চিকিৎসাবিদ্যায় নোবেল পুরষ্কার ও একটি সনদপত্র

শারীরবৃত্ত অথবা চিকিৎসাবিদ্যায় (ফিজিওলজি অর মেডিসিন) ২০১২ সালের নোবেল পুরষ্কার যৌথভাবে অর্জন করেছেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্ডন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক স্যার জন গর্ডন এবং জাপানের কিয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শিনিয়া ইয়ামানাকা। প্রাণিদেহের ম্যাচিউর সেল বা প্রবীণ কোষকে কৃত্রিমভাবে আবার নবীন কোষে রূপান্তরিত করার পদ্ধতি আবিষ্কারের জন্য তাঁরা পেলেন এ বছরের নোবেল পুরষ্কার।

জন গর্ডনের জন্ম ১৯৩৩ সালের ২রা অক্টোবর, ইংল্যান্ডে। তাঁর বাবা-মা তাঁকে নামী-দামী স্কুলে পড়িয়েছেন। বারো বছর বয়সে গর্ডনকে ভর্তি করিয়েছেন ইউরোপের সবচেয়ে দামী প্রাইভেট স্কুল – ইটন কলেজে। ইটন কলেজের শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের ‘মানুষের মত মানুষ’ তৈরি করে দেন বলে বিশ্বাস অনেকের। কিন্তু গর্ডন ঠিক তাল মেলাতে পারলেন না সেখানে। বিজ্ঞান বিষয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল ঠিকই – কিন্তু নিজের মত করে পড়াশোনা করতে গিয়ে কিছুই হলো না। তাই সেখানে মোটেও ভাল করতে পারেন নি তিনি। ইটনের শিক্ষকদের মতে ক্লাসের ২৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে গর্ডন ছিলেন সবচেয়ে খারাপ ছাত্র। ফলে ইটন কলেজের পড়াশোনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনার ইচ্ছে থাকলেও বিজ্ঞানের কোন শাখায় ভর্তির দরখাস্তও করতে পারেন নি। ক্লাসিক সাহিত্যে ভর্তি হবার দরখাস্ত করেছিলেন অক্সফোর্ডের ক্রাইস্ট চার্চ কলেজে। কিন্তু ভর্তি অফিসে ভর্তি-ফরম কাকতালীয়ভাবে উলটে গিয়ে তাঁকে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ভর্তি করে নেয়া হয়। শুরু হয় গর্ডনের তুমুল বিজ্ঞানচর্চা। স্নাতকোত্তর শেষ করে পিএইচডি করেন অধ্যাপক মাইকেল ফিশবার্গের অধীনে নিউক্লিয়ার ট্রান্সপ্লেন্টেশান বা কোষের নিউক্লিয়াস স্থানান্তর প্রক্রিয়ার ওপর।

বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল কোষের পরিবর্তন সময়ের মতই একমুখী। ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলনের ফলে যে ভ্রুণ তৈরি হয় সেখানে শুরুতে সামান্য যে ক’টি কোষ থাকে তা নবীন অবিশেষায়িত কোষ। এই কোষগুলো বিভাজিত হতে হতে আস্তে আস্তে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জন্য বিশেষায়িত হয়ে যায়। ভ্রুণের বৃদ্ধির সাথে সাথে নবীন প্রাথমিক কোষগুলো পরিণত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠিত হতে থাকে। কিছু কোষ পরিণত হয় স্নায়ুকোষে, কিছু যকৃতে, ইত্যাদি। তারপর যকৃতের কোষগুলো শুধু যকৃতের কাজই করে, হৃৎপিন্ডের কোষগুলো হৃৎপিন্ডের। কোষগুলো একবার পরিণত হয়ে বিশেষায়িত হয়ে গেলে তাকে আর কখনো অবিশেষায়িত তরুণ কোষে পরিবর্তন করা যায় না এরকম বিশ্বাসই ছিল বিজ্ঞানীদের। বিজ্ঞানী ওয়াডিংটন ব্যাপারটাকে তুলনা করেছেন পাহাড়ের উপর থেকে নিচের দিকে গড়িয়ে পড়া মার্বেলের সাথে। পাহাড়ের চুড়াতে থাকা মার্বেল যেমন নিচের দিকে গড়িয়ে যে কোন খাদের দিকে যেতে পারে – কিন্তু একবার খাদে পড়ে গেলে আর উপরের দিকে উঠতে পারে না – প্রাথমিক নবীন কোষগুলোও শুরুতে যে কোন অঙ্গের অংশ হতে পারে কিন্তু পরে ক্রমশ বিভাজিত হতে হতে যখন বিশেষায়িত হয়ে যায় তখন আর কিছুতেই প্রাথমিক অবিশেষায়িত অবস্থায় ফিরে যেতে পারে না।

