কিছু অনুভূতিঃ
পার্বত্য চট্রগ্রামের কথা লিখতে গিয়ে বাস্তবিক জীবনের কথা মনে পড়ে যায়, তারপর একটু বেশি আবেগপ্রবল হয়ে উঠি । এমন আবেগ একসময় মুক্তিকামী বাংলার মুক্তিযোদ্ধারা হৃদয়ে গেঁথে মুক্তির জন্য সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন পাকিস্তানি বর্বর শাসকশ্রেণীর উপর । রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে অধিকারের জন্য জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন । তাই সেই আবেগ অন্যদশজনের আবেগের চেয়ে ছিল ভিন্ন, সেই আবেগ ছিল ভালোবাসা-মায়া-মমত্ববোধে আবদ্ধ । দেশের-দশের-জাতির মুক্তির সোপানে সেই আবেগ ছিল মর্যাদাপূর্ণ এবং শ্রদ্ধাজনক । আজ আমার মতো অধিকারহারা ছেলে-মেয়ে সেই একই আবেগ হৃদয়ে গেঁথে লাঞ্জনা-বঞ্চনার তীব্র প্রতিবাদী । এই প্রতিবাদ ভেদাভেদ কিংবা অজ্ঞ-অন্ধপূর্ণ নয় কিন্তু ধারাবাহিক অকথ্য করুণ বাস্তবতা মানসিকভাবে জ্বালা দিতে দিতে বাধ্য করাচ্ছে আরো একটু বেশি সতর্ক হবার । এই সতর্কতার কারণ অবিশ্বাস, আর এই অবিশ্বাসের কারণ চাতুকারিতা এবং প্রতারণা করার প্রতিফলন । আজ সেই প্রতারণার পরিপূর্ণ ফসল হচ্ছে “ভ্রাতৃঘাত”, যে ভ্রাতৃঘাতে ঝরে যাচ্ছে বাংলাদেশের একএক সুনাগরিক ।

পার্বত্য চট্রগ্রাম নিয়ে লেখালেখি করতে ব্যক্তিগতভাবে অনেক খারাপ লাগে । তবু ও না লিখলে যে নিজেকে অপরাধী মনে হয়, দ্বায়ভার কম হলেও নিজের উপর ও বত্তায়, তাই অন্য একজনের মতো চুপ করে ও থাকতে পারি না । পার্বত্য সমস্যাটি এখন বহুমুখী । এই বহুমুখী সমস্যাটিকে একমুখী করার আহ্বান জানালে ও আবার আমার রক্তের ভাইয়েরা আমাকে ভুল বুঝে থাকেন । পার্বত্য চট্রগ্রামের সমস্যাটি দিনদিন বহুমুখী আকারে রুপ নিচ্ছে, আর অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর “ডিজিএফআই” -একের পর এক ছক একে নিজেদের উদ্দেশ্যকে বৃহৎ আকারে হাজিল করে যাচ্ছেন । অনেকাংশে আজ নিরাপত্তা বাহিনীরা সফল ও বটে । এমন এক মন্তব্য ফেইসবুকে এক বন্ধু করেছিলেন যেটি আমি লেখার শেষাংশে আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই ।

শান্তি চুক্তির অপর নাম এখন অশান্তি চুক্তিঃ
শান্তি চুক্তির উপর শ্রদ্ধা রেখে – বর্তমানে পার্বত্য চট্রগ্রামে তিনটি সক্রিয় আঞ্চলিক রাজনীতিক দল রয়েছে । জেএসএস (সন্তু লারমা), জেএসএস (রুপায়ন দেওয়ান) এবং ইউপিডিএফ ( প্রসিত বিকাশ খীসা) । ১৯৯৭ সালের আগে আঞ্চলিক রাজনীতিক দল ছিল মাত্র একটি তা হচ্ছে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস ( অবিভক্ত ) । কিন্তু ১৯৯৭ সালের পরবর্তীতে “পার্বত্য চুক্তি” ( অন্য নাম “শান্তি চুক্তি” ? ) হওয়ার পর নতুনভাবে পাহাড়ের সবুজ বনাঞ্চল হয়ে যায় রক্তে রঞ্জিত । দীর্ঘ সময়ের জেএসএস এবং বাংলাদেশ সরকারের অস্ত্রবিরতির সমাপ্তি ঘটে, চলে পাহাড়ী কতৃক পাহাড়ী হত্যা-ঘুম-অপহরণসহ মুক্তিপণ আদায় -এর পিছনের অবশ্যই আগেভাগে আঁকা ছিল এক দাবা খেলার ঘর । এই দাবা খেলার ঘরটি এঁকেছিলেন বর্তমানে ক্ষমতাসীন আওয়ামিলীগ সরকারের কূটনীতিকবৃন্ধ অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর “ডিজিএফআই” । আর জীবনহানি খেলায় নাম লেখান দুই পাহাড়ী নেতা -১. সন্তু লারমা ( যিনি তাহার ভাই এমএন লারমার মৃত্যুর পর ছিলেন জেএসএস -এর নেতৃত্ব ), এবং ২. প্রসিত বিকাশ খীসা ( যিনি একজন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের অন্যতম জন্মদাতা, বর্তমানে ইউপিডিএফ’ ) ।

