রহস্য কিতাব

রহস্য কিতাব উন্মেছে পারস্যে জরোস্টার
এক ঈশ্বরের দিব্যি স্রবণ আছে সেথা দূর্ণিবার
আব্রাহামকে জাতির পিতা ঘোষিল ইহুদি
মোসেস দেখিল ঈশ্বর পাহাড়েতে উঠি
পৌরনিক স্তুতি মাতাল ওল্ড টেষ্টামেন্ট
নোয়া সেথা নৌকা ভাসায় মহা প্লাবনে
ঈশ্বর ক্ষেপিয়া রুদ্ধ তপ্ত চিত্তে নিল পরীক্ষা জবে
শয়তান আগমন সেথা দেখিল সমগ্র ভবে
তানাখ্ তোরার বাঁধনে জন্মিল এক জাতি
হইল নাম তার জগতে ইহুদি।।

শাস্ত্র প্রতিপন্ন কুমারী গর্ভে বেথলেহেমে জন্মিল এক শিশু
লোকমুখে প্রদীপ্ত নাম ঈশ্বর পুত্র যীশু
কিম্ভুত যত ঘটনা দূর্বোধ্য সবার
বিশ্বাস প্রস্রবণে বাইবেলে তা দেখাইলেন বারংবার
মৃতকে জীবিত কুষ্ঠনিরাময় পানিতে হাঁটা
জ্ঞাত ভেল্কিবাজি তেলেসমাতি প্রশ্ন ওঠে সদা
অলৌকিকত্ব প্রশ্নহীন বিশ্বাস সুসমাচারে চিত্ত কর মুহ্যমান
সকাতর এই সরগমে জগতে আসিল জাতি খ্রীষ্টান।।

মক্কার দেব দেবী প্যাগান হুবাল, আল-লাত, আল-উজ্জা, মানাত
রসূল মোহাম্মদ নবধর্ম প্রতিষ্ঠায় করিলেন সব উৎখাত
হারাম হালাল আর শরীয়া আইন দিয়ে ঘোষিত ধর্ম নীতি
অনুসারীদের বক্ষে প্রজ্বলিত বেহেস্ত ভ্রম প্রীতি
ইঞ্জিল তৌরিত বাইবেল নির্যাসে গড়া পূর্ণ জীবন বিধান
অবিশ্বাসী মনুর হস্ত পদ মস্তক উৎপাটনে আছে নৃশংস বয়ান
নাজিল কোরান আয়াত মতে আছে প্রত্যাদেশ
নবী স্মরিলে খোদা লভিবে মিলিবে সুবর্ণ হুরের তলদেশ।
লুন্ঠন হত্যা গনিমতের মাল দাস দাসী সম্ভোগ সমাচার
জগত স্তম্ভিত প্রকম্পিত দেখে শান্তি প্রতিষ্ঠার মহান আচার
উত্তরমেরু দক্ষিনমেরু স্বর্গ মর্ত্য ভূতল ভেদিয়া উড়াইতে ধর্মীয় নিশান
ঈমানী স্বপ্ন স্ফুরণে বিভোর প্রতিক্রিয়াশীল জাতি মুসলমান।।

ভিন দেশী আগ্রাসী ক্ষুদার্ত তীরন্দাজ গৌড় বর্ণ আর্য
ভারত বর্ষে গড়িল বেদ বেদান্ত পুরাণের পরাক্রম সাম্রাজ্য
বেদ পুরাণ গীতা উপনিষধ মহাভারত রামায়ন
স্বর্গীয় দেব দেবী অবতার মর্ত্যে করে মহা ব্যঞ্জন
কৃষ্ণ বিষ্ণু ইন্দ্র রাম দূর্গা কালী শিব হনুমান
উপখ্যান স্ফুর্ত করা এ্যাডভেঞ্চার থ্রীল এ্যকশন
কল্পিত ব্রহ্মার মুখ হতে প্রক্ষিপ্ত জাত্যভিমান ব্রাহ্মণ
মানব মিলন ঐকতানে সদা জ্বালে সংশয় বিভাজন
সতীদাহ দেবদাসী বিধবা বিয়ে বারন
অবিমৃষ্য বিশ্বাস প্রোথিত ধর্ম সনাতন।।

