এই শিরোনামে ইতিমধ্যেই একটি লেখা পোস্ট হয়েছিল। ফিরে আসার কথা ছিলনা। কিন্তু যার গল্প তা তার নিজেরই লেখা উচিত।

প্রথম গুলিটা ডান কাধ আর গলার মাঝখানে, ওইখানে মাথা রেখে মাথা রেখে যখন ঘুমাতে, তা ছিল ভয়ে। পরের গুলিটা ডান হাতে তালুতে, জোর জবরদস্তি করে খাওয়াতাম যে তোমাকে এই হাত দিয়ে। তিনটা করে দু’পায়ে, ঘন্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেছি, মাইলের পর মাইল হেটেছি, শুধু একবার দেখব বলে। অন্তত একটা গুলি আমার পেটে, অন্তত একটা। নিজে না খেয়ে তোমাকে খাওয়ানোর মূল্য নিতে হবে না! একটা গুলি তো আমার কিডনি প্রাপ্য, কেনো জানো না? শেষ গুলিটা আমার বুকে। হাতে পিস্তল আর ১০টা গুলি নিয়ে ছেলেটা এমনই ভাবছিল যখন মোবাইল ফোনটা কেপে উঠল। রাত সাড়ে চারটায় বাসার নাম্বার থেকে ফোন, যে কারনে এতগুলো দিন গুলি গোনা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি, তা থেকে কি অবশেষে মুক্তি আসল? মুক্তির চরম উন্মাদনায় কাপা কাপা হাতে ফোনটা, “maa cant breath, taking to square, পারলে শেষবারের মতন চেহারাটা দেখিয়ে যা, মানুষটাকে শান্তি মতন মরতে দে।” অনেকটা গরু মেরে জুতা দানের মত কিছুটা পথ এগিয়ে শুনে, “ওইখানে রাখতে চাচ্ছে না, going to labaid…”

এম্বুলেন্স থেকে স্ট্রেচারে করে নামানো মানুষটাকে কেমন যেন চেনা চেনা লাগছে ছেলেটার। নিঃশ্বাস নিতে না পেরে ধবধবে সাদা হয়ে যাওয়া ছোট্ট মুখটা, কি পরিমান শান্ত অথচ চোখদুটোতে কষ্টের বন্যা।

কিছু একটা ঠিক নেই, না আসলেই না। ছেলেটা তো তার শেষ বাধা নিশ্চিত করতে এসেছে, তবে ওর চোখে পানি কেন? সারাদিন CCU এর বাইরে দাঁড়িয়ে কেন! দুপুরবেলা হটাৎ দেখা যায় সে তার মার বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে, “হসপিটালের খাবার খেতে ভালো লাগেনা বাবা, বারগার খেতে মন চাচ্ছে।” উদ্ভ্রান্তের মতন সাড়াটা বিকেল রাস্তায় রাস্তায় হাটছে ছেলেটা, “বারগার!! নিজের হাতে কত খাইয়েছি তোমাকে, নিজে না খেয়ে, রাত জেগে কাজ করা কামানো টাকায়। অথচ আজ আমার মা খেতে পারছেনা….” রাতে ফিরে দেখে বোনদের একসাথে জড় হয়ে বসে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলা, জোর করে হাসাহাসি করা, কিন্তু কোনোভাবেই যে লুকাতে পারছেনা মনের ভিতরের ভয়গুলোকে।

গভীর রাত, বন্ধ দরজার একপাশে মা আর অন্যপাশে শুধুই ছেলেটা। ঝরঝর করে পরা পানি আজ যেন আর থামতে চায়না। মজার ব্যাপার জানো? মার জন্য না, কাঁদছি তোমার কথা ভেবে। তোমার সামান্য একটু প্রয়োজনে ১০০ মাইল পাড়ি দিতাম আমি অনায়েসে। অথচ আজ তুমি আমার এক মাইলের মধ্যে, তবুও ডাকতে পারিনা, আমি বলতে পারিনা “বাবু, আমি আমার মাকে প্রায় মেরে ফেলেছি আজকে, আমাকে একটু দেখার শাস্তি হিসেবে হয়ত আজ জীবনটাই দিয়ে দিবে। আমার সাথে যা যা হয়েছে, হচ্ছে, হুবহু তাই করেছি আমি আরেকজনের সাথে। ভালোবাসার বাধনে অসহায় একটা মানুষের কাছে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করে আমি পালিয়েছি।” চিৎকার করে কাদতে কাদতে ঞ্জান হারানোর আগে ছেলেটার মনে পরে দমবন্ধ করা কান্নার শব্দ, আমাকে ছেড়ে যেওনা, তুমি চলে গেলে আমি বাচবনা… তুমি যেওনা, থাকো আমার পাশে, আমার লাগবে তোমাকে…… আমাকে মুক্তি দাও…………….

স্বপ্ন

আমি তোমার সাথে আর যোগাযোগ রাখতে পারব না। তুমি আমার কাছে কোনোদিনও আসবেনা, কোনোদিনও না, নিয়ম ভাঙ্গার মেয়ে তুমি নও। Let it stop here.
এমনটাই হয়ত ছিল সেই রাতে আমার পাঠানো ম্যাসেজটা কথা, মনে আছে তোমার? আমি চেয়েছিলাম সরে যেতে, অন্তত যখন সময় ছিল। তারপর হেচকি তুলে সেকি কান্না তোমার আমার কাছে। কোন কথা ছিলনা তোমার মুখে কান্না ছাড়া। “তোমাকে ছাড়া আমার হবেনা, হবে না।”- অস্বীকার করতে পারবে তুমি যে কান্নার পেছনে হুবহু ঠিক এই কথাটাই বলনি?

তুমি কোনদিনও আমার কাছে আসবেনা, এমনকি চিন্তাও করবেনা, আবার আমাকে ছেড়েও দিবেনা। আমাকেই একসময় ছাড়তে হবে তোমাকে, নিজেকে ধবংস করে। মনে মনে নিজেকে এই কথা বলে আমি যাইনি সেই রাতে তোমাকে ছেড়ে। আমাকে কান্না শুনিয়ে, আমার আদর নিয়ে ঘুমানো তুমি কি ছিলে সেই রাতে আমার সাথে যখন আমি আমার অনাগত কষ্টগুলোর কথা ভেবে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে পশুর মতন চিৎকার করে কাদছিলাম ঘন্টার পর ঘন্টা, ভোরের আলো ফুটবার পরেও? আমি শুনাইনি আমার চিৎকার, তোমাকে রাখিনি আমার কষ্টের পাশে।
আমার যত কষ্টই হউক, আমি বেচে থাকব তোমাকে ছাড়া, তুমি তোমার ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে সুখী থাকো, বারবার বলিনি তোমাকে? অস্বীকার করতে পারো? তারপরেও তুমি আমাকে ডেকেছো, আমার কাছে এসেছ, হাতে হাত রেখে নদীর ধারে হেটেছ, আমাতে একান্ত হয়েছ। এই বাতাস, এই প্রকৃতির সবকিছুকে সাক্ষী রেখে নিজেকে তোমার অংশ মেনেছিলাম, নিজেকে তোমার হাতে সপেছিলাম, গালে হাত বুলিয়ে আদর করেছিলাম। সেদিন প্রথম নিজের হাতে তোমার মুখ ধুইয়ে দিয়েছিলাম, খাইয়ে দিয়েছিলাম আমি।

বাস্তবতা
হঠাৎ কি হল! আমি সব কিছু থেকে কেউ না হয়ে গেলাম। ভালোবাসা এতই সস্তা, দুদিন আগে যে আরে ফোন করবেনা শুনে দম বন্ধ হয়ে যায় এখন সে নর্দমার কীট। “has a stalker in life” এমনটাই বলেছিলে তোমার বন্ধুদের কাছে, মনে আছে? ছেড়ে যেতে চাইনি, অনেক জোর করেছি, অনেক কাদিয়েছি, কিন্তু চলে গিয়েছিলাম । তোমার মনে আছে?

কে জানে এর পরের কথা? কাদতে কাদতে নিজের থেকে আমার বুকে আসা, জন্মদিনের দিন সবার আগে আমাকে খোজা, তোমার মনে আছে? সারাদিন তার খেয়াল রাখি আমি, কেউ জানেনা, কেউ জানবেও না যদি না আমি না জানাই। কেউ তো জানেনি! তুমি কি ভুলে গেছো কেমন করে সারাটা দিন আমার সাথে ফোনে কাটিয়ে প্রতি রাতে উধাও হয়ে যেতে আমাকে অবাস্তব কালো অন্ধকারে রেখে? সকালে এই আমি তোমাকে ঘুম থেকে উঠাতাম, মনে আছে তোমার? “তুমি যেওনা, লুকিয়ে থাকো আমার সাথে, তুমি পুরোটাই আমার কিন্তু আমার ছায়াও তোমার না। আমি তোমাকে চিনিনা, তুমি আমার মূখ্য কেউ নও, কখনোই না। আমার যখন দরকার হবে, যতক্ষন দরকার হবে, ততক্ষন তোমাকে আমার পাশে থাকতে হবে, কিন্তু তোমার প্রয়োজনে আমাকে কখনোই ডাকতে পারবেনা। তুমি আমার দশ গজের মধ্যে থাকলেও আমি আমার ভালোবাসার কাছেই যাব। কিন্তু আমি ডাকলে আমার কাছে আসতেই হবে।” তোমার এমন আবদার আমি স্বেচ্ছায় ঠিকই মেনে নিয়েছিলাম। ভালোবাসলে দায়িত্ব নিতে হয়। আমি তোমার দায়িত্ব ঠিকই নিয়েছিলাম। রোজ সকালে তোমাকে পত্রিকা কে কিনে দিয়ে যেত তোমার মনে আছে?

বাধ্য ছিলাম তোমার খেয়াল রাখতে, তা হউক সেটা চোরের মতন তোমার পাশের থেকেই। যে মাজা আমার জন্য কিছুটা হলেও ভেঙ্গেছে তার সম্পুর্ন দায় আমি নিয়েছিলাম, আমি পালাইনি। দিনের পর দিন তোমার নিষ্ঠুর, হিংস্র আচরনগুলো সহ্য করেছি দাতে দাত চেপে। তুমি একটু শক্ত হলে, নিজের পায়ে দাড়ালে, নিজের দায়িত্ব নিজে নিতে পারলেই আমার দায়িত্ব শেষ। এমন নয় যে আমি পালানোর চেষ্টা করিনি, একটানা একশ রাত ঠিকমতন ঘুমাতে পারিনি আমি যন্ত্রনায়। ঘুমাবার আগে একটু গলার আওয়াজ শুনতে চাইতাম, পেতামনা। তোমার ভালোবাসা সারাদিনে প্রথম তোমার খবর নিচ্ছে, তখনকি আর খেলনা দিয়ে পোষাবে! পালানোর চেষ্টা আমি ঠিকই করেছিলাম একবার যখন গভীর রাতে অসহ্য যন্ত্রনায় ঘুম ভেঙ্গে মুড়ির মতন ঘুমের ওষুধ খেতে শুরু করেছিলাম। শেষ করতে পারিনি, তোমাকে একা রেখে পালাতে পারিনি সেই রাতে। গলায় আঙ্গুল দিয়ে বমি করেছি। যে মানুষ বেকার তোমার ব্যাগ থেকে নির্দীধায় সব টাকা নিয়ে যেতে পারে তার হাতে কিভাবে ছেড়ে যাই তোমায়!

অস্বীকার করবনা যে প্রথম প্রথম অভিযোগ করিনি, কিন্তু একসময়ে চুপ হয়ে যাই। মেনে নেই যে তোমার জীবনের শূন্যস্থান পূরন করা ছাড়া আমার আর কোন অস্ত্বিত্ব নেই। তো কি হয়েছে এমন কোন ফাকা জায়গা থাকার কথা না কারন তোমার একজন আছে।তো কি হয়েছে যে হিসেব করতে গেলে কোথাও কিছুই ভরেনি, যা ছিল তা শুধুই আমি!
জীবনের প্রথম পহেলা ফাল্গুন, আমি তোমাকে একটাবার দেখতেও পারবনা। বরাবরার মতনই সকাল থেকে তোমার পাশে এবং অবশ্যই ফোনে। কতবার আমাকে তোমার ফোন করা, ” কতক্ষনে পৌছাবো?, ইন্টারভিও ছুটে যাবে নাতো?” কখনও তোমাকে একা না ছাড়া অসহায় অসহায় আমি নিজের ক্যাম্পাস। বোর্ডে অংক চলে আর আমি মাথা চুলকাই, কখন ক্লাশ শেষ হবে! ওকে বাসায় দিয়ে আসতে হবে, বিকেলে অনেক ট্রাফিক জ্যাম হয় রাস্তায়, আমি অন্তত মুখটাতো মুছে দিতে পারব! বিকেল চারটা থেকে দাঁড়ানো আমি রাস্তায়। হয়ত এখনই ফোন আসবে, হয়ত পরিচিত মানুষদের সাথে আছে, দেরী হতেই পারে। পাচটা, ছয়টা, সাতটা, সাড়ে সাতটা, আটটা বাজল একসময়। ওই অফিসের আসে পাশের এমম কোন ফুটপাথ বাদ ছিলনা যেখানে আমার চোখের পানি পরেনি, তাও ফোন আসেনা, আর আমিতো ফোন করতেই পারিনা, আমিতো সিক্রেট। ঠিক আছে কিনা মানুষটা, কোন বিপদে পড়ল কিনা জানার কোন উপায় নেই আমার। এমনকি অফিসটার সামনেও যেতে পারিনি সেইদিন। বহু প্রতিক্ষিত ফোন, না না, ম্যাসেজ আসে মোবাইলে রাত নয়টায়, “নাহ, এইখানে মনে হয় হবে না, সব লিঙ্ক এর ছড়াছড়ি!” পাচ ঘন্টা দু’পায়ের উপড় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা আমি তাতেই খুশি ছিলাম, নাহ, সে ঠিক আছে। না থাকার কি কোন কারন থাকতে পারে! চাকরীজীবি প্রেমিকা, চাকরীজীবি প্রেমিককে নিজের টাকায় রিক্সা করে বইমেলা নিয়ে গিয়ে ইচ্ছে মতন আনন্দ করে যাবার সময়ে পকেটে গাড়ি ভাড়া দিতে পেরেছে যে। আমাকে একটা টেক্সট করলে কি হত তোমার? আমি কি জানি না যা তোমার মানুষ আসবে! আমাকে রক্তের কান্না কাদানোর এতই নেশা!!!

ভালোবাসার নাকি বিশেষ দিবস আছে, ২রা ফাল্গুন, ১৪ই ফেব্রুয়ারী, হায়, আমি কি ভুলিতে পারি! ইচ্ছে ছিল তোমার অফিসের সিড়িগুলো গোলাপের পাপড়ি দিয়ে ভড়িয়ে দিব, তুমি হেটে আসবে আমার কাছে। কিন্তু এটাতো স্বপ্নাধ্যায় নয়, বাস্তবতা। বাস্তবে আমি চরম গোপনীয়তা। নির্ল্লজ্জের মতন ১০১টা গোলাপ নিয়ে রাস্তার এই পাড়ে দাঁড়িয়ে দেখেছি অন্য পাড়ে খালি হাতে তোমায় আরেকজনের সাথে হেটে যাওয়া।

চরম সন্তুষ্ট নারী সন্ধারাতে কেনো কাদে আমার কাছে ফোনে? যা চাও তা দেই আমি, শুধুই আমি, খুজো আরেকজনের কাছে। পাও না, দুঃখ দেখানোর জায়গায়তো আমি আছিই… হায়রে বাস্তবতা…..

মাঝরাতে আসে তার সেই বিখ্যাত টেক্সট ম্যাসেজ,” আমার দু’দুটা জলজ্যান্ত ভ্যালেনটাইন, না দিল কেউ লাল গোলাপ, না কেউ দিল চকলেট, how hilarious!” ঘৃনায় সাড়া শরীর শিরশির করে উঠেছিল সেই রাতে, কিন্তু আমি রাগ করতে পারিনি, তবে ভেবেছিলাম গভীরভাবে। আমার দায়িত্ব শেষ, যদি নাও হয়ে থাকে তারপরেও আর তোমার পাশে থাকা সম্ভব নয়। আমার অস্তিত্ব তোমার ভেতরের নোংরামি টেনে টেনে বের করছে। হয়ত একদিন সবার সামনে জোর গলায় বলে বসবে, “I have a boy toy”। তোমার ভবিষ্যত নিয়ে কোনরকম ছাড় দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাছাড়া সামনে একটা পরীক্ষা আছে তোমার। বুকে পাথর বাধলাম সেই রাতে…
পরদিনের সুন্দর একটা সকাল। পাচটা লাল গোলাপ তোমার হাতে দিয়ে বিদায় জানালাম। আমি বাধ্য হলাম….

মৃত্যু
আমার অনেক যন্ত্রনাই ছিলনা এখন। সকাল ছ’টায় ঘুম থেকে উঠতে হবে জেনেও আর কারো জন্য রাত দু’টা তিনটা নাগাদ জেগে থাকতে হবেনা। আর লুকিয়ে লুকিয়ে নিজেকে বিক্রি করে কাওকে দেখতে যেতে হবেনা। যাকে বউ মানি তাকে আর রাতের পর রাত কোলে করে আরেকজনের বিছানায় তুলে দিয়ে আসতে হবেনা। যুক্তি বিবেচনায় আমিতো মুক্ত ছিলাম। কিন্তু কোথায় যেন একটা সমস্যা ছিল! আমি ঠিক আগের মতনই প্রতিটা মুহূর্ত তোমার কথা ভাবতাম, প্রতিটা মুহূর্ত, প্রত্যেকটা মুহূর্ত। লুকিয়ে ছিলাম, কোন অধিকার ছিলো না, তারপরেও তো আমি তোমার খেয়াল রাখতে পারতাম! তুমিতো আমার কোলের বাবু, তোমাকে আদর না করে আমি থাকব কিভাবে? প্রতিরাতে চিৎকার করে কেদেছি যখন তোমার পাশে ছিলাম না এবং তখনো আমি ঘুমাতে পারিনি। ঘন্টা দিন হয়, দিন গড়িয়ে সপ্তাহ। উদ্ভ্রান্তের মতন আচরন শুরু হয় আমার, রাতের পর রাত জাগি, দেয়ালে মাথা ঠুকি। দেড় মাসের মাথায় কোন এক রাতে সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়।
আটতলার বারান্দায় পা ঝুলিয়ে লাফ না দিয়ে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটা করে বসে ছেলেটা। ও মেয়েটাকে ফোন করে…..

ভাবখানা এমন ছিল যে তুমি আসবে আমার কাছে, মরে যাওয়া বাচার ইচ্ছেটা যেন উড়ে আসতে চায়। কিন্তু গোপন আমি গোপনই থাকি বরাবরের মতন। তো কি! আমি তোমাকে এখন দেখতে পারি। তুমি দুপুরে না খেয়ে থেকে বেতনের টাকা তোমার থেকে বেশি কামাইওয়ালার পিছনে খরচ করতে আর আমি সুযোগ পেলেই আনার নিজের পাতের খাবার তোমার অফিসে দিয়ে যেতাম। আমার কোন কষ্ট হোত না, তোমাকে দুপুরে খাওয়ানোর জন্য মাঝে মাঝে প্রচন্ড গরমে হেটে আসতাম। সামনে বসিয়ে খাওয়াতে পারছি, এর জন্য মাইলের পর মাইল হাটা মঞ্জুর আমার। যেদিন শুনেছি তোমার বিছানা ফ্যান থেকে অনেক দূরে, সেদিন থেকে আরে আমার ঘরের ফ্যান চলেনি। যখন শুনেছিলাম বিছানাটা ছোট, ঘুমাতে কষ্ট হয় তোমার, আর ঘুমাইনি নিজের বিছানাতে। তোমাকে না খাইয়ে এক গ্লাস পানি ও খাইনি আমি দিনের কোন সময়ে। এমনই আমি, আমার সবকিছুর আগে তুমি, তোমার সব হিংস্র ব্যাবহারের পরেও…

আরে, সামনে তো পহেলা বৈশাখ, আমি শাড়ি কিনব তোমার জন্য! আমার প্রথম কেনা শাড়ি, আমাদের কেনা প্রথম শাড়ি। যেকোন কারনেই হউক টাকা ছিলনা আমার কাছে। টানা সতের দিন সারাদিন বাইরে না খেয়ে থেকে শুধু রাতে বাসায় খেয়ে জমানো টাকায় আহামরি না হলেও একটা শাড়ি আমি কিনতে পেরেছিলাম, তোমার জন্য, আমাদের জন্য। প্রতিদানটাও চমৎকার ছিল। যাদিন শাড়িটা প্রথম পরলে আমাকে না জানিয়ে, সকালে এসে দেখি তোমাকে। কপালের বাকা টিপ ঠিক করার সময় যে অদ্ভুত সুখের ছোয়া পাচ্ছিলাম তার কি আদৌ তুলনা আছে! ঠিক তারপরই তোমার আসল চেহারা, “তুমি আজকে বিকেলে এসোনা।” আবাক হবার মতন মানসিক শক্তিও ছিলনা তখন। আমাদের কেনা শাড়ি পরে আরেকজনের সাথে ঘুরবে তুমি! আরে চুলে লাগানো গোলাপটাও তো আমার লাগিয়ে দেয়া।
সেই বিকেলে কিন্তু আমি আসিনি, মনে আছে তোমার?
আমার থেকে দূরে থাকার কারন পাচ্ছিলেনা খুজে। একদিন বলে বসলে যে আমি পরিপক্ক নই, তোমাকে আরো ভাবতে হবে। আমার চোখের দিকে তাকিয়ে সেদিন যখন আসতে বারন করেছিলে তখন তোমার গা থেকে শাড়িটা টেনা ছিড়ে ফেলিনি, এটাতো অপরিপক্কতার বিশাল প্রমান। যে আমার সব, তার সাথে লুকিয়ে লুকিয়ে থাকাতো ম্যাচিউর আচরন নয়। How can a boy toy be mature, isn’t it!

কেন জোড় করবনা আমার কাছে আসার জন্য? একদিন, দুইদিন করেতো কম সময় নাওনি আমার কাছ থেকে, মনে আছে তোমার? কাছেও আসোনা, দুরেও থাকতে পারিনা, অসহায়ত্বের সে কি শোষন!

প্রচন্ড মারামারির পর একদিন বললে,”আমি এসেছি।” জানি মিথ্যা বলছ, তাও মেনেছি। তারপরের কয়েকটা দিন সে কি তোমার অবহেলা! ছাতা মার্কা কি এক পরীক্ষায় পাশ করেছ তোমার আত্নস্মমান এখন ছাদের উপর। তুমি কি ভুলে গেছো এই পরীক্ষার জন্য তোমাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত কে করেছে? তোমার উপড় রাগ করা যাবেনা, কোন ভুল হলে ঠিক করে দেয়া যাবেনা, কিচ্ছু বলা যাবেনা। তোমার মনে আছে একদিন মিথ্যা বলে ধরা খেয়ে আমার যা তা শুনেছিলে? মিথ্যা বলেছ তুমি, আর আমি ১০০ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে রাত্রি দুটার সময় তোমার বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে তোমার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলাম, মনে পরে তোমার? শুনলে হয়ত ভয় পাবে, তোমার বলা প্রতিটা মিথ্যা আমি ধরতে পেতাম, প্রত্যেকটা। সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে আনেক দূরে চলে গিয়েছিল, তাও কিচ্ছু বলতাম না। তোমার সব দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলাম, মিথ্যাগুলোকেও তোমার অংশ হিসাবে মেনে নিয়েছিয়াম। একটাই শর্ত আমার, মিথ্যা বলা যাবেনা, কক্ষনো না। অথচ দিনের পর দিন আমি অসম্ভব করেছিলাম, মিথ্যা সহ্য করতাম। আমাকে কোনোদিন ও ভালবাসোনি।

নোংরা অবহেলা আর বিভৎস ব্যবহারের দিন চলছে। ভাবখানা এমন যে আমার থাকা না থাকায় কিছুই যায় আসেনা। দু’ সপ্তাহও হয়নি যে মানুষ মিথ্যা বলে ধরা খেয়ে আমার পা ধরে মাফ চেয়েছে এখন আমি তার কিছুই না। প্রানহীনের মতন পথ চলছিলাম, পকেটের টাকা শেষ। তোমার জন্য কিছু জিনিস কিনতে পারলে ভালো লাগতো। কিচ্ছু ভালো লাগছিলো না। পরিস্কার দেখতে পাচ্ছিলাম তোমার পরিকল্পনা, অবহেলা করতে থাকব, নিজের থেকেই চলে যাবে।মুখ ফুটে কেনো বলোনা যে ছেড়ে চলে যেতে? এতো নোংরা পলিসির কি দরকার! প্রচন্ড ক্ষুধা পেটে মনে হল তোমাকে হয়ত আর কিছু খাওয়াতে পারবনা, তাছাড়া ওখানকার খাবার খেতে তোমার কষ্ট হয়। হয়ত আর সুযোগ পাবো না, আর কিছু ভাবিনি তারপর। ঘন্টা দেড়েকের মধ্যে তোমার অতি পছন্দের বারগার, কয়েকটা বই, পত্রিকা আর একঝাক গোলাপ পৌছে যায় তোমার হাতে। বেশি না, মাত্র দু’ ব্যাগ রক্ত বিক্রি করেছিলাম সেই সন্ধায়।বাসায় হেটে গিয়েছিলাম কারন ফুলগুলো ভাড়ার জন্য আলাদা করে রাখা টাকায় কেনা।

তারপর আসে সেই মহান দিবস। সারাদিন কোন খবর নেই। দুপুরে ফোন করলে তোমার প্রশ্ন, “কোই তুমি?” বনবন করে মাথা ঘুরছিল জানো? তোমার এই ভঙ্গিতে কোই তুমি বলাটা অসম্ভব পরিচিত। আমার মানুষটা আসবে একটু পরে, আমাকে ফোন করবেনা তখন- মানেটা এমনই ছিল। বুঝতে পারছিলাম না কি করব। নিজে না খেয়ে, নিজের মাকে না খাইয়ে যাকে খাইয়ছি, যার কপালের ঘাম নাকে আসার আগে মুছে দিয়েছি পুরোটা সময়, যার বাবার অপারেশনের সময় তার কোন আত্নীয় ছিলনা তার পাশে আমি ছাড়া, যার জন্য নিজের অস্তিত্বকে বিক্রি করে দিয়েছি আমি, সে এমন নোংরা ব্যাবহার করল আমার সাথে? মাতালের মতন হাটতে হাটতে তোমার খুব কাছে যাই সেদিন বিকেল বেলা। জানি তুমি কোথায়, কার সাথে, তাও একটাবার, অন্তত একটাবার নিজেকে ভুল প্রমান করার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় ফোন করলাম, কোন সাড়া নেই। পনের মিনিট পরে আবার করলাম। টেক্সট আসে, “আমি বাইরে।”
নিজের উপড় প্রচন্ড ঘৃনায় একটা সময় চোখ দিয়ে পানি পড়া শুরু করে। আমার কোন কিছু কেন ভুল হয়না! তোমার ব্যাপারে যা যা বলেছিলাম তোমাকে তার প্রত্যেকটা ঠিক হয়েছে, হচ্ছে। বলেছিলাম তুমি আমাকে কোনদিনও ছাড়বেনা, আমাকেই, আমাকেই ছাড়তে হবে তোমায়। এমন সময়ে একটা ফোন আসে, “তোদের সম্পর্কটা কি আর আছে?” উত্তরে বললাম, “জানি না রে!” সাতদিন আগে রাত দশটায় যে তোমাকে আর আমাকে একসাথে বেড়াতে দেখেছে, সে যখন সেই তোমাকে আরেকজনের সাথে দেখে তখন অনেকটা বাধ্য হয়েই ফোন করেছিল আমাকে।

এখন আমার সিদ্ধান্ত নেবার পালা। যথেষ্ট শক্ত হয়ে গেছ তুমি, আমাকে আর তোমার খেয়াল না রাখলেও চলবে। আবার নোংরামি শুরু করেছ যা আমি আর হতে দিতে পারিনা। সবচেয়ে বর কথা সেই ছাতা মার্কা পরীক্ষা আবার আসছে। আগেরবারের মতন এইবারও আমাকে সরে যেতে হবে। তবে এইবার এমনভাবে সরতে হবে যাতে তুমিও আমাকে আর না ডাকত পারো আর আমি ডাকলেও যাতে সাড়া না দাও। তীব্র ঘৃনা তৈরি করতে হবে তোমার মনে আমার জন্য। খুব সহজ কিছু কাজ করতে হবে তার জন্য। ধুকে ধুকে মরার থেকে একবারে মরি। আগে তোমার থেকে দূরে যাই, তারপর চিরতরে হারিয়ে যাবো। শেষবারের মতন শুকনো চোখে আকাশটাকে দেখি কিছুক্ষন। তারপর ফোন করলাম তোমাকে….. আমি জানি তুমি কি, তার থেকেও বড় কথা আমি জানি তোমার পাশে বসা মানুষটার চিন্তাধারা। তুমি ওর কাছ থেকে কিছুই পাওনি শুনে যে মানুষ তোমাকে একটা শাড়ি কিনে দিয়ে পাচদিনের মাথায় ইনিয়ে বিনিয়ে কথা বলে দামটা তোমার থেকে নিয়ে নেয়, সে কি ভাবতে পারে আর কি কথাকে কি বানাতে পারে তা খুব ভাল করেই বুঝি আমি।

পুরো একটা রাত, সেই রাতে বুকে ব্যাথা নিয়ে ফুটপাথে পরেছিলাম। সামনে দুট ছিনতাই হল অথচ আমাকে কিছুই করলনা! গালাগালি করে চটানোর চেষ্টা করলাম, ফিরেও তাকায়নি। মারামারি করতাম, ছুরি চালিয়ে মেরে ফেলত, বেচে যেতেম। কিন্তু উঠে দাড়ানোর মতন শক্তিও ছিলনা। তারপরেও আমার ঘৃনা বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছেই ফোনে…

পরদিন সকালে খুব সুন্দর প্রমান পেয়েছিলাম যা আমার পরিকল্পনা মতন কাজ হচ্ছে। রাস্তায় পরে আছি যেনে ফোনে শুধু দুইবার তুমি কোথায়, তুমি কোথায়, এরপর ধ্যাৎ বলে ফোন রেখে দিয়েছিলে, তখন সারারাত শ্বাসকষ্টে ভোগা আমার মুখে ছোট্ট একটা হাসি, আমি মরে গেলে তার আর কিছুই হবেনা। আর কিছুটা কাজের পরেই আমি মুক্তি পাব।
পরের কটাদিন তোমার ঘৃনা পাবার জন্য সম্ভাব্য যা যা করার, সব করেছি। তারপর কোন এক রাতে শেষ বারের মতন একট আওয়াজ শুনা। ফোনে চিৎকার করে কাদতে কাদতে জানতে চাওয়া আমার, কিভাবে আমি এতো সস্তা তোমার কাছে? উত্তরে বললে,”তুমি সস্তা করলে আমার কি করার, ফোন রাখব এখন আমি।”

আরে তাইতো! যাকে বউ মানি, সে যখন আরেকজনের গায়ের গন্ধ নিয়ে আমার কাছে আসত তখন লাথি না মেরে দু’ হাত বাড়িয়ে দিতাম বুকে আসার জন্য, সস্তাই তো করেছি। যতক্ষন একসাথে থাকতাম, তোমার পকেট থেকে একটা পয়সা খরচ হতে দিতামনা। নিজে রাস্তার ছাপড়া হোটেলে খেতাম আর যখন তখন তোমার মুখের সামনে দেড়শ টাকার বারগার রাখতাম, এটা কি সস্তা নয়? শীতের প্রতি বিকেলে মায়ে কাছ থেকে টাকা নিয়ে তোমাকে ভাপা পিঠা খাইয়ে যেতাম, আর বাসায় গেলে শুনতাম, “কিরে বাবা, পিঠা আনলিনা?” পাত্তা দিতাম না, কাজের কাজ করে এসেছি। এটা কি সস্তা নয়!! রাত জেগে থাকতাম, তুমি ভালোবাসা শেষে আমাকে খুজবে, জবাব দিব, এটাতো অবশ্যই সস্তা ব্যাপার। যখন তার সাথে থাকতে, কোনদিন ফোন করিনি। অথচ আমার বুকে মাথা রেখে তার সাথে কথা বলতে তখন কিছুই বলতাম না। এর থেকে সস্তার আর কি বা হতে পারে! ব্যাপারটা এমন ছিল যা রাতের পর রাত কোলে করে আরেকজনের বিছানায় উঠিয়ে দিয়ে আবার পরদিন সকালে হাশি মুখে আমার বুকে মুখ ঘসতে দিয়েছি। অবশ্যই সস্তা, অবশ্যই সস্তা, অবশ্যই, অবশ্যই…..

অত্যন্ত হাস্যকার ব্যাপার, যে পরিমান ঘুমের ওষুধ পেটে গিয়েছিলো তাতে একটা ঘোড়া মরে যাওয়াট খুব স্বাভাবিক, আমি মরিনি। দিনরাত পাগলের মতন ছটফট করেছি, ঘুমাতে পারতামনা। দশদিনের মাথায় আবার ব্যার্থ চেষ্টা। একদিন ২০ ঘন্টার ব্যবধানে ৪৫ মিলিগ্রাম মিডাজোলাম পেটে যাবার পর যখন দেখি ১৫ ঘণ্টার উপর চোখে ঘুম নেই তখন দৌড় দিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যাই।

পুরো চারটা মাস তোমার পাচশ গজের মধ্যে ছিলা, একবারও লুকিয়ে দেখতে আসিনি, একটা বারও না। কখনও তোমার প্রোফাইল চেক করিনি। যেদিন মুক্তি চেয়েছিলে সাথে সাথে ফোন থেকে তোমার সব ছবি মুছে ফেলেছিলাম। ছাদ থেকে লাফ দেয়ার সাহস নেই, মরার কোন ওষুধ ও পাইনা। একটা পিস্তল জোগাড় করার আশায় ঘুরছি। কত বার ফোন করে বাসা থেকে, ধরিনা। যা রাতে ফুটপাথে পরেছিলাম, আমার সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছিল। কোন টান নেই আজ কারো জন্য, অদ্ভুত হলেও সত্যি, অন্তরাত্না সেদিনই মরে গেছে। তারপরেও যখন মায়ের পাঠানো টেক্সট পরতাম, “আমার কাছে ফোন কর” কেন জানি চোখ দূটো ভিজে আসত। নিজের কষ্টগুলো আরেকজন পাচ্ছে ভেবে বুকটা ফেটে যেত, তাও ফোন করতাম না। আমি মিথ্যা সহ্য করতে পারিনা, মিথ্যা বলতে চাই না। নিজের মাকে মিথ্যা ভালোবাসা দেখাতে চাইনা। আস্তে আস্তে ফোন আসা কমতে থাকে, ছেলে বেছে তো আছে! সুস্থ মানুষটা বিছানায় পরল। বোনটা ফোন করে কাদতে কাদতে বলে, “জানি আমাদের জন্য তোর আর কোন টান নেই, কিন্তু মা আর বেশিদিন বাচবেনা। একটু দেখা করে যা, মিথ্যা করে হলেও কেমন আছে খবর নিয়ে যা।” তারপর কোন এক রাতে ফোন বাজল, “maa cant breath, taking ……..

এটা আমার সেই মা যা তোমার সাথে একদিন ফোনে কথা বলতে চেয়েছিল কিন্তু “you were busy with stuff”. আমি তোমাকে যতটা ভালোবাসি তার থেকে অনেক অনেক গুন বেশি ও আমাকে বাসে। দু’ দিন আগেও রাত তিনটায় টুকটুক করে চার তলা থেকে নেমে এসে আমার জন্য দরজা খুলে দিলো। আমাকে শুধু একবার দেখেছিল হাসপাতালে, তার আর কিছু লাগেনি। অবাক হইনা কারন তোমার বেলাতে আমার তাই হোত।

আজ আমিও মিথ্যা বাচি, মিথ্যা বলি। দায়িত্ববোধ থেকে বলি। অনুভুতি সব তো সেই কবেই উড়ে গেছে, শুধু অন্তত একটা বাচ্চার বাবা হব এই স্বপ্নে বেচে আছি। আজ আমার সাহস আছে ছাদ থেকে লাফ দেয়ার, গাড়ির নিচে ঝাপ দেয়ার। কিন্তু আমি করিনা। যে আমাকে কোনদিনও ভালোবাসেনি সে নেই বলে যদি মরে যাই তবে অবশ্যই তাকে অপমান করা হবে। আমি তোমার কিছুই না, তোমাকে অপমান করে আমি নিজেকে আর আমার মাকে ছোট করব না। আমার সাথে যা হয়েছে তা হুবহু আরেকজনের সাথে, আমার মায়ের সাথে আমি করতে পারবো না। আমার ভালোবাসার ক্ষমতা মায়ের কাছ থেকে পেয়েছি, ভালো নাই বাসলাম, কিন্তু অপমানও করব না। তোমার উপর আমার কোনো অভিযোগ নেই, থাকতে পারেনা। একটা বেশ্যার কোন অভিযোগ থাকতে পারে না। বেশ্যা যখন অধিকার চেয়ে বসে তখন লাথি খাবেই। আমি পালিয়ে যাবোনা। যা যা বলেছি সব হয়েছে, যা হওয়ার বাকি তার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে, কারনটা সময়ই বলে দিবে। আমি তোমার ব্যাপারে কোনোদিনই ভুল ছিলাম না, কক্ষনোনা। মিনির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়ে দেই। ও বেচারা আর আমার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। দয়া আমাদের কিছুটা সময় থাকতে দিয়েছ তোমার সাথে।

ধর্ষন হয় শরীরের, অস্তিত্বের। Stalker ও তো একটা ধর্ষক, সাজা তো পেতেই হবে…

ধর্ষনের শাস্তি ধর্ষন
প্রতিটা নিঃশ্বাসে
প্রতি মুহূর্তে, প্রতি বিশ্বাসে।
ধর্ষন দুধের প্রতি চুমুকে
প্রত্যেক ভাতের দানায়
ধর্ষন হয় অস্তিত্বের
চিৎকার করে কাদা
টেনে চুল ছিড়া
তাও ডাকিনা বাবি বলে।
ধর্ষনের শাস্তি ধর্ষন
প্রতিটা নিঃশ্বাসে।

সামান্য বড় আঙ্গুলের নখগুলি
গলা থেকে বুকে অসীম আচড়
ভাঙ্গেনা, ভাংতে পারবেনা,
ধর্ষনের শাস্তি যন্ত্রনা
প্রতি রাতে
দশ নখের আচড়ে
ঘুমের মাঝে দুঃস্বপ্ন
ছটফট করা, ঘুমাতে না পারা।
ধর্ষনের শাস্তি কাঁদা,
রক্তের রঙ্গে।
প্রতি রাতে প্রার্থনা
ঘুম যেন না ভাঙ্গে,
হয়না স্বপ্নপূরন
যা চাই তা পাবো না
যা চাইনা তার বন্যা।
ধর্ষন অস্তিত্বে
প্রতি নিঃশ্বাসে, প্রতি বিশ্বাসে।

গভীর রাতে গোঙ্গানি
গলায় ছুরির অসংখ পোচ।
ভোতা ছুরির ধার
গলাটা কাটেনা
গোঙ্গানি থামেনা
আমি মরিনা
অপমান করিনা
আমি পালাইনা
একটাবার ও ডাকিনা
যা চাই তা পাবো না
যা চাইনা তার বন্যা।
ধর্ষন অস্তিত্বে
প্রতি নিঃশ্বাসে, প্রতি বিশ্বাসে।

শুধু বাতাস আর বাতাস চারিদিকে, তারপরেও প্রচন্ড কষ্টের উপচে পড়া ব্যথা… মনে হচ্ছে পৃথিবীর সব বোঝা যেন শুধুই আমার বুকের উপর চেপে বসেছে। গভীর রাতের কোন এক সময়ে ঘুম জড়ানো চোখে বুকের উপর হাত বুলোতে প্রতি রাতের মতনই ডান কাধের নিচে গভীর ঘুমে হারিয়ে যাওয়া বাচ্চাটাকে খুজে পাওয়া… এত ব্যথার মাঝেও ঠোটের কোনে বাকা একটা হাসি নিয়ে ওকে দুহাতের মাঝখানে নিতে নিতে আবার ঘুমের রাজ্যে উথাল পাথাল ঢেউ।

ভোরের মিষ্টি আলোয় চোখ মেলতেই দেখি এলোমেলো হয়ে শুয়ে থাকা পিচ্চি একটা বাবু। অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকা এই অদ্ভুত সুন্দর জীবনের দিকে, তুমি, আমার পূর্নতা, বীভৎস নগ্ন এই পৃথিবীতে সৎ হয়ে স্বাধীনতার যুদ্ধের সৈনিক হবার প্রেরনা। নিজের স্বপ্নগুলোকে আরো গাড় করে ভাবার শক্তি তুমি, তোমার কপালে চুমি একে আমার দিন শুরু করা।
আস্তে করে বিছানা ছেড়ে উঠে একগ্লাস দুধ নিয়ে আবার ফিরে আসা, আমার কোলে মাথাটা উঠিয়ে গালে হাত বুলাতে বুলাতে আলতো করে ঘুম ভাঙানো, “ বাবুজান, ও আমার বাবুজান, উঠতে হবে যে এখন”। দুহাতে জড়িয়ে কোলে মাথা ঘষতে ঘষতে সে কি তার আকুতি!! “আরেকটু ঘুমাবো বাবি, অল্প একটু”। সুখের জ্বালায় অস্থির আমি কখন যে নিজের চোখ ভেজাই টেরই পাই না, কত গড়িমসি যে দুধটুকুন খেতে! অদ্ভুত এক তৃপ্তির লিলুয়া হাওয়া আমার চারিপাশে, গালে আদর করি চুলে হাত বুলাই, তাও ভাঙতে চায় না তার ঘুম।

বাস্তবতার যুদ্ধে আবার ও আদরের জয়, দিনের শুরুটা কোলে না নিলে কি চলে! মুখ ধুইয়ে দেয়া, গোসলের পর সারা গায়ে পাউডার ছড়িয়ে আদর করতে করতে কাপড় পড়িয়ে দেয়া। একটু খুনসুটি করে ছেড়ে দেই তোমাকে তোমার মতন নতূন একটা দিন কাটাতে….

স্বপ্নটা এতটাই সুন্দর ছিল যে আমি সহ্য করতে পারিনি তা ছাড়া থাকতে, স্বপ্ন জেনেও না, কোনোদিন হবেনা জেনেও না। একটা ছোট্ট জ়ান যখন কাদতো, তখন আমি নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারতাম না, আমি দূরে থাকতে চাইতাম না জ়েনেও যে কান্না থামানোর পর বাচ্চাটা আর আমার দিকে ফিরেও তাকাবে না।
ক্ষমা কর আমাকে, আমি বুঝতে পারিনি তুমি আমার সেই বাবু নও, ক্ষমা কর আমাকে আমি মানতে চাইনি তুমি তা হতে চাওনা। ক্ষমা কর, আমার আদর করার অধিকার চাইবার ধৃষ্টতার জন্য। খেলনা আমি কি আর সব হতে পারি!
আমি যোগ্য নই তোমার, বারবার, প্রতিটা মূহুর্ত বুঝানোর পরও আমি বুঝতে চাইনি তা, ক্ষমা কর আমাকে। আমি বুঝতে পারিনা ডাকলে কিভাবে সাড়া না দিয়ে থাকা যায় এটা জ়েনেও যে চোখের পানি আমার হাতে মুছে মুখ ঘষা হবে আরেকজ়নের বুকে।
আমি আর অধিকার চাইতে আসব না কোনো দিন, তুমি ভয় পেওনা। মুখ ফুটে তেমন কিছুই চাওনি আমার কাছে। আমায় দরকার বলেছিলে, ছিলাম, শুধু তোমার জন্যই ছিলাম, সবার অগোচরেই ছিলাম। আজ় যখন চিৎকার করে মুক্তি চেয়েছ, আমি কি আর না দিয়ে পারি!!!!! আমি তোমার কিছুই না, তবে তুমিই আমার সব, বাবি…….

ধর্ষনের শাস্তি ধর্ষন
মৃত্যুর স্বপ্ন, প্রতিক্ষা
তীব্র আকাঙ্ক্ষা
মরন আসেনা, আসেনা।
আমি স্বপ্নে বাচি
স্বপ্নে আমার পিঠ ভরা দাগ
চাবুকের দগদগে ঘা।
মরন আসেনা, আসেনা
ঘুমতো আর ভাঙ্গেনা
অজস্র নখের আচড়
চাবুকের দাগ
মুঠ মুঠ চুল আজ হাতে
ঘুমতো আর ভাঙ্গেনা
যা চাই তা পাবো না
যা চাইনা তার বন্যা।
একটাবার ও ডাকিনা
ধর্ষনের শাস্তি ধর্ষন
আমরন
আমি স্বপ্নে বাচি
দেখি স্বপ্নের ভিতর মৃত্যু।
তুমি খুশিতো সোনা?

[455 বার পঠিত]