আমাকে ওরা দান করে দিয়েছিলো;
লজ্জায় ছিলো মাথা নাকি হেঁট,
আমার মা।

একজন যুদ্ধশিশুও হতে পারিনি তখন।
তুমি জানবার আগেই দানপত্র তৈরি।
আমার মা।

কেঁদে অন্ধ তুমি, দেহ-মন রক্তলাল;
আছো বাংলায় বা ছিলে অনেককাল।
আমার মা।

তোমার ভাষাটাও বলতে শিখিনি দূরদেশে;
পরিত্যাক্ত আমি। বিশ্ব-শিশু। কষ্ট পেওনা,
আমার মা।

মা তেরেসার মন্দির ছাপিয়ে গাইলাম;
ধর্ষণে অস্পৃশ্য অবহেলিত দুখিনী ওগো,
আমার মা।

এত সয়েও বীরাঙ্গনাই হলে, তবু।
জন্ম আমার ধন্য হোল মা’গো।
আমার মা।

(একজন যুদ্ধশিশু কোহিনূর এসেছিলো এবার বাংলাদেশে, মাদার তেরেসার চার্চ ছেড়ে, চল্লিশ বছর পর। দেশ মা’কে সান্তনা দিয়ে গেয়ে চলে গেল মেয়েটা। ৭১’এর খুনি ধর্ষক যুদ্ধাপরাধীদের নির্যাতনে আজো কেঁদে মরে, অনাহারে উৎকণ্ঠায়, অবহেলায় মৃতপ্রায় অথবা মৃত সেই সব ত্যাগী ম বোনেরা। অভিযোগের শক্তিও নেই, ইতিহাসও যাদের কথা বলতে গিয়ে ক্লান্ত, সেই মানুষদেরকে মনে করে ধন্য আমি। হাহাকারে লিখেছি, উৎসর্গ এই লেখা, তাদের আর তাদের হারিয়ে যাওয়া সন্তানদের জন্য)

[34 বার পঠিত]