেন। খৃষ্ট ধর্মেও আসলে আমরা জানি এমনই আছে, আগেকার দিনে সেসব অনেক দেশে জোর জবরদস্তি করে পালনও করানো হত। কথা হল যে বর্তমানে ইসলামী পর্দা প্রথার সমালোচনা করতে গেলে কি আমার পক্ষে দুই পক্ষের প্রতিই সাম্যতা বজায় রাখা সম্ভব? আমাকে কিন্তু বাস্তবতার স্বার্থেই ইসলামের পেছনেই লাগতে হবে বেশী। খৃষ্টানরা কোন যুগে কি করত তার গুরুত্ব কিন্তু থাকে না। আমি খোলা মনে অন্য ধর্মের লোকদেরই কৃতিত্ব দেব বেশী, কারন তারা ধর্মের বাজে দিক বর্জন করতে পেরেছে বেশী। আমার মনে হয় এটা আপনার কথা না হলেও অনেকে কারেক্টনেসের স্বার্থে আজকাল সকলরেই সমান ভাবে সমালোচনা হোক এমন কিছুই আশা করেন। আপনার পয়েন্ট আগেই বুঝতে পেরেছি। আর মিথ্যা বলার সাথে কোন আপোষ নেই, সেখানে বিদ্বেষীও বলার দরকার নেই, সোজা মিথ্যুক।

          মূল কথা, সব ধর্মই সব দিকে একই মাত্রায় খারাপ এমন হতে পারে না। এটাও কিন্তু হজম করতে হবে। বর্তমান বিশ্বে ইসলাম যখন সুনির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে সমালোচনার কলমে আসে তখন অন্য ধর্মগুলির সমালোচনা অনেকটা অনাবশ্যকই লাগে কারন সেসব ধর্মের বিষদাঁত অনেকটাই ভোতা। এ ধরনের তত্ত্বে ভিত্তিতে কথাও অনেকের কাছে ব্যাশিং হতে পারে।

          ভবঘুরে ইসলাম নিয়ে আতংকে ভোগেন উনি নিজেই একাধিকবার স্বীকার করেছেন, গোপন করেননি। তার কিছু কথাবার্তা (অপরে ফরিদ ভাই এর কোট করা) যথেষ্ট বিরক্তিকর, জাতি বিদ্বেষী সুরও বোঝা যায়। সেটা ওনার আতংকে ভোগার সাথে সামঞ্জস্যপূর্নই মনে হয়। এক ধরনের আতংকে অবশ্য আমিও ভুগি, যদিও মাত্রা মনে হয় অতটা নয়। উনি কিন্তু নাস্তিক এমন দাবী মনে হয় কখনো করেননি, উনি কোন ধর্মের এমন কথা আমি সরাসরি না শুনলেও দুয়েক যায়গায় উনি আস্তিক হিসেবেই নিজেকে দাবী করেছেন অতীতে। তবে তাকে অন্য কাউকে আমি কোন বিশেষ ধর্মের প্রচারনা চালাতে এখনো দেখিনি। আমি অবশ্য মাঝখানে অনেকদিন অনিয়মিত ছিলাম।

          • সংশপ্তক নভেম্বর 25, 2012 at 9:40 অপরাহ্ন - Reply

            @আদিল মাহমুদ,

            ধর্মের সমালোচনা করার বেশ কয়েকটি মডেল আছে। প্রথমটি যুক্তি ও বিজ্ঞান নির্ভর যেটার চর্চা প্রফেসর রিচার্ড ডকিন্স প্রমূখেরা করে থাকেন। ২য় টি সংস্কারবাদী মডেল যেখানে ধর্মের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে যুগোপযোগী করার আহ্বান জানানো হয় যা আপনার মত অনেকে করছেন। ৩য় মডেলটি হচ্ছে জেনেফোবিক ও পেশাদারী যেখানে সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দিয়ে ধর্মের সমালোচনার নাম করে জীবিকা নির্বাহ করা হয় , উদাহরণ হিসেবে হিরসি আলী , আলি সিনা প্রমুখদের নাম উল্লেখ করা যায়। এদের অনেকেই এসব করতে গিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন এবং স্বভাবতই আইনগত সমস্যায় পড়ে শেষ পর্যন্ত ‘শক্তিশালী লবী’ ব্যবহার করে আইনগত সমস্যা থেকে বেড়িয়ে এসেছেন।

