ধর্ম বিষয়ক কথকতা – কিছু জিজ্ঞাসা ????

লিখেছেনঃ অমল কৃষ্ণ রায়

AMOL-1

ধর্ম কথাটার নিগূঢ় অর্থ বোধ করি “বৈশিষ্ট্য” বা “অন্তর্নিহিত গুণ” ইংরেজিতে যাকে বলে property বা characteristic বা inherent quality যা একেবারেই অন্তরের জিনিস এবং যা এই পৃথিবীর অনেক প্রাত:স্মরণীয় বরেণ্য ব্যক্তিরা বহুকাল ধরে বহুভাবে বলে গেছেন – যেমন জলের স্বাভাবিক ধর্ম তারল্য, আগুনের ধর্ম প্রজ্জ্বলন, আলোর ধর্ম উজ্জ্বলীকরণ, পশুর ধর্ম পশুত্ব আর এত বলাই বাহুল্য মানুষের ধর্ম মনুষ্যত্ব | যদিও মনুষ্যত্ব কথাটার কি অর্থ সে বিষয়ে অন্তহীন তর্ক বিতর্কের অবকাশ আছে তবে এই কথা বোধ করি সত্য মানবপ্রজাতির বিবর্তনের ইতিহাসের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এই “মনুষ্যত্বের ” একটা অন্তত মোটামুঠি সাধারণ সংজ্ঞা বোধকরি এই যুগের সকল মানুষেরই জ্ঞাত | মানুষের ভিতর ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান | আমরা সকলেই জানি মানুষের ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যকেই মূলত মনুষ্যত্ব হিসাবে বিবেচনা করা হয় নইলে মানুষকে আবার পশু থেকে আলাদা করে দেখা হবে কেন ! মনুষ্যত্বের ইতিবাচক দিকগুলো হলো – বিচার বুদ্ধি, লোক হিতৈষণা (অপরের উপকার করা), সত্যের সন্ধান করা, বিনয় (নম্রতা), মায়া-মমতা-দয়া-প্রেম-ভালবাসা, পরমতসহিষ্ণুতা, শালীনতা-লজ্জা, ভদ্রতা, সহমর্মিতা, দানশীলতা ইত্যাদি | এইভাবে এই মনুষ্যত্বের সাথে সম্পর্কিত গুণাবলীর তালিকাকে আরো অধিক দীর্ঘতর করা যায় | আমার মতে এই সকল গুণকে সংক্ষেপিত করে কয়েকটি বিশেষ বিশেষণেও আখ্যায়িত করা যায় – যেমন প্রজ্ঞাবান হওয়া অর্থাৎ অলৌকিক ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যুক্তিসঙ্গত জ্ঞান লাভ করা, সকল প্রাণীর প্রতি না পারলেও অন্তত সকল মানুষের প্রতি ভালবাসা অনুভব করা, সকল মানুষকে সমান জ্ঞান করা, কারো কোনো ক্ষতি না করা, প্রকৃতি আর প্রতিবেশের প্রতি যত্নবান হওয়া ইত্যাদি | আর মানুষের নেতিবাচক দিকগুলো হলো মূলত ক্রোধ, ঈর্ষা, হিংসা-বিদ্বেষ, পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা ইত্যাদি |

তবে যাবতীয় বস্তুনিচয় এবং পশু-পক্ষীর ধর্ম যত সহজে প্রকাশিত মানুষের “মনুষ্যত্ব” ততটাই তার অনান্য নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যের তলদেশে লুক্কায়িত | আন্তরিক সদিচ্ছা আর অনেক চেষ্টার ফলে মানুষ তার সেই নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যের তলদেশ থেকে তার সেই মনুষ্যধর্ম নামক বৈশিষ্ট্যেকে সযতনে উন্মোচিত করতে হয় | সাধনার দ্বারা মানুষের মধ্যে অবস্হিত এই সকল নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যকে দমিত করে মানুষের ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার মধ্যেই মানুষের “মনুষ্যত্ব” নিহিত | যে মানুষের মধ্যে এই সকল ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যের যত প্রাবল্য সেই সকল মানুষকে বলা যায় যে তারা তাদের স্বধর্ম – মনুষ্যধর্মে তত প্রতিষ্ঠিত | এই বিষয়গুলি গভীরভাবে অনুধাবন করে এই কথা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় যে ধর্ম কোনো বাহ্যিক প্রদর্শনীর বিষয় নয়, তা একেবারেই অন্তরের জিনিস | তবে সে যদি লোককে দেখানোর বিষয়ই হয়ে দাঁড়ায় তবে আমার মতে কিন্তু তাকে আর ধর্ম নামে আখ্যায়িত করা চলে না |

তবে সাধারণ ভাবে ধর্ম বলতে মানুষ যা বুঝে, যার একটা মোড়ক বেশির ভাগ মানুষের শরীরে-মনে সাঁটা হয়ে আছে তা হলো প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম, ইংরেজিতে যাকে বলে Organized religion – এই প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের মোড়কে আমরা কেহ হিন্দু, কেহ ইহুদি, কেহ পার্সী, কেহ বৌদ্ধ, কেহ শিন্তো, কেহ জৈন, কেহ খ্রিস্টান, কেহ মুসলমান, কেহ শিখ, আবার কেহবা বাহাই, আবার এই আধুনিক কালের নতুন নতুন ধর্মের মোড়কে কেহবা সায়েন্টলজিস্ট আর কেহবা রায়েলিয়ান | আর এই প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম নিয়ে এই পৃথিবীতে কত বিভ্রাট, কত বিবাদ-বিসংবাদ ! আমাদের মহান মানবতাবাদী দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তো বহু আগেই বলে গেছেন ” যে ধর্ম আমাদের মুক্তি দিতে আসে সেই হয়ে উঠে মুক্তি ও স্বাধীনতার প্রচন্ড শত্রু” | রবীন্দ্রনাথ ছিলেন এক মহা-মনীষী – তাই তিনি ধর্মের নিন্দা করেছেন অতীব মার্জিত ভাষায় | কিন্তু আমার মত সাধারণ মানুষরা বলি – এই সকল প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম কেবল মানুষের শত্রু হয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি সেগুলি অনেক মানুষকে করে তোলে বর্বর ও অমানুষ | এই প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের দ্বারা তাড়িত হয়ে মানুষ এই পৃথিবীতে যত অপকর্ম আর অনাসৃষ্টি সংঘটিত করেছে আর কোনো একক কারণ দ্বারাই বোধ হয় এই পৃথিবীতে এমনটা ঘটেনি | এর কারনটা কি ? – অন্ধ বিশ্বাস ! মানুষ যখন এই ” অন্ধ বিশ্বাস ” এর মোহে মোহাবিষ্ট হয় তখন তাকে যা করতে বলা হয় এই মোহে তাড়িত হয়ে সে তাই করে | তার “মনুষ্যত্বের” শ্রেষ্ট দান “বিবেচনা শক্তি” তা তখন সে হারিয়ে ফেলে – সেই বিশ্বাসের ভিতরে যদি কিছু ভালো জিনিস থাকে তবে তো মঙ্গল তবে সেখানে যদি খারাপ কিছু থাকে তবে তা করার জন্যে সে আরো দ্বিগুন উৎসাহে এগিয়ে চলে | আর তাই তো দেখি ইসলাম বাঁচানোর নামে গোলাম আজম, আর মওলানা মান্নানরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে পাকিস্তানের জল্লাদদের সাথে আঁতাত করে লক্ষ লস্ক মানুষকে হত্যা করে আর অসংখ্য নারীকে ধর্ষণ করে, ধর্মান্ধ একদল হিন্দু রামজন্মভূমি রক্ষার নামে ভারতে ৪৬৫ বৎসরের পুরানো মুসলমানের মসজিদ ভাঙ্গে – আবার তারই পাল্টা জবাব দিতে আর এক দল ধর্মান্ধ মুসলমান বাংলাদেশে নিরীহ নিরপরাধ হিন্দুদের উপর আক্রমন করে, তাদের উপাসনালয় ভাঙ্গে | দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটি অতীব সত্য অনেক মানুষই- বরং বলি তথাকথিত অনেক শিক্ষিত অথবা উচ্চশিক্ষিত মানুষই আর সকল বিষয়েই অনেক যৌক্তিক, বিবেচনাশীল এবং বিশ্লেষণাত্বক কেবল একটা বিষয় ছাড়া – আর সেটা হলো ধর্ম | সেই সকল যুক্তিবাদী মানুষদের সাথে আপনি যখন আলাপ করবেন তখন স্পষ্টতই দেখবেন তাদের অনেকেই বুদ্ধিদীপ্ত, অনেক বিষয়েই তারা অতীব জ্ঞানী, বিচক্ষণ এবং যুক্তিবাদী কেবল একটি বিষয় ছাড়া – আর সেটি হলো তারা যে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের অন্তর্ভুক্ত সেটির আলোচনা | ধর্ম নিয়ে কথা বলতে যাবেন – তবে তারা একেবারে বদ্ধ-আবদ্ধ, তাদের মস্তিষ্কের সকল শিরা -উপশিরার দরজা-জানালা এমনকি ভেন্টিলেটর পর্যন্ত বন্ধ – বন্ধ মানে কি একেবারে নিশ্চিদ্র – সেখান দিয়ে সুক্ষাতি-সুক্ষ ভাইরাস ঢোকার রাস্তাটিও নেই | তাদের ধর্ম বিশ্বাসে যদি কোনো ভাবে ফাটল ধরে যায় সেই ভয়ে মাঝে মাঝে এমন হয় যে তারা আপনার কোনো কথাটিও পর্যন্ত শুনতে চাবে না – আর যদি বা কোনো না কোনো ভাবে শুনেও বা শুনতে বাধ্য হয় আর আপনার যুক্তিগ্রাহ্য কথাটি যদি কোনো ভাবে হয় তার বিশ্বাসের বাহিরে তবেত সময়ে তিনি আপনার প্রতি খরগহস্ত হতেও দ্বিধা করবেন না |

