স্বকৃত নোমানের রোহিঙ্গাদের নিয়ে উপন্যাস “বেগানা” ও তার সাথে লিখিত কথোপকথন

হ্যাঁ দিদি, কেমন আছেন?
আপনার মেইল পেয়ে খুশি হলাম।
প্রশ্নগুলো পাঠান। অবশ্যই উত্তর দেব।
স্বকৃত নোমান
এ মেইলটি আমি স্বকৃত নোমানের কাছ থেকে পেয়েছি নীচে আমার ইমেইলের উত্তরে।
কথাশিল্পী স্বকৃত নোমা্ন,
আপনার সাথে আমার পরিচয় ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারির বইমেলায়। তখন আপনার
রাজনটি উপন্যাসটি কিনি। পড়ি এবং বলার অপেক্ষা রাখে না যে অভিভূত হই।
পরে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারির বইমেলা থেকে আপনার বেগানা উপন্যাসটি কিনে
আপনাকে দিয়ে লিখিয়েও নিয়েছিলাম।
রাজনটি ও বেগানা দুটি উপন্যাসই লিখেছেন ভিন্ন ও ব্যতিক্রমধর্মী পটভুমি
নিয়ে। দুটো কাহিনি্তেই একাধিক দেশের প্রেক্ষাপট রয়েছে। দুটো উপন্যাসই
বাস্তব অস্তিত্বের স্মারক।রাজনটি পত্রিকার একটি ছোট্র সংবাদকে কেন্দ্র
করে আর বেগানা পত্রিকার পাতায় পৃষ্ঠা ভরা প্রকাশিত খবর কেন্দ্র করে। আমি আপনাকে বেগানা উপন্যাস নিয়ে কিছু প্রশ্ন করতে চাই যা পরবর্তীতে মুক্ত-মনায় প্রকাশও করতে চাই আপনার সম্মতিতে। আপনার উত্তর পেলে আমি প্রশ্নগুলো পাঠাব।
উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম।
কাজেই আমি আমার প্রশ্ন পাঠাই এবং স্বকৃত নোমান তার উত্তর পাঠায় যা নীচে দেওয়া হলঃ
১. রাজনটি ও বেগানা দুটি উপন্যাসই লিখেছেন ভিন্ন ও ব্যতিক্রমধর্মী পটভুমি নিয়ে। দুটো কাহিতেই একাধিক দেশের প্রেক্ষাপট রয়েছে। দুটো উপন্যাসই বাস্তব অস্তিত্বের স্মারক। রাজনটি পত্রিকার একটি ছোট্ট সংবাদকে কেন্দ্র করে আর বেগানা পত্রিকার পাতায় পৃষ্ঠা ভরা প্রকাশিত খবর কেন্দ্র করে। এ ধরণের কাহিনী নির্বাচনের কি কোন কারণ আছে?

উত্তর : পত্রিকার একটি সংবাদ পড়ে রাজনটী রচনায় অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম বটে। সংবাদটা ছিল সুত্র মাত্র। পরে উপন্যাস আর ঐ সংবাদের মধ্যে আবদ্ধ থাকেনি। আর বেগানা পত্রিকার পাতায় পৃষ্ঠা ভরা প্রকাশিত খবরকে কেন্দ্র করে, কথাটা সত্যি নয়। বেগানা রচনাকালে পত্রিকায় প্রকাশিত কোনো সংবাদ গ্রহণ করিনি, কাজেও লাগেনি। আর এ ধরণের কাহিনি নির্বাচনের আসলে নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। একজন ঔপন্যাসিক কখন কোন কাহিনী রচনায় উদ্বুদ্ধ হয়, কোন কাহিনী তাকে আলোড়িত করে তা আগে থেকে বলা যায় না। তবে আমি সবসময় চেষ্টা করি, যে বিষয়টার প্রতি আলো পড়েনি, যে বিষয়টা নিয়ে আমাদের অগ্রজগণ লিখে যাননি, সেই সব বিষয় নিয়ে কাজ করতে। আমি সবসময় একটু ব্যাতিক্রম কাহিনী নিয়ে কাজ করতে চেষ্টা করি।

