কোরানিক সৌরজগত ও কিছু প্রশ্ন

ইদানিং একটা বিষয় একেবারেই মাথায় ঢুকছে না।তা হলো-ইসলামের মূল ভিত্তি ইমান তথা অন্ধ বিশ্বাস হওয়া সত্ত্বেও ইসলামকে কেন নানা রকম উল্টা পাল্টা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।ইসলামকে কেন যুক্তি সিদ্ধ করতে হবে? অন্ধ বিশ্বাস ব্যপারটাই হলো বিনা প্রশ্নে বিশ্বাস । কিসে বিশ্বাস? আল্লাহ ও তার রসূল মোহাম্মদে বিশ্বাস।এ বিশ্বাস স্থাপনের পর, এটাও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হবে যে মোহাম্মদ যা বলছেন, যা করছেন সবই আল্লাহর নির্দেশে করছেন।তার কোন কথা বা কর্মকান্ড সম্পর্কে সন্দেহমূলক প্রশ্ন করা যাবে না।আপাত দৃষ্টিতে তার কর্মকান্ডে যদি কোন অসঙ্গতি দেখা যায়,বিশ্বাস করতে হবে সেসব আমরা বুঝতে পারছি না , বোঝার ক্ষমতাই আমাদের নেই, হয়ত সেসব কাজের মধ্যে নিগুঢ় কোন তত্ত্ব নিহিত যা একমাত্র মোহাম্মদ নিজে আর তার আল্লাহ জানে।অথচ মজার বিষয় হচ্ছে ইদানিং এক ধরনের তথাকথিত ইসলামী পন্ডিত ও চিন্তাবিদের আবির্ভাব ঘটেছে যারা প্রানান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছে মোহাম্মদের সমস্ত কর্মকান্ডের যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠায় ও কোরানের মধ্যে সকল রকম বিজ্ঞানের তত্ত্ব ও তথ্যের সমাবেশের প্রমানে।তাহলে এখন আমরা কোনটাকে গ্রহণ করব? ইমান নাকি যুক্তিকে? এ দুটো পরস্পর বিরোধী, এরা এক সাথে থাকতে পারে না।এ অতি সাধারণ বিষয়টি কি ইসলামী পন্ডিতরা বুঝতে পারছে না? যেটা করা উচিত- ইসলামের কোন বিষয়েই সন্দেহমূলক প্রশ্ন করা যাবে না, অন্ধভাবে বিশ্বাস ও অনুসরণ করতে হবে, যেহেতু অন্ধ বিশ্বাসই হলো ইসলামের মূল ভিত্তি বা স্তম্ভ। আর যদি ইসলামকে যুক্তি সিদ্ধ করতে হয়, তাহলে যারা সন্দেহবাদী তাদের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে ইসলামী পন্ডিতদেরকে। যদি কোরান হাদিসের শুধুমাত্র একটা প্রশ্নেরও উত্তর তারা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে ইসলাম হলো ভিত্তিহীন ও মোহাম্মদের নিজের কিছু কথামালা ছাড়া আর কিছু নয়।কিছু কিছু বিশ্বাস করতে হবে, আর কিছু কিছু যুক্তি সিদ্ধ করা হবে- এ ধরণের সুবিধাবাদিতা একেবারেই গ্রহণযোগ্য হবে না।
ইহুদি, খৃষ্টান, হিন্দু ইত্যাদি ধর্মগুলো নখদন্তহীন হয়েছিল যখন এদের পন্ডিতরা নিজেদেরকে ধর্মকে বিশ্বাসের পর্যায় থেকে যুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল অথবা এদের অনুসারীরা একে যুক্তি সিদ্ধ করতে চেয়েছিল অথবা শিক্ষিত সম্প্রদায়ের লোকেরা ধর্মটাকে যুক্তির পাল্লায় মাপতে চেয়েছিল।তখন দেখা গেল তাদের তথাকথিত ঐশী কিতাবে বর্ণিত বহু কাহিনী যুক্তিসিদ্ধ হয় না।মনে হয় আষাড়ে গল্প।ইহুদী খৃষ্টানদের বইতে যেমন আছে-

আদিতে ঈশ্বর আকাশমন্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করিলেন।পৃথিবী বস্তুহীন ও প্রানশূণ্য ছিল, এবং অন্ধকার জলের উপর ছিল ও ঈশ্বরের আত্মা জলের উপর ব্যপ্ত ছিলেন। পরে দীপ্তি হউক ঈশ্বর এই আজ্ঞা করিলে দীপ্তি হইল।তখন ঈশ্বর দীপ্তিকে উত্তম দেখিয়া অন্ধকার হইতে তাহাকে পৃথক করিয়া দীপ্তির নাম দিবস ও অন্ধকারের নাম রাত্রি রাখিলেন।এবং সন্ধ্যা ও প্রাত:কাল হইলে প্রথম দিবস হইল।জেনেসিস, অধ্যায়-১, বাক্য-১-৫

এ হলো বাইবেল বর্ণিত সৃষ্টি তত্ত্ব। সাধারণ একজন মানুষ যার আধুনিক বিজ্ঞান সম্পর্কে সামান্যতম জ্ঞান আছে সেও যদি উপরোক্ত বাক্যগুলো পাঠ করে, সে কি বলবে এটা সত্যি সত্যি যুক্তিযুক্ত? বরং মনে করবে রূপকথার কোন গল্প। যদি যুক্তির খাতিরে বলা হয়, যে সময়ে এসব কিতাব রচিত হয় তাদের মানসিক স্তর এত উন্নত ছিল না যে আধুনিক যুগের সৃষ্টিতত্ত্ব তাদের কাছে বর্ণনা করলে তা তারা বুঝত।তবে উপরোক্ত বর্ণনা থেকেও তারা খুব বেশী কিছু বুঝেছিল তাও মনে করার কোন কারন নেই। ভাল কথা, এবার নিচের বর্ণনাটা দেখা যাক,

সৃষ্টির আগে থেকেই ঈশ্বর মানববোধের অতীত এক মাত্রায় অবস্থান করে আছেন।সেটা না শূন্য না অশূন্য। পরে তিনি জগত সৃষ্টির মনস্থ করলেন, কারন সৃষ্টিতেই সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের মাহাত্ম, সেটাই তাঁর বৈশিষ্ট্য।অত:পর তিনি ‘হও’ বললেন, শূণ্যতা থেকে তখন অপরিসীম তেজরাশি বিস্ফোরিত হয়ে কল্পনাতীত বেগে চতুর্মাত্রায় চতুর্দিকে প্রসারিত হতে লাগল, যা আজও প্রসারমান,পরে তেজরাশি স্থানে স্থানে সংকোচিত ও ঘনীভূত হয়ে তারকারাজি ও পৃথিবীর সৃষ্টি করল।মহামহিম ঈশ্বর পৃথিবীকে প্রাণহীন ও উষর দেখলেন।তিনি পৃথিবীতে ক্রমশ: নানা রকম জীব জন্তু, গাছ পালায় সজ্জিত করার ব্যবস্থা করলেন।তারপরেও কি যেন একটার অভাব রয়ে গেল।দুপেয়ে এক প্রাণী যার নাম মানুষ পুরুষ ও নারী রূপে সৃষ্টি করে সে অভাব পূরণ করলেন।এ প্রাণীর বৈশিষ্ট্য এরা চিন্তা করতে জানে, ঈশ্বরের মহিমা কীর্তন করতে জানে- আর সেটাই তাদের পরীক্ষা।

