বিজয়ঘুড়ি ১৯৭১

সাদা কালো আর ম্যাটম্যাটে রঙের ঘুড়িগুলোর মত ফাইটারগুলোতে আকাশ ছেয়ে গেছে। বারো তেরটা তো হবেই। থেকে থেকে কানের পাশে অথবা ঘাড়ের পেছনে ঠিক যেন কাপড় ছেঁড়ার শব্দ হচ্ছে। ঘুড়িছাদগুলো থেকে উল্লাসের শব্দ, ভীষণ গোলযোগ সবদিকে। উত্তেজনায় শরীরের সবকটা রগ যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে। চিৎকার করতে করতে গলা ভেঙে যাচ্ছে। শো শো শব্দ কখনো রূপান্তরিত হচ্ছে তীক্ষ্ণ বাশীর মত শব্দে। ওগুলো কখনো হঠাৎ হঠাৎ চোওউ চোওউ চুইইই শব্দ হয়ে যাছে। আরো অনেক শব্দের মধ্যে শুনতে পাচ্ছি আব্বার ধমকের শব্দ, বড়বুর আকুল কণ্ঠে ঢেউ খেলানো ডাকাডাকির শব্দ, সোনাভাইয়ের ভয় পাওয়া হিসহিসে নেমে আসবার হুমকিডাক। এতসবের মাঝেও ঠা ঠা ঠা ঠা শব্দ, ভূপ ভুপ ভূপ ভূপ আওয়াজ, অনেক মানুষের দৌড়োদৌড়ির শব্দ, আরো নতুন অদ্ভূত সব রোমাঞ্চকর শব্দগুলোকে মনে হচ্ছে লক্ষ লক্ষ শব্দ। শব্দগুলো কখনো একাকার হয়ে যাচ্ছে আবার কখনো আলাদা হয়ে যাচ্ছে। দুঃসাহসী ছোটবড় ছেলেগুলো, যাদেরকে ঘুড়ি ওড়াবার সময় দেখি, ওদের অনেককেই দেখছি আমার মত করেই লাফালাফি করে যাচ্ছে যার যার ছাদে। ওদের ছাদগুলোকে আমি ঘুড়িছাদ বলে ডাকি। কখনো উল্লাস উদ্বাহু নৃত্য করছি আমরা, কখনো একটানা চিৎকার চলছে আমাদের। ঘুড়ি ধরবার লগ্গিটা তাক করে এই দুরন্ত কিশোর আমি, আমিও যেন এক একটা ফাইটারের ডানায় আগুন ঝরাচ্ছি। ঠা ঠা ঠা ঠা ঠা, ভূপ ভুপ ভূপ। সময়; দুপুর, ডিসেম্বর ৩, ১৯৭১।

ঢাকার আকাশে উত্তর-পশ্চিম কোনে অত্যন্ত দ্রূতগতির অনেক গুলো ফাইটার উড়ছে সকাল দুপুর দিনভর; কালকের মতো আজও, ডিসেম্বরের ৪ তারিখ আজ। ভয়ঙ্কর কালো কয়েকটাকে দেখছি। খুব গম্ভীর ধরনের আওয়াজ। আবার খুব রূপালী ঝিলিক মারা কয়েকটা তাড়া খেয়ে বেজায় জোরে ছুটছে এঁকেবেঁকে। ম্যাটম্যাটে রঙের দুটো; খুব সাহসী ঘুড়ির মত খাড়া উঠে যাচ্ছে। প্রায় আলিঙ্গনরত বুকে বুকে লেগে থাকা রুপালী অন্য ফাইটারকে নিয়ে খাড়া উঠে যাচ্ছে ওগুলো। বেয়াড়া-বদ তৃতীয় ঘুড়ির মত আর একটি ফাইটার ম্যাটম্যাটেদের দুপাশটায় আর পেছনে সাদা সাদা ধোঁয়ার কদমফুল বানাচ্ছে। ঠা ঠা ঠা ঠা, ভূপ ভূপ। হঠাৎ যেন পেছনের এই বেয়াড়াটার নিতম্বে কশে লাত মারলো কেউ। চরকির মত পাঁক খেতে খেতে আর বিকট আওয়াজ করে দূরে হারিয়ে গেলো ওটা। বুকে লাগা দুটো অনেক উঁচুতে, কালো বিন্দু হয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল এক সময়। একটু পরেই দূরে ব্যাঙের ছাতার মত কুচকুচে কালো ধোঁয়া, মাঝে মাঝে আবার সাদা ধোঁয়া। কয়েকখানা ফাইটার প্লেনকে দেখছি জান-পরান নিয়ে লড়তে। শিরায় শিরায় পৃথিবীশ্রেষ্ঠ প্রবল উত্তেজনা। উম্মাদনায় আর অনন্দে চিৎকার করেই চলেছি ক্রমাগত। অন্য আরো চার পাঁচটা আমার দৃষ্টি সীমায় তখন। ওরা কেউ কাউকে দাবড়াচ্ছে আবার লেজ তুলে পালাচ্ছে। দেখছি আরো দুটো কাটাকাটি খেলতে খেলতে পাঁয়তারা কষছে বুকে বুক লাগিয়ে ঊর্ধ্বাকাশে মারামারি করবার। আবার আবার বারবার অদ্ভূত নতুন সব রোমাঞ্চকর শব্দ শুনে পাচ্ছি। কয়েক লক্ষ শব্দ একবার একাকার হয়ে যাচ্ছে। আলাদা হয়ে যাচ্ছে।

