আমি কি একটা বাঁদর?

আমি কি একটা বাঁদর?
মূল : ফ্রান্সিসকো জে. আয়ালা
অনুবাদ : অনন্ত বিজয় দাশ

জীবজগতে আমি (মানুষ) হচ্ছি প্রাইমেট বর্গের। বানরও হচ্ছে প্রাইমেট বর্গের। তবে আমি কিন্তু মোটেও ‘বানর’ নই। প্রাইমেট বর্গের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে মানুষ, বানর ও এপ (গরিলা, ওরাঙওটাং, শিম্পাঞ্জি)। জীববিবর্তনের দৃষ্টিতে মানুষ বানর থেকে এপদের সাথে অনেক বেশি ঘনিষ্ট আত্মীয়। বলা যায়, জীবজগতে এপরা হচ্ছে মানুষের প্রথম-কাজিন, আর বানর হচ্ছে দ্বিতীয় বা তৃতীয় কাজিন। আবার এপদের মধ্যে শিম্পাঞ্জির সাথে মানুষের আত্মীয়তার সম্পর্ক বেশি ঘনিষ্ট, তারপর গরিলা এবং শেষে ওরাঙওটাং। মানুষের বংশধারা ও শিম্পাঞ্জির বংশধারা আজ থেকে প্রায় ষাট থেকে সত্তর লক্ষ বছর আগে সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। জীববিজ্ঞানীরা এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন তিনটি পদ্ধতিতে পরীক্ষার মাধ্যমে। একটা হচ্ছে বর্তমানকালের জীবিত প্রাইমেটদের সাথে মানুষের এনাটমির তুলনামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে, দ্বিতীয় হচ্ছে অতীতকালের প্রাইমেটদের ফসিল পরীক্ষার মাধ্যমে এবং তৃতীয় পদ্ধতি হচ্ছে মানুষের সাথে এসব প্রাইমেটদের ডিএনএ, প্রোটিন ও অন্যান্য জৈবঅণুর তুলনামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে। আধুনিককালে ডিএনএ ও প্রোটিন গবেষণার মাধ্যমে প্রাইমেটের বিবর্তন ধারা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি ও সঠিক তথ্য-উপাত্ত জানা সম্ভব হচ্ছে এবং এখান থেকে পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে কোন কোন প্রাইমেটদের সাথে আমাদের সম্পর্ক কেমন। পাশাপাশি আমাদের পূর্বপুরুষদের সময়ের সাথে সাথে মানব-সদৃশ বিবর্তনের গতি সম্পর্কে জানতে বিজ্ঞানীদের অবশ্যই ফসিল নিয়ে গবেষণা করতে হয়।

চার্লস ডারউইন তাঁর ‘অরিজিন অব স্পিসিজ’ গ্রন্থে মানব-বিবর্তন সম্পর্কে কিছু না বললেও ১৮৭১ সালে প্রকাশিত আরেকটি বিশ্বখ্যাত গ্রন্থ ‘ডিসেন্ট অব ম্যান’-এ দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেছিলেন মানুষ ও এপরা সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে উদ্ভূত হয়েছে, এবং ঐ সাধারণ পুরুষরা মোটেও ‘মানুষ’ ছিল না। ডারউইনের এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে অনেক প্রশ্নবাণ ছুঁড়ে দিয়েছিল ধর্মবাদী থেকে শুরু করে সংশয়বাদী বিজ্ঞানীরা। মানুষ ও এপের ‘মিসিং লিংক’ কোথায়? কোথায় সেই মধ্যবর্তী জীব যাদের মধ্যে এপ এবং মানুষের বৈশিষ্ট্য রয়েছে? ইত্যাদি। ডারউইন তাঁর ডিসেন্ট অব ম্যান গ্রন্থে প্রাকৃতিক নির্বাচনের আলোকে মানুষের বিবর্তন ব্যাখ্যা করেছিলেন। পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাইমেটের অন্তর্ভুক্ত সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে মানুষের বংশানুক্রম (লিনিজ) ও শিম্পাঞ্জির বংশানুক্রম আলাদা হয়ে গিয়েছিল আজ থেকে প্রায় ছয় বা সাত মিলিয়ন বছর আগে। মানুষের লিনিজের সেই পূর্বপুরুষদের জীববিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘হোমিনিড’ বা ‘হোমিনিন’। ডারউইন মারা যান ১৮৮২ সালে। তাঁর মৃত্যুর সময়ও কোনো হোমিনিড ফসিল সম্পর্কে প্রত্নজীবিজ্ঞানীদের কাছে তথ্য ছিল না। যদিও ডারউইন ডিসেন্ট অব ম্যান গ্রন্থে অনুমান করেছিলেন এ ধরনের হোমিনিড ফসিল ভবিষ্যতে পাওয়া যাবে।

প্রথম হোমিনিড আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৮৮৯ সালে। ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপ থেকে এ ফসিলটি আবিষ্কার করেন ডাচ শারীরবিদ ইয়োজিন ডিবোয়া (১৮৫৮-১৯৪০)। ফসিল হিসেবে তিনি শুধুমাত্র একটি ফিমার বা ঊর্বাস্থি (ঊরুর হাড়) এবং ছোট্ট একটি মাথার খুলি উদ্ধার করেন। ইয়োজিন ডিবোয়া সেইসময় মানব-এনাটমি’র একজন বিশেষজ্ঞ ছিলেন। ঊর্বাস্থি ফসিল পরীক্ষায় তিনি বুঝতে পারলেন এগুলো হাঁটতে পারে এমন দ্বিপদী ব্যক্তির হাড়গোড়। আধুনিক মানুষের ফিমারের সাথে উদ্ধারকৃত ফিমারের লক্ষণীয় মিল দেখতে পেলেন। কিন্তু ছোট্ট সেই মাথার খুলিটির আয়তন মাত্র ৮৫০ সি.সি. (কিউবিক সেন্টিমিটার) প্রায়। সে হিসেবে খুলিটিতে মগজ বা ঘিলুর (ব্রেন) ওজন হবে কমবেশি দুই পাউন্ড। এক পাউন্ডে ৪৫৪ গ্রাম। যেখানে আমাদের মানে আধুনিক মানুষের মাথার খুলির আয়তন ১৩০০ সি.সি. ও ব্রেনের ওজন তিন পাউন্ড। ডিবোয়া ফসিলটির বয়স পরীক্ষা করে দেখলেন এটি প্রায় ১.৮ মিলিয়ন বছরের পুরানো। মানে ওই ফসিলের ব্যক্তিটি আজ থেকে প্রায় ১৮ লক্ষ বছর আগে এ পৃথিবীতে বসবাস করতো। ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে ফসিলটি পাওয়া গিয়েছে বলে ফসিল-বিজ্ঞানীরা এক সময় একে ‘জাভা-মানব’ বলে ডাকতেন। বর্তমানে শ্রেণীবিন্যাসবিদরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে একে ‘হোমো’ জিনাসের অন্তর্ভুক্ত স্বতন্ত্র আরেক প্রজাতি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবং বৈজ্ঞানিক নাম দিয়েছেন Homo erectus। আর আমরা মানে আধুনিক মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens

ডারউইনের সময়কালের সেই ‘মিসিং লিঙ্ক’ এখন আর ‘মিসিং’ নেই। জাভা দ্বীপ থেকে পাওয়া সেই প্রথম হোমিনিড ফসিল থেকে শুরু করে গত একশত বাইশ বছর ধরে প্রত্নজীববিজ্ঞানীরা আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপের বিভিন্ন জায়গা থেকে শতাধিক হোমিনিডের ফসিল আবিষ্কার করেছেন। ফসিলগুলো প্রত্নজীববিজ্ঞানী থেকে শুরু করে তুলনামূলক এনাটমি বিশেষজ্ঞ, আণবিক জীববিজ্ঞানীরা প্রচুর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণা করেছেন। প্রজাতি নির্ধারণ করেছেন। রেডিওমেট্রিক ডেটিং-এর মাধ্যমে ফসিলগুলোর বয়স চিহ্নিত করেছেন। আবিষ্কৃত কিছু হোমিনিডের ফসিলের গঠন আবার অন্য হোমিনিডের ফসিল থেকে বেশ পৃথক এবং অবশ্যই আমাদের থেকেও। হোমিনিডের এই ফসিল রেকর্ড থেকে খুব স্পষ্টভাবে দেখা যায় বিভিন্ন সময়ে বাস করা হোমিনিডগুলো থেকে বর্তমান মানবকুলের (প্রজাতি) উদ্ভব পর্যন্ত সময়ের সাথে সাথে অঙ্গসংস্থানগত বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটেছে, যেমন শরীরের আকৃতি বৃদ্ধি পেয়েছে, খুলির ধারণক্ষমতা ও মস্তিষ্কের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির এই শতাধিক হোমিনিডগুলোর নামকরণ করা হয়েছে বিভিন্নভাবে। কখনো যে স্থানে ফসিল পাওয়া গেছে সেই স্থানের নামের সাথে মিলিয়ে, কখনোবা ফসিল-আবিষ্কারকের নামের সাথে মিলিয়ে, আবার কখনোবা ফসিলটির অঙ্গসংস্থানগত বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য রেখে।


ছবি-১ : উপরের ছবিটি জার্মানির ব্যাভারিয়া থেকে আবিষ্কৃত ১৫০ মিলিয়ন বছর পুরাতন আর্কিওপটেরিক্সের ফসিল। ভূতাত্ত্বিক কালপঞ্জি অনুসারে এটি জুরাসিক যুগের শেষের দিককার। বাস করতো মধ্য ইউরোপে। ব্যাভারিয়া অঞ্চলের সলেনহোফেন চুনাপাথরের খনি থেকে বেশ কয়েকটি (ভালোভাবে সংরক্ষিত) আর্কিওপটেরিক্সের ফসিল উদ্ধার করা গেছে। প্রথম পাওয়া গিয়েছিল ১৮৬০ সালে এবং সর্বশেষ পাওয়া গেছে ২০০৫ সালে। আর্কিওপটেরিক্স কাকের সমান ছোট্ট প্রাণী। আর্কিওপটেরিক্সের ফসিলে একই সাথে ডায়নোসর (সরীসৃপ) ও পাখির বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। আর্কিওপটেরিক্সের খুলি, ঠোঁট, পালক খুব চমৎকারভাবেই পাখি-সদৃশ বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলে আবার এর কঙ্কালতন্ত্রে দ্বিপদী ডায়নোসরের কিছু বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।

এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে পুরানো (ছয় থেকে সাত মিলিয়ন বছর আগের) হোমিনিড ফসিলগুলো আফ্রিকা থেকে পাওয়া গেছে। এদের নাম Sahelanthropus ও Orrorin। ফসিলগুলোর এনাটমি পরীক্ষা থেকে জানা যায়, এরাই দ্বিপদীদের মধ্যে সবার আগে ভূমিতে আধিপত্য বিস্তার করেছিল। কিন্তু তাদের মস্তিষ্ক আধুনিক মানুষের তুলনায় অনেক অনেক ছোট ছিল। আজ থেকে ৫৫ লক্ষ (৫.৫ মিলিয়ন) বছর আগে আফ্রিকাতে বাস করতো আর্ডিপিথেকাস (Ardipithecus) হোমিনিডরা। অস্ট্রেলোপিথেকাসের প্রচুর ফসিল পাওয়া গেছে আফ্রিকা মহাদেশে। এসব ফসিল থেকে জানা যায়, প্রায় ৪০ লক্ষ বছর আগে অস্ট্রেলোপিথেকাসরা বাস করতো। এরা যদিও আধুনিক মানুষের মত সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারতো তবু তাদের করোটির ধারণ মতা ছিল প্রায় এক পাউন্ড। অর্থাৎ এটি গরিলা ও শিম্পাঞ্জির করোটির আয়তনের প্রায় সমান এবং আধুনিক মানুষের করোটির তুলনায় মাত্র তিন ভাগের এক ভাগ। অস্ট্রেলোপিথেকাসদের খুলিতে একই সাথে এপ ও আধুনিক মানুষের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। যেমন নিচু কপাল, এপ-সদৃশ মুখমণ্ডল, আবার দাঁতের অবস্থান আধুনিক মানুষের দাঁতের অবস্থানের মত। অস্ট্রেলোপিথেকাসের সময়কালের অন্যান্য হোমিনিডরা হচ্ছে Kenyanthropus ও Paranthropus। এই উভয় হোমিনিডদের মস্তিষ্কের আকার তুলনামূলকভাবে ছোট ছিল, যদিও Paranthropus-এর কিছু প্রজাতির দীর্ঘ আকৃতির শরীর ছিল। Paranthropus-রা হোমিনিডকুলের এক পার্শ্বশাখা হিসেবে প্রকাশ করে, যারা পরবর্তীতে অন্যান্য হোমিনিডদের মতোই বিলুপ্ত হয়ে গেছে এ দুনিয়া থেকে।

আমাদের হোমো (Homo) জিনাসের অন্তর্ভুক্ত আদি প্রজাতি হচ্ছে Homo habilis। হোমো হেবিলিসের ফসিল ও ফসিলের উদ্ধারকৃত স্থানের আশপাশের আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নৃবিজ্ঞানী, প্রত্নজীববিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন হোমো হেবিলিসরা প্রথম হোমোনিড যারা পাথরে তৈরি খুব সাধারণ হাতিয়ার ও ব্যবহার্য বস্তু তৈরি করতে পারতো। এদেরকে habilis নাম দেয়ার কারণও তাই। habilis শব্দটি ল্যাটিন ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ যে ব্যক্তি হাতের কাজে দক্ষ। Homo habilis-এর মাথার খুলির আয়তন ৬০০ সি.সি., যা পূর্বের সব হোমিনিড থেকে বেশি কিন্তু আধুনিক মানুষের তুলনায় অর্ধেক। আজ থেকে প্রায় ২৫ লাখ থেকে ১৫ লাখ বছর আগে Homo habilis-রা আফ্রিকার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকায় বসবাস করতো। Homo habilis-দের মধ্যেই আমরা প্রথম সামান্য পরিমাণে হলেও মানব প্রযুক্তির সূচনা দেখতে পাই।

Homo habilis-এর পরবর্তী উত্তরসূরি হচ্ছে Homo erectus। আজ থেকে প্রায় ১৮ লাখ বছর আগে তারা আফ্রিকাতে বাস করতো। হোমো ইরেকটাসদের মস্তিষ্কের আয়তন ৮০০ থেকে ১১০০ সি.সি. (২ থেকে ২.৫ পাউন্ড)। হোমো ইরেকটাসরা হোমো হেবিলিস থেকে আরেকটু উন্নতমানের হাতিয়ার এবং ব্যবহার্য যন্ত্রপাতি তৈরি করতে পারতো। হোমো ইরেকটাস প্রজাতির দুটি বৈশিষ্ট্য অবশ্যই লক্ষণীয়। প্রথমটি হচ্ছে, এই প্রজাতিটির দীর্ঘ সময় ধরে (১৮ লাখ থেকে ৪ লাখ বছরের কাছাকাছি) বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করার পরও তাদের মধ্যে খুবই সামান্য অঙ্গসংস্থানগত পরিবর্তন ঘটেছে। এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে হোমো ইরেকটাস-ই প্রথম হোমিনিড প্রজাতি যারা প্রথম আফ্রিকা মহাদেশ ছেড়ে অন্য মহাদেশে (ইউরোপ এবং এশিয়া) উদ্দেশ্যহীনভাবে পাড়ি দিয়েছিল। আফ্রিকাতে উদ্ভবের পর কিছু সময় পর হোমো ইরেকটাসের বিরাট সংখ্যক জনগোষ্ঠী (১৬ লক্ষ থেকে ১৮ লক্ষ বছর আগে) ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপ, এশিয়াতে এবং খুব সম্ভবত আড়াই লাখ বছর পর্যন্ত তারা সেখানে ছিল। এমন কী, চীনের উত্তাঞ্চল ও ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত তারা পৌঁছে গিয়েছিল। ইয়োজিন ডিবোয়া ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপ থেকে হোমো ইরেকটাসের প্রথম ফসিল আবিষ্কার করেন।


ছবি-২ : আধুনিক মানুষের কঙ্কালের সাথে প্রায় ৩৫ লাখ বছর পুরাতন ‘লুসি’র (Australopithecus afarensis) ফসিলের তুলামূলক চিত্র। আধুনিক মানুষের পূর্বপুরুষ লুসি দ্বিপদী হলে এর ছিল খর্বাকৃতি দেহ ও ছোট মস্তিষ্ক। ১৯৭২ সালে ইথিওপিয়া থেকে লুসির কঙ্কালতন্ত্রের শতকরা ৪০ ভাগ উদ্ধার করা হয়েছে। উপরের চিত্রে তা কালো দাগ দিয়ে বুঝানো হয়েছে।

হোমো ইরেকটাসের পর আরো দুটো হোমিনিড প্রজাতির বিবর্তন ঘটেছে, Homo neanderthalensisHomo sapiens, মানে আমরা নিজেরা। Homo neanderthalensis-এর এর প্রচুর ফসিল আবিষ্কার হয়েছে ইউরোপ থেকে। নিয়ান্ডার্থাল প্রজাতির ফসিল বিশ্লেষণ করে প্রত্নজীববিজ্ঞানী ও আণবিক জীববিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এদের প্রথম উদ্ভব ঘটে আজ থেকে দুই লাখ বছর আগে এবং এদের বিলুপ্তি ঘটেছে আজ থেকে ত্রিশ হাজার বছর আগে। সর্বশেষ নিয়ান্ডার্থাল প্রজাতির ফসিল পাওয়া গেছে স্পেন থেকে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় এখানেই তাদের শেষ বাসস্থান ছিল। নিয়ান্ডার্থালদের মস্তিষ্ক বড় ছিল, অনেকটা আমাদের মত এবং শরীরও আমাদের মতই তবে কিছুটা বেটে ও মোটাসোটা।

খুব সম্ভবত আফ্রিকাতেই হোমো ইরেকটাস থেকে হোমো সেপিয়েন্স (Homo sapiens) প্রজাতির উদ্ভব ঘটেছিল এবং তা আজ থেকে প্রায় চার লাখ বছর আগে। যখন পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে এদের (হোমো ইরেকটাস) ফসিল পাওয়া যেতে লাগলো তখন অবশ্য ধারণা করা হতো এরা বোধহয় হোমো সেপিয়েন্স প্রজাতির ‘পূর্বতন রূপ’। আধুনিক মানুষের বিবর্তন ঘটেছে আফ্রিকাতে, দুই ল থেকে দেড় লক্ষ বছর আগে; এবং শেষমেশ তারাই সমগ্র পৃথিবীতে উপনিবেশ স্থাপন করে অন্য হোমিনিডদের জায়গা দখল করে নেয়। হোমিনিড বিবর্তন নিয়ে গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জীববিজ্ঞানীরা মনে করেন হোমো ইরেকটাস-এর যেসব সদস্য সর্বপ্রথম এশিয়া ও ইউরোপে কলোনি স্থাপন করেছিল তারা সেখানে কোনো সরাসরি উত্তরসূরি (নতুন প্রজাতি) রেখে যায়নি। তবে এই ধারণার বাইরেও নতুন আরেকটি মত প্রচলিত রয়েছে। ২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোর্স দ্বীপ থেকে পাওয়া নতুন প্রজাতির (Homo florensiensis) হোমিনিড ফসিল গবেষণা করে জানা গেছে এরা সেখানে আজ থেকে ১২ থেকে ১৮ হাজার বছর বাস করতো। ধারণা করা হয়, এই Homo florensiensis-রা সম্ভবত এশিয়ায় বসতিস্থাপনকারী হোমো ইরেকটাসের উত্তরসূরি। যদিও এ বিষয়টি নিয়ে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি, গবেষণা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

পৃথিবীর মহাদেশগুলোতে আধুনিক হোমো সেপিয়েন্সদের কলোনি (বসতি) স্থাপন তুলনামূলকভাবে অনেক সাম্প্রতিক ঘটনা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং চীনে বসতি স্থাপন হয়েছে আজ থেকে মাত্র ৬০ হাজার বছর আগে, অস্ট্রেলিয়াতে এর কিছু পরেই। ইউরোপে হোমো সেপিয়েন্সদের আগমন ৩৫ হাজার বছর আগে। আমেরিকাতে ১৫ হাজার বছর আগে সাইবেরিয়া থেকে এসে কলোনি স্থাপন হয়। মানব জাতির মধ্যে সাংস্কৃতিক বা নৃতাত্ত্বিক (এথনিক) পার্থক্য সূচিত হয়েছে খুব বেশিকাল আগে নয়। হোমো সেপিয়েন্স জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভৌগলিক বিচ্ছিন্নতা শুরু হয় মাত্র ষাট হাজার বছর আগে।


