সোভিয়েত ইউনিয়নে বিজ্ঞান ও বিপ্লব

অনুষঙ্গ কথা
দ্বিজেন শর্মা

সোভিয়েত ইউনিয়নে লিসেঙ্কো বিস্মৃত অনেককাল আর আমরা সোভিয়েত ইউনিয়নকে ভুলেছি সম্প্রতি। সেই রাম নাই, অযোধ্যাও নাই। তাই অনন্ত বিজয় দাশের পাঠানো লিসেঙ্কো-বিষয়ক বইয়ের পাণ্ডুলিপিটি পেয়ে বিস্মিতই হয়েছিলাম। জীববিদ্যার কোনো কোনো পাঠ্যবইয়ে লামার্কের উত্তরসূরি হিসাবে লিসেঙ্কোর নাম দায়সারাভাবে উল্লেখ থাকলেও তাঁকে নিয়ে আলাদাভাবে একটি বই লেখা রীতিমতো দুঃসাহসী কাজ। লিসেঙ্কো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে তাঁর বৈজ্ঞানিক অবদানের জন্য নয়, রাষ্ট্রীয় আনুকূল্যে জীববিজ্ঞানে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও স্বদেশে গোটা একটা বিজ্ঞানীগোষ্ঠীর বিপর্যয়ের জন্য। এতে আরেকটি প্রাসঙ্গিক বিষয়ও উপরস্থ হয়েছে-মতাদর্শ ও বিজ্ঞানের দ্বন্দ্ব তথা পরিণতি।

সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্র যে, বিজ্ঞান গবেষণা, চর্চা ও বৃহৎ পরিসরে জনগণের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহারের সরকারি নীতিমালা প্রস্তুত করেছিল। ১৯১৭ সালের অক্টোবর মহাবিপ্লবের পর সোভিয়েতের সমাজতান্ত্রিক সরকার কৃষি অর্থনীতির বিকাশ ও আধুনিকায়নে বিভিন্ন তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। স্তালিন সরকারের প্রথম পঞ্চবাষির্কী পরিকল্পনায় রাষ্ট্রের কৃষিচাহিদা পূরণে বিজ্ঞানকে ব্যবহার করা হয় গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে। পশ্চিমের রাষ্ট্রগুলিতে যে-সময় বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির চর্চা শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক উপাদান হিসেবে ধরে নিয়ে এক ধরনের ইউটোপিয়ান ধারণায় ভুগছিল, সে-সময় সোভিয়েত ইউনিয়নে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সামাজিক ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় চাহিদা হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকের শুরু থেকে বিজ্ঞান-গবেষণায় সরকারি অনুদান, সহায়তা ও প্রণোদনা প্রদানের ক্ষেত্রে সোভিয়েত সরকার বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে ছিল। সোভিয়েত ইউনিয়নে বংশগতিবিদ্যা, কোষ-বংশগতিবিদ্যা গবেষণা এক সময় সারা বিশ্বে অগ্রগামী ছিল।

…কিন্তু যে-সোভিয়েত ইউনিয়ন বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে কৃষিগবেষণা, খাদ্য-উৎপাদনসহ জীববিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণা কার্যক্রম ও আবিষ্কারের দিক দিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছিল, সেই দেশের কয়েক দশক পরে যেন ‘নক্ষত্রপতন’ ঘটে! সাম্যবাদী ভাবাদর্শ নিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে ‘আইকন’ রাষ্ট্র হওয়ার বিপরীতে তাকে নিয়মিত তীব্র খাদ্যঘাটতি, দুর্ভিক্ষ, গণঅসন্তোষ প্রভৃতি মোকাবেলা করতে হয়েছে, যার কোনটি সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে না।

