যে কাউকে চোর বললে তার রেগে যাওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু একজন কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স অফিসার এর ব্যতিক্রম। তিনি বরং তাকে চোর বলায় তার ক্যারিয়ার সার্থক হয়েছে বলে ধন্যবাদ জানাবেন। কিভাবে ? সঙ্গে থাকুন একটু পরই জানতে পারবেন।

“It is of course well known that the only source of war is politics — the intercourse of governments and peoples. . . . We maintain . . . that war is simply a continuation of political intercourse, with the addition of other means. If war is part of policy, policy will determine its character. As policy becomes more ambitious and vigorous, so will war, and this may reach the point where war attains its absolute form. . . . Policy is the guiding intelligence and war only the instrument, not vice versa.”
Karl Von Clausewitz

আসলে মেজর রানাকে নিয়ে বেশ কিছুদিন আগে একটা লেখা মাসুদ রানার মামদোবাজী এবং বাস্তবের গোয়েন্দাবৃত্তি প্রকাশ করার পর অনেক পাঠকই বাস্তবের কাউন্টার ইন্টেলি‌জেন্স সম্পর্কে জানতে চেয়ে আমার কাছে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। কল্পকাহিনীকে আমরা যতই বাস্তবতা থেকে দুরে ঠেলতে চাই না কেন , আমাদের মনের কোন একটা জায়গা সব সময় কল্পনা এবং বাস্তবতাকে এক দিগন্তে একাত্ম দেখতে চায় । পার্থক্যের চাইতে মিলটাই সেখানে বড় হয়ে দেখা দেয়। মাসুদ রানার একজন আজীবন ভক্ত হিসেবে আমিও দেখতে চাইব কাজীদার রানার সাথে বাস্তবের রানাদের কোথায় মিল আছে আর কোথায় নেই। আসুন সেই যাত্রা এবার শুরু করি ।

All action takes place, so to speak, in a kind of twilight, which like a fog or moonlight, often tends to make things seem grotesque and larger than they really are.
Karl Von Clausewitz

কৌশলগত প্রয়োজনে আমেরিকার মত বৃহৎশক্তি থেকে শুরু করে ছোট বড় প্রতিটি রাষ্ট্রে তো বটেই , আল কায়দা , হামাস এমনকি পার্বত্য চট্রগ্রামের মত জায়গার সশস্ত্র সংগঠনগুলোকেও নিজ সামর্থ অনুযায়ী তাদের প্রতিরক্ষা যন্ত্রে একটি কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স শাখা রাখতে হয়। এই শাখাটির স্হান কেবলমাত্র মাসুদ রানা অথবা জেমস বন্ড কাহিনীর পাতায় নয়, এটি মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন বাস্তবতাগুলোর একটি। কাদের জন্য এই লেখা ? অবশ্যই মুক্তমনা পাঠকদের জন্য। এক সময় মুক্তমনার পাঠক সমাজ বলতে ‘অসামাজিক’ ‘বিকল্পবাদী’ ‘পাড় নাস্তিকদের’ অনেকে ভ্রান্তিক্রমে বুঝে থাকলেও তাদের তেমন একটা দোষ দেয়া যায় না। সূখের কথা এই যে, সময়ের বিবর্তনে এখন সব শ্রেনীর পাঠকেরাই মুক্তমনা নিয়মিত পড়ে থাকেন। এই পাঠককূলের অনেকেই শুধুমাত্র কৌতুহল বশে জানতে চান গোয়েন্দাগিরি কি জিনিষ , কেউ বা গোয়েন্দা পেশায় আছেন অথবা ভবিষ্যতে যোগ দিতে ইচ্ছুক , কেউ বা গোয়েন্দা কাহিনীর লেখক যাদের মধ্যে আবার অনেকে মনের রং মেশানো কল্পকাহিনীকে ‘বস্তুনিষ্ঠ খবর’ হিসেবে চালিয়ে দিয়ে পত্রিকায় কলাম লিখছেন। সেসব কলাম পড়ে স্বভাবতই পাঠকের বিভ্রান্ত হওয়াই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের মত দেশে দুদীর্ঘকাল যাবৎ কাগুজে পত্রিকা ছাড়া সংবেদনশীল বিষয়ে বা রাষ্ট্রীয় টাবু সম্পর্কে জানার অন্য বিকল্প সাধারণ পাঠকের হাতে ছিল না। এই কাগুজে পত্রিকাগুলো আবার এসব বিষয়ে লেখালেখির ব্যপারে নানাবিধ কারনে খুবই সংবেদনশীল। এই সব নানাবিধ কারনের অন্যতম হলো , অলিখিত সেন্সরশীপ। বাংলাদেশের পত্রিকাসমূহের মালিকপক্ষ এক ধরনের অলিখিত বিধিমালা মেনে চলেন যেখানে সরকারের যেকোন প্রতিষ্ঠান নিয়ে লেখালেখি করা যায় , এমনকি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে ( তিনি যে দলেরই হোন) পর্যন্ত তুলাধূনা করা যায়। কিন্ত একটি প্রতিষ্টানকে রাখা হয়েছে ‘অফ লিমিট’ – যাকে নিয়ে ভালমন্দ কিছুই লেখা যাবে না যদি না সেই প্রতিষ্টানের প্রচারযন্ত্র সে ব্যপারে আগ্রহ দেখায়। এর অন্যথা হলে কি হয় সেটা ভুক্তভূগী মাত্রই অবগত আছেন বিধায় সে প্রসঙ্গে আর গেলাম না। এই সংস্কৃতি পাকিস্তান আমল থেকে বিবর্তিত হয়ে বাংলা আমলে প্রবেশ করে এখন পর্যন্ত বহাল তবীয়তেই আছে। আমি মনে করি যে , পত্রিকার সম্পাদকদের যেমন সব বিষয়ে লেখা ছাপার অধিকার আছে, অন্যদেরও একই অধিকার আছে একইভাবে ভুল তথ্যের সমালোচনা করার । এইভাবে সংশোধনের মাধ্যমে একটি সুস্হ তথ্য সম্প্রচার সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব। একটি লেখা পড়ে সাধারণ পাঠকদের বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ সবচেয়ে বেশী থাকে যখন লেখক একজন সবজান্তা শমশের হন, যিনি কিনা সাপ , ব্যাঙ থেকে শুরু করে শকুন পর্যন্ত সর্ববিষয়ে অল্পবিদ্যা নিয়ে বিষদ জ্ঞান বিতরণ করে বেড়ান। এধরনের চর্চা বর্তমানে বাংলা ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সাথে সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমার এই লেখা তাই সব রকমের পাঠকের উদ্দেশ্যে নিবেদিত।