ছবি-৩ : আফ্রিকার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকা থেকে আমাদের হোমো সেপিয়েন্স প্রজাতির উপনিবেশ স্থাপনের ছিত্র। আজ থেকে পঞ্চাশ-ষাট হাজার বছর পূর্বে হোমো সেপিয়েন্সরা উত্তর ও দক্ষিণ এশিয়াতে পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। তবে মধ্য ও পশ্চিম ইউরোপে গিয়েছিল মাত্র পয়ত্রিশ হাজার বছর আগে। এটা একটা ধাঁধা! ইউরোপে পৌঁছাতে কেন এতো দেরি হল? একটা ব্যাখ্যা হচ্ছে এরকম ইউরোপে প্রায় দুই লাখ বছর পূর্ব থেকেই নিয়ানডার্থালরা বসতি গেড়ে ছিল। ত্রিশ হাজার বছর আগে নিয়ানডার্থালদের বিলুপ্তির আগ পর্যন্ত হোমো সেপিয়েন্সরা ইউরোপের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে নি।

গত শতাব্দীর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য জীববৈজ্ঞানিক গবেষণা কার্যক্রম ‘মানব জিনোম প্রকল্প’ শুরু হয় আমেরিকাতে ১৯৮৯ সালে। এই প্রকল্পের অর্থায়নে ছিল আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ ও ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি। সরকারি উদ্যোগে মানব জিনোম প্রকল্প শুরু হওয়ার কিছু সময় পর আমেরিকার বেসরকারি একটি জিনোম গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘Celera Genomics’ স্বাধীনভাবে একই ধরনের গবেষণা কার্যক্রম শুরু করে। তারাও সরকারি অনুদান জুটিয়ে নেয়। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে স্বতন্ত্রভাবে শুরু হওয়া এই গবেষণা কার্যক্রমের লক্ষ ঠিক করা হয় আগামী ১৫ বছরের মধ্যে মানব-জিনোমের সম্পূর্ণ সিকুয়েন্স উদ্ঘাটন করা। এবং এই প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার; অর্থাৎ কাকতালীয়ভাবে প্রতিটি ডিএনএ অক্ষরের (A, T, C, G) জন্য ১ ডলার বাজেট বরাদ্দ করা হয়। ২০০১ সালে মানব জিনোমের সিকুয়েন্সের একটি খসড়া প্রতিবেদন তৈরি করেন বিজ্ঞানীরা। ২০০৩ সালে এই প্রকল্পের একটা পর্ব সমাপ্ত হয়েছে।

মানব-জিনোমের ডিএনএ সিকুয়েন্স বিশ্লেষণ করা আমাদের জন্য প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে একটি বিশাল অর্জন। মানুষের জিনোমে তিন বিলিয়ন নিউক্লিওটাইডের (A, T, C, G) ডিএনএ সিকুয়েন্স রয়েছে। এগুলি যদি ছাপানো যায় তবে এর পরিমাণ হবে ১০০০ পৃষ্ঠার প্রতিটি এক হাজার ভলিউমের সমান। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য উন্নতির ফলে এই ধরনের জটিল গবেষণা কার্যক্রমের সফল সম্পাত্তি সম্ভব হয়েছে। গত কয়েক বছরে জীববিজ্ঞানে প্রযুক্তিগত এতই উন্নতি সাধিত হয়েছে যে, ‘মানব জিনোম প্রকল্প’-এর পরবর্তীতে কয়েকজন স্বতন্ত্র ব্যক্তির জিনোম অনুক্রম বিশ্লেষণ করা হয়েছে আর এতে ব্যয় হয়েছে এক লক্ষ মার্কিন ডলার (তিন বিলিয়ন আর ব্যয় হয় নি) এবং সময় লেগেছে মাত্র এক মাস (চৌদ্দ বছর নয়)।

মানুষ ছাড়াও আরো বিভিন্ন প্রজাতির জিনোম সিকুয়েন্স বিশ্লেষণ করা হয়েছে ইতোমধ্যে। বিশেষ করে শিম্পাঞ্জির (Pan troglodytes) জিনোম সিকুয়েন্স সংক্রান্ত তথ্যাবলি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর। মানুষের সাথে শিম্পাঞ্জির জিনোম সিকুয়েন্সের তুলনামূলক বিশ্লেষণও করা হয়েছে। জিনেটিক লেভেলে মানুষের স্বতন্ত্র অবস্থানটি কোথায়, কোন জিনেটিক বৈশিষ্ট্যের কারণে মানুষের ফিনোটাইপে পরিবর্তন ঘটেছে তা বোঝার জন্য এই ধরনের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা। মানুষ ও শিম্পাঞ্জির এই তুলনামূলনক জিনোম সিকুয়েন্সের ফলাফলও সমপরিমাণ চমকপ্রদ। দেখা গেছে মানুষ ও শিম্পাঞ্জির জিনোম সিকুয়েন্স প্রায় ৯৯% হুবহু একই রকম। পার্থক্য মাত্র ১ ভাগে। তবে এই পার্থক্যটি কারো কাছে খুবই কম মনে হতে পারে আবার কারো কাছে অনেক বড়-ও মনে হতে পারে, বিষয় হচ্ছে–কে কিভাবে বিষয়টি দেখবে। মানুষের এই ৩ বিলিয়ন ডিএনএ অক্ষরের মধ্যে শতকরা ১ ভাগ পার্থক্য রয়েছে শিম্পাঞ্জির সাথে, এর অর্থ দাঁড়ায় ৩০ মিলিয়ন ডিএনএ অক্ষরে পার্থক্য রয়েছে শিম্পাঞ্জির সাথে।

মানুষ এবং শিম্পাঞ্জির উভয় প্রজাতি শতকরা ২৯ ভাগ এনজাইম এবং অন্যান্য প্রোটিন একই রকমের জিন দ্বারা গঠিত। একশত থেকে কয়েকশত অ্যামিনো অ্যাসিডের মাধ্যমে জীবদেহের প্রোটিন গঠিত, এর মধ্যে শতকরা ৭১ ভাগ প্রোটিনে পার্থক্য রয়েছে মানুষ ও শিম্পাঞ্জির মধ্যে। আর এই পার্থক্য সূচিত হয়েছে গড়ে মাত্র দুটি অ্যামিনো অ্যাসিডের কারণে। এখন কেউ যদি হিসেব করতে চায় এইভাবে, ডিএনএ সেগমেন্ট একটি প্রজাতিতে পাওয়া গেল কিন্তু অন্যটিতে না, তাহলে উভয় প্রজাতিতে ডিএনএ সিকুয়েন্স শেয়ার করেছে এই দৃষ্টিতে দুই প্রজাতির জিনোম শতকরা ৯৬ ভাগ হুবহু এক রকম। আর জিনেটিক উপাদান প্রায় শতকরা তিন ভাগ মানে ৯০ মিলিয়ন ডিএনএ অক্ষর, গত ছয় থেকে সাত মিলিয়ন বছর পূর্বে সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে মানুষ এবং শিম্পাঞ্জির বিবর্তনক্রম শুরু হওয়ার পর উভয় প্রজাতির জিনোমে সন্নিবেশিত ও বিলুপ্তি ঘটেছে। অবশ্য অনেক ডিএনএ-ই রয়েছে প্রোটিন তৈরি জন্য জিন ধারণ করে না। এদেরকে ‘জাংক ডিএনএ’ বলে।

দুই প্রজাতির জিনোম সিকুয়েন্সের এই তুলনা থেকে সুনির্দিষ্ট জিনগুলির বিবর্তনীয় হার খুব সহজেই বোঝা যায়। একটা গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, যেসব জিনগুলি মস্তিষ্কে সক্রিয় বা ক্রিয়াশীল, শিম্পাঞ্জিকুলের তুলনায় সেগুলির বেশি পরিবর্তন ঘটেছে মানবকুলে। মোটের উপর, ৫৮৫টি জিন, এর মধ্যে কিছু জিন যেমন ম্যালেরিয়া এবং যারোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে, এদের বিবর্তন খুব দ্রত হয়েছে মানবকুলে। (এটা স্মরণযোগ্য, শিম্পাঞ্জির তুলনায় মানুষের মধ্যে ম্যালেরিয়া রোগটির প্রকোপ অত্যন্ত তীব্র।) মানব-জিনোমের অনেক জায়গায় দেখা গেছে, মানবকুলের জন্য উপকারী জিনগুলির দ্রুত বিবর্তন ঘটেছে গত আড়াই ল বছরে। যেমন ভাষার উদ্ভবের পিছনে যে জিনের ভূমিকা রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করে থাকেন FOXP2, এই জিনের বিবর্তন ঘটেছে মানবকুলে দ্রুতগতিতে।

জীবজগতে মানুষের এই স্বতন্ত্র অবস্থান সম্পর্কে বর্তমানে আমরা কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা জানি, যেমন বড় মস্তিষ্ক এবং কিছু জিনের দ্রুতগতির বিবর্তনীয় হার (এর মধ্যে ভাষার উদ্ভবের জিন জড়িত রয়েছে)। এই জ্ঞান আমাদের জন্য খুব আকর্ষণীয় মনে হলেও কোন কোন জিনেটিক পরিবর্তন আমাদের মানুষ বানিয়েছে সে-সম্পর্কে জ্ঞান আমাদের এখনও ক্ষীণ।

মানুষ ও শিম্পাঞ্জি জিনোম নিয়ে আগামী দুই-এক দশকের মধ্যে হয়তো আরো বর্ধিত গবেষণার মাধ্যমে জানতে পারবো কিভাবে আমরা ‘স্বতন্ত্র’ মানুষ হলাম। যে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলি আমাদের ‘মানুষ’ বানায়, তার যাত্রা শুরু হয় ভূমিষ্ট হওয়ার পূর্বে ভ্রূণ অবস্থায়। ‘রৈখিক তথ্যাবলি’ (linear information) জিনোমে সংযুক্ত হয় ক্রমশ, এবং প্রকাশ ঘটে ব্যক্তির মধ্যে। সময়ের সাথে ঐ ব্যক্তির পরিবর্তন ঘটতে থাকে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যে, মানুষের যে সবচেয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যাবলি তার বিকাশ ঘটে মস্তিষ্কে, ভূমিকা রাখে মানুষের চিন্তায় ও আত্মিক পরিচয়ে।

