এই মৃত্যুউপত্যকাই আমার দেশ

নাজিম হিকমত বলেছিলেন, “বিংশ শতাব্দীতে শোকের আয়ু এক মাস”, কিংবা হয়তো কাম্যুর আউটসাইডারের নায়কের মতো অনেকেই ভুলেই যাই আমরা কখন মারা গেছে আমাদের মা। বাস্তবতা খুব যন্ত্রণাদায়ক আর কর্কশ বলে সন্তানশোক ভুলেও আমাদের যন্ত্রবৎ নেমে পড়তে হয় আবারো জীবনসংগ্রামে।
কিন্তু, এর মধ্যেও কিছু মৃত্যু পর্বতের চাইতেও ভারি হয়ে নেমে আসে আমাদের মনে, পথে। গত ১৩ অগস্ট, ২০১১ দিনটা এমনি এক বুকে পাথরচাপানো অমাবস্যার রূপ নেয়, যখন গতিদানবের এক ঝটকায় মুহূর্তে লাশ হয়ে মাটিতে পড়ে থাকেন এই বাংলার এমুহূর্তের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রকর তারেক মাসুদ, এসময়ের সেরা একজন দৃশ্যমান গণমাধ্যমকর্মী আশফাক চৌধুরী মিশুক, তাঁদের চালক এবং দুজন প্রডাকশন কর্মী। এখন সবাই জেনে গেছেন অনেক কিছুই, তাই নতুন করে কিছুই জানানোর নেই, শুধু ব্যক্তিগত কিছু অর্থহীন এবং মূল্যহীন কথা বলার জন্যেই এই অন্তঃসারশূন্য কথকতা। তবে, তার আগে বলি, এটা দুর্ঘটনা নয়, নৃশংস এক হত্যাকাণ্ড। এবং, আমরাই এর দায়ভার বহন করি পরোক্ষে।

তারেক মাসুদের সাথে আমার সরাসরি আলাপ হয় নি কখনোই, যদিও সুযোগ পেয়েছিলাম একবার। গত ডিসেম্বরে এসেছিলেন তিনি আমাদের শহরে, খুব প্রিয় ছিলো তাঁর এই শহর। তিনি তাঁর একাধিক ছবির প্রথম প্রদর্শনী করেছেন এই শহরেই। এখানেই যে থাকেন তাঁর প্রিয়তম বন্ধু শিল্পী এবং চবির চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক ঢালী আল মামুন, যিনিও সস্ত্রীক ছিলেন সেই পরিবহনটিতে এবং এখনো পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত নন, এবং বিশদ বাংলার পরিচালক আলম খোরশেদ। তাঁর সাম্প্রতিকতম ছবি ‘রানওয়ে’-র (২০১০) প্রথম বাণিজ্যিক প্রদর্শনী হয় আমার শহরেই আমাদেরই চলচ্চিত্র কেন্দ্রের সহযোগিতায়। ব্যক্তিগত নানা সমস্যায় জর্জরিত আমি হারিয়েছি তাঁর সাথে মুখোমুখি আলাপের সুবর্ণ সুযোগটি। গতকাল সেই চলচ্চিত্র কেন্দ্রের শোকসভায় শুনছিলাম নানান জনের স্মৃতিচারিতা এবং ভাবছিলাম আবোলতাবোল অনেক কিছুই।

সবচাইতে মূল্যবান ছিলো আলম খোরশেদের ব্যক্তিগত স্মৃতিকথন। বুয়েটের প্রাক্তন ছাত্র এবং ভূতপূর্ব আমেরিকা-কানাডা প্রবাসী আলম খোরশেদ তারেক মাসুদের সাথে আত্মার বাঁধনে আবদ্ধ ছিলেন অনেক দিন ধরেই। এমনকি, মিশুক মুনীরের স্ত্রী মঞ্জুলা কাজী, যিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের পথিকৃতদের অন্যতম কাজী হাবীবের কন্যা, ছিলেন আলম খোরশেদের ‘প্রিয়সখী’। কত দিন, কত রাত, কত প্রিয় মুহূর্ত তাঁরা একসাথে কাটিয়েছেন তার বিবরণ দিতে গিয়ে খোরশেদ ভাই অপারগ বিধায় আর্টসবিডিনিউজের জন্যে লেখা চটজলদি অগোছালো লেখাটিই তিনি পাঠ করলেন। হয়তো ভবিষ্যতে সেটি আলোর মুখ দেখবে।

তাঁর এবং অন্যদের কথা আর এই কয়দিনের নানা লেখা থেকে শুধু একটাই কথা বোঝা যাচ্ছিলো, কী গভীর আর নিবিড় ছিলো তাঁদের দেশপ্রেম। “রক্ত কথা বলে” নামের অবৈজ্ঞানিক তত্ত্বটিতে আমার কখনোই শ্রদ্ধা ছিলো না, কিন্তু কুসংস্কারাচ্ছন্ন কেউ অতিভক্তি দেখাতে তাঁদের দুজনকে বেছে নিতেই পারতেন। শহীদ মুনীর চৌধুরীর তিন পুত্রের অন্যতম আশফাক চৌধুরী মিশুক নানান সুযোগ পেয়েছিলেন বিশ্বের সেরা কিছু গণমাধ্যমে কাজ করার এবং সেখানেই পেশাজীবী জীবন গড়ার। সবকিছু পেছনে ফেলে তিনি স্রেফ দেশে কিছু দেবেন বলে ছুটে এলেন এখানে। তেমনি তারেক মাসুদও। তাঁর পিতাও, যিনি প্রয়াত হয়েছেন মাত্র সপ্তাখানেক আগে, ছিলেন প্রেসিডেন্সি কলেজের বিখ্যাত মেধাবী ছাত্র। তাঁর সঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন হুমায়ুন কবীর প্রমুখ। ইংরেজি সাহিত্যে প্রথম শ্রেণী পাওয়া মানুষটা যে-অবোধ্য কারণে ফরিদপুরের অজপাড়াগাঁয়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার জীবন বেছে নেন, বোধহয় সেই ‘রক্তের টানে’ই তারেক মাসুদও দুগ্ধমধুর দেশ আমেরিকা ছেড়ে ঠাঁই নেন বাংলা নামে দেশে। এপ্রসঙ্গে না বললেই নয় তাঁর সুযোগ্য স্ত্রী ক্যাথরিনের কথা যিনি বাংলার সংস্কৃতির সাথে, বাংলার ভূগোলের সাথে একাত্ম হয়ে গেছেন ও আছেন দীর্ঘদিন থেকে। তাঁর পিতামহের পিতামহ হিরাম বিংহাম প্রথম ইউরোপীয় হিসেবে উঠেছিলেন মাচ্চু পিচ্চুর চূড়ায়, এই নামটি সত্যজিৎ ব্যবহার করেছিলেন ‘আগন্তুক’ ছবিতে। সামগ্রিকভাবে পরিবার হিসেবেই তাঁরা যথেষ্ট পরিশীলিত, সংস্কৃতিবান এবং বনেদি। অর্থবিত্তে নন, সংস্কৃতি চর্চাতেই তাঁরা দীর্ঘকাল ধরেই ঋদ্ধ। অর্থনীতির মেধাবী ছাত্রী ক্যাথরিন যে কিসের টানে এই দেশের একটা এনজিওতে চাকরি করতে আসেন, কেনই বা এখানের শিল্পজগতের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যান আর কেনই বা তাঁর শেকড় ছড়িয়ে দেন এখানে, গাঁটছড়া বাঁধেন তরুণ নির্ধন স্বাপ্নিক ইতিহাসের ছাত্র এক চলচ্চিত্রকারের সাথে, সে-রহস্য হয়তো আমাদের তথাকথিত ‘বাস্তববাদী’ মন কখনোই উদ্ঘাটন করতে পারবে না। শিল্পকে ভালোবাসার আর ভালোবাসায় শিল্পমগ্ন হওয়ার আন্তঃসম্পৃক্তি কখনোই আমাদের গড়পড়তা দৃষ্টির সীমানায় বোধগম্য হবে না। যেমন হবে না মাসুদ দম্পতির সেই পারিবারিক জীবনে ভূমিকা বদলের কাহিনি। লিয়ার লেভিনের সাথে কাকতালীয় পরিচিতির পর সেই দম্পতির একমাত্র ধ্যানজ্ঞানআরাধ্য হয়ে দাঁড়ায় সেই হাজার হাজার ফুটেজের ফিল্মগুলো জনসমক্ষে তুলে আনার। ক্যাথরিন কাজ নেন সিটিব্যাংক এন. এ.-তে। মাসুদ যথারীতি ঘরের হাল সামলান, পাশাপাশি তাঁর বাড়িওয়ালার ঘরে রং আর মেরামতির কাজ করে একটা সম্পাদনার যন্ত্র ভাড়ার টাকা যোগাড় করেন। অতন্দ্র রাত আর শ্রমময় দিন পেছনে ফেলে অক্লান্ত ছুটে-চলার ফলাফল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অনবদ্য, অবিশ্বাস্য রূপায়ণ ‘মুক্তির গান’।

আমার আজও মনে পড়ে সেই দিনের কথা যখন আমি পর্দায় সেই আবেগথরথর ছবিটা দেখছি আর আমার সর্বাঙ্গে দেখা দিচ্ছে কাঁপন আর বুকের ভেতর ঢেউ তুলছে প্রবল পরাক্রান্ত মুক্তিযুদ্ধ। আমি বুঝতে পারছি কাকে বলে মুক্তিযুদ্ধ, কিসের নাম একাত্তর। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না, মুক্তিযুদ্ধের এতো অসাধারণ চিত্রায়ণ এতোদিন আমাদের চোখের আড়ালে ছিলো। সে এক অদ্ভুত অন্ধকার সময় ছিলো এই জনপদে। আমাদের প্রজন্মের অনেকেই জানতো না মুক্তিযুদ্ধের আসল ইতিহাস। গণমাধ্যমগুলোতে কিছুটা এলেও একমাত্র সরকারি দৃশ্যমাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীর পরিচয় ছিলো ‘হানাদার বাহিনী’, রাজাকার-আলবদর নামে ঘৃণ্য যে দালালেরা ছিলো আমাদের দেশে, তারা তখন তৎপর রাজনৈতিকভাবে। কেউ তাদের প্রবলভাবে অস্বীকারের সাহস দেখায় না এক অরাজনৈতিক ‘ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’ বাদে। তারাও মাঠে-ময়দানে সশস্ত্র সহিংস প্রতিরোধের মুখোমুখি হয় যুবকমান্ড নামে ভৌতিক একদল দ্বিপদ জানোয়ারের হাতে। একজন আধাআধি সেক্টর কমান্ডার তখন কালো সানগ্লাস পড়ে দেশের মরণোত্তর মেসাইয়া হয়ে বসেছেন, সম্ভবত তাঁর ছবি বুকে রেখেই তাবিজ বানিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো, সম্ভবত তিনিই সাত মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন রেসকোর্স ময়দানে, সম্ভবত তিনিই ছয়দফা নামের এক জোরালো দাবি ছুঁড়ে দিয়েছিলেন পাকিস্তানের মুখের দিকে। শেখ মুজিব নামের কোন হারামির বাচ্চা দেশকে অতল গহ্বরের দিকে ঠেলে দিচ্ছিলো তার খবর কে রাখে? ওই হার্মাদের হাত থেকে দেশ বাঁচানো যে গেছে সেটাই তো বিশাল আনন্দের কথা, রীতিমত জন্মদিনের আনন্দ! পাঠ্যবই তো বটেই, এমনকি গণমাধ্যমেও মুজিব নেই, কোথাও নেই। মুক্তিযুদ্ধ যেন হাওয়া থেকে পাওয়া!

সেই মুমূর্ষু সময়ে ‘মুক্তির গান’ যে ঠিক কী এনে দিয়েছিলো আমাদের তরুণ হৃদয়ে, একাত্তুরের চেতনার আগুনে মশাল কতটা গনগনে করে জ্বালিয়েছিলো, মুক্তিযুদ্ধের অভিঘাত আমাদের বুকে কতটা বিরাট করে দামামা বাজিয়েছিলো, তার হিসেব তো ইতিহাস লিখে রাখে না। শুধু তারেক মাসুদ আমাদের কাছে মুক্তিযোদ্ধার এক আধুনিক অনন্য প্রতীক হয়ে ওঠেন। শুধু এই কুৎসিত অন্ধকার থেকে উত্তরণের এক অতুল সূর্যসঙ্গী হিসেবে তিনি চিরশ্রদ্ধেয় হয়ে থাকেন। শুধু অমরত্বের তালিকায় ওপরদিকের একটা নাম হিসেবে নীরবে ছাপটা থেকে যায়।

এরপর তাঁর নানা কাজ দেখেছি এবং নিঃসংকোচে তাঁকে মেনে নিয়েছি এসময়ের সেরা চলচ্চিত্রকার হিসেবে। তাঁর সমকালীন অন্যেরা যখন জাতীয় পর্যায়টাই উন্নত করতে লড়ছেন, তখন তিনি এক ঝটকাতেই নিজেকে নিয়ে গেছেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। এবং তাঁর নিশ্চুপ কমরেড হিসেবে মিশুক মুনীর বারবার অনন্যসাধারণ সঙ্গত করেছেন, তাঁকে উপহার দিয়েছেন নিখুঁত এক মানিকজোড়ের আশ্বাস, আমৃত্যু, আইরনিকভাবেই।

মানুষ হিসেবে দুজনই ছিলেন মুক্তমনা।

সর্বার্থেই।

তারেক মাসুদের দেড় বছর বয়েসি সন্তানের নাম ছিলো বিংহাম পুত্রা মাসুদ নিষাদ। স্ত্রীর বংশীয় পদবি সন্তানকে উপহার দেওয়ার মানসিকতা কজন তথাকথিত ‘প্রগতিশীল’ দেখাতে পেরেছেন? তারেক ছিলেন নিষিদ্ধঘোষিত রাজনৈতিক দলের একনিষ্ঠ কর্মী। তিনি তাঁর অন্য অনেক সঙ্গীর সাথে বাস করতেন ‘কমিউনে’। ভাগ করে নিতে শিখেছিলেন সবকিছুই অন্যদের সঙ্গে। ‘ডিক্লাসড’ বা ‘শ্রেণীচ্যুত’ হওয়ার সাধনায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি মানুষকেই সর্বাগ্রে ঠাঁই দিয়েছিলেন তাঁর জীবনে ও কর্মে। এবং, সে-মানুষ বাংলার। অথচ, এই মানুষটির মৃত্যুর পরই ফেসবুকে একজন মার্ক্স-লেনিন-স্ট্যালিনপ্রেমী কমিউনিস্ট-চেতনার মানুষ মন্তব্য করেন যে, এসব সেলিব্রেটির মৃত্যু তাঁর মনে কোন দাগ কাটে না। তিনি বরং অনেক চিন্তিত শত শত শ্রমিকের সড়ক দুর্ঘটনায় অকালমৃত্যুতে। আসলেই, মানবতা কখনোই কোন দর্শনের ফ্রেমে আঁটে না-রাজনৈতিক বা ধর্মীয়। আমরা আশা করবো তিনি আত্মীয় বা তাঁর পছন্দের মানুষদের অকালদুর্ঘটনার দুঃখও ভুলে যাবেন হাজারো এমনি মৃতদের কথা ভেবে।

তাঁর আশির দশকের প্রথম ছবি ‘আদম সুরত’ যে-চলচ্চিত্রকার নিয়ে নির্মিত, সেই এস এম সুলতানও তো মাটির টানেই বিদেশের সম্মান ও সম্ভাবনা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে চলে আসেন নড়াইলের প্রত্যন্ত গ্রামে। তাঁর কথা বলতে গিয়ে তারেক মাসুদ তো আসলে বাংলার আবহমান শিল্পীর, শিল্পধারার কথাই বলেন। সেই সময় থেকেই তো মিশুক মুনীর তাঁর ছায়াসঙ্গী।

এই সেই মিশুক মুনীর যিনি কাজ করেছেন দেশ-বিদেশের নানা দৃশ্যশ্রাব্যমাধ্যমে, কাজ করেছেন আন্তর্জাতিক মানের তথ্যচিত্রে, বাংলার দৃশ্যমাধ্যমগুলোকে দিয়েছেন উন্নততর মান। মনে থাকবে হয়তো অনেকের একুশে টিভির কথা, যা বাংলাদেশের সংবাদ পরিবেশনা, উপস্থাপন ও সংগ্রহে দেখিয়েছিলো অদ্বিতীয় মুনশিয়ানা। আজও সেই মানের কাছাকাছিও পৌঁছুতে পারে নি কেউ। এটাও মিশুক মুনীরেরই অবদান। পর্দার পেছনে থেকে দৃশ্যমান পর্দাটি কত রুচিসম্মত, আধুনিক এবং জনতার প্রিয়তম করে তোলা যায়, সেটা তিনি করে দেখিয়েছেন হাতে-কলমে। পরিচিত ছিলেন ‘বাংলার সাইমন ড্রিং’ নামে। অসম্ভব কাজপাগল, আত্মপ্রচারবিমুখ এই মানুষটির অন্তিম ইচ্ছে ছিলো নিজের দেহদান করে যাওয়ার। কানাডায় তিনি এই কাজটি করেছিলেন, কিন্তু দেশে এসে নানান ব্যস্ততায় এখানে তাঁর সেই ইচ্ছের দালিলিক প্রতিফলন তিনি ঘটাতে পারেন নি। তাঁর স্ত্রীর এখনো সেই আশা, কিন্তু আর সম্ভব হবে কি তাঁর মুক্তমনের বাস্তবায়ন ঘটানোর সুযোগ পারিপার্শ্বিকের ধর্মীয় ও সামাজিক চাপে?

এই মৃত্যুও আমরা ভুলে যাবো কিছুদিন তাঁদের স্মৃতিবিক্রির পরেই। আবারো অপেক্ষায় থাকবো কখন রাষ্ট্রবিধাতার আসনে বসা শ্রদ্ধেয় মাননীয় শুয়োরের বাচ্চারা এরকম আরো অকালমৃত্যুর পরে মধুর নসিহত করবেন। সম্প্রতি সরকারের তরফ থেকে মহতী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে প্রায় চব্বিশ হাজার ঘাতককে মানুষখুনের লাইসেন্স দিয়ে স্টিয়ারিং হাতে দিয়ে রাস্তায় নামানোর কোনরকমের পরীক্ষা ছাড়াই। এক মহান শ্রমিক নেতা-কাম-মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় নামক বাঞ্চোতটির হুমকিতে পিছু হটেছেন খোদ যোগাযোগ মন্ত্রী। প্রলেতারিয়েতরাজ কায়েম হলো বলে! সেই মন্ত্রী হুমকি দিয়েছেন এসব লাইসেন্স দেওয়া না হলে দেশ অচল করে দেওয়া হবে। বিরোধী দলের দরকারটাই বা কী? আমরা শালা পাবলিক নামের চুতিয়া মেরুদণ্ডহীন কৃমিরা মিলিটারির বুটের লাথি খাই ব্লাডি সিভিলিয়ান হিসেবে আর গণতন্ত্রের ধ্বজাধারীরা দিনেরাতে আমাদের পাছা মেরে যায় জুতোর শুকতলার ময়লা হিসেবে। আর আমরা মহানন্দে দুবাহু তুলে নেত্য করতে করতে গণতন্ত্রের মহোৎসবে গিয়ে পাঁচ বছর পর পর ঠিকেদারি দিয়ে আসি কারা আমাদের পশ্চাদ্দেশ রক্তাক্ত করবে সেই ভারটি। ১৫ই অগস্ট একদল কাঁদোকাঁদো মুখের অভিনয় করবে, আরেকদল হাসতে হাসতে কেক কাটবে, ছবি তুলবে ঠেলাঠেলি করে। আর আমরা দুদলকেই পালা করে সালাম দিয়ে পাছা পেতে দেবো।

আবার সড়ক, নৌপথে দুর্ঘটনায় মারা যাবে হাজার হাজার, লাখো লাখো লোক, পৃথিবীতে আমরা রেকর্ড করবো, নাম তুলবো গিনিস বুকে, ধেইধেই করে নাচবো আন্তর্জাতিক খ্যাতির মহানন্দে, রাষ্ট্রের মদতে এভাবে খুন চলতেই থাকবে, চলতেই থাকবে, আমরা ধর্ষিত হতেই থাকবো, হতেই থাকবো…

উই ডিজার্ভ ইট, উই রিয়েলি, ট্রুলি, এবসোল্যুটলি ডিজার্ভ ইট।

মুক্তমনা ব্লগ সদস্য

মন্তব্যসমূহ

  1. হোরাস আগস্ট 19, 2011 at 9:34 পূর্বাহ্ন - Reply

    আমি বাংলাদেশের ভবিষ্যত নিয়ে খুবই শংকিত। আর দশ বছর পরে কি হবে সেটা ভেবে ভয়ানক আতংকিত।

    এ মূহূর্তে আমাদের চাই একজন আন্না হাজারিকা যার পিছনে দাড়িয়ে দেশে একটা নব জাগরনের সৃষ্টি করা সম্ভব হলেও হতে পারে।

    • ব্রাইট স্মাইল্ আগস্ট 19, 2011 at 8:03 অপরাহ্ন - Reply

      @হোরাস,

      এ মূহূর্তে আমাদের চাই একজন আন্না হাজারিকা যার পিছনে দাড়িয়ে দেশে একটা নব জাগরনের সৃষ্টি করা সম্ভব হলেও হতে পারে।

      (Y)

      • মিলন আগস্ট 24, 2011 at 9:22 পূর্বাহ্ন - Reply

        @ব্রাইট স্মাইল্,ভাই আপনের সাথে আমি একমত এই মুহুত্যে আন্না হাজারির বড় প্রোয়জন।

  2. মাসুদ রানা আগস্ট 17, 2011 at 11:18 অপরাহ্ন - Reply

    তারেক মাসুদের প্রস্থান যেন দেশ হতে মুক্ত সংস্কৃতির প্রস্থান । এতে সহযগিতা করল স্বয়ং রাষ্ট্রযন্ত্র । বি আর টি এ এর দুর্নীতি তথা যোগাযোগ মন্ত্রনালয় এর দুর্নীতির কারণে যাকে তাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হয় । অন্যদিকে পুলিশ তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্থতার জন্য মহাসড়কে যান চলাচল দুর্বিনীত । একেকটা যান যেন একেকটা অসুর। যোগাযোগ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বার্থতার দায়ভার প্রধানমন্ত্রীও এড়িয়ে যেতে পারেন না । তাই তারেক মাসুদ ও মিশুক মনির এর মৃত্যু তে প্রধানমন্ত্রী দায়ী একথা কি বলা যাবেনা ? বিচার করবেন মুক্তমনার পাঠকবৃন্দ।

  3. হেলাল আগস্ট 17, 2011 at 4:18 অপরাহ্ন - Reply

    হাসিনা-খালেদা থাকতে দেশে পরিবর্তনের হাওয়া আসবেনা। এই আবুল চামচারাই মন্ত্রীত্ব পাবে। ভাল নেতারা হয় রাজনীতি ছেড়ে দেবে নইলে তারাও চামচাদের দলে যোগ দেবে। পরিবর্তন আনতে হলে এই দুই পরিবারকে এখনই না বলুন। তা না হলে রাস্তা-ঘাট যেমন ভেঙ্গে পড়েছে, তেমনই অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়বে, মানবতা ভেঙ্গে পড়বে, তারেক মাসুদ- মিশুক মনিরদের মত দেশের রত্নরা হারিয়ে যাবে, সর্বোপরি দেশ পাকিস্তানে রুপান্তর ঘটবে।

  4. পৃথিবী আগস্ট 17, 2011 at 1:31 অপরাহ্ন - Reply

    এখন আর দোকানে তারেক মাসুদের ডিভিডিগুলো পাওয়া যাচ্ছে না, পুরা সোল্ড আউট।

  5. স্বপন মাঝি আগস্ট 17, 2011 at 11:13 পূর্বাহ্ন - Reply

    যে কোন অকাল মৃত্যুই বেদনাদায়ক। কোন কোন মৃত্যু মানুষকে অতিমাত্রায় আন্দোলিত করে, মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে, সহ্যের সুশীল খাঁচা থেকে বেরিয়ে, নেমে আসে পথে।
    এটা বুঝবার বোধ-বুদ্ধি যাদের নেই, তাদেরকে সমালোচনার আসরে নামানো, সময়ের অপচয়।
    মূল লেখা এবং পাঠকদের মন্তব্যের পাঠ-প্রতিক্রিয়া।

  6. কাজী রহমান আগস্ট 17, 2011 at 11:10 পূর্বাহ্ন - Reply

    মামলা, নাগরিকদের পক্ষ থেকে, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পক্ষ থেকে, মানবতাবাদী সংগঠনের পক্ষ থেকে, উপযুক্ত অন্য সকলের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরনের মামলা করতে হবে। সড়ক জনপথ সরকার মন্ত্রী চালক ইনুরেন্স ইত্যাদি সবার বিরুদ্ধে মামলা করে আদায় করতে হবে। উদাহরন সৃষ্টি না হলে তো এসব করে সবাই পার পেয়ে যাবে, বার বার করবে। মাথা ঠুকবে অসহায় নাগরিক, সুনাগরিক। চক্রাকারে এসব চলতেই থাকবে।

    • স্বপন মাঝি আগস্ট 17, 2011 at 11:16 পূর্বাহ্ন - Reply

      @কাজী রহমান,
      মামলার করার ক্ষমতা ক’জনের আছে?

      • কাজী রহমান আগস্ট 17, 2011 at 11:51 পূর্বাহ্ন - Reply

        @স্বপন মাঝি,

        বাংলাদেশে মামলার যে আচার তাতে টাকার খেলা হলে মার্কিন স্টাইলে মামলাবাজ উকিলের জন্ম হবে, টাকা দাবী করে ক্ষতিপূরনের মামলা হবে। নিশ্তিত জয় হবার মত মামলা উকেলেরা নেবে এবং জয় পরবর্তী টাকা থেকে উকিল তার ফি বুঝে নেবে।

        বাংলাদেশে শেয়ার ব্যাবসা আগেও ছিলো। মানুষ জানতো না কি করে তা করতে হয়। এখন জানে। নাচতে নেমে ঘোমটা টেনে লাভ কি? এখন মামলা করেই সরকার ও নাগরিকের আচরণ নিয়মের মধ্যে আনতে হবে।

  7. মার্ক শুভ আগস্ট 17, 2011 at 2:24 পূর্বাহ্ন - Reply

    গেল গেল রব উঠল মিডিয়া কর্মীরা নিউজে কাভার করতে ব্যস্ত, তথাকথিত সাংস্কৃতিক জগতের ছিচঁ কাঁদুনে লোকজনও তাদের অনুভুতি ব্যক্ত করতে ব্যস্ত । যেই লোকটাকে কবর দেয়া শেষ….সব শেষ…আবার সবাই আর একটি উপলক্ষ্যের আশায় থাকে, কবে মরবে কেউ…আর এটকু হাউমাউ করা যাবে…নিজেকে আরও দেখানো যাবে…..!! :lotpot:

    • ব্রাইট স্মাইল্ আগস্ট 17, 2011 at 6:19 অপরাহ্ন - Reply

      @মার্ক শুভ,

      আবার সবাই আর একটি উপলক্ষ্যের আশায় থাকে, কবে মরবে কেউ…আর এটকু হাউমাউ করা যাবে…নিজেকে আরও দেখানো যাবে…..!!

      ঠিক বলেছেন, এই না হলে বাঙলাদেশ!!

  8. রাহনুমা রাখী আগস্ট 16, 2011 at 7:46 অপরাহ্ন - Reply

    দারুন! জ্বালাময়ী এমন বক্তব্যই চাই। (Y)
    টিভি চ্যানেলে নিউজ দেখতে গিয়ে তারেক ও মিশুকদের লাশ দেখলাম…এরপরেই শুরু হল রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী নেত্রীর ন্যাকা কান্না…
    এতো দুর্ঘটনা, এতো অব্যবস্থাপনা, এতো মৃত্যু এরপরেও এদের কি শোক প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই!
    উনাদের শোক গাথা শুনেই মেজাজ গেলো খিঁচড়ে। বন্ধ করে দিলাম টিভি…
    আর কত হারবো আমরা!

  9. সুর আগস্ট 16, 2011 at 3:49 অপরাহ্ন - Reply

    যতদিন আমরা নিজেরাই রাজনীতিতে না আসবো, ততদিন এসব ইতরদের শাসনেই আমাদের থাকতে হবে, তাদের সব ইতরতা মেনে নিতে হবে, তাদের সব ইতরতা হজম করতে হবে।

    ভাল বলেছেন।

  10. লীনা রহমান আগস্ট 16, 2011 at 3:40 অপরাহ্ন - Reply

    বিরোধী দলের দরকারটাই বা কী? আমরা শালা পাবলিক নামের চুতিয়া মেরুদণ্ডহীন কৃমিরা মিলিটারির বুটের লাথি খাই ব্লাডি সিভিলিয়ান হিসেবে আর গণতন্ত্রের ধ্বজাধারীরা দিনেরাতে আমাদের পাছা মেরে যায় জুতোর শুকতলার ময়লা হিসেবে। আর আমরা মহানন্দে দুবাহু তুলে নেত্য করতে করতে গণতন্ত্রের মহোৎসবে গিয়ে পাঁচ বছর পর পর ঠিকেদারি দিয়ে আসি কারা আমাদের পশ্চাদ্দেশ রক্তাক্ত করবে সেই ভারটি। ১৫ই অগস্ট একদল কাঁদোকাঁদো মুখের অভিনয় করবে, আরেকদল হাসতে হাসতে কেক কাটবে, ছবি তুলবে ঠেলাঠেলি করে। আর আমরা দুদলকেই পালা করে সালাম দিয়ে পাছা পেতে দেবো।

    আবার সড়ক, নৌপথে দুর্ঘটনায় মারা যাবে হাজার হাজার, লাখো লাখো লোক, পৃথিবীতে আমরা রেকর্ড করবো, নাম তুলবো গিনিস বুকে, ধেইধেই করে নাচবো আন্তর্জাতিক খ্যাতির মহানন্দে, রাষ্ট্রের মদতে এভাবে খুন চলতেই থাকবে, চলতেই থাকবে, আমরা ধর্ষিত হতেই থাকবো, হতেই থাকবো…

    রাগ ক্ষোভ কষ্ট সবকিছুই অনুভব করছি লেখাটা পড়ে। কয়েকদিন ধরেই দেশের অবস্থা দেখে নানা কারণে মাথা গরম ছিল…১৩ তারিখে চোখের পানি আর মাথা দুইটাই বার্স্ট করেছিল। শেয়ার দিচ্ছি

  11. ব্লাডি সিভিলিয়ান আগস্ট 16, 2011 at 1:04 অপরাহ্ন - Reply

    আগ্রহীদের জন্যে আলম খোরশেদের লেখাটি: http://arts.bdnews24.com/?p=3908

  12. তেপান্তর আগস্ট 16, 2011 at 11:55 পূর্বাহ্ন - Reply

    ইদানিং ঢাকার রাস্তায় নগ্ন একজনকে হেঁটে যেতে দেখি। কেউ খেয়াল করে না; মনে হয় আমার বয়স্টাই কমে গেছে, তাই বুঝি “রাজার পোষাক” দেখি না। তাকে
    টিভিতে দেখি, হাস্পাতালেও দেখি। আহত লোকের পাশেও সে হাসতে পারে। কেউ কিছু মনে করেনা। আসলে লোকে তাকে দেখেই না।
    নিজের ভ্রান্তি কাটাতে একদিন তাকে “নাম কি হে তোমার?জিজ্ঞাসিলাম। বলিলেন, আবুল হোসেন?”

    পুনশ্চ ১ শুনতে পাই, তিনি নাকি মন্ত্রী। বিশ্বাস হয় না।
    পুনশ্চ ২ হাজার আবুল হোসেন জন্মালে-মরলে বাংলার কিছুই যায় আসে না; কিন্তু একজন তারেক মাসুদ মরে গেলে বাংলার আত্মার একটি অংশ অন্ধকার হয়ে যায়।

    • ব্লাডি সিভিলিয়ান আগস্ট 16, 2011 at 12:08 অপরাহ্ন - Reply

      @তেপান্তর,

      হাজার আবুল হোসেন জন্মালে-মরলে বাংলার কিছুই যায় আসে না; কিন্তু একজন তারেক মাসুদ মরে গেলে বাংলার আত্মার একটি অংশ অন্ধকার হয়ে যায়।

      আহা, মনের কথাটাই বলেছেন!

      লুৎফর রহমানের সাম্প্রতিকতম ছড়াটা দিলাম আপনাকে উপহার:

      আমার আবুল হাসে!
      লুৎফর রহমান রিটন

      দেশের মানুষ কাঁদছে যখন আবুল তখন হাসে
      মর্যাদাহীন লোকটা শুধু টাকাই ভালোবাসে!
      সড়কজুড়ে মড়ক তবু আবুল কি তা মানে?
      মন্ত্রীত্ব টিকিয়ে রাখার মন্ত্র সে ঠিক জানে!
      হাসিনাকে ডুবিয়ে দিতে আবুল একাই একশ
      হাপিস করতে পটু আবুল জনগণের ট্যাকশ…
      দেশের মানুষ ভোগান্তিতে ফুঁসছে মানুষ রাত দিন
      দোহাই লাগে শেখ হাসিনা আবুলটাকে বাদ দিন!

      শেখ হাসিনার পাশে–
      ফাইল বগলে স্যুটেড-বুটেড ব্যর্থ আবুল হাসে!

  13. আতিকুর রহমান সুমন আগস্ট 16, 2011 at 11:25 পূর্বাহ্ন - Reply

    তারেক ছিলেন নিষিদ্ধঘোষিত রাজনৈতিক দলের একনিষ্ঠ কর্মী।

    এই বিষয়ে একটু বিস্তারিত বলবেন কি? বিষয়টা ঠিক বুঝলাম না।

    • ব্লাডি সিভিলিয়ান আগস্ট 16, 2011 at 12:06 অপরাহ্ন - Reply

      @আতিকুর রহমান সুমন,

      তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু আলম খোরশেদের মুখেই শোনা কথাটা, সুতরাং বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না। শুনেছিলাম, তিনি নিষিদ্ধঘোষিত সর্বহারা দলে ছিলেন, সিরাজ সিকদারের সাথে। আরো ছিলেন তাঁর সাথে শামীম আখতার এবং অন্য আরো অনেকে। এটুকুই জেনেছি।

    • মাসুদ রানা আগস্ট 17, 2011 at 11:34 অপরাহ্ন - Reply

      @আতিকুর রহমান সুমন, দেখুন তারেক কে ছিলেন সেটা বড় কথা নয় । তার অস্বাভাবিক মৃত্যু টাই বড় কথা ।এই দুর্ঘটনাই যদি নিজামি বা সাইদি অথবা আবুল মাল মুহিত বা হসেন টাইপের কেউ মারা যেত তাহলে আপনের কেমন লাগত?

      • আতিকুর রহমান সুমন আগস্ট 18, 2011 at 10:05 পূর্বাহ্ন - Reply

        @মাসুদ রানা, নিজামি বা সাঈদির ব্যাপারে কেমন লাগত, এই নিয়া আমি একটু কনফিউসড! :)।
        আর হ্যাঁ সব মৃত্যুই যন্ত্রণাদায়ক কিন্তু সব যন্ত্রণা সমান না। তারেক কে ছিলেন সেটা অবশ্যই একটা বড় ব্যাপার। কিন্তু আপনি যে দৃষ্টিকোণ থেকে কথাটা বলেছেন আমার মনে সেটা ছিল না। আমি শুধু জানার জন্যই জিজ্ঞেস করেছিলাম।

  14. অভিজিৎ আগস্ট 16, 2011 at 10:11 পূর্বাহ্ন - Reply

    (Y)

    লেখাটায় অজানা তথ্য (অন্ততঃ আমার কাছে) যেমন আছে, তেমনি আছে ক্রোধের দুর্দমনীয় প্রক্ষেপণ। সব মিলিয়ে আসলেই দুর্দান্ত।

    এই মানুষটির মৃত্যুর পরই ফেসবুকে একজন মার্ক্স-লেনিন-স্ট্যালিনপ্রেমী কমিউনিস্ট-চেতনার মানুষ মন্তব্য করেন যে, এসব সেলিব্রেটির মৃত্যু তাঁর মনে কোন দাগ কাটে না। তিনি বরং অনেক চিন্তিত শত শত শ্রমিকের সড়ক দুর্ঘটনায় অকালমৃত্যুতে।

    তা তো বটেই। তা তো বটেই। সেই স্বঘোষিত কমরেডটিকে ফেসবুকে বসে বসেই শ্রমিকদের জন্য কুম্ভীরাশ্রু বর্ষণ করতে বলুন আর সেখানেই বিপ্লব করে ফেলতে বলুন।

    • ব্লাডি সিভিলিয়ান আগস্ট 16, 2011 at 10:53 পূর্বাহ্ন - Reply

      @অভিজিৎ,

      দাদা মাফও চাই , দোয়াও চাই। মার্ক্সবাদীদের সাথে লড়াই করা আমার কম্মো নয়, আপনিই যেখানে ফেল মেরেছেন!

      তবে, মাঝেমাঝে মাথা গরম হয় বটে।

  15. প্রদীপ দেব আগস্ট 16, 2011 at 9:37 পূর্বাহ্ন - Reply

    তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য জানতে পারলাম এই লেখাটি থেকে। আমাদের দেশে এরকম মানুষ তো আমরা বেশি পাই নি। তাই পেয়ে হারানোর কষ্টটা আরো অনেক বেড়ে গেলো।

    • ব্লাডি সিভিলিয়ান আগস্ট 16, 2011 at 10:15 পূর্বাহ্ন - Reply

      @প্রদীপ দেব,

      আসলেই দাদা। আমি তাঁদের সম্পর্কে যতোই জানছি, ততোই কষ্ট আর শ্রদ্ধাটা বাড়ছে।

  16. রাজেশ তালুকদার আগস্ট 16, 2011 at 7:33 পূর্বাহ্ন - Reply

    আপনার এই লেখা থেকে মিশুক মুনির সম্পর্কে অনেক কিছু জানা হল। আর কালো চশমা পড়া যে ভদ্র লোকটার কথা আপনি বলল্লেন তিনিই আমাদের দেশটাকে পেছন দিকে হাঁটা শিখানোর মূল শিক্ষক।

    ধন্যবাদ। (Y)

    • ব্লাডি সিভিলিয়ান আগস্ট 16, 2011 at 10:13 পূর্বাহ্ন - Reply

      @রাজেশ তালুকদার,

      কালও কিন্তু জন্মদিনের কেক-টেক কাটা হয়ে গেছে মহাড়ম্বরে।

      আপনাকেও শুভেচ্ছা।

  17. টেকি সাফি আগস্ট 16, 2011 at 6:36 পূর্বাহ্ন - Reply

    সৎ নেতা কই? ইউপি চেয়ারম্যান থেকে পিএম পর্যন্ত…পলিসি একটাই সবচেয়ে খারাপ>খুব খারাপ>খারাপ এই তিনটার মধ্যে একটা বেছে নিতে হচ্ছে…ভাল বলেতো কাউকে চোখে পড়ছেনা…

    হয় যোগ্য রাজনৈতিক নেতা খুজে বের করতে হবে নইলে নিজেদেরকে হতে হবে নাহলে যাই করি যেই লাউ সেই কদুই থাকবে!

    • ব্লাডি সিভিলিয়ান আগস্ট 16, 2011 at 10:10 পূর্বাহ্ন - Reply

      @টেকি সাফি,

      হয় যোগ্য রাজনৈতিক নেতা খুজে বের করতে হবে নইলে নিজেদেরকে হতে হবে নাহলে যাই করি যেই লাউ সেই কদুই থাকবে!

      মনে হয় না কোনটাই সহজ। শুধু নিজেদের ধর্ষিত হতে দেওয়াটাই সোজা, তাই সবাই তাই করে, করছে।

      • মাসুদ রানা আগস্ট 17, 2011 at 11:47 অপরাহ্ন - Reply

        @ব্লাডি সিভিলিয়ান, দেখুন ধর্ষিত শুধু মেয়েরা হয় তাই এর পরিবর্তে যৌন নির্যাতন ব্যবহার করুন !!!

  18. স্বাধীন আগস্ট 16, 2011 at 5:05 পূর্বাহ্ন - Reply

    আর আমরা দুদলকেই পালা করে সালাম দিয়ে পাছা পেতে দেবো।

    সেটাই। তাই

    উই ডিজার্ভ ইট, উই রিয়েলি, ট্রুলি, এবসোল্যুটলি ডিজার্ভ ইট।

    সহমত (Y) । কিন্তু মূল্যটা অনেক বেশি হয়ে গেলো। তারপরেও যদি মানুষ জেগে উঠে ;-( , মনে হয় না। যার নয়ে হয় না তার নব্বইয়েও হয় না। আমাদের কখনই হবে না। আর সহ্য হচ্ছে না 🙁 ।

    • ব্লাডি সিভিলিয়ান আগস্ট 16, 2011 at 10:06 পূর্বাহ্ন - Reply

      @স্বাধীন,

      আসলেই, আর সহ্য হয় না। কিন্তু, যতদিন আমরা নিজেরাই রাজনীতিতে না আসবো, ততদিন এসব ইতরদের শাসনেই আমাদের থাকতে হবে, তাদের সব ইতরতা মেনে নিতে হবে, তাদের সব ইতরতা হজম করতে হবে।

    • ব্লাডি সিভিলিয়ান আগস্ট 16, 2011 at 10:17 পূর্বাহ্ন - Reply

      @স্বাধীন,

      আর জানেন তো, তাঁরা দুজনেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুজন কি-উইটনেস ছিলেন। তাঁদের হারানোটা দেশের জন্যে নানান দিক থেকেই ক্ষতিকর হয়েছে।

  19. ফরিদ আহমেদ আগস্ট 16, 2011 at 3:01 পূর্বাহ্ন - Reply

    অসাধারণ!! মুগ্ধ হলাম লেখাটা পড়ে, সেই সাথে যন্ত্রণাও বাড়লো।

    • ব্লাডি সিভিলিয়ান আগস্ট 16, 2011 at 10:01 পূর্বাহ্ন - Reply

      @ফরিদ আহমেদ,

      কষ্টগুলো অনুভব করতে পারি, কিন্তু ভাগ করে নিতে পারি না কখনোই। তাই ভাবলাম অন্য কমরেডরা যেখানে আছেন, সেখানে দুটো কথা বলে যাই।

      দেশ ভালোবেসে এতো কষ্ট কি ইহুদিরাও পায়, পেয়েছিলো?

      • গীতা দাস আগস্ট 16, 2011 at 7:17 অপরাহ্ন - Reply

        @ব্লাডি সিভিলিয়ান,
        ফরিদ আহমেদের সাথে সহমত।
        আজ অফিসের কাজে গোপালগঞ্জ গেলাম আসলাম ভাঙ্গার উপর দিয়ে। যেতে রাস্তার ডান পাশে একটা বাড়িতে কালো কাপড়ে তারেক মাসুদের জন্য শোকবার্তা লেখা। জানি না সেটাই তার বাড়ি কি না। গাড়ি থামিয়েছি। তবে নামিনি। কেমন জানি অস্থির লেগেছিল। যদি এ বাড়িই হয়। আর এখনই তার মা বা অন্য স্বজনদের কান্নার শব্দ পাই আমি তখন কি করব!!
        আসার সময় ওদিকে তাকাইনি। এখন ফরিদপুরে। আবার মনে হচ্ছে কালকে আবার যাই। তার মাকে দেখে আসি। কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা।

  20. সাইফুল ইসলাম আগস্ট 16, 2011 at 1:52 পূর্বাহ্ন - Reply

    অনবদ্য, এক কথায়।

    এক মহান শ্রমিক নেতা-কাম-মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় নামক বাঞ্চোতটির হুমকিতে পিছু হটেছেন খোদ যোগাযোগ মন্ত্রী। প্রলেতারিয়েতরাজ কায়েম হলো বলে! সেই মন্ত্রী হুমকি দিয়েছেন এসব লাইসেন্স দেওয়া না হলে দেশ অচল করে দেওয়া হবে। বিরোধী দল%E

    • সাইফুল ইসলাম আগস্ট 16, 2011 at 1:53 পূর্বাহ্ন - Reply

      অনবদ্য, এক কথায়।

      এক মহান শ্রমিক নেতা-কাম-মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় নামক বাঞ্চোতটির হুমকিতে পিছু হটেছেন খোদ যোগাযোগ মন্ত্রী। প্রলেতারিয়েতরাজ কায়েম হলো বলে! সেই মন্ত্রী হুমকি দিয়েছেন এসব লাইসেন্স দেওয়া না হলে দেশ অচল করে দেওয়া হবে। বিরোধী দলের দরকারটাই বা কী? আমরা শালা পাবলিক নামের চুতিয়া মেরুদণ্ডহীন কৃমিরা মিলিটারির বুটের লাথি খাই ব্লাডি সিভিলিয়ান হিসেবে আর গণতন্ত্রের ধ্বজাধারীরা দিনেরাতে আমাদের পাছা মেরে যায় জুতোর শুকতলার ময়লা হিসেবে। আর আমরা মহানন্দে দুবাহু তুলে নেত্য করতে করতে গণতন্ত্রের মহোৎসবে গিয়ে পাঁচ বছর পর পর ঠিকেদারি দিয়ে আসি কারা আমাদের পশ্চাদ্দেশ রক্তাক্ত করবে সেই ভারটি। ১৫ই অগস্ট একদল কাঁদোকাঁদো মুখের অভিনয় করবে, আরেকদল হাসতে হাসতে কেক কাটবে, ছবি তুলবে ঠেলাঠেলি করে। আর আমরা দুদলকেই পালা করে সালাম দিয়ে পাছা পেতে দেবো।

      আবার সড়ক, নৌপথে দুর্ঘটনায় মারা যাবে হাজার হাজার, লাখো লাখো লোক, পৃথিবীতে আমরা রেকর্ড করবো, নাম তুলবো গিনিস বুকে, ধেইধেই করে নাচবো আন্তর্জাতিক খ্যাতির মহানন্দে, রাষ্ট্রের মদতে এভাবে খুন চলতেই থাকবে, চলতেই থাকবে, আমরা ধর্ষিত হতেই থাকবো, হতেই থাকবো…

      উই ডিজার্ভ ইট, উই রিয়েলি, ট্রুলি, এবসোল্যুটলি ডিজার্ভ ইট।

      সেল্যুট বস, সেল্যুট।

      • ব্লাডি সিভিলিয়ান আগস্ট 16, 2011 at 9:58 পূর্বাহ্ন - Reply

        @সাইফুল ইসলাম,

        ধন্যবাদ কবি ভ্রাতঃ।

        আমার মনে হয়েছে বরং ক্ষোভ অনেক কমই প্রকাশ করতে পেরেছি লেখাটায়। কী যে অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছিলো ভেতরে, কী যে খারাপ লাগছিলো ভাষায় তার কিছুই বোঝানো যায় না।

        • আফরোজা আলম আগস্ট 18, 2011 at 4:03 অপরাহ্ন - Reply

          @ব্লাডি সিভিলিয়ান,
          অত্যন্ত সুন্দর ভাবে বলেছেন সবার আবেগের কথায় ফুটে উঠেছে।
          আপনাকে ধন্যবাদ।

  21. লাট্টু গোপাল আগস্ট 16, 2011 at 12:37 পূর্বাহ্ন - Reply

    আমার এক বন্ধু তার ফেইসবুক ষ্ট্যাটাস এ যথার্থই লিখেছেঃ

    শোকের এই মাসে রাষ্ট্র আপনার পরিবারকে দিচ্ছে আনলিমিটেড শোক!
    কীভাবে মারা যেতে চান আপনি: A) সড়ক দূর্ঘটনায়, B) গণপিটুনিতে, C) ক্রসফায়ারে।
    আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করুন A, B অথবা C আর পাঠিয়ে দিন 0000 নাম্বারে।
    এবার আপনার মৃত্যুর মাধ্যমকে বেছে নিন আপনি নিজেই। আর প্রিয়জনদের উপহার দিন আনলিমিটেড শোক।
    *যে কোনো বাংলাদেশী নাগরিক এই অফার উপভোগ করতে পারবেন !

    • টেকি সাফি আগস্ট 16, 2011 at 6:29 পূর্বাহ্ন - Reply

      @লাট্টু গোপাল,

      আমাদের লেখিকা আপার স্ট্যাটাস মনে হচ্ছে :-s তাইশা?

    • ব্লাডি সিভিলিয়ান আগস্ট 16, 2011 at 9:57 পূর্বাহ্ন - Reply

      @লাট্টু গোপাল,

      আপনার বন্ধুটির উদ্ভাবন অনন্য। নিশ্চিতভাবেই তিনি রাজনীতিতে সুযোগ পাচ্ছেন না, অথবা পেয়েই যাচ্ছেন।

মন্তব্য করুন