মঙ্গলের বুকে পড়ে থাকা সেই নাইকন ক্যামেরাটি

ঐ তুই আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব বুঝস?
– সামান্য ধারণা তো আছেই।
বিশ্বাস তো করস?
– এইটা আবার কেমন কথা। আপেক্ষিকতা তত্ত্ব তো বিজ্ঞানের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আর এই ধারণা আইনস্টাইন কই থেকে পাইছে জানস তো?
আরে জানবো না ক্যানো। প্রতিদিন সকালে উঠে তো তিনি দুই ঘণ্টা ঐ বই পড়তেন। আচ্ছা তুই কি বিবর্তন তত্ত্ব বুঝস?
– ভালো মতোই বুঝি।
বিশ্বাস করস?
বিশ্বাস করার কি আছে এতে? বিবর্তনবাদ হলো পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া নাস্তিক প্রোপাগান্ডা। ডারউইন নামক এক বান্দর এই বান্দর তত্ত্ব দিছে। সারা দুনিয়ার মিডিয়া কারা নিয়ন্ত্রণ করে জানস তো? ইহুদি। আর ইহুদির একমাত্র কাজ ইসলাম ধ্বংস করার ফন্দি ফিকির করা। এরাই এই বান্দর ডারউইনকে তেল দিয়ে গাছ উঠাইছে। আচ্ছা দোস্ত তুই বল- এমনি এমনি জগতে কোনো কিছু হয়? সবকিছু বাদ দিয়ে মানুষের চোখের কথাটাই ধর। একটা ক্যামেরার সাথে চোখের কতো মিল। অথচ বান্দরওয়ালারা বলে এই চোখ নাকি এমনি এমনি প্রাকৃতিক ভাবে উদ্ভব হইছে। এমনি এমনি হরলিক্স খাওয়া যেতে পারে, কিন্তু চোখের মতো একটা দুর্দান্ত জটিল জিনিসের তাকালে যেকোনো বাচ্চাও বুঝবে কেউ একজন নিপুণভাবে এটা সৃষ্টি করেছে। আর তিনিই হলেন …

এমন কথোপকথনের ঘটনা আপনার জীবনে ঘটেছে কিংবা ঘটেনি কিন্তু আমার জীবনে ঘটেছে। গণনায় যদি নিয়ে আসি ইন্টারনেট তাহলে ঘটেছে বেশ কয়েকবারই। বিবর্তন আলোচনায় অসংখ্য মানুষ ‘চোখের মতো এতো জটিল একটা অঙ্গ কি এমনি এমনি সৃষ্টি হয়েছে?’ নামক প্রশ্নটি ছুড়ে দিয়ে জীব বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি বিবর্তন তত্ত্বকে একেবারে নায়ক অনন্ত স্টাইলে ঘায়েল করে ফেলেন, অন্তত নিজের কাছে তো বটেই। ঘায়েলটি আবার মঞ্চস্থ হয় একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য নাটক আকারে। আজকের যাত্রা শুরুর আগে নাটকটির কথা বলা যাক।

নাটকটির স্থান পৃথিবীই হয় সাধারণত। তবে কেন্দ্রীয় চরিত্র অতিকল্পবিলাসী হয়ে মাঝে মাঝে মঙ্গলেও চলে যেতে পারেন। কেন্দ্রীয় চরিত্র পৃথিবী কিংবা সেই মঙ্গল গ্রহে হেঁটে যেতে থাকেন মেঠো কিংবা অমেঠো পথ দিয়ে। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ কেন্দ্রীয় চরিত্রের চোখে পড়ে একটি পাথর, পাথর দেখে চরিত্রটি নিজেকে প্রশ্ন করেন- পাথরটি এখানে কেমন করে এলো? নাটক এবার নাটকীয়তায় মোড় নেয়। চরিত্রটির শরীর থেকে আরেকটি চরিত্র বের হয়ে প্রশ্নটির উত্তর দেয়- প্রকৃতির অন্য অনেক কিছুর মতো পাথরটাও হয়ত সবসময়ই এখানে ছিল। উত্তর পেয়ে সন্তুষ্ট চরিত্রটি আবার হাঁটা শুরু করে। মেঠো কিংবা অমেঠো পথ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে এবার তার চোখে পড়ে একটি ঘড়ি, কিংবা একটি নাইকন ক্যামেরা। ঘড়িটি কোথা থেকে আসলো? ঘড়ি কিংবা নাইকন ক্যামেরার মতো একটি জটিল যন্ত্র তো আর এমনি এমনি এখানে হাজির হয়নি। কোনো কারিগর কিংবা নাইকন কোম্পানি তৈরি করেছে সেটা। চরিত্রটি এবার নাটকের ইয়ে মেরে দিয়ে সরাসরি লেকচারে চলে যায়- তাহলে আমরা কি বুঝলাম? ক্যামেরা কিংবা ঘড়ির মতো একটা জটিল জিনিস যেমনি প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্টি হতে পারেনা, কাউকে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সেটি তৈরি করতে হয়, তেমনি চোখের মতোও একটি জটিল অঙ্গ কখনও প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্টি হতে পারেনা। নাইকন ক্যামেরাটি যেমন জানান দিয়েছিলো নাইকন কোম্পানির কথা ঠিক তেমনি চোখের অস্তিত্ব আমাদের জানান দেয়, এক বুদ্ধিমান, মহা পরিকল্পনাকারী স্রষ্টার কথা- যিনি সর্বজ্ঞানী, সর্বদ্রষ্টা এবং মহাবিশ্ব হাউজিং সোসাইটির গর্বিত মালিক।

হুমায়ুন আহমেদ

ছোটবেলার প্রিয় লেখক। ছোট বেলায় বোধহয় মাথায় বেশি প্রেশার নেওয়া যায়না, প্রেশার নিলেও খুব একটা কিছু ঢুকেনা। সেই ছোটবেলায় মুখ ডুবিয়ে পড়েছি হুমায়ুন আহমেদ। এবং একদিন বড় হয়ে গিয়েছি। বড় হওয়ার পর থেকে দিন দিন তার প্রতি বিরক্ত বেড়েছে। যে বিরক্তের সূচনা হয়েছিলো “জোছনা এবং জননীর গল্প” উপন্যাস পড়ে। রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের করা রক্তপাত শুকিয়ে গেছে, সেই সাথে শুকিয়ে গেছে আমাদের স্মৃতিও। আমরা আজ আবার মৌলবাদীদের সমর্থন করি কিংবা না করলেও তাদের চিন্তা-চেতনা ধারণ করি। আমাদের হুমায়ুন আহমেদরাও আমাদেরই মতো। তারাও জোছনা ও জননীর ঋণ শোধ করেন আমাদের রি-রাইটেবল মস্তিষ্কে “তিনারাও” ভালো কথাটি লিখে দেবার প্রচেষ্টা করে।

সাহিত্যে তিনি বিজ্ঞান ধর্ষণ করেছেন নিয়মিত। সাহিত্যে সেটা করা বোধহয় জায়েজ। উপন্যাস কিংবা গল্পে পিএইচডি করা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের কিংবা অন্য কারও মুখ দিয়ে বিজ্ঞানের রূপে অনর্গলে বয়ান করে গিয়েছেন কুসংস্কার। আমরা সহজ শব্দ এবং সরল বাক্য বিলাসী পাঠকেরা উপন্যাসে একটুখানি বিজ্ঞানের স্বাদ পেয়ে গপাগপ করে গিলে ফেলেছি সেটা কারণ সত্যিকারের বিজ্ঞান বই পড়াটা খুব বেদনাদায়ক। এতো কঠিন কঠিন শব্দ! ছোটবেলায় হুমায়ুন আহমেদের হাত ধরে বিশ্বাস করেছি টেলিপ্যাথি- অনেক রাত পার করেছিলাম দূরের নিশি আপুর সাথে কথা বলে বলে। বিশ্বাস করেছিলাম ইএসপি। বড় বেলায় এইসব কুসংস্কার অবাক হয়ে দেখলাম, ঝেড়ে ফেলেনি অনেকেই, তারা হয়তো শৈশব ভালোবাসে খুব, তাই বড় হয়েও শিশু থাকতে চায়। শুধু তাই নয় শিশুসুলভ ধ্যান ধারনার জন্য তারা গর্বও বোধ করতে চায়।

গল্প উপন্যাসের বাইরে তিনি আত্মকথনও করেছেন প্রচুর, দিয়েছেন প্রচুর সাক্ষাৎকার। অজস্র মানুষ তাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন, সেটা অনুভব করে তিনি মাঝেই মাঝেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার নিয়ে নিজের গুরুত্বপূর্ণ অভিমত জানান দিয়েছেন। এই যেমন স্টিফেন হকিং এর কথাতেই আসা যাক। বলা নেই, কওয়া নেই হঠাৎ হকিং তার গ্র্যান্ড ডিজাইন বইয়ের মাধ্যমে ঘোষণা করলেন- “ ঈশ্বর এবং আত্মা বলে কিছু নেই। স্বর্গ-নরক নেই। সবই মানুষের কল্পনা। মানব-মস্তিষ্ক হলো একটা কম্পিউটার। কারেন্ট চলে গেলে কম্পিউটার বন্ধ হয়ে যায়। মৃত্যু হলো মানব-মস্তিষ্ক নামক কম্পিউটারের কারেন্ট চলে যাওয়া” উদ্ধৃত অংশটুকু হুমায়ুন আহমেদের ‘মহেশের মহাযাত্রা’ লেখা থেকে উদ্ধৃত। ‘দ্য গ্র্যান্ড ডিজাইন’ সংক্রান্ত অভিমত তিনি বইটি পড়ে নয় দিয়েছেন বই সম্পর্কিত পত্রিকার প্রতিবেদন পড়ে। এরপরেই গুরুত্বপূর্ণ মতামত জাহির করার পালা। সে গুরুত্বপূর্ণ মতামত নিয়েই আজকের সামান্য লেখা। তিনি অলৌকিক পীর ছিলেন কিনা আমার জানা নেই, তবে প্রথম আলো তাকে বানাতে চায় নিশ্চিত। তার মহাপ্রয়াণ উদযাপন উপলক্ষে প্রথম আলো গত ২৭-০৭-২০১২ তে কিছু ‘অলৌকিক ঘটনার বয়ান’ শিরোনামে একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে যেখানে পীর সাহেব বেশ কিছু অলৌকিক ঘটনার বয়ান করেন। সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে বলার জন্য তিনি পুনরায় হকিং কে ডেকে এনে বলেন-

আমি মনে করি, ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে। আমি স্টিফেন হকিংয়ের একটা লেখা পড়লাম। প্রকৃতির মধ্যে কিছু নিদর্শন তো আছেই। তোমাকে একটা যুক্তি দিই, শোনো। এটা আমার সবচেয়ে প্রিয় যুক্তি। তুমি মঙ্গল গ্রহে গিয়েছ। সেখানে গিয়ে তুমি দেখলে পাহাড়, পর্বত, পাথর। পাথর দেখে তুমি বলবে, বহুকাল থেকে, সেই আদ্যিকাল থেকে পাথরগুলো এভাবেই আছে। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ তুমি দেখতে পেলে একটা নাইকন ক্যামেরা। তুমি সেটা হাতে নেবে। তখন তোমাকে বলতেই হবে, এর একজন স্রষ্টা আছে। ক্যামেরাটা হাতে নিয়ে তুমি এ কথা ভাবতে পারবে না যে শূন্য থেকে এটা আপনা-আপনি এসে হাজির হয়েছে। কারণ, এটা একটা জটিল যন্ত্র। এবার, আরেকটু এগিয়ে গেলে। কোত্থেকে একটা খরগোশ বেরিয়ে এসে তোমার দিকে তাকাল। নাইকন ক্যামেরা কী করে? ছবি তোলে। খরগোশ কী করে? অনেক কাজই করে। খরগোশের একটা কাজ হলো দেখা। এই খরগোশের চোখ নাইকন ক্যামেরার চেয়ে হাজার গুণ বেশি জটিল। নাইকন ক্যামেরাটা দেখে তোমার যদি মনে হয় যে এর একটা নির্মাতা থাকা দরকার, তাহলে খরগোশের বেলায় এটা তোমার মনে হবে না কেন? আমার প্রথম যুক্তি যদি গ্রহণ করো, আমার দ্বিতীয় যুক্তিটাও তোমাকে গ্রহণ করতে হবে।

