একজন বাঙালি লেনিন চাই

বেশ কয়েক বছর আগে প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস “চাকমা উপন্যাস চাই” শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন। তাঁর ওই প্রবন্ধটি সে সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষিত মহলে বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। ঢাকার লেদার কলেজের এক ছাত্র তো অতিউৎসাহী হয়ে ও “প্রথম চাকমা উপন্যাস লেখক” হবেন এই উচ্চাশায় “ফেবো” নামে একটা চাকমা উপন্যাস তো নয় “অপন্যাস” লিখেছিলেন। আর সেই “অপন্যাসের” গুণাগুণ বিচার না করে একটি পত্রিকায় রিপোর্টও ছাপা হয়েছিল। লিটল ম্যাগে যার কেবল দু’একটি ভুলে-ভরা ছড়া ছাপা হয়েছে, যার তখনো “নাগ চিবিলে দুধ নিগিলে” (চাকমা প্রবাদ, নাক টিপলে দুধ বের হয় অর্থাৎ কচি খোকা), সে কিনা উপন্যাস লেখতে উদ্যোগী হয়! উপন্যাস লেখা কি এত সহজ? তবে, সাহিত্য-যশ আকাক্সক্ষী ওই বেরসিক ছাত্রটির দুঃসাহসের তারিফ করতে হয়। অবশ্য, পরে শুনেছি উনি সাহিত্যের পাটতাড়ি গুটিয়ে এক কোম্পানিতে চাকুরী নিয়েছেন।

যাই হোক, আমার উদ্দেশ্য আসলে চাকমা উপন্যাস বা অপন্যাসের আলোচনা নয়। প্রশান্ত ত্রিপুরার মতো আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রবন্ধের সমালোচনাও আমি করতে যাচ্ছি না। সে ধরনের যোগ্যতা কিংবা হিম্মত আমার কোনটাই নেই। আমি কেবল আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ওই প্রবন্ধের শিরোনাম ধার করে বলতে চাই “একজন বাঙালি লেনিন চাই”। অনেকে হয়তো ভ্রু কুঁচকে বলবেন, “কেন?”

এই “কেন”-এর উত্তর পাবার অধিকার আপনাদের অবশ্যই আছে এবং আমিও আপনাদেরকে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চাই না। যার অধিকার তাকে দেওয়া ভালো, নচেৎ এদেশে কী হয় তা সবার জানা।

পৃথিবীতে নতুন এক বুদ্ধের আবির্ভাব কামনা করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি কবিতা লিখেছিলেন। বেশ কয়েক বছর আগে পড়া। কবিতার শিরোনাম পর্যন্ত এখন আর মনে নেই। (কেউ মনে করিয়ে দিলে খুশী হবো) তবে একটি চরণ এখনো স্পষ্টভাবে মনে আছে। তিনি লিখেছেন:

“নতুন তব জন্ম লাগি কাতর যত প্রাণী, কর ত্রাণ মহাপ্রাণ, আন অমৃত বাণী।”

উদ্ধৃতি ভুল হলে আগাম মার্জনা চেয়ে নিচ্ছি। কবি বলতে চেয়েছেন পৃথিবীর তাবৎ প্রাণীকুল নতুন এক বুদ্ধের জন্মের জন্য কাতর হয়ে আছে। আমিও মনে করি, বাংলাদেশে মুক্তির জন্য আজ শোষিত বঞ্চিত কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ ও অধিকারহারা ভাগ্যবিড়ম্বিত নিষ্পেষিত জাতিসত্তাগুলো ছটফট করছে। স্বাধীন বাংলাদেশে তারা আজ বন্দী।

রুশ সাম্রাজ্যেও এক সময় অরুশীয় জাতিগুলোর উপর চলেছিল জার সরকারের নিষ্ঠুর দমন পীড়ন। বিপ্লব-পূর্ব রাশিয়ার জনসংখ্যার ৫৭ শতাংশ ছিল অরুশীয় জাতিভুক্ত। অনেক সংখ্যালঘু জাতি ছিল সুসভ্য এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে রুশীয়দের চাইতেও এগিয়ে। জার সরকার এক জাতির বিরুদ্ধে আরেক জাতিকে উস্কে দিয়ে সব সময় দ্বন্দ্ব লাগিয়ে দিতো ও এভাবে তার শাসন শোষণ বজায় রাখতো। শ্রমিক ও কৃষকের ওপরও চলেছিল অমানুষিক শোষণ নির্যাতন। মহান বিপ্লবী মহামতি লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক পার্টিই দুনিয়া কাঁপানো ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের মাধ্যমে নিপীড়িত জাতি ও শ্রমিক কৃষকদের মুক্ত করেছিল।

আজ বাংলাদেশেও নিপীড়িত জাতি ও শ্রেণীর মুক্তির জন্য একজন লেনিনের বড়ই প্রয়োজন। বাঙালি জাতি বহু প্রতিভাবান মনিষীর জন্ম দিয়েছে। মহান পুরুষ অতীশ দীপংকর, রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এই বাংলারই সন্তান। বাঙালি জাতি কি পারবে একজন লেনিনের জন্ম দিতে? বাঙালি জাতি কী পারবে এদেশের নিপীড়িত জাতিগুলোকে মুক্তি দিতে?

মন্তব্যসমূহ

  1. মলয় জুলাই 11, 2011 at 2:51 অপরাহ্ন - Reply

    @মুক্তি,
    আপনার নিশ্চয়ই জানা আছে, বুর্জোয়ারা কী ধরনের ধুরন্ধর৷ তারা তাদের পক্ষে বেতনভোগী পেশাদার প্রচারক রাখেন৷ ইন্টারনেট খুললেই দেখবেন কমিউনিস্ট বিরোধী অপপ্রচার৷ সেটা আমরা দেখছি মার্কসদের আমল থেকে৷ মার্কস তো কমিউনিস্ট মেনিফেস্টোর শুরুতে এমনি এমনি লেখেননি, ইউরোপ কমিউনিজমের ভূত দেখেছে৷ এই কমিউনিজমের ভূত তাড়াতে বুর্জোয়ারা কী করেনি? কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঠেকাতে পারেনি৷
    আজকের বাংলাদেশের চেহারা দেখুন৷ বাংলাদেশের মালিক কি বাংলাদেশের জনগণ, নাকি মাল্টিন্যাশন্যাল ট্রান্সন্যাশনাল কোম্পানিগুলো? যদি আজকের কালের কণ্ঠ পড়ে থাকেন, তাহলে দেখবেন — শেভরণ কীভাবে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কে কিনে নিয়েছে৷ কিভাবে তারা বেলাকে দিয়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন সংশোধন করিয়ে লাউয়াছড়ায় গ্যাস অনুসন্ধান কাজ চালাচ্ছে আর পরিবেশের তি করছে৷

    আপনি একজন বাঙালি লেনিন চেয়েছেন৷ একজন কেন ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই হাজারো লেনিনের জন্ম হবে৷

    আর একটা কথা বলি, রবীন্দ্রনাথকে যা দেখানো হয়েছে তা তিনি “সরল চিত্তে” বিশ্বাস করেছেন বলে যারা তার বোধ ও বিচারশক্তিকে কটা করেন, যারা তাকে দাঁড়িওয়ালা রোমান্তিক কবি বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন, তাদের সাথে বিতর্ক করা সময়ের অপচয় মাত্র৷ তারা কমিউনিস্টদের সম্পর্কে, মহান রুশ বিপ্লব সম্পর্কে prejudiced view নিয়েই লেখেন৷ মুসোলিনী সম্পর্কে কবিগুরু প্রথম দিকে বিভ্রান্তির শিকার হয়েছিলেন, কিন্তু পরে তিনি কাটিয়ে উঠেছিলেন৷ অপরদিকে রুশ বিপ্লব সম্পর্কে কবির ধারণা মৃত্যু পর্যন্ত অটুট ছিল৷ রবীন্দ্রনাথ নিয়ে বুর্জোয়াদের মাতামাতির অন্ত নেই৷ কিন্তু রুশ বিপ্লব সম্পর্কে তার যে অভিমত সেগুলো তারা ভুলেও প্রচার করেন না৷ রবীন্দ্রনাথ কেবল সাহিত্য নিয়ে পড়ে থাকেননি, তিনি রাজনীতি সচেতন একজন ব্যক্তিও৷ জালিয়ানওয়ালাবাগ ঘটনার পর তিনি নাইট উপাধি ত্যাগ করেছিলেন৷ সুতরাং রুশ বিপ্লব সম্পর্কে তার যে জাজমেন্ট তাকে খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই এবং এ ব্যাপারে তাকে যারা বোকা মনে করেন, তারা নিজেরাই নিজেদের বোকামি প্রদর্শন করছেন৷

    বুর্জোয়াদের পোটলাবাহকদের সাথে বিতর্ক না করে আপনার উচিত শ্রমিক, কৃষক, ছাত্রদের মধ্যে কাজ করা ও সংগঠন গড়ে তোলা৷ রুশ বিপ্লব একটি দুনিয়া কাঁপানো মহান বিপ্লব৷ এই বিপ্লবী আদর্শের কোন মৃত্যু নেই, যেমন মৃত্যু নেই ফরাসী বিপ্লবের৷

    দুনিয়ায় কোন কিছু স্থির ও স্থায়ী নয়৷ বর্তমান পুজিবাদী সমাজ ব্যবস্থাও কোন স্থায়ী বিষয় নয়৷ যেভাবে দাস সমাজ ও সামন্ত সমাজ কালের গর্ভে বিলীন হয়েছে, বর্তমান পুজিবাদী সমাজেরও তাই হবে৷ এটাই হলো ইতিহাসের অমোঘ নিয়ম৷ কেউ এই নিয়মকে বদলাতে পারে না৷ আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশেও সেই পাল বংশ, সেন বংশ আর নেই৷ এই বংশের রাজা বাদশা ও তাদের বশংবদরাও কি তাদের ক্ষমতা ও ব্যবস্থাকে স্থায়ী মনে করেনি?

