চন্দ্রকান্তি এক কবি চন্দ্রাবতী

এই বাংলায় তাঁর উপস্থিতি ঘটেছিল কয়েকশ বছর আগে। চন্দ্রকান্তিময় সৌন্দর্য নিয়ে জন্মেছিলেন তিনি। তবে তাঁর প্রীতিমনোহররূপের জন্য নয়, বরং নিজস্ব প্রতিভার জন্যই আজো প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে আছেন তিনি। শশীকলাময় সৌন্দর্যের এই মানুষটি একজন কবি। নাম চন্দ্রাবতী। কবি চন্দ্রাবতী নামেই সুবিখ্যাত তিনি।

চন্দ্রাবতী মধ্য যুগের কবি। বাংলা সাহিত্যের আদি বা প্রথম মহিলা কবিও বলা যায় তাঁকে। তাঁর আগে একজন মাত্র মহিলা কবির কথা জানা যায়। তবে তিনি সত্যি সত্যি ছিলেন কিনা সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তাঁর নাম রজকিনী রামমণি বা রামী। কবি চন্ডিদাসের নিষ্কামজ প্রেমের প্রেমিকা হিসাবে বিখ্যাত এই রামী ধোপানি। এই রজকবালা রামী  একজন কবি ছিলেন বলে কিছু আলামত পাওয়া যায়। তবে, এগুলো কোনোটা নিরংকুশ সন্দেহ দূর করে পারে না তাঁর কবি হিসাবে অস্তিত্ব সম্পর্কে। আর তাছাড়া বাংলা সাহিত্যে এতজন চণ্ডিদাস আছে যে, ঠিক কোন চণ্ডিদাসের সাথে তিনি সম্পর্কিত ছিলেন সে বিষয়ে নিঃসন্দেহ হওয়া যায় না। সে কারণেই চন্দ্রাবতীকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবির স্বীকৃতি দিতে বহু লোকেই দ্বিধাহীন, সংকোচশীতলতাবিহীন । চন্দ্রাবতী শুধু প্রথম মহিলা কবিই নন, সৃষ্টির মান এবং পরিমাণের দিক দিয়ে মধ্য যুগের সেরা মহিলা কবিও তিনিই।

চন্দ্রাবতীর বাবাও ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি। পদ্মপুরাণ এবং মনসামঙ্গলের কবি তিনি, কবি দ্বিজবংশী বা বংশীবদন। তিনি ভাসান গানের দল নিয়ে গান গেয়ে বেড়াতেন। সুকুমার সেন তাঁর বাঙ্গালা সাহিত্যের কথায় লিখেছেন, “পূর্ববঙ্গে রচিত বিস্তর মনসামঙ্গল কাব্য পাওয়া গিয়াছে। সে সবগুলির মধ্যে বংশীবদনের কাব্যই শ্রেষ্ঠ। সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত হইয়াও বংশীবদন কোথাও অযথা পাণ্ডিত্য প্রদর্শন করিতে চেষ্টা করেন নাই। অপরদিকে, ইহার কাব্য গ্রাম্যতা দোষ হইতে একেবারে মুক্ত।“

দ্বিজ বংশীদাস কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর লেখা মনসামঙ্গল ১৫৭৫ সালের দিকে শেষ হয়। কথিত আছে যে, মনসামঙ্গল রচনায় বংশীবদন চন্দ্রাবতীর সাহায্য পেয়েছিলেন। মনসামঙ্গল রচনার সময়ে চন্দ্রাবতীর বয়স কমপক্ষে পচিশ ছিল। সেই হিসাবে তিনি ১৫৫০ সালের দিকে জন্মেছিলেন বলে অনুমান করা যায়।

কবি দ্বিজবংশীর একমাত্র আদরের কন্যা চন্দ্রাবতী। উত্তরাধিকারসূত্রে পিতার কবিত্ব শক্তি লাভ করেছিলেন তিনি। চন্দ্রাবতী নিজেই নিজের পরিচয় দিয়েছেন তার রামায়ণ গাথায় এভাবেঃ

ধারাস্রোতে ফুলেশ্বরী নদী বহি যায়।

বসতি যাদবানন্দ করেন তথায়।।

ভট্টাচার্য্য বংশে জন্ম, অঞ্জনা ঘরণী।

বাঁশের পাল্লায় তালপাতার ছাউনি।।

ঘট বসাইয়া সদা পূজে মনসায়।

কোপ করি সেই হেতু লক্ষ্মী ছেড়ে যায়।।

দ্বিজবংশী পুত্র হৈল মনসার বরে।

ভাসান গাইয়া যিনি বিখ্যাত সংসারে।।

ঘরে নাই ধান-চাল, চালে নাই ছানি।

আকর ভেদিয়া পড়ে উচ্ছিলার পানি।।

ভাসান গাইয়া পিতা বেড়ান নগরে।

চাল-কড়ি যাহা পান আনি দেন ঘরে।।

বাড়ীতে দরিদ্র জালা কষ্টের কাহিনী।

তাঁর ঘরে জন্ম নিলা  চন্দ্রা অভাগিনী।।

দূরিতে দারিদ্র্যদুঃখ দেবীর আদেশ।

ভাসান গাহিতে স্বপ্নে দিলা উপদেশ।।

সুলোচনা মাতা বন্দি দ্বিজবংশী পিতা।

যাঁর কাছে শুনিয়াছি পুরাণের কথা।।

কাব্যের কথা নয়। চন্দ্রাবতী আসলেই অভাগিনী। তাঁর জীবনে যে বেদনাবিধুরতা এসেছে, যে সকরুণতা এসেছে, তা খুব কম মানুষের জীবনেই এসে থাকে। অত্যন্ত করুণভাবে তরুণ বয়সেই সমাপ্তি ঘটেছে এই কবির জীবনের। নাটকীয়তায় পরিপূর্ণ করুণ জীবনের কারণে পালা রচয়িতা থেকে নিজেই হয়ে উঠেছেন পালাগানের করুণরসে সিক্ত শোকাচ্ছাদিত নায়িকা।

১৯১৬ সালে ময়মনসিংহের কবি চন্দ্রকুমার দে প্রথম সেই এলাকার প্রচলিত পালাগান বা গাথাগুলি সংগ্রহ করেছিলেন। আচার্য্য দীনেশচন্দ্র সেনের উৎসাহে তা পরে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়। এই সমস্ত গীতিকা মৈমনসিংহ-গীতিকা নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৯১৩ সালে ময়মনসিংহের সৌরভ পত্রিকায় চন্দ্রকুমার দে প্রাচীন কবি চন্দ্রাবতীর বিষয়ে একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন। এই প্রবন্ধ পড়েই দীনেশ্চন্দ্র সেন তাঁর খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করেন। সৌরভের সম্পাদক কেদারনাথ মজুমদার ছিলেন দীনেশ্চন্দ্রের পুরোনো বন্ধু। তিনি দীনেশচন্দ্রকে জানান যে, “চন্দ্রকুমার একজন দরিদ্র যুবক, ভাল লেখাপড়া শিখিতে পারেন নাই, কিন্তু নিজের চেষ্টায় বাঙ্গালা লিখিতে শিখিয়াছেন।“ তিনি আরো জানান যে, “তাঁহার মস্তিষ্কবিকৃতি হইয়াছে এবং তিনি একেবারে কাজের বাহিরে গিয়াছেন।“

চন্দ্রকুমারের হদিশ না পেয়ে দীনেশচন্দ্র সেন ময়মনসিংহের অনেক লোকের কাছে পল্লীগাথা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কিন্তু কেউ-ই সেগুলোর কোনো সংবাদ দিতে পারে নাই। কেউ কেউ আবার ইংরেজি শিক্ষার দর্পে বলে উঠেছে যে, “ছোটলোকেরা, বিশেষতঃ মুসলমানেরা, ঐ সকল মাথামুণ্ডু গাহিয়া যায়, আর শত শত চাষা লাঙ্গলের উপর বাহুভর করিয়া দাঁড়াইয়া শোনে। ঐ গানগুলির মধ্যে এমন কি থাকিতে পারে যে শিক্ষিত সমাজ তৎপ্রতি আকৃষ্ট হইতে পারেন? আপনি এই ছেঁড়া পুথি ঘাটা দিন কয়েকের জন্য ছাড়িয়া দিন।“

সৌভাগ্য যে দীনেশচন্দ্র সেন এই সব ইংরেজি শিক্ষিত দর্পকারীদের কথায় কান দিয়ে ছেঁড়া পুথি ঘাটাঘাটি বন্ধ করেন নি। আর সে কারণেই আমরা পেয়েছি মৈমনসিংহ গীতিকার মত অসাধারণ একটা সম্পদ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, “বাংলা প্রাচীন সাহিত্যে মঙ্গলকাব্য প্রভৃতি কাব্যগুলি ধনীদের ফরমাসে ও খরচে খনন করা পুষ্করিণী; কিন্তু ময়মনসিংহ গীতিকা পল্লী হৃদয়ের গভীর স্তর থেকে স্বত উচ্ছ্বসিত উৎস, অকৃত্রিম বেদনার স্বচ্ছ ধারা। বাংলা সাহিত্যে এমন আত্ম-বিস্মৃত রসসৃষ্টি আর কখনো হয় নি।“

দুই বছর পরে কেদারনাথ মজুমদার চিঠি দিয়ে দীনেশচন্দ্র সেনকে জানালেন যে, চন্দ্রকুমার অনেকটা ভাল হয়েছেন এবং খুব শীঘ্রই কোলকাতা এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন। তাঁর আরও চিকিৎসা দরকার।