ঈশ্বর আছে কি নেই সেই আলোচনা আজকে অবান্তর কিন্তু অবান্তর নয় হুমায়ুন আহমেদ ঈশ্বরের অস্তিত্ব ব্যবহার করতে যেয়ে যে যুক্তিটি তার ভক্ত সমাজে ছড়িয়ে দিলেন মীম আকারে সেই যুক্তির আলোচনা। তার এই বাক্যটুকুর শক্তি কতোটা এটা আমরা হয়তো অনেকেই জানি এবং এটাও জানি নেট জগতের এক কোনায় মুক্তমনা নামক ওয়েবসাইটে ছাপা হওয়া আমার এই ব্লগ খানির শক্তিহীনতা। তারপরও দলিল রইলো। ভিন্নমত খুঁজতে এসে কেউ যেনো বিফল না হয়।

নাইকন ক্যামেরা কাম ঘড়ি কাম খরগোস কাম চোখের গল্পযুক্তিটি প্রথম মাথায় এসেছিলো উইলিয়াম প্যালের সেই ১৮০২ সালে। এরপর থেকে দেশ থেকে দেশান্তরে অসংখ্য মানুষের মনে তার বসবাস। যুক্তিটির একটি গালভরা নামও আছে ‘ডিজাইন আর্গুমেন্ট’। এই আর্গুমেন্টটিতে জীব জগতের জটিলতা দেখে অতি চিন্তিত মানুষেরা কারিগর হিসেবে এক স্রষ্টার কথা ভেবেছে। আর আমি চিন্তিত অন্য আরেক বিষয় নিয়ে। ঘড়ির চেয়ে ঘড়ির কারিগর জটিল, চোখের চেয়ে চোখের কারিগর জটিল ঐকিক নিয়মে এই অংক সমাধান করার জন্য পরের লাইন লিখতে গিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে যাই, সেই অতি জটিল চোখের কারিগর তবে কিভাবে আপনা আপনি কিংবা এমনি এমনি সৃষ্টি হয়ে গেলেন? তাকে সৃষ্টি করতে কি আরও জটিল কোনো সৃষ্টিকর্তা প্রয়োজন না? সেই জটিল জটিল সৃষ্টিকর্তাই বা সৃষ্টি হলেন কিভাবে? এইসব কথা বললেই- আইসে ব্যাটা নাস্তিক। দুই কলম পইড়া বিদ্বান হয়া গেছে।

ঐকিক নিয়মের যাঁতাকলে পিষ্ট করা ছাড়াও নাইকন যুক্তিটি আরেকটি ঝামেলা সৃষ্টি করে। হুমায়ুন আহমেদ যেমন বলেছেন: আমার প্রথম যুক্তি যদি গ্রহণ করো, আমার দ্বিতীয় যুক্তিটাও তোমাকে গ্রহণ করতে হবে। প্রথম যুক্তিটিই বা কিভাবে গ্রহণ করি। সৃষ্টিবাদের বিপরীত তত্ত্ব তো প্রাণ এমনে এমনে সৃষ্টি হয়েছে তত্ত্ব না। বিবর্তনের পথে জীবের উদ্ভব ক্যামনে ক্যামনে হয়েছে তা প্রমাণ আকারে লিপিবদ্ধ হয়েছে/ হচ্ছে/ হতে থাকবে। প্যালের এই যুক্তির পর দুইশ বছরের বেশি অতিক্রান্ত হলো। কতো লক্ষ বার যুক্তির এই সীমাবদ্ধতাগুলো দেখানো হয়েছে, কতো লক্ষ ভাবে দেখানো হয়েছে তার তো হিসাব রাখা মুশকিল। তারপরও কেনো এই যুক্তি আমাদের এতো প্রিয় যুক্তি?

সেকথায় যাওয়ার আগে দ্য চোখ নামক জটিল অঙ্গটির এমনি এমনি ক্যামনে হবার কথা জানা যেতে পারে। যারা জানেন, তারা লাফ দেন।

ও পোড়া চোখ সমুদ্রে চল

ক্যামেরার মতো চোখেরও আলোকরশ্মি কেন্দ্রীভূত করার জন্য লেন্স, আলোকরশ্মির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আইরিশ, আর এই আলোকরশ্মি থেকে ছবি আবিষ্কার করার জন্য একটি ফটোরিসেপ্টর প্রয়োজন। এই তিনটি যন্ত্রাংশ একসাথে কাজ করলেই কেবল চোখ দিয়ে কিছু দেখা সম্ভব হবে। এমন জটিল একটা অঙ্গের উদ্ভব কেমন করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক হতে পারে?

ক্যামব্রিয়ান যুগে শরীরের ওপর আলোক সংবেদনশীল ছোট একটি স্থানবিশিষ্ট প্রাণীরা আলোর দিক পরিমাপের মাধ্যমে ঘাতক প্রাণীদের হাত থেকে বেঁচে যাওয়ার অতি সামান্য সুযোগ পেত। সময়ের সাথে সাথে এই রঙিন সমতল স্থানটি ভেতরের দিকে ডেবে গিয়েছে, ফলে তাদের দেখার ক্ষমতা সামান্য বেড়েছে। গভীরতা বাড়ার পাশাপাশি পরবর্তীকালে আলো ঢোকার স্থান সরু হয়েছে। অর্থাৎ দেখার ক্ষমতা আরও পরিষ্কার হয়েছে। প্রতিটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরিবর্তন প্রাণীকে সামান্য হলেও টিকে থাকার সুবিধা দিয়েছে। আর জগতে টিকে থাকাটাই সবচেয়ে বড় কাজ।

সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড্যান এরিক নিলসন গবেষণার মাধ্যমে বের করে দেখান যে, কীভাবে একটি প্রাণীর শরীরের ওপর আলোক সংবেদনশীল ছোট এবং রঙিন স্থান পরবর্তীকালে মানুষের চোখের মতো জটিল যন্ত্রে পরিবর্তিত হতে পারে।


ছবিঃ এক


ছবিঃ দুই

উপরের ছবি দুটি লক্ষ করুন। দ্বিতীয় ছবিতে একটি রুম, যেখানে একটি মাত্র বাতি বা আলোর উৎস আছে। প্রথম ছবিতে হাতে ধরা থাকা বোর্ডটি দিয়ে আমরা সে উৎসের দিকে তাকাই। সবচেয়ে বামের গর্তে সমতল কাগজ লাগানো। যার মাধ্যমে আমরা শুধু বুঝতে পারছি আলো আছে। কিন্তু কোথা থেকে আলো বের হচ্ছে কিংবা বাতিটি কোথায় তেমন কিছুই জানা যাচ্ছে না। তারপরের গর্তে একটি পিংপং বল রাখা। যে বলটির আলো প্রবেশের স্থানটি চওড়া আর গভীরতা কম। এর মাধ্যমে আগের সাদা কাগজ থেকে কিছুটা ভালোভাবে আলোর উৎস সম্পর্কে ধারণা করা সম্ভব হচ্ছে। তার পরেরটার আলো প্রবেশের স্থান আগেরটার চেয়ে সংকুচিত এবং গভীরতা বেশি। সর্ব ডানেরটার আলো প্রবেশের স্থান সবচেয়ে সংকুচিত এবং গভীরতা সবচেয়ে বেশি। আর এটি দিয়েই আমরা সবচেয়ে ভালোভাবে আলোটির উৎস বুঝতে পারছি।

এখন প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রতিটি পরিবর্তনই প্রাণীকে কিঞ্চিৎ হলেও আক্রমণকারীর হাত থেকে বাঁচার সুবিধা প্রদান করেছে। যারা সামান্য দেখতে পাচ্ছে তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেড়েছে, বেড়েছে তাদের সন্তান বংশবৃদ্ধির সম্ভাবনা। অপরদিকে অথর্বরা হারিয়ে গেছে। ধীরে ধীরে বংশানুক্রমে উন্নতি হয়েছে দৃষ্টিশক্তির। সময়ের সাথে সাথে শুরুর এই আলোক সংবেদনশীল স্থান রেটিনায় পরিণত হয়েছে, সামনে একটি লেন্সের সৃষ্টি হয়েছে।

স্বচ্ছ তরলে পরিপূর্ণ।

স্বচ্ছ তরলে পরিপূর্ণ।

তরল ঘন হচ্ছে

তরল ঘন হচ্ছে

ঘন হতে হতে লেন্সের সৃষ্টি

ঘন হতে হতে লেন্সের সৃষ্টি

ধারণা করা হয়, প্রাকৃতিক ভাবে লেন্সের সৃষ্টি হয়েছে যখন চোখকে পূর্ণ করে রাখা স্বচ্ছ তরলের ঘনত্ব সময়ের সাথে সাথে বেড়েছে। উপরে দেখুন, সাদা অংশটি তৈরি হচ্ছে চোখকে পূর্ণ করে রাখা স্বচ্ছ তরলের মাধ্যমে। তরলের ঘনত্ব যত বেড়েছে লেন্সের গঠন তত ভালো হয়েছে, প্রখর হয়েছে দৃষ্টিশক্তি।

বলে রাখা প্রয়োজন বিজ্ঞানীদের দ্বারা বর্ণিত চোখের বিবর্তনের প্রতিটি স্তর বর্তমানে জীবিত প্রাণীদের মধ্যেই লক্ষ করা যায়। এছাড়াও শুধু আলোক সংবেদনশীল স্থান বিশিষ্ট প্রাণী ছিল আজ থেকে ৫৫ কোটি বছর আগে। বিজ্ঞানীরা গণনা করে বের করেছেন, এই আলোক সংবেদনশীল স্থানটি মানুষের চোখের মতো হওয়ার জন্য সময় প্রয়োজন মাত্র ৩৬৪ হাজার বছর।

উৎপত্তি নিয়ে তো জানা হলো। কিন্তু চোখটা কি আসলেই সুনিপুণ কোনো অঙ্গ?

মানুষের চোখের অক্ষিপটের ভেতরে এক ধরনের আলোগ্রাহী কোষ আছে যারা বাইরের আলো গ্রহণ করে এবং একগুচ্ছ অপটিক নার্ভের (আলোকগ্রাহী জাল) মাধ্যমে তাকে মস্তিষ্কে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করে, ফলে আমরা দেখতে পাই। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, অক্ষিপটের ঠিক সামনে এই স্নায়ুগুলো জালের মতো ছড়ানো থাকে, এবং এই স্নায়ুগুলোকে যে রক্তনালীগুলো রক্ত সরবরাহ করে তারাও আমাদের অক্ষিপটের সামনেই বিস্তৃত থাকে। ফলে আলো বাধা পায় এবং আমাদের দৃষ্টিশক্তি কিছুটা হলেও কমে যায়। স্নায়ুগুলোর এই অসুবিধাজনক অবস্থানের কারণে আমাদের চোখে আরেকটি বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্নায়বিক জালটি মস্তিষ্কে পৌঁছনোর জন্য অক্ষিপটকে ফুটো করে তার ভিতর দিয়ে পথ করে নিয়েছে। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে একটি অন্ধবিন্দুর (blind spot) ।


চিত্র : মানুষের চোখের ভেতরে তৈরি হওয়া অন্ধবিন্দু।

কুকুর, বিড়াল কিংবা ঈগলের দৃষ্টিশক্তি যে মানুষের চোখের চেয়ে বেশি তা সবাই জানে। মানুষ তো বলতে গেলে রাতকানা, কিন্তু অনেক প্রাণীই আছে রাতে খুব ভালো দেখতে পায়। আবার অনেক প্রাণীই আছে যাদের চোখে কোনো অন্ধবিন্দু নেই। যেমন, স্কুইড বা অক্টোপাস। এদের মানুষের মতোই এক ধরনের লেন্স এবং অক্ষিপটসহ চোখ থাকলেও অপটিক নার্ভগুলো অক্ষিপটের পেছনে অবস্থান করে এবং তার ফলে তাদের চোখে কোনো অন্ধবিন্দুর সৃষ্টি হয় নি।
গুড ডিজাইনের আলোচনা যেহেতু বার বার চোখকে ডেকে আনে তাই কিছু বদ মানুষ চোখের এই সীমাবদ্ধতাকে ‘ব্যাড ডিজাইন’ বলে অভিহিত করেন। অবশ্য চোখ দিয়ে যেহেতু ভালোভাবেই কাজ চালিয়ে নেওয়া যাচ্ছে তাই ‘ব্যাড ডিজাইন’-এর মতো শব্দ প্রয়োগে নারাজ জীববিজ্ঞানী কেনেথ মিলার। তাঁর মতে, চোখের এমন হওয়ার কারণ বিবর্তন তত্ত্ব দিয়ে বেশ ভালোভাবে বোঝা যায়। বিবর্তন কাজ করে শুধু ইতোমধ্যে তৈরি বা বিদ্যমান গঠনকে পরিবর্তন করার মাধ্যমে। মানুষের মতো মেরুদণ্ডী প্রাণীর চোখের উদ্ভব হয়েছে অনেক আগেই সৃষ্টি হওয়া মস্তিষ্কের বাইরের দিকের অংশকে পরিবর্তন করে। বহুকাল ধরে বিবর্তন প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্কের বাইরের দিক আলোক সংবেদনশীল হয়েছে, তারপর ধীরে ধীরে অক্ষিপটের আকার ধারণ করেছে। যেহেতু মস্তিষ্কের পুরোনো মূল গঠনটি বদলে যায় নি, তাই জালের মতো ছড়িয়ে থাকা স্নায়ুগুলোও তাদের আগের অবস্থানেই রয়ে গেছে। কিন্তু অন্যদিকে স্কুইড জাতীয় প্রাণীর চোখ বিবর্তিত হয়েছে তাদের চামড়ার অংশ থেকে, মস্তিষ্কের অংশ থেকে নয়। এক্ষেত্রে ত্বকের স্নায়ুগুলো মস্তিষ্কের মতো ঠিক বাইরের স্তরে না থেকে ভেতরের স্তরে সাজানো থাকে, আর এ কারণেই স্নায়ুগুলো চোখের অক্ষিপটের সামনে নয় বরং পেছনেই রয়ে গেছে। চোখের ক্ষেত্রে তাই গুড ডিজাইন বা ব্যাড ডিজাইন তর্ক অপ্রাসঙ্গিক। এটাকে তো ডিজাইনই করা হয় নি।

বিবর্তনের পথে অন্তত চল্লিশ রকমভাবে চোখ তৈরি হতে পারত। আলোক-রশ্মি শনাক্ত এবং কেন্দ্রীভূত করার আটটি ভিন্ন উপায়ের সন্ধান দিয়েছেন নিউরো-বিজ্ঞানীরা। কিন্তু পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক নির্বাচনের যুদ্ধে অসংখ্য সমাধানের মধ্যে একটি সমাধান টিকে গিয়েছে। সংক্ষেপে, চোখের গঠন যদি বাইরের কারও হস্তক্ষেপ ব্যতীত, শুধু বস্তুগত প্রক্রিয়ায় উদ্ভব হতো তাহলে দেখতে যেমন হওয়ার কথা ছিল ঠিক তেমনই হয়েছে। চোখের গঠনে কারও হাত নেই, নেই কোনো মহাপরাক্রমশালী নকশাকারের নিপুণতা।

তারপরও আমরা মানিনা কেনো, কেনো, কেনো?

আগেই বলেছি, নাইকন ক্যামেরার এই গল্পের উৎপত্তি হয়েছে সেই ১৮০২ সালে কিংবা হয়তো আরও আগে। মজার ব্যাপার হলো, ১৮২৭ সালে চার্লস ডারউইন (মৃত্যু : ১৮৮২) যখন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে পড়াশোনা করার জন্য, তখন তাঁকে বরাদ্দ করা হয় ৭০ বছর আগে উইলিয়াম প্যালে যে কক্ষে থাকতেন সেই কক্ষটিই। ধর্মতত্ত্বের সিলেবাসে ততদিনে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাওয়া প্যালের কাজে গভীরভাবে আলোড়িত ডারউইন পরবর্তীকালে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘ইউক্লিডের রচনা আমাকে যেরকম মুগ্ধ করেছিল ঠিক সেরকম মুগ্ধ করেছিল প্যালের বই’। কিন্তু পরবর্তীকালে এই ডারউইনই প্যালের প্রশ্নের বৈজ্ঞানিক জবাব দানের মাধ্যমে এই যুক্তিকে সমাধিস্থ করেন। তারপর থেকে অসংখ্য বার এই যুক্তিকে সমাধিস্থ করা হয়েছে। কিন্তু প্যালের ঘড়ি কিংবা হুমায়ুনের ক্যামেরার মৃত্যু নেই, সমাধিস্থ হওয়া তো দূরের কথা।

কিন্তু কেন? বোধহয় আমাদের বিশ্বাস নামক গুনটির জন্যই। আমরা মানুষেরা বিশ্বাসে বিশ্বাসী। আমাদের এই বিশ্বাস নামক গুনটির বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বিশ্বাস নামক এই সহজাত প্রবৃত্তির কারণে যেকোনো ঘটনা প্রত্যক্ষ করার সময় আমরা কেবল মাত্র যা ‘দেখতে চাই’ সেটাই দেখি, ঘটনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে উপসংহারে পৌঁছাবার কথা থাকলেও বিশ্লেষণে না গিয়ে আমরা সাধারণ যেই উপসংহারে পৌঁছাতে চাই, সেখানেই পৌঁছাই। উদাহরণ হিসেবে পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোর কথা বলা যায়। রাশাদ খলিফা নামক এক ব্যক্তি কোরান শরীফ পর্যালোচনার মাধম্যে প্রমাণ করেছিলেন, মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরীফকে আল্লাহ উনিশ নামক সংখ্যা দ্বারা বেঁধে দিয়েছেন। তার এই বিশ্লেষণের পরেই বিভিন্ন মানুষেরা তার বিশ্লেষণের ফাঁক তুলে ধরে দেখিয়েছিলেন খলিফা আসলে ছলচাতুরী ছাড়া আর কিছু করেন নি। কিন্তু মুসলমানদের কাছ খলিফার বিশ্লেষণ যতোটা জনপ্রিয় হয়েছে তার তুলনায় একেবারেই ভাত পায়নি ভিন্ন মানুষদের করা তার বিশ্লেষণের বিশ্লেষণ। কারণ মুসলমানরা পবিত্র কোরআন যে একটি অলৌকিক গ্রন্থ মনে প্রাণে সেটা বিশ্বাস করে। রাশাদ খলিফা যেহেতু এই অলৌকিকতার একটি প্রমাণ হাজির করেছেন তাই সেটি তারা বিনা দ্বিধায় গ্রহণ করেছেন, তাঁদের মাথাতেই আসেনি এটা ভুল হবার সম্ভাবনার কথা। সবক্ষেত্রেই দেখা যায়, আমাদের আগে থেকে ধারণ করা বিশ্বাসের সাথে খাপে খাপ মেলে এমন ঘটনা আমরা যুগের পর যুগ, শতবর্ষের পর শতবর্ষ মনে রাখি, আর মুহূর্তের মাঝে আস্তা-কুড়ে ফেলে দেই, যা মেলেনি আমাদের বিশ্বাসের সাথে। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সাথে আমাদের পূর্ববর্তী বিশ্বাসের বিরোধ না থাকায় আমরা সেটা বিনা দ্বিধায় বিশ্বাস করেছি আবার একই সাথে বিনা দ্বিধায় অবিশ্বাস করেছি বিবর্তনকে। ফ্রান্সিস বেকন এসব দেখেই হয়তো বলেছিলেন- ‘আমরা কেবল মাত্র সেটাই বিশ্বাস করি, যেটা আমাদের কাছে সত্য মনে হয়’। ঠিক তাই, যৌক্তিকভাবে বাঁদরের আত্মীয় হবার চেয়ে বড় ব্যাপার হলো আমরা নিজেরা কি হতে চাই, আমাদের পূর্ববর্তী বিশ্বাস আমাদের কি হবার কথা বলছে। বিশ্বাস আমাদের কাছে অনেকটা পার্থিব সম্পদের মতো। কখনও বংশানুক্রমে আমরা বিশ্বাসের মালিক হই, কখনো জমি-জমার মতো অন্যের বিশ্বাস গ্রহণ করি আবার কখনোবা বিশ্বাস ত্যাগ করি। আমাদের বিশ্বাস আমাদের পরিচয় প্রকাশ করে।

আমাদের ধারণকৃত অসংখ্য বিশ্বাসের দিকে তাকালে দেখা যায় এই বিশ্বাসগুলো মূলত কোনো ঘটনার উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা কিংবা ঘটনাটির অভীষ্ট লক্ষ্যের উত্তর। আমরা মানুষেরা শুধু কাজ সহ্য করতে পারিনা- কাজ দেখলেই আমরা ধরে নেই অবশ্যই কাজটা হবার পেছনে কোনো কারণ আছে- আগে cause তারপর effect। শুধু কাজের কথা জেনে আমরা শান্তিতে থাকতে পারিনা, আমরা কারণ খুঁজি। দুনিয়াবি সব ঘটনার সঠিক কারণ জানা ক্ষুদ্র মানুষের পক্ষে অসম্ভব কিন্তু যে মানুষেরা নিজেদের সৃষ্টি সেরা জীব দাবী করে তারা অল্প খরচে সকল ঘটনার কারণ জানা পার্টি। তাদের সকল ধরণের কারণের কারণ ঈশ্বর। এবং তারপর দাঁড়ি মানে একেবারে দাঁড়ি। ঈশ্বরের কারণ জানা যাবেনা।

এ কথাগুলো নতুন করে বলার কিছু ছিল না। অবিশ্বাসের দর্শন বইয়ে আমরা ইতোমধ্যেই এগুলো বলেছিলাম, মুক্তমনার বিবর্তন আর্কাইভেও প্যালের যুক্তির খণ্ডন আছে।  উইকিতেও চোখের বিবর্তন খুব পরিস্কার করেই বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে । তারপরেও আমাদের দুর্ভাগ্য, সেই পুরোন কথাই আবারো নতুন করে বলতে হয়। পীরের দাপট তো কম নয়! সে যাই হোক, গতকাল খবর পেলাম মুক্তমনা ব্লগার শফিউল জয় অবিশ্বাসের দর্শন বইটার চমৎকার একটা রিভিউ করেছেন, সেটি বের হয়েছে বইয়ের জগৎ এর এবারের সংখ্যায় (নবম সংকলন)। সেখানে তিনি লিখেছেন  –

…হুমায়ূন আহমেদ তাঁর আরেকটি লেখায় মঙ্গলগ্রহে ক্যামেরা পাওয়ার উদাহরণ টেনে ঈশ্বরের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে একটা অবৈজ্ঞানিক লেখা লিখেছিলেন,

“…যদি মঙ্গল গ্রহে হাঁটতে হাঁটতে একটা ডিজিটাল নাইকন ক্যামেরা পেয়ে যান, তাহলে তাঁকে বলতেই হবে এই ক্যামেরা আপনা-আপনি হয় নি। এর একজন সৃষ্টিকর্তা আছে।” [হুমায়ূন আহমেদ, মহেশের মহাযাত্রা, কালের কণ্ঠ, ১৭ জুন ২০১১]

