এখন পর্যন্ত যতজনের সাথে রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে আলোচনা করেছি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখেছি কেউই তেমন কিছু জানে না রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে। যার জন্য একদেশের মানুষ অন্য দেশে ঢুকে পড়লে যেধরনের বিবৃতি দেয় রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রেও সেই একই ধরনের কথা বলে মোটা দাগে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। ফলে রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে কিছু বলার আগে এদের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসটা জেনে নেয়া জরুরী।
বাঙলাদেশে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি অনেক আগে থেকে হলেও আলোচনায় এরা খুব বেশি কখনোই ছিলনা। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে হাজার হাজার শব্দ লেখা হয়েছে। অর্থাৎ রোহিঙ্গা প্রসংগ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। এখনও আছে এবং কাঁপাচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের উৎপত্তি সম্পর্কে জানতে গেলে প্রথমে সবারই একটা ধাক্কা মতন খেতে হয়। কারন হল এদের উৎপত্তি নিয়ে একটা বেশ ঘন ধূম্রজাল সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে। যদি মায়ানমারের ইতিহাসবীদদের বিবৃতি শুনতে যান তাহলে দেখা যাবে তারা দাবী করছে ১৯৫০ যীশুসালের আগে “রোহিঙ্গা” শব্দটাই নাকি ছিলনা। এবং বর্তমানে আমরা যাদেরকে রোহিঙ্গা বলে চিনি তারা ১৯৫০ এর দিকে বাঙলা অঞ্চল থেকে মাইগ্রেট করে আরাকান রাজ্যে প্রবেশ করেছিল। তারমানে এই ইতিহাসবীদদের পাতিহাস অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের ইতিহাস মোটেই ৭০ থেকে ১০০ বছরের বেশি নয়। কিন্তু উইকিপিডিয়ার এই সূত্র বলছেঃ

Written in Arabic script, the first Rohingya language texts are more than 300 years old. While Arakan was under British rule (1826–1948), the Rohingya people used mainly English and Urdu for written communication.

পরিষ্কার বাঙলায় মানে দাঁড়ায়ঃ
আরবীতে লেখা রোহিঙ্গা ভাষার প্রথম রচনার বয়স ৩০০ বছরের বেশি। আরাকান যখন ব্রিটিশ শাসনাধীন ছিল(১৮২৬-১৯৪৮) তখন রোহিঙ্গা জনগন ইংরেজি আর উর্দুতে লেখালেখির যোগাযোগটা করত।

worldlanguage এর ওয়েবসাইটও আমাদের একই তথ্য দিচ্ছেঃ

Rohingya’lish is the modern written language of the Rohingya People of Arakan (Rakhine) State in Myanmar formerly known as Burma. The first Rohingya Language written was back to 300 years and used Arabic Scripts. Due to the long colonial period under the British rules, Urdu, Farsi and English were the main communication languages in that time. Since then many other scholars have tried to write the Rohingya Language using Urdu, Arabic, Burmese or English Scripts. The recent one was with the new invented alphabets mostly derived from Arabic Scripts but a few from Latin and Burmese. However, to make Rohingya language more easy in today’s Computers and communications world, Rohingya’lish has been developed using Latin alphabets only. Since these alphabets are readily available in almost all personal computers used today, we need only a few guide lines to write the Rohingya Language.

ঘটনা হচ্ছে লিখিত ভাষার বয়সই যদি ৩০০ বছরের বেশি হয় তাহলে ঐভাষা ব্যাবহারকারীদের বয়স ১০০ বছরের কম হয় কীভাবে? গভীর প্রশ্ন বটে!

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি সংস্থা The United States Campaign for Burma (USCB) আমাদের জানাচ্ছেঃ

The first Rohingya people arrived in Burma as early as 7th century. These early migrants were known to be Arab sailors and merchants who traveled to Burma for economic pursuits. These Muslim settlers came to Burma in a total of three waves: from 7th to 13th century, in the 15th century and from 1826 onward throughout the British colonial rule.

মানে হল, প্রথম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি বার্মায় আসে ৭ম শতাব্দীতে। প্রথমদিকের এই মাইগ্র্যান্টদের ধারনা করা হয় ছিল আরবের নাবিক, ব্যবসায়ী যারা অর্থনৈতিক কারনে এদিকে ভ্রমন করত। এসব মুসলিম বসতিস্থাপনকারীরা মোটামুটি তিন ধাক্কার বার্মায় আসেঃ ৭ম থেকে ১৩তম শতাব্দীতে, ১৫তম শতাব্দীতে এবং এরপরে ১৮২৬ সালের পর থেকে ব্রিটিশ শাসনামলে।

আমরা মনে হয় রোহিঙ্গাদের উৎস সম্পর্কে একটা ধারনা নিতে পেরেছি। মোটামুটি ঘটা করে এদের উৎসের ইতিহাসটা বলার একটা কারন আছে। একটু পরে এ ব্যাপারে আসছি।

১৮৯১ সালের বৃটিশ আদমশুমারিতে দেখা যায় আরাকানে তখন মুসলিম ছিল ৫৮,২৫৫ জন। যেটা কিনা ১৯১১ সালে এসে দাঁড়ায় ১৭৮,৬৪৭ জনে। কেন তারা সংখ্যায় এত বাড়ল? জগতের সমস্ত সমস্যার পেছনে যারা ইসলামকে খুজে পান তারা নিশ্চই এতক্ষনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে একটা যুতসই ইসলামিক যুক্তি দেবার মতন তথ্য পেয়ে যারপরনাই আনন্দিত হয়ে উঠেছেন? তাদের আশার গোড়া খোড়া করে দিয়ে বলছি মাত্র ২০ বছরে জনসংখ্যা দ্বিগুনেরও বেশি হবার কারনটা ছিল আসলে বৃটিশ সরকারের একটা পলিসি। কম মূল্যে শ্রমিকদেরকে বৃটিশ ইন্ডিয়ার সমস্ত জায়গা থেকে এখানে ধরে ধরে নিয়ে আসা হয়েছিল ধানের ক্ষেতে কাজ করার জন্য। মূলত বলা যায় তখন থেকেই আরাকানের স্থানীয় রাখাইনদের কাছে এই মুসলিম বসতিস্থাপনকারীরা চক্ষুশুল হতে শুরু করে। কারনটা সহজেই অনুমেয়, “আমিই পাই না হের উপ্রে আবার ওরা খাওন লইয়া যাইব?”

এই পর্যন্ত যদি আমরা বুঝতে পারি তাহলে আরেকটু বোঝার চেষ্টা নেই। মোটামুটি এরপরে থেকেই রোহিঙ্গাদের সাথে রাখাইনদের একটা দ্বন্দমুখর সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। যেটার কিছুটা বহিঃপ্রকাশ হয়ত আমরা আজকে দেখতে পাচ্ছি। আরো কিছু উদাহরন দিচ্ছিঃ
উইকির এই লিস্টি বলছে

১৯৪২ যীশুসালের ২৮ মার্চ তারিখে আরাকান রাজ্যে একটা চমৎকার হত্যাযজ্ঞ সংগঠিত হয়। যেখানে প্রায় একলক্ষ মুসলিম(নিঃসন্দেহে রোহিঙ্গা বলতে পারেন) নিধন করা হয়।
যদিও উইকির আরেকটি সোর্স বলছে সংখ্যাটা মাত্রই পাঁচ হাজার। আমার একটু সন্দেহ হয়েছিল এই এনট্রিটা নিয়ে।

পরবর্তিতে রাগীব ভাইয়ের এই কমেন্টটা দেখে তার কিছুটা নিরসন হয়। আপনাদেরও হতে পারেঃ

