চর্যাপদ-২

দার্শনিক পটভূমি ও চর্যাপদের দর্শনঃ
ভারতবর্ষের,বিশেষত বাংলা ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলের,বস্তুবাদী চেতনার অবিকশিত ও ব্যার্থ ধারার ফসল হচ্ছে চর্‍যাপদ।তন্ত্রবিশ্বাসী বৌদ্ধ সাধকদের ইশতিহার হিসেবে কমপক্ষে তিন শতাব্দী ধরে গঠন করা হয়েছিল এর আন্তর কাঠামো-আঁধার ও আধেয়।প্রথম থেকেই এই চর্যাগুলো ব্যস্ত ছিল দেহের নানা ধরণের ইন্দ্রিয় ও এদের নিয়ন্রণের ব্যবস্থাপত্র তৈরীতে;এবং এ ব্যাবস্থাপত্র যারা রচনা করেছিল ও যাদের উদ্দেশ্যে রচিত হতো তারা মূলত ছিল গ্রামের প্রান্তীয় জনগোষ্ঠী।এর পদকর্তারা ছিল দুঃস্থ ও নিরীহ;এবং এরা ছিল তান্ত্রিক ও তন্ত্রপ্রিয়। তন্র কাজ করে মানবদেহ নিয়ে;স্থূল ও অশ্লীলভাবে চিত্রিত করে দেহকে এবং সম্ভোগ-মিলনের পথকেই আধ্যাত্ন-মুক্তির প্রধান প্রপঞ্চ করে তোলে।ফলে চর্যার ভাষায় প্রকট হয়ে উঠে গ্রাম্য সরসতা;যদিও শেষের দিকের চর্যাগুলোতে এ প্রবণতা কমতে দেখা যায়।মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাগুলোকে উদ্ধার করে এনে ঘোষণা করেছিলেন যে চর্যা বাংগালীর জন্য জরুরী শুধু এর সাহিত্যগুণের জন্য-এর দার্শনিক দিক নিয়ে তর্ক করার জন্য নয়।কেননা চর্যাপদ দাবি করে এর ভাষা হচ্ছে সান্ধ্যভাষা অর্থ্যাৎ একে খানিকটা বুঝা যাবে খানিকটা যাবে না;তবে যারা তান্ত্রিক কেবলমাত্র তারাই এর সব কিছু বুঝতে পারবে।দ্বিতীয় চর্যায় তো কুক্কুরীপাদ দাবিই করেছেন যে কোটিজনের মাঝে কেবল একজন বুঝতে পারবে এর ভাষা।হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সাথে সকলেই একমত।তবুও মাঝে মাঝে ইতিহাস উল্টিয়ে দেখতে হয় কী দৃষ্টিভংগী লালন করত চর্যার পদকর্তারা ;আর কীভাবে তারা অন্ধকারে থেকেও আলোকিত করে গেছে বাংলা সাহিত্যকে।