আমরা জানি অধিকাংশ প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মগুলির মূল বিষয় বস্তু অজানা-অচেনা সৃষ্টি কর্তার অনুগ্রহ লাভের মাধ্যমে এই পৃথিবীতে ধন-দৌলত, মান-সম্মান স্বাস্থ্য আর সমৃদ্ধি লাভ করার নিমিত্তে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করা, মানুষের মূল্যবোধের উন্নতি সাধন বা সমাজে ন্যায় নীতির প্রতিষ্ঠা করা এবং – কল্পিত পরকাল বিষয়ক আলোচনা – ঈশ্বর বা খোদার সন্তুষ্টি সাধনের মাধ্যমে মৃত্যুর পর স্বর্গ বা বেহেস্ত লাভ করা | নির্দোষ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনে আমি কোন দোষ দেখিনা – অন্য কোন মানুষ বা প্রাণীর কোন ক্ষতি না করে যে সকল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয় তা হতে পারে একটি সংস্কৃতির অংশ | তবে বর্তমানে প্রচলিত অনেক ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানও আধুনিক সভ্য মানুষের কাছে প্রতিভাত হয় আদিম প্রথা হিসাবে | উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় বাদ্য-বাজনা বাজিয়ে জাঁকজমক সহকারে নরমুন্ডধারী মা মহাকালীর কৃপা লাভের উদ্দেশ্যে হিন্দুর পাঁঠাবলি আর পরম দয়াবান আল্লাহতা’লার সন্তুষ্টি বিধানের নিমিত্তে মুসলমানের পশু কোরবানি !

এবার আসা যাক মানুষের ন্যায় নীতি প্রতিষ্ঠায় ধর্মের ভূমিকা নিয়ে | অনেকে বলবেন ধর্ম মানুষকে নৈতিকতা শিক্ষা দেয় বটে, তবে প্রশ্ন হলো এক অলৌকিক সৃষ্টিকর্তা ও তার রচিত এক কাল্পনিক নরকের ভয় দেখিয়ে মানুষকে ধর্মের নামে যে নৈতিকতা শিক্ষা দেয়া হয় তা মানুষ গ্রহণ করে কতটা ? যুগ যুগ ধরে মানুষ তা করে যাচ্ছে, কিন্তু প্রশ্ন হলো- তার ফলাফল কি হচ্ছে? বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের যত বিস্তৃতি সেখানে অন্যায় আর দুর্নীতির ততটাই ছড়াছড়ি, পুলিশ আর কোর্ট -কাছারির প্রয়োজন সেখানে মনে হয় তত বেশি | শুধু তাই নয় এমনকি ধর্মের অনেক প্রথা নৈতিকতার পরিবর্তে মানুষকে বরং অনৈতিকতার পথে ঠেলে দেয় | উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় হিন্দুর ধর্মের অন্তর্গত ধর্ম আর ঈশ্বরের নামে প্রচলিত নিষ্ঠুর ও অমানবিক চতুর্বর্ণ প্রথা যে কোনো বিবেচনায় মনুষ্যধর্মকে কলঙ্কিত করেছে | সেই তথাকথিত উচ্চ-বর্ণের হিন্দুর ধর্ম-রক্ষার নামে এই লজ্জাকর প্রথা লক্ষ লক্ষ মানুষকে অস্পৃশ্য হিসাবে আখ্যায়িত করে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের মুখে কালিমা লেপন করেছে | কেবল মাত্র তথাকথিত নিম্ন বর্ণের পিতা-মাতার ঘরে জন্মের কারণে সেই অমানবিক বর্ণ-ভেদ প্রথার বিষ-বাষ্প থেকে রেহাই পাননি এমনকি ভারতের প্রথম আইন মন্ত্রী ও ভারতের খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান বাবাসাহেব নামে পরিচিত অর্থনীতিবিদ-রাজনীতিবিদ-চিন্তাবিদ-নৃতত্ববিদ-লেখক-দার্শনিক ড: ভিমরাও রামজি আম্বেদকর | এখন প্রশ্ন হলো এই একবিংশ শতাব্দীতে উপনীত হয়েওকি হিন্দুধর্মে নিষ্ঠাবান হিন্দুরা সম্পূর্ণ মুক্ত হতে পেরেছে এই অমানবিক,পাপজনক বর্ণ-ভেদ প্রথার নিষ্ঠুর কবল থেকে ?

ধর্ম কিছু মানুষকে হয়তবা ন্যায়-নীতি শিক্ষা দেয় – তবে আমি বলি প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের সাথে আত্যন্তিক সম্পৃক্ততা বেশিরভাগ মানুষকে অন্ধ করে – ধর্মের মোহে মানুষ যখন অন্ধ হয়ে যায় তখন তার মনে আর কোনো যুক্তি-বুদ্ধির আলো প্রবেশ করার পথ খোঁজে পায় না | নিজের প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম তাকে যা বিশ্বাস করায় এর বাইরে সে আর কিছু বুঝে না – অন্য কোনো কিছুতে বিশ্বাসী আর কোনো মানুষের প্রতি তার কোনো শ্রদ্ধাবোধ থাকে না – আর যারা যুক্তিবাদী – কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মেই যাদের বিশ্বাস নেই তাদের প্রতি তো একেবারে খড়গহস্ত | সুযোগ পেলে এক ধর্ম বিশ্বাসী অন্য আর এক ধর্ম বিশ্বাসীর প্রতি চড়াও হতেও দ্বিধা করে না – এবং তা তারা করে ধর্মের নামে, তার ঈশ্বর, আল্লা, ভগবান, জিওভাকে খুশি করার নামে | এই পৃথিবীতে যত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছে সেখানে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মে অবিশ্বাসী-যুক্তিবাদী-বিজ্ঞানমনষ্ক মানুষ অংশ গ্রহণ করেছে বলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় না | বরং তারাই সেই সকল দাঙ্গার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে – শান্তি মিছিলের আয়োজন করেছে – সেখানে অংশ গ্রহণ করেছে | সেখানে এক ধর্মের বিশ্বাসী মানুষ অন্য আর এক ধর্মের প্রতি বিশ্বাসী মানুষকে হত্যা করেছে | এক ধর্মের মানুষ ভেবেছে যে তার ধর্মটাই কেবল ঈশ্বর কর্তৃক প্রেরিত এবং অনুমোদিত – মনোনীত একমাত্র সত্য ধর্ম অতএব অন্য যেকোনো ধর্মে বিশ্বাসী মানুষ ঈশ্বর কর্তৃক ঘৃণিত – অতএব যে ঈশ্বর কর্তৃক ঘৃণিত তাকে আমি ঘৃনা করলে আমারতো পাপ হওয়ার কথা নয় বরং আমি তাকে ঘৃনা করলে আমার তো ঈশ্বর কর্তৃক সাধুবাদই পাবার যোগ্য – এমনকি তাকে বধ করলেও আমার তো ঈশ্বর কর্তৃক পুরস্কৃত হওয়ারই কথা !

এবার আলোচনা করা যাক বেশির ভাগ ধর্মেরই যা মূল বিষয় বস্তু – সেই ঈশ্বর নিয়ে | সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব-অনস্তিত্বের বিষয়েও ধর্মগুলি সৃষ্টি করেছে এক বিশেষ বিপত্তি – এক এক ধর্ম দিয়েছে ঈশ্বর, আল্লা, ভগবান সন্বন্ধে এক এক রকম ব্যাখ্যা | কোনো একটা নির্দিষ্ট ধর্ম বা সেই ধর্মের আবিষ্কর্তা সৃষ্টিকর্তার একটা নির্দিষ্ট স্বরূপ বর্ণনা করেছে আর সেই ধর্মমতের বিশ্বাসীরা তা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে – তার বাহিরে কোনো কিছু চিন্তা করা তাদের এক্তিয়ারের বাহিরে | এই ধর্মসকল সৃষ্টিকর্তার বিষয়ে নীরব থাকলে প্রত্যেকটা মানুষ তার নিজের মত করে তার নিজের সৃষ্টিকর্তার স্বরূপ কল্পনা করত – সৃষ্টিকর্তা বলে কেহ আছে বা নেই সেই ব্যাপারে আরো অধিক সংখ্যক মানুষের আরো অসংখ্য চিন্তা-চেতনার উন্মেষ ঘটত | মানুষ সৃষ্টিকর্তাকে নিয়ে একটা বদ্ধ জলাশয়ে যুগের পর যুগ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে হাবু- ডুবু খেত না |

ঈশ্বর যদি একজনই হবেন তবে কোন যুক্তিতে আপনি বলবেন সেই সর্বজ্ঞানী পরম দয়াশীল ঈশ্বর একটার পর একটা ধর্ম সৃষ্টি করে তাঁরই সৃষ্ট প্রাণীকে দ্বিধাগ্রস্ত করবেন | কোন যুক্তিতে আপনি বলবেন তারই সৃষ্ট বিভিন্ন ধর্মে তিনি তাঁর অস্তিত্ব আর স্বরূপ সন্বন্ধে এক এক রকম ব্যাখ্যা দিবেন ? যুক্তিগ্রাহ্য মন বলে ঈশ্বর সত্যি থাকলে এটা কখনই হত না | মানুষই ঈশ্বর সৃষ্টি করেছে বলে ঈশ্বরের এত রকম আর তার এত হেনস্থা !

