যে লেখা পারবনা কোন দিন—

By |2012-04-02T20:46:19+00:00এপ্রিল 2, 2012|Categories: ব্লগাড্ডা|3 Comments

“বাবাকে রাগতে দেখেছি। ঝি-এর সঙ্গে দুপুরবেলার গল্প। বাবা ছিলেন ঝোলাগুড়। গাছ চিনতেন না। অতুলপ্রসাদ রজনীকান্ত চিনতেন না। ছাদে কখনও ওঠেননি। মায়ের সঙ্গে প্রকাশ্যে ঝগড়া করতেন। শাড়ি গয়না স্বাস্থ্য নিয়ে খোঁটা দিতেন। ঘরে আমাদের স্মরণকালে বার দুই হরিসংকীর্তন বসিয়েছিলেন। আমি জানি বাবার যৌন জীবনের অস্বচ্ছলতা। কখনও বাগান করেননি।“

“কতদিন যুৎ করে বিছানায় যাইনি। ভারি কম্বল, চুরুটের পেটি নিয়ে বেছানায়। আগামিকাল টিপটিপ বৃষ্টি হবে। পুরু কফি। সারাদিন বেছানা থেকে নামবো না। ঠাকুরমার ঝুলি, রমলা, চাহার দরবেশ, মডেল ভগিনী হাতের কাছে। কোনও কথা নেই। পরিষ্কার সকাল থেকে গভীর রাত অবধি বৃষ্টি, কেউ আসবে না। কুড়ি কাপ কফি বার চারেক ডিম ভাজা। চুরুট। একটু কস্টলি, রেনিডে হলেও এইভাবেই কাটাবো। তবু দু আড়াই ঘন্টা সময় যে কোনও ওয়াটারপ্রুফধারীর জন্য সরিয়ে রাখা যাক। কিন্তু বৃষ্টিতে ভিজে কোনও রোমান্টিকতা নয়। অথবা আজিজের বাড়িতে চল শুয়ে মদ খাবো। ওর কাচের জানালা দিয়ে জলের ছাঁট দেখা যায়। বড়ে গোলামের টেপ আছে। তাছাড়া আজিজ ফোন তুললে বৃষ্টির মধ্যে ভিজতে ভিজতে রমলা সেন, অন্তরা বোসরা চলে আসবে। রিয়েল রেনিডে। নো ডিয়ার। ফ্লাস, মদ, বড়ে গোলাম, বৃষ্টি, মেয়েমানুষ, ব্যাটাছেলে।“

“শ্বেতার বাচ্চা আরও ফর্সা, মহাশ্বেতা। পাউডারের হাত নেড়ে খেলছিল। আমি উঠবো কিনা ভাবছি। শ্বেতা ঘরে গেছে। সিগারেট ধরালুম। শ্বেতা যখন কাজ করতে যায় তখন টুম্পার পায়ে দড়ি বেঁধে যায়। বাইশ বছরের মেয়েটির একটি এক বছরের বাচ্চা। কোমর খানিকটা মোটা এছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও তার অধিকার বাড়ায়নি। হাসলে মাড়ি দেখা যায় না। রুটির কথায় হাসে। আমাকে বিশ্বাস দিয়ে গেল রুটির বদলে হালুয়া আছে। হাতরুটির বদলে পাউরুটির। সেঁকার বদলে টোষ্ট। আমার অভিনন্দনপ্রিয় হাতের পাঁচ আঙুল রুমালের মতো ঝলমল করে।“

“রাণী বিয়ের আগে বম্বেতে থাকতো। ফলে বাঙালি সুলভ ভালোবাসার কনসেপশান গ্রো করেনি। রাণীর হাসি সবটাই জুহু বীচের। আমাদের পিকনিকে ও সব থেকে বেশি ব্যাডমিন্টন খেলে, লেক থেকে উঠে সব থেকে বেশিক্ষণ ভেজা কাপড়ে। গজল গাইন্তে পারে। আমি জানি, রাণীকে যদি বলি একবার তোমার গোছ থেকে নূপুর ঘেরা পাতা অবধি তুলে দেখাবে। বাজিয়ে দেখাবে। কি মর্মে বাজে। কি কি রাগ তুমি শিখেছ। আমি জানি রাণী নির্দ্ধিধায় দেখাবে। মালকোষ কি কানাড়া শুনিয়ে দেবে। রাণী মুটিয়েছে ভারতীয় আদর্শে। হাসি এখন আরও নির্ভেজাল। মাথামুণ্ডুহীন সীমান্থারা হাসি।
“আমার এক বন্ধুর বিদেশিনী স্ত্রীকে একবার মাত্র খুব কম সময়ের জন্য আদর করার সন্মান পাই। আমার হাত-পা কেঁপে ওঠে। মনে হয়েছিলো হাতে পায়ে কত হাজার বছরের সভ্যতা, লড়াইয়ের সর লেগে। অথচ সেদিন চালকুমড়োয় হাত দিতে, কতদিন আগে ধরেছ গো – ঠিকে ঝি দিয়ে কাজ চালাও।“

