প্রসঙ্গ আদিবাসী: কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজা…

প্রাসঙ্গিক সংগায়ন:

Working definition of indigenous peoples by Jose R. Martinez Cobo… ” Indigenous communities, peoples and nations are those which, having a historical continuity with pre-invasion and pre-colonial societies that developed on their territories, consider themselves distinct from other sectors of the societies now prevailing on those territories, or parts of them. They form at present non-dominant sectors of society and are determined to preserve, develop and transmit to future generations their ancestral territories, and their ethnic identity, as the basis of their continued existence as peoples, in accordance with their own cultural patterns, social institutions and legal system. This historical continuity may consist of the continuation, for an extended period reaching into the present of one or more of the following factors:

a) Occupation of ancestral lands, or at least of part of them;

b) Common ancestry with the original occupants of these lands;

c) Culture in general, or in specific manifestations (such as religion, living under a tribal system, membership of an indigenous community, dress, means of livelihood, lifestyle, etc.);

d) Language (whether used as the only language, as mother-tongue, as the habitual means of communication at home or in the family, or as the main, preferred, habitual, general or normal language);

e) Residence on certain parts of the country, or in certain regions of the world;

f) Other relevant factors.

“On an individual basis, an indigenous person is one who belongs to these indigenous populations through self-identification as indigenous (group consciousness) and is recognized and accepted by these populations as one of its members (acceptance by the group).

“This preserves for these communities the sovereign right and power to decide who belongs to them, without external interference”

ILO Definition: Article 1 of ILO Convention No. 169 contains a statement of coverage rather than a definition, indicating that the Convention applies to:

“a) tribal peoples in independent countries whose social, cultural and economic conditions distinguish them from other sections of the national community and whose status is regulated wholly or partially by their own customs or traditions or by special laws or regulations;

“b) peoples in independent countries who are regarded as indigenous on account of their descent from the populations which inhabited the country, or a geographical region to which the country belongs, at the time of conquest or colonization or the establishment of present state boundaries and who irrespective of their legal status, retain some or all of their own social, economic, cultural and political institutions.”

5. Article 1 also indicates that self-identification as indigenous or tribal shall be regarded as a fundamental criterion for determining the groups to which the provisions of this Convention apply.

6. The two terms “indigenous peoples” and “tribal peoples” are used by the ILO because there are tribal peoples who are not “indigenous” in the literal sense in the countries in which they live, but who nevertheless live in a similar situation – an example would be Afro-descended tribal peoples in Central America; or tribal peoples in Africa such as the San or Maasai who may not have lived in the region they inhabit longer than other population groups. Nevertheless, many of these peoples refer to themselves as “indigenous” in order to fall under discussions taking place at the United Nations. For practical purposes the terms “indigenous” and “tribal” are used as synonyms in the UN system when the peoples concerned identify themselves under the indigenous agenda.

সংশ্লিষ্ট মূল আলোচনা :

আদিবাসী মানে আদিবাসিন্দা- এই সরলীকৃত ভুল ধারনা ও বিতর্ক অনেকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে… আর জাতিসংঘ এবং আমেরিকার আমাদের সার্বোভৌমত্ব ক্ষুন্ন করার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে রিস্ক/ চক্রান্তের কথা আলোচনা হয়, সেক্ষেত্রে আমার একটা প্রশ্ন আছে, ব্যাপারটা বোধ করি এত সহজ না, ভারতও তো জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদিবাসী বিষয়ক ঘোষণায় সই করেছে (আমার ভুল হয়ে না থাকলে), সেখানে indigenous এই লিখা ছিলো … আমরা এত বড় পলিটিক্স বুঝে গেলাম, ভারত বুঝলো না, এটা কেমন করে হয়? ব্যাপারটার গভীরতা সম্ভবত আরেকটু বেশি… একটু ভেবে দেখার প্রয়োজন…

দেখুন: http://www.un.org/News/Press/docs/2007/ga10612.doc.htm

একই সঙ্গে একটি বিষয়ে প্রাথমিক আলোকপাত করি, সময়ের অভাবে এই মুহুর্তে সম্ভব না এক লহমায় বিস্তারিত আলোচনা করা… একইসাথে অন্যান্যদের মতামত ও আলোচনাও এখানে প্রত্যাশিত এবং খুবই আগ্রহী তা শুনতে। ইংরেজি Indigenous শব্দটির যে ব্যপকতা ও অর্থবহতা, আমাদের প্র্যাক্টিস বলুন, সহজভাবে গ্রহন করতে পারার অক্ষমতা বলুন অথবা সাংস্কৃতিক মান ও বোঝাপড়ার সীমাবদ্ধতা বলুন, যে কারণেই হোক, বাংলা “আদিবাসী” শব্দটি দ্বারা তার সমার্থক অর্থ আমরা প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়েছি সামগ্রিকভাবে। আদিবাসী যখন আদি অধিবাসী, তখন এই প্রশ্ন আমি অনেক জায়গায় উঠতে শুনেছি যে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অপরাপর পাহাড়ি ভূখন্ডের ক্ষেত্রে পাহাড়িদের বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে আদিবাসী বললে, সমতল ভূমিতে অবস্থানের বিবেচনায় একই রাষ্ট্রে কেন বাঙ্গালিরাও আদি আধিবাসী হিসেবে আদিবাসী নামে স্বীকৃত হবে না? এর ব্যাখ্যায় একটি উল্লেখযোগ্য component হতে পারে Non-dominant nations in the state… কিন্তু, বাংলা “আদিবাসী” শব্দটি এক্ষেত্রে একটি শাব্দিক জটিলতার সৃষ্টি করে/ অথবা এর সুযোগটি রাষ্ট্রের শাসক শ্রেণি নিচ্ছে! সেক্ষেত্রে এর সমাধানের রাস্তা কী হতে পারে? আমরা কি শব্দটির ব্যপকতাকে বিশ্লেষণ করে নতুন শব্দ চয়ন করবো, নাকি প্রচলিত শব্দটির বহুমাত্রিকতাকে কিভাবে সাধারণ মানুষের কাছে সহজে বোধগম্য করে তোলা যায় তার জন্য সচেষ্ট হবো। সেটা কীভাবে?