৫৬৩(খ্রিঃপূঃ)সালে জন্মগ্রহণ করা গৌতম বুদ্ধ তাঁর শিষ্যদের যা কিছু শিখিয়েছিলেন সেগুলোর মধ্যে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে যায় এমন সব মতবাদ বাদ দিলে যা কিছু প্রধান থাকে তা হচ্ছে অনাত্নাবাদ, প্রতীত্য সমুৎপাদ ও ক্ষণিকবাদ।এখানে ঈশ্বরের স্থান নেই।ফলে বৌদ্ধ দশর্ন অনীশ্বরবাদী দর্শনও বটে।বৌদ্ধ দর্শনের প্রধানতম ভাষ্যকার হলেন নাগসেন,নাগার্জুন,অসঙ্গ,দিগনাঙ্গ ও ধর্মকীর্তি।এদের উদ্ভব ও বিলয় ১৫০ খ্রিঃপূঃ থেকে শুরু করে ৬০০ খ্রিঃ এর মধ্যে। এর পর আর কোন প্রধান বা গুরূত্বপূর্ণ ভাষ্যকারের নাম পাওয়া যায় না।শুধু পাওয়া যায় বৌদ্ধধর্মের নানা ধরনের শাখা ও উপশাখা কিংবা প্রশাখার নাম।অবশ্য এরও আগে সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে বা ঐ সময়ে (২৬৯ খিঃপূঃ )বৌদ্ধধর্ম ভাগ হয়ে যায় কমপক্ষে আঠারোটি ভাগে যেগুলো কি-না আবার দুটি প্রধান বিভাগ-মহাসাংঘিক ও স্থবিরবাদ-হতে সৃষ্ট।এ দুটি বিভাগ পরবতীর্তে(৭৮ খ্রিঃ)মহাযান ও হীনযান নামে আত্নপ্রকাশ করে।হীনযানীদের ধর্ম-সাহিত্য রচিত হয় পালি ভাষায় আর মহাযানীদের সাহিত্য পাওয়া যায় মূলত সংস্কৃত ভাষায়।পালি ছিল তখনকার সাধারণ বা প্রাকৃত জনের ভাষা। মহাযানী মতবাদ ব্রাক্ষ্মণ্য ধর্ম প্রভাবিত হওয়ায় ব্রাক্ষ্মণ্য ধর্মের প্রভাবে পরবর্তীতে এটি ভারতবর্ষ থেকে লোপ পায়।হীনযানীরা মূল পালি ত্রিপিটককে তাদের মূলগ্রন্থ হিসেবে স্বীকার করে।এ অঞ্চলের বৌদ্ধরা মূলত হীনযানী বা স্থবিরবাদী।পরবর্তী আলোচনায় আমাদের ব্যস্ত থাকতে হবে হীনযানীদের নিয়েই কেননা এ শাখার নানা পথ পরিক্রমায় তৈরী হয়েছে চর্‍যাপদের সৃষ্টিকর্তাদের বা সহজিয়াদের।বুদ্ধত্ব লাভের পর বৌদ্ধ যে বাণী দিয়েছেন তা অনুসরণ করতে আগ্রহী হীনযানীরা।অর্থ্যাৎ বুদ্ধত্ব লাভই হীনযানীদের মূলকথা।কিন্তু মহাযানীরা মনে করে জগতে সকলের বুদ্ধত্ব প্রাপ্ত না হওয়া পর্‍যন্ত বোধিসত্ত্ব অর্থ্যাৎ বুদ্ধত্ব সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞানী হয়ে থাকাই শ্রেয়।এদিক থেকে বিচার করলে মহাযানীরা সকলের জন্য বুদ্ধত্ব চান;অন্যদিকে হীনযানীরা ‘ব্যক্তি আলাদা আলাদা ভাবে বুদ্ধত্ব বা মোক্ষ লাভ করবে’ এ মতে বিশ্বাসী।হীনযানীদের এ আকাংখাই, অর্থ্যাৎ শূন্যতা লাভের আকাঙ্ক্ষা, পরবর্তীতে ভিন্ন পরিস্থিতিতে তান্ত্রিকতার প্রভাবে সহজিয়া মতবাদে রূপ নেয়।এবং সহজিয়ারা আশা করতে থাকে যে চরমসুখ(নির্বাণ লাভের বিকৃত রূপ)লাভ করা যায় তন্ত্র ও যোগ নির্দেশিত পথ ধরে অর্থ্যাৎ ইন্দ্রিয়কে নিয়ন্ত্রণ করে।

তন্ত্র কী?সহজ কথায় ‘যাহা আছে দেহভান্ডে তাহাই আছে ব্রক্ষ্মান্ডে’-এ মতই মোটামুটি সকল তন্ত্রের সিদ্ধান্ত ।তান্ত্রিক কিয়া-কর্ম বা আচরণ বাংলায় বহু আগে থেকেই বর্তমান।শশীভূষণ দাশগুপ্ত বলেন-“Tantrism is neither Buddhist nor Hindu in origin ,it seems to be a religious under-current,originally independent of any obstruse speculation flowing from an obscure point of time in the religious history of India with these practices and Yogic processes,which characterize Tantrism as a whole,different philosophical,or rather theological systems got closely associated in different times……………….[This]when associated with the Buddhistic speculations have given rise to the composite religious system of Buddhist Trantrism”.(The obscure religious cults as background for Bengali literature;Dr S.B.Dasgupta)ডঃ আহমদ শরীফ বলেন-“ আমাদের ভুললে চলবে না যে বাংগালী মুখে বর্হিদেশীয় ধর্ম ও দর্শন গ্রহণ করেছে বটে কিন্তু নিজের জীবন-জীবিকার অনুকূল না হলে তা কখনো বুকের সত্য কিংবা মর্মের তত্ত্ব রূপে বরণ করেনি।তাই এখানে বৌদ্ধ,ব্রাক্ষ্মণ্য ধর্ম ও ইসলাম বিকৃত হয়েছে।বাংগালী সাংখ্যসম্মত ‘যোগতন্ত্রভিত্তিক জীবন-চর্যা গ্রহণ করে নামসার বৌদ্ধমতের আবরণে।কালক্রমে তারই বিবর্তিত রূপ পাই বজ্র-সহজ কালচক্র-মন্ত্র প্রভৃতি বিকৃত বৌদ্ধযানে বা মতে।(বাউল ও সূফী সাহিত্য;আহমদ শরীফ/সংকলকঃডঃ নেহাল করিম)
কৃষিজীবি অনার্য বাংগালীর দর্শন মূলত গড়ে উঠেছে মৈথুন,টোটেম ও পরবর্তীতে তন্ত্র ও যোগাচারকে কেন্দ্র করে।যেমন পাঁচকড়ি ব্যানার্জী বলছেন-‘তন্ত্র অতি প্রাচীন,তন্ত্র ধর্মই বাংলার আদিম ধর্ম এবং ইহা অবৈদিক ও অনার্য।হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে বৌদ্ধমত সাংখ্যমত হতে উৎপন্ন হয়েছে।(বৌদ্ধধর্মঃহরপ্রসাদ শাস্ত্রী)।শশীভূষণ দাশগুপ্ত আরো বলেন যে বাংলাদেশ ও পূর্ব-ভারতীয় অঞ্চলগুলোতে এই তন্ত্র প্রভাব খ্রীস্টীয় ৮ম হতে ১২শ সাল পর্‍যন্ত মহাযান বৌদ্ধ ধর্মের উপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে একে বজ্রযান,সহজযান প্রভৃতি তান্ত্রিক ধর্মে রূপান্তর করেছে।তাঁর মতে এই তন্ত্র সাধনার একটি বিশেষ ধারা বৌদ্ধ দোহা কোষ এবং চর্‍যাগীতিগুলির ভিতর দিয়ে সহজিয়ারূপ ধারণ করেছে।(শাক্ত সাহিত্য;শশীভূষণ দাশগুপ্ত)।আদি মৈথুনতত্ত্ব থেকে কীভাবে তন্ত্র সাধনার বিভিন্ন মত উদ্ভূত হয়েছে তা অবশ্য ধাপে ধাপে বর্ণনা করার মত মাল-মসলা পাওয়া যায় না।তবে ইতিহাসে দেখা যায় পাল আমলে আদি অনার্য-সংস্কার ব্রাক্ষ্মণ্যমত আর মহাযান বৌদ্ধমতের সমন্বয়ে তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্ম,মন্ত্রযান-বজ্রযান-কালচক্রযান ও শেষে সহজযান সম্প্রদায়ের উদ্ভব হয়েছে।(বাউল তত্ত্ব;আহমদ শরীফ)