            মুক্তমনার নীতিমালা বলছে যে, এখানে যুক্তি এবং বিজ্ঞান ভিত্তিক আলোচনাকে উৎসাহিত করা হয়। খেয়াল করলে দেখবেন যে, কয়েক পাতা ডকিন্সের অনুবাদ পড়ে অনেক পাতি নাস্তিক ডকিন্স ডকিন্স বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন কিন্তু সেই প্রফেসর ডকিন্সও ওরকম সস্তা বিদ্বেষী ভাষায় ধর্মের সমালোচনা করেন না। বর্তমান বিশ্বে নাস্তিকতার পতাকাবাহী হিসেবে যাকে প্রথম কাতারে ধরা হয় , সেই ডকিন্সকে তো কেউ হুমকি ধামকি দেয় না ! অথচ প্রফেসর ডকিন্সের জুতা যেখানে যাবে , আলি সিনা কিংবা হিরসি আলির মত বিদ্বেষ ব্যবসায়ীদের মাথা সেখানে যাবে না। সম্মান নিজ গুনে অর্জন করতে হয় , জোর করে আদায় সম্ভব নয় এবং সেটা প্রকৃত জ্ঞানীদের প্রাপ্য।

            • আদিল মাহমুদ নভেম্বর 26, 2012 at 12:40 পূর্বাহ্ন - Reply

              @সংশপ্তক,

              ভাল বলেছেন, ধর্ম সমালোচনা বা ব্যাশিং আসলে নানান ক্যাটাগরিতে আছে। এটা বোঝা দরকার আছে। এ ধরনেরই কথা আমি বলতে যাচ্ছিলাম।

              নবী রসূল তত্ত্বে বিশ্বাসী না হলে ধর্ম সমালোচনার জন্য ডকিন্স ডকিন্স ডাক পাড়ার কোন দরকার দেখি না। তাহলে আর ধর্মওয়ালাদের সাথে তফাত থাকে কই? তাদের মত যদি কথায় কথায় আলেম স্কলারের পেছনে দৌড়াতে হয় তাহলে আর যুক্তিবাদ থাকে না। ডকিন্স ইসলামের রুট লেভেলে সমালোচনা করেন বলেও আমি শুনিনি।

              যাইই বলেন, ডকিন্স সাহেবের বিজ্ঞান ব্যাবহার করে নাস্তিকতার প্রচার একটু আপত্তিজনকই ঠেকে। ধর্ম বিরোধী বলেন ভাল কথা, নাস্তিকতা প্রচারের দরকার খুব আছে কি? তাহলে আর বিজ্ঞান ব্যাবহার করে ধর্মের প্রচারনারই বা আপত্তি করি কেন? বিজ্ঞান ব্যাবহার করে ধর্মের নানান অসার দিক অবশ্যই কাউন্টার করা যেতে পারে, তবে নাস্তিকতা প্রচার মনে হয় একটু বেশীই হয়ে যায়।

              আর তৃতীয় দলের বিদ্বেষীদের সম্পর্কে সতর্ক থাকার দরকার আছে। এদের নিয়েও মুক্তমনায় লেখালেখি দরকার। আলী সীনা, হিসরিদের নাম শুনেছি, বিস্তারিত জানি না। এদের ফোকাস করা হলে অন্যান্য বিদ্বেষীরাও সতর্ক হবে।

  10. আল্লাচালাইনা নভেম্বর 25, 2012 at 12:25 পূর্বাহ্ন - Reply

    ইসলাম ইসলাম
    পায়ে ফেলে পিষলাম

    এইটা কি সহী ইসলাম ব্যাশিং হইছে? ইসলাম ব্যাশার ব্যাশারদের ফিডব্যাকের অপেক্ষায় রইলাম। তবে কাব্যের রচনাশৈলীর জের ধরে কিন্তু ব্যাশ করা যাবে না, তাহলে আমিও কিন্তু কাব্যিক জেরই টেনে আনবো- আফটারঅল ইসলাম ব্যাশার ব্যাশারদেরও রয়েছে এইরকম গরুবান্ধা কাব্য রচনার ট্রাকরেকর্ড, কেয়ারফুল 😀 😀 😀