সাম্প্রতিক অনেক ঘটনা দেখেই আমি একটু চিন্তিত আসলে আমেরিকা-জাতিসংঘের পলিসি কি?! সুদান-দক্ষিন সুদানের ঘটনাটাই দেখুন… ওখানে মানুষে মানুষে যে সংঘাত তৈরি হয়েছে, জাতিগত যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তার কিন্তু বস্তুগত ভিত্তি ঐ দেশগুলোতেই ছিলো, তৈরি করা হয়েছিলো, একদিন না, অনেকদিনের প্রচেষ্টায়; কিন্তু এখন লাভটা হচ্ছে কার? ঐ দেশের জনগণের নাকি সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ইঙ্গ-মার্কিনীদের?! আজকে বাংলাদেশে বাঙালি ও অপরাপর জাতিগুলোর মাঝে বিদ্বেষের বিষ ছড়িয়ে কার লাভ আসলে? একজন খেটে খাওয়া বাঙালি আর একজন খেটে খাওয়া কোনো সাঁওতাল, হাজং, মারমা… এদের মাঝে কোনো পার্থক্য আছে কি? এদের স্বার্থগত কোনো দ্বন্দ্ব থাকে কি? আমি দেখিনি। এই দ্বন্দ্ব শাসক শ্রেনিই তার প্রয়োজনে সৃষ্টি করে, লালন করে এবং তাতে ইন্ধন জোগায় কৌশলে। আমাদের সকলেরই এই বিষয়ে সচেতন থাকাটা জরুরী। আর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার যে ষড়যন্ত্রের যে ইঙ্গিত আমাদের কিছু নামকা ওয়াস্তে বুদ্ধিজীবিরা দেন, তা পুরাটাই গাঁজাখুরি গল্প মনে হয় আমার কাছে। ইন্ডিয়াতে তো আদিবাসী/ জনজাতির সংখ্যা আমাদের থেকেও বেশি! ওখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন-ও চলছে কিছু প্রদেশে অনেক বছর যাবত, এবং তা বেশ শক্তিশালীও বটে, তাহলে ওরা এই চার্টারে সই করে কিভাবে? আমরা যে রিস্ক ফিল করি, ওদের তো আরো বেশি সেই রিস্ক ফিল করার কথা ছিলো!!! কিন্তু যদি আমরা আমাদের দেশের আদিবাসীদের বিষয়টি, তাদের আবেগকে বুঝতে না শিখি, পরষ্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল না হই, তাহলে আমরা নিজেরাই নিজেদের পরষ্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন করবো, অধিকারের দাবীতে বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে তখন, যে কারণে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ বিচ্ছিন্ন হতে বাধ্য হয়েছিলো… চক্রান্ত হলে, এটাই হলো সেই চক্রান্ত যে আমরা পরষ্পর নিজেদের মধ্যে সংঘাত করে এই রাষ্ট্রিটিকে বিভক্ত করবো, একজন মানুষ আরেকজনকে রক্তাক্ত করবে। তাহলেই ইঙ্গ-মার্কিন দক্ষিন এশিয়ায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার যে পরিকল্পনা সহজে সফল হয় তা, অন্য কিছুই লাগে না। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই যে শব্দগত বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এটাকে যতদ্রুত সম্ভব দূর করা প্রয়োজন কার্যকর সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে, তা না হলে আমরা পারষ্পরিক বোঝাপড়ার ঘাটতিতে অনাবশ্যকভাবে পরষ্পর পরষ্পরের মুখোমুখি অবস্থান করবো হয়তো, এবং অনর্থক রক্তপাতের হাত থেকে আমাদের আদিবাসী ও বাঙালি ভাই-বোনদের রক্ষা করতে সক্ষম হবো না, যা হবে সবচেয়ে বেদনাদায়ক পরিস্থিতি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের জন্যই।

সর্বোপরি, একটি স্বাধীন, সার্বোভৌম ভূখন্ডে অবস্থিত জাতিসমূহের মাঝে বিদ্বেষ জিইয়ে রাখা হয় কার স্বার্থে… !?! কী সাঁওতাল, কী বাঙালি, কী চাকমা, কী হাজং, মারমা, রাখাইন- প্রত্যকেরই তো মূল পরিচয় আসলে মানুষ… নষ্টদের উদ্দেশ্য আমরা নির্বোধেরা আরো কতদিন সময় নিবো বুঝতে?!

বি:দ্র: যে সকল লেখা ও সাইট হতে তথ্য সহযোগিতা পেয়েছি…

http://w4study.com/?p=2272

(আদিবাসীদের বাংলা ব্লগ – w4study.com)

http://www.facebook.com/groups/150002018385535/

(পাহাড়ের রূদ্ধকণ্ঠ CHT Voice)

মুক্তমনা ব্লগার, আজীবন শিক্ষার্থী, সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দর্শন অনুসারী ও প্রচারকারী, ছাত্র আন্দোলনের কর্মী, সংগঠক।

মন্তব্যসমূহ

  1. বিপ্লব রহমান সেপ্টেম্বর 2, 2011 at 1:33 অপরাহ্ন - Reply

    আদিবাসী বিষয়ক চলমান বিতর্কে কয়েকটি বিষয় লক্ষনীয়:

    ১। আক্ষরিক অর্থেই পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িরাই প্রথম বসতি স্থাপনকারী, অর্থাৎ আদি-বাসিন্দা ও অভিবাসী দুইই। অথচ বাংলাদেশ সরকার এখন এই ‘আদিবাসী’ বির্তকটিকে উস্কে দেওয়ায় ‘আদিবাসী’ এবং ‘আদি অধিবাসী’ অভিধা দুটিক গুলিয়ে ফেলে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। আর এটি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে উস্কে দেওয়া ভাষাগত সংখ্যালঘু জনজাতির আত্বপরিচয় ও অস্তিতকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

    এমনকি সহযোগি ফেসবুক গ্রুপ [পাহাড়ের রূদ্ধকণ্ঠ CHT Voice] সহ সর্বত্র জাত্যাভিমানী বাঙালিরা দাবি করে বসছে, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ পার্বত্যাঞ্চলের পাহাড়িরা বহিরাগত, বিদেশী, বাঙালিরাই নাকি সেখানের আদিবাসী!!

    এই মতটি প্রতিষ্ঠা পেলে পাহাড়ে এবং সমতলের আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে আদিবাসীদের জমি, বন ও জলা খুব সহজেই কেড়ে নেওয়া যাবে; তাদের বিলুপ্তির পথে ঠেলে দেওয়া হবে, যা একটি গণতান্ত্রিক দেশে হতে দেওয়া যায় না।

    মানলাম, জাত্যাভিমানের কারণে সরকারের না হয় ‘আদিবাসী’ অভিধায় আপত্তি আছে, কিন্তু এই পোস্টের লেখায় মিথুশিলাক মুরমু যেমন বলেন:

    তাদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানে যদি এতই অনীহা, তাহলে তাদের নিজ নিজ জাতিসত্তা_ সাঁওতাল, উরাঁও, মাহালী, মু-া, মাল-পাহাড়ি, গারো, হাজং, চাকমা, ত্রিপুরা ইত্যাদি নামেই অভিহিত করা যেত।

    কিন্তু আদিবাসীরা [উপজাতি] হতে যাবেন কেন? আর তাদের স্বায়ত্বশাসনটুকু দিতে বাধা কোথায়? বাঙালি অধিকার কেড়ে নিয়ে তো আর এই অধিকারটুকু ভাষাগত সংখ্যালঘুদের দেওয়া হচ্ছে না।

    কিন্তু শব্দিক বিতর্কে অধিকারের কথা চাপা দিয়ে খোদ সরকার পক্ষ বাঙালির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে আদিবাসীদের।

    আরো লক্ষনীয়, বাঙালি উগ্র জাত্যাভিমান নামক বিষফোঁড়ার জরুরি অস্ত্রপচার ছাড়া ভাষাগত সংখ্যালঘু জনজাতি, তথা আদিবাসীর মুক্তি নাই। এর অভাবে বিষফোঁড়ার বিষাক্ত রক্ত ও পুঁজ আদিবাসী জাতিসমূহকে দূষিত করেই চলেছে: [ তোরা সব বাঙালি হইয়া যা, উপজাতি, ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠি, বাঙালিরাই আদিবাসী, এদেশে কোন আদিবাসী নাই, উপজাতিরা বহিরাগত এবং ক্রমশ…]

