শিবঠাকুর ও দূর্গা দেবীর উত্থান

ঊনিশ শতকে সমাজ বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড টেইলর সংস্কৃতির সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে- মানুষের বিশ্বাস, আচার- আচরণ এবং জ্ঞানের সমন্বিত অবস্থাকে বলা যায় সংস্কৃতি। ভাষা, সাহিত্য, ধর্ম, বিশ্বাস, সামাজিক রীতিনীতি, মূল্যবোধ, নিয়মকানুন, উৎসব, আমাদের প্রতিদিনের নিত্যকার কাজ কারবার, ইত্যাদি নানা উপকরনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে সংস্কৃতি। কোন সংস্কৃতি শাশ্বত নয় উপাদান গুলোর পরিবর্তনের সাথে সংস্কৃতিতেও লাগে পরিবর্তনের দোলা।

একটু স্থিতিশীল জীবনের সুখ ও দুমুঠো খাদ্য নিশ্চয়তার আশায় যাযাবর আর্যরা ভারতীয় অনার্যদের দেশে স্থানান্তরিত হলে সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছায়া সঙ্গী হয়ে তাদের সাথে চলে আসে। তা হল-বৈদিক ধর্ম অর্থাৎ ব্রাহ্মণ্য ধর্ম। যা ভারতীয় উপমহাদেশের আদি অধিবাসী অনার্য সংস্কৃতি, সভ্যতা ও ধর্ম বিশ্বাসে উপহার দেয় আমূল পরিবর্তন। দীর্ঘ দিন তারা অনার্যদের পাশাপাশি বসবাসের ফলে কৃষিকাজ, বাণিজ্য, পশুপালন, বিয়ে-শাদী সহ সামাজিক ও নানান বৈষয়িক প্রয়োজনে স্থানীয় অনার্যদের সাথে তাদের যোগাযোগ গড়ে উঠে, বাড়াতে হয় সম্পর্ক। দৈহিক সৌন্দর্য্য, শিক্ষা, সভ্যতা, সংস্কৃতি, ছলেবলে, যুদ্ধ বিদ্যায়, বৌদ্ধিক-কৌশলিক জ্ঞানে উচ্চভিলাষি আর্যরা অনেক এগিয়ে থাকার সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব মানতে বাধ্য করে নিরীহ শান্ত গোছের অনার্যদের। একই সাথে দখল করে নেয় সমাজ নিয়নন্ত্রণের ভূমিকা। নাক উঁচু আর্যরা প্রথম থেকেই প্রভুসুলভ আচরণে ঋদ্ধ থেকে নিজেদের শ্রেষ্ঠ উচ্চ জাত ব্রাহ্মন ঘোষনা দিয়ে স্থানিয় অনার্যদের নীচু, তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের ভাবাবেশে দেখতে থাকায় এই সম্পর্ক অনার্যদের জন্য কখনো মর্যাদাপূর্ণ বা সুখকর ছিল ভাবা যায় না। শক্তি হীনতা ও কূটকৌশল জ্ঞানে অজ্ঞ থাকায় নিজ দেশে বাস করেও অনার্যরা হয়ে পড়েছিল কোণঠাসা। দীর্ঘ দিন একি সাথে অস্বস্তিকর পরিবেশে পাশাপাশি অবস্থানের ফলে ধর্ম, সামাজিক রীতি-নীতি, আচার-আচরন, বিশ্বাসে ধীরে ধীরে একে অন্যের সংস্কৃতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে শুরু হয় উভয় সংস্কৃতির নীরব সমন্বয়। কয়েক শতাব্দির মধ্যেই আর্য ব্রাহ্মণ্য ধর্ম ও সংখ্যা গুরু অনার্যদের ধর্ম বিশ্বাস অনেকটা মিলেমিশে একাকার হয়ে পরিবর্তন আসে ধর্ম বিশ্বাসে, জন্ম নেয় নতুন সংস্কৃতি। তবে কর্তৃত্বের ঝান্ডা যথারীতি সুকৌশলে আগলে রাখে আর্যরা। এই সংস্কৃতির পালা বদলের শীতল হাওয়ায় অনেক অনার্য দেব-দেবী সন্তর্পণে অনুপ্রবেশ করে বৈদিক ধর্মে। দেবতা গ্রহণ বর্জনের ক্রান্তিকালে অনুসারীদের নির্মল ভালোবাসার বিশ্বাস প্রভাবে বেশ কিছু দেবতার আসনে নীরবে ঘটে যায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন। কিছু দেবতা প্রমোশন পেয়ে লাভ করেন সর্বোচ্চ পদ মর্যাদা, কিছু দেবতা ডিমোশন পেয়ে হন তুলনা মূলক কম মর্যাদাহীন আর কিছু কিছু দেবতাকে বাধ্য হয়ে চলে যেতে হয় চির অবসরে।

কয়েক হাজার বছরের সমাজ বিবর্তনের জোয়ারে প্লাবিত হয়ে নানান পরিবর্তন, সংস্কার, ধর্ম গুরুদের বাধা, রক্তচক্ষু, অভিসম্পাতের চড়াই উৎরাই পার হয়ে সনাতন, সনাতন থেকে হিন্দু ধর্মে নাম করন হয়ে বর্তমান বিশ্বে পরিচিতি লাভে সমর্থ হয় বৈদিক ধর্মটি।

বৈদিক ধর্মমত ছিল বহু দেবতাবাদে বিশ্বাস। বৈদিক সাহিত্যে সাধারন মানুষের মতই এই সব দেবতাদের এক দিকে যেমন দয়া, করুণা, ভালবাসার কথা উল্লেখ আছে অন্য দিকে আছে প্রচন্ড ক্রোধ, লোভ, হিংসা বিদ্বেষ, কামনা বাসনা, যৌন আকাঙ্ক্ষা, জিঘাংসার মূর্ত বর্ণনা। প্রায় প্রত্যেক শক্তিশালী দেবতা কল্পিত হত তেজস্বী দূর্ধর্ষ বীরযোদ্ধা রূপে। সে যুগের সংস্কৃতিতে শৌর্য-বীর্য, ক্ষমতা, সন্মানের পারদ উঠা নামা করত পেশী শক্তি ও নিপুন লক্ষ্যভেদী অস্ত্র চালনা দক্ষতার উপর। আধুনিক রাইফেল, বোমা, গ্রেনেড তখনো আবিষ্কার না হওয়ায় বর্তমানে পরিত্যক্ত অথচ এক কালের ভয়াবহ মরনাস্ত্র তীর- ধনুক, গদা, ত্রিশূল, বর্শা হাতে, কাধে, পিঠে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন এই সব দেবতারা পুরাণে পুরাণে। এই রকম বৈদিক এক দেবতা ছিলেন রুদ্র। তাঁর প্রধান অস্ত্র ছিল ধনুর্বাণ (For archer and arrow associations Kramrisch, Chapter 2, and for the arrow as an “essential attribute” Kramrisch, p. 32) তিনি কল্পিত ছিলেন বজ্রবিদ্যুত সহ ঝড়ের দেবতা। সব কিছু উড়িয়ে লন্ড ভন্ড করে মুহুর্তে জীব জগৎ ধ্বংসকারী যে কোন শক্তিশালী সাইক্লোন বা ঘূর্ণীঝড় বিবেচিত হত রুষ্ট রুদ্রের বিভীষিকাময় কর্ম আবার বন্যার পানিতে খড় কুটুর মত সব ভাসিয়ে নিয়ে জনজীবণকে দূর্বিসহ করে তোলাও মনে করা হত রুদ্রের ক্রোধ উন্মাদ তেজ। অপর দিকে শিব অনার্য দেবতা হলেও শিবের মাঝে ধ্বংসকারী শক্তি কল্পিত হয়ে আসায় ধর্ম সমন্বয়ের ফলে সংখ্যাগুরু বিশ্বাস বলে তিনি ঢুকে যান আর্য দেবতায়। দুই ভিন্ন বড় দেবতা এক পোষ্টে থেকে একি কাজ করা এক সময় মনে হতে থাকে যেন আহান্মকি ভাবনার ফসল, অনাকাঙ্খিত গৃহ বিবাদের গন্ধ! সমাধান রুদ্র ও শিবকে ভিন্ন না ভেবে এক দেবতা হিসাবে কল্পনা করা। অবশ্য দুই ভিন্ন দেবতা এভাবে একিভূত হওয়ার দৃষ্টান্ত বৈদিক ধর্ম সাহিত্যে নতুন কোন ঘটনা নয়। এর আগে বৈদিক সাহিত্যে অগ্নি ও রুদ্র দুটি ভিন্ন দেবতা একিভূত হওয়ার ইতিহাস আছে। নিরুক্তি নামের গ্রন্থে বর্ণনা আছে অগ্নিকে রুদ্রে অঙ্গীভবনের কথা।(For translation from Nirukta 10.7, Sarup 1927, p. 155)। সম্ভবত শারীরিক শক্তি বিবেচনায় অগ্নিকে ষাঁড়ের শক্তি রূপে কল্পনা করা হত, যার ষাঁড়ের মত শিংও ছিল। (Rig Veda: Rig-Veda, Book 6: HYMN XLVIII. Agni and Others) আবার শিবের বাহন কল্পনা করা হত এক ষাঁড়। যার নাম ছিল নন্দী। খ্রিষ্টপূর্ব ১৭০০-১১০০ সালের মধ্যবর্তী কোন সময়ে রচিত প্রাচীন আর্য ধর্মীয় গ্রন্থ ঋগ্বেদে রুদ্রের ভাল বর্ননা আছে। বিশেষ করে ধ্বংস করার অবাধ শক্তির বিচারে সমকক্ষ কল্পনা করায় শিব দেবতা রুদ্রকে গ্রাস করে পরিচিতি পান অভিন্ন এক দেবতা রূপে। যজুর্বেবেদে বর্ণনানুসারে একদিকে শিব নিষ্ঠুর ভয়ংকর(রুদ্রের ছায়া) অন্যদিকে দয়ালু ও মঙ্গলের প্রতীক। মহাভারতেও শিব দূর্জয়, ভয়ংকর আবার সন্মান ও মহত্বের মিলিত সত্ত্বা হিসাবে কল্পিত হয়েছেন।(For summary of Shiva’s contrasting depictions in the Mahabharata, Sharma 1988, p. 20-21)। ধাপে ধাপে এভাবে শিবের মর্যাদা বেড়ে পরিচিতি পান একি সাথে সৃষ্টি, স্থিতিশীলতা ও ধ্বংসের নিয়ামক সর্বোচ্চ দেবতা রূপে। অন্যদিকে নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে রুদ্র বিলীন হয়ে যান শিবের মাঝে।

বৈদিক সংস্কৃত ভাষায় লিখিত ঋগ্বেদ শুধু আর্যদের সব চেয়ে প্রাচীন গ্রন্থ হিসাবে স্বীকৃত নয় এটা এখন বিশ্বের প্রাচীনতম ধর্মগ্রন্থ হিসাবেও বেশ সমাদৃত। ঋগ্বেদ ভাগ হয়েছে দুই পর্বে- ১) মন্ত্রভাগকে বলা হয় “সংহিতা” ২) গদ্যাংশ বা বর্ণনা মূলক ভাগকে বলা হয় “ব্রাহ্মণ”, এই গ্রন্থ জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে সব দেব দেবীর স্তুতি। এখানে আছে ইন্দ্র, বৃত্তাসুর, ব্রহ্মা, উষা, বৃস্পতি, পৃথিবী, সূর্য, রুদ্র, বায়ু ইত্যাদি দেবতার মজার সব কাহিনী। শিবের প্রধান দেবতা হিসাবে উঠে আসার পেছনে ভূমিকা রেখেছে অগ্নি, ইন্দ্র, প্রজাপতি, বায়ু, বরুণ ইত্যাদি বৈদিক দেবতাদের সাথে তাঁর সুসম্পর্ক ভিত্তিক চেইন কাহিনীর সমন্বয় (For Shiva being identified with Agni, Indra, Prajāpati, Vāyu, and others : Chakravarti, p. 70) প্রচার ও অনুসারীদের কল্পনা ভুবনের দৃঢ় বিশ্বাস।

বৈদিক যুগের শুরুর দিকে বিষ্ণু ও শিব ছিলেন অপেক্ষাকৃত অপ্রধান দেবতা বরং ইন্দ্রের স্থান ছিল অনেক ঊর্ধ্বে আর্যদের কাছে। ১০০০-৭০০ খ্রীষ্ট পূর্বাব্দ ব্রাহ্মণ রচনার কাল থেকে তাদের গুরুত্ব, তেজ ও প্রভাব উত্তর উত্তর বাড়তে থাকে। পৌরণিক যুগে এই দুই দেবতাকে সামনে রেখে দুই পক্ষের অনুসারীদের বিশ্বাসকে পুঁজি করে গড়ে উঠে বৈষ্ণব ও শৈব সম্প্রদায় নামে দুটি পৃথক সম্প্রদায়। হিন্দু ধর্মে শাক্ত সম্প্রদায় নামে আরো একটি শাখা সম্প্রদায়ের উদ্ভব হয়েছিল। সে বিষয়ে পরে আলোচনায় আসছি।

প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ দেবতাকে মনে করে একে অপরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, ক্ষমতাশালী ও উচ্চ। এই প্রতিযোগিতা চলে অনেক দিন। পরে বিষ্ণু কেন্দ্রিক পৌরণিক সাহিত্য লেখকেরা বিষ্ণু ও শিবকে একিভুত করে ফেলেন কোন এক সময়।( For Visnu becoming Shiva in Vaishnava myths, Zimmer 1946, p. 125) এই একিভূত করা হিন্দু ধর্মে অবশ্য নতুন কোন ঘটনা নয় যা আমরা আগেই দেখেছি। কিন্তু শিব কেন্দ্রিক পৌরণিক সাহিত্যে রচনায় শৈব লেখকরা শিবকে অপরিবর্তিত রাখেন আপন স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে।(For predominant role of Shiva in some myths: Zimmer 1946, p. 128)। এতে শিবের প্রভাব ও প্রসার হয় আরো অধিক সুসংহত, বাড়ে গ্রহণ যোগ্যতা। খ্রিষ্টীয় ৪র্থ শতাব্দীতে বিষ্ণু পুরাণ অনুসারে মতবাদ আসে বিষ্ণু বিশ্ব সৃষ্টির জন্য ব্রহ্মা আর অন্যায় ধ্বংসের জন্য শিবে রূপান্তরিত হন। ভগবত পুরাণে আছে শিব বিষ্ণুরি আরেক রূপের কথা।(For identification of Shiva as a manifestation of Vishnu : Bhagavata Purana 4.30.23, 5.17.22-23, 10.14.19)। সমন্বয়বাদীরা হরিহর নামেও বিষ্ণু(হরি) ও শিব (হর) যৌথ মিলন ঘটিয়েছেন মহাভারতে।(Chakravarti, pp. 54-55) এভাবে বিভিন্ন দেবতাদের ক্রমান্বয়ে গ্রাস করে তাদের শক্তির সাথে শৈব শক্তির একিভূত সমন্বয় ও অনুসারীদের ক্ষমতা, শক্তি, চেষ্টায় ও বিশ্বাসের বৌদলতে অনান্য দেবতাদের পিছনে ফেলে শিব প্রতিষ্ঠা পেয়ে যান সব চাইতে বড় দেবতার আসনে।

অপরদিকে অনার্য সভ্যতায় প্রাধান্য ছিল দেবীদের। তারা পূজিত হতেন আদ্যাশক্তির প্রতীক রূপে। মাতৃতন্ত্রের পরিবারের গঠন ও উর্বর শক্তির সমন্বয়ের কথা বিবেচনায় এনে অনার্য সমাজে গড়ে উঠে মাতৃ প্রধান দেবী সংস্কৃতির ধারনা। ভারতে অবশ্য মাতৃরূপে দেবী ধারনা নতুন কিছু নয় ২২,০০০ বছর পূর্ব ভারতে প্যালিওলিথিক জন গোষ্ঠি থেকেই দেবী পূজা প্রচলিত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে ইতিহাসে। সিন্ধু সভ্যতায় এসে তা আরো গ্রহণযোগ্য, আধুনিক ও বিস্তৃত হয়। মাতৃপ্রধান পরিবারের আর্দশকে সামনে রেখে দেবী বিশ্বাসে গড়ে উঠে শাক্ত সম্প্রদায়। এই মত অনুসারে দেবী হলেন শক্তির রূপ, তিনি পরব্রহ্ম।শাক্ত মতে কালী বিশ্বসৃষ্টির আদি কারণ। অনান্য দেব দেবী মানুষের মঙ্গলার্থে তাঁর বিভিন্ন রূপে প্রকাশ মাত্র।

প্রধান শাক্ত ধর্মগ্রন্থ দেবীভাগবত পুরাণে দেবীই সকল শক্তির উৎস। তিনিই সব। এখানে দেবী স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন:
“আমিই প্রত্যক্ষ দৈবসত্ত্বা, অপ্রত্যক্ষ দৈবসত্ত্বা, এবং তুরীয় দৈবসত্ত্বা। আমি ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব; আবার আমিই সরস্বতী, লক্ষ্মী ও পার্বতী। আমি সূর্য, আমি নক্ষত্ররাজি, আবার আমিই চন্দ্র। আমিই সকল পশু ও পাখি। আবার আমি জাতিহীন, এমনকি তস্করও। আমি ভয়াল কর্মকারী হীন ব্যক্তি; আবার আমিই মহৎ কার্যকারী মহামানব। আমি নারী, আমি পুরুষ, আমিই জড়।( Srimad Devi Bhagavatam, VII.33.13-15, cited in Brown(a), p. 186)।

শাক্তরা ব্রহ্মের শক্তিরূপে দেবীর পূজা করেন। এ সব দেবীর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হল- চন্ডি বা কালী। তবে পুরুষতন্ত্রে বিশ্বাসী আর্যদের আগমনের পর অনার্য এই সব দেবীদের একক প্রভাব আস্তে আস্তে কমে গিয়ে আর্য পুরুষ দেবতাদের সাথে সমন্বিত হয়ে পাশাপাশি অবস্থান নেয় এইসব দেবী। তাই শাক্তমতে ব্রহ্মের পুরুষ রূপটি দেখা যায় শিবের।

শাক্তধর্মের মূলতত্ত্ব অনুসারে- “শক্তির সহিত মিলিত হইলে শিব সৃষ্টিক্ষম হন; না হইলে তাঁহার আলোড়ন তুলিবার ক্ষমতা পর্যন্ত নাই।”

শাক্তদের এই দেবী শক্তির একক নেতৃত্ত্ব পুরুষ তান্ত্রিক শৈব সম্প্রদায় পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব হয়নি কখনো। তাই শৈব ও শাক্ত সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রথম দিকে আপন আপন বিশ্বাসে অটল থাকায় ছিল প্রচন্ড বিরোধ। পরে একটা গ্রহণযোগ্য সমাধানে অর্থাৎ সমন্বয়ে এসে স্থির হতে সময় লেগে যায় বেশ কিছু দিন।
শিবের সাথে সম্পর্ক সমন্বয় করে কেউ হয়েছেন শিবের স্ত্রী, কেউ বা কন্যা, আবার কারো স্থান হয়েছে পুত্রবধূ রূপে।

শাক্তদের কাছে প্রধান দেবী হলেন কালী। তাঁর গায়ের রং মিশ কালো চিত্রিত করার পেছনে অনার্য দেবী হওয়াকে দায়ী করেন ইতিহাসবিদেরা। কারণ অনার্যদের দেহের রং ছিল কালো। বাংলায় কালীর বিভিন্ন রূপের কথা বলা আছে। যেমন – দক্ষিণাকালী, শ্মশানকালী, ভদ্রকালী, রক্ষাকালী, গুহ্যকালী, মহাকালী, চামুণ্ডা ইত্যাদি। কালী সাধকদের মধ্যে রামকৃষ্ণ পরমহংস, রামপ্রসাদ সেন, কমলাকান্ত ভট্টাচার্য, রাজা রামকৃষ্ণ বেশ খ্যাতি লাভ করেছেন বাঙ্গালী হিন্দু সমাজে। কিছুকাল আগেও কালী প্রভাবের অবস্থান এতটাই শক্তিশালী ছিল ভিন্নধর্মী হয়েও কাজী নজরুল ইসলামের উপর পড়েছিল তার রেশ যা আমরা দেখি তাঁর লেখা শ্যামাসংগীতে। তাঁর অনেক কবিতাতে পড়েছে কালী প্রভাবের ছাপ।

বাংলায় কখন থেকে শক্তির আদি বলে খ্যাত কালী পূজার প্রচলন শুরু হয় সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না ইতিহাসে। খ্রিষ্টীয় ৭ম শতাব্দী হতে বাংলায় কিছু কিছু অঞ্চলে কালী পূজার প্রমাণ মিলে। নবদ্বীপের তান্ত্রিক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশকে বাংলায় কালীমূর্তি ও কালীপূজার প্রবর্তক মনে করা হয় (৩.০ ৩.১ ৩.২ ৩.৩ ৩.৪ ৩.৫ হিন্দুদের দেবদেবী: উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ, তৃতীয় খণ্ড, হংসনারায়ণ ভট্টাচার্য, ফার্মা কেএলএম প্রাঃ লিঃ, কলকাতা, ২০০৭, পৃ. ২৮৫-৮৭)।

মহাভারতে কাল রাত্রি বা কালী নামে এক দেবীর কথা আছে যিনি মৃত যোদ্ধা ও পশুদের আত্মাকে বহন করেছিলেন।

এই রকম আরেক শক্তিশালী দেবী ছিলেন মনসা। মনসা পূজা ছিল কিছুটা প্রাচীণ। দূর্গার আগে থেকেই নিম্ন বর্ণের আদিবাসী হিন্দুরা মনষা পূজার চর্চা করত। নিম্ন বর্ণের হিন্দুদের এই সব পূজিত দেবী উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের কাছে কখনো পূজার গুরুত্ব লাভ করেনি। ফলে মনষা দীর্ঘ দিন উচ্চ বর্ণর কাছে থাকেন নিপ্রভ। খ্রিষ্টীয় চতুর্দশ শতাব্দী থেকে মনসাকে শিবের কন্যারূপে কল্পনা করে তাঁকে শৈবধর্মের অন্তর্ভুক্ত করে নিলে মনসার গুরুত্ব কিছুটা বেড়ে যায়। এর আগে পুরাণ অনুসারে মনসা পূজিত হতেন সর্প পিতা কস্যপ কন্যা রূপে। শিব কন্যা বিবেচিত হওয়ার পর উচ্চ বর্ণের কাছে মনসা কিছুটা মর্যাদা পান বটে তবে থেকে যান তুলনা মূলক কম আলোচনায়, কম শক্তিধর দেবী হিসাবে। অন্যদিকে চন্ডি, দূর্গা বা কালী শিবের স্ত্রী কল্পিত হওয়ায় সুবাদে লাভ করেন প্রভূত মর্যাদা, বিবেচিত হন অসীম শক্তির অধিকারিণী দেবীর ভুমিকায়।

মহাভারত অনুসারে দূর্গা বিবেচিত হতে থাকেন কালী শক্তির আরেক রূপ হিসাবে। নানা অমিল ও বৈচিত্র থাকা সত্বেও কিভাবে কালী দূর্গার রূপের সাথে মিশে এক হয়ে গেল সে রহস্য আজো অজানা।

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে আছে দূর্গা পূজার প্রথম প্রবর্তক কৃষ্ণ, দ্বিতীয় বার দূর্গা পূজা করেন স্বয়ং ব্রহ্মা আর তৃতীয়বার দূ্র্গা পূজার আয়োজন করেন মহাদেব। আবার দেবী ভাগবত পুরান অনুসারে জানতে পারি ব্রহ্মার মানস পুত্র মনু ক্ষীরোধসাগরের তীরে দূর্গার আরাধনা করে বর লাভে সফল হতে ( প্রবন্ধ শব্দাঞ্জলিতে দুর্গাপূজা, হরিপদ ভৌমিক, নতুন বাংলার মুখ পত্রিকা, আশ্বিন ১৪১৪, অক্টোবর ২০০৭, পৃ. ১৬৩-৬৪ দ্রঃ), মূল বাল্মীকির রামায়ণে দূর্গা পূজার কোন অস্থিত্ব আমরা দেখতে পাই না। মধ্য যুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তশালী কবি কৃত্তিবাস ওঝা সংস্কৃত রামায়ণ বাংলা করার সময় মূল রামায়ণের বাইরের তৎলালীন সমাজে প্রচলিত অনেক মিথ, গল্প বাংলা রামায়ণে ইচ্ছাকৃত ভাবে ঢুকিয়ে বাংলা রামায়ণ আরো অধিক সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করেন। তাঁর এই অনুবাদকৃত রামায়ণ পরিচিত পায় কৃত্তিবাসী রামায়ণ নামে। যা বাংলাভাষী হিন্দু সমাজে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়ে যায় দ্রুত। সেখানে তিনি কালিকা পুরাণের ঘটনা অনুসরণে ব্রহ্মার পরামর্শে রামের দূর্গা পূজা করার কথা উল্লেখ করেছেন। শক্তিশালী রাবনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিজয় নিশ্চিত করতে প্রাক্ প্রস্তুতি হিসাবে রাম দূর্গা পূজা করে দূর্গার কৃপা লাভ করেন বলে বর্ণনা করেছেন তিনি (রামায়ণ কৃত্তিবাস বিরচিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত ও ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় লিখিত ভূমিকা সম্বলিত, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, ১৯৫৭ সংস্করণ), তবে দূর্গা পূজার সব চাইতে বিশদ বর্ননা পাওয়া যায় মার্কন্ডুয়ে পুরানে। যেখানে মহির্ষী জৈমিনি ও মহির্ষী মার্কন্ডুয়ের কথোপকথনের ভিত্তিতে পুরাণটি রচিত হয়। এই পুরাণের মধ্যে তেরটি অধ্যায় দেবীমহাত্ম্যম নামে পরিচিত। বাংলায় শ্রীশ্রী চন্ডি নামে সাতশত শ্লোক বিশিষ্ট দেবী মহাত্ম্যম পাঠ আছে যা দূর্গা পূজার প্রধান ও অবিচ্ছদ্য অংশ হয়ে স্থায়ি হয়ে গেছে পূজার আসরে।

তা যা হোক এগুলো সব পুরাণের কথা। ঘটা করে দূর্গা পূজা চালুর আগে কিছু কিছু উচ্চ বর্ন হিন্দুদের গৃহকোনে ঘরোয়া পরিবেশে চালু ছিল এই পূজা। করা হত অত্যন্ত সাদামাঠা ভাবে। ঘটা করে দূর্গা পূজার ইতিহাস খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। কখন থেকে ঘটা করে এই পূজা চালু হল তা নিয়ে পরিষ্কার বিশ্বাসযোগ্য ঐতিহাসিক কোন প্রমান পাওয়া যায় না। যতটুকু জানা যায় তা হল- কারো মতে ১৫০০ খ্রীষ্টাব্দের শেষের দিকে দিনাজপুরের জমিদার প্রথম দূর্গা পূজা করেন, আবার কারো মতে প্রথম দূর্গা পূজা আয়োজন করেন তাহেরপুরের রাজা কংস নারায়ন। অনেকে মনে করেন ১৬০৬ নদিয়ার ভবনানন্দ মজুমদার দূর্গা পূজার প্রবর্তক। দূর্গার ছেলে মেয়ে সহ সপরিবারে পূজা চালু করেন ১৬১০ সালে কলকাতার সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবার। ১৭৯০ সালের দিকে এই পূজার আমেজে আকৃষ্ট হয়ে পশ্চিম বঙ্গের হুগলি জেলার গুপ্তি পাড়াতে বার জন বন্ধু মিলে টাকা পয়সা (চাঁদা) তুলে প্রথম সার্বজনীন ভাবে আয়োজন করে বড় আকারে দূর্গা উৎসব। যা বারোইয়ার বা বারবন্ধুর পূজা নামে ব্যাপক পরিচিতি পায়। কাসীম বাজারের রাজা হরিনাথ ১৮৩২ সালে বারোইয়ারের এই পূজা কলকাতায় পরিচিত করান। পরে তাদের দেখাদেখি আস্তে আস্তে তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে উচ্চ বর্নের হিন্দু বাঙ্গালী জমিদারদের কাছে।

ব্যাপক লোকের সমাগম, মেলা, হৈ হুল্লুর, উৎসবের আমেজে ধনী জমিদারেরা কিছু দিনের জন্য ডুবে থাকতেন গরীব প্রজাদের সাথে বিনোদনে যা বাঙ্গালী সমাজে এনে দেয় নতুন মাত্রা। ভক্ত কুলের সহায়তায় হু হু করে বাড়তে থাকে দূর্গার শক্তির মহাত্ম, বাড়ে পূজার সমর্থন। ধনীদের দেখা দেখি এই পূজা দ্রুত জনপ্রিয় হতে শুরু করে দরিদ্র ও নিম্ন বর্ণের হিন্দুদের কাছে। ভক্তি ও বিনোদনের স্বাদ এক সাথে পাওয়ায় তারাও শুরু করে পূজা উৎসব। প্রথম দিকে নিম্ন বর্ণের এই পূজা উৎসবে ধনী ও উচ্চজাত ব্রাহ্মণদের সাদরে অংশ গ্রহণ করতে বেশ মানসিক সমস্যা দেখা দিলেও এক সময় মেনে নেন।

মানুষের দুঃখ-দূর্দশা, অভাব-অনটন, রোগ-শোক, সামাজিক নানা অনাচার দূরীকরণে পূজা অর্চনা শতভাগ বিফল প্রমাণিত হলেও চলমান জীবনযুদ্ধ ব্যস্ততার ডামাডোলে খানিকটা রেশ টেনে বাঙ্গালী হিন্দু সমাজকে দূর্গা পূজা বইয়ে দেয় কিছুটা স্বস্তির হাওয়া, দেয় আনন্দঘন অনাবিল উৎসবের আমেজ, তৈরী করে ক্ষণস্থায়ী মানব মিলনের অপূর্ব ক্ষেত্র, ব্যস্ততা বাড়ে উচ্চকূল দাবীদার ব্রাহ্মনদের, তরুণ তরুণীরা ঘুরে বেড়ায় রঙ্গিন সাজে, বাঙ্গালী হিন্দু সমাজে আনায়ন করে প্রাণ চাঞ্চল্য। বাঙ্গালী জন গোষ্ঠির সৃষ্ট এই দূর্গা পূজা উৎসবের জোয়ার স্বাভাবিক ভাবে সীমিত থেকে যায় বিশেষ করে বাঙ্গালী হিন্দু জনগোষ্ঠির সংস্কৃতির মাঝেই। বহু দেবতায় বিশ্বাসী ভারতবর্ষের অনান্য অঞ্চলের হিন্দুদের কাছে এ পূজা উৎসব খুব একটা জনপ্রিয়তা লাভ করতে সক্ষম হয়নি আজো।

বিঃদ্রঃ- সব তথ্য নেট থেকে আহরণ করা

মুক্তমনা ব্লগার

মন্তব্যসমূহ

  1. ফজল‌ে রাব্ব‌ি নভেম্বর 30, 2015 at 8:45 অপরাহ্ন - Reply

    এই ল‌েখাত‌ে অন‌েক তথ্য উপস্থাপন করা হয়‌েছে। যার জন্য ল‌েখক ক‌ে ধন্যবাদ ।

    এই দূর্গাপুজাত‌ে অাম‌িও হ‌িন্দু ধর্ম‌ের ইত‌িহাস জানার চ‌েষ্টা কর‌ি ।
    হ‌িন্দু ধর্ম ন‌িয়ে আম‌ি কোন মন্তব্য করত‌ে চাই না।

    ক‌িন্তু এখান‌ে ইসলাম ধর্ম ন‌িয়ে জ্ঞানহীন সমাল‌োচনা করা হচ্ছ‌ে ।
    ইসলাম ধর্ম সম্পর্ক‌ে পড়াল‌েখা কর‌ে সমাল‌োচনা করল‌ে খুশ‌ি হতাম।
    য‌ে ধরন‌ের উস্কান‌ি মূলক মন্তব্য করা হচ্ছ‌ে তাতে আপনার জ্ঞান‌ের রাজ্য সম্পর্ক‌ে নেতিবাচক ধারনা দ‌িচ্ছ‌ে ।

    শুধু একটা কথাই বলব‌ো ,হিন্দ ধর্ম‌ের ঈশ্বর ক‌ে বুঝত‌ে আপনাক‌ে PHD ড‌িগ্রি অর্জন করত‌ে হব‌ে । অর্থাৎ হ‌িন্দু ধর্ম‌ে ঈশ্বর ধারনা অন‌েক জট‌িল।
    হ‌িন্দু ধর্ম‌ে একক ক‌োনো মত নাই।

    অপর দ‌িকে ইসলাম ধর্ম‌ে ঈশ্বর সম্পর্ক‌ে জানত‌ে আপনাক‌ে সহজ কথা বুঝল‌েই হব‌ে । আর তা হল‌ো ঈশ্বর এক ও অদ্বীতৃয়। তার ক‌োন‌ো শর‌িক নাই। তার ক‌োন সন্তান নাই। তার ক‌োন মা বাব নাই।

    আর আল্লাহ শব্দ‌ের অর্থ হল এক ঈশ্বর । আল অর্থ এক, আর ইলাহ মান‌ে ঈশ্বর।
    আর এ জন্যই আমরা আল্লাহ বল‌ি ।

  2. সনাতন জুন 19, 2013 at 9:58 অপরাহ্ন - Reply

    হিন্দু ধর্মালম্বীদের সমস্যা এবং এর সমাধান নিয়ে লেখুন: http://www.sonatonblog.com
    মোবাইল থেকে: m.sonatonblog.com
    হিন্দু ধর্ম সবার মাঝে তুলে ধরার দায়ীত্ব কিন্তু আমাদের সকলের।
    হিন্দু ধর্ম আজ অপপ্রচারের মুখে। আপনার একটি লেখাই কিন্তু এই অপপ্রচার রুখে দিতে পারে।
    আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে যোগ দিন: https://www.facebook.com/sonatonblog

    দয়াকরে এই ব্লগের কথা আপনার ফেসবুকে/টুইটার/গুগুল প্লাস পেজে শেয়ার করুন।
    দয়াকরে এটি স্পাম হিসাবে নিবেননা।ধন্যবাদ

    • সৈকত চৌধুরী জুন 20, 2013 at 3:00 পূর্বাহ্ন - Reply

      @সনাতন,

      খুবই দুঃখিত। আপনাদের ওখানে কাঁঠাল পাতা সরবরাহ করার মত কেউ নেই মুক্তমনায়। আপনি বড্ড ভুল জায়গায় এসে পৌছেছেন।

      • সনাতন জুন 20, 2013 at 12:10 অপরাহ্ন - Reply

        @সৈকত চৌধুরী, জানি এখানে সবাই ঘাস খায়। তবুও দিলাম। কারন জানার আপনার প্রয়োজন নাই।

        • সৈকত চৌধুরী জুন 21, 2013 at 6:40 পূর্বাহ্ন - Reply

          @সনাতন,

          গো-বৎসরা দুনিয়ার সকল জায়গাকে গোচারণভূমিই মনে করবে তাতে আশ্চর্যের কী আছে!

          বলদ ও গোহত্যা প্রসঙ্গে মহাপ্রভু সেসময় কাজীকে বলেছিলেন যে ,যেহেতু বলদ উদয় অস্ত লাঙল টেনে শস্য উৎপাদনে সাহায্য করে ,তাই সে পিতৃতুল্য। আর দুগ্ধজাত বস্তু দ্বারা আমাদের প্রতিপালন করে বলে গাভী মাতৃ তুল্য। তাই এদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এদের হত্যা না করে ভালবেসে সেবা করা উচিত।

          “প্রভু কহে গোদুগ্ধ খাও গাভী তোমার মাতা ।বৃষ অন্ন উপজাত তাতে তেহ পিতা।। পিতা মাতা মারি খাও এবা কোন ধর্ম। কোন বলে কর তুমি এমত বিকর্ম।। “(চৈতন্য চরিতামৃত)

          হ্যা, আপনাদের খোঁয়াড়েই এই মহান তথ্য মিলেছে। অতিমাত্রায় গো-অনুশীলনে মস্তিষ্কটাও নিশ্চয় গোবরে পরিণত হয়েছে নাহলে সনাতনী কুসংস্কারকে ধর্ম বলে বিশ্বাস করবে কেন?

  3. প্রত্যয় চৌধুরি অক্টোবর 21, 2012 at 1:17 অপরাহ্ন - Reply

    অনেক তথ্য সমৃদ্ধ নিবন্ধ। আর্যরা পুরুষতন্ত্রী ছিল কিন্তু নারীস্বাধীনতা আর্য সমাজে অনেক বেশি ছিল অনার্যদের তুলনায়। আর্য নারীদের অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করার স্বাধীনতা ছিল, যেকোনো কাজ পুরুষদের সাথে একত্রে করার স্বাধীনতা ছিল। অনার্য নারীদের ঘর থেকে বের কাজ করার সুযোগ ছিল সীমিত। যদিও আর্যদের দেবতারা ছিল পুরুষ যেখানে অনার্যরা মাতৃআরাধনা করত। হয়তো এটা প্রাচীন হিপক্রেসিগুলোর একটি যেখানে নারী পুজা করা হয় কিন্তু নারী স্বাধীনতা দেয়া হয় না।

    নাক উঁচু আর্যরা প্রথম থেকেই প্রভুসুলভ আচরণে ঋদ্ধ থেকে নিজেদের শ্রেষ্ঠ উচ্চ জাত ব্রাহ্মন ঘোষনা দিয়ে স্থানিয় অনার্যদের নীচু, তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের ভাবাবেশে দেখতে থাকায় এই সম্পর্ক অনার্যদের জন্য কখনো মর্যাদাপূর্ণ বা সুখকর ছিল ভাবা যায় না।

    এটা ভুল ধারনা। বর্ণপ্রথা অনার্যদের সৃষ্টি। ব্রাহ্মণ সমাজ আর্যদের আক্রমনের আগেও ছিল। আর্য সমাজ বর্ণহীন ছিল। বিজয়ী আর্যরা সামাজিক সুবিধা নেয়ার নিরিখেই নিজেদের উচ্চবর্ণের হিন্দুর মর্যাদা দিতে থাকে।

    তথ্যসূত্রঃ ভোলগা থেকে গঙ্গা, রাহুল সাংকৃত্যয়ন।

  4. প্রত্যয় চৌধুরি অক্টোবর 21, 2012 at 1:15 অপরাহ্ন - Reply

    অনেক তথ্য সমৃদ্ধ নিবন্ধ। আর্যরা পুরুষতন্ত্রী ছিল কিন্তু নারীস্বাধীনতা আর্য সমাজে অনেক বেশি ছিল অনার্যদের তুলনায়। আর্য নারীদের অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করার স্বাধীনতা ছিল, যেকোনো কাজ পুরুষদের সাথে একত্রে করার স্বাধীনতা ছিল। অনার্য নারীদের ঘর থেকে বের কাজ করার সুযোগ ছিল সীমিত। যদিও আর্যদের দেবতারা ছিল পুরুষ যেখানে অনার্যরা মাতৃআরাধনা করত। হয়তো এটা প্রাচীন হিপক্রেসিগুলোর একটি যেখানে নারী পুজা করা হয় কিন্তু নারী স্বাধীনতা দেয়া হয় না।

    “নাক উঁচু আর্যরা প্রথম থেকেই প্রভুসুলভ আচরণে ঋদ্ধ থেকে নিজেদের শ্রেষ্ঠ উচ্চ জাত ব্রাহ্মন ঘোষনা দিয়ে স্থানিয় অনার্যদের নীচু, তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের ভাবাবেশে দেখতে থাকায় এই সম্পর্ক অনার্যদের জন্য কখনো মর্যাদাপূর্ণ বা সুখকর ছিল ভাবা যায় না।”

    এটা ভুল ধারনা। বর্ণপ্রথা অনার্যদের সৃষ্টি। ব্রাহ্মণ সমাজ আর্যদের আক্রমনের আগেও ছিল। আর্য সমাজ বর্ণহীন ছিল। বিজয়ী আর্যরা সামাজিক সুবিধা নেয়ার নিরিখেই নিজেদের উচ্চবর্ণের হিন্দুর মর্যাদা দিতে থাকে।

    তথ্যসূত্রঃ ভোলগা থেকে গঙ্গা, রাহুল সাংকৃত্যয়ন।

  5. অচেনা অক্টোবর 31, 2011 at 3:17 পূর্বাহ্ন - Reply

    @ রাজেশ তালুকদার, দাদা আমার একটা কথা।আমি এটা বুঝিনা যে আজ তো ব্রাহ্মণরাই পুজা করায়।তবে তারা বৈদিক দেবতা বাদ দিয়ে পৌরাণিক দেবতা নিয়ে ব্যস্ত কেন?যদি তারাই আর্য হবে তবে তাদের ত বৈদিক দেবতাদের পুজা করা উচিত তাই না?একদিকে বেদ কে শ্রেষ্ঠ বলছে তারাই, আরেক দিকে বেদের দেবতারা লাঞ্ছিত হচ্ছে পৌরাণিক দেবতা আর তাদের পূজারী বর্তমান ব্রাহ্মন দের হাতে। আবার সেই বেদ কেই বলা হচ্ছে প্রধান আর পরম পবিত্রতম গ্রন্থ ।অথচ দেখুন ঋগ্বেদের অর্ধেকের বেশি শ্লোক ইন্দ্র আর অগ্নি কে নিয়ে করা।সত্যি আমি হিন্দু ধর্মের এই ধাঁধার কোন কুল কিনারা পাই %E

  6. ছিন্ন পাতা অক্টোবর 9, 2011 at 9:20 পূর্বাহ্ন - Reply

    ধরেই নিয়েছিলাম দুর্গা পুজো ধর্মগ্রন্থ হতে উৎসারিত একটি উৎসব।

    এই পুজোকে বিশাল উৎসবে পরিবর্তিত করার ইতিহাস জেনে ভাল লাগল।

    আচ্ছা, গনেশ তো একজন দেবতা তাই না? এক সপ্তাহ আগে একজন স্পেনিশ নারীর গলায় কিউট গনেশের লকেট দেখে “সুন্দর” বলায় তিনি জানালেন গনেশ তার পছন্দের একজন দেবতা যিনি সৌভাগ্য বয়ে আনেন; যার শরীরের অর্ধেক মানুষ আর অর্ধেক হাতি, এর কারণ কি আমি জানি? কেন এই দেবতা এমন?

    “নিশ্চয়ই এর পেছনে কোন গল্প আছে, কিন্তু আমি দুঃখিত যে আমার অজানা,” এ কথা বলতে বাধ্য হয়েছি। কারন সত্যি জানিনা গল্পটি কি। 🙁

  7. গীতা দাস অক্টোবর 7, 2011 at 9:22 অপরাহ্ন - Reply

    বরাবরের মত এবারও পরিশ্রম করে (পুরাণ, ইতিহাস ঘেঁটে ) লেখাটি উপহার দিয়ে আমার মত অনেকেরই উপকার করেছেন। অনেক অজানা তথ্য জানলাম। বিশেষ করে ‘বারোইয়ার’ এর বার বন্ধুর তথ্যটি আমার কাছে নতুন। দুয়েকজনের মন্তব্যও তথ্যবহুল এবং কাজি মামুনের মন্তব্যের উত্তরে আপনার বিশ্লেষণ খুব ভাল লেগেছে।
    আপনার লেখা অব্যাহত থাকুক।

    • রাজেশ তালুকদার অক্টোবর 9, 2011 at 5:11 পূর্বাহ্ন - Reply

      @গীতা দাস,

      আপনাদের মত পাঠক পেলে লেখার উৎসাহ বেড়ে যায় যদিও বানান বিভ্রাট কিছুতেই পিছু ছাড়ছেনা। :-s

  8. স্বাক্ষর শতাব্দ অক্টোবর 6, 2011 at 1:15 অপরাহ্ন - Reply

    দুর্গা বানান টা দেখবেন?

  9. রিংকু অক্টোবর 5, 2011 at 8:27 অপরাহ্ন - Reply

    লিখাটি পড়ে অনেক ভাল লাগল । অনেক কিছুই জানাগেল । অধিকতর ভাল লাগল ওইইয়েএএ>>> উৎসব :lotpot: সকল উৎসবই আসলে আনন্দের,আর উৎসব আনে মানব মনে বৈচিত্র্য। হতে পারে দুর্গাপূজা, কালীপূজা, ঈদুলফেতর, ইদুলআযহা, বড়দিন, বৌদ্ধপূর্ণিমা। আমার কাছে সবই ভাললাগে। উৎসবগুলোতে আমি বেশ মজা করি। একবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে আরতি দিতে দিতে হাতই পুরে ফেললাম ।

  10. মাহমুদ মিটুল অক্টোবর 5, 2011 at 2:01 পূর্বাহ্ন - Reply

    ছোটোবেলা খুব আনন্দের সাথে হিন্দু পাড়ায় দূর্গা পূজা দেখতে যেতাম। ভীষণ মজা হতো। আমাদের গ্রামে হিন্দু-মুসলিম কোনো দ্বন্দ্ব ছিলো না। এখন শহরে আছি। এবার পূজা হচ্ছে বেশ ঘটা করে। যেনো বাঙলি হিন্দুরা নতুন করে উৎসবের ফুসরত পাচ্ছে। হুম, যে কোনো উৎসবকেই স্বাগত জানাই। তবে এখন আর ছোটোবেলার মতো উপভোগ করতে পারি না। কেননা জেনে গেছি এর সার। তবে, যে বিষয়টা আমাকে বেশি পীড়িত করে তা হলো, এই সব মানুষগুলো তাদের ধর্মকেই ঠিক ভাবে জানে না। জানে না কোন দেবতার কী মানে। কার কোথায় ঊত্থান। কীভাবে পূজা দিতে হয়। আসলে এখন আমাদের কোনো একক সংষ্কৃতি নেই। একটা অস্থির অবস্থার মধ্যে আছি। যা হোক, মিথ আমার একটা প্রিয় বিষয়। অনেক কিছু জানলাম।।।

    সবার জন্য শুভকামনা।।।

  11. বিপ্লব পাল অক্টোবর 4, 2011 at 7:59 পূর্বাহ্ন - Reply

    দূর্গাপূজার উত্থান নিয়ে আমার একটা লেখা আছে। কোন ধর্মই ইতিহাস এবং সমাজ ব্যতীত হতে পারে না। ১৬০০ শতকে দেবী দূর্গার উত্থানের পেছনে আর্থ সামাজিক কারনটা জানা দরকার-লেখাটা এখানে আবার দিলাম।

    বাজার অর্থনীতির দূর্গা

  12. শাখা নির্ভানা অক্টোবর 4, 2011 at 6:41 পূর্বাহ্ন - Reply

    এমন একটা তথ্যবহুল ও গবেষনা ধর্মী লেখা পড়ে ভাল লাগলো। অনেক তথ্য অবগত হলাম হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে। তবে নজরুলের ব্যপারটা আগে একটু একটু জানতাম।

    • রাজেশ তালুকদার অক্টোবর 4, 2011 at 2:57 অপরাহ্ন - Reply

      @শাখা নির্ভানা,

      আমিও বেজায় খুশি হিন্দু দেব দেবীর মত আপনি ও একটা বাহন পেয়েছেন দেখে :))

  13. লাইজু নাহার অক্টোবর 4, 2011 at 1:48 পূর্বাহ্ন - Reply

    পুরানের দেবদবীর ইতিহাস ভাল লাগলো!
    ছোটবেলায় সব বোনদের সাথে দূর্গাপূজা আর আরতি দেখতে যেতাম!
    গ্রামেও চাচাত বোনদের সাথে গরুরগাড়ীতে দেবী দেখতে গিয়েছি!
    সেগুলো কোথায় ছিল তা আর মনে নেই!
    আহা কি মজার না ছিল সেসব দিনগুলো!
    পূজা দেখা শেষে বাতাসা, মুড়িরমোয়া এসব খেতে খেতে বাড়ি ফিরতাম।
    আর প্রতিবেশীদের থেকে নাড়ু, মলা এসবতো আসতই।
    মনে হয়না এখনকার বাচ্চারা আমাদের শৈশবের মত এত আনন্দ পায়!

    • রাজেশ তালুকদার অক্টোবর 4, 2011 at 2:51 অপরাহ্ন - Reply

      @লাইজু নাহার,

      মনে হয়না এখনকার বাচ্চারা আমাদের শৈশবের মত এত আনন্দ পায়!

      সব বাচ্চারাই আনন্দ পায়। আনন্দের উপলক্ষ্যগুলো হয়তো কিছুটা ভিন্ন হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার ও কিছুটা সহজ লভ্যতার কারনে।আগে আমরা মাইলের পর মেইল হেঁটে গেছি আনন্দ খুজতে। আর এখন বিভিন্ন যানবাহনের সুবিধা ছাড়া আনন্দ খুজতে চায় না কেউ। আগে আমারা শরীরিক খেলাধুলায় বেশ আনন্দ নিতাম আর এখন বাচ্চারা আনন্দ নেয় প্রযুক্তিগত খেলায়।

  14. আফরোজা আলম অক্টোবর 3, 2011 at 10:36 অপরাহ্ন - Reply

    ছোট বেলায় হিন্দু পাড়ায় থাকার কারনে অনেক পূজা পার্বণ সামনা সামনি দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল।
    সেই সময় কী করে মূর্তি বানাতো, যেমন আগে খড় দিয়ে একটা কাঠামো বানিয়ে তাতে কাদা মাটি দিয়ে বানানো হোত। দিনের পর দিন তা দেখার জন্য বসে থাকতাম। ঠিক পূজোর আগের দিন দূর্গার চোখের তারা আঁকা হোত।
    ছোট বেলার সঙ্গী সাথীদের সাথে এতো ঘনিষ্ট ছিলাম মনে হত উৎসবের আমেজ আমাদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ত। আর প্রসাদ খেতে কী মজা লাগত 😛
    রচনাটা পড়ে অনেক কিছু জানতে পারলাম।
    তারপরেও বলছি, একটা বিষয়কে ঘিরে যে আনন্দ উৎসব হয়, এটাও কম নয়। একটা উপলক্ষ লাগবে তো আনন্দের তাই না? আমার মতে সবাই মিলে এই সব আনন্দ মন্দ নয় (*)
    আমি তো শাখারি বাজার , থেকে শুরু করে বিভিন্ন পূজা মন্দপে যাই। ভালোই লাগে এই শিল্প কর্ম গুলো
    দেখতে। এক একটা মূর্তি এক এক ভাবে করা। দারুণ লাগে সেই সাথে মেলা বসে বাঁশি প্যাঁ পোঁ শব্দ – :))
    আহা — ছোট বেলার দিন গুলো মনে পড়ে গেলো 🙁

    লেখককে ধন্যবাদ এমন একটা সুন্দর লেখা উপহার দেবার জন্যে (F)

    • রাজেশ তালুকদার অক্টোবর 4, 2011 at 2:33 অপরাহ্ন - Reply

      @আফরোজা আলম,

      লেখককে ধন্যবাদ এমন একটা সুন্দর লেখা উপহার দেবার জন্যে

      আপনাকে ধন্যবাদ মন দিয়ে পড়ার জন্য। :))

    • অচেনা অক্টোবর 31, 2011 at 10:06 অপরাহ্ন - Reply

      @আফরোজা আলম, তবু আপনার ভাগ্য যে প্রসাদ খেতে পারতেন। আমি কিন্তু একটা ছেলে। তবু আমাকে এত বিধিনিষেধ মানতে বাধ্য করা হত।

      প্রসাদ খাওয়া ত দুরের কথা, পুজা দেখতে যাওয়াটাই ছিল মানা। আর হিন্দুদের প্রসাদ ত রীতিমতো হারাম। বুঝেনই তো, কাফেরদের দেবির উদ্দেশে উৎসর্গ করা প্রসাদ, মানেই হারাম। আল্লাহর নাম ছাড়া জবাই করা প্রাণীর মাংস যেমন হারাম, ঠিক তেমনটা। :-Y :-Y

  15. স্বত্তিক অক্টোবর 3, 2011 at 8:27 অপরাহ্ন - Reply

    অনেক অজানা কিছু জানতে পারলাম । আর্য এবং অনার্যদের যত ব্যাপার মনে হচ্ছে কিছুটা রোমান আর খ্রিস্টিয়ানদের মত হয়ে গেছে ।

    ধন্যবাদ (Y)

  16. রাজেশ তালুকদার অক্টোবর 3, 2011 at 6:30 পূর্বাহ্ন - Reply

    @কাজি মামুন,

    আপনি অনেক কিছু জেনেছেন জেনে আনন্দিত হলাম।

    কালির সাথে কি কি অমিল ও বেচিত্র্য রয়েছে দেবী দুর্গার? অথচ লেখাটিতে কিন্তু অমিলগুলোর উল্লেখ পাওয়া যায় না।

    আপনি ঠিক বলেছেন আসলে কিছু অমিল লেখায় টেনে আনা উচিত ছিল আমার যা আমি করিনি, ভেবেছি হয়তো পাঠক বুঝে নেবেন কারন এই সব দেবীদের তো ঐতিহাসিক কোন ভিত্তি নেই সবি আমাদের পূর্ব পুরুষদের মস্তিষ্ক প্রসূত কল্পনা।
    অমিল
    ১) গায়ের রং- কালী কালোর শেষ ধাপ যার পরে আর কালো নেই। অপরদিকে দূর্গার গায়ের রং দুধে আলতায়।
    ২) দৈহিক সৌন্দর্য্য- কালী দেখতে বিদঘুটে, অনার্য নারীদের প্রতিকৃতি। দূর্গা পরমা সুন্দরী আর্য প্রতিকৃতি।
    ৩)বেশভুষা- কালী অর্ধনগ্ন হয়তো তা অনার্য নারীদের পোশাক প্রকাশ করে। দূর্গার পোষাক পরিপাটি যা বর্তমান মেয়েদের শালীন পোশাক নির্দেশ করে।
    ৪)শক্তির বিচার- শক্তি বিচারে কালী দূর্গার চেয়ে শক্তি শালী। প্রমাণ হিসাবে বলতে পারি প্রচুর কালী সাধকের নাম দেখি ইতিহাসে যা আমি প্রবন্ধে উল্লেখ করেছি। এই রকম দূর্গা সাধকের নাম আমরা কি ইতিহাসে পাই?
    ৫)হত্যা যজ্ঞ- দূর্গা শুধু এক জনকেই হত্যা করে। কালী হত্যা করে অসংখ্য।
    ৬)রক্ত পান- দূর্গা শিকারের রক্ত পান করেনি কখনো। কালীকে দেখি আমরা শিকারের রক্ত পান করতে।
    ৭)বাহন- দূর্গার বাহন সিংহ অথচ কালীর কোন বাহনের প্রয়োজন পড়েনি।

    আমার মনে হয় এই অমিল গুলোই যথেষ্ট দুই ভিন্ন শক্তিকে কোন এক সময় একিভুত হওয়ার প্রমাণ হিসাবে।

    আশা করছিলাম আমাদের অতি পরিচিত দেবী দুর্গারও একটি গোঁড়ার ইতিহাস পাব।

    পুরাণে কি ভাবে দেবী দূর্গার পূজা ও পরে অনুসারীরা কি ভাবে পূজা আরম্ভ করল তা তো ভাই প্রবন্ধে উল্লেখ আছে।

    দিনাজপুর বাংলাদেশের দিনাজপুর না পশ্চিমবঙ্গের? আর তাহেরপুর কি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা? তাছাড়া, অনেকেই যে দাবি করেন দুর্গা পূজার আবির্ভাব বাংলাদেশের চট্টগ্রামে,

    সম্ভবত এটা বাংলাদেশের দিনাজপুর। বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার তাহেরপুর যার পূর্ব নাম ছিল সাপরুল।আপনার দেয়া তথ্য মতে দূর্গা পূজার আবির্ভাব হতে পারে চট্টগ্রামেও।
    আমি তো স্বীকার করেছি পূজা উৎপত্তির পরিষ্কার বিশ্বাসযোগ্য ঐতিহাসিক কোন প্রমান পাওয়া যায় না।

    বাঙালি মুসলিমদের ঈদ উৎসবের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য! ধর্মীয় উৎসবের এই আবেদন কি কখনো অস্বীকার করা যায়?

    আপনার সাথে দ্বিমতের কোন সুযোগ নেই। উৎসব মানেই আনন্দ। তবে অন্যের ক্ষতি না করে এই আনন্দ করা উচিত এই কথা আমাদের প্রায় স্মরণ থাকে না।

  17. কাজী রহমান অক্টোবর 3, 2011 at 1:38 পূর্বাহ্ন - Reply

    @রাজেশ তালুকদার

    মুরুব্বিদের মুল্লা ভাবের জ্বালায় এস্লাম ছাড়া বেদিক ধর্মসহ আমাদের আশেপাশের ইতিহাস প্রকাশ ও চর্চায় ব্যাপক কার্পণ্য ছিল।

    ঐতিহাসিক এই তথ্য গুলি জানাবার জন্য অনেক ধন্যবাদ। (Y)

    • রাজেশ তালুকদার অক্টোবর 3, 2011 at 6:36 পূর্বাহ্ন - Reply

      @কাজী রহমান,

      বেদিক ধর্মে আপনার পর্দাপনে আমি যারপরনায় উৎফুল্লিত :))

      • কাজী রহমান অক্টোবর 3, 2011 at 1:37 অপরাহ্ন - Reply

        @রাজেশ তালুকদার,
        হে হেহ, অতঃপর অপেক্ষা; বিভিন্ন শাসক ধর্ম লইয়াও নিশ্চয় কিঞ্চিৎ কিছু কহিবেন 😕

  18. রাজেশ তালুকদার অক্টোবর 3, 2011 at 12:43 পূর্বাহ্ন - Reply

    বিনোদন ছাড়া জীবন বড়ই বোরিং।

    এই যান্ত্রিক জীবনের নিষ্পেষিত মনটাকে একটু হাল্কা করতে বিনোদন ছাড়া উপায় কি বলুন। দুঃখের বিষয় বিনোদন লাভের খরচ দিন দিন যেভাবে আকাশের দিকে ধাবমান হচ্ছে তাতে তাকে নাগালের মধ্যে পাওয়াটা অনেক দুরূহ হয়ে উঠছে।

    লেখাটির বহুল প্রচার হউক।

    শুভ কামনার জন্য ধন্যবাদ।

  19. আতিকুর রহমান সুমন অক্টোবর 2, 2011 at 11:59 অপরাহ্ন - Reply

    ভালো লাগলো।

  20. কাজি মামুন অক্টোবর 2, 2011 at 11:39 অপরাহ্ন - Reply

    @রাজেশ তালুকদার,
    আপনাকে ধন্যবাদ পুজোর প্রাক্কালে এমন একটি বিশ্লেষণধর্মী লেখা উপহার দেয়ার জন্য। হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পারলাম লেখাটি পড়ে।

    মহাভারত অনুসারে দুর্গা বিবেচিত হতে থাকেন কালী শক্তির আরেক রূপ হিসাবে। নানা অমিল ও বৈচিত্র থাকা সত্বেও কিভাবে কালী দূর্গার রূপের সাথে মিশে এক হয়ে গেল সে রহস্য আজো অজানা।

    স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, কালির সাথে কি কি অমিল ও বেচিত্র্য রয়েছে দেবী দুর্গার? অথচ লেখাটিতে কিন্তু অমিলগুলোর উল্লেখ পাওয়া যায় না। যেভাবে শিব ও কালি আদ্যোপান্ত উঠে এসেছিল লেখাটিতে, তাতে আশা করছিলাম আমাদের অতি পরিচিত দেবী দুর্গারও একটি গোঁড়ার ইতিহাস পাব। কিন্তু এভাবে দুর্গাকে কালীর আরেক রূপ বর্ণনা করেই দুর্গার উত্থান-পর্বটি যেভাবে শেষ করে দেয়া হয়েছে, তাতে অজানা থেকে গেল অনেক কিছুই।

    ঘটা করে দুর্গা পূজার ইতিহাস খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। কখন থেকে ঘটা করে এই পূজা চালু হল তা নিয়ে পরিষ্কার বিশ্বাসযোগ্য ঐতিহাসিক কোন প্রমান পাওয়া যায় না। যতটুকু জানা যায় তা হল- কারো মতে ১৫০০ খ্রীষ্টাব্দের শেষের দিকে দিনাজপুরের জমিদার প্রথম দূর্গা পূজা করেন, আবার কারো মতে প্রথম দূর্গা পূজা আয়োজন করেন তাহেরপুরের রাজা কংস নারায়ন।

    এই দিনাজপুর বাংলাদেশের দিনাজপুর না পশ্চিমবঙ্গের? আর তাহেরপুর কি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা? তাছাড়া, অনেকেই যে দাবি করেন দুর্গা পূজার আবির্ভাব বাংলাদেশের চট্টগ্রামে, তাই বা কতটুকু সত্য?

    বাঙ্গালী হিন্দু সমাজকে দূর্গা পূজা বইয়ে দেয় কিছুটা স্বস্তির হাওয়া, দেয় আনন্দঘন অনাবিল উৎসবের আমেজ, তৈরী করে ক্ষণস্থায়ী মানব মিলনের অপূর্ব ক্ষেত্র, ব্যস্ততা বাড়ে উচ্চকূল দাবীদার ব্রাহ্মনদের, তরুণ তরুণীরা ঘুরে বেড়ায় রঙ্গিন সাজে, বাঙ্গালী হিন্দু সমাজে আনায়ন করে প্রাণ চাঞ্চল্য।

    একই কথা বাঙালি মুসলিমদের ঈদ উৎসবের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য! ধর্মীয় উৎসবের এই আবেদন কি কখনো অস্বীকার করা যায়?

  21. নৃপেন্দ্র সরকার অক্টোবর 2, 2011 at 8:00 অপরাহ্ন - Reply

    প্রয়োজনীয় ভাল একখানি লেখা। আশা করি হিন্দু ভক্তরা পড়বেন।

    বিনোদন ছাড়া জীবন বড়ই বোরিং। পূজা-পার্বণ (অনুষ্ঠান) করুন, আনন্দ করুন ঠিক আছে। আমি আছি সাথে। কিন্তু বিশ্বাসের গোড়ার কথাটা জানা এবং বুঝা দরকার। এই লেখা সেই কাজটি করবে। লেখাটির বহুল প্রচার হউক।

  22. রৌরব অক্টোবর 2, 2011 at 6:15 অপরাহ্ন - Reply

    চমৎকার তথ্যবহুল লেখা।

  23. আবুল কাশেম অক্টোবর 2, 2011 at 3:07 অপরাহ্ন - Reply

    তথ্যসমৃদ্ধ লেখাটি চমৎকার হয়েছে। হিন্দু ধর্মের অনেক অজানা তথ্য জানলাম।

    বৈদিক সাহিত্যে সাধারন মানুষের মতই এই সব দেবতাদের এক দিকে যেমন দয়া, করুণা, ভালবাসার কথা উল্লেখ আছে অন্য দিকে আছে প্রচন্ড ক্রোধ, লোভ, হিংসা বিদ্বেষ, কামনা বাসনা, যৌন আকাঙ্ক্ষা, জিঘাংসার মূর্ত বর্ণনা।

    আল্লাপাকের ৯৯টি নামের মধ্যে এই সবই পাওয়া যায়। কী আশ্চর্য্য মিল!

    আমিই প্রত্যক্ষ দৈবসত্ত্বা, অপ্রত্যক্ষ দৈবসত্ত্বা, এবং তুরীয় দৈবসত্ত্বা। আমি ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব; আবার আমিই সরস্বতী, লক্ষ্মী ও পার্বতী। আমি সূর্য, আমি নক্ষত্ররাজি, আবার আমিই চন্দ্র। আমিই সকল পশু ও পাখি। আবার আমি জাতিহীন, এমনকি তস্করও। আমি ভয়াল কর্মকারী হীন ব্যক্তি; আবার আমিই মহৎ কার্যকারী মহামানব। আমি নারী, আমি পুরুষ, আমিই জড়।( Srimad Devi Bhagavatam, VII.33.13-15, cited in Brown(a), p. 186)।

    একি শুনি! এতো আল্লাহ মাবুদের বাণী। তবে আল্লাহ তায়ালা কী প্রথমদিকে হিন্দু ছিলেন? পরে নবিজীর হাত দিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন?

    দেখুন কোরান খুলে।

    আশ্চর্য্য! আশ্চর্য্য!

    • রৌরব অক্টোবর 2, 2011 at 6:15 অপরাহ্ন - Reply

      @আবুল কাশেম,

      এতো আল্লাহ মাবুদের বাণী।

      তাই কি? “আমিই সকল পশু ও পাখি” এটা তো pantheist কথাবার্তা।

      • আবুল কাশেম অক্টোবর 3, 2011 at 12:29 পূর্বাহ্ন - Reply

        @রৌরব,

        তাই কি? “আমিই সকল পশু ও পাখি” এটা তো pantheist কথাবার্তা।

        আল্লাহপাক এই ধরণের কথা বলেছেন কোরানে–একটু অন্যভাবে—যেমন আল্লাহ সবখানেই আছেন, সবার মাঝেই আছেন এই আর কী।

    • বেয়াদপ পোলা অক্টোবর 5, 2011 at 9:18 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আবুল কাশেম, এই টপিক তা শিবঠাকুর ও দূর্গা দেবীর উত্থান সম্পর্কে, এর ভিতর আবার র এক ধর্মের অনুসারীর গো না খোঁচাইলে ভাত হজম হই না? এই টপিক পইরা আমরা আনেকে শিবঠাকুর ও দূর্গা দেবীর উত্থান সম্পর্কে জানলাম, অথবা কিছু জানার থাকলে জিগেশ করুম, এর ভিতর হুদা একটা খেছাল স্টার্ট দিলেন, 😛 এই রকম অনেক মানুষ সমাজে আছে যারা কাদা মাখামাখি, ছোড়াছুড়ি না করলে ঘুম আহে না, আপনি অই দলের নাকি,

      শারদীয় দুর্গা পুজা শুরু হয়েছে, মনে অনেক প্রস্ন জাগসিল এর পিছনের ইতিহাস কি আর তাৎপর্য কি, পড়ে আনেক কিছু জানতে পারলাম। সুন্দর লেখা, সবাইকে শারদীয় দুর্গা পুজার শুভেচ্ছা (L)

      • আবুল কাশেম অক্টোবর 6, 2011 at 12:58 পূর্বাহ্ন - Reply

        @বেয়াদপ পোলা,

        এই রকম অনেক মানুষ সমাজে আছে যারা কাদা মাখামাখি, ছোড়াছুড়ি না করলে ঘুম আহে না, আপনি অই দলের নাকি,

        হাঁ। আমি ঐ দলেই ছিলাম। আপনার কথা মান্য করে কাদা ছুড়াছুড়ি ক্ষান্ত দিলাম। হাত ধুয়ে ফেলেছি–হাতে আর কাদা নেই।

        এখন আমি শান্তশিষ্ট লেজ বিশিষ্ট প্রানী হয়ে ঘুম পাড়ছি।

        :lotpot: :lotpot: :lotpot:

    • অচেনা অক্টোবর 31, 2011 at 9:08 অপরাহ্ন - Reply

      @আবুল কাশেম,

      “একি শুনি! এতো আল্লাহ মাবুদের বাণী। তবে আল্লাহ তায়ালা কী প্রথমদিকে হিন্দু ছিলেন? পরে নবিজীর হাত দিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন?

      হাহা খুব সুন্দর বলেছেন ভাইয়া। (F)

  24. স্বপন মাঝি অক্টোবর 2, 2011 at 11:20 পূর্বাহ্ন - Reply

    কিছুকাল আগেও কালী প্রভাবের অবস্থানে এতটাই শক্তিশালী ছিল ভিন্নধর্মী হয়েও কাজী নজরুল ইসলামের উপর পড়েছিল তার রেশ যা আমরা দেখি তাঁর লেখা শ্যামাসংগীতে। তাঁর অনেক কবিতাতে পড়েছে কালী প্রভাবের ছাপ।

    রেশ বা প্রভাব নয়, শেষ জীবনে কাজী নজরুল ইসলাম কালী পুজা করতেন। আর এ তথ্য আমি জেনেছিলাম দৈনিক ইত্তেফাকের একটা কলাম পড়ে। কিন্তু সত্যবাদীরা সে তথ্য গোপন করে তার হাম-নাদকে জনপ্রিয় করার মহান ব্রত নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
    এবার শুনুন কাজী নজরুল ইসলামের লেখা একটি শ্যামা সঙ্গীত, অজয় চক্রবর্তীর কন্ঠেঃ
    http://www.youtube.com/watch?v=VkFo5AbJGpY

    • রৌরব অক্টোবর 2, 2011 at 6:14 অপরাহ্ন - Reply

      @স্বপন মাঝি,
      নজরুল ইসলাম contradictory লোক ছিলেন। সবই একই সাথে চালিয়ে গেছেন।

    • রাজেশ তালুকদার অক্টোবর 2, 2011 at 11:03 অপরাহ্ন - Reply

      @স্বপন মাঝি,

      শেষ জীবনে কাজী নজরুল ইসলাম কালী পুজা করতেন। আর এ তথ্য আমি জেনেছিলাম দৈনিক ইত্তেফাকের একটা কলাম পড়ে। কিন্তু সত্যবাদীরা সে তথ্য গোপন করে তার হাম-নাদকে জনপ্রিয় করার মহান ব্রত নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

      এটাতো মহা সাংঘাতিক তথ্য ভাই।

      শ্যামাসংগীত, কালী পূজা, তার উপর আবার জীবন সঙ্গিনী এক হিন্দু নারী! এত অপরাধের পরেও মোল্লা গোষ্ঠি তাঁকে কাফের ঘোষনা করবেনা, এটা কি ছেলে খেলা, এ যে রীতিমত ঘোর অন্যায়! শেষে হাম নাদ লিখে প্রায়শ্চিত্ত করে তবেই না রক্ষে।

মন্তব্য করুন