এই লেখার উদ্দেশ্য এবং বিষয়বস্তু রাজনীতি , মানবাধিকার , ধর্ম কিংবা কোন একটি উন্নয়নশীল দেশের সুবিচার-অবিচার নিয়ে নয় , যদিও এসব বিষয় গোয়েন্দাবৃত্তিকে পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করে থাকে যেমনটা করে থাকে শেয়ার বাজার , জ্বালানী তেল এবং সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে। আমার লেখায় প্রসঙ্গক্রমে এসকল বিষয়ও এসে যাবে একান্তই গোয়েন্দাকার্যক্রমের পরিবেশগত উপাদান হিসেবে। এরকম একটি লেখা রচনা করা সহজসাধ্য কাজ নয় যেহেতু যারা এই পেশার সাথে সরাসরি জড়িত তাদের ‘অফিসিয়াল সিক্রেসী এ্যাক্টের’ কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হয়। এজন্য আমাকে এখানে ‘যথাসম্ভব’ ডি-ক্লাসিফায়িড এবং পাবলিক ডোমেইনের জন্য উন্মুক্ত তথ্য সূত্রের আশ্রয় নিতে হয়েছে লেখার স্বচ্ছতার কথা মাথায় রেখে।

Earlier theorists aimed to equip the conduct of war with principles, rules, or even systems, and thus considered only factors that could be mathematically calculated (e.g., numerical superiority; supply; the base; interior lines). All these attempts are objectionable, however, because they aim at fixed values. In war everything is uncertain and variable, intertwined with psychological forces and effects, and the product of a continuous interaction of opposites.
Karl Von Clausewitz

একটা রাষ্ট্রের সেনাসদর থেকে যখন কোন তথ্য চুরি করা হয় , তখন সেটাকে বলা হয় এসপিয়নাজ বা গোয়েন্দাবৃত্তি। কিন্তু একটা গোয়েন্দা সদর দফতর থেকে তথ্য চুরি করা হলে তাকে বলা হয় কাউন্টার এসপিয়নাজ এবং এটা কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের অন্যতম মৌলিক উদ্দেশ্য। প্রথমেই যা বলছিলাম যে , কাউকে চোর বললে তার রেগে যাওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু একজন কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স অফিসার এর ব্যতিক্রম। তাকে যদি বলা হয় যে তিনি তথ্য সংগ্রহ করেন তাহলে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই তিনি বরং অপমানিত বোধ করবেন কেননা তিনি তথ্য সংগ্রহ নয় , চুরি করেন এবং অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিয়ে। শুধু তাই নয়, এই চুরি করার কাজটা তাকে করতে হয় নীরবে , সংগোপনে এবং পরিকল্পিতভাবে একদল সূশৃঙ্লল, প্রশিক্ষিত এবং পরিক্ষিত কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত প্রতিষ্ঠান কাজে লাগিয়ে যার রক্ষাকর্তা আর কেউ নয় – রাষ্ট্র ! কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সকে প্রায়ই অনেকে নিরাপত্তার ( সিকিউরিটি) সাথে গুলিয়ে ফেলেন। প্রকৃতপক্ষে এই দুইয়ের মধ্যে কিছু সম্পর্ক থাকলেও এরা এক জিনিষ নয় । একটু খোলাসা করা যাক। কাউন্টার ইন্টেলেলিজেন্সসহ সব রকম গোয়েন্দাকার্যক্রমের একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান নিরাপত্তা বা সিকিউরিটি। আমরা মূলতঃ তিন রকমের সিকিউরিটি চিহ্নিত করতে পারি। ফিজিক্যাল ,পারসোনেল এবং অপারেশনাল সিকিউরিটি। এলাকা , ভবন , স্হাপনা ইত্যাদির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ফিজিক্যাল সিকিউরিটির আওতাধীন। কর্মরত কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের অতীত জীবন বৃত্তান্ত তদন্তসহ তাদের সার্বিক কর্মকান্ডের পর্যালোচনা করা জন্য রয়েছে পারসোনেল সিকিউরিটি। এবার বাকী থাকছে অপারেশনাল সিকিউরিটি বা অপসেক। যে কোন গোয়েন্দা কার্যক্রম থেকে শুরু করে জুয়াখেলা , ব্যবসা বানিজ্য ইত্যাদি তো আছেই, পরকীয়া প্রেমের মত বিষয়ে পর্যন্ত অপারেশনাল সিকিউরিটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কাকে জানতে দেয়া হবে এবং কাকে জানতে দেয়া হবে না ছাড়াও কখন মুখ বন্ধ রাখতে হবে – এরকম বিষয় অপারেশনাল সিকিউরিটির ( অপসেক) অন্তর্ভূক্ত। অপারেশনাল সিকিউরিটি অনেকটাই সংক্রামক ভাইরাসকে শরীরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়ার মত । এটা কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের ক্ষেত্রে আলাদা কোন কাজ নয় , একে এক ধরনের স্টাইল হয়তো বলা যায়। কিন্ত কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স কি ? মার্কিন মেরিন কোরের ফিল্ড ম্যানুয়াল ২-৬ এ বলা হয়েছে : CI—Information gathered and activities conducted to protect against espionage, other intelligence activities, sabotage, or assassinations conducted by or on behalf of foreign governments or elements thereof, foreign organizations, or foreign persons, or international terrorist activities. । বিদেশী রাষ্ট্রের বা সন্ত্রাসী সংগঠনের গোয়েন্দা যন্ত্রের কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে (active) অনিশ্চয়তা সৃষ্টি এবং বৃদ্ধি করাই কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের প্রধান কাজ যাকে সমরবিদ কার্ল ফন ক্লাউৎসভিৎস তার ফম ক্রীগ বইয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের ফগ এন্ড ফ্রিকশন ( কুয়াশা এবং ঘর্ষণ) বলে অভিহিত করেছেন।

কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স অফিসার

The person who has nothing for which he is willing to fight, nothing which is more important than his own personal safety, is a miserable creature and has no chance of being free unless made and kept so by the exertions of better men than himself.
John Stuart Mill

