উমা উপাখ্যান

By |2012-08-03T19:58:04+00:00আগস্ট 3, 2012|Categories: ব্লগাড্ডা|27 Comments


এক। উমা মেয়েটি কথাবার্তায় খুব চৌকশ, দেখতে সুন্দর ও হাসিখুশী। যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, সে সময় উমা একটি লিটল ম্যাগাজিন চালাতেন। সেই সুবাদে পরিচয়, বন্ধুত্ব। এখন লিটল ম্যাগটির নাম আর মনে নেই।

একদিন ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দূর্গা পুজার মেলায় উমাকে দেখা যায় এক যুবকের হাত ধরে ঘুরতে। সে যুবকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়, আমার বন্ধু, পেশায় লেখক।

উমার লেখক বন্ধু চাপ দাড়িতে সুদর্শন। মনে হয়, দুজনেরই যখন লেখালেখির প্রতি এতো ঝোঁক, তাহলে ওদের হয়তো ভালোই মানাবে।

আটের দশকে ছাত্রাবস্থায় শাহবাগের পিজি হাসপাতাল (এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল) ঘেঁষে ‘সিনোরিটা’ নামক ডুপ্লেক্স দোকানে
চায়ের নিয়মিত আড্ডা ছিলো। পেশাগত জীবনে সেই স্মৃতি রোমন্থনে এক পড়ন্ত বিকালে সিনোরিটায় ঢুকতেই উমা আর তার লেখক বন্ধুর সঙ্গে আবারো দেখা। দুজনকেই খুব বিষন্ন, ঝড়ো বিদ্ধস্ত মনে হয়।

কথা না বাড়িয়ে দ্রুত চা শেষ করে উঠে পড়া হয়। এখন ওদের বোধহয় একান্ত কিছু সময় চাই।

উমার লিটল ম্যাগ-এরই কেউ হয়তো বলে থাকবেন পুরনো ঢাকায় একটি কলেজে বাংলার শিক্ষক হিসেবে যোগ হিসেবে ওর যোগদানের খবর। পরিবারের অমতে সেই লেখক বন্ধুকে বিয়ে করে ভাড়া বাসায় উঠে যাওয়ার খবরও জানা হয়। এবং নিশ্চিতভাবেই ওর লিটল ম্যাগটি একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে, সে খবরও মিলে যায়।

দুই। এর কয়েক বছর পরে বসুন্ধরা সিটির শপিং মলের সামনে হঠাৎ আবার উমার সঙ্গে দেখা। ওকে কেমন যেন ম্লান আর বিষন্ন বলে মনে হয়। মনে পড়ে যায়, একটি বাসি গোলাপের উপমা। কোনো এক গল্পকথায় উপমাটি উমাই একসময় ব্যবহার করেছিলেন। কুশল জিজ্ঞাসায় ওর চোখের কোনে বুঝি জ্বলে ওঠে এক বিন্দু অশ্রু কণা।

কিছুটা অনুনয়ের পর অল্প সময়ের জন্য উমা বসুন্ধরা সিটির টপ ফ্লোরের কফি শপে বসতে রাজি হয়। ধূমায়িত কাপ শীতল থেকে শীতলতর হতে থাকে। উমা একদম নিশ্চুপ। তার মুখে বাক্য সরে না। …

এক সময় নিরবতা ভেঙে নিজেই অনর্গল বলতে শুরু করেন তার প্রেম, বিয়ে, সংসারের কথা। আরেক কাপ হট কফির অর্ডার দিলে উমা বলে চলেন, বাবা – মার অমতে বিয়ে করে নিজের সংসারে এসে বুঝলাম, আমার লেখক স্বামীর নির্দিষ্ট আয় নেই। পত্র – পত্রিকায় লেখালেখি করে দু’চার হাজার টাকার অনিয়মিত রোজগারই ওর ভরসা। অথচ বিয়ের আগে আমাকে বলেছিলো, সে নাকি একটি বিখ্যাত দৈনিকে চাকরী করে! চক্ষুলজ্জায় সে সময় আমি ওর বেতনও জানতে চাই নি। এখন সব জেনেও আমি সব কিছু মেনে নিয়েছি, কারণ আমার তো একটি চাকরী আছে। বেতনও খুব খারাপ নয়। … কিন্তু বিয়ের পর পরই শুরু হয় লেখক স্বামীর নির্যাতন। ও কোনো রকম নিরোধক ছাড়াই আমাকে আদর করতো। গর্ভবতী হলে আমার বাচ্চাকে নষ্ট করতে চাপ দিতে শুরু করে। খুব মানসিক চাপের মধ্যে প্রথম বাচ্চাটিকে নষ্ট করে ফেলতে বাধ্য হই। পরের বার আবারো একই রকম চাপ আসলে আমি রুখে দাঁড়াই। আর নয়, এবার আমি বাচ্চাটাকে বাঁচাবোই।…