অন্যান্য প্রাইমেট থেকে মানুষের এই স্বতন্ত্র অবস্থান বুঝতে হলে খেয়াল রাখতে হবে মানুষের মস্তিষ্কের অসামান্য অগ্রগতি, উন্মোচিত হয়েছে নতুন ধরনের বিবর্তন, যা ছাড়িয়ে গেছে জীববিবর্তনের সব সীমাকে; প্রযুক্তির সাহায্যে পরিবেশকে নিজ উদ্দেশ্যে সুনিপুণভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে অভিযোজন। প্রকৃতিতে জীবসমূহের প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় পরিবেশের সাথে অভিযোজন ঘটে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জিনেটিক গঠনের পরিবর্তন ঘটে পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে গিয়ে। কিন্তু মানুষ (যে কোনো দিক দিয়েই স্বতন্ত্র স্থানে অবস্থান করছে) তার নিজেদের চাহিদানুযায়ী পরিবেশকে পরিবর্তনের, নিয়ন্ত্রণের সমতা অর্জন করেছে বিপুলভাবে। আগুনের ব্যবহার, পোষাকের ব্যবহার, নিজস্ব বাসস্থান ইত্যাদি মানুষকে পুরাতন পৃথিবীর উষ্ণ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকা থেকে ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করেছে, জৈবিকভাবে গোটা পৃথিবীতে অভিযোজনে ভূমিকা রেখেছে, ব্যতিক্রম শুধু তীব্র শীতপ্রধান এলাকা অ্যান্টার্টিকা বাদে। জিনগত পরিবর্তনের ফলে তীব্র ঠাণ্ডা আবহাওয়া থেকে রক্ষার জন্য মানুষের শারীরিক সক্ষমতা (চুল এবং লোম বৃদ্ধি পাবে) তৈরি হবে, এমন সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার কোনো প্রয়োজন নেই। ফুলকা বা পাখা গঠনের জন্যও কোনো বাধাধরা নিয়ম নেই, আমরা প্রযুক্তির উন্নতির ফলে জাহাজ বা বিমানে করে এমনিতেই সাগরে কিংবা আকাশে পাড়ি দিতে পারি অনায়সে। এটা মানুষের মস্তিষ্কের (অথবা বলা যায়, মানুষের চিন্তা) বিকাশের ফলেই মানবজাতি আজকে এত সফল, সকল জীবিত প্রজাতির থেকে অর্থবহ অবস্থানে রয়েছে।

গত দুই দশকে জীববিজ্ঞানের আরেক শাখা ‘নিউরোবায়োলজি’তে অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হয়েছে। অসামান্য সব আবিষ্কার ঘটেছে এখানে। আলো, তাপ, শব্দ, গন্ধ ইত্যাদি সম্পর্কে আমাদের ইন্দ্রিয়গুলো কিভাবে ট্রিগারের ভূমিকা পালন করে, স্নায়ুর মাধ্যমে তথ্য পাঠিয়ে দেয় মস্তিষ্কে এবং সেখান থেকে সারা শরীরে, তা খুব ভালোভাবে জানা গেছে। এমন কী, শরীরের ভিতরে নিউরাল চ্যানেলগুলো কিভাবে তথ্য প্রেরণ করে শারীরিক কাজকর্মে ভূমিকা রাখার জন্য কিংবা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পর পুনর্গঠনের জন্য অথবা কোন নিউরন বা নিউরনগুচ্ছ শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গগুলোতে তথ্য গ্রহণ-প্রেরণ করে থাকে। এরপরও বলতে হয়, এত উন্নতির পরও, নিউরোবায়োলজি এখনও শৈশবকালীন পর্যায়ে রয়েছে। যেমন জিনেটিক্সের যে অবস্থা ছিল, তত্ত্বগত উন্নতি ঘটেছিল, বিংশ শতাব্দীতে ম্যান্ডেলের সূত্রাবলি যখন পুনর্আবিষ্কার ঘটেছিল। আবার অনেক বিষয়ই তখন অজানা ছিল, যেমন শারীরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বা ঘটনাবলি কিভাবে মনস্তাত্ত্বিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায় [যেমন আবেগ, অনুভূতির মিলিত ফল সচেতনতা, যাকে দার্শনিক পরিভাষায় বলা হয় ‘কুয়েলিয়া’ (qualia)] এবং এসব বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতার উদ্ভব ঘটে চিন্তার ক্ষেত্রে, বাস্তবতার সাথে ইউনিটারি গুণাবলী, যেমন স্বাধীন ইচ্ছা এবং নিজস্ব সচেতনতা বহন করে ব্যক্তির নিজস্ব জীবনে।

আমি বিশ্বাস করি না, চিন্তাজগতের এই রহস্যময়তা দীর্ঘদিন অনুদ্ঘাটিত থাকবে। বরং এই ধাঁধার উত্তর মানবজাতি তার দার্শনিক বিশ্লেষণ আর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অনুসন্ধানের মধ্য দিয়েই উদ্ঘাটন করতে পারবে এবং আমি বাজি ধরে বলতে পারি, আগামী অর্ধশতাব্দীর ভিতরেই এ ধরনের প্রচুর সংখ্যক ধাঁধার উত্তর সমাধান হয়ে যাবে। তখন আমরা ‘নিজেকে জানা’র মধ্য দিয়েই ভালো থাকবো।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : প্রবন্ধটি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেশ ও বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফ্রান্সিসকো জে. আয়ালা’র বই ‘Am I a Monkey?: Six Big Questions about Evolution’ বইয়ের (২০১০) প্রথম অধ্যায়ের অনুবাদ। প্রবন্ধটির বাংলা অনুবাদ ও তিনটি চিত্র ব্যবহারে অধ্যাপক ফ্রান্সিসকো আয়ালা এবং জোন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটি প্রেস কর্তৃপক্ষ অনুমতি প্রদান করায় বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানমনস্কতার ছোটকাগজ 'যুক্তি'র সম্পাদক। মানবতা এবং যুক্তিবাদ প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০০৬ সালে মুক্তমনা র‌্যাশনালিস্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। প্রকাশিত প্রবন্ধ গ্রন্থ : (১) পার্থিব, (সহলেখক সৈকত চৌধুরী), শুদ্ধস্বর, ঢাকা, ২০১১। (২) ডারউইন : একুশ শতকে প্রাসঙ্গিকতা এবং ভাবনা, (সম্পাদিত), অবসর, ঢাকা, ২০১১। (৩) সোভিয়েত ইউনিয়নে বিজ্ঞান ও বিপ্লব : লিসেঙ্কো অধ্যায়, শুদ্ধস্বর, ঢাকা, ২০১২। (৪) জীববিবর্তন সাধারণ পাঠ (মূল: ফ্রান্সিসকো জে. আয়াল, অনুবাদ: অনন্ত বিজয় দাশ ও সিদ্ধার্থ ধর), চৈতন্য প্রকাশন, সিলেট, ২০১৪

মন্তব্যসমূহ

  1. বেয়াদপ পোলা ফেব্রুয়ারী 13, 2012 at 9:00 অপরাহ্ন - Reply

    যেখানে ডারউইনের জন্মভূমি ব্রিটেনের অর্ধেক মানুষ বিবর্তবাদে বিশ্বাস করে না! সেখানে আপনারা করেন কারন নাস্তিকতার যেহেতু ভিত্তি বলে কিছু নেই সেহেতু নাস্তিকদের কাছে বিবর্তনবাদ তত্ত্ব হচ্ছে ঘোর অমাবস্যার রাতে পূর্ণিমার চাঁদের মতো কিছু একটা – যেখানে সত্য-মিথ্যা’র কোন বালাই নেই। অতএব, তারা যে কোন প্রকারে এই মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করানো 😛 । ব্রিটেনের গার্ডিয়ান পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী পৃথিবী জুড়ে মাত্র ৮% লোক বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করে। যেহেতু আপনারা বিবর্তন বাদ বিশ্বাস করেন তাহলে ফিলোসফিকাল এই লেখাটি যুক্তি যুক্ত।
    আপনারা স্বীকার করেন বংশবাদ ও সত্য, তার মানে আমি ব্রাম্মন আমি শ্রেষ্ঠ, নম শুদ্র গুলা হইতেছে নিকৃষ্ট।
    তাহলে বর্ণবাদ সত্য , আমি সাদা আমি শ্রেষ্ঠ , আমি চির ও অহংকারী , আমার মত আর কেঊ নেই । কালারা মুর্খ , গোয়ার, নিকৃষ্ট কারন বিবর্তন আর তো থেমে থাকবে না , তাহলে সব মানুষ সমান এটা কিভাবে থাকবে ।
    আপনাদের বিবর্তন বাদ সত্যি হলে তার মানে আপনাদের কাছে তাহলে ন্যশনালিজম সত্য , তার মানে আমি জার্মান আমি শ্রেষ্ঠ , বেচে থাকার আধিকার শুধু আমার । আমার মত শ্রেষ্ঠ কেঊ উৎপত্তি হয় নাই।
    যদি আপনাদের বিবর্তন বাদ সত্য হয় তাহলে জবর দখলবাদ সত্য , টিকে থাকার অধিকার শুধু তার ই , যে যোগ্য , ন্যচারাল সিলেক শনে যোগ্য রাই ঠিকে থাকে । অতএব, দূর্বল রা মর ও , তোমার এ জমির উপর কোন অধিকার নাই , ন্যচার দেয় নাই ।
    যদি বিবর্তন বাদ সত্য হয় তাহলে খুনখারাপী সত্য এবং সমর্থিত বিষয় ।
    যদি বিবর্তন বাদ সত্য হয় তাহলে মানবতা বাদ, মিথ্যা ; সাম্যবাদ মিথ্যা । কারন , আমি শ্রেষ্ঠ আমি তোমারে মানি না ।
    যেহেতু বিবর্তনবাদ বিশ্বাস করেন তাহলে উপরিক্ত গুলিকে নৈতিক ভাবে সমর্থন করতে হবে……… এমনকি
    ধর্ষণ কে স্বাগত জানাতে হবে এবং আমার মনে হয় আপনারা ধর্ষণ কে নৈতিক ভাবে সমর্থ জানান কারন আপনারা বিবর্তন বাদে বিশ্বাসী। এমনকি সমকামিতা কে ও নৈতিক ভাবে সমর্থন করতে হবে, কারণ সমকামিতাকে বাদ দিয়ে বিবর্তনবাদী নাস্তিকও হতে পারবেন না। হায় হায় আপনাদের নৈতিকটা নিয়া কথা কয়লাম যাদের ধর্ম মানব ধর্ম , লল । এখানে বলতে হয় ডারউইনবাদী নাস্তিকরা এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা ও ধর্মকে প্রত্যাখ্যান করে বন্য পশু-পাখিদের জগৎ থেকে কিছু উদাহরণ নিয়ে এসে নৈতিকতার “বিবর্তনীয় উৎস” খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন – যদিও গৃহপালিত পশু-পাখিদের মধ্যেই ঢের উদাহরণ আছে এবং স্বয়ং বিবর্তনবাদ তত্ত্বেরই কোন ভিত্তি নেই। তো তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা যদি না থাকে – মৃত্যুপরবর্তী জীবন বলে যদি কিছুই না থাকে – তাহলে নৈতিকতার উৎস খোঁজার উপর তারা এত জোর দিচ্ছেন কেন? বলাই বাহুল্য, পশু-পাখিরা কিন্তু ডারউইনবাদীদের কাছে নৈতিকতা শিখতে আসে না। তার মানে ডারউইনবাদীরা নিজেদেরকে পশু-পাখিদের চেয়েও অধম ভাবেন – যাদের নিজস্বতা বলে কিছু নেই। এখনি আবারো যুক্তির নাম এ কু যুক্তি শূনতে হবে :-X 😛