বিজ্ঞানভিত্তিক সোভিয়েত রাষ্ট্র কিনা এক সময় বিজ্ঞানের অগ্রগামিতার পথ রুদ্ধ করে দেয় নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শ চাপিয়ে। রাশিয়ায় জীববিজ্ঞানের পতন ঘটে, সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হয়ে যায় জিনেটিক্সের মতো আধুনিক বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এখন পর্যন্ত একবিংশ শতাব্দীতেও রাশিয়া জীববিজ্ঞান-গবেষণায় তার পূর্বের অবস্থান ফিরে পায় নি। স্তালিনের রাশিয়ায় বিজ্ঞানের বিপর্যয় বিশ্ববাসীর কাছে উজ্জ্বল এক দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। ১৯২৭ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন দশক সোভিয়েতের জীববিজ্ঞান-জগতে রাজনৈতিক জবরদস্তিমূলক ঘটনাবলীতে লিসেঙ্কো অধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। লিসেঙ্কো কীর্তিকে বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞান জগতে সবচেয়ে বড় ‘স্ক্যান্ডাল’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কেন ও কিভাবে টান টান উত্তেজনায় ভরপুর নাটকীয় এ ঘটনাবলী সংঘটিত হয়েছিল, প্রশ্নগুলো বিজ্ঞানের ইতিহাসে আগ্রহী অনেকেরই মনে বিশেষ ঔৎসুক্যের সৃষ্টি করে আসছে দীর্ঘকাল ধরে। বিভিন্ন বিশ্লেষণী দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে এ গ্রন্থে একের পর এক।

কলকাতার সিটি কলেজের ছাত্র থাকাকালে (১৯৫০-৫২) বাম-রাজনীতির তাগিদে জীববিদ্যার ছাত্র হিসাবে লিসেঙ্কো সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠি এবং ‘ন্যাশনাল বুক এজেন্সি’ থেকে Selected Works of Mitchurin ও লিসেঙ্কোর লেখা A Situation in Biological Science পুস্তিকাটি কিনি, পড়ি ও প্রভাবিত হই। তাতে অনুঘটকের উদ্দীপনা যুগিয়েছিল খ্যাতিমান দার্শনিক দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের জীববিজ্ঞানে বিপ্লব (১৯৫১) বইটি। আমি তো ছার, জে. ডি. বার্নালের মতো বিশ্বখ্যাত পদার্থবিদ ও বিজ্ঞান-লেখক পর্যন্ত লিসেঙ্কোর অপবিজ্ঞানকে স্বাগত জানিয়েছিলেন! সবই আসলে রাজনৈতিক মতাদর্শগত অন্ধতার প্রকোপ। ফলত বিজ্ঞানের প্রভূত ক্ষয়ক্ষতি এবং অনেক বিজ্ঞানীর প্রাণহানি ঘটে। লিসেঙ্কোর যুগ বিজ্ঞান-ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। এখানে সোভিয়েত ও সমাজতন্ত্র বিরোধিতার আলামত খোঁজা অপ্রাসঙ্গিক।

আমার এ ঘোর কাটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভিদবিদ্যার স্নাতকোত্তর কোর্সে (১৯৫৬-৫৮) ভর্তি হওয়ার বছরখানেক পর। ততদিনে কোষবংশতিবিদ্যার তত্ত্বীয় ও ফলিত জ্ঞান বেড়েছে এবং জুলিয়ান হাক্সলির Soviet Genetics and the World Science পড়া হয়ে গেছে। যে-লোক (লিসেঙ্কো) ক্রোমোসোমকে ‘বংশগতির বাহক’ মানে না তাঁকে বিজ্ঞানীর স্বীকৃতি দেওয়া যে নিরর্থকতা বুঝতে পারি এবং এ-বিষয়ে সমকাল মাসিক পত্রিকায় একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখি (১৯৫৮)। তাতে সমাজতন্ত্রে আমার বিশ্বাস এতটুকু টলেনি এবং অভিন্ন মতাদর্শী বন্ধুরাও নাখোশ হন নি। পরে নিকোলাই ভাবিলভের একটি বই পড়ে নিশ্চিত হয়েছিলাম যে তিনি একজন নিখাদ দেশপ্রেমিক এবং মোটেও সমাজতন্ত্রবিরোধী নন।

রুশ-ইতিহাসে লিসেঙ্কো অধ্যায় একটি কৃষ্ণযুগ এবং অনন্ত বিজয় দাশ তাঁর বইতে সে-অধ্যায়ের বিস্তারিত বিবরণ দাখিল করেছেন। ইতিহাসে কত হাস্যকর ঘটনাই না ঘটে। তারই একটি, সম্ভবত লিসেঙ্কোর ওই পুস্তিকাতেই পড়েছি। ক্ল্যাসিক বংশগতিবিদ্যা ও লিসেঙ্কোপন্থীদের মতানৈক্য ফয়সালার জন্য একটি সভা ডাকা হয়েছে। সভাপতির প্রশ্ন-আপনারা কতদিনে ফসলের একটি নতুন ভ্যারাইটি উৎপাদন করতে পারবেন?
নিকোলাই ভাবিলভ- অন্তত তিন বছর।
লিসেঙ্কো- এক বছরই যথেষ্ট।
হাততালি ও উল্লাসের বিস্ফোরণ ‘ভাবিলভ মুর্দাবাদ, লিসেঙ্কো জিন্দাবাদ’। এভাবে পতন ঘটল ভাবিলভের, প্রতিষ্ঠা পেলেন লিসেঙ্কো। আপাতদৃষ্টিতে হাস্যকর মনে হলেও ব্যাপারটি ছিল ভয়ঙ্কর। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে কারাগারে বন্দি অতঃপর মৃত্যুদণ্ড পান অনেক বিজ্ঞানী। ভিন্নমতাদর্শী নিকোলাই ভাবিলভ যান জেলে, মারা যান সেখানেই। বিজ্ঞান বিভক্ত হয়ে পড়ে বুর্জোয়া ও সমাজতন্ত্র ঘরানায়। পদার্থবিজ্ঞানীর একটি দলের ওপরও বিপর্যয় নেমে এসেছিল। তাঁরা বেঁচে যান পিয়েতর কাপিৎসা ও ইগর কুরচাতভের হস্তক্ষেপে। কুরচাতভ স্তালিনকে সাফ জানিয়ে দেন এসব ঘটলে তাঁর পক্ষে পরমাণুবোমা তৈরি সম্ভব হবে না। কেজিবি প্রধান বেরিয়া বিষয়টি নিয়ে আর ঘাঁটাঘাঁটি করেন নি। এই ইতিহাসের অনেক কাহিনী আছে রবার্ট য়ুংকের লেখা Brighter Than a Thousand Sun বইতে।

রাশিয়ার কমিউনিস্টদের ডারউইনপ্রীতি সুবিদিত এবং সেটা তাঁর বাস্তববাদী বিশ্ববীক্ষা ও মার্কস-এঙ্গেলসের ডারউইনবাদী হওয়ার কারণে। কিন্তু এই তত্ত্ব রাশিয়ানদের কর্মক্ষেত্রে সুবিধার চেয়ে অসুবিধা সৃষ্টি করেছিল বেশি। মানুষসহ জীবজগতের পরিবেশানুকূল পরিবর্তন ঘটানো ‘প্রাকৃতিক নির্বাচন’ প্রক্রিয়ায় যেমন জটিল তেমনি কালক্ষেপক। সমাজতন্ত্র থেকে দ্রুত কমিউনিজমে পৌঁছার ক্ষেত্রে এটি বড় বাধা। পক্ষান্তরে লামার্কবাদ এ উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য তুলনামূলকভাবে অধিকতর অনুকূল। তাই তারা ডারউইনীয় আধারে লামার্কীয় আধেয় ঢুকিয়ে সৃষ্টি করেন একটি নতুন তত্ত্ব-‘সৃষ্টিশীল ডারউইনবাদ’ অর্থাৎ সোনার পাথর বাটি। লামার্কবাদ বহুকাল আগে ভ্রান্ত প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও কেন তারা নিকোলাই ভাবিলভকে বাতিল করে লিসেঙ্কোকে স্বাগত জানিয়েছিলেন বোঝা কঠিন নয়। তাতে কেবল সোভিয়েত বিজ্ঞান নয়, সমাজতান্ত্রিক উন্নয়নও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