সহজযানীরা দেব-দেবী,পূজা,মন্ত্র এ সমস্ত আচার আচরণের বিরোধী।বৌদ্ধ সহজিয়া মতে ‘প্রজ্ঞা ও উপায়ের’( যা কিনা মহাযানীদের শূন্যতা ও করূনা)মিলনে একটি পরম সুখময় অদ্বয় অবস্থা প্রাপ্ত হওয়া যায়।এটিই পরবর্তীতে তন্ত্র শাস্তের ইড়া-পিঙ্গলা,ললনা-রসনা,আলি-কালি ইত্যাদি প্রতীকে রূপ নিয়েছে।যেমন ৭ নং চর্যায় আছে-“আলিএ কালিএ বাট রুন্ধেলা/তা দেখি কাহ্ন বিমনা ভইলা”।চর্যাপদের চর্যাগুলো পড়ে অনেকে এ ধারণা করেন যে সহজযানীদের মধ্যে দুরকম সাধন পদ্ধতি চালু ছিল-একটি মৈথুনাত্নক তান্ত্রিকপদ্ধতি ও অপরটি প্রকৃতিবর্জিত বিশুদ্ধ যোগ-প্রণালী বা কায়াসাধন।

বৌদ্ধ সহজিয়াদে তন্ত্রের মূল কর্মকান্ড কী?সোজা কথায় এরা শুক্রের ধ্বংস চায় না।কেননা শুক্র নির্গত হলে শক্তি ক্ষয় হয়।শুক্রের আরো একটি বৈশিষ্ট্য হল এটি ডিম্বাণুর সাথে মিলে আরেকটি সত্তা তৈরী করতে পারে।সুতরাং শুক্ররূপী এ শক্তি যদি দেহের বাইরে নির্গমিত হয় তবে মোক্ষলাভ করা যাবে না।কেননা তাতে দেহের শক্তি নষ্ট হয়ে যায়।সুতরাং এ শক্তিকে দেহের ভেতরে জমিয়ে রাখা চাই।আর তা করতে গেলে,সহজিয়াদের মতে,কিছু প্রক্রিয়ার মখ্য দিয়ে যেতে হয়।এ সাধকেরা দেহে চারটি চক্র নির্দেশ করেন-১)নির্মাণ চক্র(জননেন্দ্রিয় থেকে নাভি পর্‍যন্ত)২)ধর্মচক্র(হৃদয়) ৩) সম্ভোগ চক্র(কন্ঠ) ৪) মহাসুখ চক্র।(মস্তক)।কী অবস্থা দেখছেন!! হিন্দু তন্ত্রে দেখা যায় ইড়া-পিঙ্গলা বা গংগা-যমুনা দেহের দুপাশে অবস্থান করে।যোগ সাধনার মাধ্যমে একে সুষুম্নাকান্ডের দিকে নিয়ে যেতে হয়।এটিই পরমানন্দ লাভের পথ।বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকেরা বলেন ললনা ও রসনার মিলনে সংবৃত-বোধিচিত্ত উৎপন্ন হয়।এবং এটি অবস্থান করে নির্মাণ কায়ে।নির্মাণ কায়ে অবস্থান কালে এটি নিচের দিকে ধাবিত হতে চায় শুধু।যোগসাধনা বলে একে উর্ধ্বগামী করতে পারলে সে রূপান্তরিত হয় পারমার্থিক বোধিচিত্তে।এই পারমার্থিক বোধিচিত্তকেই চর্যাপদে সহজসুন্দরী,নৈরামণি ইত্যাদি নামে পাওয়া যায়।(চর্যাগীতিকা;সম্পাঃআবদুল হাই ও আনোয়ার পাশা)।তবে তন্ত্র দ্বারা প্রভাবিত হলেও চর্যাপদে বশীকরণ,মারণ,ঊচাটন ইত্যাদি তান্ত্রিক কিয়াকলাপের হদিস পাওয়া যায় না।

(চলবে)

...

মন্তব্যসমূহ

  1. কিশোর পাশা অক্টোবর 24, 2015 at 1:11 পূর্বাহ্ন - Reply

    @ইমরান মাহমুদ
    ভাই, লেখাটা খুব ভাল লেগেছে। অনেক ধন্যবাদ । আরও কিছু ব্যাপারে আমার জিজ্ঞাসা ছিল। বুদ্ধত্বলাভ, নির্বাণলাভ এবং বোধিসত্ত্বলাভ বলতে কী বুঝায় ? অনাত্মাবাদ, প্রতীত্য সমুৎপাদ ও ক্ষণিকবাদ সম্পর্কেও জানতে চাই ।

  2. সেন্টু টিকাদার জুন 23, 2011 at 11:27 পূর্বাহ্ন - Reply

    আল লিখেছেন।ভাল লাগল।

  3. লাইজু নাহার জুন 23, 2011 at 12:13 পূর্বাহ্ন - Reply

    ভাল লাগল!
    বাংলার ঐতিহ্য ও শেকড়ের ইতিহাসে আরও প্রানবন্ত হয়েছে লেখাটা!

  4. শুভ্র জুন 22, 2011 at 11:30 অপরাহ্ন - Reply

    (Y)

  5. তামান্না ঝুমু জুন 22, 2011 at 7:40 অপরাহ্ন - Reply

    চর্যাপদের সাথে সাথে হাজার বছরের ই্তিহাসও কথা প্রসঙ্গে আসছে,আলোচিত হচ্ছে ; মানুষ ইতিহাস জানতে পারছে, সেটা ভাল লাগছে।
    আমার মনে হয় বুদ্ধের জন্ম (খৃঃপূ) ৬২৩ অব্দে।

    • ইমরান মাহমুদ ডালিম জুন 22, 2011 at 9:55 অপরাহ্ন - Reply

      @তামান্না ঝুমু, ধন্যবাদ।গৌতম বুদ্ধের জন্মতারিখ নিয়ে আমার কাছে দু রকম তথ্য আছে।বিশ শতকের ইতিহাসবিদেরা মনে করতো তাঁর আয়ুস্কাল ৫৬৩খ্রিঃপূঃ থেকে ৪৮৩ খ্রিঃপূঃ এর মধ্যে।(উইকিপিডিয়া)।রাহুল সাংকৃত্যায়নের ‘বৌদ্ধ দশর্ন’গ্রন্থেও ৫৬৩(খ্রিঃপূঃ)সালকেই বুদ্ধের জন্ম সাল হিসেবে দেখানো হয়েছে।কেউ কেউ ৫৬০ সালকেও তাঁর জন্ম তারিখ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আবার ৬২৩(খ্রিঃপূঃ) সালেও বুদ্ধ বর্তমান ছিলেন এরকম কথাও পাওয়া যায়।(বৌদ্ধ ধর্মের কর্মবাদ বনাম সৃষ্টিরহস্য;জিতেন্দ্র লাল বড়ুয়া)।আমার কাছে রাহুল সাংকৃত্যায়নকেই মনে হয়েছে বেশি অথেনটিক।তাই ঐ সালটা উল্লেখ করেছিলাম

    • ইমরান মাহমুদ ডালিম জুন 22, 2011 at 9:58 অপরাহ্ন - Reply

      @তামান্না ঝুমু,

      কেউ কেউ ৫৬০ সালকেও তাঁর জন্ম তারিখ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

      আমার এ লাইনটিতে ৫৬০(খ্রিঃপূঃ) এটা হবে।

  6. স্বাক্ষর শতাব্দ জুন 22, 2011 at 6:24 অপরাহ্ন - Reply

    চলুক (F)

  7. আব্দুল হক জুন 22, 2011 at 12:10 অপরাহ্ন - Reply

    ডালিম, ভাল করেছ, কেমন আছ? আজই নেট কানেকশন পেলাম। দেখে পরে মন্তব্য করব।

    • ইমরান মাহমুদ ডালিম জুন 22, 2011 at 3:11 অপরাহ্ন - Reply

      @ হক ভাই,
      ধন্যবাদ।ভালো আছি।আপনার মন্তব্যের অপেক্ষায় রইলাম।ভালো থাকবেন।

  8. রৌরব জুন 22, 2011 at 6:20 পূর্বাহ্ন - Reply

    লেখাটা ভাল লাগল, বিচ্ছিন্ন ভাবে এর অনেকাংশ জানা থাকলেও আলোচনাটি নতুন ভাবে ভাবিয়েছে। চলুক (F)