এই ডিজাইন আর্গুমেন্টের বিপক্ষ যুক্তি অনেক আগেই অবিশ্বাসের দর্শন বইতে দেয়া আছে দ্বিতীয় অধ্যায়ে। লেখকেরা জানিয়েছেন, উইলিয়াম প্যালে ১৮০২ সালে প্রকাশ করেন ‘Natural Theology, or Evidence of Existence and Attributes of the Deity, Collected from the Appearances of Nature’ নামের বইটি। ধর্ম ও দর্শনের এই বিখ্যাত বইয়ে প্যালে রাস্তার ধারে একটি ঘড়ি এবং পাথর পড়ে থাকার উদাহরণ হাজির করেছিলেন …

নিঃসন্দেহে ঘড়ির (কিংবা ধরা যাক হুমায়ূন আহমেদের ক্যামেরার কথাই) গঠন পাথরের মতো সরল নয়। একটি ঘড়ি দেখলে বোঝা যায় – ঘড়ির ভিতরের বিভিন্ন ছোট ছোট অংশগুলো কোনো এক কারিগর এমনভাবে তৈরি করেছেন যেন সেগুলো সঠিকভাবে সমন্বিত হয়ে কাঁটাগুলোকে ডায়ালের চারপাশে মাপমতো ঘুরিয়ে ঠিকঠাক মতো সময়ের হিসেব রাখতে পারে। কাজেই পথে ঘড়ি কুড়িয়ে পেলে যে কেউ ভাবতে বাধ্য যে ওখানে আপনাআপনি ঘড়ির জন্ম হয়নি বরং এর পেছনে একজন কারিগর রয়েছেন যিনি অতি যত্ন করে একটি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ঘড়িটি তৈরি করেছেন। ধর্মবেত্তা উইলিয়াম প্যালে যেখানে ঘড়ির কথা বলেছিলেন, হুমায়ূন আহমেদ একই ধরনের যুক্তির অবতারণা করেছেন মঙ্গল গ্রহে ‘হাঁটতে হাঁটতে’ একটা ডিজিটাল ‘নাইকন ক্যামেরা’ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে। বলাবাহুল্য, আমরা জানি এই জনপ্রিয় ভাববাদী যুক্তিগুলো খণ্ডিত হয়েছে অন্তত কয়েক দশক আগেই। বস্তুত ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব আসার পর প্যালের ডিজাইন-তত্ত্বের অপমৃত্যুই ঘটেছে বলা যায়। যেমন, জীবজগতে চোখ বা এ ধরনের জটিল প্রত্যঙ্গের উদ্ভব ও বিবর্তনের পেছনে ডারউইন প্রস্তাব করেছিলেন প্রাকৃতিক নির্বাচন নামক বস্তুবাদী প্রক্রিয়ার, যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লাখ লাখ বছর ধরে ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা পরিবর্তনের ফলে চোখের মতো অত্যন্ত জটিল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গড়ে ওঠা সম্ভব। একাধিক ধাপে ঘটা এ প্রক্রিয়াটির নাম ক্রমবর্ধমান নির্বাচন (Cumulative selection)। একাধিক ধাপের এই ক্রমবর্ধমান নির্বাচনের মাধ্যমে যে ধাপে ধাপে জটিল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উদ্ভূত হতে পারে তা ইতোমধ্যেই বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। বইয়ের লেখকেরা অজস্র রেফারেন্সের মাধ্যমে বিষয়টি পাঠকদের জন্য পরিষ্কার করেছেন। ডারউইনের অনেক আগে জন্মানো প্যালেকে না হয় ক্ষমা করা যায় বিবর্তন তত্ত্ব না জানা থাকার অজুহাতে – ১৮০২ সালের একটি লেখায় ঝোপঝাড়ে পড়ে থাকা ঘড়ির মধ্যে ঈশ্বর আবিষ্কার করতে, কিন্তু এর দুশ বছর পরে যখন বিবর্তন একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যাপার, যখন স্টিফেন হকিং-এর মতো পদার্থবিদেরা ঈশ্বরের অনুকল্প ছাড়াই মহাবিশ্বের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করতে পারছেন (এ প্রসঙ্গে স্টিফেন হকিং এবং লিওনার্ড ম্লোডিনোর লেখা The Grand Design বইটি পড়া যেতে পারে), এই আধুনিক সময়ের বাসিন্দা হয়েও হুমায়ূন আহমেদ এখনো মঙ্গল গ্রহে ক্যামেরার দোহাই দিয়ে ঈশ্বরকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন, এটি দেখেই বরং অবাক হতে হয়; রবিঠাকুরের ভাষায় – ‘বড় বিস্ময় লাগে হেরি তোমারে’! …

যেকোনো ঘটনা দেখলেই এর পেছনে উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা বা ঘটনাটির লক্ষ্যের কথা আমাদের মাথায় আসে বলে বিবর্তনের মতো একটি লক্ষ্যহীন বাস্তবতা আমরা এখনও গ্রহণ করতে পারিনি। এককোষী ব্যাকটেরিয়া একদিন বড় হয়ে হুমায়ুন আহমেদ হবে এমন চিন্তা করে নিজেদের বিবর্তন করা শুরু করেনি। বিবর্তন হলুদ হিমুর মতো লক্ষ্যহীন, উদ্দেশ্যহীন। লক্ষ্যহীনতা, উদ্দেশ্যহীনতা আমাদের ভালো লাগেনা। আমরা লক্ষ চাই, উদ্দেশ্য চাই। আমরা ঈশ্বরকে চাই। আমরা চিন্তাহীন, শান্তিময় জীবন যাপন করতে চাই।

আমাদের সমাজে হুমায়ুন আহমেদ আর নাইকনের গল্প জনপ্রিয় হবেনা তো কি মঙ্গলগ্রহে হবে?

জন্মেছি ঢাকায়, ১৯৮৬ সালে। বিজ্ঞানমনস্ক যুক্তিবাদী সমাজের স্বপ্ন দেখি। সামান্য যা লেখালেখি, তার প্রেরণা আসে এই স্বপ্ন থেকেই। পছন্দের বিষয় বিবর্তন, পদার্থবিজ্ঞান, সংশয়বাদ। লেখালেখির সূচনা অনলাইন রাইটার্স কমিউনিটি সচলায়তন.কম এবং ক্যাডেট কলেজ ব্লগে। এরপর মুক্তমনা সম্পাদক অভিজিৎ রায়ের অনুপ্রেরণায় মুক্তমনা বাংলা ব্লগে বিজ্ঞান, সংশয়বাদ সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা শুরু করি। অভিজিৎ রায়ের সাথে ২০১১ সালে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় শুদ্ধস্বর থেকে প্রকাশিত হয় প্রথম বই 'অবিশ্বাসের দর্শন' (দ্বিতীয় প্রকাশ: ২০১২), দ্বিতীয় বই 'মানুষিকতা' প্রকাশিত হয় একই প্রকাশনী থেকে ২০১৩ সালে। তৃতীয় বই "কাঠগড়ায় বিবর্তন" প্রকাশিতব্য। শৈশবের বিদ্যালয় আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং এসওএস হারমান মেইনার কলেজ। কৈশোর কেটেছে খাকিচত্বর বরিশাল ক্যাডেট কলেজে। তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করি ২০০৯ সালে, গাজীপুরের ইসলামিক প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (আইইউটি) থেকে। এরপর দেশের মানুষের জন্য নিজের সামান্য যতটুকু মেধা আছে, তা ব্যবহারের ব্রত নিয়ে যোগ দেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগে। প্রথিতযশা বিজ্ঞানী অধ্যাপক সিদ্দিক-ই-রব্বানীর নেতৃত্বে আরও একদল দেশসেরা বিজ্ঞানীর সাথে গবেষণা করে যাচ্ছি তৃতীয় বিশ্বের মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি উদ্ভাবনে।

মন্তব্যসমূহ

  1. জ্ঞান ভিখারী আগস্ট 7, 2012 at 1:08 পূর্বাহ্ন - Reply

    ভাল লাগল পোস্ট টা পড়ে… যদিও পক্ষে-বিপক্ষে কিছু প্রশ্ন থাকে, তবু অনেক তথ্যবহুল পোস্ট… ধইন্যা… 🙂

    • রায়হান আবীর আগস্ট 11, 2012 at 7:32 অপরাহ্ন - Reply

      @জ্ঞান ভিখারী,

      খালি প্রশ্ন থাকলে হবে, প্রশ্ন করতে হবেনা? 😀

  2. শফিউল জয় আগস্ট 3, 2012 at 5:58 অপরাহ্ন - Reply

    রায়হান স্যারের লেখা বরাবরই ভাল্লাগে। (H)

    আরেকটা কথা মনে পড়ল, দুই টাকা দামের এক পেপারে হুমায়ূন স্যার ত্যাছড়ামি করছিল। সেই লেখাটা পরে উদ্ধার করতে পারি নাই, কিন্তু পড়ছিলাম। ওইখানে আত্মা নিয়া ভুজুং ভাজুং চলছিল বেশ। আমি আপনাকে আর অভিজিৎ দা’কে এত করে বললাম যে বাইচা থাকতে থাকতে লোকটারে আপনাদের বইয়ের একটা কপি পাঠান, পাঠাইলেন না। ;-( ;-(

    • রায়হান আবীর আগস্ট 11, 2012 at 7:32 অপরাহ্ন - Reply

      @শফিউল জয়,

      দোযখে যাইয়া প্রদান করুম। তার আগে টুটুল ভাইরে বলতে হবে একটা লোহা এডিশন করতে, যেনো আগুনটা সামান্য হইলেও সইতে পারে 😛

  3. Invar Brass আগস্ট 3, 2012 at 12:34 অপরাহ্ন - Reply

    প্রজন্ম ফোরামে এ বিষয়ে (এবং এর স্পিনঅফ আরেকটি থ্রেডে) বেশ গরমাগরম আলোচনা চলছে কিছুদিন ধরে।

    • অভিজিৎ আগস্ট 7, 2012 at 8:25 পূর্বাহ্ন - Reply

      @Invar Brass,

      প্রজন্ম ফোরামে আলোচনা এবং আপনার চমৎকার উত্তরগুলো দেখলাম। বিশেষ করে মিশরের মমি নিয়ে আপনার উত্তরটি খুবই তথ্যবহুল এবং উপভোগ্য।

      মুক্তমনায় লিখলে এবং আলোচনায় অংশ নিলে খুশি হব।

      • Invar Brass আগস্ট 9, 2012 at 10:37 অপরাহ্ন - Reply

        @অভিজিৎদা, ধন্যবাদ!
        মুক্তমনায় রেজিস্টার করতে গিয়েছিলাম বেশ কিছুদিন আগে। কোনো টেকনিকাল সমস্যার কারণে আগাতে পারি নি। আবার ট্রাই করে দেখবো।

        অফটপিক: আপনার খোমাখাতার প্রোফাইলে ফ্রেন্ডলিস্টে দেখলাম কয়েক জন পরিচিত মানুষ। রায়হান আমার ক্লাসমেট (এখন বোধহয় স্টকহোমে সাইকায়াট্রী পড়ছে)। যোহেবের বড় ভাই আমার ছোটবেলার বন্ধু।

        ভালো থাকুন।

        • অভিজিৎ আগস্ট 10, 2012 at 1:49 পূর্বাহ্ন - Reply

          @Invar Brass,

          মুক্তমনায় রেজিস্টার করতে গিয়েছিলাম বেশ কিছুদিন আগে। কোনো টেকনিকাল সমস্যার কারণে আগাতে পারি নি। আবার ট্রাই করে দেখবো।

          আসলে মুক্তমনায় সদস্যদের রেজিস্টার করার অপশন রাখা হয়নি। আপনাকে এখানে কিছুদিন মন্তব্য করে যেতে হবে। নীতিমালার ১.৪ অংশটা দেখতে পারেন।