ঈশ্বর নিয়ে মানুষের জিজ্ঞাসার অন্ত নেই – ঈশ্বর আছেন কি নেই, থাকলেই বা তাঁর কি স্বরূপ, আর ঈশ্বর বলে কেহ না থাকলেই বা এই সমস্ত সৃষ্টির উৎস কোথায় – তা নিয়ে কত প্রশ্ন – কত জিজ্ঞাসা অনন্তকাল ধরে | ঈশ্বর যদি থেকেই থাকেন তবে তিনি কেন এতদিনে এই সমস্যার একটা সুরাহা করে দিচ্ছেন না – তিনি কেন নিজেকে এক মহা-রহস্যজালে আবদ্ধ করে রেখেছেন – কেন তিনি নিরন্তর তাঁর সৃষ্ট জীবের সাথে এই লুকোচুরি খেলছেন ? আর ঈশ্বর বলে যদি কারো অস্তিত্ব না-ই থেকে থাকে তবে তো ঈশ্বর নামক আর কাউকে দোষ দেয়া যায় না ! তখন সব অপবাদ প্রাপ্য এই বুদ্ধিমান মনুষ্য জাতির – এই বুদ্ধিমান মানুষ কেন এখনো এই নিগূঢ় সত্যটি আবিষ্কার করতে ব্যর্থ হলো – তিনি যদি থেকেই থাকেন -তবে তো তিনি নিশ্চয়ই জীবন্ত – আর একটা জীবন্ত অস্তিত্বের অনুসন্ধানতো এতটা কঠিন হবার কথা নয় ! তবে এটা সত্য ঈশ্বরের অস্তিত্বের পক্ষে যাদের অবস্হান তাদের সেই অবস্হান কোনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা- নিরীক্ষার ভিত্তিতে নয় – তা কেবল তাদের অন্ধবিশ্বাসের ভিত্তিতে – আর তাদের সেই অন্ধবিশ্বাসের ভিত্তি হলো মানুষের প্রাচীন সকল ধর্মগ্রন্থ – আর এই সকল ধর্মগ্রন্থসমূহ যে প্রাচীন মানুষদের সৃষ্টি তা আজ প্রমানিত সত্য | যদিও অনেক মানুষই (মূলত যারা ধর্মে বিশ্বাসী ) মনে করে থাকেন যে ধর্মগ্রন্থগুলি ঈশ্বর কর্ত্তৃক প্রেরিত, তবে আধুনিক বিজ্ঞান মনস্ক মানুষের পক্ষে কোনো যুক্তিতেই তা গ্রহণযোগ্য নয় – অতএব কি দাঁড়ালো – ঈশ্বরের আবিষ্কার কিছু মানুষের মনগড়া কল্পনা – এই কল্পিত ঈশ্বরের অন্ধমোহে তাড়িত হয়ে কেহ যদি জীবন যাপন করতে চান তবে তা করতে পারেন বৈকি – তবে তাদের অন্ধবিশাস দিয়ে অন্যকে বশীভূত করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয় নয় কি ?

তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম এক সর্বজ্ঞানী, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আছেন এই মহাবিশ্বের সাত আসমানের উপরে কোনো এক অকল্পনীয় সৌন্দর্যমন্ডিত এক অতি মনোরম স্হানে যেখানে দুধের নহর সদা প্রবাহিত, পারিজাত ফুলের অসাধারণ গন্ধে চারিদিক আমোদিত, উর্বশী, মেনকা, রম্বার মত অগনিত অপ্সরা, হুর-পরী দ্বারা চারিধার কল হাস্যে মুখরিত – তিনি সদা ব্যস্ত সৃষ্টি আর বিনাশ কর্মে – তাঁর অসীম করুনা তাঁর সৃষ্ট প্রাণীর প্রতি আবার খরগহস্ত মহাপ্রলয়ের দিনে তাদের বিচার করার অপেক্ষায় – তিনি অসীম অনন্ত প্রেমময় আবার অন্যদিকে নিষ্ঠুর বিনাশায় ! এখন প্রশ্ন হলো এই পরম দয়ালু – অসীম কৃপাময় ঈশ্বর যদি এই পৃথিবীটা নিজ হাতেই তৈরী করলেন তবে কেন তিনি এটাকে আরো একটু ভালো করেই তৈরী করলেন না – তাঁর ভান্ডারে কি এত অভাব ছিল যে পৃথিবীর প্রকৃতি তিনি এতটাই বন্ধুর করে তৈরী করলেন – কি এমন তাঁর ক্ষতি হত পৃথিবীর উপরিভাগটা যদি আরো একটু মসৃন হত – তাঁর মহিমা কি আরো একটু বাড়ত না যদি পৃথিবীর আবহাওয়াটা আরো একটু বন্ধু ভাবাপন্ন হত – এই ঝড়-ঝন্ঝা–ভূমিকম্প- জলোচ্ছ্বাসে-পূর্ণ এই পৃথিবীতে বাস করে মনে হয় যেন তিনি মানুষকে শাস্তি দেয়ার জন্যেই এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন – তাহলে যে ঈশ্বরকে বলা হয় পরম দয়ালু – এটাইকি তাঁর পরম দয়ার পরাকাষ্ঠা ? রোগ-শোক-মহামারিতে পূর্ণ এই পৃথিবীতে প্রতিদিন যেন মানুষকে মৃত্যুদূতের সাথে লড়াই করেই বেঁচে থাকতে হয় | একজন পরম দয়ালু সৃষ্টি কর্তাই যদি পরম দয়া পরবশ হয়ে এই মনুষ্য আর প্রাণীকুল সৃষ্টি করলেন তবে সাথে করে কেন এত ব্যাধি-মহামারীর অশান্তিও দিলেন ? ঈশ্বর ভক্তরা হয়ত বলবেন তিনি এইসকল দিয়েছেন মানুষকে পরীক্ষা করার জন্যে আর সব সময় ব্যস্ত রাখার জন্যে | ধিক তাদের সেই কুযুক্তির !

ধর্মগ্রন্থগুলিতো ঠাসা সেই সকল আপ্ত বাক্যে যেন মানুষ সকাল সন্ধ্যা তাঁর পূজা ভজন করে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, নয়তো প্রতি রবিবারে গির্জায় প্রার্থনা করে | মানুষকে এতটা দুর্দশাগ্রস্ত না করলেকি মানুষ তাঁর পূজা ভজন আরো একটু বেশি করে করার ফুরসত পেত না ? এখন তো যারা তার পূজা ভজন করে তা করে একান্তই তাঁর শাস্তির ভয়ে আর মানুষ যদি এই পৃথিবীতে একটু শান্তিময় জীবন যাপন করতে পারত তবে মানুষ তার পূজা ভজন করত তার প্রতি অপার ভালবাসতে – সেই পরম দয়ালু ঈশ্বর -আল্লা- ভগবানের জন্যে কি সেটা আরো অনেক সুখকর হত না ?

আপনারাতো অবগত আছেন এই তো মাত্র কিছুদিন আগেই জাপানে কি ভয়াবহ সুনামিটাই না হয়ে গেল ! আপনাদের মনে কি প্রশ্ন জাগে না কেন এই নিষ্টুর সুনামির কবলে এই জাপান জাতি পতিত হলো – ঈশ্বর বিশ্বারীরা কি করে এর ব্যাখ্যা করবেন – আপনাদের পরম দয়ালু -কৃপাসিন্ধু ঈশ্বর কি কারণে জাপানী জাতিকে এমন নির্মম শাস্তি দিলেন ? আমরা সবাই জানি জাপানিরা কত ভদ্র, কত মার্জিত, কত দয়াবান একটা জাতি – কত গুনের আর বিনয়ের অধিকারী এই জাতি – ধর্মগ্রন্হগুলিতে যে সকল বিশেষ গুনের কথা বলা আছে – যা করলে ঈশ্বরের পরম অনুগ্রহ পাবার কথা তার প্রায় সবকটাই জাপানি জাতিতে বিদ্যমান – তবে ঈশ্বর কেন তাদের এমন শাস্তি দিলেন – কিসের অপরাধে – আমার ধর্ম বিশ্বাসী বন্ধুরা যে বলেন ঈশ্বর পরম দয়ালু – এই কি তাঁর পরম দয়ার প্রদর্শনী ?

সকল প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে মহাত্মা গান্ধী হয়ে উঠেছিলেন পরম ধার্মিক – মনুষ্য-ধর্মের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ | পরম সত্যের অনুসন্ধানকে করে ছিলেন জীবনের ব্রত | অন্যায় আর অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে “সত্যাগ্রহ” (অহিংস প্রতিরোধের অনুশীলনের দর্শন) কে অবলম্বন করেছিলেন তার সংগ্রামের অস্ত্র হিসাবে | ধর্মান্ধ হিন্দু-মুসলমানের ভাতৃঘাতী দাঙ্গা দমনের প্রয়াসে আমরণ অনশনের মত ব্রত গ্রহণ করে তিনি মানবতার জয়গানই ঘোষণা করেছিলেন | কিন্তু হায় ! এমন মানব-প্রেমী মহাত্মাকে প্রাণ হারাতে হলো ধর্মান্ধ হিন্দু নাথুরাম গডসের নির্মম বুলেটের আঘাতে !

আমাদের অতি প্রিয় কাজী নজরুল ইসলাম যিনি মানবতার কবি, প্রেমের কবি, বিদ্রোহের কবি হিসাবে পরিচিত,ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে তিনি কতভাবে বলেছেন | প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের উপরে উঠে তিনি মানবতার জয়গাঁথা গেয়েছেন | একটি সাধারণ মুসলমান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও মুক্তবুদ্ধির চেতনায় তাড়িত হয়ে বাহ্যিক ধর্মের মোড়ক থেকে বের হয়ে এসে ধর্মান্তরিত না করে একজন হিন্দু আশালতা (প্রমীলা) দেবীকে বিবাহ করার মত উদারতা দেখাতে পেরেছিলেন এবং ধর্মীয় প্রাতিষ্ঠানিক গোড়ামির ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার আলোকে উদ্ভাসিত হয়ে উঠে নিজের জ্যেষ্ঠ পুত্রের নামকরণ করেছিলেন কৃষ্ণ মোহাম্মদ – কিন্তু হায়! তবু কিছু কিছু মানুষের কিছুতেই চেতনার দ্বার উন্মোচিত হয়,তাদের ধর্মান্ধতার গ্লানি কিছুতেই ঘুচে না!!

বাংলাদেশের আরজ আলী মাতুব্বর কোনো স্কুল কলেজে পড়ালেখা করেননি – তিনি ছিলেন একজন স্বশিক্ষিত সাধারণ মানুষ – কিন্তু এই সাধারণ হয়েও এই অসাধারণ দার্শনিক মানুষটির মনে যে সকল প্রশ্নের উদয় হলো – কেন অনেক তথাকথিত উচ্চ-ডিগ্রিধারী মানুষের মধ্যেও তা জাগ্রত হয় না – কেন তাদের মনের আগল খুলে না – কেন কোনো যুক্তি- বুদ্ধি সেখানে কোনো পথ খুঁজে পায় না ? ধর্মান্ধতা ত্যাগ করে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহনের জন্যে মানুষের প্রতি আরজ আলী মাতুব্বরের উদাত্ত আহবান বিশেষ প্রণিধানযোগ্য:- “মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা মিটাইতেছে বিজ্ঞান। আপনি যদি বিজ্ঞানের দান গ্রহণে অমত করেন, তাহা হইলে আকাশের দিকে তাকান, ঘড়ির দিকে নয়। আপনি যদি বিজ্ঞানের দান গ্রহণ করিতে না চাহেন, তাহা হইলে যানবাহনে বিদেশ সফর ও জামা-কাপড় ত্যাগ করুন এবং কাগজ-কলমের ব্যবহার ও পুস্তক পড়া ত্যাগ করিয়া মুখস্থ শিক্ষা শুরু করুন। ইহার কোনটি করা আপনার পক্ষে সম্ভব? বোধহয় একটিও না। কেননা মানব জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে বিজ্ঞানের দান অনস্বীকার্য। টেলিগ্রাফ, টেলিফোন হইতে শুরু করিয়া দেশলাই ও সুচ সুতা পর্যন্ত সবই বিজ্ঞানের দান। বিজ্ঞানের কোন দান গ্রহণ না করিয়া মানুষের এক মুহূর্তও চলে না। মানুষ বিজ্ঞানের কাছে ঋণী। কিন্তু সমাজে এমন একশ্রেণীর লোক দেখিতে পাওয়া যায়, যাঁহারা হাতে ঘড়ি ও চক্ষে চশমা আঁটিয়া মাইকে বক্তৃতা করেন আর ‘বস্তুবাদ’ বলিয়া বিজ্ঞানকে ঘৃণা ও ‘বস্তুবাদী’ বলিয়া বিজ্ঞানীদের অবজ্ঞা করেন। অথচ তাঁহারা ভাবিয়া দেখেন না যে, ভাববাদীরা বস্তুবাদীদের পোষ্য। বিজ্ঞান মানুষকে পালন করে। কিন্তু ধর্ম মানুষকে পালন করে না, বরং মানুষ ধর্মকে পালন করে এবং প্রতিপালনও।”

জীবন-দার্শনিক লালন ফকির কোনো স্কুল-কলেজে পড়েননি – কিন্তু এই সাধারণ হয়েও এই অসাধারণ মানুষটি সকল প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে এক গভীর মানবতাবাদী দর্শনের প্রচারক ছিলেন | বাহ্যিক জাত-পাত সন্বন্ধে তিনি যে সকল গভীর চিন্তাশীল প্রশ্নসকল করে গেছেন তা বোধ করি সকল শিক্ষিত মনুষেরই গভীর অনুভবের বিষয় | যেমন লালনের একটি অসাধারণ গান: “সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে | … … … … যদি ছুন্নত দিলে হয় মুসলমান, নারীর তবে কি হয় বিধান ? বামন চিনি পৈতা প্রমাণ, বামনি চিনি কিসে রে ||

প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের প্রতি অনেক মানুষের এই আত্যন্তিক আনুগত্যের মূল কারণ বোধ করি তার শৈশবকালীন শিক্ষা | জন্মের পর থেকেই একটি মানবশিশুকে তার পরিবার-পরিজন, প্রতিবেশী এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমনি শিক্ষা দেয়া হয় যে এই প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের বিপরীতে অন্য কোনো ধারণার আভাস পাওয়ার সুযোগ থেকে সে বঞ্চিত হয় | ধর্ম বিশ্বাসের বিপরীতে ডারউইনের বিবর্তনবাদের মত প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক মতবাদের সাথে আজও অনেক মানব শিশুকে পরিচিত করানো হয় না | ধর্মবিশ্বাস কে স্বত:সিদ্ধ সত্য বলে তাকে শিখানো হয় | এমন ভাবে তাকে শৈশবে শিক্ষা দেয়া হয় যে সে মনে করতে বাধ্য হয় যে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মে আনুগত্য ছাড়া তার জীবনযাত্রা অচল | প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মগ্রন্থসমূহে নি:সন্দেহে মানুষের জন্যে কল্যানকর অনেক জিনিস আছে বটে তবে মানবতা বিরোধী উপাদানের প্রাধান্যও সেখানে যথেষ্ট | ধর্মের ভালো জিনিসগুলি পালন করে অনেকে ভালো মানুষ হতে পারেন বৈকি তবে ধর্ম গ্রন্থসমূহে বিদ্যমান জিনিসগুলোকে ঈশ্বর বা আল্লার বাণী বলে গ্রহণ করে তার পুরোটাই বিশ্বাস করলেই যত বিপত্তি | আজ একথা বিশেষ ভাবে প্রমানিত যে একজন মানুষ কোন একটি নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মে বিশ্বাসী না হয়েও তিনি একজন নীতিবান, সুখী, এবং সর্বদিক থেকে ভারসাম্য রক্ষাকারী একজন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্বে পরিনত হতে পারেন |

আবারও বলি প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম মানুষকে অন্ধ করে – একজন গোঁড়া হিন্দু মনে করেন তার ধর্মটাই আদি, সনাতন এবং শ্বাশত, আর অন্য সব ধর্মের অনুসারীরা নিম্নশ্রেণীর মানুষ এবং তারা অচ্ছুৎ-অস্পৃশ্য, একজন পরম বিশ্বাসী বৌদ্ধ ভাবেন গৌতম বুদ্ধই একমাত্র পরম সত্যের সন্ধান দিয়ে গেছেন, একজন গোঁড়া ইহুদি মনে করেন মোজেজ এর প্রবর্তিত ধর্মই কেবল ঈশ্বর-প্রেরিত সত্যধর্ম, একজন নিষ্ঠাবান খ্রিস্টান মনে করেন ঈশ্বরের পুত্র যীশুর আশ্রয়ই কেবল ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করে স্বর্গে যাওযার একমাত্র পথ, একজন ঈমানধার মুসলমান মনে করেন আল্লার শেষ নবী কর্তৃক প্রচারিত তার ধর্মটাই সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আর আল্লা কর্তৃক অনুমোদিত একমাত্র সত্য ধর্ম এবং আর সকল ধর্মের অনুসারীরা কাফের এবং আল্লা কর্তৃক ঘৃণিত, আর একজন টারবানধারী শিখ মনে করেন গুরুনানকই কেবল সব সত্যের উপরে এক অকৃত্রিম পূর্ণ সত্যের প্রতিষ্ঠা করে গেছেন |

প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মগুলির অন্তর্গত ঈশ্বরের নামে প্রণীত ধর্মগ্রন্থগুলি ঠাসা অসঙ্গতিপূর্ণ আর অযৌক্তিক বচনে – সেই সকল আপ্তবাক্যসমূহ যুগে যুগে বহু মানুষকে প্ররোচিত করেছে অন্ধবিশ্বাসে আসক্ত হতে | ফলে মুক্তবুদ্ধি আর মুক্তচিন্তার চর্চা হয়েছে অবদমিত – জ্ঞান- বিজ্ঞান চর্চার পথকে করেছে কন্টকাকীর্ণ – ধীরগতি সম্পন্ন – আর তার চেয়েও ভয়াবহ – এই প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মসমূহের বিস্তৃতি এই মানবপ্রজাতিকে করেছে বহুধা-বিভক্ত -তাদের মধ্যে জন্ম দিয়েছে ভাতৃঘাতী সংঘর্ষ !

এই প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মসকল এই পৃথিবীতে না থাকলে -১৯৪৬ সালে ভয়াবহ হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা হত না – সেখানে ১০ লক্ষ লোকের প্রাণের বলি হত না আর ৭৫ হাজার নারী নির্যাতিত হত না, ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হত না এবং দেড়কোটি মানুষকে তাদের অনিচ্ছায় বাস্তুভিটা পরিত্যাগ করে অজানা অচেনা দেশে শরণার্থীতে পরিণত হতে হত না | মৃত্যুর পরে কাল্পনিক স্বর্গ লাভের লোভ না থাকলে এই পৃথিবীতে হয়ত আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী মানুষ থাকত না, ধর্ম যুদ্ধের নামে লক্ষ লক্ষ প্রাণের বলি হত না| অর্ধ শতাব্দীরও অধিক কাল ধরে ইসরাইল- প্যালেস্টাইনের যুদ্ধ লেগে থাকত না, ৯/১১ সংঘটিত হত না , তালিবানরা ধর্মের দোয়াই দিয়ে হাজার হাজার বছরের পুরানো বুদ্ধমূর্তি ধ্বংস করত না, কাল্পনিক ঈশ্বরের নামে ধর্ম দ্রোহীতার অপরাধে কারো মস্তক খন্ডিত করার ফরমান জারি হত না, কিছু মানবতাবিরোধী শরীয়া আইনের নামে সামান্য অপরাধের কারণে (এমন কি কোন সুনির্দিষ্ট প্রমান ছাড়া) নিরীহ নারীকে পাথর ছুড়ে বা দোররা মেরে মেরে ফেলা হত না !!!

AMOL-2
ছবি : ধর্ষিতা এবং শরীয়া আইনে দোররা মারায় আহত এক নিরীহ নারী – ছবি: প্রথম আলো

কৈফিয়ত: আমি জানি আমার এই লেখা পড়ে হয়তো আপনারা অনেকেই আমার প্রতি ক্ষুব্ধ হবেন – আমাকে ঘোরতর ঈশ্বর- এবং ধর্ম- অবিশ্বাসী হিসাবে আখ্যায়িত করবেন – কেহ কেহ হয়তবা এই ব্লগের সম্পাদকের প্রতিও অশেষ বিরাগ ভাজন হবেন এমন একটি ধর্মদ্রোহী নিবন্ধ ছাপানোর জন্যে | তবে আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলে রাখি ঈশ্বর যদি থেকে থাকেন তবে তাঁর প্রতি আমি পরম বিশ্বাসী এবং পরম শ্রদ্ধেয় – আমি তাকে সাষ্টাঙ্গে প্রণিপাত করি | তবে এই পৃথিবীতে বর্তমানে বিরাজমান, প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মসকল যে ঈশ্বরের কথা বলেছে, যে ঈশ্বরের বর্ণনা দিয়েছে – সেই ঈশ্বরে আমার ঘোরতর সন্দেহ – আমি মনে করি ধর্মগ্রন্থগুলি মানুষের রচিত এবং এই সকল ধর্মগ্রন্থগুলি ব্যর্থ হয়েছে তাদের বর্ণিত ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমানে | আমি যে ঈশ্বরে আস্থাবান সেই ঈশ্বর এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের সবকিছুর অঙ্গীভূত – বিশ্বপ্রকৃতি – সেটি বোধহয় বর্ণনার অতীত – কেবল বোধের বিষয় – সেই ঈশ্বরের স্বরূপ উন্মোচন বোধ করি এখনো গবেষণার বিষয় – সেই ঈশ্বর সর্বশক্তিমান কিনা জানি না – তবে নি:সন্দেহে মহাশক্তিধর – সর্বজ্ঞাত কিনা জানি না – তবে মনে হয় সর্বদা সবকিছু নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষায় ব্যস্ত – এবং বোধ করি সেই ঈশ্বর এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের সর্বত্রই সবকিছুর মধ্যেই বিরাজিত |

About the Author:

মুক্তমনার অতিথি লেখকদের লেখা এই একাউন্ট থেকে পোস্ট করা হবে।

মন্তব্যসমূহ

  1. সমীর চন্দ্র বর্মা । জুন 27, 2012 at 12:06 অপরাহ্ন - Reply

    ভালই তো লাগছিল । কিন্তু “”কৈফিয়ত”” অংশ টা না লিখলেই ভাল হত । অন্যদের কি মত তা জানিনা , তবে ওই অংসটা পরে মনে কষ্ট পাইছি । কারন আমরা মুক্ত চিন্তা করি । আমরা কোন অন্ধ বিশ্বাসে বিশ্বাসী নই । আমরা সত্তের পূজারি । সত্য কথা বলতে কুণ্ঠিত হব কেন ভাই ?
    কুণ্ঠিত হবে তারা যারা অন্ধ বিশ্বাস এ বিশ্বাসী আবার সেই অন্ধ বিশ্বাস দিয়ে পৃথিবীকে তাদের করে নিতে চায় ।
    http://blog.mukto-mona.com/wp-content/plugins/smilies-themer/kopete/clap.gif
    আপনাকে অভিনন্দন ।

  2. মাজ্‌হার ইজ অক্টোবর 20, 2011 at 2:06 পূর্বাহ্ন - Reply

    উগ্র ধর্মবাদ, মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের হাতিয়ার।

  3. সত্যের পূজারী অক্টোবর 18, 2011 at 1:29 পূর্বাহ্ন - Reply

    অসম্ভব ভালো লেগেছে। (Y)

    • অমল রায় অক্টোবর 18, 2011 at 8:29 পূর্বাহ্ন - Reply

      @সত্যের পূজারী,
      আপনার ভাল লেগেছে জেনে খুব ভাল লাগছে | আপনাকে অনেক ধন্যবাদ | ভাল থাকবেন |

  4. রাজীব রায় অক্টোবর 17, 2011 at 5:28 অপরাহ্ন - Reply

    এক নিঃশ্বাষে পরলাম। খুবই ভাল লাগল আপনার এই লেখা। আশা করি আরও লিখবেন।

    • অমল রায় অক্টোবর 18, 2011 at 8:26 পূর্বাহ্ন - Reply

      @রাজীব রায়,
      আপনার ভাল লেগেছে জেনে খুশি হলাম | আপনাকে অনেক ধন্যবাদ | ভাল থাকবেন |

  5. মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ অক্টোবর 16, 2011 at 10:14 অপরাহ্ন - Reply

    অনেক দিন ধরে চিন্তা করে কোন উত্তর খুজে পাচ্ছিনা । মুহাম্মাদ যা কিছু করেছে সবি মানুষকে ভয় ভীতি দেখিয়ে ক্ষমতা হাসিল করার জন্যই । আর কুরাআন হল একটা মনগড়া সংবিধান জা আল্লাহের নামে চালিয়ে দিয়েছে যা বুড়ো বয়সে স্ত্রী ও দাসী দের নিজের হাতে রাখতে নানা কৌশল কিন্তু নামাজ রোজা এই দুটি বিষয় কেন? তা বুজে উটতে পারছি না। জানালে ধন্য হব।

    • মোহিত অক্টোবর 17, 2011 at 6:20 অপরাহ্ন - Reply

      @মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ,
      ”আর কুরাআন হল একটা মনগড়া সংবিধান জা আল্লাহের নামে চালিয়ে দিয়েছে যা বুড়ো বয়সে স্ত্রী ও দাসী দের নিজের হাতে রাখতে নানা কৌশল কিন্তু নামাজ রোজা এই দুটি বিষয় কেন? তা বুজে উটতে পারছি না। জানালে ধন্য হব।”
      – হুমম। সে প্রশ্ন তো আমারও।

