পর্দার আড়ালে

By |2011-09-22T19:04:04+00:00সেপ্টেম্বর 22, 2011|Categories: গল্প, ব্লগাড্ডা|50 Comments

চৌধুরী পরিবারের হাতে সময় আর মাত্র পঁয়ত্রিশ মিনিট। ১:৪৫ তাদের বিমান ঢাকার উদ্দেশ্যে ওমান এয়ারপোর্ট ছেড়ে আকাশে যাবে।
মেয়ে জাতের যে সমস্যা। প্রতিটি লাগেজ ওভারওয়েট করেও শান্তি হয়নি। হাতের গুলো অব্দি একেকটা দশ হতে বারো পাউন্ড। এত শখ করে পরা দামী স্যুটটি তার। কোথায় ভীষণ গুরুত্তপুর্ণ মানুষের মতন তার হাতে শুধু থাকবে পাসপোর্ট আর টিকেটের ফাইল, সে আর হল কোথায়। তার স্ত্রী রেহনুমার হাত যদি খালি হত তবে ওর হাতেই সব দিতেন। অন্যান্য সময় যা করেন। বাজার করতে যাবার পথেও তার ছাতা বা কাগজের কোন ব্যাগ থাকে রেহনুমার হাতে। আর আজ এত দামী স্যুট আর টাই কিছুই ভালোভাবে দেখানো যাচ্ছেনা এইসব বাড়তি বোঝার জন্য।

সাত বছর পর নিজ দেশে যেতে পারার আনন্দে আর উত্তেজনায় রেহনুমা আর তার মেয়েরা ইচ্ছেমতন উপহার সামগ্রী নিয়েছে। মেজাজ বিগড়ে আছে। গত বার ঘন্টা প্লেনে বসে থাকা আর এখন একেকজনের হাতের দুটো করে ব্যাগ নেমেছে কিনা সেসব গুনে দেখা। ব্যাগ গুনতে গুনতে তার আটান্ন বছর বয়শী আড়চোখে মেয়েদের গতিবিধিও নজরে রাখতে ভুলছেননা।
রিমি বেশ ভাল করেই জানে তার বাবার সর্বক্ষন নজর তার উপর। সুমির পাশে সেও বসে আছে সুমিরই মতন শান্তভাবে। দুজনের বয়সের পার্থক্য এক বছর। তবুও সুমিকে দিদি ডাকতে হবে। ভাবতেই রিমির অবাক লাগে। ওরা দুজন খুব বন্ধু। এর মাঝে আবার দিদি ডাকাডাকি কেন আসবে?
দুজনের বসে থাকার ভঙ্গি এক হলেও রিমির মাথায় চিন্তার ঝড়। তার মস্তিষ্ক ঘুমোলেও বোধ হয় বিশ্রামে যায়না। অনবরত চলমান একটি চিন্তার মেশিন। রিমি ভাবছিলো এত সুন্দর পরিস্কার এয়ারপোর্ট, এত এত মানুষ। আচ্ছা সবাইকে জুতো খুলে হাঁটতে বললে কেমন হয়? সবাই জুতো খুলে ফেললে নিশ্চয়ই মেঝেটা কাল অব্দিও এতটা পরিস্কার থাকবে। “আমার নিজের জুতো ঝাডুদারের কাজ কতটা বাড়াচ্ছে?” ছোটমেয়ের খালি পা দেখে তার বদরাগী বাবার চেহারা কেমন হবে তা ভেবে হেসে ফেলল রিমি।
“কি?”
“কি, কি?”
“হঠাৎ হাসি?”
“আমার জুতো খুলে ফেলি সুদি?”
“বাবা যে পাশেই বসে আছেন সেটা আমি মনে করিয়ে দেই?”
ঠোঁট উল্টালো রিমি।
“জানি।“
সুমি তার এই একটু ভিন্ন প্রকৃতির বোনের দিক হতে চোখ সরিয়ে চেয়ারে মাথা এলিয়ে চোখ বুঁজলো।
“তো হঠাৎ জূতো কি দোষ করলো শুনি? পাঁচ দিনও হয়নি হিল গুলো কিনেছিস। তখন তো বেশ বলছিলি সুন্দর আর অনেক কম্ফি।“
“এমনি। খালি পা দেখে বাবার কি প্রতিক্রিয়া হ্য় তাই দেখতে।“
সুমি চোখ খুলে বোনকে দেখলো।
“ঠিক আছে, সত্যটা বলতে হবেনা।“
“আমি চাইছিলাম যারা এয়ারপোর্ট পরিস্কারের দায়িত্বে আছে তাদের কাজ একটু কমিয়ে দিতে। এই যা।“
“জুতো খুলে খালি পায়ে হেঁটে?”
“একটু ভাব সুদি। এ মুহুর্তে এই এয়ারপোর্টের সবাই যদি ও কাজটি করে cleaning crews এর একটি রাতের কাজ কমবে। একটি রাত ওরা কম ক্লান্ত হবে, একটি রাত তাদের পরিবারের কাছে দ্রুত ফিরতে পারবে, একটি রাত তাদের আনন্দে কাটবে।“
“ভুল। একটি রাত ওরা যদি কাজ না করে তাহলে তাদের বেতন একটু কম অথবা বন্ধ। যা নিশ্চয়ই কেউ চায়না।“
“কিন্তু এমন নিয়ম হয়তো শুধু স্বপ্নের দেশ এ্যামেরিকায়!”
“নাও হতে পারে।“
রিমির চেহারায় সন্তুষ্টির ছাপ দেখে সুমি আবারো চেয়ারে মাথা হেলান দিল।
এ উত্তর রিমির শোনা দরকার ছিল এ সময়। সুদিটা অমনই মাঝে মাঝে। অনেক প্রেক্টিকাল আর যুক্তিবান। খুব কাট কাট কথা আর ভাবনা। যেটা যেমন হবার কথা তেমনই হবে। জীবনে যে নিয়ম সৃষ্টি হয়েছে সব সে নিয়মে চলবে। ওখানে আর কোন গভীর ভাবনার দরকার নেই, কোন প্রশ্নের দরকার নেই। তার এই স্বভাব অনেক সময় রিমির চলমান মস্তিস্কে স্বস্তি দেয়। মাঝে মাঝে মনে হয় ওর মাথার ভেতরটায় সব জট পাকিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর সব কিছুর সাথে সব কিছু সংযুক্ত। এটা জানে আর বুঝে বলেই রিমি ভাবনা থামাতে অপারগ। ওর মনে হয় একটি ঘটনার সাথে আরেকটি ঘটনার যোগসূত্র, সম্পর্ক আর ব্যাখ্যা ভাবতে ভাবতে পুরো ব্যাপারটি শীতকালে বাবা অথবা অন্য কারো জন্য বোনা মায়ের উলের বলের মতন হয়ে যায়। চিন্তার পর চিন্তার সুতো। সব মিলিয়ে একটি জটপাকানো বল।
রিমি পালটা যুক্তি দেখাতে পারতো। বলতে পারতো যে এ ব্যাবস্থাটাও শোষক সমাজের সুক্ষ দক্ষতার ফলাফল।
ওদিকে আর গেলনা সে। এসব আলোচনা আগে অনেকবার হয়েছে। সব কিছু এসে থমকে গেছে শ্রেনী বৈষম্যে, শাষক কারা এবং কেন এসব প্রশ্নে। এ মুহুর্তে রিমি ওই উত্তরকে মনঃপুত করে নিল।

প্রায় বার ঘন্টা ওরা প্লেনে বসে ছিল। বার ঘন্টা টানা একই ভাবে বসে থাকা। শরীর তার নিজস্ব ভাষায় বিদ্রোহ তো করবেই। রিমি উঠে দাঁড়ালো। ডানপাশে তিনটি দোকান। একটি মদের, একটি উপহার সামগ্রীর, আরেকটি ঘড়ির।
“সুদি, আরবী দেশের ঘড়ি। কি বলিস?”
সুমি না সুচক মাথা নাড়লো।
“আরবী দেশের মদ?”
সুমি চোখ খুলে হেসে বললো-
“সেটা চলবে।“

রেহনুমা অনেক্ষন যাবত তার ব্যাগে লাগেজের চাবি খুঁজছিলেন। রিমির কথা শুনে ব্যাগ হতে চোখ তুলে তাকিয়ে হাতের ইশারা করলেন যার অর্থ দাঁড়ায় “কোথায় যাওয়া হচ্ছে?”
রিমির হাত বুকের উপর ভাঁজ করা। চোখ আর ভুরুর ইশারায় মাকে জানালো ওই দিকের দোকানে।
“ওই দোকান গুলোতে এমন কিছুই নেই যা তুমি এ্যামেরিকায় গত সাত বছরে দেখনি। এখন কোথাও যেতে হবেনা। আমাদের হাতে মাত্র পঁয়ত্রিশ মিনিট সময় আছে। সবাই এখানে বসে আছি, তুমি ওদিকে শুধু শুধু কেন যাওয়া!”
“পঁয়ত্রিশ মিনিট মাত্র নয় মা। তাছাড়া, ঘড়ি বা গিফটের দোকানে নয়, আমি যাচ্ছি মদ কিনতে।“

ঘুরে দোকান মুখী হাঁটলেও রিমি পরিস্কার যেন দেখতে পাছে মা এখন সুদির দিকে ঝুঁকে হতভম্ব হয়ে জিজ্ঞেস করছে, রিমি কি সত্যিই ওই দোকানে ঢুকবে কিনা।
সুমি অধৈর্য হয়ে হাত নেড়ে বলল “তুমি তোমার মেয়েদের চেন না মা?”

যেখান হতে ওরা বসেছিল ওখান হতে ভালই দেখা যাছিলো যে মদের দোকানটি বন্ধ হয়ে গেছে। রাত অনেক হল বলে কিনা কে জানে। রিমি একটু হতাশ হল। যে দেশে নিরানব্বই শতাংশ নারী নিরানব্বই শতাংশ সময়ে থাকে ঘরবন্দী ঠিক ঘরের অন্যান্য সব আসবাবের মতন, যে দেশের এয়ারপোর্টের দেয়ালে এখানে ওখানে সুন্দর ফ্রেমে কুরআনের বাণি গর্বিত অক্ষরে শোভা পাচ্ছে, যে দেশের পুরুষেরা এমন ভাবে হেঁটে বেড়ায় যেন একেকজন স্বয়ং নবী, দিনে পাঁচ বার সেজদা দিয়ে ক্ষান্ত না হয়ে অমুসলিম আর নারীজাতির প্রতি অমানবিক অমানুষিক আচরনে সফল হয়ে আল্লাহর কাছ হতে স্বর্ণের মেডেল আদায় করেছে সে দেশের মদের দোকান গুলোয় কিভাবে কি হয় দেখার খুব ইচ্ছে ছিল তার। যদিও নুতন কিছুই নয়, জানে সে। মামার দোকানে কাজ করতে গিয়ে দেখেছে ওই দোকানের সব সিগারেট আর নেশা জাতীয় দ্রব্যের সরবরাহ দিত সব জুব্বা পরা মধ্য প্রাচ্যের মুসল্লিরা। বেশ হাসি পেত রিমি আর সুমির। প্রতি শুক্রবারে জুমার নামাজ শেষ করে ওরা দোকানে এসে সব বুঝিয়ে দিয়ে যেত।
রিমি মনে মনে ভাবত বোকার দল। আগে গুনাহ করে তারপর জুমাতে যা, পাপ যদি একটু কমে। জুমা পড়ে এসে এসব করলে আল্লাহতালা আরো ঘুষ চাইবেন পরে।

ঘড়ি ভর্তি দোকানে ঢুকতেই একটি মেয়ে এসে ইংরেজিতে সাহায্য লাগবে কিনা জানতে চাইলো। তাকে দেখলো রিমি। অল্প বয়শী একটি মেয়ে। অন্তত দেখতে তাই মনে হ্য়। আঠারো উনিশের বেশি হবেনা। বোরখা আর হিজাবে জর্জরিত।
হঠাৎ রিমির খুব ইচ্ছে করলো দুম করে মেয়েটিকে জিজ্ঞেশ করে বসে এই বোরখা আর হিজাব কি সম্পুর্ণ তার সিন্ধান্ত? পুরোপুরি? পরে ভাবল মেয়েটি অবাক হয়েই জবাব দেবে এটা আল্লাহর সিন্ধান্ত! উনি সেটাই চান।
রিমির মাথায় অনেক প্রশ্ন। যে ছেলেটি এই মেয়েটির সহকর্মী তার আচরন কি সম্মানসুচক মেয়েটির প্রতি? মেয়েটি কি দেখেছে দোকানের বাহিরে দাঁড়িয়ে এই ছেলে সুমি আর রিমিকে অনেক্ষন এমনভাবে দেখছিল যেন ওরা কোন পর্নোগ্রাফিক মুভি হতে এ মাত্র উঠে এসেছে? দোকানে ঢুকতে গিয়ে রিমিকে উদ্দেশ্য করে আস্তে করে যে “বম্বশেল” বলল তা কি মেয়েটি শুনতে পেয়েছে?

রিমি ভাবলো সুদিকে গিয়ে বলে আসে “বম্বশেল” ঘটনাটি যা আরো অনেক কিছুতে রুপ নিতে পারতো যদি রিমি মুখ খুলতো। পরে ভাবল নাহ, প্রথম প্রশ্ন সুদি যা করবে তা হচ্ছে – “তোর ওদিকে যাবার কি দরকার ছিল?” অথবা “তোর ওড়না ঠিক জায়গায় ছিল তো?”