ইংরেজি উইকির রোহিঙ্গাদের উপরে নিবন্ধটা কেউ বিশ্বাস করতে যাবেন না। ঐটা আগে ঠিক ছিলো, কিন্তু আমি সেমি-রিটায়ার করার পরে বর্মীছাগুরা এসে ঐটার বারোটা বাজিয়েছে, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশী মুসলমান প্রায় উপপাদ্যাকারে প্রমাণ করে দেয়ার চেষ্টা করেছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রোহিঙ্গাদের অবস্থান ছিল মিত্রপক্ষের দিকে। কিন্তু তখন বার্মা দখল করেছিল জাপান। Kurt Jonassohn (1999). Genocide and gross human rights violations: in comparative perspective,
Howard Adelman (2008). Protracted displacement in Asia: no place to call home এবং Human Rights Watch (Organization) (2000). Burma/Bangladesh: Burmese refugees in Bangladesh: still no durable solution এবং Asian profile, Volume 21. Asian Research Service. 1993. p. 312. Retrieved 12 April 2011. এর রেফারেন্স দিয়ে উইকি বলছে এভাবেঃ

The Japanese committed atrocities against thousands of Rohingya. They engaged in an orgy of rape, murder and torture. In this period, some 22,000 Rohingya are believed to have crossed the border into Bengal, then part of British India, to escape the violence.

40,000 Rohingya eventually fled to Chittagong after repeated massacres by the Burmese and Japanese forces.

এর মাঝে আবারও আরাকানের রাখাইন জাতিয়তাবাদী আর রোহিঙ্গাদের মধ্যে দাঙ্গা বেধে গিয়েছিল। ধরে নেওয়া যায়, দু চারজন সেখানেও পড়ে গিয়েছিল।

এমনেষ্টি জানাচ্ছে, ১৯৭৮ এ প্রায় ২লক্ষ লোক বাঙলাদেশে পালিয়ে আসে। “নাগামিন” নামে একটা মিলিটারি অপারেশন তখন চলছিল। যার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল scrutinising each individual living in the state, designating citizens and foreigners in accordance with the law and taking actions against foreigners who have filtered into the country illegally.

এমনেষ্টি আরোও জানাচ্ছেঃ

During 1991-92 a new wave of over a quarter of a million Rohingyas fled to Bangladesh. They reported widespread forced labour, as well as summary executions, torture, and rape. Rohingyas were forced to work without pay by the Burmese army on infrastructure and economic projects, often under harsh conditions. Many other human rights violations occurred in the context of forced labour of Rohingya civilians by the security forces.

মানে হলঃ ১৯৯১-৯২ এ নতুন করে প্রায় আড়াই লক্ষ রোহিঙ্গা বাঙলাদেশে পালিয়ে চলে আসে। তারা বলপ্রোগের মাধ্যমে কাজ করতে বাধ্য থাকত, সাথে ছিল হত্যা, নির্যাতন আর ধর্ষন। বার্মিজ আর্মি তাদের দিয়ে বিনা মজুরিতে অত্যন্ত অমানবিক পরিবেশে অর্থনৈতিক এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজ করিয়ে নিত। নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা রোহিঙ্গা জনগনের উপরে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এমন মানবাধিকারের লঙ্ঘনের আরো নজির রয়েছে।

আপাতত এই কয়েকটাই বললাম। গুগল মামার সাহায্য নিলে এমন আরো অনেক বেদনাজর্জরিত কাহিনী জানতে পারবেন।

মূল প্রসংগে আসি। এখন বিতর্ক চলছে সর্বশেষ ঘটে যাওয়া দাঙ্গার কারনে বাঙলাদেশে আসতে থাকা রোহিঙ্গাজনস্রোতের কী করা হবে। তার আগে মনে হয় জেনে নেওয়া ভালো আসলে কী কারনে এই ঘটনাটা ঘটেছে।

