স্টেইটস্ অভ আর্টঃ পোর্টল্যান্ড,ওরিগন

By |2013-01-28T04:36:13+00:00জুলাই 15, 2011|Categories: ভ্রমণকাহিনী|19 Comments

:: নিউ ইয়র্ক (প্রথমার্ধ) :: নিউ ইয়র্ক (দ্বিতীয়ার্ধ) :: সিলিকন ভ্যালি (ক্যালিফোর্নিয়া) :: ওয়াশিংটন ডিসি :: ডেট্রয়েট (মিশিগান) ::

১৮০৩ সালে প্রেসিডেন্ট থমাস জেফারসন বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যভাগের প্রায় ১৫টি স্টেইট (প্রদেশ) ফ্রান্সের কাছ থেকে নিজেদের আওতায় নিয়ে আসেন। যেটি বিখ্যাত লুইজিয়ানা পার্চেজ (লুইজিয়ানা ক্রয়) নামে পরিচিত। ফ্রান্স সেটা বিক্রি করেছে, না-কি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে সেটা আপাতত না ভাবলেই আমাদের জন্য ভালো। কিন্তু, এই বিশাল পরিমাণ সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবহার ও বণ্টন নিয়ে প্রেসিডেন্ট জেফারসনতো আর না-ভেবে বসে থাকতে পারেন না। তাই, ১৮০৪ সালে এই বিপুল অঞ্চলে অভিযান চালানোর জন্য প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব দিলেন ইউএস আর্মির বর্ষীয়ান অফিসার ক্যাপ্টেন লুইসকে। পরবর্তীতে লুইসের সহযাত্রী হিসেবে দলে আসেন আর্মিরই আরেক অভিজ্ঞ সহযোগী সেনা মিস্টার ক্লার্ক।

লুইস ও ক্লার্ক এর অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিলো, লুইজিয়ানা পার্চেজ এর পর যে বিশাল পরিমাণ ভূ-খণ্ড সরাসরি আমেরিকার আওতায় চলে আসে, সেখানে অভিযান চালিয়ে নতুন নতুন উদ্ভিদ, প্রাণি ও বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করা। সাথে সাথে ঐ অঞ্চলে অবস্থিত মিসৌরি নদীর অববাহিকায় বসবাসরত জনপদকে জানান দেয়া যে, তারা এখন আমেরিকার অধীনে; পূজারী এবং পূজার ধরণ একই থাকবে, শুধু দেবতার নাম পরিবর্তন হবে; ফ্রান্সের বদলে আমেরিকা হবে তাদের নতুন প্রভু। তবে মিস্টার জেফারসনের মনে মনে পরিকল্পনা ছিলো, যতদূর সম্ভব পশ্চিমে অভিযান চালিয়ে আমেরিকানদের পদচিহ্ন রেখে আসা, যাতে করে বেত্তমীজ ইউরোপীয়ানদের দল উড়ে এসে জুড়ে বসতে না পারে, হঠাৎ এসে দাবী করতে না পারে এই অঞ্চল তাদের । প্রায় দুই বছর সফল অভিযান চালিয়ে লুইস-ক্লার্ক অবশেষে সন্মুখীন হয় বিশাল বাধার, সেই বাধা অতিক্রম করে কোনোভাবেই আর পশ্চিমে যাওয়া সম্ভব নয়। ৩৩ জনের দল নিয়ে অভিযান শুরু করা লুইস-ক্লার্ক এই প্রথম থমকে দাঁডিয়ে অবাক দৃষ্টিতে দেখছিলো তাদের সেই মহাকায় দিগন্ত বিস্তৃত প্রতিপক্ষকে। নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া যার কাছে অন্য আর কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়- প্রশান্ত মহাসাগর, দ্যা প্যাসিফিক

            ছবিঃ এখানে এসে অভিযান থামাতে বাধ্য হন লুইস এন্ড ক্লার্ক

যে জায়গায় থমকে দাঁড়িয়েছিলো লুইস-ক্লার্ক, যেখানে শেষ হয়েছিলো তাদের সুবিখ্যাত অভিযান; সেখানটাতে আজ দাঁড়িয়ে আছে পোর্টল্যান্ড, ওরিগন স্টেইট এর সবচেয়ে বড় শহর। সিটি অব রোজেস্ নামে পরিচিত। এমনকি শহরটির অফিসিয়াল নামও এটিই।অবশ্য শহরের অন্য আরো অনেকগুলো ডাক নাম আছে, যার মধ্যে ব্রিজ টাউন এবং বিয়ার টাউন নাম দুটি উল্লেখযোগ্য। ওরিগনের গোলাপ বিখ্যাত, প্রচুর চাষও হয়, এখানেই আবার আছে আন্তর্জাতিক গোলাপ বাগান। তাই, সিটি অফ রোজেস ছাড়া শহরের নাম অন্য আর কী-ইবা হতে পারে। এখানকার ওয়াইন এবং বিয়ারের সুখ্যাতি আবার এতই যে, বিয়ারপ্রেমীর শহরকে বিয়ার টাউন বলতেই সুখ বোধ করেন। সারা আমেরিকার মধ্যে এখানেই সবচেয়ে বড় বিয়ার উৎসব হয়ে থাকে। অন্যদিকে, ইন্টারনেট বা অন্য কোথাও থেকে পোর্টল্যান্ড শহরের ছবি দেখলে দেখবেন মূল শহরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া উইলিয়ামিত্তি নদীর দুই পাড়কে জোড়া লাগানো হয়েছে বেশ কয়েকটা উঁচু এবং দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ দিয়ে, যার কারণে কারো কারো কাছে শহরটি পরিচিত হয়ে গেছে ব্রিজটাউন নামে।

জুন মাসের প্রথম দিকে প্লেন থেকে নামার আগে জানালা দিয়ে চোখে পড়ল শহরের পাশে বিশাল বিশাল দুটো তুষারশুভ্র স্তুপ, সুর্যের আলো পড়ে চকচক করছে। পাইলট জানান দিলো ওগুলো মাউন্ট সেন্ট হেলেনস্ আর মাউন্ট হুড্। যেন প্রহরীর মত একজোড়া চোখ হয়ে চূড়া দুটি সারাটাক্ষণ শহরটাকে পাহারা দিয়ে যাচ্ছে। বিমানবন্দর থেকে শহরে যাবার ট্রেনে উঠে পড়লাম, মানুষজন খুবই মিশুক প্রকৃতির। একজন বয়স্কা মহিলা নিজ থেকেই কথা বলা শুরু করলেন, আমি এবং আমার ওয়াইফকে দেখেই বুঝতে পারলো ট্যুরিস্ট। আমরা অবাক হয়ে ট্রেনের জানালা দিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা পর্বতচূড়াগুলো দেখার আপ্রাণ চেষ্টা করছি। প্রসন্ন চিত্তে ভদ্রমহিলা বলে চললেন, আমরা ঠিক সময়টাতেই ওরিগন এসেছি, বছরের এই সময়টাতে ওয়েদার খুব ভালো থাকে। শহরের কোথায় কি কি দেখার আছে, নিজ থেকেই সব বলে দিচ্ছেন একে একে। আমরা শিকাগো থেকে আসছি শুনে বললেন, হ্যাঁ সেখানে উঁচু উঁচু বিল্ডিং আছে বটে, কিন্তু প্রকৃতি দেখতে হলে এখানটাতেই ভালো।

শহরের মাঝখানে (ডাউনটাউন) এসে দেখলাম সবাই ট্রেনে উঠছেন নামছেন, এই ডাউনটাউন এরিয়াতে ট্রেনে যাতায়াত ফ্রি, যতখুশী উঠো-নামো। মানুষজন খুব আয়েশিভাবে শহরে হেঁটে বেড়াচ্ছে। শিকাগোর মত অত বড় কিংবা ব্যস্ত শহর নয়। কেমন জানি একটা অলস সৌন্দর্য আছে। একজায়গায় দেখলাম শহরের মাঝখানে একটা চত্ত্বরে ছেলেবুড়ো সবাই মিলে রোদ পোহাচ্ছে, সাথে করে ফোল্ডিং চেয়ার নিয়ে এসেছে। বাচ্চাগুলো স্ট্রলারের মাঝে পাশে রেখে দিয়েছে। শীতের সকালের বাংলাদেশের গ্রামে লোকজন জড়ো হয়ে রোদ পোহানোর মতন। আমরা ডাউনটাউন পার হবার পরই সাজিনা ভাবী ফোন করলেন, সুজন ভাইয়া একটু পরেই আমাদেরকে আনার জন্য স্টেশানে পৌঁছে যাবেন। সুজন ভাইয়া বুয়েটের স্টুডেন্ট ছিলেন। পারডু ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করার পর এখন ইন্টেলে চাকুরী করছেন। বিশ্বখ্যাত ইন্টেল কোম্পানীর প্রধান শাখা এই পোর্টল্যান্ডেই।