বউয়ের দুই একখানি রূপার অলংকার ছিল। সেগুলো বিক্রি করে চন্দ্রকুমার পথের খরচ জোগাড় করলেন এবং ময়মনসিংহ থেকে কোলকাতায় এসে দীনেশচন্দ্রকে প্রণাম করে দাঁড়ালেন। রোগে-দুঃখে জীর্ণ, মুখ পাণ্ডুরবর্ণ, অর্দ্ধাশনে-অনশনে বিশীর্ণ, ত্রিশ বৎসরের যুবক, অতি স্বল্পভাষী। কিন্তু এই পাণ্ডুর যুবকই পল্লী জীবনের যে কাহিনী দীনেশচন্দ্রকে শোনালেন এবং ময়মনসিংহের অনাবিষ্কৃত পল্লীগাথার যে সন্ধান দিলেন, তাতে দীনেশচন্দ্রের তাঁকে প্রিয় থেকে প্রিয়তর বলে মনে হতে লাগলো।

মৈমনসিংহ-গীতিকায় তিনটি পালাগান চন্দ্রাবতী সংশ্লিষ্ট। মলুয়া, দস্যু কেনারাম আর চন্দ্রাবতী। এর মধ্যে প্রথম দুটি তাঁর রচনা। তবে মলুয়াতে কোনো কবির নাম নেই। গোড়ায় চন্দ্রাবতীর একটা বন্দনা আছে। সে কারণে কেউ কেউ মনে করেন যে সমস্ত পালাটিই চন্দ্রাবতীর রচনা। কিন্তু দীনেশচন্দ্র সেনের অনুমান ভিন্ন ছিল। তাঁর মতে এই পালাটি চন্দ্রাবতীর লেখা নয়। তবে, এই পালার কবি হিসাবে আর কারো দাবী না থাকায়, এটিকে চন্দ্রাবতীর লেখা পালা হিসাবেই বহুল প্রচলিত হয়ে গিয়েছে। চন্দ্রাবতী পালাটি লিখেছেন নয়ানচাঁদ ঘোষ। এই পালাতেই চন্দ্রাবতীর জীবনের করুণ ইতিহাস লিপিবদ্ধ হয়েছে। এই পালাটিই বর্তমানে বাংলা সাহিত্যের চন্দ্রাবতীর জীবনীর তথ্যভিত্তিক লিখিত প্রমান্য দলিল। চন্দ্রাবতীর লেখা রামায়ণ সংকলিত হয়েছে পূর্ব্ববঙ্গ গীতিকার চতুর্থ খণ্ডে।

চন্দ্রাবতীর রামায়ণকে অনেকে দুর্বল এবং অসমাপ্ত বলে সরিয়ে রেখেছিলেন। চন্দ্রাবতীর রামায়ণ পাঠে বিস্ময়াভূত নবনিতা দেব সেন বলেছেন যে, এটি দুর্বল বা অসমাপ্ত কোনোটিই নয়। এটি একজন নারীর দ্বারা রচিত কাব্য যেখানে রামের গুণগান না করে তিনি সীতার দুঃখ ও দূর্দশার দিকটাই বেশি তুলে ধরেছিলেন যা তৎকালীন পিতৃতান্ত্রিক সমাজের বিরুদ্ধাচারণ হিসাবে দেখা হয়েছিল। ফলে তিনি অন্য পালার জন্য খ্যাতি পেলেও রামায়ণ রচয়ীতা হিসাবে গুরুত্ব পান নি।

দীনেশচন্দ্র সেন চন্দ্রাবতীর এই রামায়ণের সাথে মেঘনাদবধের আশ্চর্য মিল খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর ধারণা মেঘনাদবধ কাব্য রচনার আগে মাইকেল মধুসুদন দত্ত চন্দ্রাবতীর রামায়ন পড়েছেন এবং তারই প্রভাব পড়েছে মেঘনাদবধে। তিনি তাঁর পূর্ববঙ্গ গীতিকায় মন্তব্য করেন যে, “এই রামায়ণের অনেকাংশের সঙ্গে মেঘনাদবধ কাব্যের আশ্চর্য্য রকমের ঐক্য দৃষ্ট হয়, আমার ধারণা, মাইকেল নিশ্চয়ই চন্দ্রাবতীর রামায়ন গান শুনিয়াছিলেন, এই গান পূর্ব্ববঙ্গের বহুস্থানে প্রচলিত ছিল এবং এখনও আছে।“

অন্যদিকে সুকুমার সেন এই মতের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর মতে, ঘটনা উলটো। এই গাথাটি প্রাচীন হলেও এর সংগ্রাহক বা সংস্কর্ত্তা মাইকেল পরবর্তী যুগের এবং এর কিছু অংশ মেঘনাদবধ কাব্য থেকে রূপান্তরিত। তিনি তাঁর বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস বইতে লিখেছেন, “ছড়াটি যদিও আধুনিক না হয়, ইহার সংগ্রহীতা অথবা সংস্কর্ত্তা যে মধুসূদন দত্তের পরবর্ত্তী কালের লেখক তাহা দ্বিতীয় অংশের পঞ্চবটী বনবাসের সুখকাহিনীর বর্ণনায় পরিস্ফুট হইয়াছে। নিম্নে উদ্ধৃত অংশটি মেঘনাদবধ চতুর্থ সর্গ হইতে রূপান্তরিত হইয়াছে মাত্র।“

আমি কি গো জানি সখি কালসর্প বেশে।

এমনি করিয়া সীতায় ছলিবে রাক্ষসে।।

প্রণাম করিণু আমি পড়িয়া ভূতলে।

উড়িয়া গরুড় পক্ষী সর্প যেমন গেলে।।

রথেতে তুলিল মোরে দুষ্ট লঙ্কাপতি।

দেবগণে ডাকি কহি দুঃখের ভারতী।।

অঙ্গের আভরণ খুলি মারিনু রাক্ষসে।

পর্ব্বতে মারিলে ঢিল কিবা যায় আসে।।

কতক্ষণ পরে আমি হইলাম অচেতন।

এখনো স্মরিলে কথা হারাই চেতন।।

দীনেশচন্দ্র সেন এর ধারণা সুকুমার সেনের কাছে বেশ বিস্ময় হয়ে এসেছিল। কারণ তিনি লিখেছেন, “পরম বিস্ময়ের বিষয় এই যে, পূর্ব্ববঙ্গগীতিকার প্রবীণ ও বিচক্ষণ সম্পাদক মহাশয় বিশ্বাস করিয়াছেন যে, মধুসূদনই চন্দ্রাবতীর নিকট ঋণী! তিনি একাধিক স্থানে লিখিয়াছেন, ‘আমার ধারণা, মাইকেল নিশ্চয়ই চন্দ্রাবতীর গান শুনিয়াছেন’; ‘আমার বিশ্বাস মাইকেল মৈমনসিংহের কবির রামায়ণটি কোন স্থানে শুনিয়া মহিলা কবির দ্বারা প্রভাবান্বিত হইয়াছিলেন’।“

সুকুমার সেনের শুধু রামায়ন নিয়েই সন্দেহ ছিল না। দস্যু কেনারাম এবং মলুয়া পালা নিয়েও তিনি সন্দিহান। এগুলো চন্দ্রাবতীর লেখা বলে স্বীকার করতে তাঁর কুণ্ঠা রয়েছে। তিনি বলেন, “ দস্যু কেনারামের গাথাটি চন্দ্রাবতীর রচনা বলিয়া কথিত হইয়া থাকে। ইহাতে “দ্বিজবংশীসুতা” ভণিতাও আছে। তবে রূপ অত্যন্ত আধুনিক। ময়মনসিংহ অঞ্চলের আর একটি পালা (মলুয়া) চন্দ্রাবতীর রচনা বলিয়া চলিতেছে। ইহার অকৃত্রিমতা বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। শুধু উপক্রমণিকার বন্দনা পদটিতে চন্দ্রাবতীর ভণিতা রহিয়াছে।“

চন্দ্রাবতীর গান ময়মনসিংহে সুপরিচিত এবং সুপ্রচারিত। চন্দ্রকুমার দে বলেছেন, “শ্রাবণের মেঘভরা আকাশতলে ভরা নদীতে যখন পাইকগণ সাঁজের নৌকা সারি দিয়া বাহিয়া যায়, তখন শুনি সেই চন্দ্রাবতীর গান, বিবাহে কুলকামিনীগণ নববরবধূকে স্নান করাইতে জলভরণে যাইতেছে, সেই চন্দ্রাবতীর গান, তারপর স্নানের সঙ্গীত, ক্ষৌরকার বরকে কামাইবে তাহার সঙ্গীত, বরবধূর পাশাখেলা, তার সঙ্গীত সে কত রকম।“

চন্দ্রাবতীর লেখা পাশাখেলার একটা সঙ্গীত এখানে তুলে দিচ্ছিঃ

কি আনন্দ হইল সইগো রস বৃন্দাবনে,

শ্যামনাগরে খেলায় পাশা মনমোহিনীর সনে।

আজি কি আনন্দ

উপরে চান্দোয়া টাঙ্গান নীচে শীতলপাটি,

তার নীচে খেলায় পাশা জমিদারের বেটি

আজি কি আনন্দ

 

চন্দ্রাবতী কহে পাশা খেলায় বিনোদিনী

পাশাতে এবার হারিল শ্যামগুণমণি!

