তৃতীয় লিঙ্গ: অভিশপ্ত শিখণ্ডীগণ এখনও স্বীকৃতির খোঁজে

মহাভারতের অম্বা- এক অভিশপ্ত চরিত্র। ভাই বিচিত্রবীর্যের সঙ্গে বিয়ে দেবার জন্য ভীষ্ম স্বয়ংবর সভা থেকে অম্বাকে নিয়ে আসে হস্তিনাপুরে। কিন্তু শাল্বরাজার প্রতি অম্বার অনুরাগের কথা জানতে পেরে ভীষ্ম মুক্তি দেয় অম্বাকে। অন্যদিকে শাল্বরাজ অম্বাকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। প্রত্যাখ্যাত হয়ে অম্বা এই ঘটনার জন্য ভীষ্মকে দায়ী করে এবং তাকে ধ্বংস করার কঠিন তপস্যায় ব্রতী হয়। শিভ সন্তুষ্ট হয়ে তাকে বর দেয়- পরজন্মে অম্বা নপুংসক শিখণ্ডী হয়ে জন্ম নিয়ে ভীষ্ম-বিনাশের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
পৌরাণিক এই চরিত্র অম্বার অভিশপ্ত জীবনই বয়ে বেড়াচ্ছে তার উত্তরসূরিরা- আজকের হিজড়া! এদের লিঙ্গই এদের জন্য অভিশাপ। সভ্যতার জীবন ধারায় এই সকল যৌন প্রতিবন্ধীরা সবসময়ই হয়ে এসেছে উপেক্ষিত ও নির্যাতিত। ‘হিজড়া’ যুগ যুগ ধরে সামাজিক পরিবর্তন ও বিবর্তনের মাঝ দিয়ে বয়ে এসেছে এক প্রবাহরুপে যারা এখনও সন্ধানে আছে সমাজে তাদের সঠিক অবস্থানের। বিশেষ করে উপমহাদেশের অনুন্নত জীবনযাত্রায় এরা অত্যন্ত মানবিক জীবন যাপন করে চলছে।

হিজড়ে: হিজড়া- কথ্য ভাষায় । অর্থাৎ একই দেহে স্ত্রী এবং পুং চিহ্নযুক্ত মানুষ, ক্লীব, নপুংসক, উভলিঙ্গ। ইংরেজি ভাষায় Hermaphrodite।

হিজড়ে কারো কাছে আতঙ্কের, কারো কাছে ঠাট্টার এবং কারো কাছে কৌতূহলের বস্তু। সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন এই স্রোতের সাথে আমাদের বিশাল দুরুত্বই তাদের সম্পর্কে আমাদের করে রেখেছে অজ্ঞ আর তাদের করে রেখেছে অবজ্ঞার পাত্র। ছোটবেলায় পাড়ায় হিজড়ে এসেছে শুনলেই আমরা দৌড়ে যেতাম দেখতে। তাদের অঙ্গভঙ্গি, কথাবার্তা, ভাঙ্গা কণ্ঠস্বর এবং অদ্ভুত রকম তাদের তালি বাজানো সবকিছুই ছিল ভিন্নরকম ও বিনোদনের খোরাক। দুঃখের বিষয় আজও হিজড়েরা আমাদের কাছে বিনোদন মাত্রই। আমরা অনেকেই জানি না হিজড়ে কেন হয়? কারা হয়? কেমন তাদের জীবনযাত্রা? কেন তারা আর দশজনের মতো স্বাভাবিক জীবিকা নির্বাহ না করে দোকানে দোকানে ঘুরে টাকা তোলে, অনুষ্ঠানে গিয়ে নাচ গান করে বেড়ায়?

হিজড়ে কারা:

হিজড়ে সাধারণত তিনরকম: প্রকৃত হিজড়ে ( True Hermaphrodite), অপ্রকৃত পুরুষ হিজড়ে (Male Pseudo Hermaphrodite), এবং অপ্রকৃত নারী হিজড়ে (Female Pseudo Hermaphrodite)।

অপ্রকৃত হিজড়ে (Pseudo Hermaphrodite)
গর্ভে থাকাকালীন সময়ে অন্যান্য শারীরিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মতই শিশুর যৌনাঙ্গ গঠিত হয়। যৌনাঙ্গ গঠনে ক্রোমোজোমের ভূমিকা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ক্রোমোজোমের ত্রুটিবিচ্যুতির ফলেই জন্ম নেয় যৌন প্রতিবন্ধী শিশু। ক্রোমোজোমের ভিত্তিতে লিঙ্গ নির্ধারণের ব্যবস্থায় এই যৌন বিকলাঙ্গরা তাই হয়ে উঠে অপ্রতিভ।
সাধারণত পাঁচ ধরনের অপ্রকৃত হিজড়ে দেখা যায়-

১. ক্লাইনেফেলটার সিনড্রোম (Klinefelter syndrome)
১৯৪২ সালে এইচ.এফ. ক্লাইনেফেলটার (H.F Klinefelter) নামে একজন আমেরিকান চিকিৎসক এই রোগ আবিষ্কার করেন। এই শারীরিক ত্রুটি শুধু পুরুষের ক্ষেত্রে দেখা দেয় ।
প্রতি ১০০০ জন পুরুষের ভিতর ১ জনের এই ত্রুটি দেখা দিতে পারে। টেস্টোস্টেরন (Testosterone) হরমোনের অভাবে এদের শারীরিক গঠনে পুরুষালী পেশীর ঘাটতি দেখা দেয়। মুখে দাঁড়ি গোঁফ (Facial Hair), যৌনাঙ্গে চুল (Pubic Hair) কম দেখা দেয়। বক্ষ কিছুটা উন্নত হয় ও স্ফীত স্তন দেখা দেয়। ডাক্তারি পরিভাষায় একে গাইনিকোমাস্‌টিয়া (Gynecomastia) বলে। তবে মাত্র ১০% পুরুষের গাইনিকোমাস্‌টিয়া লক্ষণযোগ্য হয়। বাকিদের গঠন স্বাভাবিক পুরুষের মতই। এদের শুক্রাশয় স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট থাকে। সেখানে শুক্রাণু উৎপন্ন হয় না। এরা সন্তান উৎপাদনে অক্ষম হলেও স্বাভাবিক যৌন জীবন পালন করতে পারে। এরা মানসিক জড়তায় ভোগে।
কারণ:
অতিরিক্ত একটি X ক্রোমোজোমের কারণে ক্লাইনেফেলটার সিনড্রোমের উদ্ভব ঘটে। স্বাভাবিক পুরুষের সেক্স ক্রোমোজোম XY বিন্যাস এবং নারীর ক্ষেত্রে XX । কিন্তু এই সিনড্রোম ধারী পুরুষদের ক্ষেত্রে ক্রোমোজোম বিন্যাস দাঁড়ায় XXY। এই সিনড্রোমে আক্রান্ত সকল ব্যক্তির দেহকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা এক হয় না। যৌন ক্রোমোজোমের অপ অবস্থান ও বিকৃতির ফলে অনেকের ক্রোমোজোম সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৮। এর মধ্যে যৌন ক্রোমোজোম XXYY। এর সম্ভাবনা প্রতি ১৮০০০- ৪০০০০ এর ভিতরে একজনের।