এত রং-বেরংয়ের মানুষ, এত ধরণের মানুষ এখানে দেখি। তবুও নিজের দেশের একটা শিশুকে দেখলেও যে আনন্দ অনুভব হয় সেটা আর কিছুতেই হয় না। সুজন ভাই সাজিনা ভাবীদের বাসায় যেন সেই বাংলাদেশের পারিবারিক আনন্দই খুঁজে পেলাম।আনন্দের খুঁজে পাওয়ার আরেকটা গোপন অবশ্য কারণ আছে। আলুর ভর্তা, গরুর মাংস আর পৃথীবির শ্রেষ্ঠ স্যুপ- মসুরের ডাল খাওয়ার একটা সমূহ সম্ভাবনা এখানে আছে। ভাগ্য ভালো থাকলে ইলিশ আর বেগুনভাজাও কপালে জুটে যাবে। কিন্তু কি আর ভাগ্য ভালো খারাপ, বাসায় গিয়ে দেখি ভাগ্যদেবী সাজিনা ভাবীর বাসায় বসবাস করেন। সুজন-সাজিনা, কি করে দুইজনের নামের সব অক্ষর এক হলো এই রহস্য উদ্‌ঘাটনের আগেই খাবারের মাঝে সেই যে ডুব দিলাম, ভেসে উঠতে উঠতে রাত গড়িয়ে সকাল হলো।

              ছবিঃ ছবির মত সেজে থাকা প্রকৃতির মাঝে গোলাপ বাগান

জুন মাসের সকাল। শুরু হলো আমাদের ওরিগন দেখা, পোর্টল্যান্ড দেখা। হায়রে সৌন্দর্য। এরা যেন প্রকৃতির জন্য এক অভয়ারণ্য তৈরী করে রেখেছে। প্রকৃতি নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে, হেলে দুলে বেড়ে উঠেছে এখানে। পুরো ওরিগন-ই যেন সৌন্দর্যের লীলাভূমি। মানুষজন সবাই প্রকৃতিতে বিচরণ করে কিন্তু কেউ প্রকৃতিকে বিরক্ত করে না। কী সমুদ্র, কী পর্বত, কী নদী, কী জঙ্গল, কী ঝর্ণা সবই আছে এখানে, এক অপার সৌন্দর্য নিয়ে। মাইলের পর মাইল গাড়ী চালাচ্ছেন সুজন ভাই। কিন্তু মনে হচ্ছে নিমিষেই বুঝি শেষ হয়ে গেলো পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে এগিয়ে চলা সুপ্রশস্ত রাস্তা। এক এক দিন করে আমরা এক একটা দিকে যাই আর বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে যাই। রাতে বাসায় ফিরে ক্লান্তির বদলে চলে আসে শান্তি, সাজিনা ভাবীর কল্যাণে টেবিলে যখন দেখি হরেক রকমের সুস্বাদু খাবার।

