ইসলাম ও কোরান কে বুঝতে হলে সেই সময়কার আরবী, বিশেষ করে মক্কা মদিনার আর্থ সামাজিক অবস্থা, কোন কোন ক্ষেত্রে আয়াত নাজিল হতো এবং কোরানের মধ্যে আয়াতের বিধান রহিত করন( Abrogation) বিষয়ে সম্যক ধারনা থাকতে হবে। এসব কিছু না জেনে কোরান পাঠ করলে প্রকৃত তথ্য জানা তো দুরের কথা, প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা ১০০% । এ নিবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য সেগুলো।

অনেক গুলো ফ্যাক্টর ছিল সেই ১৪০০ বছর আগেকার মক্কা মদিনায় কেন ও কিভাবে ইসলাম প্রচার সম্ভব হয়েছিল ও অত:পর কিভাবে ইসলাম চারদিক ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে অনেক লেখা লেখি আছে তবে এ নিবন্ধে মূলত: কোরান হাদিস কিভাবে পড়তে হয় ও তার অর্থ বুঝতে হয় সে সম্পর্কে বিশেষভাবে আ লোকপাত করা হবে।কোরানের আয়াত কত রকম, কোথায় সেগুলো নাজিল হয়েছিল, নাজিলের পটভূমিকা কি ছিল এসব ভালমতো না জানলে যে কেউ কোরান পড়ে ভুল বুঝতে পারে, হতে পারে প্রতারিত।যেমন- নিচের বহুল প্রচলিত ও প্রচারিত আয়াত দুটি-

দ্বীন নিয়ে কোন বাড়া বাড়ি নাই। সূরা-বাকারা, ০২: ২৫৬ ( মদিনায় অবতীর্ণ)
তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্যে এবং আমার ধর্ম আমার জন্যে। কোরান, কাফিরুন- ১০৯:০৬ ( মক্কায় অবতীর্ণ)

কি সুন্দর একটি আয়াত ।ঠিক শান্তির মৃত সঞ্জিবনী সূরা প্রবাহের মত।যিনি কোরানের আয়াতের প্রকরণ, নাজিলের পটভূমিকা জানেন না, তিনি অতি সহজে ইসলামকে চুড়ান্ত রকম শান্তির ধর্ম হিসাবে বুঝে ফেলতে পারেন উক্ত আয়াত দুটি পড়ে।কিন্তু উক্ত আয়াত দুটি যে পরে বাতিল হয়ে গেছে অন্য আয়াত দ্বারা এ কথা জানে খুব কম মানুষ।তথাকথিত ইসলামী পন্ডিতগন যারা ইসলামকে শান্তির ধর্ম হিসাবে প্রচার ও প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধ পরিকর, তারা সদা সর্বদা উক্ত আয়াত দুটি আউড়ে গেলেও ঘুনাক্ষরেও তারা একথাটি বলে না যে , পরবর্তীতে উক্ত বিষয়ে নজিল হওয়া আয়াত দ্বারা উক্ত শান্তির আয়াত সমূহ বাতিল হয়ে গেছে।এ নিবন্ধের মূল আলোচ্য বিষয় এই আয়াত বাতিলকরন কি ও কোন্ কোন্ আয়াত বাতিল হয়ে গেছে সে সব নিয়ে আলোচনা করা। প্রথমেই দেখা যাক্ বাতিল করনের কোরানিক সমর্থন আছে কি না। তবে তার আগে বাতিলকরন বা Abrogation কি জিনিস সেটার একটু সংক্ষিপ্ত বর্ননা দেয়া যাক।বাতিল করন বা Abrogation হলো – ইসলামের প্রাথমিক যুগে (প্রধানত: মক্কায়) নাজিল কৃত নানা রকম আয়াত ( সাধারনত বিধি বিধাণ সম্পর্কিত) পরবর্তীতে মদিনায় অবতীর্ণ নতুন ও উন্নততর আয়াত দ্বারা রদ হয়ে যাওয়া।আরবিতে বলে আল নাসিক ওয়াল মানসুক- al-nāsikh wal-mansūkh (الناسخ والمنسوخ, “the abrogating and abrogated [verses]”). । আল নাসিক হলো- যে আয়াত দ্বারা বাতিল হয় বা Abrogating verse, এবং ওয়াল মানসুক হলো- যে আয়াত বাতিল হয়ে গেছে বা Abrogated Verse. এর সমর্থনে যে সব আয়াত কোরানে আছে তা নিম্নরূপ-

এবং যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত উপস্থিত করি এবং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন তিনিই সে সম্পর্কে ভাল জানেন; তখন তারা বলেঃ আপনি তো মনগড়া উক্তি করেন; বরং তাদের অধিকাংশ লোকই জানে না। সূরা নাহল, ১৬: ১০১, মক্কায় অবতীর্ণ

আল্লাহ যা ইচ্ছা মিটিয়ে দেন এবং বহাল রাখেন এবং মূলগ্রন্থ তাঁর কাছেই রয়েছে। সূরা রাদ, ১৬: ৩৯, মক্কায় অবতীর্ণ।

আমি কোন আয়াত রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান? সূরা বাক্কারা, ২: ১০৬ মদিনায় অবতীর্ণ ,

ইসলামের প্রাথমিক যুগের আয়াত সমূহ যে পরবর্তী যুগে নাজিল হওয়া আয়াত দ্বারা বাতিল হয়ে গেছে তার বহু উল্লেখ হাদিসেও আছে , যেমন-