বাইবেলের বর্ণনা যদি উক্ত রূপ থাকত তাহলে আজকের মানুষ গুলো বিস্ময়ে বিস্মিত হতো এই ভেবে যে কিভাবে বিশ্ব সৃষ্টির এত নিখুত বর্ণনা দেয়া আছে সেই কয়েক হাজার বছর আগে থেকে বাইবেলে।মানুষ নির্দ্বিধায় স্বীকার করত এধরণের বর্ণনা সেই স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের ছাড়া আর কারও হতে পারে না। উপরোক্ত দুটো বর্ণনাতেই কোন বিজ্ঞান নির্ভর পরিভাষাও ব্যবহার করা হয় নি।অত:পর বাইবেলে যে সব নানা রকম কিচ্ছা কাহিনী আছে তার সব গুলোকে বিশ্বাস করা ছাড়া মানুষের আর উপায় থাকত না।
আলোচনার খাতিরে ধরে নেয়া হলো যে- বাইবেলে ঈশ্বর প্রথমে তার প্ররিত পুরুষদেরকে ওরকমভাবেই লিখতে বলেছিল, হয়ত লিখে রেখেও ছিল। কিন্তু কালক্রমে, মানুষ ওসব কথা বুঝতে না পেরে পাল্টিয়ে নিজেদের মত করে লিখতে থাকে।তাই আজকের বাইবেলে ওরকমভাবেই লেখা দেখা যায়।একারনে ঈশ্বর সর্বশেষ প্রেরিত পুরুষ মোহাম্মদকে পাঠাল সব কিছু ফাইনাল করে একটা কিতাবে লিখে রাখতে যাতে করে আর কেউ পাল্টাতে না পারে।এক্ষেত্রে সবচেয়ে বাস্তব সম্মত ও সহজ পথ হতো মোহাম্মদের কাছে একটা আস্ত কিতাব জিব্রাইলের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়া। সে কিতাবের পাতা হতো-এমন ধরনের সিন্থেটিক কাগজ যা হাজার হাজার বছরেও নষ্ট হতো না।এটা করা সর্ব শক্তিমান ঈশ্বরের জন্য ছিল অতি সামান্য একটা কাজ মাত্র।কিন্তু মোহাম্মদের আল্লাহ কেন যে সেটা করে নি সেটা বোঝা মুস্কিল।তবে একটা উত্তর হতে পারে, পূর্বের কোন প্রেরিত পুরুষের কাছেই এ ধরণের কোন রেডিমেট কিতাব এক সাথে প্রেরণ করা হয় নি।কিন্তু কথা হলো-সর্বশেষ নবীর কাছে কেন রেডিমেড কিতাব পাঠাবে না, যখন ঈশ্বর দেখল যে আগের নবীদের কাছে পাঠানো মৌখিক কিতাব নবীদের অনুসারীরা বার বার পাল্টে ফেলেছে? যাহোক, তার পর আমরা দেখেছি মোহাম্মদের কিতাবের কি হাল, কিভাবেই বা সেটাকে সংকলন করা হয়েছিল। সহি হাদিসে বলা হয়েছে- আয়াত লেখা পাতা ছাগলে খেয়ে ফেলেছিল, কিছু কিছু আয়াত মুখস্থ করা মুসলমান যুদ্ধে নিহত হওয়ায় আয়াতগুলোও হারিয়ে গেছে,কিছু আয়াত আবার সযতনে কোরানে লিপিবদ্ধও হয় নি। এর বিস্তারিত বিবরণ এখানে, এখানে

এবার আমরা দেখি সৌরজগত সম্পর্কে মোহাম্মদ কি বলেছেন আর তার আল্লাহর কোরানেই বা কি বলেছে। প্রথমেই নিচের হাদিসটি দেখা যেতে পারে-

আবু যর বর্ণিত- তিনি বলেন একদা সূর্য অস্তমিত হইলে হুযুর আমাকে বলিলেন, তুমি কি জান সূর্য কোথায় গমন করে ? আমি বলিলাম, আল্লাহ আর রসুলই ভাল জানেন। তিনি বলিলেন- উহা যাইতে যাইতে আরশের নীচে পৌছিয়া আল্লাকে সিজদা করতে থাকে, তারপর পূনরায় উদিত হইবার অনুমতি চায় এবং তাহাকে অনুমতি দেওয়া হয়। অচিরেই এক দিন আসিবে যখন সে সিজদা করিবে কিন্তু তাহা গৃহীত হইবে না, সে যথারীতি উদিত হইবার অনুমতি চাহিবে কিন্তু তাহাকে অনুমতি দেওয়া হইবে না। তাহাকে বলা হইবে যে পথে আসিয়াছ সেই পথেই ফিরিয়া যাও। তখন সে পশ্চিম দিক হইতেই উদিত হইবে। ইহাই হইল আল্লাহতায়ালার এই বানীর মর্ম এবং সূর্য তাহার নির্ধারিত কক্ষ পথে পরিভ্রমন করে, উহাই সর্ব শক্তিমান মহাজ্ঞানী আল্লাহর নির্ধারিত বিধাণ কোরান,৩৬:৩৮)। সহি বুখারি, বই-৫৪, হাদিস-৪২১