২. XXY পুরুষ (XXY Male)
আপাত গঠন পুরুষের মতো। এদের যৌনাঙ্গের অস্বাভাবিকতা বয়ঃসন্ধিকালের ভিতর প্রকাশ পায়। শিশ্ন আছে। তবে মূত্রছিদ্রটি (Urethral Orifice) শিশ্নের স্বাভাবিক স্থানে থাকে না। ডাক্তারি ভাষায় একে হাইপোস্পেডিয়াস (Hypospadias) বলে। এদের অণ্ডকোষ শরীরের অভ্যন্তরে থাকে । একে বলে গুপ্ত শুক্রাশয় (Cryptorchidism)।
কারণ:
যৌন ক্রোমোজোমের অপ অবস্থান এর কারণ। এই রোগীদের শরীরে ক্রোমোজোমের মোট সংখ্যা ৪৭। এর ভেতর ৪৪টি অটোজোম আর তিনটি সেক্স ক্রোমোজোম XXY।

৩. XX পুরুষ (XX)
XX পুরুষের সাথে ক্লাইনেফেলটার সিনড্রোমের অনেক মিল আছে। প্রতি ১০,০০০০ জনের ভিতর ৪ অথবা ৫ জনের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এদের স্তন থাকে। তবে সুডৌল, স্ফীত স্তন নয়। এদের অত্যন্ত ক্ষুদ্র, ২ সেন্টিমিটারেরও ছোট শুক্রাশয় থাকে। সেখানে শুক্রাণু (Spermatozoa) উৎপন্ন হয় না। এদের হাইপোস্পেডিয়াসের সমস্যা থাকে। এরা বেঁটে হয়।
কারণ:
পিতার শরীরে সংঘটিত মিয়োসিস পর্যায়ে X এবং Y ক্রোমোজোমের অসমান ক্রসিং ওভারের ফলস্বরুপ X ক্রোমোজোম স্বাভাবিক-পুরুষ জীন SRY বহন করে। উক্ত X ক্রোমোজোম যখন আরেকটি স্বাভাবিক X ক্রোমোজোমের সাথে মিলিত হয়ে মাতার শরীরে ভ্রূণ তৈরিতে অংশগ্রহণ করে তখন তা XX পুরুষ হিজড়ে জন্ম দেয়।

৪. টার্নার সিনড্রোম (Turner Syndrome)
১৯৩৮ সালে হেনরি টার্নার ডাক্তারি অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে এই ধরনের রোগের কারণ নির্ণয় করেন। প্রতি ২৫০০ মহিলাদের ভিতর একজনের এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাধারণত একটি X ক্রোমোজোমের অনুপস্থিতি এই রোগের কারণ।
আপাতদৃষ্ট মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সিনড্রোম দেখা দেয়। জন্মের প্রথম তিন বছর এদের উচ্চতা স্বাভাবিক দেখা দিলেও এরপর থেকে উচ্চতা বৃদ্ধির হার কমে যায়। যোনিকেশ (Pubic Hair) খুব কম দেখা দেয়। সাধারণত বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই মেয়েদের ডিম্বাশয় থেকে সেক্স হরমোন- ইস্ট্রোজেন (Estrogen) ও প্রোজেস্টেরন (Progesterone) নির্গত হওয়া শুরু করে। কিন্তু টার্নার সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে সেক্স হরমোনের প্রকাশ ঘটে না। ফলে রজঃচক্র বা মাসিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। প্রশস্ত বুকে স্তন গ্রন্থির উদ্ভব হয়। গলার দু-দিকের পুরু মাংসল কাঁধ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এদের বধির হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকে। এরা অস্থি সংক্রান্ত বিভিন্ন অসুবিধা ও অস্বাভাবিকতায় ভোগে।
অনুন্নত ডিম্বাশয় ও গর্ভধারণে অক্ষম হলেও টার্নার সিনড্রোমে আক্রান্ত কারো কারো স্বাভাবিক যোনিপথ ও জরায়ু থাকে।
কারো কারো ক্ষেত্রে গণিত শিক্ষা অথবা স্মৃতি ধারণ ক্ষমতায় ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
কারণ:
টার্নার সিনড্রোমের রোগীদের কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা ৪৫ অর্থাৎ অটোজোম ৪৪টি আর সেক্স ক্রোমোজোম ১টি X। স্বাভাবিক নারীদের ক্ষেত্রে বারবডি পজিটিভ থাকে। বারবডি হল পলিমরফো নিউক্লিয়াস যুক্ত শ্বেত কণিকায় ড্রামস্টিকের (Drumstick) মত দেখতে নিউক্লিয়াস অঙ্গাণু। সাধারণত নারীর ক্ষেত্রে এই পলিফরমো নিউক্লিয়াস যুক্ত শ্বেত কণিকায় শতকরা ৫ ভাগ ড্রামস্টিক দেখা যায় তাই নারীর শরীরে বারবডি পজিটিভ কিন্তু পুরুষের ক্ষেত্রে এই ড্রামস্টিক অনুপস্থিত থাকে বলে পুরুষের ক্ষেত্রে বারবডি নেগেটিভ। । কিন্তু টার্নার সিনড্রোমের মহিলাদের ক্ষেত্রে বারবডি নেগেটিভ থাকে। একদিকে ‘Y’ ক্রোমোজোমের অনুপস্থিতি যেমন পুরুষালী ভাব প্রকাশে অসহযোগিতা করে তেমনি বারবডি না থাকায় নারীসুলভ ভাবও প্রকাশ পেতে পারে না।
অনেকের দেহকোষে ক্রোমোজোমের সংখ্যা একটু ভিন্নতর হতে দেখা যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফিমেল পলিজোমি (Female polysomy)। এদের ক্রোমোজোম সংখ্যা ৪৭ (৪৪XXX)। এছাড়াও মিশ্র ক্রোমোজোম অপেরণও (Mixed Choromosomal Aberration) দেখা যায়।

৫. মিশ্র যৌন গ্রন্থির বিকৃতি (Mixed Gonadal Dysgebesis-MGD)

গোনাড হল দেহের সেক্স অর্গান। পুরুষের থাকে শুক্রাশয় আর নারীর থাকে ডিম্বাশয়।
MGD সিনড্রোম ধারীদের আপাতদৃষ্টিতে পুরুষ বলে মনে হয়। শুক্রাশয় থাকে তবে একটি। এর গঠন জটিল আকারের। প্রতিটা শুক্রাশয়ে ৪০০-৬০০ টির মতো শুক্রোৎপাদক নালিকা (Seminiferous Tube) থাকে। এর ৫টি স্তর- স্পার্টাগোনিয়া (Spermatogonia), প্রাথমিক স্পার্টোসাইট (Primary Spermatocyte), গৌণ স্পার্মাটোসাইট (Secondary Spermatocyte), স্পার্মাটিড (Spernatid) ও স্পার্মাটোজোয়া (Sprematozoa)। এই পাঁচটি পর্যায়ের মধ্য দিয়েই শুক্রাণু তৈরি হয়। কিন্তু এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উল্লেখিত ৫টি পর্যায়ে বিভিন্ন ত্রুটি বিচ্যুতির কারণে শুক্রাণু গঠন হয় না। শিশ্ন থাকা সত্ত্বেও এদের শরীরে যোনি (Vagina), জরায়ু (Uterus) ও দুটি ফেলোপিয়ান নালীর (Fallopian Tube) অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। বিকৃত যৌন গ্রন্থির উপস্থিতির ফলে এদের জননকোষের উৎপত্তি স্থানে গোনাডাল টিউমার (Gonadoblastoma) দেখা দিতে পারে। ২৫% MGD আক্রান্ত ব্যক্তিদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
কারণঃ
প্রধানত ক্রোমোজোমের অস্বাভাবিকতা, অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির নানারকম ত্রুটি ও জননকোষের উৎপত্তি স্থানের নানা জটিলতার ফলে এই ধরনের রোগের উদ্ভব ঘটে। এদের ক্রোমোজোম সংখ্যা হয় ৪৬ (৪৫X)।

প্রকৃত হিজড়ে (True Hermaphroditism)
এদের শরীরে শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয় উভয়ই অবস্থান নেয়।
এরা অধিকাংশই পেশীবহুল শরীরের অধিকারী থাকে। শিশ্ন থাকে।
অল্প হলেও কারো কারো শিশ্নের বদলে যোনি থাকে। এবং ভগাঙ্কুর (Clitoris) স্বাভাবিকের তুলনায় বড় থাকে অনেক সময় তা পুরুষ শিশ্নের মত হয়ে থাকে। এদের মূত্রনালি ও যোনিপথ একসাথে থাকে। একে বলে ইউরোজেনিটাল সাইনাস (Urogenital Sinus)। ফেলোপিয়ান নালী (Fallopian Tube) ও জরায়ু (Uterus) থাকে। জরায়ু অত্যন্ত ছোট হয়। চিকিৎসার ভাষায় একে বলে হাইপোপ্লাস্টিক বা ইউনিকরনেট্‌ (Hypoplastic or Unicornuate)। কৈশোরে স্তন গ্রন্থির প্রকাশ ঘটে ও রজঃচক্র (Menstruation Cycle) শুরু হয়।
যাদের বাহ্যিক জনন অঙ্গ পুরুষের মতো অর্থাৎ শিশ্ন আছে তাদেরও রজঃচক্র হয়ে থাকে। একে বলে সাইক্লিক হেমাচুরিয়া (Cyckic Hematuria)। এ ধরনের রজঃচক্রের সময় শুক্রাশয়ে ব্যথা হয়।
কারণ:
ক্রোমোজোম সংখ্যা ৪৮ (৪৬XX)। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ৪৬XY। ডিম্বাশয় থেকে ইস্ট্রোজেন হরমোন ক্ষরণের ফলে নারীসুলভ ভাব এবং শুক্রাশয় থেকে এন্ড্রোজেন হরমোন নিঃসৃতের ফলে পুরুষসুলভ ভাব প্রকাশ পায়।

গোনাডের ত্রুটি:
ক্রোমোসোম স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় গোনাডের ত্রুটির ফলেও শিশু যৌন বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নেয়।
যৌনাঙ্গ সৃষ্টির গুরুত্বপূর্ণ নালী মুলেরিয়ান নালী (Mullerian Duct) ও উলফিয়ান নালী (Wolffian Duct) নিয়ন্ত্রণ করে গোনাড। শুক্রাশয় থেকে নির্গত অ্যান্টি মুলেরিয়ান ফ্যাক্টর বা মুলেরিয়ান ডাক্ট ইন্‌হিবিটর (Anti Mullerian Factor or Mullerian Duct Inhibitor) নারী যৌনাঙ্গ সৃষ্টিতে বাধা দেয় এবং শুক্রাশয় থেকে নির্গত টেস্টোস্টেরন হরমোন পুরুষাঙ্গ গঠন করে। কিন্তু যদি দুটোর একটি নিঃসৃত হয় কিন্তু অপরটির নিঃসরণ বন্ধ থাকে তবে লিঙ্গ গঠনে সমস্যা দেখা দিবে। এর জন্য সাধারণত দু ধরনের হিজড়ে জন্ম হয়- পিওর গোনাডাল ডিস্‌জেনেসিস্‌ (Pure Gonadal Dysgenesis) এবং অ্যাবসেন্ট টেস্‌টেস্‌ সিনড্রোম (Absent Tests Syndrome)।

হরমোন ও এনজাইমের ত্রুটি:
শুধুমাত্র এনজাইমের (Enzyme) ও কিছু বিশেষ হরমোনের (Hormone) ত্রুটির ফলেও জন্ম নিতে পারে হিজড়ে শিশু। মানুষের দেহের বৃক্কের ওপরে মোরগের ঝুটির মতো দেখতে ত্রিভুজাকার গ্রন্থি অ্যাড্রিনাল বা সুপ্রারেনাল (Adrenal or Suprarenal)। অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির বহির্ভাগ কর্টেক্স (Cortex) থেকে নিঃসৃত হয় গ্লুকোকর্টিকয়েড (Glucocorticoid) নামক হরমোন। অন্যদিকে শুক্রাশয় থেকে নির্গত হয় টেস্টোস্টেরন (Testosterone) এবং অ্যান্ড্রোজেন (Androgen) নামক হরমোন। এখন গ্লুকোকর্টিকয়েড (Glucocorticoid) ও অ্যান্ড্রোজেন (Androgen) উভয় হরমোন তৈরিতে ও সংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে সঠিকভাবে কাজ করতে তিনটি এনজাইম সাহায্য করে- ২০,২২ ডেসমোলেজ (20,22 Desmolase), ৩β হাইড্রক্সিস্টেরয়েড ডিহাইড্রোজিনেজ (3β Hydroxysteroid dehydrogenase), এবং ১৭α হাইড্রক্সিলেজ (17α Hydroxylase)। এই এনজাইমের কোন একটির অভাব হলেই লিঙ্গ নির্ধারণ জটিল হয়ে উঠে। এদের অপ্রকৃত হিজড়ে (Pseudo Hermaphrodite) বলা হয়। পুরুষ ও মহিলা দুইপ্রকার অপ্রকৃত হিজড়েদের মধ্যে আপাত সাদৃশ্য খুব প্রকট তাই বিশেষজ্ঞ ছাড়া সাধারণের পক্ষে পার্থক্য নির্ণয় করা সম্ভব নয়।

