যুদ্ধশিশুটি

আমাকে ওরা দান করে দিয়েছিলো;
লজ্জায় ছিলো মাথা নাকি হেঁট,
আমার মা।

একজন যুদ্ধশিশুও হতে পারিনি তখন।
তুমি জানবার আগেই দানপত্র তৈরি।
আমার মা।

কেঁদে অন্ধ তুমি, দেহ-মন রক্তলাল;
আছো বাংলায় বা ছিলে অনেককাল।
আমার মা।

তোমার ভাষাটাও বলতে শিখিনি দূরদেশে;
পরিত্যাক্ত আমি। বিশ্ব-শিশু। কষ্ট পেওনা,
আমার মা।

মা তেরেসার মন্দির ছাপিয়ে গাইলাম;
ধর্ষণে অস্পৃশ্য অবহেলিত দুখিনী ওগো,
আমার মা।

এত সয়েও বীরাঙ্গনাই হলে, তবু।
জন্ম আমার ধন্য হোল মা’গো।
আমার মা।

(একজন যুদ্ধশিশু কোহিনূর এসেছিলো এবার বাংলাদেশে, মাদার তেরেসার চার্চ ছেড়ে, চল্লিশ বছর পর। দেশ মা’কে সান্তনা দিয়ে গেয়ে চলে গেল মেয়েটা। ৭১’এর খুনি ধর্ষক যুদ্ধাপরাধীদের নির্যাতনে আজো কেঁদে মরে, অনাহারে উৎকণ্ঠায়, অবহেলায় মৃতপ্রায় অথবা মৃত সেই সব ত্যাগী ম বোনেরা। অভিযোগের শক্তিও নেই, ইতিহাসও যাদের কথা বলতে গিয়ে ক্লান্ত, সেই মানুষদেরকে মনে করে ধন্য আমি। হাহাকারে লিখেছি, উৎসর্গ এই লেখা, তাদের আর তাদের হারিয়ে যাওয়া সন্তানদের জন্য)

About the Author:

মুক্তমনা ব্লগার। আদ্দি ঢাকায় বেড়ে ওঠা। পরবাস স্বার্থপরতায় অপরাধী তাই শেকড়ের কাছাকাছি থাকার প্রাণান্ত চেষ্টা।

মন্তব্যসমূহ

  1. স্বপন মাঝি ডিসেম্বর 23, 2011 at 9:30 অপরাহ্ন - Reply

    কত কিছু যে আমাদের ভাবনার বাইরে, কিছু কিছু লেখক একটুখানি ছুঁয়ে যান, আমরা চমকে যাই, থমকে যাই কিন্তু এই থমকে যাওয়াটা আবার গতি দেয়।
    খুব করে ছুঁয়ে গেল।

    • কাজী রহমান ডিসেম্বর 24, 2011 at 10:40 পূর্বাহ্ন - Reply

      @স্বপন মাঝি,

      ভুলেও যে যাই এই নির্লজ্জ অকৃতজ্ঞ জঘন্য আমরা, সেইটাও কিন্তু বললে পারতেন।

      মন্তব্য করবার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। (D)

  2. গীতা দাস ডিসেম্বর 17, 2011 at 8:39 পূর্বাহ্ন - Reply

    তুমি জানবার আগেই দানপত্র তৈরি

    জাতি হিসেবে ব্যর্থতার নমুনা।

    • কাজী রহমান ডিসেম্বর 18, 2011 at 7:43 পূর্বাহ্ন - Reply

      @গীতা দাস,
      হ্যাঁ বড় বড় অনেকগুলোর একটা।

  3. ফরিদ আহমেদ ডিসেম্বর 16, 2011 at 10:13 পূর্বাহ্ন - Reply

    অসহায় যুদ্ধশিশু আর তাঁদের অভাগা মায়েদের নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম অনেক দিন আগে। সেটা আছে এখানে

    • কাজী রহমান ডিসেম্বর 16, 2011 at 10:35 পূর্বাহ্ন - Reply

      @ফরিদ আহমেদ,

      মনে পড়েছে, চমৎকার ওই ( এখানে ) লেখাটার জন্য আর লিঙ্ক দেবার জন্য ধন্যবাদ। সবাইকে আমন্ত্রন ওটা পড়বার জন্য।

  4. রাজেশ তালুকদার ডিসেম্বর 16, 2011 at 6:09 পূর্বাহ্ন - Reply

    বীরঙ্গনা ও যুদ্ধ শিশুর কন্টকময় জীবণকে সামান্য মসৃণতা দিতে এই হতভাগা দেশটা কেমন যেন আড়ষ্টতায় ভোগে। কবিতাটতে হতভাগা এই সব মা ও শিশুদের কথা মনে করিয়ে দেয়ায় লেখককে অনেক ধন্যবাদ।

    • কাজী রহমান ডিসেম্বর 16, 2011 at 9:58 পূর্বাহ্ন - Reply

      @রাজেশ তালুকদার,

      প্রতিশোধস্পৃহা দিয়ে অন্নবস্ত্রহীন অসহায় বীরাঙ্গনাদের সম্মান দিয়ে ধন্য করা হচ্ছে ওদের। হতভাগীরা বোবা চোখে দেখছে গো আজম আর শিবিরের উল্লাস, এই মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশে। আর দেখছে নির্বিকার বাংলা। হায় স্বাধীনতা।

  5. অরণ্য ডিসেম্বর 16, 2011 at 1:22 পূর্বাহ্ন - Reply

    (Y) (Y)

    যুদ্ধশিশুদের নিয়ে লিখা কবিতার থিমটা খুব ভালো। এ বিষয়ে আরও বেশি সচেতনতার প্রয়োজন আছে।
    লিখে যান। ভালো লাগলো।

    বিঃ দ্রঃ শামসুর রাহমানের লেখা – “কালো মেয়ের জন্যে পংক্তিমালা” _ কবিতাটার সঠিক বানানের কোন কপি যদি কেউ শেয়ার করে তাহলে খুব আত্মিক উপকার হয়। 🙂

    • কাজী রহমান ডিসেম্বর 16, 2011 at 9:52 পূর্বাহ্ন - Reply

      @অরণ্য,

      বীরাঙ্গনা পুনর্বাসন সাহাজ্য ভালোবাসা সম্মান……… কিচ্ছু নেই। সব ফক্কা। সচেতনতা……………তা তো দেখতেই পাচ্ছি।

মন্তব্য করুন