মে মাসের ২৮ তারিখে একটি ধর্ষনের ঘটনা ঘটে, মেয়েটির নাম থিডার হতউই(Thidar Htwe)। অভিযোগ করা হচ্ছে ধর্ষনকারীরা রোহিঙ্গা। লোকাল পুলিশ অভিযুক্তদের আটক করে। ঘটনা এই পর্যন্ত এসে থামলে কোন সমস্যা ছিল না। ঠিক তার ছয় দিন পর টাউনকক শহরে রাখাইন সম্প্রদায়ের ৩০০ জন রাখাইন একটি বাস থামিয়ে ১০ জন রোহিঙ্গাকে হত্য করে। একজন নারীকে ধর্ষন করে। একজন রাখাইন বৌদ্ধও হত্যার শিকার হয় ভুল বসত মুসলমান মনে করে। মৃতদেহের উপরে হত্যার পরে মদ ঢেলে দেওয়া হয়।

৮ তারিখে সম্ভবত জুম্মার সময় রোহিঙ্গারা যখন নামাজ পড়ছিল, তখন এক রোহিঙ্গা কিশোরের সাইকেলের সাথে এক রাখাইন মটরসাইকের যাত্রীর খুবই ছোটো একটা দূর্ঘটনা ঘটে। এটিকে কেন্দ্র করে রাজপথ নিমেষের মধ্যে নরকে পরিণত হয়।
এই ঘটনায় সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে যা পরের দিন শনিবার কার্ফিউতে রূপ নেয়।

Economist বলছেঃ

According to Chris Lewa, an expert on regional affairs, the order to stay in doors applied only to Rohingyas. It did nothing to stop Buddhist Rakhine mobs looting and pillaging. They were filmed burning Rohingya villages, apparently with impunity; they were happy to speak before video cameras while houses burned in the background.

এঘটনায় অন্তত একজন রোহিঙ্গা নারী ধর্ষিত হয়। সরকার জরুরী অবস্থা ঘোষনা করে। রাস্তায় মিলিটারি নামে। জাতিসংঘে কর্মকর্তারা পর্যন্ত সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়।
বাঙলাদেশ ঘোষনা দেয় তারা এদেশে চলে আসা রোহিঙ্গা শরনার্থীদেরকে গ্রহন করবে না। বর্ডারের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।

মোটামুটিভাবে এই হল চলমান সংকটের কাহিনী।

বিতর্কের সুত্রপাতটা হয় বাঙলাদেশ সরকারের রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দিতে চাওয়ার পরেই। কেউ বলছে গ্রহন করা হউক, কেউ বলছে না। গ্রহন করতে চাওয়ার মধ্যে দুটো আলাদা ভাগ আছে। এর মধ্যে জামাতি কাঁঠালপাতাসেবনকারীরা মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাদেরকে দেশে আনতে চাচ্ছে। যদিও নিন্দুকেরা বলছে এটা আসলে মুসলমানদের মানবেতর জীবন যাপন দেখিয়ে সৌদি ডলার আনার একটা মোক্ষম সুযোগ। কেননা ঘটমান বর্তমান ঘটনার দিকে তাকালে দেখা যায় জামাতিরা অর্থনৈতিকভাবে বেশ পর্যদুস্থ হয়ে পড়েছে উকিলের ফি দিতে দিতে, লবিইস্টদের পেছনে খরচ করতে করতে। সেই ক্ষেত্রে রোহিঙ্গারা শিকারের মোক্ষম টোপ হতে পারে। আর সাথে জিহাদী জোশে উদ্বুদ্ধ করার সুযোগতো রয়েইছে।

আরেক দল বলছে মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে। নিজের দেশের সরকারের কাছ থেকে আজীবন মার খেয়ে মানুষগুলো নিজ দেশ ছেড়ে আসছে অন্যের দেশে। প্রানের ভয়ে। এদেরকে ঢুকতে না দেওয়াটা আর যাই হউক মানবিকতাবোধের কোন সংজ্ঞায় পড়ে না।