    • জাহিদ রাসেল ফেব্রুয়ারী 14, 2012 at 12:49 পূর্বাহ্ন - Reply

      @বেয়াদপ পোলা, আপনে ভুল জায়গায় এসেছেন। মুক্ত-মনায় আপনার প্রিয় খাদ্য কাঁঠাল পাতা পাবেন না। আপনি বরং ”সদালাপ বা সোনাব্লগের ” মতো কোন ব্লগে গিয়ে লেদান।

      • আকাশ মালিক ফেব্রুয়ারী 14, 2012 at 4:25 পূর্বাহ্ন - Reply

        @জাহিদ রাসেল,

        বেয়াদপ পোলা, আপনে ভুল জায়গায় এসেছেন। মুক্ত-মনায় আপনার প্রিয় খাদ্য কাঁঠাল পাতা পাবেন না।

        বহু আগেই তাকে এই কথা বলেছিলাম। উপরে লিংকযুক্ত বা হাইলাটেড হওয়া তার মন্তব্যটির অনেক কিছু হুবহু কমপক্ষে তিন জায়গায় পাবেন।

        সদালাপে সরোয়ার নামে,

        পিস ইন ইসলামে এস এম রায়হান নামে,

        সামুতে মন্তব্যের ঘরে জেমসবন্ড নামে।

        বেচারা ইসলাম বেপারী!

    • বাসার ফেব্রুয়ারী 15, 2012 at 1:08 অপরাহ্ন - Reply

      @বেয়াদপ পোলা, আপনি কিসে পরেন ভাই?

  2. অনন্ত বিজয় দাশ ফেব্রুয়ারী 13, 2012 at 1:33 অপরাহ্ন - Reply

    :-s গায়েবি অক্ষরগুলো সংশোধন করে দেয়া হয়েছে। :guli:

  3. সৈকত চৌধুরী ফেব্রুয়ারী 13, 2012 at 2:47 পূর্বাহ্ন - Reply

    (Y) দারুন হয়েছে, পড়ার সময় অনুবাদ বলে মনেই হয় না।

    (D)

  4. রামগড়ুড়ের ছানা ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 4:58 অপরাহ্ন - Reply

    লেখার ছবিগুলো মার্জিনের বাইরে চলে গিয়েছিলো,ঠিক করে দেয়া হয়েছে।

    • অনন্ত বিজয় দাশ ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 5:41 অপরাহ্ন - Reply

      @রামগড়ুড়ের ছানা,
      অনেক ধন্যবাদ। ছবিগুলোকে আমি সাইজ করতে পারছিলাম না।

  5. আমি আমার ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 3:27 অপরাহ্ন - Reply

    অনুবাদ টা খুব প্রাঞ্জল্য, সুন্দর হয়েছে। (Y)
    মিসিং অক্ষর গুলো ঠিক করে দিবেন আশা করি । দ্বিতীয় পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
    অটঃ আপনার “ভগবদগীতায় বিজ্ঞান অন্বেষন এবং অন্যান্য” লেখাটা পড়লাম। অসাধারণ হয়েছে। অসংখ্য ধন্যবাদ লেখা দুটোর জন্য।
    অভিজিৎ দার “আত্মা নিয়ে ইতং বিতং” লেখাটার লিঙ্ক টা কি পাওয়া যাবে?

    • রামগড়ুড়ের ছানা ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 5:02 অপরাহ্ন - Reply
    • অনন্ত বিজয় দাশ ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 5:45 অপরাহ্ন - Reply

      @আমি আমার,

      আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।
      ফ্রান্সিসকো আয়ালা লেখা এটা একটাই পর্ব।

      • আমি আমার ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 6:04 অপরাহ্ন - Reply

        @অনন্ত বিজয় দাশ,
        দুঃখিত। আপনি প্রথম অধ্যায় এর অনুবাদ বলাতে ভাবলাম হয়ত আরো পর্ব আছে। যাই হোক, এরকম আরো লিখুন। ভাল থাকবেন।

        @রামগড়ুড়ের ছানা,
        অনেক ধন্যবাদ লিঙ্ক টার জন্য। (B)

  6. রঞ্জন বর্মন ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 2:54 অপরাহ্ন - Reply

    এখনো যারা মনে করেন মানুষ সরাসরি বানর বা এপ থেকে এসেছে, তারা চিড়িয়াখানায় গেলে বানর এর দিকে তাকালে নিজের পূর্ব পুরুষদের কথা মনে করে মস্তিষ্কের মধ্যে বিরক্তবোধের সূত্রপাত করে, উল্টোটাও করতে পারে।

  7. মাহফুজ ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 1:55 অপরাহ্ন - Reply

    বিবর্তন বিষয়ক লেখা পড়তে গেলেই প্রথমেই আমার মাথার মধ্যে চলে আসে বন্যা আহমেদের ‘বিবর্তনের পথ ধরে’ আর আপনার সম্পাদনায় ‘ডারউইন একুশ শতকে প্রাসঙ্গিকতা এবং ভাবনা’ বই-এর কথা।
    যাহোক, আপনার অনুদিত এমন চমৎকার লেখাটি (অনুবাদও চমৎকার ও সাবলিল) পড়ে শান্তি পেলাম। তবে কিছু বানান ভুল রয়ে গেছে, (আকাশ মালিক মজা করে যাকে মিসিং লিংক বলছেন) সেদিকে নজর দিয়ে শুদ্ধ করলে ভালো হয়।

    • অনন্ত বিজয় দাশ ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 5:59 অপরাহ্ন - Reply

      @মাহফুজ,

      মাহফুজ ভাই, আপনার মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। বন্যাদির বিবর্তনের পথ ধরে বইটা বাংলা বিজ্ঞান-সাহিত্য জগতে নিঃসন্দেহে একটা মাইলফলক।

      বানান ভুলের কথা বলছেন, এই প্রবলেমটা পুরাতন। বিজয় থেকে ইউনিকোডে কনভার্ট করে লেখা দিয়েছি। বেশ কয়েক জায়গায় ‘ক্ষ’ অক্ষর ভেঙে গিয়েছে। যেমন লক্ষ ভেঙে গিয়ে হয়েছে শুধু ‘ল’। আরো কিছু জায়গায় শব্দ ভেঙে গিয়েছে বোধহয়। তাড়াতাড়িই ঠিকই করে দিব আশা করছি।

  8. dhaka dhaka ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 11:56 পূর্বাহ্ন - Reply

    (F) (F) (F) (F) (F) (F)

  9. কৌশিক ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 10:51 পূর্বাহ্ন - Reply

    ডারউইন দিবসের উপলক্ষে সুন্দর লেখা। অনুবাদটি সুন্দর হয়েছে। দেখে মজা লাগল যে অচিরেই শুরু হয়ে গেছে অশিক্ষিত/কুশিক্ষিত চিৎকার বিবর্তনবাদের বিরুদ্ধে। বিবর্তনবাদের সপক্ষে যে বৈজ্ঞানিক প্রমাণাদি এবং যুক্তি আছে, তা বহুবার বহু জায়গায় প্রকাশিত হয়েছে – এবং এমনও নয় যে সেই সব মূলসূত্রাদি খুবই দুর্লভ্য। কিন্তু বিবর্তনবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার ব্যাপারটি ঠিক যুক্তিবুদ্ধির ধার ধারেনা। সেটি একান্তই বিশ্বাসের উপর নির্ভর। এবং সেই সব বিশ্বাসের অধিকারীদের কাছ থেকে চূড়ান্ত বৌদ্ধিক আলস্য (‘ইন্টেলেকচ্যুয়াল লেজিনেস’) ছাড়া অন্য কিছু আশা করিনা, তাই তারা যে বিবর্তনবাদের স্বপক্ষে সেই সমস্ত যুক্তি প্রমাণাদি পড়ে দেখবে, বুঝবে ও জানবে, সেই আশংকা নেই আর কি। 😀 সেই নিয়ে অযথা সময় নষ্ট করার প্রয়োজনও তাই দেখিনা। একটি কথা যেটি উঠেই পড়েছে, তার সম্পর্কে কিছু সামান্য কথা বলে যাই। তাতে অবশ্য কিছু লাভ হবে না বলেই আমার ধারণা। তাও জীববিজ্ঞান নিয়ে কাজ করার দরুন এটুকু বলা আমার কর্তব্য বলে মনে করি।

    বানর প্রজাতি থেকে যদি মানুষ বিবর্তিত হয়ে থাকে তাহলে এখনো অনেক বানর প্রজাতি থাকা সত্ত্বেও সেগুলো থেকে মানুষ বিবর্তিত হচ্ছে না কেন।

