কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ান-উল আহসান নাফিস, ২১ বছর বয়সী বাংলাদেশী এই সুদর্শন যুবকের ছবি দেখে কে বলবে কাঁদি কাঁদি কলা আর উন্নতবক্ষা কামিনি চিরকুমারী হুরীর জন্য সে হাজার মানুষকে মেরে ফেলতে চেয়েছে? নিউইয়র্কে অন্ততপক্ষে ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদপূর্ণ একটি মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক বোমা ফাটিয়ে উড়িয়ে দেবার প্লটে আজ ধরা পড়েছে সে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে; অভিযোগ প্রমানের অপেক্ষায়।

গত জানুয়ারীতে ছাত্র হয়ে এসেছে নাফিস আমেরিকায়। এফ বি আই আর নিউইয়র্ক পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী আল কায়েদার সাথে সম্পর্কযুক্ত নাফিস নিউইয়র্ক এসেইছে আমেরিকায় ধ্বংসাত্মক কাজের জিহাদী অভিপ্রায়ে। নাফিসকে সব সময়ই মনে করতে দেয়া হয়েছে যে সে সত্যি সত্যিই অন্যান্য পাক্কা জিহাদিদের সাথে কাজ করছে। সেই মত সে মারাত্নক বোমা বানায় আর ফাটাতে চায়। ট্রিগার টিপে দেবার পরই তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ইন্টারনেটে পরিচিত হয়েছে সে তার জিহাদী-কর্মের সহযোগীর সাথে। ছদ্দবেশী এফ.বি.আই আন্ডার কাভার সেই এজেন্ট বিল্ডিং উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা জানতে পেরে নাফিসের সাথে সহযোগীতার অভিনয় চালিয়ে যায়। নাফিস ঐ এজেন্টের সহায়তায় ১০০০ পাউন্ডের বিস্ফোরক বোমা বানায়। আজ সকালে ফেডারেল রিজার্ভ বিল্ডিংএর সামনে বোমাসুদ্ধ ভ্যান রেখে এসে দূর থেকে ভূয়া বোমার বিস্ফোরণ ঘটাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ধরা পড়ে সে। বিস্ফোরণ ব্যর্থ হলে সে আত্মঘাতী হতে চেয়েছিলো। বিস্ফোরণের ঠিক আগে আগেই সে একটি ভিডিও তৈরী করে সে বলে রাখে যে ধর্মীয় বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত জিহাদ চলতেই থাকবে। অভিযোগে আরো বলা হয় নাফিসের প্রথমিক পরিকল্পনায় নাকি ওবামাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা সহ আমেরিকার ব্যপক ক্ষয়ক্ষতির পরিকল্পনাও ছিলো।

খবরের কয়েকটা লিঙ্কঃ

১ম

২য়

৩য়

মার্কিন ইমিগ্রান্ট হয়ে আসা বাংলাদেশীদের প্রথম পছন্দ নিউইয়র্ক। লাখ লাখ বাঙালীর বসবাস নিউইয়র্কে। নতুন প্রজন্মের অনেকে স্কুল কলেজগুলোতে ঈর্ষনীয় রকম সফল। ব্লু-কলার থেকে শুরু করে খেটে খাওয়া বাংলাদেশী বাঙালীদের নাম ডাক নেহায়েত মন্দ নয়। ধর্মের জিহাদ নিয়ে নাফিসের আগে কোন বাংলাদেশী এমন ঝড় তোলেনি মিডিয়ায়। বিব্রত আমেরিকান বাংলাদেশীরা একটা নাফিসের অপকর্ম সামলে নিতে পারবে আশা করা যায়। কেউ অপরাধ করলে তার বিচার চাওয়াটাও স্বাভাবিক। অভিযোগ প্রমানের আগে মার্কিন মুলুকে কেউ অপরাধী নয়। আলামত দেখে অবশ্য মনে হচ্ছে জিহাদী নাফিসের মুক্তি মিলবে না; মিলবে যাবজ্জীবন।

এখন কথা হচ্ছে ছেলেটার মাথায় কে ঢোকালো রূপকথার বেহেশত? চারপাশের ধর্মান্ধ সমাজ? ওর বন্ধুরা? আত্মীয় স্বজন? বড়রা? নাকি মা বাবা? মা বাবা এমন কাজ করতে পারে? মা বাবা তো সারাক্ষণ সন্তানদের আগলে রাখে। বাঁচিয়ে রাখে বিপদ থেকে। আগুন, ভাঙা কাঁচ, উঁচু থেকে পড়ে যাওয়া, খারাপ, ভালো, সাদা কালো নানা ব্যপার থেকে অবিরাম বাঁচাতে থাকে। অভিজ্ঞতা দিয়ে বাঁচায়। যুক্তি দিয়ে বাঁচায়। যুক্তি দিয়ে যাঁচাই করে শেখায় ভালো মন্দ। শুধু যুক্তি খাটায় না ধর্মের ব্যপারে। ওখানে অন্ধ। মগজ ধোলাই করে নিজ সন্তানকে অবলীলায় ঠেলে দেয় ধর্ম নামের অন্ধকারে। আর সন্তান? সে তার সবচেয়ে কাছের, সবচেয়ে ভরসার, সবচেয়ে আপন মা বাবাকে বিন্দুমাত্র সন্দেহ না করে ঝাঁপ দেয় অস্তিত্বহীন, প্রমানহীন, যুক্তিহীন, যাঁচাইহীন অন্ধকারে, মা বাবার দেয়া শ্রেষ্ঠ উপহারে।

xxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxx

আরো লেখা লিঙ্কঃ কোথা থেকে এলো আজকের কোরান,সূরা মোখতাসার ১,সূরা মোখতাসার ২,সূরা মোখতাসার ৩, সূরা মোখতাসার ৪, সূরা আল মূত্ত্যাজিয়া, হিজাবী মেয়ে বেহেস্তি সুখ, নামাজ, ধনসম্পদ ও ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করা “লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন” , সূরা আল্ আব্ যাব
-x-x-x-x-x-x-x-x-x-x-x-

[382 বার পঠিত]