          অফটপিক: আপনার খোমাখাতার প্রোফাইলে ফ্রেন্ডলিস্টে দেখলাম কয়েক জন পরিচিত মানুষ। রায়হান আমার ক্লাসমেট (এখন বোধহয় স্টকহোমে সাইকায়াট্রী পড়ছে)। যোহেবের বড় ভাই আমার ছোটবেলার বন্ধু।

          আপনি ঠিক কোন রায়হানের কথা বলছেন বুঝতে পারলাম না, নিঃসন্দেহে এই লেখার লেখক রায়হান নন। এ দিব্যি বাংলাদেশে বসে বসে পিএইচডি করার নাম করে ঘোড়ার ঘাষ কাটছে। 🙂 অসুবিধা না থাকলে খোমাখাতায় একটা ম্যাসেজ দিতে পারেন…

          • রায়হান আবীর আগস্ট 11, 2012 at 7:24 অপরাহ্ন - Reply

            @অভিজিৎ দা,

            আমাদের অছাম ল্যাবরে আপনি ঘোড়ার ঘাস কাটা পার্টি বানায়ে দিলেন, না হয় আমরা আম্রিকা থাকিনা। আপনার উপর ঠাডা পড়তেও তো লজ্জা পাবে :))

        • রায়হান আবীর আগস্ট 11, 2012 at 7:25 অপরাহ্ন - Reply

          @Invar Brass,

          প্রজন্ম ফোরামে আপনার আলোচনা সেদিনই দেখেছি। চমৎকার। এখানে নিয়মিত লিখুন সেইটাই চাই 🙂

  4. জাফর সাদিক চৌধুরী আগস্ট 2, 2012 at 10:00 অপরাহ্ন - Reply

    লেখাটা যে দিন পোস্ট করেছেন সেদিনই পড়েছিলাম। মন্তব্য করতে পারি নি। এই ধরণের একটা ডোজ খুব দরকার ছিল। অতিভক্ত কিছু লোককে পেয়েছিলাম ফেসবুকে ফ্রেন্ডলিস্টে। তারা পারলে হুমায়ূনকে পুজা শুরু করে দেন।

    ব্যাপারটা এমন যে হুমায়ূনের মৃত্যুর পর তিনি সব সমালোচনার উর্ধ্বে উঠে গেছেন।

    কয়েকদিন আগে একজনের স্ট্যাটাস: “ইশ্ আমি এখনও আশা করি যদি হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুটা একটা দুঃস্বপ্ন হয়। আমি জেগে দেখি তিনি বেঁচে আছেন।

    :-[

    • রায়হান আবীর আগস্ট 11, 2012 at 7:26 অপরাহ্ন - Reply

      @জাফর সাদিক চৌধুরী,

      মন্তব্যটা যেদিন করেছেন সেদিনই দেখেছি। উত্তর দিতে দেরি করে ফেললাম 🙂

      হুমার ভক্তদের কথা আর বইলেন না। উনি মারা যাওয়ার পর আমি দুইদিন ফেসবুকে ঢুকিই নাই, ভক্তদের ক্রন্দনের তোড়ে।

  5. পাপিয়া চৌধুরী আগস্ট 2, 2012 at 3:47 অপরাহ্ন - Reply

    ধন্যবাদ লেখককে। বড় দরকারি লেখা লিখলেন। (F)

    হুমায়ূন আহমেদ জনপ্রিয় ছিলেন। তাই তিনি জনপ্রিয় মতামতের বিপরীতে যেতেন না। বিজ্ঞানের শিক্ষক হয়েও এইসব কুযুক্তি দিয়ে ঈশ্বরের অবদানের গান গাওয়া ঐ কারণেই।
    তিনি তাই করতেন যাতে তাঁর ফেম কোশেন্ট অক্ষুণ্ণ থাকে। যত যাই বলুন এত্ত বড় বইয়ের বাজারের লোভ সামলানো সোজা কথা?
    হিমুর সৃষ্টিকর্তা হিমুর মত নির্লোভ ছিলেন বলে মনে হয়না। নাইলে এতগুলো বাড়ি,জায়গা-জমির মালিক হওয়া সম্ভব হত না। আর হিমু ব্যাটার তো এক জোড়া জুতাও নেই!

    যাই হোক, তাঁর টাকায় তিনি বাড়ি করেছেন, গাড়ি করেছেন। এ নিয়ে মন্তব্য করা অনধিকার চর্চার মধ্যে পড়ে। তাছাড়া তিনি এমন কোথাও কিছু লিখেছেন বা বলেছেন বলে মনে পড়েনা, যে তিনি হিমুর মত বড়ই নির্লোভ।
    আর কি বলব ভাই, জাতীয় রক্ত বাঙ্গালী তো, অনধিকার চর্চা তাই হুজুগের মধ্যে চলে আসে 😛 । মাফ করবেন।

    তবে যে কথা না বললেই নয়- হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর অনেকেই সাহিত্যিক ধাক্কায় আকস্মিক কাতর হয়ে উঠলেন। জীবিত হুমায়ুনের চাইতে, মৃত হুমায়ুনের ছবি বেশী ব্রাউস করতে লাগলেন। একেকজন তাঁর জীবনের আদ্যোপান্ত,নাড়ীনক্ষত্র (কিংবা নারীনক্ষত্র :)) ) নিয়ে পড়তে পড়তে PhD, Ms ইত্যাদি বিবিধ ডিগ্রি নিয়ে ফেললেন।

    তেমনি কয়েকজনের মন্তব্য- হুমায়ুন আহমেদ খুবই মহান ছিলেন। আমি বুঝিনা ভারতীয় উপমহাদেশের তাবৎ মানুষ এমন হয় কেন?সাময়িক ভাবে শীর্ষ আলোচনায় থাকা কোনো মানুষকে তারা চট করে মহান, মহৎ, সুবিশাল দেবত্ব দিয়ে বসে। ওয়ার্ল্ডকাপের শিরোপার মত এই একই খেতাব আবার তারা একেক সময় একেক জনকে দিতে থাকে।
    প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এ পি জে আব্দুল কালাম প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশনে গররাজী হওয়ার পর সমগ্র ভারতবাসী বিবিধ সোশ্যাল নেটয়র্ক সাইটে তাঁকে ভারচুয়াল দেবত্ব দিয়ে বসে। ফুলের মালা, ধূপধুনা সব তাঁর বিভিন্ন ছবিতে এডিট করে বসানো হয় সম্মানের মাত্রা বুঝাতে, তারপর গণহারে শেয়ার। আমার ধারণা, সম্মানের এই হিড়িকে আব্দুল কালাম নিজেও কম তটস্থ ছিলেন না। তারপর কিছুদিনের মধ্যেই সব ভোঁজবাজির মত মিলিয়ে গেল। কাউকে সাম্প্রতিক আবেগে সম্মান করতে গিয়ে দেবত্বের আসনে বসিয়ে দেওয়া, আবার হুজুগ ছুটলেই সেই আসন থেকে সরিয়ে দেওয়া- এ কোনরকম সম্মান বুঝিনা।
    কেন, কবি,সাহিত্যিক,আঁকিয়ে, বিজ্ঞানি হওয়ার জন্য দেবতা হওয়া কি খুব জরুরী? মানুষ এ কাজ পারে না?

    আরো শুনলাম হুমায়ূন আহমেদ নাকি খুবই প্রচারবিমুখ নিভৃতচারী ছিলেন। একটু উদ্ভট লাগল কথাটা,প্রচারবিমুখ ও নিভৃতচারী একজন লেখকের লেখা গুপ্তকক্ষ থেকে বের করে এনে পাঠকসমাজ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে, এত বুদ্ধি বাঙ্গালীর কবে থেকে হল ভাববার চেষ্টা করলাম 😕 ।

    অন্য একজন তো অতি আবেগে তাঁর ভাইদের তুলনাও নিয়ে এলেন। যে জাফর ইকবাল আর আহসান হাবীব তো ম্যাথ অলিম্পিয়াড, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড,উন্মাদ এই সেই প্রচারণা করে বেড়ান।
    কিন্তু হুমায়ুন কখনো তা করেন নি। তিনি এতটাই প্রচারবিমুখ!!!!
    একথা শুনার পর আমার নিজেকে বিশ্বের সর্বাপেক্ষা হতবুদ্ধি মনে হচ্ছিল :-X ।
    আমতা আমতা করে খালি এই কথাটাই ঐ ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলাম- “তা তিনি যে প্রচারবিমুখ ছিলেন এই কথাটা কি করে প্রচার হল ভাই?” 😕

    • অভিজিৎ আগস্ট 2, 2012 at 9:33 অপরাহ্ন - Reply

      @পাপিয়া চৌধুরী,

      আমতা আমতা করে খালি এই কথাটাই ঐ ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলাম- “তা তিনি যে প্রচারবিমুখ ছিলেন এই কথাটা কি করে প্রচার হল ভাই?”

      😀

    • রায়হান আবীর আগস্ট 11, 2012 at 7:34 অপরাহ্ন - Reply

      @পাপিয়া চৌধুরী,

      আপনার মন্তব্যের শেষে এসে হাসতে হাসতে কেঁদে দিলাম :))

  6. স্বপন মাঝি আগস্ট 2, 2012 at 11:40 পূর্বাহ্ন - Reply

    বড় বেলায় এইসব কুসংস্কার অবাক হয়ে দেখলাম, ঝেড়ে ফেলেনি অনেকেই, তারা হয়তো শৈশব ভালোবাসে খুব, তাই বড় হয়েও শিশু থাকতে চায়। শুধু তাই নয় শিশুসুলভ ধ্যান ধারনার জন্য তারা গর্বও বোধ করতে চায়।

    আর এই গর্বিত শিশুরা বেঁচে আছে বলেই দেবর্ষিরা ( পণ্যের বাজারের অধিপতিরা)খুব আহলাদিত। বিশ্বাস না হয় সংবাদ ও বিনোদন উৎপাদক মালিকদের পত্র-পত্রিকা-টেলিভিশনে চোখ রাখুন, প্রমাণ পেয়ে যাবেন।

    তার এই বাক্যটুকুর শক্তি কতোটা এটা আমরা হয়তো অনেকেই জানি এবং এটাও জানি নেট জগতের এক কোনায় মুক্তমনা নামক ওয়েবসাইটে ছাপা হওয়া আমার এই ব্লগ খানির শক্তিহীনতা।

    আপাত শক্তিহীনতাকে মেনে নিলেও, এটি শেষ কথা নয়। আপাত সত্য থেকে মানুষ হয়তো পালিয়ে বাঁচতে চায়, কিন্তু কতদিন? তখন অনেকদিন আগে মরে যাওয়া এক তরুণ কবি-র কবিতাগুলো প্রাণ পায় কোথাকার কোন এক বিশ্ব-বেহায়াকে রুখে দেবার জন্য।
    ধন্যবাদ,
    সংখ্যালঘুদের পক্ষ থেকে।

    • রায়হান আবীর আগস্ট 11, 2012 at 7:34 অপরাহ্ন - Reply

      @স্বপন মাঝি,

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ 🙂

  7. আস্তরিন আগস্ট 2, 2012 at 3:36 পূর্বাহ্ন - Reply

    প্রথম আলোয় লেখাটা পড়ার পরই মুক্তমনায় এরকম একটা লেখার অপেক্ষায় ছিলাম ,
    ধন্যবাদ অনেক ধন্যবাদ , তবে আরোও কিছু বিষয় ছিল সেগুলো নিয়ে লিখলে ভাল হোত ।

    • রায়হান আবীর আগস্ট 11, 2012 at 7:36 অপরাহ্ন - Reply

      @আস্তরিন,

      ঠিক বলেছেন। পুরো লেখাটাই জঘন্য ছিলো। সব মিলিয়ে একটা লেখা থাকলে ভালৈ হতো।

  8. জুলিয়ান বি. সরকার আগস্ট 1, 2012 at 5:24 অপরাহ্ন - Reply

    http://www.kalerkantho.com/index.php?view=details&archiev=yes&arch_date=01-08-‎‎2012&type=gold&data=Cook&pub_no=961&cat_id=1&menu_id=0&news_type_id=3&news_id=274597#.UBnDf3‎K3mf0‎
    হুমায়ুনকে হত্যা করা হয়েছে বলে তার অনুসারীরা মামলা ঠুকেছে! এরপর হয়তো হরতাল, জ্বালাও পোড়াও ‎হতে পারে! হায় হুমায়ুন! হায় হুমায়ুন! আর কতো নাচ যে দেখাবে এ হুজুগে বাঙালিকে! ৬৩-৬৪ বছর ‎বয়সে মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান- হলে তাকে জোর করে কতোদিন বাঁচানো যায়, বাঙালি জাতি এটাও ‎বোঝে না! হুমায়ুনের মৃত্যুর পর পত্রিকার পড়া ছেড়ে দিয়েছি, মাঝে মাঝে নেটে পড়তে গিয়েও বিরক্ত হচ্ছি। ‎খ্যতিমানরা কি অন্য দেশে মরে না, তারা কি এরূপ করে? ‎

    • রায়হান আবীর আগস্ট 11, 2012 at 7:40 অপরাহ্ন - Reply

      @জুলিয়ান বি. সরকার,

      ধুর কোনো শোকই হৈলো না। দুই একজন আত্মহত্যা না করলে শোক জমে?

