Extraordinary claims require extraordinary evidence- Carl Sagan

What can be asserted without evidence can also be dismissed without evidence- Christopher Hitchens

বিবর্তন তত্ত্বের বিরুদ্ধে একটা বহুল প্রচলিত অভিযোগ হল বিবর্তন তত্ত্ব নাকি নাস্তিকতাকে শক্ত ভিত্তি দিয়েছে। বস্তুত, বিবর্তনের বিরুদ্ধে এটাই সবচেয়ে বড় অভিযোগ। আদালতে গিয়ে বিবর্তনের বিরুদ্ধে বৈজ্ঞানিক “প্রমাণ” হাজির করে কখনও কোন লাভ হয় নাই, বিশেষজ্ঞরা যুক্তি-প্রমাণ সমেত সৃষ্টিবাদীদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। বিজ্ঞানের জ্ঞান না রাখা সাধারণ মানুষের কাছে ছদ্ম-বৈজ্ঞানিক ভংচং মারার চেয়ে বিবর্তনকে নাস্তিকতার বৈজ্ঞানিক মুখোস হিসেবে দেখানোটাই বেশি কার্যকরী, পশ্চিম ও প্রাচ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিবর্তন নিয়ে ভুল ধারণাও তাই ইঙ্গিত করে। বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানকে নাস্তিক্যবাদী মতবাদ হিসেবে দেখানোর পাশাপাশি সৃষ্টিবাদীরা এও দাবি করে যে আস্তে আস্তে নাকি বিবর্তনের প্রতি সংশয়ী বিজ্ঞানীর সংখ্যা বাড়ছে। এই দু’টো অভিযোগ আমি এই পোষ্টে খন্ডন করার চেষ্টা করব।

বৈজ্ঞানিক সমাজে বিবর্তন তত্ত্বের গ্রহণযোগ্যতা
সত্য অথবা ফ্যাক্ট কখনও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন করা যায় না। দুনিয়ার ৭ বিলিওন মানুষ যদি বিশ্বাস করে যে পৃথিবী সমতল(যেমনটা আগে করত), তাহলে দুনিয়ার ৭ বিলিওন মানুষই ভুল। ৭ বিলিওন মানুষের বিশ্বাস পৃথিবীর আকৃতিকে বদলাতে পারবে না। ৭ বিলিওন মানুষের মাঝে শুধু একজনকে যদি পাওয়া যায় যে পৃথিবীর গোলকত্বকে গ্রহণ করে, তবে আমি বলব যে ৭ বিলিওন মানুষের পৃথিবীতে আসলে মানুষ আছে একজনই, বাকিরা সবাই ছাগল। ৭ বিলিওন মানুষের হাস্যকর বিশ্বাস এবং হাস্যকর অনুভূতিকে আমি সম্মান করার কোন কারণ দেখি না। মানুষের অনুভূতিকে সম্মান করার চেয়ে আমি সম্মান করি মানুষের বুদ্ধিকে, আমি সম্মান করি নিঃস্বার্থভাবে বস্তু জগতকে জানার অদম্য স্পৃহাকে। আমার এই দাম্ভিকতাকে আপনি যাচ্ছেতাই ভাষায় গালাগালি করতে পারেন, তাতে বস্তুজগতের একটা ছোট্ট কণারও কিছু যায় আসবে না।

মিডিওকর বা সাধারণ মানুষ এই নৈর্ব্যক্তিকতাকে আলিঙ্গন করতে পারে না। যেই যৌথ অহম দ্বারা তাড়িত হয়ে একসময় মানুষ পৃথিবীকে সৌরজগতের কেন্দ্রে বসিয়েছিল, সেই একই অহমের কারণে সাধারণ মানুষ প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে বিশ্বাস করে যে সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকজন কোন কিছুতে বিশ্বাস বা অবিশ্বাস করলেই তা ঠিক বা ভুল হয়ে যাবে। মানুষকে এই অহম থেকে মুক্তি দেওয়ার মধ্যেই কেবলমাত্র মানুষের উত্তোরণ সম্ভব। বিজ্ঞান একটা মানবিক এনটারপ্রাইজ বা উদ্যোগ, সেই হিসেবে মানুষের সহজাত খুতগুলো থেকেও বিজ্ঞান মুক্ত নয়, কিন্তু নিজেদের অহম থেকে মুক্তির জন্য বিজ্ঞানই আমাদের একমাত্র সম্বল। বিজ্ঞানীদের মানুষ হিসেবে অহম থাকতে পারে, কিন্তু একটা উদ্যোগ বা এন্টারপ্রাইজ হিসেবে বিজ্ঞানের কোন অহম নেই। বিজ্ঞানের আত্মসমালোচনার প্রবৃত্তি এবং মিথ্যা-প্রতিপাদনযোগ্যতা ও প্রমাণের উপর নির্ভরতা বিজ্ঞানকে আর সবধরণের মানবিক উদ্যোগ থেকে আলাদা করেছে। বিজ্ঞানের এই অস্বাভাবিক প্রকৃতির কারণেই বস্তুজগত ও মানুষের উৎস সম্পর্কিত রহস্যময় প্রশ্নগুলোর উত্তরের জন্য আমরা বিজ্ঞানের উপর নির্ভর করি, দর্শন কিংবা ধর্মের উপর না।