    • বিপ্লব পাল জুলাই 11, 2011 at 9:20 অপরাহ্ন - Reply

      @মলয়,
      আর স্টালিন সম্মন্ধে তার মোহ ভঙ্গ হয় নি? রাশিয়ার চিঠিতেই তিনি স্টালিনের সমালোচনা করেছিলেন এবং সেটি রাশিয়ার পেপারে ছাপানো হয় নি। অবশ্যই স্টালিনের নির্দেশে।

      http://zeenews.india.com/news/world/stalin-gagged-tagore-s-criticism-of-communism_708033.html

      তাছারা মলয়বাবুর ভাষা আপত্তিজনক। এখানে কেও পয়সার জন্যে লেখে না। সবাই মুক্তচিন্তার জন্যে লেখে। মলয়বাবুরা চীনের পয়সা খেয়ে লেখেন এমন লিখলে কি ভাল হবে???

      উনার এই নোংরা ভাষায় লেখা যুক্তিহীন কমিনিউস্ট বালখিল্যতার বিরুদ্ধে কিছু লেখার প্রয়োজন করছি না কারন উনারা আমার একটিও পয়নেটের যুক্তিপূর্ন বিরোধিতা করতে পারেন নি। এই ধরনের কমিনিউস্ট হাগামোতার সাথে ব্লগে সম্যক পরিচিত আছি যেখানে যুক্তি ব্যাতিরেকে শুধু বুর্জোয়া, প্রতিবিপ্লব ইত্যাদি শব্দ সহযোগে ফালতু কথাবার্তা চলে। উনি জানেনই না, ধনতন্ত্রের সমালোচনা উনার থেকে অনেক বেশী আমিই করেছি।

      খুব সঙ্গত কারনেই এখন ভারতের ক্ষুদ্রতম রাজ্য ত্রিপুরাতেই এখন কমিনিউস্টদের একমাত্র অস্তিত্ব আছে। ২০১৫ সালের পর ভারতে কোথাও কমিনিউস্টদের কোন অস্তিত্ব থাকবে না।

      • মলয় জুলাই 14, 2011 at 9:31 পূর্বাহ্ন - Reply

        @বিপ্লব পাল,

        “তাছারা মলয়বাবুর ভাষা আপত্তিজনক। এখানে কেও পয়সার জন্যে লেখে না। সবাই মুক্তচিন্তার জন্যে লেখে। মলয়বাবুরা চীনের পয়সা খেয়ে লেখেন এমন লিখলে কি ভাল হবে???”

        আমি বলেছি “ঠাকুর ঘরে কে?” আর আপনি উত্তর দিচ্ছেন “আমি কলা খাই না।” সব পরিষ্কার নয় কি?

  2. মুক্তি চাকমা জুলাই 10, 2011 at 9:56 অপরাহ্ন - Reply

    @বিপ্লব পাল,

    আপনার অনেক প্রশ্নের জবাব রবীন্দ্রনাথের “রাশিয়ার চিটিতে” পাওয়া যাবে। তিনি ১৯৩০ সালে রাশিয়া থেকে এই চিঠিগুলো লিখেছিলেন৷ আপনি নিশ্চয়ই ওই বইটি পড়ে থাকবেন৷ তবুও কিছু উদ্ধৃতি দেয়ার লোভ সামলাতে পারছি না৷ তবে তার আগে বলে রাখি রবীন্দ্রনাথ কখনো কোনদিন কমিউনিস্ট ছিলেন না এবং বলশেভিকদের সাথে তার মতাদর্শের ক্ষেত্রে ছিল দুস্তর পার্থক্য৷ সেজন্য বলা যায় তিনি তার সফরের সময় প্রত্যক্ষ করে যা লিখেছেন তা ছিল বৈর্ব্যক্তিক ও বস্তুনিষ্ট৷

    তিনি লিখেছেন: “মস্কৌ থেকে যখন নিমন্ত্রণ এল তখনো বলশেভিকদের সম্বন্ধে আমার মনে স্পষ্ট কোনো ধারণা ছিল না৷ তাদের সম্বন্ধে ক্রমাগতই উলটো উলটো কথা শুনেছি৷ আমার মনে তাদের বিরুদ্ধে একটা খটকা ছিল৷” অর্থাত্‍ বলশেভিকদের ব্যাপারে ব্যাপক অপপ্রচার ছিল৷ কিন্তু রাশিয়ায় গিয়ে নিজ চোখে দেখে তার সেই খটকা দূর হয়ে যায়৷ তিনি লেখেন, “তা হোক, আপাতত রাশিয়ায় এসেছি-না এলে এ জন্মের তীর্থদর্শন অত্যন্ত অসমাপ্ত থাকত৷”

    মোট কথা, রাশিয়ায় ঘুরে যা দেখেছিলেন তিনি তার উচ্ছসিত প্রশংসা করেছিলেন৷ নীচে রাশিয়ার চিঠি থেকে আরও কিছু উদ্ধৃতি:

    – শুধু শ্বেত রাশিয়ার জন্য নয়-মধ্য-এশিয়ার অর্ধসভ্য জাতের মধ্যেও এরা বন্যার মতো বেগে শিক্ষা বিস্তার করে চলেছে: সায়ন্সের শেষ-ফসল পর্যন্ত যাতে তারা পায় এইজন্যে প্রয়াসের অন্ত নেই৷ এখানে থিয়টারে ভালো ভালো অপেরা ও বড়ো নাটকের অভিনয়ে বিষম ভিড়, কিন্তু যারা দেখছে তারা কৃষি ও কমর্ীদের দলের৷ কোথাও এদের অপমান নেই৷ ইতিমধ্যে এদের যে দুই-একটা প্রতিষ্ঠান দেখলুম সর্বত্রই ল্য করেছি এদের চিত্তের জাগরণ এবং আত্মমর্যাদার আনন্দ৷ আমাদের দেশের জনসাধারণের তো কথাই নেই, ইংলন্ডের মজুর-শ্রেণীর সঙ্গে তুলনা করলে আকাশপাতাল তফাত দেখা যায়৷ …. কয়েক বত্‍সর পূর্বে ভারতবর্ষের অবস্থার সঙ্গে এদের জনসাধারণের অবস্থার সম্পূর্ণ সাদৃশ্য ছিল-এই অল্পকালের মধ্যে দ্রুত বেগে বদলে গেছে-আমরা পড়ে আছি জড়তার পাঁকের মধ্যে আকন্ঠ নিমগ্ন৷

    -এখানে এসে সব চেয়ে যেটা আমার চোখে ভালো লেগেছে সে হচ্ছে, এই ধনগরিমার ইতরতার সম্পূর্ণ তিরোভাব৷ কেবলমাত্র এই কারণেই এ দেশে জনসাধারণের আত্মমর্যাদা এক মুহূর্তে অবারিত হয়েছে৷ চাষাভুষো সকলেই আজ অসম্মানের বোঝা ঝেড়ে ফেলে মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছে, এইটে দেখে আমি যেমন বিষ্মিত তেমনি আনন্দিত হয়েছি৷

    -এই যে বিপ্লবটা ঘটল এটা রাশিয়াতে ঘটবে বলেই অনেক কাল থেকে অপক্ষা করছিল৷ আয়োজন কতদিন থেকেই চলছে৷ খ্যাত-অখ্যাত কত লোক কত কাল থেকেই প্রাণ দিয়েছে, অসহ্য দুঃখ স্বীকার করেছে৷ [আপনি বলছেন প্রতিবিপ্লব৷ এটা রাশিয়াকে পিছিয়ে দিয়েছিল৷ আর রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং রাশিয়ায় গিয়ে দেখে শুনে বুঝে কী বলছেন৷ অদ্ভুত! আজব দুনিয়ায় আসলে হরেক রকমের মানুষ আছে!!]