সবকিছু ঝেড়ে ফেলে রিমি হেসে আলেয়াকে ধন্যবাদ জানালো। বাঁ বুকের একটু ওপর হতে নেম টেগে নাম। মেয়েটি আশেপাশেই আছে।
রিমি ঘড়ি দেখছে।
“ছোট্ট আফা…”
ঘুরে তাকিয়ে দেখল একজন অল্পবয়শী নারী সাথে আরেকজন মাঝবয়শি পুরুষ। চাপদাড়ি, কপালে নামাজের পুরস্কার, রক্তবর্ণ চোখ। “খুব বেশি পান করা হয়েছিল বুঝি গত রাতে ধার্মিক চাচ্চু?” ভাবল রিমি। পরক্ষনেই নিজেকে ধমকালো। ছি, এই মদের ব্যাপারটা নিয়ে বেশি বারাবাড়ি হয়ে যাচ্ছে। নির্ঘুম রাতও চোখকে লাল করে দিতে পারে।
“জ্বি বলুন।“
এই মেয়েটির বয়স সতের আঠারোর বেশি হতেই পারেনা। অসাধারন সুন্দর একটি মুখ তার! তার এত সুন্দর চোখের দিকে তাকিয়ে রিমি একবারও ভাবলো না দ্বিতীয় তলার এত এত মানুষের মাঝে ইনি রিমিকেই কেন বেছে নিলেন কথা বলতে।
“আপনে বেয়াদবি নিয়েন না। আমি এইখানে আর কাউরে চিনিনা। তাই আপনের কাছে আসছি।“
“কোন সমস্যা নেই, আপনি বলুন।“ এই নারীর ছলছল চোখের দিতে তাকিয়ে খুব নরম, আন্তরীক আর মোলায়েম ভাবে বলল রিমি। হয় ইনার চোখ সত্যিই সুন্দর, নয় চোখের জল চোখ দুটোকে আর সৌন্দর্য দিয়েছে।
“আমি একটা ফোন করুম। কিন্তু কোন খান থেইকা করুম জানা নাই।“
“আপনি কোথায় ফোন করবেন?”
“ঢাকা আফা, আমার ভাই অপেক্ষা করতেছে।“
“এটা কোন ব্যাপার না। আপনি আমার সাথে আসুন। এই দোকানের মেয়েটিকে জিজ্ঞেশ করলেই জানা যাবে। আপনার কাছে ফোন কার্ড আছে?”
“জ্বে না।“
তক্ষুনি তার পাশের লোক ঝুঁকে সুন্দরীর কানে আস্তে করে বলল-
“ফোন নম্বর আমার জানা নাই।“
সুন্দরী (তার নাম না জেনে এই নামই রিমি দিল তাকে) রিমির হাতে ছোট্ট একটি ফোন বুকের মতন কি যেন এগিয়ে দিল। বাহ! আজকালকার নাম ক্রমানুসারে থাকা, চামড়ায় মোড়ান, আর গোছান কোন ফোন বুক নয়। এ ফোন বুক রিমি ছোটবেলায় দেখত তাদের এলাকার ছোট মুদির দোকানে। কাঠের ক্যাশবাক্স আর দোকানী চাচার মেদবহুল শরীরের মাঝামাঝি একটি জায়গায় উপর হতে সুতো দিয়ে ঝোলানো থাকত নানা রঙের এ ছোট নোট বইগুল।

বোঝা গেল দুজনের একজনেরও সামান্যতম পড়াশোনা নেই। নাম আর নাম্বার যে খুঁজে বের করবে ততটুকুও নেই। অবাক হলনা রিমি। এমন দৃশ্য আর মানুষের সাথে ও ছোটবেলায় দেশেই পরিচিত হয়েছে।
“খালেদা বেগম লেখা আছে। আফনে পাবেন।“

রিমি প্রতিটি ছোট ছোট পাতা উলটে যাচ্ছে। কোন এক কাঁচা হাতের লিখা। কেউ চেষ্টা করেছে খুব দ্রুত অনেক নাম্বার এই ছোট বইটিতে টুকে দিতে। তবে হাতের লিখা এতই খারাপ যে নাম পড়া গেলেও নাম্বার গুল কষ্টে উদ্ধার করতে হচ্ছে।
খালেদা বেগম, খালেদা বেগম… নেই…নেই…সব পৃষ্ঠা দেখা শেষ।
“কই, খালেদা বেগম তো পেলাম না। আপনি নিশ্চিত এ বইএ আছে?”
চোখের পানির গতি বেড়ে গেল মেয়েটির।
রিমি একবারো বলল না “কাঁদবেন না।“
হাতে বেশি সময়ও নেই। ভেতরে রিমি অনেক উত্তেজিত। মনে হচ্ছে পরিক্ষার হলে সে। সময় ফুরিয়ে আসছে। খুব দ্রুত এ নাম্বারটি খুঁজে না পেলে আর তার কাগজ ছিনিয়ে নেয়া হবে।
খালেদা বেগম…খালেদা বেগম…পাওয়া গেছে! শেষের পৃষ্ঠায়ও না, শেষের মলাটের গায়ে নিচে খুব দ্রুত ছোট করে লিখা খালেদা বেগম ও তার নাম্বার। রিমি হেসে মুখ তুলে চাইলো।

আলেয়ার কাছে গিয়ে রিমি জেনে নিল ফোন কার্ড কোথা হতে পাওয়া যাবে। দু ডলারের কোন কার্ড পাওয়া যাবে না এখানে, পাঁচ ডলারের কার্ড কিনতে হবে।
“আফা আমার কাছে দেশের টাকা নাই। ভাংতি ত্রিশ টাকা আছিল, সব এয়ারপোর্টে খালেদা আফারে দিয়ে দিছি।“
রিমির হাত খালি। কোন রকম ব্যাগ বহন করতে ভাল লাগেনা ওর। সব কিছু সুদির পাশে চেয়ারে রাখা। কিন্তু এখন আবার ও যায়গায় ফিরে গিয়ে টাকা নিয়ে আসা মানে বাবার শত প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়া। কেন টাকা? ওরা কারা? কি চায়? ওত সময় নেই। আবার উপায়ও নেই। রিস্ক নিতে হবে।

রিমি ওদিকে ফিরে গেল। ব্যাগ হাতড়ে দেখল নেই।
“কি খুঁজছিস?” জানতে চাইলেন রেহনুমা।
“কিছু ক্যাশ লাগবে মা।“
“কত?”
“পাঁচ বা দশ ডলার। আমার সাথের ওদের জন্য।“
রিমি দেখল ওর বাবা তার পকেট হতে টাকা বের করে দিচ্ছেন। টাকা দেবার সময় ভাষণ দিতে ভুলছেন না।
“ওই মহিলা আর দাড়িওয়ালার সাথে এত কি কথা? টাকার দরকার হয়েছে, রিমি যেন টাকা দিয়েই ফিরে আসে। ওই মহিলার সাহায্য লাগলে সাথে তো একজন পুরুষ মানুষ আছেই, আবার রিমিকে কি দরকার এর মাঝে?”
টাকা নিল রিমি বাবার হাত হতে।
“আমি কিছুক্ষনের মাঝেই ফিরে আসছি।“
“আর কিছুক্ষন পরই আমাদের বিমান ছাড়বে! আবার কোথায় যাচ্ছিস!”
“ভেবনা মা, আমি আসছি।“
“কি হচ্ছে তা কি এখন বলবি, না পরে?” সুদি জানতে চাইল।
“পরে।“ রিমির জবাব।

তৃতীয় তলায় যেতে হবে। ওখানেই ফোন কার্ড এর দোকান। ওখানেই পে ফোন।
ওরা তিনজন লিফটের দিকে এগিয়ে গেল। সেই মাঝবয়শী লোকটা সাথে সাথে আসছে, মনে হচ্ছে সুন্দরীর ছায়া। তার উপস্থিতি অনেকটা কফির লাইন বা এটিএম মেশিনে দাঁড়ানো পেছনের মানুষটির মতন। আমাদের সামনে দাঁড়ানো মানুষটির সব কিছু যেমন শোনা যায় আর ভাবা হয় তাড়াতাড়ি কেন করছে না, পেছনের জনের কাজকর্ম কোন কিছুতে ব্যাঘাত ঘটায় না, আলতোভাবে শুধু তার উপস্থিতি মনে করিয়ে আমার পেছনে আরেকজন মানুষ আছে, জানা নেই সে কি ধরনের কফির ওর্ডার দেবে।

সবাই তৃতীয় তলায় নামল। দ্বিতীয় তলার চাইতে অনেক বেশি ভীড় এখানে। হেঁটে সামনে যেতেই স্যুট পরা একটি লোক, বোঝাই যাচ্ছে এখানে কোথাও কাজ করে, রিমিকে উদ্দেশ্য করে আস্তে করে বলল “ওয়াও, কারিশমা কাপুর”। এবার রিমির রাগের চাইতেও মজা বেশি লাগল।
অদ্ভুত! যে কেও এক নজর দেখেই স্বীকার করবে রিমির চাই্তেও তার পাশের এই নারী অনেকগুন সুন্দরী। তাও সবার নজর আর মন্তব্য রিমিকেই লক্ষ্য করে কেন? কি কারন হতে পারে? তখনই রিমির মাথায় এল নিশ্চয়ই পোশাক নির্ধারনের কারনে। রিমির পরনে বোরখা নেই বলেই কি ও এইসব মন্তব্যের নিশানা? তাই হবে, রিমি পরেছে ওর ইচ্ছে অনুযায়ী পোশাক, আর এই মাথাশূন্যের দল ধরে নিয়েছে তারাও এ কারনে তাদের ইচ্ছে মতন মন্তব্য করতে পারবে।

সুন্দরী জানতে চাইল লোকটি কি বলেছে। তাকে জানাল রিমি। তখন তাদের কথোপকথন অন্য দিকে মোড় নিল।

এদিকে পে ফোনের দেখা নেই কোথাও। অনেক খুঁজল রিমি। তারপর সুন্দরী কে জানালো এখানে কাউকে জিজ্ঞেশ করতে যাবে সে, তক্ষুনী এ্যানাউন্সমেন্ট – ঢাকাগামী সব প্যাসেঞ্জারদের গেট নং ৯ এ যেতে বলা হচ্ছে। রিমি বুঝতে পারছেনা কি করবে।
এখন কি হবে? এখন কি হবে? ইনার কাজ আমি কিভাবে অসম্পুর্ন রেখে যাই? সব জানার পরও কিভাবে পারব তা?
একজন অবাঙ্গালি দেখতে পুরুষ রিমির দিকে এগিয়ে এল। মুখে হাসি।
“আপনাদের কিছু লাগবে?”

অত সময় নেই রিমির যে এই ভদ্রলোককে সব জানাবে। অত সময় নেই যে বলবে ঢাকায় ফোন করাটা ইনার জন্য কতটা জরুরি। তার ভাই ঢাকা ছেড়ে চলে যাবার আগেই খালেদা বেগম কে ফোন করে জানাতে হবে তার ভাইয়ের হাতে যেন তিন হাজার টাকা দেয়া হয়। যা সুন্দরীর পরিবারের দু মাসের খরচ। নিজের দেশ আর মানুষ দের ছেড়ে আসার অবর্ণনীয় কষ্টে, চোখের জলে হ্রদয়ের ভেঙ্গে যাওয়া অনেকগুল টুকরো সাথে করে নিয়ে আসা, তারও বেশি চিরতরে দেশেই রেখে আসা, অজানা একটি দেশে একা যাওয়ার ভয় সব মিলিয়ে সে খালেদা বেগম কে বলে আসতে ভুলে গেছে যে তারই তিন হাজার টাকা তার ভাইয়ের হাতে দিতে।
তার মা বাবা অধীর আগ্রহে বসে থাকবেন তাদের ছেলে কখন কিছু টাকা নিয়ে ফিরবে। ঘরে কোন বাজার নেই গত দুদিন। তার ভাইয়ের নিশ্চয় ফিরে যাবার বাস ভাড়াটা অব্দি নেই। খালেদা বেগমের কাছে টাকা চাইবার কথাও সে ভাববেনা যেহেতু বোন কিছু বলে যায়নি। এ জন্যেই চোখে এত জল। বাঁধভাঙ্গা জল, পরিবারের ভবিষ্যতের কথা ভেবে।

ঢাকগামী প্যাসেঞ্জারদের গেট নং ৯… দ্বিতীয় ঘোষনা। রিমিকে যেতেই হবে। বাবার রাগ, মায়ের চিন্তা এসবই তুচ্ছ মনে হচ্ছিল এই মানুষটির প্রয়োজনের কাছে। খুব সহজ ভাবে যদি তার পরিবারের সবার কাছে গিয়ে বলে আসতে পারত যে তোমরা যাও, আমি পরের ফ্লাইটে আসছি। এই নারীর সমস্যার সমাধান না করে আমি প্লেনে উঠবনা। খুব বেশি কি অসম্ভব কিছু? হ্যাঁ, কারন সে নিজেও একজন নারী, যার নিরাপত্তা শুধুমাত্র পুরুষ দেবে। সময় নেই। আদৌ কি সময়ের ভয় না বাবার?

ভদ্রলোকের হাতে খালেদা বেগমের নাম আর নাম্বার দিয়ে রিমি জানালো খুব জরুরী এ জায়গায় ফোন দেয়া। এখানে সে কোন পে ফোন খুঁজে পায়নি।
লোকটির বুদ্ধি খারাপ না। যা বোঝার বুঝে নিল দ্রুত। জানালো সে নিশ্চিত পে ফোন দ্বিতীয় তলায়ই আছে। ওরা হয়ত রিমির কথা বুঝে উঠেনি তাই ভুলে তৃতীয় তলায় পাঠিয়েছে। তাছাড়া তার ব্যাগও ওখানে রাখা তার এক বন্ধুর সাথে। ওখানেই যেতে হবে, রিমিও দোতলায় যাচ্ছে? বেশ, সবার এক সাথে যাওয়া হবে।

কেন যেন এই শুভাষী, নিজ হতে সাহায্য করতে এগিয়ে আসা লোকটির সাথে এই মেয়ে কে একা ছাড়তে রিমির মন সায় দিচ্ছিল না। কিন্তু উপায় নেই। লিফটে সবাই। রিমি চাচ্ছেনা ইনি ভাবুক এদের সাহায্য করাটা রিমি বোঝা ভেবে নিজে সম্পুর্ণ না করে এখন তার উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। এরা যে পড়তে জানেন না, রিমি তা স্মরণ করিয়ে দিল, যেন ফোন কার্ড কিনে দিয়েই ইনি ক্ষান্ত না হন। কারন ফোন কার্ডের ব্যবহার এদের অজানা। যতই ভদ্রলোক কে মনে করিয়ে দেয় নাম্বারটি কোথায় আছে এবং কাকে কল দিতে হবে, দেখা গেল তার আগ্রহ রিমির সম্পর্কে জানার প্রতিই বেশি।
কি নাম ওর? বয়শ কত? কোথায় থাকা হয়? ও এ্যামেরিকায়! এত বড় দেশে একা থাকা হয়? পড়াশোনা কতদুর? তাই? তো রিমি কি একজন মুসলিম নারীর লক্ষ্য পূরণে সফল হয়েছে?
অনিচ্ছাকৃত রিমির জবাব – না, এখনো তার বিয়ে হয়নি। ভদ্রলোকের চোখ কি একটু উজ্জল দেখাল?