বুখারী, ভলিউম-৬, বই-৬০, হাদিস-৬৮ : ইবনের উম বর্নিত- যদি তোমরা মনের কথা প্রকাশ কর কিংবা গোপন কর, আল্লাহ তোমাদের কাছ থেকে তার হিসাব নেবেন। অতঃপর যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন এবং যাকে ইচ্ছা তিনি শাস্তি দেবেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান( ২:৮৪) পরবর্তীতে নাজিল হওয়া আয়াত দ্বারা বাতিল হয়ে যায়।

একই বক্তব্য নিচের হাদিসে-

Bukhari, Volume 6, Book 60, Number 69:
Narrated Marwan Al-Asghar: A man from the companions of Allah’s Apostle who I think, was Ibn ‘Umar said, “The Verse:–“Whether you show what is in your minds or conceal it….” was abrogated by the Verse following it.”
মুসলিম, বই-০০৩, হাদিস- ০৬৭৫: আবু আল আলা বি আ ল সিকখির বর্নিত- আল্লাহর রসুল কিছু বিধান অন্য বিধান দ্বারা রদ করে দেন, যেমন করে কোরান তার কিছু অংশ অন্য অংশ দ্বারা রদ করে।

এরকম আরো উদাহরন নিচে দেয়া হলো-

Bukhari , Volume 6, Book 60, Number 285: Narrated Al-Qasim bin Abi Bazza: That he asked Said bin Jubair, “Is there any repentance of the one who has murdered a believer intentionally?” Then I recited to him:–
“Nor kill such life as Allah has forbidden except for a just cause.” Said said, “I recited this very Verse before Ibn ‘Abbas as you have recited it before me. Ibn ‘Abbas said, ‘This Verse was revealed in Mecca and it has been abrogated by a Verse in Surat-An-Nisa which was later revealed in Medina.”

Muslim, Book 043, Number 7173:
Sa’id b. Jubair reported: I said to Ibn Abbas: Will the repentance of that person be accepted who kills a believer intentionally? He said: No. I recited to him this verse of Sura al-Furqan (xix.):” And those who call not upon another god with Allah and slay not the soul which Allah has forbidden except in the cause of justice” to the end of the verse. He said: This is a Meccan verse which has been abrogated by a verse revealed at Medina:” He who slays a believer intentionally, for him is the requital of Hell-Fire where he would abide for ever,” and in the narration of Ibn Hisham (the words are): I recited to him this verse of Sura al-Furqan:” Except one who made repentance.”
Muslim, Book 004, Number 1433:
Anas b. Malik reported that the Messenger of Allah (may peace be upon him) invoked curse in the morning (prayer) for thirty days upon those who killed the Companions (of the Holy Prophet) at Bi’r Ma’una. He cursed (the tribes) of Ri’l, Dhakwan, Lihyan, and Usayya, who had disobeyed Allah and His Messenger (may peace be upon him). Anas said: Allah the Exalted and Great revealed (a verse) regarding those who were killed at Bi’r Ma’una, and we recited it, till it was abrogated later on (and the verse was like this):, convey to it our people the tidings that we have met our Lord, and He was pleased with us and we were pleased with Him”.

উক্ত আয়াত সমূহ হলো রহিত করনের বৈধতা প্রদানের আয়াত। উক্ত আয়াত প্রথমেই যে প্রশ্নের উদ্রেক করে তা হলো- সর্ব শক্তিমান ও মহাজ্ঞানী আল্লাহর জ্ঞানকে চ্যলেঞ্জ করে। তিনি মানুষের জন্য যদি কোন বিধি বা আইন প্রনয়ণ করেন তা হওয়া উচিত সর্বকালের জন্যই প্রযোজ্য ও আদর্শ। সময়ে সময়ে আইন পরিবর্তন করে একমাত্র মানুষ, যাদের মতি গতি , আচার আচরন , রুচির পরিবর্তন হয় সময়ে সময়ে আর তার সাথে তাল মিলিয়ে বিধির পরিবর্তন দরকার পড়ে, বর্তমানে আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যা আমরা দেখি। কোরানে রহিতকরন আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ নিজেকে মানুষের কাতারে নামিয়ে ফেলেছে, অর্থাৎ এ আল্লাহর সার্বজনীন ও সর্বকালের জন্য আদর্শ আইন তৈরী করার ক্ষমতা বা জ্ঞান নেই।তারপরেও যদি ধরা হয় সুদীর্ঘ কালের জন্য মানব সমাজে কোন বিধি প্রনয়ণ সম্ভব নয় কারন সময়ের পরিবর্তনে সমাজের পরিবর্তন ঘটে যার ফলে দরকার পড়ে বিধি পরিবর্তনের।এ বিবেচনায় নবী ইব্রাহিমের বিধি মূসা নবী পরিবর্তন করে গেছেন, ইসা নবী করে গেছেন মূসা নবীর বিধি। সুতরাং অবশ্যম্ভাবী ভাবে মোহাম্মদ করে যাবেন ইসা নবীর বিধির পরিবর্তন।এটাই যদি হয় বাস্তবতা তাহলে মোহাম্মদ কোন্ বিচারে রায় দিয়ে যান যে তার বিধি ভবিষ্যতে আর কোন দিন পরিবর্তন হবে না বা পরিবর্তন করা যাবে না ? তারপরেও শুধুমাত্র যুক্তির খাতিরে যদি ধরে নেই যে মোহাম্মদের বিধাণই চুড়ান্ত বিধান যা সমাজে সব সময় চালু থাকবে ও একটা সমৃদ্ধশালী সমাজের জন্ম দিবে, সে ক্ষেত্রে দেখা যাক কত দ্রুত মোহাম্মদের আল্লাহ তার বিধি বিধাণ গুলো পরিবর্তন বা সংশোধন করছে। এখানে দেখা যাচ্ছে- মোহাম্মদের আল্লাহ তার কোরানে মোহাম্মদের জীবনকালেই বার বার পরিবর্তন ও সংশোধন করছে।যা একজন সর্বশক্তিমান ও সর্বজ্ঞানী আল্লাহর বৈশিষ্ট্যের সাথে খুবই বেমানান।কারন বহুল প্রচলিত বিশ্বাস যে- আল্লাহ মানুষ সৃষ্টিরও বহু আগে কোরান রচনা করে লাওহে মাহফুজ নামক একটা যায়গায় সংরক্ষন করে রেখেছে।মোহাম্মদের জীবনকালেই বার বার কোরানের বিধি পাল্টানোর সাথে সাথে কি আল্লাহ তার সংরক্ষিত কোরানেও সংশোধনী এনেছে? যদি তা হয় তাহলে তা আবারও আল্লাহর সর্বজ্ঞানী বৈশিষ্ট্যের সাথে বেমানান।কারন একজন সর্ব শক্তিমান আল্লাহ যদি তার শেষ নবীর জন্য কোন বিধান বহু পূর্বেই করে থাকে তা একবারেই সার্বজনীন ও আদর্শভাবে করলেই সেটা হতো সর্বজ্ঞানী আল্লাহর জন্য মানানসই।কিছু দিন পর পর একই বিষয়ে বার বার আইন সংশোধনী সর্বজ্ঞানী আল্লাহর বৈশিষ্ট্যের সাথে খুবই বেমানান। এবারে দেখা যাক কোন কোন বিধান আল্লাহ অতি মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই পাল্টে ফেলেছে। নিচের উদাহরন গুলো পড়া যাক-

