মূল প্রবন্ধটি আলী সিনার। সেটা এখানে আছে। তার অনুমতিক্রমেই এখানে অনুবাদিত হল।
প্রথম খন্ড এখানে…

মোহাম্মদের ব্যাপার স্যাপার বুঝতে হলে আমাদেরকে সাম্প্রতিক কালের ধর্মীয় পাগলামি(Cult) এবং এদের গুরুদের মনের গভীরে পরীক্ষা করে দেখতে হবে। এমন প্রচুর উদাহরন রয়েছে। আমি অল্প কয়েকটার কথা বলছিঃ

জিম জোনস, ভদ্র, সাধারন মানুষদেরকে বিশ্বাস করিয়েছিল যে সে মসিহ। তাদেরকে সে বুঝিয়ে সুজিয়ে পরিবার ত্যাগ করিয়ে জঙ্গলের মাঝে তার “মদিনায়” নিয়ে গিয়েছিল। নিউ গায়ানার সরকারকে বিনামূল্যে তাকে ৩০০ একর জমি দিতে রাজি করিয়েছিল। সে তার অনুসারীদের অস্ত্র সাথে রাখার জন্য এবং দ্বিমতকারী যে কাউকেই হত্যা করতে রাজি করিয়েছিল। এই লোকগুলোই একজন সংসদ সদস্য এবং তার দেহরক্ষীদের খুন করেছিল এবং পরবর্তীতে তার(জিম জোনস) কথায় সায়ানাইড খেয়ে তাদের মধ্যকার ৯১১জন আত্নহত্যা করেছিল।

তার ক্ষেত্রে এই আকর্ষনশক্তির ব্যাখ্যা আপনি কিভাবে দেবেন, আর সেই লোকগুলোর আনুগত্য আর আস্থার, যারা কিনা তার উপরে বিশ্বাস এনেছিল?

ডেভিড কোরেশ, ওয়াকো, টেক্সাসে ব্রাঞ্চ ডেভিড প্রাঙ্গনে তার অনুসারীদেরকে জড়ো করেছিল। তারা সেদিনের প্রত্যেকটি মূহুর্ত তার সাথে সাথে ছিল। তার কথা মত তারা সশস্ত্র ছিল। তারা তাদের কিশোরী কন্যাকে তার সাথে শুতে দিয়েছিল যেমন দিয়েছিল আবু বকর তার অপ্রাপবয়ষ্ক মেয়েকে মোহাম্মদের সাথে। তারা চার জন এটিএফ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করে এবং আত্নসমর্পন না করে সমস্ত কম্পাউন্ডকে বুবি ট্রাপ করে উড়িয়ে দেয় এবং ফলশ্রুতিতে তারা, সাথে তাদের পরিবারবর্গ সকলেই মৃত্যুবরন করে। এটাকে যদি আনুগত্য না বলা যায় তাহলে এটা কী? সে ঘটনায় ৯০ জন নিহত হয়।

অর্ডার অফ দ্যা সোলার টেম্পলঃ এই ধর্মীয় গ্রুপটির দাবী অনুযায়ী তাদের ৭৪জন তিনটি ভিন্ন ভিন্ন যন্তর মন্তর অনুষ্ঠানে(Ritual) তাদের জীবন আত্নত্যাগ করেছে। এই পাগল গোষ্টির(Sect) সদস্যরা বেশীর ভাগই উচ্চ শিক্ষিত এবং সংগতিশালী (Well-to-do) মাথাওয়ালা ব্যাক্তিত্ব, যারা আবু বকর, ওমর এবং আলী যে কিনা মাথা খাটানোর চেয়ে হত্যাকেই বেশী পছন্দ করত, তাদের থেকে অনেক অনেক বেশী মেধাবী।

এই গ্রুপটির দুজন অতি পরিচিত নেতার একজন জন হলেন লুক জরেট(Luc Jouret), যিনি একজন বেলজিয়ান, হোমিওপ্যাথির ডাক্তার, আরেকজন হলেন জোসেফ ডি মাম্ব্রো(Joseph di Mambro)একজন বিত্তবান ব্যাবসায়ী। এই বিরিঞ্চি দলে(Cult) তারা ছিল অনেকটা মুহাম্মাদ এবং আবু বকরের মতন। তারা নিজেরা এই উন্মাদীয় কার্যকলাপে বিশ্বাস রাখত এবং তারা নিজেরাও আত্নহত্যা করেছিল।