“আমাকে বিয়ে করতে চাইছ কেন? ও বললো, তুমি এট্রাকটিভ্‌। ঊনিশ শ সাতাত্তরের একটি যুবতীর ভাষা, তুমি খুব এট্রাকটিভ। আমি ওকে কফিহাউসে বসে লিষ্ট করে দিলুম। দেখো এগুলো চিনে নাও। ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোরে গিয়ে কেনো। গোদরেজ, কেলভিনেটর, সোনোডাইন, ষ্টিরিও, বাজাজের মিক্সি, টোষ্টার, হটপ্লেট, ষ্টেট ব্যাঙ্কের ভল্ট, মাসে দেড়শ লিটার অ্যারাবীয়ান পেট্রল। বাঁ হাতে লম্বা নখ, ভ্রু ছিঁড়ে ফেলা, বগলে লোম নাশক। এগুলো সিকিওর করো। আমি এসব বুঝি না। জয়ন্তী বললো এসব দিয়ে কী হয় অমিত ডার্লিং, আমি তোমাকে চাই। বিয়ের এক বছর পর বাচ্চা। দু’বছর পরে সত্যি সত্যি বাঁ হাতের নখ খুব বড় হল, চুল খুব ছোট, ভ্রু রেখা। আমি ডিভোর্স পেপার নিয়ে বেডরুমে ঢুকলুম। ডার্লিং পেপারটা পড়ে সাইন করে দাও। সেদিনও আমাদের পূর্ণ সঙ্গম হয়। জয়ন্তী আমাকে একটাও কম চুমু খায়নি। সকালে ঘুম থেকে উঠে বললুম, আমি বোধহয় মুসলমান হব। কাগজে সাইন করে দাও। জয়ন্তী খুব কাঁদল। আমি বললুম, পার্ট অব এ গেম।“

“রবীন্দ্রনাথ আমাদের শুধু কি গান দিয়ে গেছেন গো! গানে গানে প্রাণ দিয়েছেন। এই গান গেয়ে কত বাড়ির বাথরুম অবধি চলে যাওয়া হল। রবীন্দ্র সাহিত্য আমাদের কমিউনিকেশন কত বাড়িয়ে দিয়েছেন গো। কোরাসে যুবক যুবতী মিলে এমন কন্ঠ মিলন এদেশে ছিল না। রবীন্দ্র জিন বাঙালির রক্তে কত ভাবেই না বর্তায়। নানু মাসী এই ব্যাপারে আমার প্রথম আড়তদার। এবং সাংস্কৃতিক বিপ্লবও বটে। তার একটা বড় ফলশ্রুতি বলা যায় আমার পরিমিতি বোধ এবং সৎসাহস। আমাকে কেউ কখনও মেয়েছেলে ফুসলানোর জন্য ঠ্যাঙ্গায়নি। বুঝেছিলুম স্তনকে ‘পয়োধর’ বলতে হয়, দেহকে ‘তনু’। এ ছাড়া নিজের ভাষায় বিশেষ কিছু বলার নেই। যা বলা দরকার, যা বলতে হবে তা সবই গান গেয়ে। সব মুহূর্তের জন্যেই রবিঠাকুর লিখে গেছেন। ফলে মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য রবীন্দ্র সঙ্গীত শিখে নেওয়া জরুরী। হাই মারো মারো টান হাইও – এই তো?”
“(কৌরবের প্রাণপুরুষ) সংগ্রহ সুবীর বোস ।