সুতরাং জানা গেল, সূর্য কেন্দ্রিক যে সৌরজগতের কথা আমরা জানি তা নিতান্তই ভূয়া ও ত্রুটিপূর্ণ। বিজ্ঞানের মাধ্যমে আমাদের জানা সৌরজগতের যে মডেল তা থেকে আমরা জানি- সূর্যকে কেন্দ্র করে ৯ টি (প্লুটোকে বাদ দিলে ৮টি) গ্রহ অনবরত ঘুরে মরছে। আমাদের পৃথিবী নামক গ্রহটিও উক্ত ৯ টির একটি অন্যতম গ্রহ হওয়ায় সেটিও সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরে মরছে, সম্পূর্ন এক পাক ঘুরে আসতে সময় লাগে পৃথিবীর মাপে ৩৬৫ দিন ৬ ঘন্টা।আর যেহেতু পৃথিবী তার কক্ষপথে ঘোরার সময় নিজের উপর পাক খেতে থাকে ঘূর্ণায়মান লাটিমের মত, সে কারনেই আমরা পৃথিবীর কোন নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থানের সাপেক্ষে কয়েক ঘন্টা পর পর সূর্যকে উদিত হতে ও অস্ত যেতে দেখি যাকে বলা বাহুল্য দিন ও রাত হিসাবে আখ্যায়িত করে থাকি।চুড়ান্ত বিচারে, সূর্য কখনই উদয় অথবা অস্ত যায় না।সেকারনে পৃথিবীর এক পৃষ্ঠে দিন হলে অপর পৃষ্ঠে হয় রাত, আর সে পৃষ্ঠে যখন দিন তখন অপর পৃষ্ঠে হয় রাত।আরও সূক্ষ্মভাবে, পৃথিবীর পাক খাওয়ার গতির সাথে তার সূর্যালোকিত ও অন্ধকার অংশ প্রতি নিয়ত পরিবর্তিত হতে থাকে। যে কারনে জাপানে যখন সূর্য উদিত হয়, তখন থাইল্যন্ডে ভোর রাত, বাংলাদেশে মাঝ রাত পার হয়ে গেছে, পাকিস্তান বা ইরানে তখন মাঝ রাত। এর পর জাপানে যতই বেলা বাড়তে থাকে তার সাথে সাথে প্রথমে থাইল্যন্ডে সূর্য ওঠে, এর পর বাংলাদেশে সূর্য ওঠে, এর ওঠে পাকিস্তানে, তার পর ওঠে ইরানে, এভাবেই যত পশ্চিমদিকে যাওয়া যাবে বিষয়টা এভাবেই ঘটতে থাকবে। এর বিপরীতটাও সত্য, যেমন- জাপানে প্রথম সন্ধ্যা হয়, এক ঘন্টা পর থাইল্যন্ডে সন্ধ্যা হয়, এর দুই ঘন্টা পর বাংলাদেশে সন্ধ্যা হয়, এর এক ঘন্টা পর পাকিস্তানে সন্ধ্যা হয় এরকম। যার মোদ্দা কথা হলো-গোটা পৃথিবী সাপেক্ষে সব সময়ই দিন ও রাত যুগপৎ ভাবেই বিরাজ করে। গোটা পৃথিবীতে কখনই সম্পূর্ন দিন অথবা রাত বিরাজ করে না।কিন্তু আমাদের এ জানা মিথ্যা কারন দেখা যায়-সর্বশ্রেষ্ট বিজ্ঞানী মোহাম্মদের মতানুযায়ী,পৃথিবীতে যখন রাত বা দিন হয় তখন গোটা পৃথিবী ব্যপী তা হয়। গোটা পৃথিবীতে যখন রাত নামে তখন সূর্য আল্লাহর আরশের নীচে গিয়ে জিকির করতে থাকে এবং আবার উদিত হওয়ার অনুমাতি চায়।আল্লাহ দয়া পরবশ হয়ে তাকে অনুমতি দিলেই তবে সে পূনরায় উদিত হয় ও পৃথিবীতে দিনের আবির্ভাব ঘটে, আর মানুষ জন তাদের কাজ কর্ম শুরু করতে পারে। এটাই আল্লাহর বিধাণ ও বলা বাহুল্য,এটা মানব জাতির প্রতি আল্লাহর অপরিসীম করুনার নিদর্শনও বটে,কারন তিনি দয়া করে সূর্যকে উদিত হওয়ার অনুমতি দেন বলেই মানুষজন দিনে কাজ কর্ম করে বেঁচে বর্তে থাকতে পারে। উক্ত বিধাণ যে সরাসরি আল্লাহর কাছ থেকে প্রদত্ত তার প্রমান হলো নীচের আয়াত-

সূর্য তার নির্দিষ্ট অবস্থানে আবর্তন করে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ, আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ।কোরান, ৩৬:৩৮
চন্দ্রের জন্যে আমি বিভিন্ন মনযিল নির্ধারিত করেছি।কোরান, ৩৬:৩৯
অবশেষে সে পুরাতন খর্জুর শাখার অনুরূপ হয়ে যায়। সূর্য নাগাল পেতে পারে না চন্দ্রের এবং রাত্রি অগ্রে চলে না দিনের প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে সন্তরণ করে। কোরান, ৩৬:৪০
সূর্য ও চন্দ্র হিসাবমত চলে। কোরান, ৫৫:০৫
এবং তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন সূর্যকে এবং চন্দ্রকে সর্বদা এক নিয়মে এবং রাত্রি ও দিবাকে তোমাদের কাজে লাগিয়েছেন। কোরান, ১৪:৩৩
আল্লাহ, যিনি উর্ধ্বদেশে স্থাপন করেছেন আকাশমন্ডলীকে স্তম্ভ ব্যতীত। তোমরা সেগুলো দেখ। অতঃপর তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন। এবং সূর্য ও চন্দ্রকে কর্মে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকে নির্দিষ্ট সময় মোতাবেক আবর্তন করে। তিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন, নিদর্শনসমূহ প্রকাশ করেন, যাতে তোমরা স্বীয় পালনকর্তার সাথে সাক্ষাত সম্বন্ধে নিশ্চিত বিশ্বাসী হও। কোরান, ১৩:০২
তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন? তিনি চন্দ্র ও সূর্যকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকেই নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে। তুমি কি আরও দেখ না যে, তোমরা যা কর, আল্লাহ তার খবর রাখেন? কোরান, ৩১:২৯
তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে। কোরান,২১:৩৩