এই বিরিঞ্চি দলটি (Cult) প্রচন্ড গুরুত্ব দিত সূর্যকে। তাদের উন্মাদীয় যন্তর মন্তরীয় (Ritual) হত্যা-আত্নহত্যার উদ্দেশ্য ছিল, এই গ্রুপের সদস্যদের নক্ষত্র “সিরিয়াস” (Sirius)-এর নতুন পৃথিবীতে নিয়ে যাওয়া। এই ভ্রমণে সাহায্যের জন্য শিশুসহ অনেক প্রতারিতদের মাথায় গুলি করে অথবা কালো প্লাস্টিকের ব্যাগের মাধ্যমে, বিষক্রিয়ায় হত্যা করা হয়।

লুক এবং জোসেফ, তাদের মৃত্যুর পরে উদ্ধারকৃত চিঠিতে লিখেছিল যে তারা, “এই পৃথিবী, সত্য এবং বিশুদ্ধতার নতুন মাত্রা খুজতে ত্যাগ করছে, পৃথিবীর এই ভন্ডামীর থেকে বহু দূরে। ” এটা কি ভীষণ অদ্ভুতভাবে মোহাম্মদ যা প্রচার করেছিল তার মতন শোনাচ্ছে না? শুধুমাত্র আত্নহত্যা করতে বলা ছাড়া, সেটায় তার জন্য কোন লাভ ছিল না।
সে তার(মোহাম্মদ) জন্য ,তার অলীক মনগড়া আল্লাহর জন্য অনুসারিদেরকে যুদ্ধে যাওয়ার কথা বলত, নিহত করতে এবং নিহত হবার কথা বলত । বলত নিস্পাপ লোকেদের লুট করার জন্য এবং তার জন্য ক্ষমতা ও সম্পদ আনার জন্যে। সে এই বিরিঞ্চিবাবাদের থেকে অনেক বেশী আত্মাভিমানী এবং নিজের জীবনের ঝুঁকি নিতে অনেক বেশী অনাগ্রহী।

আপনি কিভাবে এই মানুষগুলোর অসুস্থ আত্নত্যাগের ব্যাখ্যা দেবেন? আপনি কি তাদের বিশ্বাসের ওপর এই দৃঢ় প্রত্যয় অস্বীকার করতে পারেন?

স্বর্গের দ্বার(Heaven’s Gate): ১৯৯৭ সালের ২৬শে মার্চ, স্বর্গের দ্বার(Heaven’s Gate)এর ৩৯ জন তাদের দেহ ত্যাগ করার (Shed their Containers বা আত্নহত্যা) এবং হেল-বপ ধূমকেতুর আড়ালে লুকিয়ে থাকা আকাশযানে(মূলত সসার) চড়ে বসার সিদ্ধান্ত নেয়।

স্বর্গের দ্বারের সদস্যরা তিন দিনে, তিনটি আলাদা শিফটে পৃথিবীতে তাদের শেষ ভোজ অনুষ্ঠান উদযাপন করে মৃত্যুবরণ করে। ১৫ জন প্রথম দিনে, ১৫জন তারপরের দিনে এবং বাকি ৯জন তৃতীয় দিনে দেহ ত্যাগ করে। একদল যখন পুডিং কিংবা আপেল পাইয়ের সাথে ফেনোবারবিটালের এক ডোজ নেয় আর ভদকা পান করে শুয়ে পরে তখন আরেকদল প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যাবহার করে তাদের মৃত্যুকে ত্বরাম্বিত করার জন্য। একটা ভীতিকর রকমের সতর্ক গণআত্নহত্যা, এই পাগল পূজারীগুলোকে প্রত্যেক শিফটে মৃত্যুর পর তাদের মৃত্যদেহ পরিষ্কার করার জন্য আরেকদল পূজারী প্রস্তুত ছিল শেষ দুজনের আত্নহত্যার আগ পর্যন্ত। তারা ভাড়া নেয়া বাড়িকে ঠিক আগের মতন সাজানো গোছানো অবস্থায় রেখে যেতে চেয়েছিল। মানে এমন কি মৃত্যুর পরেও উপকর্তা হিসেবে থেকেছিল। প্রত্যেকটা মরদেহেরই বিভিন্ন ধরনের সনাক্তকারী চিহ্ন ছিল। বিস্ময়করভাবে তাদের প্রত্যকের পকেটে ছিল পাঁচ ডলারের নোট আর খুচরো পয়সা, আর বিছানার নিচে ছোট্ট সুটকেসে তল্পিতল্পা গুছানো ছিল।