পারভেজ বলে, ‘জী। রাত্রে আমার ভাই বলল কে নীলখেতে গুলি হয়েছে, আমার সিস্টারের হাজব্যান্ড এসে বলল, হাতির পুলের পাওয়ার স্টেশনের এক এমপ্লয়ি তো ডেথ হয়ে গেল। আমি ইম্যাজিন করতে পারলাম না কে আমাদের তালেব-।’ বাক্যের শেষ দিকে তার গলা নোনাপানিতে ছলছল করে। তারপর প্রায় মিনিটখানেকের নীরবতা, পাশের কামরার দারোগা ও রহমতউল্লার নীচু স্বরের সংলাপে কিংবা মেয়েদের বিলাপে সেই নীরবতায় একটি ঢিলও পড়ে না। রিয়াজউদ্দিন হঠাৎ খসখসে গলায় ডাকে, ‘আল্লা, আল্লাহু গনি!’ তার ডাকার ভঙ্গি দেখে মনে হয় যে, সম্বোধিত আল্লা বোধ হয় বারান্দায় কি পাশের কামরায় তার হুকুমের জন্যে প্রতীক্ষা করছে, আরেকবার হাঁক দিলেই মুখের বিড়িটা কানে গুঁজে এই ঘরে ছুটে আসবে। কিন্তু এবার ঘরে ঢোকে হাড্‌ডি খিজির, লোকটা আস্তে কথা বলতে পারে না, ‘কাল গুলিতে মনে লয় সাত আষ্টজনের কম মরে নাই!’
***********
‘তালেব বেচারা খুব সিম্পল টাইপের ছিল। আমি তো চার বছর থেকে দেখছি।’
‘অরে আমি চিনি ঐ পোলায় তখন ন্যাংটা থাকে।’ রিয়াজউদ্দিনের খসখসে গলা এবার আত্মবিশ্বাসে বেশ মসৃণ হয়েছে, ‘ইসলামপুরে আমার কাটা কাপড়ের দোকান। আমার দোকানের লগেই গল্লি, পান্নুসর্দার লেন, ওই গল্লির চাইরটা, না একটা দুইটা তিনটা বাড়ি পার হইলেই মতিহাজীর বাড়ি, ওই বাড়ি দোতালায় অরা ভাড়া থাকতো! তালেবের বাপে আমার দোকানে কত আইছে!’ তালেব, এমনকি তার বাবাকেও চেনবার ব্যাপারে তার অভিজ্ঞতা পারভেজের চেয়ে পুরনো- এই তথ্যটি ঘোষণা করে রিয়াজউদ্দিন নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নেয়। চশমাওয়ালা বেঁটে নতুন ভাড়াটে, এখন পর্যন্ত কারো সঙ্গে তার তেমন আলাপও হয় নি। সুতরাং তালেবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা প্রচারের প্রতিযোগিতায় নামা তার পক্ষে অসম্ভব। লোকটি হরতাল ও মিছিল সম্বন্ধে তার মতামত নতুন করে ব্যাখ্যা করে, ‘খালি হরতাল, খালি মিছিল। দোকানপাট বন্ধ, অফিস বন্ধ, দেশের ডেভেলপমেন্ট হবে কি করে?’
———আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ( চিলেকোঠার সেপাই )

বস্তিতে ঢোকার মুখে একটুর জন্যে গুয়ের ওপর খিজিরের পা পড়েনি। তার রাগ হয়,’ এইগুলি জানোয়ারের পয়দা না কিয়ের বাচ্চা বুঝি না! এতো বড় একখান নর্দমা পইড়া রইছে, পোলাপানের হাত ধরাইয়া বহাইয়া দিলে কি হয়?’