                    ছবিঃ অপরূপ প্রশান্ত মহাসাগর-১

                    ছবিঃ অপরূপ প্রশান্ত মহাসাগর-২

                    ছবিঃ অপরূপ প্রশান্ত মহাসাগর-৩

                    ছবিঃ অপরূপ প্রশান্ত মহাসাগর-৪

এর মাঝে একদিন আবার চলে গেলাম মাউন্ট সেইন্ট হেলেনস্-এ; পৃথীবির অন্যতম এক সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। ১৯৮০ সালের মে মাসের এক সকাল ৮টায় এই আগ্নেয়গিরির যে অগ্ন্যুৎপাত হয়, সেটাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ভয়াবহতম এবং ধ্বংসাত্মক বলে বিবেচনা করা হয়। ২৯৮ কিলমিটার সড়কপথ এবং ২৪ কিলোমিটার রেলপথ ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে সে-দিন। ধ্বংস হয়ে যায় ৪৭টি সেতু এবং ২৫০টি ঘরবাড়ী। রিখটার স্কেলে ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃত্যু হয় ৫৭জন মানুষের। পর্বতচূড়ার উচ্চতা কমে যায় প্রায় ১০০০ ফুট আর সেখানে সৃষ্টি হয় দেড় কিলমিটার লম্বা গর্তের। আট হাজার ফুট উচ্চতার এই আগ্নেয়গিরির কাছে গিয়ে বিধ্বস্ত সুবিশাল উপড়ে পড়া অসংখ্য গাছের শিকড় দেখলে বুঝা যায়, কি প্রচন্ড শক্তিতে আঘাত হানে অগ্ন্যুৎপাত। সেইন্ট হেলেনস্ এর অবস্থান অবশ্য পাশের ওয়াশিংটন স্টেইট এ। দুই স্টেটের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া কলম্বিয়া নদীকে ওয়াশিংটন আর ওরিগণ স্টেটের সীমানা প্রাচীর হিসেবে ধরা হয়।

                ছবিঃ দূর থেকে দেখা মাউন্ট সেইন্ট হেলেনস্

ওদিকে শহরের মাঝখানে দেখার জন্য জাপান গার্ডেন, চায়না গার্ডেন, রোজ গার্ডেন আছে। কিন্তু আলাদা করে গার্ডেনে যাবার কোনো প্রয়োজন দেখিনা। পুরো শহরটাই গার্ডেন। রোজ গার্ডেনে গিয়ে অবশ্য খুব একটা গোলাপ দেখতে পেলাম না। শুধু গাছের সাথে লাগানো ছোট্ট সাইন বোর্ডে দেখলাম উইনার ২০১০,উইনার ২০০৯; অত্যন্ত উচ্চবংশীয় গোলাপদল। ওদিকে, শহর থেকে একটু দূরে আছে মাল্টনোমাহ ফলস্, অদ্ভূত সুন্দর এই ঝর্ণা। দুই পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে পড়তে থাকা ঝর্ণার অর্ধেক উচ্চতায় আবার একটা সাঁকো করে দেয়া হয়েছে। সেখানে দাঁড়ালে উপরে ঝর্ণা, নীচেও ঝর্ণা।

                  ছবিঃ ছয়শ বিশ ফুট উঁচু মাল্টনোমাহ্‌ ফলস্‌

প্রায় এক সপ্তাহের মত সুজন ভাইয়ের গাড়ীর গ্যালন গ্যালন তেল পুড়িয়ে, শত শত মাইল ড্রাইভ করে ওরিগনের সৌন্দর্যের কিছুটা হলেও কাছে যেতে পেরেছি। সৌন্দর্যের মাঝে গেলে সুন্দর হতে ইচ্ছে করে। সুউচ্চ মাউন্ট সেন্ট হেলেনস্ আর সুবিস্তৃত প্রশান্ত মহাসাগর বারবার মনে করিয়ে দিয়েছে তাদের বিশালত্বের কথা। তারা কখনো আমাকে বলেনি আমি ক্ষুদ্র, কখনো বলেনি তারা বৃহৎ। বলতে হয়নি, আমিই বুঝে গেছি।

:: পোর্টল্যান্ড (ওরিগন) :: সিলিকন ভ্যালি (ক্যালিফোর্নিয়া) :: ওয়াশিংটন ডিসি ::

মইনুল রাজু (ওয়েবসাইট)
[email protected]

About the Author:

"যেই-না আকাশ মাথার উপর তোমার রঙিন দেশে, সেই-সে আকাশ আমার দেশেও উড়ছে একই বেশে; এক আকাশের নীচে যখন এই আমাদের ঘর, কেমন করে আমরা বলো হতে পারি পর।"

মন্তব্যসমূহ

  1. রুপম আগস্ট 10, 2011 at 12:54 অপরাহ্ন - Reply

    লেখাটির জন্য অনেক ধন্যবাদ রাজু ভাই ।

  2. কাজী রহমান জুলাই 18, 2011 at 3:44 পূর্বাহ্ন - Reply

    ভ্রমণ কাহিনী এই রকম ঝরঝরে সুন্দর করে লিখেছেন, ছবি ছাড়াই ছবির মত হয়েছে। ছবিগুলো ষোলকলা পূর্ণ করেছে। পরের বার ক্যালিফোর্নিয়া ঢুঁ মারবেন আশা করছি। এখানকার মজা হোল পাহাড় তুষার মরুভূমি প্রশান্ত মহাসাগর সবগুলোই প্রায় সারাবছর একযোগে ঘন্টার দূরত্ব। অপূর্ব নাতিশীতোষ্ণ এলাকা। তবে বৃষ্টি পাবেন না। বছরে মাত্র কটা দিন। বেশীরভাগ ক্যালিফোর্নিয়ানরা বৃষ্টি ভালোবাসেনা, আর আমরা বসে থাকি কখন বৃষ্টি আসে।

    ভালো থাকুন।

    • মইনুল রাজু জুলাই 18, 2011 at 7:43 পূর্বাহ্ন - Reply

      @কাজী রহমান,

      পরের বার যেটা করতে পারি, হয়তো আপনি কোথায় আছেন জেনে নিয়ে দেখা করে ফেলতে পারি। ক্যালিফোর্নিয়া গিয়েছিলাম। নেক্সট পার্টটা ক্যালিফোর্নিয়া নিয়ে লিখবো।

      ভালো থাকবেন। অনেক ধন্যবাদ। 🙂

      • কাজী রহমান জুলাই 18, 2011 at 11:25 পূর্বাহ্ন - Reply

        @মইনুল রাজু,
        এহ হে, এখনই তো বলবেন আমার বাড়ীর ওপর দিয়ে লাস ভেগাসও ঘুরে এসেছেন। ইমেইল দিয়ে দিলাম [email protected] এবং একই সাথে খোলা নিমন্ত্রণ। পরের লেখার অপেক্ষায়………

        • মইনুল রাজু জুলাই 18, 2011 at 12:11 অপরাহ্ন - Reply

          @কাজী রহমান,

          সত্যি বলতে কি, লাস ভেগাস হয়েই এসেছি। তবে, ঘুরে দেখতে পারিনি, ইচ্ছেও ছিলো না অবশ্য। মাঝখানে প্লেন চেঞ্জ করতে হয়েছিল লাস ভেগাসে। অনেক ধন্যবাদ নিমন্ত্রণের জন্য।

  3. কৌশিক জুলাই 16, 2011 at 10:25 পূর্বাহ্ন - Reply

    @মইনুল রাজু, বড় ভাল লাগল। আমি পোর্টল্যাণ্ডে আটমাস ছিলাম কার্যসূত্রে, সেই সব দিনের স্মৃতি মনে পড়ে গেল। আপনারা যে সময় পোর্টল্যাণ্ড ভ্রমণে গেছিলেন, ঐ অঞ্চলটা বছরের ওই সময়ই সর্বোত্তম – সেটা ওই ভদ্রমহিলা একেবারে ঠিক বলেছেন। কিন্তু মুশকিল হল, ওই দুই আড়াই মাস বাদ দিলে বছরের বাকি সময়ে পোর্টল্যান্ডের অবস্থা খুবই করুণ থাকে, সমানে পিচপিচ করে বৃষ্টি – অনেকটা লণ্ডনের মত, আর যখন বরফ পড়ে, আরে সর্বনাশ, বরফে সর্বত্র ঢাকা এবং পিচ্ছিল, বাসের চাকায় চেন না দিলে বাস চলতে পারেনা। কিন্তু শহরটা আমার খুবই ভাল লেগেছিল। আপনারা কি শহরটা ভাল করে ঘোরার অবকাশ পেয়েছিলেন? রোজ্‌ গার্ডেন, চাইনীজ্‌ গার্ডেন ইত্যাদি গেছেন? কলাম্বিয়া গর্জ অব্দি ঘুরেছেন?

    আপনার পোস্ট পড়ে উৎসাহিত হয়ে পড়লাম – ইচ্ছা রইল, আপনার লেখাটাকে রেফারেন্স করে একটা লেখা দেওয়ার আরও কিছু ছবি সহ।

    • মইনুল রাজু জুলাই 16, 2011 at 10:54 পূর্বাহ্ন - Reply

      @কৌশিক,

      আমরা খুবই ভাগ্যবান ছিলাম। সুজন ভাইয়া গত আট মাস ধরে ওখানে আছেন। উনি বললেন, গত আট মাসেও তিনি এত সুন্দর ওয়েদার পাননি। আর আপনার মত উনারাও বললেন, ওখানে নাকি সারাটা সময়জুড়ে আকাশ কালো করে বৃষ্টি হয়। বরফের যন্ত্রণা বুঝতে পারছি। আমরা শিকাগোর বরফেই অস্থির, ওখানেতো আরো করুণ অবস্থা হবার কথা।

      শহরটা আসলে ওভাবে মনের মত করে ঘুরে দেখতে পারি নি। তবে রেড লাইন আর শহরের ভিতর অরেঞ্জ লাইনে ঘুরেছি। ইউনিয়ন স্কয়ার আর ব্রিজগুলো পর্যন্ত হেঁটে বেড়িয়েছি। আমার কাছে পুরো শহরটা ছবির মত সুন্দর মনে হয়েছে। রোজ্‌ গার্ডেন, জাপান গার্ডেনে গিয়েছিলাম। রোজ্‌ গার্ডেন বিশেষ কিছু মনে হয়নি, কিন্তু জাপান গার্ডেন- এ গিয়ে তাজ্জব বনে গেছি। আলাদা করে বুঝা যায় আরেকটা কালচার। আর, পুরো জাপান গার্ডেন মনে হলো কেউ এই মাত্র পেইন্ট করে গেছে, এতটাই গোছানো আর সতেজ।

      আপনি যেহেতু বেশ কিছুদিন ছিলেন, সেহেতু অবশ্যই আপনার কাছ থেকে ছবিসহ একটা লেখা পাবার অপেক্ষায় থাকলাম। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। 🙂

  4. একেএম আবদুল করিম জুলাই 16, 2011 at 9:13 পূর্বাহ্ন - Reply

    আরো দু’একটা কথা এই প্রসংগেঃ
    ঐ সময় আমেরিকার একটা প্রতিনিধি দল ইওরোপ গিয়েছিলো কি একটা কারণে৤ দলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন বেঞ্জামিন ফ্রাংকলিন, রাজনীতিক না হলেও যার ছবি স্থান পেয়েছে একশো ডলারের নোটে (জর্জ ওয়াশিংটন যেখানে এক ডলারের নোটে!) সেই সময় তারা ফরাসী প্রস্তাব পান এবং কংগ্রেসের পূরবানুমোদন ছাড়াই dealটি লাভজনক বিবেচনায় সম্পূর্ণ করেন-

    • মইনুল রাজু জুলাই 16, 2011 at 10:56 পূর্বাহ্ন - Reply

      @একেএম আবদুল করিম,

      কোনো রেফারেন্স থাকলে দিতে পারেন। আপনার কাছ থেকে শুনে খুব ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছে।

  5. একেএম আবদুল করিম জুলাই 16, 2011 at 7:13 পূর্বাহ্ন - Reply

    জেফারসন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হন ১৮০৪ সালে্৤
    ফ্রান্স ভূ-খণ্ড বিক্রী করতে বাধ্য হয় নেপোলিয়নের যুদ্ধের খরচ যোগানোর জন্য৤

    • মইনুল রাজু জুলাই 16, 2011 at 8:46 পূর্বাহ্ন - Reply

      @একেএম আবদুল করিম,

      গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। জানানোর জন্য ধন্যবাদ আপনাকে। 🙂

  6. কাজি মামুন জুলাই 15, 2011 at 10:28 অপরাহ্ন - Reply

    শুনেছিলাম যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার কাছ থেকে আলাস্কা কিনে নিয়েছিল; আজ লেখকের লেখায় জানতে পারলাম ‘লুইজিয়ানা পার্চেজ’-এর কথা। জানতে ইচ্ছে করছে, অন্যান্য প্রদেশও কি এভাবে ক্রয় করা?
    ভ্রমণকাহিনীটির এক জায়গায় লেখা আছেঃ”তবে মিস্টার জেফারসনের মনে মনে পরিকল্পনা ছিলো, যতদূর সম্ভব পশ্চিমে অভিযান চালিয়ে আমেরিকানদের পদচিহ্ন রেখে আসা, যাতে করে বেত্তমীজ ইউরোপীয়ানদের দল উড়ে এসে জুড়ে বসতে না পারে, হঠাৎ এসে দাবী করতে না পারে এই অঞ্চল তাদের ।” এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মিস্টার জেফারসন কি ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ ইউরোপীয়ানদের বাইরের কেউ?
    ‘সিটি অফ রোজেস’, ‘বিয়ার টাউন’ বা ‘ব্রিজ টাউন’ শব্দগুলির তাৎপর্য লেখাটিতে খূঁজে পাওয়া যায় না। পেলে লেখাটি আরো সমৃদ্ধ হতো। তবে ‘পূজারী এবং পূজার ধরণ একই থাকবে, শুধু দেবতার নাম পরিবর্তন হবে’ বা ‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ স্যুপ- মসুরের ডাল’-এমন সব কথার জন্য ভ্রমণকাহিনীটি সুখপাঠ্য হয়ে উঠেছে।

    • মইনুল রাজু জুলাই 15, 2011 at 11:03 অপরাহ্ন - Reply

      @কাজি মামুন,

      অনেক ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। ১৮৬৭ সালের ৩০ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার কাছ থেকে বর্তমান বাজার মূল্যে প্রায় ১১৩ মিলিয়ন ডলারে আলাস্কা কিনে নিয়েছিল। আর লুইজিয়ানা কিনেছিলো বর্তমান মূল্যে প্রায় ২২০ মিলিয়ন ডলারে।

      জেফারসন সাহেবের কথা বলছেন। আমরাওতো একসময় ভারত কিংবা পাকিস্তানের সাথে ছিলাম। কিন্তু, এখন আমরা কি আমাদের একবিন্দু মাটিও দিতে চাইবো তাদেরকে। তবে, আপনি যেটা বুঝাতে চেয়েছেন সেটা বুঝতে পারছি। কিন্তু, রাজনৈতিক দিকটা এই লেখায় আসলে আনতে চাইনি।

      ‘সিটি অফ রোজেস’: ওরিগনের গোলাপ বিখ্যাত, প্রচুর চাষ হয়, এখানেই আছে আন্তর্জাতিক গোলাপ বাগান ‘বিয়ার টাউন’:এখানকার ওয়াইন এবং বিয়ারের সুখ্যাতি আছে, প্রচুর উৎপাদনও হয় ‘ব্রিজ টাউন’: ইন্টারনেট থেকে বা অন্য কোথাও পোর্টল্যান্ড শহরের ছবি দেখলে দেখবেন মূল শহরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া উইলিয়ামিত্তি নদীর দুই পাড়কে জোড়া লাগানো হয়েছে বেশ কয়েকটা উঁচু এবং দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ দিয়ে। মূল লেখায়ও ব্যাখ্যাগুলো দিয়ে দিলাম।

      আবারো ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। 🙂

    • রৌরব জুলাই 15, 2011 at 11:47 অপরাহ্ন - Reply

      @কাজি মামুন,
      জেফারসনের জন্ম আমেরিকায়।

      • মইনুল রাজু জুলাই 15, 2011 at 11:53 অপরাহ্ন - Reply

        @রৌরব,

        উনি হয়তো বুঝাতে চেয়েছেন, কেউই আসলে আমেরিকান ছিলো না। তারা কিংবা তাদের পূর্বপুরুষ অন্য কোথাও থেকে, বিশেষ করে ইউরোপ থেকে এসেছেন।

        এমনকি জেফারসন ইউরোপিয়ান হলেও কিছু যায় আসে না। যখন তিঁনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট, তখন তাঁকে আমেরিকার স্বার্থ নিয়েই চিন্তা করতে হবে।

        • রৌরব জুলাই 20, 2011 at 7:12 পূর্বাহ্ন - Reply

          @মইনুল রাজু,
          “আসল” এর খোঁজ করতে যাওয়াটা সমস্যাজনক কনসেপ্ট। তাহলে এখন যারা আমেরিকায় অভিবাসী হয়ে যাচ্ছেন তাদের সন্তানাদী আসলে আমেরিকান না? জাতি শুদ্ধুও এই প্রশ্ন তোলা যায় — ফ্রান্সে ফ্রাংকিশরা, তুরস্কে টার্কিকরা, বার্গান্ডিতে বার্গান্ডিয়ানরা বহিরাগত।

  7. কৌস্তুভ জুলাই 15, 2011 at 8:47 অপরাহ্ন - Reply

    বেশ লাগল পড়তে। ছবিগুলোও সুন্দর। আরেকটু বড় মাপে এমবেড করলে ভালো হত।

    • মইনুল রাজু জুলাই 15, 2011 at 10:48 অপরাহ্ন - Reply

      @কৌস্তুভ,

      অনেক ধন্যবাদ। ছবিগুলো এখন বড় করে দিয়েছি। 🙂

মন্তব্য করুন