নিজের পরিচয় দিলেন উনি। নাম মোরশেদ। থাকা হয় মিশরে। একজন বড় ইমাম হবেন বলে ইংরেজী আর আরবীতে পড়াশোনা করছেন। দেশে যাচ্ছেন কনে খুঁজতে।
“ও আচ্ছা।“ রিমির জবাব।
ওড়না ঢাকা রিমির শরীর কে মোরশেদ সাহেবর চোখ প্রশংসার দৃষ্টি দিয়ে দেখছিল। না, একেও কিছুই বলা যাবেনা। ইনি সুন্দরীর উপকার করবেন পরে। তাকে ধন্যবাদ দিয়ে রিমি আবারো মনে করিয়ে দিল শুধু ইনিই পারেন এদের সাহায্য করতে। মোরশেদ রিমিকে আস্বস্ত করলেন উনি ওদের সাহায্য করবেন। তবে উনি কি রিমির ফোন নাম্বার পেতে পারেন?
তাড়া আছে, শুনেও শুনলোনা রিমি। এরকম অনেক কিছুই নারীদের শুনেও শুনতে হয়না।

লিফট হতে নেমে রিমি সুন্দরীকে জড়িয়ে ধরে বিদায় নিল।
“আমাকে যেতে হবে দিদি। আমার ফ্লাইটের সময় হয়েছে। আপনি ভাববেন না। এই ভদ্রলোক আপনাকে সাহায্য করবে। আর আমি নিশ্চিত আপনার ভাই এখনো ঢাকায়ই আছেন। আর একটি কথা। সৌদি আরবের কাজটি বেশি দিন করবেন না।“

সুন্দরী একটু হেসে রিমির হাত ধরে বললেন –
“আপনি আমার জন্য অনেক করেছেন আফা। আমি আপনেরে ভুলুম না।“
অসহ্য। কষ্টে রিমির বুক ফেটে যাচ্ছে। কি করেছে সে? কিবা করতে পেরেছে? অনেক কিছু করার কথা, করতে পারার কথা। নিজেকে অপদার্থ মনে হচ্ছে। একটি হাতল বিহীন হাতুড়ী রিমি। যার শুধু মাথার দিকের লোহার অংশ আছে, কিন্তু হাতল ছাড়া লোহার অংশটি বেকার। কিছু না করেই একজন মানুষ হতে এভাবে কৃতজ্ঞতা আশা করা যায়না।
চোখের জল জোর করে চোখের ভেতরেই পাঠিয়ে দিয়ে রিমি আবারো বলল
“সৌদি আরবের কাজটা বেশি দিন করবেন না দিদি।“
সুন্দরীর সাথের লোকটির দিকে তাকিয়ে বিদায়সূচক মাথা নাড়লো। তিনিও মাথা নেড়ে বললেন-
“আফনে মেলা কষ্ট করছেন।“

সময় নেই। রিমির বুক ধুপ ধুপ করছে। ওই যে দেখা যাচ্ছে মা, বাবা আর সুদি গেট ৯ এর লাইনে। বাবা হাত নেড়ে উত্তেজিত ভাবে কি যেন বলছেন। নিশ্চয়ই রিমিকে নিয়ে। মায়ের উদ্বিগ্ন চোখ। নিশ্চয়ই রিমিকে নিয়ে।
রিমি চুপচাপ সুমির পেছনে দাঁড়িয়ে মায়ের হাত হতে একটি ব্যাগ আর সুমির হাত হতে একটি ব্যাগ নিল। বাবা লাইনে সবার সামনে। রিমিকে এখনো দেখতে পায়নি।
“তোমার মেয়ে ভেবেছে আমি জানিনা? আমি কিছু বুঝিনা? আমি ঠিকই দেখতে পেয়েছি তোমার মেয়ে একটি পুরুষের সাথে লিফট হতে নামছে। সোজা কথায় বেশ্যা। এদেরকে বলে বেশ্যা। এইয়ারপোর্ট ভর্তি মানুষ। আর তোমার মেয়ে এমনভাবে হেঁটে বেড়াচ্ছে যেন এটা এ্যামেরিকা! যেন সে একটা কিছু! সবাই তোমার মেয়ের দিকে কিভাবে তাকাচ্ছিল দেখেছ তুমি? দেখেছ?”

তারপর রিমির উপস্থিতি তিনি দেখতে পেলেন। তার চোখ যেন আরো রক্তবর্ণ হল। গলার স্বর আরো উঁচুতে।
“কোথায় ছিলি? কোন জাহান্নামে গিয়েছিলি? আজ তোর কারনে ফ্লাইট মিস করতাম আমরা! নিজেকে কি ভাবিস তুই?” রিমিকে বোধ হয় চড় মারতে এগিয়ে আসছিলেন তিনি। রেহনুমা তাদের মাঝে এসে দাঁড়ালেন।
“কি করছ কি তুমি? এটা বাসা না। মেয়েটা শুধু ওই মহিলাকে সাহায্য করতে গিয়েছিল। তুমি নিজেই দেখেছ!”

এবার বলল সুদি।
“এসব বাদ দেয়া যায় না? আমরা সবাই জানি রিমি যখন যা মন চায়, তাই করে। কারো কথা শোনে ও কখনো? এসব নিয়ে পরে কথা বললেও তো হয়।“
রিমির এবার হাসি পেল। সুদি কি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টায় আছে, নাকি আগুনে আরো তেল ঢালছে?

“চুপ! সবাই চুপ!” আবারো গর্জন।
“আর কারো মুখ হতে একটা কথা বেরুলে আলাহর কসম আজ এখানে খুন খারাবি হবে। আল্লাহর কসম আজ এখানে লাশ পড়বে। বাসায় পৌঁছে নেই, তুমি কি রকম বেশ্যা বড় করেছ তোমাকে বোঝাব ঘরে গিয়ে।“

সবাই গেট ৯ এর ভেতর সারিবদ্ধ ভাবে ঢুকছে। সাথে ঢুকছে চৌধুরী পরিবারের অপমান আর লাঞ্ছনা। চৌধুরীর অবিরাম গর্জন আর গালি গালাজ লাইনের সব বাঙ্গালি উপভোগ করছে। সবার চোখ ওদের পরিবারের উপর। সবার চোখ রিমির উপর।
রেহনুমা, সুমি আর রিমির ইচ্ছে হচ্ছিল দৌড়ে লাইন হতে পালিয়ে যায়।
আশ্চর্য! এতগুল মানুষের মাঝে কেউ কি সামান্য ভদ্রতা দেখিয়ে অন্যদিকে মুখ ফেরাতে পারছেনা? ছি!
আবারো হাসি পেল রিমির। কি অদ্ভুত আমাদের মনোজগত। আমারই বাবা সবার সামনে ভদ্রতার শেষ লেশ টুকু বাদ দিয়ে আমাদের সবাইকে অকথ্য ভাষায় বলে যাচ্ছে, আর আমি অন্যান্য মানুষের ভদ্রতার পরিমাপ করছি?

রেহনুমা সব চেষ্টাই করছিলেন তার ভীষণ চেনা এই মানুষটিকে শান্ত করতে। বার বার মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন যে এটা তাদের ঘর না, তাছাড়া ওরা তো ফ্লাইট মিস করেনি, আর চৌধুরি কি দেখেননি যে মেয়েটিকে রিমি সাহায্য করতে গেছে সে দেখতেই কত অসহায়?

“তোমার মেয়ে মাদার তেরেসা হয়েছে? তোমাকে বোকা বানাতে পারবে, আমাকে না। আজকাল কে কাকে সাহায্য করে বল তুমি? কে করে? কেউনা। তোমার মেয়েত ভাবে সে একটা কিছু। আমি কিছু দেখিনা ভাব তুমি? সে এয়ারপোর্টে হেঁটে বেড়িয়েছে পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য। ইচ্ছেমতন পোশাক করা, অনেক রাত করে ঘরে ফেরা। এসব আমি আর সহ্য করবনা। আর সহ্য করবনা তোমার মেয়েদের রাত করে নাইট ক্লাব হতে ঘরে ফেরা।“
একজন জন্মদাতা্র গর্বিত আর উচ্চ স্বরে তার মেয়েদের বেশ্যা ডাকা। এ লজ্জা আর অপমান কোথায় রাখা যাবে?

“এসব কি বলছ? আমার মেয়েরা কেন নাইট ক্লাবে যাবে? ওদের আমরা বড় করেছি, তুমি আর আমি, এতটুকু বিশ্বাস কি নেই তাদের প্রতি তোমার?”

“কিসের বিশ্বাস? দেশে থাকতে নামাজ কালাম শিখিয়েছি। এ্যামেরিকা গিয়ে সব ভুলে গেছে। টাইট পোশাক পরে ঘুরে বেড়ায়, ছেলেদের সাথে ফোনে কথা…তুমি নিজে ঠিক নেই, মেয়েদের কেও বড় করছ বেশ্যার মতন। জীবনে ওদের ভাল বিয়ে দিতে পারবেনা কোন ভাল মুসলিম ঘরে, এটা মনে রেখ।”

“আমার মেয়েরা বেশ্যা না! না! রাতের পর রাত তুমি যখন নাইট ডিউটিতে থাক তখন আমার মেয়েরাই আমাকে আগলে রাখে। ঈদ যায়, চাঁদ যায় আমার জন্য আমার মেয়েদের জন্য তোমার হাতে একটা টাকা উঠেনা। কারন সব টাকা পাঠাতে হবে বাংলাদেশে যেখানে তোমার স্বপ্নের একটা মাদ্রাসা গড়ে উঠবে। আমার সব প্রয়োজন মেটায় আমার মেয়েরা। আমি ওদের বন্ধু। আমি জানি আমার মেয়েদের।” এবার রেহনুমার চীৎকার।

ধরণী দ্বিধা হও। রিমি আর সুমির মনে হচ্ছিল মায়ের তাদের পক্ষ হয়ে কথা বলার সময় এটা না। শুধু চুপ হয়ে থাকাটাই শ্রেয়। ওই একমাত্র উপায় তাদের বাবাকে চুপ করানোর। রেহনুমার প্রতিটি কথার প্রেক্ষিতে চৌধুরী এত জোরে চীৎকার করছিলেন যে লাইনের সর্বশেষ ব্যক্তিও শুনতে পাবে রিমিকে কোন বিশেষণে ডাকা হচ্ছে।
কিছুক্ষন চৌধুরী চুপ চাপ। হয়তো লাইন সামনে এগুচ্ছে বলে। হয়তো প্লেনে বসে আবার নুতন করে সব শুরু হবে।

হঠাৎ রিমি দেখতে পেল তাদের বাবা তার হাতের ব্যাগ আর পাসপোর্ট মায়ের হাতে দিয়ে লাইন হতে বেরিয়ে গেলেন।
বাবা কোথায় যাচ্ছেন? রিমি ফিরে এসেছে! রিমির কারনে ওরা ফ্লাইট মিস করেনি! উনি কোথায় যাচ্ছেন?

রেহনুমা ঘুরে তাকালেন মেয়েদের দিকে। রিমি আর সুমির জিজ্ঞাসু দৃস্টি।
“আর কি, সেই সব সময়ের মতন শেষ মূহুর্তের বাথরুমে যাওয়া। গত আটত্রিশ বছর ধরে সহ্য করছি। এতক্ষন বসে ছিল, বাথরুমে গেলনা, যা এখন দৌড়া।“
রেহনুমার বলার ভঙ্গিটা এতই মজার ছিল রিমি হাসতে শুরু করল। তার সাথে যোগ দিল সুমি। তারপর অনেকক্ষন রিমির দিকে তাকিয়ে রেহনুমাও হাসতে শুরু করলেন।
ওরা জানে এমনটি হয়। ছোটবেলায় যখন দেশে ছিল তখন হতে দেখে আসছে। হয়তো সবাই মিলে কোথাও যাবে, সবাই তৈরী, বাহিরে ট্যাক্সি এসে গেছে। তখনই চৌধুরীর দৌড় বাথরুমের দিকে। আর ওখান হতে চেঁচিয়ে রেহনুমাকে জানানো “ট্যাক্সি কে অপেক্ষা করতে বলো।“
আর প্রতিবারই রেহনুমার জবাব-
“তুমি বাথরুমকে তোমার গলার সাথে সব সময়ের জন্য পেঁচিয়ে নিলেই পার। তাতে করে ট্যাক্সি বা আমরা কাউকেই অপেক্ষা করতে হয়না।“

প্রচন্ড গরমে ভীষণ তৃষ্ণায় এক গ্লাস ঠান্ডা জলের মতন এই হাসিটি ওদের দরকার ছিল। ভেতরের দমে থাকা নিশ্বাস, রাগ, অপমান আর ঘামকে হাসি জলের মতন ধুয়ে দিল। চারপাশের এত বাঙ্গালী এতক্ষন ওদের দেখছিল, ওদের অভদ্র আর রুচিহীন ভাবছে, তাদের তিনজনের হাসি এই চিন্তাকে অনেক দূর তাড়িয়ে দিল।
রিমির কি হল জানে না ও। শুধু চোখে জল আসে। হঠাৎ রিমি তার সেই আগের বাবার অভাব বোধ করল। যে বাবা দেশে হঠাৎ লোড শেডিং হলে সবাইকে একত্র করে গল্প করত। যে বাবা পুরনো দিনের বাংলা আর হিন্দি গান শোনাত সবাইকে। যে বাবার কনে আঙ্গুল রিমির ছোট্ট হাত মুঠি করে বাবার সাথে নেউ মার্কেট ঘুরতে যেত। হঠাৎ বিধর্মির দেশে এসে সে বাবাকে হটিয়ে দিয়ে তার জায়গায় দখল নিল একজন ভীষণ ধার্মিক। যার কাছে লুডু খেলার গুটির আওয়াজও মনে হয় শয়তানের টিক টিক। যিনি দেশে থাকতে অত কঠোর ছিলেন না তিনি যেন সেই আগের ভুলের মাশুল দিতেই তিন চার গুন বেশি আল্লাহ ভক্ত হয়ে উঠলেন। তিনি এখানে ভাল আছেন, ভাল খাচ্ছেন এই অপরাধবোধ হতে জন্ম নিল দেশে মাদ্রাসা আর মসজিদ গড়ার পরিকল্পনা। বিধর্মিদের দেখে তার নিজ ধর্মের প্রতি মমতা উথলে উঠল। তার দু মেয়ে আর স্ত্রীর প্রয়োজন কিভাবে মিটছে, অথবা আদৌ মিটছে কিনা সে ব্যাপারে অন্ধ। যতই রেহনুমা মনে করিয়ে দেন, মসজিদে চেরাগ দেবার আগে নিয়ম হচ্ছে ঘরে চেরাগ দেয়া ততই তিনি রেহনুমাকে দমিয়ে দিয়েছেন তার গলার আর গায়ের জোরে।

সামনে আর পনের থেকে বিশ জন মানুষ। চৌধুরি এখনো ফিরে আসেননি। রেহনুমা বারবার ফিরে তাকাচ্ছেন।
“তোরা সবাই আমাকে হার্ট ফেল করাবি। প্রথমে তুই, এখন তোর বাবা।“
অনেক লম্বা করিডোরের মতন।
চৌধুরি এখনো ফেরেননি। রিমি আর সুমি যতই তাকে সান্তনা দেয় আর বলে যে তাদের বাবা ফ্লাইট নং জানে, গেট নং জানে, তাছাড়া এখনো বিমান ছাড়তে অনেক সময়, তাকে এখানে রেখে বিমান চলে যাবেনা; রেহনুমা শুনতে নারাজ।
ওরা একে একে সবাই বিমানে উঠে গেল। সবাই যার যার সীটে। রেহনুমাকে শান্ত রাখা যাচ্ছেনা।
সুমি উঠে গিয়ে একজন স্টুয়ার্ড কে তার বাবার নাম সহ সব জানালো।
কিছুক্ষন পর স্টুয়ার্ড ফিরে এসে জানাল এ মাত্র তারা জানতে পেরেছে ও নামের একজন গেট ৯ এর পথ হারিয়ে ফেলেছিল, কিন্তু এখন সে প্রায় পৌঁছে গেছে।
বাবাকে আসতে দেখে সুমি ও রিমি তাদের সীটে গিয়ে বসল।

“তোর মাথা খারাপ কিনা আমি জানিনা। বাবা সাথে আছে তারপরও কি যে সব করিস! কি দরকার ছিল বাবাকে উস্কে দেবার, ওদের সাথে এয়ারপোর্টে ঘুরে বেড়ানোর?”

রিমি ভেবেছিল ওই হাসিই সব কিছুর উপসংহার টেনেছে। তাই একটু ধাতস্থ হয়ে পরে সুমিকে বিস্তারিত জানাবে বলে ঠিক করেছিল।
“জানিস দিদি, আমি ওই মেয়েটির নামটি পর্যন্ত জানিনা, তারপরও…”
“তারপরও তাদের সাথে তিন তলায় হন হন করে চলে গেলি, যেখানে তুই কাউকে চিনিস না, জানিস না…”
“হ্যাঁ কিন্তু আমি এমন একটি ভাষা জানতাম যা ওদের অজানা!”
“এয়ারপোর্ট ভর্তি অনেক মানুষ আছে যাদের ইংলিশ অজানা, তাই বলে সবাইকে কোমর বেঁধে সাহায্য করতে নামবি?”
“সবাইকে নয়, কিন্তু নিশ্চয়ই যারা আমার কাছে এগিয়ে এসে সাহায্য চায় তাদের! আর এখানে ভাষার ব্যাপারটা খুবই গৌন!”
“তবে মুখ্য কোনটি?”
“মুখ্য হচ্ছে সেই নিষ্ঠুর সত্য যে এই সুন্দরী বাচ্চা মেয়েটি যার চোখ ভর্তি জল, তাকে বিক্রি করা হয়েছে সৌদির এক শেখের কাছে। দশ হাজার টাকায় সুদি, মাত্র দশ হাজার টাকায়। তার পরিবার এখন পাবে তিন হাজার, বাকি টাকা প্রতি মাসে পাঠানো হবে।“ রাগে দুঃখে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল রিমি।

অনেক্ষন দুজনেই নীরব।
রেহনুমা পেছন ফিরলেন তার সীট হতে।
“কিরে তোরা আবার ঝগড়া শুরু করেছিস নাকি?”
তার দুমেয়ে একসাথে না সূচক মাথা নাড়ল।

“তিনি নিজে কি জানেন?” সুমির প্রস্ন।
“তিনিই তো আমায় জানালেন।“

তৃতীয় তলায় পৌঁছে লিফট হতে নেমে “কারিশমা কাপুর” মন্তব্যের পর এক কথা হতে আরেক কথায় সুন্দরী যখন জানতে পারল রিমি থাকে এ্যামেরিকায় তখন একটা দীর্ঘশ্বাস।
“অনেক সুন্দর আর বড় দ্যাশ, না আফা? কোন দুঃখ নাই, কস্ট নাই, খালি শান্তি।“
“সব জায়গায়ই কস্ট, বেদনা, আনন্দ সব মিলেমিশে থাকে। কারন এসবই মানুষের সৃষ্টি তো তাই। মানুষ যেখানে আছে, সেখানে কম বেশি এসবই আছে। আপনি কোথায় যাচ্ছেন?”
“সৌদী আরব”।
“তাই? ওখানে আপনার পরিবারের আর কেউ আছে বুঝি?”
“জ্বেনা। আমারে বেইচ্যা দিছে, সৌদীর এক শেখের কাছে। এক হোটেলে কাম করব নয় মাস।“

প্রচন্ড ধাক্কা! ব্যাথা! হ্রদয়টা মুচড়ে ব্যাথা! এই ব্যাথা হতেই কি চোখে জল?
“আর কি কোনই উপায় ছিল না?” উত্তর জেনেও রিমির এ প্রশ্ন। তৃতীয় বিশ্বের জন্য এটা নুতন কিছু না। তৃতীয় বিশ্ব কি, উন্নত দেশ গুলোও এসব ব্যাপারে কতটা অনুন্নত তার প্রমান হাজারো পত্রিকায়, প্রবন্ধে, চলচিত্রে… সারা জীবন ইনাদের একজনেরই জীবনী পড়ে বা দেখে এসেছে রিমি, কখনো এভাবে দেখা হয়ে যাবে ভাবেনি। কি সহজ ভাবেই না তার ধারালো সত্য কে বলে যাচ্ছে।

“না আফা, বড় পরিবার, বাপের বয়শ হইছে, খাওয়াইতে পারেনা। তাছাড়া আমাগো গ্রামের এক পোলা আমারে নষ্ট করছে মেলা আগে। এখন বেশি টাকা কামাইতে পারব। শুনছি বড় বড় মুসলিম দেশে শেখেরা বহুত টাকা দ্যায় আমাগো দেশের কম বয়শি মেয়েগো লাগি। হিন্দু হোক, মুসলিম হোক, বয়শ কম হইলেই হল।“ হাসছে মেয়েটি।

রিমির বিস্মিত দৃস্টি। ইনি হাসছেন কেন?
“আমরা নারী জাত কেমুন নাগো আফা? আমার জামাই আমারে ছাইড়া চইলা গেছে বহুত বছর আগে। এখনো সিন্দুর পরি। কেন পরি? হে ত আমারে বাল বরাবর পাত্তাও দিল না। তবুও কেন পরি। অভ্যাস হইয়া গেছে।“ আবারো হাসছে মেয়েটি।

রিমি অনেক কষ্টে নিজেকে ধরে রাখবার চেষ্টা করছিল। মাথাটা ঘুরছে। ইনি একজন হিন্দু নারী। বিবাহিতা হিন্দু নারী। যাকে বাধ্য করা হয়েছে বোরখা পরতে। যার সিঁথির সৌন্দর্য লাল সিঁদু্রকে ঢেকে রেখেছে কালো বোরখার পর্দা। যে বোরখার আড়ালে তার সারা জীবনের পরিচয় আর অস্তিত্ব ঢাকা। একটি নকল মুসলিম নাম আর ভীষন আসল স্বপ্ন। নিজের জন্য স্বপ্ন নয়, শুধু পরিবারের কিছু মানুষের জন্য। উচ্চাকাংখা নয়, স্বপ্ন দেখবার যে সীমা আছে তাও সুন্দরীর জানা। সবাই দুবেলা খেতে পারবে এখন এটাই বড় স্বপ্ন আর চাওয়া।
২০০৭ সাল। ভাবল রিমি। এই লজ্জা আর অপমান কোথায় লুকোনো যাবে? আর কত?

“দাড়িওলা লোকটা? আমার বডিগার্ডের মতন। ওনার কাজ হইল আমারে সৌদিতে নিরাপদে পৌঁছায়ে দেয়া। ভালো লোক, ভদ্র আছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। ওনারে দাদা ডাকতে মন চায়, কিন্তু ভাইজান বলে ডাকি।“
হ্যাঁ রিমি জানে উনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। তার কপালে সে চিহ্ন পুরুস্কার হয়ে জ্বলছে।

চৌধুরী এসে রেহনুমার পাশে বসলেন।
“আসতে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছিলাম বুঝলে?”
“কিন্তু কিভাবে? আমি তো অস্থির হয়ে পড়েছিলাম! তোমার মেয়েরা বলল তোমাকে না খুঁজে বিমান ছাড়বেনা।“
তারপর চৌধুরী বিস্তারিত বর্ণনা দিতে শুরু করলেন।
বাথরুম হতে বেরিয়ে এসে ডানে না গিয়ে ভুল করে বাঁয়ে চলে গিয়েছিলেন তিনি। ওখানে আগের মতন দোকান গুলো নেই, গেট ৯ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। বুঝলেন পথ ভুল করেছেন। তারপর আবার ফিরে গেলেন বাথরুমের ওখানে। এবার গেলেন ডানে। ৯ নাম্বার গেটের কাছে এসে কোন মানুষ জন না দেখে ভড়কে গেলেন। তখনই ঘড়ির দোকানের একটা কর্মচারী ছেলের কাছে তিনি গেলেন সাহায্য চাইতে।

“এত হেল্পফুল তোমাকে কি বলব রেহনুমা! প্রথমেই আমাকে দেখে বলল “আসসালামু আলাইকুম”। কি উচ্চারন, কি শুদ্ধতা, কি ভদ্রতা! তার কারনেই ভরসা হারাইনি। আজকাল কোথায় পাওয়া যায় কম বয়শী ছেলেরা এত ভদ্র আর ভাল? কে কাকে সাহায্য করতে ওভাবে এগিয়ে আসে বল? আসলে ধর্ম, সবই ধর্মের কারনে। যদি আমাদের দেশ বা বিশ্বের সব দেশ কুরান আর ইসলাম দ্বারা শাসিত হত, তাহলে আমরা সবাই ভাগ্যবান হতাম এরকম উচ্চারন শিখতে আর খাঁটি মুসলমানদের সাথে মিশতে। এটা মুসলিম দেশ। এখানে কোন বেলাল্লাপনা নেই, ওইসব দেশের মতন। আসলে আমাদের দেশটাও ডুবে যাচ্ছে বিধর্মিদের দেশ অনুসরন করে করে। আমাদের দেশের সব কম বয়শি দের উচিত এইসব দেশে এসে শিক্ষা গ্রহন করা…বিশ্বের ভাল ভাল দেশ…সৌদি আরব, মিসর, ইরান…।“

চৌধুরীর কথা সবই শুনতে পাচ্ছিলো রিমি। ইঞ্জিনের গর্জনের কারনে ধীরে ধীরে কথাগুলো আবছা হয়ে আসছে…

রিমির দৃষ্টি জানালার বাহিরে। শুধুই অন্ধকারের রাজত্বি বাহিরে। অন্ধকার কত গভীর, তারপরো দৃষ্টি ওদিকে যায়। কি যেন খুঁজে ওখানে। জীবনের গভীর কষ্টের ন্যায়। কষ্টের সাগরেও ডুবে ডুবে হাতড়ে হাতড়ে একটু সুখের জন্য কি যেন খোঁজা।
রিমির ঠোঁটে মৃদু হাসি।
“সুদি…”
“শুনছি…”
“বম্বশেল নিয়ে একটি গল্প আছে, পরে মনে করিয়ে দিস তো।“
“আচ্ছা”।

বিমান এক্ষুনি আকাশে উঠবে। সুমির উচ্চতার ভয়, মাথা ধরা, সব মিলিয়ে ক্লান্ত শরীরের ক্লান্ত মাথাটি রিমির কাঁধে এলিয়ে দিল। সুমির মাথার সাথে হেলানো রিমির মাথা। দুটি বোন। একে অপরের কাছে বিশ্রাম আর ভরসা।
সুমির চিন্তা কবে এই বিমান মাটিতে নামবে যাতে করে তার মাথা ব্যাথা আর উচ্চতার ভয় হতে মুক্তি পাবে।
রিমির চিন্তা মানুষকে পণ্য বানানো নিয়ে, মানুষের জীবনে শব্দ আর অনুভুতির খেলা নিয়ে।

সুন্দরী বলেছিল, সে অনেক আগেই নস্ট হয়ে গেছে। যে প্রশ্ন রিমি করতে চেয়েও করেনি – কার মতে, কাদের মতে এই নারী নষ্ট? কে নির্ধারন করবে কে নষ্ট?
তার চোখে রিমি দেখেছে ভাইয়ের জন্য দুশ্চিন্তা আর ভালোবাসা। তার পরিবারের জন্য যে কোমলতা আর ভাবনা তা রিমিকে ছুঁয়ে গেছে। নিজেকে উজাড় করে পরিবারের বাকি সবার ভবিষ্যত ঠিক করছে সে। রিমি দেখেছে তার কৃতজ্ঞ দৃষ্টি সেই লোকটির প্রতি যে তাকে নিরাপদে পৌঁছে দেবে। রিমিকে এই নারী বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে লোকটি তাকে ছেড়ে চলে গেছে বহু আগে, তারই জন্য সুন্দরীর হ্রদয়ের একটি জায়গা এখনো অক্ষত আর কুমারী রয়ে গেছে। এর চাইতে শুদ্ধ বা পবিত্র কে হতে পারে?

আচ্ছা মেয়েটি চোখের জল মুছবে কি দিয়ে? তার হাতে কোন রুমাল অথবা টিস্যু ছিলনা। হাতের উলটো পিঠ দিয়ে বোধ হয়। রিমিও তার হাতের উলটো পিঠ দিয়ে নিজ চোখের জল মুছে নিল।

***সত্য ঘটনা অবলম্বনে…***

About the Author:

"...If I am not for myself, Who will be for me? If I am only for myself Who am I for? And If not now, when?" -Rabbi Hillel

মন্তব্যসমূহ

  1. ছিন্ন পাতা সেপ্টেম্বর 28, 2011 at 11:17 পূর্বাহ্ন - Reply

    যে কোন সমস্যার শেকড়ে না গেলে সমস্যা উৎপীড়ন করা যায়না।

    ভুল হয়ে গেছে। উৎপীড়ন নয়, শব্দটা হবে উৎপাটন।

    • কাজী রহমান সেপ্টেম্বর 29, 2011 at 6:20 পূর্বাহ্ন - Reply

      @ছিন্ন পাতা,
      গোড়ামি উৎপাটনই হোক মূল কথা।

  2. ছিন্ন পাতা সেপ্টেম্বর 28, 2011 at 10:54 পূর্বাহ্ন - Reply

    @স্বপন মাঝি,

    আবুল কাশেমের অভিজ্ঞতাকে আপনি কি বলবেন? সাংস্কৃতিক সংঘাতই যদি হবে তাহলে সেটা ওনার দেখা অনুযায়ী গত বিশ বছরে কেন বৃদ্ধি পেল? এবং প্রথম দিকে কেন ধর্মকে আঁকড়ে ধরার প্রবণতা অতটা ছিলনা?

    অন্য দেশে গেলে পর সাংস্কৃতিক সংঘাত, কিন্তু যারা দেশে থেকেও পনের-বিশ বছর আগে ধর্ম নিয়ে উদার ছিল, তারা কেন পনের বছরের মধ্যেই গোঁড়া ধার্মিকে পরিণত হল?

    দেশের বাহিরের পরিবর্তন নিয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত – সম্পূর্ণ অনুমানে যদি বলি জনাব আবুল কাশেমের প্রথম দিকের অভিজ্ঞতাটা অমন ছিল কারন তখন হয়ত ভিন্ন শ্রেনীর একদল মানুষকে বিদেশ যাবার সুযোগ দেয়া হত। ধর্মের ব্যাপারটি অধিকাংশে আর্থিক স্বচ্ছলতার উপর নির্ভরশীল। যে পরিবারের কেউ দেশে স্বচ্ছলতা দেখার অভাবে প্রবাসে গিয়ে তার সাথে পরিচিত হয়, তখন প্রথমেই উপরওয়ালার কাছে কৃতজ্ঞ হবার একটি ব্যাপার চলে আসে। এবং সে স্বচ্ছলতা যেন তিনি কেড়ে না নেন, সে জন্য উপরওয়ালাকে সন্তুষ্ট করবার একটি চেষ্টা চলতে থাকে। (এখানকার মসজিদে নিয়মিত ডলার দেয়া, দেশে মসজিদ গড়ার কল্পনা নিজের মৃত মা অথবা বাবার নামে – এক ঢিলে দুই পাখি)

    আমার কাছে কোন প্রমান নেই, কোন পরিসংখ্যান জানা নেই, তাই অনুমান করেই বলছি আগে যারা বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন তারা হয়ত দেশেই এমন একটি শ্রেনীর ছিল যাদের কাছে বিদেশের “ভালো থাকার, ভালো খাবার,” পরিবর্তনটি বিশাল কিছু নয়। তখন জাহাজ হতে নেমে যাওয়া অথবা স্কলারশীপ নিয়ে উন্নত দেশে যাওয়াটাই ছিল প্রমিনেন্ট। আমার জানা মতে ডিভি ভিসা শুরু হয় ১৯৯০-এ (যদিও নামকরনটি ইদানিংকালের)। এই “ডাইভারসিটি” ভিসার কারনেই হয়ত আমাদের এত এত “ডাইভার্স” মানুষদের দেখার “সৌভাগ্য”!

    ওটা ছিল ছোট পরিসরে দেখা বা ভাবা। অন্যভাবে দেখতে গেলে হয়ত বলা যায় যে পুরো পৃথিবীই পিছু হাঁটছে। ১৯৬০-৭০ এর মানুষের মানসিকতা আর ১৯৯০ এর মানুষদের মানুসিকতায় বিস্তর ফারাক। আর সে ফারাকটি বড়ই ঋণাত্তক। আমরা পিছু হটার কারনেই হয়ত আমাদের পূর্বপুরুষদের চাইতে আমাদের মন আরো সংকীর্ণ, তাই সংকীর্ণ মন টেনে বড় করার চেষ্টা করি আল্লাহকে ডেকে ডেকে।

    @আবুল কাশেম

    আমার মনে হচ্ছে অতি শিঘ্রই এখানে খুবই অপ্রীতিকর কিছু ঘটে যেতে পারে–যার ফলস্বরূপ শুধু নিরীহ মুসলিমরা ভভুক্তভোগী হবে।

    এক আলোচনায় জানতে পেরেছিলাম, এদেশে মুসলিমরা নাকি মার খেতে খেতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাবে। সে সময় ঘনিয়ে আসছে। পরক্ষনেই জানতে পারলাম এ তথ্য নাকি পবিত্র কুরান মজিদে স্পষ্ট করে উল্লেখ আছে। আমি বিভ্রান্ত।

    তাই আমার মনে হয় সব চাইতে মোক্ষম সমাধান হবে এই সব ধর্মভীরু মহিলাদের স্বামী বা মাহরামদের কোরান দেখিয়ে জানিয়ে দেওয়া যে উনারা যেন উনাদের জেনানাদেরকে ঘরের বাইরে বাহির হতে না দেন–যাতে তারা কাফেরদের ঢিলের লক্ষ্য হয়ে যায়। কোরানে আল্লাপাক বলেছেন, তোমাদের মেয়েদেরকে সর্বদা ঘরের কোনে রাখবে–নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে পা রাখতে দিবে না। আমার মনে হয় কাফের দেশে অবস্থানরত মুসুলিমদের কড়াকড়িভাবে কোরানের এই বিধান মেনে চলা দরকার।

    (হাসি) নিজের ঔষধ সবাই কাছেই তেতো লাগে। তাদের ঔষধ তাদের দিলে কাফেরদের দেশে যে ঘরের বাহির হওয়া যায় তার উপর একটি হাদিস আর সুরার আয়াত বের হয়ে যাবে অনতিবিলম্বে।

    @কাজী রহমান

    ওদের হিজাব অথবা গোড়ামীকে নিরুৎসাহিত করতে কি কি করা যায় বলেন তো ভাই। আচ্ছা প্ল্যাকার্ডে নারী অধিকার খর্ব করা ওইসব আয়াত, যেমন ২:২২৮ অথবা ৪:৩৪ ইত্যাদি লিখে জুম্মাবারে মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকলে কেমন হয়?

    যে কোন সমস্যার শেকড়ে না গেলে সমস্যা উৎপীড়ন করা যায়না। সব মানুষদের মস্তিষ্কের ভেতর হাত দিয়ে গোড়া হতে টেনে ধর্মকে উপড়ে ফেলতে পারলে বেশ হত। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুল যেমন প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করছে, তাদের সাথে টেক্কা দিয়ে আমাদের মতন সবারও প্রচার মাধ্যম দিয়েই তাদের অপকার প্রচার করতে হবে। কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা।

    মসজিদের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকার প্রস্তাবও অতি উত্তম। প্ল্যাকার্ড হাতে কে দাঁড়াবে সেটাও কোন সমস্যা নয়। জাকির নায়েক। 🙂

    • আবুল কাশেম সেপ্টেম্বর 28, 2011 at 5:21 অপরাহ্ন - Reply

      @ছিন্ন পাতা,

      এক আলোচনায় জানতে পেরেছিলাম, এদেশে মুসলিমরা নাকি মার খেতে খেতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাবে।

      বড়ই হাস্যকর। এই আলোচনা কোথায়–কাদের মাঝে হয়েছিল? আচ্ছা এই সব মোমিন মুসলিমরা কি কয়েকটা উদাহরণ দেখাবেন যেখানে কাফেররা মুসলিমদেরকে গরুমারা করে দেয়ালে তাদের পিঠ ঠকিয়া দিয়েছে? আমি ত এসবের বিপরীত দেখছি–এই আস্ট্রেলিয়ায়তেই—এখানকার মুষ্টিমেয় মুসলিমরা আবদার করছে এদেশে শারিয়া আইন চালু করার জন্য! এমনও বলছে যে ইসলামি সন্ত্রাস বন্ধ করার সব চাইতে ফলপ্রসু পথ হবে শরিয়া মেনে নেওয়া। আরা তা না হলে? মোমেনরা ছাফ ছাফ বিবৃতি দিচ্ছে–বোমাবাজি আর আত্মাহুতির কোন অবসান হবে না। এই সবের মানে কী? তথাকথিত মধ্যপন্থী মোমেনারে হুমকি দিচ্ছে—যদি তাদের দাবি না মানা হয় তবে……

      হাসবেন না। অস্ত্রেলিয়ার প্রধাণমন্ত্রী থেকে ছোট ছোট মন্ত্রীরা অনেকেই পরিস্কার বলে দিয়েছে শরিয়ার কোন স্থান অস্ট্রলিয়ায় নাই। কিন্তু কে শোনে কার কথা। এখানকার অনেক মোমিনরা আরবদের কাছ থেকে পাওয়া প্রচুর পয়সা দিয়েছে কিছু পাতি মন্ত্রী এবং বিরোধী দলের নেতাদেরকে। এই টাকার খুটার জোরে–আরও জোরেশোরে চিৎকার করছে—অস্ট্রেলিয়ার সমস্ত সমাধান নাকি শারিয়া করে দিবে।

      আর এদিকে কিছু কিছু ব্যঙ্কার এবং ব্যবসায়ী মধ্যপ্রাচ্যের পয়সার লোভে–অস্ট্রেলিয়াতে শারিয়া ব্যাঙ্কিং এবং বীমা চালুর জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে। আরা ইতিহাদ এবং আমিরাত–বিমান ধুমসে ব্যবসা করছে–এদেশের ভোলাভালা ‘হারামি’ দেরকে দুবাই-এর বালু আর আমিরাতের ধুলা দেখাবার জন্য–অর্থাৎ টুরিস্ট টাকার জন্য। অথচ এই দুই দেশেই চলছে অবাধ শরিয়া আইন।

      ওদিকে জনাব ওবামা ইসলামের প্রশংসায় পঞ্চমুখ–উনিও আরব বাদশাহের পদধুলি নিলেন। মিশরে গিয়ে ইসলামের জয়গান করলেন–ভাবসাব এমন যেন উনি সমস্ত আমেরিকানদেরকেই ইসলামে দীক্ষিত করে ছাড়বেন। আর এদিকে ফোর্ট হুডে কি হল?

      আর কী-ই বা লিখব।

      এমতাবস্থায়–আমি জানতে চাই কোন কাফের (পাশ্চাত্য) দেশ মোমিনদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে দিয়েছে।

    • স্বপন মাঝি সেপ্টেম্বর 29, 2011 at 1:07 অপরাহ্ন - Reply

      @ছিন্ন পাতা,

      সাংস্কৃতিক সংঘাতই যদি হবে তাহলে সেটা ওনার দেখা অনুযায়ী গত বিশ বছরে কেন বৃদ্ধি পেল? এবং প্রথম দিকে কেন ধর্মকে আঁকড়ে ধরার প্রবণতা অতটা ছিলনা?

      সংগঠিত আচরণ এবং প্রতিষ্ঠানের উদ্ভব।

      অন্য দেশে গেলে পর সাংস্কৃতিক সংঘাত, কিন্তু যারা দেশে থেকেও পনের-বিশ বছর আগে ধর্ম নিয়ে উদার ছিল, তারা কেন পনের বছরের মধ্যেই গোঁড়া ধার্মিকে পরিণত হল?

      প্রাতিষ্ঠানিক তৎপরতার মাত্রা বৃদ্ধি।

      • ছিন্ন পাতা সেপ্টেম্বর 30, 2011 at 7:38 পূর্বাহ্ন - Reply

        @স্বপন মাঝি,

        বুঝলাম।

        দেখুন শুরুতেই জানিয়ে দিয়েছিলাম আমি উচ্চমার্গীয় লেখক নই। এখন জানিয়ে দিচ্ছি উচ্চবুদ্ধিসম্পন্নও হতে পারিনি। ছিঁটেফোটা বুদ্ধির আভাস যা আছে, তা দিয়ে মোটামুটি “মার্কেট” চলে (সপ্তম শ্রেনীর ভাষায় বললাম)। আজ অব্দি কেউ “ছাগল” না বললেও একবার একজন “রাম ছাগল” বলেছিল। আমার মতন আরো কিছু কম বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ অথবা রামছাগলের আনাগোনা মুক্তমনায় আছে (কোন সদস্যকে উদ্দ্যেশ্য করে নয়, আমার ব্যক্তিগত বন্ধুদের উদ্দ্যেশ্য করে) যারা আপনাদের মতন লেখকদের স্বল্পভাষীয় কথা সহজে বুঝে উঠতে পারেনা।

        আপনি অনেক জানেন বলে আপনার লিখা, মন্তব্য, সমালোচনা হয় স্বল্প বাক্যে অথবা শব্দে।
        আমি কম জানি ও বুঝি বলে আমার লিখা অথবা মন্তব্য হয় কথার ডায়রিয়া।

        কষ্ট করে আপনার জবাব খোলাসা করেছেন (দু তিন শব্দে!!)। তবে সহজ কথা কঠিন করে না বলে, কঠিন কথা সহজ করে বললে আমার মতন কমবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরা বেশি উপকৃত হয়।

        ****সংগঠিত আচরন আর প্রতিষ্ঠানের উদ্ভবই আসল কালপ্রিট। এখন মনে হচ্ছে প্ল্যাকার্ড হাতে মসজিদের সামনে দাঁড়ানো নয়। কিভাবে মসজিদ, মন্দির, গীর্জার জায়গায় খুবই শান্তিময়, আনন্দময়, মানব জাতির জন্য কল্যানকর কিছু দাঁড় করানো যায় সেটা নিয়ে সংগঠিত হয়ে আমাদের ভাববার সময় এসেছে।****

        ****ধন্যবাদ****

  3. আবুল কাশেম সেপ্টেম্বর 27, 2011 at 2:20 পূর্বাহ্ন - Reply

    লেখাটি পড়তে সময় লাগল—তা অবশ্য লেখার জন্য নয়, দোষ আমারই, কেননা আমি খুব আস্তে পড়ি, মানে অন্যেরা যখন দশ লাইন পরে ফেলে আমি তখন মাত্র দু লাইনে থাকি। সত্যি কথা, গল্পটি (নাকি ছোট গল্প হবে) ভাল লাগল। গতিশীল, সমসাময়িক পরিবেশের উপর লেখা; অনেক পাঠকের মন কেড়ে নিবে।

    দেশে থাকতে নামাজ কালাম শিখিয়েছি। এ্যামেরিকা গিয়ে সব ভুলে গেছে। টাইট পোশাক পরে ঘুরে বেড়ায়,

    আমার মনে হয় আজকাল এর বিপরীত হচ্ছে। আমি যা দেখেছি এবং দেখছি—দেশে (মানে বাঙলাদেশে) থাকা অবস্থায় যুবতী অথবা স্বল্প বয়সী মেয়েরা অনেক স্বাধীন ছিল পোষাক, ঘুরাফিরা, খাওয়া দাওয়া…

    হারামিদের দেশে (অর্থাৎ কাফেরদের) আসার পর সেই বাঙ্গালি মেয়েরাই হিজাব, বোরখা পরে, হালাল খাবার খুঁজে বেড়ায়, কথাবার্তায় শুধু নামাজ, রোজা, ঈদ, যাকাত, ফিৎরা, জায়নামাজ, মসজিদ, নিকাব, হায়াত, মঊ্‌ত, মসজি্দ‌ কোরান তেলাওয়াত, আরবি…..ইত্যাদি চর্চা চলে। অনেকে বলে এদেশের সব মেয়েই বেশ্যা–আর আল্লাহপাক তাদেরকে পাঠিয়েছেন এও সব বেশ্যাদেরকে উদ্ধার করে ইসলামের পথে নিয়ে আসতে।