    – মনে রেখো, এখানে যে বিপ্লবে জারের শাসন লয় পেলে সেটা ঘটেছে ১৯১৭ খৃস্টাব্দে৷ অর্থাত্‍ তেরো বছর পার হল মাত্র৷ ইতিমধ্যে ঘরে বাইরে এদের প্রচণ্ড বিরুদ্ধতার সঙ্গে লড়ে চলতে হয়েছে৷ এরা একা, অত্যন্ত ভাঙাচোরা একটা রাষ্ট্রব্যবস্থার বোঝা নিয়ে৷ পথ পূর্বতন দুঃশাসনের প্রভূত আবর্জনাময় দুর্গম৷ যে আত্মবিপ্লবের প্রবল ঝড়ের মুখে এরা নবযুগের ঘাটে পাড়ি দিলে সেই বিপ্লবের প্রচ্ছন্ন এবং প্রকাশ্য সহায় ছিল ইংলন্ড এবং আমেরিকা৷ অর্থসম্বল এদের সামান্য; বিদেশের মহাজনী গদিতে এদের ক্রেডিট নেই৷ দেশের মধ্যে কলকারখানা এদের যথেষ্ট পরিমাণে না থাকাতে অর্থ উত্‍পাদনে এরা শক্তিহীন৷ এরইজন্যে কোনোমতে পেটের ভাত বিক্রি করে চলছে এদের উদ্যোগপর্ব৷ অথচ রাষ্ট্রব্যবস্থায় সকলের চেয়ে যে অনুত্‍পাদক বিভাগ-সৈনিক-বিভাগ – তাকে সম্পূর্ণরূপে সুদ রাখার অপব্যয় এদের পক্ষে অনিবার্য৷ কেননা আধুনিক মহাজনী যুগের সমস্ত রাষ্ট্রশক্তি এদের শত্রু পক্ষ এবং তারা সকলেই আপন আপন অস্ত্রশালা কানায় কানায় ভরে তুলেছে৷

    -আমাদের ওখানে সাম্প্রদায়িক লড়াই ঘটে বলে একটা অখ্যাতি বিশেষ ঝোঁক দিয়ে রটনা হয়ে থাকে – এখানেও য়িহুদি সম্প্রদায়ের সঙ্গে খ্রীষ্টান সমপ্রদায়ের লড়াই আমাদের দেশেরই আধুনিক উপসর্গের মতো অতিকুত্‍সিত অতিবর্বর ভাবেই ঘটত _ শিক্ষায় এবং শাসনে একেবারে তার মূল উত্‍পাটিত হয়েছে৷ কতবার আমি ভেবেছি, আমাদের দেশে সাইমন কমিশন যাবার আগে একবার রাশিয়ায় তার ঘুরে যাওয়া উচিত ছিল৷

    -রাশিয়ার জার ছিল একদিন দশাননের মতো সম্রাট; তার সাম্রাজ্য পৃথিবীর অনেকখানিকেই অজগর সাপের মতো গিলে ফেলেছিল, লেজের পাকে যাকে সে জড়িয়েছে তার হাড়গোড় দিয়েছে পিষে৷
    প্রায় বছর-তেরো হল এরই প্রতাপের সঙ্গে বিপ্লবীদের ঝুটোপুটি বেধে গিয়েছিল৷ সম্রাট যখন গুষ্টিসুদ্ধ গেল সরে তখনো তার সাঙ্গোপাঙ্গরা দাপিয়ে বেড়াতে লাগল, তাদের অস্ত্র এবং উত্‍সাহ যোগালে অপর সাম্রাজ্যভোগীরা৷ বুঝতেই পারছ ব্যাপারখানা সহজ ছিল না৷ একদা যারা ছিল সম্রাটের উপগ্রহ, ধনীর দল, চাষীদের ‘পরে যাদের ছিল অসীম প্রভুত্ব, তাদের সর্বনাশ বেধে গেল৷ লুটপাট কাড়াকাড়ি চলল; তাদের বহুমূল্য ভোগের সামগ্রী ছারখার করার জন্যে প্রজারা হন্যে হয়ে উঠেছে৷ এতবড়ো উচ্ছৃঙ্খল উত্‍পাতের সময় বিপ্লবী নেতাদের কাছ থেকে কড়া হুকুম এসেছে — আর্ট সামগ্রীকে কোনোমতে যেন নষ্ট হতে দেওয়া না হয়৷ ধনীদের পরিত্যক্ত প্রাসাদ থেকে ছাত্ররা অধ্যাপকেরা অর্ধ-অভুক্ত শীতকিষ্ট অবস্থায় দল বেঁধে যা-কিছু রক্ষাযোগ্য জিনিস সমস্ত উদ্ধার করে য়ুনিভার্সিটির ম্যুজিয়মে সংগ্রহ করতে লাগল৷

    -১৯১৭ খৃস্টাব্দে এখানে যে বিপ্লব হয়ে গেল তার আগে এদেশে শতকরা নিরানব্বই জন চাষী আধুনিক হলযন্ত্র চক্ষেও দেখেনি৷ তারা সেদিন আমাদেরই চাষীদের মতো সম্পূর্ণ দুর্বলরাম ছিল, নিরন্ন, নিঃসহায়, নির্বাক৷ আজ দেখতে দেখতে এদের খেতে হাজার হাজার হলযন্ত্র নেমেছে৷ আগে এরা ছিল যাকে আমাদের ভাষায় বলে কৃষ্ণের জীব, আজ এরা হয়েছে বলরামের দল৷

    -রাশিয়ায় নবনাট্যকলার অসামান্য উন্নতি হয়েছে৷ এদের ১৯১৭ খ্রীস্টব্দের বিপ্লবের সঙ্গে সঙ্গেই ঘোরতর দুর্দিন দুর্ভিরে মধ্যেই এরা নেচেছে, গান গেয়েছে, নাট্যাভিনয় করেছে — এদের ঐতিহাসিক বিরাট নাট্যাভিনয়ের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ঘটেনি৷

    – রাশিয়ার অবস্থা যুদ্ধকালের অবস্থা৷ অন্তরে বাহিরে শত্রু৷ ওখানকার সমস্ত পরীক্ষাকে পণ্ড করে দেবার জন্যে চারি দিকে নানা ছলবলের কাণ্ড চলছে তাই ওদের নির্মাণকার্যের ভিতটা যত শীঘ্র পাকা করা চাই, এজন্যে বলপ্রয়োগ করতে ওদের কোনো দ্বিধা নেই৷ [অর্থাত্‍ আপনি যাকে “শ্রমিক খুন” সেটা হলো অন্তর্ঘাতমূলক কাজ, স্যাবোট্যাজ – যা বহিঃশত্রুরা উস্কে দিয়েছিল৷ আর কমিউনিস্টরা স্পষ্টতই বলেন তারা শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি-মধ্যবিত্তদের জন্য গণতন্ত্র এবং শোষক নিপীড়ক বুর্জোয়াদের ওপর একনায়কত্ব কায়েম করবে, তাদের disfranchise করবে৷ বুর্জোয়াদের মতো ভাওতাবাজীর গণতন্ত্র কায়েম করবে না৷]

    অরুশীয় জাতি সম্পর্কে:

    – রাশিয়ার সমস্ত দেশ-প্রদেশকে জাতি-উপজাতিকে সক্ষম ও শিক্ষিত করে তোলবার জন্যে এতবড়ো সর্বব্যাপী অসামান্য অকান্ত উদ্যোগ আমাদের মতো ব্রিটিশ সাবজেক্টের সুদূর কল্পনার অতীত৷

    – চোখে দেখলুম-এও দেখতে পেলুম, এদের রাষ্ট্রে জাতিবর্ণবিচার একটুও নেই৷ সোভিয়েট শাসনের অন্তর্গত বর্বরপ্রায় প্রজার মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের জন্য এরা যে প্রকৃষ্ট প্রণালীর ব্যবস্থা করেছে ভারতবর্ষের জনসাধারণের পক্ষে তা দুর্লভ৷

    -পিছিয়ে-পড়া জাতের (বাংলাদেশে যাদেরকে আদিবাসী বলা হচ্ছে: ব্লগপোস্ট লেখক) শিক্ষার জন্যে সোভিয়েট রাশিয়ার কিরকম উদ্যোগ সে কথা তোমাকে লিখেছি৷ আজ দুই-একটা দৃষ্টান্ত দেওয়া যাক৷
    উরাল পর্বতের দক্ষিণ বাষ্কির্দের বাস৷ জারের আমলে সেখানকার সাধারণ প্রজার অবস্থা আমাদের দেশের মতোই ছিল৷ তারা চির-উপবাসের ধার দিয়ে দিয়েই চলত৷ বেতনের হার ছিল অতি সামান্য, কোনো কারখানায় বড়োরকমের কাজ করবার মতো শিক্ষা ছিল না, অবস্থগতিকে তাদের ছিল নিতান্তই মজুরের কাজ৷ বিপ্লবের পরে এই দেশের প্রজাদের স্বতন্ত্র শাসনের অধিকার দেবার চেষ্টা আরম্ভ হল৷
    ……………
    আরো অনেক উদ্ধৃতি দেয়া যেতো৷ আশাকরি এতেই এবার আপনার ভুল ভাঙবে আর রুশবিপ্লব-বিরোধী অপপ্রচারগুলো আস্তাকুড়ে ফেলে দেবেন৷ তবুও সন্দেহ হয়, কারণ রবীন্দ্রনাথের ভাষায় “বিদেশের আমদানী বচনকে একেবারেই বেদবাক্য বলে মেনে নেবার দিকেই আমাদের মুগ্ধ মনের ঝোঁক৷” এই “মুগ্ধ মনের ঝোঁক” কাটিয়ে উঠতে পারবেন কি? নাকি রবীন্দ্রনাথের এই চাক্ষুষ-দেখার বিবরণকেও রূপকথা বলবেন?