তো এর পর আমার লেখক স্বামী শুরু করে আরেক অত্যাচার। কথায় কথায় যখন তখন আমাকে শুনিয়ে দেয়, তোমাকে বিয়ে করে কী পেলাম বলতো? পারিবারিকভাবে বিয়ে হলে আমি কতো টাকা যৌতুক পেতাম! আর কিছু না হোক, কিছু না কিছু সম্পত্তি তো পেতামই। …

অত্যাচারের মাত্রা আরো বাড়াতেই যেনো আমাকে গর্ভবতী অবস্থায় একা বাসায় ফেলে রেখে ও বাইরে রাত কাটাতে শুরু করলো। প্রায়ই মোবাইলে ফোন করলে দেখি ফোন বন্ধ। আবার হঠাৎ হঠাৎ নিজেই ফোন করে হয়তো বলবে, এই শোনো, আমি এখন ফরিদপুর। হঠাৎ একটা সাহিত্য সম্মেলনে চলে এসেছি। এরা আমায় এমন করে ধরেছে যে…। আমার ফিরতে একটু দেরী হতে পারে।…

তিন। বসুন্ধরা সিটি পশ কফি শপ, চারপাশের ঝাঁ চকচকে পরিবেশ, সব কিছু ভুলে গিয়ে উমা এসব কথা বলতে বলতে চাপা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এক সময় ওড়না চাপা দিয়ে নিজেই কান্না সামলে নেন।

খানিক বিরতির পর ‌’বাবা-মার কাছে ফিরলে হয় না?’ এমন প্রশ্নে উমা বলেন, এখন পুরনো ঢাকায় বাবা-মা’র বাড়িতেই উঠেছি। কারণ বাচ্চাটার জন্যই আমাকে বেঁচে থাকতে হবে; এ সময় আমারও বেশ খানিকটা বাড়তি যত্ন প্রয়োজন।

বাড়ির সবাই সবকিছু মেনে নিয়েছে কি না জানতে চাইলে উমার অকপট জবাব, দেখুন বিপ্লব, বাবা-মা আসলে কখনোই ছেলেমেয়েদের ফেলে দেন না। আমি মা হতে চলেছি, তাই এখন আমি এই সব খুব ভাল বুঝি। শুধু আমার সব কথা শুনে বুড়ি ঠাকুমা একটাই কথা বলেছেন, উমা রে, তুই দেহি অখন গর্তে পড়ছোস!….

চার। আরো বেশ কিছুদিন পরে সাবেক কর্মস্থল শীর্ষ স্থানীয় দৈনিকটির অফিস লাগোয়া ঝুপড়ি দোকানে চা খেতে খেতে আলাপ হয় পত্রিকাটির সাহিত্য পাতার কয়েকজন সাংবাদিক-লেখকের সঙ্গে। এক সময় তাদের আলাপচারিতায় নিছকই শ্রোতার ভূমিকা নিতে হয়। কারণ বিষয়টি একান্তই তাদেরই।

একজন বললেন, তার সদ্যজাত শিশুর নাম রাখবেন, চর্যা। আরেকজন বলে উঠলেন, আরে! এই নাম তো রাখা হয়ে গেছে। অমুক লেখক (উমার স্বামী) তার মেয়ের নাম রেখেছে, চর্যা।

এইভাবে অকস্মাৎ জানা হয়ে যায় উমার কন্যা সন্তানের কাহিনী। এমনকি শিশুটির নামও।

পাঁচ। এরপর অনেকদিন উমার আর কোনো খবর নেই। এখনো যেন চোখ বুজলেই দেখা যায়, লিটল ম্যাগ করা আগের সেই হাসিখুশী মেয়েটির মুখ। এখনই হয়তো কাছে এসে বেশ খানিকটা অধিকার নিয়েই বলে বসবেন, এই বিপ্লব, এই…চটপট কিছু চাঁদা ছাড়ুন তো! আমাদের পত্রিকা বেরুবে শিগগিরই।…

লেখাটির ইতি এখানেই শেষ করা যেতো। কারণ উমা কাহিনীর মোদ্দা অংশ বলা হয়ে গেছে। কিন্তু হঠাৎ আবারো একদিন বাসের ভেতর উমার সঙ্গে দেখা। এক সকালে ধানমণ্ডিগামী বাসে উঠতেই একেবারে পেছনের সারি থেকে উমা সব বাস যাত্রীর মনোযোগ কেড়ে, সব কিছু উপেক্ষা করে আমাকে ডেকে বসেন, বিপ্লব, এই বিপ্লব, এই যে, এ দিকে…।

ওর পাশের ফাঁকা সিটে বসে পড়ে মনে মনে চমকে যেতে হয়। একি চেহারা হয়েছে ওর! হাড্ডিসার, গর্তের কোটরে ঢুকে যাওয়া চোখ। চোখের দৃষ্টি প্রায় নিভন্ত ও ম্লান। পরনের সস্তা সালোয়ার-কামিজটিও ইস্ত্রি করা হয়নি বহুকাল। সব মিলিয়ে ঠিক যেনো একটি ঝরা গোলাপ। এর শুকিয়ে যাওয়া ফিকে সবুজ পাপড়ি বিহীন কুসুমটি এখন জানান দিচ্ছে, একদা সত্যিই অস্তিত্ব ছিলো হে সৌরভমাখা একটি ঐশ্বর্যময় ফুল।

ভীরু গলায় এক নিঃশ্বাসে উমা নিজের খবর জানিয়ে বলেন, বিপ্লব, আমি এখনো মা – বাবার সঙ্গে আছি। আমার মেয়ের বয়স এবার তিন বছর হলো। সামনের বছর ওকে স্কুলের প্লে গ্রুপে দেবো ভাবছি। আমার মা-ই ওর সব দেখাশোনা করেন। আমি মন দিয়ে কলেজ মাস্টারি করছি। আমার বন্ধু – বান্ধবের সম্পাদনায় এবার বই মেলায় একটি সম্পাদিত ছোটগল্পের বই বেরুচ্ছে। সেখানে তারা আমার একটি গল্পও রেখেছে। বইটি হাতে পেলে আপনাকে এক কপি পাঠাবো। অবশ্যই আমার লেখাটি পড়ে মতামত জানাবেন কিন্তু। …

উমা তার মোবাইল ফোন থেকে বেছে বেছে চর্যা নামের কন্যা শিশুটির নানান ভঙ্গিমার আদুরে সব ছবি দেখান।

‘আর লেখক স্বামী প্রবর?’ আকস্মিক এই বেয়াড়া প্রশ্নেও উমা বিব্রত হন না। ‘ও আগের মতোই আছে, লিখে প্রচুর নাম কামাচ্ছে; বোধহয় ভালোই আছে’ এইটুকু বলে সে পাল্টা প্রশ্ন করেন, কেনো, আপনার সঙ্গে দেখা হয় না? একই তো অফিস!

স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, মাঝে মাঝে সুদর্শন লেখকের সঙ্গে দেখা হয় বৈকি, কথা বলার আগ্রহ না থাকলেও এটা-সেটা কুশল জানতে হয়, সমাজ বলে কথা।…দাড়ি-গোঁফে তার যীশু খ্রিষ্টের মতো নিস্পাপ, জ্যোতির্ময় চেহারা ও সেই ভুবন ভোলানো বিখ্যাত হাসি প্রতিবারই একটি প্রেম, একটি ভ্রুণ এবং একটি নারী মনের নীরব খুনের উপাখ্যান মনে করিয়ে দেয়। …লেখকের সামনে সহজে সহজ হওয়া যায় না। তখন এটা-সেটা বলে সামনে থেকে সরে পড়তে হয়।
_____

পুনশ্চ: ক। এই লেখার সমস্ত ঘটনা ও চরিত্র বাস্তব। বোধগম্য কারণে বন্ধু মেয়েটির আসল নামের বদলে ‘উমা’ ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে। খ।
এটি একটি পুনর্লিখিত লেখা; এর আগে খসড়া লেখাটি অনত্র প্রকাশিত হয়েছিলো। গ। বছর দশেক আগে শাহবাগের স্মৃতিময় ‘সিনোরিটা’ নামক ডুপ্লেক্স চায়ের দোকানটি উঠে গেছে। এখন সেখানে আলো ঝলমলে একটি বিশালাকৃতির ফার্মেসী।
______
ছবি: মডেল ফটো, প্রনব ঘোষ, ফ্লিকার।

পাহাড়, ঘাস, ফুল, নদী খুব পছন্দ। লিখতে ও পড়তে ভালবাসি। পেশায় সাংবাদিক। * কপিরাইট (C) : লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত।

মন্তব্যসমূহ

  1. শশাঙ্ক বরণ রায় আগস্ট 21, 2012 at 1:35 পূর্বাহ্ন - Reply

    লেখাটা পড়লাম। একাধিকবার। এভাবে জানা ছিল না বেদনাটুকু। তাঁর সংগ্রামকে জানি। না, শুধু নিজেকে দৃঢ় পায়ে দাঁড় করানো বা একটি শিশুর জীবন গঠনের জন্য নয়, একজন সাহসী সংগ্রামী মানুষ হিসেবে তাঁর সামাজিক-রাজনৈতিক ভূমিকার জন্য আমার শ্রদ্ধা রয়েছে।
    ঘৃণ্য’র জন্য ঘৃণা। আর ছুঁয়ে যাওয়া লেখার জন্য বিপ্লব দা’কে ধন্যবাদ।

  2. তরু আগস্ট 9, 2012 at 6:24 পূর্বাহ্ন - Reply

    বহুদিন জানা হয় নি আমার মানুষ হয় কাকে বলা…
    মানুষ কি বানাতে পারে আমাদের সনাতন কাব্যকলা?……….

    চমৎকার! বুকের ভিতরটা ছুঁয়ে গেল ভাই।

  3. জটিল বাক্য আগস্ট 6, 2012 at 12:01 পূর্বাহ্ন - Reply

    স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, মাঝে মাঝে সুদর্শন লেখকের সঙ্গে দেখা হয় বৈকি, কথা বলার আগ্রহ না থাকলেও এটা-সেটা কুশল জানতে হয়, সমাজ বলে কথা।…দাড়ি-গোঁফে তার যীশু খ্রিষ্টের মতো নিস্পাপ, জ্যোতির্ময় চেহারা ও সেই ভুবন ভোলানো বিখ্যাত হাসি প্রতিবারই একটি প্রেম, একটি ভ্রুণ এবং একটি নারী মনের নীরব খুনের উপাখ্যান মনে করিয়ে দেয়। …লেখকের সামনে সহজে সহজ হওয়া যায় না। তখন এটা-সেটা বলে সামনে থেকে সরে পড়তে হয়।

    গল্পের পরিনতি বোঝা যায় মাঝপথেই বাস্তবতার পরিনতি অননুমেয়। কখন যে কোন বাঁকে মিলিত হয় দুটি বিপরীত স্রোত তারপর বিধ্বস্ত তরঙ্গ, চাওয়া পাওয়ার মাঝে এক বিস্তর ফারাক। সমাজে আমরা সবাই অভিনেতা। ভালো না থাকলেও ভালো আছি বলতে হয়। এই কপটতাও কম কষ্টের নয় অপছন্দের লোকের সাথে কুশলাদি বিনিময়, একজন হত্যাকারী জেনেও। গল্প হলে খুশি হতাম। বাস্তব ঘটনা বলে মন খারাপ করে দিলেন। উমা ছদ্ম নামের আড়ালের নারীটির জন্য শুভকামনা। আপনার জন্যও তেমনটি থাকল।

  4. অভিজিৎ আগস্ট 4, 2012 at 10:05 অপরাহ্ন - Reply

    আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া মানবিক লেখাগুলো সত্যই অতুলনীয়। উমারা জেগে উঠুক, বুঝে ফেলুক, ভেঙে ফেলুক “যীশু খ্রিষ্টের মতো জ্যোতির্ময় চেহারা ও সেই ভুবন ভোলানো বিখ্যাত হাসি”র কপটতাগুলো …

  5. শাখা নির্ভানা আগস্ট 4, 2012 at 8:22 অপরাহ্ন - Reply

    মর্মান্তিক! যে পরিচয়েই হোক এই ধরনের অমানুষ সব পেশায় সব দেশে বিদ্যমান। সুন্দর বাচন ও বর্ণনা শৈলী ধটনাটাকে কঠিন বাস্তব করে তুলেছে।

  6. কেয়া রোজারিও আগস্ট 4, 2012 at 1:14 অপরাহ্ন - Reply

    পসিটিভ একটা ঘটনা জানানোর জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ বিপ্লব। উমা যে নির্যাতনের ব্যুহ থেকে বেরিয়ে গা ঝাড়া দিয়ে শিরদাড়াঁ সোজা করে দাড়িঁয়েছে এটা জেনে গর্ব হচ্ছে।
    না হয় উমার চোখে মুখে মরা রোদ্দুর আর ক্লান্তির কুন্ডলী তবুও তো সে প্রত্যয়ে বলতে পারছে তার পেশার কথা, তার লেখার কথা।
    আমার তো ধারণা যে বরং সে এখন ই ” সৌ্রভমাখা ঐশ্বর্য্যময় ফুল”।

    মানুষকে “নির্যাতনের অভ্যস্ততা” গ্রাস করে , তা’ থেকে বেরুতে কারো দূ’বছর সময় লাগে কারো বা বারো। তবুও তো ভুল সঙ্গ পরিত্যাগের মানসিকতা উমার ছিল বা হয়েছিলো।
    আর যার কারনে উমার এই মনোযাতনা সেই পাঁক নিয়ে নাই বা কিছু বললাম। জয়তু উমা!

    • বিপ্লব রহমান আগস্ট 5, 2012 at 7:02 অপরাহ্ন - Reply

      @কেয়া রোজারিও,

      উমার সংগ্রামী জীবনটির দিকে তাকানোর জন্য ধন্যবাদ। অনেক শুভেচ্ছা।

  7. নীল রোদ্দুর আগস্ট 4, 2012 at 10:38 পূর্বাহ্ন - Reply

    লেখক হলে কবি হলে (সবাই নয়) কি লাম্পট্যের লাইসেন্স পাওয়া যায়? ভালোবাসাকে খুন করার অধিকার জন্মায়। ঐ সুদর্শন লেখকের মুখের উপর একদলা থুথু ছিটাইতে ইচ্ছা করতেছে।
    এর মত সব লম্পটকেই (লেখক/কবি/ব্লগার/সাংবাদিক- যা খুশি তার পরিচয় হোক) ঘৃণা করি।

    আমার যিশুর মত সুদর্শন লেখকের কথা শুনে কেন যেন মনে হচ্ছে বুঝতে পারছি কে। অনুমাণ যদি সত্যি হয়ে থাকে, তবে উমাই একমাত্র রমনী নয় যে এর লাম্পট্যের স্বীকার।

    ভাইয়া, পরিচয়টা উন্মোচন করলেন না কেন? সমাজ বলে? এভাইবেই এইসব ইতরেরা একের পর এক নারীর হৃদয় খুন করার সুযোগ পায়।

  8. প্রতিফলন আগস্ট 4, 2012 at 10:01 পূর্বাহ্ন - Reply

    দাড়ি-গোঁফসহ সুদর্শন লেখকের দাড়ি নিচের মুখাবয়বটা সবার সামনে উন্মোচন করলেই হয়তো বেশি ভাল হতো।

  9. শনিবারের চিঠি আগস্ট 4, 2012 at 3:09 পূর্বাহ্ন - Reply

    দারুণ একটি লেখা বিপ্লব ভাই; এ কালরাত্রির অবসান হোক

    • বিপ্লব রহমান আগস্ট 5, 2012 at 6:21 অপরাহ্ন - Reply

      @শনিবারের চিঠি,

      মুক্তমনায় মুক্তিযুদ্ধের ওপর আপনার গবেষণাধর্মী লেখার পড়ার প্রত্যাশা করছি। অনেক শুভেচ্ছা।

  10. সংশপ্তক আগস্ট 4, 2012 at 12:41 পূর্বাহ্ন - Reply

    ‘উমার’ কথা জানানোর জন্য ধন্যবাদ। হৃদয়বিদারক। তবে কি জানেন ? একটা ‘প্রমাদ’-কে শেষ পর্যন্ত ‘ভুলে’ পর্যবসিত হতে হয় না যদি সময়মত শুধরে নেয়া যায়। হয়তো সুযোগ থাকার পরও ‘উমা’ সেই শুদ্ধিকরণটা করতে পারে নি। যাহোক, তার সুখী জীবন কামনা করি।

  11. আদনান আগস্ট 3, 2012 at 9:55 অপরাহ্ন - Reply

    এ কি ধরণের পোষমান লেখা লিখলেন ভাই। ঐ যীশু খ্রিষ্টকে তো একটা ধরা খাওয়ানো দরকার!

  12. বিপ্লব রহমান আগস্ট 3, 2012 at 8:08 অপরাহ্ন - Reply

    এই লেখাটির লিংক গুরুচণ্ডালি ডটকম-এর ফেবু গ্রুপে শেয়ার করায় সেখানে পশ্চিমবঙ্গের লেখক রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য মন্তব্য করেছেন,

    উমা বা যে কোন নামই হোক, মেয়েরা সব সময়ই ভোগের বস্তু । সেই “ ভোগ” যখন ফল দেয়, সেটা এইসব কদর্য পুরুষদের কাছে অসহ্য ।
    আবার এই সব পুরুষেরাই যখন- শরিয়ত, মনুসংহিতার বুলি আওড়ায়, তখন মনে হয় পশ্চাৎদেশে একটা পদাঘাত করি ।

    তিনি লেখায় কিছু বানান ভুলের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন। ভুলগুলো শুধরে দেওয়া হলো। তাকে জানাই অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। (Y)

  13. অসীম আগস্ট 3, 2012 at 7:29 অপরাহ্ন - Reply

    ঠাকুমা একটাই কথা বলেছেন, উমা রে, তুই দেহি অখন গর্তে পড়ছোস!….

    কষ্ট পাই,এসব পুরুষের আচরণে।

    • বিপ্লব রহমান আগস্ট 3, 2012 at 8:05 অপরাহ্ন - Reply

      @অসীম,

      সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

  14. গীতা দাস আগস্ট 3, 2012 at 7:17 অপরাহ্ন - Reply

    গল্পকেও হার মানায় উমার মত নারীদের যাপিত জীবনের কাহিনী। আর সুদর্শন লেখকেরা মানে কিছু পুরুষ এভাবেই দায় ও দায়িত্বহীনভাবে ঘুরে বেড়ায়।
    এসব গল্পের চেয়েও গল্প লিখুন। চরিত্র উন্মোচন করলেও খারাপ হত না। লিংকটি ঐ লেখককে দিয়ে দিলে কেমন হয়!

    • বিপ্লব রহমান আগস্ট 3, 2012 at 8:04 অপরাহ্ন - Reply

      @গীতা দি,

      বিনীত পাঠ ও প্রতিক্রিয়ার জন্য ধন্যবাদ। ওই সব দাম্ভিক পুরুষ এবং সুলেখকেরা বোধহয় এইসব ‘ট্রাশ’ পড়বেন না। কারণ তারা আরো সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রবন্ধ লেখেন, গল্প ফাঁদেন, উপন্যাস লেখেন, কখনো কবিতায় তুলে ধরেন আশ্চর্য সব স্বপ্ন কথা। মোটকথা, তারা সাহিত্যের গুরুতর উপকার করেন, সাহিত্য-সংস্কৃতি সমৃদ্ধ করে চলেন।

মন্তব্য করুন