    • ছিন্ন পাতা সেপ্টেম্বর 27, 2011 at 10:27 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আবুল কাশেম,

      আমার মনে হয় আজকাল এর বিপরীত হচ্ছে। আমি যা দেখেছি এবং দেখছি—দেশে (মানে বাঙলাদেশে) থাকা অবস্থায় যুবতী অথবা স্বল্প বয়সী মেয়েরা অনেক স্বাধীন ছিল পোষাক, ঘুরাফিরা, খাওয়া দাওয়া…

      আমি আপনার সাথে একশ ভাগেরও বেশি একমত। দেশ ছেড়ে আসার এক দু বছরের মধ্যেই আমি এ ভয়ংকর পরিবর্তন লক্ষ্য করি অনেকের মাঝে। বিদেশে ধর্মনিয়ে মাতামাতি করাটা কোন বিপদজনক পর্যায়ে যাচ্ছে এটা নিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা দরকার। কারণ, দেশে দিন শেষে তাও সবাই বাঙ্গালী, সবার মাঝে একটি বন্ধন। কিন্তু কাফেরদের দেশে এসে বাঙ্গালী মুসলিমদের (বাঙ্গালী অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সম্পর্কে কিছু বলতে পারছিনা, কারণ যাদের জানি তাদের শুধুই বর্তমান টুকু জানি, অতীত না জেনে তাদের বর্তমান আচরনের উপর মন্তব্য করা সঠিক হবে না) অবস্থা হয়ে ওঠে শোচনীয়। এবং এখান হতেই লক্ষ লক্ষ টাকা ফান্ড হচ্ছে ধর্মের নামে কুকর্ম করাতে বিভিন্ন দেশে। এটা দিন দিন ভয়ংকর আকার ধারণ করছে এবং সামনে আরো করবে। ইংল্যান্ড যে হারে সব সহ্য করে যাচ্ছে, ঘটনা কোন দিকে মোড় নেবে বলা মুশকিল।

      এই আচরনের কারণ, বৃদ্ধি, আমূল পরিবর্তন আর আমার ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতা নিয়ে চেষ্টা করছি কিছু একটা লিখে দাঁড় করাতে, যাতে করে দেশে যারা আছেন তারা মোটামুটি একটি ধারণা পেতে পারেন আমরা এখানে কি অবস্থায় আছি, এবং তাদের অনেকেই যখন অথবা যদি ভিনদেশে পাড়ি দেন, সাথে করে যেন শুধু তাদের বাঙ্গালীত্ত নিয়েই উড়াল দেন, সে আশায়।

      অমুসলিম অথবা ভিন্ন জাতের সব নারীদের সস্তা ভাবার একটি নিচ মনোভাব সাউথ এশিয়া হতে শুরু করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের মাঝে কাজ করে। এখানকার কোন উনিশ বিশ বছরের মেয়ে এগিয়ে এসে আমায় জিজ্ঞেস করে – “তোমার দেশের ওই মাঝবয়শী লোকটি আমায় কেন রাতে ফ্রি আছি কিনা জানতে চাইছে? সে আমার বাবার বয়শী!” তখন আমার দেবার মতন কোন জবাব থাকে না, এটা জেনেও যে ওই “আংকেল” এর দেশে বউ বাচ্চা সবই আছে, এবং উনি শুধু এই মেয়েটিকে নিজে মুসলিম বলে ভোগ করতে চাইছেন, ইসলামের পথে নিয়ে আসতে চাইছেন।

      হারামিদের দেশে (অর্থাৎ কাফেরদের) আসার পর সেই বাঙ্গালি মেয়েরাই হিজাব, বোরখা পরে, হালাল খাবার খুঁজে বেড়ায়, কথাবার্তায় শুধু নামাজ, রোজা, ঈদ, যাকাত, ফিৎরা, জায়নামাজ, মসজিদ, নিকাব, হায়াত, মঊ্‌ত, মসজি্দ‌ কোরান তেলাওয়াত, আরবি…..ইত্যাদি চর্চা চলে। অনেকে বলে এদেশের সব মেয়েই বেশ্যা–আর আল্লাহপাক তাদেরকে পাঠিয়েছেন এও সব বেশ্যাদেরকে উদ্ধার করে ইসলামের পথে নিয়ে আসতে।

      আপনার মন্তব্যের প্রাসঙ্গিকতায় একটি ভিডিওর লিংক দিলাম। ভিডিও টির শুরুর দিকে অপ্রাসঙ্গিক মনে হলে ৫:৫০ মিনিটে কাফেরদের দেশে গিয়ে হিজাব বেছে নেয়া একটি মেয়ের স্বীকারোক্তি।
      httpv://youtu.be/Fx-SgHKqtns

    • স্বপন মাঝি সেপ্টেম্বর 27, 2011 at 10:52 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আবুল কাশেম,

      হারামিদের দেশে (অর্থাৎ কাফেরদের) আসার পর সেই বাঙ্গালি মেয়েরাই হিজাব, বোরখা পরে, হালাল খাবার খুঁজে বেড়ায়, কথাবার্তায় শুধু নামাজ, রোজা, ঈদ, যাকাত, ফিৎরা, জায়নামাজ, মসজিদ, নিকাব, হায়াত, মঊ্‌ত, মসজি্দ‌ কোরান তেলাওয়াত, আরবি…..ইত্যাদি চর্চা চলে। অনেকে বলে এদেশের সব মেয়েই বেশ্যা–আর আল্লাহপাক তাদেরকে পাঠিয়েছেন এও সব বেশ্যাদেরকে উদ্ধার করে ইসলামের পথে নিয়ে আসতে।

      আমার কাছে মনে হয়েছে , ‘সাংস্কৃতিক সংঘাত’। এটি সাধারণ প্রবণতা।

      • আবুল কাশেম সেপ্টেম্বর 27, 2011 at 12:20 অপরাহ্ন - Reply

        @স্বপন মাঝি,

        আমার কাছে মনে হয়েছে , ‘সাংস্কৃতিক সংঘাত’। এটি সাধারণ প্রবণতা।

        একটু দ্বিমত প্রকাশ করছি। আমি চল্লিশ বছরের মত দেশের বাইরে আছি। বিগত বিশ বছরের মত থেকেই লক্ষ্য করেছি কেমন করে কাফেরদের দেশে অবস্থানরত বাঙ্গালি যুবতীরা আল্লা-বিল্লা করছে, হিজাব-নিকাব-বোরখা চর্চা করছে আর কোরান পড়ে কাফের নারীদের হেদায়েত করছে, সংবাদ পত্রে প্রবন্ধ লিখছে, বেতারে ইসলামি নারীদের কী উচ্চাসন তা প্রচার করছে—এমনকি টেলিভিসনে হিজাব নিকাব পরে ইসলাম প্রচার করছে।

        বিশ বছর আগে এ সব কিছুই ছিল না। তখনও প্রচুর মুসলিম নারী এদেশে এসেছে, বসবাস করেছে, শিক্ষালাভ করেছ, চাকুরিতে যোগদান করেছে—সংসারের স্বচ্ছলতা বাড়াতে এগিয়ে এসেছে।

        কি আশ্চর্য পরিবর্তন! –এদের জন্যই আজকাল কাফেররা মুসলিমদের, বিশেষতঃ মুসলিম মহিলাদেরকে বিরক্তিকর মনে করে। বিশ বছর আগে এই অবস্থা ছিল না। আজকের খবরে দেখলাম এক সমীক্ষায় দেখা গেছে অস্ট্রালিয়ায় মাত্র ৩.৫% লোকেরা খৃষ্টিয়ান , বুদ্ধ, এবং হিন্দু ধর্মের প্রতি নারাজ, সেখানে ২৫% লোকই মুসলিমদের উপর অন্যচোখা। সোজা ভাষায়, শতকরা ২৫ ভাগ অস্ট্রেলিয়ানই মুসলিমদের অনুপ্রবেশ–তথা আফগানিস্থান, ইরাক পাকিস্তান, মিশর, লেবানন…এই সব লোকদের এদেশে দেখতে চায় না। শতকরা ২৫ ভাগ অস্ট্রেলিয়ান ইসলামকে ভাল দৃষ্টিতে দেখে না।

        কিন্তু তাতে কী আসে যায়। এখন এখানে ধুমসে মসজিদ বানানো–আর ইসলাম প্রচারের কাজ চলছে। আমার মনে হচ্ছে অতি শিঘ্রই এখানে খুবই অপ্রীতিকর কিছু ঘটে যেতে পারে–যার ফলস্বরূপ শুধু নিরীহ মুসলিমরা ভভুক্তভোগী হবে।

        • কাজী রহমান সেপ্টেম্বর 27, 2011 at 12:47 অপরাহ্ন - Reply

          @আবুল কাশেম,

          কি আশ্চর্য পরিবর্তন! –এদের জন্যই আজকাল কাফেররা মুসলিমদের, বিশেষতঃ মুসলিম মহিলাদেরকে বিরক্তিকর মনে করে। বিশ বছর আগে এই অবস্থা ছিল না। আজকের খবরে দেখলাম এক সমীক্ষায় দেখা গেছে অস্ট্রালিয়ায় মাত্র ৩.৫% লোকেরা খৃষ্টিয়ান , বুদ্ধ, এবং হিন্দু ধর্মের প্রতি নারাজ, সেখানে ২৫% লোকই মুসলিমদের উপর অন্যচোখা। সোজা ভাষায়, শতকরা ২৫ ভাগ অস্ট্রেলিয়ানই মুসলিমদের অনুপ্রবেশ–তথা আফগানিস্থান, ইরাক পাকিস্তান, মিশর, লেবানন…এই সব লোকদের এদেশে দেখতে চায় না। শতকরা ২৫ ভাগ অস্ট্রেলিয়ান ইসলামকে ভাল দৃষ্টিতে দেখে না।

          ওদের হিজাব অথবা গোড়ামীকে নিরুৎসাহিত করতে কি কি করা যায় বলেন তো ভাই। আচ্ছা প্ল্যাকার্ডে নারী অধিকার খর্ব করা ওইসব আয়াত, যেমন ২:২২৮ অথবা ৪:৩৪ ইত্যাদি লিখে জুম্মাবারে মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকলে কেমন হয়? (I)

          • স্বপন মাঝি সেপ্টেম্বর 27, 2011 at 1:29 অপরাহ্ন - Reply

            @কাজী রহমান,
            প্রতিষ্ঠান বা সংগঠিত শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে গেলে, আপনাদেরকেও মনে হয় একটা জায়গায় এসে দাঁড়াতে হবে। তারপর প্রতিবাদের ভাষা কি হবে, তা নিয়ে কথা বলা যাবে।

            • কাজী রহমান সেপ্টেম্বর 28, 2011 at 9:03 পূর্বাহ্ন - Reply

              @স্বপন মাঝি,

              মনে হচ্ছে সময়টাই এখানে মূল শক্তি। এখন কথা হচ্ছে প্রগতি সময়ের গতিময়তার দিকে নিয়ে যাবে নাকি সময় তাঁর মত করে স্থবির আকাঙ্খার দরজায় কড়া (O) নাড়বে। আমার মনে হয় প্রগতি পরিকল্পনা প্রয়োগ নিয়ে ভাবতে হবে।

          • আবুল কাশেম সেপ্টেম্বর 28, 2011 at 1:48 পূর্বাহ্ন - Reply

            @কাজী রহমান,

            ওদের হিজাব অথবা গোড়ামীকে নিরুৎসাহিত করতে কি কি করা যায় বলেন তো ভাই।

            ভাল প্রশ্ন করেছেন। আমি এই ব্যাপারে অনেক চিন্তা ভাবনা করেছি এবং এখনও করছি। এখনও তেমন কোন সমাধান পাই নি। বাঙলায় একটা প্রবাদ আছে–সোজা আঙ্গুলে ঘি উঠে না। মনে হয় কাফেরদেরও সহ্যের একটা সীমা আছে। সেই সীমানা যখন লঙ্ঘন হবে তখন হয়ত এই সব হিজাবি, নিকাবি বুর্খি, আল্লা-বিল্লা, কোরানি, মসজিদি, আওরাতি…জেনানাদের টনক নড়বে।

            হয়ত এমন দিন আসতে পারে যখন কাফেররা রাস্তায় তাদের উপর থুথু নিক্ষেপ করবে অথবা ঢিল ছুড়বে। আমি সেই দিন দেখতে চাই না। এই সব জেনানারা যেন তার আগেই গৃহে আবদ্ধ হয়ে যায়।

            তাই আমার মনে হয় সব চাইতে মোক্ষম সমাধান হবে এই সব ধর্মভীরু মহিলাদের স্বামী বা মাহরামদের কোরান দেখিয়ে জানিয়ে দেওয়া যে উনারা যেন উনাদের জেনানাদেরকে ঘরের বাইরে বাহির হতে না দেন–যাতে তারা কাফেরদের ঢিলের লক্ষ্য হয়ে যায়। কোরানে আল্লাপাক বলেছেন, তোমাদের মেয়েদেরকে সর্বদা ঘরের কোনে রাখবে–নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে পা রাখতে দিবে না। আমার মনে হয় কাফের দেশে অবস্থানরত মুসুলিমদের কড়াকড়িভাবে কোরানের এই বিধান মেনে চলা দরকার।

            আচ্ছা প্ল্যাকার্ডে নারী অধিকার খর্ব করা ওইসব আয়াত, যেমন ২:২২৮ অথবা ৪:৩৪ ইত্যাদি লিখে জুম্মাবারে মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকলে কেমন হয়?

            ধারণাটা মন্দ নয়। কিন্তু করবে কারা?