  6. মোহিত অক্টোবর 16, 2011 at 5:05 অপরাহ্ন - Reply

    ”এখন প্রশ্ন হলো এই একবিংশ শতাব্দীতে উপনীত হয়েওকি হিন্দুধর্মে নিষ্ঠাবান হিন্দুরা সম্পূর্ণ মুক্ত হতে পেরেছে এই অমানবিক,পাপজনক বর্ণ-ভেদ প্রথার নিষ্ঠুর কবল থেকে ? ”
    – আমার তো মনে হয় স্যুট পরা অনেক আধুনিক কিন্তু জন্ম সূত্রে হিন্দু মানুষ হ্যাটের নিচে ”বামুন টিঁকি”,গলায় পৈতে এবং অন্তরে তীব্র বর্ণ বিদ্বেষ লালন করেন।

  7. নাফিস অক্টোবর 16, 2011 at 8:25 পূর্বাহ্ন - Reply

    আপনার যুক্তিশীল লেখাটির জন্য অনেক ধন্যবাদ।

    • অমল রায় অক্টোবর 17, 2011 at 8:35 পূর্বাহ্ন - Reply

      প্রিয় নাফিস,
      আপনার সহৃদয় মন্তব্যের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ | ভালো থাকুন |

  8. সাব্বির অক্টোবর 16, 2011 at 1:49 পূর্বাহ্ন - Reply

    যদি কোন সৃষ্টিকর্তা নাই থাকে তাহলে আপনি কি নিজে নিজে সৃষ্টি হয়েছেন? পৃথিবীর সৃষ্টির চিন্তা না করে আগে নিজের সৃষ্টির চিন্তা করুন। আপনার উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম। 🙂

    • অমল রায় অক্টোবর 16, 2011 at 4:40 পূর্বাহ্ন - Reply

      @ শ্রদ্ধেয় সাব্বির সাহেব ,

      আমাকে এই প্রশ্ন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ | যেকোন চিন্তাশীল মানুষের মনে তার সৃষ্টি সম্বন্ধে প্রশ্ন আসবে এটাই স্বাভাবিক | আপনার এই প্রশ্নটি আমি একজন বিজ্ঞান-দার্শনিকের দৃষ্টি ভঙ্গির আলোকে উত্তর দেবার চেষ্টা করছি | এই বিশ্বজগৎ ও এতে প্রথম জীবন উদ্ভাবনের ব্যাপারটা এখনো অনেকটা রহস্যাবৃত -মানুষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এই রহস্য পুরাপুরি উদঘাটনের জন্যে | ক্রম বিবর্তনের ধারায় ভবিষ্যতে মানব-মস্তিষ্কের আরো উন্নতির ফলে মানুষ হয়ত একদিন সক্ষম হবে এর সঠিক উত্তর দিতে | তবে এই বিষয়ে আমাদের একশত ভাগ নিশ্চিত উত্তর নাই বলেই আদিম মানুষদের দ্বারা রচিত ধর্ম গ্রন্হের বর্ণিত “ঈশ্বর” বা “সৃষ্টিকর্তা” এই সবকিছু সৃষ্টি করেছে এটা মেনে নিতে হবে তা কতটা যুক্তিযুক্ত তা আপনি নিজেই একবার গভীর ভাবে চিন্তা করুন ! যদি যুক্তির খাতিরে ধরেই নেই সব কিছু সৃষ্টির পিছনে একজন সৃষ্টিকর্তা থাকতেই হবে তাহলে সেই পুরানো প্রশ্নে আবার ফিরে যেতে হয় – সেই ধর্মগ্রন্হে বর্ণিত “ঈশ্বর” বা “সৃষ্টিকর্তা”কে কে সৃষ্টি করলো ? জানি আপনি এর কোন সদুত্তর দিতে পারবেন না বা প্রাচীন সব ধর্মগ্রন্হে এর কোনো উত্তর নেই | একবার চিন্তা করুন – এমনটা কি হতে পারে না – যে এই বিশ্ব জগৎ কেও সৃষ্টি করেনি -এটা একটা চেতনা সম্পন্ন সত্বা এবং এটা সব সময়েই বিদ্যমান ছিল – এটাতে নিয়ত পরিবর্তন আর পরিবর্ধন হচ্ছে এবং এই স্বত;-উৎসারিত সৃষ্টির ধারায় কত কিছুই না উদ্ভাবিত হচ্ছে ? তবে সেই সাথে আপনার জ্ঞাতার্থে বলতে চাই কোনো কল্পিত সৃষ্টিকর্তার হস্তক্ষেপ ছাড়াই কিভাবে স্বগ্রথিত শক্তির ক্রিয়াতে এই বিশ্বব্রহ্মান্ড নিজে নিজেই সৃষ্টি হতে পারে এই রূপ থিওরিও কিন্তু এখন পদার্থ বিজ্ঞানের জগতে বিদ্যমান !

      আপনার কাছে আপনার কৃতজ্ঞতা আমাকে আমার “নিজের সৃষ্টির” চিন্তা করার উপদেশ দেবার জন্য | আপনাকে বিনীত ভাবে বলতে চাই শিশু বয়স পেরিয়ে নিজের ভিতরে একটু একটু চিন্তার উন্মেষ হবার পর থেকেই এই “সৃষ্টি” বিষয়টি আমাকে ভাবায় | বিভিন্নভাবে এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করতে শুরু করি | বিভিন্ন ধর্ম গ্রন্হসমূহে এর একটা যুক্তিগ্রাহ্য উত্তর পাবার চেষ্টা করি – প্রচন্ড ভাবে হতাশ হয়েছি | কেন কোনো ধর্মগ্রন্হে এর উত্তর পাই নি সেই উত্তর পেয়েছি – Bertrand Russell এর এই উক্তিটির মধ্যে : “Religion is something left over from the infancy of our intelligence; it will fade away as we adopt reason and science as our guidelines”.

      আমি জানি বিজ্ঞান এখনো সব প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হয়নি তবু বিজ্ঞানের প্রতি আমার আস্থা এই জন্য -“বিজ্ঞান সত্য উন্মোচনের চেষ্টায় নিয়োজিত” | বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত সত্য কোনো মানুষের মনগড়া কল্পনা নয় – এটা একটা বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা লব্ধ সত্য | এই সত্য প্রমাণযোগ্য এবং পুনরায় পরীক্ষা যোগ্য সত্য |

      না, আমি নিজে নিজে সৃষ্টি হয়নি – আমার মাতা-পিতা আমার সৃষ্টিকর্তা – আমার জীবনদেবতা | আবার বৃহৎ পরিসরে দেখলে এই বিশ্বপ্রকৃতি থেকে আমি উদ্ভূত – আবার একদিন এই বিশ্ব প্রকৃতিতেই আমি লীন হয়ে যাব |

      ধন্যবাদ |

    • তামান্না ঝুমু অক্টোবর 16, 2011 at 5:48 পূর্বাহ্ন - Reply

      @সাব্বির,

      যদি কোন সৃষ্টিকর্তা নাই থাকে তাহলে আপনি কি নিজে নিজে সৃষ্টি হয়েছেন? পৃথিবীর সৃষ্টির চিন্তা না করে আগে নিজের সৃষ্টির চিন্তা করুন। আপনার উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম।

      সৃষ্টিকর্তা যদি থেকেই থাকে তাহলে তাকে কে সৃষ্টি করেছে সেটা আগে চিন্তা করুন।

      • সাগর জুন 27, 2012 at 7:31 পূর্বাহ্ন - Reply

        @তামান্না ঝুমু, এ বেলা বাবা ধার্মিকেরা চুপ থাকেন ,তাদের ইশ্বর নাকি সীমা অতিক্রম করতে নিষেধ করে দিয়েছেন…এটা নিয়ে নাকি ভাবাও নিষেধ…এইবার ঠেলা বোঝেন…

  9. আবুল কাশেম অক্টোবর 16, 2011 at 12:32 পূর্বাহ্ন - Reply

    আবারও বলি প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম মানুষকে অন্ধ করে –

    শুধু অন্ধ করলে মন্দ ছিল না। অন্ধরা ত নিরীহ—কিন্তু ধর্মে উন্মত্তরা যে বর্বর, নিষ্ঠুর, রক্তলোভী এবং বিষময়।

    লেখাটা সুন্দর হয়েছে–সব কিছুই গুছিয়ে বলা হয়েছে।

    মুক্তমনায় স্বাগতম।

    • অমল রায় অক্টোবর 16, 2011 at 4:42 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আবুল কাশেম,
      আপনার মন্তব্যের জন্য এবং আমাকে মুক্ত-মনায় স্বাগত জানানোর জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ | ভালো থাকুন |

  10. মোহিত অক্টোবর 15, 2011 at 6:06 অপরাহ্ন - Reply

    ”আমি যে ঈশ্বরে আস্থাবান সেই ঈশ্বর এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের সবকিছুর অঙ্গীভূত – বিশ্বপ্রকৃতি – সেটি বোধহয় বর্ণনার অতীত – কেবল বোধের বিষয় – সেই ঈশ্বরের স্বরূপ উন্মোচন বোধ করি এখনো গবেষণার বিষয় – সেই ঈশ্বর সর্বশক্তিমান কিনা জানি না – তবে নি:সন্দেহে মহাশক্তিধর – সর্বজ্ঞাত কিনা জানি না – তবে মনে হয় সর্বদা সবকিছু নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষায় ব্যস্ত – এবং বোধ করি সেই ঈশ্বর এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের সর্বত্রই সবকিছুর মধ্যেই বিরাজিত | ”

    – আপনার এ ঈশ্বরের ধারণাটি হয়তো নিচের শ্লোকগুলোতে -এ ও আছে-

    Beyond the Source of
    Potential energy at rest
    Is Brahman,
    All pervading, imperceptible.
    All creatures that know ‘That’
    Are liberated
    And transcend the time -space ilusion,
    And enjoy Eternity।
    ( The Katha Upanishad, book II, part 5, verse 8)

    His form is invisible,
    He is visualized
    In the Heart of Wisdom.
    Those who know ‘That’
    Transcend the time illusion
    And enjoy Eternity.
    ( The Katha Upanishad, book II,part 5,verse 9)

    কুরানের ‘আয়াত উল কুরসী’-তে প্রায় একই রকমের ধারণা দেয়া হয়েছে। আর সুফী মুসলিমদের বড় একটি অংশ এ ধরণের সর্বত্র বিরাজমান এক স্রষ্টার ধারণায় বিশ্বাসী।

  11. সাইফুল ইসলাম অক্টোবর 15, 2011 at 3:38 অপরাহ্ন - Reply

    লেখার অনেক অনেক ব্যাপারের সাথে আমার দ্বিমত আছে(আমাকে আস্তিক ভেবে নিয়েন না)। হয়ত ভবিষ্যতে আলোচনা হবে আপনার সাথে।
    মুক্তমনায় স্বাগতম।

    • মোহিত অক্টোবর 15, 2011 at 6:14 অপরাহ্ন - Reply

      @সাইফুল ইসলাম,
      -”(আমাকে আস্তিক ভেবে নিয়েন না)।”
      – কেন রে ভাই ? আস্তিক হওয়া কী শরমের কথা ?

      • সাইফুল ইসলাম অক্টোবর 15, 2011 at 10:22 অপরাহ্ন - Reply

        @মোহিত,
        আমি বাচ্চাদের সাথে ভারী আলোচনা করি না। নইলে বুঝিয়ে বলতাম।

        • মোহিত অক্টোবর 15, 2011 at 11:55 অপরাহ্ন - Reply

          @সাইফুল ইসলাম,
          ঠিক আছে, যখন বড় হব তখন আবার আপনাকে জিজ্ঞেস করব দাদা ভাই।

  12. অনীক অক্টোবর 15, 2011 at 10:54 পূর্বাহ্ন - Reply

    সেই ঈশ্বর সর্বশক্তিমান কিনা জানি না – তবে নি:সন্দেহে মহাশক্তিধর

    ব্যাখ্যা করুন। মহাশক্তিধর মানলে সর্বজ্ঞাত কেন নয়?

    • অমল রায় অক্টোবর 16, 2011 at 6:47 পূর্বাহ্ন - Reply

      @অনীক,
      ধন্যবাদ ব্যাখ্যা চাওয়ার জন্য – মহাশক্তিধর হয়েও সর্বজ্ঞাত নাও হতে পারে – মহাশক্তিধর হয়ে মহা-জ্ঞাত হতে পারে | আমার বিবেচনায় এই বিশ্বপ্রকৃতি মনে হয় সর্বশক্তিমানও নয় এবং সর্বজ্ঞাতও নয় আর সেই জন্যই এই বিশ্বপ্রকৃতিতে নিরন্তর চলছে পরীক্ষা -নিরীক্ষার খেলা ! জানিনা আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলাম কিনা !

  13. স্বপন মাঝি অক্টোবর 15, 2011 at 10:48 পূর্বাহ্ন - Reply

    সাধু!সাধু!! সাধু!!!

    আর মানুষের নেতিবাচক দিকগুলো হলো মূলত ক্রোধ, ঈর্ষা, হিংসা-বিদ্বেষ, পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা ইত্যাদি |

    মানুষ ও মানুষের মধ্যেকার সম্পর্কের মধ্যে সম্পত্তি উহ্য রেখে, ব্যাখ্যা, ঠিকঠাক মেলে না।

    তবে সে যদি লোককে দেখানোর বিষয়ই হয়ে দাঁড়ায় তবে আমার মতে কিন্তু তাকে আর ধর্ম নামে আখ্যায়িত করা চলে না |

    এ কথাটা অনেক আগে বাবার মুখে শুনেছিলাম।

    এই পৃথিবীতে যত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছে সেখানে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মে অবিশ্বাসী-যুক্তিবাদী-বিজ্ঞানমনষ্ক মানুষ অংশ গ্রহণ করেছে বলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় না |

    যথার্থ বলেছেন।

    এক ধর্মের মানুষ ভেবেছে যে তার ধর্মটাই কেবল ঈশ্বর কর্তৃক প্রেরিত এবং অনুমোদিত – মনোনীত একমাত্র সত্য ধর্ম অতএব অন্য যেকোনো ধর্মে বিশ্বাসী মানুষ ঈশ্বর কর্তৃক ঘৃণিত – অতএব যে ঈশ্বর কর্তৃক ঘৃণিত তাকে আমি ঘৃনা করলে আমারতো পাপ হওয়ার কথা নয় বরং আমি তাকে ঘৃনা করলে আমার তো ঈশ্বর কর্তৃক সাধুবাদই পাবার যোগ্য – এমনকি তাকে বধ করলেও আমার তো ঈশ্বর কর্তৃক পুরস্কৃত হওয়ারই কথা !

    আর তাই পুরস্কৃত হ’বার লোভ সামলাতে না পেরে পৃথিবীতে যত খুন,তার সিংহভাগের দায় এদের।
    আপনার ভাবনাগুলো শুধু আপনার নয়।
    এ আমাদেরও।
    তাই নিজের মধ্যে আটকে না রেখে
    যা আমাদের,উজাড় করে দিন।
    আপনাকে অভিন্দন।

    • অমল রায় অক্টোবর 16, 2011 at 6:33 পূর্বাহ্ন - Reply

      @স্বপন মাঝি,
      আমাকে অভিনন্দন জানানোর জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ | ভালো থাকুন |

  14. গোলাপ অক্টোবর 15, 2011 at 7:42 পূর্বাহ্ন - Reply

    এই প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের দ্বারা তাড়িত হয়ে মানুষ এই পৃথিবীতে যত অপকর্ম আর অনাসৃষ্টি সংঘটিত করেছে আর কোনো একক কারণ দ্বারাই বোধ হয় এই পৃথিবীতে এমনটা ঘটেনি | এর কারনটা কি ? – অন্ধ বিশ্বাস ! মানুষ যখন এই ” অন্ধ বিশ্বাস ” এর মোহে মোহাবিষ্ট হয় তখন তাকে যা করতে বলা হয় এই মোহে তাড়িত হয়ে সে তাই করে | তার “মনুষ্যত্বের” শ্রেষ্ট দান “বিবেচনা শক্তি” তা তখন সে হারিয়ে ফেলে –

    লিখাটি বেশ ভাল লাগলো। একটানে পড়ে ফেললাম। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
    লিখতে থাকুন। (F) (Y)

    • অমল রায় অক্টোবর 15, 2011 at 8:43 পূর্বাহ্ন - Reply

      গোলাপ,
      আমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ দেবার জন্য আপনাকে জানাই আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা আর ধন্যবাদ |

  15. তামান্না ঝুমু অক্টোবর 15, 2011 at 7:23 পূর্বাহ্ন - Reply

    – কি এমন তাঁর ক্ষতি হত পৃথিবীর উপরিভাগটা যদি আরো একটু মসৃন হত – তাঁর মহিমা কি আরো একটু বাড়ত না যদি পৃথিবীর আবহাওয়াটা আরো একটু বন্ধু ভাবাপন্ন হত – এই ঝড়-ঝন্ঝা–ভূমিকম্প- জলোচ্ছ্বাসে-পূর্ণ এই পৃথিবীতে বাস করে মনে হয় যেন তিনি মানুষকে শাস্তি দেয়ার জন্যেই এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন – তাহলে যে ঈশ্বরকে বলা হয় পরম দয়ালু – এটাইকি তাঁর পরম দয়ার পরাকাষ্ঠা ?