(১) তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্যে এবং আমার ধর্ম আমার জন্যে। কোরান, কাফিরুন- ১০৯:০৬ ( মক্কায় অবতীর্ণ)

দ্বীন নিয়ে কোন বাড়া বাড়ি নাই। সূরা-বাকারা, ০২: ২৫৬ ( মদিনায় অবতীর্ণ)

উক্ত আয়াতের বিধান গুলো নিম্ন আয়াত গুলো দ্বারা রদ/বাতিল হয়ে গেছে-

যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত। সূরা আল ইমরান, ০৩: ৮৫ মদিনায় অবতীর্ণ

অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আ ত-তাওবা, ০৯: ০৫মদিনায় অবতীর্ণ

তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে। আত তাওবা, ০৯: ২৯মদিনায় অবতীর্ণ

তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না। সূরা-নিসা. ০৪:৮৯ (মদিনায় অবতীর্ণ)

(২) নিঃসন্দেহে যারা মুসলমান হয়েছে এবং যারা ইহুদী, নাসারা ও সাবেঈন, (তাদের মধ্য থেকে) যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি এবং সৎকাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে তার সওয়াব তাদের পালনকর্তার কাছে। আর তাদের কোনই ভয়-ভীতি নেই, তারা দুঃখিতও হবে না। সূরা বাকারা, ০২:৬২ মদিনায় অবতীর্ণ

উক্ত আয়াত রদ/বাতিল হয়ে গেছে নিম্নোক্ত আয়াত দ্বারা

যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত। সূরা আল ইমরান, ০৩: ৮৫মদিনায় অবতীর্ণ

(৩) আর যখন তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে তখন স্ত্রীদের ঘর থেকে বের না করে এক বছর পর্যন্ত তাদের খরচের ব্যাপারে ওসিয়ত করে যাবে। অতঃপর যদি সে স্ত্রীরা নিজে থেকে বেরিয়ে যায়, তাহলে সে নারী যদি নিজের ব্যাপারে কোন উত্তম ব্যবস্থা করে, তবে তাতে তোমাদের উপর কোন পাপ নেই। আর আল্লাহ হচ্ছেন পরাক্রমশালী বিজ্ঞতা সম্পন্ন। আল -বাকারা, ০২: ২৪০মদিনায় অবতীর্ণ

উক্ত আয়াত নিম্ন আয়াত দ্বারা রহিত/বাতিল হয়ে গেছে

আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে এবং নিজেদের স্ত্রীদেরকে ছেড়ে যাবে, তখন সে স্ত্রীদের কর্তব্য হলো নিজেকে চার মাস দশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করিয়ে রাখা। তারপর যখন ইদ্দত পূর্ণ করে নেবে, তখন নিজের ব্যাপারে নীতি সঙ্গত ব্যবস্থা নিলে কোন পাপ নেই। আর তোমাদের যাবতীয় কাজের ব্যাপারেই আল্লাহর অবগতি রয়েছে। আল -বাকারা, ০২: ২৩৪