গর্ডন ভাবলেন এতদিনের বদ্ধমূল ধারণাতো ভুলও হতে পারে। একটা কোষ যখন এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তরিত হয় তখন কি তার প্রাথমিক অবস্থার সব স্মৃতিই মুছে যায়? যে জিনেটিক কোড তাদের পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণ করে সেই কোডের কিছুই কি অবশিষ্ট থাকে না? যদি কিছু স্মৃতিও কোষের নিউক্লিয়াসে থাকে তাহলে সেই স্মৃতি কাজে লাগিয়ে পরিণত কোষের মধ্যে নবীন কোষের বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব। ১৯৫৮ সালে তিনি ব্যাঙের ডিম্বকোষের অপরিণত অবিশেষায়িত নিউক্লিয়াস সরিয়ে সেখানে পাকস্থলির প্রবীণ কোষের নিউক্লিয়াস ঢুকিয়ে দেন। এই পরিবর্তিত ডিম্বকোষগুলো যথাসময়ে স্বাভাবিক ব্যাঙাচিতে পরিণত হয়। তারপর পি-এইচ-ডি থিসিস জমা দিয়ে ব্যাঙাচিগুলো প্রফেসর ফিশবার্গের কাছে রেখে তিনি পোস্ট-ডক্টরেট করতে চলে যান আমেরিকায়। ক্যালটেকে ব্যাকটেরিয়ার বংশগতির ওপর তিন বছর গবেষণা করে ফিরে আসেন অক্সফোর্ডে। ১৯৬২ সালে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে যোগ দেন সহকারী প্রভাষক হিসেবে।

ততদিনে ব্যাঙাচিগুলো পূর্নাঙ্গ ব্যাঙে পরিণত হয়েছে। সফল ভাবে ব্যাঙের ক্লোন তৈরি হয়েছে। সে বছরই প্রকাশিত হলো তাঁর কালজয়ী গবেষণাপত্র “দি ডেভেলপমেন্টাল ক্যাপাসিটি অব নিউক্লিয়াই টেকেন ফ্রম ইন্টেস্টাইনাল এপিথেলিয়াম সেলস অব ফিডিং ট্যাডপোলস”। জন গর্ডন আবিষ্কার করলেন যে পরিণত প্রবীণ কোষগুলোকে আবার ঝকঝকে নবীন কোষে রূপান্তরিত করা যায়। ‘ক্লোন’ শব্দটি গাছের ক্ষেত্রে অনেক আগে থেকে প্রচলিত হলেও প্রাণির ক্ষেত্রে প্রথম ব্যবহার করেন ব্রিটিশ জীববিজ্ঞানী হ্যালডেন ১৯৬৩ সালে গর্ডনের গবেষণালব্ধ ফলাফল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে।

গর্ডনের আবিষ্কারকে শুরুতে পাত্তা দিতে চাননি অনেকেই। কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা যখন গর্ডনের পদ্ধতি ব্যবহার করে সাফল্য পেতে শুরু করলেন – স্টেমসেল গবেষণার পালে হাওয়া লাগলো। নিম্ন-প্রজাতির প্রাণী থেকে শুরু করে স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্লোন তৈরি করার চেষ্টা চললো। ১৯৯৬ সালে স্কটল্যান্ডের রোজলিন ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী আয়ান উইলমুট ও কিথ ক্যাম্পবেলের নেতৃত্বে যখন প্রথম স্তন্যপায়ী ক্লোন ভেড়া ডলির জন্ম হলো পৃথিবীব্যাপী হৈ চৈ পড়ে গেলো।