মুক্তমনা ব্লগার

মন্তব্যসমূহ

  1. আ হা মহিউদ্দীন জুন 5, 2011 at 1:32 পূর্বাহ্ন - Reply

    একজন গোঁড়া ইহুদী বা খৃষ্টান অথবা মুসলমান এর কাছে ওল্ড টেষ্টামেন্ট হলো ঐশ্বারিক কেতাব । কিন্তু একজন ইতিহাসবিদ বা প্রত্নতত্ত্ববিদের কাছে ওল্ড টেষ্টামেন্ট হলো সুমেরীয়ান/বেবিলনিয়ন সভ্যতার ইতিহাস, যা পশ্চিমা সভ্যতার সূতিকাগার ।
    সুমেরীয়ন/বেবিলনিয়ন সভ্যতায় একশত থেকে দুই শত মানুষ নিয়ে একটি গোষ্ঠি তৈয়ার হতো । ওল্ড টেষ্টামেন্টে বর্ণিত ঈশ্বর হলো সুমেরীয়ন/বেবিলনিয়ন গোষ্ঠি প্রধান ও পুত্ররা । বিব্লিক্যাল আদম-হাওয়া হলো এদের কৃতদাস/কৃতদাসী ।
    উক্ত মানব গোষ্ঠির সাথে সহাবস্থানে বসবাসরত বিভিন্ন রং ও চেহারার মানবগোষ্ঠি জীন, পরী ও ভুত নামে বিভিন্ন জেনারেশনের কথা ওল্ড টেষ্টামেন্ট বর্ণিত হয়েছে ।
    নূহু হলো বিব্লিক্যাল আদমের ১০তম উত্তর বংশধর । নূহুর ছেলে হলো শ্যাম, যার নামে সিমেটিক জাতি বা ইহুদীরা পরিচিত ।
    বিব্লিক্যাল সময় মধ্যপ্রাচ্য ছিল শস্য-শ্যামলা সবুজে ঢাকা এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল, যা ওল্ড টেষ্টামেন্টে গার্ডেন অব ইডেন বা বেহেশত হিসাবে উল্লেখ হয়েছে । উক্ত কেতাব অনুযায়ী বেহেশতের মধ্য দিয়ে চারটি নদী প্রবাহিত হয়েছে, যার দু’টি, ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস এখনও বিদ্যমান । অন্য দু’টি হলো গিবশন ও পিজন । সেটলাইট ফটোগ্রাফির মাধ্যমে অন্য নদী দু’টির সন্ধানও প্রত্নতত্ববিদরা পেয়ে গেছেন । তাই দেখা যাচ্ছে বেহেশতের অবস্থান এই ধরাতেই ।

  2. স্বাধীন জুন 4, 2011 at 2:20 পূর্বাহ্ন - Reply

    (Y)

  3. আ হা মহিউদ্দীন জুন 3, 2011 at 11:53 পূর্বাহ্ন - Reply

    একমত হয়েও লাইজু নাহারের বক্তব্যের সাথে কিছু যোগ করতে চাই । পূর্বপুরুষদের কর্মকান্ড বর্ণনায় লেখক নিরাপেক্ষ ভূমিকা গ্রহন করতে পারেননি । ভাল-মন্দ যাহাই হউক না কেন আমরা উত্তর পুরুষেরা পূর্ব পুরুষদের ঐ কর্মকান্ড বহন করে চলছি ।
    ওল্ড টেষ্টামেন্টের প্রথম দিকের বর্ণনা অনুযায়ী মানুষ (নর ও নারী) ঈশ্বরের রিপ্লিকা, অর্থ্যাৎ মানুষই হলো ঈশ্বর । তারপর ঈশ্বর আরো রিপ্লিকা তৈয়ার করতে লাগলো । ফলে মানুষ হয়ে গেল বহু বচন । জিন, পরি, ভুত প্রভৃতি নামে ঈশ্বর এক একটা জেনারেশন সৃষ্টি করলো । মাটি থেকে আদম (কৃতদাস) এবং কৃতদাসের শরীর থেকে নারী হাওয়াকে সৃষ্টি করলো । প্রভূ ঈশ্বরের ঔরসে দাসী হাওয়ার গর্ভে কাবিল সৃষ্টি হলো ।
    ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস নদীতে প্লাবন সৃষ্টি করে ঈশ্বর তার সৃষ্টি ধ্বংস করে নূহুর মাধ্যমে আবার মানুষ সৃষ্টি করলো । অল্ড টেষ্টামেন্টের বর্ণনা অনুযায়ী ঈশ্বর ছয়বার মানুষ সৃষ্টি করেছে ।

    • রাজেশ তালুকদার জুন 4, 2011 at 5:04 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আ হা মহিউদ্দীন,

      পূর্বপুরুষদের কর্মকান্ড বর্ণনায় লেখক নিরাপেক্ষ ভূমিকা গ্রহন করতে পারেননি ।

      অনেক কথা আপনি যোগ করেছেন অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। অনেক কথা লিখেও পরে কেটে দিয়েছি।
      কবিতার আকার বেশী বড় হলে পাঠে ক্লান্তি আসতে পারে সে ভয়ে। :))

  4. লাইজু নাহার জুন 2, 2011 at 8:39 অপরাহ্ন - Reply

    পুরো প্রাগৌতিহাসিক থেকে কলিকালে!
    পুথিঁর ছন্দে কবিতাটি খুব ভাল লেগেছে!

    • রাজেশ তালুকদার জুন 4, 2011 at 4:56 পূর্বাহ্ন - Reply

      @লাইজু নাহার,

      উৎসাহিত করার জন্য অনেক ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন।

মন্তব্য করুন