বিষয়টি নিচের হাদিস দ্বারা সমর্থিত-

ভলিউম-৬, বই-৬০, হাদিস-৫৩: ইবনে আয যুবাইর বর্নিত- আমি উসমান বিন আফ্ফান (যখন তিনি কোরানের আয়াত সমূহ সংগ্রহ করছিলেন) জিজ্ঞেস এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম- “ যারা মৃত্যুবরন করার সময় স্ত্রীদের রেখে যায়——-” (কোরান, ২:২৪০) আয়াত এ আয়াত টি অন্য আয়াত দ্বারা বাতিল হয়ে গেছে। আপনি কেন তা কোরানে সংযুক্ত করছেন? উসমান উত্তর দিলেন- “ হে আমার ভ্রাতুষ্পূত্র, আমি কোন আয়াতকেই তার স্থান থেকে সরাব না”।

(৪) সম্মানিত মাস সম্পর্কে তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে যে, তাতে যুদ্ধ করা কেমন? বলে দাও এতে যুদ্ধ করা ভীষণ বড় পাপ। আর আল্লাহর পথে প্রতিবন্দ্বকতা সৃষ্টি করা এবং কুফরী করা, মসজিদে-হারামের পথে বাধা দেয়া এবং সেখানকার অধিবাসীদেরকে বহিস্কার করা, আল্লাহর নিকট তার চেয়েও বড় পাপ। আর ধর্মের ব্যাপারে ফেতনা সৃষ্টি করা নরহত্যা অপেক্ষাও মহা পাপ। বস্তুতঃ তারা তো সর্বদাই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে, যাতে করে তোমাদিগকে দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দিতে পারে যদি সম্ভব হয়। তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দ্বীন থেকে ফিরে দাঁড়াবে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর তারাই হলো দোযখবাসী। তাতে তারা চিরকাল বাস করবে। আল -বাকারা ০২: ২১৭ মদিনায় অবতীর্ণ

মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদেরকে ক্ষমা করে, যারা আল্লাহর সে দিনগুলো সম্পর্কে বিশ্বাস রাখে না যাতে তিনি কোন সম্প্রদায়কে কৃতকর্মের প্রতিফল দেন। আল জাসিয়া, ৪৫: ১৪, মক্কায় অবতীর্ণ

উক্ত আয়াত দ্বয়কে রহিত/বাতিল করে নিচের আয়াত

নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গননায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না। আর মুশরিকদের সাথে তোমরা যুদ্ধ কর সমবেতভাবে, যেমন তারাও তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে সমবেতভাবে। আর মনে রেখো, আল্লাহ মুত্তাকীনদের সাথে রয়েছেন। সূরা আত- তাওবা, ০৯: ৩৬, মদিনায় অবতীর্ণ

(৫) তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ। আর মানুষের জন্যে উপকারিতাও রয়েছে, তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড়। আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, কি তারা ব্যয় করবে? বলে দাও, নিজেদের প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পর যা বাঁচে তাই খরচ করবে। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্যে নির্দেশ সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা করতে পার। আল – বাকারা, ২:২১৯ মদিনায় অবতীর্ণ

উক্ত আয়াত রদ/বাতিল হয় নিচের আয়াত দ্বারা

শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শুত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামায থেকে তোমাদেরকে বিরত রাখতে। অতএব, তোমরা এখন ও কি নিবৃত্ত হবে? তোমরা আল্লাহর অনুগত হও, রসূলের অনুগত হও এবং আত্মরক্ষা কর। কিন্তু যদি তোমরা বিমুখ হও, তবে জেনে রাখ, আমার রসূলের দায়িত্ব প্রকাশ্য প্রচার বৈ ত নয়। যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারা পূর্বে যা ভক্ষণ করেছে, সে জন্য তাদের কোন গোনাহ নেই যখন ভবিষ্যতের জন্যে সংযত হয়েছে, বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করেছে। এরপর সংযত থাকে এবং বিশ্বাস স্থাপন করে। এরপর সংযত থাকে এবং সৎকর্ম করে। আল্লাহ সৎকর্মীদেরকে ভালবাসেন। সূরা আল – মায়েদা, ৫: ৯১-৯২মদিনায় অবতীর্ণ

এরকম রদ বা বাতিল হয়ে যাওয়া আরও অসংখ্য আয়াত আছে যার পরিপূর্ন বর্ননা পাওয়া যাবে নিচের সাইট গুলোতে-

রদ/বাতিল করন কি জিনিস জানা যাবে এখানে- http://en.wikipedia.org/wiki/Naskh_%28tafsir%29

http://wikiislam.net/wiki/List_of_Abrogations_in_the_Qur%27an

http://www.answering-islam.org/Quran/abrogatedverses.html

http://www.answering-islam.org/Silas/abrogation.htm

http://www.sikhphilosophy.net/islam/1754-abrogated-verses-in-the-koran.html

রদ/বাতিলকরন সম্পর্কে জাকির মিয়ার বয়ান পাওয়া যাবে এখানে-

ভাল করে ভিডিওটি শুনলে দেখা যাবে কিভাবে জাকির মিয়া চাপাবাজি করতে পারে। তার বক্তব্য- নারীর ব্যভিচারের শাস্তি হলো তাকে ঘরের মধ্যে চিরতরে আটকে রাখা ও পরে কি হবে তা আল্লাহ জানে যার অর্থ পরে আল্লাহ ভিন্ন কোন শাস্তি প্রদান করবে, পরে সে শাস্তি রদ হয়ে একশত দোররায় পরিনত হয়। এতে নাকি কোন সমস্যা নেই। আসলেই সমস্যা নেই যদি আইন প্রণেতা মানুষ হয় কারন তারাই সময় সময় আইন পরিবর্তন করে। কিন্তু কোরানের আইন প্রণেতা তো মানুষ নয়, সর্বজ্ঞানী আল্লাহ। এ ধরণের ব্যভিচারের শাস্তি কি হবে তা স্থির করতে আল্লাহকে বার বার চিন্তা করতে হয়, যেন আল্লাহ মানুষ। কোরানের আল্লাহর এ ধরণের মানবিক স্বভাবের কারনেই কোরান যে আসলে মানুষ রচিত তা বুঝতে মহা পন্ডিত হওয়ার কোন দরকার আছে বলে মনে হয় না।