    জোকস এসাইড। মাঝেমধ্যে ঝগড়াঝাটি লাগাটাকে আমি খারাপ কিছু মনে করি না, বরং ফোরামের স্ব্যাস্থের জন্য ভালোই মনে করি। সবাই নির্জীব হয়ে সুখে স্বাচ্ছন্দে বসবাস করা শুরু করলে সমস্যা হচ্ছে ব্লগের পাতা সরে না, কিছুদিন আগে এইরকম হয়েছিলো, টানা প্রায় পনেরদিন মুক্তমনায় একই লেখা শিরোনামে দেখেছি। তবে পরিমিতিবোধ বলাই বাহুল্য কাম্য সর্বদাই। যদিও আমি ব্যক্তিগতভাবে পরিমিতিবোধ প্রিচ করার জন্য খুব একটা এপ্রোপ্রিয়েট পার্সন নই, তথাপিও বলছি আরকি—কেননা আমি হই আর যেই-ই হোই না কেনো, কোথায় থামতে হবে সেইটা যদি আমরা না জানি তাহলে একটি ওপেন ফোরামে আমরা নিজেরাই পিচ্ছিল করছি নিজেদের পাছা। অনাগত ভবিষ্যতে, কোন না কোন এক মহতী ক্ষণে এই পিচ্ছিলকার্যের যথার্থ ইউটিলাইজেশন পুর্বক আমাদেরকে অন্তর্গ্রহন করতে হবে কোন না কোন একটি প্রজেক্টাইল। সেই মুহুর্তটি কি আমরা পছন্দ করতে যাচ্ছি? উত্তর অবশ্যই না। আবার, জনমানসে বিরক্তির উতপাদন করলে সেই মহুর্তটির মধ্য দিয়ে যেতেও আমাদেরকে হবে ঠিকই যদি কিনা এটি হয়ে থাকে একটি ওপেন ফোরাম। তাহলে? এই মহাপ্রপঞ্চের মুখোমুখী হয়ে কি হতে যাচ্ছে আমাদের রেসোলিউশন? ওয়েল, আমি মনে করি রেসলিউশন হওয়া উচিত যে- আমরা এক পোস্টের ঝগড়াঝাটি আরেক পোস্টে বয়ে নিয়ে যাবো না, এক পোস্টের ঝগড়াঝাটি সেই পোস্টেই কবর দিয়ে ফেলবো এবং সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণভাবে গ্যাং আপ করবো না। গ্যাং আপ করে দুষ্কৃতিকারীরা, যেটা কিনা পরিষ্কারভাবেই আমরা নই। যার যার ঝগড়া তাকে তাকে করতে দিয়ে বাদবাকীদের অন্যদিকে মন দেওয়াটাই উচিত। কেননা কানের তলায় বন চটকানা খাওয়ার মতো কাজ করে কেউ একবার দুইবার হয়তো পার পেতে যাচ্ছে, তবে চার পাঁচবার হয়ে গেলে মুক্তমনার সম্মিলিত জনমতই তার প্রাপ্য বন চটকানা তাকে পরিশোধের ব্যাবস্থা নিবে, এইটুকু আস্থা মুক্তমনার উপর রয়েছে। ফলশ্রুতিতে আবারও এসে ঠেকছি আমরা সেই পরিমিতিবোধের প্রশ্নেই। ওম শান্তি, হযরং বরলং গচ্ছামি, আম্মা বা’দ-আব্বা থাক 🙂 জগতের সকল জীব সুখী হোক।

    • আকাশ মালিক নভেম্বর 25, 2012 at 1:54 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আল্লাচালাইনা,

      জোকস এসাইড। মাঝেমধ্যে ঝগড়াঝাটি লাগাটাকে আমি খারাপ কিছু মনে করি না, বরং ফোরামের স্ব্যাস্থের জন্য ভালোই মনে করি। সবাই নির্জীব হয়ে সুখে স্বাচ্ছন্দে বসবাস করা শুরু করলে সমস্যা হচ্ছে ব্লগের পাতা সরে না, কিছুদিন আগে এইরকম হয়েছিলো, টানা প্রায় পনেরদিন মুক্তমনায় একই লেখা শিরোনামে দেখেছি। তবে পরিমিতিবোধ বলাই বাহুল্য কাম্য সর্বদাই। যদিও আমি ব্যক্তিগতভাবে পরিমিতিবোধ প্রিচ করার জন্য খুব একটা এপ্রোপ্রিয়েট পার্সন নই, তথাপিও বলছি আরকি—কেননা আমি হই আর যেই-ই হোই না কেনো, কোথায় থামতে হবে সেইটা যদি আমরা না জানি তাহলে একটি ওপেন ফোরামে আমরা নিজেরাই পিচ্ছিল করছি নিজেদের পাছা।

      আপনি মন্তব্য যখন করেন তখন এতো সুন্দর সহজ সরল ভাষা ব্যবহার করেন যে, আমার মতো কলুর বলদও সবটুকু (প্রায়) বুঝতে পারি। কিন্তু প্রবন্ধ যখন লিখেন এমন সাবজেক্ট চয়েস আর ভাষা ব্যবহার করেন যে আমার জন্যে সামনে দুইখানা ডিকশনারী নিয়ে বসতে হয়। মাঝে মাঝে কোথায় যে অদৃশ্য হোন একদম লাপাত্তা। নাকি আল্লাহতায়ালার নেমন্তন্নে মেরাজে চলে যান?