    শেষে আপনাকে একটা প্রশ্ন, একজন বাঙালি লেনিনের নেতৃত্বে যদি বাংলাদেশ বিপ্লব-উত্তর রাশিয়ার মতো উন্নতি লাভ করে, নিপীড়িত জাতিগুলো মুক্তি লাভ করে, তাহলে তাতে আপনার অসুবিধা কোথায়? বিপ্লব ছাড়া আমাদের মতো নিপীড়িত জাতিগুলোর মুক্তির কি আর কোন উপায় আছে? বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বলতে পারি, একমাত্র কমিউনিস্ট আদর্শে বিশ্বাসী পার্টিগুলোই তো consistently নিপীড়িত জাতিগুলোর ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে সমর্থন করে যাচ্ছে৷

    • বিপ্লব পাল জুলাই 11, 2011 at 12:43 পূর্বাহ্ন - Reply

      @মুক্তি চাকমা,
      অসুবিধা কিছুই নেই। সমস্যা হচ্ছে আপনি রাশিয়ার চিঠি সম্বলিত ইতিহাস ও কিছু জানেন না। সুতরাং কমিনিউজম নিয়ে মোহভঙ্গ করতে আপনাকে আরো পড়াশোনা করতে হবে।

      [১] রবীন্দ্রনাথ মোটেও রাশিয়াতে মুক্ত বিহঙ্গের মতন ঘুরতে পারেন নি। তাকে কিছু মডেল খামার ঘোরানো হয়েছিল। তিনি তাই দেখেছিলেন। এবং শেষে ব্যাপারটা এত নিঁখুত ছিল-তার কিছু সন্দেহ ও হয়,

      যাইহোক কবিগুরু যখন রাশিয়া যান, তখন পৃথিবীর ইতিহাসের সব থেকে করুন দুর্ভিক্ষ ( হলডোমার) চলছে ইউক্রেনে-যে দুর্ভিক্ষ স্টালিনের তৈরী ছিল। রাশিয়ার চিঠিতে তার উল্লেখ আছে? সুতরাং তাকে রাষ্ট্র থেকে কি দেখিয়েছিল, তা সহজেই অনুমেয়।

      [২] রাশিয়ার অবস্থা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের থেকে রাশিয়ানদের কথা শোনায় ভাল-এবং তারা বলশেভিক জমানা নিয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ানকে যে সাক্ষ্য দিয়েছে, তার থেকে রবীন্দ্রনাথ কি বলেছিলেন, সেটাকে গুরুত্ব দিয়ে লাভ আছে। বরং দেখুন এই বুড়োর ভিডিও -যে দেখেছিল তার প্রতিবেশী কিভাবে তার ছেলে কে রান্না করে খেতে বাধ্য হয়েছিল হলডোমারের সময় ( রবীন্দ্রনাথ যে সময় রাশিয়া ভ্রুমন করেছেন, তার সমসাময়িক)
      http://www.dailymotion.com/video/xdezdj_holodomor-an-old-man_news

      [৩] রবীন্দ্রনাথ ইটালির মুসোলীনিকে নিয়েও মোহমুগ্ধ ছিলেন। পরে ইটালি এব সেনিয়া আক্রমন করলে, কবির মোহভঙ্গ হয় মুসোলিনীকে নিয়ে।

      বেসিক্যালি স্টালিন এবং মুসোলিনী কবিকে যে দেখিয়েছেন-কবি তাই দেখেছেন এবং সরল চিত্তে বিশ্বাস করেছেন। নইলে স্টালিন, মুস্লোনীর দর্শন কবির ১৮০ ডিগ্রী বিপরীতে। রাশিয়াতে যখন দুর্ভিক্ষের চোটে লোকেরা নিজেদের ছেলে মেয়েদের পুড়িয়ে খাচ্ছে, তখন রবীন্দ্রনাথের লেখা ওই চিঠিকে কোন যুক্তিতে সিরিয়াসলি নেওয়া যায়?

      তাছারা আমি বেশ কিছু গবেষনা পত্র দিয়েছি আমার বক্তব্যের সমর্থনে- সেখানে রবীন্দ্রনাথের লেখা টেনে [ যিনি মুসোলিনির ও প্রশংশা করতেন !] বলশেভিকদের জয়গান গাওয়া , বালখিল্যতা ছারা কিছু না।

    • রৌরব জুলাই 11, 2011 at 1:36 পূর্বাহ্ন - Reply

      @মুক্তি চাকমা,
      মানুষের মধ্যে মতভিন্নতা থাকেই — সোভিয়েত রাশিয়া নিয়েও আছে নিশ্চয়ই। কিন্তু আমাকে বলতে হচ্ছে, আপনার মন্তব্য পড়ে মনে হচ্ছে আপনার “বিরোধী দল”-এর যে একটি সুদীর্ঘ ঐতিহাসিক ও ইন্টেলেকচুয়াল ঐতিহ্য আছে, সে সম্বন্ধে সচেতনই নন আপনি (একমত নন, তা ঠিক আছে)। নইলে এক দাড়িওয়ালা রোমান্টিক কবির ভাষ্যে বিপ্লব পালকে তাঁর মতামত “আস্তাকঁুড়”-এ ছুড়ে দিতে হবে, একথা বলতেন না। আর্থার কোয়েস্টলার, আন্দ্রে জিদ, লেজেক কোলাকোওস্কি, জর্জ ওরয়েল-এর ট্রাডিশন অত দুর্বল নয়।

  3. অভীক জুলাই 10, 2011 at 12:41 পূর্বাহ্ন - Reply

    তাও ভাল, একজন বাঙালি স্ট্যালিন চান নাই। সে জন্য ধন্যবাদ এবং শুভকামনা। (F)

    • আল্লাচালাইনা জুলাই 10, 2011 at 2:36 পূর্বাহ্ন - Reply

      @অভীক,

      তাও ভাল, একজন বাঙালি স্ট্যালিন চান নাই।

      :lotpot: নেইলড ইট স্ট্রেইট…অভীকের মন্তব্যে হাহাপগেকেধ!!!!! :lotpot: 😀

    • রৌরব জুলাই 10, 2011 at 3:03 পূর্বাহ্ন - Reply

      @অভীক,
      (Y)

  4. আ হা মহিউদ্দীন জুলাই 9, 2011 at 6:21 অপরাহ্ন - Reply

    @অডঙ চাকমা,
    আপনার দাবী অনুযায়ী অর্ধ শিক্ষিত, বেকার ও অসহায় লোকেরা পার্বত্য চট্টগ্রামের জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত । তাহলে কি আমার মনে করা অসংগত হবে যে অর্ধ শিক্ষিতরা শিক্ষিত হয়েছে এবং অন্যদের অসহায়ত্ত কেটে গেছে, ফলে আপনার মত শিক্ষিত লোকেরা বর্তমানে ভ্রাতৃঘাত বন্ধের জন্য আবেদন করছেন । আমার আর একটি প্রশ্ন, মোল্লা ও কমিউনিষ্ট শব্দের অর্থ কি আপনার মত শিক্ষিত লোকেরা জানে ?

    • অডঙ চাকমা জুলাই 9, 2011 at 9:39 অপরাহ্ন - Reply

      @আ হা মহিউদ্দীন,

      আপনার দাবী অনুযায়ী অর্ধ শিক্ষিত, বেকার ও অসহায় লোকেরা পার্বত্য চট্টগ্রামের জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত

      আমি কি এমনটাই দাবী করেছি? আমার উপরের বক্তব্যটা আরো ভালো করে পড়েন। তারপর কথার মধ্যে কথার মানে খুঁজতে যাবেন। অযথা আপনার সাথে কুটতর্কে যেতে রাজী নই। ধন্যবাদ।

      • আ হা মহিউদ্দীন জুলাই 10, 2011 at 8:40 পূর্বাহ্ন - Reply

        @অডঙ চাকমা,
        আমি আপনার লেখা আবার ভাল করে পড়ে আবার উত্তর দ্দিচ্ছি । অতএব উত্তর ঠিক আছে । সমস্যা হলো, মন্তব্য ভেবে চিনতে দেন না ।

  5. আ হা মহিউদ্দীন জুলাই 8, 2011 at 10:02 পূর্বাহ্ন - Reply

    লেনিন সম্পর্কে নেতিবাচক বক্তব্য আমরা শুনলাম । কিন্তু দেখা যাক ইতিহাস কি বলে । নিম্নের উদ্ধৃতি World History, Civilization from Its Beginnings থেকে নেয়া ।
    Russia in 1918 was a disorganized, defeated, underfed nation, riddled with traitors and bandits. Her population of 160 million needed peace more than freedom, and this the new government realized…………….
    Now, however, famine threatened. The peasant-farmers had sabotaged Lenin’s unpopular state control of food supplies by producing less. Moreover, huge areas of the countryside had been devastated by the civil war. In 1921 the harvest failed and millions faced starvation. To win over the peasants, Lenin announced a New Economic Policy (1921 – 28), by which he went back on state control, allowing peasants a free market. Farming (and with it industry) slowly revived, until by 1925 the economic crisis was past. Lenin was criticized by many Bolsheviks for his retreat from communism. All the same, he had saved the revolution. Though he died in 1924, before he could see the results, he is recognized as the founder of the Union of Soviet Socialist Republics.
    অডঙ চাকমার মন্তব্য “কমিনিউস্ট মোল্লা আর আসল মোল্লা উভয় গ্রুপই আসলে জঙ্গিবাদ চাষ করে”। আমার প্রশ্ন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিবাদমান গ্রুপগুলি কি চাষ করেন?
    শান্তনু সাহার মন্তব্য “আর ১৪০ পার না হতেই নতজানু কমিউনিজম”। তা হলে কি সমাজ বিবর্তন বন্ধ হয়ে গেল? আপনি কি আমাদেরকে জানাবেন, কমিউনিজম কি এবং কাহাকে বলে ও কত প্রকার ।
    অমিত হিল আলোকিত হতে চেয়েছেন । তাকে আলোকিত করার জন্য আপনাদের মধ্যে কি কেউ আছেন ? আপনারা অনুমতি দিলে, আমি এব্যাপারে কিছু আলোচনা করতে পারি ।