এদিকে গর্ডন ১৯৭১ সালে কেমব্রিজের মলিকিউলার বায়োলজি ল্যাবে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে সেল বায়োলজি ডিভিশানের প্রধান বিজ্ঞানী হয়ে ওঠেন। ১৯৮৩ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের জন হামফ্রে প্লামার প্রফেসর পদে যোগ দেন। সেখানে প্রফেসর লাসকির সাথে মিলে প্রতিষ্ঠা করেন ক্যান্সার গবেষণার ‘মলিকিউলার এমব্রায়োলজি ইউনিট’। ১৯৯০ সালে তিনি ‘ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার এন্ড ডেভেলপমেন্টাল বায়োলজি’র সভাপতির দায়িত্ব নেন। বর্তমানে এই ইনস্টিটিউটের সতেরটি স্বতন্ত্র গবেষণা গ্রুপে দু’শতাধিক বিজ্ঞানী গবেষণারত।

গর্ডনের আবিষ্কৃত পদ্ধতির ভিত্তিতে স্টেমকোষের বিভিন্ন রকমের গবেষণা চলতে থাকে এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়। এমব্রায়োনিক স্টেমসেল সংক্রান্ত গবেষণার জন্য ২০০৭ সালের চিকিৎসাবিদ্যার নোবেল পুরষ্কার দেয়া হয় মারিও ক্যাপেচি, মার্টিন ইভান্স ও অলিভার স্মিথকে।

কোষের নিউক্লিয়াস স্থানান্তর করে বিশেষায়িত কোষ থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রাণী তৈরি করার যে পদ্ধতি গর্ডন আবিষ্কার করেছিলেন তার ফলাফল প্রথম প্রকাশিত হয়েছে ১৯৬২ সালে। আর সে বছরই জাপানের ওসাকায় জন্ম হয় শিনিয়া ইয়ামানাকার – যিনি গর্ডনের সাথে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন এ বছর।

শিনিয়া ইয়ামানাকার বাবা ছিলেন জাপানের বিশিষ্ট শিল্পপতি। সেলাই কলের যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা ছিল তাঁর। শিনিয়া মা-বাবার একমাত্র সন্তান। জাপানীদের রীতি অনুযায়ী তাঁর বাবার শিল্প-কারখানার দায়িত্ব নেয়ার কথা। কিন্তু তিনি ব্যবসা বাণিজ্যের দিকে গেলেন না। তিনি ডাক্তার হলেন। ১৯৮৭ সালে কোবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম-ডি ডিগ্রি লাভ করেন এবং অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে কাজ শুরু করেন। কিন্তু কিছুদিন পরেই সার্জারি বাদ দিয়ে গবেষণায় ফিরে আসেন। ১৯৯৩ সালে ওসাকা সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি লাভ করেন। তারপর পোস্টডক্টরেট গবেষণা করেন গ্ল্যাডস্টোন সানফ্রান্সিসকোর গ্ল্যাডস্টোন ইনস্টিটিউট ও জাপানের নারা ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজিতে। বর্তমানে তিনি কায়তো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক।

জন গর্ডনের পদ্ধতিতে একটা পরিণত বিশেষায়িত কোষকে অপরিণত অবিশেষায়িত কোষে রূপান্তরের জন্য একটা কোষ থেকে নিউক্লিয়াস বের করে সেখানে অন্য পরিণত কোষের নিউক্লিয়াস স্থাপন করতে হয় পরীক্ষাগারে একটার পর একটা। এই জটিল পদ্ধতির কোন বিকল্প কি আছে? পুরো একটা পরিণত কোষকে কি সরাসরি নবীন কোষে পরিণত করা সম্ভব? প্রফেসর ইয়ামানাকা প্রমাণ করেছেন এটা সম্ভব।