২. বেগানা উপন্যাসে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প জীবনের যে চিত্র এঁকেছেন তাতে ছেলেমেয়ের আধিক্য দেখালেও বহু বিয়ের বিষয়টি আসেনি। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা ভিন্ন বলেই জানি। আসলে এটি কি সচেতনভাবেই এড়িয়ে গেছেন রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতি থেকে?

উত্তর : মোটেই না। কোনো চরিত্রের প্রতি আমার কোনো সহানুভূতি ছিল না। রোহিঙ্গাদের বহু বিবাহের বিষয়টি পুরোপুরি সঠিক নয়। আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা তাই বলে। বাংলাদেশের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের যেসব রিফ্যুজি-ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা থাকে তারা কিন্তু বহু বিবাহে অভ্যস্ত নয়। একজনকে সামাল দিতেই তাদেরকে হিমশিম খেতে হয়, একাধিক স্ত্রী রাখবে কীভাবে! তবে হ্যাঁ, যে সব রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকে না, যারা আজ এখানে তো কাল সেখানে, তারা একাধিক বিয়ে করে বটে। যেমন খেয়াল করে দেখবেন, উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র ‘ভেলু’ কিন্তু দুই বিয়ে করে। শেফালির পূর্বতন স্বামীও একধিক বিয়ে করে। ওদিকে আরএসও সদস্য ‘বারেক’ও দুই বিয়ে করে।

৩. রাজনটি লিখতে গিয়ে কুমিল্লার সে মসজিদে গিয়েছিলেন এবং রাজনটী লেখার সময় চোরাইপথে ত্রিপুরা যাওয়ার কথা বইতে উল্লেখ করেছিলেন বলে সামান্য সামস্যা হয়েছিল। বেগানায় কি তাই এড়িয়ে গেছেন? কারণ বেগানা লিখতে কক্সবাজার গিয়ে থেকেছেন। মায়ানমারও নিশ্চয়ই গিয়েছিলেন? কারণ, বইটির স্বপ্ন যাত্রা জুড়ে রয়েছে মায়ানমারের বর্ণনা।ইয়োমা পর্বতমালা, কালাদান নদী, করইতলি স্কুল মাঠ, নলবুনিয়া গ্রাম, নাকিনদক
গ্রাম, চকপংডুঢ, কেওড়াবন, গাঁজাখোর খলিলের হাতি দিয়ে বন থেকে কাঠ টানা, স্বপ্নভঙ্গ পর্বেও এসেছে বার্মার চিত্র ।যা উপন্যাসটিতে বর্ণিত আবহের সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। এসব এমন করে আঁকলেন কিভাবে?

উত্তর : আরাকানে তো যেতে হয়েছেই। না গিয়ে তো আর লেখা যায় না। সেই লেখা বাস্তবতাসম্ভূত হয় না, কল্পকাহিনী হয়। কৌশলগত কারণে আরাকানে যাওয়ার বিষয়টি ভূমিকায় এড়িয়ে গেছি।হ্যাঁ, আমি আরাকানে দশ এগারো দিনের মতো ছিলাম। এ ছাড়া রোহিঙ্গা জেলেদের সঙ্গে প্রায়ই আমি আরাকানের উপকূলে ঘুরেছি। বিভিন্ন গ্রামের নাম সংগ্রহ করেছি। আরাকানের ভৌগোলিক জ্ঞানটা রপ্ত করার চেষ্টা করেছি।