    সিধুঁ কানহু, বিরসা মুণ্ডা, এমএন লারমা, আলফ্রেড সরেন, পিরেন স্নাল, চলেশ রিছিলের রক্তে রাঙা পথই তাই আদিবাসীর মুক্তির পথ। আবার আদিবাসীর একক সংগ্রামেও মুক্তি নাই। প্রগতিশীল অ আদিবাসীকেও তার সঙ্গে থাকা চাই।

    ভাবনাটিকে উস্কে দেওয়ার জন্য নিঃসঙ্গ বায়সকে সাধুবাদ জানাই। চলুক। (Y)

    • বিপ্লব রহমান সেপ্টেম্বর 2, 2011 at 1:47 অপরাহ্ন - Reply

      পুনশ্চ: বাঙালিরা আদিবাসী হলে তো ভালোই হয়। তখন বাংলাদেশ হবে বিশ্বের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট! আর ভাষাগত সংখ্যালঘু জনজাতি, তথা[উপজাতি/ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠি/ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠি] এর মানুষরা এদেশে সসন্মানে বিদেশী অতিথি হিসেবে বাস করবেন!! উফ, ভাবতেই গায়ে কাঁটা দিচ্ছে!!! :lotpot:

  2. রণদীপম বসু সেপ্টেম্বর 1, 2011 at 7:58 অপরাহ্ন - Reply

    বাঙালি হয়তো নিজের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসটাই ভুলে গেছে ! নইলে আমাদের এই পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠি তো আমাদেরই ভাই-বোন, তাদের স্বীকৃতি দেয়ায় বাধাটা কোথায় তা বুঝি না !
    কে জানে, সমস্যা জীইয়ে রাখাটাই রাজনীতির মাহাত্ম্য কিনা !!

  3. তমসো দীপ আগস্ট 31, 2011 at 11:15 অপরাহ্ন - Reply

    আদিবাসীরা আভধানিক অর্থে আদিবাসী কি না- তা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র মাথা ব্যাথা নেই। অভিধান দেখে মানুষের সংজ্ঞা নির্ধারণ যায় না। মানুষের অধিকার অভিধানে কোন শব্দের কি অর্থ- তার ওপর নির্ভর করে না । কল্পনা চাকমা পীরেন স্নালদের দেখে, অন্তত এটুকু আমাদের বোঝা উচিত- পাহাড়ের ওই সরল মানুষগুলো নির্যাতিত, কিছু শৌখিনের প্রমোদবিহারের নিমিত্তে ইকোপার্ক বানাবার জন্য উচ্ছেদ করা হয় ওদেরকে, ওদের নিজেদের ভিটে থেকে। জাতীয়তাবাদের দোহাই তুলে ওদের আরও অপমান করবার কোনো অর্থই নেই। ওরা কবে এ-ভূখণ্ডে এসেছে, কবে বাঙালিরা এসেছে- তার চে’ অনেক বড় কথা হলো, ওরা বাঙালিদের চে’ নিচু জাতের মানুষ নয়- এবং বাঙালি হোক আদিবাসী হোক- মানবাধিকার সবারই সমান। কে কবে কোন ভূখণ্ডে বসতি গেড়েছে, তার ভিত্তিতে তাকে সে ভূখণ্ডের মালিকানা দিতে হবে- এ ধরনের বস্তাপচা চিন্তাভাবনা আজকের যুগে অত্যন্ত হাস্যকর। আর তাছাড়া, ওই আদিবাসীরা তো আমাদের ওপর কোনো অত্যাচারও করছে না! অত্যাচার যা করার আমরাই করেছি ওদের ওপর। আরও যদি করতে থাকি- তাহলে শেষকালে যেটা হবে, সেটা হলো- হিটলারের নাৎসিময় জাতীয়তাবাদের মত বাঙালি জাতীয়তাবাদও বাতিল হয়ে যাবে, বাঙালি শব্দটার অর্থ কলুষিত হবে, বিশ্ব নাৎসি শব্দটার মতই ঘৃণা করতে আরম্ভ করবে বাঙালি শব্দটাকেও, এবং বহির্বিশ্বে আমাদের আর মুখ দেখানোর কোনো উপায় থাকবে না । উগ্র জাতীয়তাবাদীদের অবশ্য সেটা বোঝার সাধ্য নেই, তাদের অনেকের কাছেই হিটলারও মহান ব্যক্তি- শুধুমাত্র সুভাষচন্দ্র বসু গিয়ে তার সাথে হাত মিলিয়েছিলো বলে। এইসব উন্মাদদের কথায় না ভুলে আমাদের বাঙালি হিসেবে আন্দোলন করা উচিত আদিবাসীদের জন্য, যদি আমরা বাঙালি শব্দটিকে বাঁচাতে চাই নাৎসি শব্দটির সমার্থক হয়ে ওঠা থেকে, বাঙালিত্বকে বাঁচাতে চাই বর্ণবাদের শাখাভুক্ত হয়ে যাওয়া থেকে। নইলে, আজ যত খুশি পাগলামি করা যেতে পারে, কিন্তু ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। ইতিহাস আমাদের ছিঃ ছিঃ করবে।

    মানুষের জন্য মানুষ পরিচয়টিই যথেষ্ট। তবু জাতিগত পরিচয়টি বৈশ্বিক বাস্তবতার কারণেই যুক্ত হয় তার নামের সাথে। তাই বলে জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে যদি Higher race অথবা Lower race এ বিভক্ত করা হয়, যেমন করেছিলো হিটলার, অথবা এ-উপমহাদেশেরই পাকিস্তানবাদীরা- তাহলে সে জাতীয়তাবাদের পতন অনিবার্য।

    আদিবাসী, বাঙালি – সবাই মিলে একটা সুন্দর বাঙলা হোক, এই কামনা রেখে শেষ করছি আমার তুচ্ছ মন্তব্যটি।

  4. বিশালবাংলা আগস্ট 31, 2011 at 10:56 অপরাহ্ন - Reply

    আর কতো প্রতারনা পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা সমগ্র বাংলাদেশি আদিবাসীদের সাথে।

    দুইটি উদাহারণ দেয়া যাক।
    ১.শান্তি চক্তি হলে নাকি পার্বত্য চট্টগ্রাম ভারত হয়ে যাবে ।
    *** এখন কি পার্বত্য চট্টগ্রাম ভারত হয়ে গেছে ?
    2.সারা দেশ মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের আওতায় এলেও দীর্ঘদিন পর্যন্ত পার্বত্যবাসী এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। এবং ধারণা করা হয়েছিল সন্ত্রাসী কারবার নাকি বেড়ে যাবে।
    ***এখন সেখানে সন্ত্রাসীর জন্য কেউ বসবাস করতে পারছে না। পার্বত্য চট্টগ্রাম এখন জনশূন্য।

  5. অডঙ চাকমা আগস্ট 30, 2011 at 11:25 অপরাহ্ন - Reply

    ধন্যবাদ আপনার লেখার জন্যে। আদিবাসী বিষয়ক আপনার লেখাটা পড়লাম। খুব বেশি বলার নেই। তারপরেও আপনার সাথে কিছু কথা যোগ করতে চাচ্ছি।

    আদিবাসী প্রসঙ্গে

    আদিবাসী কারা – এ ব্যাপারে সংজ্ঞা খুঁজা অনর্থক। বাংলাদেশ সরকার তথা তথাকথিত বাঙালি সুশীল সমাজের একটা বড় অংশ এ অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিতর্ক টেনে এনেছেন বা কুটতর্ক করতে চাচ্ছেন। “আদিবাসী” ধারণা নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কারা আদিবাসী আর কারা আদিবাসী নয়, সংশ্লিষ্ট জনগণই ঠিক করবে। সরকার বা কারোর অন্য কাউকে জোর করে পরিচিতি চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।বরং কারোর উপর জোর করে পরিচিতি চাপিয়ে দেওয়াটা অনধিকার চর্চা, যেই চর্চাটা সরকার বা তথাকথিত বাঙালী বুদ্ধিজীবিদের বড় অংশ করতে চাচ্ছেন।

    এখানে আরো একটা কথা বলা ভালো, যারা এখন “আদিবাসী”, “উপজাতি” ইত্যাদি নিয়ে আবোল তাবোল বকছেন, আর আদিবাসী স্বীকৃতি দিলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন হবে ইত্যাদি যুক্তি দাঁড় করাতে চাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য কখনো সৎ ছিলো না, এখনো নেই। বরং তারা শব্দগত ধাঁধা বা শব্দ নিয়ে ভেলকিবাজী খেলতে চাচ্ছেন।কয়েকটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা পরিস্কার হয়ে যাবে।

    ১) আদিবাসী শব্দটি বাংলাদেশে নতুন নয়। অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন ইনে আদিবাসী শব্দ ছিলো এবং এখনো বাংলাদেশে প্রচলিত আইনে লেখা আছে। যেমন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০’, ‘বঙ্গীয় প্রজাসত্ত্ব আইন ১৯৫০’, ও আয়কর সংক্রান্ত আইন। আয়কর আইনের আওতায় পাহাড়ের মানুষকে পার্বত্য অঞ্চলে আয়কর দিতে হয় না। এসব আইনে indigenous hillmen ও aboriginals লেখা আছে। এসব শব্দের বাংলা অনুবাদ “আদিবাসী” লেখা হয়।

    ২) বাংলাদেশের সমগ্র তথাকথিত “উপজাতি”দের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও বাঙালরা বহিরাগত হয়ে যাবে না। কারণ, জনবল, ধনবল, রাষ্ট্রক্ষমতা সব বাঙালদের হাতে। অর্থাৎ পুরো রাষ্ট্রক্ষমতা বাঙালদের হাতে। কাজেই আদিবাসীরা তাদের ক্ষীণ বল নিয়ে বাঙালদের রাষ্ট্র থেকে কিছু একটা খাবলে ছিনিয়ে নিতে পারবে – এমন ধারনা যারা নিজের মধ্যে পোষণ করেন, তাদের মধ্যে মানসিক সুষ্ঠুতা বা মানব উপযোগী যৌক্তিকতা (human rationality) আছে কী না বড়ই সন্দেহ হয়। মানুষকে যে যুক্তিবাদী প্রাণী বলা হয়, তারা সেই বর্গের মধ্যে তারা পড়ে কী না তা নিয়েও সন্দেহ জাগে।

    ৩) বিভিন্ন অজুহাতে যারা আদিবাসী মানতে নারাজ তাদের উছিলার শেষ নেই। তারা আসলে “আদিবাসী”, “উপজাতি” বা অন্য কোন দাবী মানেন না বাঙালদের দাবী ছাড়া। এ বিষয়টা ঐতিহাসিকভাবে পরিস্কার। যেমন, দেখুন ১৯৭২ সালে জেএসএস-এর প্রতিষ্ঠাতা ও তঃকালীন সংসদ সদস্য (বলা যায় একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য) এম এন লারমা যখন সংসদে দাঁড়িয়ে “উপজাতি” হিসেবে সংবিধানে স্বীকৃতি চাইলেন, তখন বাঙালি নেতারা এম.এন লারমাকে তিরস্কার করেছিলেন। তারা “উপজাতি” মানতে রাজী ছিলেন না। শেখ সাহেব ও তার দলের নেতারা (বর্তমান সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীও ছিলেন) এম এন লারমাকে বললেন, “তোরা উপজাতি না। তোরা বাঙালি জাতির অংশ।মানে সবাই “বাঙালি”। এম.এন লারমা বোঝাতে চাইলেন, “আমরা বাঙালি নয়, বাপ দাদা চৌদ্দপুরুষ কেউ বলেনি আমরা বাঙালি”।তিনি জোর দিয়ে বললেন, “আমরা বাংলাদেশী”। একথা বলাতে তৎকালীন আওয়ামীলীগের নেতারা এম.এন লারমাকে সংসদে তুলো ধুনো করেছিলেন। এক এমপি তো (বর্তমান পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী) রীতিমত অসৌজন্যমূলকভাষায় সংসদে এম.এন লারমাকে হুমকি দিয়েছিলেন।

    এম. এন লারমার সেই “উপজাতি” হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার দাবী তৎকালীন নেতারা মানেননি। শেখ সাহেব রাঙামাটির এক সভায় বলেছিলেন, “আজ থেকে তোমাদের উপজাতি থেকে [বাঙালি] জাতিতে প্রমোশন দেয়া হল”। সংবিধানে এরকম অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করে তা পুরোপুরি পাকাপোক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়।

    এরপর এম.এন লারমা জেএসএস নামক রাজনৈতিক দল গঠন করে জুম্মজাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে পাহাড়ী জনগণকে সংগঠিত করলেন। জুম্ম হিসেবে স্বীকৃতির দাবী করলেন। বলে রাখা ভালো, জুম্ম শব্দটা চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাঙালরা গালি হিসেবে ব্যবহার করতো।এই গালি যখন আত্মপরিচিতির একটা ভিত্তি পেলো তখন বাঙাল রাষ্ট্রের নেতারা কী বললেন? বাঙাল নেতারা ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা ধুঁয়া তুলতে লাগলেন, “না, জুম্ম হলো চাকমা শব্দ। আর এ শব্দের কোন ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। তাছাড়া জুম্ম শব্দটি একটি সেকেলে ও আদিম চাষ পদ্ধতি থেকে নেওয়া হয়েছে। কাজেই পাহাড়ের মানুষ “জুম্ম” হিসেবে পরিচিতি পাবে সেটা মেনে নেওয়া যায়। তাদেরকে আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ানদের মত খোঁয়াড়ে আবদ্ধ রাখা হবে। এটা “আধুনিক” বাংলাদেশ রাষ্ট্রে সম্ভব হতে পারে না। দেখুন তো কী যুক্তি!

    বেশ বাঙালরা “উপজাতি” মানে না, “জুম্ম”ও মানে না। তাহলে কী মানে? শেষমেশ ’৯০-এ এসে পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হতে লাগলো। ক্রমে সেটা আরো সুদৃঢ় হতে লাগলো। সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে এসে জড়ো হতে লাগলো। বিভিন্ন সংগঠন হতে লাগলো। সমতলের লোকরা নিজেদের আদিবাসী বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করে। অন্যদিকে পাহাড়ের লোকজন পাহাড়ী বা জুম্ম হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করে। কিন্ত একটা জায়গায় একটু সমস্যা দেখা দিচ্ছিলো। ‘আদিবাসী’ বললে পাহাড়ের লোকজন বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম কেমন কেমন করতো, অন্যদিকে ‘পাহাড়ী’ বা ‘জুম্ম’ বললে সমতলের লোকজন বাদ পড়ে যায়। কিন্তু একত্রিত হওয়ার তো একটা জায়গা লাগবে। শেষমেশ পাহাড়ের নেতারা দেখলো, আদিবাসী বা indigenous বা aboriginals শব্দ তো অনেক আগে ছিলো। কাজেই আদিবাসী পরিচিতির মধ্যে কোন আপত্তি থাকার কথা নয়। আদিবাসী শব্দটা পরে সবার গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে গেলো। আদিবাসী ব্যানারে বাংলাদেশের সকল তথাকথিত “উপজাতিরা” একত্রিত হতে লাগলো। এক স্বরে “আদিবাসী” হিসেবে সংবিধানে স্বীকৃতির দাবী জানাতে লাগলো। এই ন্যায্য দাবীর প্রতি দেশে বিদেশে ব্যাপক সমর্থন পাওয়া গেলো। এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।

    এই “আদিবাসী” দাবী যখন জোরালো হলো, তখন বাঙাল নেতারা, আমলা-সেনাতন্ত্র ও বাঙাল বুদ্ধিজীবিদের একটা অংশ বলতে লাগলো, “ওরা আদিবাসী হবে কেন? আমরাই আসল আদিবাসী। ওরা তো বাইরে থেকে এদেশে এসেছিল অর্থনৈতিক অভিবাসী হিসেবে”। বেশ, আর কী করা! এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত আদিবাসী মানেন না। সরকারীভাবে বলা হচ্ছে, “বাংলাদেশে আদিবাসী নেই, যারা আছে সবাই উপজাতি”। হা! হা! ‘উপজাতি’ হিসেবে যদি এখন মানেন তাহলে ‘৭২ সালে মানেননি কেন? তখন ‘উপজাতি’ থেকে বাঙালি জাতিতে প্রমোশন দিতে চাইলেন কেন?

    এসব উদাহরণ থেকে এখন আপনারাই বলুন, বাঙাল নেতারা বা বাঙালরা আসলে কোন শব্দটা মানেন? “উপজাতি”, না “আদিবাসী”? [অবশ্য সরকার আরো একটি শব্দের প্রতি স্বীকৃতি দিয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। এই শব্দটা যদি আগে থেকে “উপজাতিরা” গ্রহণ করতো তাহলে কী সরকার মেনে নিতো? ]

    পূর্ব তিমুর ও দক্ষিণ সুদান প্রসঙ্গে

    “সাম্প্রতিক অনেক ঘটনা দেখেই আমি একটু চিন্তিত আসলে আমেরিকা-জাতিসংঘের পলিসি কি?! সুদান-দক্ষিন সুদানের ঘটনাটাই দেখুন…”

    ইদানিং অনেককে দেখতে পাচ্ছি, পূর্ব তিমুর ও দক্ষিণ সুদানের সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামকে তুলনা করতে। তার মধ্যে আছেন এক সময়ের কুখ্যাত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ ইব্রাহিম। তার কথার প্রতিধ্বনি মাঝেমাঝে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরপাত্তা সংক্রান্ত সভা থেকেও বের হয়। বুঝতে অসুবিধা হয় না, কারা ঐসব যুক্তি হাজির করছে। সে যা হোক, কেউ পার্বত্য চট্টগ্রামকে পূর্ব তিমুর ও দক্ষিণ সুদানের সাথে তুলনা করে ব্যক্তিগতভাবে আমার বেশ ভালো লাগে। কেননা, ঐসব কথাবার্তা থেকে বাঙাল এলিটদের পার্বত্য চট্টগ্রামের ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গি খুঁজে পাওয়া যায়। আপনার মত, আমারও প্রশ্ন জাগে পার্বত্য চট্টগ্রামকে পূর্ব তিমুর ও দক্ষিণ সুদানের সাথে তুলনা করলে কার লাভ হবে? কার স্বাথে এই তুলনা? ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এ তুলনা দিয়ে কিছু সময়ের জন্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করা যায়, মানুষকে বিভ্রান্ত করা যায়, কিন্তু সেখানে সমাধানের সূত্র ‍খুঁজে পাওয়া যায় না। আর পার্বত্য চট্টগ্রামকে পূর্ব তিমুর ও দক্ষিণ সুদানের সাথে তুলনা করাও বাঙাল এলিটদের একধরনের ন্যাকামি, যার মাধ্যমে তারা দেখাতে করতে চায় তারা অনেককিছু জানে। আসলে তাদের জানার মধ্যে কত গোঁজামিল আছে তা তারা জানেন না।

    তাদের জানা উচিত, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে দক্ষিণ সুদান ও পূর্ব তিমুরের ইতিহাস সম্পূর্ণ ভিন্ন। লম্বা ইতিহাস অবতারণা করার সুযোগ এখানে নেই। সোজাসরল ভাষায় বললে, পূর্ব তিমুর কখনো ইন্দোনেশিয়ার অংশ ছিলো না। যে ভূ-খন্ড নিজের নয়, সেখানে ইন্দোনেশিয়া কীভাবে, কতদিন সেখানে জোর-জবরদস্তি করে শাসন করবে? সোজা ইতিহাস। পূর্ব তিমুর পর্তুগীজদের কলোনি ছিলো। ষোড়শ শতাব্দী থেকে। বে-উপনিবেশিকরণ প্রক্রিয়া হিসেবে পর্তুগীজরা পূর্ব তিমুর ছেড়ে চলে যায় এবং ১৯৭৫ সালে পূর্ব তিমুরের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। এতে প্রতিবেশি রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া শংকিত হয়ে উঠে। পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান চালিয়ে ইন্দোনেশিয়া জোর করে পূর্ব তিমুর দখল করে নেয়। সেই থেকে শুরু হয় দমনপীড়ন। পূর্ব তিমুরের জনগণ তাদের ন্যায্য সংগ্রাম চালিয়ে যেতে থাকে। এখানে শাসন করার নৈতিক ও আইনি কর্তৃত্ব ইন্দোনেশিয়ার কখনো ছিলো না। ৭৫ থেকে ৯৯ সাল পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া পূর্ব তিমুর শাসন করতে পেরেছিলো তার পেছনে বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তার অনুকূলে ছিলো। এতদিন আমেরিকার সমর্থন ইন্দোনেশিয়ার পেছনে ছিলো। সে কারণে পূর্ব তিমুরের জনগণকে স্বাধীনতা পেতে অনেক ত্যাগ করতে হয়েছিলো। কিন্তু ৯০-এ এসে স্নায়ুযুদ্ধের অবসান হলে পূর্ব তিমুরের ইস্যূতে আমেরিকার আগ্রহ কমে যায়। ফলে জাতিসংঘ সেখানে জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে পূর্ব তিমুরের ইস্যূ নিয়ে কাজ করতে সুবিধা হয়। আর জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইন না মানার কোন উপায় ছিলো না। এখানে ইন্দোনেশিয়ার দয়া-মায়ার উপর নয়, পূর্ব তিমুরের জনগণ স্বাধীনভাবে গণভোটের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যত তারাই নির্ধারণ করেছিলো।

    অন্যদিকে দক্ষিণ সুদানের জনগণও স্বাধীনভাবে গণভোটের মাধ্যমে স্বাধীনতা বেছে নিয়েছিলো। উত্তর সুদানের দক্ষিণ সুদানের উপর বৈধ কর্তৃত্ব কখনো ছিলো না। এখানেও জবরদস্তি করে দক্ষিণ সুদানকে “সুদানের” সাথে একীভূত করা হয়েছিলো। তাদের ইতিহাসও অনেক লম্বা। উত্তর সুদানের জনগণ বা নেতারা কখনো দক্ষিণ সুদানের জনগণের সাথে ভালো ব্যবহার করেনি। সে অনেক বিষয়।সুদানও কলোনী ছিলো। অনেক হাত বদল হয়েছিলো। তুর্কি-মিশরীয়দের দখলের পূর্ব পর্যন্ত অর্থাৎ১৮২১ সাল পর্যন্ত সুদান বলে কোন রাষ্ট্র ছিলো না। তখন বিভিন্ন রাজা ও গোত্র প্রধানদের অধীনে বর্তমান অবিভক্ত সুদানের বিভিন্ন অংশ শাসিত হতো। তুর্কি-মিশরীয়দের দখলে আসার পর তারা ক্ষমতা সুসংহত করার চেষ্টা করে। সেই সময়ে তুর্কি-মিশরীয় উপনিবেশিকদের মূল আকর্ষণ ছিলো শ্রমদাস, সোনা, হাতির দাঁত ও কাঠ সংগ্রহ করা। দক্ষিণ সুদান থেকে আরব বিশ্বসহ বিভিন্ন জায়গায় দাস পাঠানোর ক্ষেত্রে উত্তর সুদানের জনগণ উপনিবেশিকদের সাথে হাত মিলিয়েছিলো। এক কথায়, উত্তর সুদানের জনগণ রাজাকার ছিলো। সেই থেকে সংঘাত শুরু।

    এরপর আসে ব্রিটিশ উপনিবেশিকরা ১৮৯৮ সালে। তারা মিশরীয়দের সাথে সন্ধি করে। ব্রিটিশ-মিশরীয় উপনিবেশিকরা যৌথভাবে ১৮৯৮ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত যৌথভাবে সুদানকে শাসন করে। তবে ব্রিটিশরা আসার পর উত্তর-দক্ষিনের জন্যে আলাদা শাসনব্যবস্থা কায়েম করে।দক্ষিণ সুদানের জন্যে ব্রিটিশরা “বন্ধ দরজা নীতি” (closed door policy) গ্রহণ করে। এর পেছনেও অনেক কারণ ছিলো। উত্তর-দক্ষিণ সুদানের মধ্যে ভৌগলিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় দিকে থেকে অনেক পার্থক্য ছিলো। ধর্মের দিক থেকে দক্ষিণ সুদানের জনগণের বিরাট অংশ খ্রীস্টান। তবে ব্রিটিশদের “বন্ধ দরজা নীতি”র কারণে দক্ষিণের জনগণ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো, তারা অনেক দিক থেকে পিছিয়ে পড়ে।

    অন্যদিকে ব্রিটিশরা উত্তর সুদানে তাদের শাসনকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে। সকল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠে উত্তর সুদান। উত্তর থেতে দক্ষিণকে পরিচালনা করতে থাকে।

    অবশেষে ব্রিটিশরা ১৯৫৬ সালে সুদান থেকে তাদের উপনিবেশ প্রত্যাহার করে নেয়। সুদানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে এবং সমস্ত ক্ষমতা উত্তর সুদানের নেতাদের হাতে বুঝিয়ে দিয়ে যায়। ফলে এ স্বাধীনতায় দক্ষিণের কোন লাভ হয়নি। দক্ষিণ সুদানের জনগণ ব্রিটিশদের এ কাজকে চরম বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে আখ্যায়িত করে।তারা এ স্বাধীনতাকে কেবল প্রভু পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করেছিলো। স্বাধীনতার শুরু থেকেই ক্ষোভ দানা বেঁধে উঠে।

    অন্যদিকে উত্তর সুদানের এলিটরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গিয়ে দক্ষিণের বিষয়গুলোকে পাত্তা দেয়নি। রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে তারা বহুভাষিক, বহু সাংস্কৃতিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কোন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে পারেনি বা করেনি। কাজেই সুদানের রাষ্ট্রীয় সংহতি ও ঐক্য কখনো সুদৃঢ় হয়নি। বরং উত্তর সুদানের এলিটরা দমনপীড়নের মাধ্যমে ও দক্ষিণ সুদানের উপরও ইসলামি ব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়ে দেশ শাসন করার চেষ্টা করেছিলো। এভাবে ক্ষোভ এক সময় গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।

    বিশ বছরের গৃহযুদ্ধ শেষে ব্যাপকভিত্তিক শান্তিচুক্তি [Comprehensive Peace Agreement (CPA)] সম্পাদিত হয় দক্ষিণ ও উত্তরের মধ্যে ২০০৫ সালে। ছয় বছর পর ২০১১ সালে ৯ জুলাই, গণভোটের (৯৮% হ্যাঁ) মাধ্যমে দক্ষিণ সুদানের জনগণ নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই নির্ধারণ করে নেয়। এখানে উত্তর সুদানের করার কিছুই নেই। অন্যকে দোষ দেওয়ারও সুযোগ নেই। অন্যকে অত্যাচার নিপীড়ন করে শাসন ক্ষমতা সুসংহত করা যায়। শাসন করার নৈতিক অধিকারও থাকে না।

    উপরের দুটো দেশের উদাহরণ থেকে বাংলাদেশেরও শিক্ষা নেওয়ার আছে। বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কোন পথ বেছে নেবেন। নিপীড়ন, নির্যাতন ও অস্বীকৃতির নীতি চালিয়ে যাবে? নাকি রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্যে আদিবাসীদের স্থান দিয়ে, স্বীকৃতি দিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে। এখানে বাঙাল শাসক ও এলিটদের মনে রাখতে হবে রাষ্ট্রগঠনে মানে দেশের সংবিধান ও বিধিব্যবস্থা প্রণয়নে আদিবাসীদের একটা দাড়িও নেই, একটি কমাও নেই। কাজেই রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কেবল পূর্ব তিমুর ও দক্ষিণ সুদানের উদাহরণ টেনে টেনে জুজুর ভয় দেখিয়ে দিন কাটাবে নাকি রাষ্ট্রগঠনে আদিবাসী জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে?

    কিছু কথা বলতে গিয়ে অনেক কথা বলা হয়ে গেলো। শেষে যারা বিচ্ছিন্নতাবাদের ভয় দেখায় তাদের মুখে থু থু দিয়ে লেখাটা শেষ করতে চাই। আদিবাসীরা কখনো বিচ্ছিন্ন হওয়ার দাবী করেনি।এখনো করেনি। করেনি বলে সংবিধানে আদিবাসীদের স্বীকৃতির দাবী করছে। আর পাহাড়ে জেএসএস শান্তিবাহিনী গঠন করে অস্ত্র হাতে নিয়েও বলেছিলো, বাংলাদেশের সংবিধানে জুম্মজনগণের অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হোক। সেই সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবী এখনো পুরন হয়নি।

    অতএব, বাঙাল এলিটরা যারা রাষ্ট্রপরিচালনা করছেন, আপনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন পথে হাঁটবেন – সংঘাতে নাকি সামঞ্জস্যে?

    অডঙ চাকমা, ৩০ আগস্ট ২০১১

    • চয়নিকা সেপ্টেম্বর 1, 2011 at 12:09 পূর্বাহ্ন - Reply

      @অডঙ চাকমা, আপনার আলোচনাটাই আমার কাছে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে; কেননা আমার মনে হচ্ছে এ আলোচনা এ বিতর্ক এ নামকরণ সবই ক্ষমতা কাঠামো কর্তৃক উদ্দেশ্য-প্রণোদিত, সংবিধান যদি আদিবাসী, উপজাতি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কিংবা অন্য যে কোনো নামে অধিভুক্তদের স্বীকৃতি প্রদান করে, সমান সামঞ্জস্যে, তাহলে এ নামগুলো অর্থহীন।…..মানুষ স্বীকৃতি পাবে। এ নতুন বিকাশমান বিশ্ব বাস্তবতায় (মানুষ যেহেতু মানুষ হওয়াকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে) মনে হয় রাষ্ট্রগুলোকে জাতীয়তাবোধের উর্ধ্বে চিন্তা করতে হবে।….আপনাকে ধন্যবাদ।

    • উদয়ন তঙ্হঙ্গ্যা সেপ্টেম্বর 1, 2011 at 9:09 অপরাহ্ন - Reply

      @অডঙ চাকমা,
      অাপনার তথ্যবহুল ‍এবং যুক্তিপূণর্ েলখার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। অাপনি বলেছেন যে, “১৯৭২ সালে জেএসএস-এর প্রতিষ্ঠাতা ও তঃকালীন সংসদ সদস্য (বলা যায় একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য) এম এন লারমা যখন সংসদে দাঁড়িয়ে “উপজাতি” হিসেবে সংবিধানে স্বীকৃতি চাইলেন” সরাসরি এভাবে বলাটা ঠিক হবে না। এম এন লারমা চারদফা দাবীনাদামা করেছিলেন যা মূলত: চারদফা সম্বলিত অাঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন। অার সংবিধানে তিনি পাবর্ত্য চট্টগ্রামের বিশেষ শাসিত অঞ্চল হবে মমের্ সংবিধানের সংবিধি ব্যবস্থা প্রবতর্নের দাবী ক‍রেছিলেন। অামার মনে হয়, “এম এন লারমা যখন সংসদে দাঁড়িয়ে “উপজাতি” হিসেবে সংবিধানে স্বীকৃতি চাইলেন” বলাটা ভুল তথ্য প্রদান করবে।
      অাপনার অারো লেখা চাই।

      • অডঙ চাকমা সেপ্টেম্বর 2, 2011 at 5:45 অপরাহ্ন - Reply

        @উদয়ন তঙ্হঙ্গ্যা,

        আপনার মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ। মৌলিকভাবে আপনার সাথে দ্বিমত নেই।

        “উপজাতি” হিসেবে সংবিধানে স্বীকৃতি চাইলেন” সরাসরি এভাবে বলাটা ঠিক হবে না”

        – এই বক্তব্যের সাথে একটু যোগ করতে চাই। এম.এন লারমার সংসদীয় বক্তব্য একটু পাঠ করতে পারেন যদি আপনার হাতে থাকে। সেখানে তিনি অনেক জায়গায় “উপজাতীয় অধ্যূষিত” এলাকা হিসেবে র্পাবত্য চট্টগ্রামের জন্যে বিশেষ স্বশাসিত এলাকা দাবী করেছিলেন। এর একটা অন্তনির্হিত অর্থ হলো, তিনি বাঙালিদের সাথে “উপজাতিদের”ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি চেয়েছিলেন। আর একথার অর্থ এই নয়, এম এন লারমা ইচ্ছাকৃতভাবে উপজাতি হতে চেয়েছিলেন। আর এম এন লারমা “উপজাতি” বলেছিলেন সেটাও ভুল নয়। তিনি যে সময়ে এই দাবী উত্থাপন করেছিলেন সেই সময়ে এটার একটা উপযোগিতা ছিলো। আর “আদিবাসী” শব্দ বা indigenous identity জোরালো ছিলো না। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও “আদিবাসী” ইস্যূ তেমন গুরুত্ব পায়নি। তখন সংখ্যালগঘু বা minority ধারনাটা বেশি প্রচলন ছিলো। সেই সংখ্যালঘু বর্গে আদিবাসীদেরও ঢুকানো হতো। কিন্তু আদিবাসীরা সংখ্যালঘু তত্তের সাথে একমত হতে পারেননি। বিশ্বব্যাপী আদিবাসী নেতাদের দীর্ঘ আন্দোলন ও লবি অ্যাডভোকেসির কারণে অবশেষে জাতিসংঘকে আলাদা করে আদিবাসী অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্র গ্রহণ করতে হয়েছিলো। সেই আন্তর্জাতিক আন্দোলনে অবশ্যই আমাদের জুম্মদেরও ভূমিকা ছিলো, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আন্তর্জাতিক আইনে এখন আর “উপজাতি” শব্দটা গ্রহণযোগ্য নয়, আর জাতিসংঘের দলিলে “উপজাতি” শব্দ ব্যবহার বলতে গেলে আর হয় না। বাংলাদেশেও আমরা এখন আর পেছনে ফিরে যেতে চায় না। “উপজাতি” শব্দ আর গ্রহণ করতে চায় না।

  6. মাহবুব সাঈদ মামুন আগস্ট 30, 2011 at 4:22 অপরাহ্ন - Reply

    সর্বোপরি, একটি স্বাধীন, সার্বোভৌম ভূখন্ডে অবস্থিত জাতিসমূহের মাঝে বিদ্বেষ জিইয়ে রাখা হয় কার স্বার্থে… !?! কী সাঁওতাল, কী বাঙালি, কী চাকমা, কী হাজং, মারমা, রাখাইন- প্রত্যকেরই তো মূল পরিচয় আসলে মানুষ… নষ্টদের উদ্দেশ্য আমরা নির্বোধেরা আরো কতদিন সময় নিবো বুঝতে?!

    (Y)

  7. নিঃসঙ্গ বায়স আগস্ট 30, 2011 at 3:38 পূর্বাহ্ন - Reply

    *** কিন্তু রাষ্ট্র তাদের সেই অবস্থানকে সুনজরে নিয়ে পরিকল্পনাতে অগ্রসর হয় নি!!!

  8. নিঃসঙ্গ বায়স আগস্ট 30, 2011 at 3:35 পূর্বাহ্ন - Reply

    @টেকি সাফি ও হারানো সুর, আপনাদের উভয়ের প্রশ্ন উদ্দেশ্য ভিন্ন হলেও একই উত্তর দেওয়া যায়… আসলে আমি যে তিনটি লিঙ্ক দিয়েছি, তা এই প্রশ্নগুলোরই উত্তর দেয়… আপনারা কষ্ট করে একটু লিঙ্কগুলোতে ঢু মেরে আসুন, আপনাদের প্রশ্নের উত্তর ছাড়াও আরো অনেক প্রশ্নের উত্তর পাবেন। আর হ্যাঁ, টেকি সাফি, ভারতের বিষয়টিকে বারবার উত্থাপন করেছি বিষয়টিকে লেজিস্টিমেসি দেওয়ার জায়গা থেকে নয়, বরং এই আলোচনাতে একটা বড় ইস্যু হিসেবে দাঁড়ায় ভারত তার ভিতরে বিরাজমান অভ্যন্তরীণ জাতিগত বৈচিত্র্যের জন্যই। সেখানে বিচ্ছন্নতাবাদী আন্দোলন, মাওবাদী আন্দোলন, তার সাথে আদিবাসী জাতিগুলোর সম্পৃক্ততার ইতিহাস কিন্তু বেশ পুরানো। বাকী বিষয়গুলো আরো স্পষ্ট হবেন প্রদেয় লিঙ্ক গুলোতে গিয়ে বিভিন্ন আলোচনার প্যাটার্ণ ও বিষয়বসস্তু লক্ষ করলে। আদিবাসীরা যারা বাংলাদেশ রাষ্ট্র কে আরো আপন করে নিতে চেয়েছিলো সংবিধানে অবস্থান নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে, কিন্তু রাষ্ট্র তাদের সে অবস্থানকে সু নজরে নিয়ে পরিকল্পনাতে ছিলি না

  9. হারানো সুর আগস্ট 29, 2011 at 9:17 অপরাহ্ন - Reply

    ২০০৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ইউ এন এর সাধারণ পরিষদ একটি রেজুলেশন পাস করে যার নম্বর ৬১/২৯৫ । ওই রেজুলেশনে মোট ৪৬ টি অনুচ্ছেদ আছে ।
    রেজুলেশনের চতুর্থ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে
    “আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ বা স্থানীয় বিষয়ে নিজস্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসন বা নিজ সরকার (self government) পরিচালনার অধিকার থাকবে ।”

    রেজুলেশনের পঞ্চম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে

    “ আদিবাসী জনগোষ্ঠী তাদের আইনী ব্যাবস্থাসহ সতন্ত্র রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক,সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজস্ব অবকাঠামো তৈরি এবং উন্নয়নের অধিকার সংরক্ষন করে ।”
    তাই কোনভাবে একবার আন্তর্জাতিক মহলে যদি প্রতিষ্ঠা করা যায় যে বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে আদিবাসীদের বসবাস ,তাহলে পার্বত্য অঞ্চলে যে বাংলাদেশ সরকারের অধীনে না থেকে একটি পৃথক সরকার ও রাষ্ট গঠিত হবে।
    আপনি বার বার ভারতের উদাহরন টেনেছেন, কিন্তু ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করলেন না, ভারত যে সিদ্ধান্ত নিতে পারে পরনির্ভরতার বেড়াজাল ভেঙে আমরা কি তা নিতে পারি?

    • বিপ্লব রহমান সেপ্টেম্বর 2, 2011 at 1:56 অপরাহ্ন - Reply

      @হারানো সুর,

      তাই কোনভাবে একবার আন্তর্জাতিক মহলে যদি প্রতিষ্ঠা করা যায় যে বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে আদিবাসীদের বসবাস ,তাহলে পার্বত্য অঞ্চলে যে বাংলাদেশ সরকারের অধীনে না থেকে একটি পৃথক সরকার ও রাষ্ট গঠিত হবে।

      মাফ করবেন। বিশ্বের অসংখ্য দেশ আদিবাসীর স্বীকৃতি দিয়েছে। তারা কী এতে মূলভূখণ্ড থেকে স্বাধীন/ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে? পার্বত্যবাসী তো কখনোই স্বাধীনতা/বিচ্ছিন্নতার আন্দোলন করেনি। বরং এখন তারা সাংবিধানিক স্বীকৃতি দাবি করে রাষ্ট্রের সঙ্গে আরো পাকাপোক্ত সংযুক্ত হতে চাইছেন। তাহলে অহেতুক এই বিচ্ছিন্নতার জলপাই-ভূত কেন? 😕

  10. টেকি সাফি আগস্ট 29, 2011 at 11:04 পূর্বাহ্ন - Reply

    আমি যা বুঝলাম তাহলে আদিবাসী এর সন্ধি-বিশ্লেষন করে তার উপর ভিত্তি করে সঙ্গায়ন করতে যাওয়াটা বোকামি হচ্ছে। ঠিক?

    মোটামুটি একমত শুধু একটু অংশে আরেকটা প্রশ্ন থেকে গেছে…ইন্ডিয়া কী করল, রিস্ক বুঝলো নাকি বুঝলো না সেটা আমার মাথাব্যাথা না। এবং রিস্ক কেন নেই সেটা ইন্ডিয়ার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করটা আমার পছন্দ হয়নি, কারণ দুনিয়ার সবাই গু খেলেও গু খাওয়া ঠিক নাকি বেঠিক তা খাদক সংখ্যার বা খাদকদের মধ্যে কোন মুনি আছেন সেটা ফোর্থ সাবজেক্ট। তাই রিস্ক আছে কী নেই সেটা যুক্তির ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করলে আরেকটু উপকৃত হতাম।

    (Y)

  11. সপ্তক আগস্ট 29, 2011 at 7:49 পূর্বাহ্ন - Reply

    পাহাড়ি কে? , আদিবাসি কে? বা এ অঞ্চলে প্রথম কাদের আগমন ?এগুল নৃতাত্ত্বিক গবেষণার বিষয় । আমি যেটা বুঝি পাহাড়ি বা সমতল এর যারা আদিবাসি যাদের ভাষা , সংস্কৃতি আমাদের বাঙ্গালীদের চেয়ে ভিন্ন তা সুরক্ষা করার দায় আমাদের বাঙ্গালীদের বা সরকারের । সবচেয়ে সন্মান দিতে হবে পাহাড়ি ভাইদের যেরকম আমরা বাঙ্গালিদের একে অপরকে দেই । শুধুমাত্র প্রাপ্য সন্মান পেতেন না বলে ই বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান থেকে আলাদা হবার চিন্তা করেছিলেন , পাকিস্তানি রা বাঙ্গালিদের হিন্দু ই মনে করত ! । কিন্তু দুখজনক ভাবে বঙ্গবন্ধু আদিবাসিদের বাঙালি হয়ে যেতে বলেছিলেন । জা ছিল একজন নেতার চরম অদূরদর্শী মতামত । আজও তার ই জের চলছে । আমরা যেমন হানাদার বাহিনির দারা নিরজাতিত হএছিলাম , এখন হছছেন আমাদের পাহারি বা সমতল এর আদিবাসি ভাইয়েরা । এটা আত্মঘাতী ।।

মন্তব্য করুন