২০০৭ সালের নোবেল বিজয়ী মার্টিন ইভান্স ইঁদুরের এমব্রায়োনিক স্টেমসেল তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন ল্যাবরেটরিতে। ইঁদুরের ভ্রুণ থেকে অবিশেষায়িত নবীন কোষ আলাদা করে নিয়ে ল্যাবোরেটরিতে সেই কোষগুলোর সফল বিভাজন ঘটিয়ে অনেকগুলো স্টেমসেল তৈরি করেছেন। ইয়ামানাকা সেই ব্যাপারটাকে কাজে লাগালেন। তিনি দেখতে চাইলেন নবীন কোষগুলোকে নবীন থাকতে সাহায্য করে কোন্ কোন্ জিন? ইয়ামানাকা বিভিন্ন রকমের জিনের সমন্বয় করে পরীক্ষা চালালেন। চার ধরনের জিনের একটা সহজ সমন্বয় এনে দিল তাঁর গবেষণার সাফল্য।

ইয়ামানাকা ইঁদুরের শরীর থেকে একটা বিশেষায়িত প্রবীণ কোষ নিয়ে সেখানে চারটা জিন প্রবেশ করিয়ে পুরো কোষটাকেই অবিশেষায়িত নবীন কোষে রূপান্তরিত করতে সফল হলেন। তিনি এই কোষগুলোর নাম দিলেন ইনডিউজড প্লুরিপোটেন্ট স্টেম সেল বা আই-পি-এস সেল। এই আই-পি-এস সেল থেকে পূর্ণাঙ্গ ইঁদুর তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন ইয়ামানাকা। ২০০৬ সালে ইয়ামানাকা’র গবেষণাপত্র “ইনডাকশান অব প্লুরিপুটেন্ট স্টেম সেলস ফ্রম মাউস এমব্রায়োনিক এন্ড এডাল্ট ফাইব্রোব্লাস্ট কালচারস বাই ডিফাইন্ড ফ্যাক্টরস” প্রকাশিত হয় ‘সেল’ জার্নালে।

প্রবীণ কোষকে নবীন কোষে পরিণত করার পদ্ধতি যখন জানা হয়ে গেল চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা আশা করছেন অনেক জটিল রোগের সমাধান হয়তো পাওয়া যাবে এখন। পার্কিনসন্স, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। আই-পি-এস কোষ কাজে লাগিয়ে শরীরের সব প্রত্যঙ্গের কোষ তৈরি করা সম্ভব। যেমন একজন রোগীর ত্বক থেকে একটা কোষ নিয়ে তাকে আই-পি-এস কোষে রূপান্তর করে আবার বাড়তে দিলে দেখা যাবে কীভাবে রোগের সংক্রমণ ঘটে। ফলে রোগ প্রতিরোধ করা সহজ হবে।

স্যার জন গর্ডন ও অধ্যাপক শিনিয়া ইয়ামানাকা’র আবিষ্কার লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এই কাজের জন্য ২০০৯ সালে গর্ডন ও ইয়ামানাকা পেয়েছেন ল্যাসকার পুরষ্কার। ইয়ামানাকা তাঁর আবিষ্কারের ছয় বছরের মধ্যেই পেয়ে গেছেন বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি নোবেল পুরষ্কার। কিন্তু জন গর্ডনকে এজন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর। তবে এই পঞ্চাশ বছরে তাঁর অর্জন অনেক। ১৯৬৮ সালে বেলজিয়ান রয়েল একাডেমি পুরষ্কার থেকে শুরু করে অসংখ্য গবেষণা-স্বীকৃতি পেয়েছেন জন গর্ডন। ১৯৭১ সালে রয়েল সোসাইটির ফেলোশিপ পেয়েছেন, ১৯৭৮ সালে ইটন কলেজের ফেলো এবং শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর অব সায়েন্স, ১৯৮০ সালে আমেরিকার ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্স পুরষ্কার, ১৯৮৫ সালে রয়েল সোসাইটির রয়েল মেডেল, ১৯৮৭ সালে জাপানের সম্রাট হিরোহিতো পুরষ্কার, ১৯৯৫ সালে নাইটহুড পেয়ে ‘স্যার’ উপাধি পেয়েছেন। ২০০৪ সালে তাঁর সম্মানে ‘ইউ-কে ইনস্টিটিউট ফর সেল বায়োলজি এন্ড ক্যান্সার’- এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘গর্ডন ইনস্টিটিউট’। ২০০৯ সালে পেয়েছেন ‘আলবার্ট ল্যাসকার বেসিক মেডিকেল রিসার্চ’ পুরষ্কার। আর অর্জনের তালিকায় সাম্প্রতিক সংযোজন নোবেল পুরষ্কার।