            • কাজী রহমান সেপ্টেম্বর 28, 2011 at 9:11 পূর্বাহ্ন - Reply

              @আবুল কাশেম,
              সেই তো কথা, করবে কারা।………………………আসলে প্ল্যাকার্ড ধারনাটা একটা নাড়াচাড়া মাত্র, যাতে করে প্রয়োগ ভাবনা নিয়ে কাজ করা যায়। ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের পাশাপাশি প্রায়োগিক পদ্ধতি নিয়ে কিছু লেখালেখি দেখতে পেলে ভালো লাগতো। সেটা কিন্তু খুব একটা দেখতে পাচ্ছি না। নতুন প্রজন্মের কাছে অনেক আশা আমাদের। ওদের ভাবনা গুলো জানতে পেলেও মন্দ হত না। দেখা যাক কদ্দুর কি হতে থাকে। লেখালেখিও চলুক।

        • স্বপন মাঝি সেপ্টেম্বর 27, 2011 at 1:13 অপরাহ্ন - Reply

          @আবুল কাশেম,

          কিন্তু তাতে কী আসে যায়। এখন এখানে ধুমসে মসজিদ বানানো–আর ইসলাম প্রচারের কাজ চলছে। আমার মনে হচ্ছে অতি শিঘ্রই এখানে খুবই অপ্রীতিকর কিছু ঘটে যেতে পারে–যার ফলস্বরূপ শুধু নিরীহ মুসলিমরা ভভুক্তভোগী হবে।

          সাধারণভাবে দেখতে গেলে আপনার সাথে দ্বিমত করার কোন কারণ নেই। মসজিদ মাদ্রাসা বানানোর হিড়িক দেখে, (দেশে-বিদেশে) এরকম মনে হতে পারে।
          সাধারণ মুসলমান এবং মুসলমানদের ইমাম বা ধর্মীয় সংস্থা বা সংগঠনগুলোর সাথে এর পার্থক্য এবং সম্পর্ক দু’টোই রয়েছে। আচরিক জীবনে দৃশ্যত ঐক্যে একে অভিন্ন মনে হলেও তাদের ভূমিকা এক নয়।
          এ নিয়ে মুক্তমনায় ‘অপেক্ষা’ নামে একটা গল্প লিখেছিলাম।
          আপনার পান্ডিত্যের সামনে দাঁড়াবার উপায় নেই জেনেও, নিজের দেখাটুকু বলে গেলাম।

  4. আফরোজা আলম সেপ্টেম্বর 26, 2011 at 8:30 অপরাহ্ন - Reply

    ভালো লাগা জানিয়ে গেলাম।

    • ছিন্ন পাতা সেপ্টেম্বর 27, 2011 at 9:47 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আফরোজা আলম,

      ভাল লাগা জানাতে সবাই জানে না। আমি সে তালিকায় সর্বপ্রথম। মুক্তমনায় আসা যাওয়া গত প্রায় চার পাঁচ বছর অব্দি। বন্ধুর উৎসাহে মন্তব্য করা শুরু, তারপর…

      কত কত লিখা, গল্প, কবিতা পড়লাম, ধর্মের অধার্মিকতার জ্ঞান পাই এখান হতেই, বিজ্ঞান নিয়ে বাংলায় জ্ঞান বাড়ে বলা যায় এখান হতেই…তাও কাউকেই কখনো কোন রকম ভাল লাগা অথবা খারাপ লাগা জানাইনি। ওমনটা করার কারণের চাইতে অকারণই হয়ত বেশি।

      এখন মনে হচ্ছে আপনার মতন এভাবে ছোট্ট এক লাইনেও সুন্দর করে ভাল লাগা জানানো যায়।

      অনেক ধন্যবাদ। 🙂

      • আফরোজা আলম সেপ্টেম্বর 27, 2011 at 9:33 অপরাহ্ন - Reply

        @ছিন্ন পাতা,

        আমার মন্তব্যের প্রতি উত্তরে আপনার দীর্ঘ বক্তব্য আমাকে মুগ্ধ করলো। আসলে মন্তব্যকারী হিসেবে আমি মোটেই উচ্চমার্গীয় নই। তাই ছোট্ট করে ভালো লাগা জানিয়ে যাই।
        আপনার গল্পের মাঝে ছোট ছোট ব্যাখ্যা, ছোট্ট বিশেষন সত্যি মন কেড়ে নেবার দাবীদার। আপনার আরো লেখা পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম। মুক্তমনায় আমি নতুন ও না পুরাতন ও নই। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ 🙂

  5. মুরশেদ সেপ্টেম্বর 25, 2011 at 3:53 অপরাহ্ন - Reply

    লিখেছেন সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা। সত্য ঘটনা না হলেও কোন ক্ষতি ছিল না। সত্য ঘটনাও কখনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হবার সম্ভাবনা থাকে। লেখকের বা শিল্পীর গভীর অনুভবে যা সত্য, তা চিরন্তন । তা জীবনের অর্জন।
    আপনার লেখায় তো আমরা আমাদেরই মুখগুলি দেখি। সুন্দরী আমার মাঝে গভীর নিরাশার জন্ম দেয়। সে আমাদের পরাজয়। সে প্রবল ও অত্যন্ত প্রভুত্ত বাদী পুরুষতন্ত্রের এক সাধারন বলি যাকে এদেশে বা অন্য দেশে পুরুষ নিরন্তর লোপাট করে।
    হতাশ করে রিমিও। অবস্থানের সুবিধে টুকু বাদ দিলে, রিমিও একটু ভিন্ন ধাচের ‘সুন্দরী’ই-বোম্বশেল। সুদি বা রেহনুমা তো পুরুষ তন্ত্রের আদর্শ সৃষ্টি।

    তবুও আশা যোগায় রিমি । মানুষ কে নারী করনের প্রক্রিয়া গুলি টাকে শুধু হতাশ ই করেনা, তাঁর ভিতরে উপহাসের মহড়া চলে সবসময়। সেই খানেই আশার সঞ্চার হয়।
    সব মিলিয়ে যাত্রা বিরতির উপাখ্যান টা লেখকের গভীর অন্তর্দৃষ্টির নমুনা।
    মুক্তমনায় থাকুন।

    • ছিন্ন পাতা সেপ্টেম্বর 26, 2011 at 5:51 পূর্বাহ্ন - Reply

      @মুরশেদ,

      আপনার মন্তব্যের অনেক কিছু ভীষণ ভাল লেগেছে।

      লেখকের বা শিল্পীর গভীর অনুভবে যা সত্য, তা চিরন্তন । তা জীবনের অর্জন।

      একজন মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষন আর অনুভূতিকে আজকাল একদমই গুরুত্ব না দিয়ে বড় বড় প্রতিষ্ঠান হতে প্রাপ্ত ডিগ্রী, সার্টিফিকেট আর পুঁথিগত বিদ্যাকে কে খুব বেশি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে জানিনা আমরা কোথায় গিয়ে ঠেকব।
      বলছিনা যে বড় ডিগ্রী আর সার্টিফিকেটের কোন দাম নেই, এবং ওসব অর্জনকৃত কাউকেই কোন ভাবেই ছোট করছিনা। আমি নিজেও চাইব আমার অর্জিত জ্ঞানকে কেউ ছোট করে না দেখুক। কিন্ত যখন তুলনা চলে আসে আর তুলনায় একজন মানুষের ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ খাটো হয়ে যায় এবং তাকে ব্যাকআপ করতে কোন রেফারেন্সের দরকার হয়, তখন তা বিপদজনক বৈকি!

      অবস্থানের সুবিধে টুকু বাদ দিলে, রিমিও একটু ভিন্ন ধাচের ‘সুন্দরী’ই-বোম্বশেল। সুদি বা রেহনুমা তো পুরুষ তন্ত্রের আদর্শ সৃষ্টি।

      এই জিনিসটিই দেখাতে চেষ্টা করেছি যে ঘুরেফিরে আমরা সবাই একই অবস্থানে। কোথাও কোন উন্নতি দেখছিনা। মোটামুটি জ্ঞান হবার পর থেকেই অনুধাবন করতে পেরেছিলাম আমাদের কারো সাথে কারো কোন পার্থক্য নেই। আমাদের বাসার সামনে দিয়ে যে দুটি মেয়ে হেঁটে রোজ সকালে গার্মেন্টসে কাজে যেত তাদের সাথে আমার বোনেদের সীমিত স্বাধীনতায় কোন পার্থক্য দেখিনি। প্রাসঙ্গিকতায় বলছি, দেভাকি (Devaki) বাপ্পাদিত্য বন্দোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় একটি হিন্দি চলচ্চিত্র যেখানে একটি গন্ডগ্রামের অশিক্ষিত মেয়ের জীবনের সাথে (সুমন রঙ্গনাথন) ভীষণ তুখোড়, শিক্ষিত, ইংরেজী বলতে পারা (পারিযাদ) শহুরে মেয়ের জীবনের অসামান্য মিল দেখান হয়। একটি অসাধারন চলচ্চিত্র যার শৈল্পিকতা, মূল কাহিনী আর অভিনয় ভীষণ ভালো লাগার মতন, যেখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দুটি মেয়ের জীবন যাপন সম্পূর্ণ আলাদা হলেও তাদের সমান্তরাল জীবন কাহিনী।

      আপনার কষ্ট করে লিখা মন্তব্যটির জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। 🙂

      ***আপনার মন্তব্য পড়ে মনে হচ্ছে “যাত্রা বিরতি” নামটিও খারাপ নয়।***

  6. তক্ষক সেপ্টেম্বর 25, 2011 at 3:48 অপরাহ্ন - Reply

    অনেকদিন পরে মুক্তমনায় এসে প্রথমেই এই লেখাটা পড়লাম। অসাধারন লাগলো গল্পটা। এইরকম একটা গল্প উপহার দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার কাছ থেকে এইরকম আরো কিছু অসাধারন লেখার অপেক্ষায় রইলাম। (Y)

    • ছিন্ন পাতা সেপ্টেম্বর 26, 2011 at 5:10 পূর্বাহ্ন - Reply

      @তক্ষক,

      অনেকদিন পর মুক্তমনায় এসে প্রথমেই এই গল্পটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

      “অপেক্ষায় আছেন…” এ ধরনের বাক্য সত্যিই উৎসাহ যোগায়। তাই – 🙂

  7. প্রতিফলন সেপ্টেম্বর 25, 2011 at 9:17 পূর্বাহ্ন - Reply

    এমনিতে কেবল গল্প হিসেবেই অনন্য এ লেখাটি। সাবলীলতা আর গতিময়তা তো আছেই, বিশেষ করে মনোজগতের ভাবনাগুলোর সহজ প্রকাশের কারণে যারপর নাই মুগ্ধ। তার উপর সত্য ঘটনার অবলম্বনের কারণে এটা পেয়েছে বিশেষ মাত্রা। এই সুন্দরী’দের জন্য রইল সুস্থ-সুন্দর জীবনের শুভকামনা। আর রিমি’দের চিন্তার জগত যেন আরেকটু সাহসী হয়, অন্তত তাদের আশেপাশের পরিবেশ বদলে দেয়ার মতো শক্তিশালী হয়… সেই আশাবাদ রইলো। 🙂

    • ছিন্ন পাতা সেপ্টেম্বর 26, 2011 at 5:06 পূর্বাহ্ন - Reply

      @প্রতিফলন,

      আপনার শুভকামনা আর আশাবাদে আন্তরীক “আমীন”।

      মুগ্ধতা প্রকাশের জন্য ধন্যবাদ দেয়া ছাড়া আর কিছুই বলতে পারছিনা। ধন্যবাদ। 🙂

  8. তামান্না ঝুমু সেপ্টেম্বর 24, 2011 at 5:54 অপরাহ্ন - Reply

    @ছিন্ন পাতা
    মুক্তমনায় স্বাগতম। গল্পটিও ভাল লেগেছে। লিখতে থাকুন। (F)

  9. ছিন্ন পাতা সেপ্টেম্বর 24, 2011 at 8:01 পূর্বাহ্ন - Reply

    @অগ্নি

    @শাখা নির্ভানা

    @shujon

    আপনারা কষ্ট করে মন্তব্য করলেন, কিন্তু প্রশংসা শুনতে কেমন যেন লাগে (লজ্জা লাগে)। জানা নেই কি বলব, তাই – 🙂

    • গীতা দাস সেপ্টেম্বর 24, 2011 at 5:06 অপরাহ্ন - Reply

      @ছিন্ন পাতা,
      ট্রানজিটের ফাঁকে গল্পের প্লটটি ভাল লেগেছে। বিষয়টিতে বাস্তবতার ছোঁয়া রয়েছে এবং ভাষাও ঝরঝরে । তবে শব্দ চয়নে সতর্ক হোন।চৌধুরীর মত পরিবারে দিদি নয় আপা ডাকই শেখানোর কথা। অথচ আপনি লিখেছেন —

      তবুও সুমিকে দিদি ডাকতে হবে। ভাবতেই রিমির অবাক লাগে। ওরা দুজন খুব বন্ধু। এর মাঝে আবার দিদি ডাকাডাকি কেন আসবে?

      আমার ফিডব্যাক ইতিবাচক ভাবে নিলে খুশি হব। আরও লিখুন।

      • ছিন্ন পাতা সেপ্টেম্বর 25, 2011 at 7:22 পূর্বাহ্ন - Reply

        @গীতা দাস,

        আপনার ফিডব্যাক অবশ্যই ইতিবাচক ভাবে নিয়েছি! পরিস্কার করছি চৌধুরী পরিবারে কেন আপা ডাক না শিখিয়ে দিদি শেখানো হয়েছে।

        আপনার ভাবনাটি যেমন অযৌক্তিক নয়, তেমনি বাংলাদেশের একটি মুসলিম পরিবারের সম্বোধন “দাদা”, “দিদি” “গুন্নিদি” এসব হওয়াটাও অবাস্তব কিছু নয়।

        আপনাকে আমাদের দেশের ইতিহাস জানানোর ধৃষ্টতা দেখাবোনা। নিশ্চয়ই জানেন যে একটি সময়ে আমাদের দেশে হিন্দু মুসলিম খুব মিলেমিশে থাকত। এই মিলেমিশে থাকার অনেক ফলাফলের মাঝে একটি হল হিন্দুরা মুসলিমদের কাছ হতে পর্দাপ্রথা গ্রহন করে নেয়া, আর মুসলিমরা তাদের দৈন্যন্দিন ভাষায় গ্রহন করে নেয় অনেক “হিন্দু শব্দ”। যেমন “লক্ষি একটা মেয়ে!” “অলক্ষী দূর হ!” “অপয়া” “দেখতে একেবারে রাধা কৃষ্ণ” …ইত্যাদি।

        মায়া আর মনুষ্যত্বের বন্ধন ধর্ম আর রাজনীতি ছিন্ন করে দিলেও ভাষা আর জীবনের অনেক আঙ্গিকের পরিবর্তন আনতে পারেনি। যেমন আমার বোনদের গায়ে হলুদে দেখলাম আগুন দিয়ে নজর কাটা, হাতে ছোট পুতুল দিয়ে বসিয়ে রাখা, কপালে চন্দনের টিপ এসবই হয়েছে, এসব “হিন্দুদের হালচাল” জেনেও হয়েছে। কারন ক্ষেত্রবিশেষে বাঙ্গালী মুসলিমরা শুধু বাঙ্গালীই হয়ে ওঠে। কি করবে, সংস্কৃতি সবারই সেই একটি, ভাষাও সেই সবারই একটি।

        আমরা যখন কিছু বলি, ভাবি এবং লিখি তখন তার একটি বিরাট অংশ জুড়ে থাকে আমাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।

        আমার নানা বিয়ে করতে গিয়েছিলেন ধুতি পরে, উনি প্রায়শই ধুতি পরতেন। আমার মায়ের নানুর বিয়ে প্রায় ভেঙ্গেই যাচ্ছিল বরপক্ষ সাথে করে সিঁদুর আনেনি বলে।
        আমার মা তার খালাত ভাইদের ভাইয়া না বলে সম্বোধন করেন দাদা ডেকে। কারন তাদের আপন বোনেরাই ভাইকে দাদা বলে ডাকে। আমার নানুর বাবার বাড়ি নোয়াখালির পাঁচ গাঁও, ওখানে অনেকেই নানুকে দিদি বলে ডাকতেন।
        আমার ছোট ছোট মামাত ভাইদের ছোটবেলা হতেই শেখানো হয়েছে তাদের বড় বোনকে দিদি বলে ডাকতে। ওরা তাই ডাকে, এবং ওরা এ প্রজন্মের। উল্লেখিত সবাই খাঁটি চৌধুরী বংশের।

        আমি ভাবতাম নোয়াখালীর মানুষ বলে ধর্মের প্রভাব হতে এরা একটু বিচ্ছিন্ন। কিন্তু আমার এক বন্ধু যে চিটাগং-এর সে তার সব ভাইকে “বড়দা, মেজদা, ছোটদা” বলে সম্বোধন করে। অবাক হয়েছিলাম, কারন ওরা টিপিকাল মধ্যবিত্ত মুসলিম বাঙ্গালীর মতই খুবই ধার্মিক পরিবার। তাদের বাবা হ্বজ, তাবলীগ, এসব নিয়েই আছেন।

        এমন উদহারন প্রচুর দেয়া যাবে। তবে আজ এখানেই ক্ষান্ত দিলাম।
        পর্দার আড়ালে আমি ওই ব্যাপারটি দেখাতে চেষ্টা করেছি যে একজন বাঙ্গালী মনা চৌধুরীর সুক্ষ অথচ বিপদজনক পরিবর্তন। আশা করি ব্যাপারটা পরিস্কার করতে সক্ষম হয়েছি।

        *****লিখেছেন বিষয়টিতে বাস্তবতার ছোঁয়া রয়েছে। এর কারন এটি একটি বাস্তব ঘটনাকে কেন্দ্র করেই লিখা হয়েছে। আপনার মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ 🙂 *****

  10. shujon সেপ্টেম্বর 24, 2011 at 4:22 পূর্বাহ্ন - Reply

    চমৎকার এক টা গল্প !!! (F) (F) (F)

  11. শাখা নির্ভানা সেপ্টেম্বর 23, 2011 at 4:58 অপরাহ্ন - Reply

    পুরা গল্পটা পড়লাম- শুরু থেকে থাকে শেষ টান টান উত্তেজনা। ভাল লাগলো।

  12. অগ্নি সেপ্টেম্বর 23, 2011 at 3:56 অপরাহ্ন - Reply

    এক নিঃশ্বাসে পড়ে গেলাম । (F) এটা রিমি আপুর জন্য । অসম্ভব রকমের ভাল একটা লেখা । আরও আশা করছি ।
    :guru:

    • ছিন্ন পাতা সেপ্টেম্বর 24, 2011 at 7:52 পূর্বাহ্ন - Reply

      @অগ্নি,

      এক নিঃশ্বাসে পড়ার জন্য ধন্যবাদ, যদিও আমার মনে হয় ওটা জীবনের জন্য বিপদজনক। 🙂

      ****আমি নিশ্চিত রিমি আপু আপনার দেয়া ফুলটি খুব খুশি হয়েই গ্রহন করবেন। 😉 ****

  13. মাহবুব সাঈদ মামুন সেপ্টেম্বর 23, 2011 at 3:02 অপরাহ্ন - Reply

    এই বোধের পরিবর্তন আর প্রগতির চাকা পেছনে ঘুরে যাওয়া নিয়ে প্রচুর বলতে ইচ্ছে হয়। লিখতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু পরক্ষনেই মনে হয় বলে কি হবে, লিখে কি হবে,

    আমাদের একবিন্দুও হতাশ হওয়ার কিছু নাই,হারাবারও কিছু নাই।আমাদের আছে শুধু বিবেকের তাড়না।তাই যা সত্য ও সুন্দর তার পক্ষে দাঁড়িয়ে আমাদের শুধু পথচলা।
    অনুরোধ রলো আপনার কলমযুদ্ধ যেন বন্ধ না হয়।

    ****ফরিদ আহমেদের কাছ হতে প্রথম অভ্যর্থনা, স্বপন মাঝির কাছ হতে ওনার নিজস্ব ভঙ্গিতে বেশি না জানিয়ে অনেক কিছু বলা, আর আপনার কাছ হতে প্রথম গোলাপ! “ভাল লাগছে, ভাল লাগছে, কেন তা বলতে পারিনা….” ****

    (D)

    • ছিন্ন পাতা সেপ্টেম্বর 24, 2011 at 7:45 পূর্বাহ্ন - Reply

      @মাহবুব সাঈদ মামুন,

      কলমযুদ্ধ অনেকদিন বন্ধ ছিল। কিছু কাছের মানুষদের ধাক্কায় এ ঠেলা গাড়ি আবার মোটামুটি ধীর লয়ে চলছে।

      আমি অনেক হতাশ, অনেক হতাশ। মানুষের জন্য আর মানুষের পৃথিবীটির জন্য করার সাধ যখন থাকে কিন্তু সাধ্য বাধা দেয়, তখন হতাশা আপনিই চলে আসে। আবার যাদের সাধ্য আছে, তারাই বা কতটুকু কি করতে পেরেছে দেখে আবারো হতাশ হয়ে ধপাস করে বসে যাই।

      আপনি যে বিবেকের তাড়নার কথা বললেন, ওটা মাথার মধ্যে ঢুকে গেল। এমন দু একটি ধাক্কা এ ঠেলা গাড়িতে চাকার কাজ করে। তাই – 🙂 (ধন্যবাদ) 🙂

  14. কাজী রহমান সেপ্টেম্বর 23, 2011 at 12:24 অপরাহ্ন - Reply

    অতি উত্তম হইয়াছে। উড়াল পঙ্খী ছাড়িবার কথা কহিয়া যে তাড়া দিয়াছেন উহাতে তাড়িত হইয়া এক নিঃশ্বাসে পড়িয়া ফেলিনু। মুক্ত ভাবনার আরেকটি নাম মুক্ত হস্তে স্বেচ্ছাশ্রম, খেসারত কহিলে তাহাই সই, কিন্তু ইহাতে যে অপার আনন্দ তাহার জুড়ি কই?
    স্বাগতম। (D)

    • ছিন্ন পাতা সেপ্টেম্বর 24, 2011 at 7:29 পূর্বাহ্ন - Reply

      @কাজী রহমান,

      আসল কথা – আপনার ছন্দের জুড়ি কই?

      (ধন্যবাদ) 🙂

  15. মাহবুব সাঈদ মামুন সেপ্টেম্বর 22, 2011 at 9:26 অপরাহ্ন - Reply

    ***সত্য ঘটনা অবলম্বনে…***

    সত্য ঘটনাও যদি না হতো তারপরেও আপনার সহজ ও সাবলীল লেখা গল্পে জীবনের ছোট-বড় রূঢ়,কঠিন বাস্তবতা আমাদের চোখে আঙল দিয়ে দেখিয়ে দেয় আজ বাঙলাদেশের মানুষের সামাজিক ও মনস্তাত্বিক বোধের কি আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।যেন আমাদের প্রগতির চাকা শুধু পিছনের দিকে ঘুরে যায়,তবে নতুন প্রজন্মের চিন্তাশীল মেধাবীরা তার রেশ টেনে ধরে আমাদের কে সামনে নিয়ে যাবে সে আশা আমরা সব সময়ই করতে পারি,যেমন,আপনার গল্পের রিমিরা তার জ্বলন্ত উদাহরন।
    গল্পটি সত্যিই প্রান ছুঁয়ে যায়।
    (F)

    • ছিন্ন পাতা সেপ্টেম্বর 23, 2011 at 7:28 পূর্বাহ্ন - Reply

      @মাহবুব সাঈদ মামুন,

      অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে অনেক কিছু বলার জন্য।

      এই বোধের পরিবর্তন আর প্রগতির চাকা পেছনে ঘুরে যাওয়া নিয়ে প্রচুর বলতে ইচ্ছে হয়। লিখতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু পরক্ষনেই মনে হয় বলে কি হবে, লিখে কি হবে, আমরা পিছু হটছি খুব দ্রুতলয়ে। এর শেষ কবে হবে জানিনা। কিভাবে হবে জানিনা। রিমিদের মতন নতুন প্রজন্মের চিন্তাশীল মেধাবীর সংখ্যা কমছে বই বাড়ছে বলে মনে হয়না। আর বাড়লেও তাদের সামনে এগিয়ে যাবার পথ দিন দিন শুধু কন্টকময় হয়েই চলেছে। মুক্তমনায় যেহেতু আছেন, অথবা বোধের গভীরে যেহেতু আসা যাওয়া, তাই আপনিও নিশ্চয়ই সেই কাঁটার স্বীকার। মুক্তমনা হওয়াটাই একটি বিরাট অপরাধ আজকের সময়ে। যত দোষ, মুক্তমনা ঘোষ।

      ****ফরিদ আহমেদের কাছ হতে প্রথম অভ্যর্থনা, স্বপন মাঝির কাছ হতে ওনার নিজস্ব ভঙ্গিতে বেশি না জানিয়ে অনেক কিছু বলা, আর আপনার কাছ হতে প্রথম গোলাপ! “ভাল লাগছে, ভাল লাগছে, কেন তা বলতে পারিনা….” 🙂 ****

  16. স্বপন মাঝি সেপ্টেম্বর 22, 2011 at 9:02 অপরাহ্ন - Reply

    মহান আর গৌরবময় আর উজ্জ্বল আলোর নিচে, সীল-মোহরকৃত “বোধ”এর প্রাচিরে “পর্দার আড়ালে” যেন একখানা ‘?’।
    ফরিদ আহমেদের সাথে একমত; আমিও ভাষার ঝরঝরে গতি দেখে অবাক। পাঠক চাইলেও শেষ না করে উঠতে পারবে না।
    এই যে নতুন নতুন লেখা, অবাক করে দে’য়ার মত লেখা,পাঠকদের কাছে পৌঁছে দে’য়ার জন্য মুক্তমনার সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

    • ছিন্ন পাতা সেপ্টেম্বর 23, 2011 at 6:53 পূর্বাহ্ন - Reply

      @স্বপন মাঝি,

      “…সীল-মোহরকৃত “বোধ”এর প্রাচিরে “পর্দার আড়ালে” যেন একখানা ‘?’।

      শূন্যস্থান পূরণ করুন, না হয়নি –
      প্রশ্নবোধক স্থান পূরণ করুণ। (অনুগ্রহ করে)।

      ***এটা ঠিক বলেছেন, মুক্তমনার সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ***

    • ছিন্ন পাতা সেপ্টেম্বর 23, 2011 at 7:36 পূর্বাহ্ন - Reply

      @স্বপন মাঝি,

      আপনার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে যা বলেছি, ওটা কিন্তু ঠাট্টাচ্ছলে ছিল। কিন্তু পড়তে কেমন রূড় শোনাচ্ছে। দুটো হাসি মুখ দিয়ে দিলাম এবারের মন্তব্যে, আগের রূড়তা দূর করতে, ধন্যবাদ জানিয়ে, আর কষ্ট করে পড়ে কষ্ট করে মন্তব্য করেছেন…সব মিলিয়ে…

      🙂 🙂

  17. ফরিদ আহমেদ সেপ্টেম্বর 22, 2011 at 8:02 অপরাহ্ন - Reply

    মুক্তমনায় স্বাগতম ছিন্ন পাতা।

    গল্পটা পড়ে মুগ্ধ হলাম। তবে, তারচেয়েও বেশি মুগ্ধ হলাম আপনার ভাষার ঝরঝরে গতি দেখে। পাকা লেখক অথবা লেখিকা আপনি বোঝাই যায়। 🙂

    • ছিন্ন পাতা সেপ্টেম্বর 23, 2011 at 6:44 পূর্বাহ্ন - Reply

      @ফরিদ আহমেদ,

      এ প্রথম মুক্তমনায় কেউ স্বাগতম জানালো (হাসি)। অনেক ধন্যবাদ।
      ভালো লাগছে (সত্যি)। 🙂

      গল্প নিয়ে যা মন্তব্য করেছেন, সে প্রেক্ষিতে কিছুই বলবনা। পড়েছেন, সেই ঢের। পড়ে আবার মন্তব্যও করা! তাও আবার পাকা লেখক…মুগ্ধতা এসব কি যেন বলছিলেন। এমন কথার জবাবে কি বলতে হয় আমার সত্যিই অজানা। আপনি সহ মুক্তমনার সকল উচ্চ মার্গীয় লেখক দের কাছ হতে শিখে নিয়ে তবেই কৃতজ্ঞতা জানাবো। 🙂

      • ফরিদ আহমেদ সেপ্টেম্বর 23, 2011 at 9:37 পূর্বাহ্ন - Reply

        @ছিন্ন পাতা,

        আপনি সহ মুক্তমনার সকল উচ্চ মার্গীয় লেখক দের কাছ হতে শিখে নিয়ে তবেই কৃতজ্ঞতা জানাবো।

        হায় হায়। ওই আতেল দলে আমাকে ফেললেন কেন? স্বাগতম জানানোর এই বুঝি সম্মান। 🙁

        • ছিন্ন পাতা সেপ্টেম্বর 24, 2011 at 7:18 পূর্বাহ্ন - Reply

          @ফরিদ আহমেদ,

          🙁 চেহারা দিয়ে পার পেয়ে যেতে চাইলে হবেনা। জানি জানি সবই জানি…

          • ফরিদ আহমেদ সেপ্টেম্বর 24, 2011 at 9:35 পূর্বাহ্ন - Reply

            @ছিন্ন পাতা,

            জানি জানি সবই জানি…

            গোয়েন্দা নাকি? অপ্রমাণে কেমনে মানি?

            • ছিন্ন পাতা সেপ্টেম্বর 24, 2011 at 12:40 অপরাহ্ন - Reply

              @ফরিদ আহমেদ,

              (H) গোয়েন্দা ডিউটিতে থাকা কালীন রোদ চশমা পরাটা আরেকটা ডিউটি।
              অতএব এ মূহুর্তে ডিউটি সংক্রান্ত সকল প্রমাণ ও অপ্রমাণ অপ্রকাশ করাটাও আরেকটা ডিউটি।
              আমার ডিউটি যে কতটা (অ)জরুরী ডিউটি সেটা প্রমান করতেই ডিউটি শব্দটি এতবার ব্যবহার হল।

মন্তব্য করুন