উক্ত আয়াত সমূহে পরিস্কারভাবে বলা হচ্ছে- সূর্য একটা কক্ষ পথে আবর্তন করে। সূর্যের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আবর্তন করার কথা বলা হচ্ছে কারন, সূর্য নিয়মিতভাবে একই সময় ও যায়গা থেকে উদিত হয়ে একই সময় ও যায়গায় অস্ত যায়, কিন্তু চাঁদের ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে বিভিন্ন মঞ্জিল। বিষয়টি প্রনিধানযোগ্য। কারন হচ্ছে- চাঁদ কিন্তু প্রতিদিন এক জায়গা ও সময়ে উদিত হয় না, বা এক সময়ে অস্ত যায় না, প্রতি দিন এর উদয় স্থান ও সময় এবং অস্ত যাওয়ার সময় পাল্টায়। আর এর মূল কারন হলো- আল্লাহর তৈরী চাঁদের জন্য বিভিন্ন মঞ্জিল বা অবস্থান বা কক্ষপথ( ইসলামী পন্তিতরা যেভাবে সুবিধা সেরকমভাবেই আরবী থেকে অনুবাদ করে নিয়েছে)। সুতরাং কোরানের আলোকে আমাদের বিজ্ঞানের জানা তথ্য সম্পূর্ন ভুল।কারন বিজ্ঞান ভুল হতে পারে, কিন্তু কোরান কখনই ভুল হতে পারে না, এটা হলো স্বয়ং আল্লাহর বানী যা অভ্রান্ত।তবে সমস্যা হয়েছে বিশেষ কিছু তথাকথিত ইসলামী পন্ডিত নিয়ে। এরা কেন যে বিজ্ঞানের মত সদা পরিবর্তনশীল ও ভ্রান্ত বিষয়ের সাথে কোরানকে জড়াতে চাইছে তা বোধগম্য নয়।এটা আমার কাছে একটা বিরাট স্ববিরোধীতার মতই মনে হয়। বিজ্ঞান কি কোরানের চাইতে বেশী গুরুত্বপূর্ন? তা হলে তো আল্লাহ কোরান বাদ দিয়ে মোহাম্মদের কাছে কিছু বিজ্ঞানের তত্ত্ব উপাত্ত আর সেই সাথে কিছু নীতিকথা সম্বলিত একটা কিতাব পাঠিয়ে দিত। যাহোক , এসব ইসলামী বিজ্ঞানীরা প্রকৃত বিজ্ঞানে সামান্যতম কৃতিত্ব দেখাতে না পারলেও( আর সেটার দরকারও নেই, কারন কোরান পড়লেই সব জ্ঞান অর্জন হয়ে যায়) কোরানের প্রায় প্রতিটা আয়াতে যে বিজ্ঞান লুকিয়ে আছে তা অত্যন্ত সফল ভাবে প্রমান করে চলেছে। যেমন- উপরিউক্ত আয়াতগুলোতে যে কঠিন জ্যোতির্বিজ্ঞান লুকিয়ে আছে তা জানা গেল এই কিছুকাল আগে। কিছুকাল আগে পর্যন্তও আমরা জানতাম না যে, খোদ সূর্যও কিন্তু সে যে গ্যালাক্সীর অন্তর্গত যাকে মিল্কি ওয়ে বলা হয় তার কেন্দ্রকে প্রদক্ষিন করছে। তার কক্ষপথে সম্পূর্ন এক পাক ঘুরে আসতে সময় নেয় মাত্র বিশ কোটি বছর।যখন ইসলামি পন্ডিতরা কোরানের ঘোরার বিষয় নিয়ে দারুনরকম সমস্যায় নিপতিত, তখনই তারা পেয়ে গেল সূর্যের এ ঘূর্ণন সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব। কোরান যে আসলে এ তত্ত্বের কথাই বলছে তা বুঝতে যেতে হবে-এখানে, এখানে-। এটার শুরুটা করে দিয়ে গেছে মরিস বুকাইলি নামের এক ফরাসী ডাক্তার যে সৌদি রাজপরিবারের চিকিৎসক ছিল।তার সম্পর্কে জানা যাবে এখানে- । একজন পেশাদার পাশ্চাত্য দেশীয় ডাক্তার সৌদি রাজ পরিবারে ডাক্তারী করতে করতে হঠাৎ কোরান নিয়ে পড়ল কেন সেটা কিন্তু যথেষ্ট কৌতুহলোদ্দীপক বিষয়।নিন্দুকেরা বলে সৌদি রাজপরিবার তাকে বিপুল অংকের অর্থ দেয়ার বিনিয়ে তার বহুল পরিচিত পুস্তক বাইবেল, কোরান ও বিজ্ঞান নামক বইটি তিনি লেখেন।বইটি মুসলিম বিশ্বে বিপুলভাবে সমাদৃত, অনেকটা কোরানের মতই। দুনিয়ার আরও লক্ষ লক্ষ ডাক্তারের মতই একজন সাধারণ ডাক্তার তিনি অথচ মুসলিম বিশ্বে তাঁকে প্রচার করা হয় দুনিয়ার সেরা একজন বিজ্ঞানী হিসাবে, অবশ্য কোন বিষয়ের বিজ্ঞানী তা কেউ পরিষ্কার করে বলতে পারে না। তাঁকে নিয়ে মুসলিম বিশ্বে গর্বের শেষ নেই। সাধারণ মুসলমান অনেকেই উৎসাহের সাথে প্রকাশ করে তিনি নাকি ইসলাম গ্রহণ করেছেন যদিও এ ব্যপারে নির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই। একটা ইসলাম সম্পর্কিত সাইটে দেখলাম তার একটা সাক্ষাতকার, সেখানে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন কিনা, কিন্তু তিনি সরাসরি সে প্রশ্নের কোন উত্তর দেন নি, যা দেখা যাবে , এখানে- , এখানে-

যাহোক, বলা হচ্ছে সূর্য আর চাঁদের আবর্তন নিয়ে।উপরে বেশ কয়টি আয়াত কোরান থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। সেগুলো ভাল করে পড়লে দেখা যাবে তাতে বলা আছে- সূর্য ও চাঁদ তাদের কক্ষপথে আবর্তন করে।সূর্য ঘুরতে ঘুরতে কোথায় যায় , রাতের বেলা কি করে তাও বলা হয়েছে উপরের একটি হাদিসে। এখন কারও কি বুঝতে বাকি আছে যে সূর্য ও চাঁদের এ ঘোরাঘুরি আসলে সাদা চোখে আমরা যা প্রত্যক্ষ করি তার চাইতে বেশী কিছু?১৪০০ বছর আগে মানুষের ধারণা ছিল পৃথিবী সমতল। সে প্রেক্ষিতে সূর্য আকাশ পথে ঘুরে গিয়ে রাতের বেলাতে আল্লাহর আরশের নিচে আশ্রয় নেয়া ছাড়া তার কিই বা করার ছিল? আর সেটাই সোজা সাপ্টা ভাবে মোহাম্মদ তার অনুসারীর কাছে আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে বর্ণনা করেছেন। সেই আরবদের কোন কায়দা ছিল না সেসময় মোহাম্মদ যা বলছেন তা সত্য নাকি মিথ্যা তা প্রমান করা।বিশেষত: যখন সারা দুনিয়াতে তখন মানুষ বিশ্বাস করত পৃথিবী সমতল, শুধু তাই নয়, পৃথিবী হলো সারা বিশ্বের কেন্দ্র। সেক্ষেত্রে সূর্য ও চাঁদের এভাবে পৃথিবীকে কেন্দ্র করে কক্ষপথে ঘোরা ঘুরি করা ছাড়া কোন উপায় ছিল না। উপরের আয়াত সমূহ থেকে আরও একটা বিষয় প্রনিধাণ যোগ্য যে, কোথাও পৃথিবী যে ঘোরে তা বলা হয় নি।কিন্তু সেই সময়ের প্রেক্ষিতে সেটা অবান্তরও বটে কারন, তখন পৃথিবী কেন্দ্রিক বিশ্বে, পৃথিবী আবার ঘোরা ঘুরি করবে কাকে কেন্দ্র করে ? এর অনেক পরে এসে কোপার্নিকাস, গ্যালিলিও এসব নামের কিছু তথাকথিত বিজ্ঞানী বলা শুরু করলেন যে সূর্য নয় বরং পৃথিবীই সূর্যের চারপাশে অহর্নিশ ঘুরে মরছে। কি তা্জ্জব কথা! পৃথিবী যদি ঘোরে তাহলে আমাদের তো পড়ে যাওয়ার কথা।না হলে নিদেন পক্ষে আমাদের সবার মাথা ঘোরার কথা। কই তা তো ঘোরে না, তাহলে পৃথিবী ঘোরে কেমনে? বিষয়টা মোহাম্মদ ভালমতোই জানতেন, জানতেন তার আল্লাহ, আর সেকারনেই তার কোরানে বার বার উঠে এসেছে সূর্য ঘোরার কথা।কোথাও পৃথিবী ঘোরার কথা নেই। তবে আজকের তথাকথিত ইসলামী বিজ্ঞানীরা উল্টো সুরে কথা বলা শুরু করেছে। তাদের দাবি- কোরানে পৃথিবী ঘোরার কথা আছে। শুধু তাই নয়, কোরানে বলা আছে পৃথিবী নাকি গোলাকার। যেমন কোরানে যে পৃথিবী ঘোরার কথা আছে তা প্রমান করার একটা আজগুবি যুক্তি পাওয়া যাবে- এখানে- । কিন্তু এসব লোকজন বিজ্ঞানীরা কি বলছে না বলছে সেটাকে কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে তা মোটেই বোধগম্য নয়। বিজ্ঞানীদের কথা বেশী সত্য, নাকি আল্লাহর তথা মোহাম্মদের কথা? কিন্তু না তারা নাছোড় বান্দার মতো প্রমান করতে উঠে পড়ে লেগেছে যে পৃথিবী ঘোরে, নিদেন পক্ষে নিজ কক্ষের উপর পাক খায়, লাটিমের ওপর। এর স্বপক্ষে তারা যে আয়াতগুলো আওড়ায় তা হলো-