জন দে রুইল্টার(John de Ruilter) এর কাহিনীর দিকেও একটু চোখ ফেলতে পারেন, যার অনুসারীরা তাকে যীশুর থেকেও মহান মনে করত, তাদের মেয়েদেরকে তার সাথে বিছানায়ও যেতে দিতে দ্বিধা করত না। তার অনুসারী মধ্যে একজন ছিল মনোবিদ। সে কিরা কেটা বলেছে তার ত্রিশ বছরের ডাক্তারী চর্চায় সে তার মতন “সুস্থমস্তিষ্কের” লোক আর দেখেনি।

এরকম হাজার হাজার ঘটনা রয়েছে। বিরিঞ্চিবাবাগুলো হয় ক্যারিজম্যাটিক, হয় প্ররোচক এবং তাদের নিজেদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তুষ্ট। কোনভাবেই তারা সাধারন মানুষের মতন না, তারা সাইকোপ্যাথ। তারা সাধারন মানুষের থেকে আলাদা এবং এই কারনেই তারা টিকে যায়। তারা প্রায়শই বেশ মেধাবী, কিন্তু বাস্তবতা আর কল্পনার জগৎ তাদের কাছে জগাখিচুরী পাকিয়ে যায়। অন্যদেরকে তারা তাদের কার্যক্ষমতা, আকর্ষন, আত্ন-প্রতিশ্রুতি, একক ক্ষমতা আর প্রখর দৃঢ়সত্তার মুখোশে হতবিহবল করে ফেলে। এর কারন হল তারা বাস্তবতার সাথে কল্পনাকে পৃথক করতে পারে না। তারাই প্রথম তাদের নিজ নিজ মিথ্যাতে বিশ্বাস স্থাপন করে। এই প্রত্যয়ই তাদের ঘনিষ্ট বন্ধুবান্ধব আর আত্নীয় স্বজনদের বোকা বানায়, তারা ধরে নেয় যে তারা (সাইকোপ্যাথগুলো) এমন কিছু জানে যা অন্যেরা জানে না।

মোহাম্মদ আলাদা কিছু ছিল না। সে ছিল একটা সাইকোপ্যাথ। অন্য একটা আর্টিকেলে আমি তার মনোজগতের একটা নকশা আবিস্কার করেছি, নাম হচ্ছে The Force Behind Muhammad। হিটলার, স্ট্যালিন এবং অন্যান্য ক্যারিজম্যাটিক নেতারা মোটেও বোকা ছিল না। তারা ছিল চরম মাত্রায় বুদ্ধিমান কিন্তু উন্মাদ।

তার থেকেও উন্মাদীয় কার্যকলাপ হচ্ছে, বাস্তবতা হল, বিলিয়ন সংখ্যায় মানুষ একটা সাইকোপ্যাথকে অনুসরন করে এবং তাদের বিশ্বাসে ভিত্তি যুক্তির কিছু হেতাভ্বাস। তাদের প্রত্যকের বিশ্বাস টিকে আছে অন্যের বিশ্বাস দেখে এবং প্রত্যেকেই ভেরার পালের মতন প্রত্যেককে অনুসরন করে যাচ্ছে। যদি প্রতিটা ভেড়া একটা পথেই যায় তাহলে সেটাই সঠিক পথ হতে বাধ্য। “বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষ তো আর ভুল হতে পারে না!”