  9. প্রীতিভাজন আগস্ট 1, 2012 at 2:42 অপরাহ্ন - Reply

    আমার দুটি বক্তব্য, প্রথমটা সংশোধনের প্রস্তাব আর দ্বিতীয়টা হুমায়ুন আহমেদ-কৃত পরশুরাম বা রাজশেখর বাসুরকে মূল্যায়ন নিয়ে |

    লেখক বলেছেন,’….উদ্ধৃত অংশটুকু হুমায়ুন আহমেদের ‘মহাকাশের মহাযাত্রা’ লেখা থেকে উদ্ধৃত।’ হুমায়ুন আহমেদ কিন্তু সেই আর্টিকেল এর নাম রেখেছেন ‘মহেশের মহাযাত্রা’ যা রাজশেখর বসুর একটি বিখ্যাত গল্পের নাম |( যারা পড়েননি পড়ে দেখতে পারেন, বিমল আনন্দ পাবেন |)

    দ্বিতীয় বক্তব্যটার সাথে এই নিবন্ধের সম্পর্ক নেই | কালের কন্ঠ-তে হুমায়ুন আহমেদ বলেছেন, ‘পরশুরাম অতিপণ্ডিত এবং অতিরসিক একজন মানুষ।’ রাজশেখর বসুর মত মানুষকে কি অতিপণ্ডিত’, ‘ অতিরসিক’ এর মত ব্যাঙ্গাত্মক বিশেষণ মানায় !?

    • রায়হান আবীর আগস্ট 11, 2012 at 7:42 অপরাহ্ন - Reply

      @প্রীতিভাজন,

      মহাকাশের মহাযাত্রা রাজশেখরের লেখা হলেও হুমায়ুনের আর্টিকেলের শিরোনামও এটাই, তাই এইখানে ‘উদ্ধৃত অংশটুকু হুমায়ুন আহমেদের ‘মহাকাশের মহাযাত্রা’ লেখা থেকে” কথাটাই প্রযোজ্য।

  10. দেবজিত আগস্ট 1, 2012 at 3:32 পূর্বাহ্ন - Reply

    অসাধারণ হয়েছে। চালিয়ে যান।
    :guru: :guru:

  11. রনি আগস্ট 1, 2012 at 12:19 পূর্বাহ্ন - Reply

    …তুমি কি একটা কুরূপা, দেখতে ভালো না, অসুন্দর, খাটো মেয়ের প্রেমে পড়বে? উল্টো ভাবেও ভাবা যায়, কুদর্শন পুরুষের প্রেমে কি একটি সুন্দরী মেয়ে পড়বে? আসলে অত্যন্ত রূপবতী কাউকে দেখলেই প্রেমে পড়ার সম্ভাবনা তোমার বেশি। এর অর্থ হলো, প্রকৃতি চাচ্ছে, তার সন্তান-সন্ততি যেন সুন্দর হয়।

    দ্বিমত!! হুমায়ুন আহমেদ ভুল,অসম্পুর্ন বা মনগড়া তথ্য দিচ্ছে! আমি অনেক তথাকথিত অসুন্দর(হুমায়ুন আহমেদের ভাষায়,কালো,বেটে!!) মেয়েকে মোটামুটি দেখতে ছেলেদের সাথে বিয়ে হতে দেখেছি। যেভাবে,অনেক কালো,বেটে টাইপের ছেলেদের অনেক ফর্সা,সুন্দর মেয়েদের সাথে প্রেম করতে,এবং বিয়ে হতে দেখেছি।

    হুমায়ুন আহমেদ যেভাবে প্রকৃতিকে এব্যাপারে নির্ধারক হিসেবে দেখাচ্ছে সেভাবে প্রকৃতি এই ব্যাপারটা নির্ধারন করেনা। আমরা সবসময় সবচেয়ে ফর্সা,লম্বা,তথাকথিত সুদর্ষন পুরুষ-নারীর প্রেমে পরিনা। হেলেন ফিসারের মতে, প্রেমে পরা বা বিপরিত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষনবোধ করার আরো অন্যান্য কারনও থাকে। যেমনঃ একজন বেটে পুরুষের প্রতি একজন ফর্সা,লম্বা নারী আকর্ষনবোধ করতে পারে সেই বেটে পুরুষের স্যোসাল স্টাটাসের বা সম্পদের কারনে!

    • রায়হান আবীর আগস্ট 1, 2012 at 9:25 পূর্বাহ্ন - Reply

      @রনি,

      হুমায়ুনের কুৎসিত এবং সংকীর্ণ মনোভাব।

      • রনি আগস্ট 1, 2012 at 11:26 অপরাহ্ন - Reply

        হুমায়ুনের কুৎসিত এবং সংকীর্ণ মনোভাব।

        @রায়হান ভাই,সহমত! নারী-পুরুষের প্রেম,আকর্ষন বা সম্পর্ককে সে যেভাবে ব্যাখ্যা দিচ্ছে তার ঐ কথাগুলোয় তাতে তার মানসিক সংকির্নতাটাই খুব বেশি প্রকাশ পায়। ব্যাপারটা দুঃখজনক যে সে ওভাবে ভেবেছে বা বলেছে! 🙁

  12. সফ্টডক আগস্ট 1, 2012 at 12:04 পূর্বাহ্ন - Reply

    অসাধারণ! অসংখ্য ধন্যবাদ !

    • রায়হান আবীর আগস্ট 1, 2012 at 9:25 পূর্বাহ্ন - Reply

      @সফ্টডক,

      কষ্ট করে মন্তব্য লেখার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।

  13. নিখর তাবিক জুলাই 31, 2012 at 11:59 অপরাহ্ন - Reply

    একটা ছেলে একটা মেয়ে কে ভালবাসল, প্রেম করল, বিয়ে করল, মিলন হল তারপর আবিষ্কার করল একটা বাচ্চা না হলে সব বৃথা… তারপর তার বাচ্চা (ছেলে) হল.. তারপর.তার বাচ্চাটি বড় হলো… সেই ছেলে আবার একটা মেয়ে কে ভালবাসল, প্রেম করল, বিয়ে করল, মিলন হল তারপর আবিষ্কার করল একটা বাচ্চা না হলে সব বৃথা…

    এখন এ বিষয়ে জৈনিক আস্তিক বলছেন: প্রেম -বিয়ে এসবের লক্ষ্য হল মানুষ কে টিকিয়ে রাখা…আর জীবনের উদ্দেশ্য এক আল্লাহর ইবাদাত করা… ইহকাল পরীক্ষা সরুপ….পরকাল বলতে আরও একটা জীবন আছে….রাসুল এরকম কথাই বলেছেন…

    এখন এ বিষয়ে জৈনিক নাস্তিক বলছেন: জৈনিক আস্তিক চরম মূর্খ ও বেকুব……প্রাকৃতি নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা বানর থেকে আজকের মানুষে পরিনত হয়েছি.. আমাদের জীবনের কোন উদ্দেশ্য নাই.. আমরা এমনি এমনি বাচি…. পরকাল কাল্পনিক…আর…ইশ্বর… সে রকম কোন মৌলিক পদার্থ আবিষ্কার হয়নি…সয়ং ডারউইন এরকম বলেছেন—আর মুহাম্মদ..? সে তো বদ লোক…বহুত খারাপ কাম করছে.. ইতিহাস তার সাক্ষি…মানব জাতি ধংসের মুলে তার বিশাল ষড় যন্ত্র আছে.. :-s

    • রায়হান আবীর আগস্ট 1, 2012 at 9:26 পূর্বাহ্ন - Reply

      @নিখর তাবিক,

      তার এই বয়ান পড়ে স্রেফ হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। ব্যাটা মূর্খও না।

  14. আকাশ চৌধুরী জুলাই 31, 2012 at 11:36 অপরাহ্ন - Reply

    আমাদের বাদশা নামদারের আরেকটি সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছে কালের কণ্ঠের শিলালিপিতে একইদিনে :http://www.kalerkantho.com/index.php?view=details&archiev=yes&arch_date=27-07-2012&type=gold&data=Economics&pub_no=956&cat_id=1&menu_id=152&news_type_id=1&index=3#.UBgNBOoqW9U

    কালের কণ্ঠ সাক্ষাৎকার নিয়েছিল ১৩ নভেম্বর, ২০১০ এ; আর প্রথম আলোর সাক্ষাৎকার নেয়ার দিনটি ছিল ২২ মে ২০১১। মাঝে ৬ মাস ৯ দিনের ব্যবধান। দুটো সাক্ষাৎকারের মাঝে এতদিনের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও মিলগুলো বিস্ময়কর। একই যুক্তি , একই উদাহরণ তিনি তুলে ধরছেন, ক্ষেত্রবিশেষে মনে হয় তিনি আগেই ঠিক করে রেখেছিলেন কিছু সস্তা প্রশ্নের জবাবে কি বলবেন, এরপর গড়গড় করে বলে গেছেন। প্রেম বিষয়ক কথাবার্তা কালের কণ্ঠে বলেছেন:

    একটি কুৎসিত-কুরূপা, বেঁটে মেয়ের প্রেমে সচেতনভাবে কোনো ছেলে পড়বে না, কারণ নেচার বা প্রকৃতি। সে চায় বেটারটা, তাই রূপবতী মেয়ের প্রেমে ছেলেরা পড়ছে। নেচার চাচ্ছে পরের জেনারেশনে যেন রূপ আসে।

    আর প্রথম আলোতে:

    …তুমি কি একটা কুরূপা, দেখতে ভালো না, অসুন্দর, খাটো মেয়ের প্রেমে পড়বে? উল্টো ভাবেও ভাবা যায়, কুদর্শন পুরুষের প্রেমে কি একটি সুন্দরী মেয়ে পড়বে? আসলে অত্যন্ত রূপবতী কাউকে দেখলেই প্রেমে পড়ার সম্ভাবনা তোমার বেশি। এর অর্থ হলো, প্রকৃতি চাচ্ছে, তার সন্তান-সন্ততি যেন সুন্দর হয়।

    আর সৃষ্টিকর্তার সপক্ষে তিনি দুইক্ষেত্রেই আমদানি করেছেন “প্যালের ঘড়ি”, তবে ক্যামেরা বানিয়ে, আর গ্রহ তো অবশ্যই মঙ্গল আর ঐ খরগোশটাও দিব্যি আছে ।

    কালের কণ্ঠে:

    মনে করো, তুমি মঙ্গল গ্রহে গিয়ে পাহাড়-পর্বতের মধ্যে ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ একটা ক্যামেরা কুড়িয়ে পেলে। পেয়েই তোমার মনে হবে_এটার একজন সৃষ্টিকর্তা আছে। এটা আপনা-আপনি সৃষ্টি হয়নি। তুমি অবাক হলে। আরেকটু এগিয়ে গিয়ে দেখতে পেলে একটি খরগোশ। এই খরগোশের যে চোখ, তা ওই ক্যামেরার চোখের চেয়ে এক লাখ গুণ বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন। তখন তোমাকে এই খরগোশেরও যে একজন সৃষ্টিকর্তা আছে, তা স্বীকার করতে হবে।

    প্রথম আলোতে:

    তুমি মঙ্গল গ্রহে গিয়েছ। সেখানে গিয়ে তুমি দেখলে পাহাড়, পর্বত, পাথর। পাথর দেখে তুমি বলবে, বহুকাল থেকে, সেই আদ্যিকাল থেকে পাথরগুলো এভাবেই আছে। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ তুমি দেখতে পেলে একটা নাইকন ক্যামেরা। তুমি সেটা হাতে নেবে। তখন তোমাকে বলতেই হবে, এর একজন স্রষ্টা আছে। ক্যামেরাটা হাতে নিয়ে তুমি এ কথা ভাবতে পারবে না যে শূন্য থেকে এটা আপনা-আপনি এসে হাজির হয়েছে। কারণ, এটা একটা জটিল যন্ত্র। এবার, আরেকটু এগিয়ে গেলে। কোত্থেকে একটা খরগোশ বেরিয়ে এসে তোমার দিকে তাকাল। নাইকন ক্যামেরা কী করে? ছবি তোলে। খরগোশ কী করে? অনেক কাজই করে। খরগোশের একটা কাজ হলো দেখা। এই খরগোশের চোখ নাইকন ক্যামেরার চেয়ে হাজার গুণ বেশি জটিল। নাইকন ক্যামেরাটা দেখে তোমার যদি মনে হয় যে এর একটা নির্মাতা থাকা দরকার, তাহলে খরগোশের বেলায় এটা তোমার মনে হবে না কেন?

    এতো গেলো দৃষ্টিকটু মিলগুলো। আর দুই সাক্ষাৎকারেই ভাবগত মিল তো এত বেশি, আমার প্রথমে মনে হয়েছিল একই সময়ে সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে , পরে দেখি যে না, প্রায় অর্ধেক বছরের ব্যবধানে। আমাদের বাদশা নামদার যে মানসিকভাবে দেউলিয়া, সাক্ষাৎকার দুটো তারই সাক্ষ্য দিচ্ছে।

    • রায়হান আবীর আগস্ট 1, 2012 at 9:24 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আকাশ চৌধুরী,

      শুধু দুইটি সাক্ষাৎকারে না। কালের কণ্ঠের মহাকাশের মহাযাত্রা লেখাতেও এই টাইপ কথাই। জীবনে অনেক পাপ করেছিলেন বোধহয়, এইসব লিখে প্লট বাগানোর ধান্ধায় ছিলেন।

      …তুমি কি একটা কুরূপা, দেখতে ভালো না, অসুন্দর, খাটো মেয়ের প্রেমে পড়বে? উল্টো ভাবেও ভাবা যায়, কুদর্শন পুরুষের প্রেমে কি একটি সুন্দরী মেয়ে পড়বে? আসলে অত্যন্ত রূপবতী কাউকে দেখলেই প্রেমে পড়ার সম্ভাবনা তোমার বেশি। এর অর্থ হলো, প্রকৃতি চাচ্ছে, তার সন্তান-সন্ততি যেন সুন্দর হয়।

      কি কুৎসিত এবং সংকীর্ণ মনোভাব।

      • আকাশ চৌধুরী আগস্ট 1, 2012 at 7:53 অপরাহ্ন - Reply

        @রায়হান আবীর,

        বাদশা নামদারের কুৎসিত এবং সংকীর্ণ মনোভাবের বহু পরিচয় পূর্বে পাওয়া গেছে , এখনও পাওয়া যাচ্ছে। প্রথম আলোতে তিনি “নো ফ্রি লাঞ্চ” কলামে লিখলেন (http://www.prothom-alo.com/detail/news/198679)

        বুকে প্রচণ্ড ব্যথা বলে যেকোনো হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যেতে হবে। বুকে ব্যথা মানে হার্ট অ্যাটাক। হাসপাতাল হেলথ ইনস্যুরেন্স আছে কি নেই তা না দেখেই রোগী ভর্তি করবে। চিকিৎসা শুরু হবে। চিকিৎসার একপর্যায়ে ধরা পড়বে রোগীর হয়েছে ক্যানসার। হাসপাতাল তখন ক্যানসারের চিকিৎসা শুরু করবে। রোগীকে ধাক্কা দিয়ে হাসপাতালের ফুটপাতে ফেলে দেবে না। চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর বলতে হবে, আমি কপর্দকশূন্য। এক মিলিয়ন ডলার বিল আমি দেব, তবে একসঙ্গে দিতে পারব না। ভেঙে ভেঙে দেব। প্রতি মাসে পাঁচ ডলার করে। এই প্রস্তাবে রাজি হওয়া ছাড়া হাসপাতালের তখন আর করার কিছু থাকে না। বাংলাদেশিদের কাছে এই বিকল্প চিকিৎসাব্যবস্থা সংগত কারণেই বেশ জনপ্রিয়।
        বাঙালি ব্যবস্থায় আমি চিকিৎসা শুরু করব, এই প্রশ্নই ওঠে না।

        এখন দেখা যাচ্ছে আমাদের বাদশা নামদার নিজেই এই “বাঙালি ব্যবস্থা”তেই চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। নিজ পরিচয় গোপন করে নিজেকে নিম্নআয়ের অভিবাসী দেখিয়ে (সপ্তাহে ১০০ ডলার আয় ) বেলভ্যু হাসপাতালের মেডিকেইড কার্ড সংগ্রহ করেছেন, মিডিয়ায় সাড়ে চার কোটি টাকা খরচের কথা বলা হলেও বাস্তবে এক ডলারও ব্যয় হয়নি। (http://new.ittefaq.com.bd/news/view/119299/2012-07-30/1)। বোধ করি, হুমায়ুন আহমেদের সাহিত্যে কিংবা সাক্ষাৎকারে অলৌকিক-বন্দনা বৃদ্ধি পাবার সাথে তার জীবনাচরণে বৃদ্ধি পেয়েছে অনৈতিকতা। আস্তিকতার সাথে নৈতিকতার negative correlationএর আরেকটি উদাহরণ হয়ে রইল বাদশা নামদারের এই নতুন কীর্তি।

  15. রনি জুলাই 31, 2012 at 11:10 অপরাহ্ন - Reply

    লেখাটা ভাললাগল,রায়হান। মনেহচ্ছে হুমায়ুন আহমেদের ছড়িয়ে দেয়া “প্যালে-মিমটা(meme)” যথেষ্ট মার্কেট পাবে,ছড়িয়ে যাবে!!! তার কথাগুলো অনেকেরই যৌক্তিক লাগবে,এবং অনেকেই ইমপ্রেসড হবে। তাছারা প্রথম আলোর মত পেপারগুলোতো তাকে ইতিমধ্যে দেবতা টাইপের কিছু একটা বানিয়ে ফেলেছে। তার দেয়া বানিগুলো এখন অনেকের কাছে দেবতার বানী লাগবে!!!

    • রায়হান আবীর আগস্ট 1, 2012 at 9:22 পূর্বাহ্ন - Reply

      @রনি,

      দীর্ঘ মেয়াদে মিমটি বেশ হিট হবে বোঝা যাচ্ছে। একটু দেরি হলেও তাই লেখাটা লিখে রাখলাম।

  16. বেণুবর্না জুলাই 31, 2012 at 9:42 অপরাহ্ন - Reply

    বিবর্তন হলুদ হিমুর মতো লক্ষ্যহীন, উদ্দেশ্যহীন। লক্ষ্যহীনতা, উদ্দেশ্যহীনতা আমাদের ভালো লাগেনা। আমরা লক্ষ চাই, উদ্দেশ্য চাই। আমরা ঈশ্বরকে চাই। আমরা চিন্তাহীন, শান্তিময় জীবন যাপন করতে চাই- ভালো লাগলো লেখাটা

  17. বন্যা আহমেদ জুলাই 31, 2012 at 8:36 অপরাহ্ন - Reply

    রায়হান, লেখাটা পড়ে ক্যামন জানি আঙ্গুর ফল টকের মত লাগলো 😀 । তুমি তো জীবনে বেশী কিছু কুড়াইয়া টোকাইয়া পাও নাই, তাই তোমার দিলে এত অশান্তি! আলুরা পত্রিকার কাটতি পাইলো, প্যালে সাহেব ঘড়ি পাইলেন, নায়েক সাহেব লাখ লাখ মুমীন ভক্ত পাই্নলেন, হুমায়ুন আহমেদও তো জীবনে কম পান নাই(সেই তুলনায় নাইকন ঘড়ি তো তুচ্ছু)। এক জীবনে যারা এত কিছু পান তাদের কৃতজ্ঞতাও ওইরকম উঁচুদরেরই হয়, ওনারা তোমার মত এরকম অকৃতজ্ঞ হন না …..

    • পৃথ্বী জুলাই 31, 2012 at 9:13 অপরাহ্ন - Reply

      @বন্যা আহমেদ,

      তুমি তো জীবনে বেশী কিছু কুড়াইয়া টোকাইয়া পাও নাই

      দার্শনিকরা পার্থিব বিচারে গরীব হইতে পারে, বৌদ্ধিক বিচারে অনেক ধনী :))

    • কৌস্তুভ আগস্ট 1, 2012 at 12:24 পূর্বাহ্ন - Reply

      (Y) 😀

    • রায়হান আবীর আগস্ট 1, 2012 at 9:21 পূর্বাহ্ন - Reply

      @বন্যাপা,

      আমি মহান সৃষ্টিকর্তা, মহা পরাক্রমশালী, মহাবিশ্ব হাউজিং সোসাইটির মালিকের প্রতি কৃতজ্ঞ হতে চাই…

  18. শাখা নির্ভানা জুলাই 31, 2012 at 7:15 অপরাহ্ন - Reply

    চোখের বিবর্তনটা ভাল লেগেছে। সব লজিক বেশ হাইলাইটেড হয়েছে। এই ধরনের লেখার অনেক দরকার আছে। ধন্যবাদ।

    • রায়হান আবীর আগস্ট 1, 2012 at 9:20 পূর্বাহ্ন - Reply

      @শাখা নির্ভানা,

      স্বাগতম। মন্তব্যের জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।

  19. সুব্রত শুভ জুলাই 31, 2012 at 6:31 অপরাহ্ন - Reply

    ভাই ফাটাই্ দিলেন । :lotpot: :guli: :clap

  20. বিপ্লব রহমান জুলাই 31, 2012 at 6:24 অপরাহ্ন - Reply

    ফেবু’র রায়হান ব্লগে সত্যিই মুক্তমনা। শাবাশ! (Y)

    • বিপ্লব রহমান জুলাই 31, 2012 at 6:26 অপরাহ্ন - Reply

      পুনশ্চ: লেখাটি গুরুচণ্ডালি ডটকম-এর হুমায়ূন আহমেদ বিষয়ক আলোচনা বিভাগ টইপত্রে শেয়ার করলাম।

    • রায়হান আবীর আগস্ট 1, 2012 at 9:19 পূর্বাহ্ন - Reply

      @বিপ্লব রহমান,

      ফেবু’র রায়হান ব্লগে সত্যিই মুক্তমনা

      কথাটার মর্মার্থ ধরতে ব্যর্থ হলাম। ফে’বুর রায়হানের সমস্যা কি? সে কি সেখানে মিথ্যা মুক্তমনা? মুক্তমনা আর ফেসবুকে কি তার দুইটা রুপ?