অবশেষে সে পুরাতন খর্জুর শাখার অনুরূপ হয়ে যায়। সূর্য নাগাল পেতে পারে না চন্দ্রের এবং রাত্রি অগ্রে চলে না দিনের প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে সন্তরণ করে। কোরান, ৩৬:৪০

তাদের বক্তব্য হলো- রাত্রি অগ্রে চলে না দিনের– এ কথাগুলি দ্বারা এটাই বুঝায় পৃথিবী নিজ অক্ষের ওপর পাক খায়।কারন পৃথিবী একমাত্র গোলাকার হলেই তা সম্ভব। এখন কার বাপের সাধ্য এটুকু কথা থেকে এ সিদ্ধান্তে আসা যে পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর লাট্টুর মত ঘুরছে।উক্ত বাক্যাংশ দিয়ে বরং এটাই সোজা ভাবে বোঝা যায় যে দিন ও রাত এক সাথে থাকতে পারে না, বরং তারা একটার পরে আর একটা আসে, যেমন দিনের পর রাত , রাতের পর দিন।এছাড়াও এ বাক্য দিয়ে মূলত যা বোঝানো হয়েছে তা হলো- দিনের বেলায় হঠাৎ করে কখনো রাত এসে পড়ে না।যেখানে বার বার পরিষ্কার করে কোরানে বলছে- সূর্য ও চন্দ্র ঘোরে সেখানে আমরা কেন উ্ক্ত বাক্যের নানারকম ব্যখ্যা করে অর্থ করতে যাব যে পৃথিবী ঘোরে ও গোলাকার? কেন একবারও কোরান সোজা সাপ্টা বলল না- পৃথিবী, সূর্য ও চন্দ্র এরা নিজ নিজ কক্ষ পথে আবর্তন করে ও একই সাথে নিজ কক্ষে পাকও খায়, সেকারনেই ঋতু পরিবর্তন হয় ও দিন রাত হয়।উপরোক্ত আয়াতগুলোর অন্তত একটার সাথে যদি পৃথিবীর কথাটা জুড়ে দেয়া হতো, তাহলেই কি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেত না?বরং শুধুমাত্র পৃথিবী ঘোরার একটু ইঙ্গিত দিলেই সেটা হতো সেই তৎকালীন সময়ের প্রেক্ষিতে একটা দারুন রকম ব্যাতিক্রমী বক্তব্য যা আধুনিক যুগে বিজ্ঞানীদের পক্ষে যেত।বলাবাহুল্য, সূর্য ও চন্দ্র ঘোরে একথা বলার জন্য কোন পন্ডিত হওয়ার দরকার নেই বা দরকার নেই কোন আল্লাহর ওহীর। একটা পাগলেও আকাশের দিকে তাকিয়ে সেই যুগ তো বটেই, তারও হাজার বছর আগে বলতে পারত যে– সূর্য ও চন্দ্র ঘোরাঘুরি করছে। এখন এ একই কথা কোরানে বলা হয়েছে বলে এর মাহাত্ম হয়েছে মারাত্মক, যা প্রকারান্তরে দারুন হাস্যরসের উদ্রেক করে।বরং সূর্য ও চন্দ্রের ঘোরাঘুরির কথা না বললেও কোন ক্ষতি ছিল না। এছাড়াও সূর্য নাগাল পেতে পারে না চন্দ্রের- এ বক্তব্য থেকে যা সোজা ভাবে আল্লাহ বলতে চেয়েছে তা হলো- আপাত: দৃষ্টিতে দেখা যায় আকাশে প্রায় উচ্চতায় ও একই লাইন দিয়ে সূর্য ও চন্দ্র চলাচল করে এবং তারা কখনই একে অন্যের সাথে ধাক্কা খায় না, এ ধাক্কা না খাওয়ার কারনটা হলো আল্লাহ এমন ভাবে তাদেরকে সেট করে দিয়েছে যে তারা কখনই ধাক্কা খাবে না যা বলা বাহুল্য, আল্লাহর এক অলৌকিক নিদর্শন।অবশেষে সে পুরাতন খর্জুর শাখার অনুরূপ হয়ে যায়- এটা দিয়ে যা বোঝানো হচ্ছে তা হলো- আল্লাহ এমন এক কায়দা করে দিয়েছে যে চাঁদ আস্তে আস্তে খেজুরের শাখার মতো আকৃতি নেয়ার পরেও তা আবার পূর্বের আকার ফিরে পায় যা তার অলৌকিকত্বের অন্য আর এক নিদর্শন। সুতরাং ইসলামী পন্ডিতরা কেন যে – শব্দ নিয়ে এভাবে খেলাধুলা শুরু করে আল্লাহর কিতাব কোরানকে অবমাননা করছে তা বোঝা দুস্কর। শুধু তাই নয়, ইদানিং কোরানের প্রকৃত অর্থকে বিকৃত করে নতুন নতুন ধরণের কোরানের অনুবাদ তৈরীর একটা হিড়িক পড়ে গেছে। যেখানে কোরানের অর্থ বিকৃত করা তো দুরের কথা একটা দাড়ি কমা পর্যন্ত পাল্টালে নাকি অনন্তকাল দোজখে পুড়তে হবে, সেখানে মনে হচ্ছে নব্য ইসলামী পন্ডিত ও অনুসারীদের দোজখের ভয় নেই একেবারে।

নীচে সূরা ইয়াসিনের ৩৮ নম্বর আয়াতটি শুধূমাত্র সূর্য ঘোরা সম্পর্কিত। দেখা যাক বিভিন্ন ইসলামী পন্ডিতরা এর কিরকম অনুবাদ করেছে।

সূর্য তার নির্দিষ্ট অবস্থানে আবর্তন করে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ, আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ। কোরান, ৩৬: ৩৮ www.ourholyquran.com/
Yusuf Ali : And the sun runs his course for a period determined for him: that is the decree of (Him), the Exalted in Might, the All-Knowing. Quran- 36:38
Moulana Mohammad Ali :And the sun moves on to its destination.That is the ordinance of theMighty, the Knower. Quran- 36:38
Pickthal :And the sun runneth on unto a resting-place for him. That is the measuring of the Mighty, the Wise. Quran- 36:38
Shahi International:And the sun runs [on course] toward its stopping point. That is the determination of the Exalted in Might, the Knowing.hal. Quran- 36:38
Shakir: And the sun runs on to a term appointed for it; that is the ordinance of the Mighty, the Knowing. Quran- 36:38
Ghali:,And the sun runs to a repository for it; that is the determining of The Ever-Mighty, the Ever-Knowing. Quran- 36:38
Muhsin Khan : And the sun runs on its fixed course for a term (appointed). That is the Decree of the All-Mighty, the All-Knowing. Quran- 36:38