    বিবর্তন সম্পর্কে এটা খুব প্রচলিত একটি মিস্‌কন্সেপশন; এই প্রশ্নটি সমতুল্য প্রশ্ন হচ্ছে, “যদি আমেরিকান এবং অস্ট্রেলিয়ানরা ইউরোপীয়দের থেকে এসে থাকে, তাহলে এখনও ইউরোপীয় মানুষ আছে কি করে?” এখানে দুটি ব্যাপার আছে। প্রথমত, ‘বানর’ বলতে আমাদের যে মানসিক চিত্রটা ভেসে ওঠে, তার কোনটি থেকেই মানুষের বিবর্তন ঘটেনি। ‘মানবপ্রজাতি’ এবং ‘বানরপ্রজাতি’-র কোন এক সময় পূর্বপুরুষ (কমন অ্যানসেস্টর) একই ছিল। আনুমাণিক ৫ থেকে ৮ মিলিয়ন বছর আগে এই পূর্বপুরুষ থেকে দুটো (বা হয়ত দু’য়ের অধিক) প্রজাতি বা লিনিয়েজ ভাগ হয়ে যায়, খুবই নির্দিষ্ট কিছু সিলেকশন প্রেশার এবং জিন-গত মিউটেশন-এর জন্য। ঠিক সেই অবস্থার কম্বিনেশন বর্তমান সময়ে হয়ে ওঠা দুষ্কর বলেই আর হয়ত এহেন বিভাজন হওয়া সম্ভব হবে না। প্রথম মানবসদৃশ প্রজাতি (‘হোমিনিড স্পিশিজ্‌’)-এর সঙ্গে অবশ্যই প্রথম বানরসদৃশ প্রজাতির অনেক সাদৃশ্য ছিল, কিন্তু আস্তে আস্তে ডাইভারজেন্ট বিবর্তনের ফলে বর্তমান যে আকার আমরা দেখি এবং চিনি, তা প্রকাশ পায়। দ্বিতীয় যে জরুরী কথাটি ধর্মভীরু সৃষ্টিতত্ত্ববাদীরা বুঝে উঠতে পারেনা, সেটা হল সময়ের স্কেলটি। এই পরিবর্তনগুলি ঠিক এক-দুই-দশ বছরে হয়নি বা হয়না, এর জন্য লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি বছর লাগে। এই প্রসঙ্গে আমার থেকে অনেক ভাল অবশ্যই বলবেন প্রোফেসর রিচার্ড ডকিন্স, তাই ঠিক এই প্রশ্নের উপর তাঁর বক্তব্যের একটি ইউটিউব ভিডিও দিয়ে শেষ করছি।
    httpv://www.youtube.com/watch?v=wh0F4FBLJRE

    • dhaka dhaka ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 11:57 পূর্বাহ্ন - Reply

      @কৌশিক,

      বানর প্রজাতি থেকে যদি মানুষ বিবর্তিত হয়ে থাকে তাহলে এখনো অনেক বানর প্রজাতি থাকা সত্ত্বেও সেগুলো থেকে মানুষ বিবর্তিত হচ্ছে না কেন।

      খুবই সুন্দর একটা ভিডিও এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য যদি কেউ একটু ভাবে

    • অনন্ত বিজয় দাশ ফেব্রুয়ারী 13, 2012 at 2:48 অপরাহ্ন - Reply

      @কৌশিক,

      অনেক ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।

  10. বেয়াদপ পোলা ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 9:40 পূর্বাহ্ন - Reply

    বিবর্তনের ভুত আপনাকে পেয়ে বসেছে,। বানর প্রজাতি থেকে যদি মানুষ বিবর্তিত হয়ে থাকে তাহলে এখনো অনেক বানর প্রজাতি থাকা সত্ত্বেও সেগুলো থেকে মানুষ বিবর্তিত হচ্ছে না কেন।
    ফ্রেঞ্চ একাডেমী অব সায়েন্স এর একসময়কার প্রেসিডেন্ট পি পি গ্রাসে বিবর্তনবাদ নিয়ে লেখা-ইভলিউশন অব লিভিং অরগানিজমস-বইয়ের লেখক, তিনি বলেছেন- আজ আমাদের কর্তব্য বিবর্তনবাদের রূপকথাকে ধ্বংস করে ফেলা..বিবর্তনবাদের এ প্রতারণা কখনো অজান্তেই হচ্ছে আবার কিছু দল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এর অবাস্তবতা অস্বীকার করছে।
    এটা তাৎপর্যপূর্ণ যে ছাত্রাবস্থায় আমি যত বিবর্তনবাদের ব্যাপারে জেনেছি..এখন তার সবই তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছি।-বলেছেন প্রফেসর ডেরেক অ্যাজের , সাবেক প্রেসিডেন্ট অব ব্রিটিশ অ্যাসেসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্চমেন্ট অব সায়েন্স এবং সোয়নসী ইউনির্ভাসিটির জিওলজি ও ওশানোগ্রাফি বিভাগের প্রধান।
    ডা. কলিন প্যার্টাসন একজন বিবর্তনবিদ এবং প্যালিয়নটোলজিস্ট ( জীবাশ্মবিদ), তিনি লন্ডন ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের কিউরেটর এবং মিউজিয়ম জার্নালের সম্পাদক, বিবর্তন নিয়ে তার লেখা একাধিক বই আছে, তার বিখ্যাত বই -ইভলিউশন। ১৯৮১ সালে তিনি তার Evolution and Creationism: Can You Tell Me Anything About Evolution? বইতে লেখেন-গত বছর আমার হঠাৎ উপলব্ধি হল গত বিশ বছর ধরে আমি বিবর্তন নিয়ে কাজ করেছি,অথচ এ নিয়ে আমার কাছে একটাও প্রমাণ নেই। এটা আমাকে হতবিহ্বল করে দিল যে কী করে মানুষ এতটা দিন ভুল পথ ধরে এগিয়েছে। আপনি চাইলে আরও অনেক তথ্য সুত্র দিতে পারি্‌, আর আপনাদের বস কি বলেছে দেখুন, 1861 সালে টমাস থর্টন স্কয়ারকে লিখিত এক পত্রে ডারউইন স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেছেন যে তিনি বিবর্তনবাদের ব্যাখ্যায় সত্যিই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এবং একথাও বলেছেন- “তবে, আমি ন্যাচারাল সিলেকশন তত্ত্বে বিশ্বাসী। যদিও এই তত্ত্ব অনুযায়ী কোন প্রজাতি এযাবত পরিবর্তিত হয়ে অন্য আরেকটি প্রজাতিতে পরিবর্তিত হয়েছে- এমন একটি প্রমানও আমি দেখাতে পারবো না, তথাপি আমি এ তত্ত্বে বিশ্বাস করি। আমার এই বিশ্বাসের কারন এই যে, এই তত্ত্ব দ্্বারা সহজেই প্রাণী জগতের শ্রেণী বিভক্তি, ভ্রুনতত্ত, অংগসংস্থান, ভূতাত্তি্বক পরমপরা ও বন্টন ইত্যাদি নানা বিষয় ও ঘটনার চমৎকার ব্যাখ্যা সম্ভব।” – ডারউনের এই পত্রের মূল কপি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে।
    (সূত্র- এম ভারনেটঃ ইভুলিউশান অব দি লিভিং ওয়ালড)
    এখনি অনেকে আসবে যুক্তির নাম এ কু যুক্তি লইয়া। ছলে বলে কৌশলে বিবর্তনের ভুত কে উপরে তুলতেই হবে । যারা নিজেকে বানরের বংশধর ভাবতে ভালবাসে.. থাকুক না তারা সেভাবে থাকতে । এইটা লিখতে লিখতে মনে হল অনেক দিন চিড়িয়া খানায় যাওয়া হয় না, বানর দেখা দরকার, যাবেন নাকি আপনি? :lotpot:

    • ভবঘুরে ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 12:36 অপরাহ্ন - Reply

      @বেয়াদপ পোলা,

      ভাই, এ নিবন্ধের নামকরণের সাথে আপনার প্রকৃতির একটা বেশ মিল লক্ষ্যনীয়। কারন- উদ্ভট ও মনগড়া কথা বলতে আপনার জুড়ি মেলা ভার। আপনি বলেছেন- বানর প্রজাতি থেকে যদি মানুষ বিবর্তিত হয়ে থাকে তাহলে এখনো অনেক বানর প্রজাতি থাকা সত্ত্বেও সেগুলো থেকে মানুষ বিবর্তিত হচ্ছে না কেন। এ নিবন্ধের কোথায় বলা হয়েছে যে বানর প্রজাতি থেকে মানুষ বিবর্তিত হয়েছে? যা বলা হয়েছে তার মোদ্দা কথা হলো- মানুষ ও বানরদের পূর্ব পুরুষ লক্ষ লক্ষ বছর আগে এক ছিল। মূলত মানুষের পূর্ব পুরুষ ছিল এপ, আর এই এপ ও বানররা একসময় এক প্রজাতি ছিল। বর্তমান পর্যন্ত গবেষণা সেটাই নির্দেশ করে। অথচ আপনি কোন কিছু না বুঝে অথবা সবকিছু বুঝেই অত্যন্ত সুকৌশলে অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে বলে বসলেন-

      বানর প্রজাতি থেকে যদি মানুষ বিবর্তিত হয়ে থাকে তাহলে এখনো অনেক বানর প্রজাতি থাকা সত্ত্বেও সেগুলো থেকে মানুষ বিবর্তিত হচ্ছে না কেন।