    ভেড়া মানসিকতা এবং ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যহীনতাঃ


মুসলমানড়া নিজেদের বলে “উম্মাহ”। এ শব্দটি আর “উম্মি” শব্দটির মূল একই। মোহাম্মদ নিজেকে উম্মি বলত যার মানে হল, নিরক্ষর, অশিক্ষিত, বিদ্যালয়ে গমন করেনি যে।

অতএব, উম্মাহ মানে হল নিরক্ষরকে অনুসরন করা সম্প্রদায়। মোহাম্মদের ক্ষেত্রে এটা দ্বারা বোঝানো হয় যে, তার জ্ঞ্যানের উৎস ছিল স্বর্গীয়। তত্সত্ত্বেও এই বৈশিষ্ট “উম্মাহর” ক্ষেত্রে খাটে না। সুতরাং উম্মাহর, সংজ্ঞানুযায়ী মানে দাঁড়ায়, অজ্ঞবিশ্বাসীর দল।

সুরা আল-ইমরানের ২০ নম্বর আয়াতে আছেঃ
“আর তাদে বল যাদের কিতাব দেয়া হয়েছে, আর নিরক্ষরদের। তোমরা কি আত্নসমর্পণ করেছ?” (And say to the People of the Book and to those who are unlearned: (Ummiyeen) “Do ye (also) submit yourselves?”)(অনুবাদ ডাঃ জহুরুল হক)

এখানে উম্মিয়ান(Ummiyan الأُمِّيِّينَ) শব্দটি হচ্ছে উম্মির বহুবচন যেটা অনুবাদ করা হয় এভাবেঃ

ইউসুফ আলিঃ যারা অশিক্ষিত।
পিকথালঃ যারা পড়তে জানে না।
শাকিরঃ অশিক্ষিত জনগন।

আমরা আরেকটা আয়াত নেইঃ
আল-ইমরানের ৭৫ নাম্বার আয়াতঃ
“তারা বলে, অক্ষরজ্ঞ্যানহীনদের ব্যাপারে আমাদের কোন পথ ধরে চলার দায়িত্ব নেই”।(অনুবাদ ডাঃ জহুরুল হক) (“They say, “there is no call on us (to keep faith) with these ignorant (Pagans).(Ummiyeen)”)

ইউসুফ আলি এই আয়াতে শব্দটিকে অনুবাদ করেছেন এভাবেঃ অজ্ঞ।
পিকথালঃ পৌত্তলিক।(Gentile)
শাকিরঃ অশিক্ষিত জনগন।

এই Gentile শব্দটি(বিশেষ্য) সাধারনত সেই সব লোকেদের ক্ষেত্রে বলা হয়ে থাকে যারা কিতাব সম্পর্কে অজ্ঞ। ইংরেজিতে “Gentile” এর সমার্থবোধক শব্দ হচ্ছে “Pegan(পৌত্তলিক)”.।

ঐতিহাসিকভাবে, পদ Gentile শাষক রোমানদের দ্বারা অরোমানদের(Non-Roman)কে বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হত, এটা ইহুদীদের দ্বারা গৃহীত হয় অ-ইহুদীদের বোঝাতে, পালাক্রমে সেটা ক্রিশ্চিয়ানদের দ্বারা বোঝানো হত পৌত্তলিকদেরকে। কোরানে, সাধারনভাবে পদ আল-উম্মাইয়ান(al-Ummiyeen) অনুবাদিত হয় অশিক্ষিত লোকেদের বোঝাতে।

সুরা আল- জুমু’আহ’র ২ নাম্বার আয়াতে আছেঃ
هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِّنْهُمْ
ইউসুফ আলি অনুবাদ করেছে এভাবেঃ

“It is He Who has sent amongst the Unlettered an apostle from among themselves,”-

বাঙলা অনুবাদ(ডাঃ জহুরুল হক)ঃ “তিনিই সেইজন যিনি নিরক্ষরদের মধ্যে, তাদেরই মধ্য থেকে একজন রসূল দাঁড় করিয়েছেন।“
এবং তার ব্যাখ্যায় তিনি লিখেছেনঃ “The Unlettered: as applied to a people, it refers to the Arabs, in comparison with the People of the Book…