  9. আ হা মহিউদ্দীন জুন 22, 2011 at 12:24 পূর্বাহ্ন - Reply

    বাংলা পিডিয়া অনুযায়ী বাংলা ভাষার উৎপত্তি নিম্নরূপঃ
    http://www.banglapedia.org/httpdocs/Images/BngLang.jpg
    আদিতে বাংলা ও আসামী ভাষার মধ্যে পার্থক্য ছিল খুবই ক্ষীণ । কিন্তু ভাষার বিবর্তনে এই পার্থক্য বিস্তার লাভ করে, ফলে চার্য্যপদ ভাষার সৃষ্টি হয়, যা বাংলা ভাষার আদিরূপ ।
    গ্রাম বাংলার চিন্তা-চেতনা, সংষ্কৃতি ও কৃষ্টির সাথে বাউল বা সুফিবাদ ওতপ্রোত ভাবে জড়িত । এরাই জীবনধর্মী বা বস্তুবাদি দর্শনের প্রবক্তা । এরা ঈশ্বর বা আল্লাহকে দেখে মানুষের মধ্যে । তাই তারা গায়, “আমার প্রানের মানুষ আছে প্রানে/তাই তারে দেখি সকলখানে/আছে সে নয়ন-তারায়, অলোক-ধারায়, তাই না হারায়…/ওগো তাই আমি তারে দেখি যে দিক তাকাই সে দিক পানে ।“
    এই সুফিবাদের জন্যই খাজা মইনউদ্দীন চিসতির মাজার সকল ধর্মের মানুষের কাছে শ্রদ্ধেয় ।

    • ইমরান মাহমুদ ডালিম জুন 22, 2011 at 3:09 অপরাহ্ন - Reply

      @আ হা মহিউদ্দীন,

      গ্রাম বাংলার চিন্তা-চেতনা, সংষ্কৃতি ও কৃষ্টির সাথে বাউল বা সুফিবাদ ওতপ্রোত ভাবে জড়িত । এরাই জীবনধর্মী বা বস্তুবাদি দর্শনের প্রবক্তা ।

      এরা বস্তুবাদি দর্শনের প্রবক্তা কীভাবে হয়?এরা ছিল অজ্ঞ এবং সেই কারণেই প্যাগান।এই প্রকৃতি পূজা পরবর্তীতে ইসলাম বা অন্যান্য একেশ্বরবাদী ধর্মের প্রভাবে রূপ নেয় বাঊল,শাক্ত-শৈব,সূফী বা মরমীয়াবাদে।এগুলো তো প্রচন্ড মাত্রার ভাববাদ।

      • আ হা মহিউদ্দীন জুন 22, 2011 at 7:30 অপরাহ্ন - Reply

        @ইমরান মাহমুদ ডালিম,
        প্যাগান শব্দটির যথার্থ অর্থ হৃদয়াঙ্গম করতে আপনি ব্যর্থ হয়েছেন । তাছাড়া অজ্ঞ হলেই মানুষ প্যাগান হবে তাও ঠিক নয় ।
        আমেরিকান হেরিটেজ ডিকশনারি অনুযায়ী “প্যাগান” শব্দটির অর্থ হলো গ্রামীন মানুষ, যারা হিন্দু, বৌদ্ধ, ইহুদী, খৃষ্টান বা ইসলাম নামের প্রচলিত ধর্মে বিশ্বাসী নয় । মানবতাই যাদের একমাত্র ধর্ম । যে গ্রাম্য মানুষদেরকে আপনি অজ্ঞ মনে করেন, সেই অজ্ঞ মানুষেরাই সমাজ, সভ্যতা, ভাষা, সংষ্কৃতি ও কৃষ্টি সৃষ্টি করেছে ।
        বাংগালিরা আজ যে রবিন্দ্রনাথকে নিয়ে লাফালাফি করে, সেই রবিন্দ্রনাথ তার সংগিতের সুর ও কবিতার জন্য অশিক্ষিত ও অজ্ঞ বাউল লালন শাহ কাছে ঋণী । তাই রবিন্দ্র সমালোচকেরা কটাক্ষ করে বলতেন, রবিন্দ্রনাথ লালন শাহর ডায়রী চুরী করেছে ।
        শাসক গোষ্ঠির চাপে বাহ্যিক রূপ বাউলদেরকে কিছুটা পরিবর্ত করতে হয়েছে বটে । কিন্তু মূল লক্ষ্য থেকে তারা বিচ্যুত হয়নি । শক্তিনাথ ঝার “বস্তুবাদী বাউল” পড়লে বিষয়টি আরো পরিষ্কার হবে ।

        • ইমরান মাহমুদ ডালিম জুন 23, 2011 at 12:19 পূর্বাহ্ন - Reply

          @আ হা মহিউদ্দীন,

          প্যাগান শব্দটির যথার্থ অর্থ হৃদয়াঙ্গম করতে আপনি ব্যর্থ হয়েছেন । তাছাড়া অজ্ঞ হলেই মানুষ প্যাগান হবে তাও ঠিক নয় ।