      লেখাটি শেয়ার করার জন্য কৃতজ্ঞতা।

      • বিপ্লব রহমান আগস্ট 2, 2012 at 3:17 অপরাহ্ন - Reply

        @রায়হান আবীর,

        বরাহ হিমু কোং-এর বলয়ের বাইরে নিজেরে জিগান, হে মান্যবর মুক্তমনা।

        আপনার যে কোনো লেখায় এটিই আমার শেষ মন্তব্য। শুভেচ্ছা। (F)

        • রায়হান আবীর আগস্ট 3, 2012 at 5:06 অপরাহ্ন - Reply

          @বিপ্লব রহমান,

          আপনার চিকিৎসা হওয়া দরকার। এখানে হিমু গঙ্গ নামক শব্দটার মাজেজা বুঝলাম না। যদি আপনার কৃতকর্মের বিরোধীতা মানে হয় হিমু গঙ্গ এর সদস্য হওয়া, তাহলে আমার পক্ষ থেকে জেনে নেন আপনি এমন কোনো চুলটুল হয়ে যাননি যে আপনারে কিছু বলার জন্য গঙ্গ করতে হবে। যত্তোসব।

          আপনার মানসিক সুস্থতা কামনা করি।

  21. একুশ তাপাদার জুলাই 31, 2012 at 4:35 অপরাহ্ন - Reply

    ভীষন দরকারি পোষ্ট । ধন্যবাদ আপনাকে ।
    তবে হুমায়ুনের কুযুক্তিগুলোর জবাব আরও সহজ ভাষায় এবং সংক্ষেপে (আম জনতা তাহলে রিলেট করতে পারবে )পয়েন্ট আউট করে ছড়িয়ে দিতে পারলে দারুন হয় । যারা বোঝে, বিজ্ঞানের ছাত্র না হয়েও মানবিক বোধ ও কমনসেন্স যাদের আছে তারা হুমায়ুনের মূর্খামী কথাবার্তায় বোকা হয় না, হয় নি । তাই ইনার কুযুক্তিগুলোর কাউন্টার দরকার ওদের কাছেই , যারা কীনা নাইকন থিউরি পেয়ে গর্দভের মতো হুহু হাহা করছে ।

    • রায়হান আবীর আগস্ট 1, 2012 at 9:18 পূর্বাহ্ন - Reply

      @একুশ তাপাদার,

      কেউ যদি বুঝতে চায় তাহলে এমনিতেই বোঝা যায়। সহজ ভাষা সংক্ষিপ্ত বর্ননা লাগেনা। ব্যাপার হলো, আমার বিষয়টা খতিয়ে দেখার ইচ্ছা আছে কি নেই।

  22. ফাহাদ জুলাই 31, 2012 at 3:02 অপরাহ্ন - Reply

    নাইকনের ইন্টারগ্যালাক্টিক ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসডরকে নিয়ে আপনি এই ভাবে লিখতে পারলেন!

  23. রাগাদ জুলাই 31, 2012 at 2:48 অপরাহ্ন - Reply

    “ঘড়ির চেয়ে ঘড়ির কারিগর জটিল, চোখের চেয়ে চোখের কারিগর জটিল ঐকিক নিয়মে এই অংক সমাধান করার জন্য পরের লাইন লিখতে গিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে যাই, সেই অতি জটিল চোখের কারিগর তবে কিভাবে আপনা আপনি কিংবা এমনি এমনি সৃষ্টি হয়ে গেলেন?”

    ভাল লেগেছে, স্যার। :))

    • বিলম্বিতা (স্নিগ্ধা) জুলাই 31, 2012 at 3:07 অপরাহ্ন - Reply

      @রাগাদ,
      এই একই প্রশ্নের কারনেই আমি এখন মুক্তমনায় ঘুরে বেড়াই। এই প্রশ্ন করলেই বড়দের কাছে বকা শুনেছি, এখন শুনি তিরস্কার। “দুই কলম পড়াশোনা করে আল্লাহকে মানি না, দোযখেও জায়গা হইব না” :))

      • রাগাদ আগস্ট 1, 2012 at 1:57 পূর্বাহ্ন - Reply

        @বিলম্বিতা (স্নিগ্ধা),
        আমরা দেখছি একই পথের পথিক! সবচেয়ে খারাপ লাগে যখন কেউ কথা শুনতে চায় না। এরা যা মানে তা যেন ভুল হলেও ঠিক। এদের কথা হল “শুধু মেনে যাও, প্রশ্ন করা মানা”। স্বর্গে ১ খানা প্লট দখল করতে এরা দিন-রাত নিজের সাথেই ভন্ডামো করে যায়। তাই এখানে ঘুরে বেড়ান এবং মন খুলে প্রশ্ন করে যান। (F)

        • রায়হান আবীর আগস্ট 1, 2012 at 9:16 পূর্বাহ্ন - Reply

          @রাগাদ,

          মহাবিশ্ব হাউজিং সোসাইটিতে আমরা সবাই প্লট চাই।

    • রায়হান আবীর আগস্ট 1, 2012 at 9:15 পূর্বাহ্ন - Reply

      @রাগাদ,

      ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য 🙂

  24. অনিক জুলাই 31, 2012 at 2:41 অপরাহ্ন - Reply

    যাক তুই আমার মতই ক্যাননের সাপোর্টার 😀

  25. জোবায়েন সন্ধি জুলাই 31, 2012 at 1:38 অপরাহ্ন - Reply

    অন্ধ হুমায়ুন ভক্তদের এভাবে আঘাত দেয়া কী ঠিক হলো? :পি

    লেখা ভাল হয়েছে। ধন্যবাদ।

    • রায়হান আবীর আগস্ট 1, 2012 at 9:15 পূর্বাহ্ন - Reply

      @জোবায়েন সন্ধি,

      ফেবুতে বলেছিলাম। অন্ধরা আঘাত পায় না এসব লেখার কারণে। তাদের চোখ বন্ধ, তারা ‘শান্তি চায়’।

  26. অসীম জুলাই 31, 2012 at 1:18 অপরাহ্ন - Reply

    (Y)

  27. আসিফ মুজতবা জুলাই 31, 2012 at 12:24 অপরাহ্ন - Reply

    :guru:
    লিখতেই থাকেন। অনেক ভাল হইছে।

  28. নীল রোদ্দুর জুলাই 31, 2012 at 10:52 পূর্বাহ্ন - Reply

    রায়হান, যেমনে কহেছ, তাতে হুমায়ূন আহমেদের মুরিদরা যতক্ষণ কথা না মাথা ঘামিয়ে বোঝা যায় ততক্ষণ শুনবে। বাকি অংশ শুনবেই না। চোখের বিবর্তনটুকু বাদ দিয়ে বাকি অংশ শুনে সবজান্তা সমশেরের মত তোমার কথা সজোরে অস্বীকার করে কইবে, “আইছে ব্যাটা নাস্তিক, দুই কলম পইড়া বিদ্বান হয়ে গেছে।”

    আল্লা আছে কি নাই এই কথা কইলে যে কোনদিন স্কুলেও যায় নাই, সেও তোমার-আমার চেয়ে জ্ঞানী বিদ্বান হয়ে যায়। যার অক্ষর জ্ঞান নাই সেও বিজ্ঞের মত কথা কয়। সাথে আবার তাদের সমর্থনে বা মগজ ধোলাইতে আছে রস-আনয়নে পেয়াজডি রসুনডি ওয়ালা হুমায়ুন আহমেদ পীরবাবা! সেই তুলনা বিবর্তনবাদীরা আর তারা যার রেফারেন্স দেয় সেই ডারউইন কোন ছারপোকা! :-Y

    • প্রদীপ্ত জুলাই 31, 2012 at 11:47 পূর্বাহ্ন - Reply

      @নীল রোদ্দুর, “আল্লা আছে কি নাই এই কথা কইলে যে কোনদিন স্কুলেও যায় নাই, সেও তোমার-আমার চেয়ে জ্ঞানী বিদ্বান হয়ে যায়” এক্কেরে খাটি কথা।

    • ছন্নছাড়া জুলাই 31, 2012 at 12:09 অপরাহ্ন - Reply

      @নীল রোদ্দুর,

      চমৎকার বলেছেন।আমি বেশ কয়েকবার এধরনের সমস্যায় পড়েছি।আস্তিকতা নাস্তিকতার তত্বের আলোচনায় অক্ষরজ্ঞানহীন মানুষদের হঠাৎ জ্ঞানী বনে যাওয়াটা আসলেই বিরক্তিকর।সম্প্রতি আবিষ্কার হওয়া কণাটির নাম ইশ্বর কনা হয়ে পড়েছি আরেক বিপদে।বিজ্ঞান সম্মন্ধে যে কিছুই জানেনা বা বোঝেনা সেও বলে “এখন বিজ্ঞানীরা ইশ্বর কনা পাইছে অতএব অবশ্যই উপরে একজন আছেন তিনি আল্লাহ”।এই (কু) যুক্তির কাছে আমি আর কোন যুক্তি খাড়া করিনা সেরকম রুচিও হয় না। :-Y

    • রায়হান আবীর আগস্ট 1, 2012 at 9:13 পূর্বাহ্ন - Reply

      @নীল রোদ্দুর,

      আল্লা আছে কি নাই এই কথা কইলে যে কোনদিন স্কুলেও যায় নাই, সেও তোমার-আমার চেয়ে জ্ঞানী বিদ্বান হয়ে যায়। যার অক্ষর জ্ঞান নাই সেও বিজ্ঞের মত কথা কয়।

      যে আল্লায় জগতে সবাই বিশ্বাস করছে সে আল্লাহ যে নেই, সেটা বোঝার জন্য জ্ঞানী বিদ্বান হওয়া লাগে না, দুই কলম বিদ্যাও লাগেনা। চারপাশে তাকাইলেই হয়। আর হ্যাঁ! বিবর্তন প্রশ্নে আমি দেখেছি জীববিজ্ঞান সম্পর্কে নূন্যতম ধারনা না থাকা স্বত্তেও অনেকেই চট করে বিশাল জীব বিজ্ঞানী হয়ে যায়।

    • sreyan আগস্ট 7, 2012 at 8:38 অপরাহ্ন - Reply

      @নীল রোদ্দুর, (Y) (Y) (Y) (Y)

  29. স্বপ্নহীন জুলাই 31, 2012 at 10:46 পূর্বাহ্ন - Reply

    :guli:

    :thanks:

  30. অভিজিৎ জুলাই 31, 2012 at 10:03 পূর্বাহ্ন - Reply

    এইটা একটা ভাল কাজ হইছে রায়হান। দরকার ছিলো এই ডোজের 🙂

    • রায়হান আবীর আগস্ট 1, 2012 at 9:10 পূর্বাহ্ন - Reply

      @অভিজিৎ দা,

      কাজ হইছে এইটা ঠিক। তবে ভালো কাজ তো উনাদের জন্য বরাদ্দ। আমাদের দ্বারা কি আর ভালো কাজ হয়।

  31. কৌস্তুভ জুলাই 31, 2012 at 9:48 পূর্বাহ্ন - Reply

    উত্তম জাঝা। তবে বলব যে কিঞ্চিত দেরি হয়ে গেল, ওই লেখাটা মিম হিসাবে ছড়ানোর সাথে সাথেই এই অ্যান্টিডোটটাও রচিত হবার দরকার ছিল।

    • রায়হান আবীর জুলাই 31, 2012 at 9:56 পূর্বাহ্ন - Reply

      @কৌস্তুভ,

      চেক পাঠাইতে দেরি করেছিস ক্যানো? সব তোর দোষ।

      • কৌস্তুভ আগস্ট 1, 2012 at 1:39 পূর্বাহ্ন - Reply

        কী করি, র তখন ‘প্রণবদা’রে নিয়ে এত ব্যস্ত আছিল যে টেকাটুকা পাঠাইতে পারে নাই…

মন্তব্য করুন