ছবিতে স্যার গর্ডনকে দেখা যাচ্ছে তাঁর ল্যাবের ডেস্কে। ফ্রেমবন্দী যে সনদ-পত্র দেখা যাচ্ছে তা অভিনব। জীবনে এত কিছু অর্জন করেছেন – কোন সনদই তিনি ফ্রেমবন্দী করেন নি। অথচ এই বিশেষ সনদটি বাঁধাই করে কাজের টেবিলে রেখে দিয়েছেন চোখের সামনে। কী আছে এতে? নিচে সনদটির ক্লোজ-আপ দেয়া হলো।

১৯৪৯ সালে ইটন কলেজে পড়ার সময় জীববিজ্ঞান শিক্ষকের দেয়া ‘সায়েন্স রিপোর্ট’। ব্রিটেনের সবচেয়ে দামী স্কুল (বাৎসরিক টিউশন ফি তেত্রিশ হাজার পাউন্ড; বাংলাদেশি টাকায় প্রায় চল্লিশ লক্ষ টাকা) ইটন কলেজ থেকে পাওয়া গর্ডনের এই সায়েন্স রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে আঠারো জনের গ্রুপে তিনি আঠারোতম হয়েছেন। তাঁর পড়াশোনার হাল হতাশাজনক। পঞ্চাশ নম্বরের পরীক্ষায় তিনি দুই পেয়েছেন। তিনি শিক্ষকের কথা কানে নেন না। রিপোর্টে আরো লেখা আছে

“আমি জানি সে বিজ্ঞানী হতে চায়। কিন্তু তার বর্তমান আচরণ বিরক্তিকর। জীববিজ্ঞানের সাধারণ বিষয়ই সে বুঝতে পারে না, বিশেষজ্ঞ হবে কীভাবে? বিজ্ঞানী হবার চেষ্টা করাটা হবে পুরোপুরি সময় নষ্ট, তার জন্য তো বটেই, যাঁরা তাকে পড়াবেন তাঁদের জন্যও”।

তথ্যসূত্রঃ
নোবেল পুরষ্কার ওয়েবসাইট, গর্ডন ইনস্টিটিউট, দি গার্ডিয়ান।

About the Author:

মন্তব্যসমূহ

  1. নীলাকাশ অক্টোবর 13, 2012 at 1:17 অপরাহ্ন - Reply

    আমি কিছু দিন মুক্তমনার লেখা পড়ছি বিশেষ করে বির্বতন । অন্য লেখাও পড়ি । আমি ফেইসবুকে কিভাবে পড়ব ।

    • প্রদীপ দেব অক্টোবর 13, 2012 at 4:57 অপরাহ্ন - Reply

      @নীলাকাশ, অনেক ধন্যবাদ। মুক্তমনা এডমিন হয়তো আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন।

  2. সবুজ পাহাড়ের রাজা অক্টোবর 13, 2012 at 12:47 অপরাহ্ন - Reply

    অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেল।
    ধন্যবাদ অসাধারণ এই লেখাটার জন্য।

    • প্রদীপ দেব অক্টোবর 13, 2012 at 4:55 অপরাহ্ন - Reply

      @সবুজ পাহাড়ের রাজা, অনেক ধন্যবাদ আপনাকেও।

  3. তানভীরুল ইসলাম অক্টোবর 13, 2012 at 12:31 অপরাহ্ন - Reply

    সনদ পত্রের ব্যাপারটা নিয়ে আমি ভাবলাম। এখন আমার বরং ঐ শিক্ষককে অনেক দূরদর্শী মনে হচ্ছে। তিনি হয়তো দেখেছিলেন ছেলেটা নিজের মত করে কিছু করতে চায়। অর্থাৎ তার মধ্যে সম্ভাবনা আছে। কিন্তু বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি শেখার জন্য কষ্টটা সে করতে চাইছে না। সেই তীব্র ঝোক আর প্রতিজ্ঞাটা নেই। তাই খানিকটা উস্কে দিতেই এমন একটা সনদ দিয়েছেন তিনি। নাহলে এসব বলে বকাঝকা করা এক জিনিশ, আর রীতিমত লিখিত সনদ দেওআ আরেক কথা!