    • অডঙ চাকমা জুলাই 9, 2011 at 4:56 অপরাহ্ন - Reply

      @আ হা মহিউদ্দীন,
      পার্বত্য চট্টগ্রামের বিবাদমান গ্রুপগুলিও কমিউনিস্ট মোল্লাদের অনুসরণে জঙ্গিবাদ চাষ করে। অনেক ঘটনা দেখেছি, উভয় দল অর্ধ-শিক্ষিত, বেকার ও অসহায় লোকদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। বানিয়েছে জঙ্গী। সেই জঙ্গীরাই এখন উভয় দলের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার ভরসা।

  6. অমিত হিল জুলাই 7, 2011 at 9:56 অপরাহ্ন - Reply

    পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ, গনতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র, রাজতন্ত্র এবং ধর্মবাদ ? পার্বত্য চট্রগ্রামের জন্য যেকোন একটিকে তো বেচে নিতে হবে । আর্মিরা বলে বিএনপি-আওয়ামিলীগে যোগ দিতে । বামফ্রন্টগুলো নিজেরদের দলে । বামফ্রন্টের সাথে সম্পূর্ণ মিশে গেলে আর্মিদের গলদ এবং সরকারের কৌশল, ভারতের সাথে বন্ধুত্ব বাড়াবে । চীনের চক্রান্ত খুঁজে পাবে । আর অন্যদিকে রাজনৈতিক কোন ভিত্তি ছাড়া অনেকে এনজিও কাজে একাগ্র । আলোকিত হতে চাই ।

    • সমরেশ চাকমা জুলাই 8, 2011 at 8:29 পূর্বাহ্ন - Reply

      @অমিত হিল, সবাই নিজনিজ দলে টানতে চাই নিজেকে লাভবান করাতে । ভৌগলিকতার দোহায় দিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদের গন্ধ খুঁজে নেই অনেক সেনাবাহিনী -জামাতরা । তাই সমস্যাগুলো জানানো আপনার -আমার; সকলের দ্বায়িত্ব । এভাবে আলোকিত হতে হয় ।

    • আতিকুর রাহমান সুমন জুলাই 17, 2011 at 5:37 অপরাহ্ন - Reply

      @অমিত হিল, কিছুদিন আগে একটা ডকুমেন্টারিতে দেখলাম ব্রাজিলের আমাজন জঙ্গলে যারা বাস করে তাদেরকে আমাজন জঙ্গলের মালিকানা দিয়েছে সরকার। এখন যখন সেখানে তেল পাওয়া গেছে , তখন কোম্পানিগুলোকে আদিবাসী বা স্থানীয় নিবাসীদের সাথে দেনদরবার করতে হচ্ছে সেই জমি নিয়ে।
      আমার মনে হয় বাংলাদেশেও একই ধরনের সমাধান ন্যায্য হবে। পাহাড়ে যেসকল মানুষ বাস করে, তারা আদিবাসী হোক আর নাই হোক। সেইসব স্থানীয়দের তাদের জমির মালিকান দিতে হবে। অবশ্য অনেক বাঙালিকে পাহাড়ে পুশইন করার ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে গেছে, কিন্তু যত দেরি হবে জটিলতা আরও বারবে বৈ কমবে না।

  7. বিপ্লব পাল জুলাই 7, 2011 at 5:26 অপরাহ্ন - Reply

    বিপ্লব-পূর্ব রাশিয়ার জনসংখ্যার ৫৭ শতাংশ ছিল অরুশীয় জাতিভুক্ত। অনেক সংখ্যালঘু জাতি ছিল সুসভ্য এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে রুশীয়দের চাইতেও এগিয়ে। জার সরকার এক জাতির বিরুদ্ধে আরেক জাতিকে উস্কে দিয়ে সব সময় দ্বন্দ্ব লাগিয়ে দিতো ও এভাবে তার শাসন শোষণ বজায় রাখতো। শ্রমিক ও কৃষকের ওপরও চলেছিল অমানুষিক শোষণ নির্যাতন। মহান বিপ্লবী মহামতি লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক পার্টিই দুনিয়া কাঁপানো ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের মাধ্যমে নিপীড়িত জাতি ও শ্রমিক কৃষকদের মুক্ত করেছিল

    কোথা থেকে পেলেন এই সব গল্প?

    রূপকথার লেনিন আর বাস্তবের লেনিন এক নন।

    জর্জিয়া এফেয়ার বলে ইতিহাসে একটি চ্যাপ্টার আছে। জর্জিয়া সোভিয়েতের অন্তভূক্ত হওয়ার একবছর বাদেই জর্জিয়ানরা বিদ্রোহ ঘোষনা করে এবং সেখানেও লাল সন্ত্রাস ছড়িয়ে ৫০০০ লোককে হত্যা করে সেই বিদ্রোহ দমন করা হয়-এটি আগস্ট আপরাইজিং নামে পরিচিত।

    http://en.wikipedia.org/wiki/August_Uprising

    যদিও এই ক্ষেত্রে স্টালিনের ভূমিকাই মুখ্য ছিল। পরবর্তী কালে সোভিয়েতের অনেক রাজ্যই বিদ্রোহ করেছে এবং তাদের নির্মন সাজা দিয়েছেন স্টালিন-এর মধ্যে ইউক্রেন থেকে চেচেন সবাই আছে। চেচেনদের একবার সবাইকে ধরে সাইবেরিয়াতে লেবার ক্যাম্পে পাঠিয়েছিলেন স্টালিন। বল্কানদের ধরে পাঠিয়েছিলেন , চেনেন এ!

    হ্যা, একটি বলশেভিক বিপ্লব হলে , আপনাদের চট্টগ্রামের সমস্যার সমাধান এমন হত -ওখানকার আদিবাসিদের মিলিটারি দিয়ে উচ্ছেদ করিয়ে, তাদের বাংলাদেশের অন্য জেলাগুলিতে পাঠানো হত। স্টালিন ৫০০ টি আদিবাসি গোষ্টির বিদ্রোহ ঠিক এই ভাবে দমন করেছেন।
    “The partial removal of potentially trouble-making ethnic groups was a technique used consistently by Joseph Stalin during his career:[8] Poles (1939–1941 and 1944–1945), Romanians (1941 and 1944–1953), Lithuanians, Latvians, Estonians (1941 and 1945–1949), Volga Germans (1941–1945), Ingrian Finns (1929–1931 and 1935–1939), Finnish people in Karelia (1940–1941, 1944), Crimean Tatars, Crimean Greeks, Kalmyks, Balkars, Karachays, Meskhetian Turks, Karapapaks, Terekemes, Far East Koreans (1937), Chechens and Ingushs (1944). Shortly before, during and immediately after World War II, Stalin conducted a series of deportations on a huge scale which profoundly affected the ethnic map of the Soviet Union.[2] It is estimated that between 1941 and 1949 nearly 3.3 million were deported to Siberia and the Central Asian republics.[9] By some estimates up to 43% of the resettled population died of diseases and malnutrition.[10]”

    ১৯১৭-১৯২০ -এই তিন বছর লেনিন অনেক শ্রমিক কৃষক হত্যা করেছেন বিদ্রোহ দমনের নামে।
    “The Internal Troops of Cheka and the Red Army practised the terror tactics of taking and executing numerous hostages, often in connection with desertions of forcefully mobilized peasants. It is believed that more than 3 million deserters escaped from the Red Army in 1919 and 1920. Around 500,000 deserters were arrested in 1919 and close to 800,000 in 1920 by Cheka troops and special divisions created to combat desertions.[2] Thousands of deserters were killed, and their families were often taken hostage. According to Lenin’s instructions,
    “After the expiration of the seven-day deadline for deserters to turn themselves in, punishment must be increased for these incorrigible traitors to the cause of the people. Families and anyone found to be assisting them in any way whatsoever are to be considered as hostages and treated accordingly.”[2]
    In September 1918, in only twelve provinces of Russia, 48,735 deserters and 7,325 bandits were arrested, 1,826 were killed and 2,230 were executed. A typical report from a Cheka department stated:
    “Yaroslavl Province, 23 June 1919. The uprising of deserters in the Petropavlovskaya volost has been put down. The families of the deserters have been taken as hostages. When we started to shoot one person from each family, the Greens began to come out of the woods and surrender. Thirty-four deserters were shot as an example”.[2]
    During the suppression of the Tambov Rebellion, estimates suggest that around 100,000 peasant rebels and their families were imprisoned or deported and perhaps 15,000 executed.[14]
    This campaign marked the beginning of the Gulag, and some scholars have estimated that 70,000 were imprisoned by September, 1921 (this number excludes those in several camps in regions that were in revolt, such as Tambov). Conditions in these camps led to high mortality rates, and there were “repeated massacres.” The Cheka at the Kholmogory camp adopted the practice of drowning bound prisoners in the nearby Dvina river.[15] Occasionally, entire prisons were “emptied” of inmates via mass shootings prior to abandoning a town to White forces.[16][17]”
    http://en.wikipedia.org/wiki/Red_Terror

    সুতরাং কমিনিউস্ট মোল্লা এবং আসল মোল্লাদের মধ্যের কোন পার্থক্য নেই। এরা প্রত্যেকেই ইতিহাস আসলেই কিছু জানে না। রূপকথাকে ইতিহাস ভাবে।

    তবে কমিনিউজমের ইতিহাস ইসলামের নির্যাতনের ইতিহাসের থেকে আরো অনেকগুন ভয়ংকর।

    • অডঙ চাকমা জুলাই 7, 2011 at 5:43 অপরাহ্ন - Reply

      @বিপ্লব পাল,

      সুতরাং কমিনিউস্ট মোল্লা এবং আসল মোল্লাদের মধ্যের কোন পার্থক্য নেই। এরা প্রত্যেকেই ইতিহাস আসলেই কিছু জানে না। রূপকথাকে ইতিহাস ভাবে।

      বিপ্লব দা, “কমিনিউস্ট মোল্লা” খুব সুন্দর টার্ম। কমিনিউস্ট মোল্লা আর আসল মোল্লা উভয় গ্রুপই আসলে জঙ্গিবাদ চাষ করে।

    • শান্তুনু সাহা জুলাই 7, 2011 at 8:46 অপরাহ্ন - Reply

      @বিপ্লব পাল, তবে ১৪০০ বছরের অভিযাত্রী এখনো নতুন, আর ১৪০ পার না হতেই নতজানু কমিউনিজম।

    • মুক্তি চাকমা জুলাই 9, 2011 at 11:55 পূর্বাহ্ন - Reply

      @বিপ্লব পাল,
      ধন্যবাদ আলোচনায় অংশ নেয়ার জন্য৷ আমি মনে করি, রুশ বিপ্লব একটি বিশাল ব্যাপার৷ কেবল উইকিপিডিয়া থেকে কিছু বিচ্ছিন্ন উদ্ধৃতি দিয়ে রুশ বিপ্লবকে কি বোঝা যাবে? আমি নিজেকে রুশ বিপ্লব সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ মনে করি না৷ তবে এটা জানি, বিপ্লবের আগে রাশিয়া ছিল ইউরোপের সবচেয়ে পশ্চদপদ দেশ৷ (রাশিয়ার অর্ধেকাংশ এশিয়ায় ধরা হয়) বিপ্লবের পরই দেশটি দ্বিতীয় সুপার পাওয়ার হতে পেরেছিল এবং বিজ্ঞান, কৃষি, শিক্ষা, খেলাধূলাসহ সর্বেক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটিয়েছিল৷ বিপ্লব না হলে জর্জিয়া, কাজাকাস্তান ইত্যাদি সেন্ট্রাল এশিয়ার দেশগুলোকে জার শাসনে জর্জরিত হয়ে অন্ধকারে পড়ে থাকতে হতো৷

      আমি যা বলেছি তা আপনার কাছে রূপকথা মনে হতে পারে৷ কিন্তু সেটাই বাস্তব যা দুনিয়ার সবাই জানে৷ প্রত্যেক জাতির বিচ্ছিন্নতার অধিকারসহ আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার স্বীকার ও তার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন একমাত্র লেনিন ও স্টালিন আর তাদের বলশেভিক পার্টি৷

      স্টালিন সম্পর্কে অপপ্রচার আমরা অনেক শুনেছি৷ কিন্তু তিনিই রাশিয়াকে হিটলারের আক্রমণ থেকে রক্ষা করেছিলেন এবং তাকে পরাজয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন৷ বিপ্লবের পর শিশু রাষ্ট্রকে আতুরঘরে হত্যা করার জন্য সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলো চারদিক থেকে রাশিয়াকে ঘিরে ধরেছিল এবং পরাজিত শক্তিকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করে গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়ে দিয়েছিল৷ কিন্তু সাম্রাজ্যবাদীদের সেই ষড়যন্ত্র সফল হয়নি৷ প্রতিবিপ্লবী তত্‍পরতা ব্যর্থ করে দিয়েছিল লাল ফৌজ৷

      “তবে কমিনিউজমের ইতিহাস ইসলামের নির্যাতনের ইতিহাসের থেকে আরো অনেকগুন ভয়ংকর।”

      তবে পাহাড়িদের কাছে বাঙালি বুর্জোয়াদের নির্যাতনই সবচেয়ে বেশী ভয়ংকর৷ আর “কমিউনিস্ট মোল্লা” হতে আমার কোন আপত্তি নেই৷ একজন রাজনৈতিক কর্মীর অবশ্যই একটা আদর্শ থাকতে হবে এবং সেটা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে থাকতে হবে৷ বাংলাদেশের কমিউনিস্টরা যদি সেই অর্থে “মোল্লা” হতে পারতো তাহলে মন্দ হতো না৷

      • বিপ্লব পাল জুলাই 9, 2011 at 5:49 অপরাহ্ন - Reply

        @মুক্তি চাকমা,

        তবে এটা জানি, বিপ্লবের আগে রাশিয়া ছিল ইউরোপের সবচেয়ে পশ্চদপদ দেশ৷ (রাশিয়ার অর্ধেকাংশ এশিয়ায় ধরা হয়) বিপ্লবের পরই দেশটি দ্বিতীয় সুপার পাওয়ার হতে পেরেছিল এবং বিজ্ঞান, কৃষি, শিক্ষা, খেলাধূলাসহ সর্বেক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটিয়েছিল৷ বিপ্লব না হলে জর্জিয়া, কাজাকাস্তান ইত্যাদি সেন্ট্রাল এশিয়ার দেশগুলোকে জার শাসনে জর্জরিত হয়ে অন্ধকারে পড়ে থাকতে হতো৷

        খুবই ভুল জানেন। কমিনিউজম এবং রুশ বিপ্লব নিয়ে যত রূপ কথা ছড়ানো হয়েছে, তার মধ্যে এটি অন্যতম। রুশ বিপ্লবের সময় রাশিয়ার শিল্প উৎপাদনে পৃথিবীতে পঞ্ছম ছিল। এই রূপকথার বিরুদ্ধে অনেক গবেষণা রাশিয়ার ইতিহাস একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

        http://www.iaas.msu.ru/pub_on/vamel/comparative.htm

        কমিনিউজম নিয়ে অনেক রূপকথা এবং ভুল তথ্য বলশেভিকরা বাজারে ছেড়েছিল। তার একটা তালিকা আমি তৈরী করেছিলাম।
        এটি ছিল ছয় নাম্বারে

        http://blog.mukto-mona.com/?p=3648

        আমি যা বলেছি তা আপনার কাছে রূপকথা মনে হতে পারে৷ কিন্তু সেটাই বাস্তব যা দুনিয়ার সবাই জানে৷ প্রত্যেক জাতির বিচ্ছিন্নতার অধিকারসহ আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার স্বীকার ও তার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন একমাত্র লেনিন ও স্টালিন আর তাদের বলশেভিক পার্টি৷

        ভুল বললেন। দুনিয়া জানে আদিবাসীদের ওপর স্টালিন যা অত্যাচার করেছেন, ইতিহাসে তার তুলনা নেই। আর এই আদিবাসীদের ওপর অত্যচারের ইতিহাসের স্বীকৃতির জন্যে ভূতপূর্ব সোভিয়েতের রাজ্যগুলি একযোগে ইউরোপিয়ান ইউইনিয়ানের কাছে স্টালিনের সময় আদিবাসী উচ্ছেদকে জেনোসাইড হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যে আবেদন জানায়। ৪ বছর ইউরোপিয়ান ইউনিয়ানের একটি টিম এই ব্যাপারে ইনভেস্টিগেশনের পরে, স্টালিনের আমলে আদিবাসীদের ওপর করা অত্যাচারকে জেনোসাইডের স্বীকৃতি দেয়।

        MEPs recognize Ukraine’s famine as crime against humanity”. Russian News & Information Agency. 2008-10-23. Retrieved 2008-10-23.

        স্টালিন সম্পর্কে অপপ্রচার আমরা অনেক শুনেছি৷ কিন্তু তিনিই রাশিয়াকে হিটলারের আক্রমণ থেকে রক্ষা করেছিলেন এবং তাকে পরাজয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন৷

        এটাও ভুল তথ্য। বাস্তব হচ্ছে ১৯৩৩ সালে স্পানিশ যুদ্ধের সময় রাশিয়ার বিমান বাহিনী এবং স্থল বাহিনী জার্মানী থেকে অনেক উন্নত ছিল। কিন্ত স্টালিন ভয় পেয়ে সোভিয়েতের ৯৫% জেনারেলকে হত্যা করেন যা গ্রেট পার্জ নামে খ্যাত। ফলে রাশিয়ার সামরিক শক্তি ধ্বসে পরে এবং জার্মানী সামরিক শক্তিতে এগিয়ে যায়। এবং তার পরেও জার্মানি ওই ভাবে রাশিয়াতে ঢুকতেই পারত না- সমস্ত সোভিয়েত চররা স্টালিনকে জানাচ্ছিল হিটলার আক্রমন করল বলে কারন ছমাস ধরে জার্মানিরা সমরা সজ্জা করেছে রাশিয়া আক্রমনের আগে। স্টালিন তাদের কথা শোনেন নি-কারন হিটলার তাকে বলেছিল আসলে এই সমর সজ্জা বৃটেনকে ধোঁকা দেবার জন্যে। জার্মানি আসলে বৃটেন আক্রমনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্টালিন শুধু নির্মম ছিলেন না-মাথামোটাও ছিলেন। তিনি হিটলারকে বিশ্বাস করে, জার্মানির আক্রমন করতে পারে, এর জন্যে কোন ডিফেন্স তৈরী করার নির্দেশ দেন নি। ফলে যখন জার্মানী প্রথমদিনের আক্রমনে রাশিয়ানদের গুঁড়িয়ে দিয়েছে-তখন যুদ্ধভূমি থেকে আসা এস ও এস গুলোকেও তিনি বৃটেনের ছল বলে বসে ছিলেন :-s

        বিপ্লবের পর শিশু রাষ্ট্রকে আতুরঘরে হত্যা করার জন্য সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলো চারদিক থেকে রাশিয়াকে ঘিরে ধরেছিল এবং পরাজিত শক্তিকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করে গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়ে দিয়েছিল৷ কিন্তু সাম্রাজ্যবাদীদের সেই ষড়যন্ত্র সফল হয়নি৷ প্রতিবিপ্লবী তত্‍পরতা ব্যর্থ করে দিয়েছিল লাল ফৌ

        আমি এই রূপকথার বিরুদ্ধে একটা গোটা প্রবন্ধ লিখতে পারি। বরং আপনাকে দুটো প্রশ্ন করি-

        বলশেভিক বিপ্লবের পর লাল ফৌজ জর্জিয়া, ফিনল্যান্ড এবং পোলন্ড আক্রমন ও দখল করেছে। সেগুলো কিসের চক্রান্ত?

        আর গৃহযুদ্ধে শুধু দক্ষিণ পন্থী হোয়াইট আর্মিই ছিল না-গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীরাও ছিল। কৃষক শ্রমিক বিদ্রোহকে গৃহযুদ্ধ বলে চালালে, আগে লোকে শুনত-এখন শুনবে না। গবেষনার ফলে এটাই দেখা যাচ্ছে লেনিন নির্মন ভাবে কৃষক এবং শ্রমিক হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদি না জেনে থাকেন-এই ব্যাপারে একটি গবেষণা পত্র আছে পরে নিন।

        বলতে গেলে ১৯১৮ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার ইতিহাস শ্রমিক স্ট্রাইক এবং কৃষক বিদ্রহে ভর্তি। যার সবটাই রেড আর্মির বিরুদ্ধে। কিন্ত ১৯৯০ সালে সোভিয়েতের পতনের আগে-এসব ইতিহাস চেপে দেওয়া হয়েছিল।

        মস্কো, পেত্রোগাড, খারকভ , ক্রনদস্ত গোটা রাশিয়া জুরেই শ্রমিকরা গর্জে উঠেছিল বলশেভিকদের বিরুদ্ধে। নাবিকরা, যারা চ্ছিল বলশেভিকদের বড় সমর্থক, তারাও শ্লোগান দেওয়া শুরু করল-Za Soviety Bez Bolshevikov : বলশেভিক সোভিয়েত ছাড় শব্দে শ্রমিকরা বিদ্রোহ ছড়িয়ে দিতে থাকে ১৯২০ সাল থেকেই ( গৃহ যুদ্ধের পরে)।

        বলশেভিকরা শ্রমিকদের খুন করে রক্ত গঙ্গা বইয়ে দিয়ে সব স্ট্রাইক ভেঙে ছিল। শ্রমিক এবং কৃষকদের রক্তে হাত লাল শুধু সিপিএম ই করে নি। লেনিন ই তার আগ্রদুত। সেই ইতিহাস চাপাছিল দীর্ঘদিন। কিন্ত আজ সোভিয়েতের পতন হতেই আমরা জানছি, কমিনিউজম এবং তাদের দৈত্যদের আসল স্বরূপ।

        নভেম্বর বিপ্লব ছিল আসলেই একটি প্রতিবিপ্লব যা রাশিয়াকে পিছিয়ে দিয়েছিল। এই নিয়ে আগে আমি বিস্তারিত লিখেছি। যদি কেও এর থেকেও ভাল ইতিহাস জেনে থাকে কেও এর একটাও লাইন ভুল প্রমান করে দেখাক!

        নভেম্বর বিপ্লব না প্রতিবিপ্লব?

        যারা মনে করে নভেম্বর বিপ্লবের ফলে রাশিয়া একটি বিশাল শক্তিতে পরিণত হয়, তারা ইতিহাস কিছু জানে না। সাইজের জন্যে রাশিয়া বড়াবরই একটি বিশাল শক্তি ছিল ইতিহাসে-১৯০৫ সালের সংস্কার চালু হওয়ার পর, রাশিয়াতে শিক্ষা, ভূমি সংস্কার ছড়াচ্ছিল। মনে রাখতে হবে, পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সাহিত্য রচিত হয়েছে এই বিপ্লব পূর্ব রাশিয়াতেই ১৮৫০-১৯১০ সালের মধ্যে-যখন একই সাথে চেকভ, ডস্টভয়েস্কি, টলস্টয়, গোর্কিরা বিচরন করেছেন।

        • রৌরব জুলাই 10, 2011 at 3:09 পূর্বাহ্ন - Reply

          @বিপ্লব পাল,
          আপনার মন্তব্যগুলি খুব জরুরি ছিল (Y) । তবে একটা জিনিস যোগ করতে চাই। কমিউনিস্ট বিপ্লবের ফলে যদি বিভিন্ন দিকে রাশিয়ার উন্নতি হয়েও থাকে (এবং হয়েছিল নিশ্চই), তাতে সাত খুন মাপ হয়ে যায় না। হিটলার এবং আইয়ুব খানের আমলেও বহু উন্নতি হয়েছিল। টোটালিটারিয়ান শাসনের কিছু ভাল দিক আছে, সবসময়ই থাকে। সেটাকে স্বীকার করেই তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো প্রয়োজন।

          • বিপ্লব পাল জুলাই 10, 2011 at 10:12 পূর্বাহ্ন - Reply

            @রৌরব,
            একমত
            ঠিক একই বক্তব্য আমি রেখেছিলাম, হিটলার ও স্টালিন প্রবন্ধেঃ

            রাশিয়াকে সুপার পাওয়ার করার জন্যে যারা আজও স্ট্যালিনের ভক্ত, তারা যেন এটা না ভুলে যান, স্ট্যালিনের অনেক কম সময়ে হিটলার জার্মানীকে সুপার পাওয়ার করেছেন। বস্তুত রাশিয়ান শীত না থাকলে মস্কোর পতন নিশ্চিত ছিল জার্মানদের হাতে। সবথেকে বড় কথা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে সোভিয়েত ইউনিয়ানকে সুপার পাওয়ার বলা হলেও-আদৌ তাদের সেই স্বীকৃতি দেওয়া যায় কি না সেটাও বিশ্লেষন করা দরকার। যেটা আমি বলতে চাইছি-সেটা হল এই-কোন সমাজের বস্তুবাদি উন্নতি করতে যদি কোটি কোটি নাগরিককে ক্রীতদাশ বানাতে হয় এবং কোটি কোটি লোকের প্রান যায়, সেই বস্তুবাদি উন্নতির কি কোন অর্থ থাকে? যদি ধরেই নি আজ বাংলাদেশে হিটলার বা স্ট্যালিনের মতন ডিক্টেটররা এসে দশ-বিশ বছরে ডান বা বাম পথে বাংলাদেশকে মালেশিয়া বা চীনের মতন উন্নত দেশে নিয়ে যেতে সক্ষম হলেন। কিন্ত ফলস্বরূপ দুই তিন কোটি লোক অর্ধাহারে, অনাহারে, ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে মারা গেল। সংখ্যালঘুদের নিশ্চিহ্ন করা হল। বাংলা সাহিত্যে এবং সংস্কৃতিতেও লালবাতি জ্বলে গেল-যেমনটা স্ট্যালিনিস্ট রাশিয়াতে হয়েছে। পৃথিবীর সব থেকে সমৃদ্ধশালী সাহিত্যের দেশ, স্টালিনের অত্যাচারে বন্ধ্যা হয়ে যায়। এতটা ক্ষতি স্বীকার করে উন্নতির কি মানে হবে? বা ভারতেই যদি ডান বা বাম ডিক্টেটর এসে, দেশটাকে চীন বা হিটলারের জার্মানী বানাতে চাই-পৃথিবীর বৃহত্তম সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে-সেটা কি খুব অর্থবহ কিছু হবে? এখন বলতেই পারেন যে দেশের লোকেরা খেতে পায় না-তাদের আবার সাহিত্য, সংস্কৃতি নাচ-গান কি? প্রথমত এগুলো বাদ দিয়ে কি বাংলা বা ভারতীয় জাতির আলাদা অস্তিত্ব থাকে? দ্বিতীয়ত গণতন্ত্রের পথে ভারত দারিদ্র অনেক কমিয়ে এনেছে-হয়ত চীনের মতন আমরা সফল নই। কিন্তু এটাও ত সত্য আমাদের বাপ ঠাকুর্দারা মানুষের মর্যাদা নিয়েই বেঁচেছেন। পুলিশের ভয়ে ঘরের কোনে লুকিয়ে- অর্ধাহারে থেকে পশুর মতন বাঁচেন নি।পশুর বা রোবটের মতন বেঁচে বস্তুবাদি উন্নতির কি মুল্য? গণতন্ত্র অবশ্যই ত্রুটিপূর্ণ। উন্নতির পথও অনেক ধীরে। কিন্ত মানুষকে মর্যাদা দিয়ে, যে উন্নতি-তার কোন দাম নেই? যারা গণতন্ত্রের সমালোচনা করেন তারা কি হিটলারের জার্মানী বা স্ট্যালিনের রাশিয়াতে থাকতে চাইবেন? যেখানে কোন কারন বা অকারনে শুধু কোটা পূরণ করার জন্যে লোককে সাইবেরিয়া বা কনসেনস্ট্রেশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে খুন করা হত? উত্তর যদি ‘না’ হয়, তাহলে কোন যুক্তিতে তারা স্ট্যালিন বা হিটলারকে মহান করেন?

  8. আ হা মহিউদ্দীন জুলাই 7, 2011 at 8:29 পূর্বাহ্ন - Reply

    সোভিয়েত রাশিয়ায় সামন্তবাদ উচ্ছেদ করে এবং বিভিন্ন জাতি সত্বার স্বীকৃতি দিয়ে নুতন এক সমাজ ব্যবস্থায় নিয়ে আসার নাম লেলিন, অর্থ্যাৎ সমাজ পরিবর্তনের নাম লেলিন । বাংলাদেশের সমাজ পরিবর্তনই লেখকের কাম্য । তরুন মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবীরা যখন সমাজ পরিবর্তনের জন্য উদ্গ্রীব, তাহলে বুঝা যাচ্ছে সমাজ পরিবর্তন আসন্ন ।

  9. সমরেশ চাকমা জুলাই 7, 2011 at 6:44 পূর্বাহ্ন - Reply

    মুক্তি চাকমা,

    প্রথমে শুভেচ্ছা মুক্তমনাতে একাউন্ট পাওয়ার জন্য ।

    তারপর একটু সমালোচনা, আপনি এক লেখককে হেয় করে বললেন “নাগ চিবিলে দুধ নিগিলে” (চাকমা প্রবাদ, নাক টিপলে দুধ বের হয় অর্থাৎ কচি খোকা), আপনার বোধশক্তির তারিফ করতে হয় । এমন ও হয়েছে, একসময় এক চাকমা ছেলে সেও লেদারে পড়তো পার্বত্য চট্রগ্রামের ভতৃঘাতের ইস্যু নিয়ে গঠনতান্ত্রিক সমালোচনা দুদলকেই করেছিলেন যারপরবর্তীতে, সন্তু লারমা ছেলেটিকে বলেন এমন লেখা যাহাতে আর ভবিষ্যত না লিখে । গতকাল HJC একই হুমকি অডঙ চাকমাকে দেন । লেখক হিসেবে অন্যএক লেখককে সমালোচনা করার সময় বয়সটা ফ্যাক্টর না -লেখাটির বিষয়বস্তু নিয়ে সমালোচনা করার দাবী রাখে । আশারাখি শিক্ষনীয় কিছু পাবো ।

    • অডঙ চাকমা জুলাই 7, 2011 at 2:07 অপরাহ্ন - Reply

      @সমরেশ চাকমা,
      @সমরেশ চাকমা,
      ধন্যবাদ আপনার সুন্দর জবাবের জন্যে।
      আমিও মুক্তমনাতে নতুন। নতুন হিসেবে মুক্তি চাকমাকে স্বাগত জানাই।
      আমিও মুক্তি চাকমা তার লেখার সূচনাতে লেদার কলেজের ছেলেটার ‘ফেবো’ নামে চাকমা ভাষায় উপন্যাস লেখার কারণে যেভাবে তার প্রতি নেতিবাচক মনোভঙ্গি প্রকাশ করেছেন সেটা মেনে নিতে পারি না। সাহিত্যের মানদন্ড বিচারে ‘ফেবো’ গুণগত মান সম্পন্ন উপন্যাস না হতে পারে, কিন্তু ছেলেটা লেখার যে সাহস দেখিয়েছে সেটাকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। দুধের শিশু হোক, নব্বই বছরের বৃদ্ধ হোক বা যে কোন বয়সের হোক, সেটা মুখ্য নয়। লেখকের যে লেখার স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়গুলো অবশ্যই সম্মান করতে হবে।
      ছেলেটার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েও হস্তক্ষেপ করছেন। বললেন,

      উপন্যাস লেখা কি এত সহজ? তবে, সাহিত্য-যশ আকাক্সক্ষী ওই বেরসিক ছাত্রটির দুঃসাহসের তারিফ করতে হয়। অবশ্য, পরে শুনেছি উনি সাহিত্যের পাটতাড়ি গুটিয়ে এক কোম্পানিতে চাকুরী নিয়েছেন।

      উপন্যাস লেখা সহজ কি কঠিন সেটা কার মূল্যায়ন? একজনের কাছে যা কঠিন অন্যজনের কাছে তা সহজ হতে পারে। আর সাহিত্যের পাটতাড়ি গুটিয়ে ছেলেটা কোম্পানীতে চাকরী নিয়েছে – এরকম কথাবার্তাও অসৌজন্যমূলক। কে কোথায় চাকরী করবে সেটা যেমন যার যার ব্যক্তিগত অধিকার, তেমনি সাহিত্য চর্চা করা না করাও যার যার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। সে স্বাধীনতায় অন্য কারোর হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।

  10. বিপ্লব রহমান জুলাই 7, 2011 at 12:51 পূর্বাহ্ন - Reply

    @ মুক্তি চাকমা,

    লেখার শুরুতেই আপনি যে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের কথা বলেছেন, তার প্রথম পাহাড়-যাত্রায় আমিও সঙ্গী ছিলাম। আপনার লেখা পড়তে গিয়ে অনেক পুরনো কথা মনে পড়ে গেলো।…

    কুমিল্লা সেনানিবাস পার হওয়ার পথেই বুঝতে পারি আতংকিত জনপদে প্রবেশের যন্ত্রণা। বেশ কয়েক জায়গায় বাঁশ-কল দিয়ে গাড়ি আটকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যাত্রীদের নাম-ধাম ইত্যাদির তালিকা তৈরী করেন। লাগেজ-ব্যাগেজও তল্লাসী হয় কয়েকবার। চেকপোস্টগুলোতে তখন এমন সাইনবোর্ড দেখি: থামুন। আপনার পরিচয় দিন। পাহাড়ি-বাঙালি দুই লাইনে দাঁড়ান। নিরাপত্তা তল্লাসীতে সহায়তা করুন– ইত্যাদি।

    সফরসঙ্গী ইলিয়াস ভাই (প্রয়াত লেখক আখতারুজ্জামন ইলিয়াস), আনু ভাই (অর্থনীতিবিদ ও লেখক আনু মুহাম্মদ), শাজাহান ভাই (প্রয়াত ব্যারিস্টার লুৎফর রহমান শাজাহান), সারা আপা (ব্যারিস্টার সারা হোসেন), আহাদ ভাই (আহাদ আহমেদ খন্দকার, তৎকালীন অখন্ড ছাত্র ফেডারেশন সভাপতি) — তারাই নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

    [লিংক]

    সে যাই হোক। আপনার লেখার অবরুদ্ধ পাহাড়ি জীবনের মুক্তির আকাঙ্খাটুকু হৃদয় ছুঁয়ে গেলো। চমৎকার লেখার হাত আপনার! শাবাশ! (F)

    আগামীদিনে আন্দোলন সংগ্রামের ভেতর থেকেই লেনিন-এমএন লারমারা বেরিয়ে আসুক, সেই সুদিনের প্রত্যাশা।

    মুক্তমনায় স্বাগতম। চলুক। (Y)

  11. আতিকুর রাহমান সুমন জুলাই 7, 2011 at 12:04 পূর্বাহ্ন - Reply

    কত লেলিন আইল গেল। একজনে কি আর হয়। ইতিহাসের লেলিন তো আর ব্যক্তি লেলিন না সে একজন লিজেন্ড। তাই এত পাওয়ারফুল! আপনার চারপাশে তাকিয়ে দেখেন। বহু লেলিন দেখতে পাবেন। তাদের হাত শক্তিশালী করতে পারলেই হয়। আবার নিজেও লেলিন হওয়া যায়। 🙂

  12. জুলকারনাইন সাবাহ জুলাই 6, 2011 at 11:16 অপরাহ্ন - Reply

    লেনিন তো এখন পতিত এক আদর্শের নেতার নাম যার আদর্শ আর চলেনা ।
    তাকে কি সবাই চায় তবে আপনার মত কেউ কেউ চাইতেই পারে; সে অধিকার আপনার আছে।

    কিন্তু আমার প্রশ্ন–আমরা কি লেনিনের চাইতেও বড় নেতার আশা করতে পারিনা?

    • অডঙ চাকমা জুলাই 7, 2011 at 2:14 অপরাহ্ন - Reply

      @জুলকারনাইন সাবাহ,
      ধন্যবাদ আপনার শেষ প্রশ্নের জন্যে। হ্যাঁ, লেনিনের চেয়েও বড় নেতা দরকার। লেনিনের সময়ের বাস্তবতা আর আমার সময়ের বাস্তবতা এক নয়। কাজেই লেনিনের মত নেতা নয়, বর্তমান সময়ের, বর্তমান যুগের সমস্যা সমাধানের জন্যে বড় যোগ্য নেতার দরকার।

  13. অমিত হিল জুলাই 6, 2011 at 7:43 অপরাহ্ন - Reply

    মুক্তমনায় স্বাগতম । (F) শুভকামনা রইল ।

মন্তব্য করুন