১৯৯৭ সালের চুক্তির পর থেকে পাহাড়ে শান্তি ফিরেছে ভাবলে ভুল করা হবে । বরং শান্তি পিছনে বয়ে বেড়াচ্ছে অব্যত্ত অশান্তি, সন্তানহারা মা-বাবা করুণ আর্তনাত আদৌ কোমলময়ী মা-বাবার বুকে জ্বালা দিয়ে যায় । স্বামীহারা বিধবা মা-বোনের জীবন আজ অসহায় । পিতাহারা সন্তানের অর্থনীতিক দূদর্শা আদৌ মানবিকতা হরণ করে চলে; পড়াশুনার খরচভার বহন করতে না পারাতে অনেক ছেলে-মেয়েকে পড়াশুনা থেকে ঝড়ে যেতে হচ্ছে । তবুও গুলাগুলির আওয়াজে আজ পাহাড় কেঁদে বিলাপ করে; মা-বোনেরা এই বিলাপে অংশ নেন । শুধু তারাই জানে যারা ধ্বংসাত্মক ভ্রাতৃঘাতে হারাচ্ছেন প্রাণপ্রীয় একজনকে -মাষ্টার পাশ একজন শিক্ষিত যুবককে । এর জ্বালার অনুশোচনা কয়েকবার স্বচক্ষে দেখেছি যখনি গ্রামে-গ্রামে ঘুরেছি । সন্তানহারা এক মাকে দেখেছি সন্তান হারানোর ব্যথায় সে পাগলপ্রায়; পরিবারের সবাইকে অবিশ্বাস করে সে । এই অবিশ্বাস অত্যন্ত গভীরের; করুণ মানবিক এবং হৃদয়স্পর্শী । তারপর ও কি চুক্তিটি আসলে “শান্তি চুক্তি” হওয়ার দাবী রাখে ? মাননীয়া শেখ হাসিনার ইউনেস্কো শান্তি পুরষ্কারের মূল্য কোথায় ? আবার নাকি নোবেল পুরষ্কার পাওয়ার দরকার ছিল ?

পার্বত্য রাজনীতির সংকটে আঞ্চলিক রাজনীতিক দলসমূহঃ
প্রথম আলোতে সাংবাদিক ‘অরুণ কর্মকার ও হরি কিশোর চাকমা’র “সংকটে পার্বত্য রাজনীতি” কলামে পার্বত্য চট্রগ্রামের বর্তমানে চলমান ভ্রাতৃঘাতের বাস্তবধর্মী চিত্র উঠে আসে । পার্বত্য আঞ্চলিক রাজনীতিক দলগুলো প্রায়ই কাঁদা ছুঁড়াছুঁড়িতে ব্যস্ত হয়ে সত্যিকার আন্দোলনকে একটু হলেও ব্যহৃত করছে । একে অপরকে বলছে কুচক্রী-দালাল-সন্ত্রাসি এবং আরো অনেক বিশেষণ এর ব্যবহারবিধি চোখে পড়ার মতো [1] । এবার আসুন একটু চোখ বুলিয়ে নিই, কে কে এই ভ্রাতৃঘাতের দ্বায়িত্বপূর্ণ পদে অত্যন্ত নিষ্ঠতা এবং সততার সহীত নিজের দ্বায়িত্ব এক ভাইকে মারার মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন করে যাচ্ছেন । আরো অনেকের নাম বাদ পড়তে পাড়ে কারণ সবগুলোর নাম আমার জানা নেই, তবে কারোর জানা থাকলে মন্তব্য লিখে দিতে পারেন । আমার তাঁদের আত্মত্যাগের জন্য অনবরত শ্রদ্ধা যারা যারা সুখের জীবন উৎসর্গ করে অধিকারহারা জাতিমুক্তির জন্য লড়ায়ে সামিল হয়েছেন ঠিক একইভাবে আমার অশ্রদ্ধা এবং ঘৃণা তাদের ভ্রাতৃহত্যা রাজনীতির জন্য । অস্ত্রবাজী রাজনীতির জন্য, এক ভাই অন্য এক ভাইয়ের বুকে গুলি চালানোর জন্য আমি সেসব হত্যার রাজনীতিকে ঘৃণা করি, আর সেসব ভ্রাতৃঘাতের রাজনীতিকে যারা যারা উস্কে দিচ্ছে তাদেরকে ও আমার অশ্রদ্ধা এবং ঘৃণা । এই ঘৃণা মানবিক আবেদনের । এই ঘৃণা শুধু আবেগের নয় বরং মানবিক প্রশ্নের ।

পার্বত্য চট্রগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস):
পার্বত্য চট্রগ্রাম জনসংহতি সমিতি হচ্ছে পার্বত্য চট্রগ্রামে এগার আদিবাসী জুম্মমানুষের প্রথম রাজনীতিক সংগঠন । এই সংগঠনটির জন্ম হয় ১৫ই ফ্রেব্রুয়ারি ১৯৭২ সালে । তাদের নিজস্ব ওয়েব সাইটে দেয়া আছে যে মানবাধিকার ভাবাদর্শ সম্মিলিত যাতে বিদ্যমান জাতীয়তা, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িক, সামন্তবাদ এবং সামাজিক সুবিচার । সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন শহীদ মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা [2]। বর্তমানে সংগঠনটির উচ্চপদস্থ নেতা-নেত্রীবৃন্ধরা হলেন; জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় ( ওরফে সন্তু) লারমা (পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সংগঠনের প্রধান ), প্রণতি বিকাশ চাকমা (সাধারণ-সম্পাদক), উষাতন তালুকদার, মঙ্গলকুমার চাকমা, গৌতম চাকমা, শক্তিপদ ত্রিপুরা, সজীব চাকমা নবীনদের সারিতে আছেন বোধিসত্ত্ব চাকমা, দীপায়ন খীসা, বব লারমা, ত্রিজিনাথ চাকমা, তেজদীপ্ত চাকমা, নিটোল চাকমা, বুলবুল চাকমাসহ আরো অনেকেই । মহিলা সমিতির নেত্রী হলেন জ্যোতিপ্রভা লারমা আর নবীন নেত্রীদের সারিতে আছেন চৈতালি ত্রিপুরা, চঞ্চনা চাকমা, সৃজনী ত্রিপুরা প্রমুখ ।

পার্বত্য চট্রগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস -সংষ্কার):
২০০৬ সালের সময়ে সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির ভাঙ্গন শুরু হয় এর প্রেক্ষিতে নতুন অন্যএক সংষ্কারপন্থী আঞ্চলিক রাজনীতিক দল সৃষ্টি হয়, যেটিকে নামকরণ করা হয় জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-এম এন লারমা) । সংগঠনটির বর্তমান কনভেনিং কমিটি গঠন করে ১০রা এপ্রিল ২০১০ সালে । নতুন সংস্কারপন্থী সংগঠনটি অভিযোগ করে যে সন্তু লারমা নেতৃতাধীন ২০-৩১ মার্চের ২০১০ সালে জেএসএস এর ৯ম জাতীয় আলোচনাতে সংবিধান লংঘনের সাথে ৬জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়, যার মধ্যে ছিলেন মৃত চন্দ্র শেখর চাকমা যিনি দলের ৩য় বারের মতো সাধারণ সম্পাদক পদে দ্বায়িত্ব পালন করেন । সংগঠনটি সন্তু লারমাকে একনায়কসুলভ নেতা বলে অভিহিত করে । বর্তমানে সংগঠনটির উচ্চপদস্থ নেতা-নেত্রীরা হলেনঃ সুধাসিন্দু খীসা (কো-চেয়ারপার্সন), রুপায়ন দেওয়ান (কো-চেয়ারপার্সন), তদিন্দ্রলাল চাকমা (সাধারণ-সম্পাদক), আরো আছেন ইন্জিনিয়ার মৃনালকান্তি ত্রিপুরা, এডভোকেট শক্তিমান এবং নেত্রী কাকলি খীসা । [3] http://chtvoice.blogspot.com

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ):
ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) পার্বত্য চট্রগ্রামের অন্যএক আঞ্চলিক রাজনীতিক সংগঠন । সংগঠনটির জন্ম হয় ২৬শে ডিসেম্বর ১৯৯৮ সালে, এক প্রস্তুতিমূলক কনফারেন্সের মধ্যে দিয়ে যার মধ্যে দিয়ে সংগঠনটি সুষ্পষ্টভাবে শক্তিশালী এবং গুরুতরভাবে ২রা ডিসেম্বরের ১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত “পার্বত্য চুক্তি”কে আপত্তি জানাই যে “চুক্তিটি” মৌলিক দাবীগুলো অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বলে । তাই সংগঠনটি জুম্মমানুষের আত্ম-নিয়ন্ত্রনের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য “পূর্ণ স্বায়ত্বশাসনের” আহ্বান জানায় । আর তাদের ওয়েব সাইটে আছে যে সংগঠনটি দৃরভাবে বিশ্বাস করে গণতান্ত্রিকনীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সামন্তবাদ, এসবকিছু হচ্ছে সমাজকে অত্যাচার এবং ধ্বংস থেকে রক্ষাকরার স্বার্থে । সামন্তবাদের মধ্যে জাতিসমূহের অবিভেদ, লিঙ্গ বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিগত । সংগঠনটির বর্তমান নেতা-নেত্রীরা হলেনঃ প্রসিত বিকাশ খীসা (প্রেসিডেন্ট), রবি শংকর চাকমা (সাধারণ সম্পাদক), উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমা, নিরন চাকমা, ধ্রুব জ্যোতি চাকমা, শান্তি দেব চাকমা, মিথুন চাকমা, মাইকেল চাকমা, রিকো চাকমা, সোনামুনি চাকমা, অংগ্য মারমা, টুংগ্য মারমা এবং আরো অনেকই । নেত্রীর সারিতে আছেন, কণিকা দেওয়ান, যুথিকা চাকমা, রীনা দেওয়ানসহ আরো অনেকেই । [4]

উপরে উল্লেখিত নামগুলোকে চিনে রাখুন, যেগুলোর মধ্যে যেমন আছে জাতির প্রেম তেমনি আছে জাতি হত্যার প্রেম । তেনারা বলেন যে, এই ভ্রাতৃঘাত একটি রাজনীতিক বাস্তবতা যা থেকে বেরিয়ে আসতে সময়ের প্রয়োজন, সেজন্য অনেকেই যুদ্ধকে অনিবার্য বলে মনে করেন । আবার জনসংহতি সমিতির নেতা সন্তু লারমার মতে, “র্বতমানে চট্টগ্রামে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল একটিই, জেএসএস । তিনি মনে করেন, ইউপিডিএফ একটি সন্ত্রাসী সংগঠন । শুরু থেকেই এদের কাজ চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস । আর নবগঠিত জেএসএস (বিক্ষুব্ধ) সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা চক্রান্তকারী, কুচক্রী। খুদে দলবাজি করার জন্য তারা দল থেকে বের হয়ে গেছে । দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে তাদের পেছনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মদদ আছে” [5] । অন্যদিকে ইউপিডিএফের রাঙামাটি জেলার প্রধান সংগঠক শান্তি দেব চাকমা ও তাঁদের অঙ্গসংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব মাইকেল চাকমা বলেন, “জেএসএস নেতারা প্রতিটি সরকারকে খুশি রেখে নিজেদের বিভিন্ন লাভজনক পদে বহাল রাখার কৌশল অবলম্বন করছেন। পাহাড়ি জনগণের দাবি বাস্তবায়নের অবস্থান থেকে তাঁরা সরে এসেছেন। তাই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য তাঁরা কোনো কর্মসূচি দিতে পারছেন না। দলে ভাঙনও হয়েছে এই কারণে” [6]। এই হচ্ছে কাঁদা ছুঁড়াছুঁড়ির নমুনা ।

ইউপিডিএফ এর সমর্থিতদের নেতৃবৃন্ধের মধ্যে যারা যারা প্রতিপক্ষ জেএসএস (সন্তু লারমার) গ্রুপের কাছে নিহত হন তারা হলেনঃ প্রদীপ লাল চাকমা, কুসুম প্রিয় চাকমা, রুপক চাকমা এবং অনিমেষ চাকমা [7]। এরমধ্যে আরো শতখানেক সাধারণ কর্মি এবং সমর্থক । আর অন্যদিকে ইউপিডিএফের কাছে নিহত হনঃ অভিলাষ চাকমা [8] । এরমধ্যে আরো শতখানেক সাধারণ কর্মি এবং সমর্থক । গত ১৪ এপ্রিল বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যা ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামে জেএসএস (রুপায়ন) সমর্থিত এক নেতা চিজিমনি চাকমা ও তার দুই বছরের শিশু কন্যা অর্কি চাকমাকে গুলি করে হত্যা করা হয় । এরজন্য দায়ী করা হয় জেএসএস (সন্তু লারমা) কে । শুধুমাত্র গত তিন মাসে ৮ জন খুন এবং অপহরণের শিকার হয়েছে ১৫ জন । [9]

স্বনামে প্রগতিশীল জুম্মপ্রেমীক বনাম জুম্মবিদ্বেষীদের মধ্যে তফাৎতা কোথায় ?

স্বনামে প্রগতিশীল জুম্মপ্রেমীকদের মধ্যে বিপ্লব রহমান, নোমান চৌধুরির মতো লেখক এবং সাংবাদিকরা ও রীতিমতো পক্ষপাতিত্ব করে কাঁদা ছুঁড়াছুঁড়িতে লিপ্ত হয়ে নিজেদেরকে প্রগতিশীল বলে দাবী করেন । বিপ্লব রহমান নিজের অভিমত ব্যত্ত করতে গিয়ে বলেন,

“স্পষ্টতই আমার পক্ষপাতিত্ব জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) প্রতি । সন্তু লারমা থেকে শুরু করে সমিতির শীর্ষস্থানীয়রা সকলেই আত্নত্যাগী বিপ্লবী। স্বশাসনের আদর্শের ভিত্তিতেই তারা অতীতে সশস্ত্র সংগ্রাম করেছেন, এখনো প্রকাশ্য রাজনীতিতে তারই স্বাক্ষর রেখে চলেছেন ” [10]