খেয়াল করলে দেখা যাবে প্রতিটি আয়াতের সূর প্রায় একই রকম। বলা হচ্ছে- resting point, appointed course, stopping point ইত্যাদি এরকম।কেন সেটা? কারন হলো মূল আরবী কোরানে সেরকমই আছে যার মানে হলো- সূর্য দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়েই আকাশে আবর্তন করে, অত:পর রাতের বেলা সে কোন একটা জায়গাতে বিশ্রাম নেয়।বিভিন্ন কায়দা করেও কিন্তু অর্থকে পরিবর্তন করা যায় নি যদিও বাংলা কোরানে বলা হচ্ছে- নির্দিষ্ট অবস্থানে যা অত্যন্ত অস্পষ্ট।এর কারন বাংলাভাষী মুসলমানদেরকে প্রকৃত অর্থ বুঝতে না দেওয়া।সূর্য রাতের বেলা কোথায় বিশ্রাম নেয়, কি করে তা খুব সুন্দরভাবে বর্ণনা করা আছে সহি বুখারি, বই-৫৪, হাদিস-৪২১ এ হাদিসে, আর উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করাই হয় শুধুমাত্র ৩৬:৩৮ আয়াতের ব্যখ্যা করতে গিয়ে যা হাদিসে উল্লেখও করা হয়েছে।এর পরে জাকির নায়েককে দেখলাম এক বক্তৃতায় খুব দৃঢ়তার সাথে বলতে যে রাত্রি অগ্রে চলে না দিনের– এ দ্বারা পৃথিবী গোলাকার ও তার নিজ অক্ষে ২৪ ঘন্টায় একবার পাক খায় বোঝায় কেননা পৃথিবী গোলাকার হলেই তা একমাত্র সম্ভব।কিন্তু এ বক্তব্যটা তো পুরোপুরি অর্থহীন। কারন রাত আগে নাকি দিন আগে এটা তো সেই ডিম আগে নাকি মুরগী আগে এ ধরণের প্রশ্নের মত । এছাড়াও রাত ও দিন তো একসাথে চলতেও পারে না। এটা সে ধরণেরই বক্তব্য যা মোহাম্মদ কেন যে কেউ একথা রাত দিন দেখে বলতে পারে।এখন মোহাম্মদ সেই একই সাধারন পর্যবেক্ষিত একটা কথা বললে কি তার ভিন্ন অর্থ হয়ে যাবে নাকি? যেখানে বহু সংখ্যক আয়াত, হাদিস অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করছে যে সূর্য একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আকাশে আবর্তন করে রাতের বেলা আল্লাহর আরশে গিয়ে তার সিজদা করে, সেখানে জাকির নায়েক এ ধরণের শব্দের খেলা ও মনগড়া ব্যখ্যা দিয়ে কোরান ও হাদিসের বক্তব্যকে অস্বীকার করার ধৃষ্টতা দেখানোর সাহস কোথা থেকে পায় ? জাকির নায়েক কি ইমাম বোখারীর চাইতেও বেশী ইসলাম জানে নাকি ?
এছাড়া আরও কিছু বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের খবর জানা যাচ্ছে এ সৌরজগত বিষয়ক-
তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের আদি স্রষ্টা।কোরান. ০৬:১০১
হারুন ইয়াহিয়া নামের এক ইসলামি পন্ডিত উক্ত আয়াত ব্যখ্যা করে বের করে ফেলেছে উক্ত আয়াত নাকি বলছে বিগ ব্যাং থেকে বিশ্ব জগত সৃষ্টি হয়েছে।নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে স্রষ্টা আল্লাহ- এ হলো তার মতে বিগ ব্যাং তত্ত্বের ভিত্তি।এ থেকেই নাকি বোঝা যাচ্ছে বিশ্ব জগত একটা বিরাট বিগ ব্যাং থেকে সৃষ্টি হয়েছে।হারুন ইয়াহিয়া আসলেই বিশাল একজন পন্ডিত নইলে তার কাছে ইশারাই কাফি হয় কেমনে ?

আমি আকাশকে সুরক্ষিত ছাদ করেছি; অথচ তারা আমার আকাশস্থ নিদর্শনাবলী থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে। কোরান,২১:৩২

উপরোক্ত আয়াত থেকে হারুন ইয়াহিয়া আবিষ্কার করেছে ওটা নাকি বায়ূমন্ডলের ওজোন স্তরের কথা বলা হয়েছে যা সূর্য থেকে আগত অতি বেগুনি রশ্মিকে প্রতিহত করে।এখন নিচের আয়াতটি দেখা যাক, আকাশ আসলে কি-

কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না? কোরান, ২১:৩০

এটা কিন্তু আগের আয়াতের ঠিক পূর্বের আয়াত।এখানে দেখা হচ্ছে- আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ একসময় বন্দ ছিল আর আল্লাহ সেগুলোকে খুলে দিয়েছে।বিষয়টা আসলে কি একটু ব্যখ্যা করা যাক।আকাশ মন্ডলীতে নাকি ৭টি আকাশ একটার ওপরে আর একটা আছে।পৃথিবীকে একটা কাগজের তা মনে করলে, সাতটি আকাশ হবে ৭টি কাগজের তা।এক্ষনে আদিতে মোট ৮ টি কাগজের তা একসাথে লাগানো ছিল, যেমন আমরা ৮ টি কাগজের তা একসাথে টেবিলের ওপর রাখি।এর পর আল্লাহ দয়া পরবশ হয়ে উক্ত তা গুলোকে খুলে ফাক করে দিয়েছে। সর্ব নিম্ন কাগজের তা এখানে পৃথিবী, আর উপরের ৭ টি তা হলো এক একটি আকাশ।কিন্তু হারুন ইয়াহিয়ার বক্তব্য হলো- উক্ত ৭ টি তা হলো আমাদের পৃথিবীর উপরে যে বায়ূস্তর আছে সেগুলো। কিন্তু উক্ত আয়াত থেকে পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে পৃথিবী একটা সমতল আধার।বিষয়টি যে হুবহু তাই, একটুও অতিরঞ্জিত নয়, এমনকি নয় আমাদের মনগড়া ব্যখ্যা, তার প্রমান নিচের আয়াত-

সেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে নেব, যেমন গুটানো হয় লিখিত কাগজপত্র। যেভাবে আমি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব। আমার ওয়াদা নিশ্চিত, আমাকে তা পূর্ণ করতেই হবে। কোরান, ২১:১০৪

উপরের আয়াতে কি সুন্দর আল্লাহ বলছে কিভাবে সে আকাশকে গুটিয়ে ফেলবে, ঠিক যেভাবে আমরা কাগজ গুটাই তেমনভাবে। আর বলা বাহুল্য পৃথিবীকেও সে তেমনভাবেই গুটাবে, কারন সমতল ভূমি পৃথিবী থেকে বাকী আকাশ মন্ডলী আল্লাহ কিভাবে ফাক করে পৃথক করে সৃষ্টি করেছে তা তো ২১:৩০ আয়াতেই বলছে।কোন গোলাকার বলের মত পদার্থকে নিশ্চয়ই কাগজের মতো গোটানো যায় না। সুতরাং উক্ত আয়াত থেকে এটাও বোঝা যাচ্ছে যে আকাশ আসলে কঠিন পদার্থের তৈরী, নইলে তাকে পৃথিবী থেকে আলাদা করে কিভাবে? তাছাড়া কঠিন পদার্থের সমতল আধার না হলে তাকে কাগজের মত ভাজই বা করবে কিভাবে? বিষয়টি যে সত্যি তাই তা বোঝা যাবে নিচের আয়াতে-

তিনি খুঁটি ব্যতীত আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন; তোমরা তা দেখছ। তিনি পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পর্বতমালা, যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে এবং এতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সর্বপ্রকার জন্তু। আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছি, অতঃপর তাতে উদগত করেছি সর্বপ্রকার কল্যাণকর উদ্ভিদরাজি। কোরান, ৩১:১১

কি সহজ সরল বর্ণনা!আকাশ হলো কঠিন পদার্থের সমতল আধার, আর সেটা শূন্যে খুটি ছাড়া স্থাপন করে আল্লাহ আমাদেরকে তার অলৌকিক ক্ষমতার নিদর্শন দেখাচ্ছে।এখানে আবারও সহজ সরলভাবে আল্লাহ বলছে কেন সে দুনিয়ার বুকে পাহাড় পর্বত সৃষ্টি করেছে, যাতে করে সমতল পৃথিবী এদিক ওদিক ঢলে পড়ে একটা অঘটন ঘটাতে না পারে। অথচ হারুন ইয়াহিয়া , জাকির নায়েক এসব দিকপাল ইসলামী বিজ্ঞানী হঠাৎ করে আবিষ্কার করে বসল-বায়ূমন্ডলের বিভিন্ন স্তরই নাকি আকাশ।সেটা নিচের আয়াতেও দেখা যায়-

আমি পৃথিবীতে ভারী বোঝা (পাহাড়-পর্বত)রেখে দিয়েছি যাতে তাদেরকে নিয়ে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে এবং তাতে প্রশস্ত পথ রেখেছি, যাতে তারা পথ প্রাপ্ত হয়। কোরান, ২১:৩১

একটা সমতল আধার যদি শূন্য স্থানে থাকে তাহলে তা কাত চিৎ হয়ে যেতে পারে , এর ফলে আধারের উপরে যে সব জিনিস পত্র আছে তা সব পড়ে যাবে। পৃথিবী যেহেতু সেরকমই একটি সমতল আধার আর আমরা মানুষরা সমতলের উপরে থাকি তাই পৃথিবী নামক এ সমতল আধারটি কাত চিত হলে আমরা গড়িয়ে পড়ে যেতে পারি, তাই পৃথিবীর ওপর আল্লাহ দয়া করে পাহাড় পর্বত রেখে পৃথিবীকে চাপা দিয়ে রেখেছে যাতে তা এদিক ওদিক ঝুকে ( কাত ) হয়ে না পড়ে আর এর ফলে আমরা গড়িয়ে পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পাচ্ছি। বিষয়টাকে আরও পরিষ্কার করার জন্য আল্লাহ বলছে-

আমি কি করিনি ভূমিকে বিছানা , এবং পর্বতমালাকে পেরেক? কোরান, ৭৮:৬-৭
আমি ভূমিকে বিছিয়েছি। আমি কত সুন্দরভাবেই না বিছাতে সক্ষম।কোরান, ৫১:৪৮

পৃথিবীকে এখানে বিছানার মত মনে করা হচ্ছে,আর বিছানা বলা বাহুল্য সমতল। এখন এ সমতল বিছানা যাতে এদিক ওদিক ঝুকে পড়ে কাত হয়ে না যায়,যার ফলে আমরা গড়িয়ে পৃথিবী থেকে পড়ে যেতে পারি, তা থেকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহ দয়া করে পৃথিবীর মাঝখানে পর্বতমালাকে পেরেকের মত পুতে দিয়েছে।বোঝাই যাচ্ছে , যখন ভূমিকম্প হয়, তখন পৃথিবী কাপা কাপি করে, এসময় পৃথিবী কাত হয়ে যেতে পারে, আর তা থেকেই রক্ষা করার জন্য সমতল পৃথিবীর ওপর আল্লাহ পাহাড় পর্বত স্থাপন করেছে, আল্লাহ বড়ই মেহেরবান।
কিন্তু হারুন ইয়াহিয়া এসব আয়াতের যে ব্যাখ্যা দিয়েছে তা এখানে- দেখা যাবে, তবে অবশ্যই তার ব্যখ্যাগুলো হলো ভিন্নরকম, কিন্তু সেগুলো পড়লে জানা যাবে কিভাবে তিলকে তাল বানান যায়, তার সার্বিক কলাকৌশল।

একটা ইসলামী সাইটে দেখলাম ২১:৩৪ আয়াতের শুধুমাত্র সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে– এটুকু উল্লেখ করে দাবী করছে এটা দিয়ে কোরান বলছে বিশ্ব জগতের সকল মহাজাগতিক বস্তু তার আপন কক্ষপথে বিচরন করে। তারা পূরা আয়াত টা উল্লেখ না করে বেশ কৌশলের পরিচয় দিয়েছে। পুরা আয়াতটি হলো নিম্ন রকম-

তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে।কোরান,২১:৩৪

বোঝা যাচ্ছে- এখানে শুধুমাত্র সূর্য ও চন্দ্রের ঘোরাঘুরির কথা বলা হচ্ছে।তথাকথিত ইসলামী বিজ্ঞানীদের এহেন বেপরোয়া প্রচেষ্টা দারুন কৌতুকের উদ্রেক ঘটায়।একই সাথে এটাও বোঝা যায়, কোরানকে তারা বিজ্ঞান বানাবেই- এরকম একটা দৃঢ় সংকল্পে তারা উন্মত্ত।কিন্তু আমার এখনও প্রশ্ন- আল্লাহ, মোহাম্মদ, কোরান- এগুলো সব ঈমান তথা অন্ধ বিশ্বাসের ব্যপার, এগুলোর মধ্যে কেন বিজ্ঞান টেনে এনে ইসলামকে প্রশ্ন বিদ্ধ করা হবে? বিজ্ঞান বড় নাকি কোরান বড়? মোহাম্মদকে কেন যুক্তির কাঠ গড়ায় দাড়াতে হবে? মোহাম্মদ তো কোথাও বলে যান নি যে তাঁর নবুয়ত্ব, তাঁর কাজ কর্ম , কথা বার্তা বা তাঁর কোরান ও আল্লাহকে যুক্তি তথা বিজ্ঞানের মানদন্ডে মেপে তারপর তাদের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে।তাঁর সরাসরি বক্তব্য- যে তাঁকে নবী মানবে না, তাঁর আল্লাহকে বিশ্বাস করবে না, তাকে সোজা দোজখে গিয়ে আগুনে পুড়তে হবে। তাহলে যারা মোহাম্মদ, তার আল্লাহ ও কোরানকে যুক্তির মানদন্ডে মেপে ইসলামকে সহি প্রমান করতে চাইছে তারা ইসলামের মঙ্গল চায় নাকি অমঙ্গল চায়? এভাবে বিজ্ঞানের মানদন্ডে মেপে সহি প্রমান করতে গেলে তো বহু প্রশ্ন উত্থাপিত হবেই, আর সে প্রশ্ন যদি কোন যুক্তিবাদি করে বসে তাহলে তার জন্য কি তাকে দোষ দেয়া যায়? যুক্তিবাদীরা তো আগ বাড়িয়ে কিছু করতে যাচ্ছে না, তথাকথিত কিছু ইসলামী বিজ্ঞানীরা কোরানকে বিজ্ঞান প্রমান করতে গিয়েই তো সে না সব ঝামেলা পাকাচ্ছে। আর তার প্রেক্ষিতে মুক্তমনের যুক্তিবাদী মানুষরা পাল্টা প্রশ্ন করলেই সব দোষ তাদের ঘাড়ে গিয়ে পড়বে এ কেমন তরো বিধাণ ?