          আমি কিন্তু বলিনি যে অজ্ঞ হলে মানুষ কেবল প্যাগানই হয়।আমি বলতে চেয়েছি যে যেহেতু তারা অজ্ঞ ছিল সেহেতু তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল প্যাগানিজম ও তৎসংক্লিষ্ট প্রথা মেনে চলা।যেহেতু বাংলার লোকায়ত বা প্রাকৃত জনগোষ্ঠী অজ্ঞ ছিল,সুতরাং তাদের পক্ষে প্যাগান হওয়া খুব স্বাভাবিক ঘটনা ছিল।আর অজ্ঞতার দরুনই এরা প্রায়-বস্তুবাদী বৌদ্ধ ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়েছে বারবার;গঠন করেছে নানা শাখা-প্রশাখা।

          আমেরিকান হেরিটেজ ডিকশনারি অনুযায়ী “প্যাগান” শব্দটির অর্থ হলো গ্রামীন মানুষ, যারা হিন্দু, বৌদ্ধ, ইহুদী, খৃষ্টান বা ইসলাম নামের প্রচলিত ধর্মে বিশ্বাসী নয় । মানবতাই যাদের একমাত্র ধর্ম । যে গ্রাম্য মানুষদেরকে আপনি অজ্ঞ মনে করেন, সেই অজ্ঞ মানুষেরাই সমাজ, সভ্যতা, ভাষা, সংষ্কৃতি ও কৃষ্টি সৃষ্টি করেছে ।

          চলুন দেখে আসি অন্যরা প্যাগান শব্দটিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করছে- The term pagan is from the Latin paganus, an adjective originally meaning “rural”, “rustic” or “of the country.”(উইকিপিডিয়া)।Merriam-Webstar Dictionary ‘প্যাগান’ শব্দটিকে ব্যাখ্যা করার এক পর্‍যায়ে বলছে- one who has little or no religion and who delights in sensual pleasures and material goods : an irreligious or hedonistic person.সুতরাং যোগাচারী,শাক্ত-শৈব তান্ত্রিক বা বাউলদের প্যাগান বলাটা দোষের কিছু দেখছি না।

          যে গ্রাম্য মানুষদেরকে আপনি অজ্ঞ মনে করেন, সেই অজ্ঞ মানুষেরাই সমাজ, সভ্যতা, ভাষা, সংষ্কৃতি ও কৃষ্টি সৃষ্টি করেছে ।

          চলুন এবার দেখে আসি অধ্যাপক আহমদ শরীফ কী বলছেন।তিনি বলছেন-“বাউলেরা প্রায়ই অশিক্ষিত।বাউলদের লিখিত শাস্ত্র,ইতিহাস বা দশর্ন নেই।তাই তারা কোন প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারে না”।(বাউল ও সূফী সাহিত্য)।আবার বাউলদের গান সম্বন্ধে বলছেন-“সাহিত্য হিসেবে বিচার করলে বাউল গান লালিত্যবিরল লোকগীতিমাত্র,আর কিছু নয়।সুরের একঘেয়েমিও তত্ত্ব-বিমুখ শ্রোতার পক্ষে পীড়াদায়ক”।

          বাংগালিরা আজ যে রবিন্দ্রনাথকে নিয়ে লাফালাফি করে, সেই রবিন্দ্রনাথ তার সংগিতের সুর ও কবিতার জন্য অশিক্ষিত ও অজ্ঞ বাউল লালন শাহ কাছে ঋণী ।

          প্রথমত ‘লাফালাফি’ শব্দটির বিরূদ্ধে প্রবল আপত্তি জানাচ্ছি।
          দ্বিতীয়ত,লালনের জন্ম এদেশে হয় কেন?কারণ এ দেশ পরাজিত আর শোষিত দেশ।এখানে সাধারণ মানুষ,আধা-পুজিঁবাদী আর আধা-সামন্তবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে মানসিকভাবে পুরোপুরি পংগু হয়ে যায় গোটা আঠারো-উনিশ-বিশ শতক জুড়ে।ফলে এখানে গজিয়ে উঠে দারিদ্রতম দশর্ন।সাধারণ মানুষ ঝুঁকে পড়ে গ্রাম্য আধ্যাত্নবাদের দিকে।রবীন্দ্রনাথ পুরোপুরিই উপনিষদ দ্বারা আচ্ছন্ন ছিলেন।ক্ষয়িষ্ঞু জমিদারীর অধিকারী ছিলেন তিনি।তাঁর পক্ষে,অথবা তাঁর শক্তিতে,কখনোই সম্ভব ছিল না পুরনো জমিদারী ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া,কেননা আর্থ-সামাজিক কাঠামো ততদিনে পরিবতির্ত হয়ে গেছে অনেকখানি।সুতরাং তিনি তো আরো বেশি করে ঝুঁকে পড়বেনই ভাববাদের দিকে।কেননা ওখানেই তাঁর আশ্রয়ের স্থল;ওটাই তাঁর ভরসার জায়গা।