উল্লাস উল্লাস চিৎকার, ফেটে পড়া উল্লাসের আওয়াজ। এই প্রথম ঢাকাবাসীর সাথে আমিও দেখছি, শুনছি, চিৎকার করছি, জয় বাংলা, জয় বাংলা, জয় বাংলা, উন্মাদনায় ফেটে পড়ছি সবাই। উল্লাসে উল্লাসে আগুনে ধোঁয়ায়, আলোতে আওয়াজে চিৎকারে আনন্দে বেদনায় চোখের পানি গড়িয়ে পড়ে চলেছে। আমার বড় ভাই দুটো কি ওদিকটায়? কোথায় ওরা? ওরা আসবে তো ফিরে? ওদের গাঁয়ে গুলি লাগেনি তো? মা ওদেরকের আদর করে খাইয়ে দিতে পারবে তো? আমার বাইপোলার মা হঠাৎ হঠাৎ রান্না করে বসে থাকে, কাউকে খেতে দেয় না, দুটো প্লেটে ভাত বেড়ে ওটাতে ধোঁয়া ওঠা ডিমের দোপেয়াজা আর কোপ্তা দিয়ে বসে থাকে, ভাই দুটোর প্রিয় খাবার। ওরা কি হাতে করে রাইফেল গ্রেনেড পিস্তল আনবে? ওরা কি বুট পরে আসবে? ওরা কি আমাকে ওদের পিস্তল চালাতে দেবে? আমি কি ওটা চালাতে পারবো? দেশ কি সত্যিই স্বাধীন হয়ে যাচ্ছে? আমাদেরকে কেউ তাহলে ইচ্ছে করলেই গুলি করে মেরে ফেলতে পারবে না? এই কিশোর আমাকে ওরা আর নির্দয় ভাবে পিটিয়ে কচি চামড়া ফাটাতে পারবে না ওদের ব্যারাকের পাশে সাইকেল চালাবার অপরাধে? নতুন দুলাভায়ের জন্য কার্ফু ব্রেকে পেঁয়াজু শিঙ্গাড়া আনতে গিয়ে রাজাকার রাজা গুণ্ডার রাইফেলের বাঁটের মার খাবো না তাহলে? পাঞ্জাবীপুলিশ নামের মিলিটারি ‘বাচ্চালোগ ছোড় দো রাজা’ বলা অফিসারের বুটের প্রচন্ড লাথি খেয়ে ড্রেনে মুখ থুবড়ে পড়তে হবে না তাহলে? আমার দু দুটো বোনকে নিয়ে তাহলে আর ভয় পাবে না দাদু? খিঁড়কী দরজার মত ভাঙ্গা পাচিলের ফোঁকর গলে বোনগুলোকে বাঁচার জন্য অন্য বাড়ীতে পালাতে হবেনা আর? বাজারে তাহলে খাবার পাওয়া যাবে অনায়াসে? ব্যাটারী, চিনি, চাল, ডাল, তেল, নুন, কাঠ, কেরসিন; সব? বড় রাস্তার দুপাশের ডোবায় ফুলে থাকা কাক ঠোকরানো চক্ষুবিহীন অনেকগুলো ছ্যাদা হয়ে যাওয়া লাশ দেখতে হবে না তাহলে আর। স্বাধীনতা তাহলে সত্যিই আসছে? ঘুরপাক খাচ্ছে কত কথা মাথায়। আহা কি আনন্দ। কি উত্তেজনা, আহা কি আনন্দ।

চিৎকার চিৎকার, আনন্দ, কি উত্তেজনা কি চিৎকার, আহা কি উল্লাস, অবশেষে স্বাধীন হচ্ছি আমরা। উঁই পোকা খাওয়া লুকানো বার্মা ইস্টার্ন আর গ্লাক্সোর অনেক টাকার দাদুর শেয়ার সাটিফিকেটগুলো এবার তাহলে ভাঙ্গাতে পারবে দাদু? আমরা গরীব হয়ে যাব না তাহলে? স্বাধীনটা স্বাধীনতা স্বাধীনতা, দারুণ দারুণ, কারো কোন কষ্ট থাকবে না। আহা কি আনন্দ, কি উত্তেজনা।

পরদিন, ডিসেম্বরের ৫ তারিখ, উল্টো দিকে, পাগলার দিকে, বুড়ীগঙ্গার ওপর, আবার শব্দ, আবার ফাইটার, আবার কালো ধোঁয়া, ফাইট ফাইট ফাইট উত্তেজনা। ডিসেম্বর ৬, এবার কান ফাটিয়ে শুরু হোল ঢাকার আকাশে মারামারি, ছাতার মত কালো ধোঁয়া, তীক্ষ্ণ চিঁইই চিঁইই চিঁইই বোমা পড়বার শব্দ, আবার প্রায় প্রথম দিনের মত বুকে বুকে লাগা ডগ ফাইট, ফাইটারের মেশিন গান কড় কড় কড় কড়, এন্টি এয়ারক্রাফট গানের ভূপ্ ভূপ্ ভূপ্, আনন্দ উত্তেজনায় পাগল হয়ে যাচ্ছি আবার।

সেদিন, পরদিন, তারপর, তার পরদিন আরো তিন চার দিন, চারিদিক থেকে খবর আসছে এয়ার আট্যাকের, সাফল্যের, আনন্দের, স্বাধীনতার। সারা দেশে নাকি প্রচন্ড এয়ারএট্যাক হচ্ছে। মিত্র বাহিনী, মুক্তি বাহিনী জিতে চলেছে। চারিদিকে আনন্দ উল্লাস উত্তেজনা আর চোখ ভরা আলো। আহা কি আনন্দ।

দুদিন পর, ১৪ ডিসেম্বর ভয়ঙ্কর কালো ফাইটারগুলো আকাশে শিষ দিচ্ছে। এত কাছে যে মনে হচ্ছে পাইলটকে দেখা যাবে। তাই কি হয়। অসম্ভব দ্রূতগতিসম্পন্ন ঝিলিক মারা কটা ফাইটার গভর্নর হাউস মানে বঙ্গভবনকে কেন্দ্র করে চক্কর মারছে। কড়কড় করে গুলি ফাটাচ্ছে। দূরাকাশে ডগ ফাইট দেখতে পাচ্ছি। এদিকে আবার সেই চেনা তীক্ষ্ণ চিঁইই চিঁইই চিঁইই বোমা পড়বার শব্দ পেলাম। অনেক কাছে, অনেক জোরে। মনে হোল, গভর্নর হাউসের মাথায় বোমা পড়লো। ওদিকে আকাশ ফাইটারে ফাইটারে ছেয়ে আছে। কিন্তু কোন ডগ ফাইট নেই, নেই কোন প্রতিআক্রমন। থেকে থেকে আবার ওই সব মহাউত্তেজনাকর শব্দ। দূরে বহু দূরে কালো সাদা ধোঁয়া। সবাই খুশী। সবাই ব্যাস্ত যেন কি কি সব নিয়ে। আব্বা বলছেন ফুল লাগবে কাল, অনেক ফুল। আশেপাশের বাড়ীগুলো থেকে অনেক ফুল জোগাড় করতে হবে, শব্দ হচ্ছে, ভাইগুলো কোথায়? ওরা মরে যায়নি তো, ওদের চোখগুলো কাক খেয়ে ফেলেনি তো? ওরা আসবে তো? স্বাধীনটা আসবে, সবাই বলছে, বলছে বাংলাদেশ স্বীকৃতি পেয়েছে, ভারত, জাতিসঙ্ঘ, ভয়ঙ্কর সেভেন্থ ফ্লিট, আরোরা নিয়াজী সারেন্ডার, স্বাধীনতা, কত কথা বাতাসে, সবাই অনেক কথা বলছে। আমার মাথায় শুধু একটাই ভাবনা আর পেটের ভেতর প্রজাপতি, ভাইগুলো কখন আসবে? কখন স্বাধীন হব? আব্বাকে বার বার বলতে শুনলাম, ফুল, ফুল লাগবে।

৭১ ডিসেম্বরের ৪ থেকে ১৪, ঢাকার আকাশদৃশ্য আর ১৫ এবং ১৬ই ডিসেম্বরের ঢাকার ছবি ওগুলো। ফাইটারের বুকে বুক লাগা যে যুদ্ধ দেখেছি তখন, ওটার নামই ডগফাইট, প্লেনগুলো মিগ টুয়েন্টি ওয়ান, ঝাপসাগুলো হান্টার, আরো কত কি। পাকিদের তাড়া খাওয়া স্যাবর না জানি কি। ওগুলোর নাম তিন চারদিন পর জেনেছি। লোহারপূলের তাজ ডেকোরেটরের মিনু ভাইয়ের বাবা আর বড় ভাই পাকি ফাইটারগুলোর গানারের ছোঁড়া গুলীতে স্বাধীনতার মাত্র দুদিন আগে মরে গেল। মানুষ এখনও মরছে কেন? আব্বা বললেন ইউনিভার্সিটি এলাকায় নাকি অনেক বড় বড় কাদের যেন ধরে নিয়ে গেছে আলবদররা। মেরে ফেলছে নাকি সবাইকে। অস্থির উত্তেজনা, অনিশ্চয়তা, ভয়, আনন্দ, উত্তেজনা, অশ্রু, হাসি, কান্না আরো অনেক কিছু সব একাকার হয়ে যাচ্ছে আর আলাদা হয়ে যাচ্ছে বারেবার, স্বাধীনতা আসছে।

১৫ ই ডিসেম্বর, ফুলবাড়িয়ার সেই পূরোনো রেললাইন ধরে আব্বার সাথে গিয়েছি হরদেও গ্লাস ফ্যাক্টরির পাশে টিকাটুলির মোড়ে, খুব অস্থির অবস্থা, সবাই অস্থির, উল্লাস, উত্তেজনা ভয় কান্না আর আনন্দ একসাথে জড়িয়ে একটা অদ্ভূত অবস্থা। হঠাৎ হঠাৎ টাঁশশ টাঁশশ কিংবা ট্যাঁট ট্যাঁট ট্যাঁট গুলির শব্দ। ভিক্ষে করতো যে মেয়েটা, ফাতু, ওর হাতে নাকি গুলি লেগেছে। রক্তাক্ত বাহু নিয়ে কেঁদে উঠবার বদলে হাসাহাসি করছে ফাতু। কজনা গজগজ করতে করতে ওরই আচল ছিঁড়ে ব্যান্ডেজ করে দিলো। মেয়েটাও দিব্ব্যি ন্যাংটো বাচ্চাটাকে কোলে তুলে হেসে হেসে ভিক্ষে করতে চলে গেল। বহুদিন পর আজ অনেক অনেক আনন্দিত মানুষ তাই অনেক ভিক্ষে পাবে ফাতু। মজা আর মজা। চারিদিকের অস্থির আনন্দে ঘাবড়ে গিয়ে আব্বা সেদিন সিদ্ধান্ত নিলেন বাড়ী ফিরবার।

পরদিন ১৬ই ডিসেম্বর গেলাম পুরোনো রেললাইন ধরে একই যায়গায়, বিকালে। এবার হাতে অনেক ফুল, পাঁচ ছটা মালা আর সীমাহীন উত্তেজনা। দেখছি একের পর এক ট্রাক, উঁচু উঁচু ট্রাক, ভারতীয় সেনারা ঢুকছে শহরে, সাথে অল্প কিছু মুক্তিযোদ্ধা, কেউ কেউ আবার আকাশের দিকে থ্রি নট থ্রি রাইফেলের গুলি ছুঁড়ছে আর হাসিমুখে চারিদিকে তাকাচ্ছে। সবাই হাসিমুখে হাত মেলাচ্ছে ধীরগতির ট্রাকে বসে বা দাঁড়ানো ভারতীয় সেনা আর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে, ফুল নিচ্ছে, মালা নিচ্ছে। জীপগুলোতেই মুক্তিযোদ্ধারা বেশি, প্রাইভেট কারে মুক্তিযোদ্ধারা আরো বেশি। সবাই হাসছে, নীচে কেউ কেউ কাঁদছে। ভাইগুলোকে দেখতে না পেয়ে আমারও কান্না পাচ্ছে। একটু পরেই আবার উত্তেজনায় কান্না ভুলে যাচ্ছি। সবাই বলছে জয় বাংলা, সবাই হাসছে, হাত নাড়ছে সবাই। আব্বাকে বার বার জিজ্ঞেস করছি ভাই আর ভালোভাই এখনো আসছে না কেনো? মালা আর ফুল শেষ হয়ে গেলো কিছু বুঝতে না বুঝতেই। তারপরও অনেক্ষন আব্বা আর আমি দাঁড়িয়ে রইলাম। মুগ্ধ চোখে, সম্মোহিতের মত শয়ে শয়ে অবিরাম ট্রাক জীপ গাড়ী প্রাইভেট কার, লাল সবুজে হলদে ম্যাপ আঁকা পতাকা, আর মুক্তিযোদ্ধাদের দেখছি। ভাই দুটো নেই এদের মধ্যে। এতো মুক্তিযোদ্ধা এলো, ওরা আর আসছে না কিছুতেই। ওরা কেন বুঝতে পারছে না ওদের ছোট্ট একটা ভাই কি আধীর আগ্রহে অপেক্ষায়? অন্তত এক ডজন প্রজাপতি আমার পেটের ভেতর অবিরাম উড়ে চলেছে। ভাই দুটো আসছে না কিছুতেই।

আমার মুক্তিযোদ্ধা ভাইদুটো আলাদা ভাবে ফেরে ডিসেম্বরের শেষ দিকটায়। হিলি চাচারা (ছোটবাবুচাচা আর বড়বাবুচাচা, ওরাই হিলি চাচা, আমার আব্বার দুই খালাত ভাই, চা বাগানের) আজো ফেরেনি। দাদুর শেয়ার সার্টিফিকেটগুলো কোনকালেই আর ক্যাশ করা যায়নি। লুকিয়ে রাখা অনেক অনেকগুলো পাকিস্তানি টাকা খোয়া গিয়েছিলো আমাদের বাড়ী থেকে। আমাদের বাড়ীতে রয়ে যাওয়া বড়বু, ওর ছেলে হোল ঠিক স্বাধীনতার ঠিক পরপরই। দাদু ছোটবুর বিয়ে দিতে পেরেছিলেন ওই মুক্তিযুদ্ধের মধ্যেই, বলতেন ঘরে মিলিটারির দেখবার আগে নাতজামাই দেখাই ভালো। ও হ্যাঁ, আমার অবিরাম ঘ্যানঘ্যানানির চোটে ভাই (বড় ভাই) গুলিবিহীন একটা রিভলভার, আর ভালোভাই (মেজভাই) দারুণ ভারী একটা পিস্তল আমাকে হাতে নিয়ে দেখেতে দিয়েছিলো পরে। আমি ভেবেছিলাম রাজাগুন্ডাকে ওটা দিয়ে মারবো। তা হবার ছিলো না, হয়ওনি। ওকে অন্য কেউ মেরে ফেলেছিলো শুনেছি। ভাই দুটো যথাসময়েই অস্ত্র ফেরৎ দিয়েছিলো।

(দুরন্ত একটি কিশোরের স্মৃতিনির্ভর এই পর্বের লেখাটাতে যেটুকু মনে পড়েছে সেটুকুই লিখলাম। আপনাদের যা মনে পড়ে, অনুগ্রহ করে লিখে মন্তব্য লিখে দিন। ওগুলো দিয়েই এপর্বের লেখাটা পূর্ণতা পাক, লেখা হয়ে থেকে যাক নতুনদের জন্য)

About the Author:

মুক্তমনা ব্লগার। আদ্দি ঢাকায় বেড়ে ওঠা। পরবাস স্বার্থপরতায় অপরাধী তাই শেকড়ের কাছাকাছি থাকার প্রাণান্ত চেষ্টা।

মন্তব্যসমূহ

  1. গীতা দাস ডিসেম্বর 4, 2016 at 10:40 অপরাহ্ন - Reply

    লেখাটি এক কিশোরীর স্মৃতিকেও উসকে দিল। দেখা যাক, স্মৃতির সাথে কলম ছুটে কিনা।

  2. ছিন্ন পাতা ডিসেম্বর 13, 2011 at 2:18 অপরাহ্ন - Reply

    @কাজী রহমান

    “হে পুরাতন, পুরনো বলো তবে নুতনকে শোনো,
    হে নুতন, নুতন বলো তবে পুরনোকে শোনো

    একটি হিন্দি কবিতার বাংলা অনুবাদ করলে মোটামুটি যা দাঁড়ায়…

    সব নুতনদের এক কাতারে দাঁড় করিয়ে বিচার করলে যারা ওই কবিতার প্রতিটি অক্ষর আর বাক্যের সাথে তাল মিলিয়ে চলে, (যা হয়ত জন্মগত) এবং প্রতিনিয়ত জীবনচর্চার মাঝে সে বিশ্বাস অনুশীলন করে তখন তাদের প্রতি কি অবিচার করা হয় না?

  3. ছিন্ন পাতা ডিসেম্বর 6, 2011 at 12:15 পূর্বাহ্ন - Reply

    @কাজী রহমান,

    আপনাকে একটি অনুরোধ করি? ৭১ কে কেন্দ্র করে ছোট বড় সব স…ব স্মৃতি যখনই মনে আসে লিখে ফেলবেন?

    মনে বোধ হয় সব সময়ই থাকে, তবে তা প্রকাশের একটি কারন, উদ্দেশ্য, ইচ্ছা এসব লাগে। উদ্দেশ্য আর ইছার কথা বলতে পারবনা, তবে একটি বছর যারা এক যুগের মতন পার করেছে ৭১-এ, সেই বছরের খুঁটিনাটি কোন কিছুই যেন কিছু যুগ পর বিলীন না হয়ে যায়। শুধুমাত্র এ কারণটি যথেষ্ট হোক?

    আসলে এ অনুরোধ সবার কাছে। আমার যে মা লিখা বন্ধ করে দিয়েছেন তাকে প্রায়শই ৭১ এ নিয়ে যাই, তার অতীতে নিয়ে যাই, তার চোখে ওই সময়টা দেখার তাড়নায়। আমাদের সকলের মূল্যবান অতীত যেন প্রাণ না হারায় সে তাগিদে। আপনার এ লিখাটি অসাধারণ এক উপহার আপনার পরবর্তী প্রজন্মের কাছে। যারা এ উপহারের মূল্য দিতে জানবেন তারা আপনারই মতন ভাগ্যবান।

    ****এমন লিখা শুধুমাত্র ডিসেম্বার মাসে কেন লিখতে হবে? ভাষা নিয়ে কেন শুধুমাত্র ফেব্রুয়ারী মাসে লিখতে হবে? এটা অনেকটা নিজ মাকে শুধু “মা দিবসে” মনে করার মতন হয়ে যায়। আপনাদের অভিজ্ঞতার ভান্ডার এত পূর্ণ! সে আপনারাই যদি বিশেষ মাসের অপেক্ষায় থাকেন সত্য আর সুন্দর কে তুলে ধরতে তাতে করে বঞ্ছিত হই আমরা সকলেই।****

    ****অনেক অনেক ভালো থাকবেন, আরো অনেক অনেক এমনই সুন্দর কিছু দেবেন আমাদের এ প্রত্যাশায়…****

    • কাজী রহমান ডিসেম্বর 6, 2011 at 5:37 পূর্বাহ্ন - Reply

      @ছিন্ন পাতা,

      এমন লিখা শুধুমাত্র ডিসেম্বার মাসে কেন লিখতে হবে? ভাষা নিয়ে কেন শুধুমাত্র ফেব্রুয়ারী মাসে লিখতে হবে? এটা অনেকটা নিজ মাকে শুধু “মা দিবসে” মনে করার মতন হয়ে যায়। আপনাদের অভিজ্ঞতার ভান্ডার এত পূর্ণ! সে আপনারাই যদি বিশেষ মাসের অপেক্ষায় থাকেন সত্য আর সুন্দর কে তুলে ধরতে তাতে করে বঞ্ছিত হই আমরা সকলেই।

      প্রথমতঃ আগেই লেখাটিকে পোস্ট না দেবার অপরাধ স্বীকার করে নিলাম।

      অভিমান আমার কেটে গেলো এই দেখে যে নতুনরা দাবী জানাচ্ছে লেখা চেয়ে।

      যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেছে তাদের লেখা বেরিয়ে আসুক, স্মৃতি কিংবা পাণ্ডুলিপির থলে ছাড়িয়ে।

      আপনার মন্তব্য দেখে, আমি নিশ্চিত, যারা লেখা দিচ্ছেন না, তারা তৃপ্ত চিত্তে উৎসাহ বোধ করবে।

      খুব ভালো থাকুন (F)

  4. কাজী রহমান ডিসেম্বর 5, 2011 at 8:24 পূর্বাহ্ন - Reply

    আপনাদের পরিবারটিকে বাংলাদেশ মনে রাখুক কৃতজ্ঞচিত্তে (F)

    প্রচন্ড হারে জ্বালাও পোড়াও লুটপাট ধর্ষণ করেছে স্স্থানীয় রাজাকারেরাই খুব বেশি। মিলিটারিরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেতে ভয় পেত ভীষণ। পালাবার পথ খোলা থাকলেই শুধু ওরা রাজাকার, পিস কমিটি, দালাল বদমাশদের ব্যাবস্থা করা পরিবেশে গিয়ে চালাতো ধংসযজ্ঞ, ধর্ষণ খুন। আজকেও ঐ সব দালাল রাজাকারেরা ক্ষমতাবানদের ছত্রছায়ায় চেহারা বদলে বা স্বমূর্তিতেই সাধারণ মানুষদের ওপর দোর্দণ্ড প্রতাপে অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে।

  5. রাজেশ তালুকদার ডিসেম্বর 4, 2011 at 9:49 অপরাহ্ন - Reply

    কাজী ভাই, কাশেম ভাই আপনারা খুবি সৌভাগ্যবান সেই অস্থিরতার, সেই উল্লাসের, সেই কান্নার, সেই আরাধ্য স্বাধীনতার খুবি দূর্লভ সেই ক্ষনের সাক্ষী হতে পেরেছেন। আমাদের গ্রামে এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করার জন্য স্থানিয় একটা কমিটি গঠন করা হয়েছিল বাবা ছিলেন সেই কমিটির প্রধান দায়িত্বে। স্থানিয় মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্যের যোগান যেত আমাদের বাড়ি থেকে আর চাচা ছিলেন একজন সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা।আমাদের বাড়ির লোকজনের অপরাধ ছিল সাংঘাতিক গুরুতর অবশ্যই পাকিস্থানি ও তার দোসর রাজাকারদের দৃষ্টিতে। এই সব দেশ দ্রোহী! গুরুতর অভিযোগের কারণে আমাদের বাড়িটা পাকিস্থানি আর্মিরা আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে মনের ঝাল মিটায়। তবে রক্ষে কেউ হতাহত বা মারা যায়নি কারণ পাকিস্থান রক্ষক পাকিস্থানিরা আসছে শুনে সবাই ঘর ছেড়ে জঙ্গলে পালিয়ে প্রাণে বেঁচেছিল। বলা বাহুল্য আমাদের গ্রামটা পাহাড়ী এলাকার কোল ঘেঁসে থাকায় কিছুটা দূরেই ঘন বন জঙ্গল ছিল।

    অবশ্য একটা দিকে আপনাদের চেয়ে কিছুটা সৌভাগ্যবান বলা যায় আমাকে সেটা হল সদ্য স্বাধীন বাংলার মাটিতেই আমার জন্ম আর বয়সে আপনাদের চেয়ে ছোট হওয়ায় পৃথিবীর আলো বাতাস ভোগ করার সুযোগটা খানিটা বেশী বৈকি 🙂

    পরিশেষে বিজয়ের মাসে এরকম একটা আনন্দ বেদনার স্মৃতি চারণের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

  6. আবুল কাশেম ডিসেম্বর 4, 2011 at 3:20 পূর্বাহ্ন - Reply

    কী আশ্চর্য্য! আপনার আমার অভজ্ঞতা এক–মানে সমগ্র ডিসেম্বর, ১৯৭১।

    আমরাও ছাদে উঠে দেখতাম ডগ ফাইট, নিজের চক্ষে দেখলাম কেমন করে পাকিস্তানি বৈমানিক বেল আউট করছে। জানিনা সেই পাকিস্তানী বৈমানিকের ভাগ্যে কি ঘটছিল। যে পল্লীতে সে প্যারাসুট সহ পড়ল, সেই পল্লীর বাসিন্দারা তাকে নিয়ে কি করেছিল–আমরা জানতে পারি নাই।

    আমরাও শুধু ডাল দিয়ে ভাত খেয়েছি–দিনের পর দিন, রাতের পর রাত। সকালের নাস্তা বলতে কিছুই ছিল না—হাতে পাকানো রুটি ছাড়া। কিন্তু তা সবই অমৃতের মত লেগেছে।

    আমরাও ভাবতেই পারতাম না স্বাধীনতা আমাদের কাছে–অতি কাছেই, একেবারে হাতের মুঠোয়।

    ধন্যবাদ, আপনি সেই সব দিন রাত্রির স্মৃতি মনে করিয়ে দিলেন।

    আমি তখন বুয়েটের শেষ বর্ষের ছাত্র। আমাদের ছাত্রাবাস থেকে আমাদের অনেক ঘনিষ্ট বন্ধুকে আল-বদর ধরে নিয়ে গেল। আজ পর্য্যন্ত তাদের কোন খোঁজ কেউ দিতে পারে নি।

    কী সৌভাগ্য আমার! আমি বেঁচে গেলাম–আমি যে ঐ কয়টি দিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যাই নি।

    • কাজী রহমান ডিসেম্বর 4, 2011 at 7:31 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আবুল কাশেম,

      সত্যিই অদ্ভূত, কিন্তু আবার অদ্ভূত নাও বটে। ওই সময় যারা ঢাকায় ছিলো তারা দেশ আকাশ বিজয়ের সেই মহা উত্তেজনাকর দৃশ্য দেখেছে। প্রায় একই ভঙ্গীতে উল্লাস করেছে প্রচণ্ড। আপনিও ও যে সেই সময়ের সরাসরি সাক্ষী তা জেনে অসম্ভব ভালো লাগছে। হ্যাঁ, ওই পাকি পাইলট দুটোর কথা ভুলে গিয়েছিলাম। ওরা নাকি টঙ্গি না কালিয়াকৈরের কাছে প্যারাশূট নিয়ে নামার পর পাব্লিকের হাতে আলুভর্তা হয়ে পটল তুলেছিল।

      সেই সময়টাতে খাওয়া দাওয়া সহ সব কিছুই তো সঙ্কটাপ্নন ছিলো, শধু সঙ্কট ছিলো না আশার, স্বাধীনতার আশার।

      আল বদর আপনাকে এবং আরো অনেককে সেদিন মারতে পারেনি বটে, কিন্তু ওরা এবং ওদের চ্যালারা চল্লিশ বছর ধরে মেরেই চলেছে। বোধহীন আমরা মার খেয়েই চলেছি। ওদের এজেন্ডা প্রচার করেছে সব সুবিধাবাদীরা। আর নিরীহ মানুষ, লাজুক জনতা, ভীতু আতঙ্কিত সাধারন মানুষ, আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব অপপ্রচারে জেনে না জেনে সহায়তা করেছে। জ্বলে উঠতে ব্যর্থ হয়েছি বার বার। এক সময় আমাদের বারূদ মাটি হয়ে গেছে।

      • আফরোজা আলম ডিসেম্বর 4, 2011 at 1:21 অপরাহ্ন - Reply

        @কাজী রহমান,

        ভালো মন্দের উর্ধে আপনার এই লেখা। অতি মূল্যবান দলিল। একে স্বযত্নে লালিত করবেন।
        অনেক অভিজ্ঞতার ঝুড়ি আমার “ফানুস” এ আছে।
        খুব ভালো লাগলো বিজয়ের মাসে এই লেখা পড়ে।

        • কাজী রহমান ডিসেম্বর 4, 2011 at 2:46 অপরাহ্ন - Reply

          @আফরোজা আলম,

          ধন্যবাদ পড়বার জন্য আর আপনার মন্তব্যের জন্য।

          আপনার ফানুসের লিঙ্কগুলো দিয়ে দিন না এখানে। রেফারেন্স পেতে সুবিধা হবে। কাশেম ভাইয়েরটাও রইলো। আরো যারা লিঙ্ক দিতে চান তারা দিয়ে দিলে কিন্তু মন্দ হয় না।

          নতুনদের বিজয়ের কাহিনী শোনান। ভালো থাকুন

    • স্বপন মাঝি ডিসেম্বর 4, 2011 at 11:49 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আবুল কাশেম,

      আমরাও শুধু ডাল দিয়ে ভাত খেয়েছি–দিনের পর দিন, রাতের পর রাত। সকালের নাস্তা বলতে কিছুই ছিল না—হাতে পাকানো রুটি ছাড়া। কিন্তু তা সবই অমৃতের মত লেগেছে।

      তো আমাদেরও তো একটু-আধটু শুনতে ইচ্ছে করে। কষ্টের দিনগুলো ভুলে গেলে, মানুষ না জানলে কার লাভ হয়, এ নিশ্চয়ই আপনার জানা।

      • আবুল কাশেম ডিসেম্বর 4, 2011 at 12:28 অপরাহ্ন - Reply

        @স্বপন মাঝি,

        তো আমাদেরও তো একটু-আধটু শুনতে ইচ্ছে করে। কষ্টের দিনগুলো ভুলে গেলে, মানুষ না জানলে কার লাভ হয়, এ নিশ্চয়ই আপনার জানা।

        দেখুন এখানে আমার জবানবন্দি সেই সব দিন রাত্রির -অনেক দিন আগে লেখা–তাও ইংরাজিতে; তখনকার সময় মুক্তমনায় বাঙলা লেখার ব্যবস্থা ছিল না–কাজেই বুঝতেই পারছেন কত পুরানো এও লেখা।

        http://www.mukto-mona.com/Articles/kasem/december16_71.htm

  7. কাজি মামুন ডিসেম্বর 4, 2011 at 1:36 পূর্বাহ্ন - Reply

    দুরন্ত একটি কিশোরের স্মৃতিনির্ভর এই পর্বের লেখাটাতে যেটুকু মনে পড়েছে সেটুকুই লিখলাম।

    একজন দুরন্ত কিশোরের চোখ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের অন্তিম পর্বের উত্তেজনা-রোমাঞ্চ-আবেগ অসাধারণ দক্ষতায় তুলে আনা হয়েছে। লেখককে এজন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

    ১৫ ই ডিসেম্বর, ফুলবাড়িয়ার সেই পূরোনো রেললাইন ধরে আব্বার সাথে গিয়েছি হরদেও গ্লাস ফ্যাক্টরির পাশে টিকাটুলির মোড়ে, খুব অস্থির অবস্থা, সবাই অস্থির, উল্লাস, উত্তেজনা ভয় কান্না আর আনন্দ একসাথে জড়িয়ে একটা অদ্ভূত অবস্থা।

    এখন এখানে আছে শুধু আলিশান বহুতল ভবন, সাথে কিছু টিন-শেডের জীর্ণ ঘর; অস্থিরতা এখনো আছে এই মোড়ে, যদিও তা সাংসারিক ব্যস্ততা-নির্ভর আর খুব বেশি বৈষয়িক এবং আসছে ১৬ ডিসেম্বরে নিশ্চিতভাবেই এর কোন পরিবর্তন হবে না; তাছাড়া, এখনকার অধিবাসীদের কয়জনই বা জানে বা জানার আগ্রহ বোধ করে, এই টিকাটুলির মোড় ইতিহাসের কি সোনালি স্মৃতি ধারণ করে আছে?

    • কাজী রহমান ডিসেম্বর 4, 2011 at 7:34 পূর্বাহ্ন - Reply

      @কাজি মামুন,
      পড়েছেন, মন্তব্য করেছেন সেজন্য ধন্যবাদ। ভালো থাকুন (F)

  8. স্বপন মাঝি ডিসেম্বর 3, 2011 at 11:58 পূর্বাহ্ন - Reply

    একবেলা পেঠের ভাত না হলেও, হয়তো চলে কিন্তু চলতে ফিরতে কারো লাথি খেয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে মাস্টারদা বা ক্ষুদিরাম বা বাদল বা বাঘা যতিন হয়ে, মরে যাওয়াও ভাল।
    খুব ভাল লেগেছে, একেবারে স্মৃতি থেকে, বলা; তাই । নিজের দেখা। এই দেখাটা এবং মনে রাখাটা অনেক বড় ব্যাপার।
    ভুলে যাবার প্রতিযোগিতায় আমরা সব সময় এগিয়ে। আমরা ‘৭১ জয়ী হয়েছি। এবার ভুলে যাবার প্রতিযোগিতায় আমরা পরাজিত হ’তে চাই।

    • কাজী রহমান ডিসেম্বর 4, 2011 at 7:33 পূর্বাহ্ন - Reply

      @স্বপন মাঝি,

      এবার ভুলে যাবার প্রতিযোগিতায় আমরা পরাজিত হ’তে চাই।

      এবার ভুলে যাবার প্রতিযোগিতায় আমরা পরাজিত হ’তে চাই।

      এবার ভুলে যাবার প্রতিযোগিতায় আমরা পরাজিত হ’তে চাই।

      (F)

মন্তব্য করুন