আজি কি আনন্দ

চন্দ্রাবতীর জীবনের ইতিহাসটি অনেক করুণ। পরমা সুন্দরী ছিলেন তিনি। বাল্যকাল থেকেই বাবার দেখাদেখি কবিতা লেখা শুরু করেন। গানও লিখতেন। শুধু লিখতেনই না, নিজেও গাইতেন। এত সব গুণের কারণে বহু সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিই চন্দ্রাবতীকে পাবার জন্য উৎসুক ছিলেন। কিন্তু চন্দ্রাবতীর এ বিষয়ে কোনো আগ্রহই ছিল না। তাঁর নিজের খেয়াতরী তখন জয়ানন্দের ঘাটে বাঁধা। মৃদু মৃদু বসন্ত বাতাসে তা দোদ্যুল্যমান।

জয়ানন্দ ছিলেন চন্দ্রাবতীর জনম জনমের সাথী। বাল্যকাল থেকেই পরিচয় তাঁদের। দুজনেই এক সাথে পড়ালেখা করতেন, খেলা করতেন। বেড়ে উঠার সাথে সাথে ভালবাসার রঙ চড়ায় দুজনের মনে। কবিতার ভাষায় প্রকাশ ঘটে তার। দুজন দুজনকে কবিতা লিখে ভালবাসা জানাতেন। আর এভাবেই এক সময় অন্য বিষয় নিয়েও কবিতা রচনা শুরু করেন তাঁরা। কবি দ্বিজবংশীর পদ্মপুরাণে চন্দ্রাবতী এবং জয়ানন্দ, দুজনেরই কবিতা রয়েছে।

দিনে দিনে দুজনের ভালবাসা প্রণয় গাঢ় হতে থাকে। চন্দ্রাবতী প্রাণ-মন সব উজাড় করে দেয় জয়ানন্দের কাছে। তাদের দুজনের বিয়ের কথাবার্তা প্রায় পাকাপাকি। ঠিক এরকম সময়েই ভিমরতিতে ধরে জয়ানন্দকে। এক মুসলমান মেয়ের প্রেমে পড়ে যায় সে। শুধু প্রেমে পড়েই খান্ত হয় না, নিজে মুসলমান হয়ে ওই মেয়েকে বিয়ে করে ফেলে জয়ানন্দ।

জয়ানন্দের এই হঠকারী আচরণ বিশাল এক আঘাত হয়ে আসে চন্দ্রাবতীর জন্য। অল্প বয়সের কোমল হৃদয় ভেঙে খান খান হয়ে যায় তাঁর। এই আঘাত সামলাতে শিবপূজায় নিজেকে উজাড় করে দেন তিনি। বাবার কাছে দুটো প্রার্থনা জানান তিনি। ফুলেশ্বরী নদীর তীরে একটি শিবমন্দির গড়ে দেওয়া এবং আজীবন কুমারী থাকার বাসনা। কন্যাবতসল পিতা আদরের কন্যার দুটো আবদারই মেনে নেন।

চন্দ্রাবতী নিজেকে উজাড় করে দিয়ে শিববন্দনা করতেন। এর পরে যেটুকু অবসর সময় থাকতো, সেই সময়ে রামায়ণ লিখতেন। চন্দ্রাবতীর এই রামায়ণ এখনও ময়মনসিংহের কোনো কোনো অঞ্চলে মুখে মুখে গীত হয়ে থাকে। দীনেশ্চন্দ্র সেন তাঁর পূর্ববঙ্গ গীতিকায় চন্দ্রাবতীর এই রামায়ণকে লিপিবদ্ধ করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য চন্দ্রাবতী এই রামায়ণ শেষ করতে পারেন নাই। সীতার বনবাস পর্যন্ত গিয়ে থেমে গেছেন। থেমে গেছেন বলার চেয়ে থেমে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলা উচিত।

জয়ানন্দের কাছ থেকে চিঠি এলো। দেখা করতে চায় চন্দ্রাবতীর সাথে। চন্দ্রাবতী পিতাকে সব জানালেন। পিতা অসম্মতি জানালেন। তাঁর ভাষ্য হচ্ছে, তুমি যে দেবতার পূজোয় মন দিয়েছো, তাঁরই পূজো করো। চন্দ্রাবতী জয়ানন্দকে পালটা জবাব দিয়ে জানালেন যে, দেখা করা সম্ভব না। তুমি বরং শিবের চরণে মনপ্রাণ সমর্পণ করো। তিনি সর্ব দুঃখহারী।

চিঠি পেয়ে উলটো ঘটনা ঘটলো। অনুতপ্ত জয়ানন্দ ছুটে এলো শিবমন্দিরের দিকে। চন্দ্রাবতী তখন শিবপূজায় বিভোর। মন্দিরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। চন্দ্রাবতীকে ডাকার সাহস হলো না জয়ানন্দের। আঙিনার ভিতর সন্ধ্যামালতীর ফুল ফুটেছিল। তা দিয়েই কপাটের উপরে চারছত্র কবিতা লিখে বিদায় নেয় জয়ানন্দ।

পূজো শেষ করে দরজা খুলে বের হলেন চন্দ্রাবতী। চোখে পড়লো জয়ানন্দের লেখা কবিতা দরজার কপাটে। কবিতা পড়ে বুঝলেন দেবমন্দির কলংকিত হয়েছে। চন্দ্রাবতী জল আনতে ফুলিয়ার (ফুলেশ্বরী) ঘাটে গেলেন। গিয়ে বুঝলেন সব শেষ হয়ে গেছে। অনুতপ্ত জয়ানন্দ ফুলিয়ার স্রোতধারায় নিজের জীবনস্রোত বিলীন করে দিয়েছে। এই ভয়াবহ শোকে পাথর হয়ে যান চন্দ্রাবতী। এর পরে আর কোনো কবিতা লেখেন নাই তিনি। যে কারণে রামায়ন অসমাপ্ত থেকে যায়। তারপর একদিন শিবপূজার সময় নিজেও বিদায় নেন এই ধরিত্রী থেকে।

চন্দ্রাবতীর মৃত্যু নিয়ে সবাই অবশ্য একমত নন। নয়ানচাঁদ নিজেও তাঁর চন্দ্রাবতী পালাগানে চন্দ্রাবতীর মৃত্যু নিয়ে কিছু বলেন নাই। কারো কারো মতে নদীর ঘাটে মৃত অবস্থায় জলে জয়ানন্দের লাশ ভাসতে দেখে তীব্র অনুশোচনায় চন্দ্রাবতীও পরবর্তীতে ফুলেশ্বরী নদীর জলে ঝাঁপিয়ে জয়ানন্দের মত অনুগামী হন। আবার কারো মতে, জয়ানন্দের জলে ডুবে আত্মহত্যা বা মৃত্যুর কিছুদিন পরপরই শোকাবিভূত চন্দ্রাবতী মর্মান্তিক আঘাত প্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন। দীনেশ্চন্দ্র সেন মৈমনসিংহ-গীতিকার ভূমিকায় লিখেছেন, “প্রবাদ এই যে, প্রেমাহতা চন্দ্রা জয়চন্দ্রের শব দর্শন করার অল্পকাল পরেই হৃদরোগে লীলা সংবরণ করেন।“

ব্রজেন্দ্রকুমার দে তাঁর মঞ্চনাটক ‘কবি চন্দ্রাবতী’-তে দেখিয়েছেন যে, শোক এবং অপমান থেকে বাঁচার জন্য চন্দ্রাবতী নিজেই গিয়েই ফুলেশ্বরীর বুকে ঝাপিয়ে পড়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন।

তবে যেভাবেই হোক না, গভীর হৃদয়ে গভীর আঘাত নিয়ে তীব্র মনোযাতনায়, অসামান্য প্রতিভাবান বাংলার এই প্রথম নারী কবির মৃত্যু হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তাঁর মত অভাগিনী বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বিরল। নিজেকে ধুপের মত পুড়িয়ে তিনি যে কাব্য সৌরভ পরিবেশন করে গিয়েছেন অনাগত সময়ের জন্য তার খবর শহরে মানুষেরা রাখে নি। কিন্তু পল্লীর মানুষেরা তা ভোলে নি। তাঁদের মুখে গীত হয়ে দুখিনী কবি চন্দ্রাবতী আজো বেঁচে আছেন।

অজস্র প্রণতি, কবি চন্দ্রাবতী।

 

তথ্যসূত্রঃ

১। বঙ্গের মহিলা কবি – যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত

২। মৈমনসিংহ-গীতিকা  – দীনেশচন্দ্র সেন

৩। পূর্ব্ববঙ্গ-গীতিকা – দীনেশচন্দ্র সেন

৪। বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস – সুকুমার সেন

৫। বাঙ্গালা সাহিত্যের কথা – সুকুমার সেন

৬। কবি চন্দ্রাবতী (নাটক) – ব্রজেন্দ্রকুমার দে

৭। http://www.milansagar.com/kobi-maimansinghageetika.html

৮। http://hello-today.com/ht/32431#.UHG3XZj7LKE

৯। http://www.milansagar.com/kobi-chandrabati.html

 

 

 

About the Author:

মন্তব্যসমূহ

  1. ফরিদ আহমেদ এপ্রিল 19, 2015 at 6:12 পূর্বাহ্ন - Reply

    পড়ার জন্য ধন্যবা। রামায়নটা আমারও পড়া শুরু করতে হবে।

  2. চন্দ্রানী ফেব্রুয়ারী 9, 2015 at 4:36 অপরাহ্ন - Reply

    ভীষণ ভালো লাগলো পড়ে। পূর্ব বঙ্গ গীতিকা বইটির কোথাও থেকে ডাউনলোড করা যাবে কি? রামায়ণটা পড়তে চাই

  3. gazi saiful islam মার্চ 17, 2014 at 10:02 পূর্বাহ্ন - Reply

    পড়েছি পছন্দ করেছি। ভবিষ্যতে বড় ধরনের আলোচনার ইচ্ছে রইল

  4. ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা মার্চ 6, 2014 at 7:16 অপরাহ্ন - Reply

    এই লেখাটার কথাই বলছিলাম। আপনার এ বিষয়ে লেখা না থাকলে কত কিছুই অজানা থাকতো 🙁

    অনেক ধন্যবাদ (F)

    • ফরিদ আহমেদ মার্চ 6, 2014 at 7:33 অপরাহ্ন - Reply

      @ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা,

      আবারো ধন্যবাদ। এই লেখাটা আমার নিজেরই অনেক প্রিয় একটা লেখা। (নিজের ঢোল নিজেই পেটাই। অন্য কাউকে দিলে ফাটিয়ে দিতে পারেতো, তাই।) 🙂

  5. প্রদীপ দেব অক্টোবর 13, 2012 at 5:42 অপরাহ্ন - Reply

    বঞ্চিত করিয়া অজস্র পাঠকেরে
    আপনার কাব্যরস হতে
    এতদিন ছিলেন কোথা?
    পঠিয়া অতিউচ্চ চন্দ্রাবতী কথা
    ভুলিয়াছি বিরহ আজি
    ভুলিয়াছি ব্যথা।

    • ফরিদ আহমেদ অক্টোবর 14, 2012 at 10:51 পূর্বাহ্ন - Reply

      @প্রদীপ দেব,

      বঞ্চিত করিয়া অজস্র পাঠকেরে
      আপনার কাব্যরস হতে
      এতদিন ছিলেন কোথা?
      পঠিয়া অতিউচ্চ চন্দ্রাবতী কথা
      ভুলিয়াছি বিরহ আজি
      ভুলিয়াছি ব্যথা।

      বলেছিলেন মোর গুরু হেসে
      থাকিস না বাছা সেই দেশে
      মুড়ি আর মুড়কি যেথা বিকোয় এক দামে

      বিজ্ঞানী যেথা বিজ্ঞান ভুলে
      মতামত দেয় কাব্যের ছলে
      ত্যাজ্য সে ভূমি, হলেও তা মুক্তমনা নামে।

  6. আসরাফ অক্টোবর 12, 2012 at 11:54 অপরাহ্ন - Reply

    (Y)
    অনেক দিন পরে মুক্ত-মানায় আসলাম। এবং প্রথম পাতায় আপনার লেখাটা দেখে ভাল লাগল।

    অভিজিৎ দার প্রথম কমেন্ট দেখে আমি টাস্কি খাইছিলাম।

    • ফরিদ আহমেদ অক্টোবর 14, 2012 at 10:45 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আসরাফ,

      অভিজিৎ দার প্রথম কমেন্ট দেখে আমি টাস্কি খাইছিলাম।

      টাস্কি খাওয়ার কী আছে? আমিতো নতুনই। 🙂

  7. সবুজ পাহাড়ের রাজা অক্টোবর 12, 2012 at 8:21 অপরাহ্ন - Reply

    দারুন তথ্যসমৃদ্ধ লেখা। (Y)

    • ফরিদ আহমেদ অক্টোবর 14, 2012 at 10:44 পূর্বাহ্ন - Reply

      @সবুজ পাহাড়ের রাজা,

      ধন্যবাদ রাজা মশাই। (F)

  8. রামগড়ুড়ের ছানা অক্টোবর 11, 2012 at 9:26 অপরাহ্ন - Reply

    কই থেকে আবির্ভূত হলেন এতদিন পর?

    • ফরিদ আহমেদ অক্টোবর 12, 2012 at 10:46 পূর্বাহ্ন - Reply

      @রামগড়ুড়ের ছানা,

      কই থেকে আবির্ভূত হলেন এতদিন পর?

      ইতিহাসের পাতা থেকে। 🙂

  9. মনজুর মুরশেদ অক্টোবর 11, 2012 at 7:50 অপরাহ্ন - Reply

    খুব ভালো লাগছে অনেকদিন পরে আপনার লেখা পড়ে। বিপ্লব রহমানের মত বলি, চলুক।

    • ফরিদ আহমেদ অক্টোবর 12, 2012 at 10:46 পূর্বাহ্ন - Reply

      @মনজুর মুরশেদ,

      খুব ভালো লাগছে অনেকদিন পরে আপনার লেখা পড়ে। বিপ্লব রহমানের মত বলি, চলুক।

      ধন্যবাদ আপনাকে। আমাদের প্রাচীন এবং মধ্যযুগের ইতিহাসভিত্তিক এরকম টুকরো টুকরো কিছু ঘটনা বা ব্যক্তিকে নিয়ে আগামীতে আরো লেখার ইচ্ছা আছে আমার।

  10. সৈকত চৌধুরী অক্টোবর 11, 2012 at 3:54 অপরাহ্ন - Reply

    চন্দ্রাবতী সম্পর্কে খুব একটা জানা ছিল না।

    লেখাটি গুরুত্বপূর্ণ এবং বর্ণনা শৈলী অতুলনীয়। ফরিদ ভাইকে অনেক ধন্যবাদ।

    • ফরিদ আহমেদ অক্টোবর 12, 2012 at 10:42 পূর্বাহ্ন - Reply

      @সৈকত চৌধুরী,

      লেখাটি গুরুত্বপূর্ণ এবং বর্ণনা শৈলী অতুলনীয়। ফরিদ ভাইকে অনেক ধন্যবাদ।

      লেখাটা পড়া এবং মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ সৈকত। (F)

  11. সাইফুল ইসলাম অক্টোবর 11, 2012 at 2:08 অপরাহ্ন - Reply

    প্রথমেই কঠোর কন্ঠে মাইনাস, মুক্তমনার আঙিনায় একেবারেই না আসার জন্য। তারপরে আন্তরিক ধন্যবাদ চমৎকার একটা বিষয়ে লেখা দেওয়ার জন্য। চন্দ্রাবতী সম্পর্কে আগে শুনেছিলাম কিন্তু এত বিস্তারিত না। এই ফাঁকে চন্দ্রাবতী সম্পর্কে একটু পড়াশোনা হল।

    চন্দ্রাবতীকে মধ্যযুগের বাঙলা সাহিত্যের শ্রেষ্ট মহিলা কবি বললেই মনে হয় সেইফ সাইডে থাকা হয় কারন অনেকেই খনার প্রভাব অস্বীকার করতে চাইবে না প্রথম হিসাবে।

    কেউ মধ্যযুগের মহিলা কবি বুদ্ধিজীবিদের সম্পর্কে জানতে চাইলে Susie Tharu আর K.Lalitha লেখিকাদ্বয়ের Women Writing in India, 600 B.C. to the present – Volume 1 পড়তে পারেন।
    এই বইয়ের চন্দ্রাবতী সম্পর্কে অধ্যায়টা উঠিয়ে দিচ্ছিঃ

    CHANDRABATI
    (ca. 1550-1600)

    The relationship between art and spiritual experience or religious reform
    was clearly established in the bhakti tradition that continued well into the
    seventeenth century. In Chandrabati, however, we have one of the earliest
    artists whose compositions were more explicitly political. Her long poem
    Sundari Malua was directed against unjust laws and focused on the prob-
    lems they created for women.
    Chandrabati’s father, Bansidas, came from Paturi, a village now in
    Bangladesh, scenically situated on the banks of the river Phuleswari. Ban-
    sidas earned his living as a poct-singer, composing and performing the
    popular ballads of the time. Some of his compositions have come down
    to us, and his Maanasa Bhajan is well known even today. Scholars have
    suggested that Chandrabati might have helped in its composition. Besides,
    she herself wrote a short Rattiayana, Dasyu Kenaram (Kenaram the Dacoit),
    and the important text, Sundari Malua, which we have excerpted from
    here. Chandrabati composed this long poem in the pala gati form, which
    the dictionary defines as a narrative opera, in ballad meter. It usually deals
    with mythological themes and is sung. Chandrabati’s Sundari Malua has
    1,247 verses and is divided into 28 parts.
    Poetic convention in her time required that a writer preface the work
    W’ith a biography in verse. In the prologue to her Ramayana, Chandrabati
    describes the extreme poverty, verging on destitution, in which her family
    lived. They were wholly dependent on Bansidas’s meager earnings as a
    poet. Her father educated her, however, and also taught her the rules of
    poetic composition. Legend has it that she, like the heroine, Malua, of her
    poem, was very beautiful and attracted many suitors. But she was in love
    with Joychandra, a childhood sweetheart, and rejected all other offers of
    marriage. Joychandra and Chandrabati had studied together, played to-
    gether, and, as adolescents, even composed verses together. It seemed in-
    evitable that they would marry each other. But Joychandra fell in love
    with someone else. He even took on her religion to marry her. Chandra-
    bati, we are told, never recovered from the shock.
    Seeking to rebuild her life, she asked of her father two things: that he
    build a temple for her and that he allow her to remain unmarried. Chan-
    drabati dedicated her life to worship. She continued to compose her verses
    and worked on a version of the Ramayana. Meanwhile Joychandra seems
    to have tired of his wife and returned in search of Chandrabati. But for
    him the doors of the temple were barred. Chandrabati would not meet
    him. In anguish he left verses addressed to her on the door of the temple,
    written with the sap of a poisonous plant before he drowned himself in
    the Phuleswari. Chandrabati, the legend has it, stopped writing after this.
    Archaeologists have recently found the remains of the temple at which
    Chandrabati worshiped.
    Some critics of Bengali literature dispute the authorship of Sundari Malua,
    but the biographical details in the prefatory dedication are Chandrabati’s,
    and the ballad singers of Mymensingh attribute it to her. The pain and
    anxiety of a woman in love are movingly evoked, and the descriptions of
    household activities, the accounts of how food is prepared, and the recipes
    discussed in such detail indicate that the author must have been a woman.
    The story is set in the reign of the Mughul emperor Akbar (1556-1606).
    Akbar had the reputation of being one of the most enlightened, just, and
    benevolent of emperors, but Chandrabati’s poem was directed against two
    laws that caused a great deal of hardship for the people. These laws were
    with someone else. He even took on her religion to marry her. Chandra-
    bati, we are told, never recovered from the shock.
    Seeking to rebuild her life, she asked of her father two things: that he
    build a temple for her and that he allow her to remain unmarried. Chan-
    drabati dedicated her life to worship. She continued to compose her verses
    and worked on a version of the Ramayana. Meanwhile Joychandra seems
    to have tired of his wife and returned in search of Chandrabati. But for
    him the doors of the temple were barred. Chandrabati would not meet
    him. In anguish he left verses addressed to her on the door of the temple.
    written with the sap of a poisonous plant before he drowned himself in
    the Phuleswari. Chandrabati, the legend has it, stopped writing after this.
    Archaeologists have recently found the remains of the temple at which
    Chandrabati worshiped.
    Some critics of Bengali literature dispute the authorship of Sundari Malua,
    but the biographical details in the prefatory dedication are Chandrabati’s,
    and the ballad singers of Mymensingh attribute it to her. The pain and
    anxiety of a woman in love are movingly evoked, and the descriptions of
    household activities, the accounts of how food is prepared, and the recipes
    discussed in such detail indicate that the author must have been a woman.
    The story is set in the reign of the Mughul emperor Akbar (1556-1606).
    Akbar had the reputation of being one of the most enlightened, just, and
    benevolent of emperors, but Chandrabati’s poem was directed against two
    laws that caused a great deal of hardship for the people. These laws were
    enacted in the thirteenth century, during Allauddin Khilji’s rule, but con-
    tinued to be enforced. Both laws required the payment of taxes, but since
    there were no amounts specified, people were at the mercy of local land-
    lords or officials, who could set extortionist rates. Property could be seized
    and the womenfolk in the family kept in custody or sent to the hauli,
    which was a prison for women. Sundari Malua depicts the sufferings of
    women under these unjust laws.