চিকিৎসা:
ক্রোমোজোমের ত্রুটি ব্যতীত অন্য সব বিচ্যুতির পূর্ণ সমাধান করা সম্ভব। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যা এক্ষেত্রে অনেকদূর এগিয়েছে। হরমোন রি-প্লেসমেন্ট থেরাপির সাহায্যে হরমোনের প্রয়োজনীয়তা মেটানো যায়। যোনি সম্পর্কিত ত্রুটি চিকিৎসার ভাষায় যাকে বলা হয় Vaginal Anomalies , দূর করা সম্ভব কৃত্রিম যোনিপথ তৈরি করে। অদূর ভবিষ্যতে এই বিদ্যায় উন্নতির ফলে জন্মগত হিজড়ে শিশু কম জন্মানো সম্ভব।
অনেকেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ নারীতে পরিণত হয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। এদের রুপান্তরকামী (Transgendered) বলা হয়। তবে এ অপারেশন অত্যন্ত ব্যয়বহুল বিধায় এর জন্য অর্থ বহন করা আমাদের মতো অনুন্নত দেশের হিজড়েদের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না।

জীবন ও জীবিকা:
শিখণ্ডীদের সমাজ জীবন আমাদের থেকে সম্পূর্ণভাবে ভিন্ন। তারা জোট হয়ে একত্রে বসবাস করে। এদের আলাদা কমিনিউটি থাকে। ঢাকা শহরের অনেক জায়গায় যেমন পুরনো ঢাকা, শ্যামপুর, ডেমরা ও ফতুল্লা, নয়াবাজার ও কোতোয়ালী, সাভার, ধামরাই, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর এসকল এলাকায় হিজড়েদের ডেরা খুঁজে পাবেন। প্রতিটি হিজড়ে বাড়ির তত্ত্বাবধানে থাকে একজন গুরু মা। এখানেই হিজড়েদের শেখানো হয় নাচ, গান এবং দু হাত দিয়ে কিভাবে অদ্ভুত তালির আওয়াজ সৃষ্টি করা যায়। অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি এবং ভয় ভীতি প্রদর্শন করে কিভাবে লোকজনের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে হয় তার প্রশিক্ষণও দেয়া হয় এখানে। আর এভাবেই তৈরি করা হয় হিজড়েদের তাদের অস্বাভাবিক জীবন পথের প্রতিকূলতায় অস্বাভাবিক ভাবে বেঁচে থাকার কৌশল। কোথাও নতুন কোন হিজড়ে জন্ম নিলে হিজড়েরা জোট বেধে সেখানে যায় বাচ্চাটিকে তুলে আনতে। হিজড়ে শিশু জন্ম দেয়া পরিবারটির যদি আর্থিক সঙ্গতি না থাকে তবে বাবা মায়েরা সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কথা ভেবে শিশুটিকে দিয়ে দেয়াই শ্রেয় মনে করে। আর যদি না দিতে চান তবে মোটা অঙ্কের বখশিশ দিয়ে তবেই হিজড়েদের বিদায় করা যায়। অনেক সময় দেখা যায় শিশুটি বড় হয়ে স্বেচ্ছায় অংশ নেয় হিজড়ে বাড়িতে। হয়ত পারিপার্শ্বিক অবহেলা, অবজ্ঞা ও কটাক্ষপূর্ন মন্তব্য তাকে বাধ্য করে সমাজ থেকে বহির্ভূত এই জীবনে প্রবেশ করতে। এছাড়াও এইসব বাড়ি কিংবা মহল্লার সকল সদস্যই তার নিজের মতই- অবহেলিত ও বঞ্চিত, যা তাকে অস্তিত্বহীনতা ও একাকীত্ব থেকে বাঁচায় এবং মানসিকভাবে প্রশান্তি দান করে। পরিবারের মতো জোট বেধে থাকলেও হিজড়ে মহল্লা কখনই তাদের জীবনে পরিবারের অভাব পূরণ করতে পারে না। একেকটি হিজড়ে কমিউনিটি গড়ে উঠে বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে। কমিউনিটির প্রতিটি হিজড়ে সদস্যকে অবৈধ উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করতে বাধ্য করা হয়। প্রতিমাসে স্থানীয় দোকান থেকে চাঁদা উঠানো, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে নাচ গান করা, জোর করে বিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে টাকা চাওয়া এবং যৌনকর্মী হয়ে অসাধুভাবে বেঁচে থাকার ব্যস্ততায় কেটে যায় এদের দিন। প্রতিষ্ঠিত ও স্বাবলম্বী জীবন যাপনের উপযুক্ত শিক্ষা এখানে কাউকে দেয়া হয় না। এইসব বাড়ীর একেকজন হিজড়ে সদস্য একেকজন উপার্জন যন্ত্র মাত্র!

খোঁজাকরনঃ
খোঁজা করন বা লিঙ্গ কর্তনের মত ভয়ঙ্কর আইন বিরুদ্ধ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড হিজড়ে সম্প্রদায়ের সঙ্গী। অনেকেই হিজড়ে কমিউনিটিতে যোগদান কালে নিজের শিশ্ন স্বেচ্ছায় কর্তন করে। কেউ করতে না চাইলে তাকে জোর করা হয়। এছাড়া সুশ্রী দেখতে বালকদের বিভিন্ন জায়গা থেকে ধরে এনে এদের শিশ্ন ও অণ্ডকোষ কেটে এদের খোঁজা করে দেয়া হয় এরপর হিজড়ে বানিয়ে যৌন ব্যবসায় নামানো হয়। লিঙ্গ অপসারণ ব্যয়বহুল ও অনৈতিক বিধায় হাতুড়ে ডাক্তারের সাহায্যে এর কর্তন সম্পন্ন করা হয়। এতে প্রচুর রক্তপাত ঘটে। বেশিরভাগই প্রচুর রক্তক্ষরণের ফলে মারা যায়। এ সম্পর্কে ‘বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ (Bandhu Social Welfare Society ) এর পরিচালক শালে আহমেদ বলেন-

‘However, in reality there are many who simply decide to enter this community because of hardships they suffer in life, economic or otherwise. Some are forced into it. They leave their old family and find a new one. They all have to be castrated, according to the rules. Many of them try getting this operation done in the hands of quack doctors and die. So there are only just a few properly castrated hijras out there”.