          মানবতাবাদী আমি তাকেই বলব যিনি প্রগতিশীলতার পথে যৌক্তিকভাবে অগ্রসর হন।বাউলেরা দেহকে অপবিজ্ঞানীর মতো ভাগ করে নানা তত্ত্বকথা বলে গেছেন;যোগাচার ও কামাচার করেছেন এ বিষয়ে মনগড়া কিছু তত্ত্ব বানিয়ে।আমি তাদের মানবতাবাদী বলতে পারিনা।তবে নিজের অসীম ক্ষুদ্রতা স্বীকার করেও বলছি যে,রবীন্দ্রনাথের পক্ষে সম্ভব ঐ অপবিজ্ঞান ধারণ করা,আমার পক্ষে কোনমতেই সম্ভব নয়।আপনি জেনে খুশি হতে পারেন যে রবীন্দ্রনাথ প্ল্যানচেটে বিশ্বাস করতেন।সুতরাং রবীন্দ্রনাথ যা কিছু করেছে তার সবটুকু বৈধ এটা ভাবলে মারাত্নক ভুল করা হবে।

        • সেন্টু টিকাদার জুন 23, 2011 at 11:49 পূর্বাহ্ন - Reply

          @আ হা মহিউদ্দীন,

          তাই রবিন্দ্র সমালোচকেরা কটাক্ষ করে বলতেন, রবিন্দ্রনাথ লালন শাহর ডায়রী চুরী করেছে ।

          আমার স্কুল জীবনের ইংরেজির শিক্ষক বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথ অনেকাংশে ওয়ার্রডসওয়ার্থের কাছ থেকে কবিতা লেখা শিখেছেন।

          পরবর্তি কালে বড় হয়ে বু্ঝতে পারলাম ওয়ার্রডসওয়ার্থের ও রবীন্দ্রনাথের অনেক কবিতার মিল খুঁজে পাওয়া যায়। আর স্যার ছিলেন ওয়ার্রডসওয়ার্থের পরম ভক্ত। তাই তিনি পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন।

          মনে হয় কেউ কারও কাছ থেকে চুরি করেন নাই।

          ঠিক যেমন লিবনিজ না চুরি করেছিলেন নিউটনের ক্যালকুলাস আর নিউটনও না চুরি করেছিলেন লিবনিজের ক্যালকুলাস।