    Chandrabati’s women characters, the critic Jharna Dhar comments, are
    nearly always more liberal and magnanimous, stronger and more deter-
    mined, than her men. The relationships between women, too, are refresh-
    ingly unstereotypical. Indian literature of all kinds is full of the enmity
    between daughter-in-law and mother-in-law. But in this story, when
    Malua is released from the hauli, her mother-in-law stands up for her and
    argues, in a remarkable passage, against the elders of the village, who want
    to exile her. Chandrabati also depicts the village women as joining to-
    gether to argue Malua’s case.
    A brief outline of the elaborate plot will help the reader place the extracts
    translated here. Binod, the son of a poor widow, and Malua fall in love.
    Malua is extraordinarily beautiful. Though her father, Hiradhar, has received
    several offers for her hand, none of them meets with his approval. He likes
    Binod, but hesitates because the boy is poor. Irked by Hiradhar’s attitude,
    Binod sets out to earn enough money to ask for Malua in marriage. The first
    extract translated here describes the wedding night. The first night after a
    wedding is passed in revelry. Young people, friends, and relatives of the bride
    and groom play traditional games and make merry. The bride and groom are
    not allowed to sleep. On the second night, the kaal raat, or Black Night, the
    bride sleeps beside her mother-in-law. The third night is the Bright Night,
    or night of consummation. A bed of flowers is prepared for the young people
    and they are alone for the first time. A description like this is often a set piece
    in such narratives, but the freshness of Chandrabati’s imagery and the dra-
    matic presentation arc remarkable.

    The main sections of the narrative poem deal with two episodes in which
    the family is harassed and attacked by priests and administrators, who use
    the black laws, which arc Chandrabati’s principal concern in the poem, to
    further their personal ends. Malua, her husband, and her mother-in-law, the
    story goes, live together happily for a while, but problems arise when the
    local qazi (magistrate), attracted by Malua’s beauty, propositions her. An-
    gered by her rejection, he imposes a fine of five hundred silver coins. Because
    the family is impoverished, Malua and Binod have to sell their property to
    pay the fine and again to find money to support themselves. Malua struggles
    to keep herself and her mother-in-law alive. Binod returns and is able to
    redeem his land, but they are soon in trouble once more. Encouraged by the
    qazi, the diwan (a powerful local administrator), demands that Malua be sent
    to live with him as his mistress. Unless his wishes are complied with, he
    decrees, Binod will be buried alive. Malua is determined to save him. She
    goes to the hauli and tells the diwan that she is bound by a vow to sleep with
    no man for a period of time. The diwan agrees to wait. Meanwhile, Malua’s
    brothers come to the rescue. In a surprise attack they kill the diwan’s guards,
    though he himself escapes. Malua, Binod. and Binod’s mother decide to go
    back to Malua’s parental village and set up house there.
    The second extract translated here is taken from section 27 and refers
    to a subsequent episode. Since Malua has lived in the hauli, she cannot,
    the elders declare, be allowed back into the village. So Malua sets up house
    on its outskirts. Her mother-in-law goes with her, but Binod stays behind.
    Once, while out hunting. Binod is bitten by a snake and almost dies.
    Malua finds him and nurses him back to health. This time the village
    women rally round Malua and demand that she be allowed back into the
    village. It is the power of her virtue that has brought Malua’s husband
    back to life, they claim. But the elders will have none of it. Binod, his
    mother, and the other women comfort Malua, but disappointed, unwilling
    to burden the family further, she drowns herself in the river.

    From SUNDARI MALUA
    Section 15 [After the Black Night comes the
    Bright Night]

    After the Black Night comes the Bright Night
    And the bed of flowers awaits bride and groom
    With a lamp, like the evening star, lighting the room.
    While Malua stands by the door, the night
    Deepening, her eyes heavy with sleep, as Binod
    Gently raises the veil from her face that
    Glows like new gold, like the full moon.
    Passionate, Binod lifts Malua’s heavy hair.
    Which hangs down to her feet, and spreads it wide.
    “Friend of my heart,” breathes Malua, “What
    Are you doing? Wait, the time’s not ripe. Do bees
    Come to a flower before it fills with honey? Do wc
    Pluck buds before they blossom? Don’t we
    Leave the hot rice to cool before we eat? Let
    The night grow chill. Your brothers’ wives are yet
    Awake, watching through chinks in the wattled
    Wall, listening to our clothes rustic, to
    My jewelry tinkle, waiting to tease us, to make
    Their jokes in the morning, so no more tonight, I beg’’

    Now the lamp.is out, the room quiet, auspicious
    The night, auspicious the hour. At dawn
    They rise and wash with water drawn
    The day before: Binod, 011 a low stool, washes
    His hands and feet.

    Section 27 [Back to life she’d brought
    her husband]

    Back to life she’d brought her husband
    The faithful wife, the virtuous wife.
    In crowds women thronged to see her
    Greeting her with triumphant cries
    Singing her praises everyone.
    “How can you welcome her with flowers?”
    Asked the elders, “How offer her pan?
    Is she so virtuous? So faithful? Why should she
    Resort to sorcery then?”
    The brother of Binod’s mother, Halwal Sardar,
    A village elder, decreed: “Taking this woman back
    Will cost us rank and caste. For three long months
    She lived between Muslim walls. The shame of it
    Would shatter a tiger! Who can save a doe
    Caught in the wild beast’s claws? We can do
    Nothing once chastity and caste are gone.
    Have we not turned away other weeping
    Women who came back in shame from the Hauli?”
    Then the brother-in-law of Binod’s father spoke
    After careful thought: “No. We cannot
    Take such a woman into our house. I warned
    Binod’s mother at the wedding, but she thought
    She knew better. Is it easy, in times like these,
    To protect a beautiful woman? Even
    The wives of kings arc not safe. Muslims
    Veil their women. Only peasants’ wives
    Go about openly, taunted at market and riverside,
    Deaf to news of the times. Binod should not
    Have married such a beauty!
    Now she’s lost both caste and standing. Beauty
    Invites disaster. We’ve supervised her conduct,
    Chastised her, wasted money to protect her—
    And all for what? Don’t let her into the house!
    What more shall I live to see!”

    “She’s my heart’s gold,” Binod’s mother said.
    “My son’s wife. No matter what you decree,
    I shall never renounce her. She stood by me
    In times of trouble, toiled long days
    To keep us alive. She brought Binod back
    From the clasp of death; no truer Sati
    Can you find. She’s the light of our
    Sorrow-dark house, the roof of a hut
    That had none. How can I live without her?
    You think she’s a sorceress. You want
    To turn her away. She sleeps out of doors,
    Lives like a ficldhand. I’ll make my bed
    With her, she’ll sleep in my arms, we’ll weep
    The whole night through. I know I won’t
    Live long. Banish her, if you must,
    But not before I die.”

    Translated by Madhuchhanda Karlekar.

    লক্ষনীয় যে এখানে “জয়ানন্দ” নামে কেউ নাই। আছে “জয়চন্দ্র”। যদিও বেশিরভাগ রেফারেন্সে জয়ানন্দ নামেই একজনকে পাওয়া যায়। যে কিনা চিঠি পাঠায়ঃ

    অমৃত ভাবিয়া আমি খাইয়াছি গরল
    কণ্ঠেতে লাগিয়া রইছে কাল হলাহল ।

    চিঠি পেয়ে উলটো ঘটনা ঘটলো। অনুতপ্ত জয়ানন্দ ছুটে এলো শিবমন্দিরের দিকে। চন্দ্রাবতী তখন শিবপূজায় বিভোর। মন্দিরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। চন্দ্রাবতীকে ডাকার সাহস হলো না জয়ানন্দের। আঙিনার ভিতর সন্ধ্যামালতীর ফুল ফুটেছিল। তা দিয়েই কপাটের উপরে চারছত্র কবিতা লিখে বিদায় নেয় জয়ানন্দ।


    শৈশব কালের সংগী তুমি যৈবন কালের সাথী।
    অপরাধ ক্ষমা কর তুমি চন্দ্রাবতী
    পাপিষ্ঠ জানিয়া মোরে না হইলা সম্মত
    বিদায় মাগি চন্দ্রাবতী জনমের মত।

    কোন কোন বয়ানে পাওয়া যায়ঃ

    দ্বার খোল চন্দ্রাবতী দেখা দেও আমারে।
    বলে জয়ানন্দ শেষবারের মত চন্দ্রাবতীকে ডেকেছিল।

    সবশেষে পাঠকদের জন্য চন্দ্রাবতীর মন্দিরের ছবিটা দিলাম।

    [img]http://www.kishorgonj.com/wp-content/uploads/2011/07/chondra.jpg[/img]

    আবার কবে পরবর্তী লেখা পাব ফরিদ ভাই? 🙂

    • ফরিদ আহমেদ অক্টোবর 11, 2012 at 4:41 অপরাহ্ন - Reply

      @সাইফুল ইসলাম,

      লক্ষনীয় যে এখানে “জয়ানন্দ” নামে কেউ নাই। আছে “জয়চন্দ্র”। যদিও বেশিরভাগ রেফারেন্সে জয়ানন্দ নামেই একজনকে পাওয়া যায়। যে কিনা চিঠি পাঠায়ঃ