উক্ত (১) নম্বর বাতিল করন ঘটনার বিষয় বস্তু হলো ইহুদী, খৃষ্টান, কাফের এদের সাথে কিভাবে আচরন করতে হবে। এর উপরে মক্কা ও মদিনা দু জায়গাতেই আয়াত নাজিল হয়েছে। বাতিলকরন পদ্ধতি মোতাবেক পরে মদিনায় নাজিলকৃত আয়াত দ্বারা পূর্বে মক্কায় নাজিলকৃত আয়াত বাতিল হয়ে যাবে। এখন মদিনাতে নাজিল হওয়া আয়াত সমূহ থেকে যে বার্তা পাওয়া যায় তা কি কোন শান্তির কথা প্রচার করছে? অর্থাৎ যে আয়াতের কার্যকারিতা বহাল থাকল সেসব আয়াত থেকে কি কোন শান্তিপূর্ণ ইসলামের চেহারা পাওয়া যায় ? এভাবে ২,৩,৪,৫ নং এ কোন কোন বিষয় বাতিল হয়ে গেছে তা শুধুমাত্র আয়াতগুলো পড়লেই যে কোন সাধারন মানুষই তা বুঝে ফেলবে, এসব বুঝতে কোন রকম বিশাল দিগ্ গজ পন্ডিত হওয়ার দরকার নেই।

এখন প্রশ্ন হলো- কিভাবে বোঝা যাবে, কোন কোন আয়াত বাতিল হয়ে গেছে ও তার পরিবর্তে নতুন আয়াত প্রতিস্থাপিত হয়েছে? বোঝা কিন্তু খুবই সোজা ও এর জন্যেও বিশাল পন্ডিত হওয়ার দরকার নেই। রাষ্ট্রে যেভাবে আইন বাতিল হয় এখানকার পদ্ধতি হুবহু একই রকম।ধরা যাক, নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে কোন একটা আইন বাংলাদেশে ২০০১ সালে প্রনীত হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সে আইন দ্বারা দেশ শাসন করা যাচ্ছে না।তখন সংসদ উক্ত আইনটি কিছুটা পরিবর্তন করে সংশোধিত একটা আইন তৈরী করে তা সংসদে ২০১২ সালে পাশ করল।অত:পর কোন আইনটি দেশে কার্যকর হবে? এর উত্তর দিতে আইন বিশারদ হওয়ার দরকার নেই। সোজা উত্তর -অত:পর ২০১২ সালের আইন কার্যকর হবে ও ২০০১ সালের আইন বাতিল বলে গণ্য হবে।কোরানের ক্ষেত্রেও বিষয়টি হুবহু এক । ধরা যাক , ইসলামের প্রাথমিক যুগে ( যেমন – মক্কায়) কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে একটা বিধানের আয়াত নাজিল হয়েছিল , ঠিক উক্ত বিষয়ে যদি পরবর্তীতে ( যেমন- মদিনায়) অন্য একটা আয়াত নাজিল হয় তাহলে পূর্বোক্ত আয়াত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। যা কোরান ও হাদিসে বার বার উল্লেখ করা আছে যা উপরে দেয়া হয়েছে। এবার (১) নং বাতিলকরন আয়াত সমূহকে ব্যখ্যা করা যাক।

তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্যে এবং আমার ধর্ম আমার জন্যে। কোরান, কাফিরুন- ১০৯:০৬ ( মক্কায় অবতীর্ণ)

দ্বীন নিয়ে কোন বাড়া বাড়ি নাই। সূরা-বাকারা, ০২: ২৫৬ ( মদিনায় অবতীর্ণ)

১০৯: ০৬ (সূরা কাফিরুন) ও ০২: ২৫৬ (সূরা বাক্কারা) আয়াত দ্বয় যথাক্রমে মক্কা ও মদিনাতে নাজিল হয়েছিল।সবাই জানেন যে , মক্কাতে মোহাম্মদ খুব দুর্বল ছিলেন, তাঁর অনুসারীর সংখ্যা নগণ্য, এরকম অবস্থায় মক্কায় কুরাইশ, ইহুদি ও খৃষ্টানদের সাথে সহাবস্থান করা ছাড়া কোন উপায় ছিল না। যে কারনে উক্ত ১০৯:০৬ আয়াত নাজিল হয়। ০২: ২৫৬ আয়াত নাজিল হয় মদিনাতে। খেয়াল করতে হবে এ আয়াত হলো সূরা বাক্কারার। এ সূরার সিংহ ভাগ নাজিল হয় কিন্তু মক্কাতে, বাকী অংশ নাজিল হয় মদিনাতে।সুতরাং উক্ত আয়াত মক্কাতেই আসলে নাজিল হয়েছিল।যেহেতু সিংহভাগ নাজিল হয়েছিল মক্কাতে সেহেতু তা মাক্কি সূরা হিসাবে প্রচলিত হওয়া উচিত ছিল।কিন্তু যারা কোরানের আয়াত সংকলন করেছিল তারা তাদের ইচ্ছামত আয়াত আগ পিছ করে অত:পর তাকে মাদানি সূরা হিসাবে পরিচিত করায়। এছাড়াও কিভাবে কোরানকে সংকলনকারীরা তাদের ইচ্ছামত সাজিয়েছে তাও বোঝা যাবে নিচের তালিকা থেকে। এর একটা উদ্দেশ্য আছে মনে হয় তা হলো যাতে করে মানুষ সঠিক তথ্য বুঝতে না পারে। বর্তমানে যে সংকলিত কোরান দেখি তাতে প্রথম দিকের সূরাগুলো সব মদিনার আর তাতে আছে হত্যা, খুন এসবের কথা বার্তা, এর পরের সূরাগুলো হলো মাক্কি যাতে আছে শান্তিপূর্ন সহাবস্থানের কথা। যে কোন পাঠক যদি ঐতিহাসিক সঠিক ক্রমবিন্যাস না জেনে কোরান পড়েন তিনি ভেবে বসতে পারেন যে প্রথম দিকে আল্লাহ মোহাম্মদকে অমুসলিমদের প্রতি কঠিন হওয়ার নির্দেশ দেয়ার পর এক সময় সবার সাথে শান্তিপূর্ন সহাবস্থানের নির্দেশ দিয়েছিল।অথচ বাস্তবে হলো উল্টো। এখানে আরও খেয়াল করতে হবে মক্কায় বা মদিনার প্রাথমিক আমলে (যেমন সূরা – বাক্কারা) নাজিলকৃত বিশেষে করে জিহাদ সম্পর্কিত আয়াত গুলোর একটাও কিন্তু সূরা বাক্কারার কোন আয়াত দ্বারা বাতিল হয় নি। উপরের তালিকাতে দেখা যায় মাত্র একটা আয়াত বাতিল হয়েছে যা হলো বিধবা নারীর বিবাহ সম্পর্কিত। এর কারন সহজেই বোধগম্য। কারন মোহাম্মদ তখন সবেমাত্র মদিনাতে গমন করেছেন, তার সঙ্গী সাথী তখনও সেখানে বৃদ্ধি পায় নি বা তার ক্ষমতাও সেখানে কুক্ষিগত হয় নি। সেকারনে বাক্কারার আয়াত গুলোতে সেরকম কোন জিহাদী আয়াত নেই। মাক্কী বা বাক্কারার অনেক আয়াত বাতিল হয়েছে অনেক পরে নাজিল হওয়া সূরা আত-তাওবা, মায়েদা এসবের আয়াত দ্বারা। নিচের ক্রম সারনী থেকে দেখা যায় তাওবা ১১৩ ও মায়েদা ১১২ নম্বরে অবস্থান করছে অর্থাৎ কোরানের সর্ব শেষ নাজিলকৃত সূরাগুলোর অন্তর্গত এবং বলা বাহুল্য ততদিনে মোহাম্মদ মদিনায় তার ক্ষমতা কুক্ষিগত করে ফেলেছেন ও একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী, আশ পাশের ইহুদি খৃষ্টান দের বসতি গুলো তাঁর দখলে চলে এসেছে ও তখন তার আর ইহুদি খৃষ্টানদেরকে ভয় করার কোন কারন নেই। তার তাই তখন তার দরকারও নেই পূর্বেকার শান্তিপূর্ন বিধান চালু রাখার। সুতরাং কিভাবে কোরান সংকলনকারীরা সূক্ষ্ম কারচুপি করেছে সেটা সহজেই বোধগম্য। সবার বোঝা জন্যে সূরা গুলো ক্রমবিন্যাশ নিচে দেয়া হলো-

Quran Verses in Chronological Order:

Chronological Order Sooreh Name Verses Revelation Traditional Order
1 Alaq (Al-) 19 Mecca 96
2 Qalam (Al-) 52 Mecca 68
3 Muzammil (Al-) 20 Mecca 73
4 Mudathir (Al-) 56 Mecca 74
5 Fatehah 7 Mecca 1
6 Masad (Al-) 5 Mecca 111
7 Takwir (Al-) 29 Mecca 81
8 A’la (Al-) 19 Mecca 87
9 Leyl (Al-) 21 Mecca 92
10 Fajr (Al-) 30 Mecca 89
11 Dhuha (Al-) 11 Mecca 93
12 Sharh (Al-) 8 Mecca 94
13 Asr (Al-) 3 Mecca 103
14 Aadiyat (Al-) 11 Mecca 100
15 Kauthar (Al-) 3 Mecca 108
16 Takathur (Al-) 8 Mecca 102
17 Ma’un (Al-) 7 Mecca 107
18 Kafirun (Al-) 6 Mecca 109
19 Fil (Al-) 5 Mecca 105
20 Falaq (Al-) 5 Mecca 113
21 Nas (Al-) 6 Mecca 114
22 Ikhlas (Al-) 4 Mecca 112
23 Najm (Al-) 62 Mecca 53
24 Abasa 42 Mecca 80
25 Qadr (Al-) 5 Mecca 97
26 Shams (Al-) 15 Mecca 91
27 Bhruj (Al-) 22 Mecca 85
28 T’in (Al-) 8 Mecca 95
29 Qureysh 4 Mecca 106
30 Qariah (Al-) 11 Mecca 101
31 Qiyamah (Al-) 40 Mecca 75
32 Humazah (Al-) 9 Mecca 104
33 Mursalat (Al-) 50 Mecca 77
34 Q’af 45 Mecca 50
35 Balad (Al-) 20 Mecca 90
36 Tariq (Al-) 17 Mecca 86
37 Qamr (Al-) 55 Mecca 54
38 Sad 88 Mecca 38
39 A’Raf (Al-) 206 Mecca 7
40 J’nn (Al-) 28 Mecca 72
41 Ya’sin 83 Mecca 36
42 Farqan (Al-) 77 Mecca 25
43 Fatir 45 Mecca 35
44 Maryam 98 Mecca 19
45 Ta Ha 135 Mecca 20
46 Waqiah (Al-) 96 Mecca 56
47 Shuara (Al-) 226 Mecca 26
48 Naml (Al-) 93 Mecca 27
49 Qasas (Al-) 88 Mecca 28
50 Israa (Al-) 111 Mecca 17
51 Yunus 109 Mecca 19
52 Hud 123 Mecca 11
53 Yousuf 111 Mecca 12
54 Hijr (Al-) 99 Mecca 15
55 Ana’m (Al-) 165 Mecca 6
56 Saffat (Al-) 182 Mecca 37
57 Luqman 34 Mecca 31
58 Saba 54 Mecca 34
59 Zamar (Al-) 75 Mecca 39
60 Ghafer 85 Mecca 40
61 Fazilat 54 Mecca 41
62 Shura (Al-) 53 Mecca 42
63 Zukhruf (Al-) 89 Mecca 43
64 Dukhan (Al-) 59 Mecca 44
65 Jathiyah (Al-) 37 Mecca 45
66 Ahqaf (Al-) 35 Mecca 46
67 Dhariyat (Al-) 60 Mecca 51
68 Ghashiya (Al-) 26 Mecca 88
69 Kahf (Al-) 110 Mecca 18
70 Nahl (Al-) 128 Mecca 16
71 Noah 28 Mecca 71
72 Ibhrahim 52 Mecca 14
73 Anbiya (Al-) 112 Mecca 21
74 Muminun (Al-) 118 Mecca 23
75 Sajdah (Al-) 30 Mecca 32
76 Tur (Al-) 49 Mecca 52
77 Mulk (Al-) 30 Mecca 67
78 Haqqah (Al-) 52 Mecca 69
79 Maarij (Al-) 44 Mecca 70
80 Naba (Al-) 40 Mecca 78
81 Naziat (Al-) 46 Mecca 79
82 Infitar (Al-) 19 Mecca 82
83 Inshiqaq (Al-) 25 Mecca 84
84 Rum (Al-) 60 Mecca 30
85 Ankabut (Al-) 69 Mecca 29
86 Motafefin (Al-) 36 Mecca 83
87 Baqarah (Al-) 286 Madina 2
88 Anfal (Al-) 75 Madina 8
89 Imran (Al-) 200 Madina 3
90 Ahzab (Al-) 73 Madina 33
91 Mumtahana (Al-) 13 Madina 60
92 Nisa (Al-) 176 Madina 4
93 Zilzaleh (Al-) 8 Madina 99
94 Hadid (Al-) 29 Madina 57
95 Muhammad 38 Madina 47
96 Ra’d (Al-) 43 Madina 13
97 Rahman (Al-) 78 Madina 55
98 Ensan (Al-) 31 Madina 76
99 Talaq (Al-) 12 Madina 65
100 Beyinnah (Al-) 8 Madina 98
101 Hashr (Al-) 24 Madina 59
102 Nur (Al-) 64 Madina 24
103 Hajj (Al-) 78 Madina 22
104 Munafiqun (Al-) 11 Madina 63
105 Mujadila (Al-) 22 Madina 58
106 Hujurat (Al-) 18 Madina 49
107 Tahrim (Al-) 12 Madina 66
108 Taghabun (Al-) 18 Madina 64
109 Saff (Al-) 14 Madina 61
110 Jumah (Al-) 11 Madina 62
111 Fath (Al-) 29 Madina 48
112 Maidah (Al-) 120 Madina 5
113 Taubah (Al-) 129 Madina 9
114 Nasr (Al-) 3 Madina 110

উপরে দেখা যায় ১ নং থেকে ৮৬ নং সূরা পর্যন্ত মক্কাতে নাজিল হয়েছিল আর তার পরে ৮৭ নং সূরা বাক্কারা মদিনাতে নাজিল হয় ও ১১৪ নং পর্যন্ত মদিনাতেই নাজিল হয়।

এখন ঠিক একই বিষয়ে পরে মদিনাতে নিচের আয়াত গুলো নাজিল হয়-

যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত। সূরা আল ইমরান, ০৩: ৮৫ মদিনায় অবতীর্ণ

অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আ ত-তাওবা, ০৯: ০৫মদিনায় অবতীর্ণ

তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে। আত তাওবা, ০৯: ২৯মদিনায় অবতীর্ণ

তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না। সূরা-নিসা. ০৪:৮৯ (মদিনায় অবতীর্ণ)