অধিকার প্রসঙ্গে:
বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ নং আর্টিকেলে বলা আছে-
“All Citizens are Equal before Law and are Entitled to Equal Protection of Law”
এ দেশের সংবিধান শুধু ‘নারী’ এবং ‘পুরুষ’ এই দুটি লিঙ্গের স্বীকৃতি দেয়। তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে হিজড়েদের স্বীকৃতি না দেয়ায় নিজেদেরকে ‘পুরুষ’ কিংবা ‘নারী’ যেকোনো একটি লিঙ্গের হয়ে পরিচয় প্রদান করতে হয়। ফলস্বরুপ ভোটাধিকার প্রয়োগ, বিবাহ, নিজস্ব পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, চাকরি কিংবা স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণে তারা সমান অধিকার ভোগ করতে পারে না।
প্রাক্তন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ.কে.এম নজরুল ইসলাম (১৯৭৭-১৯৮৫) হিজড়াদের ‘পুরুষ’ হিসেবে ভোটাধিকারের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০০০ সালে নির্বাচন তালিকা প্রস্তুত কালে জাতীর এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের হিজড়া কমিউনিটি থেকে কমিশনের কাছে আবেদন রাখা হয় ‘হিজড়া’ হিসেবে ভোটাধিকারের। জবাবে কমিশন আশ্বাস দিলেও তার বাস্তবায়ন আজও সম্ভব হয়নি।
হিজড়াদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য সরকারের কাছেও নেই। হিজড়া জনগোষ্ঠীর সঠিক সংখ্যা নির্ধারণের কোন উদ্যোগও নেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে ‘বাধন হিজড়া সংঘ’ থেকে পিংকি হিজড়া আক্ষেপ করে বলেন-

“there are no authentic statistics on how many hijras are there in Bangladesh. According to newspaper reports, the number varies from 30,000 to 150,000. Hijras get little sympathy from society. We are commonly subject to ridicule and rejection. Naturally, survival instincts make us live together as far as possible.”

তবে সমাজসেবা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর (১৬ কোটির বেশি) দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ অর্থাৎ ৬০ হাজার হিজড়া সম্প্রদায় গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে উন্মুক্ত ভাবে বাস করছে। ৫ হাজার হিজড়া পরিবারের সঙ্গে বাস করছে। তাদের বিষয়ে পরিবারগুলো গোপনীয়তা রাখে। ঢাকা বিভাগে ৩ হাজার হিজড়া জনগোষ্ঠী রয়েছে। শুধু ঢাকা শহরে বাস করছে ১৪০০ জন। আর খুলনা বিভাগে রয়েছে ১২০০।
আশার বিষয় সরকার প্রথমবারের মতো হিজড়া পুনর্বাসনের পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। গত বছর ২০১১ সালের ১০ আগস্ট সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মাসিক ভাতা, স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ, ক্ষুদ্রঋণ দেওয়াসহ বিভিন্ন সহায়তার ব্যবস্থা রেখে প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে হিজড়া পুনর্বাসন কর্মসূচির প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশের ৬৫ হাজার হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ের দুই বছর মেয়াদী এ কর্মসূচির প্রস্তাব করেছে সমাজসেবা অধিদফতর। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০১৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত। ৬৪ জেলার হিজড়া জনগোষ্ঠী এ প্রকল্পের আওতায় আসবে।
তবে পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা ও কাগজ কলমে এর পরিকল্পনার জন্য কিছু খুচরো কলমের কালির অপচয় করে তা বাস্তবায়ন না করে বসে থাকার ঐতিহ্যবাহী মানসিকতাকে সরকার বিদায় করতে না পারলে এর ফল কারো জন্যই কোন প্রকার উন্নতি বয়ে আনতে পারবে না। পাশাপাশি প্রয়োজন জনসাধারণের মনে হিজড়েদের সম্পর্কে সচেতনতা ও প্রাথমিক জ্ঞান।

অনেকের কাছেই ‘হিজড়া’ একটি গালি। কারো দুর্বলতা কিংবা ভীরুতাকে প্রকাশ করার প্রতীক রূপে অনেকেই ‘হিজড়া’ শব্দটি গালি হিসেবে প্রদান করে। যা একদিকে হিজড়েদের পক্ষে যেমন অবমাননাকর তেমনি যারা গালি দেয় তাদের মূর্খতার পরিচায়ক। হিজড়েরা দুর্বল নয়। তারা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার কিছু ত্রুটি বিচ্যুতির ফল। দুর্বল বরং আমরা যারা তাদেরকে গ্রহণ করার যথেষ্ট সাহসিকতা ও আন্তরিকতা নিজেদের ভেতর সংঘটিত করতে পারিনি।
উভলিঙ্গ হিসেবে রাষ্ট্রীয় ভাবে পরিচিতি লাভ করা হিজড়েদের অধিকার। তবে নামের পিছনে ‘হিজড়ে’ শব্দটি যুক্ত করার যেই মানসিকতা শিখণ্ডীদের মাঝে তা পরিহার করা প্রয়োজন। কেনোনা উভলিঙ্গত্ব তাদের সার্বিক পরিচয় নয়। তাদের প্রথম ও প্রধান পরিচয় তারা মানুষ।
যৌন জীবনে হিজড়েরা মূলত সমকামী। কিন্তু আমাদের দেশে এখনও সমকামিতা নিষিদ্ধ বিধায় হিজড়েদের যৌন জীবন অপ্রতিষ্ঠিত। খুবই অবাক লাগে মানুষের ব্যক্তিগত গণ্ডীর কামনা, বাসনা যখন সমাজ ও রাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার জালে আটকে থাকে এবং তাদের স্বীকৃতির অপেক্ষায় ধুকে ধুকে মরে!

হিজড়েদের প্রতিবন্ধক জীবনের পঙ্কিলতা থেকে উঠে এসে শবনম মৌসি লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন ‘স্বাভাবিক’ আমাদের থেকে তারা কোন অংশেই কম নয়। ১৯৯৯ সালে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে শবনম মৌসি প্রথম হিজড়ে হিসেবে এম.এল.এ পদে অধিষ্ঠিত হন। যেখানে পশ্চিমা বিশ্বে শেরিল চেজ, জিম সিনক্লায়াররা সাধারণ মানুষের মতই স্বাভাবিক জীবনের সকল সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে সেখানে আমাদের বৃহন্নলাদের কেন এখনও দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে স্বীকৃতির খোঁজে?

‘নপুংসক’, ‘বন্ধ্যা’ কিছু অতিরঞ্জিত শব্দের বদৌলতে মানুষকে স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিকত্বের সার্টিফিকেট প্রদান করা কতটা যুক্তিযুক্ত? সন্তান উৎপাদন ক্ষমতাই কি নির্ধারণ করবে কে সমাজের অন্তর্ভুক আর কে বহির্ভূত? সময়ের আর যুগের দাবী পরিপেক্ষিতে আজ এই প্রশ্ন আসা সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও স্বাভাবিক।
চিলেকোঠার খাঁচায় ডানায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অসুস্থ হয়ে যেই পাখিটি এখনও কাতরাচ্ছে সেও স্বপ্ন বুনে আকাশে পুনরায় ডানা মেলার। তারও পূর্ণ অধিকার আছে ফিরে যাবার তার জগতে। লাঞ্ছনা, বঞ্চনার জগত থেকে নানা প্রতিবন্ধকতার মাঝেও অস্তিত্বের বৈধতার সংগ্রাম করে চলছে বৃহন্নলারা। হাজার হাজার শিখণ্ডী চোখের দ্যুতির মাঝে স্বপ্ন লালন করে চলছে সম্মান ও সমৃদ্ধির জীবনের। এখন শুধু বাস্তবায়নের অপেক্ষা!

Wikipedia
http://men.webmd.com/tc/klinefelter-syndrome-topic-overview
http://www.medicinenet.com/turner_syndrome/article.htm
http://www.childrenshospital.org/az/Site3208/mainpageS3208P0.html
ভারতের হিজড়ে সমাজ-অজয় মজুমদার, নিলয় বসু
http://www.thedailystar.net/law/2008/08/04/letter.htm
http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=15adf8eabe6b4c8915ef1886d46d9d38&nttl=54419

মুক্তমনা ব্লগার

মন্তব্যসমূহ

  1. সৈয়দ মনজুর মোর্শেদ জানুয়ারী 24, 2013 at 11:47 অপরাহ্ন - Reply

    আপনার তথ্যবহুল লেখাটির জন্য অনেক অভিনন্দন।

  2. রুদ্রাভ জানুয়ারী 22, 2013 at 12:57 অপরাহ্ন - Reply

    তৃতীয় লিঙ্গের এই মানুষগুলোর প্রতি আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি, মর্যাদাসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরী এবং সামাজিক স্বীকৃতি প্রদাণের সুদীর্ঘ পথে আপনার এই ধরনের লেখা গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। অসংখ্য ধন্যবাদ।

  3. প্রদীপ দেব মে 2, 2012 at 5:03 অপরাহ্ন - Reply

    খুবই দরকারি বৈজ্ঞানিক-সমাজবৈজ্ঞানিক লেখা। ধন্যবাদ রাহনুমা।

  4. মামুণ মে 1, 2012 at 8:32 অপরাহ্ন - Reply

    বেশ গবেষনামূলক পোষ্ট । বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও রাষ্ট্রীয় আইন সম্র্পকেও জানলাম

  5. আমি কোন অভ্যাগত নই এপ্রিল 27, 2012 at 11:50 অপরাহ্ন - Reply

    অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলল…ধন্যবাদ…আমাদের সংবিধানে কত অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে কাটাছেড়া করা হয়… ৩য় লিঙ্গের মত একটা বাস্তব ও প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে কারও কোন মাথাব্যাথা নেই

  6. সাইফুল ইসলাম এপ্রিল 26, 2012 at 11:43 অপরাহ্ন - Reply

    অভীকের সাথে আমার মিল আছে এইদিক দিয়ে যে, আমিও বৃহন্নলাদের অস্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য সম্পূর্ন দোষটা দেব মা বাবা নামের ঐ অমানুষগুলোকে। এমনিতেই বাবা মায়ের উপরে আলগা কোন সোহাগ পোষন করি না, তার উপরে এমন বাবা মায়ের কথা মনে উঠলে মেজাজ আরো গরম হয়ে যায়। মজা মারবে তারা আর সেই মজার ভার বইবে ছেলে মেয়ে, বাহ! কী সুন্দর নিয়ম।

    আর সরকার তার দায় এড়ায় অত্যন্ত সুন্দরভাবে। কারন লিঙ্গ যে মোটে দুটো!

    সাংবিধানিকভাবে হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গের বলে ঘোষনা দেওয়ার দাবী জানাই। আর যারা মজা লুটেছে, লুটছে, লুটবেন তাদের যথাযথ জায়গায় গদাম।

  7. এমরান এপ্রিল 26, 2012 at 3:17 অপরাহ্ন - Reply

    লেখাটা পড়ে খুব ভাল লাগলো। অনেক কিছু জানতে পারলাম। লেখক কে এতো সুন্দর এবং তথ্য বহুল লেখা উপহার দেবার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

  8. কাজী রহমান এপ্রিল 26, 2012 at 8:44 পূর্বাহ্ন - Reply

    প্রাকৃতিক কারনেই মানুষের আচরণের যে কত রকমফের রয়েছে তা বুঝতে এই লেখাগুলোর জুড়ি মেলা ভার। তথাকথিত অস্বাভাবিক অনেক আচরণ যে খুব স্বাভাবিক আর সুস্থ তা মেনে নিতে এসব তথ্য অনেক সাহায্য করবে। সবচে আগে অবশ্য মানুষকে মানুষ বলে সম্মান করার সুস্থ স্তরের মানসিকতা থাকতে হবে।

    মানুষকে নিয়ে এমনি চমৎকার লেখা অনেক অনেক বেশী প্রকাশ আর প্রচার পাওয়া দরকার। ধন্যবাদ রাহনুমা রাখী (C)

    • রাহনুমা রাখী এপ্রিল 26, 2012 at 10:04 অপরাহ্ন - Reply

      @কাজী রহমান,
      কোন কিছু সম্পর্কে না জানা থাকলে তা অস্বাভাবিক লাগে। কিন্তু যখন এর কারন নির্নয় করা হয় তখন এর সম্পর্কে সঠিক ধারনা যেমন জন্মে তেমনি তার সমাধান করাও সম্ভব হয়। তাই জানা প্রয়োজন। না জেনে সিদ্ধান্ত নেয়া থেকেই আবির্ভুত হয় এইরকম সমস্যা যা কোন এক শ্রেনীর প্রতি অন্যায় হয়ে দাঁড়ায়।

      ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

  9. সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড এপ্রিল 26, 2012 at 4:21 পূর্বাহ্ন - Reply

    দারুন একটা লেখা। অনেক কিছু জানলাম। শেষ দিকের সামজিক অবস্থান বিশ্লেষণ লেখাটিকে পূর্ণতা দিয়েছে। ধন্যবাদ।

    • রাহনুমা রাখী এপ্রিল 26, 2012 at 10:01 অপরাহ্ন - Reply

      @সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড,
      তৃতীয় লিঙ্গের সামাজিক অবস্থানই সবচেয়ে বেশি দুর্বল। এ ক্ষেত্রে ট্রিমেন্ডেনাস পরিবর্তন প্রয়োজন।

      ধন্যবাদ যশোর।

  10. অভীক এপ্রিল 26, 2012 at 3:04 পূর্বাহ্ন - Reply

    বেশ ভাল লিখেছেন। (W)