      নাইস মন্তব্য (Y) আশা করি সকল হ্যাপি হয়ে পেছন ভুলে সামনের দিকে ফরয়ার্ড হবে। একটু বাংলিশ হওয়ার চেষ্টা করলাম।

  11. অগ্নি নভেম্বর 25, 2012 at 12:09 পূর্বাহ্ন - Reply

    খুবই সময় উপযোগী লিখা। আজকাল অনেকেই “””আর কতো ইসলামী লেবু কপচানো” বলে ব্যাপারটা থিতিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন।

    ইসলামের কড়া সমালোচনা করা মানেই মুসলীমদের নির্বিচারে ঘৃণা করা সেটা কখনই আবশ্যিক হতে পারে না। বা ইসলামকে ধর্মকে হেয় করায় মুসলীমদের হেয় করা হয় সেটা ভাবাও ঠিক না। কারণ একজন মানুষের চরিত্র ধর্মের দ্বারা সৃষ্ট হয় না। মানুষ মাত্রই ভাল মন্দ উভয়েরই প্রবণতা নিয়ে জন্মায়। কোন কোন ধর্মের খারাপ দিক তাদের প্রচ্ছন্ন মন্দ প্রবৃত্তিকে উস্কিয়ে দেয়, কোনটা দেয় না বা কম দেয়। কোন ধর্মের সমালোচনা করা হয় সেই ধর্মের খারাপ প্রবৃত্তিকে উস্কিয়ে দেয়ার ক্ষমতার জন্যই, ধর্মের অনুসারীদের হেয় করার জন্য নয়। ইসলামের অনেক কিছুই এই মন্দ প্রবৃত্তিকে উস্কিয়ে দেয়, যেমন অন্য ধর্মের/ অবিশ্বাসীদের প্রতি সহিংসতা/অসহনশীলতা, নারীদের প্রতি অসহনশীলতা বা বৈষম্য ইত্যাদি। ইসলামের কড়া সমালোচককে মুসলীম বিদ্বেষী বলাটা একটা গুরুতর অভিযোগ। উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া কাউকে অমুখ বিদ্বেষী তমুখ বিদ্বেষী বলাটা আইনের চোখে চরিত্রহনন হিসেবে মানহানী মামলার যোগ্য।

    (F) (Y)

    • অর্ফিউস নভেম্বর 25, 2012 at 3:33 পূর্বাহ্ন - Reply

      @অগ্নি,

      খুবই সময় উপযোগী লিখা। আজকাল অনেকেই “””আর কতো ইসলামী লেবু কপচানো” বলে ব্যাপারটা থিতিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন।

      মোটেই সময়োপযোগী লেখা নয়। অবশ্য হ্যাঁ আপনাদের কাছে সেটাই।ইসলামী লেবু কপচানো, শুধুই দুনিয়াতে ইসলামি ক্রিমিনাল, আর সব কিছু দুধে ধোয়া তুলসি পাতা( এমনকি রেপিস্ট রাও; অবশ্য রেপও তো মানুষ কোরান পড়েই শিখেছে কি বলেন?) ,এটা বিরতিহীন ভাবে নানা কৌশলে প্রমানের চেষ্টা করলে এবং পাশাপাশি অমানবিক মন্তব্য শুরু করলে যেটা সীমা ছাড়িয়ে গিয়ে monomania তে রুপ নিলে,
      সেটা যে শুধু বিরক্তিই জাগায় তা না,সাথে বিতৃষ্ণারও জন্ম দেয়।

      কারণ ব্যপারটা তখন আর নির্দোষ ভাবে ইসলামী লেবুটিকে কচলানোর মানে সীমা বদ্ধ থাকে না, বরং মানবতার বিরুদ্ধে একধরনের বিরতিহীন আক্রোশের রুপ নেয়। তখন মানবতা বাদীদের মুখটা বন্ধ রাখা মুশকিল হয়ে যায়।

      আর কিছু বলব না। বাকিটা আপনি বুঝে নিন।

  12. অর্ফিউস নভেম্বর 24, 2012 at 11:22 অপরাহ্ন - Reply

    বোকাচোদা, পা চাটা দালাল

    হম এগুলো ভাল ভাষা না।

    চেলা ইত্যাদি

    উপরের ২টা, আর এটার মান মনে হয় এক না তাই না?একটু বেশি রকম ফারাক আছে।কি বলন আপনি?

  13. মনজুর মুরশেদ নভেম্বর 24, 2012 at 10:36 অপরাহ্ন - Reply

    আমি সাইফুল ইসলামের একটি পোষ্টে ‘চেলা’ শব্দটি ব্যবহার করেছি। ‘চেলা’ শব্দের ইংরেজী ‘disciple’ যার অন্যান্য বাংলা হতে পারে শিষ্য, ভক্ত, অনুশিষ্য, ইত্যাদি। আমি ঠিক সেই অর্থেই ‘চেলা’ শব্দটি ব্যবহার করেছি, কোন ব্যক্তি আক্রমনের উদ্দেশ্যে নয়।

মন্তব্য করুন