নোমান চৌধুরী যিনি নিজেকে জুম্মপ্রেমীক মনে করেন আর নিজের প্রগতিশীলতা প্রকাশ করতে গিয়ে সব দোষের ভার ইউপিডিএফ এর উপর ছেড়ে দেন,

“ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। পার্বত্য চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে শান্তিচুক্তিবিরোধী সংগঠনটি একের পর এক অস্ত্রবাজি করে যাচ্ছে। আগে এই অস্ত্রবাজির মহড়া দুর্গম পাহাড়ে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে সংগঠনটি জেলা ও উপজেলা সদরে ঘাঁটি গেড়ে অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে।” [11]

তেনারা যেদলকে সমর্থন করুক তাতে কোন সমস্যা দেখি না, কিন্তু সৈয়দ ইবনে রহমত, হোসেন খিলজী সাথে কি তেনাদের পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায় ? সৈয়দ ইবনে রহমতের মতে,

“পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্তু লারমাদের সন্ত্রাসী এবং হিংস্রতার চরম দৃষ্টান্তের নজির আছে অসংখ্য। কিন্তু তাদের বর্বরতার চিত্র আমাদের মিডিয়াতে স্থান পায় না। কারণ তারা আমাদের মিডিয়ার কাছে অসহায় অবলা জীব হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু মিডিয়াতে তাদের পরিচয় যাইহোক সত্য কখনো চাপা থাকে না।” [12]

ঠিক একইভাবে উচ্চ শিক্ষিত হোসেন খিলজী ও খুবভাবে শংকিত যেকোন সময় পার্বত্য চট্রগ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে পূর্ব তিমুর হয়ে যাবে এমন মানসিকতার । [13] তবে এখানে একটি মাত্র ব্যবধান লক্ষ্যনীয় তা হচ্ছে বিপ্লব রহমান এবং নোমানরা পাহাড়ীদের সান্নিধ্য থেকে পক্ষপাতিত্ব করার সুযোগ পান আর অন্যদিকে সৈয়দ ইবনে রহমত এবং হোসেন খিলজীরা বাইরের থেকে পাথর মারতে থাকেন । তবে সৈয়দ এবং হোসেনদের জন্য ভ্রাতৃঘাত উস্কে যায় না বরং উনাদের চরিত্রগুলো লিখনিতে সুন্দরভাবে ফুটে উঠে যদিও জাতিবিদ্বেষকে উস্কে দিতে উনারা খুবই পটু কিন্তু অন্যদিকে যারা পাহাড়ীদের সান্নিধ্য থেকে পাহাড়ীদের নিয়ে কিছু লেখালেখি করেন প্লাস নির্দিষ্ট দলকে সাপোর্ট দিয়ে নিজেরকে জুম্মপ্রেমীক বলে ঘুরে বেড়ান তারাইতো আরো বেশি ভয়ংকর পার্বত্য চট্রগ্রামের “ভ্রাতৃঘাতকে” উস্কে দেওয়ার জন্য কারণ স্বপক্ষ দলের সব খারাপ কার্যকলাপকে ডেকে রেখে প্রতিপক্ষ দলের বিরুদ্ধে নানারকম লেখালেখিতে ব্যস্ত হয়ে যান । সে পরিপ্রেক্ষিতে স্বপক্ষ দলের সব খারাপ কাজগুলো হয়ে যায় জায়েজ, না হয় জায়েজ করার আপ্রান্ত চেষ্টা ।

পার্বত্য সংকটে কী করণীয়ঃ
আমি খুব আন্তরিকভাবে চাকমা সার্কেলের প্রধান রাজা দেবাশীষ রায় যেভাবে প্রথম আলোকে বলেন তাতে আশাবাদী, তিনি বলেন,

“একাধিক রাজনৈতিক দল থাকা কোনো সমস্যা নয় বরং তা সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও সমাজে বহুমত বিকাশে সহায়ক। কিন্তু সমস্যা হলো সশস্ত্র সংঘাত। এই সংঘাত পার্বত্য সমাজে এক দুষ্টক্ষত হিসেবে বিরাজ করছে। অনেক তরুণ অকালে শেষ হয়ে যাচ্ছে। চাকমা রাজা বলেন, সশস্ত্র তৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হলে সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে যেমন পরমতসহিষ্ণু হতে হবে, তেমনি সরকারের সহযোগিতাও লাগবে। এই সংঘাত একটি রাজনৈতিক সমস্যা। সে হিসেবেই এটা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে হবে। আর যদি এটাকে আইনশৃঙ্খলার বিষয় বলে বিবেচনা করা হয়, তাহলেও তা নিয়ন্ত্রণে পুলিশি ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করা হচ্ছে পুলিশের কাজে। তা ছাড়া পাহাড়ে ইনসার্জেন্সি (সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারী তৎপরতা) না থাকলেও কাউন্টার ইনসার্জেন্সির একটা চশমা এঁটে রাখা হয়েছে। দেশের অন্য কোনো অঞ্চলে এ রকম সশস্ত্র সংঘাত হলে সরকার যা করত, এখানেও তাই করা উচিত।”