      জয়চন্দ্র এবং জয়ানন্দ একই ব্যক্তি। চন্দ্রাবতী পালাটির পুরো নাম খুব সম্ভবত ছিল ‘জয়চন্দ্র ও চন্দ্রাবতী’। কারণ, দীনেশ্চন্দ্র সেন মৈমনসিংহ গীতিকার ভূমিকায় এক জায়গায় লিখেছেনঃ

      চন্দ্রকুমারবাবুর স্বরচিত ‘চন্দ্রাবতী’র উপাখ্যান অপেক্ষা নয়ানচাঁদ- বিরচিত ‘জয়চন্দ্র ও চন্দ্রাবতী’র পালাটি জানিবার জন্যই আমি বিশেষরূপ লালায়িত হইয়াছিলাম।

      আবার অন্যত্র যখন তিনি চন্দ্রকুমার এর দেয়া পালার তালিকা দিচ্ছেন সেখানে শিরোনাম দিয়েছেন ‘চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র’।

      অথচ তিনি যখন পালাটি সংকলন করেছেন তখন শুধু চন্দ্রাবতী হিসাবে দিয়েছেন। জয়চন্দ্রের নাম বাদ পড়ে গিয়েছে। পুরো পালাটিতে ১২টি অঙ্ক আর ৩৫৪ টি ছত্র। আমার যদি চোখের দেখায় ভুল না হয়ে থাকে, তবে এই ছত্রগুলির কোনোটিতে জয়চন্দ্র নাম নেই। সব জায়গাতেই জয়ানন্দ লেখা হয়েছে।

      পরথমে লিখিল পত্র চন্দ্রার গোচরে।
      পুষ্পপাতে লেখে পত্র আড়াই অক্ষরে।।
      পত্র লেখে জয়ানন্দ মনের যত কথা।
      নিতি নিতি তোলা ফুলে তোমার মালা গাঁথা।।

      কিংবা

      জৈবন আইল দেহে জোয়ারের পানি।
      কেমনে লিখিব পত্র প্রাণের কাহিনী।।
      কিমতে লিখিব পত্র বাপ আছে ঘরে।
      ফুল তুলে জয়ানন্দ তারে ভালবাসি।।

      শুধুমাত্র ৯ নম্বর অঙ্কের শিরোনামে জয়চন্দ্র নাম ব্যবহার করা হয়েছে। শিরোনামটি হচ্ছেঃ

      মুসলমান কন্যার সঙ্গে জয়চন্দ্রের ভাব।

      আবার কবে পরবর্তী লেখা পাব ফরিদ ভাই?

      আল্লা মালিক জানেন। সবকিছুই তাঁর হাতে। আমিতো নিমিত্ত মাত্র। 🙂

  12. সজীব অক্টোবর 11, 2012 at 5:46 পূর্বাহ্ন - Reply

    চন্দ্রাবতির কথা শুনেছি ছোটবেলা থেকেই। আপনার লেখা পরে তার জীবন সম্পর্কে কিছু জানলাম।

    আপনি লিখেছেন জন্ম পাতুয়ারী গ্রামে। আমি অবশ্য শুনেছি গ্রামের নাম পাতুয়াইর।(সঠিক বানান আমার অজানা)

    ছোট থাকতে নানাবাড়ি যেতাম পাতুয়াইর গ্রাম দিয়ে।পাতুয়াইর গ্রাম বলতে মনে পরে ওখানে একটি মঠ আছে, এবং পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী। মায়ের মুখে প্রত্যেকবার ই শুনতাম পাতুয়াইর গ্রামের নামকরণের ইতিহাস। কবি চন্দ্রাবতী একদিন নৌকায় বসে খাচ্ছিলেন। তখন একটি আইর মাছ লাফ দিয়ে কবির পাতে (খাবারে) পরে। তখন থেকে নাকি গ্রামের নাম পাতুয়াইর প্রচলিত হয়।

    • ফরিদ আহমেদ অক্টোবর 11, 2012 at 4:09 অপরাহ্ন - Reply

      @সজীব,

      ছোট থাকতে নানাবাড়ি যেতাম পাতুয়াইর গ্রাম দিয়ে।পাতুয়াইর গ্রাম বলতে মনে পরে ওখানে একটি মঠ আছে, এবং পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী। মায়ের মুখে প্রত্যেকবার ই শুনতাম পাতুয়াইর গ্রামের নামকরণের ইতিহাস। কবি চন্দ্রাবতী একদিন নৌকায় বসে খাচ্ছিলেন। তখন একটি আইর মাছ লাফ দিয়ে কবির পাতে (খাবারে) পরে। তখন থেকে নাকি গ্রামের নাম পাতুয়াইর প্রচলিত হয়।

      খুব সম্ভবত গালগল্প এটি। পরে তৈরি হয়েছে চন্দ্রাবতীকে ঘিরে। এই গ্রামের নাম আগেই প্রচলিত ছিল বলেই আমার ধারণা। কেন এই ধারণা, সেটা পরে বলছি।

      বাংলা উইকি গ্রামের নাম লিখেছে পাটোয়ারী। অন্যদিকে সুকুমার রায় তাঁর বাংলা সাহিত্যের কথা এবং দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর মৈমনসিংহ গীতিকায় পাতুয়ারী হিসাবেই এই গ্রামকে উল্লেখ করেছেন।

      চন্দ্রাবতীর বাবা দ্বিজ বংশীদাসের দুটো ভণিতাতে এই গ্রামের নাম পাওয়া যায়। এর একটাতে উল্লেখ করা হয়েছে পাটোয়ারী হিসাবে, অন্যটাতে পাতুয়াড়ি। কিন্তু, তিনি যেহেতু নিজে লিখে যান নাই, সে কারণে পরে যাঁরা শ্রুতি থেকে লিখেছেন তাঁদের ঘাড়েই এই বৈষম্যের দায় চাপানো যায়। আমি ভণিতা দুটোর কিছু অংশ এখানে তুলে দিলাম।

      যাদবানন্দের সুত দ্বিজ বংশীদাস।
      পাঁচালীপ্রবন্ধে কথা করিলা প্রকাশ।।
      পরগণা দর্জ্জীবাজু পাটোয়ারী গ্রাম।
      ফুলেশ্বরী নদীতটে বিরচিত ধাম।।

      ……………………………

      বংশী দ্বিজ পূর্ব্ব গোসাঞি গুরু চক্রপাণি।
      ভবিষ্যৎ বর্ত্তমান ত্রিকালজ্ঞ জ্ঞানী।।
      রাঢ় হইতে আসিলেক লোহিতের পাশ।
      পাতুয়াড়ি দজ্জিবাজু গ্রামের নিবাস।।

      দ্বিজ বংশীদাস একবারও কোথাও উল্লেখ করেন নি যে, এটা এই গ্রামের নতুন নাম। তাঁর মেয়ের নামে হয়েছে। বরং এমনভাবে উপস্থাপনা করা হচ্ছে যাতে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, এই গ্রামের নাম সেই সময়ে সুপ্রতিষ্ঠিতই ছিল।

      আপনি লিখেছেন জন্ম পাতুয়ারী গ্রামে। আমি অবশ্য শুনেছি গ্রামের নাম পাতুয়াইর।(সঠিক বানান আমার অজানা)

      এটা মনে হয় উচ্চারণগত ত্রুটি। বাংলাদেশে বহু গ্রাম বা শহরের নামই সেখানকার অধিবাসীরা সরকারী নামের মত করে উচ্চারণ করেন না। আমার পিতৃপুরুষের নিবাস ছিল মাগুরায়। আমি মাগুরাবাসীদের কদাচিৎই মাগুরা বলতে শুনেছি। মাগুরে বলেই চালিয়ে দেয় তাঁরা। ঝিনাইদহের লোকজন তাঁদের জেলাকে ডাকে ঝিনেদা বলে। ছোটো ফুফুর বিয়ে হয়েছিল পার্শ্ববর্তী জেলা নড়াইলের লাহুড়িয়া গ্রামে। ওই গ্রামকে গ্রামবাসীরা এবং অন্যরাও লাউড়ে নামেই ডাকে।

  13. কাজি মামুন অক্টোবর 10, 2012 at 10:21 অপরাহ্ন - Reply

    আপনার লেখা দেখে কি যে আনন্দ হচ্ছে, ফরিদ ভাই! অনেক দিন বাদে কোন নিকটজনের দেখা পেলে যেমন অনুভূতি হয়, অনেকটা সে রকম। আপনার লেখার নায়িকা চন্দ্রাবতী, কিন্তু নায়ক কে? অনেকেই বলবেন জয়ানন্দের কথা। কিন্তু সে তো চন্দ্রাবতীর নায়ক। বক্ষ্যমাণ লেখাটির নায়ক বরং চন্দ্রকুমার দে, চন্দ্রাবতীর কয়েক শতাব্দী পরে জন্ম নিয়েছেন, অথচ ময়মনসিংহ গীতিকার অমূল্য রত্ন তুলে আনা নায়ককে আমরা জানিই না!
    চন্দ্রাবতীর রামায়ণ নিয়ে দীনেশচন্দ্র সেন ও সুকুমার সেনের বিতর্কটা উপভোগ করছিলাম, কিন্তু শেষে কার মতবাদ প্রতিষ্ঠা পেল বা সুকুমার সেনের সন্দেহ নিয়ে কেউ নতুন কিছু লিখেছেন কিনা, তা জানা হল না।

    তাতে দীনেশচন্দ্রকে তাঁকে প্রিয় থেকে প্রিয়তর বলে মনে হতে লাগলো।

    দীনেশচন্দ্রের হবে মনে হয়।

    পিতা সম্মতি জানালেন।

    পিতা সম্মতি জানালেন নাকি নিষেধ করলেন?
    চন্দ্রাবতীর করুন গল্পের পাশাপাশি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সঙ্গেও পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে পাঠকরা। এই পাঠকদের জন্য আপনি নিয়মিত লিখবেন না, তা কি হয়?

    • ফরিদ আহমেদ অক্টোবর 10, 2012 at 11:41 অপরাহ্ন - Reply

      @কাজি মামুন,

      মনোযোগী পাঠক আপনি। দুটোই আমার ভুল। ঠিক করে দিয়েছি।

      আপনার লেখার নায়িকা চন্দ্রাবতী, কিন্তু নায়ক কে? অনেকেই বলবেন জয়ানন্দের কথা। কিন্তু সে তো চন্দ্রাবতীর নায়ক। বক্ষ্যমাণ লেখাটির নায়ক বরং চন্দ্রকুমার দে, চন্দ্রাবতীর কয়েক শতাব্দী পরে জন্ম নিয়েছেন, অথচ ময়মনসিংহ গীতিকার অমূল্য রত্ন তুলে আনা নায়ককে আমরা জানিই না

      এই লেখার নায়ক চন্দ্রকুমার হতে কোনো বাধা নেই। ময়মনসিংহ গীতিকা সংগ্রহের কঠিন এবং কষ্টসাধ্য কাজটা তিনিই করেছেন। বন-জঙ্গল, আদাড়-বাদাড় ঘেঁটে তিনি গভীর ভালবাসায় তুলে এনেছেন মণি মাণিক্য। তারপর তা তুলে দিয়েছেন দীনেশচন্দ্রের হাতে। দীনেশচন্দ্র তাঁর মৈমনসিংহ-গীতিকার ভূমিকায় চন্দ্রকুমারের এই কষ্টসাধ্য প্রয়াস সম্পর্কে এই কথাগুলো লিখেছেনঃ

      কি কষ্টে যে এই সকল পল্লীগাথা তিনি সংগ্রহ করিয়াছেন, তাহা তিনি ও তাঁহার ভগবানই জানেন এবং কতক আমি জানিয়াছি। এই সকল গান অধিকাংশ চাষাদের রচনা। এইগুলির অনেক পালা কখনই লিপিবদ্ধ হয় নাই। পূর্ব্বে যেমন প্রতি বঙ্গপল্লীতে কুন্দ ও গন্ধরাজ ফুটিত, বিল ও পুষ্করিণীতে পরম ও কুমুদের কুঁড়ি বায়ুর সঙ্গে তাল রাখিয়া দুলিত — এই সকল গানও তেমনই লোকের ঘরে ঘরে নিরবধি শোনা যাইত, ও তাহাদের তানে সরল কৃষকপ্রাণ ত্নময় হইয়া যাইত। ফুলের বাগানে ভ্রমরের মত এই গানগুলিরও শ্রোতার অভাব হইত না। কিন্তু লোকের রুচি এইদিকে এখন আর নাই। এইগুলি গাহিবারও লোকের অভাব হইয়াছে, যেহেতু এই শ্রেণীর গানের উপর শ্রোতার সেই কৌতুকপূর্ণ অনুরাগ ফুরাইয়া আসিয়াছে। যাহা লিখিত হয় নাই, আবৃত্তিই যাহা রক্ষার একমাত্র উপায়, অভ্যাস না থাকিলে সেই কাব্য-কথার স্মৃতি মলিন হইয়া পড়িবেই। এখন একটি পালাগান সংগ্রহ করিতে হইলে বহু লোকের দরবার করিতে হয়। কাহারও একটি গান মনে আছে কাহারও বা দুইটি, — নানা গ্রামে পর্য্যটন করিয়া নানা লোকের শরণাপন্ন হইয়া একটি সম্পূর্ণ পালা উদ্ধার করিতে পারা যায়। এইজন্য চন্দ্রকুমার প্রতিটি পালা সংগ্রহ করিতে গিয়া অনেক কষ্ট সহিয়াছেন।

  14. আদিল মাহমুদ অক্টোবর 10, 2012 at 8:05 অপরাহ্ন - Reply

    গরীবের বাড়িতে দেখি আজ হাতির পা পড়েছে!!!

    • ফরিদ আহমেদ অক্টোবর 10, 2012 at 10:16 অপরাহ্ন - Reply

      @আদিল মাহমুদ,

      কীসের মধ্যে কী? :-s

      • আদিল মাহমুদ অক্টোবর 10, 2012 at 10:56 অপরাহ্ন - Reply

        @ফরিদ আহমেদ,

        আপনি সেই ফরিদ আহমেদ না যাকে অসাদচরনের কারনে মুক্তমনা থেকে বহিষ্কার করা হয়???

        • ফরিদ আহমেদ অক্টোবর 10, 2012 at 11:21 অপরাহ্ন - Reply

          @আদিল মাহমুদ,

          আপনি সেই ফরিদ আহমেদ না যাকে অসাদচরনের কারনে মুক্তমনা থেকে বহিষ্কার করা হয়???

          ভাই, গোপন কথা ফাঁস করেন ক্যান? আপনার দিলে কি একটুও রহম নাই। 🙁

          খালি অসদাচরণ না, জামাতি সংশ্লিষ্টতাও ছিল। কাউরে আবার যেন কিছু কইয়েন না ভাই। খালি আপনেরে বিশ্বাস কইরা কইলাম। নবী মানুষ বইলা। 😛

  15. শব্দহীন জোছনা অক্টোবর 10, 2012 at 7:19 অপরাহ্ন - Reply

    পরথমে লিখিল পত্র চন্দ্রার গোচরে |
    পুষ্পপাতে লেখে পত্র আড়াই অক্ষরে ||
    পত্র লেখে জয়ানন্দ মনের যত কথা |
    “নিতি নিতি তোলা ফুলে তোমার মালা গাঁথা ||

    প্রেম-লিপি
    ………….চন্দ্রাবতী(বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি)

    খুব ভালো লাগল লিখাটা ।

  16. চলনামৃত অক্টোবর 10, 2012 at 4:54 অপরাহ্ন - Reply

    ভট্টাচার্য দুহিতা চন্দ্রাবতী ধোপানী হলেন কিভাবে, চন্ডীদাসের প্রসংগই বা কিভাবে এলো তাঁর জীবনে। নাকি চন্ডীদাসের মত চন্দ্রাবতীও একাধীক জন ছিলেন?

    • আদিল মাহমুদ অক্টোবর 10, 2012 at 8:04 অপরাহ্ন - Reply

      @চলন ভাই,

      মুক্তমনায় স্বাগতম। আশা করি এখানে নিয়মিত বিচরন করবেন।

      • চলনামৃত অক্টোবর 10, 2012 at 8:31 অপরাহ্ন - Reply

        @আদিল মাহমুদ, ওহ ভাই! আপনি তাহলে স্বর্গারোহন করেন নি, ধরাধমেই আছেন!! নাকি স্বর্গলোক থেকেই কৃপাবর্ষন করছেন? যাই হোক, খুব ভাল লাগলো এখানে আপনাকে পেয়ে।

        • আদিল মাহমুদ অক্টোবর 10, 2012 at 10:59 অপরাহ্ন - Reply

          @চলনামৃত,

          না রে ভাই, স্বররগারোহন এখনো ঘটেনি, ধমাধমেই আছি। আমি এত জলদি চলে গেলে যাবতীয় বাতিল ধর্ম আঁকড়ে থাকা আকন্ঠ পাপে ডুবে থাকা মানব জাতিকে উদ্ধার করবে কে?? তবে এক রাতে ধমেশ্বরের আহবানে টেম্পোরারি সাইট ভিজিট করে এসেছি নারী পশুর মুখ বিশিষ্ট স্পেসশিপে চেপে।

          আপনার নিয়মিত পদচারনায় মুক্তমনা নিঃসন্দেহে আরো সমৃদ্ধ হবে।

    • ফরিদ আহমেদ অক্টোবর 10, 2012 at 10:14 অপরাহ্ন - Reply

      @চলনামৃত,

      ভট্টাচার্য দুহিতা চন্দ্রাবতী ধোপানী হলেন কিভাবে, চন্ডীদাসের প্রসংগই বা কিভাবে এলো তাঁর জীবনে। নাকি চন্ডীদাসের মত চন্দ্রাবতীও একাধীক জন ছিলেন?

      খুব সম্ভবত আপনি লেখাটা মনোযোগ দিয়ে পড়েন নি। চন্দ্রাবতী ধোপানি ছিলেন না। তাঁর বাবা রাঢ়ী ব্রাক্ষ্মণ। ধোপানি ছিলেন কবি রামী। তিনি চণ্ডীদাসের প্রেমিকা ছিলেন। রামীর প্রসঙ্গে চণ্ডীদাস এসেছেন, চন্দ্রাবতীর প্রসঙ্গে নয়।

      • চলনামৃত অক্টোবর 10, 2012 at 10:33 অপরাহ্ন - Reply

        @ফরিদ আহমেদ, দুঃখিত, মনোযোগ দিয়ে পড়ি নি। “তাঁর বাবা রাঢ়ী ব্রাহ্মন” বলতে কি চন্দ্রাবতীর বাবাকে বুঝিয়েছেন? তিনি কিশোরগঞ্জে জন্মেও রাঢ়ী হলেন কি ভাবে, তাঁরা কি পূর্ব বাংলায় চলে এসেছিলেন? তবে ভট্টাচার্যরা অবশ্য রাঢ়ী ব্রাহ্মন হিসেবেই বিবেচিত।

        • ফরিদ আহমেদ অক্টোবর 10, 2012 at 11:15 অপরাহ্ন - Reply

          @চলনামৃত,

          দুঃখিত, মনোযোগ দিয়ে পড়ি নি। “তাঁর বাবা রাঢ়ী ব্রাহ্মন” বলতে কি চন্দ্রাবতীর বাবাকে বুঝিয়েছেন? তিনি কিশোরগঞ্জে জন্মেও রাঢ়ী হলেন কি ভাবে, তাঁরা কি পূর্ব বাংলায় চলে এসেছিলেন? তবে ভট্টাচার্যরা অবশ্য রাঢ়ী ব্রাহ্মন হিসেবেই বিবেচিত।

          আরে, দুঃখিত হবার কিছু নেই। পড়েছেন যে তাতেই কৃতজ্ঞ আমি। না পড়লে কী করতাম বলেন? 🙂

          হাঁ, চন্দ্রাবতীর বাবা দ্বিজ বংশীবদন ছিলেন রাঢ়ীয় ব্রাক্ষ্মণ। তাঁদের কোনো এক পূর্বপুরুষ রাঢ় থেকে এসে ব্রক্ষ্মপুত্রের ধারে আবাস গড়েছিলেন। বংশীবদন তাঁর মনসামঙ্গলে বলেছেনঃ

          বন্দ্যঘটি গাঁই গোত্রে রাঢ়ীর প্রধান।।
          রাঢ় হইতে আইলেন লৌহিত্যের পাশ।
          যাদবানন্দের সুত দ্বিজ বংশীদাস।
          পাঁচালীপ্রবন্ধে কথা করিলা প্রকাশ।।
          পরগণা দর্জ্জীবাজু পাটোয়ারী গ্রাম।
          ফুলেশ্বরী নদীতটে বিরচিত ধাম।।

          (বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস: সুকুমার সেন)

          আর হ্যাঁ, মনসামঙ্গল কাব্যের উৎপত্তিস্থল কিন্তু রাঢ়, পূর্ব বাংলা নয়।

          • চলনামৃত অক্টোবর 11, 2012 at 1:38 পূর্বাহ্ন - Reply

            @ফরিদ আহমেদ, দারুন! ধন্যবাদ!!

            পড়েছেন যে তাতেই কৃতজ্ঞ আমি। না পড়লে কী করতাম বলেন?

            কি যে বলেন! আর্কাইভ থেকে আপনার অনেক লেখাই পড়েছি, তবে সময়মত পড়ি নি বলে কোন মন্তব্য করা হয়ে ওঠে নি।

  17. স্বপন মাঝি অক্টোবর 10, 2012 at 10:46 পূর্বাহ্ন - Reply

    অনেককিছু জানা গেলো; আক্ষেপ রয়ে গেলো, লেখক ক্রিয়া-ভিত্তিক শব্দার্থের পথ ধরে হেঁটে গেলে, বাংলার অতীত খুঁড়ে আরো অনেককিছু আমাদের জানান দিতে পারতেন।
    পৌরানিক বা মধ্যযুগের লেখাগুলোর অনুবাদ খুব খুব দরকার। এ কাজ সবার দ্বারা হবে না। যাদের দ্বারা হতে পারতো আপনি তাদের একজন।
    ধন্যবাদ।
    এবার পাঠকদের উদ্দেশ্যে একটা ঘটনা বলি, নিজের জীবন থেকে।
    অনেকদিন পর নানা-র বাড়িতে। শীতকাল। রাতে শুয়েছি মা-র চাচাতো ভাইয়ের সাথে, যে কি-না আমার প্রায় সমবয়সী। রাত দশটা মানে গ্রামের বাড়িতে মধ্যরাত, তো মধ্যরাতে মামা ঢোলকের বাড়ি শুনে আমাকে জাগিয়ে বললো, চলো। আমি চলতে শুরু করার আগেই আমার হাতে ধরিয়ে দিল একটা লাঠি আর তার হাতে দেখলাম রান-দা।
    আমি বললাম, গান শুনতে যাবে; এসব কি?
    ‘আমার শত্রু আছে, পথে হামলা করতে পারে, হেরলাইগ্যাই সব রেডি রাখছি।’
    তবুও গান শুনতে যাবে। এই হলো আমার অভিজ্ঞতা।
    বাবা টাকা দিয়েছে চিল্লায় যাবার জন্য। ছেলে বন্ধুর বাড়িতে আশ্র্য় নিয়ে সব টাকা খরচ করে ফেলেছ ‘থেটারের’ জন্য।
    গানের পালা বসেছে, বেহুলা লখিন্দর। গায়ক এবং শ্রোতা কিন্তু মুসলমান।
    সে বাংলা কি আর এখন আছে? কেন নেই, সে প্রশ্ন না করে সবাইকে মক্কার মুসলমান বানিয়ে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে আমরা পাশ্চত্যের ডুগডুগি বাজাচ্ছি, আর বানরের নাচ নেচে যাচ্ছি।
    সাধু! সাধু!!

    • ফরিদ আহমেদ অক্টোবর 10, 2012 at 10:08 অপরাহ্ন - Reply

      @স্বপন মাঝি,

      আক্ষেপ রয়ে গেলো, লেখক ক্রিয়া-ভিত্তিক শব্দার্থের পথ ধরে হেঁটে গেলে, বাংলার অতীত খুঁড়ে আরো অনেককিছু আমাদের জানান দিতে পারতেন।

      আক্ষেপ এর কী আছে? ক্রিয়া-ভিত্তিক শব্দার্থের পথ আমার অজানিত, আঁধারে ঢাকা। অচেনা ওই অস্পষ্ট পথে আমি পদচারণা করবো না, এটাই স্বাভাবিক। আপনারা যাঁরা ওই পথের সন্ধান জানেন, তাঁদেরকেই সাহসে বুক বেঁধে এগিয়ে আসতে হবে জনপদে। হাত ধরে নিয়ে যেতে হবে হারানো অতীতে।

  18. সফিক অক্টোবর 10, 2012 at 8:35 পূর্বাহ্ন - Reply

    ফরিদ ভাইকে অনেকদিন পরে দেখা! আশাকরি স্বাস্থ্য-মন ভালো।

    এই লাইন গুলিকে কিন্তু ক্লাসিক মধুসূদন মনে হচ্ছে– আর ভাষাও বেশ আধুনিক। ষোড়শ শতকের বাংলায় এধরনের ভাষা থাকা অস্বাভাবিক।

    আমি কি গো জানি সখি কালসর্প বেশে।

    এমনি করিয়া সীতায় ছলিবে রাক্ষসে।।
    —————-

    এখনো স্মরিলে কথা হারাই চেতন।

    • ফরিদ আহমেদ অক্টোবর 10, 2012 at 10:00 অপরাহ্ন - Reply

      @সফিক,

      স্বাস্থ্য-মন সবই ভালো আছে। ধন্যবাদ আপনাকে।

      চন্দ্রাবতীর রামায়ণের এই অংশ আসলেই আধুনিক। এর কিছু অংশ অন্যের হাতে পরিবর্তিত বা সংযোজিত হয়েছে বলেই সুকুমার সেনের ধারণা। আবার দীনেশচন্দ্র সেন মহা উচ্ছ্বসিত এই রামায়ণ নিয়ে। দুজনেই বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যের বিশাল পণ্ডিত। কার কথা বিশ্বাস করবো, বুঝতে কষ্ট হয়। সে কারণেই আমি দুটো মতামতকেই তুলে ধরেছি। দেখি যদি সময় পাই মাইকেলের মেঘনাদবধের চতুর্থ সর্গ তুলে দেব এখানে। তখন পাঠকরাই তুলনা করতে পারবেন।

  19. কাজী রহমান অক্টোবর 10, 2012 at 8:19 পূর্বাহ্ন - Reply

    দীর্ঘ বিরতির পর ফরিদ আহমেদ কে দেখা গেল তাহলে। বিরল এই লেখাটা সময় নিয়ে বেশ তারিয়ে তারিয়ে পড়তে হবে। তারপর মন্তব্য; ইত্যবসরে (C)

    • ফরিদ আহমেদ অক্টোবর 10, 2012 at 9:54 অপরাহ্ন - Reply

      @কাজী রহমান,

      আপনি তারিয়ে তারিয়ে লেখা পড়ুন। এই ফাঁকে আমিও তারিয়ে তারিয়ে আপনার দেয়া চা উপভোগ করি। (F)

  20. অভিজিৎ অক্টোবর 10, 2012 at 8:18 পূর্বাহ্ন - Reply

    নতুন লেখক মনে হচ্ছে। মুক্তমনায় স্বাগতম। :))

    • ইরতিশাদ অক্টোবর 10, 2012 at 9:13 অপরাহ্ন - Reply

      @অভিজিৎ, নতুন নয়, নবায়িত!
      ফরিদ, লেখা ভালো হয়েছে। স্বরূপে পূনার্বিভাবে খুশি হয়েছি।

    • ফরিদ আহমেদ অক্টোবর 10, 2012 at 9:52 অপরাহ্ন - Reply

      @অভিজিৎ,

      হ্যাঁ, নতুন আমি। স্বাগত জানানোর জন্য ধন্যবাদ। জ্ঞানী-গুণীদের ভীড়ে নিজেকে বড় দীনহীন মনে হচ্ছে।

      • অভিজিৎ অক্টোবর 11, 2012 at 3:53 পূর্বাহ্ন - Reply

        @ফরিদ আহমেদ,

        হ্যাঁ, নতুন আমি। স্বাগত জানানোর জন্য ধন্যবাদ। জ্ঞানী-গুণীদের ভীড়ে নিজেকে বড় দীনহীন মনে হচ্ছে।

        ঢং এ বাঁচে না দেহি!

        তয় লেখাটা জোশ হইছে, জানায় গেলাম।

      • রামগড়ুড়ের ছানা অক্টোবর 11, 2012 at 9:24 অপরাহ্ন - Reply

        @ফরিদ আহমেদ,
        মুক্তমনা নীতিমালা,নিয়মকানুন পড়ে নিয়েন কিন্তু!!

        • ফরিদ আহমেদ অক্টোবর 12, 2012 at 10:39 পূর্বাহ্ন - Reply

          @শাফায়েত,

          মুক্তমনা নীতিমালা,নিয়মকানুন পড়ে নিয়েন কিন্তু!!

          তথাস্তু!!!!

মন্তব্য করুন