বস্তির প্রথম ঘরের দরজায় চার বছরের ন্যাংটা ছেলের পাছা ধুয়ে দিচ্ছিলো বজলুর বৌ। সিনেমার টিকিট ব্ল্যাক করা হল বজলুর পেশা, ঈদের দিন স্বামীর মোটা রোজগারের সম্ভাবনায় বজলুর বৌয়ের আজ দাপটই আলাদা, সে সঙ্গে কিচকিচ করে ওঠে,’আটকুইড়া হিজড়া মরদ, পোলাপানের তকলিফ বুজবো ক্যামনে? নর্দমার মইদ্যে পোলায় পইড়া গেলে তুলবো ক্যাঠায়?’
জবাব না দিয়ে ঘরে ঢোকার জন্যে খিজির মাথা নিচু করেছে, এমন সময় ভেতর থেকে বাইরে উঁকি দিল জুম্মনের মা। এক পলকের জন্যে বৌয়ের মুখ টাটকা দ্যাখায়, মনে হয় কষে সাবান ঘষে মুখ ধুয়ে স্নো পাউডার মেখেছে। তার ভাঙা গালের নকশাই পালটে গেছে, তার কালো রঙের ওপর পাতলা ছাই রঙের আভা, কিন্তু জুম্মনের মায়ের তীক্ষ্ণ ও ছুঁচলো কন্ঠস্বরে এই মুগ্ধতা আড়ালে পড়ে যায়,’ চোট্টার খানকিটার চাপার খাউজানি মনে লয় বাড়ছে। বাড়বো না? বাড়বো না ক্যালায়?’ তারপর ফজলুর বৌয়ের বাকস্পৃহা বৃদ্ধির কারণ নির্ণয় করে সে নিজেই,’ চোট্টাগুলির আউজকা বেলাক করনের দিন! চান্দে চান্দে পুলিসের চোদন না খাইলে চোট্টাগো গতরের মইদ্যে ফোসকা পড়বো না? হাজত না চোদাইয়া বৌ পোলাপানের ভাত দিবার পারে না,- হেই চোট্টা মরদের মুখের মইদ্যে আমি প্যাসাব করি।’
তার ইজ্জত রাখার জন্যেই বৌ রুখে দাঁড়িয়েছে, বৌয়ের প্রতি খিজির তাই একটু গদগদ হয়, তক্তপোষে এলোমেলো করে পাতা কাঁথার ওপর একটু একটু করে শুয়ে পড়ে। পাশে বসতে বসতে জুম্মনের মা বলে, ‘আঃ! সইরা শোও।’ খিজির একটি হাত রাখে বৌয়ের কোমরে। জুম্মনের মাকে নিয়ে ম্যাটনিতে আজ সিনেমা দেখলে কেমন হয়? খিজির এতো সিনেমা দ্যাখে, জুম্মনের মাকে কোনোদিন সঙ্গে নেয়নি। স্টারে ‘হীরা আওর পাত্থর’ খেলে মোহাম্মদ আলী-জেবার ছবি, চাল্লি হলো নিরালা। বৌকে এখন কথাটা বলে কি করে? এতো সিনেমা দেখেও কায়দা করে কথা বলাটা খিজির এ পর্যন্ত রপ্ত করতে পারল না।তার শক্ত ও লম্বা আঙুলগুলো আনাড়ি বাদকের মতো বৌয়ের পিঠে বারবার ওঠানামা করে, ছেমড়িটাকে যদি এভাবেই বাজিয়ে তোলা যায়। কিন্তু এর আগেই ঝনঝন করে ওঠে বজলুর বৌয়ের গলা,’ চোট্টাও হইতে পারে, বেলাক ভি করবার পারে। মগর ভাতার আমাগো একটাই! একখান ভাউড়ারে গলার মইদ্যে সাইনবোর্ড বাইন্দা আমরা দুনিয়া ভইরা মানুষরে মারা দিয়া বেড়াইনা।’ বজলুর বৌ কাজে যাচ্ছে, বিকেলবেলা ২টো বাড়িতে তাকে বাসন মাজতে হয়, একটা বাড়িতে পানি দেয়। ছেলেটা এখন তার কোলে, খিজির তাকে জানোয়ারের বাচ্চা বলায় আজ মায়ের কোলে উঠতে পারল।
———আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ( চিলেকোঠার সেপাই )