পার্বত্য আঞ্চলিক রাজনীতিক সমস্যার জন্য কে বা কারা দ্বায়ীঃ?
পার্বত্য চট্রগ্রামে ভ্রাতৃঘাতের মূল হোতা কিন্তু ক্ষমতাসীন সরকার আর সব ছকের কারিগর কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর “ডিজিএফআই” । ‘মুই জুম্মো’ নামে এক সচেতন ব্যক্তি যিনি আলজাজিরায় পার্বত্য চট্রগ্রামের সাম্প্রতিক রামগড়-গুড়মারাতে ঘটনার বিবরণ দিয়ে খবর প্রকাশে সমর্থ হন । ৫-ই জুন তিনি আরেকটি খুব গুরুত্বপূর্ণ খবর জেএসএস (সন্তু লারমা) সমর্থিত পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের নেতা বুলবুল চাকমাকে মন্তব্যর খাটিরে জানালেন যা প্রায়ই গোপন থাকতো, যদি ও আঁচ করতে পারি কিন্তু পর্যাপ্ত গবেষণার অভাবে প্রকাশ করা হয়ে উঠেনি । তিনি যা লিখেছেন, আমি অস্বীকার করতে পারি না, যেজন্য আমি দুদলের একে-অপরকে যে ‘সন্ত্রাসী’ অভিধাটি দিয়ে থাকে তার বিরুদ্ধে দুইদলের কর্মী-সমর্থকদের সাথে বেশ কয়েকবার তর্ক করেছি । শুধু তাদের সাথে নয়, এবং কি বিভিন্ন বাংলা ব্লগে আমি উগ্র বাঙালী জাতিবাদী এবং জামাতি-শিবিরদের সাথে এই ‘সন্ত্রাসী’ অভিধাটি নিয়ে গুরুতর তর্ক করেছি । যদি ও আমাদের আঞ্চলিক রাজনীতিবিদরা এখন পর্যন্ত এক চোখ দিয়ে দেখতে ভালোবাসেন । মুই জুম্মো’ যে গুরুত্বপূর্ণ গোপনীয়তাটি প্রকাশ করলেন আমি মনে করি সেটা আঞ্চলিক রাজনীতিবিদদের জানার কথা, না হলে আমাদের আঞ্চলিক রাজনীতিবিদরা এতো অজ্ঞ হয়ে জাতি মুক্তির নেশার স্বপ্ন দেখে কিভাবে ? তাহলে তবু ও কেন এত ভ্রাতৃঘাত ? টাইটেলটি দি্যেছিলাম “নিরাপত্তা বাহিনীর খপ্পরে আমাদের পার্বত্য রাজনীতিক দলগুলো” । মুই জুম্মোর’ মন্তব্যটি আমি হুবহু বাংলার ফন্টে টাইপ করে দিয়ে নোটে রেখে দিয়েছি, যা ছিলঃ