স্তালিনের মৃত্যুর পর ক্রুশ্চেভ ক্ষমতাশীল হলে সোভিয়েত রক্ষণশীলতার বরফ-গলা শুরু হয়, অবদমিত চিন্তাভাবনার পুনর্জাগরণ ঘটে এবং লিসেঙ্কো সমালোচনার সম্মুখীন হন। ক্রুশ্চেভ তখনও লিসেঙ্কোকে সমর্থন যোগাতে থাকেন, কেননা তিনি বিশ্বপুঁজিতন্ত্রকে রাশিয়ায় উৎপন্ন দুধ ও মধুর স্রোতে ডুবিয়ে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন। ক্রুশ্চেভের জামাতার লেখা আত্মজীবনীতে উল্লিখিত একটি কাহিনি এরূপ : একদিন তিনি জামাইকে বললেন যে, কাল ‘দাড়ি’ এসেছিলেন, (‘দাড়ি’ অর্থাৎ পদার্থবিদ ও পারমাণবিক শক্তি গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান কুরচাতভ) লিসেঙ্কোকে বিদায় করতে বলেছেন। তা তিনি করবেন না। কালই যাবেন লিসেঙ্কোর খামার দেখতে। একটি গাভী নাকি চল্লিশ কেজি দুধ দিচ্ছে। শুনে জামাই বললেন যে সেই গাভীকে রোজ কেজি কেজি চকলেট খাওয়ানো হয়। ক্রুশ্চেভ জবাব দিলেন-খাওয়াক, ওকে ছাড়া আমার চলবে না। তোমাকেও সঙ্গে যেতে হবে।’ কিন্তু লিসেঙ্কোর কৃষিবিপ্লব সফল হয়নি এবং শেষপর্যন্ত তিনি পদচ্যুত হন। ক্রুশ্চেভ বরখাস্ত হওয়ার পর ব্রেজনেভের যুগে তুষার আবার জমাট বাঁধে, কিন্তু লিসেঙ্কোর পুনঃপ্রতিষ্ঠা ঘটে না, এমনকি তাঁর লামার্কবাদী গবেষণারও বিলুপ্তি ঘটে। ১৯৫৩ সালে আবিষ্কৃত হয় ডিএনএ অণুর কাঠামো, সূচিত হয় জীববিদ্যার নতুন যুগ। কিন্তু ততদিনে রাশিয়ার জীববিদ্যা গবেষণা অনেক পিছিয়ে পড়েছে।

ভাবাদর্শ ও বিজ্ঞানের দ্বন্দ্ব বিভিন্ন মাত্রায় চিরকালই ছিল, আজও আছে। সংশ্লেষিত ডারউইনবাদ বিজ্ঞানের স্বীকৃতি পেয়েছে অনেকদিন কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশেই, আজও নির্বিশেষ সামাজিক স্বীকৃতি পায় নি। বাংলাদেশে স্কুল-পাঠ্যক্রম থেকে বেশকিছু দিন ধরে ডারউইন বর্জিত হয়েছেন, অথচ কী অদ্ভুত তাঁর তত্ত্বের ফলিত রূপ জীবপ্রযুক্তি সেই স্থানাপন্ন হয়েছে। অধিক ফলনশীল ও নতুন বৈশিষ্ট্যের ফসল ও গৃহপালিত জীবজন্তুর চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে এবং জীবপ্রযুক্তির নানা কৌশল উদ্ভাবিত হচ্ছে। কিন্তু ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তির সঙ্গে ভাবাদর্শে দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে গেছে। জিন-স্থানান্তরণ, বংশগতি রূপান্তরে উৎপন্ন ফসল (জিএম), স্টেম-কোষ গবেষণা ব্যাপক প্রতিবোধের সম্মুখীন হয়েছে এবং কিছু গবেষণা অনেক দেশে বন্ধ হয়ে গেছে। সুতরাং সমাজতান্ত্রিক রুশ দেশে ‘লিসেঙ্কো যুগ’ কোনো ব্যতিক্রম নয়। এটি একটি ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং সেজন্য তা বিস্তারিত জানা আবশ্যক। এই শ্রমসাধ্য ও প্রয়োজনীয় কাজটি সুসম্পূর্ণ করার জন্য লেখক অনন্ত বিজয় দাশ আমাদের ধন্যবাদর্হ।

১৫ জানুয়ারি, ২০১২
সিদ্ধেশ্বরী, ঢাকা

সোভিয়েত ইউনিয়নে বিজ্ঞান ও বিপ্লব : লিসেঙ্কো অধ্যায় (Science and Revolution in Soviet Union: The Lysenko Chapter)
লেখক : অনন্ত বিজয় দাশ
প্রকাশনা সংস্থা : শুদ্ধস্বর। ৯০-৯১, তৃতীয় তলা, আজিজ সুপার মার্কেট, শাহবাগ, ঢাকা
প্রকাশকাল : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১২
মুদ্রিত মূল্য: ৩৫০ টাকা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৪
প্রচ্ছদ: শিবু কুমার শীল
বইমেলায় শুদ্ধস্বরের স্টল নাম্বার : ৪৪৪-৪৪৬।

বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানমনস্কতার ছোটকাগজ 'যুক্তি'র সম্পাদক। মানবতা এবং যুক্তিবাদ প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০০৬ সালে মুক্তমনা র‌্যাশনালিস্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। প্রকাশিত প্রবন্ধ গ্রন্থ : (১) পার্থিব, (সহলেখক সৈকত চৌধুরী), শুদ্ধস্বর, ঢাকা, ২০১১। (২) ডারউইন : একুশ শতকে প্রাসঙ্গিকতা এবং ভাবনা, (সম্পাদিত), অবসর, ঢাকা, ২০১১। (৩) সোভিয়েত ইউনিয়নে বিজ্ঞান ও বিপ্লব : লিসেঙ্কো অধ্যায়, শুদ্ধস্বর, ঢাকা, ২০১২। (৪) জীববিবর্তন সাধারণ পাঠ (মূল: ফ্রান্সিসকো জে. আয়াল, অনুবাদ: অনন্ত বিজয় দাশ ও সিদ্ধার্থ ধর), চৈতন্য প্রকাশন, সিলেট, ২০১৪

মন্তব্যসমূহ

  1. গীতা দাস মার্চ 2, 2012 at 2:29 অপরাহ্ন - Reply

    বিজ্ঞান বুঝি না, তা আমি এবারের বইমেলায় অনন্তকে বলেওছিলাম। তবে দ্বিজেন শর্মা্র অনুষঙ্গ কথা পড়ে অনন্ত বিজয়ের বইটি পড়ার আগ্রহ জন্মাল। এবার শুদ্ধস্বর থেকে মেয়েকে দিয়ে সাহিত্যের কয়েকটা বই এনেছি । বাকীগুলো পরে সংগ্রহ করার ইচ্ছের তালিকায় এ বইটিকেও রাখলাম। বিজ্ঞান না বুঝলেও বিজ্ঞান নিয়ে রাজনীতিকে তো বুঝতে হবে।

    • অনন্ত বিজয় দাশ মার্চ 3, 2012 at 12:53 পূর্বাহ্ন - Reply

      @গীতা দাস,

      দিদি, আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
      কাঠখোট্টা, নিরস এই বইটার প্রতি আপনার আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে বলে অত্যন্ত খুশি লাগছে।
      আর বইমেলায় আপনার সাথে দেখা হওয়াটা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ব্যাপার।

  2. ডাইস মার্চ 1, 2012 at 11:09 অপরাহ্ন - Reply

    বইটা কিনসি শুধু নেটে রিভিউ দেখেই…এখনো পড়া হয়নাই

    • অনন্ত বিজয় দাশ মার্চ 3, 2012 at 12:47 পূর্বাহ্ন - Reply

      @ডাইস,

      ধন্যবাদ! (F)
      বইটা পড়া শেষ হলে ফিডব্যাক জানাবেন আশা করি।

  3. প্রদীপ দেব ফেব্রুয়ারী 29, 2012 at 6:03 অপরাহ্ন - Reply

    অভিনন্দন অনন্ত। জটিল বিষয়কে সহজবোধ্য করে তোলার ক্ষেত্রে অনন্ত সিদ্ধহস্ত। বইটা পড়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছি। আফসোস- মেলায় বইটা আসার আগেই আমাকে চলে আসতে হয়েছে। তবে আনন্দের কথা হলো এই- এবার অনন্তের সাথে দেখা হয়েছে শুদ্ধস্বরের অফিসে।

    • অনন্ত বিজয় দাশ মার্চ 1, 2012 at 4:13 অপরাহ্ন - Reply

      @প্রদীপ দেব,

      ধন্যবাদ প্রদীপদা। (F)
      তবে বেশ লজ্জায় ফেলে দিলেন!
      শুদ্ধস্বরের অফিসে আপনার সাথে আকস্মিকভাবে দেখা হওয়াটা আমার জন্য বিরাট প্রাপ্তি!

  4. সাইফুল ইসলাম ফেব্রুয়ারী 29, 2012 at 1:33 পূর্বাহ্ন - Reply

    দুই শত ষাট টাকা দিয়া কিনিয়াছি অনন্ত দা। :))

    • অনন্ত বিজয় দাশ ফেব্রুয়ারী 29, 2012 at 11:11 পূর্বাহ্ন - Reply

      @সাইফুল ইসলাম,

      সাইফুল ভাই, সাথে দুইশত ষাট পিস ফ্রি ধনেপাতা নিয়ে যান! :))

  5. কাজি মামুন ফেব্রুয়ারী 29, 2012 at 12:15 পূর্বাহ্ন - Reply

    ””মানুষসহ জীবজগতের পরিবেশানুকূল পরিবর্তন ঘটানো ‘প্রাকৃতিক নির্বাচন’ প্রক্রিয়ায় যেমন জটিল তেমনি কালক্ষেপক। সমাজতন্ত্র থেকে দ্রুত কমিউনিজমে পৌঁছার ক্ষেত্রে এটি বড় বাধা।””’
    চিন্তা জাগানিয়া! অসাধারণ!
    ””পক্ষান্তরে লামার্কবাদ এ উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য তুলনামূলকভাবে অধিকতর অনুকূল। তাই তারা ডারউইনীয় আধারে লামার্কীয় আধেয় ঢুকিয়ে সৃষ্টি করেন একটি নতুন তত্ত্ব-‘সৃষ্টিশীল ডারউইনবাদ’ অর্থাৎ সোনার পাথর বাটি।””
    সৃষ্টিশীল ডারউইনবাদ বিষয়টা একটু বিস্তারিত বললে বুঝতে সুবিধা হত!

    • অনন্ত বিজয় দাশ ফেব্রুয়ারী 29, 2012 at 11:26 পূর্বাহ্ন - Reply

      @কাজি মামুন,

      সৃষ্টিশীল/সৃজনশীল বা ক্রিয়েটিভ ডারউইনবাদ নামের সোনার পাথরবাটির ধারণার বেশি প্রচার চালিয়েছিল লিসেঙ্কোর রাজনৈতিক গুরু ইসাক আই. প্রিজেন্ত। প্রিজেন্ত সাহেব সোভিয়েত রাজনীতিতে একসময় বেশ হোমড়াচোমড়া ব্যক্তি ছিলেন।

      ক্রিয়েটিভ ডারউইনিজমকে সহজ ভাষায় বললে এটাকে সোভিয়েত মার্কসবাদের সঙ্গে লামার্কবাদের মিশেল বলা চলে।

      প্রিজেন্ত সাহেবরা ক্রিয়েটিভ ডারউইনিজম সম্পর্কে বলতেন, “জীবের জীবনকালে অর্জিত বৈশিষ্ট্য এবং এর অভিষ্ট লক্ষ জিনের মতোই শক্তভাবে বংশানুক্রমিক হয়। যা আর অভিযোজন বা পরিবেশের প্রভাবে পরিবর্তিত হয় না।”

  6. রণদীপম বসু ফেব্রুয়ারী 28, 2012 at 9:34 অপরাহ্ন - Reply

    অভিজিৎ রায় সাগ্রহে তাকিয়ে আছেন লিসেঙ্কোতে লেখক অনন্ত বিজয়ের অটোগ্রাফের দিকে…

    [img]http://inlinethumb31.webshots.com/48862/2441246420106997511S500x500Q85.jpg[/img]

  7. রূপম (ধ্রুব) ফেব্রুয়ারী 28, 2012 at 6:50 অপরাহ্ন - Reply

    সংশ্লেষিত ডারউইনবাদ বিজ্ঞানের স্বীকৃতি পেয়েছে অনেকদিন কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশেই, আজও নির্বিশেষ সামাজিক স্বীকৃতি পায় নি।

    একটু বিস্তারিত বললে ভালো হয়। সংশ্লেষিত ডারউইনবাদের ইংরেজি কী?

    • অনন্ত বিজয় দাশ ফেব্রুয়ারী 29, 2012 at 12:19 অপরাহ্ন - Reply

      @রূপম (ধ্রুব),

      দ্বিজেন স্যার সংশ্লেষিত ডারউইনবাদ বলতে Modern evolutionary synthesis-কে বুঝিয়েছেন।

    • অনন্ত বিজয় দাশ ফেব্রুয়ারী 29, 2012 at 12:28 অপরাহ্ন - Reply

      @রূপম (ধ্রুব),

      বিবর্তন নিয়ে যে আমেরিকায় এখনো খ্রিস্টানগ্রুপগুলার সুড়সুড়ানি চলছে সেটার কথাই বলছেন দ্বিজেন স্যার।

  8. রূপম (ধ্রুব) ফেব্রুয়ারী 28, 2012 at 6:43 অপরাহ্ন - Reply

    (Y)

    বেশ আগ্রহোদ্দীপক।

    ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তির সঙ্গে ভাবাদর্শে দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে গেছে। জিন-স্থানান্তরণ, বংশগতি রূপান্তরে উৎপন্ন ফসল (জিএম), স্টেম-কোষ গবেষণা ব্যাপক প্রতিবোধের সম্মুখীন হয়েছে এবং কিছু গবেষণা অনেক দেশে বন্ধ হয়ে গেছে। সুতরাং সমাজতান্ত্রিক রুশ দেশে ‘লিসেঙ্কো যুগ’ কোনো ব্যতিক্রম নয়।

    এগুলোর সাথে কি লিসেঙ্কো যুগের মৌলিক পার্থক্য আছে না? অন্যান্য প্রতিরোধগুলো কতোটা অপবৈজ্ঞানিক কারণে যতোটা লিসেঙ্কো যুগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিলো?

    কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে মুক্তবুদ্ধির চর্চা একটা oxymoron।

    • অনন্ত বিজয় দাশ ফেব্রুয়ারী 29, 2012 at 12:38 অপরাহ্ন - Reply

      @রূপম (ধ্রুব),

      অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। (F)
      বিজ্ঞানের রাজনীতিকরণের উদাহরণ হিসেবে মোটা দাগে দেখলে হয়তো উপরের ঘটনাবলীর মধ্যে কিছুটা মিল পাওয়া যাবে। যেমন বিজ্ঞানকে রাজনৈতিক মতাদর্শ বাস্তবায়নের জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যবহার করা, বিজ্ঞানকে নিয়ন্থ্রণ বা খবরদারির চেষ্টা করা ইত্যাদি। কিন্তু আবার লিসেঙ্কোযুগের সাথে এই জিএম ফুড বা স্টেমসেল ডিবেটের অবশ্যই মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। লিসেঙ্কোযুগে বিজ্ঞানকে শুধু অপবিজ্ঞান দিয়েই ঠেস দেয়া হয় নি, বরং লিসেঙ্কোবাদীরা বিজ্ঞানের পদ্ধতিগত পরিবর্তন করতে ফেলতে চেয়েছিল। গবেষণাপদ্ধতি পর্যন্ত পাল্টে দিতে চেয়েছিল। এজন্য তাদের স্বঘোষিত মাণদণ্ড ছিল দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ। লিসেঙ্কোবাদীরা বিজ্ঞানের এমন একটা কাঠামো তৈরি করতে চেয়েছিলেন, যেখানে বলা হচ্ছিল, দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদী ধারণার সঙ্গে বিজ্ঞানের যেসব আবিষ্কার বা ফলাফল মিলবে না, সেগুলো বিজ্ঞান হতে পারবে না! এমন কি বিজ্ঞানের পরিভাষাগত পরিবর্তনও তারা করে ফেলতে চেয়েছিলেন!

মন্তব্য করুন