    হিজড়ারা যে আর দশজনের মত স্বাভাবিক জীবন ধারণ করতে পারে না, এর জন্য আমি সবার আগে দায়ী করব তার পিতামাতাকে। কেউ যদি দেখে তার নিজের সন্তান হিজড়া হয়ে জন্মেছে তাহলে যদি সমাজের অন্যের দৃষ্টিতে ছোট হওয়ার ভয়ে নিজের সন্তানকে অন্য হিজড়াদের হাতে তুলে না দেয়, এতে কারোরই কোনো সমস্যা হয় না। ওই হিজড়া শিশুটিকে তারা চাইলেই আর দশটা শিশুর মতই তারা বড় করে তুলতে পারে।
    পাশের দেশে উভলিঙ্গের একজন অভিনেতা (বা অভিনেত্রী) হিসেবে মোটামুটি খ্যাতি পেয়ে গিয়েছে। হয়তো তাকেও এর জন্য অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। কিন্তু এ থেকে বোঝা যায়, চাইলেই তাদের স্বাভাবিক জীবন ধারণের সুযোগ করে দেয়া যায়।

    • রাহনুমা রাখী এপ্রিল 26, 2012 at 9:58 অপরাহ্ন - Reply

      @অভীক,
      একটি সন্তান ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর তার রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব কিন্তু বাবা মায়ের হাতেই। বেশিরভাগ মা বাবাই সমাজের চাপ থেকে বের হয়ে স্ব স্ব ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়।

      ধন্যবাদ।

  11. সবুজ পাহাড়ের রাজা এপ্রিল 26, 2012 at 1:48 পূর্বাহ্ন - Reply

    লেখাটি ভালো লাগলো।
    অভিনন্দন আপনাকে।
    এ ধরনের লেখা যত বেশি লেখা হবে, তত আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।
    সচলে বছরখানেক আগে ‘তৃতীয় লিঙ্গ‘ শিরোনামে একটা পোস্ট লিখেছিলাম। ঘুরে আসতে পারেন।

    • রাহনুমা রাখী এপ্রিল 26, 2012 at 9:55 অপরাহ্ন - Reply

      @সবুজ পাহাড়ের রাজা,
      পোষ্টটি ঘুরে আসলাম। সুন্দর লিখেছেন। এইরকম সচেতনমুলক পোষ্ট আরো বেশি করে দরকার।

      ধন্যবাদ।

  12. শাখা নির্ভানা এপ্রিল 25, 2012 at 11:17 অপরাহ্ন - Reply

    লেখাটা খুবি জরুরী এবং সমসাময়ীক। সমাজে আমরা তাদের স্থান করে দিতে পারিনি এটা আমাদের অযোগ্যতা ও ব্যর্থতা। অনেক তথ্য সম্বলিত লেখাটি থেকে অনেক কিছু অবগত হলাম যা আগে তেমন জানা ছিল না। ধন্যবাদ।

    • রাহনুমা রাখী এপ্রিল 26, 2012 at 9:52 অপরাহ্ন - Reply

      @শাখা নির্ভানা,

      আপনাকেও ধন্যবাদ।
      সমসাময়িক তো বটেই। কেনোনা সরকার এই প্রথমবারের মতই তাদের পুনর্বাসনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এর পিছনে হিজড়েদের অনেকগুলো সংস্থার পরিশ্রম জড়িত। পাশাপাশি আমরা যদি নিজেদের দায়িত্বটুকু সম্পর্কে অবগত হই তবে সত্যিকারের উন্নতি সম্ভব।

  13. মানব এপ্রিল 25, 2012 at 1:37 অপরাহ্ন - Reply

    বিশেষ করে উপমহাদেশের অনুন্নত জীবনযাত্রায় এরা অত্যন্ত মানবিক জীবন যাপন করে চলছে।

    টাইপোটা ঠিক করে নিবেন। ‘মানবেতর’ দেওয়া যেতে পারে।

    ভালো লিখেছেন। এদের মানুষের সমান মর্যাদা দেওয়া জরুরি। গুরু মা’র দ্বারা প্রশিক্ষিত হবার আগেই সরকারের পুনর্বাসনমূলক প্রতিষ্ঠান দ্বারা প্রশিক্ষিত হলে সমাজে স্বাভাবিক মেলামেশাতেও আশা করি তাদের কোন সমস্যা হবে না। গুরু মাদের জন্য তারা আসলেই বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয় অদ্ভুত আচরণের মাধ্যমে।

    • রাহনুমা রাখী এপ্রিল 25, 2012 at 10:42 অপরাহ্ন - Reply

      @মানব,
      ধন্যবাদ ভুলটি শুধরে দেয়ার জন্য।

      উভলিঙ্গদের আলাদা প্রশিক্ষন দেবার কোন প্রয়োজন দেখছি না। গুরু মায়ের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখারও কোন প্রয়োজন নেই।

      ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

      • মানব এপ্রিল 26, 2012 at 4:46 অপরাহ্ন - Reply

        @রাহনুমা রাখী, আলাদা প্রশিক্ষণ না দিলেও অন্তঃত গুরুমা কর্তৃক বিব্রতকর প্রশিক্ষণ থেকে তারা মুক্ত হোক, আর ফিরে পাক অন্যদের মতো স্বাভাবিক বিকাশ আর জীবনযাপন।

        • রাহনুমা রাখী এপ্রিল 26, 2012 at 10:09 অপরাহ্ন - Reply

          @মানব,
          গুরু মার ভুমিকা অবতীর্ন হয়েছে তৃতীয় লিঙ্গদের নিয়ে গড়ে উঠা কমিউনিটির রক্ষনাবেক্ষনের জন্য। এই কমিউনিটি সাধারন জীবনের ধারা অনেক ভিন্ন ও অনেক দুরের।
          সুতরাং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা মানেই এইসকম কমিউনিটির প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা উভয়ই ধ্বংস হওয়া আর সাথে সাথেই গুরু মায়ের অধ্যায়ের সমাপ্তি।

  14. ঢাকা ঢাকা এপ্রিল 25, 2012 at 1:31 অপরাহ্ন - Reply

    অনেক কিছু জানতে পারলাম

    (F) (F) (F)

    • রাহনুমা রাখী এপ্রিল 25, 2012 at 10:38 অপরাহ্ন - Reply

      @ঢাকা ঢাকা,
      আপনাকে জানাতে পেরে খুশি হলুম। ধন্যবাদ।

  15. স্বপন মাঝি এপ্রিল 25, 2012 at 12:22 অপরাহ্ন - Reply

    পৌরাণিক এই চরিত্র অম্বার অভিশপ্ত জীবনই বয়ে বেড়াচ্ছে তার উত্তরসূরিরা- আজকের হিজড়া! এদের লিঙ্গই এদের জন্য অভিশাপ।