৪. পেয়ারি, যে সুরুজের মা বা মাদু মিয়ার বউ। এ পিয়ারি ভিটেমাটি ছেড়ে যাবার কথা মনে হওয়াতে মাঝপথে ফিরে আসতে চায় তার বসতবাটি নলবুনিয়ায়। সে এক নারী। হাসান আজিজুল হকের আগুনপাখি উপন্যাসের আরেক নারী যার জবানীতে উপন্যাসটি লেখা সে ও ভারত ভাগের পর স্বামী সন্তানদের সাথে ওখান থেকে পাকিস্তানে আসে না। বর্ধমান থেকে যায়। আগুনপাখি র নারীর মত এ নারীর স্বদেশ প্রেম। যদিও দুই নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান এক নয়। আর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন বলেই পিয়ারি ফিরে যেতে পারেনি। তাছাড়া তার পায়ের নীচের মাটি শক্ত নয়। কিন্তু তার মনের আলোড়ন পাঠককে ভাবায় ও জ্বালায়।নারীর সাথে কি ভিটেবাড়ির সম্পর্ক পুরুষের চেয়ে নিবিড়! গভীর! কেন? আপনি কী ভাবনা থেকে পিয়ারিকে ভাবিয়েছেন?

উত্তর : হ্যাঁ, পুরুষের চাইতে ভিটেমাটির প্রতি নারীর সম্পর্ক নিবিড়। পুরুষ ভিটিমাটি ছেড়ে দেশদেশান্তরে ঘুরতে পারে, কিন্তু নারী পারে না সহজে। ময়মনসিংহ গীতিকার ভেলুয়া, নছর মালুম ইত্যাদিতে পালাতেও দেখবেন পুরুষের বাউন্ডেুলে স্বভাব আর নারীর ভিটেমাটি আঁকড়ে থাকবার প্রবণতা। পিয়ারিকে দিয়ে আমি রোহিঙ্গা নারীদের স্বদেশত্যাগের নির্মম বেদনাটা ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি। পেয়ারির কষ্ট সমগ্র রোহিঙ্গা নারীর কষ্ট হিসেবে দেখাতে চেয়েছি।

৫. আপনি এ বইয়ে যে ভাষা ব্যবহার করছেনে তা কি রোহঙ্গিাদরে মুখের হুবহু ভাষা? নির্জলা চট্টগ্রামরে ভাষা নয়? এ ভাষা ব্যাবহার নিয়ে কিছু বলবনে কি?

উত্তর : না, রোহিঙ্গাদের হুবহু ভাষা নয়, তবে হুবহু ভাষার প্রায় কাছাকাছি। কিছু কিছু শব্দ পাল্টে দিয়েছি মাত্র। চেষ্টা করেছি সকল শ্রেণীর পাঠক যাতে ভাষাটা বোঝে। হুবহু রাখলে ঐ ভাষা বুঝতে পাঠকদের অসুবিধা হতো। উপন্যাসটি তো আমি কেবল রোহিঙ্গাদের জন্য লিখিনি, বাংলা ভাষাভাষী সকল পাঠকের জন্য লিখেছি। সুতরাং ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থেকেছি।

৬. রোহঙ্গিা রিফুজিদের যৌন জীবনরে যে চিত্র পশুর সাথসেহ তুলে এনছেনে তা কি আপনার রোহঙ্গিা ক্যাম্পের অভিজ্ঞতা?
উত্তর : ঠিক ধরেছেন। অভিজ্ঞতালব্ধ।

৭. মনতাই বুড়ির সারাদিন কম্বল গায়ে থাকার ইতিহাস, রুকুনির পাগল হওয়া, জেবুন্নিসার পরণতি আমাদের মুক্তিযুদ্ধে নারীর কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। যে কোন দুর্যোগে, যুদ্ধে, দাঙ্গায় বা রাজনৈতিক বা সামাজিক অরাজকতায় ব্যাপকতা বা গভীরতায় যেদিকেই হোক না কেন সবচেয়ে বেশি দুস্থ অবস্থায় পড়ে নারীরা। আপনার চেতনায় এ ক্ষেত্রে কোন বিষয়টি কাজ করেছিল।

উত্তর : দুরাবস্থায় কেবল নারীরাই পড়ে না, পুরুষরাও সমানভাবে পড়ে। বেগানায় দেখবেন, মোহাম্মদ মোস্তফার চোখে গরম কয়লা ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। শত শত পুরুষকে নদীকে ব্রাশফায়ার করে মারা হয়েছে। মাদু মিয়ার বাবাকে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে, জাফর কাওয়ালকে খুন করা হয়েছে। লাতু মুন্সী, মকবুল আম্মদরা কী নির্যাতনের শিকার হয়েছে, পড়েছেন নিশ্চয়ই। দূরবস্থার চিত্র তুলে ধরার সময় নারী পুরুষ আমার বিবেচনায় ছিল না। সবার দুর্দশা তুলে ধারার চেষ্টা করেছি।

৮. বেগানা বইটি লিখতে গিয়ে কক্সবাজারে ছিলেন এবং অনেক কষ্টও করেছেন। এ বিষয়ক অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছু বলবেন কি?

উত্তর : অভিজ্ঞতা তো সবই বইতে ঢেলে দিয়েছি। নতুন করে কী আর বলবো? লেখার বাইরেও বহু অভিজ্ঞতা আছে। শত শত। সাক্ষাতে বলা যাবে।

৯. আমরা জানি, সাহিত্য আর বাস্তবতা এক নয়। বাস্তব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সাথে সাহিত্যের বাস্তবতাকে তুলনা করা যায় না। তবুও বেগানার কাহিনী একেবারে সমসাময়িক ঘটনাকে নিয়ে গড়ে উঠেছে বলেই প্রশ্নটা। কারণ বেগানায় আপনি নির্মোহভাবে কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আপনার পক্ষপাত বোঝা যায়নি। রোহিঙ্গাদের নিয়ে স্থানীয় মানুষসহ বর্তমান সরকারের অবস্থানকে আপনি কিভাবে দেখেন?

উত্তর : সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই। মানুষের জন্য দেশ, রাষ্ট্র, সমাজ। পৃথিবীর সকল প্রান্তের মানুষ আমার স্বজন। আপনারও নিশ্চয়? সে রোহিঙ্গা হোক কিংবা ইরানি তুরানি ইংরেজ জাপানী জার্মান, যেই হোক না কেন। লালন বলেছেন, ভবে মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার/সর্ব সাধন সিদ্ধ হয় তার। কিংবা মানুষে মনস্কামনা সিদ্ধ কর বর্তমানে/ চৌদ্দ ভুবন ফিরাই নিশান এই মানুষের মন ভুবনে। আফ্রিকার নিগ্রোরা নির্যাতিত হলে সচেতন মানুষ হিসেবে আমার ব্যথিত হওয়ার কারণ আছে। রোহিঙ্গাদের এই দুর্দশা আমাকেও ব্যথিত করে। ধর্মের নামে, রাষ্ট্রের নামে, সংঘের নামে, কৃত্যের নামে, গোষ্ঠীর নামে এই মানব নিধনকে সমর্থন করা যায় না। সাম্প্রতিক কালে রোহিঙ্গা ট্রাজেডির ব্যাপারে সরকার মানবিকতার পরিচয় দেয়নি। স্মরণ রাখতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরাও কিন্তু ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলাম।

১০. এখন কোন বিষয় নিয়ে উপন্যাস লিখছেন? বা নিকট ভবিষ্যতে লেখার পরিকল্পনায় আছে?

উত্তর : ভাটিবীর শমসের গাজীকে নিয়ে একটা উপন্যাস লিখছি। নাম দিয়েছি ‘হীরকডানা’। অর্ধেক শেষ। শমসের গাজী অষ্টাদশ শতাব্দির মাঝামাঝি সময়ে বারো বছর ত্রিপুরা শাসন করেছেন। ছিলেন কৃষক আন্দোলনের নেতা। মুকুটবিহীন সম্রাট। অথচ ইংরেজ ইতিহাস তাকে দস্যু-ডাকাত হিসেবে অভিহিত করেছে। দুঃখজনক। তার বাড়ি আধুনিক ফেনী জেলার ছাগলনাইয়ায়। যে সময়ে সে ত্রিপুরা শাসন করেছে তখন ফেনী নোয়াখালী এবং কুমিল্লা ত্রিপুরার অধীন ছিল। তার রাজধানী ছিল ফেনীর ছাগলনাইয়ায়। সম্প্রতি ত্রিপুরা থেকে আবারও ঘুরে এসেছি। তবে এবার চোরাইপথে যাইনি, ভিসায় গিয়েছি। মাস দুয়েক পর আবার যাবো। আগামি মেলায় বইটি আনার চেষ্টা করছি। দেখা যাক।

পরবর্তীতে আমি স্বকৃত নোমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছি এত কম সময়ে আমার প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার জন্য এবং লিখিত এ কথোপকথন মুক্ত-মনায় দেওয়ার সম্মতিও নিয়েছি।

About the Author:

'তখন ও এখন' নামে সামাজিক রূপান্তরের রেখাচিত্র বিষয়ে একটি বই ২০১১ এর বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ

  1. অভিজিৎ আগস্ট 2, 2012 at 9:55 অপরাহ্ন - Reply

    স্বকৃত নোমানের সাথে দেখা হয়েছিল এবারের বইমেলায়। বেশ প্রাণোচ্ছ্বল তরুণ। মুক্তমনাতেও লিখতে সশুরু করেছিলেন একটা সময় (এখানে একটা লেখা আছে তার)। ভেবেছিলাম আর হয়তো লিখবেন। লিখলে ভাল লাগত অবশ্যই।

    উনার বইগুলো পড়ার প্রত্যাশা করি। রিভিউয়ের জন্য গীতাদিকে ধন্যবাদ।

    • গীতা দাস আগস্ট 3, 2012 at 11:00 পূর্বাহ্ন - Reply

      @অভিজিৎ,
      ধন্যবাদ অভিজিৎ। এবারের বই মেলায় আমি খুব কম সময় দিতে পেরেছি আমার ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে। আপনার সাথে আমার আরও সময় কাটানোর লোভ সামলাতে হয়েছিল, এতে আমি লাভবান হতাম। আপনার জন্য মণিকা রশীদের সাথে দেখা হয়েছিল। তা না হলে তো তাকে চিনতামই না। অদিতির কবীরের বইটারও খবর পেয়েছিলাম। যাহোক, আগামির জন্য অপেক্ষায় আছি।

  2. সাইফুল ইসলাম আগস্ট 2, 2012 at 4:20 অপরাহ্ন - Reply

    লেখককে চিনতাম কিন্তু উনার বই পড়া হয় নাই। তবে আমি আগ্রহবোধ করলাম “হীরকডানা” নিয়ে। অপেক্ষায় থাকলাম বইটার।

    • গীতা দাস আগস্ট 2, 2012 at 7:43 অপরাহ্ন - Reply

      @সাইফুল ইসলাম,
      ‘হীরকডানা’ তো এখনও ডানা মেলেনি। অন্য বইও পড়ে দেখেন। তার রাজনটি উপন্যাস এইচবিসি কালি ও কলম ২০১২ পুরস্কার পেয়েছে বলে জানলাম।

  3. প্রতিফলন আগস্ট 2, 2012 at 9:58 পূর্বাহ্ন - Reply

    এমন লেখকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ! (F)

    • গীতা দাস আগস্ট 2, 2012 at 7:34 অপরাহ্ন - Reply

      @প্রতিফলন,
      ধন্যবাদ লেখাটি পড়ে লেখকের সাথে পরিচিত হবার জন্য। উনি কিন্তু মুক্ত-মনায় ২০১১ সালে লিখেছিলেনও।

  4. আদনান আগস্ট 1, 2012 at 11:03 অপরাহ্ন - Reply

    একটা সমস্যা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। আমরা যারা দেশের বাইরে আছি, তারা শুধু এই বই গুলোর খবরই পেয়ে যাচ্ছি, পড়তে আর পারছিনা! তবে এই বই গুলো জোগাড় করতেই হবে।
    ধন্যবাদ।

  5. কাজি মামুন আগস্ট 1, 2012 at 10:41 অপরাহ্ন - Reply

    স্বকৃত নোমানকে জানতাম না, কিন্তু আপনার লেখাটি থেকে এক অসম্ভব প্রতিশ্রুতিশীল লেখকের পদধ্বনি টের পাচ্ছি! যে লেখক আরাকান, কক্সবাজার, ফেনি পর্যন্ত চলে যান জীবনের ছবি তুলে আনার জন্য, যিনি গভীর পর্যবেক্ষণের পরেই শুধু লেখেন, যিনি পাঠককে কল্পনার ভেজাল উপহার দিয়ে প্রতারিত করতে চান না, যিনি এমন কিছু লিখতে চান, যা এখনও অনাবিষ্কৃত, যা অগ্রজরা লিখে যাননি, পাঠকের কাছে যিনি থাকতে চান শতভাগ সৎ! সত্যি দিদি, আমি অভিভূত!

    সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই। মানুষের জন্য দেশ, রাষ্ট্র, সমাজ। পৃথিবীর সকল প্রান্তের মানুষ আমার স্বজন। আপনারও নিশ্চয়? সে রোহিঙ্গা হোক কিংবা ইরানি তুরানি ইংরেজ জাপানী জার্মান, যেই হোক না কেন। লালন বলেছেন, ভবে মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার/সর্ব সাধন সিদ্ধ হয় তার। কিংবা মানুষে মনস্কামনা সিদ্ধ কর বর্তমানে/ চৌদ্দ ভুবন ফিরাই নিশান এই মানুষের মন ভুবনে। আফ্রিকার নিগ্রোরা নির্যাতিত হলে সচেতন মানুষ হিসেবে আমার ব্যথিত হওয়ার কারণ আছে। রোহিঙ্গাদের এই দুর্দশা আমাকেও ব্যথিত করে। ধর্মের নামে, রাষ্ট্রের নামে, সংঘের নামে, কৃত্যের নামে, গোষ্ঠীর নামে এই মানব নিধনকে সমর্থন করা যায় না। সাম্প্রতিক কালে রোহিঙ্গা ট্রাজেডির ব্যাপারে সরকার মানবিকতার পরিচয় দেয়নি। স্মরণ রাখতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরাও কিন্তু ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলাম।

    প্রচণ্ড আলোড়িত হলাম! সম্প্রতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি ব্লগ বিতর্কে এমনও যুক্তি দেয়া হয়েছিল যে, রোহিঙ্গারা কিছুতেই মুক্তিযুদ্ধের শরণার্থীদের সাথে তুল্য নয়, যেহেতু তারা পালিয়ে এসে কাপুরুষতার পরিচয় দিয়েছে, যেহেতু তারা লড়াই করেনি আক্রমণকারীদের সাথে (অথচ আমরা ভুলে যাই যে, বাঙ্গালিরা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ, আর রোহিঙ্গারা শুধু সংখ্যালঘিষ্ঠই নয়, বর্মিদের পাশাপাশি তারা সরকারের চোখেও অনুপ্রবেশকারী ও পরিত্যাজ্য!)। আরও বলা হয়েছিল, কেন এই রোহিঙ্গারা আরাকানের পাহাড়ে যায় না জীবন বাঁচাতে, কেন তাদের চোখ শুধুই ধাবিত হয় সবুজ বাংলাদেশের দিকে? রোহিঙ্গা পুশব্যাকের খবর আনন্দের নিউজ হিসাবে প্রচারিত হয়েছিল! আসলে এই সংবেদনশীলতার জন্ম অভিজ্ঞতার অভাবের মধ্যেই লুকায়িত, নোমানের মত বাস্তবকে খুব কাছ থেকে দেখলে আমাদের ভিতর মানবিকতা-বোধ জাগ্রত হতে পারত!

    সবশেষে, এমন একজন মহান লেখকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য বিশাল ধন্যবাদ প্রাপ্য আপনার, দিদি!

    • রূপম (ধ্রুব) আগস্ট 2, 2012 at 2:02 পূর্বাহ্ন - Reply

      @কাজি মামুন,

      আপনার প্রত্যেক-বাক্যে-বিস্ময়বোধক-চিহ্ণওয়ালা মন্তব্যগুলা পড়লে ঈর্ষা হয় অনেক। এতো আবেগ আর বিস্ময় আপনি কই পান? :-X

      • তনুশ্রী আগস্ট 2, 2012 at 6:34 পূর্বাহ্ন - Reply

        @রূপম (ধ্রুব), !!!! আপনার কীবোর্ডে (!) কাজ করে না? কাজিমামুন মনে হয় গুগুল ট্রান্সলিটারেশন ব্যাবহার করেন, এইজন্য দাড়ি দিতে পারেন না 😛

        @লেখক, ধন্যবাদ আপনাকে। উপন্যাস পড়া হয় নাই, পড়তে হবে।

        • গীতা দাস আগস্ট 2, 2012 at 7:32 অপরাহ্ন - Reply

          @তনুশ্রী,
          পড়ুন । ভাল লাগবে।

        • কাজি মামুন আগস্ট 2, 2012 at 8:53 অপরাহ্ন - Reply

          @তনুশ্রী,

          কাজিমামুন মনে হয় গুগুল ট্রান্সলিটারেশন ব্যাবহার করেন, এইজন্য দাড়ি দিতে পারেন না

          গুগুল ট্রান্সলিটারেশন জিনিসটা কি? এই দেখুন, কত সীমিত অভিজ্ঞতা আমার, কত কিছুই জানি না, যা আপনাদের কাছে হয়ত শিশুতোষ ব্যাপার। এ জন্যই বোধহয় বেশি বেশি বিষ্ময় বেরিয়ে আসে ভিতর থেকে! তবে এত সীমিত অভিজ্ঞতা নিয়ে মন্তব্য করা উচিত নয় বলে মনে করে থাকেন যদি, তাহলে জানিয়ে দিয়েন। খামোখা মন্তব্য করে আপনাদের বিরক্তি উৎপাদন করতে যাব না।

          • রূপম (ধ্রুব) আগস্ট 2, 2012 at 10:50 অপরাহ্ন - Reply

            @কাজি মামুন,

            তবে এত সীমিত অভিজ্ঞতা নিয়ে মন্তব্য করা উচিত নয় বলে মনে করে থাকেন যদি, তাহলে জানিয়ে দিয়েন। খামোখা মন্তব্য করে আপনাদের বিরক্তি উৎপাদন করতে যাব না।

            এগুলা কী কন? :-X

      • কাজি মামুন আগস্ট 2, 2012 at 8:47 অপরাহ্ন - Reply

        @রূপম (ধ্রুব),

        এতো আবেগ আর বিস্ময় আপনি কই পান?

        দুনিয়া সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অনেক কম তো, তাই বোধহয় নতুন কিছু দেখলেই বিস্মিত হই। যাদের জীবন সম্পর্কে রয়েছে অগাধ জানা-শোনা, যাদের অভিজ্ঞতার ঝুলি টইটুম্বুর, তারা অনেক সৌম্য-শান্তভাবে ঘটনার মূল্যায়ন করতে পারে, আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপক ক্ষমতা তাদের। দুর্ভাগ্যবশত, সেই রকম ক্ষমতা রপ্ত করতে পারিনি এখনো অব্ধি। তাই ভুল-ত্রুটি হলে ক্ষমা-সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি, রূপম ভাই।

        আর একটা কথা, আমার মন্তব্যটিতে দুর্বলতা থাকতে পারে, কিন্তু আরোপিত কিছু নেই সেখানে, এই বিশ্বাসটুকু রাখতে পারেন।

        • রূপম (ধ্রুব) আগস্ট 2, 2012 at 10:51 অপরাহ্ন - Reply

          @কাজি মামুন,

          যাদের জীবন সম্পর্কে রয়েছে অগাধ জানা-শোনা, যাদের অভিজ্ঞতার ঝুলি টইটুম্বুর, তারা অনেক সৌম্য-শান্তভাবে ঘটনার মূল্যায়ন করতে পারে, আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপক ক্ষমতা তাদের।

          :-Y

          ঝুলি টইটুম্বুরওয়ালারা নিপাত যাক। আমি আপনের পক্ষে আছি। :))

        • গীতা দাস আগস্ট 3, 2012 at 10:51 পূর্বাহ্ন - Reply

          @কাজি মামুন,
          আমি কোথায় জানি পড়েছি যে আবেগ ছাড়া ভাল কিছু সৃষ্টি হয় না।
          আবেগ তো মানবিক অনুভূতি প্রকাশের এক শক্তিশালী হাতিয়ার। কাজেই মামুনের কলম অব্যাহত থাকুক।

    • গীতা দাস আগস্ট 2, 2012 at 7:28 পূর্বাহ্ন - Reply

      @কাজি মামুন,
      আমার কিছু বন্ধু বান্ধব আছে যারা বাংলাদেশের কথাসাহিত্য পড়ে না, তাদের নাম জানে না এবং জানতেও চায় না। আমি দুয়েকজনকে ধরে বেঁধে কিছু বই ধরিয়ে দেই। আমার ধারণা আমার পরিচিত বলয়ের বাইরে এমন হাজারোজন আছেন যারা বাংলাদেশে হুমায়ুন আহমেদ আর সব পশ্চিম বাংলার উপন্যাসিকদের কথাই জানেন ও মানেন। তাদের জন্যই এ প্রয়াস। তাছাড়া আমার ভাল লাগা সবাইকে জানানোর তাগিদ তো আছেই।

      • মনজুর মুরশেদ আগস্ট 2, 2012 at 9:15 অপরাহ্ন - Reply

        @গীতা দাস,

        আমার ধারণা আমার পরিচিত বলয়ের বাইরে এমন হাজারোজন আছেন যারা বাংলাদেশে হুমায়ুন আহমেদ আর সব পশ্চিম বাংলার উপন্যাসিকদের কথাই জানেন ও মানেন।

        আপনার ধারনা সঠিক। আশির দশকে দেশ ছাড়ার কারনে আমিও এই গোত্রের একজন। সম্প্রতি ‘চিলে কোঠার সেপাই’ আর ‘আগুনপাখি’ পড়েছি। দেশে থাকতে রশীদ করিমের লেখার খুব ভক্ত ছিলাম। তরুন বয়সে ওনার ‘উত্তম পুরুষ’ অসাধারন লেগেছিল।

        আপনার উদ্যোগের জন্য সশ্রদ্ধ ধন্যবাদ।

        • গীতা দাস আগস্ট 3, 2012 at 11:04 পূর্বাহ্ন - Reply

          @মনজুর মুরশেদ,
          ধন্যবাদ আপনার পাঠ প্রতিক্রিয়ার জন্য। স্বকৃত নোমানকে গদ্য রাখাল বলা হয় বলে বইয়ের ফ্ল্যাপে উল্লেখ আছে। তার অন্যান্য উপন্যাস হলঃ নাভি,ধুপকুশী,জলেস্বর।

মন্তব্য করুন