এখন একটা বিদেশী রাষ্ট্রের কিংবা বিপ্লবী সশস্ত্র সংগঠনের ভয়ংকরসব গোয়েন্দাদের চোখে সর্ষে ফুল দেখানোতো ছেলের হাতের মোয়া নয় ! এটা বলা যত সহজ করা ততই কঠিন। এজন্য কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সংস্হাগুলো বিশেষ প্রক্রিয়ায় কাজ করে থাকে । পরিকল্পনা থেকে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পেছনে থাকে একটি সুসংগঠিত, সুপ্রশিক্ষিত এবং সুশৃঙখল কর্মীবাহিনী যাদের নেতৃত্বে থাকেন কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স অফিসারেরা। একজন কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স অফিসারের সাথে অন্যান্য গোয়েন্দা অফিসারের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য আছে। গোয়েন্দা অফিসারদের মূলত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। একজন ইন্টেলিজেন্স এনালিস্টকে একটা কাগজে যদি আপনি কিছু তথ্য লিখে সরবরাহ করেন , তিনি প্রথমেই সেই তথ্যের সত্যতা যাচাই করবেন এবং তাপরর সেই তথ্যকে ইতিমধ্যে হাতে থাকা তথ্যের সাথে মিলিয়ে একটি পরিস্কার চিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করবেন যা তার উপরওয়ালদের কাছে পৌছে দেয়া যায়। এটাকে বলা হয় ‘ফিনিশড ইন্টেলিজেন্স’ বা তৈরী গোয়েন্দা তথ্য। সাধারণ তথ্যের সাথে গোয়েন্দা তথ্যের মধ্যে প্রধান পার্থক্য এই যে , গোয়েন্দা তথ্যে আপাত অর্থহীন তথ্য অর্থপূর্ন হয়ে ওঠে। কাগজ হাতে পাওয়ার পর টেকনাফে বিমান থেকে তোলা ছবিতে একদল রোহিঙ্গা শরনার্থীর হালকা অস্ত্রে সংগঠিত হয়ে যদি তাদের সীমান্তের দিকে না গিয়ে জনবসতির দিকে যেতে দেখা যায় যেখানে আবার বৌদ্ধ জনগোষ্টীর বসবাস , এর অর্থ কি হতে পারে এবং এটা থেকে কি পূর্বাভাস দেয়া যেতে – সেটাই একজন দক্ষ ইন্টেলিজেন্স এনালিস্টের কাজ। একই কাগজ যদি আবার একজন কেইস অফিসারের কাছে সরবরাহ করেন, তিনি আবার সেই কাগজ নিয়ে অন্য কিছু করবেন। একজন কেইস অফিসারের প্রধান কাজ এজেন্ট রিক্রুট করে তাদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ( চুরি আর কি !) করা। তিনি তখন সেই কাগজ নিয়ে প্রথমেই তথ্যের মূল সূত্র সন্ধান করবেন। এর পাশাপাশি তিনি এটাও জানার চেষ্টা করবেন যে, তাকে এই তথ্য সরবরাহ করায় আপনার কি স্বার্থ আছে । তিনি হয়তো এর পর সেই তথ্য কাজে লাগিয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাউকে এজেন্ট হিসেবে রিক্রুট করার চেষ্টা করবেন। অন্যদিকে একজন কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স অফিসারের কাজ অনেকটাই পূর্বল্লেখিত দুই ধরনের অফিসারের সংমিশ্রন। তবে তিনি এটাও বোঝার চেষ্টা করবেন যে প্রাপ্ত তথ্য ভুল পথে পরিচালিত করার মানসে তৈরী করা ভাওতাবাজী কি না। আপনি যদি তার হাতে ভূয়া তথ্য তুলে দেন এবং তিনি সেটা বুঝতে পারেন তাহলে ঐ অবস্থায় আপনাকে তিনি কিছু বলবেন না বটে , তবে আপনার সম্পর্কে বেশী করে জানতে আগ্রহী হবেন কেননা আপনি হলেন এমন একটা বিন্দু যেখান থেকে শত্রুর শরীরে সূঁচ হয়ে ঢোকা যায়। আপনাকে হয়তো তিনি এক্ষেত্রে ডাবল এজেন্ট বা দুমুখো সাপ হতে বাধ্য করবেন। দলিলবাজ বলে যদি কেউ থাকে তাহলে একজন কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স অফিসারের সমতূল্য দলিলবাজ কেউ আছে কিনা সন্দেহ। একজন কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স অফিসারের দিনের সিংহভাগ সময় অতিবহিত হয় দলিল দস্তাবেজ পাঠ এবং সংরক্ষনে যার কাছে একজন সাধারন কেরানী নস্যিতূল্য। সে আপনি হন আর অন্য কেউ – একজন কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স অফিসারের কাছে যাওয়ার পর এটা প্রায় নিশ্চিত যে , আর যাই হোক আপনার নামে একটা ফাইল খুলতে তিনি ভুলবেন না। জার্মান বি এন ডি কিংবা সি আই এ এর মত বড় গোয়েন্দাসংস্হাগুলোতে প্রায়ই একজন অফিসারকে অলরাউন্ডার হতে হয়। সকালে কেইস অফিসার , বিকেলে এনালিস্ট এবং বিছানায় যাওয়ার সময় কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স অফিসার । একজন আদর্শ ইন্টেলিজেন্স অফিসারকে যে কোন একটা ক্ষেত্রে স্পেশালিস্ট হওয়া সহ এই তিনটি ভুমিকাতেই কম বেশী দক্ষতা থাকতে হয়। চলবে।

তথ্যসূত্র :

১। Gannon, James – Stealing Secrets, Telling Lies: How Spies and Codebreakers Helped Shape the Twentieth Century. Washington, DC: Brassey’s, 2001
২। Herman, Michael – Intelligence Power in Peace and War. Cambridge, UK: Cambridge University Press, 1996
৩। Knightly, Phillip – The Second Oldest Profession: Spies and Spying in the Twentieth Century. New York: Penguin, 1988.
৪। O’Toole, G. T. A. The Encyclopedia of American Intelligence and Espionage. 1988
৫। ইন্টেলিজেন্স এবং কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের ওপর নেটো সশস্ত্র বাহিনীর বিবিধ এবং প্রাসঙ্গিক ফিল্ড ম্যানুয়ালস ও হ্যান্ডবুকস ।

[90 বার পঠিত]