    পাঞ্চালীর বস্ত্রহরণের ঘটনায় নীরব ভীষ্ম, অসহায় ভীষ্ম; এই সেই ভীস্ম যে মৎসগন্ধাকে বা আমিষকে নিয়ে এসেছিল বাবার জন্য, পাপ তো ছিল।
    সেই পাপকে বধ করার জন্য নাট্যমঞ্চে শিখণ্ডীর আগমন। হ্যাঁ, মহাভারতের লেখক বলেই, হয়তো নপুংসক দিয়ে এমন একটি শোধ আদায় করতে পেরেছিলেন।
    আর আজকের শিখন্ডীরা, মহাভারতের মহানায়কের মৃত্যুর কারণ নয়, ভোগের উপকরণ,
    উপমা নিয়ে প্রতিক্রিয়া।
    আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, ‘জানার শেষ নাই, জানার দরকার নাই’ থেকে আমাদের মত পাঠকদের জানার জগতে প্রবেশ করতে কিছুটা প্রাণিত করতে পেরেছেন, বলে।

    • রাহনুমা রাখী এপ্রিল 25, 2012 at 10:38 অপরাহ্ন - Reply

      @স্বপন মাঝি,
      জানার শেষ নেই বলেই জানার দরকার আছে।

      পাঞ্চালীর বস্ত্রহরণের ঘটনায় নীরব ভীষ্ম, অসহায় ভীষ্ম; এই সেই ভীস্ম যে মৎসগন্ধাকে বা আমিষকে নিয়ে এসেছিল বাবার জন্য, পাপ তো ছিল।
      সেই পাপকে বধ করার জন্য নাট্যমঞ্চে শিখণ্ডীর আগমন। হ্যাঁ, মহাভারতের লেখক বলেই, হয়তো নপুংসক দিয়ে এমন একটি শোধ আদায় করতে পেরেছিলেন।
      আর আজকের শিখন্ডীরা, মহাভারতের মহানায়কের মৃত্যুর কারণ নয়, ভোগের উপকরণ,
      উপমা নিয়ে প্রতিক্রিয়া।

      চমৎকার লিখেছেন।
      ধন্যবাদ।

  16. ফরিদ আহমেদ এপ্রিল 25, 2012 at 11:05 পূর্বাহ্ন - Reply

    ভালো লিখেছেন রাখী। আমাদের সমাজে এই অংশটা একেবারেই অবহেলিত এবং নিগৃহীত, কখনো কখনো দৃষ্টিসীমার বাইরেই ঠেলে রেখে দেওয়া হয় এদেরকে। অথচ আর দশটা সাধারণ মানুষের মতই তাদের জীবন হবার কথা। সামান্য একটু শারীরিক ত্রুটির কারণে আলাদা করে রেখেছি এদেরকে আমরা। কত শারীরিক ত্রুটি নিয়েইতো সমাজে কত মানুষ বেঁচে আছে। তাহলে এদের কী দোষ?

    এদের নিয়ে যতবেশি লেখা হবে, ততবেশি এদের সম্পর্কে মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দূর হবে, সমাজে এদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে সেই সাথে।

    মুক্তমনায় আপনার নিয়মিত সরব উপস্থিতি কামনা করি।

    • রাহনুমা রাখী এপ্রিল 25, 2012 at 10:35 অপরাহ্ন - Reply

      @ফরিদ আহমেদ,
      সুন্দর বলেছেন। এদের নিয়ে অনেক বেশি বলা প্রয়োজন। অনেক বেশি কাজ করা প্রয়োজন। সরকার যতই পদক্ষেপ নিক জনসাধারনের ভেতর সচেতনতা না আসলে কোন লাভ নেই।

      ধন্যবাদ।

  17. অভিজিৎ এপ্রিল 25, 2012 at 10:49 পূর্বাহ্ন - Reply

    বহুদিন পরে রাহনুমা রাখীর একটি চমৎকার লেখা পাওয়া গেল। আরো নিয়মিত লিখলে খুশি হই।

    হিজড়া শব্দটা আমাদের দেশে খুব তুচ্ছার্থে ব্যবহৃত হয় বলে আমি আমার ‘সমকামিতা : একটি বৈজ্ঞানিক এবং সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান‘ বইয়ে ‘উভলিঙ্গ মানব’ হিসেবে উল্লেখ করেছি। এরা বহুদিন ধরেই তৃতীয় লিঙ্গের দাবী করেছেন। আমি বহুদিন আগে মুক্তমনায় একটি লেখা লিখেছিলাম –

    চাই নারী-পুরুষ ছাড়াও অন্যান্য লিঙ্গের সামাজিক স্বীকৃতি

    একটি কথা বোধ হয় বলা প্রয়োজন। যদিও আমরা উভলিঙ্গ সত্ত্বাকে ‘রোগ’ বলে দেখতে অভ্যস্ত এবং অনেকেই ভেবে নেন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তন বা সেক্সচেঞ্জ অপারেশনই হিজড়াদের দুঃখ দুর্দশা থেকে মুক্তি দিতে পারে। কিন্তু সেটা নিয়েও বিতর্ক আছে। আমি আমার বইয়ে (এবং উপরের লিঙ্কে) ডেভিড রেইমার নামে এক ছেলের (যাকে সেক্স চেঞ্জ অপারেশন করে মেয়ে হিসেবে বড় করা হয়েছিল) তার বিয়োগান্তক ঘটনার উল্লেখ করেছিলাম। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নর্থ আমেরিকান ইন্টারসেক্স সোসাইটি শিশু বয়সে সেক্স চেঞ্জ অপারেশনের তীব্র বিরোধিতা করে মতামত ব্যক্ত করে যে, ডেভিড রেইমারের বিয়োগান্তক দৃষ্টান্ত থেকে সামাজিক জটিলতাগুলো বুঝতে ডাক্তারদের শিক্ষা নেয়া উচিৎ। তাদের মতে, একটি শিশু বড় হয়ে যখন নিজের জেন্ডার আইডেন্টিটি সচেতন হয়ে উঠে, তার আগে ‘সেক্স অপারেশন’ করা আসলে শিশু নিপীড়নের সমতুল্য। যৌনতা পরিবর্তনের চেয়ে যেটা আরো বেশী দরকার সেটা হল – নারী-পুরুষের বাইরেও অন্যান্য লৈঙ্গিক পরিচয় এবং যৌনতাগুলো সম্পর্কে জনসচেততনা এবং এগুলোর সামাজিক স্বীকৃতি।

    অনেক ধন্যবাদ লেখাটির জন্য।

    • রাহনুমা রাখী এপ্রিল 25, 2012 at 10:33 অপরাহ্ন - Reply

      @অভিজিৎ,
      নিয়মিত হওয়ার ইচ্ছে থাকলেও সবসময় সম্ভব হয় না। 🙁

      একটি শিশু বড় হয়ে যখন নিজের জেন্ডার আইডেন্টিটি সচেতন হয়ে উঠে, তার আগে ‘সেক্স অপারেশন’ করা আসলে শিশু নিপীড়নের সমতুল্য।

      পুরোপুরি একমত। একজন কোন লিঙ্গে নিজের পরিচয় দিতে চায় তা সম্পুর্ন তার ইচ্ছের উপর। আর তাই তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি দেয়া প্রয়োজন।
      আপনাকেও ধন্যবাদ দাদা।

মন্তব্য করুন