মায়ের রক্তপাত ঘটেছিল শেষ রাতে। খুব ভোরবেলা প্রায় রাত থাকতে থাকতেই বিবিসাহেবের তলব পেয়ে ঘুম জড়ানো চোখে খিজির গ্যারাজ থেকে এসে দেখে যে তার মায়ের কাপড়চোপড় সব কালো রক্তে মাখা। সকাল ৮টার মধ্যেই মহাজন তার দাফনের সব ব্যবস্থা করে ফেলে।মহাজনের অনেক পয়সা বেরিয়ে গিয়েছিলো। মাকে ধোয়াবার জন্য নতুন একটা বাঙলা সাবান কেনা হয়। কতো কর্পূর, কতো আতর, গোলাপজল, আগরবাতি! তখন মহাজনের ঘরে বংশালের বিবি। মহাজনের প্রথম বৌ। দিনরাত নামাজ রোজা অজিফার মধ্যে থেকে বিবিসায়েবের বয়স বেড়ে গিয়েছিলো অনেক, এর ওপর ১৩/১৪ বছরের একমাত্র ছেলে আওলাদ হোসেন মারা যাওয়ার পর পরপর দুটো মরা বাচ্চা হলো, এরপর শুরু হয় তার ছোঁয়াছুঁয়ির বাতিক। দিনের মধ্যে ৩ বার ৪ বার গোসল করা, ২৫ বার অজু করা আর ৫০ বার হাতমুখ ধোয়া। ওদিকে মহাজনের দ্বিতীয় বিবি বেগমবাজারের খানদানি ঘরের আওরত,- সেও সতীনের ঘর করবে না। রহমতউল্লা তো বড়ো বৌয়ের কথা লুকিয়ে তাকে বিয়ে করেনি। তাহলে? অবশ্য এরকম একটা আভাস দিয়েছিলো যে, বড়ো বৌকে আলাদা বাড়িতে রাখবে। কিন্তু তাই কি হয়? ছেলেপুলে না-ই বা দিতে পারলো, সে হলো তার প্রথম স্ত্রী। তার বাপের পরামর্শ ও পয়সা দিয়েই রহমতউল্লা প্রথম রিকশা কেনে। এই বিয়ের পরই তার টাকা পয়সা আসতে শুরু করে, নামডাক হয়। বড়ো পয়মন্ত বিবি। তাঁর ছোঁয়াছুঁয়ির বাতিক সহ্য না করে রহমতউল্লার উপায় কি? বড়ো বৌয়ের বাঁকা বাঁকা কথাতেও মহাজন কখনো বা রাগ করতো না। খিজিরের মাথাটা নিজের বুকে চেপে ধরে বড়ো বিবি বলে, ‘মায়ের লগে লগে থাকবার পারস নাই? তুই লগে থাকলে তর মায়ে এমুন কইরা তরে ছাইড়া যায় গিয়া?’ খিজিরের কিন্তু খুব অস্বস্তি ঠেকছিলো, বিবিসাবরে আউজকা না হউক ৫০ বার নাহাইতে হইবো!- কিন্তু ৫০ বার গোসল করুক আর ১০০ বার অজু করুক, সেদিন রাত্রে বিবিসায়েব নিজের ঘরের মেঝেতে শুতে দিয়েছিলো খিজিরকে। তার সামনেই বিবিসায়েব মহাজনকে বকে, ‘হাবিয়া দোজখের মইদ্যেও তোমার জায়গা হইবো না আওলাদের বাপ! কি খাওইয়া দিছিলা, কও তো? তোমার আখেরাত নাই? গোর-আজাবের ডর নাই?’ মনে হয় পরকালে স্বামীর গতি নিয়ে বিবিসায়েব বড়ো উদ্বিগ্ন। বৌকে কাঁদতে দেখে রহমতউল্লা একটু বিব্রত হয়, ‘আরে আওলাদের মাও, তুমি এইগুলি কি কও? মইরা গেছে, কইতে নাই, আবার হাছা কথা না কইয়াও থাকতে পারি না,’ গলা নামিয়ে বলে, ‘খারাপ মাইয়া মানুষ, কার লগে আকাম উকাম কইরা প্যাট বাধাইয়া বসছে, অহন প্যাট খসাইবার গেছিলো, গিয়া এই মুসিবত। খাড়াও না, চাকরবাকর, রিকশার ডেরাইভার উরাইভার ব্যাকটিরে আমি ধরুম!’
‘থাউক!’ বিবিসায়েব চোখ মুছে বলে,’পোলারে এইগুলি হুনাইয়া ফায়দা কি?’
‘পোলায় কি ফেরেশতা? মায়ের কারবার পোলায় জানে না, না? এ্যারে জিগাও তো, বাপের নাম কইবার পারবো? জিগাও না!’
বিবিসায়েব জিগ্যেস করে না। মায়ের মৃত্যুর দোষে ও মায়ের মৃত্যুর শোকে খিজির এমনি নুয়ে পড়েছিল, এর উপর বাপের নাম না জানার অপরাধ যোগ হওয়ায় সে একেবারে নেতিয়ে পড়ে। সে কি আজকের কথা? তবু দ্যাখো, জুরাইন গোরস্তানের কবরের ভেতর মাটিতে মাখামাখি কালো রক্তে ডুবসাঁতার দিতে দিতে ভুস করে ভেসে উঠে মা তার দিকে তাকায়। বেলাহাজ বেশরম মাগীটার শরম হায়া যুদিল এট্টু থাকে! মওতের পরেও কি মানুষের খাসলত বদলায় না?- সেই কতোকাল আগে এসব কাণ্ড ঘটেছে, এর পর মহাজনের পয়লা বিবি এক শীতের রাতে আড়াই ঘন্টা ধরে গোসল করে নিউমোনিয়ায় ভুগে মরে গেলো। এর মাস ছয়েক আগে থেকেই অবশ্য বেগমবাজারের খানদানি ঘরের মেয়েকে নিয়ে মহাজনের ঘরে জাঁকিয়ে বসেছে। তা পয়া এই বিবিরও কম নয় এর আমলে মহাজন নবদ্বীপ বসাক লেনে সরকারী পায়খানা ও পানির পাম্পের পেছনে মস্ত বড়ো বস্তির মালিক হলো। খিজিরের মা মাগী আজও সেই বস্তিতে খিজিরের ভাড়াটে ঘরে আসে ছিনালীপনা করতে। বললে লোকে বিশ্বাস করবে না, এখনো মাঝে মাঝে অনেক রাত্রে ঘুম ভেঙে গেলে নিমঘুম নিমজাগরণে খিজির বুঝতে পারে যে, মোটাসোটা একটি হাত তাকে ঠেলে একপাশে স রিয়ে বুকে চাপ দিচ্ছে। ‘মা’- এই সম্বোধন করার জন্যে তার শ্লেষ্মা-জমা ও সিগ্রেটের ধোঁয়ায় কালি-মাখা গলায় ঝাপশা ধ্বনিপুঞ্জ জমা হয় এবং মাথার ওপরকার কেরোসিন টিনের ছাদকে তখন সে ধরে নেয় সিঁড়ির উল্টাপিঠ বলে। তবে এই হাল বেশিক্ষণ থাকে না। জুম্মনের মায়ের সশব্দে পাশ ফেরার আওয়াজে মা এবং অন্যজন হাওয়া হয়ে যায়। বাঁশের বেড়া ও ভাঙাচোরা টিনের ফাঁক দিয়ে রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলো এসে পড়ে জুম্মনের মায়ের মুখের বাঁদিকে। বৌয়ের গোলগাল কালো মুখে বসন্তের কয়েকটি দাগে লুকিয়ে থাকে ঘোলা আলো। খিজির তখন ঘর্ঘর-করা গলায় ‘মা’ বলে বৌকে জড়িয়ে ধরে।

[আখতারুজ্জামান ইলিয়াস- চিলেকোঠার সেপাই]
সংগ্রহ –কৌশিক

সেই বনলতা- আমাদের পাশের বাড়িতে থাকত সে। কুড়ি-বাইশ বছর আগেকার সে এক পৃথিবীতে; বাবার তার লম্বা চেহারা, মাঝ-গড়নের মানুষ- শাদা দাড়ি, স্নিগ্ধ মুসলমান ফকিরের মত দেখতে; বহুদিন হয় তিনিও এ পৃথিবীতে নেই আর; কত শীতের ভোরের কুয়াশা ও রোদের সঙ্গে জড়িত সেই খড়ের ঘরখানও নেই তাদের আজ; বছর পনের আগে দেখেছি মানুষজন নেই, থমথমে দৃশ্য, লেবুফুল ফোটে, ঝরে যায়, হোগলার বেড়াগুলো উইয়ে খেয়ে ফেলেছে। চালের উপর হেমন্তের বিকেলে শালিখ আর দাঁড়কাক এসে উদ্দেশ্যহীন কলরব করে। গভীর রাতে জ্যোৎস্নায় লক্ষীপ্যাঁচা ঝুপ করে উড়ে আসে। খানিকটা খড় আর ধুলো ছড়িয়ে যায়। উঠানের ধূসর মুখ জ্যোৎস্নার ভিতর দু-তিন মুহূর্ত ছটফট করে। তারপরেই বনধুঁধুল, মাকাল, বৈঁচি ও হাতিশুঁড়ার অবগুণ্ঠনের ভিতর নিজেকে হারিয়ে ফেলে। বছর আষ্টেক আগে বনলতা একবার এসেছিল। দক্ষিণের ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে চালের বাতায় হাত দিয়ে মা ও পিসিমার সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বললে সে। তারপর আঁচলে ঠোঁট ঢেকে আমার ঘরের দিকেই আসছিল। কিন্তু কেন যেন অন্যমনস্ক নত মুখে মাঝপথে গেলে থেমে, তারপর খিড়কির পুকুরের কিনারা দিয়ে শামুক-গুগলি পায়ে মাড়িয়ে, বাঁশের জঙ্গলের ছায়ার ভিতর দিয়ে চলে গেল সে। নিবিড় জামরুল গাছটার নীচে একবার দাঁড়াল, তারপর পৌষের অন্ধকারের ভিতর অদৃশ্য হয়ে গেল। তারপর তাকে আর আমি দেখি নি। অনেকদিন পরে আজ আবার সে এল; মনপবনের নৌকায় চড়ে নীলাম্বরী শাড়ি পরে চিকন চুল ঝাড়তে-ঝাড়তে আবার সে এসে দাঁড়িয়েছে; মিষ্টি অশ্রুমাখা চোখ, ঠাণ্ডা নির্জন দু-খানা হাত, ম্লান ঠোঁটে শাড়ির ম্লানিমা। সময় থেকে সময়ান্তর, নীরবচ্ছিন্ন, হায় প্রকৃতি, অন্ধকারে তার যাত্রা-। { কারুবাসনা – জীবনানন্দ দাশ }
( সংগ্রহ নবনীতা)

