যৌন অবিশ্বস্ততা সম্পর্কিত খবরের প্রতি মানুষের আগ্রহের পরিমাণ বোধহয় সবচাইতে বেশী। কোথাও কোন পরকীয়া, সেক্স ভিডিওর খবর আসলেই সবাই সেটার উপর ঝাপিয়ে পরে। এ ধরণের ঘটনাকে মনে মনে ঘৃণার চোখে দেখলেও আবার এর খুটিনাটি না জানা পর্যন্ত কারও শান্তি হয় বলে মনে হয় না। কারও কারও এসকল ঘটনার প্রতি রীতিমত দুর্নীবার আকর্ষণ (obsessed) থাকে। আর সে কারণেই ব্লগে ব্লগে, সংবাদ মাধ্যমগুলোতে প্রভার বিয়ে, প্রভার সেক্স ভিডিও, রুমানা-তাহিরের ছবি সম্বলিত খবরের এত ছড়াছড়ি দেখা যায়। একই খবর নিয়ে ২০টা পোস্ট আসলেও সবগুলো পোস্ট হিটের ভারে নুহ্য হয়ে পরে। আগ্রহটা যে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের অনেক বেশী থাকে সেটা মোটামুটি নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন সংস্কৃতির পুরুষ এবং নারীদের মধ্যে চালানো তুলনামূলক সমীক্ষা থেকে একটি জিনিষ খুব পরিষ্কার ভাবে প্রতীয়মান হয় যে নারীদের তুলনায় পুরুষরা বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্কের ( EMS – Extra Marital Sex) ক্ষেত্রে অধিক মাত্রায় আগ্রহী। শুধুমাত্র বৈচিত্রের কারণেই ভিন্ন ভিন্ন সম্পর্কে জড়িয়ে পরার আগ্রহ নারীদের তুলনায় পুরুষদের মাঝেই বেশী দেখা যায়। EMS এ জড়িয়ে পরার কারণ হিসাবে নারীদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়ই বৈবাহিক জীবনে অশান্তি কিংবা একটি দীর্ঘস্হায়ী স্হিতিশীল সম্পর্ক স্হাপনের ইচ্ছার প্রাধান্য লক্ষনীয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে অস্হায়ী (casual) সঙ্গিনী বেছে নেবার ক্ষেত্রে খুব একটা বাছ-বিচার করতে দেখা যায় না যেটা নারীরা করে থাকেন তাদের সঙ্গী নির্বাচনের সময়। উদাহরণ হিসাবে লেখক-গবেষক জ্যারেড ডায়ামন্ড উল্লেখ করেন যে তিনি নিউ গিনির যে সমস্ত পাহাড়ি অধিবাসীদের সাথে কাজ করতেন তাদের মধ্যে একজন পুরুষের EMS খোঁজার পেছনের কারণ হিসাবে প্রায়ই দেখা যেত যে সে তার স্ত্রী বা স্ত্রীদের সাথে সেক্স করতে একঘেয়ে বোধ করত। অন্যদিকে যে সমস্ত নারীরা EMS এ জড়িয়ে পরত তাদের প্রধান কারণ ছিলো যে তাদের স্বামীরা তাদের যৌন চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম ছিলো না। অনেক সময়ই স্বামীদের বেশী বয়স ছিলো এর অন্যতম প্রধান কারণ।

একটি অনলাইন ডেটিং সার্ভিসের জন্য পূরণ করা সমীক্ষায় প্রশ্নপত্রে শত শত আমেরিকান তরুণ তরুণী দেয়া উত্তর থেকে জানা যায় যে প্রায় প্রতিটা ক্ষেত্রেই মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় প্রায় সবক্ষেত্রেই একজন অধিক যোগ্য সঙ্গী পেতে চায় যেমন বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক অবস্হান, নাচের সঙ্গী, ধর্ম, গোত্র ইত্যাদী। একমাত্র যে ক্ষেত্রটিতে মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা বেশী খুঁতখুঁতে ছিলো সেটি হলো দৈহিক সৌন্দর্য্য। ডেটিং শেষে তথ্য সংগ্রহের জন্য চালানো আরেকটি সমীক্ষার উত্তর থেকে দেখা যায় যে মেয়েদের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশী ছেলে তাদের কম্পিউটার কতৃক নির্বাচিত সঙ্গিনীর প্রতি রোমান্টিক্যালি আকর্ষণ বোধ করেছে। এথেকে বোঝা যায় যে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনেক বেশী খুঁতখুঁতে আর ছেলেদের মধ্যে বাছবিচার করার প্রবনতা কম।

খুব সঙ্গত কারনেই মানুষের কাছে EMS সম্পর্কে তাদের নিজস্ব মনোভাব জানতে চাইলে সৎ উত্তর আশা করাটা সমিচীন হবে না। কিন্তু পরোক্ষভাবে সেটা খুব সহজেই বুঝতে পারব যদি আমরা সমাজে প্রচলিত (EMS সম্পর্কিত) মানুষের আচার এবং আইনের-কানুনের প্রতি তাদের মনোভাবের প্রতি দৃষ্টি নিবেশ করি। নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে সমাজের কিছু অতি প্রচলিত কপটাচারী এবং ধর্ষকামী রীতিনীতির উৎপত্তি হয় EMS খোজার লক্ষ্যে মানুষ যে দুটি মৌলিক সমস্যার সম্মুখীন হয় তা থেকে। প্রথমতঃ একজন পুরুষ যখন বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে আগ্রহী হয় তখন সে দুটি জিনিষ নিশ্চিত করতে চেষ্টা করে। এক, অন্য নারীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেস্টা এবং নিজের স্ত্রীকে অন্য পুরুষদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ রহিত করা। দ্বিতীয়তঃ পুরুষদের জন্য একটা যুক্তিসঙ্গত জৈব বিবর্তনিক মানসিক-ভীতি (paranoia) যাতে করে তাকে কোকিলের মত করে কেউ যেন তাকে বোকা বানাতে না পারে।

একটি লক্ষনীয় বিষয় হলো পুরুষেরা যত বেশীদিন বাঁচে তাদের মধ্যে EMS এর প্রবণতা তত বেশী বাড়তে থাকে। ১৯৯২ সালের আমেরিকার Health and Social life কতৃক চালানো এক গবেষণায় দেখা যায় ১৮-২৯ বছর বয়সী ছেলেদের তুলনায় ৫০-৫৯ বছর বয়সী পুরুষদের মধ্যে EMS এ জড়িয়ে পরার পরিমাণ প্রায় পাঁচগুণ বেশী। ছেলেদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই প্রবণতা বাড়তে থাকে। অন্যদিকে মেয়েদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা সব বয়স গ্রুপেই মোটামুটি একই পর্যায়ে থাকে যা কিনা সাধারণতঃ ছেলেদের তুলনায় বেশ কম।

সমাজে প্রচলিত বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক সম্বন্ধিত আইনগুলা আমাদের একটা পরিস্কার ধারণা দেয় পুরুষরা কিভাবে এই দোদুল্যমান অনিশ্চিয়তার সমাধান করার চেস্টা করে থাকে। খুব সাম্প্রতিক অতীত ছাড়া ইতিহাসের পাতায় নজর দিলে হিব্রু, মিশরীয়, রোমান, এজটেক, আরবীয়, আফ্রিকান, চাইনীজ, জাপানীজ, এবং অন্যান্য জাতি গোষ্ঠীর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক সম্পর্কিত আইনগুলা বস্তুতপক্ষে সামঞ্জস্যহীণ। এই সমস্ত আইনের অস্তিত্বের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে বিবাহিত পুরুষের পিতৃ পরিচয় সুনিশ্চিত করা। এগুলোর আর কোনই উদ্দেশ্য নেই। ফলশ্রুতিতে এ সমস্ত আইন অনুযায়ী ব্যভিচারের সংজ্ঞা নির্ধারিত হয় EMS এ অংশগ্রহণকারী মেয়েটির বৈবাহিক স্ট্যাটাসের উপরে। একই সম্পর্কে অংশগ্রহণকারী পুরুষটির স্ট্যাটাস এখানে গুরুত্বহীণ। একজন মহিলা কতৃক EMS করাকে তার স্বামীর বিরুদ্ধে অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়। স্বামী এক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার রাখে। যার মধ্যে অনেক সময়ই সহিংস প্রতিশোধ অথবা অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ সহ তালাক দেবার ব্যবস্থা থাকে। একজন বিবাহিত পুরুষ কতৃক EMS তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অপরাধ হিসাবে গৃহীত হয় না। বরঞ্চ সে সম্পর্কের নারীটি যদি বিবাহিত হয় তবে সেই নারীর স্বামীর বিরুদ্ধে নারীটি অপরাধ করেছে বলে গণ্য করা হয়। আর সে যদি অবিবাহিত হয় তবে অপরাধটি তার পিতা কিংবা ভাইয়ের বিরুদ্ধে করা হয়েছে বলে গণ্য করা হয়। এর কারণ বিয়ের বাজারে পাত্রী হিসাবে মেয়েটির মূল্য কমে যাওয়া।

১৮১০ সালে প্রচলিত একটি ফরাসী আইনের আগে পুরুষ কতৃক EMS এর বিরুদ্ধে কোন অপরাধ আইন ছিলো না। এবং সেই আইনেও শুধুমাত্র স্ত্রীর বিনা অনুমতিতে কোন বিবাহিত লোক স্ত্রীর সাথে বসবাসরত একই বাসায় কোন রক্ষিতাকে রাখতে পারবে না বলে নিশ্চিত করা হয়। মানব জাতির ইতিহাসের দৃষ্টিকোন থেকে প্রায় একই রকমের আধুনিক পশ্চিমা ব্যভিচার আইনের উৎপত্তি হয়েছে মাত্র গত দেড়শ বছরে। এমনকি বর্তমান সময়েও আমেরিকা এবং ইংল্যান্ডের মত দেশেও আইনবিদ, বিচারক, এবং জুরীরা EMS এ অংশগ্রহণকারী কোন স্ত্রী বা তার সঙ্গীটিকে যদি স্বামী হত্যা করে তবে তাকে খুনের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি না দিয়ে সর্বনিম্ন শাস্তি দিয়ে থাকে। কখনও কখনও সে নির্দোষ হিসাবে ছাড়াও পেয়ে যায়।

পিতৃত্ব নিশ্চিত করা এবং পুরুষটির আত্মবিশ্বাস বজায় রাখার জন্য সবচাইতে জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেত চীনের ট্যাং সাম্রাজ্যের সম্রাটরা। সম্রাটের শত শত স্ত্রী এবং রক্ষিতাদের মাসিকের হিসাবে নিয়মিত রাখত একদল রাজ কর্মচারী যাতে সম্রাটের সাথে তার স্ত্রীর মিলনের পর তার স্ত্রী সন্তান সম্ভবা হতে পারে। যৌন মিলনের তারিখের হিসাবও রাখা হত। এর সাথে সাথে সম্পূরক হিসাব রাখার জন্য স্ত্রীটির বাহুতে একটি অমোছনীয় উল্কিও এঁকে দেয়া হত। সেই সাথে বা-পায়ে পরিয়ে দেয়া হত একটি রুপোর বালা। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে সম্রাট ছাড়া অন্য পুরুষদের হারেম থেকে দূরে রাখার জন্য প্রায় একই রকমের জটিল ব্যবস্থা নেয়া হত । অন্যান্য সংস্কৃতির পুরুষদের মধ্যে এর চেয়ে কম জটিল কিন্তু আরও বেশী বিবমিষা সৃষ্টিকারী পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে স্ত্রীদের সতীত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টার উদাহরণ পাওয়া যায়। স্ত্রী, কন্যা কিংবা বোনরা যাতে কোনরকম সুযোগ না পায় এরকম ব্যবস্থা নেয়ার উদাহরণ খুব সাধারণ। উদ্দেশ্য অবিবাহিত মেয়েদের কুমারিত্বের নিশ্চিত করণের মাধ্যমে বিয়ের বাজারে তাদের মূল্য বজায় রাখা। এর মধ্যে তুলনামূলক ভাবে কম আপত্তিকর এবং উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলো মেয়েদের সারাক্ষনই অভিভাবকের সাথে চলাফেরা করা কিংবা আক্ষরিক অর্থেই বন্দী দশার মধ্যে জীবন যাপন করা। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলাতে এই ধরণের উদ্দেশ্য মেটানোর জন্য আছে বহুল প্রচলিত ‘Honour and Shame’ কোড। যার সহজভাষায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায় EMS হলো আমার জন্য কিন্তু তোমার জন্য না। আর তুমি যদি সেটা কর তবে সেটা আমার জন্য সন্মানহানির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

কঠোর পদক্ষেপের মধ্যে ঊল্লেখযোগ্য হলো “মেয়েদের খৎনা” যা কিনা একটি সুশীল কিন্তু ভুল অর্থে ব্যবহৃত শাব্দিক পরিভাষা । এই প্রক্রিয়ায় মেয়েদের যৌনাঙ্গের ক্লিটরিস অথবা যৌনাঙ্গের বাইরের অংশের (Labia Majora) বেশিরভাগটাই কেটে ফেলে দেয়া হয় যাতে করে মেয়েদের সেক্সের ব্যাপারে (বৈবাহিক কিংবা অবৈবাহিক) আগ্রহ কমে যায়। পুরুষরা মেয়েদের সতিত্ব নিশ্চয়তার জন্য এতটাই মরিয়া যে তারা মেয়েদের যৌনাঙ্গের কিছু অংশ সেলাই করে বন্ধ করার (Infibulation) মত ভয়াবহ পদ্ধতির আবিস্কার করেছে যাতে সেক্স করা সম্ভব না হয়। সেলাই করে বন্ধ করে দেয়া যৌনাঙ্গ প্রয়োজন অনুযায়ী সন্তান প্রসবের সময়ে বা অন্যান্য প্রয়োজনের সময়ে আবার খুলে দেয়া সম্ভব। স্বামী যখন লম্বা সময়ের জন্য দূরে কোথাও কাজে কিংবা ভ্রমনে যায় তখন সাধারণতঃ সেলাই করে বন্ধ করে দেয়ার কাজটি করা হয়। মেয়েদের খৎনা এবং সেলাই করে যৌনাঙ্গ বন্ধ করে দেয়ার এই প্রচলন এখনও আফ্রিকা, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া সহ পৃথিবীর ২৩টি দেশের অনেক গোত্রের মাঝে চালু আছে।

ব্যভিচার সম্পর্কিত আইন এবং বলপূর্বক নিব্রত রাখার প্রচেষ্টা সত্বেও পুরুষটি যদি নিশ্চয়তা পেতে ব্যর্থ হয় শেষ উপায় হিসাবে বেছে নেয় হত্যার পথ। আমেরিকা সহ পৃথিবীর বহু শহরে চালানো সমীক্ষা থেকে জানা যায় যৌনতা সম্পর্কিত ঈর্ষা খুনের পিছনের খুবই কমন একটি কারণ। সাধারনতঃ খুনী হয় স্বামী এবং খুন হয় স্ত্রী অথবা তার প্রেমিক। অথবা প্রেমিক খুন করে স্বামীকে। নিচের টেবিলে ১৯৭২ সালে আমেরিকার ডেট্রয়েট শহরে সংঘটিত কিছু খুনের বিশ্লেষন দেখানো হয়েছে।