    পৃথিবীর উপরিভাগটা মসৃন হলে পৃথিবী হেলে পড়ে যেত। কিন্তু পড়ে কোথায় যেত? তাই পাহাড় দিয়ে পৃথিবীকে চাপা দেয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিভিন্ন বিপদ আপদ দিয়ে তিনি মানুষের ঈমান পরীক্ষা করেন। সত্যিকারের ঈমানদারের কোন অবস্থাতেই ঈমান দুর্বল হবেনা।

    | আমি যে ঈশ্বরে আস্থাবান সেই ঈশ্বর এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের সবকিছুর অঙ্গীভূত – বিশ্বপ্রকৃতি – সেটি বোধহয় বর্ণনার অতীত – কেবল বোধের বিষয় – সেই ঈশ্বরের স্বরূপ উন্মোচন বোধ করি এখনো গবেষণার বিষয় – সেই ঈশ্বর সর্বশক্তিমান কিনা জানি না – তবে নি:সন্দেহে মহাশক্তিধর – সর্বজ্ঞাত কিনা জানি না – তবে মনে হয় সর্বদা সবকিছু নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষায় ব্যস্ত – এবং বোধ করি সেই ঈশ্বর এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের সর্বত্রই সবকিছুর মধ্যেই বিরাজিত |

    মহা বিশ্বের কোথাও কোন ঈশ্বর নেই। এই বিশ্ব কোন ঈশ্বরের তৈরী নয়। সম্ভবত ১৪ মিলিয়ন বছর আগে বিগ ব্যাঙেয়ের মাধ্যমে মহা বিশ্বের সৃষ্টি হয়।

    মুক্তমনায় স্বাগতম (F)

    • অমল রায় অক্টোবর 15, 2011 at 8:32 পূর্বাহ্ন - Reply

      তামান্না ঝুমু,
      ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্যে | আপনি ঠিকই লিখেছেন এই মহাবিশ্বের কোথাও ঈশ্বর নামক কেহ বসে নেই | কিন্তু এই বিশ্ব-প্রকৃতি সতত: ক্রিয়াশীল এবং এর থেকেই এই মহাবিশ্বের সব কিছু উদ্ভূত এবং এই “বিশ্ব- প্রকৃতি”-কেই আমি “ঈশ্বর” হিসাবে আখ্যায়িত করেছি | বিগ ব্যাং এবং সেই সম্বন্ধীয় আমার একটি লেখা “জগৎ ও জীবন” আশা করি কিছু দিনের মধ্যেই মুক্ত-মনায় ছাপানোর জন্যে পাঠাব | ধন্যবাদ আমাকে মুক্ত-মনায় স্বাগত জানানোর জন্যে |

    • মোহিত অক্টোবর 15, 2011 at 6:11 অপরাহ্ন - Reply

      @তামান্না ঝুমু,
      ”সম্ভবত ১৪ মিলিয়ন বছর আগে বিগ ব্যাঙয়ের মাধ্যমে মহা বিশ্বের সৃষ্টি হয়।”
      – সম্ভবতঃ ‘বিগ ব্যাং’ থিওরি’র দিন ফুরিয়ে এসেছে। অপেক্ষা করুন , নতুন থিওরি আসছে -তা হলো বিগ ব্যাংয়ের আগে কী ঘটেছিল সে বিষয় নিয়ে।

    • মোহিত অক্টোবর 16, 2011 at 12:02 পূর্বাহ্ন - Reply

      @তামান্না ঝুমু,
      ”মহা বিশ্বের কোথাও কোন ঈশ্বর নেই। এই বিশ্ব কোন ঈশ্বরের তৈরী নয়।”
      – এতো নিশ্চিত হচ্ছেন কী করে ? মানে মানব বা দেব-দেবীর অনুরূপ না হলেও এই বিশ্ব -সৃষ্টির পেছনে কোন Ultimate Source বা Force বা Consciousness নেই সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে বলা কী সম্ভব ?

      • সফি জুন 27, 2012 at 12:51 পূর্বাহ্ন - Reply

        @মোহিত,

        আমার হাতটিকে মুঠো করে ধরে আমি যদি বলি এই হাতে কহিনুর হিরে ও ভগবানের আত্মা বন্দী করে রেখেছি। তারপর জনতা জনার্দন যতই তর্ক বিতর্ক করুন তার দারা কোনও কিছুই প্রমাণ বা অপ্রমাণ হবে না। আমার দাবিকে প্রমাণ করার দায়িত্ব আমারই থাকে, তাই যদি কিছুর অস্তিত্বের দাবী কেউ করেন তাহলে তাঁকেই প্রমাণের দায় ভার নিতে হয়। আর সেটা না করা এবং চোখ বন্ধ করে বিশ্ব ব্রম্ভান্ড অস্বীকার করা একই বোঝায়।

    • নৃপেন্দ্র সরকার অক্টোবর 16, 2011 at 4:06 পূর্বাহ্ন - Reply

      @তামান্না ঝুমু,

      মহা বিশ্বের কোথাও কোন ঈশ্বর নেই। এই বিশ্ব কোন ঈশ্বরের তৈরী নয়। সম্ভবত ১৪ মিলিয়ন বছর আগে বিগ ব্যাঙেয়ের মাধ্যমে মহা বিশ্বের সৃষ্টি হয়।

      পড়তে হবে বিলিয়ন। এটা একটা টাইপো মাত্র।

  16. আকাশ মালিক অক্টোবর 15, 2011 at 5:12 পূর্বাহ্ন - Reply

    মুক্তমনায় স্বাগতম। (F) (F)

    সুন্দর লেখা আরো চাই। (Y)

    • অমল রায় অক্টোবর 15, 2011 at 5:21 অপরাহ্ন - Reply

      আকাশ মালিক,
      আমাকে স্বাগত জানানোর জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ |

  17. কাজী রহমান অক্টোবর 15, 2011 at 5:09 পূর্বাহ্ন - Reply

    প্রাণ ভরে মন খুলে লিখুন। মুক্ত মনে যুক্তিপূর্ণ লেখার জন্য কাউকে কৈফিয়ত দিতে হবেনা এখানে। স্বাগতম। (C)

    • অমল রায় অক্টোবর 15, 2011 at 8:40 পূর্বাহ্ন - Reply

      কাজী রহমান,
      আপনি আমার আন্তরিক ধন্যবাদ গ্রহণ করুন |

  18. Syeem অক্টোবর 15, 2011 at 4:43 পূর্বাহ্ন - Reply

    যুক্তিপূর্ণ লেখাটির জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

    • অমল রায় অক্টোবর 16, 2011 at 4:45 পূর্বাহ্ন - Reply

      @Syeem,
      আপনার মন্তব্যের জন্য আমার আন্তরিক ধন্যবাদ | ভালো থাকুন |

  19. মোহিত অক্টোবর 15, 2011 at 4:09 পূর্বাহ্ন - Reply

    সৌদি আরবে আট বাংলাদেশির শিরোচ্ছেদকে কেন্দ্র করে মুক্ত-মনা’য় ‘পোন্দানি ‘ জাতীয় লেখা এবং কথা-বার্তা পড়ে যখন চরম বিরক্তিতে মন ভরে উঠছিল, তখন আপনার লেখাটি যেন একটি তাজা, নির্মল বাতাসের মত। এই লেখাটিকে আমার- মুক্ত-মনা’কে আমি যেভাবে জানি – সেই স্ট্যান্ডার্ড -এর হয়েছে। এই লেখাটি পড়লে একজন উন্নত বোধ সম্পন্ন মানুষ অবশ্যই বুঝতে পারবেন যে, ‘পোন্দানি’ জাতীয় লেখার সাথে এর পার্থক্য কী । এ লেখাটি একজন বিবেক-বোধ এবং বুদ্ধি-সম্পন্ন মানুষ ( সে আস্তিক হোক, বা নাস্তিক হোক ) এর মনের গভীরে যে রেখাপাত করবে, যে ছাপ তৈরি করবে এবং তাকে ভাবাবে , একশোটা ‘পোন্দানি’ জাতীয় লেখা লিখেও
    তা সম্ভব নয়। লেখককে বিশেষ ধন্যবাদ।

    • অমল রায় অক্টোবর 15, 2011 at 8:52 পূর্বাহ্ন - Reply

      প্রিয় মোহিত,
      আপনার চিন্তাশীল ও যুক্তিসঙ্গত মন্তব্যের জন্য বিশেষ ধন্যবাদ | ভালো থাকুন |

    • আকাশ মালিক অক্টোবর 15, 2011 at 4:18 অপরাহ্ন - Reply

      @মোহিত,

      সৌদি আরবে আট বাংলাদেশির শিরোচ্ছেদকে কেন্দ্র করে মুক্ত-মনা’য় ‘পোন্দানি ‘ জাতীয় লেখা এবং কথা-বার্তা—

      অনেক মন্তব্য আপনার পড়েছি কিছু বলিনি, কারণ গত কদিন বড়ই অসুস্থ বোধ করেছি মনটা খুব খারাপ ছিল, বিভিন্ন ব্লগে পত্রিকায় ঐ গলা কাটা আটটি লাশের ছবি দেখে।

      সুতরাং ভাষা সংযত করুন সাধু, মুক্তমনা ভন্ডামীর জায়গা নয়।

  20. রৌরব অক্টোবর 15, 2011 at 3:33 পূর্বাহ্ন - Reply

    মুক্তমনায় স্বাগতম।

    (F)

    • অমল রায় অক্টোবর 15, 2011 at 8:39 পূর্বাহ্ন - Reply

      @রৌরব,
      আপনাকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ |

  21. সৈকত চৌধুরী অক্টোবর 15, 2011 at 2:48 পূর্বাহ্ন - Reply

    আপনাকে শুভেচ্ছা।

    বেশ ভাল লেখেন আপনি। (F) (F)

    • অমল রায় অক্টোবর 15, 2011 at 8:37 পূর্বাহ্ন - Reply

      সৈকত চৌধুরী,
      আপনার অনুপ্রেরণার জন্য এবং আমাকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ |

মন্তব্য করুন