    • প্রদীপ দেব অক্টোবর 13, 2012 at 4:54 অপরাহ্ন - Reply

      @তানভীরুল ইসলাম, আপনার যুক্তিটা ভাল। তবে প্রত্যেক সাবজেক্টে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্যই সাবজেক্ট-রিপোর্ট দেয়ার নিয়ম আছে ইটন কলেজে (বছরে চল্লিশ লাখ টাকা টিউশন ফি জাস্টিফাই করতে হবে তো)। 🙂

  4. আঃ হাকিম চাকলাদার অক্টোবর 12, 2012 at 9:13 অপরাহ্ন - Reply

    এই বিষয়টির উপর মুক্তমনায় একটা বিস্তারিত নিবন্ধ গত কয়েক দিন থেকেই আশা করতেছিলাম। কিন্তু কেহই দিচ্ছিলনা। যাই হোক শেষ পর্যন্ত আপনি সে শুণ্যতাটা পুরন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

    STEM CELL তো ADULT TISSU তেও বিদ্যমান থাকে যেটা বিশেষ ধরনের কোষে যেমন NERVE CELL, MUSCLE CELL.LIVER CELL ইত্যাদিতে রুপান্তরিত করা সম্ভব যেটা EMBRYONIC কোষে BABY GROWTH এর সময় স্বাভাবিক ভাবেই ঘটে থাকে।

    কিন্ত এটা একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের আবিস্কার।এটা সত্যিই একটি যুগান্তকারী আবিস্কার যে সেই পরিণত বিশেষ কোষের DNA এর মধ্যে চারটি বিশেষ GENE যোগ করিয়া দিলে যেখান (STEM CELL)থেকে বিশেষ কোষটি এসেছিল আবার সেখানেই (STEM CELL) ফিরে গেল, এবং পুনরায় EMBRYONIC STEM CELL এর মতই প্রয়োজন মত বিশেষ বিশেষ কোস তৈরীর ক্ষমতা অর্জন করিল।

    এটা কতকটা এরুপ ধরনের ঘটনা, যেন একটি পরিণত বয়সের মানুষকে পুনরায় তার শিশু জীবনে ফিরিয়ে লয়ে আবার নূতন করে যেমন খুশী তেমন ভাবে গড়ে তোলা।
    যেমন ধরুন একজন ৪০ বছরের ইঞ্জিনীয়ার কে তার জীবনের তার জীবনের একেবারে প্রথম দিনের বয়সে ফিরিয়ে লয়ে এবার তাকে একজন ডাক্তার হিসাবে গড়ে তুলব।

    নিসন্দেহে এ আবিস্কার প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা বিজ্ঞানে শারিরিক বড় বড় জটিল সমস্যা সমাধানে অমুল্য অবদান রাখিবে।

    • প্রদীপ দেব অক্টোবর 13, 2012 at 4:45 অপরাহ্ন - Reply

      @আঃ হাকিম চাকলাদার, অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

      এটা কতকটা এরুপ ধরনের ঘটনা, যেন একটি পরিণত বয়সের মানুষকে পুনরায় তার শিশু জীবনে ফিরিয়ে লয়ে আবার নূতন করে যেমন খুশী তেমন ভাবে গড়ে তোলা।
      যেমন ধরুন একজন ৪০ বছরের ইঞ্জিনীয়ার কে তার জীবনের তার জীবনের একেবারে প্রথম দিনের বয়সে ফিরিয়ে লয়ে এবার তাকে একজন ডাক্তার হিসাবে গড়ে তুলব।

      অনেকটা কল্প-চিত্রের মত? ৪০ বছরের ইঞ্জিনিয়ারকে প্রথম বয়সে ফিরিয়ে আনা – মানে তার একটা ক্লোন তৈরি করা। তারপর ক্লোন বেড়ে উঠে কী হবেন তা জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বলে আমার মনে হয় না। 🙂