::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

আপনার সাথে একমত….একমাত্র আলোচনায় পারে আমাদের এই অবস্থা থেকে মুক্ত করতে….সাথে দরকার পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং বিশ্বাস (যেটা আমাদের দুই দলের মানুষের-এ অভাব) ।
এবং আরেকটি জিনিস “দালাল” সম্পর্কে……এই ব্যাপারে আমি যেটা মনে করি, কোন পক্ষই দালাল নয়……পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে এই ভুলবুঝাবুঝি, যার পিছনে দায়ী “সেনাবাহিনী এবং ডিজিএফআই” ।
আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে যেটা দেখেছি…..আপনারা যারা রাজনীতি সম্পৃক্ত তারাও হয়ত জানেন, সন্তু লারমা’র যেমন ডিজিএফআই, সেনাবাহিনীদের সাথে আনুষ্ঠানিকতা বজায় রাখার জন্য দেখা করতে হয়, তেমনি খাগড়াছড়িতে ও ইউপিডিএপহ-এর উচ্চপদস্ত নেতাদের একিই জিনিস বজায় রাখতে হয়…..সব ঝামেলা হলো এখানে ।
দুই পক্ষই কিন্তু শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা বজায় রাখার জন্য বাধ্য হয়ে এই সভায় অংশগ্রহণ করেন….আপনারা যারা রাজনীতিতে যুক্ত তারা ভালোমতো জানেন এসব সভায় এড়িয়ে চলার কোন উপায় নেই ।
গেঞ্জাম সৃষ্টি হয় এখানেই…………………….।
যদিও আমাদের উভয় দল এই সভাটা করেন আনুষ্ঠানিকতা বজায় রাখতে, কিন্তু ডিজিএফআই-সেনাবাহিনী ওদের কাছে কিন্তু এটা আনুষ্ঠানিক সভা না…..ওদের কাছে এটা একটা খেলা, যেই খেলা-এ ওরা আমাদের উভই দলকে হারিয়ে আসছে এত দিন ধরে ।
আনুষ্ঠানিক আলোচনা নামে ডিজিএফআই যা করে টা হলো, একজনের বিরুদ্ধে আরেকজন কে লাগিয়ে দেই…..যেমন ধরেন ইউপিডিএপহ এর জনৈক নেতা এর সাথে আনুষ্ঠানিক আলোচনাতে বসলেন খাগড়াছড়ির ডিজিএফআই এর জনৈক মেজর, উনি করবেন কি উক্ত ইউপিডিএফ নেতার সাথে একটা অনুষ্ঠানিক সম্পর্ক বানানোর চেষ্তা করবেন…..এবং ধীরে ধীরে উনার কাছে সন্তু বাবুর কুৎসা রচনা করতে চেষ্টা করতে থাকবেন, এবং কিছউ ভুয়া প্রমাণ ও দিবেন সাথে করে যাতে উক্ত ইউপিডিএফ নেতা-এর মনে গেঠেই যাই আসলেই সন্তু বাবু সরকারের দালাল ।
একই জিনিস করবে রাঙামাটি ডিজিএফআই-এর কর্তা……সন্তু বাবুকে অনেক প্রমাণ দিবেন যে ইউপিডিএফ শান্তি চাই না, শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে-এ বাঁধা ইউপিডিএফ অনেক কিছু ।
ডিজিএফআই এর উপাস্থাপনা এতই নিখুঁত যে অভাগ্যবঃশত আমাদের নেতারা বুঝতে পারেন না যে ওনাদের বোকা বানানো হইতেছে এসব করে ।
আর আমাদের দলগুলো’র পারস্পরিক অবিশ্বাস এখন এতই বেশি হয়ে গেছে যে আমরা আমাদের বিরুদ্ধে ওরা যা বলে টাই বিশ্বাস করি ।
আর ভুলে গেলে চলবে না, ডিজিএফআই/ইন্টালিজেন্ট ফোর্স এর মানুষগুলো উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পেশাদার লোক….যার কারণে ওদের বুদ্ধির কাছে আমরা বারবার পরাজিত হই ।
এরকম একটা উদাহরণ আমি একটা বই এ পড়েছিলাম, যে ইন্টালিজেন্ট ফোর্সগুলো কেমনে অন্তর কোলাহ সৃষ্টি করতে পারে……….কোথায় পড়ছি ঠিক মনে পড়তেছে না কিন্তু কাহিনীটা এরকম, “একটা দলে সদস্যরা একটা শহরে ভয়ংকর রকমের সন্ত্রাসী কার্যকর্ম সৃষ্টি করে চলেছে যা শহরের পুলিশ/নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেছে….দলটা এতই শক্তিশালী হয়েছে যে পুলিশ রা আর পারতেছে না…..শক্তিতে যখন পাড়তেছে না তখন শহরের নিরাপত্তা বাহিনী করলো কি বুদ্ধির আশ্রয় নিলো…..ওরা দেখলো কি, আমরা শক্তিতে দলটির সাথে পারছিনা যখন, আমাদের এখন একটা কিছু করতে হবে দলটাকে ভাঙানোর জন্য” ।
এবং একসময় দলটা ভাঙার সুযোগ ও ওরা পেয়ে গেলো…..হইছিলো কি দল-এর কিছু সদস্য একটা ব্যাংক ডাকাটি করলো….এই সুযোগ থাকেই ওরা কাজে লাগালো….ব্যাংক ডাকাতি করে দলের সদস্যরা নিয়েছিলো ধরেন ১০ কোটি টাকা….পরদিন খবরের কাগজে-এ নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশনায় সাংবাদিকরা টাকার অংকটা ছাপালো ২০ কোটি টাকা । এই শুরু হয়ে গেলো অন্তর খন্ডল দলটার মাঝে….যারা ব্যাংক ডাকাটিতে অংশ নিয়েছিলো, দলের নেতা ওদের ধরলো, তোমরা ২০ কোটি টাকা ব্যাংক থেকে আনছো কিন্তু দলে-এ জমা দিয়েছো মাত্র ১০ কোটি, বাকি ১০ কোটি কোথায় গেলো বলো ।
এভাবে শুরু হয়ে গেলো অন্তরখন্ডল যার শেষ হলো দলকে দুইভাগে ভাগ করে…..এবং দল ভাঙার পর অন্তরখুন্ডলের মাধ্যমে মারামারি করে পুরা দলটাই ধ্বংস হয়ে গেলো…..আর ঐদিকে নিরাপত্তা বাহিনী হাসতে লাগলো ।
যেই দলের সাথে ওরা এতদিন শক্তিতে খুলিয়ে উঠতে পারেনি, ছোটো এক বুদ্ধিতে কেমনে পুরা দলটা রে ধ্বংস করে দিলো ওরা ? মাফ করবেন আমি এখানে আমাদের রাজনীতি দলগুলোকে ঐই খারাপ দলের সাথে তুলনা করেছি ….কিন্তু এটা শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর চালাকি টা বুঝানোর জন্য । [14]

:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

সন্দেহ জন্ম হয় কিজন্য ?
এসব কিছুর পর যখন কেউ এক তরফাভাবে পার্বত্য রাজনীতিক দলদের উপর লেখালেখি সমালোচনা করে তখন সন্দেহ এবং অবিশ্বাস এমনিতেই চলে আসে । পার্বত্য আঞ্চলিক রাজনীতিক দলগুলো ও নিশ্চয় আত্মপক্ষকে সমর্থন করলে খুশীতে আত্মহারা হয়ে যাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই । কিন্তু তাতে করে কোন বৃহৎ স্বার্থ সিদ্ধি হয় না । এই নিয়ে বেশ জোড়েসোড়ে ফেইসবুককে এক অন্যতম মাধ্যম বানিয়ে ঐক্যতার জন্য প্রচারণা করা হচ্ছে, দেয়া হচ্ছে মতামত এবং করা হচ্ছে করুণ আকুতি-মিনতি, সবকিছুর পর ও কাঁদাছুঁড়াছুঁড়িতো আছেই । [15] আন্তরিকতার অভাবে বারবার ঐক্যতা ভেস্তে যাচ্ছে আর ভ্রাতৃঘাত তীব্র থেকে তীব্রতর ধারণ করছে । এ যাবৎ ৫০০ এর অধিক পাহাড়ী হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে এই ভ্রাতৃসংঘাতে । জেএসএস এবং ইউপিডিএফের দস্তাদস্তিতে সাধারণ জনগণ নিরুপায় এবং অসহায় । এমনই বিশ্লেষণধর্মী লেখা পাহাড়ীর অন্যতম ব্লগার অডং চাকমা “জেএসএস-ইউপিডিএফ ঐক্য কী সম্ভব?” শিরোনামে দুদলকে তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি ঐক্য হওয়ার আহ্বান করেছেন । [16]

পরিশেষেঃ
পরিশেষে আপনাদের কাছে শ্রদ্ধার সাথে ক্ষমাপ্রার্থী এবং মানবিক আবেদনের সাথে নম্রভাবে বলতে চাই এটি কোন ব্যক্তি আক্রমনাত্মে নয়, এভাবে সরাসরি না লিখলে বাস্তব দিকগুলো উঠে আসে না এবং পার্বত্য সমস্যার উত্তরণ কখনো সম্ভবপর হবে না । যে যেভাবে পারেন পাহাড়ীদের ভ্রাতৃঘাত বন্ধের জন্য সাহায্য করুণ । আরো জানতে হলে বিনাদ্বিধায় প্রশ্ন করতে পারেন । আঘাতের চেয়ে বরং উপকার হবে । পাহাড়ে এসবকিছু মুক্তভাবে আলোচনা করা যায় না, যে করতে চাই থাকে হুমকি দিয়ে নতুবা ধরে নিয়ে যায় । তাই ভ্রাতৃ সংঘাত আদৌ বন্ধ হচ্ছে না দীর্ঘ ১৪ বছরের পর ও । প্রতিদিন কোন না কোন ভ্রাতৃঘাতের ঘটনা লেগেই আছে । পারলে একটু ঐক্যতা নিয়ে কাজ করতে সাহায্য করুণ । ধন্যবাদ ।

:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
[1] http://2.42.354a.static.theplanet.com/detail/date/2011-06-20/news/93549
[2] http://pcjss-cht.org/
[3] http://chtvoice.blogspot.com
[4] http://www.updfcht.org/about.html
[5] http://2.42.354a.static.theplanet.com/detail/date/2011-06-20/news/93549 ]
[6] http://2.42.354a.static.theplanet.com/detail/date/2011-06-20/news/93549
[7] http://www.samakal.com.bd/details.php?news=70&action=main&menu_type&option=single&news_id=167278&pub_no=732&type
[8] http://webster.site5.com/~pratidin/?view=details&type=gold&data=Loan&pub_no=165&cat_id=1&menu_id=1&news_type_id=1&index=10
[9] http://www.samakal.com.bd/details.php?news=70&action=main&menu_type&option=single&news_id=167278&pub_no=732&type
[10] http://mukto-mona.com/bangla_blog/?p=6118
[11] http://www.shaptahik-2000.com/2010/06/13/%E0%A6%87%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%8F%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BF-%E0%A6%9A%E0%A6%B2/
[12] http://www.sonarbangladesh.com/blog/sayedibnrahmat/15585
[13] http://www.sonarbangladesh.com/blog/HossainKhilji/35288
[14] http://www.facebook.com/media/albums/?id=100001390287862#!/note.php?note_id=220825447935270
[15] http://www.facebook.com/home.php?sk=group_152613778124973&ap=1
[16] http://prothom-aloblog.com/posts/8/128159

[597 বার পঠিত]