      বিবর্তনবাদ নিয়ে সেই ডারউইনের সময় থেকে ব্যপক আলোচনা সমালোচনা চলে আসছে। এর কারন এটা পদার্থবিজ্ঞানের মত কোন বিজ্ঞান না যে গণিত নির্ভর। তবে জেনেটিক বিজ্ঞান একে অনেকটাই গনিতের মত বিজ্ঞানে পরিনত করে ফেলেছে। যাহোক, বিগত ১৫০ বছর ধরে অনেক বিজ্ঞানী অনেক সময় এর বিরোধীতা করেছে, কিন্তু এর স্বপক্ষে বলেছে তার চেয়ে কয়েক শ গুণ বেশী বিজ্ঞানী। শুধু বিবর্তনবাদ নয় এমনকি পদার্থ বিজ্ঞানেও এ ঘটনা ভুরি ভুরি। খোদ আইনস্টাইনই একটা বড় প্রমান। তার আপেক্ষিক তত্ত্ব ভবিষ্যদ্বানী করে প্রসারমান মহাবিশ্বের, অথচ তিনি নিজে আবার সেটা বিশ্বাস করতে পারেন নি যে কারনে তাকে একটা মহাজাগতিক ধ্রুবক আমদানী করতে হয় যদিও এক পর্যায়ে সে ভুল তিনি বুঝতে পেরে উক্ত ধ্রুবক বর্জন করেন। এখন আপনি তার মহাজাগতিক ধ্রুবকের কথা তুলে ধরে বলতে পারেন যে আইনষ্টাইন স্থির মহাবিশ্বের কথা বলে গেছিলেন। যারা বেশী খবর রাখে না ও একই সাথে ঈশ্বর সৃষ্ট স্থির মহাবিশ্বে বিশ্বাসী সাথে সাথে তারা আপনাকে বাহবা দেবে। বিবর্তন বাদের ক্ষেত্রেও কোন এক বিজ্ঞানী কবে কি বলেছে- সেটাই আপনার কাছে বেশী গুরুত্বপূর্ণ, অথচ তার বিপরীতে শত শত হাজার হাজার বিজ্ঞানী কি বলেছে তা আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাছাড়াও আপনার কথিত বিজ্ঞানীর বক্তব্যের বিপরীতে যে তার চেয়েও প্রসিদ্ধ বিজ্ঞানী বক্তব্য দিয়েছেন তা আপনার জানা নেই বা জানা থাকলেও চেপে যাচ্ছেন। এটাই আপনাদের মত মানুষের স্বভাব। আপনাদের কাছে যদু মধু রহিম করিমরা আপনাদের স্বপক্ষে ব্ক্তব্য দিলে তারা হয়ে যায় মহাপন্ডিত। তার জল জ্যন্ত উদাহরণ হলো মরিস বুকাইলি। এই লোক একজন সাধারন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, কোরানের মধ্যে বিজ্ঞান আবিষ্কার করে সে আপনাদের কাছে হয়ে গেছে শুধু ফ্রান্সই নয় গোটা বিশ্বের সবচাইতে বড় বিজ্ঞানী। এখন বুঝুন- কারা এখনও মানুষ না হয়ে বানরই থেকে গেছে।

      • আমি আমার ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 3:09 অপরাহ্ন - Reply

        @ভবঘুরে,
        এই বেয়াদপ পোলা কে কিছু বোঝানোর চেষ্টা করা আর উলুবনে মুক্তা ছড়ানো এক কথা। উনি বিভিন্ন প্রবন্ধে কিছু অসাড় মন্তব্য করে লাপাত্তা হয়ে যায়। উনার মত লোকেরা শপথ করেছে, যাঁদের লেখা উনাদের মতের সাথে মিলবে, শুধু সেগুলোই গ্রহণ করবে আর বাকিদের ব্যাপারে উনাদের মতামত “অজ্ঞ”। একজন সুস্থ চিন্তার মানুষ কিভাবে এই টাইপের প্রশ্ন করে ভাবতেই অবাক লাগে।

        @বেয়াদপ পোলা,

        Can You Tell Me Anything About Evolution

        এই লেখাটা ইউ টিউব এ সার্চ করে দেখুন, আপনার মত আরেকজন বিজ্ঞ কিভাবে ডারউইন এর বির্বতনবাদ কে ভূল প্রমাণ করছে? জিনের সৃষ্টি সম্মন্ধে নতূন কোন তথ্য পেলে ও পেতে পারেন।

      • বেয়াদপ পোলা ফেব্রুয়ারী 13, 2012 at 7:48 অপরাহ্ন - Reply

        @ভবঘুরে, বুজতে সময়ই লাগেনি যে কিছু না জেনে সঠিকভাবে অনেক কিছু জানার ভান করেন, আচ্ছা সরল জীবের দেহে ধীরে ধীরে নতুন নতুন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ‘সংযোজিত’ হয়ে মিলিয়ন মিলিয়ন প্রকারের জটিল জীব-জন্তুর উদ্ভব হয়েছে। বিবর্তন তত্ত্ব সত্য হলে তা কিন্তু হতেই হবে। আর শিং-ও-লেজ বিহীন প্রাণী থেকে ধীরে ধীরে শিং-ও-লেজ ওয়ালা প্রাণী বিবর্তিত হওয়ার প্রমাণ দেখাতে পারবেন কি ? একই সাথে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতিতে।। চোখের বিবর্তনবাদ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেন কি…চোখের কর্নিয়া, কন্জাংকটিভা, আইরিশ, পিওপিল, চোখের লেন্স, রেটিনা, কোর‌য়েড, চোখের পেশী, অশ্রু গ্রন্থি ঠিক না থাকে, তবুও কিছুদিনের মধ্যে চোখের ক্ষতি হবে এবং তা কার্যক্ষমতা হারাবে , বিশেষ সৃষ্টি ছাড়া চোখের অস্তিত্ব কিভাবে বিবর্তন দিয়ে ব্যাখ্যা করবেন যেখানে চোখের সবগুলো অঙ্গাণু উপস্থিত থাকার পরও যদি অশ্রু উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, তবে শীঘ্রই চোখ শুষ্ক হয়ে অন্ধ হয়ে যাবে। চোখের এই জটিল ডিজাইন এর কাছে বিবর্তনবাদ টিকে কিভাবে, এইরকম শুধু একটা না হাজারো কিছুর ব্যাখ্যা থেমে যায় বিবর্তনবাদ ব্যাখ্যা এর কাছে , ফলে এটা এখনও ঝুলন্ত অবস্তা, তাই এতো কিছুর পরে ও যে বিবর্তন এর পক্ষ নিয়ে চিল্লান মুলত এর পিছে কারন ধর্ম বিরধিতা, যদি তাই হয় তাহলে নৈতিক ভাবে আপনার ধর্ষণ কে ও সমর্থ দিতে হবে এবং বিবর্তনবাদীয় সাইকোলজি অনুযায়ী মন্দ স্বভাব (Bad behavior)-কে পজিটিভ দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করতে হবে। :guli:

    • রনবীর সরকার ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 2:49 অপরাহ্ন - Reply

      @বেয়াদপ পোলা,
      ভাই আপনি ঠিকই বলেছেন। কতগুলা লোক হুদাই বিবর্তনবাদ নিয়ে চিল্লায়। এরা বুঝে না যে হিন্দুরা সৃষ্টি হয়েছে মনু আর শতরূপা থেকে আর মুসলিমরা হয়েছে আদম আর হাওয়া হতে। আরে মানুষ নামটাইতো মনু হতে এসেছে , তাইলে মানুষ কেমনে হোমিনিড থেকে উদ্ভূত হইছে? দেখেন ইংরেজীর man এর সাথেও কিন্তু মনুর একটা মিল আছে।
      বিবর্বতনবাদীরা বলতে পারে আরে ভাই ডাইনোসারদের আমলে তো মনু বা আদমের সন্তানের কোন ফসিল পাওয়া যায়নি। আরে সেইসময়তো মনু বা আদমের সন্তানদের মৃত্যুর পর দাহ করা হতে। তাহলে কেমন করে ফসিল পাওয়া যাবে? আসলে দূর্ঘটনায় কোন হিন্দু মারা গেলে মনু তার অলৌকিক শক্তিবলে তা জানতে পারত এবং পরবর্তীতে মৃতব্যক্তির দাহ করত। এবং মুসলমান মারা গেলে আদম এই দাহকাজটা সম্পন্ন করত। আদম পরবর্তীতে চিন্তা করল যে এইভাবে দাহ করলেতো পরবর্তীতে কোন ফসিল পাওয়া যাবে না। তাই বুদ্ধিমান আদম প্রথম কবর দেবার রীতি চালু করল।

      বিবর্তনবাদীরা আবার ডি.এন.এর কত শতাংশ মিল আছে তা দ্বারা গরিলা, শিম্পাঞ্জী, ওরাংওটাং দের আমদের কাজিন বানিয়ে দেয় কাউকে দূরসম্পর্কের আর কাউকে নিকটসম্পর্কের। আরে আল্লাহ এত কিছু সৃষ্টি করার পরতো খুবই ক্লান্ত হয়ে পরেছিল। তাই আর বেশি variation না করে একটু একটু মিল রেখেছিল। আর এজন্য কিছু কিছু প্রাণীর সাথে অন্য প্রাণীদের এনাটমির এবং অন্যান্য কিছু মিল থাকবে সেটাই তো স্বাভাবিক। হিন্দুদের ব্রহ্মার ক্ষেত্রেও সম্ভবত এমনটা ঘটেছিল। নিন্দুকেরা বলতে পারে তাহলে বিভিন্ন প্রাণীদের মধ্যেও তো হিন্দু-মুসলিম বিভাজন থাকতে পারে। তাদের জন্য বলছি। আরে ভাই সেটা তো আছেই। সব প্রাণীদের ক্ষেত্রে জানিনা। তবে পিপীলিকাদের ক্ষেত্রে লাল পিপড়া হল মুসলমান এবং কাল পিপড়া হল হিন্দু।

      দেখা যাক বিবর্তনবাদীরা এখন কি বলেন। উনাদের উত্তরের প্রেক্ষিতে আলোচনা আরো এগিয়ে নেয়া যাবে। কি বলেন ভাই?

    • সৈকত চৌধুরী ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 3:07 অপরাহ্ন - Reply

      @বেয়াদপ পোলা,

      ভাইজান কি জোকার নায়কের ভিডু দেখে এত জ্ঞান অর্জন করেছেন। এই লেখাটি ভাল করে দেখেন

      জাকির নায়েকের মিথ্যাচার: প্রসঙ্গ ‘বিবর্তন’

      বানর প্রজাতি থেকে যদি মানুষ বিবর্তিত হয়ে থাকে তাহলে এখনো অনেক বানর প্রজাতি থাকা সত্ত্বেও সেগুলো থেকে মানুষ বিবর্তিত হচ্ছে না কেন।

      উত্তর পড়েন এখান থেকে

      মানুষ যদি বানর থেকে বিবর্তিত হয় তাহলে বানরগুলো এখনও পৃথিবীতে রয়ে গেলো কি করে?

      যদি বানর সদৃশ জীব থেকে একসময় মানুষের বিবর্তন ঘটে থাকে তাহলে এখন কেনো তা আর ঘটছে না?