  5. তানভীরুল ইসলাম অক্টোবর 12, 2012 at 8:13 অপরাহ্ন - Reply

    লেখাটার জন্য ধন্যবাদ।

    মানুষের অমরত্ব পেতে দেখা যাচ্ছে বেশি দেরী নেই। জীবন কঠিন হয়ে যাবে! 🙂

    • প্রদীপ দেব অক্টোবর 13, 2012 at 4:41 অপরাহ্ন - Reply

      @তানভীরুল ইসলাম, সুদূর ভবিষ্যতে এরকম সম্ভাবনাই তো দেখা যাচ্ছে। 🙂

  6. মাসুদ রানা অক্টোবর 12, 2012 at 8:10 অপরাহ্ন - Reply

    অসংখ্য ধন্যবাদ। সাম্প্রতিক নোবেল পুরুস্কার নিয়ে লেখার জন্য। আমরা আশা করছি পদার্থ ও রসায়নের নোবেল প্রাপ্তি নিয়ে লেখাটাও আপনার কাছ থেকেই পাব।

    • প্রদীপ দেব অক্টোবর 13, 2012 at 4:36 অপরাহ্ন - Reply

      @মাসুদ রানা, অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল পুরষ্কার নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছে আছে। তবে রসায়নের ব্যাপারটা আমার পক্ষে সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ রসায়নে আমি ৩৩% পেয়ে পাশ করা ছাত্র।

  7. অভিজিৎ অক্টোবর 12, 2012 at 7:59 অপরাহ্ন - Reply

    অনবদ্য লেখা। ভাগ্যিস প্রদীপ দেবের মত কেউ আছেন, নাইলে এত সহজে ব্যাপারগুলো বুঝতে পারতাম না।

    লেখা পড়ে মনে হচ্ছে স্যার জন গর্ডন এবং শিনিয়া ইয়ামানাকার আবিষ্কারটি সত্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। দেহকোষকে নবীন করা গেলে আর চাই কি! সেই কবে থেকে বিজ্ঞানীরা এটা নিয়ে কাজ করছেন – কীভাবে দেহের অপচিতি প্রক্রিয়াকে রোধ করা বা আটকে রাখা যায় এ নিয়ে ভাবছেন। শেষ পর্যন্ত সাফল্য বুঝি ধরা দিল …

    গর্ডনের সনদপত্রটি সত্যই মজার – “জীববিজ্ঞানের সাধারণ বিষয়ই সে বুঝতে পারে না, বিশেষজ্ঞ হবে কীভাবে? বিজ্ঞানী হবার চেষ্টা করাটা হবে পুরোপুরি সময় নষ্ট, তার জন্য তো বটেই, যাঁরা তাকে পড়াবেন তাঁদের জন্যও”

    হাঃ হাঃ …যিনি এই সনদপত্র নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানীকে একসময় দিয়েছিলেন তিনি নিজে এখন কি করছেন কে জানে!

    • প্রদীপ দেব অক্টোবর 13, 2012 at 4:31 অপরাহ্ন - Reply

      @অভিজিৎ, অনেক ধন্যবাদ। সেল-থেরাপি অচিরেই সহজলভ্য হয়ে যাবে বিজ্ঞানীদের কল্যাণে। তবে স্টেমসেল রিসার্চ বিরোধীদের বাধা এখনো আছে। আমেরিকাতেও তো এখনো স্টেমসেল রিসার্চের জন্য এন-এস-এফ গ্রান্ট পাওয়া যায় না।

    • কাজি মামুন অক্টোবর 13, 2012 at 5:23 অপরাহ্ন - Reply

      @অভিজিৎদা,

      ভাগ্যিস প্রদীপ দেবের মত কেউ আছেন, নাইলে এত সহজে ব্যাপারগুলো বুঝতে পারতাম না।

      ভাগ্যিস অভিজিৎদার মত আরো কেউ কেউ আছেন, যারা ফিজিক্স থেকে নোবেল জয়ী Serge Haroche এবং David J. Wineland কে নিয়ে পানির মত স্বচ্ছ ভাষায় লিখতে পারেন, যাতে আমরা ইনডিভিজুয়াল কোয়ান্টাম সিস্টেমের জটিল রহস্য সামান্য হলেও বুঝতে পারি।

মন্তব্য করুন