About the Author:

মুক্তমনা ব্লগ সদস্য।

মন্তব্যসমূহ

  1. নৌথেইষ্ট এপ্রিল 9, 2012 at 11:51 অপরাহ্ন - Reply

    কোরানের বাংলা জানতে চাইলে bdquran.co.cc তে ভিজিট করুন. বাংলা অনুবাদ করেছেন জহুরুল হক

  2. শামিম মিঠু মার্চ 5, 2012 at 4:05 পূর্বাহ্ন - Reply

    “৩৬ঃ৩৮। এবং সূর্য তার স্থায়ী আবাসের জন্য চলছে(এক দেহ হতে আরেক দেহে)। ইহা শক্তিশালী জ্ঞানময়ের তকদীর।

    শব্দার্থঃমুসতাকার=বিশ্রামস্থল,স্থায়ী আবাস। তকদির= ভাগ্য নয় বরং কর্মবৃত্ত(circle of activities and capacities)সীমাবদ্ধ কর্মবৃত্তকে তকদির বলে। প্রত্যেক সৃষ্টিকে একটি তকদিরে আবদ্ধ করে দেওয়া হয়ে থাকে।কর্মের দ্বারা অর্জিত জীবনবৃত্তকে আমাদের তকদির বলা হয়ে থাকে। কর্মের ভাল-মন্দের দ্বারা অর্জিত এ তকদির বা কর্মবৃত্ত চির পরিবর্তনশীল । যেহেতু ইহা আমাদেরই অর্জিত পরিবেশ সেহেতু তকদিরকে আমাদের কর্মফলও বলা যেতে পারে। কাদের মানে তকদির দাতা শক্তি । প্রতিটি সৃষ্টিকে তিনি বিবর্তনধর্মী বিধানের মধ্যে এক একটি তকদিরে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। মানুষ এবং জিনের ব্যাপারে “আদ তাকদিরু লা ইয়ারুদ্দু ইল্লা বিদ দোয়া” অর্থাৎ দোয়া ব্যতিত তকদির অখণ্ডনীয় ।এরূপে জিন এবং মানুষের আপন আপন তকদির রচয়িতা তারা নিজেই।

    ব্যাখ্যাঃ পুরুষ ও প্রকৃতি(বা নারী)এ দুয়ের সমন্বয়ে সমগ্র অস্তিত্বের বিকাশ ঘটে চলেছে। আর এ দুয়ের উৎস ধারা নুরে-মুহাম্মদি। জগত জননী নুরে-মুহাম্মদির স্বরূপকে তাই কোরানে স্ত্রীলিঙ্গে প্রকাশ করা হয় সূর্যকে প্রতীক করে। সূর্য নুরে-মুহাম্মদির প্রতীক হওয়ায় কোরানে সূর্যকে স্ত্রীলিঙ্গে ব্যক্ত করা হয়েছে।
    প্রকৃতি বা নারী জগতের প্রতিটি মানব সন্তানের মধ্যে নুরে-মুহাম্মদি রুহরূপে সুপ্ত থাকেন। এ নুরকে বিকাশিত করে নিজের মধ্যে স্থায়িত্ব দেওয়ার জন্য মানব সন্তানের আগমন হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জগত সংসারের ধর্মরাশিতে নিমজ্জিত থেকে নুরেমুহাম্মদিকে নিজের মধ্যে বিকাশিত হতে দেয়না, আর তাই বার বার এক দেহ ভাঙ্গিয়া আরেক দেহে অর্থাৎ জন্মান্তরে ভ্রমন করতে থাকে।সে সাথে সূর্যরূপি নুরে-মুহাম্মদিও তাই স্থায়িত্ব না পেয়ে প্রতিটি নফসের সাথে দেহ হতে দেহান্তরে ভ্রমন করছেন। তার এততুকুই আশা যে, মানুষ যেন নিজের মধ্যে তাকে স্থায়ী আবাস দান করে। শক্তিশালী ,জ্ঞানময় নুরে০মুহাম্মদির ইহাই আপন সৃজিত তকদির।

    “৩৬ঃ৪০।সূর্যের জন্য (এরূপে) নহে যে বিদ্রোহ করে চন্দ্রকে ধরে ফেলে ,এবং রাত্রিও দিনের অগ্রবর্তী নহে।এবং সকলেই এক একটি নৌকায়(বা জ্যোতিরলোকে)সাঁতার কাটছেন।”

    ব্যাখ্যাঃ উৎপাদনশীল প্রকৃতি-সত্তা হতে অনুৎপাদনশীল পুরুষ-সত্তায় উত্তরণ এবং পুরুষ-সত্তা হতে আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটিয়ে নূরে-মুহাম্মদিতে সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে, ইহাই অনন্ত আদি নুরে-মুহাম্মদীর আপন সৃজিত লিলাচক্র। এ বিধানের অপরিবর্তনীয় ।এমনকি পরম আদি সত্তা নুরে-মুহাম্মদ নিজেও ইহার ব্যতিক্রম ঘটান না।
    রাত্রি মনের মোহ অন্ধকারের প্রতীক। রাত্রি যেমন হঠাৎ করে দিনকে অতিক্রম করতে পারেনা, ঠিক তেমনই মনের মোহ অন্ধকারে আবদ্ধ মানুষ কখনও হঠাৎ করে আধ্যাত্মিক আলোয় উদ্ভাসিত হতে পারেনা। দৃঢ় অধ্যাবসায় ও সালাত প্রশিক্ষণ ধীরে ধীরে মনের অন্ধকার দূরীভূত করে সূর্যের উদয় ঘটায়, অর্থাৎ নুরে-মুহাম্মদিতে বিলীন হওয়া সম্পন্ন হয় না।উহাও নির্দিষ্ট নিয়মে ধীরে ধীরে সম্পন্ন হয়।
    নৌকা মানব দেহের প্রতীক। এ দেহতরি অসংখ্য ধরমরাশির আগমন-প্রত্যাগমনে ব্যস্ত থেকে ধর্মজগতে ডুবিয়া থাকে। সপ্ত ইন্দ্রিয়ের দ্বার পথে আগত এ ধর্মরাশির উপর সালাত করলে মানব-মন ধর্মরাশির উপর ভাসিয়া উঠে। অসীম ধর্মরাশির উপরে মনের এ ভাসমান অবস্থায়ই নূরে-মুহাম্মদির জাগরণ হয়।সমস্ত মহাপুরুষগন এ দেহতরিতে থেকেই দেহজগতের নারী-অবস্থা অর্থাৎ উৎপাদনশীল অবস্থা হতে মনকে ভাসিয়ে রেখে চলছেন।
    (বি/দ্রঃ কোরানের ভাষায় চন্দ্রকে পুংলিঙ্গে এবং সূর্য ও পৃথিবীকে স্ত্রী লিঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে।)

    উপরোক্ত আলোচনাগুলি প্রচলিত ভাবধারা বাইরে ব্যতিক্রম মনে হওয়ায় আপনার জ্ঞাতার্থে তুলে ধরলাম।

মন্তব্য করুন