“আকাশের রঙ আর এক রকম-দূরের সে গহন হিরাকসের সমুদ্র ঈষৎ কৃষ্ণাভ হইয়া উঠিয়াছে-তার তলায় সারা সবুজ মাঠটা ,মাধবপুরের বাঁশবনটা কি অপূর্ব,অদ্ভুত,অপার্থিব ধরণের ছবি ফুটাইয়া তুলিয়াছে!…ও যেন পরিচিত পৃথিবীর নয়,অন্য কোন অজানা জগতের কোনও অজ্ঞাত দেবলোকের..
প্রকৃতির একটা যেন নিজস্ব ভাষা আছে।অপু দেখিয়াছে,একদিন বক্রতোয়ার উপল-ছাওয়া-তটে শাল-ঝাড়ের নিচে ঠিক দুপুরে বসিয়া-দূরে নীল আকাশের পটভূমিতে একটা পত্রশূন্য প্রকান্ড কি গাছ-সেদিকে চাহিলেই এমন সব কথা মনে আসিত যা অন্য সময় আসার কথা কল্পনাও করিতে পারিত না-পাহাড়ের নিচে বনফলের জঙ্গলেরও একটা বলিবার ছিল যেন।এই ভাষাটা ছবির ভাষা-প্রকৃতি এই ছবির ভাষায় কথা বলেন-এখানেও সে দেখিল গাছপালায়,উইঢিপির পাশে শুকনো খড়ের ঝোপে,দূরের বাঁশবনের সারিতে-সেই সব কথাই বলে-সেই সব ভাবই মনে আনে।প্রকৃতির এই ভাষাটা সে বোঝে।তাই নির্জন মাঠে,প্রান্তরে,বনের ধারে একা বেড়াইয়া সে যত প্রেরণা পায়-যে পুলক অনুভব করে তা অপূর্ব-সত্যিকারের Joy of Life-পায়ের তলায় শুকনো লতা-কাটি,দেয়াড়ের চরে রাঙ্গা-রোদ মাখানো কষাড় ঝোপ,আকন্দের বন,ঘেঁটুবন-তার আত্মাকে এরা ধ্যানের খোরাক যোগায়,এ যেন অদৃশ্য স্বাতী নক্ষত্রের বারি,তারই প্রাণে মুক্তার দানা বাঁধে।
সন্ধ্যার পূরবী কি গৌরীরাগিণীর মত বিষাদ ভরা আনন্দ,নির্লিপ্ত ও নির্বিকার -বহুদূরের ওই নীল কৃষ্ণাভ মেঘরাশি,ঘন নীল,নিথর,গহন আকাশটা মনে যে ছবি আঁকে,যে চিন্তা যোগায়,তার গতি গোমুখী-গঙ্গার মত অনন্তের দিকে,সে সৃষ্টি-স্থিতি-লয়ের কথা বলে,মৃত্যুপারের দেশের কথা কয়,-ভাল্বাসা-বেদনা-ভালবাসিয়া হারানো-বহুদূরের এক প্রীতিভরা পূনর্জন্মের বাণী…”

অপরাজিত(বিভুতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়)
কিন্তু তবুও অনেক সময় কৃষ্ণচূড়ার পত্রহীন ডালপালার ভিতর এক-একটা নিস্তব্ধ কোকিল যখন দুপুরের দিগন্তের দিকে তাকিয়ে চুপচাপ বসে থাকে, বিষণ্ণ মধুর কুহকে হৃদয় ভরে ওঠে, তাকে খুব সমীচীন, বিমর্ষ রূপসীর মত মনে হয়; মনে হয় অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। তাই এখন সে নীরব কাহিনীহীন, নিরুত্তর, সম্বলবিমুখ, মৃত্যুর নিরুত্তর নৈঃশব্দে ক্ষুরধার ও সুন্দর। অন্ধকার রাতে মৃত রাজকুমারের তরবারির খাপের মত স্তব্ধ ও সুন্দর। তারপর আবার নবীন অনুভূতিঃ কোকিলটা ডালের সাথে বাতাসের ভিতর নড়তে থাকে; ছেলেবেলাকার রূপকথার গুলেব কাওলির কথা মনে পড়ে। রূপকথার এক রাজ্য, রূপসী ও পরীর স্বপ্ন দেখি, তারপর মানুষের সংসারের প্রেম ও উপেক্ষার অনেক ঘটনা বাতাসে ভাসতে থাকে; উষার কথা মনে পড়ে, রানীর কথা, নির্মলার কথা। এরা সকলেই ছিল খুব সুন্দরী, অভিমানিনী, বেশ প্রখর বুদ্ধিমতী, কেমন অপ্রসন্ন হৃদয়হীন অনুভবময় কঠিন নারী। কিন্তু তবুও এরা ছিল বলেই প্রেমহীন বিচ্ছেদহীন সৌন্দর্যের মূল্যবোধহীন জীবনের চিরসত্য আমাকে ঠকাতে পারল না। এরা কে কোথায় চলে গেছে জানিনা; কিন্তু এদের কথা মনে হলেই চারদিককার শাদা সাধারণ শুষ্ক বৈধতার হাত থেকে অনেকখানি মুক্তি পাওয়া যায়; হৃদয়ের রঙ আশ্বিনের ঘাসের মত হয়ে ওঠে।
[জীবনানন্দ দাশ- জামরুলতলা]

রজনী অনেকদিন পরে যেন খাঁটি তামাসার খেউড় শুনছে এমনি ভাবে আমাকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠল—হেসে উঠল। মনে হল যেন সে সিদ্দি খেয়ে চীৎকার করছে। অনেক্ষন পরে নিরস্ত হয়ে ঠাণ্ডা গলায় রজনী বল্লে—বিয়ে করেছি কি না? তুমি যে সেই রাতে বেরিয়ে গেলে—সে রাত পারিজাত আমার এখানে ছিল—তার পর আরো—ছ মাস—রোজ রাতেই। তারপর ছেড়ে দিলাম।…..