    • নিটোল ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 4:06 অপরাহ্ন - Reply

      @বেয়াদপ পোলা,

      বানর প্রজাতি থেকে যদি মানুষ বিবর্তিত হয়ে থাকে তাহলে এখনো অনেক বানর প্রজাতি থাকা সত্ত্বেও সেগুলো থেকে মানুষ বিবর্তিত হচ্ছে না কেন।

      ভাইজান, মুক্তমনায় কমেন্ট করতে আসছেন ভালো কথা। তবে আপনে বোধ হয় বামপাশের বিবর্তন আর্কাইভে ঢুইকা কী লেখা আছে সেইটা দেখার কোনো চেষ্টাও করেন নাই। এই প্রশ্নটা সব বিবর্তন-অজ্ঞই করে থাকে। সহস্রবার এই মুক্তমনাতেই এই প্রশ্নের জবাব দেয়া হয়েছে। লিংক দুইটা দেখেন – মানুষ যদি বানর থেকে বিবর্তিত হবে তাহলে বানরগুলো এখনও পৃথিবীতে রয়ে গেলো কি করে? এবং যদি বানর সদৃশ জীব থেকে একসময় মানুষের বিবর্তন ঘটে থাকে তাহলে এখন কেনো তা আর ঘটছে না? । আশা করি প্রশ্নের উত্তর পাবেন। এবং আরো আশা করি বিবর্তন সম্পর্কিত নতুন কোনো প্রশ্ন পুরো বিবর্তন আর্কাইভ পড়ে এসে তারপর করবেন।

    • পৃথ্বী ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 4:39 অপরাহ্ন - Reply

      @বেয়াদপ পোলা,

      ডা. কলিন প্যার্টাসন একজন বিবর্তনবিদ এবং প্যালিয়নটোলজিস্ট ( জীবাশ্মবিদ), তিনি লন্ডন ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের কিউরেটর এবং মিউজিয়ম জার্নালের সম্পাদক, বিবর্তন নিয়ে তার লেখা একাধিক বই আছে, তার বিখ্যাত বই -ইভলিউশন। ১৯৮১ সালে তিনি তার Evolution and Creationism: Can You Tell Me Anything About Evolution? বইতে লেখেন-গত বছর আমার হঠাৎ উপলব্ধি হল গত বিশ বছর ধরে আমি বিবর্তন নিয়ে কাজ করেছি,অথচ এ নিয়ে আমার কাছে একটাও প্রমাণ নেই।

      http://www.talkorigins.org/faqs/patterson.html

      মিথ্যা কথা বললে কত নেকি কামাই হয়?

    • অনন্ত বিজয় দাশ ফেব্রুয়ারী 13, 2012 at 2:47 অপরাহ্ন - Reply

      @বেয়াদপ পোলা,

      বিবর্তনের ভুত আপনাকে পেয়ে বসেছে,।

      বিবর্তন পরিপূর্ণভাবে জীববিজ্ঞানের অংশ। অর্থাৎ বিজ্ঞানেরই গুরুত্বপূর্ণ একটা পার্ট। জীন-পরী-দৈত্য-দানো-গেলমান-হুরের ভূত মাথায় পেয়ে বসার চেয়ে “বিজ্ঞানের ভূত” (আপনার ভাষ্য মতে) মাথায় পেয়ে বসে সেটায় আমার আপত্তি নেই।

      বানর প্রজাতি থেকে যদি মানুষ বিবর্তিত হয়ে থাকে তাহলে এখনো অনেক বানর প্রজাতি থাকা সত্ত্বেও সেগুলো থেকে মানুষ বিবর্তিত হচ্ছে না কেন।

      বিবর্তন সম্পর্কিত এই ভ্রান্ত ধারণার উত্তর ইতোমধ্যে পেয়ে গেছেন নিশ্চয়ই একাধিক ব্লগারের মন্তব্যে। তাই আমি আর নতুন করে এই প্রসঙ্গ টানলাম না।

      ফ্রেঞ্চ একাডেমী অব সায়েন্স এর একসময়কার প্রেসিডেন্ট পি পি গ্রাসে বিবর্তনবাদ নিয়ে লেখা-ইভলিউশন অব লিভিং অরগানিজমস-বইয়ের লেখক, তিনি বলেছেন- আজ আমাদের কর্তব্য বিবর্তনবাদের রূপকথাকে ধ্বংস করে ফেলা..বিবর্তনবাদের এ প্রতারণা কখনো অজান্তেই হচ্ছে আবার কিছু দল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এর অবাস্তবতা অস্বীকার করছে।

      পিয়েরে পল-গ্রাসে (1895-1985)নব্যলামার্কবাদের একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। পল গ্রাসে তাঁর L’évolution du vivant (1973) বইয়ে ডারউইনবাদের বিরোধিতা করেছেন। “জীবন্ত জীবাশ্ম”কে (সিলাকান্থ মাছ) বিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করতে তাঁর আপত্তি ছিল!! ইত্যাদি। অথচ আজকের যুগে জীবন্ত জীবাশ্মকে বিবর্তনের অতিগুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে জীববিজ্ঞানে তুলে ধরা হয়। জীবন্ত জীবাশ্ম কিভাবে বিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তা জানতে চাইলে দেখতে পারেন এসময়ের বিশিষ্ট ইভো-ডেভো বিজ্ঞানী সন বি. ক্যারলের লেখা “The Making of the Fittest” (2006) বইটি। উল্লেখ্য পল গ্রাসের লামার্কীয় বক্তব্যের বিভিন্ন সময় তীব্র বিরোধিতা করেছেন ইংল্যান্ডের খ্যাতিমান বংশগতিবিদ জে. বি. এস. হ্যালডেন, আমেরিকার বিশিষ্ট ফসিলবিজ্ঞানী জর্জ সিম্পসনসহ প্রমুখ। আজকের যুগে অনেকেই জানেন, লামার্কিজমের সাথে ডারউইনীয় বিবর্তনের স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। এবং লামার্কিজম জীববিজ্ঞানের জগতে প্রায় পরিত্যক্ত একটি মতবাদ। এ অবস্থায় সবচেয়ে আশ্চর্যজনক লাগে আমার কাছে বিবর্তন-বিরোধীরা জীববিবর্তনের বিরোধিতা করতে গিয়ে কেনই বা বারেবারে লামার্কিজমকে উপস্থাপন করে থাকেন? তাঁদের মস্তকে কি এটা এখনও আসন গেড়ে বসে নি, “ডারউইনীয় বিবর্তন এবং লামার্কিজম দুটো বিষয় মোটেও এক নয়।” এই সামান্য বোধদয়ের জন্য আর কতকাল আমাদের অপেক্ষা করতে হবে!!

      ডা. কলিন প্যার্টাসন একজন বিবর্তনবিদ এবং প্যালিয়নটোলজিস্ট ( জীবাশ্মবিদ), তিনি লন্ডন ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের কিউরেটর এবং মিউজিয়ম জার্নালের সম্পাদক, বিবর্তন নিয়ে তার লেখা একাধিক বই আছে, তার বিখ্যাত বই -ইভলিউশন।

      কলিন প্যাটার্সন সম্পর্কে না জেনেই “হুইন্না কথায় ফাল দিয়া” ভুল তথ্য পরিবেশনের দায়ে আপনাকে এখন কি করা যেতে পারে? ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিব! নাকি ….! (ভেবে বলবেন।)

      এখনি অনেকে আসবে যুক্তির নাম এ কু যুক্তি লইয়া। ছলে বলে কৌশলে বিবর্তনের ভুত কে উপরে তুলতেই হবে।

      ধর্মবাদীদের মুখে যুক্তির কথা! ওরে এযে ভূতের মুখে রাম নাম! বরং ধর্মবাদীরাই বিবর্তনের উত্থানে নিজেদের অস্তিত্ব সংকটে শঙ্কিত হয়ে প্রতি পদে পদে বাগড়া দিয়েছে।

  11. তামান্না ঝুমু ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 9:23 পূর্বাহ্ন - Reply

    বিবর্তনবাদের কথা আল্লাপাকও বলেছেন। তিনি বলেছেন আমরা লেজকাটা বানর।

    • অনন্ত বিজয় দাশ ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 6:04 অপরাহ্ন - Reply

      @তামান্না ঝুমু,

      আ! কী অদ্ভুত মিল! জীববিজ্ঞানীরাও বলছে আমরা নেকেড এপ!

  12. প্রণয় ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 9:19 পূর্বাহ্ন - Reply

    চমত্‍কার লাগলো…

  13. অলোক ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 8:11 পূর্বাহ্ন - Reply

    অবশ্যই অামরা সবাই বানর জাতীয় প্রাণী।

  14. আকাশ মালিক ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 6:48 পূর্বাহ্ন - Reply

    সহজ বোধগম্য ভাষায় অনুবাদটা পড়তে বেশ ভালই লাগলো। তাড়াহুড়া করে প্রকাশ করার ছাপ রয়ে গেছে বেশ কিছু জায়গায়। একবার চোখ বুলালেই মিসিং অক্ষরগুলো ধরা পড়বে। আর ছবিগুলো ছোট করে দেয়ার জন্যে এডমিনকে একটা কল দিলে ভাল হয়। আমি মনে করি শিরোনাম আমি কি বানর আর সাথে কলাটা দিয়ে দিলে আরো সুন্দর হতো।

    [img]http://i1088.photobucket.com/albums/i332/malik1956/untitledyutk.jpg[/img]

    • অনন্ত বিজয় দাশ ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 6:08 অপরাহ্ন - Reply

      @আকাশ মালিক,

      মালিক ভাই, পুরাতন বদঅভ্যাস। বিজয় থেকে ইউনিকোডে কনভার্ট করে দিয়েছি। জায়গায় জায়গায় অক্ষর গায়েব হয়ে গেছে। মহামুশকিল! দেখি ঠিক করে দিব তাড়াতাড়ি আশা করছি।

      ফ্রান্সিসকো আয়ালার এই বইয়ের প্রচ্ছদটা দুর্দান্ত!

  15. অভীক ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 2:42 পূর্বাহ্ন - Reply

    ডারউইন দিবসের জন্য পারফেক্ট একটা পোস্ট। বেশ ভাল লাগল। তবে আমার মনে হয় শিরোনামটা ‘আমরা কি বানর?’ হলে বেশি ভাল দেখাত।

    [img]https://fbcdn-sphotos-a.akamaihd.net/hphotos-ak-ash4/394111_10150551647147675_650347674_9346654_1784955508_n.jpg[/img]

    • অনন্ত বিজয় দাশ ফেব্রুয়ারী 12, 2012 at 6:12 অপরাহ্ন - Reply

      @অভীক,

      ধন্যবাদ অভীক। ঠিকই বলেছ। শিরোনামটা শুনলে কেমন যেন একটু বেমানান লাগে। সিদ্ধার্থকেও জিজ্ঞেস করেছিলাম কি নাম দেয়া যায়! … শেষমেশ এটাই দিলাম লেখকের লেখার মূল থিমটা ধরে রাখার জন্য।

মন্তব্য করুন