সুরা আল-বাক্কারাহ’র ৭৮ নাম্বার আয়াতে আছেঃ
আর তাদের মধ্যে হচ্ছে নিরক্ষর যারা ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কে উপকথার বেশি জানে না”(অনুবাদ ডাঃ জহুরুল হক)।

উম্মি শব্দটির মূল হচ্ছে উম(Um),অর্থ মা। আক্ষরিক অর্থে ইংরেজিতে অনুবাদ করতে গেলে এর মানে হবে Natural বা প্রাকৃতিক বা জন্মগত, যদিও এই দুটো শব্দের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অর্থ হয়েছে। ব্যুৎপত্তিগতভাবে উম্মি হল মায়ের থেকে জন্ম নেয়ার সময় যে অজ্ঞ, অশিক্ষিত সে অবস্থাটা।

তাহলে উম্মাহ হল তারাই, অশিক্ষিত এবং নিরক্ষরের দল যারা কিতাব সম্পর্কে অজ্ঞ, যার জন্যে তারা পথ খুজে পেতে বিফল হয়েছে। উম্মাহর প্রতিনিয়ত নির্দেশনা দরকার। ইমাম, একই মূল থেকে এসেছে, হল সেই জন যিনি উম্মাহকে নেতৃত্ব দেন। মূলত এটা হল ভেড়া এবং রাখালের ধারনা। সম্পূর্ণ মুসলিম সম্প্রদায়কে ভেড়া মনে করা হয়, রাখালের প্রয়োজনে।

বিশ্বাসীদেরকে অন্যান্য বিশ্বাসীরা যা করছে তাই করতে হবে এবং তাদের সবাইকে অন্ধভাবে অনুসরন করতে হবে ইমামকে, এবং ইমাম পালাক্রমে তাদেরকে নির্দেশনা দেবে যা মোহাম্মদ করত।

সঠিক এবং ভুল, ভালো এবং মন্দ তাদের নিজেদের যোগ্যতার ভিত্তিতে নিরুপন করা হবে না। মোহাম্মদ যা করেছে বা বলেছে তাই সঠিক আর যা করতে মানা করেছে তাই ভুল। অন্যভাবে বলা যায়, মুসলমানরা নৈতিকতার মানদন্ডে এবং সাধারনজ্ঞ্যনের সাহায্যে মোহাম্মদের বিচার করতে পারবে না, উল্টোভাবে নৈতিকতা এবং সাধারনজ্ঞ্যানের মানদন্ড বিচার কতা হবে মোহাম্মদের কথা এবং কাজ দিয়ে।

এই মনোভাব মুসলমানদেরকে চিন্তা করার থেকে ক্ষান্ত দেয়। এই সম্প্রদায়ে একই রকম আচরন আর চিন্তাশৈলী অনুসরন করে ব্যক্তি পায় নিরাপত্তা আর স্বস্তি।
প্রথানুসারী কাজ বা আচরণকে উৎসাহিত করা হয় আর মুক্তচিন্তাকে চরম শাস্তি দেওয়া হয়। মুক্তচিন্তকের জন্য অধিকাংশের সাথে ভিন্ন মত পোষণ করা আনতে পারে চরম বেদনা আর কষ্ট।

মুসলিমরা আনন্দ/বেদনা উদ্দীপনের মাধ্যমে টিকে আছে। ইশারায় লেজ নাড়লে তারা পুরস্কৃত হয়। চাটুকারিতা পুরস্কৃত হয় এবং তাদের গ্রহনযোগ্যতা বাড়িয়ে তোলে আর তাদের সামাজিক অবস্থান আঁকড়ে ধরতে সাহায্য করে। অন্য দিকে মুক্তচিন্তার ফলাফল চরম।
মানসিক পর্যায়ে বিশ্বাসী একজন জাহান্নামের ভয়ে অস্থির থাকে আর জান্নাতের প্ররোচনায় লালায়িত হয়। এই মানসিক চাপ তার যৌক্তিক কার্যক্ষমতাকে অবশ করে দেয় এবং এমন দিকে তাকাতে বাধা দেয় যেখানে তাকালে ব্যাপক মিথ্যার এ বিশ্বাস নড়ে যেতে পারে।
এটা আরেকটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যেটা ইসলামকে এতগুলো শতাব্দী টিকে থাকতে সাহায্য করেছে। মুসলিমদেরকে নিরুৎসাহিত করা হয় এবং তারা মুক্তচিন্তা করতে সাহস করে না। এই ছকের বিরোধিতা করা, এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা এতটাই বিপজ্জনক ধরনের বেদনাদায়ক যে, বিশ্বাসীর মেরুদন্ডে কাঁপন ধরিয়ে দেয়। বিরুদ্ধ স্রোতে চিন্তাপ্রবাহ চালিয়ে দিলে করলে সে তার স্ত্রী-পরিবার, তার বন্ধুবান্ধব, চাকুরী, তার সামাজিক অবস্থা, সম্মান, তার সম্পদ, স্বাধীনতা এমন কি তার জীবন পর্যন্ত হারাতে পারে।

সমাজ আর পরকালের ভয় ইসলামের এত লম্বা সময় টিকে থাকার পেছনে দুটো প্রধান কারন। এই মিথ্যেটা কখনই প্রশ্নের মুখোমুখি হয় নি এবং এটা যতদিন এমন অবিচল, অটল থাকবে ততদিনই এটা অক্ষত থাকবে। মিথ্যা দীর্ঘায়ু হলেই সেটা সত্য হয়ে যায় না। ইসলাম টিকে আছে ভীতির কারনে, মোটেই সেটা সত্য বলে নয়।

সামাজিকভাবে ইসলাম বিশ্বাসীদের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যহীন করে গড়ে তোলে। প্রায়োগিকভাবে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যহীনতাকে ভেড়া মানসিকতা বলা যায়। এটা একটা মনোগত অবস্থা যেখানে এই মানসিকতা জাগ্রত হয় যখন আরো অনেকেই কিংবা বড়সর একটা দল একসাথে ভিড় করে।

ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যহীনতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট হল, স্ব-সচেতনতা এবং নিজস্বতাকে খর্ব করে। ইসলামে নিজস্বতাকে সরাসরি অস্বীকার করা হয় এবং এটাকে মিশিয়ে ফেলা হয় উম্মাহ’র সাথে। সে যে তখন শুধু ফলতঃ ক্রীতদাসই হয়ে যায় তা নয়, তাকে এমনকি ডাকাও হয় এই নামেই। তাদেরকে ডাকা হয় “ইবাদ” নামে, যার আক্ষরিক অর্থ হল “ক্রীতদাস”।
ব্যক্তিসাতন্ত্র্যহীনতা একজনের আত্নসংযম এবং আচার-ব্যবহারের প্রনালী দুর্বল করে দেয়। এটা হিংস্র জনতার কার্যকলাপ, হৃদয়হীন গুন্ডাপান্ডা এবং জনগনের ইচ্ছায় গণপিটুনিতে বা ফাঁসিতে হত্যাকে প্ররোচিত করে। এই ব্যাপারটা বিশেষভাবে লক্ষণীয় যখন উম্মাহ মসজিদে যায় এবং ইমাম ও কাঠমোল্লাদের আরক্তিম মুখে মুসলমানদের অত্যাচার করার জন্য নিরীশ্বরবাদী এবং ইহুদীদেরকে অভিশাপ দিতে বললে উত্তেজিত হয়ে ওঠে।

কারোরই ‘কেন’ প্রশ্ন করার অনুমতি নেই। সে অত্যাচারের প্রমান কী আর কেনই বা তাকে নিরীশ্বরবাদী এবং ইহুদীদেরকে ঘৃণা করতে হবে? এই প্রশ্ন যদি একটা ছোট্ট বাচ্চা করে তাহলে তার গালে চড় ছুঁইয়ে শিখিয়ে দেয়া হবে এটা একটা অনুচিত প্রশ্ন, আর যদি এটা কোন পূর্ণবয়স্ক কেউ করে তাহলে সে বিরাট ঝামেলায় পড়তে পারে।

ব্যক্তিসাতন্ত্র্যহীনতা গণহত্যা, গোড়ামী, সভ্য-ভব্যতার অভাবের মতন সামাজিক ঘটনার সাথেও জড়িত। এটা বিশ্বাসী/পালনকারী মুসলমানদের চারিত্রিক প্যাটার্ন ব্যাখ্যা করে। ফালুজাহতে কয়েকজন আমেরিকান ঠিকাদারকে প্রকাশ্যে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা, রামাল্লায় ইসরায়েলী সৈনিকদের অঙ্গহানী এগুলো মাত্র দুটো ঘটনা যেগুলোর শিকার শুধুমাত্র আমেরিকান আর ইসরায়েলী হবার জন্যে জনসম্মুখে এসেছে। তথাপি এই ঘটনা ইসলামে মোটেও বিরল নয়। ইরানে হাজার হাজার বাহা’ইসকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে, পাকিস্তানেও একই ঘটনা ঘটেছে তাদের ক্ষেত্রে যারা কিনা ব্লাসফেমী আইন ভেঙেছে এবং মোহাম্মদকে অপমান করেছে। মসদিজে খুতবা শোনার পরে মুসলমানরা প্রায়শই হিস্টিরিয়া রোগীর মতন উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং হত্যা জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়।

হাস্যকরভাবে এটাই ইসলামের নির্দয় এবং দমনমূলক প্রকৃতি, সাথে আছে এটার চরম অযৌক্তিকতা যেটা কিনা এই মতবাদকে একটা সফল ধর্মে পরিণত করেছে এবং এত লম্বা সময় ধরে বাঁচিয়ে রেখেছে।

ইসলাম বিশ্লেষনমূলক সমালোচনা পছন্দ করে না। মোহাম্মদ ভালো ভাবেই জানত সমালোচকদের প্রশ্নের উত্তর দেয়ার ক্ষমতা তার নেই। সুতরাং তিনি ঐদিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবং কেউ আর তাকে নিয়ে প্রশ্ন তোলার সাহস পায় নি।

এমননি পশ্চিমেও কেউ ইসলামের বিরুদ্ধে কোন সমালোচনা করলে ঝাকে ঝাকে বিদ্রোহ করে এবং ঐ পশ্চিমাদের বিদেশে বসেই হত্যা করে এবং দাবী করে তাদের অনুভুতিতে আঘাত হানা হয়েছে। এটা হয় পরবর্তীতে যাতে আপনি আর সমালোচনা করতে না পারেন এই ধারনা থেকেই। তারা ভালোভাবেই জানে তারা আপনার সমালোচনার উত্তর দিতে পারবে না এবং তার মানে হল ইসলামের সমাপ্তি।

    কেন সবাই মোহাম্মদের প্রশংসা করেছিলঃ


একটা প্রশ্ন মুসলমানদের মাথায় আসে সেটা হলঃ সমস্ত সাহাবীরা কেন তার এত প্রশংসা করেছিল? কেন কেউ তার নিন্দা করেনি, এমন কি সে মারা যাবার পরেও?
উত্তর হল, যে সমাজ ব্যক্তিপূজোর উপরে ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে থাকে সেখানে মনের কথা খুলে বলা সবসময় নিরাপদ নয়। সত্য কথা সমাজ থেকে আপনাকে বহিষ্কার করতে পারে, অথবা আরো খারাপ, আপনার জীবনটাই খরচ হয়ে যেতে পারে। যেসব মানুষ ভিন্নভাবে চিন্তা করতে পারে তারা ভালোভাবেই মুখ বন্ধ রাখতে জানে। পরিবর্তে পরগাছা, পা-চাটারা প্রশংসা করে, মোসাহেবি করে, যা নয় তাই ফলাও করে প্রচার করে নেতার কৃপাধণ্য হতে চায়। নেতার মৃত্যুর পরেও, পরগাছাগুলো তাদের তোষামোদী অব্যাহত রাখে। এত বছর পরেও অবস্থার কোন পরিবর্তন হয় নি। যারা ভিন্নমত পোষণ করে তারা কথা বলতে ভয় পায়, আর যদি বলেই ফেলে তাহলে দ্রুত তাকে চুপ করিয়ে দেয়া হয়, অন্য দিকে ধামাধরা সামান্য পরগাছাগুলোকে সম্মান করা হয় মোহাম্মদ এবং তার “গুণাবলী” ধরে রাখার জন্য। এমন ভন্ডামী আর চাটুকারীতায় ভরা উৎপীড়নকারী পরিবেশে কীভাবে সত্যের বিস্ফোরন হবে?

আমরা এমন অনেক কাহিনী জানি যেখানে মোহাম্মদ তার সমালোচনাকারীকে হত্যার হুকুম দিচ্ছে এবং ওমর যে কিনা মোহাম্মদের কতৃত্ব সম্পর্কে কেউ প্রশ্ন তুললে তার ঠোঁট কেটে নেয়ার জন্য ছিল সদা প্রস্তুত। মোহাম্মদ মোসাহেবি উৎসাহিত করত আর সমালোচনাকে কঠোর হস্তে দমন করত।

সুতরাং, মোহাম্মদের রহস্য আর রহস্য নয়। সে সফল হয়েছিল কারন সে বৃহত্তম মিথ্যা বলেছিল এবং যারা তাকে নিয়ে প্রশ্ন করত আর অমান্য করত তাদের নির্দয় হাতে দমন করত।

মোহাম্মদের সাফল্যের আরো কারন হল, সে দেখা দিয়েছিল সবচেয়ে অজ্ঞ, কুসংস্কারাচ্ছন্ন এবং বর্বর লোকেদের মাঝে। তার লুটতরাজের ধর্মটাকে টিকিয়ে রাখতে যেসব চরিত্রের দরকার ছিল সেগুলোর সবই তার প্রথমদিকের অনুসারীদের মধ্যে ছিল এবং পরবর্তীতে তার বিরিঞ্চিগিরির শিকার অন্যান্যদের উপরেও তা চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। তীব্র উৎকট জাতীয়তাবোধ, ধর্মান্ধতা, উদ্ধতভাব, দাম্ভিকতা, অতিআত্মম্মন্যতা(Megalomania), নির্বুদ্ধিতা, আত্মপ্রশংসা, লোভ, যৌনলালসা, জীবনের প্রতি তুচ্ছতাচ্ছিল্যভাব এবং আরোও নিকৃষ্ট চরিত্র যেগুলো ইসলামের নির্দেশক ছাপ(Hallmark), এগুলো আগে থেকেই কাঁচা-মাল হিসেবে আরবে উপস্থিত ছিল যেখানে মোহাম্মদ তার “প্রোফেটিক এন্টারপ্রাইজ” চালু করেছিল। তার শুধু দরকার ছিল একটা বড়সড় মিথ্যা তৈরী করা এবং কিছু অসহিষ্ণুতা আর হিংস্রতা যোগ করা, ঘৃণার একটা নিটোল ধর্ম সৃষ্টি করার জন্য।

একারনেই ইসলাম এখন পর্যন্ত টিকে আছে, এটা সত্য ধর্ম বলে নয়।

    তথ্যসূত্রঃ


১. http://en.wikipedia.org/wiki/Jim_Jones
২. http://en.wikipedia.org/wiki/David_Koresh
৩. http://en.wikipedia.org/wiki/Order_of_the_Solar_Temple
৪. http://en.wikipedia.org/wiki/Luc_Jouret
৫. http://www.biography.com/notorious/crimefiles.do?action=view&profileId=259590&catId=259449
৬. http://en.wikipedia.org/wiki/Heaven%27s_Gate_%28religious_group%29
৭. http://en.wikipedia.org/wiki/Comet_Hale%E2%80%93Bopp
৮. http://www.faithfreedom.org/Articles/sina/which_religion.htm
৯. http://www.faithfreedom.org/Articles/sina/force_behind_mo.htm
১০. http://www.nytimes.com/2004/03/31/international/worldspecial/31CND-IRAQ.html
১১. http://en.wikipedia.org/wiki/2000_Ramallah_lynching

[210 বার পঠিত]