ফ্যাক্ট উন্মোচন ও বিশ্লেষণকারী বিজ্ঞানের কাছে গণতন্ত্রের দু’ পয়সা দাম নেই। গণতন্ত্র মানুষের অভিরুচির উপর নির্ভরশীল, যা একান্তই ব্যক্তিনিষ্ঠ। বিজ্ঞান পরীক্ষণের উপর নির্ভরশীল, যা সাধারণত বস্তুনিষ্ঠ হয়। আমি পরীক্ষা করে যে ফলাফল পাব, তা হয়ত আমার ব্যক্তিগত পক্ষপাত কিংবা প্রত্যাশার কারণে নির্মোহভাবে বিশ্লেষণ করতে পারব না। কিন্তু আপনাকে আঁটকে রাখছে কে? আমার পক্ষপাত ও প্রত্যাশা তো আপনি ধারণ করেন না, আপনি করলেও কোন তৃতীয় ব্যক্তি করবে না। আপনার, আমার ও গোটা বিশ্বের সব বিজ্ঞানীর পক্ষপাত ও প্রত্যাশা যেহেতু কখনওই মিলবে না, তাই আমার পরীক্ষার ফলাফল আমার পক্ষে নির্মোহভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব না হলেও দুনিয়ার বাকি সবার পক্ষে সম্ভব। পৃথিবীর প্রত্যেকটি বিজ্ঞানীর ইন্ডিভিডুয়াল সাবজেকটিভিটি একে অপরকে প্রশমিত করে একটি সম্যক অবজেকটিভিটির জন্ম দেয়। আমি বিষয়টা যেভাবে দেখি- objectivity arises from vying subjectivities। একটি এন্টারপ্রাইজ হিসেবে বিজ্ঞানের নিরপেক্ষতা যেহেতু আমি প্রতিষ্ঠা করলাম, তাই সঠিক-বেঠিক নির্ধারণের ক্ষেত্রেও বিজ্ঞানের ক্ষমতাকে আমি পরম মনে করি(অবশ্য আমি এটাও স্বীকার করি যে দুনিয়ার অনেক কিছুই বিজ্ঞানের আওতায় পড়ে না, উদাহরণ হিসেবে রাজনীতি ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের কথা বলা যায়)। বিজ্ঞানের যেহেতু নিরপেক্ষতা আছে আর ফ্যাক্ট আবিস্কার করার পেছনে যেহেতু গণতন্ত্রের কোন ভূমিকা নেই, তাই কোন অনুকল্প(hypothesis) বা তত্ত্বকে আমরা মানুষের অভিরুচি দিয়ে বিচার করতে পারি না।

প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় প্রায়ই মানুষকে বলতে দেখি যে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিবর্তনের কোন গ্রহণযোগ্যতা নাই। অপেক্ষাকৃত চতুর সৃষ্টিবাদীরা এও দাবি করে যে বিবর্তন নাকি প্রথমে গ্রহণযোগ্য ছিল, কিন্তু বর্তমানে নাকি বিজ্ঞানীরা এই তত্ত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছে। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, বিবর্তনের পক্ষে প্রথমে কি এমন প্রমাণ ছিল এবং এখনই বা কি এমন প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে যে বিজ্ঞানীরা প্রথমে বিবর্তন মেনে নিলেও এখন অস্বীকার করছেন? এই প্রশ্নের কোন সরাসরি উত্তর কখনও সৃষ্টিবাদীদের কাছে পাবেন না। যারা দিনরাত হেত্বাভাসের মধ্যে হাবুডুবু খায়, তাদের কাছে হেত্বাভাসের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া অর্থহীন। বিবর্তন তত্ত্বের বৈজ্ঞানিক গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু এই মামুলি আলোচনাটা আমার কখনওই করার ইচ্ছা ছিল না, কিন্তু কাউকে না কাউকে নোংরা কাজটা করতেই হবে, আমিই নাহয় এই দায়িত্বটা নিলাম। নিচে বিবর্তনের গ্রহণযোগ্যতা ও ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন নিয়ে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সংস্থার বিবৃতির তালিকা দেওয়া হল। বলে রাখা ভাল, সৃষ্টিবাদ আর ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইনের মাঝে কিছুটা পার্থক্য আছে। সৃষ্টিবাদ একেবারে নগ্নভাবেই ধর্মবাদী। কোন রাখঢাক ছাড়াই খ্রীষ্টান, হিন্দু, মুসলমানরা তাদের ধর্মগ্রন্থের দোহাই দিয়ে বিজ্ঞানের বিরোধীতা করলে সেটাকে সৃষ্টিবাদ বলে। তবে আমেরিকাতে সরকারী শিক্ষা-প্রতিষ্ঠাণে ধর্ম পড়ানো নিষিদ্ধ, তাই খ্রীষ্টান সৃষ্টিবাদীরা পরে তাদের সৃষ্টিবাদ থেকে বাইবেলের সব রেফারেন্স সরিয়ে সেকুলার মোড়কে সৃষ্টিবাদের প্রচারনা শুরু করে। আইডিপন্থী প্রকাশনাগুলায় স্রষ্টার উল্লেখ থাকে খুবই কম, মূলত বিবর্তন তত্ত্বের কথিত গলদ বের করে সেখানে “ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইনার” এর কারসাজি বসিয়ে দেওয়াই এই মতবাদের প্রবক্তাদের কাজ।

১) প্রথমেই InterAcademy Panel(IAP) এর বক্তব্য দেখে নিতে পারেন এখানে– মজার বিষয় হল, এই স্টেটমেন্টে ৬৮টা একাডেমির পাশাপাশি বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের বিজ্ঞান একাডেমিও স্বাক্ষর করেছে!

২) আমেরিকার National Academy of Sciences(যার মধ্যে আছে National Academy of Engineering, Institute of Medicine, National Research Council) এর বক্তব্য- http://www.nap.edu/openbook.php?record_id=6024

৩) American Association for the Advancement of Science-
• ২০০২ সালের বক্তব্য
• ২০০৬ সালের বক্তব্য
প্রশ্নোত্তর

৪) American Association of University Professors

“The theory of evolution is all but universally accepted in the community of scholars and has contributed immeasurably to our understanding of the natural world. The Ninety-first Annual Meeting of the American Association of University Professors deplores efforts in local communities and by some state legislators to require teachers in public schools to treat evolution as merely a hypothesis or speculation, untested and unsubstantiated by the methods of science, and to require them to make students aware of an “intelligent-design hypothesis” to account for the origins of life. These initiatives not only violate the academic freedom of public school teachers, but can deny students an understanding of the overwhelming scientific consensus regarding evolution.

The implications of these efforts for higher education are particularly troubling to this Meeting. To the degree that college and university faculty in the field of biology would be required to offer instruction about evolution and the origins of life that complied with these restrictions and was at variance with their own understanding of scientific evidence, their freedom to determine what may be taught and how would be seriously abridged.

This Meeting calls on local communities and state officials to reject proposals that seek to suppress discussion of evolution in our public schools as inimical to principles of academic freedom.”

৫) American Chemical Society– এই একাডেমিতে প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার রসায়নবিদ রয়েছেন। বলা হয়ে থাকে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক সংস্থা।

৬) American Astronomical Society- যদিও জীববিজ্ঞানের ফিল্ডে এই একাডেমির মতামত দিয়ে কিছু যায় আসে না, কিন্তু একটা কথা মনে রাখতে হবে যে ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন জীববিজ্ঞানের পাশাপাশি জ্যোতির্বিজ্ঞানের ফিল্ডেও সৃষ্টিবাদের প্রচারনা চালায়। ২০০৫ সালে জর্জ বুশের কাছে প্রেরীত একটি চিঠি আর বিবর্তন পড়ানো সম্পর্কিত একটি বিবৃতি দেখুন। তাছাড়া আইডিকে বিজ্ঞানের পাঠ্যসূচীতে অন্তর্ভুক্ত করলে সেটা হবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রতি চপেটাঘাত, তাই আইডির প্রতি বিজ্ঞানের সব ফিল্ডেরই বিতৃষ্ণা রয়েছে।

৭) American Geophysical Union– এটিতে প্রায় ৪৩০০০ বিজ্ঞানী রয়েছেন।

৮) American Institute of Physics– এই একাডেমি মূলত Geophysical Union এর প্রতি পূর্ণাঙ্গ সমর্থন প্রকাশ করেই বিবৃতি দিয়েছে, সাথে Society of Physics Students এর বিবৃতিও আছে।

৯) American Psychological Association

১০) American Society of Agronomy

১১) American Society for Biochemistry and Molecular Biology– এটা অবশ্য কোন অফিসিয়াল বিবৃতি না।

১২) Botanical Society of America– এঁদের বিবৃতিটা খুবই সুন্দর। একটা চুম্বক অংশ তুলে দিলাম,

“Phylogenetic hypotheses, patterns of ancestral relatedness, based on one set of data, for example, base sequences in DNA, are generated, and when the results make logical sense out of formerly disparate observations, confidence in the truth of the hypothesis increases. The theory of evolution so permeates botany that frequently it is not mentioned explicitly, but the overwhelming majority of published studies are based upon evolutionary hypotheses, each of which constitutes a test of an hypothesis. Evolution has been very successful as a scientific explanation because it has been useful in advancing our understanding of organisms and applying that knowledge to the solution of many human problems, e.g., host-pathogen interactions, origin of crop plants, herbicide resistance, disease susceptibility of crops, and invasive plants.”

১৩) Federation of American Societies for Experimental Biology– এটি ২২টা প্রফেসনাল সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে, যার মোট সদস্য সংখ্যা প্রায় ৮৪০০০।

১৪) National Association of Biology Teachers

১৫) National Center for Science Education- এই সংস্থাটার জন্মই হয়েছে আমেরিকার সরকারি স্কুলগুলোতে সৃষ্টিবাদ পড়ানোর বিরুদ্ধে আইনী লড়াই করার জন্য। এই সাইটে বিবর্তন পড়ানোর পক্ষে বৈজ্ঞানিক, ধর্মীয়, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন সিভিল লিবার্টি সংস্থার তালিকা দেওয়া হয়েছে।

১৬) National Science Teachers Association

১৭) প্রেসিডেন্ট বুশের আইডি পড়ানো সম্পর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে তৎকালীন ন্যাশনাল সায়েন্স একাডেমির প্রেসিডেন্ট ব্রুস আলবার্টসের একটা চিঠি

১৮) এবার আসি সবচেয়ে মজার বিবৃতিতে। Lehigh University এর মাইকেল বিহে আইডির অন্যতম কুখ্যাত প্রচারক। তাঁর জৈবরসায়নের ক্রেডেনশিয়াল দেখিয়ে সৃষ্টিবাদীরা খুব লাফালাফি করে এই বলে যে বিজ্ঞানীদের মধ্যেও নাকি অনেকে বিবর্তন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। বিহে অপর্যবসেয় জটিলতা(irreducible complexity) ধারণাটির প্রবর্তক। এই মতবাদ দাবি করে যে কিছু কিছু জৈব সিস্টেম এতই জটিল যে একে বিনির্মাণ করে এর গঠণকারী উপাদানগুলো আলাদা করে ফেললে সেই উপাদানগুলোর কোন কার্যকারীতা থাকে না। অর্থাৎ, উপাদানগুলো কেবল একটা বিশেষ বিন্যাসেই সঠিকভাবে কাজ করে, এগুলোকে যেহেতু অন্য কোন বিন্যাসে সাজানো সম্ভব না তাই এধরণের জটিল জৈব সিস্টেম বিবর্তনের প্রক্রিয়ায় উদ্ভূত হতে পারে না। এই মতবাদ সম্পর্কে আমাদের বিবর্তন আরকাইভে ভুক্তি আছে। উপরোক্ত বিবৃতিতে খোদ Lehigh University এর জীববিজ্ঞান অনুষদ মাইকেল বিহের সমালোচনা করেছে।

১৯) Council of Europe

২০) Elie Wiesel Foundation for Humanity Nobel Laureates Initiative- ২০০৫ সালে আমেরিকার কানসাসের রাষ্ট্রের শিক্ষা বোর্ড স্কুলে আইডি পড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছিল। তখন কানসাস শিক্ষাবোর্ডকে উদ্দেশ্য করে নোবেল বিজয়ীদের এই সংগঠণের ৩৮জন সদস্য একটি চিঠি লিখেন।

২১) Intelligent Design is not Science Initiative– এই ইনিশিয়েটিভ বলতে পারেন গোটা অস্ট্রেলিয়ার সবগুলো বিজ্ঞান একাডেমির সম্মিলিত উদ্যোগ। University of New South Wales এর বিজ্ঞান অনুষদ এই জোট গঠণ করে। Australian Academy of Science, Federation of Australian Scientific and Technological Societies এবং Australian Science Teachers Association মিলিয়ে মোট ৭০০০০ বিজ্ঞানী ও শিক্ষক স্বাক্ষর প্রদান করেছেন।

২২) Royal Astronomical Society of Canada

২৩) Project SteveAnswers in Genesis নামক এক খ্রীষ্টান সৃষ্টিবাদী সাইট বিজ্ঞানীদের একটা তালিকা বানিয়েছিল যারা বাইবেলের সৃষ্টিতত্ত্বে হুবহু বিশ্বাস করে(যেখানে সিংহভাগ আধুনিক শিক্ষিত খ্রীষ্টান বাইবেলের বাণীকে রুপক হিসেবে দেখে)। ডিসকভারি ইন্সটিটিউট নামক একটি আইডি থিংক-ট্যাঙ্কও একই সাথে আইডির পক্ষে স্বাক্ষর গ্রহণ করে যাচ্ছে, ২০০৭ পর্যন্ত্য স্বাক্ষরকারীর সংখ্যা ছিল ৭০০। এই তালিকায় জীববিজ্ঞানীর চেয়ে জীববিজ্ঞানের বাইরের লোকই বেশি ছিল, এমনকি কমপিউটার প্রকৌশলী আর আবহাওয়াবিদদের থেকেও স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল! আরও মজার বিষয় হল, ১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জীববিজ্ঞানীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৯৫৫৩০০ এবং ডিস্কভারী ইন্সটিটিউটের তালিকার জীববিজ্ঞানী ছিল মাত্র ১০৫জন, যা মোট সংখ্যার .০১%! এই হাস্যকর উদ্যোগের জবাব হিসেবে ঘোষণা করা হয় “প্রোজেক্ট স্টিভ”। এই বিবৃতিতে শুধু তাঁরাই স্বাক্ষর করতে পারবেন যাঁদের নাম স্টিভ/স্টিভেন/স্টিফেন/স্টিফেনি/এস্টেবান। যুক্তরাষ্ট্রে স্টিভরা মোট জনসংখ্যার ১% এরও কম, কিন্তু তাতেই এই তালিকাতে এই মুহুর্তে ১১৭৯জন স্বাক্ষরকারী আছেন যা যেকোন সৃষ্টিবাদী “বিজ্ঞানী” এর তালিকার চেয়ে বেশি!

এছাড়াও ডিস্কভারী ইন্সটিটিউটের তালিকায় অনেকেই ধর্মীয় কারণে বিবর্তনের বিরোধীতা করেছেন, বৈজ্ঞানিক কারণে না। এছাড়া অন্তত দু’জন তালিকা থেকে পরে নিজেদের নাম সরিয়ে নিয়েছেন। Binghamton University এর Stanley N. Salthe(যিনি আবার নাস্তিক) নাম লিখিয়েছিলেন মূলত বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানীদের এক হাত দেখে নেওয়ার জন্য, কারণ তিনি মনে করতেন বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানীরা নতুন তত্ত্ব গ্রহণ করার ব্যাপারে অতি মাত্রায় রক্ষণশীল। কিন্তু স্ট্যানলি একই সাথে আইডিকেও ঘৃণা করতেন, তাই পরে তিনি তালিকা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। আরেকজন হলেন ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেফ্রলজিস্ট রবার্ট ডেভিডসন, যিনি স্বাক্ষর করার আগ পর্যন্ত্য জানতেন না যে ডিস্কভারি ইন্সটিটিউট বিবর্তন তত্ত্বকে “a theory in crisis” দাবি করে বসে আছে। তাঁর মতে আইডি বিজ্ঞান ও ধর্মের মাঝে বৈরীতা বৃদ্ধি করবে। প্রোজেক্ট স্টিভের বদৌলতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ড: ব্রায়ান অল্টার্স দাবি করছেন যে বিবর্তন সমর্থনকারী বিজ্ঞানীর সংখ্যা ৯৯.৯৯%।

বিবর্তনবিরোধীতার ব্যাপারে বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি করপোরেটদের মধ্যেও উৎকন্ঠা বেড়েছে।৬,৭ কানসাসে পাঠ্যসূচী থেকে বিবর্তন উঠিয়ে দিলে কানসাসের জৈবপ্রযুক্তির প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করার মত দক্ষ কর্মী পাওয়া যাবে না বলে অনেকে অভিমত প্রকাশ করেছিলেন।

বিবর্তনবিদ্যার সাথে নাস্তিকতার সম্পর্ক কি?

বিবর্তন ঘটার পূর্বশর্ত কি?

১) নিজের প্রতিলিপি তৈরী করতে পারে এমন কিছু সত্ত্বা(entity) থাকতে হবে। একে self-replicating entity বা স্রেফ replicator বলে।

২) প্রতিলিপি তৈরীর প্রক্রিয়ায় কিছু খুত থাকতে হবে যাতে রেপ্লিকেটরগুলো সবাই নিজেদের হুবহু প্রতিনিধি তৈরী করতে না পারে, অর্থাৎ, কমিউনিটিতে যাতে প্রকরণ সৃষ্টি হয়।

৩) সীমিত সম্পদের জন্য রেপ্লিকেটরগুলোর মধ্যে প্রতিযোগীতা থাকতে হবে(এটি অবশ্য প্রাণীদের জন্য প্রযোজ্য)

অত্যন্ত সরলীকরণ করলে এটাকেই বিবর্তনের পূর্বশর্ত বলা যায়। অবস্থা যদি এরকম হয়, তবে দেখা যাবে যে আমাদের এই হাইপোথিটিক্যাল জনপুঞ্জে নিজে থেকেই রেপ্লিকেটরগুলোর মধ্যে পার্থক্যযুক্ত প্রজনন(differential reproduction) ঘটছে, অর্থাৎ, কোন কোন রেপ্লিকেটর অন্যদের চেয়ে বেশি বেশি করে নিজের বংশধর রেখে যেতে পারছে। এই যে রেপ্লিকেটরগুলোর ফ্রিকোয়েন্সীর মধ্যে একটা পার্থক্য সৃষ্টি হচ্ছে, এই পার্থক্যের প্রতি ইঙ্গিত করেই আমরা বলি যে প্রাকৃতিক নির্বাচন ক্রিয়া করছে। অনেকের মধ্যেই একটা ভুল ধারণা আছে যে প্রাকৃতিক নির্বাচন একধরণের “বল” বা force। জীবনে বিবর্তনের উপর একটাও পাঠ্যবই না পড়া সৃষ্টিবাদীরাও এই বিভ্রান্তিটা ছড়িয়ে যাচ্ছে। আমি যদি বলি যে প্রাকৃতিক নির্বাচন দ্রুত গতির হরিণদেরকে নির্বাচন করছে, তার মানে আমি এটা বলছি না যে কোন একটা অদৃশ্য শক্তি হরিণগুলোকে আগলে রাখছে। আমি বলছি যে যেসব হরিণ শিকারীদের কাছ থেকে দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যেতে পারে, কেবল সেসব হরিণই বেঁচে যাবে এবং পরে বাচ্চা পয়দা করে পরবর্তী প্রজন্মে তার এই বৈশিষ্ট্য ছড়িয়ে দিবে। আরেকভাবে বলতে গেলে, ইকোসিস্টেমে দ্রুত গতির হরিণের ফ্রিকোয়েন্সী বৃদ্ধি পাবে। সাধারণ জ্ঞান আর বংশগতি- এর চেয়ে বেশি কিছু না। উপরোক্ত এলগরিদমটা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণু কিংবা জিন থেকে শুরু করে প্রজাতির জন্যও প্রযোজ্য, তবে আগেই বলেছি যে বাস্তবে বিবর্তন এত সহজে ঘটে না। বাস্তব দুনিয়ায় অনেক বেশি চলক(variable) থাকে।

বিবর্তনের এই যে বর্ণনা দিলাম, এর সাথে কি নাস্তিকতার কোন মিল পাচ্ছেন? মিল পাওয়ার কথা না, কারণ নাস্তিকতা একটা দার্শনিক অবস্থান। কে কয়টা বাচ্চা রেখে গেল, কার নাতিপুতির সংখ্যা বেশি- এগুলা নাস্তিকতার ডোমেইনে পড়ে না। নাস্তিকতা হল স্রেফ আস্তিকতার প্রত্যাখ্যান। আজকাল নাস্তিকতাকে ধর্ম বানানোর একটা পায়তারা দেখা যাচ্ছে ধার্মিকদের মধ্যে। উপস্থিতি আর অনুপস্থিতিকে যারা গুলিয়ে ফেলে, তারা কেবল গবেট না, পুরোদস্তুর মানসিক ভারসাম্যহীন। প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তন আধুনিক জীববিজ্ঞানের অন্যতম স্তম্ভ। এখানে উল্লেখ্য যে প্রাকৃতিক নির্বাচন একটি অন্ধ প্রক্রিয়া, এর কোন সুনির্দিষ্ট দিক কিংবা গতিপথ নেই। বিখ্যাত বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী ও জীবাশ্মবিদ স্টিভেন জে গুল্ড বলেছিলেন যে প্রাণের ইতিহাস যদি আবার নতুন করে শুরু হয়, তাহলে হয়ত মানুষের মত কোন বুদ্ধিমান সত্ত্বার উৎপত্তি ঘটবে না। বুদ্ধিমত্তা খুবই অসম্ভাব্য(এটা অবশ্য শুধু বিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না :P) একটা ফেনোমেনন, পৃথিবীতে মানুষের মত একটা বুদ্ধিমান প্রাণির উদ্ভবকে একটা দৈব ঘটনাই বলা চলে। তবে প্রাণের ইতিহাস আবার নতুন করে শুরু করলে গরু-ছাগল-মানুষের উদ্ভব ঘটার সম্ভাবনা কম হলেও চোখের উদ্ভব হবার সম্ভাবনা কিঞ্চিত বেশি। সমকেন্দ্রিক বিবর্তনের(convergent evolution) ফলে পৃথিবীতে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র্যভাবে অনেকবার চোখের উদ্ভব ঘটেছে(মেরুদন্ডী প্রাণী আর cephalopod বংশে চোখ সম্পূর্ণ আলাদাভাবে বিবর্তিত হয়েছে), তাই প্রাণের ইতিহাস নতুন করে শুরু করলে চোখের উদ্ভব না ঘটাটাই বরং অস্বাভাবিক হবে।

যাই হোক, বিবর্তনকে একটা অন্ধ প্রক্রিয়া হিসেবে দেখলে ঈশ্বরের আর কোন প্রয়োজনীয়তা থাকে না। কিন্তু একটু চিন্তা করে দেখুন, বিবর্তন না ঘটলেও কি ঈশ্বরের কোন প্রয়োজনীয়তা থাকে? ঈশ্বরকে বস্তুজগত ও প্রাণের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। একটা ভাল ব্যাখ্যাকে অবশ্যই স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। আপনার ব্যাখ্যা নিজেই যদি ব্যাখ্যার দাবিদার হয়, সেই ক্ষেত্রে আপনার ব্যাখ্যার মেরিট শূণ্য হবে। সবকিছুর যদি স্রষ্টা লাগে, তবে স্রষ্টার স্রষ্টা লাগবে না কেন? আপনি যদি স্রষ্টাকে বস্তুজগতের নিয়মের উর্ধ্বে রাখতে চান, তবে আপনি কিসের ভিত্তিতে রাখবেন? আপনি চাইলেই স্রষ্টাকে “সকল নিয়মের উর্ধ্বে” হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতে পারেন না, কারণ তাহলে একইভাবে আমিও বস্তুজগতের সৃষ্টিপ্রক্রিয়াকে প্রাকৃতিক নিয়মের ব্যতিক্রম হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতে পারি। ঈশ্বরের প্রকৃতি নিয়ে এসব বিতর্কের একটা মজার দিক হল যেই মানুষ ঈশ্বরকে অতুলনীয়, সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বোত্তম দাবি করছে, সেই অধম মানুষই কিন্তু আবার ঈশ্বরের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে দিচ্ছে। নাস্তিক ঈশ্বরকে প্রাকৃতিক নিয়মের অধীনে রাখতে চাচ্ছে, আস্তিক ঈশ্বরকে প্রাকৃতিক নিয়মের উর্ধ্বে রাখতে চাচ্ছে। উভয় ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ঈশ্বর তার অস্তিত্বের জন্য মানুষের উপর নির্ভরশীল। ঈশ্বরের মত সর্বব্যাপী কোন সত্ত্বা যদি আসলেই থাকত, তবে এই বিতর্কের কোন অবকাশ থাকত না।

তো দেখা যাচ্ছে যে ব্যাখ্যা হিসেবে “ঈশ্বর” এর ধারণাটা মোটেই উৎকৃষ্ট না, বিবর্তন ভুল হলেও ঈশ্বর ঠিক হবে না। অস্তিমান সবকিছুর কৃতিত্ব যদি ঈশ্বরকে দিতে হয়, তবে ঈশ্বরের পক্ষে স্বতন্ত্র্য প্রমাণ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে দু’টো হেত্বাভাস অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে,

১) Argument from incredulity- আপনি কোন কিছু বিশ্বাস করতে পারছেন না বলেই সেই ঘটনা মিথ্যা হয়ে যায় না। বিশ্বাসযোগ্যতা একটা সাবজেকটিভ বৈশিষ্ট্য। আপনার কাছে বিবর্তনের মাধ্যমে প্রাণের উদ্ভবকে অবিশ্বাস্য মনে হয়, আমার কাছে হাওয়া থেকে ঈশ্বরের সবকিছু সৃষ্টি একই পরিমাণে অবিশ্বাস্য মনে হয়। কেইস ক্লোজড ।
২) God of the gaps argument- বিজ্ঞান কোন কিছু ব্যাখ্যা করতে পারছে না, তার মানে সেটা অবশ্যই ঈশ্বরের কীর্তি হবে এমন কোন কথা নেই। মনে রাখবেন- “ক” ভুল হলে “খ” ঠিক হয় না। আমার কথা ভুল হলে আপনার কথা সঠিক হবে না। আমার বক্তব্যের সত্যতা ঠিক/বেঠিক প্রমাণিত হওয়ার ঘটনা আপনার বক্ত্যবের সত্যতার ঠিক/বেঠিক হওয়ার সম্ভাবনাকে বিন্দুমাত্র প্রভাবিত করবে না। সম্ভাব্যতা তত্ত্বে একে বলে mutually independent events।

এই দু’টো হেত্বাভাস এড়িয়ে আপনি যদি ঈশ্বরের অস্তিত্বের পক্ষে স্বতন্ত্র্য প্রমাণ বের করে ঈশ্বরকে বিবর্তনের উপযুক্ত বিকল্প হিসেবে দাঁড়া করানোর অসম্ভব কাজটা সম্ভব করতে পারেন, তবে আপনাকে নিঃসংকোচে অভিবাদন জানাব।

এখন প্রশ্ন হল, বিবর্তনের সাথে কি ঈশ্বরের ধারণা একদম সামঞ্জস্যহীন? সামঞ্জস্যহীন হয়ত হত, যদি ঈশ্বরের কোন সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা থাকত। পৃথিবীতে যদি ৫ বিলিওন আস্তিক থাকে, তবে দেখা যাবে ঈশ্বরের ৫ বিলিওন সংজ্ঞা পাওয়া যাচ্ছে। একজন উচ্চ শিক্ষিত আধুনিক ধার্মিকের ঈশ্বর বেশ প্রগতিশীল, সেই ঈশ্বর বান্দার জীবনের খুটিনাটি বিষয় নিয়ে মাথা ঘামান না। বান্দা এক ওয়াক্ত নামায মিস করলেও সেই ঈশ্বর তাকে মাফ করে দেন। মৌলবাদীর ঈশ্বর আবার মৌলবাদীর মতই কুৎসিত। সেই ঈশ্বর বান্দার খাদ্যাভ্যাস, হাইজিন, মূত্রত্যাগ থেকে শুরু করে বান্দার যৌনজীবনেও নাক গলাতে বিন্দুমাত্র সংকোচ বোধ করেন না। একজন deist এর ঈশ্বর আবার সবকিছুর ব্যাপারেই উদাসীন, তিনি বস্তুজগত সৃষ্টি করে দিয়ে হাত-পা গুটিয়ে বসে আছেন। আস্তিকের ঈশ্বর দর্শন আসলে তারই চরিত্রের দর্পণ।

ঈশ্বরের ধারণা যখন এরকম নমনীয় হয় তখন ঈশ্বরের অস্তিত্ব কোনভাবেই মিথ্যা প্রমাণ করা যায় না, আবার খুব সহজেই মিথ্যা প্রমাণ করা যায়। আপনি বলছেন যে প্রাকৃতিক নির্বাচন একটি অন্ধ প্রক্রিয়া, জীব বৈচিত্র্য সৃষ্টির পেছনে ঈশ্বরের কোন ভূমিকা নেই। আমি যদি বলে বসি যে প্রাকৃতিক নির্বাচনের ওই অন্ধত্বও আসলে ঈশ্বরই প্রদান করেছেন, তাহলে কি আপনি আপত্তি করতে পারবেন? কিসের ভিত্তিতে করবেন? ঈশ্বর সম্পর্কে আপনার আর আমার ধারণা যে মিলে না!

উপসংহার
সত্যের ব্যাপারে কোন প্রকার গণতন্ত্র সম্ভব না। বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব তার নিজ গুণেই প্রতিষ্ঠিত হয়, গোটা মহাবিশ্ব তাকে অস্বীকার করলেও কিছু যায় আসে না। এরপরও যদি আমরা সংখ্যার খাতিরে বিবর্তন তত্ত্বকে বিচার করি, তাহলেও এই তত্ত্ব আইডি থেকে কয়েক আলোকবর্ষ এগিয়ে থাকবে। এরপরও যদি কারও এই ব্যাপারে সংশয় থাকে, তবে সে আসলে নিজেই নিজের সাথে প্রতারণা করছে।

বিবর্তনের সাথে নাস্তিকতার কোন মেলবন্ধন নেই। ঈশ্বরের ধারণা প্রত্যাখ্যান করার জন্য বিজ্ঞানের সাহায্য লাগে না, এই ধারণা এতই ছিদ্রযুক্ত যে সে নিজেই নিজেকে পতিত করে। তাছাড়া ঈশ্বরের ধারণাটা এতই নমনীয় যে ভারচুয়ালি যেকোন কিছুর মধ্যেই ঈশ্বরকে খুজে পাওয়া যেতে পারে। আপনি যদি বিবর্তনের সাথে ঈশ্বরকে সংঘাতময় মনে করেন, তবে সেটি ঈশ্বর সম্পর্কে আপনার ব্যক্তিগত বিশ্বাসেরই পরিচায়ক, যা পৃথিবীর ৭ বিলিওন মানুষের সাথে নাও মিলতে পারে। বিবর্তন একটা বৈজ্ঞানিক ফ্যাক্ট, বিশ্বাস করুন আর নাই করুন। আপনি যখন বৈজ্ঞানিক ফ্যাক্টের সাথে নাস্তিকতার মিত্রতা দাবি করেন, তখন ধার্মিক হিসেবে আপনি আসলে ধর্মের উপর নিজেই কুড়ালটা মারছেন।

তথ্যসূত্র
১) “Encyclopaedia Galactica”. Carl Sagan (writer/host). Cosmos. PBS. December 14, 1980. No. 12. 01:24 minutes in.
২) http://www.slate.com/articles/news_and_politics/fighting_words/2003/10/mommie_dearest.html
৩) Kenneth Chang ,Few Biologists but Many Evangelicals Sign Anti-Evolution, The New York Times, 21 February 2006
৪) Westneat D (24 August 2005). “Evolving opinion of one man“. The Seattle Times.
৫) Finding the Evolution in Medicine
৬) Gertzen, Jason; Stafford, Diane (2005-10-08). “Do Scientists See Kansas, Missouri As ‘Anti-Science’?“. The Kansas City Star.
৭) Waging War on Evolution, Paul A. Hanle, Washington Post, Sunday, October 1, 2006; Page B04

[127 বার পঠিত]

এই লেখাটি শেয়ার করুন:
0