মিথ্যার বিবরণ

 

আদি-অন্তে ও মধ্যে একটা মিথ্যার জীবনপ্রবাহ!

মিথ্যার মাঝে জন্ম মোদের,মিথ্যায় যাচ্ছে জীবন।

মিথ্যাতেই হবো মৃত্যুর মুখে পতিত।

চাপা-পরা মিথ্যার পাহাড় ঘিরেই মোদের বসতি

তার উপর দাঁড়িয়ে আজি সত্য স্তাবকই বুঝি মিথ্যায় নিপতিত!

যেমন কবির ভাস্যে, ‘মিথ্যা শুনিনি ভাই,

এ হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির কাবা নাই’।

কিংবা “সবার উপরে মানুষ তাহার উপরে নাই।”

চৌদিকে আজি মিথ্যার ছড়াছড়ি!

তাই নিয়ে মোরা কতইনা গর্ব করি।

বল,কেন এত সব মিথ্যার আয়োজন?

কিসের এতসব মিথ্যার প্রয়োজন!

চারপানে কেন মিথ্যার আবরন?

করিতে পারিনা মনে, আজ মিথ্যার সংবরন;

মিথ্যার আচার-বিচার, মিথ্যার সমাজ-সংসার।

চতুর্দিকে চলছে কত মিথ্যাচার।

মিথ্যার পন্যে মিথ্যার বাজার আজ সয়লাব!

প্রেম-ভালবাসা মিথ্যা, শুধুই মিথ্যার ছলনা!

কবি মিথ্যা, কবির কবিতা মিথ্যা।

আজ মিথ্যার পাহাড় সম সাহিত্য ভরপুর,

তাই নিয়ে গড়ে উঠে কত প্রশংসার শোরগোল!

ধর্ম-কর্ম মিথ্যা, ধার্মিক মিথ্যা, ধর্মীয় সাহিত্য-ইতিহাস মিথ্যা।

শিক্ষার নীতিতে মিথ্যা, মিথ্যার পাঠ্যসূচী পাঠ করে বড় হচ্ছি মোরা।

রাজনীতি মিথ্যা, সমাজ নীতি মিথ্যা, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্র-নায়ক মিথ্যা।

সংবাদপত্র মিথ্যা, সাংবাদিক মিথ্যা, সম্পাদক মিথ্যা।

একটা মিথ্যা উৎপাদিত করে অসহস্র মিথ্যার

কীটপতঙ্গের ন্যায় মিথ্যা কিলবিল করছে

সত্য সোনালি ফসলি জমিতে মিথ্যার মরক লেগেছে!

মিথ্যার আবাদে আবাদি জমিগুলি মিথ্যায় আজ ভরপুর,

চারদিকে ঐ মিথ্যার দল, করছে তারা হট্টগোল

এখনি লাগবে মিথ্যার গণ্ডগোল!

মোর দেহমনে মিথ্যার আহাজারি!

মিথ্যানন্দে বেঁচে থেকে বল, লাভ কি?

মোর মন-মস্তিষ্ক আজ মিথ্যার ডিপো!

মিথ্যা দেখে-দেখে চোখ আজ মিথ্যায় ভারাক্রান্ত

মিথ্যায় অবসন্ন মিথ্যার দেহ মিথ্যা ঘুমে,

মিথ্যার স্বপন দেখে!

মিথ্যা মোর শ্বাস-প্রশ্বাসে,মিথ্যায় ধম-বন্ধ হয়ে আসে।

মোর মিথ্যাশ্রিত কার্বন-ডাই-অক্সাইডের প্রভাবে

সবুজ-প্রকৃতি ধূসর বিবর্ণে শুকিয়ে মরে যাচ্ছে,

তারপর গড়ে তোলে মিথ্যার মরুপাহাড়

আর মিথ্যার আগ্নেয়গিরির অগ্নি-উৎপাতে,

মিথ্যা ছড়িয়ে পরচ্ছে বিশ্বপ্রকৃতিতে!

যেন এক মিথ্যার বিবর্তন, বিবর্তিত মিথ্যা রূপান্তরিত হয়ে

জন্ম নিচ্ছে অসংখ্যক মিথ্যায়!

 

 

 

About the Author:

মুক্তমনা ব্লগার।

মন্তব্যসমূহ

  1. এফএনএফ এপ্রিল 5, 2012 at 1:40 পূর্বাহ্ন - Reply

    আপনাদের লেখা কতটা যুক্তি সংগত বলবেন কি?(P) (P) (P) (P) (P) (P)

    • শামিম মিঠু এপ্রিল 5, 2012 at 10:04 অপরাহ্ন - Reply

      @এফএনএফ, ভাই, প্রশ্ন করার জন্য (Y) এবং আমাদের লেখা কতটা অযোক্তিক আপনি দয়াকরে বলবেন কি? :-s

  2. আফরোজা আলম এপ্রিল 4, 2012 at 4:19 অপরাহ্ন - Reply

    বাহ বেশ তো –

    • শামিম মিঠু এপ্রিল 4, 2012 at 8:34 অপরাহ্ন - Reply

      @আফরোজা আলম, সুন্দর ভাব প্রকাশের জন্য অভিনন্দন!

  3. অরণ্য এপ্রিল 2, 2012 at 8:36 অপরাহ্ন - Reply

    মিথ্যায় মিথ্যা কাঁটা যাক
    সত্য সুন্দর মুক্তি পাক!

    • শামিম মিঠু এপ্রিল 4, 2012 at 3:10 পূর্বাহ্ন - Reply

      মিথ্যায় মিথ্যা কাঁটা যাক
      সত্য সুন্দর মুক্তি পাক!

      ঠিক তাই, সুন্দর পাঠ-প্রতিক্রিয়ার জন্য ধন্যবাদ।

  4. অতিথি এপ্রিল 2, 2012 at 3:27 অপরাহ্ন - Reply

    খুবই ভালো লেগেছে।চরম সত্য কথা বলেছেন।

    • শামিম মিঠু এপ্রিল 4, 2012 at 3:05 পূর্বাহ্ন - Reply

      @অতিথি, ভালো লাগার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

  5. অচিন পাখি এপ্রিল 2, 2012 at 3:23 অপরাহ্ন - Reply

    আরে ভাই, এ দেখি মিথ্যায় মিথ্যায় সয়লাভ।

    “সবই যদি হয় মিথ্যা, তবে সত্য কিরে ভাই;
    সত্য কি অধরাই রয়ে যাবে ধরায়,
    বলতে কি কেউ পারো ভাই?”

    ধর্ম-কর্ম মিথ্যা, ধার্মিক মিথ্যা, ধর্মীয় সাহিত্য-ইতিহাস মিথ্যা।

    ধর্মের স্তম্ভ মিথ্যা, মিথ্যার স্তম্ভে দাড়ানো ধর্মের বিশ্বাসীগণ মিথ্যা, মিথ্যার স্তম্ভে দাড়ানো ধর্মীয় বিশ্বাসীগণের
    সাহিত্যও না হয় ধরে নিলাম মিথ্যা কিন্তু ধর্মীয় বর্রবরতার ইতিহাস মিথ্যা হয় কি করে!!!

    • শামিম মিঠু এপ্রিল 4, 2012 at 3:01 পূর্বাহ্ন - Reply

      ভাই, আপনার সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত; কিন্তু ধর্মের স্তম্ভ গুলি যদি সত্য হতো! সত্যের স্তম্ভে দাঁড়ানো ধর্মীয় বিশ্বাসীগণ সত্য হতো, সত্যের স্তম্ভে দাঁড়ানো ধর্মীয় বিশ্বাসীগণের সাহিত্যও সত্য হতো! আর সত্য ধর্মীয় ইতিহাসও সত্য হতো।
      প্রচলিত প্রথাগত ধর্মগুলি যুগে যুগে বিভিন্ন ভোগবাদী আনুষ্ঠানিক সর্বস্ব স্থুল ক্ষমতাসীন রাজশক্তি ও স্বার্থবাদীর দ্বারা ধর্মীয় ইতিহাস বিকৃতি ঘটেছে।
      ধর্মাধর্মী এ জগত সংসারে ধার্মিকেরা ধর্ম কি তা-ই বুঝে না। ধর্মই কর্ম আর কর্মই ধর্ম। প্রতিটি বস্তুর যেমন ধর্ম রয়েছে, তেমনি প্রতিটি মানুষের স্ব-স্ব ধর্ম রয়েছে। যা একে অপর হতে স্বতন্ত্র বা আলাদা। তাহলে ধর্ম কি? ধর্ম হল মানুষের স্বভাব-আচরণ-প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্য; যা সপ্ত ইন্দ্রিয় দ্বার দিয়ে মানব মস্তিষ্কের প্রবেশকৃত দৃশ্য-শব্দ-গন্ধ-স্বাদ-স্পর্শ-ভাব ও অনুভূতির উদয়-বিলয়ের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ ঘটে থাকে। আর ঐ ধর্ম-কর্ম সমূহের সম্প্রদানের কালে বা গ্রহণ-বর্জনের কালে মোহ মাখা বা মোহ আশ্রিত থাকে, মোহ আবিলতা বা মোহ কালিমার লেপন মাধ্যমে তা ধার্মিকের মন-মস্তিষ্কে ধর্মের মোহের ছাপ ফেলে।

      “সবই যদি হয় মিথ্যা, তবে সত্য কিরে ভাই;
      সত্য কি অধরাই রয়ে যাবে ধরায়,
      বলতে কি কেউ পারো ভাই?”

      মানুষ সত্য প্রকাশের যন্ত্র, সত্য স্বয়ং প্রকাশ!
      তাতে মিথ্যার নেই কোন অবকাশ।
      আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন