বাতিঘর

(বড়দের কল্যানে ছোটবেলা ছেলেধরার ভয়ে ভীত ছিলাম কিছুদিন। অনেক বছর পেরিয়ে ছেলেধরার বদলে দেখা পেলাম অল্প কয়েকটা আলোধরার। কল্যানে মুক্তমনে যারা আলো ধরে আর আমদের দিয়ে যায় এক একটি আলোর ইট; তাদেরকে ভালবেসে আর পথভোলাদের বাতিঘরের জন্য …………বাতিঘর)

আলো জ্বেলে হাইপেশিয়া জ্বলে;
পাদ্রী মোল্লার স্বার্থপর গনিতে।

জাতিভাগে কাটে দাগ মৌ-লোভী
অবিরাম মারে নিরীহ মানুষ।

চেতনাতে তৃপ্ত মগজধোপা বাপমা
স্বর্গবীমা কিনে বেচে বিশ্বাসে।

পাল্টে চলে সভ্যতার সংজ্ঞা;
অসভ্য সভ্যতা অসভ্য রেখে।

তবু বাঁচে কয়েকটা আলোধরা;
একাগ্র কৌতূহল দিয়ে উপহার।

আমাদের শক্তি তুমি আমি
চলো বাতিঘর বুনি যতনে।

About the Author:

মুক্তমনা ব্লগার। আদ্দি ঢাকায় বেড়ে ওঠা। পরবাস স্বার্থপরতায় অপরাধী তাই শেকড়ের কাছাকাছি থাকার প্রাণান্ত চেষ্টা।

মন্তব্যসমূহ

  1. সপ্তক মার্চ 15, 2012 at 11:07 অপরাহ্ন - Reply

    সব বাতিঘর একে একে নিভে গেছে

    আবার কখন কে জ্বালাবে কে জানে?

    হয়ত কেউ এক হাইপেশিয়া

    হয়তবা এক ব্রুনো

    জ্বালাবে কি আবার বাতি?

    অন্ধকারে নিমজ্জিত এক জাতি

    বাতিঘরের নীচে বাস করে আলো দেখে না

    দিশে হারা পথ হারা…

    • কাজী রহমান মার্চ 17, 2012 at 6:40 পূর্বাহ্ন - Reply

      @সপ্তক,

      সব বাতিঘর একে একে নিভে গেছে

      সেকি কথা, ওটা নিভে গেলে আপনি আমি পথ চিনে এখানে এলাম কি করে? যারা পথ হারাচ্ছে তাদেরকে পথ দেখিয়ে আশ্রয় দেবার জন্যই তো বাতিঘর। হতাশ হবার কিচ্ছু নেই

      আমাদের শক্তি তুমি আমি
      চলো বাতিঘর বুনি যতনে।

      মজার ব্যাপার হোল, ক দিন আগে টেকি সাফির ‘একলা আমি’ লেখাটার হতাশাবিরুদ্ধ মন্তব্যে এই কবিতাটার মুল লেখাটা এসে গিয়েছিলো।

  2. স্বপন মাঝি মার্চ 14, 2012 at 11:08 পূর্বাহ্ন - Reply

    সাধু! সাধু!
    মগজধোপা, স্বর্গবীমা, আলোধরা কবিতার মধ্যে এমন সব শব্দের উপস্থিতি, দেখে চোখ থেমে যায়। খুব ভাল লাগে কবিতার মধ্যে শব্দ নিয়ে খেলা, আর খেলা করতে করতেই কবি আমাদেরকে নিয়ে গেলেন

    চলো বাতিঘর বুনি যতনে।

    চমৎকার।

    • কাজী রহমান মার্চ 17, 2012 at 6:27 পূর্বাহ্ন - Reply

      @স্বপন মাঝি,

      মগজধোপা, স্বর্গবীমা, আলোধরা শব্দগুলি সত্যিই একটু ভেবে বসিয়েছি। আপনার চোখ এড়ায়নি দেখে খুশী লাগলো।

      বাবা মা কিংবা বড়রা শিশুকালেই একটি শিশুকে সৃষ্টি, সৃষ্টিকর্তা, ধর্ম ইত্যাদি বিষয়ে আপন ধারণাগুলো জোর করে চাপিয়ে দেয়। একটি শিশুকে ধর্মের মগজ ধোলাই দিয়ে ছেড়ে দেয়। তাই ওদের নাম দিয়েছি ‘মগজধোপা’। এই শব্দটা প্রচার পেলে বড়ই সূখী হব।

      এই পৃথিবীর সব মুক্তমনারাই মগজধোলাই অবস্থার বাইরে বলে মনে করি। তাদের জ্ঞান বাকীদের আলো দেয়। ওরা জ্ঞানের আলো মন খুলে ধরে আর বিলি করে বাকিদের। তাই ওরা আলোধরা।

      (D)

  3. রাজেশ তালুকদার মার্চ 14, 2012 at 4:54 পূর্বাহ্ন - Reply

    আমাদের শক্তি তুমি আমি
    চলো বাতিঘর বুনি যতনে।

    বা! বেশ চমৎকার কথা বলেছেন তো। (F)

    • কাজী রহমান মার্চ 14, 2012 at 9:55 পূর্বাহ্ন - Reply

      @রাজেশ তালুকদার,

      আইচ্ছা, থাঙ্কু থাঙ্কু, বুইড়া আঙ্গুল না দেহানির জন্য থাঙ্কু (D)

  4. সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড মার্চ 14, 2012 at 1:26 পূর্বাহ্ন - Reply

    (F)

    • কাজী রহমান মার্চ 14, 2012 at 9:52 পূর্বাহ্ন - Reply

      @সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড,

      ধন্যবাদ এবং (F)

  5. শামিম মিঠু মার্চ 14, 2012 at 12:37 পূর্বাহ্ন - Reply

    “আমাদের শক্তি তুমি আমি
    চলো বাতিঘর বুনি যতনে।”

    আপনার আহ্বানে বলতে ইচ্ছে করেঃ
    “আমি অধম অন্ধ-কানা
    ছুটছি আলোর পানে বাতিঘরে।
    প্রবেশদ্বারে বন্ধু, কে তুমি দাড়িয়ে ?
    দাওনা ওগো, ঢুকতে আমারে……।।”

    কবিতাটি অসাধারন, খুব ভাল লেগেছে।

    • কাজী রহমান মার্চ 17, 2012 at 6:07 পূর্বাহ্ন - Reply

      @শামিম মিঠু,

      প্রবেশদ্বারে বন্ধু, কে তুমি দাড়িয়ে ?
      দাওনা ওগো, ঢুকতে আমারে……।।”

      প্রবেশদ্বারে বন্ধু চিনলে আর দেরী কেন; নিঃসঙ্কোচে ঢুকে পড়ুন। আমরা অপেক্ষায়।

      মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। দেরীতে উত্তর দেবার জন্য দুঃখিত।

  6. তামান্না ঝুমু মার্চ 13, 2012 at 8:34 অপরাহ্ন - Reply

    হ্যাঁ বাতিঘরই সন্ধান দেবে সত্যের।

    • কাজী রহমান মার্চ 14, 2012 at 9:51 পূর্বাহ্ন - Reply

      @তামান্না ঝুমু,

      সেই, থেমে যাওয়া চলবেই না। আমরা যেন আমরা থাকি (D)

  7. আফরোজা আলম মার্চ 13, 2012 at 12:41 অপরাহ্ন - Reply

    বেশ ভালো লাগল।

  8. গীতা দাস মার্চ 13, 2012 at 11:18 পূর্বাহ্ন - Reply

    বাতিঘর বুনন অব্যাহত থাকুক।

    • কাজী রহমান মার্চ 14, 2012 at 9:49 পূর্বাহ্ন - Reply

      @গীতা দাস,

      অব্যাহত থাকবেই, আমরা একে একে অনেক হব (F)

মন্তব্য করুন