এখন পাঠককেই প্রশ্ন করি, অত:পর কোন আয়াতের কার্যকারিতা থাকবে ? অমুসলিমদের সাথে কিভাবে আচরন করতে হবে তার ওপরে আগের মাক্কি আয়াতের বিধান নাকি পরের মাদানি আয়াতের বিধান ? এর উত্তর দিতে নিশ্চয়ই কোরান হাদিসে বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই। যার সামান্যতম সাধারণ জ্ঞান আছে সেই এর উত্তর দিতে পারবে। বিষয়টা এত সহজ হওয়াতেই বর্তমানে ইসলামকে কোন ক্রমেই শান্তির ধর্ম হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা যাচ্ছে না। ঠিক একারনেই তারা তারস্বরে চিৎকার করে বলছে- যে ওসব বাতিলকরন বা Abrogation শুধুমাত্র প্রযোজ্য হবে কোরানের আগেকার কিতাব যথা যবুর, তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাব সম্পর্কে। অর্থাৎ কোরান আসার পর উক্ত কিতাব সমূহ বাতিল হয়ে গেছে আর এটাই হলো বাতিল করন। কিন্তু বিষয়টা যে মোটেও তা নয় তা উক্ত আয়াত সমূহ ও হাদিস সমূহ পড়লেই বোঝা যায়। আসলে শুধুমাত্র –আল্লাহ যা ইচ্ছা মিটিয়ে দেন এবং বহাল রাখেন এবং মূলগ্রন্থ তাঁর কাছেই রয়েছে। সূরা রাদ, ১৬: ৩৯, মক্কায় অবতীর্ণ।– এ আয়াতটি দিয়ে পূর্ববর্তী কিতাবের কার্যকারিতা রদ করা হয়েছে বলে দাবী করা হয়, কিন্তু বস্তুত কোরানের কোথাও পূর্ববর্তী কিতাব তথা তৌরাত, ইঞ্জিল এসব বাতিলের সুস্পষ্ট বক্তব্য নাই। যা আছে তা হলো আয়াত বাতিলের কথা। যেমন-সূরা বাক্কারা, ২: ১০৬ ও সূরা নাহল, ১৬: ১০১- আয়াত দুটো শুধুমাত্র কোরানের আয়াত রদ করার কথা বলা হয়েছে। কারন উক্ত আয়াত দুটিতে পরিস্কারভাবে আয়াত পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে কোন কিতাব বাতিল করার কথা বলা হয় নি। গোটা কোরান ও হাদিসে এর স্বপক্ষে বহু প্রমানও আছে। তাহলে এসব পন্ডিতরা কিভাবে বলে এসব Abrogation হলো পূর্ববর্তী কিতাবের জন্য? আর কিছু কিছু আয়াত যে পরিবর্তন করা হয়েছে তার সাক্ষী উপরে উল্লেখিত হাদিসসমূহ। যা পরিস্কার ভাবে উপরে উল্লেখিত কোরানের বাতিলকরন ও বাতিল হওয়া আয়াত দ্বারা ও হাদিসের উদাহরন দ্বারা বোঝা যায়। পরবর্তীতে এ বিধানের আর কোন পরিবর্তন না হওয়ায় অত:পর তা কিয়ামত পর্যন্ত বলবত থাকবে। এটাই অতি সাধারন নিয়ম। কারন মোহাম্মদ বলে গেছেন তাঁর পর আর কোন নবী আল্লাহর বিধান দিতে আসবে না। সুতরাং এর পর কিভাবে ইসলাম শান্তির ধর্ম হবে? এছাড়াও সর্বজ্ঞানী আল্লাহ অতি দ্রুত তার বিধান সমূহ পাল্টে ফেলে অস্থিরমতি মানুষের মতই আচরণ করেছে। এ থেকে কি পরিষ্কার বোঝা যায় না যে , বস্তুত মোহাম্মদ নিজেই আসলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিজের প্রণীত পূর্বোক্ত বিধান সমূহ পাল্টে ফেলে নতুন নতুন সুবিধামত আয়াত তৈরী করে তা আল্লাহর বানীর নামে প্রচার করেছে? বস্তুত: ইসলামী পন্ডিতরা বাতিল হওয়া আয়াত গুলোকে ভুল ভাবে উপস্থাপন করে তারা সাধারণ মানুষকে অহরহ বিভ্রান্ত করছে, প্রতারিত করছে, এর শাস্তি কি হবে কিয়ামতের ময়দানে ? তা ছাড়া আমরাই বা এদের মত ধড়িবাজদের দ্বারা এভাবে কতদিন প্রতারিত হতে থাকব?

বুখারী, মুসলিম ও আবু দাউদের হাদিসের সাইট
মোহাম্মদ ও ইসলাম , পর্ব-১২
মোহাম্মদ ও ইসলাম, পর্ব-১১
মোহাম্মদ ও ইসলাম, পর্ব-10
মোহাম্মদ ও ইসলাম, পর্ব-9
মোহাম্মদ ও ইসলাম, পর্ব-8
মোহাম্মদ ও ইসলাম, পর্ব-7
মোহাম্মদ ও ইসলাম, পর্ব-6
মোহাম্মদ ও ইসলাম, পর্ব-5
মোহাম্মদ ও ইসলাম, পর্ব-4
মোহাম্মদ ও ইসলাম, পর্ব-3
মোহাম্মদ ও ইসলাম, পর্ব-2
মোহাম্মদ ও ইসলাম, পর্ব-1

[3253 বার পঠিত]