সিলেটী পরিভাষায় হৈ-হুল্লোড়ে হাসির চীৎকারে কি আছে আর—যা আছে জানা আছে আমার সব। উঠে যাচ্ছিলাম। সামনে হঠাৎ পারিজাতকে দেখে দ্বিতীয় বার তাকাবার আগে সে আমাকে ঘাড় ধরে বসিয়ে দিল। হাতটা রোমশ—রজনীর মত—পুরুষের মতো—কালো মানুষের মতো। পারিজাত আমার কাঁধের থেকে হাত সরিয়ে নিলে খুব সম্ভব রজনী আমার ঘাড়ে হাত রেখেছিল। না না রজনী আমার ঘাড়ে হাত রাখেনি, রজনীগন্ধার ডাঁট এসে হাত রেখেছিল। পারিজাতকে আমি দেখলাম—আজ যেমন তাকালেই আকাশ দেখছি সেই রকম। রজনী টেবিলে মাথা রেখে বেহুঁশ হয়ে পড়েছিল। পারিজাত আমাকে ভেতরে নিয়ে গেল। ঘণ্টা তিনেক একসঙ্গে একসঙ্গে ছিলাম। সত্যই এমন হয়েছিল, আজ যেমন তাকালেই চার দিকে ফ্যাক্টরির চিমনির ধোঁয়া দেখেছি, ওপরে চিল, নিচে ধর্মঘট—নিরাশা—কাদা—মৃত্যু—

পারিজাত
জীবনানন্দ দাশ

‘আমি এখান থেকে চলে যাচ্ছি। তোমরা মনে করোনা এই এত বড় পৃথিবীতে আমার কোনো আশ্রয় মিলবেনা।
পৃথিবী অনেক বড়। তোমরা যত কল্পনা কর তার চেয়েও বড়। আমি একদিন আর এক জায়গা থেকে এখানে এসেছিলাম। আবার এখান থেকেও চলে যাবো।
প্রয়োজন হলে পৃথিবীর সব জায়গায় আমি খুঁজবো- দেখবো ‘কোথায় মানূষ পাই”।আমি হতাশ হইনা,হতাশ হবোনা। সনাতনবাবু আমাকে শিখিয়েছেন হতাশ হতে নেই।
আমি আশা নিয়ে সারা পৃথিবী খুঁজবো – কোথাও না কোথাও মানুষ পাবোই।‘

( বিমল মিত্র – কড়ি দিয়ে কিনলাম)
আজি হতে শতবর্ষ পরে
এখন করিছে গান সে কোন নূতন কবি
তোমাদের ঘরে!
আজিকার বসন্তের আনন্দ-অভিবাদন
পাঠায়ে দিলাম তাঁর করে।
আমার বসন্তগান তোমার বসন্ত দিনে
ধ্বনিত হউক ক্ষণতরে-
হৃদয়স্পন্দন তব, ভ্রমর গুঞ্জনে নব,
পল্লব মর্মরে
আজি হতে শতবর্ষ পরে।
( রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর ১ ফাল্গুন ১৩০২)

About the Author:

মুক্তমনা সদস্য এবং সাহিত্যিক।

মন্তব্যসমূহ

  1. কাজি মামুন এপ্রিল 3, 2012 at 11:43 অপরাহ্ন - Reply

    অনেক ধন্যবাদ আপু আপনার প্রিয় কিছু সাহিত্যমাল্য আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। আপনার আবেদনটিও ভাল। আমাদের সবার সব বই পড়ার সুযোগ হয় না। সেক্ষেত্রে আমরা যদি এভাবে কিছু কিছু শেয়ার করতে পারি অন্যদের সাথে, তাহলে অনেক অমূল্য সাহিত্য চিরতরে না পড়ার শংকা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

    • আফরোজা আলম এপ্রিল 4, 2012 at 4:22 অপরাহ্ন - Reply

      @কাজি মামুন,

      লেখাটি ১৫১ বার পঠিত হয়েছে

      আর একমাত্র মন্তব্যকারী 🙂
      এমন বই যখন ইচ্ছে পড়বেন। এই সব বই পড়লে মানুষের চরিত্রে শুদ্ধিকরণ হয়। আরো অনেক অনেক লেখকের বই আছে সময় অভাবে দেইনি। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ (F)

  2. আফরোজা আলম এপ্রিল 2, 2012 at 8:47 অপরাহ্ন - Reply

    প্রিয় পাঠক- আপনারাও ভাগাভাগি করতে পারেন আপনাদের প্রিয় লেখকের সেরা লাইন। সেরা উক্তি-

মন্তব্য করুন