BREAKDOWN OF MURDERS CAUSED BY SEXUAL JEALOUSY IN THE US CITY OF DETROIT IN 1972

Total 58 murders

47 Murders precipitated by jealous man

Jealous man killed the unfaithful woman: 16
Jealous man killed the rival man: 17
Jealous man was killed by the accused woman: 9
Jealous man was killed by the accused woman’s relatives: 2
Jealous man killed unfaithful homosexual male lover: 2
Jealous man killed innocent bystander accidentally: 1

11 Murders precipitated by jealous woman

Jealous woman killed the unfaithful man: 6
Jealous woman killed the rival woman: 3
Jealous woman was killed by the accused man: 2

রাজনৈতিক রাস্ট্র ব্যবস্হা গড়ে ওঠার আগে যৌনতা সম্পর্কিত ঈর্ষার কারণে মানব ইতিহাসে অনেক বড় বড় যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে প্যারিস কতৃক মেনেলসের স্ত্রী হেলেনকে অপহরণনের জন্য সংঘটিত ট্রয়ের যুদ্ধ বিশেষভাবে উল্লেখ যোগ্য। আধুনিক নিউগিনিতে শূকরের মালিকানা সম্পর্কিত সংঘর্ষের পরেই যৌনতা সম্পর্কিত ঈর্ষার কারণে বিভিন্ন গোত্রের মাঝে সবচাইতে বেশী যুদ্ধ হতে দেখা যায়।

জীববিজ্ঞানীদের মতে অসামঞ্জস্যপূর্ন আইন, স্ত্রীদের হাতে উল্কি এঁকে দেয়া, আক্ষরিক অর্থেই গৃহবন্দী করে রাখা, মেয়েদের যৌনাঙ্গ কর্তনের মত পদক্ষেপের পিছনে জৈব-বিবর্তনিক ব্যাখা পাওয়া যায়। উদ্দেশ্য একটাই বেশী বেশী উত্তরসূরী রেখে যাওয়ার প্রতিযোগীতায় জিতে যাওয়া। কিন্তু একটা জিনিষ মনে রাখা প্রয়োজন আমরা আমাদের জন্যে নৈতিক মানদন্ড এবং লক্ষ্য নির্ধারণ করতে সক্ষম যা কিনা অনেক সময়ই বিবর্তনীয় লক্ষ্যের অন্তরায়। আমি জানি এই পর্যায়ে এসে অনেকই ভাবতে শুরু করেছেন আমি বোধহয় মানুষের এই সমস্ত ব্যবহারের যৌক্তিকতা নির্ধারণ করার চেষ্টা করছি। আসলে ব্যাপারটা মোটেও সেরকম নয়। কোন একটি জিনিষ ঘৃণিত কিংবা প্রশংসিত হোক না কেন কিভাবে উদ্ভব হল সেটা জানাটা আমাদের জন্য জরুরী। আমরা যখন কোন একটা অপরাধের মোটিভ খোঁজার চেষ্টা করি তার মানে এই না যে আমরা সেটাকে যৌক্তিকতা দেয়ার চেষ্টা করছি। বরং কারণটা জানতে পারলে তা রোধ করা অনেক সময় অনেক সহজ হয়ে যায়। আর তাছাড়া আমরা আমাদের বিবর্তনে প্রাপ্ত বৈশিষ্ট্যের দ্বারাও সবসময় নিয়ন্ত্রিত নই। যে কারণে মেয়েদের যৌনাঙ্গ সেলাই করে বন্ধ করে দেয়াটা বিবর্তনের দৃষ্টিতে লাভজনক হলেও আমরা সেটাকে যে কারণে প্রত্যাখ্যান করি সেটা হচ্ছে একজন মানুষ কতৃক আরেকজন মানুষের অঙ্গহানী করা নৈতিকভাবে কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সূত্র: Jared Diamond এর The third Chimpanzee বইটি এবং মেডিসিন্নেট ডট কম।

[630 বার পঠিত]