আবার কিছু লোক হঠাৎ করেই দেশপ্রেমিক বনে গেছে। তারা দিব্য দৃষ্টিতে দেখতে পাচ্ছে রোহিঙ্গারা এদেশের ঢোকা মানেই দেশ রসাতলে যাওয়া। এরা ইয়াবা পাচার করে, ক্রিমিনাল কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত হয়। তারা দেশের চিন্তায় নির্ঘুম।

আরেক দলের বক্তব্য হল, মানছি মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে ব্যাপারটা দেখতে হবে কিন্তু কথা হল, আমরাই তো খেতে পাই না। এখন অত বাইরের লোককে কীভাবে খাওয়াব? দেশের উপরে চাপ পড়ে না?
অভিযোগ আরো আছে, কেউ কেউ বলে সারা দেশেই তো আর দাঙ্গা হচ্ছে না। হচ্ছে একটা দুটা জায়গায়। তাহলে কেন ভাই এই দেশে আসা?

অস্বীকার করার উপায় নেই বিষয়টা জটিল। অত্যন্তই জটিল। যার জন্য সহসা কোন সিদ্ধান্তে পৌছানো খুবই কঠিন। যদি খুব সহজভাবে একটি কথা বলি পাঠকদের জন্য সুবিধা হবে বলে মনে করছি।

ধরে নিলাম, অনেক আলোচনার পরেও আমরা কোন সিদ্ধান্তে পৌছুতে পারলাম না। না মায়ানমার, না বাঙলাদেশ, না অন্য কোথাও। আমার প্রশ্ন শুধু একটিই। তাহলে ঐ বড় সংখ্যার একটা জনগোষ্ঠিকে নিয়ে আপনার কী মনে হয় কী করা উচিত? সাগরে ভাসিয়ে দেবেন নাকি গুলি করে ঝাঝরা করবেন নাকি সবচেয়ে ভালো হয় হিটলার যেটা করেছিল? গ্যাস চেম্বার? খারাপ হয় না কী বলেন? আফটার অল ওরা তো আর কোন দেশের নাগরিক না। সুতরাং আয়েসে বিড়ি ফুকি চলেন।

মায়ানমার রোহিঙ্গাদের অফিশিয়ালি স্বীকৃতি দেয় না। তাদের জন্য কোন আইডেন্টিফিকেশন কার্ড ইস্যু করা হয় না। ফলে তারা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় আইনগতভাবে যাওয়ার অধিকারী না। তারা পাসপোর্ট নিতে পারে না, উচ্চ শিক্ষার জন্য স্কুল কলেজে যেতে পারে না। তাদের জমির উপরে কোন অধিকার নেই। বর্তমানে যে জমিতে তারা বাস করছে সরকার যখন ইচ্ছা তখন সেখান থেকে তাদের উৎখাত করতে পারে কোন প্রকার কারন না দেখিয়েই।

একটা প্রশ্ন, এই অবস্থায় বাঙলাদেশে আপনি নিজেকে একটু ভেবে দেখুন। তখন আপনি কী করতেন?

একাত্তরে ১ কোটির উপরে মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। কী কারনে? জীবনের ভয়ে। কেউ কেউ একাত্তরের সাথে বর্তমানের অবস্থা মেলাতে রাজি নন। আমার প্রশ্ন কেন? আমরা জীবন হাতে নিয়ে দৌড়ে ইন্ডিয়াতে গিয়েছি, রোহিঙ্গারাও একই কারনে এখানে আসছে। পার্থক্য একটা আছে সেটা হল, বাঙলাদেশের সেসমস্ত মানুষ জনের ফেরত আসার সম্ভবনা ছিল প্রায় ১০০ ভাগ, আর এখানে না যাবার সম্ভবনা হচ্ছে ১০০ ভাগ।

কিন্তু দিন শেষে প্রশ্ন একটিই। এরা মানুষ। এদেরকে কী করা হবে?

[1116 বার পঠিত]