          সত্য সর্বদাই সত্য দেশ কাল পাত্র নির্বিশেষে।

          • আ হা মহিউদ্দীন জুন 23, 2011 at 9:21 অপরাহ্ন - Reply

            @ইমরান মাহমুদ ডালিম এবং @সেন্টু টিকাদার,
            বিভিন্ন গ্রামে ভ্রমন করে এবং যোগ ব্যায়াম করে গৌতম সিদ্ধার্থ বুদ্ধত্ব বা জ্ঞান অর্জন করেছিলেন । তাই আপনার সংজ্ঞা অনুযায়ী সিদ্ধার্থ একজন অজ্ঞ প্যাগান ।
            চার্য্যপদ আমলে কোন শহর বা আমার আপনার মতো শিক্ষিত কোন মধ্যবিত্ত ছিলনা । তদকালীন গ্রাম্য মানুষের আনুষ্ঠানিক কোন শিক্ষা ছিল না । স্বতোস্ফুর্ত ভাবে তারা জীবন ধর্মী কবিতা লিখে, সুর দিয়ে গান করতো । যার ধারাবাহিকতায় আজকার বাউল সম্প্রদায় ।
            বাউলদের উপর অধ্যাপক আহমদ শরীফের কোন গবেষণা পত্র নেই । তাই তার মন্তব্য গ্রহনযোগ্য নয় । বাউলদের উপর শক্তিনাথ ঝার গবেষণা পত্রের কথা আমি আগেই উল্লেখ করেছি । অজ্ঞ ও প্যাগান সম্পর্কে আপনার মূল বক্তব্য ছিল “এরা ছিল অজ্ঞ এবং সেই কারনেই প্যাগান” । অজ্ঞের সাথে প্যাগান সম্পর্ক স্থাপনে আমার আপত্তি ।
            বাউলেরা কোন বিশেষজ্ঞ নয় । তবে তাদের জ্ঞান বিদ্যমান । তাই তারা কবিতা রচনা করতে পারে, সুর দিতে পারে, নাচতে পারে, গাইতে পারে । ফলে তারা অজ্ঞ নয় । এ ব্যাপারে রবার্ট মেঞ্জারের নিম্নে উল্লেখিত গবেষণা পত্রটি দেখতে পারেন ।
            http://www.iopb.res.in/~somen/Baul/Bauls-Menger.htm
            ভাববাদ ও বস্তুবাদ সম্পর্কীয় যে দর্শনের কথা আপনি বলেন, সেই দর্শনে কিন্তু স্থান, কাল ও পাত্রের কথাও বলে । উক্ত দর্শনে বস্তুবাদি ইতিহাসের কথাও বলে । তাই বর্তমান কালের মানবতার সংজ্ঞা দিয়ে চর্য্যাপদ কালের মানবতা নির্ণয় করা ঠিক নয় বলে প্রতিয়মান হয় । কারণ সবকিছুই স্থান, কাল ও পাত্রের উপর নির্ভরশীল । তাই বিষয়টি দেখতে হবে বস্তুবাদি ইতিহাসের আলোকে ।
            আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার সাথে সাহিত্য ও সংষ্কৃতির কোন সম্পর্ক নাই । কারণ দাস ও সামন্তবাদী ব্যবস্থায়ও সাহিত্য ও সংষ্কৃতি সৃষ্টি হয়েছে । লালনের আমলে ভারতের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা অর্ধ-পুজিবাদী ও অর্ধ-সামন্তবা্দী বিশ্লেষণটি ঠিক নয় । উইকিপেডিয়া অনুযায়ী লালনের জীবতকাল হলো ১৭৭৪ থেকে ১৮৯০ সাল পর্যন্ত । এই মেয়াদকালসহ ১৯৪৭ সাল পর্যান্ত ভারতের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা ছিল পূর্ণ সামন্তবাদী ।
            শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পুজি সঞ্চয়নের পূর্ব শর্ত । ইউরোপীয়ান সামন্তবাদ ষষ্ঠ ও সপ্ত দশ শতাব্দিতে এক মধ্যবিত্ত শ্রেনীর জন্ম দেয় । এই মধ্যবিত্ত শ্রেনী বিভিন্ন কোম্পানী গঠন করতঃ ব্যবসার জন্য আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে । তাই আপনার বিশ্লেষণটি ইউরোপের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার জন্য ঠিক ।
            বৃটিশ তার পুজি সঞ্চয়নের জন্য ছলে-বলে ও কৌশলে আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কলোনী স্থাপন করে, যার মধ্যে ভারত একটি । অন্যান্য ইউরোপীয়ান দেশগুলোর চেয়ে বৃটিশ ব্যবসায়ীরা অধিক সফলতা লাভ করে । দখলকৃত ভারতে কম পারিশ্রমিক দিয়া বৃটিশ তার ব্যবসা-বানিজ্য ও প্রশাসন পরিচালনার লক্ষ্যে স্থানীয় লোকদেরকে শিক্ষিত করে তোলে ।
            বেতন বৈষম্য এবং বৃটিশ কর্তৃপক্ষের দুর্ব্যবহার স্থানীয় শিক্ষিত মধ্যবিত্তকে ক্ষুব্ধ করে তোলে । তাছাড়া ভারতে অবস্থানরত বৃটিশ আর্মির মালামাল সরবারহকারী, রেল-লাইন স্থাপনকারী, কয়লা খনিতে শ্রমিক সরবারহকারী, লৌহ উত্তলোনকারী স্থানীয় ঠিকাদারেরাও ছিল শিক্ষিত । তারাও ছিল বৃটিশের উপর ক্ষুব্ধ । ভারতের ক্ষুব্ধ এই মধ্যবিত্তরা ১৮৮৬ সালে রাজনৈতিক দল কংগ্রেস গঠন করতঃ তাদের অভাব অভিযোগের কথা বৃটিশ সরকারকে জানাতে থাকে ।
            কংগ্রেসের কার্যক্রম ব্যর্থ করে দেয়ার লক্ষ্যে বৃটিশেরা ভারতীয় মুসলমান জমিদারদেরকে উৎসাহ দিয়ে মুসলিম লীগ গঠন করায় । ফলে হিন্দু-মুসলিম বিবেদ সৃষ্টি হয়, যার উত্তাপ আমরা আজ পর্যন্ত অনুভাব করছি ।
            @ সেন্টু টিকাদার,
            রবিন্দ্র সমসাময়িক সমালোচকেরা যাই বলুক কারো সাহিত্যকর্ম চুরি করা যায় না । অশিক্ষিত গ্রাম্য লালনের কবিতা ও সুরকে রবিন্দ্রনাথ নিজ মাধুরি মিশিয়ে আধুনিকতা দিয়ে শিক্ষিত সমাজে উপস্থাপন করেছেন । ফলে লালন তার নিজ জায়গায় এবং রবিন্দ্রনাথ তার নিজ জায়গায় বিদ্যমান ।

            • সেন্টু টিকাদার জুন 24, 2011 at 9:35 পূর্বাহ্ন - Reply

              @আ হা মহিউদ্দীন,

              মহিউদ্দীন ভাইজান একেবারে হক সাচ্চা কথা কইছেন।

              • আ হা মহিউদ্দীন জুন 24, 2011 at 6:32 অপরাহ্ন - Reply

                @সেন্টু টিকাদার,
                হক সাচ্চা কথা কইছি কিনা জানি না । তবে যুক্তি নির্ভর কথ কইছি বলে মনে করি ।

  10. রাফি জুন 21, 2011 at 11:33 অপরাহ্ন - Reply

    সহজ সুন্দর সাবলীল ভাষায় একটি অসাধারণ বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তবে একটা শব্দ বুঝতে পারি নাই টটেম টা কি? ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন