মহানবী মোহাম্মদের চরিত্র ফুলে মত পবিত্র, পর্ব-২

মহানবীর সততার আর এক মহা পরাকাষ্ঠা আমরা দেখতে পাই তার মিরাজ গমনের কিচ্ছাতে।হঠাৎ একদিন মোহাম্মদ প্রচার শুরু করলেন তিনি সাত আসমান অতিক্রম করে আল্লাহর কাছে গেছিলেন। যাকে সবাই মিরাজ বলে জানে। কুরানে সেটার উল্লেখ আছে-

পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি যিনি তার বান্দাকে এক রাত্রিতে ভ্রমন করিয়েছিলেন মসজিদে হারেম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত যার চারদিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি ও যাতে আমি তাকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। কুরান, ১৭:০১

তোমরা কি বিষয়ে বিতর্ক করবে যা সে দেখেছে? নিশ্চয়ই সে তাকে আর একবা দেখেছিল, সিদরাতুলমুন্তাহার নিকটে,যার কাছে অবস্থিত বসবাসের জান্নাত।যখন বৃক্ষটি দ্বারা আচ্ছাদিত হওয়ার, তদ্বারা আচ্ছন্ন ছিল।তার দৃষ্টি বিভ্রম হয়নি, সীমা লংঘনও করেনি।নিশ্চয়ই সে তার পালনকর্তার মহান নিদর্শনাবলী অবলোকন করেছে। ৫৩: ১২-১৮

কিন্তু মেরাজ ভ্রমনের পটভূমিকাটা কি? এক রাতে মোহাম্মদ তার সাহাবীদের নিয়ে কাবা শরীফে অবস্থান করছিলেন।গভীর রাতে তিনি চুপি চুপি উঠে উম হানি( তার চাচাত বোন) এর বাড়ী হাজির হন। উম হানি তার চাচা আবু তালিবের মেয়ে যার প্রেমে পড়েছিলেন মোহাম্মদ ও বিয়ে করতে চেয়েছিলেন কিন্তু তার চাচা রাজী হয় নি।উম হানির বিয়ে হয়েছিল এক কুরাইশ প্যগানের সাথে। সে রাতে তার স্বামী বাড়ী ছিল না।গভীর রাতে মোহাম্মদের সঙ্গীরা হঠাৎ মোহাম্মদকে কাবা ঘরে দেখতে না পেয়ে তার তালাশে বের হয়।তাদের কেউ কেউ উম হানির প্রতি মোহাম্মদের দুর্বলতার কথা জানত। ওদিকে কিছুকাল আগেই মোহাম্মদের স্ত্রী খাদিজা মারা গেছে। তাই মনের অবস্থা তার বিশেষ ভাল না।সঙ্গীরা সারারাত ধরে তাকে খুজতে খুজতে অবশেষে উম হানির ঘরে যায় ও সেখানে তাকে ভোরবেলা পায়। মোহাম্মদ ও উম হানি উভয়ে দারুন লজ্জায় পড়ে যায় আর সাহাবীদের মধ্যে কিছু কিছু মোহাম্মদের এহেন লাম্পট্যের কারনে সে আসলেই আল্লাহর নবী কি না এ ব্যপারে সন্দেহ করতে থাকে, কিন্তু ভীষণ বুদ্ধিমান ও প্রত্যুৎপন্নমতি মোহাম্মদ ঘাবড়ে না গিয়ে তাৎক্ষনিক ভাবে এক কিচ্ছা তৈরী করেন যা হলো ইসলামী বিশ্বে পরিচিত সেই বিখ্যাত আকাশ ভ্রমন বা মিরাজ।

মিরাজের বিষয় নিয়ে কতকগুলি প্রশ্ন জাগে, যেমন-
প্রশ্ন-১।একা একা গভীর রাতে মোহাম্মদ উম্মে হানির ঘরে কেন গেলেন ও সেখানে রাত কাটালেন যখন তার স্বামী ঘরে ছিল না? এ নিয়ে কথা উঠত না যদি আগে মোহাম্মদ তাকে বিয়ে করতে না চাইতেন বা তার প্রেমে না পড়তেন। যদি ধরে নেই মোহাম্মদ উম্মে হানির সাথে এক বিছানায় রাত কাটান নি , কিন্তু সেটা বিশ্বাস কেন করতে হবে যখন তিনি গোপনে সেখানে গেছেন?

প্রশ্ন-২। তিনি উম্মে হানির ঘরে গেলেন কিন্তু কেন তার সাহাবীদেরকে বলে গেলেন না? কেন চুপি চুপি একা চোরের মত গেলেন ?

প্রশ্ন-৩। তিনি যদি জরুরী কোন কাজে যেয়েই থাকেন তাহলে কাজ শেষ করে সাথে সাথে চলে না এসে সারা রাত কেন সেখানে কাটালেন? তিনি কি জানতেন না যে , যে কেউ বিষয়টি জানবে সে কখনই বিষয়টিকে স্বাভাবিক ভাবে মেনে নেবে না ? নাকি স্ত্রী বা স্ত্রী-সঙ্গ বিহনে তার দেহ মন এত উন্মাতাল হয়ে উঠেছিল যে সব কান্ড জ্ঞান তিনি হারিয়ে ফেলেছিলেন ? আমরা জানি এরকম পরিস্থিতিতে অনেক লম্পট লোক নারী ধর্ষণের মত জঘন্য কাজ করে থাকে কান্ড জ্ঞান হারিয়ে।যেন এটা কোন বিষয়ই নয়।

প্রশ্ন-৪: মিরাজের মত একটা অতি মহান ও তুলনাহীন ঘটনা কোন পর নারীর ঘর থেকে শুরু হওয়া শোভনীয় বা যুক্তিযুক্ত কোনটাই নয়।সেটা তথাকথিত আল্লাহর ঘর কাবা থেকে শুরু হলেই মানাত ভাল। তাই নয় কি?

এ ধরনের রহস্যময় ও সন্দেহজনক ঘটনাকে হালকা করার জন্য ইসলামী লেখকরা যেভাবে ঘটনাটাকে বর্ননা করে তা নীচে দেখা যাক, (যেন বিষয়টি কোন ঘটনাই নয়, ভাবখানা এমন):

It was during this period that al-Isra and al-Miraj had taken place. Al-Asra means the night journey when Muhammad was reported to have taken from Mecca to the Mosque of Aqsa, the distance mosque of Jerusalem. Al-Miraj means Muhammad’s ascension to heaven and his visit to paradise and hell. On the night of al-Isra, Muhammad was staying in the house of his cousin, Hind, daughter of Abu Talib, who was also called Umm Hani. Hind relates that the Prophet of God spent the night in my quarters. He recited the night prayers and went to sleep. Just before dawn, the Prophet of God awoke us and we all prayed the dawn prayer together. When the prayer was through, he said, “O Umm Hani, I prayed with you the night prayer in this place; then I went to Jerusalem and I prayed there, and as you see, I have just finished praying with you the dawn prayer.” I answered, “O Prophet of God! do not tell this to the people, for they will belie you and harm you.” He said, “By God, I shall tell them.” ( http://ismaili.net/histoire/history03/history313.html)

এখানে দেখা যাচ্ছে খুব নিষ্কলুষ একটা বাক্য- Muhammad was staying in the house of his cousin, Hind, daughter of Abu Talib, who was also called Umm Hani- যেন এটা কোন বিষয়ই নয়। এখানে মোটেও বলা হয় নি কেন তিনি উম্মে হানির ঘরে অবস্থান করছিলেন।মোহাম্মদ বলছেন- “O Umm Hani, I prayed with you the night prayer in this place; এটা কি সম্ভব মোহাম্মদ গভীর রাতে উম্মে হানির সাথে এক সাথে নামাজ পড়বেন যখন তার স্বামী একজন প্যাগান? তার স্বামী কি তাকে অনুমতি দিত যদি সে সেই রাতে বাড়ী থাকত? এ বর্ননার মধ্যেই নিহিত যে সে রাতে উম্মে হানির স্বামী বাড়ীতে ছিল না আর গভীর রাতে মোহাম্মদ গোপন অভিসারেই তার ঘরে ঢুকেছেন।

That night was the twenty-seventh night of the month of Rajab, a Monday night. He proceeded to the house of Umm Hani who was the daughter of Abu Talib, the sister of Ali. She lived in her father’s house, which was situated between Safa and Marwa. The Muhammad {s} arrived at her house, and finding him downcast and dispirited, she asked him for the reason of this. The Muhammad {s} explained to her what had happened and why he felt as he did. Now, Umm Hani was an intelligent and resourceful woman.
(http://www.muhammadanreality.com/ascentionmiraj.htm)

লক্ষ্যনীয়, বলা হচ্ছে মোহাম্মদ উম্মে হানির বাড়ী গেলেন।বিষয়টি আপত্তিকর মনে হওয়াতে পরে সেটা ঢাকা দেয়ার জন্য বলা হচ্ছে- সে তার বাপের বাড়ী থাকত। এরপর আবারও বলা হচ্ছে- যখন মোহাম্মদ উম্মে হানির বাড়ী পৌছালেন ।যদি উম্মে হানি সত্যিই বাপের বাড়ী থেকে থাকে তাহলে প্রথমে উম্মে হানির বাড়ীর কথা কেন বলল ? তার বাপ আবু তালিবের বাড়ী তো তার বাড়ী নয়, বিয়ের পর স্ত্রীর বাড়ী হয় তার স্বামীর বাড়ী।এ ক্ষেত্রে যদি বলত মোহাম্মদ আবু তালিবের বাড়ী গেলেন উম্মে হানির সাথে দেখা করতে – তাহলে সেটা হতো যুক্তি যুক্ত। ঘটনাটাকে লুকাতে চাওয়ার আপ্রান চেষ্টা করার পরও আসল সত্য প্রকাশ হয়ে পড়েছে। The Muhammad {s} explained to her what had happened and why he felt as he did. Now, Umm Hani was an intelligent and resourceful woman.- এখানে বলা হচ্ছে আবার মোহাম্মদ প্রথমে মিরাজে গেছিলেন তারপর সে ঘটনা সবিস্তারে বলার জন্য তিনি উম্মে হানির নিকট গমন করেন।আজব কথা ! কাবা ঘরে তার সাথে ছিল বেশ কিছু সাহাবী, তিনি তাদেরকে আগে বলার দরকার বোধ করলেন না, গভীর রাতে চুপি চুপি অন্ধকারে উম্মে হানির নিকট গমন করে তার কাছে বলার এত তাড়াটা কিসের? সুতরাং আসল কেলেংকারী চাপা দেয়ার জন্য যতই বাক্য বিন্যাশ করে ঘটনাটাকে অন্যভাবে সাজানোর চেষ্টা করা হোক না কেন, কোন ভাবেই তাকে চাপা দেয়া সম্ভব নয়। আসল ঘটনা বের হয়ে আসবেই। একেই বলে ধর্মের ঢোল আপনি বাজে। এছাড়া, মিরাজের এ ঘটনা নিয়ে নানা মুনির নানা মত। প্রতিটি ইসলাম সম্পর্কিত বইতে লেখকের নিজস্ব ধ্যান ধারনা প্রকাশিত যার কোন ভিত্তি নেই। যার যেমন ইচ্ছা তেমন বর্ননা করেছেন অবশ্যই মোহাম্মদ যাতে কলংকিত না হয় সে লক্ষ্যকে মাথায় রেখেই।কারন ইসলামি সকল উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে , ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল উম্মে হানির ঘরে আর শেষও হয়েছিল সেখানে যা বাস্তবে অত্যন্ত আপত্তিকর বিশেষ করে গভীর রাতে যখন উম্মে হানি তাদের বাড়ীতে একা অবস্থান করছিল।

যাহোক, কথিত মিরাজ ঘটনার সেই রাতে আল্লাহ তাকে মক্কা থেকে জেরুজালেমের মসজিদুল আকসাতে নিয়ে গেছিলেন। যাওয়ার বাহন হিসাবে ছিল বোরাক।বোরাক হলো গাধার চাইতে একটু বড় একটা জন্তু যার মূখটা ছিল মানুষের মত, আর ছিল দুইটা ডানা। এ বর্ননা থেকে একটা বিষয় অত্যন্ত পরিস্কার যে বোরাক একটা অদ্ভুত জন্তু ছিল, কোন মতেই উন্নত প্রযুক্তির কোন যান্ত্রিক বাহন ছিল না।
এছাড়াও বোরাক যে কি জিনিস তা এখানে ভাল বর্নিত আছে-
“Jibra’il, Mika’il and Israfil brought Buraq [5] to the Prophet . One of these (three) held the reigns of Buraq, while the other one held on the saddle and the third one held on to the clothing of the Prophet while he was ascending it. When the Prophet mounted onto the Buraq, its entire body started to tremble. Jibra’il pointed with his hand towards Buraq and told him, `O’ Buraq! Keep calm! Before the Noble Prophet no other Prophet has ever ridden you and after him too no one like him will ever ride upon you again.”
(সূত্র: http://www.al-islam.org/al-miraj/)

বোরাকের বর্ননা হাদিসে যা আছে তা নিম্নরূপ:
Then a white animal which was smaller than a mule and bigger than a donkey was brought to me.” (On this Al-Jarud asked, “Was it the Buraq, O Abu Hamza?” I (i.e. Anas) replied in the affirmative). The Prophet said, “The animal’s step (was so wide that it) reached the farthest point within the reach of the animal’s sight. I was carried on it, and Gabriel set out with me till we reached the nearest heaven. (Sahih Bukhari 5:58:227)

Al-buraq, a white animal, smaller than a mule and bigger than a donkey was brought to me and I set out with Gabriel. (সহি বুখারী, Book #54, Hadith #429)

It is narrated on the authority of Anas b. Malik that the Messenger of Allah (may peace be upon him) said: I was brought al-buraq Who is an animal white and long, larger than a donkey but smaller than a mule, who would place his hoof a distance equal to the range of version. (সহি মুসলিম, Book #001, Hadith #0309)
I was then brought a white beast which is called al-buraq, bigger than a donkey and smaller than a mule. Its stride was as long as the eye could reach. I was mounted on it, and then we went forth till we reached the lowest heaven. (সহি মুসলিম, Book #001, Hadith #0314)

ইবনে কাথিরের বর্ননা মতে- মোহাম্মদ সেই বোরাকের পিঠে চড়ে বায়তুল মোকাদ্দাসে (মসজিদুল আকসা) যান, তার গেটে বোরাককে বাধেন,যেমন করে মানুষ ঘোড়া বাঁধত আগের দিনে।ভেতরে গিয়ে দু রাকাত নামাজ পড়েন। । এর পরেই তার তথাকথিত বেহেস্ত ভ্রমন শুরু হয়। শুধু তাই নয় এক এক করে সাত টি বেহেস্ত ও সাতটি দোজখ ভ্রমন করেন , প্রতিটি বেহেস্তে পূর্ববর্তী সকল নবীরা ছিল, তাদের সাথে নানা খোশ গল্প, তামাশা করেন,এর পর আল্লাহর সাথে দেখা করেন, তার সাথেও খোশ গল্প করেন। অত:পর পূনরায় মসজিদুল আকসাতে প্রত্যাবর্তন করেন, সাথে তার সাথে দেখা সকল নবীরাও আসে তাকে বিদায় জানাতে।সেখানে তার ইমামতিতে তিনি ফজরের নামাজ পড়েন।
(সূত্র:http://www.central-mosque.com/quran/isramiraj.htm)

একটা ডানা ওয়ালা ঘোড়ার মত জন্তুর পিঠে চড়ে মোহাম্মদ মহাকাশ ভ্রমনে বের হলেন। সে ভ্রমনে তিনি কোটি কোটি আলোকবর্ষ দুরত্ব নিমেষে অতিক্রম করে সাত বেহেস্ত ও সাত দোজক ভ্রমন করে আসলেন। এটা তো দেখি আরব্য রজনীর কিচ্ছাকেও হার মানাচ্ছে।কোন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ এটা বিশ্বাস করতে পারে ? আর যে সব লোক এ উদ্ভট গাজাখুরি ও আজগুবি গল্প বিশ্বাস করবে তাদেরকে কি সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ বলা যায়? এ কিচ্ছাকে সত্য প্রমান করতে আবার তথাকথিত ইসলামী পন্ডিতরা আরও নানা রকম উদ্ভট ও গাজাখুরী যুক্তি তর্কের অবতারনা করে থাকে।

মিরাজের কথা প্রচার করার পর কুরাইশরা তাকে নানা রকম প্রশ্ন করতে থাকল তা ঘটনার প্রমান দাখিল করার জন্য। মোহাম্মদ তখন বললেন- তিনি এক মরুভুমির এক জায়গায় কিছু মানুষকে দেখলেন যাদের উট পালিয়ে গেছিল ও তারা সেগুলো খোজাখুজি করছিল।তিনি তাদের উটগুলো খুজে বের করে দিলেন ও দামাস্কাসের দিকে তাদেরকে পথ দেখিয়ে নিয়ে গেলেন। ফেরার পথে আমি দেখলাম এক জায়গাতে এক দল লোক ঘুমাচ্ছিল, আমি তাদের পাত্র থেকে পানি পান করলাম ও পাত্র যেমন ছিল তেমন রেখে দিলাম। ( সূত্র: http://www.questionsonislam.com/index.php?s=article&aid=10849)

উনি চলেছিলেন বোরাকের পিঠে সওয়ার হয়ে উর্ধ্বাকাশ দিয়ে আল্লাহর সাথে দেখা করার জন্য সেই আল্লাহর আরশে। হঠাৎ আকাশপথে যাত্রা বিরতি করে মরুভূমিতে নেমে পড়েন এবং উপরোক্ত কর্মকান্ড সমূহ করেন ।এমন উদ্ভট গল্প কে কবে শুনেছে? আর এসব গাজাখুরী কিচ্ছা যারা বিশ্বাস করে তারা কি মানসিক ভাবে সুস্থ?

তার মানে বোঝাই যাচ্ছে, মোহাম্মদ যখন জেরুজালেম যান তখন সেখানে আল আকসার জায়গাতে একটা মসজিদ বা এ জাতীয় কিছু ছিল। অথচ খলিফা ওমর যখন জেরুজালেম দখল করেন তখনও সেখানে কোন মসজিদ বা মন্দির ছিল না। যেখানে টেম্পল অব সলোমন ছিল তার ধ্বংসাবশেষের ওপর তিনি নামাজ আদায় করেন। ইতিহাস থেকে জানা যায় সেখানে বাদশাহ সলোমন একটা মন্দির তৈরী করেন যাকে বলা হয় টেম্পল অব সলোমন। অথচ আমরা আবার সেই ইতিহাস থেকেই জানতে পারি, রোমানরা জেরুজালেম দখল করে ৭০ খৃষ্টাব্দে সে মন্দির ধ্বংস করে ফেলে। আর ৬৯১ খৃষ্টাব্দে খলিফা আব্দুল মালিক ইবন মারওয়ান সেখানে একটা মসজিদ তৈরী করেন।আর বর্তমান কালে মসজিদুল আকসা বলে যা আছে তা নির্মিত হয় আরও পরে। আর মোহাম্মদ তার তথাকথিত আল আকসা রাতের বেলায় ভ্রমন করেন ৬২১ বা ৬২২ খৃষ্টাব্দে। তার মানে আল আমীন বলে কথিত আমাদের দ্বীনের নবী যখন সেখানে রাতের বেলা বোরাকে চড়ে হাজির হন, সে সময় সেখানে কিছুই ছিল না। অথচ তিনি সেখানে শুধু যান ই নাই, সেখানে প্রথমে নিজে একা পরে ফিরতি পথে সাত বেহেস্তে বসবাসরত আগের কালের সব নবীরসূল সহ সদলে নামাজ আদায় করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো- মহানবীর মেরাজ ভ্রমনেরও প্রায় ৭০ বছর পর সেখানে মসজিদ নির্মিত হয়।তার মানে গভীর রাতে উম্মে হানির সাথে তার গোপন অভিসারকে চাপা দেয়ার জন্য তিনি এমন এক উদ্ভট কিচ্ছা তৈরী করেন যার জের গত ১৪০০ বছর ধরে মুসলমানরা অন্ধের মত বয়ে চলেছে প্রশ্ন ছাড়াই। এ ব্যপারটিকে ঢাকা দেয়ার জন্য কিন্তু ইসলামী পন্ডিত এক অদ্ভুত মনগড়া ব্যখ্যা হাজির করেছেন। আর সেটার ভিত্তি হলো নিচের হাদিস-

আবু ধার বর্নিত- আমি আল্লাহর নবীকে জিজ্ঞেস করলাম, কোন মসজিদ সর্বপ্রথম নির্মিত হয়েছিল? তিনি উত্তর করলেন- মসজিদুল হারাম অর্থাৎ কাবা শরীফ। আমি জিজ্ঞেস করলাম- এর পর কোন মসজিদ তৈরী হয়েছিল ? তিনি উত্তর করলেন- মসজিদুল আকসা। আমি জিজ্ঞেস করলাম- এদের নির্মানের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কত ? তিনি উত্তর করলেন- চল্লিশ বছর। অত:পর তিনি আরও বললেন- যেখানেই নামাজের সময় হয়ে যাবে, সেখানেই নামাজ পড়বে, কারন সমস্ত দুনিয়া নামাজের স্থান। সহী বুখারী, বই-৫৫, হাদিস-৬৩৬

এখানে বলা হচ্ছে পৃথিবীর যে কোন জায়গাই হলো নামাজ পড়ার স্থান, তার মানে হিন্দুদের মন্দির, খৃষ্টানদের গীর্জা, ইহুদীদের সীনাগগ, বৌদ্ধদের প্যগোডা এসবও নামাজের স্থান। যাহোক, মোহাম্মদ মসজিদুল আকসাতে আসলে নামাজ পড়েন নি, পড়েছেন সেখানে যেখানে আসলে আল আকসা মসজিদ ছিল। কিন্তু ইবনে কাথিরের বর্ণনায় দেখা যাচ্ছে- বোরাককে মসজিদুল আকসার গেটে বেধে রাখা হয়। শুধু তাই নয়, কুরাইশদের নানা প্রশ্নের উত্তরে মোহাম্মদ আল আকসা মসজিদের কয়টি দরজা, কয়টি গেট, আশে পাশে কি আছে তারও একটা বর্ননা দিয়েছিলেন বলে কথিত আছে যা সকল ধর্ম প্রান মুসলিম বিশ্বাসও করে বিনা প্রশ্নে। তার মানে তখন মসজিদের অস্তিত্ব ছিল। আধুনিক কালে এসব ইতিহাস নিয়ে যখন টানাহেচড়া শুরু হয়েছে তখনই ইসলামী পন্ডিতরা নানা কায়দায় ওখানে মসজিদ ছিল না , নবী ও জায়গায় এমনিতেই নামাজ পড়েছেন, নামাজের স্থানকেই ইসলামে মসজিদ বলা হয় ইত্যাদি নানা রকম ব্যখ্যা হাজির করা শুরু করেছে। এর আগে হাজার বছর পর্যন্ত ওখানে একটা জল জ্যান্ত মসজিদ ছিল সেটাই কিন্তু প্রচলিত বিশ্বাস ছিল, আর এ বিশ্বাসের ভিত্তিতেই কিন্তু মোহাম্মদের আল আকসা মসজিদের বর্ননাকে অলৌকিক ঘটনা ধরা হতো। যাহোক, আরও একটা গুরুতর সমস্যা হলো- খৃ:পূ: প্রায় ২০০০ সালের দিকে আব্রাহাম দুনিয়াতে আসেন বলে ধারনা করা হয় যার কিছু কিছু ঐতিহাসিক প্রমানও আছে।আর মসজিদুল হারাম তথা কাবা শরীফ তার হাতেই নির্মিত-সেটাই সবাই বিশ্বাস করে।পক্ষান্তরে খৃ:পূ: ৯৫০ সালের দিকে সলোমন তার রাজত্ব কালে টেম্পল অব সলোমন তৈরী করেন। ৭০ সালে রোমানরা সে টেম্পল গুড়িয়ে দেয় ও মোহাম্মদের মৃত্যুরও প্রায় ৬০ বছর পর সেখানে মুসলমানদের হাতে একটা মসজিদ নির্মিত হয়। যুক্তির খাতিরে যদি সলোমনের টেম্পলকে মসজিদুল আকসা ধরি তাহলেও এ দুইয়ের তৈরীর সময় ব্যবধান হলো কম পক্ষে এক হাজার বছর। আর মুসলমানদের তৈরী বাস্তব মসজিদুল আকসা ধরলে সময়ের ব্যবধান দাড়ায় আরও বেশী। অথচ দ্বীনের নবী বলছেন মাত্র চল্লিশ বছর। কি আজব কথা !নাকি নবী যদি সব আজগুবি কথা বলেন তাহলে দরকার মত ইতিহাস পাল্টে বা গোজামিল দিয়ে হলেও তাকে সত্যি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে ? মানুষ কেন বুদ্ধি বৃত্তির চর্চা বাদ দিয়ে এহেন অন্ধত্বের ও মূর্খতার দাসত্ব করবে ? (সুত্র: http://en.wikipedia.org/wiki/Al-Aqsa_Mosque, http://www.islamic-awareness.org/Quran/Contrad/External/aqsa.html, http://www.nawajee.com/AlArthAlMuqaddasa/AlMasjidAlAqsa.html, http://www.noblesanctuary.com/HISTORY.html, http://www.jewishvirtuallibrary.org/jsource/Society_&_Culture/geo/Mount.html)

মেরাজের ঘটনাকে সত্য প্রমানের জন্য কি আজগুবি ও গাজাখুরী যুক্তির অবতারনা করা হচ্ছে তার নমুনা নীচে-
In an attempt to prove that the Prophet (s.a.w.) was lying, those Makkans who were familiar with Jerusalem and the Sacred Mosque (al-Aqsa) quizzed him about his journey. The Prophet (s.a.w.) described everything in detail, and no one could fault his description. Additionally, the Prophet (s.a.w.) told the Makkans about a caravan travelling from Jerusalem to Makkah, mentioning the number of camels, their condition, and the time that they would arrive in Makkah. The caravan from Jerusalem appeared exactly when the Prophet (s.a.w.) said it would, and everyone saw that his description was accurate. But the pagans remained fettered to their disbelief.
( http://www.islamiclandmarks.com/saudi_house_of_umme_hani.html)

Those who had journeyed to Damascus and who had seen Masjid-al–Aqsa came to our Holy Prophet (PBUH) and asked, “Could you describe Masjid-al- Aqsa to us?” Our Holy Prophet (PBUH) said, “I went there and I can describe it.” Our Holy Prophet (PBUH) reported it as follows: I was very tired of their denial and questions. In fact, I had not experienced such difficulty until that moment. Just then, Allah showed me the Baytu’l Maqdis. While looking at it, I described every detail one by one. They even asked me, “How many doors does the Baytu’l Maqdis have?” however, I had not counted its number of doors. When I saw the Baytu’l Maqdis across from me, I began to look at it, count each of its doors and told them the number.” 3
Thereupon, the polytheists said, “By God, you perfectly and correctly described it.” Nevertheless, they still did not become Muslims. (http://www.questionsonislam.com/index.php?s=article&aid=10849)-

বলা হচ্ছে- মোহাম্মদ জেরুজালেম থেকে একদল লোককে মক্কায় আসতে দেখেন। মোহাম্মদ সেখানে যাচ্ছিলেন বোরাকের পিঠে সওয়ার হয়ে আকাশ পথে উড়ে তাও আবার গভীর রাতে।জেরুজালেম থেকে মক্কা সোজা বিমান উড্ডয়ন দুরত্ব হলো ১,২১৫ কি. মি.।আর স্থল পথ দুরত্ব নিশ্চয়ই ১,৩০০ কি. মি. এর নীচে হবে না। সেই কালে কঠিন ও দুর্লঙ্ঘ এত বিরাট দুরত্ব অতিক্রম করে মানুষ সচরাচর জেরুজালেম থেকে মক্কা বা মক্কা থেকে জেরুজালেম যেত না। সেকারনে মক্কাতেও জেরুজালেম আগে গেছে এরকম মানুষ না থাকার সম্ভাবনাই বেশী ছিল।তার মানে জেরুজালেমে আল আকসা মসজিদ কোথায় আছে তা দেখতে কেমন তা জানার মত লোক মক্কাতে ছিল বলে বিশ্বাস করা কঠিন।অন্য কথায়, আল আকসা নামের মসজিদ বা মন্দির-এর বাস্তব অস্তিত্ব আদৌ আছে কি না তা কেউ জানত না। তবে তারা সে মসজিদ বা মন্দির আছে বা ছিল এমন কিছু শুনে থাকতে পারে, কারন সেটা বিখ্যাত স্থান সেই কালেও। সর্বোপরি, ইতিহাস বলছে তখন সেখানে আদৌ মসজিদ বা মন্দির কিছু ছিল না।ছিল কিছু ধ্বংসাবশেষ। অথচ মোহাম্মদ পরিস্কার ভাষায় বলে দিলেন সে মসজিদের বর্ননা, তার কয়ট দরজা এসব, আর কেউ তার ভুল ধরতে পারল না। কেউ যদি মসজিদ না দেখেই থাকে তাহলে ভুল ধরবে কিভাবে?
এমন কোন গাধা আছে যে এ ধরনের অলৌকিক ঘটনার চাক্ষুষ প্রমান থাকা সত্ত্বেও মোহাম্মদকে নবী মানত না ? এই এক বিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞান মনষ্ক মানুষগুলোর সামনেও যদি এ ধরনের অলৌকিক ঘটনা প্রমান করা যেত, সিংহ ভাগ মানুষই মোহাম্মদকে নবী মানত। আর সে সময়ে তো ঐ সব আরব বেদুইনরা ছিল নিতান্তই অশিক্ষিত, নিরক্ষর, অজ্ঞ।তাদের সামনে এত বড় অলৌকিক কান্ড দেখানোর পরও তারা মোহাম্মদকে নবী মানেনি, তার মানে মোহাম্মদ কোন অলৌকিক কান্ড দেখান নি। সুতরাং মোহাম্মদ যদি এসব কথা বলে থাকেন তাহলে তিনি ডাহা মিথ্যা কথা বলেছেন। আর তিনি মিথ্যা বলার সাহস পাচ্ছেন কারন তখন সেখানে সম্ভবত আল আকসা চাক্ষুস কেউ দেখেছে তেমন কেউ ছিল না।
এ ছাড়াও মিরাজ ঘটনা আমাদেরকে বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন করে।

প্রথমত: বোরাক নামক একটা জন্তু যার ডানা আছে সে কিভাবে বায়ুমন্ডলের বাইরে গিয়ে এক এক করে সাত টা বেহেস্ত ভ্রমন করল? কারন বায়ূমন্ডলের বাইরে তো ডানা দিয়ে উড়ে যাওয়া যায় না।

দ্বিতীয়ত: পৃথিবীর সবচাইতে কাছের নক্ষত্র প্রক্মিমা সেন্টরাই এর দুরত্ব হলো ৪ আলোকবর্ষ।তার মানে আলোর গতিতে চললেও সেখানে পৌছে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসতে মোট সময় লাগবে ৮ বছর। জানা মহাবিশ্বের প্রান্ত সীমায় পৌছতে আলোর গতিতে চললেও কম পক্ষে ৩০ বিলিয়ন বছর লাগবে। তাহলে বেহেস্ত আসলে কোথায়? পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে বায়ুমন্ডল যতদুর তার মধ্যে অর্থাৎ মাত্র ৫০/৬০ কিলোমিটার উপরে? কারন তার বাইরে বোরাক তো তার ডানা দিয়ে উড়ে যেতে পারবে না। বেহেস্ত এত কাছে হলে তো অনেক আগেই মানুষ বেহেস্ত আবিস্কার করে ফেলত আর মনে হয় এতদিনে সেখানে কলোনী বানিয়ে ফেলত। তা হতো- অতিরিক্ত জনসংখ্যা ভারাক্রান্ত পৃথিবীর জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। কিন্তু সেটা এখনও করা যায় নি।বিজ্ঞানীদের উচিৎ তাদের সব কাজ বন্দ করে পৃথিবীর অতি নিকটবর্তী এ বিশাল সাতটা বেহেস্ত আবিস্কারে মনোনিবেশ করা।

বোরাককে এক মহা উন্নত আল্লাহর মহাকাশযান প্রমান করার জন্য ইদানিং কিছু তথাকথিত ইসলামী পন্ডিতরা আদাজল খেয়ে লেগে পড়েছে। কিন্তু হাদিস ও কাথিরের বর্ননায় পরিস্কার বলা আছে ( আগেই দেখানো হয়েছে) – বোরাক হলো ঘোড়ার মত দেখতে একটা প্রানী যার চারটা পা আছে, দুইটা ডানা আছে, আর মুখটা মানুষের মত।তাছাড়া মোহাম্মদ বেহেস্তে ভ্রমনের সময় এ ধরনের বোরাক নামক জন্তুকে মাঠে চরে ঘাস খেতে দেখেছেন। সুতরাং কোনভাবেই বোরাককে অতি উন্নত মহাকাশযান বানান সম্ভব নয়।কারন আর যাই হোক,কোন অতি উন্নত আকাশযান নিশ্চয়ই মাঠে চরে ঘাস খেয়ে বেড়াবে না, তাদের কোন পাখীর মত ডানা থাকবে না, গরুর মত চারটে পা ও থাকবে না।

উপরোক্ত কারন সমূহ দ্বারা দিনের মত পরিস্কার যে, মেরাজ বলে আদৌ কিছু ঘটেনি। আগেই বলা হয়েছে, সদ্য পত্নীবিয়োগের কারনে ভারাক্রান্ত মোহাম্মদ হঠাৎ গভীর রাতে নিজের দৈহিক ও মানসিক যন্ত্রনায় ভুগতে থাকেন, তা থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য তিনি কাউকে কিছু না বলে সেই গভীর রাতে গোপনে উম্মে হানির ঘরে গমন করেন যখন তার স্বামী বাড়ীতে ছিল না। দুর্ঘটনাক্রমে, তার সঙ্গী সাথীরা তাকে সেভাবেই অপ্রস্তুত অবস্থায় উম্মে হানির ঘরে আবিষ্কার করে ফেলে।যা থেকে তাৎক্ষনিক পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য প্রত্যূৎপন্নমতি মোহাম্মদ খুব দ্রুত মিরাজ নামক এক আজগুবি ও গাজাখুরী কিচ্ছা তৈরী করে আপাতত তার সঙ্গী সাথীদেরকে ধোকা দেন। আমরা নিজেরাও ছোট কালে এ ধরনের অনেক আজগুবি ঘটনার কথা শুনেছি। যেমন- তখন কেউ কেউ রাতের বেলা জঙ্গলাকীর্ন কবরখানার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ভুত-পেত্নী বা জ্বীন-পরী তাদের রাস্তা আটকে দাড়িয়ে ছিল।অত:পর ভীষণ সাহসী মানুষ নানা রকম দোয়া দরুদ পড়ে সেসব ভুত পেত্নী বা জ্বীন পরীকে পরাস্ত করে বীর দর্পে সেখান থেকে চলে এসেছেন। তারপর তারা সেসব গল্প বলতেন অকাতরে এমন ভাবে যা অবিশ্বাস করার মত লোক তখন পাওয়া যেত না একেবারেই।দু:খের বিষয় বর্তমান কালে আর কোন ভুত -পেত্নী বা জ্বীন পরীর দেখা পাওয়া যায় না। শোনা কথা- এরা নাকি সব বৈদ্যুতিক লাইনের ভয়ে চাঁদের দেশে ভেগে গেছে। এটা আমাদের জন্য অবশ্যই বেশ পরিতাপের বিষয়।কারন অত:পর আমরা জ্বীন-পরী বা ভুত-পেত্নী দেখা থেকে বঞ্চিত আছি।

কিছু কিছু ইসলামী পন্ডিত আবার আরও অগ্রসর হয়ে মেরাজের এ ঘটনাকে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতাবাদের সাথে তুলনা করে বলতে চায়, মূলত আপেক্ষিকতাবাদের জনক মোহাম্মদ নিজেই। তার অর্থ নিরক্ষর মোহাম্মদ মহা বিজ্ঞানী। আর একজন নিরক্ষর মানুষ যদি মহা বিজ্ঞানী হয় তাহলে তিনি আল্লাহর নবী না হয়ে পারেন ই না। এবার দেখা যাক, মোহাম্মদের আপেক্ষিকতাবাদ আবিস্কারের মাজেজা:

কেউ কেউ বলে থাকে যে-আল্লাহর সকাশে যেতে মোহাম্মদের সাড়ে তের বছর সময় লেগেছিল আর ফিরে আসতেও একই সময় লেগেছিল।অর্থাৎ মোট সময় লেগিছিল সাতাশ বছর। কিন্তু মোহাম্মদ বোরাকে চড়ে এ দুরত্ব অতিক্রম করেছিলেন মূহুর্তের মধ্যে। এমনও বলা হয়- উনি ওজু করে নাকি মেরাজে রওনা হয়েছিলেন,ফিরে এসে দেখেন সে অজুর পানি তখনও গড়াচ্ছে।তার মানে মুহুর্তমধ্যে মোহাম্মদ মক্কা থেকে জেরুজালেম গেলেন, সেখান থেকে সাত আসমান ও সাত দোজখ ঘুরতে গেলেন, আল্লাহর সাথে খোশ গল্প করলেন, তারপর পুরনো সব নবীদের দল সহ জেরুজালেমে আসলেন, আল আকসাতে জামাতের নামাজ পড়লেন ও অত:পর মক্কাতে উম্মে হানির ঘরের মধ্যে প্রত্যাবর্তন করলেন। আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্বের সাথে এর সম্পর্কটা কি ? এর ব্যখ্যা নিচে-

আপক্ষিক তত্ত্ব মতে – কোন ব্যাক্তি যদি আলোর গতিতে চলমান হয় তাহলে তার কাছে সময় থেমে যাবে।মোহাম্মদ বোরাকের পিঠে চড়ে আলোর গতিতে আল্লাহর কাছে গেছিলেন ও ফিরে আসলেন। তাই তার কাছে সময় থেমে গেছিল। যে কারনে যখন তিনি পৃথিবীতে উম্মে হানির ঘরে চুপিসারে প্রত্যাবর্তন করলেন তখনও তার কাছে মনে হলো তিনি মুহুর্তমাত্র সময় সময় ব্যয় করেছেন এ মহান ও সীমাহীন দীর্ঘ মহাকাশ ভ্রমনে।যারা আপেক্ষিক তত্ত্ব সম্পর্কে আদৌ অবগত নন, তাদের কাছে বিষয়টি খুবই বিস্ময়কর ও অলৌকিক।আসল ফাকিটা হলো এরকম। আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুযায়ী আলোর গতিতে ভ্রমনকারী ব্যক্তির কাছে সময় স্থির হলেও যারা এক জায়গায় স্থির হয়ে অবস্থান করছে তাদের কাছে তো সময় চলমান।তার অর্থ- মোহাম্মদ আলোর গতিতে বোরাকের ডানায় ভর করে উড়ে চললে সময় তার কাছে থেমে থাকবে কিন্তু উম্মে হানি বা মক্কার লোকের কাছে থেমে থাকবে না।সুতরাং মোহাম্মদ যদি সাড়ে তের আলোক বর্ষ দুরত্ব ভ্রমন করে আবার ফিরে আসেন তার কাছে সেটা মুহুর্তমাত্র মনে হতে পারে কিন্তু উম্মে হানি বা তার সাহাবীদের কাছে সেটা হবে মোট সাতাশ বছর।অর্থাৎ দুনিয়াতে তখন বাস্তবেই সাতাশ বছর পার হয়ে যাবে। এর সোজা অর্থ- মোহাম্মদ দুনিয়াতে ফিরে এসে দেখবেন তার গোপন প্রেমিকা উম্মে হানি বৃদ্ধা হয়ে পড়েছে(এমনকি মারাও যেতে পারে), তার সাহাবীরাও সবাই বৃদ্ধ হয়ে গেছে , কেউ কেউ মারাও গেছে- অথচ তার নিজের কাছে সময়টা মনে হবে মুহুর্তমাত্র।ঘটনাটা এরকম হলেই সেটা হতো সত্যিকার আপেক্ষিকতাবাদের পক্ষে এক দারুন উদাহরন আর তখন মোহাম্মদকে আল্লাহর নবী হিসাবে বিশ্বাস না করে উপায় থাকত না। অথচ কোন কিছু না বুঝেই কিছু কিছু তথাকথিত ইসলামী পন্ডিত যাদের পর্দার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কে সামান্যতম জ্ঞান আছে বলেও মনে হয় না তারা মোহাম্মদের এক আজগুবি ও ভুয়া মিরাজ কিচ্ছার মধ্যে আপেক্ষিকতাবাদের সূত্র খুজে মরছে।

এবার নীচের আয়াত গুলো দেখা যাক-

নক্ষত্রের কসম, যখন অস্তমিত হয়।তোমাদের সংগী পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি।এবং প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। কোরআন ওহী, যা প্রত্যাদেশ হয়।তাঁকে শিক্ষা দান করে এক শক্তিশালী ফেরেশতা। সহজাত শক্তিসম্পন্ন, সে নিজ আকৃতিতে প্রকাশ পেল। উর্ধ্ব দিগন্তে, অতঃপর নিকটবর্তী হল ও ঝুলে গেল। তখন দুই ধনুকের ব্যবধান ছিল অথবা আরও কম।তখন আল্লাহ তাঁর দাসের প্রতি যা প্রত্যাদেশ করবার, তা প্রত্যাদেশ করলেন। রসূলের অন্তর মিথ্যা বলেনি যা সে দেখেছে। তোমরা কি বিষয়ে বিতর্ক করবে যা সে দেখেছে? নিশ্চয় সে তাকে আরেকবার দেখেছিল, সিদরাতুলমুন্তাহার নিকটে, যার কাছে অবস্থিত বসবাসের জান্নাত। যখন বৃক্ষটি দ্বারা আচ্ছন্ন হওয়ার, তদ্দ্বারা আচ্ছন্ন ছিল। তাঁর দৃষ্টিবিভ্রম হয় নি এবং সীমালংঘনও করেনি। নিশ্চয় সে তার পালনকর্তার মহান নিদর্শনাবলী অবলোকন করেছে। ৫৩: ০১- ১৮

মিরাজের কিচ্ছা যে সত্যি তা বলতে গিয়ে আল্লাহ নক্ষত্রের মত একটা জড় বস্তুর কসম করছে।মানুষ কখন কসম কাটে? কারা কসম কাটে? সাধারনত মিথ্যাবাদী প্রকৃতির মানুষ যাদেরকে অন্যরা বিশ্বাস করে না তারাই কসম কাটে, কসম কাটে আল্লাহ বা খোদার নামে।যেমস বলে- খোদার কসম আমি মিথ্যা বলছি না।আল্লাহ নিজে নক্ষত্রের নামে কসম কাটছে, তার মানে নক্ষত্র আল্লাহর কাছে তার চাইতেও আরও বড় এক আল্লাহ।আল্লাহর দেখি মাথাই খারাপ হয়ে গেল।সে নিজেই নিজের সাথে শিরক করছে।এখানে সহজাত শক্তিসম্পন্ন, সে নিজ আকৃতিতে প্রকাশ পেল অর্থ- আল্লাহ এখানে নিজ আকৃতিতে মোহাম্মদের সাথে দেখা দিলেন।কোন কোন অনুবাদকৃত কোরানে এটাকে জিব্রাইল ফিরিস্তা বলে উল্লেখ করেছে। কিন্তু এটা মোটেও তা না।ইদানিং অনুবাদকরা কোরানের দুর্বলতার কথা বুঝতে পেরে নিজেদের মত অনুবাদ করে।তখন দুই ধনুকের ব্যবধান ছিল অথবা আরও কম।তখন আল্লাহ তাঁর দাসের প্রতি যা প্রত্যাদেশ করবার, তা প্রত্যাদেশ করলেন,– নিশ্চয় সে তাকে আরেকবার দেখেছিল, সিদরাতুলমুন্তাহার নিকটে, যার কাছে অবস্থিত বসবাসের জান্নাত। -এ বর্ননা থেকে পরিস্কার বোঝা যায় এটা আল্লাহ।মিরাজের প্রায় দশ বছর আগেই জিব্রাইল মোহাম্মদের কাছে নিয়মিত আসা যাওয়া করে, কথাবার্তা-আড্ডা হয়।তখন কতবারই তো তারা খুব কাছাকাছি ছিল। তাছাড়া হেরা গুহার মধ্যে সে তো মোহাম্মদকে জড়িয়ে ধরেছিল। মেরাজের শুরু থেকে সাত বেহেস্ত ও দোজখ ভ্রমনে সব সময় সে মোহাম্মদের সাথে ছিল, সকল নবীকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিল, সুতরাং সে তাকে আরেকবার দেখেছিল– এখানে তাকে বলতে আল্লাহকেই বুঝানো হচ্ছে, কারন জিব্রাইল মোহাম্মদের সাথে সব সময়ই ছিল সুতরাং তাকে বলতে জিব্রাইল বুঝালে বাক্যটির কোন অর্থই হয় না।এর অর্থ কোরানের আল্লাহ বলছে তার আকার আছে, অথচ ইসলামের মূল বক্তব্য হলো আল্লাহর কোন আকার নাই।সোজা কথায়, গোপন অভিসারে ধরা খেয়ে মোহাম্মদ আল্লাহর বানীর নামে এমন সব আবোল তাবোল কথা বার্তা শুরু করেছিলেন যা ছিল সরাসরি ইসলামের মূল ভাবধারার বিপরীত।এক দিকে গভীর রাতে উম্মে হানির ঘরে গিয়ে ধরা খাওয়া, তারপর তা গোপন করতে গিয়ে গাজাখুরি গল্প চালু করা, একে সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে আল্লাহর বানীর নামে আরও উদ্ভট ও আজগুবি কথাবার্তা বলাতে, মক্কাতে তার পক্ষে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। কারন এর পর থেকে কুরাইশরা তাকে আরও বেশী অপমান করতে থাকে ও তাকে সবাই মিলে উন্মাদ সাব্যাস্ত করতে থাকে। এরকম একটা অসহনীয় ও অপমানকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই অবশেষে তিনি মদিনাতে হিজরত করেন।তাকে হ্ত্যা করার চক্রান্ত হচ্ছিল বলে যে কিচ্ছা আমরা শুনি তা সবই বানানো ও ভিত্তিহীন।কারন কোন উন্মাদ লোককে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বী জ্ঞান করে না আর তাকে কেউ মেরেও ফেলতে চায় না।

সুতরাং এখানেও মোহাম্মদ যে একজন সত্যবাদী ছিলেন তার কোন প্রমান পাওয়া যাচ্ছে না। আগেই বলেছি- কারো নিকট অন্য কেউ যদি সম্পদ গচ্ছিত রাখে আর তা ফেরত দেয় অথচ একই সাথে সেই একই ব্যাক্তি যদি বানিয়ে বানিয়ে কিচ্ছা তৈরী করে মানুষকে ধোকা দেয় বা বিপথে পরিচালিত করে- তাকে আর যাই হোক সত্যবাদী বলা যায় না।

মহানবী মোহাম্মদের চরিত্র ফুলের মত পবিত্র, পর্ব-১

About the Author:

মুক্তমনা ব্লগ সদস্য।

মন্তব্যসমূহ

  1. ইমরান জুন 4, 2013 at 12:30 অপরাহ্ন - Reply

    হাহাহাহা হায়রে লেখক!!!!!!!!!!!!!!!!!

    :guli: :guli: :guli: :guli: :guli: :guli:

  2. সন্ন্যাসী জুন 11, 2011 at 3:55 পূর্বাহ্ন - Reply

    পোস্ট আর মন্তব্য পড়তে গিয়ে রাত ভোর হয়ে গেল। সব মিলিয়ে খুবই মুগ্ধ হলাম।

  3. মানুষ জুন 6, 2011 at 4:52 পূর্বাহ্ন - Reply

    খুবই চমৎকার আলোচনা। অবস্যই এই লেখা এবং মতামত গুলোতে আমাদের জন্য অনেক জানার আছে। আমার এক্তি আপত্তি – যাহারা তথাকথিত কোন ধর্মে বিশ্বাস করেন না তাঁহারা অবিশ্বাসী হবেন কেন? তাঁহারাও ত বিশ্বাস করেন যে এসব কিছুর অস্তিত্ত নাই।
    আমার মতে, যদি এতই মহাজ্ঞানী-মহা ক্ষমতাশালী কোন কিছু সবকিছুর নিয়ামক হত, তাহলে কি সে তাহার মন এত বার পরিবর্তন করতো? এই যে খ্রীস্ট – ইহুদী – মুসলিম?

  4. রিফাত বিন সাদেক মে 26, 2011 at 1:53 পূর্বাহ্ন - Reply

    খুবি হাস্যকর লাগল লেখাটা। আপনি যা করেছেন তা নতুন নয়। ইসলাম এর জন্ম থকেই তাকে এই রকম বিরধিতা সহ্য করতে হয়ছে।
    আপনি কাদের যুক্তি দিচ্ছেন ? কাদের theory দিয়ে প্রমান করতে চাচ্ছেন মিরাজ সম্ভব না?
    আপনি অবশ্যি জানেন তারা এখনও এই মহা বিশ্ব ত দূরে থাক, এই পৃথীবির অনেক রহস্য রি কন সমাধান করতে পারে নি।
    আল্লাহ যদি এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করতে পারেন তাহলে বরাক এর মত জানবাহন তো তার কাছে মামুলি বিষয় তাই না?
    আমি জানি আপনি বিশ্বস করেন না আল্লাহ যদি এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন, এখানেই সমস্যা। ্যদি এটা বিশ্বাস করতেন তাহলে আইনস্তাইন র এক বিংস সতকের বিজ্ঞানের কথার কথার ওপরে ভিত্তি করে মেরাজ মিথ্যা বলতে পারতেন না। প্রমাণ করতে পারবেন যে এই মহাবিশ্ব কেউ সৃষ্টি করে নাই?
    বা আপনাদের বিবরতন বাদ এর মত অনুযায়ী যে এক কোষী প্রাণি থেকে আমরা সৃষ্টি হয়েছি সেটাই বা কত্থেকে এল?
    এখানে অনেকই তাদের সাধারণ দৃষ্টি তেই দেখে ফেলেছেন যে মিরাজ পুরাই ভুয়া, মুসল্মান্রা সব গরু গাধা পর্যায়ের লোক। তো সাধারণ দৃষ্টি তেই দেখে বলুন তো কেউ এই যদি সৃষ্টি না করে তাহলে এটা কত্থেকে এল?
    আর মহানবী (সঃ) এর পরম শত্রু রাও তার চরিত্র নিয়ে কুৎসা রটাই নি, আর আপনি এখন আসছেন তাকে চরিত্র খারাপ প্রমাণ করতে?
    কয়েকটা লিঙ্ক নিয়ে? আমি ত এরকম ১০০০ লিঙ্ক দিতে পারি যেগুল প্রমাণ করবে তার চরিত্রে কন দাগ ছিল না। কি লাভ হবে ওগুল ত গাধা দের লিখা। আমি ত গাধা আরও কি বলেন আপনারা ছাগু? বলেন সমস্যা কি।
    (Y) আমার নবী করীম (স) তো অমানুষিক নিরজাতন সহ্য করেছেন। আমি তার অনুসারী হয়ে সামান্য গালি সহ্য করতে পারব না। :))

    • তামান্না ঝুমু মে 26, 2011 at 5:32 পূর্বাহ্ন - Reply

      @রিফাত বিন সাদেক,

      আল্লাহ যদি এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করতে পারেন তাহলে বরাক এর মত জানবাহন তো তার কাছে মামুলি বিষয় তাই না?

      কয়েকটি বোরাক পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিলে বেশ উপকার হত।তাহলে বিজ্ঞানীদেরকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে স্পেস শীপ বানাতে হতনা।আল্লাহ মোহাম্মদের মিরাজে গমনের সময় বিদায় অনুষ্ঠান ও মহাবিশ্ব জয় করে পৃথিবীতে ফিরে আসার সময় একটি রিসেপশান অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে ভাল হতনা? তাহলে অবিশ্বাসীরা আর বড় গলায় কথা বলতে পারতনা। মোহাম্মদ মিরাজে চুরি করে গেল,চুরি করে ফিরে আসল কেন, তাকে আসতে যেতে কেউ দেখলনা কেন, বোরাকটিকেও কেউ দেখলনা কেন? আসমান থেকে কোন তথ্য প্রমান যেমন ভিডিও ফটো, আল্লার সাথে তার কথোপকথনের রেকর্ড কিছুইতো আনতে পারেনি।আল্লাহ হয়ত এসব জিনিসগুলো তখনো বানাতে সক্ষম হননি তাই।

      • রিফাত বিন সাদেক মে 27, 2011 at 2:38 অপরাহ্ন - Reply

        @তামান্না ঝুমু, যদি স্পেস শিপ দিতে পারেন তাহলে র সব কিছু দিতে সমস্যা কোথায়? তাহলে কি আমাদের বেচে থাকার কোন মানে থাকত?
        আল্লাহ সত্যি সর্বজ্ঞনী। ভিডিও ফটো, আল্লার সাথে তার কথোপকথনের রেকর্ড এগুল নিয়ে আসলে আপনারা বলতেন ফোটশপে এডিট করা। এরকম করতে করতে এক সময় এগুল্কে মিথ্যা প্রমানীত করতেন।
        এজন্যি আমাদের বিশ্বাস টা না দেখার ওপর।

    • ভবঘুরে মে 26, 2011 at 2:44 অপরাহ্ন - Reply

      @রিফাত বিন সাদেক,

      খুবি হাস্যকর লাগল লেখাটা।

      হাস্যকর তো লাগবেই কারন আপনি নিজেই তো একজন হাস্যকর ব্যাক্তি যা আপনার বক্তব্যে পরিস্কার।
      ইসলাম, কোরান, হাদিস, মোহাম্মদ এসব বিষয়ে সত্যিকার অর্থে ব্যপকভাবে দুনিয়াব্যপী আলোচনা সমালোচনা ইতোপূর্বে হয়নি, হয়েছে বিচ্ছিন্ন ভাবে। সুতরাং ইসলাম আজকে পরীক্ষায় অবতীর্ণ। দেখা যাক সে পরীক্ষাতে ইসলাম টিকে থাকতে পারে কি না। তবে আলোর আবির্ভাবে অন্ধকার দূরীভুত হবেই।এটা নিশ্চিত।

      • রিফাত বিন সাদেক মে 27, 2011 at 2:12 অপরাহ্ন - Reply

        @ভবঘুরে, দয়া করে বলবেন কি আমার কোন বক্তব্য র মাদ্ধ্যমে আপনার মনে হল আমি একজন হাস্যকর ব্যাক্তি?
        মজার বিষয় হল আমাদের নবী (স) অনেক আগেই আপানা দের সম্পর্কে বলে গেয়ছেন। সাবধান করে দিয়েছেন। সেই ১৪০০ বছর আগে। আপনাদের যত ইচ্ছা সমালোচনা করুন।
        আগে আমাদের সুধু সমালোচনা নয় আরও অনেক কিছুর মোকাবেলা করতে হয়েছে। আপনাদের ইসলাম নিয়ে সব চেয়ে বড় অভিযোগ হল এটা পরিবত্ন হয় না। কারণ হল কুরাণ, কেয়ামত পর্যন্ত এটা পরিবরত্তিত হবে না।

  5. মানুষ মে 24, 2011 at 2:31 অপরাহ্ন - Reply

    অর্বাচিন ধর্ম সমর্থক রা যদি এর এক বর্ন ও বুঝতো তবে পৃথিবী টা আরও বসবাস যোগ্য হতো।

  6. রূপক মে 24, 2011 at 2:10 অপরাহ্ন - Reply

    আপনার বক্তব্যের পক্ষে আপনি ওয়েব সাইটের রেফারেন্স দিয়েছেন। এই রেফারেন্দ এর সত্যতা নিয়ে সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ আছে। বুখারী শরীফ এ এরকম কোন ঘটনার উল্লেখ নেই। এমনকি উম্মে হানির নামও উল্লেখ নেই।

    বুখারি শরীফের হাদিস নং- ১৪১৫ দ্রষ্টব্য।

  7. আইভি মে 24, 2011 at 9:15 পূর্বাহ্ন - Reply

    হাদীসে বলা হয় যে মুহম্মদ(সাঃ) মে’রাজের রাতে আল-আকসা মসজিদে (যেরুজালেম) গিয়েছিলেন তারপর দোজখ-বেহেশত সব দেখে ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু আল-আকসা মসজিদ তৈরী হয় নবীর মৃত্যূর প্রায় ৬০ বছর পর ৭২ আল-হিজরীতে (৬৯১ খ্রীঃ) উমায়াদ শাসক আব্দুল মালিক বিন মারওয়ানের সময়ে। মুহম্মদের সময়ে আরব পেনিনসুলার বাইরে কোন মুসলমানই ছিলনা; সেক্ষেত্রে যেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদটি এলো কোথা থেকে? মুসলিমরা যেরুজালেম জয় করে ২য় খলীফা ওমরের সময় ৬৩৭ খ্রীষ্টাব্দে।
    মে’রাজ বা উর্ধগমণ কথাটি কোরানে কোথাও আসেনি কিন্তু জরুষ্ট্রবাদ ধর্মে আছে। জরুষ্ট্র ধর্মেও তাদের নবীর বোরাখে চড়ে খোদার সাথে দেখা করার, দোজখ-বেহেশ্ত দেখে আসার ঘটনার খুঁজে পাওয়া যায়। এখন প্রশ্ন, ইরানী জরুষ্ট্রবাদীদের নবীর আকাশ ভ্রমণের কাহিণী, চুরিটা কে করেছে বা কেন করেছে?

    • শুভ্র মে 24, 2011 at 3:13 অপরাহ্ন - Reply

      @আইভি,
      জরাথ্রুষ্টবাদে মিরাজের অনুরূপ ঘটনা আছে জানা ছিলনা ৷ এই তথ্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ৷ বোরাকের উল্লেখও কি আছে? জরাথ্রুষ্টবাদ সম্পর্কে আরো পড়তে ইচ্ছা করছে ৷ আমার মনে হয় প্রাকইসলামিক মিথ ও সংস্কৃতি থেকে ইসলাম ধর্মের উপাদানগুলোর উৎস আবিস্কার করা যেতে পারে ৷

    • গোলাপ মে 24, 2011 at 9:58 অপরাহ্ন - Reply

      @আইভি,

      মে’রাজ বা উর্ধগমণ কথাটি কোরানে কোথাও আসেনি কিন্তু জরুষ্ট্রবাদ ধর্মে আছে।

      AL-ISRA (ISRA’, THE NIGHT JOURNEY, CHILDREN OF ISRAEL)

      017.001
      YUSUFALI: Glory to (Allah) Who did take His servant for a Journey by night from the Sacred Mosque to the farthest Mosque, whose precincts We did bless,- in order that We might show him some of Our Signs: for He is the One Who heareth and seeth (all things).

      PICKTHAL: Glorified be He Who carried His servant by night from the Inviolable Place of Worship to the Far distant place of worship the neighbourhood whereof We have blessed, that We might show him of Our tokens! Lo! He, only He, is the Hearer, the Seer.

      SHAKIR: Glory be to Him Who made His servant to go on a night from the Sacred Mosque to the remote mosque of which We have blessed the precincts, so that We may show to him some of Our signs; surely He is the Hearing, the Seeing.

      • আইভি মে 25, 2011 at 9:46 পূর্বাহ্ন - Reply

        @গোলাপ,

        কোরানের ব্যাখ্যা আলোচনার করার কোন ইচ্ছা এখানে ছিলনা। আমি জানতাম যে, কেউ এই সুরাটি উদাহরণহিসেবে নিয়ে আসবে। বেশিরভাগ কোরানের ব্যাখ্যাই এই মে’রাজ হাদিসের উপর ভিত্তি করে। আর আমার জ্ঞানও খুব সীমিত, তারপরও যতটুকু পড়েছি ও বুঝেছি তার ভিত্তিতে বলছি।

        আল-ইসরা সুরাটি আবার বনি ঈসরাইল নামেও পরিচিত।
        ‘ইসরা’ শব্দটি এসেছে ‘সারা’ অর্থাৎ রাতে ভ্রমন, আবার অনেক সময় horizontal travel-বোঝায়, কিন্তু উর্ধ্বগমন নয়। আবার অনেকে মনে করেন ‘ইসরা’ এসেছে ‘সিরাতুন’ মানে স্রষ্টা তার অনুসারীকে উন্মুক্ত এবং প্রসারিত প্রান্তের দিকে নিয়ে যায়; ‘আস-সারু’ অর্থ হচ্ছে open out এবং ‘সিরাতুন-নাহার’ হচ্ছে the zenith of the day।

        এই রাতের ভ্রমন মুহম্মদের মক্কা থেকে মদীনাতে হিজরত করার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেয়। এই একই শব্দটি আয়াত 20:77 ও 26:52 মুসা নবীর মাইগ্রেট করে সমুদ্র পার হওয়ার ঘটনাতেও ব্যবহার করা হয়েছে।

        (20:77) -Finally, a time came when We commanded Moses, “Take away My servants by night and find for them a dry path through the Sea of Reeds. —
        এবং আয়াত (26:52)-We revealed to Moses, “Take away My servants by night, for you will be pursued.”

        এছাড়া আল-আসরা সুরার পরের কয়েকটা আয়াত পড়ে দেখুন। মেরাজের কোন নমুনাই খুঁজে পাওয়া যায় না। আবার আল-আকসা অর্থ দূরের মসজিদ হতে পারে, আর মসজিদ বলতে মদিনাকেও বোঝাতে পারে যেখানে প্রথম মুসলমানরা একত্রিত হয়ে ইসলাম পালন শুরু করে।

        17:1 Glorious is He Who initiated the migration of His servant by night, from the Sacred Masjid to the Remote Masjid whose environment We did bless that We may show him some of Our signs. He is the Hearer, the Seer.

        • শুভ্র মে 25, 2011 at 2:57 অপরাহ্ন - Reply

          @আইভি, (Y)

        • গোলাপ মে 26, 2011 at 10:02 অপরাহ্ন - Reply

          @আইভি,

          আর আমার জ্ঞানও খুব সীমিত, তারপরও যতটুকু পড়েছি ও বুঝেছি তার ভিত্তিতে বলছি।

          আপনার এ মন্তব্যের সাথে আমি মোটেও একমত নই। আমি বুঝতে পারি আপনি অনেক পড়াশুনা করেছেন। মুক্তমনায় যারা লিখেন এবং মন্তব্য করেন তাঁদের প্রায় সকলেই উচ্চ শিক্ষিত, জ্ঞানী ও চিন্তাশীল মানুষ। আপনিও তাদের একজন। আমরা সবাই একে অপরের কাছ থেকে শিক্ষছি; যার শুরু জন্মাবার পর থেকে (কিংবা তার আগেও) আর শেষ আমাদের consciousness লুপ্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। আমি আপনার সাথে একমত, “কোন একটা বাক্য বা বিষয়ের” অন্তর্নিহিত অর্থ একেক জনের কাছে একেক রুপ মনে হতেই পারে। তাহলে ‘সহী’ অর্থ কোনটি? আমি মনে করি “সহী” অর্থ ঐটায় যেটা ‘শ্রোতারা’ বক্তার বক্তব্যে অনুধাবন করে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ৭ম শতাব্দী তে মুহাম্মাদ তার সাহাবীদের উদ্দেশে যে বক্তব্য দিয়েছিল, সেটা তার সাহাবীরা যেভাবে অনুধাবন করেছিল এবং সে অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল – সেটাই সে বক্তব্যের “সহী ” অর্থ হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। আমি আপনাকে যা ‘বলছি /লিখছি’ সেটা আপনি কিভাবে ‘অনুধাবন করে প্রতিক্রিয়া’ করছেন সেটাই হলো আপনার কাছে আমার বক্তব্যের “সহী” অর্থ। আজ থেকে ২০০০ বছর পরে কোন বিজ্ঞ ব্যক্তি আমাদের এই ‘ আইভি /গোলাপ’ কথোপকথোন বা লিখালিখির ‘বিভিন্ন রকমের’ অর্থ খুঁজে বের করতেই পারে। কিন্ত “সহী অর্থ” যেটা ‘এই সময়ে’ আপনি অনুধাবন করছেন।

          প্রায় সকল মানুষই ‘দুটো জিনিষ জন্মসুত্রে লাভ করে। তা হলো তার ‘পিতা-মাতার “নাম ও ধর্ম-বিশ্বাস’। এই ‘বিশ্বাস’ আমাদের ‘স্বাভাবিক চিন্তা-শক্তি’ নষ্ট করে দেয়। এখান থেকে বেড়িয়ে আসা প্রায় ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না। আমরা একে অপরের মতে বিমত হতেই পারি!
          একটা Video clipঃ

          httpv://www.youtube.com/watch?v=u9LPwA7FRZ4&feature=player_embedded

    • মাসুদ মুরশেদ মে 25, 2011 at 9:18 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আইভি,
      শুধু ঊর্ধ্বগমন না, ৭২ হুরীর গল্পটাও জরুথস্ত্রুবাদ থেকে ধার করা।
      আসলে কোরআন লেখার কৃতিত্ব শুধু মহাম্মদের একার না। অনাকেই মনে করে বেশ কয়েকজন মিলে এই গ্রন্থখানি রচনা করেছেন। এই সব রচনাকারিগন ছিলেন তার অতি বিশ্বস্ত সাহাবী। যে কারনে কোরানের বর্ণনাভঙ্গি, আলংকরন, বাচ্য নানা যায়গায় নানা রকম।
      তার একজন সাহাবী ছিলেন সালমান ফার্সি। তিনি ছিলেন পারস্যের অধিবাসি।সম্ভবতঃ জরাস্ত্রিয়ান উপকথাগুলো তার মাধ্যমেই ইসলামে এসেছে।
      চমৎকার সব মিথগুলোর জন্যে সাল মান ফার্সিকে ধন্যবাদ দেয়া যায়।

  8. আইভি মে 24, 2011 at 9:12 পূর্বাহ্ন - Reply

    হাদীসে বলা হয় যে মুহম্মদ(সাঃ) মে’রাজের রাতে আল-আকসা মসজিদে (যেরুজালেম) গিয়েছিলেন তারপর দোজখ-বেহেশত সব দেখে ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু আল-আকসা মসজিদ তৈরী হয় নবীর মৃত্যূর প্রায় ৬০ বছর পর ৭২ আল-হিজরীতে (৬৯১ খ্রীঃ) উমায়াদ শাসক আব্দুল মালিক বিন মারওয়ানের সময়ে। মুহম্মদের সময়ে আরব পেনিনসুলার বাইরে কোন মুসলমানই ছিলনা; সেক্ষেত্রে যেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদটি এলো কোথা থেকে? মুসলিমরা যেরুজালেম জয় করে ২য় খলীফা ওমরের সময় ৬৩৭ খ্রীষ্টাব্দে।

    মে’রাজ বা উর্ধগমণ কথাটি কোরানে কোথাও আসেনি কিন্তু জরুষ্ট্রবাদ ধর্মে আছে। জরুষ্ট্র ধর্মেও, তাদের নবীর বোরাখে চড়ে খোদার সাথে দেখা করতে যান, দোজখ-বেহেশ্ত দেখে আসেন। এখন প্রশ্ন, ইরানী জরুষ্ট্রবাদীদের নবীর আকাশ ভ্রমণের কাহিণী, চুরিটা কে করেছে বা কেন করেছে?

  9. ভেনাস ইন ফিআর মে 23, 2011 at 10:05 পূর্বাহ্ন - Reply

    খুবি ভাল লেগেছে। Both parts are significant. It divulges the true portrait of Muhammad and his abusive religion Islam.

    Sorry to post in English. I have problem with fonts; only manage to write the first line in Bangla.

  10. বুনো বিড়াল মে 23, 2011 at 3:59 পূর্বাহ্ন - Reply

    যুক্তিধর্মের পোষ্ট ভালো লাগল।
    মেরাজ মৌজিযা এগুলো সবই গাজাখুরি গল্প।মানুষ কেনো বিশ্বাস করে বুঝি না।
    কিন্তু ভিতরের এতো গল্প জানা ছিল না।বিশ্লেষন করে কেউ দেয় নি।
    ধন্যবাদ আপনাকে।সেই সাথে শুভকামনা।

  11. আদিল মাহমুদ মে 23, 2011 at 12:29 পূর্বাহ্ন - Reply

    উম্মে হানির ঘরে নবী মোহাম্মদ ঠিক কি উদ্দেশ্যে গমন করেছিলেন তার কি কোন দালিলিক প্রমান আছে? আমি এখানে মনে হয় না দেখছি বলে। সেটা না থাকলে সেই উদ্দেশ্য আপনার নিজের মতামত। তাই না? তার পক্ষে আপনার নিজের যুক্তি দিয়েছেন অবশ্য। তবে ঐতিহাসিক দলিল ছাড়া এমন মতামতের গুরুত্ব মনে হয় না খুব বেশী আছে।

    মিরাজ কেন সম্ভব নয় তা অবশ্য বলতে পারেন।

    তাকে হ্ত্যা করার চক্রান্ত হচ্ছিল বলে যে কিচ্ছা আমরা শুনি তা সবই বানানো ও ভিত্তিহীন।কারন কোন উন্মাদ লোককে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বী জ্ঞান করে না আর তাকে কেউ মেরেও ফেলতে চায় না।

    – এটা একটু বেশী আবেগ প্রবন কথা হয়ে গেল না? তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র মোল্লা মাওলানাদের বাড়াবাড়ি কথা নয়, ইতিহাসের পাতাতেই আছে। ইবনে ইশাকের বইতে আমি নিজেই পড়েছি। তাকে পাগল আগে বলা হয়েছিল, তবে চূড়ান্তভাবে হত্যার সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছিল এ নিয়ে মনে হয় না কোন বিতর্ক হতে পারে বলে।

    • ভবঘুরে মে 23, 2011 at 12:51 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আদিল মাহমুদ,

      উম্মে হানির ঘরে নবী মোহাম্মদ ঠিক কি উদ্দেশ্যে গমন করেছিলেন তার কি কোন দালিলিক প্রমান আছে? আমি এখানে মনে হয় না দেখছি বলে। সেটা না থাকলে সেই উদ্দেশ্য আপনার নিজের মতামত। তাই না?

      নীচের সাইটগুলো সব ইসলামিক সাইট। ওর সবগুলোটেই উম্মে হানির কথা উল্লেখ আছে।

      উম্মে হানির ঘরে নবী মোহাম্মদ ঠিক কি উদ্দেশ্যে গমন করেছিলেন তার কি কোন দালিলিক প্রমান আছে?

      উম্মে হানির ঘরে কি উদ্দেশ্যে গমন করেছিলেন তার নানা রকম মতবাদ আছে। নীচের সাইটগুলোতে তাও বলা আছে। তবে এটা নিশ্চয়ই আশা করা যায় না ইসলামিক উৎসগুলোতে এ কথা লেখা থাকবে যে- মোহাম্মদ উম্মে হানির ঘরে গোপন অভিসারে গেছিলেন।
      ঘটনা সেখানে যা ঘটেছিল, সেখানকার পরিস্থিতি যা ছিল তার তা বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায় মোহাম্মদ কি কারনে সেখানে গেছিলেন। সেটাই ভাল মত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিশ্লেষণে কোন ত্রুটি থাকলে তা ধরিয়ে দিলে ভাল হতো।

      (১)http://www.islamiclandmarks.com/saudi_house_of_umme_hani.html
      (২)http://www.ezsoftech.com/islamic/meraj.asp
      (৩)http://www.paklinks.com/gs/religion-and-scripture/437584-mairaj-the-night-of-journey.html
      (৪)http://www.help-for-the-convert.net/new_page_12.htm
      (৫)http://www.hujjat.org/index.php?option=com_content&view=article&id=114:meraj-mabath-&catid=28&Itemid=100013
      (৬) http://www.apfn.net/messageboard/08-10-06/discussion.cgi.34.html
      (৭)http://www.almujtaba.com/articles/1/000496.html
      (৮)http://forum.gexir.com/viewthread.php?tid=4210
      (৯)http://www.maaref-foundation.com/english/library/pro_ahl/holy_prophet/the_message/23.htm
      (১০)http://gurumia.com/tag/meraj-night-ascension-isra-and-miraj-night-journey/

      এটা একটু বেশী আবেগ প্রবন কথা হয়ে গেল না?

      আবেগের কি হলো? বিশ্লেষণ যা রায় দিচ্ছে সেটাই বলেছি। আপনার ভিন্ন মত থাকলে বলতে পারেন।

      তাকে পাগল আগে বলা হয়েছিল, তবে চূড়ান্তভাবে হত্যার সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছিল এ নিয়ে মনে হয় না কোন বিতর্ক হতে পারে বলে।

      আপনার বক্তব্য বা ইসহাকের বইয়েই নিহিত যে তাকে হত্যা করার কিচ্ছা বানোয়াট কারন কোন পাগলকে কেউ কোনদিন প্রতিদ্বন্দ্বী গণ্য করে হত্যা করতে চাইবে তা কোনমতেই যুক্তিযুক্ত নয়। এমন কথা কেউ কোনদিন শুনেছে বলেও মনে হয় না। সেটাই বিশ্লেষণ করা হয়েছে মাত্র। আমি নিজের কোন মতামত দেইনি। আপনি ইচ্ছে করলে সঠিক বিশ্লেষণ তুলে ধরতে পারেন।

      পরিশেষে আপনার মূল্যবান মতামতের জন্য ধন্যবাদ।

      • আদিল মাহমুদ মে 24, 2011 at 7:05 পূর্বাহ্ন - Reply

        @ভবঘুরে,

        তবে এটা নিশ্চয়ই আশা করা যায় না ইসলামিক উৎসগুলোতে এ কথা লেখা থাকবে যে- মোহাম্মদ উম্মে হানির ঘরে গোপন অভিসারে গেছিলেন।

        – এটা একেবারে হুবহু এমন ভাষায় না থাকলেও অন্তত কিছুটা ইংগিত থাকার কথা। সহি ইসলামিক সূত্রগুলিতেই মহান ইসলামী চরিত্রদের যুদ্ধবন্দী নারী উপভোগ জাতীয় বেশ কিছু রেফারেন্সই আছে। কাজেই এ ক্ষেত্রেও তেমন কিছু হয়ে থাকলে তার অন্তত কিছু পরিষ্কার ইংগিত থাকার কথা।

        অন্তত উন্মে হানির প্রতি নবী মোহাম্মদ আকৃষ্ট ছিলেন বা বিবাহের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন এমন কিছু কি পেয়েছিলেন?

        নাহলে আপনার এনালাইসিস সম্ভাবনার বিচারে অবশ্যই টেকে, তেমনি বেনেফিট অফ ডাউট থেকেই যায়।

        কাউকে পাগল বললে যে তাকে হত্যা করা যাবেই না এমন কোন ধরাবাধা কথা আছে বলে আমার মনে হয় না। নবী মোহাম্মদের ধর্ম প্রচারের প্রথম দিকে তাকে মক্কার কোরাইশরা তেমন গুরুত্ব দেয়নি, মনে করেছিল নেহায়েতই পাগল। তবে পরে তাকে ঠিকই গুরুত্ব দিয়েছিল। তাকে এমনকি ভাল রকম ঘুষ দিয়ে ধর্ম প্রচার বন্ধ করারও প্রস্তাব দিয়েছিল। পাগলকে এমন ঘুষের অফার কে দিতে যাবে? পাগল হলে ধরে বেধে পেটানো হয় আর নয়ত দূরে কোথাও ছেড়ে আসা হয়।

        হত্যার পরিকল্পনা ইশাকের সীরাতে বেশ বিস্তারিতই আছে, বিশ্বাস না হলে স্ক্যান করে দিতে পারি। তাকে যেমন পাগল বলেছিল তেমনি হত্যার পরিকল্পনাও করেছিল। পাগলকে হত্যার পরিকল্পনা করা যায় না, কিন্তু তার সাথে যুদ্ধ করা যায় কেমন করে?

        আমার কাছে দুটোই সত্য।

        শুধু তাকে পাগল বলেই হত্যার পরিকল্পনা করেনি এই সিদ্ধান্তে চট করে চলে আসা অত্যন্ত দূর্বল এনালাইসিস বলেই মনে করি। এই যুক্তি অনেকটা ইসলামিষ্টরা যেভাবে নানান ফাক ফোকর ধামাচামা দিতে চান তেমনই মনে হচ্ছে। সম্ভাবনার বিচারে দুটোই একই সাথে হতে পারে।

        ঐতিহাসিক কোন সূত্রে হত্যা পরিকল্পনা বিস্তারিত না থাকলে আপনার এনালাইসিস গ্রহন করার প্রশ্ন উঠত। যেখানে বিস্তারিত পরিকল্পনা আছে সেখানে তাইই গ্রহন করতে হবে। আর নয়ত ইসলামিষ্টদের লাইনে যুক্তি দেখাতে হবে যে একই সূত্রের যা আমার দাবীমত হয় কেবল তাইই মানি, যা দাবীর বিপক্ষে যায় তা মানি না, তা ভুল। এই যুক্তি যে খুবই সুবিধাবাদী ও হাস্যকর তা নিশ্চয়ই মানেন।

        • গোলাপ মে 24, 2011 at 9:10 অপরাহ্ন - Reply

          @আদিল মাহমুদ,

          তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র মোল্লা মাওলানাদের বাড়াবাড়ি কথা নয়, ইতিহাসের পাতাতেই আছে। ইবনে ইশাকের বইতে আমি নিজেই পড়েছি। তাকে পাগল আগে বলা হয়েছিল, তবে চূড়ান্তভাবে হত্যার সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছিল এ নিয়ে মনে হয় না কোন বিতর্ক হতে পারে বলে।

          হত্যার পরিকল্পনা ইশাকের সীরাতে বেশ বিস্তারিতই আছে, বিশ্বাস না হলে স্ক্যান করে দিতে পারি।

          আদিল মাহমুদ, অনেক দিন পর আপনার মন্তব্য পড়লাম। আপনার মন্তব্য আমি মনযোগ দিয়ে পড়ি, কারন আপনার মন্তব্যে অনেক যুক্তি থাকে। মুহাম্মাদকে হত্যার “গল্পটা” আসলেই বানানো। উদ্দেশ্য “মুহাম্মাদ যে একান্ত বাধ্য হয়ে / প্রান রক্ষার তাগিদে মক্কা ছেড়েছিল” এবং পরবর্তীতে মক্কাবাশীদের প্রতি মুহাম্মদের যাবতীয় ‘আগ্রসী” হামলার বৈধ্যতা প্রমান করার অপচেষ্ঢা। এ সত্যটা বুঝতে হলে একটু ‘মনযোগী, অনুসন্ধিৎসু ও খোলা মন নিয়ে’ ইসলামে নিবেদিত প্রান বিশিষ্ট মুসলীম ঐতিহাসিকদের লিখে রাখা ‘তথ্যগুলো’ পর্যালোচনা করতে হবে। শুরু করা যাকঃ
          মুহাম্মাদ ইবনে ইশাক /আল-তাবারী (পৃষ্ঠা ১২২০-১২৩৩) লিখেছেন (আমি part by part ব্যখা করবো আলোচনার সুবিধার জন্যে)ঃ

          “Then the Gabriel came to the Messenger of God and said, “Do not spend this night in the bed in which you usually sleep”

          জিবরাইল (?) মুহাম্মাদকে ‘সতর্ক করে দিচ্ছে’ বিছানায় শুলে বিপদ আছে! কারন কুরাইশরা তাকে ‘হত্যা’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

          “When the first third of the night had gone past, the young men gathered at his door and waited for him to go to sleep so that they could fall upon him”.

          বলা হয়েছে ‘আবু জেহেলের পরামর্শে (Quote ” —— I think that you should take one young, strong, well born, noble young man from each clan; then we should give each young man a sharp sword, then they should make for him and strike him with their swords as one man and kill him”) প্রতিটা গোত্রের ‘হৃষ্ট-পুষ্ট’-সবল-সুঠাম বলিষ্ঠ জোয়ানরা (কত জন হবে?) দরজার সামনে ‘মুহাম্মাদের’ ঘুমের অপেক্ষায় আছে! মুহাম্মাদ ঘুমালে “দরজা ভেংগে” (শব্দ হবে না?) ) ঘরে ঢুকে একযোগে তাকে আক্রমন করবে মুহাম্মাদকে “ঘুমন্ত” অবস্থায় (দরজা ভাংগা্র শব্দে মুহাম্মাদের ঘুম ভাংবে না?) হত্যা করবে!!

          “When the Messenger of God saw them there he said to Ali b Abu Talib, ‘Sleep on my bed and wrap yourself up in my green Hadrami cloak; nothing unpleasant will be fall you from them”. The messenger of god used to sleep in that cloak when he went to bed. —”

          জিবরাইল (?) মুহাম্মাদকে ‘সতর্ক করে দিচ্ছে’ বিছানায় শুলে “নবীর সমূহ বিপদ”, কিন্তু আলীর জন্য সে বিপদ নাই এমনকি ” চোখ- মুখ ঢেকে চাদর মুরি দিয়ে” থাকলেও নয়( !?)। অদ্ভুত ব্যাপার!

          “Then the messenger of God went off, and God blinded the sight of those who were lying the wait for him s that he departed without their seeing him.

          Ibne Humayd >Salamah > Muhammad bin Ishaq, Yazid b Ziyad > Muhammad bin Ka’b Qurazi: They gathered against him, among them was Abu Jahl b Hisham,——- . Then the Messenger of God came out, took a handful of dust ———. Then God took away their sight so that they could not see him, and Muhammad began to sprinkle the dust on their heads while reciting the following verses from Sura Ya’ Sin (verse 3: 1-9). By the time he had finished reciting these verses he had put dust on the heads of every one of them after which he went to where he wished to go.

          একেবারে তেলেসমাতি কান্ড! ‘মাথার উপর’ (চোখে নয়) ধুলা ছিটায়ে অপেক্ষারত সমস্ত হৃষ্ট-পুষ্ট’-সবল-সুঠাম বলিষ্ঠ কুরাইশ “জোয়ানদের”
          চোখের সামনে দিয়ে “তিনি পলায়ন করলেন”। যে মুহাম্মাদ ১২-১৩ বছর মক্কা জীবনে “একটাও” মিরাকল দেখাতে পারে নাই (see: Miracle section of ‘Twenty Three years” by Ali Dasti) মোক্ষম সময়ে তা তিনি দেখালেন! এরকম অলোকিক ক্ষমতার অধিকারীকে “জিবরাইল কেন বিছানায় শুতে না করবেন? পুরা ঘটনার বর্ননা হলো -“মিরা জের বর্ননার” মতই বিশ্বাসযোগ্যঃ “শুধুমাত্র কঠিন বিশ্বাসীদের জন্য”।

          (রেফেরেন্সঃ The history of Al Tabari, Translated and annotated by W Montogomery Watt and M.V. McDonald, University of Edinburgh, Published by state University of New York, Albany -1988, Volume VI, page 132-143 (Leiden- page 1220-1233)

          এ পুরো ঘটনাটা যে বানানো তা আরো স্পষ্ঠভাবে বুঝা যায় যদি পাঠক একটু পিছনের ইতিহাসের দিকে তাকান। বেশীদূরে নয়, সামান্য পিছনে হিজ্রতের অল্প-কিছু দিন আগে। দ্বিতীয় আকাবার (The second pledge of al-Aqaba) ঘটনায়। ঘটনাটি নিম্নরুপঃ

          “Ibne Humayd > Salamah > Muhammad bin Ishaq > Ma’bad bin Ka’b, brother of the banu Salimah > his brother Abdullah b Ka’b who wasone of the most learned men of the Ansar > his father Ka’b bin Malik who was one of those present at al aqabah and swore the oath of allegiance to the Messenger of God there. ——–

          We spent that night encamped with our people, but when a third of the night had gone by we left our encampment to meet the Messenger of God. We slipped away secretly, moving as silently as sand grouse, and met in the ravine by Al-aqabah. We were seventy men and two women ——. We gathered in the ravine to wait for the messenger of God. He came to us accompanied by his uncle Al Abbas b Abd al-Muttalib, who at that time still adhered to religion of his people, but wished to be present when his nephew was negotiating and to see there was a firm agreement. When he had sat down, Al Abbas b Abd Al-Muttalib was the first to speak, and said, “ Pepole of Khazraj (the Arabs used to call the Ansar, the Khazraj and Aws together, by the name of the Khazraj), you know what Muhammad’s position is among us. We have protected him against those of our people who have the same religious views as ourselves. He is held in honour by his own people and is safe in his country. He is determined to leave them and to join you, so if you think that you can fulfill the promises which you made in inviting him to come to you and can defend him against the enemies, then assume the responsibilities which you have taken upon yourselves. But if you think that you will abandon him and hand him over after he has come to you, then leave him alone now, for he is honored by his people and is safe in his country.” –—–

          Abu Jafar Al-Tabari: “Other authorities than Ibne Ishaq say that those of the Ansar who came to swear allegiance to the prophet came in (the month of) Dhu Al Hijjah. After this the messenger of God remaining Mecca for the rest of the Dhu Al Hijjah and for the month of Muharam and Safar and immigrated to Al Madinah in the month of Rabi I (July-Sep 622) arriving there on Monday, the twelfth of that month (24 September)”.

          (রেফারেন্সঃ Ibid page 1217-1226)

          ঘটনাটি ‘Self explanatory’। এরকম বহূ টুকরো টুকরো ঘটনা ( সিরাত-হাদিস-কুরান) পর্যালোচনা করলে যে সত্যটা বেরিয়ে আসে তা হলো মুহাম্মাদকে মক্কা থেকে “তারানো হয় নাই” – সে নিজেই তার ধর্মকে প্রতিষ্ঠার জন্য তার দলে দিক্ষিত মুস্লামানেরা যখন তাদের পরিবারদের সাথে যোগ দিয়ে ‘তাদের পূর্ব-পু্রষের’ ধর্মে ফিরে যাচ্ছিলো এবং মদিনাতে তার আত্মীয়-স্বজন (মুহাম্মাদের বর-দাদী ‘সালমা”, আব্দুল মুত্তালিবের বাবা হাশিমের স্ত্রী) ও অন্যান্য মদিনাবাসীর আমন্ত্রনে “মক্কা” ছেড়েছিল এবং তার সাংগো-পাংগোদের “বাধ্যতামুলক ভাবে” (কুরানের আয়াতের মাধ্যমে) মক্কা ছাড়তে বাধ্য করেছিল। এর আগে আবিসিনিয়াতে একই উদ্দেশে তার অনুসারীদের পাঠিয়েছিল।মুহম্মাদ মদীনার আনসার এবং এর আগে তায়েফের ‘মানুষকে” মক্কাবাসীদের (তারই আত্মীয়-স্ব্জন) বিপক্ষে, প্রয়োজনে যুদ্ধ (২য় আকাবা) লাগানোর চেষ্টা করছিল। মক্কাবাসীরা তা জানার পরও তাকে ‘সহ্য” করছিল। ২য় আকাবার পর দুই মাসের ও অধিক সময় মুহাম্মাদ মক্কায় ছিল -মাক্কবাসীরা তাকে হত্যা করতে চাইলে অনেক আগেই তারা তা করতে পারতো। খাদিজা এবং চাচা আবু তালিবের মৃত্যুর (প্রায় পাশা-পাশি সময় – হিজরতের তিন বছর আগে) পর মক্কায় তার ‘নবী জীবনের” অধ্যায়ের যবনিকাপাত কেবল মাত্র তখন সময়ের ব্যপার ছিল। সর্বসাকুল্যে ১২-১৩ (৬১০ – ৬২২ সাল) বছরের মক্কার নবী জীবনের অর্জন – ১০০ জনের মত সাহাবী।

          তাকে এমনকি ভাল রকম ঘুষ দিয়ে ধর্ম প্রচার বন্ধ করারও প্রস্তাব দিয়েছিল। পাগলকে এমন ঘুষের অফার কে দিতে যাবে?

          আরেকটি মিথ্যার সুপরিকল্পি্ত প্রচার। যে মুহাম্মদের ১৩ বছরের অর্জন মাত্র ১০০ জন সাহাবা, যারা সবাই ছিল (ওমর এবং আবু বকর ছাড়া) সমজের নিম্ন-শ্রেনীর লোক তাকে ‘মক্কা-বাসী” কুরাইশরা কেন তোষামদ করবে। মুহাম্মাদ কখোনই মাক্কাবাসিদের জন্য কোন ‘হুমকী” ছিল না। সে ছিল তাদের কাছে “আপদ”। যে আপদ তার আবিষ্কৃত ধর্ম প্রচারে
          মক্কা-বাসীদের (কুরাইশদের) “পূজনীয় দেব-দেবী’ এবং পূর্বপুরুষদের অবমাননা করতো। তাকে ঘুষ দেয়ার প্রশ্নই আসে না। অত্যক্তকারীকে কি কেউ ঘুষ দেয় (যদি না সে ক্ষমতাবান হয়)?

          “ When the apostle openly displayed Islam as God ordered him, his people did not withdraw or turn against him, so far I have heard, until he spoke disparagingly of their gods. When he did that they took great offense and resolve unanimously to treat him as an enemy —-. They said, “ O Abu Talib, your nephew has cursed our gods, insulted our religion, mocked our way of life and accused our forefathers of error; either you must stop him or you must let us get at him, for you yourself are in the same position as we are in opposition t him and we will ride you of him”. He gave them the conciliatory reply and a soft answer and they went away”.

          Muhammad did not stop.

          “Then they went to Abu Talib a second time and said, “You have a high and lofty position among us, and we have asked you to put a stop to your nephew’s activities and you have not done so. By God, we can not endure that our fathers should be reviled, our customs mocked and our gods insulted. Until you rid us of him we will fight the pair of you until one side perishes’ or words to that effect. Thus saying they went off. Abu Talib was deeply distressed at the breach with his people and their enmity but he could not desert the apostle and give him up to him”.

          (রেফারেন্সঃ ‘Sirat Rasul Allah by Ibne Ishaq (704-768 CE), compiled Ibne Hisham (d 833 CE)- Translated by A. Guillaume, page 118)

          আবারো self explanatory। সত্য হচ্ছে মুহাম্মাদ মক্কা হতে ‘বিদায়’ হওয়ার পর মক্কা-বাসী আপদ বিদায়ে খুশী হয়েছিল। কিন্তু সে সুখ তাদের বেশিদিন টিকে নাই। রাতের অন্ধকারে তাদের নিরীহ ‘বানিজ্য ফেরত’ কাফেলার উপর ‘হামলা- সম্পদ লুট-হত্যা” (ডাকাত দল) ইত্যদি কর্মের মাধ্যমে মুহাম্মাদ আবার নতুন পরিচয়ে হাজির হলেন। এবং তা হিজরতের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই।

          ভাল থাকুন।

          <

          • গোলাপ মে 24, 2011 at 9:16 অপরাহ্ন - Reply
          • তামান্না ঝুমু মে 24, 2011 at 10:10 অপরাহ্ন - Reply

            @গোলাপ,
            মুক্তমনায় পোস্ট ছাড়ছেন কবে?আপনার মন্তব্যগুলো বেশ তথ্য বহুল।অরেকটু বিস্তারিত লিখে দিলে এ মন্তব্যগুলো একেকটা পোস্ট হতে পারে।

            • গোলাপ মে 25, 2011 at 3:56 পূর্বাহ্ন - Reply

              @তামান্না ঝুমু,
              আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। ‘লেখা লেখিতে’ অভ্যস্ত নই।
              মনে হচ্ছে শুরু করা দরকার।

          • আদিল মাহমুদ মে 25, 2011 at 12:23 পূর্বাহ্ন - Reply

            @গোলাপ,

            আপনার ব্যাখ্যার জন্য ধন্যবাদ। আরো ধন্যবাদ যে আপনি অন্তত ইতিহাসের বই পড়ে নিজের ধারনা দাঁড় করিয়েছেন, ভবঘুরে সাহেব পড়েছেন কিনা জানি না। উনি সেদিকে যাচ্ছেন না, কেবল কাউকে পাগল বললে তাকে খুনের ষড়যন্ত্র করা যায় না এমন সুপার ফিশিয়াল যুক্তি দিয়ে যাচ্ছেন। আসল ইতিহাসের ধারে কাছে দিয়েও যাননি।

            আপনার কথায় বিশুদ্ধ যুক্তির চোখে ভাল মেরিট আছে। শুধু মাত্র এই কাহিনী নিয়ে আজকের দিনে নবী মোহাম্মদ কোন আদালতে গিয়ে হত্যা মামলা দায়ের করলে মনে হয় না সেই মামলা টিকত। কারন এর মাঝে বেশ কিছু অংশ আছে যেগুলি কোন আদালত গ্রহন করতে পারে না, কারন বিজ্ঞান বা বিশুদ্ধ যুক্তির চোখে সেসবের কোন অস্তিত্ব নেই।

            তবে আমরা বিবেচনা করছি একটি ঐতিহাসিক সূত্র, যার রচয়িতা হলেন একজন নবীভক্ত মুসলমান (হতে পারে কনভার্টেড…) যিনি ধরেই নিয়েছেন যে নবীজির অবশ্যই আল্লাহ প্রদত্ত অলৌকিক ক্ষমতা আছে। কাজেই নবীজি ঘটিত অনেক সাধারন ঘটনাও তার কাছে মনে হবে অলৌকিক, তিনি সেভাবেই সেগুলি বর্ননা করবেন এটাই স্বাভাবিক। কি বলেন?

            দরজা ভেংগে ঢুকলে শব্দ অবশ্যই হবে। তবে এ কায়দা মনে হয় সে জমানার আরবে বেশ প্রচলিতই ছিল। এমনকি নবীজিও তার একজন বিরোধীকে রাতের আঁধারে তার বাড়িতে ঘাতক দল পাঠি্যে হত্যা করিয়েছিলেন (ঘটনার রেফারেন্স এ মহুর্তে মনে হচ্ছে না, তবে পরে অবশ্যই বলতে পারবো)। ঘটনা প্রায় এমনই, ঘাতক দল রাতের আঁধারে দরজা ভেঙ্গে তার বাড়িতে প্রবেশ করে, তার নাম ধরে ডাকাডাকি করে ঘুম থেকে তোলে, তারপর কুপিয়ে হত্যা। তাই দরজা ভাঙ্গার শব্দ পয়েন্ট আমার কাছে অত শক্ত মনে হচ্ছে না।

            নবীজি হয়ত খিড়কী দরজা বা ছাদ ফুটো করে এমন কোন যুক্তিগ্রাহ্য উপায়েই পালিয়েছিলেন। বিশ্বাসী ও নবীভক্ত ইশাকের বর্ননায় তাইই হয়ে গেছে অলৌকিক ধূলো ছড়িয়ে চোখ অন্ধ করে দেওয়া। জিবরাঈল নবীজিকে সতর্ক করে দিয়েছে এমন কথাও হয়ত এভাবেই ঢুকেছে। বাসার সামনে খুনে দলের অস্তিত্ব বাসার ভেতর থেকে টের পাওয়া এমন কিছু শক্ত না, জিবরাঈলের সাহায্য ছাড়া তা আর কোনভাবেই জানা যেত না এমন মনে হয় না।

            জিবরাইল (?) মুহাম্মাদকে ‘সতর্ক করে দিচ্ছে’ বিছানায় শুলে “নবীর সমূহ বিপদ”, কিন্তু আলীর জন্য সে বিপদ নাই এমনকি ” চোখ- মুখ ঢেকে চাদর মুরি দিয়ে” থাকলেও নয়( !?)। অদ্ভুত ব্যাপার!

            – এখানেও সেই একই ব্যাপারই আমি বলব। মক্কার কাফের কুরাইশদের ইসলামী লেখকগণ যত খারাপ ভাবে ফুটিয়ে তোলেন না কেন নিরপেক্ষভাবে আমার মনে হয়নি যে তারা ঠিক অতটা খারাপ। তাদের রক্তলোলুপ, যাকে খুশী তাকে অকারনে বা সামান্য কারনে মেরে ফেলবে এমন মোটেও মনে হয়নি। এর প্রমান তারা নবী মোহাম্মদকেও অনেক সুযোগ দিয়েছে, অপশন দিয়েছে; এমনকি তার নুতন ইসলাম ধর্মও প্রচারের অনুমতি দিতে চেয়েছিল শুধু তাদের পৌত্তলিক ধর্মের বিরোধীতা করা যাবে না এই শর্তে। ইনফ্যান্ট সে আমলে মক্কায় সব ধর্মের লোকেরই ধর্মীয় পূর্ন স্বাধীনতা ছিল। এমন ধর্মীয় স্বাধীনতা তো কাফের পৌত্তলিকদের সমালোচনাকারী অনেক সাচ্চা মুসলমান দেশ আজকেও দিনেও তাদের দেশের বিধর্মীদের দেয় না।

            যাক, আমার মনে হয় এটা নবী মোহাম্মদ/আলী ভালই জানতেন যে তাদের টার্গেট শুধুই মোহাম্মদ, আর ঘাতক দল টার্গেট নিশ্চিত হয়েই হত্যাকান্ড ঘটাবে। আলীর ওপর তাদের সে পরিমান ক্ষোভ নেই, কাজেই তিনি নিরাপদ এটা জেনে শুনেই তারা এ কাজ করেছিলেন।

            জানি না বোঝাতে পারছি কিনা। একটি হাইপোথিটিক্যাল গল্প বলি। ধরা যাক, আপনি কোন এক অশিক্ষিত জাতিগোষ্ঠির মাঝে উপস্থিত হলেন যারা চাঁদ সূর্যকে খুব বড় দেবতা মানে। এখন আপনি তাদের কাছে অলৌকিক ঘটনা দেখিয়ে প্রভাব বিস্তার করতে চান। আপনার কাছে আধুনিক পঞ্জিকা আছে যা দিয়ে জানেন যে ঘটনাক্রমে আজ রাত ৮টায় সে যায়গায় চন্দ্রগ্রহন হবে। আপনি ঠিক রাত ৮টার আগে আগে নানান মন্ত্র ফন্ত্র পড়ে নাচানাচি করে ভাব ধরলেন, চাঁদ গায়েব হয়ে গেল। আপনি বিরাট দেবতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে গেলেন। এই ঘটনা সেই অসভ্য জাতির কেউ তাদের ইতিহাস বইতে লিখে রাখলো। সে নিঃসন্দেহে আপনার অলৌকিক ক্ষমতার বর্ননাই দেবে। আর বিশেষ করে যেই সেই ঘটনা ২০০ বছর পর লেখা হয় তো কথাই নেই। এখন প্রশ্ন হল যে; হাজার বছর পর আমরা কেউ সেই ইতিহাস পড়ে কি বলে বসব যে চাঁদ গায়েব করার ঘটনা ঘটতেই পারে না কারন কোন মানুষের মন্ত্র পড়ে চাঁদ গায়েব করে ফেলার ক্ষমতা থাকতে পারে না? নাকি ভাবতে চেষ্টা করব যে সে ঘটনা হয়ত আসলেই হয়েছিল, তবে অলৌকিক কোন ব্যাপার স্যাপার নেই এই যা?

            1. then leave him alone now, for he is honored by his people and is safe in his country.” -—–

            – এই অংশ আমার কাছে একেবারেই নুতন। আমি তাবারি পড়িনি। তবে জানি যে মূল বই হল ইশাক, তাবারি হল তার ভিত্তিতে লেখা। সে হিসেবে এই অংশ হয়ত পরে যোগ দেওয়া হয়েছে, ইশাকে এটা আছে কিনা এ মুহুর্তে বলতে পারছি না। এমনও হতে পারে যে নবীজির মহাত্ম্য দেখাতে এই লোকে চাপা মারছিল। কথাটা তো আর নবীর নিজের নয়। কেউ পালিয়ে এসে আশ্রয় চাচ্ছে এমন নিঃসন্দেহে সেই লোকের জন্য খুব সম্মানজনক নয়। তার সম্মান রক্ষার্থেই হয়ত এমন বানোয়াট কথা বলার দরকার পড়েছিল।

            নবীজিকে কি হত্যার কোনই পোটেনশিয়াল ছিল না ভবঘুরে যেমন দাবী করেন? আমি তো আপনার দেওয়া রেফারেন্সেও তার পরিষ্কার ইংগিতই পাই। দেখেন,

            Until you rid us of him we will fight the pair of you until one side perishes

            – এটা তো মারামারির হুমকি ছাড়া আর কিছুই নেই, যে মারামারি এক পক্ষ শেষ না হওয়া পর্যন্ত থামবে না, ডু অর ডাই। কোন পাগলকে কেউ এমন মারাত্মক জীবন বাজি রাখা হুমকি দেয় বলে শুনেছেন? এই হুমকি এমনকি নবীজির চাচার জন্যও প্রযোজ্য।

            নবীজিকে ঘুষের অফার সংক্রান্ত কথাবার্তা ইশাকে পড়েছিলাম, এই মুহুর্তে বলতে পারছি না। তবে ইশাক খুলে পরে বার করতে পারবো।

            • গোলাপ মে 25, 2011 at 3:41 পূর্বাহ্ন - Reply

              @আদিল মাহমুদ,

              যিনি ধরেই নিয়েছেন যে নবীজির অবশ্যই আল্লাহ প্রদত্ত অলৌকিক ক্ষমতা আছে। কাজেই নবীজি ঘটিত অনেক সাধারন ঘটনাও তার কাছে মনে হবে অলৌকিক, তিনি সেভাবেই সেগুলি বর্ননা করবেন এটাই স্বাভাবিক।

              আপনার সাথে একমত। প্রতিটি “ধর্ম-বিশ্বাসের” আত্মা হলো ‘অলৌকিকত্ব এবং আনুষাঙ্গিক কল্প-কাহিনী’। তাছাড়া আমাদের (21st century) জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে ইবনে ইশাক /তাবারীর সময়ের মানুষের তুলনা করা যায় না। তাই ঐসব উদ্ভট ঘটনা যে ‘সত্য’ নয় তা আমরা অতি সহজেই বুঝতে পারি। আজ আমরা জানি যে ‘এ মহাবিশ্ব ফিজিকাল নিয়ম নীতির দ্বারা পরচালিত (Governed by physical laws)। এখানে কোন
              অলৌকিকত্তের বিষয় নাই।

              ঘাতক দল রাতের আঁধারে দরজা ভেঙ্গে তার বাড়িতে প্রবেশ করে, তার নাম ধরে ডাকাডাকি করে ঘুম থেকে তোলে, তারপর কুপিয়ে হত্যা। তাই দরজা ভাঙ্গার শব্দ পয়েন্ট আমার কাছে অত শক্ত মনে হচ্ছে না

              বলা হচ্ছে কুরাইশরা দরজার বাহিরে মুহাম্মাদের “ঘুমানোর” অপেক্ষায় ছিল। সে কারনেই এটা অবিশ্বাস্য।

              ঘটনা প্রায় এমনই, ঘাতক দল রাতের আঁধারে দরজা ভেঙ্গে তার বাড়িতে প্রবেশ করে, তার নাম ধরে ডাকাডাকি করে ঘুম থেকে তোলে, তারপর কুপিয়ে হত্যা।

              ক্বাব বিন আশরাফ (বুখারী Volume 5, Book 59, Number 369: এবং আবু রাফির (Sahi Bukhari Volume 5, Book 59, Number 371)
              হত্যা ছিল এমনি। মুহাম্মদের ১০ বছরের মদীনা ( > ৬৫ যুদ্ধ, খুন-হত্যা) এত অধিক প্রান-হানি হয়েছে যে আপনি কয়টার খবর রাখবেন!

              নবীজি হয়ত খিড়কী দরজা বা ছাদ ফুটো করে এমন কোন যুক্তিগ্রাহ্য উপায়েই পালিয়েছিলেন।

              পুরো ঘটনাটাই যুক্তির বিচারে “বানোয়াট” । ছাদ ভাংগার প্রশ্ন অবান্তর।

              মক্কার কাফের কুরাইশদের ইসলামী লেখকগণ যত খারাপ ভাবে ফুটিয়ে তোলেন না কেন নিরপেক্ষভাবে আমার মনে হয়নি যে তারা ঠিক অতটা খারাপ। তাদের রক্তলোলুপ, যাকে খুশী তাকে অকারনে বা সামান্য কারনে মেরে ফেলবে এমন মোটেও মনে হয়নি।

              ইসলামের ইতিহাস পড়ে আমি যা বুঝেছি তা হলো তৎকালীন মক্কা-বাসী /কুরাইশরা ‘ধর্মীয় উদারতায়’ এক ‘উদাহরন। ‘ধর্ম -ভিত্তিক’
              মেরুকরনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের পরিবার থেকে বিচ্ছন্ন করে “Divide and Rule” জাতীয় মতবাদ এবং খুন-খারাবীর গোরাপত্তন মুহাম্মাদের পথ ধরে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। কিন্তু মুহাম্মাদ চোখে তারা “আইয়্যামে জাহিলিয়াত’।

              এমনকি তার নুতন ইসলাম ধর্মও প্রচারের অনুমতি দিতে চেয়েছিল শুধু তাদের পৌত্তলিক ধর্মের বিরোধীতা করা যাবে না এই শর্তে।

              ঠিক বলেছেন। ঘটনাটি ছিল আবু-তালিবের মৃত্যু শয্যাকালীন।

              “Khadiza and Abu Taib died in the same year- 3 yrs before Hijra, and it was then that the Quraysh began to treat him in an offensive way which they would not have dared to follow in his uncle’s life time. ——-When Abu Talib was sick several notable Qurash including Abu Jahl, Umayya bin Khalaf, abu Sufyan ibn Harbwent to Abu talib and said, “You know your rank with us and now that you are at the point of death we are deeply concerned on your account. You know the trouble that exists between us and your nephew, so call him and let us make an agreement that he will leave us alone and we will leave him alone; let him have his religion and we will have ours.” —-

              ( Sirat Ibne Ishaq p – 193)

              এমন ধর্মীয় স্বাধীনতা তো কাফের পৌত্তলিকদের সমালোচনাকারী অনেক সাচ্চা মুসলমান দেশ আজকেও দিনেও তাদের দেশের বিধর্মীদের দেয় না।

              গুরুর শিক্ষায় শিষ্যেরা শিক্ষিত হবে এটাই তো স্বাভাবিক। এর ব্যতয় হলেই আশ্চয্য হবার কারন হতো।

              যাক, আমার মনে হয় এটা নবী মোহাম্মদ/আলী ভালই জানতেন যে তাদের টার্গেট শুধুই মোহাম্মদ, আর ঘাতক দল টার্গেট নিশ্চিত হয়েই হত্যাকান্ড ঘটাবে। আলীর ওপর তাদের সে পরিমান ক্ষোভ নেই, কাজেই তিনি নিরাপদ এটা জেনে শুনেই তারা এ কাজ করেছিলেন।

              আলীকে এমন বিপদজনক অবস্থায় “চাদর মুড়ি দিয়ে’ মৃত্যূর মুখে ফেলে ‘মুহাম্মদের পলায়ন পর্ব’ সত্য হলে সেটা মুহাম্মদের জন্য অগৌরবের।

              Until you rid us of him we will fight the pair of you until one side perishes

              – এটা তো মারামারির হুমকি ছাড়া আর কিছুই নেই, যে মারামারি এক পক্ষ শেষ না হওয়া পর্যন্ত থামবে না, ডু অর ডাই।

              একমত নই। কারন এ ঘটনা পুরোনো। এর পর ‘আবু-তালিবের’ পরিবারের উপর “বয়কোট” (কম পক্ষে দুই বছর) এবং খাদিজ / আবু-তালিবের মৃত্যর পর থেকে হিজরতের পূর্ব পর্য্যন্ত আরো ৩ বছর।
              মুহাম্মাদকে “হত্যা” করার পরিকল্পনা থাকলে তারা তা অনেক আগেই করতে পারতো। আবিসিনিয়া থেকে প্রত্যাগত মুস্লামানেরা এবং মদিনা থেকে ফিরে আসা কিছু মুস্লামানেরাও বহাল তাবিয়তে মক্কায় তাদের আত্মীয়-স্ব্জনের কাছে ছিল। মুসলমানদের প্রতি যে ‘Hostility” এর ঘটনা ফলাও করে প্রচার করা হয় সেগুলো “পারিবারিক ” এবং ‘মালিক -দাস’ সম্পর্কিত ঘটনা।যেমন “ছেলে’ মুস্লমান হয়েছে কিন্তু পরিবারের অন্যান্য সদস্য তা পছন্দ করে নাই (মুহাম্মাদ তাদের দেব-দেবী /পূর্ব পূরুষদের অবমাননা এবং “divide and rule (মুস্লীম vs অমুস্লীম) নীতির কারনে। তারা চাইতো তাদের ‘বিপদ-গামী’ সন্তান তাদের কাছে ফিরে আসুক, সে চেষ্টায় তারা করতো বিভিন্ন ভাবে। একইভাবে কৃত ‘দাস-দাসী’রা মুস্লমান হয়েছে তাদের মালিকের “অবাধ্য” হয়ে। মালিক তখন কি করবে? এ ঘটনা গুলোকেই “মুস্লমানদের প্রতি কাফেরদের জঘন্য রুপ অত্যাচারের কাহিনী” হয়ে ইতিহাসের “বিজিত দল” ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে প্রচার করেছে। উদ্দেশ্য পরিষ্কারঃ সেটা প্রতিষ্ঠা না করলে তো মক্কাবাসীদের প্রতি ‘মুহাম্মাদ’ আগ্রাসী কর্ম-কান্ডের’ কোন বৈধতা পায় না

              • আদিল মাহমুদ মে 25, 2011 at 8:37 অপরাহ্ন - Reply

                @গোলাপ,

                আগেও লক্ষ্য করেছি যে আপনার ইসলামের ইতিহাসের জ্ঞান বেশ টনটনে। আমি ইতিহাস জানায় অনেক পেছনে, শুধু নিজের জাজমেন্ট প্রয়োগ করতে পারি সীমিত জ্ঞানের ওপরে।

                আমি আবু রাফির কথাই আগে উল্লেখ করেছিলাম, আবু মনে ছিল কারন ঘাতক দল সেই নামে তাকে ডাকাডাকি করছিল। হত্যাকান্ডের প্যাটার্নে মিল আছে।

                নবী মোহাম্মদ কোন না কোন ভাবে সে রাতে পালিয়েছিলেন (আপনাদের মতে স্বেচ্ছায় গম) তাতে আমার তেমন সন্দেহ নেই। ছাদ ফুটো করে, খিড়কী দরজা দিয়ে, নাকি সুড়ংগ কেটে তা বলতে পারবো না। পরে প্রমান হয়েছে যে তার মিলিটারী স্কিল ভালই ছিল। ছাদ ফুটো করার সম্ভাবনা এ জন্যই মনে এসেছিল যে হযরত উসমানের খুনীরা এভাবেই তার ঘরে প্রবেশ করেছিল।

                এই ঘটনার বর্ননা ইশাকে বেশ বড় সড় করে আছে, হতে পারে তাতে বেশ কিছু রূপকথা জাতীয় অংশ আছে যার আমার ব্যাখ্যা আগেই দিয়েছি। কোরায়েশদের প্ল্যান নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা আছে। এসবই মিথ্যা হজম করা বেশ শক্ত।

                মুসলমান ও নবীর ওপর অত্যাচারের কিছু বর্ননা হয়ত বানোয়াট বা রংচং চড়ানো, তবে অত্যাচার যে ভালই হয়েছে তার বহু তথ্য প্রমানই আছে। তাকে প্রটেকশন দেবার দায়ে বানু মুত্তালিব আর বানি হাশিম এই দুই গোত্রকে এক ঘরে করা হয়, এমনকি তাদের মেয়েদেরও কেউ বিয়ে করতে পারবে না এমন ফর্মানও জারী হয়েছিল। আবু জাহেল এমনকি একবার বানু হাশিম গোত্রের খাদ্যবাদী উট আটকে রেখেছিল। এই নিষেধাজ্ঞা অবশ্য পরে তুলে নেওয়া হয়। দাস শ্রেনীর মুসলমানদের নানান শারীরিক শাস্তি দেওয়া হত, উচ্চ শ্রেনীর মুসলমানদের শারীরিকভাবে পারা যেত না, তবে সামাজিক ভাবে বয়কট করা হত, বানিজ্যিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ করা হত। আপনার আরো ভাল জানা থাকার কথা, এসবই মিথ্যা বানোয়াট তা হতে পারে না।

                এমনও নয় যে মুসলমানদের মধ্যে কেবল উনিই প্রথম সে রাতে পলায়ন করেন। তার আগেই একদলকে কোরায়েশদের অত্যাচার বেড়ে যাবার কারনে আবিসিনীয়ায় হিজরত করতে হয়। শুধু তাইই নয়, তাদের আবার কোরাইশদের হাতে তুলে দিতে কোরাইশরা ঘুষ সহ দুজন দূতও পাঠায় আবিসিনীয়ার রাজার কাছে যা সেই রাজা প্রত্যাখান করেন। তারা নিশ্চয়ই স্বেচ্ছায় নিজ দেশ ছেড়ে আবিসিনীয়ায় পালায়নি, নিজের দেশ ছেড়ে স্বেচ্ছায় কে পালিয়ে অপররে দেশে আশ্রিত হতে চায়? যদি না ইয়াহিয়া খানের মত তত্ত্বে বিশ্বাস করেন। তাদের ফেরত নিতে যাওয়া দূতের সাথেই বা তারা কেন আসেনি?

                নবীর মদীনা গমনের আগেই বেশীরভাগ মক্কার মুসলমানই মদীনা চলে গেছিল।

                কাফেরদের অত্যাচার নিপীড়ন আগে সরাসরি প্রাননাশী হয়নি মূলত নবীজির চাচা আবু তালেবের প্রটেকশনের কারনে। তাঁর ও বিবি খাদিজার একই বছরে মৃত্যুর পর পরই ঘটনা দ্রুত আরো খারাপের দিকে মোড় নিতে থাকে। নবী নিজেও সেটা একবার তার মাথায় ধুলো ঢেলে দেবার পর বলছিলেন; তারা চাচা জীবিত থাকতে কেউ এমন করার সাহস করেনি। তাকে হত্যা করতে চাইলে আরো আগে অবশ্যই করতে পারতো। কিন্তু আগেই বলেছি যে কোরাইশরা একেবারে রক্তলোলুপ ছিল না। তারা তাকে নানান অলটারনেটিভ দিয়েছে, তিনি সেসবে রাজী না হওয়াতেই চরম ব্যাবস্থা নিয়েছে। আর তার চাচা আবু তালিবকে তারা বেশ মানতো, বানু হাশিম, ও বানু মুত্তালিক গোত্রও তাকে প্রটেকশন দিয়েছিল।

                কোরায়েশরা তাকে পাগল ছাগল নয়, রাজনৈতিক হুমকি হিসেবেই চিহ্নিত করেছিল। তাকে হত্যার পরিকল্পনার বৈঠকে একটি প্রস্তাবনা ছিল তাকে ধরে বেধে দূর মরুভূমির মাঝে ফেলে আসা। এ পরিকল্পনা বাদ পড়ে যায় এ ভয়ে যে তার অপূর্ব কথা বলার ও মানুষকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা এতই ভাল যে মরুভূমির অসভ্য বেদূউইনরাও তার কথায় মজে গিয়ে তার অধীনে মক্কা আক্রমন করতে পারে। কাউকে হাস্যকর ধরনের পাগল মনে করলে (ভবঘুরে যেমন মনে করেন) এ ধরনের চিন্তা কারো মাথায় আসে?

                Until you rid us of him we will fight the pair of you until one side perishes

                এ কথায় আপনি একমত নন কেন বুঝতে পারলাম না। হতে পারে এটা আরো আগের ঘটনা। আমার বক্তব্য এই না যে এটা মদীনায় হিজরতের সময়ের ঘটনা। আমার বক্তব্য এই যে মক্কাবাসীদের হাতে তার জীবন সংশয়ের কোন পোটেনশিয়াল আদৌ ছিল কিনা তা বিবেচনা করা। এই বক্তব্যে দেখা যায় যে সেই আশংকা অবশ্যই ছিল। এবং আরো দেখা যায় যে এই আশংকা এমনকি মদীনায় হিজরতের আরো আগ থেকেই ছিল। কাজেই মদীনায় হিজরতের রাতের ঘটনা একেবারে অপ্রত্যাশীত বা অভাবনীয় কিছু না। যে কোন হত্যা মামলাতেই বিবাদী পক্ষ আগে হত্যার হুমকি দিলে সেটাকে খুবই গুরুত্বপূর্ন পয়েন্ট হিসেবেই ধরা হয়।

                গুরুর শিক্ষায় শিষ্যেরা শিক্ষিত হবে এটাই তো স্বাভাবিক। এর ব্যতয় হলেই আশ্চয্য হবার কারন হতো।

                – বর্তমান আরব বা মধ্যপ্রাচ্যীয় দেশগুলির জন্য এ কথা সত্য। তবে সাথে এটাও না বললে অন্যায় হয় যে মক্কা বিজয়ের পরে নবী মোহাম্মদ অন্য ধর্মের লোকদের মোটামুটি তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। বর্তমান আরবের লোকেরা এক্ষেত্রে সরাসরিই তাদেরই নবীর বিরোধীতা করে।

                • ভবঘুরে মে 25, 2011 at 11:53 অপরাহ্ন - Reply

                  @আদিল মাহমুদ,
                  ভাই কয়দিন ভীষণ ব্যাস্ত ছিলাম, তাই কোন উত্তর দিতে পারিনি।
                  পাগলকে কেউ প্রতিদ্বন্বী মনে করে না- তাই মোহাম্মদকে হত্যা করার কিচ্ছা সব বানান ও মোহাম্মদকে ফুলিয়ে ফাপিয়ে তুলে ধরার প্রচেষ্টামাত্র যা ইতোমধ্যে গোলাপ ব্যখ্যা দিয়ে আমার কষ্টটা লাঘব করেছেন। এছাড়া কুরাইশদের প্রতি মুসলমানদেরকে ক্ষেপিয়ে তোলার একটা অপকৌশল ও বটে। আশা করি এতক্ষনে বিষয়টা পরিস্কার হয়েছে।

                • গোলাপ মে 26, 2011 at 2:57 অপরাহ্ন - Reply

                  @আদিল মাহমুদ,
                  বুঝতে পারছি আপনি ‘ইবনে ইশাক’ পড়েছেন বা পড়ছেন। মুহাম্মাদের ১ম জীবনী গ্রন্থ, মুহাম্মাদের মৃত্যুর ১২০ বছর পরে লিখা। এর আগের বিশেষ কোন লিখা আমাদের হাতে নেই, তাই মুহাম্মাদকে জানতে হলে এ বইয়ের কোন বিকল্প নেই। ইবনে ইশাক প্রচন্ড ধর্ম ভীরু ও নিবেদিত প্রান মুসলীম, এবং এ বইটি লিখার পূর্বে ১২০ বছর এবং পরে প্রায় এক হাজার বছরের বেশী মুসলীম রাজত্ব, মুহাম্মাদের বিরুদ্ধে কোন কিছু বলা বা লিখার একমাত্র শাস্তি “মৃত্যু দন্ড” যা তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছেন, এখনো তা চালু আছে বহাল তাবিয়তে ! এ পরিস্থিতিতে “ইবনে ইশাক” কিভাবে কোন মানুষের কাছ থেকে নিরপেক্ষ তথ্য পাবেন , এবং কিভাবেই তিনি তা লিখবেন। কার ঘারে দুটো মাথা আছে রে ভাই! কিন্তু এই সবেধন ‘নীলমনি’ ছাড়া তো মুহাম্মাদকে জানার আমাদের কোন উপায় নাই। এর পরেও তিনি যা লিখেছেন, সেখান থেকেই আমরা আলোচনা করছি। আপনি খেয়াল করেছেন কিনা জানিনা, বইটির ৬৯১ পৃষ্ঠায় ইবনে হিশামের “IBNE HISHAM’S NOTES” শিরনামে তিনি লিখেছেনঃ

                  ” God willing I shall begin this book with Ismail son of Ibrahim and mention those ——-, confining myself to prophet’s biography and omitting some of the things which I.I (Ibne Ishaq) has recorded in his book —–; things which it is disgraceful to discuss, matters which would distress certain people; and such —“.

                  বুঝতেই পারছেন আমরা মুহাম্মদের কোন “জীবনী- গ্রন্থের” কথা আলোচনা করছি।যেখানে লেখক নিজেই সততার সাথে স্বীকার করেছেন, ‘ things which it is disgraceful to discuss, matters which would distress certain people”।

                  কোরায়েশদের প্ল্যান নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা আছে। এসবই মিথ্যা হজম করা বেশ শক্ত।

                  একটু খেয়াল করে দেখুন সেই আলোচনায় “শয়তান” এসে হাজির হয়েছে ( -“the devil came to them in the form of handsome old men clad in a mantle and stood at the door of the house. –” পৃঃ ২২১) . আপনি কি শয়তানের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন?

                  মুসলমান ও নবীর ওপর অত্যাচারের কিছু বর্ননা হয়ত বানোয়াট বা রংচং চড়ানো, তবে অত্যাচার যে ভালই হয়েছে তার বহু তথ্য প্রমানই আছে।

                  How the apostle was treated by his own people:

                  Yahya bin ‘Urwa b Al Zubayr on the authority of his father from Abdullah bin Amr b Al- As told me that the later was asked what was the worst way in which Quraysh showed their enmity to the apostle. He replied: “I was with them one day when the notables had gathered in the Hijr and the apostle was mentioned. They said that they had never known anything like the trouble they had endured from this fellow; he had declared their mode of life foolish , insulted their forefathers, reviled their religion, divided the community, and cursed their gods. What they had borne was past all bearing or words to that effect.”

                  While they were thus discussing him the apostle came towards them and kissed the black stone, then he passed them as he walked round the temple. As he passed they aid some injurious thing about him. This I could see from his expression. He went on and as he passed them the second time they attacked him similarly. This I cold see him from his expression. Then he passed at the 3rd time, and they did the same. He stopped and said, “ will you listen to me O Quraysh? By Him who holds my life in His hand ‘ I bring you slaughter’. This word so struck the people that not one of them but stood silent and still; even one who had hitherto most violent spoke to him in the kindest way possible, saying, “ Depart, O Abul Qasim, for by God you are not violent.” So the apostle went away, and on the morrow they assembled in the Hijr, I being there too, and they asked one another if they remembered what had taken place between them and the apostle so that when he openly said something unpleasant they let him alone. While they were talking thus the apostle appeared, and they leaped upon him as one man and encircled him saying, “Are you the one who said so-and so against our Gods and our religion?” The apostle said, ‘yes, I am the one who said that” And I saw one of them seize his rob. Then Abu Bakr interposed himself weeping and saying, “Would you kill a man for saying Allah is my Lord? “ Then the left him. That is the worst that I ever saw Quraysh do to him.

                  ( Ibne Ishaq- page 130-131)

                  দাস শ্রেনীর মুসলমানদের নানান শারীরিক শাস্তি দেওয়া হত, উচ্চ শ্রেনীর মুসলমানদের শারীরিকভাবে পারা যেত না, তবে সামাজিক ভাবে বয়কট করা হত, বানিজ্যিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ করা হত।

                  সেটাতো আমি বলেছিই। সবগুলো ঘটনায় ছিল ‘পরিবার’ ভিত্তিক অথবা ‘মালিক-দাস’ সম্বন্ধীয়। একটা বিষয় মনে রাখা দরকার, তৎকালীন মক্কাবাসীদের কাছে ‘ধর্মান্ত্ররিত’ হয়ে অন্য কোন “গডে” বিশ্বাস স্থাপন ছিল খুবই মামুলী বিষয়। তারা মুহাম্মাদ ও তার অনুসারীদের উপর রুষ্ঠ ছিল তাদের ব্যবহারের কারনে, যারা তাদের কথা ও কাজে কুরাইশদের “ধর্ম -দেবতা ও পূর্ব-পূরুষদের” অপমান করতো, তাচ্ছিল্য করতো। এর পরও তারা মুহাম্মাদ ও তার অনুসারীদের সহ্য করেছে ১৩ বছর। আর এখন কি অবস্থা! “মক্কা শরীফ” নয়, যে কোন মুসলীম সামাজিক অনুষ্ঠানে ইস্লামের/মুহাম্মদের বিপক্ষে কোন কথা বললে আপনাকে উপস্থিত জনতা কিভাবে তাড়া করে তা স্বচক্ষে দেখতে পারবেন; আর যদি কোন মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে তা বলার চেষ্টা করেন তবে “জান” নিয়ে ফিরে আসতে পারবেন কিনা তাতে যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে। Terry Jones কুরান পোড়ালো আমেরিকায় আর আফগানিস্থানে খুন হলো “নিরীহ ” ২০ জন মানুষ। এটা মুহাম্মদের শিক্ষা – তার জীবনী পড়লেই যে কেহ তা বুঝতে পারবে।

                  এমনও নয় যে মুসলমানদের মধ্যে কেবল উনিই প্রথম সে রাতে পলায়ন করেন। তার আগেই একদলকে কোরায়েশদের অত্যাচার বেড়ে যাবার কারনে আবিসিনীয়ায় হিজরত করতে হয়।

                  এ তথ্য সত্য নয় তা আগেই বলেছি। “নব্য মুসলামনেরা” পারিবারিক ও সামাজিক চাপে (মুহাম্মাদ-সাগরেদদের সংগত কারনেই কেউ পছন্দ করতো না) অনেকেই আবার তাদের পূর্ব পুরুষের ধর্মে ফিরে যাচ্ছিল। সেটা ঠেকাতেই মুহাম্মাদ তদেরকে আবিসিনিয়া ও মদীনায় পাঠিয়েছিল।

                  তাদের আবার কোরাইশদের হাতে তুলে দিতে কোরাইশরা ঘুষ সহ দুজন দূতও পাঠায় আবিসিনীয়ার রাজার কাছে যা সেই রাজা প্রত্যাখান করেন।

                  আপনার কি মনে হয় তাদের ধরে নিয়ে এসে “শাস্তি” দেওয়ার জন্যে কুরাইশরা দূত পাঠিয়েছিল ? আপনিই না বললেন “কুরাইশদের” এত হিংস্র মনে হয় নাই। তবে কারনটা কি ছিল বলে আপনার মনে হয়? এই কারনটা
                  জানার জন্য ‘কুরাইশদের’ বংশ ইতিহাস জানা জরুরী। ‘কুরাইশরা’ জাতিগত ভাবে ‘ধর্মীয় সহনশীলতার’ এক দৃষ্টান্ত, মুহাম্মদের জন্মের বহূ আগে থেকেই, বংশ পরষ্পরায়। মুহাম্মদের জন্মের ৫ পুরুষ আগে, মুহাম্মাদের দাদার (আবদ -আল মুত্তালিব) দাদা (আবেদ মানাফ) এর পিতা কুছে বিন কিলাব (Qusayy bin Kilab), ক্বাবা-শরীফে আগত (Pilgrims) বিভিন্ন জাতী ও ‘ বিভিন্ন ধর্ম বিশ্বাসী’ লোকদের সুবিধার্থে “রিফাদা” ( an obligatory tax which Quraysh used to pay from their property to Qusayy at every festival. With it he used to provide food for the pilgrims who were unable to afford their provisions) প্রতিষ্ঠা করেন। ক্বাবার “Assembly hall” তারই নির্মিত। এরুপ এক জাতীর কিছু লোক (নব্য মুসল্মান) তাদেরকে ধর্মীয় সহিংসতার অপবাদ দিয়ে ‘অন্য’ দেশে (আবিসিনিয়া) আশ্রয় নিল এ বিষয়টাকে তারা অপমানিত বোধ করেছিল (কিন্তু মুসলমান্দের সে বোধ ছিল না!)। তাই তারা দুত পাঠিয়েছিল তদেরকে ফিরিয়ে আনার জন্য। এটা আমার মনগড়া ‘যুক্তি’ নয়। তার প্রমান , মুসলামানেরা যখন আবিসিনিয়া থেকে স্বেচ্ছায় ফিরে এলো, ৮২ জনের মধ্যে ৩৩ জন, (I. Ishaq: page 167) মক্কা-বাসীরাই তাদের হেফাজত করেছিল। একটাও সহিংস ঘটনার দৃষ্টান্ত নাই। Not a single one.

                  তারা নিশ্চয়ই স্বেচ্ছায় নিজ দেশ ছেড়ে আবিসিনীয়ায় পালায়নি, নিজের দেশ ছেড়ে স্বেচ্ছায় কে পালিয়ে অপররে দেশে আশ্রিত হতে চায়?

                  তারা গিয়েছিল নবীর নির্দেশে। নবীর নির্দেশ মানা প্রতিটি মুসল্মানের অবশ্য কর্তব্য। এটা মুহাম্মদের “১ম শিক্ষা” – আল্লাহ ও তার রসুলের নির্দেশ বাধ্যতামুলক। আবিসিনিয়া হিজরত কারীদের মধ্যে, জাফর ইবনে আবু তালিব (আলীর ভাই) ও ছিল। সে কি অত্যাচারীত হয়ে আবিসিনিয়া গিয়েছিল?

                  নবীর মদীনা গমনের আগেই বেশীরভাগ মক্কার মুসলমানই মদীনা চলে গেছিল।

                  আমিতো সেটাই বলছি। আপদ বিদায়ে কেনা খুশী হয়। ১৩ বছর সহ্য করেছে তারা, আর কত!

                  কোরায়েশরা তাকে পাগল ছাগল নয়, রাজনৈতিক হুমকি হিসেবেই চিহ্নিত করেছিল। এ পরিকল্পনা বাদ পড়ে যায় এ ভয়ে যে তার অপূর্ব কথা বলার ও মানুষকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা এতই ভাল যে মরুভূমির অসভ্য বেদূউইনরাও তার কথায় মজে গিয়ে তার অধীনে মক্কা আক্রমন করতে পারে।কাউকে হাস্যকর ধরনের পাগল মনে করলে (ভবঘুরে যেমন মনে করেন) এ ধরনের চিন্তা কারো মাথায় আসে?

                  হাসালেন ভাই। ১৩ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের অর্জন সমাজের নিম্নশ্রেনীর সর্বমোট ১০০ জন মানুষ। তারা কিভাবে স্ংগবদ্ধ কুরাইশকুলের জন্য (মক্কাবশীর) রাজনৈতিক হুমকী হয়?

                  বর্তমান আরব বা মধ্যপ্রাচ্যীয় দেশগুলির জন্য এ কথা সত্য। তবে সাথে এটাও না বললে অন্যায় হয় যে মক্কা বিজয়ের পরে নবী মোহাম্মদ অন্য ধর্মের লোকদের মোটামুটি তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছিলেন

                  মুহাম্মাদ সে স্বাধীনতা তাদের দিয়েছিল মাত্র ৩-৪ মাসের জন্য। সেই বিখ্যাত আয়াত (সুরা তওবা ৯ঃ৫) এখানেই অবতীর্ন হয়।

                  009.005
                  YUSUFALI: But when the forbidden months are past, then fight and slay the Pagans wherever ye find them, an seize them, beleaguer them, and lie in wait for them in every stratagem (of war); but if they repent, and establish regular prayers and practise regular charity, then open the way for them: for Allah is Oft-forgiving, Most Merciful.

                  আমি এখানেই এ আলোচনার ইতি টানছি।

                  ভাল থাকুন।

          • আকাশ মালিক মে 25, 2011 at 8:13 অপরাহ্ন - Reply

            @গোলাপ,

            ওয়ান্ডারফুল বিশ্লেষণ- :clap :clap :clap

            এবার অতিসত্বর (এই বিষয়ের উপর) একটা লেখা মুক্তমনায় ছাড়ুন। অনুরুধ করছি আমার নিজের ভুল সংশোধনের প্রয়োজনেই।

            • গোলাপ মে 26, 2011 at 10:37 পূর্বাহ্ন - Reply

              মালিক ভাই,
              আপনি আমার শ্রদ্ধেয় এবং খুবই পছন্দের একজন লেখক। অনেক ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যটির জন্য। লিখালিখিতে অভ্যস্ত নই। আপনাদের অনুপ্রেরনায় মনে হচ্ছে তা শুরু করা দরকার। প্রফেশানাল কাজে খুব ব্যস্ত থাকতে হয়। একটু সময় লাগবে।

      • তামান্না ঝুমু মে 24, 2011 at 8:11 পূর্বাহ্ন - Reply

        @ভবঘুরে,

        আপনার বক্তব্য বা ইসহাকের বইয়েই নিহিত যে তাকে হত্যা করার কিচ্ছা বানোয়াট কারন কোন পাগলকে কেউ কোনদিন প্রতিদ্বন্দ্বী গণ্য করে হত্যা করতে চাইবে তা কোনমতেই যুক্তিযুক্ত নয়। এমন কথা কেউ কোনদিন শুনেছে বলেও মনে হয় না।

        মোহাম্মদকে মক্কার কতিপয় মানুষ হত্যা করতে চেয়েছিল বলেইতো মোহাম্মদ প্রাণ ভয়ে রাতের আঁধারে মক্কা থেকে মদিনায় হিযরত করেছিল।এবং চালাকি করে তার বন্ধু আল্লার হাতে “নবী হত্যা মহাপাপ” জাতিয় কিছু আয়াত নাজিল করিয়ে নিয়েছিল ।তার এ পলায়নকে(হিযরত) মাওলানারা গৌরবের সাথে বয়ান করে থাকে। সে যদি সত্যি সত্যি নবি হত এবং তার সৃষ্ট আল্লাহ যদি তার বন্ধু হত তাহলে তাকে চোরের মত পালাতে হয়েছিল কেন?

        • আদিল মাহমুদ মে 24, 2011 at 5:54 অপরাহ্ন - Reply

          @তামান্না ঝুমু,

          সেটা বলা যেতে পারে, এমন মূল্যায়ন হতেই পারে, যৌক্তিক।

          তবে এখানে বিবেচ্য হল যে ভবঘুরে সাহেব দাবী করছেন যে তাকে আদৌ হত্যারই কোন ষড়যন্ত্র বা চেষ্টা করা হয়নি।

  12. akas মে 22, 2011 at 10:53 অপরাহ্ন - Reply

    @ভবঘুরে, বলছিলাম মাথার উপর এই বিশাল আকাশ কিভাবে দাড়িঁয়ে আছে……?

    • ভবঘুরে মে 23, 2011 at 1:22 পূর্বাহ্ন - Reply

      @akas,

      বুঝলাম না , আকাশ কি কোন কঠিন পদার্থ নাকি ?

      • রাজেশ জানুয়ারী 22, 2016 at 10:29 অপরাহ্ন - Reply

        @ ভবঘুরে

        যে হালকা নীল রঙের ব্যাপ্তি কে আমরা আাকাশ বলে ভাবি তা আসলে আলোক বিক্ষেপণের ফলাফল(অন্তত মাধ্যমিকের পদার্থবিদ্যা তাই বলে)। কিন্তু পৃথিবী কঠিন বস্ত হয়েও কোন অবলম্বনে এটি অবস্থান করে? একজন সংশয়বাদী হিসেবে নিছক জানার আগ্রহ থেকে প্রশ্নটা করা। জানালে উপকৃত হব।

  13. akas মে 22, 2011 at 7:20 অপরাহ্ন - Reply

    ভবঘুরে সাহেব, একটা ৫ফিট বাই ৫ফিট ছাদ তৈরী করে শূন্যের উপর রাখুন ।যদি রাখতে পারেন তাহলে আপনার যুক্তি হয়ত ঠীক ।

    • ভবঘুরে মে 22, 2011 at 10:02 অপরাহ্ন - Reply

      @akas,

      ভবঘুরে সাহেব, একটা ৫ফিট বাই ৫ফিট ছাদ তৈরী করে শূন্যের উপর রাখুন ।যদি রাখতে পারেন তাহলে আপনার যুক্তি হয়ত ঠীক ।

      এটার অর্থ বুঝা গেল না । একটু পরিস্কার করবেন ?

  14. বাদল চৌধুরী মে 19, 2011 at 12:31 অপরাহ্ন - Reply

    মিরাজের ঘ্টনাকে আপনি যেভাবে ব্যাখ্যা করলেন তাতে ইসলামী বিশেষজ্ঞরা নতুন করে বিপদে পড়ে গেল বলে মনে হচ্ছে। নিশ্চিত, গোজামিল দেয়ার জন্য তাদের আবার নতুন করে ভাবতে হবে।

    অসংখ্য ধন্যবাদ।

    • ভবঘুরে মে 21, 2011 at 3:26 অপরাহ্ন - Reply

      @বাদল চৌধুরী,

      আমি তো অপেক্ষাতে আছি দেখি কি নতুন ব্যখ্যা প্রকাশিত হয়। তবে শ্রেষ্ট ব্যখ্যা হলো- আল্লাহ যা ইচ্ছা তা করেন। সুতরাং নবীজি যা বলেছেন বা করেছেন তা সবই আল্লাহর ইচ্ছা এর কোন বাস্তব ব্যাখ্যা নেই। বাস্তবিক ব্যাখ্যা দিয়ে মোহাম্মদ ও কোরানের সব ব্যখ্যা পাওয়া যাবে না।

  15. জনৈক রাকিব মে 18, 2011 at 9:21 অপরাহ্ন - Reply

    ইবনে কাথিরের বর্ননা মতে- মোহাম্মদ সেই বোরাকের পিঠে চড়ে বায়তুল মোকাদ্দাসে (মসজিদুল আকসা) যান, তার গেটে বোরাককে বাধেন,যেমন করে মানুষ ঘোড়া বাঁধত আগের দিনে

    একটা জিনিশ মাথায় ডুকলো না।বোরাক কে বাঁধার কি দরকার চিল।বোরাক কি অন্য কেউ হাইজাক করে নিয়ে যাওয়ার ভয় ছিল নাকি নিজেই কোথাও চলে জেত?বোরাক তো সেচ্চায় এসেছিলো।

    • নিটোল মে 19, 2011 at 8:57 অপরাহ্ন - Reply

      @জনৈক রাকিব,

      একটা জিনিশ মাথায় ডুকলো না।বোরাক কে বাঁধার কি দরকার চিল।বোরাক কি অন্য কেউ হাইজাক করে নিয়ে যাওয়ার ভয় ছিল নাকি নিজেই কোথাও চলে জেত?বোরাক তো সেচ্চায় এসেছিলো।

      বোরাক তো স্বর্গীয় জীব। তাই তার পৃথিবীর রাস্তাঘাট তেমন একটা না চেনারই কথা। আবার যদি হারিয়ে যেত? তাহলে আরেকটা বোরাক অর্ডার দিয়ে আনতে টাইম লাগত না??

      • ভবঘুরে মে 21, 2011 at 3:28 অপরাহ্ন - Reply

        @নিটোল,
        আল্লাহর ইচ্ছাতে সবকিছু হতে পারে, একটা কেন হাজারটা বোরাকও হাজির হতে পারত।

      • জনৈক রাকিব মে 21, 2011 at 8:55 অপরাহ্ন - Reply

        @নিটোল,
        অবশ্য তাতেও খুব একটা সমস্যা হতনা,বোরাক এর গতি বলে কথা।

        • জনার্দন আচার্য নভেম্বর 6, 2017 at 11:11 অপরাহ্ন - Reply

          দেরি হলে উম্মে হানির সময় নষ্ট হতো।

      • জনার্দন আচার্য নভেম্বর 6, 2017 at 11:09 অপরাহ্ন - Reply

        হক কতা কইছেন।

    • জনার্দন আচার্য নভেম্বর 6, 2017 at 11:07 অপরাহ্ন - Reply

      প্রশ্নটা খুবই যুক্তি পূর্ণ।

  16. লাইট ম্যান মে 18, 2011 at 9:12 অপরাহ্ন - Reply

    এক রাতে মোহাম্মদ তার সাহাবীদের নিয়ে কাবা শরীফে অবস্থান করছিলেন।গভীর রাতে তিনি চুপি চুপি উঠে উম হানি( তার চাচাত বোন) এর বাড়ী হাজির হন

    ধরে নিতে বিশ্বাসের অভাব দেখা দিলেও ধরে নিলাম স্বামীর অবর্তমানে নিভৃত গৃহে উমে হানির সন্মান হানীর মত অনৈতিক কোন কাজে নবিজীর হাত পড়েনি তবে তিনি মেরাজে গিয়েছিলেন। তাহলে তাঁর মেরাজ গমনের এক মাত্র সাক্ষ্যি উমে হানি। কারন মেরাজের আগে হোক বা পরে হোক নবিজী সেখানে ছিলেন এটা প্রমানিত।
    আবার আল্লাহর মতে -দু’জন নারীর সাক্ষ্যি=এক জন পুরুষের সাক্ষ্যি। সাক্ষ্য প্রমানে এমন দূর্বল্য কিন্তু বিশ্বাসে প্রাবল্য- থাকার এক কূট পরীক্ষা জনিত রহস্য সৃষ্টি করতেই যেন আল্লাহর এই মহান প্রয়াস।

    সত্যিই আল্লাহর লীলা বুঝা বড় দায়!

    অপেক্ষায় রইলাম ৩য় পর্বের।

    • ভবঘুরে মে 19, 2011 at 9:38 পূর্বাহ্ন - Reply

      @লাইট ম্যান,

      আবার আল্লাহর মতে -দু’জন নারীর সাক্ষ্যি=এক জন পুরুষের সাক্ষ্যি। সাক্ষ্য প্রমানে এমন দূর্বল্য কিন্তু বিশ্বাসে প্রাবল্য- থাকার এক কূট পরীক্ষা জনিত রহস্য সৃষ্টি করতেই যেন আল্লাহর এই মহান প্রয়াস।

      দারুন একটা পয়েন্ট উল্লেখ করেছেন তো। আমারও মাথায় বিষয়টা আসে নি। এখানেও দেখা যাচ্ছে মোহাম্মদ ইসলামের মূল নীতির সাথে সাংঘর্ষিক কথা বলছেন। কোরানে আল্লাহ বলছে-সমাজে নারীদের সাক্ষী হলো পুরুষের অর্ধেক-এর সমান, তাহলে তার মিরাজের সাক্ষী মাত্র একজন মহিলা থাকলে সেটা পূর্ন সাক্ষী হলো না, তথা খারিজ হয়ে যায়। যার অর্থ- মোহাম্মদের নিজ রচিত বিধান দ্বারাই তার মিরাজ যে মিথ্যা ও গাজাখুরী তা প্রমানিত হয়ে যায়।

      • জনার্দন আচার্য নভেম্বর 6, 2017 at 11:20 অপরাহ্ন - Reply

        নবীর মেরাজের রাত, মধুর রাত।
        তাই উম্মে হানি একই যথেষ্ট। দাদারা কেবল পয়েন্ট বাইর করেন ক্যান।
        মুমিন গোরে আর গুতা দিয়েন না। তাইলে কিন্তুক চাপাতি লইয়া বাইর হইবো।

  17. শ্রাবণ আকাশ মে 18, 2011 at 8:48 অপরাহ্ন - Reply

    ভাবছি হিন্দুদের গাজাখুঁড়ি গল্পের মত এসব যখন ধীরে ধীরে গাজাখুঁড়ি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হবে তখন মোমিনদের অবস্থা কেমন হবে!

    • ভবঘুরে মে 19, 2011 at 9:34 পূর্বাহ্ন - Reply

      @শ্রাবণ আকাশ,

      ভাবছি হিন্দুদের গাজাখুঁড়ি গল্পের মত এসব যখন ধীরে ধীরে গাজাখুঁড়ি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হবে তখন মোমিনদের অবস্থা কেমন হবে!

      বর্তমানে হিন্দুদের যে অবস্থা সেরকম হবে।

      • হৃদয়াকাশ মে 20, 2011 at 1:04 অপরাহ্ন - Reply

        @ভবঘুরে,
        বর্তমানে হিন্দুদের অবস্থা কিন্তু মুসলানদের চেয়ে ভালো। (Y)

        • জনার্দন আচার্য নভেম্বর 6, 2017 at 11:33 অপরাহ্ন - Reply

          দাদা হিন্দুরা এখন আর ধর্ম মানেনা।

      • SHEIKH মে 21, 2011 at 1:51 পূর্বাহ্ন - Reply

        @ভবঘুরে,
        তখন বলা হবে, ধর্মও সময়ের সাথে পরিবর্তন হয়।এখন দাসী প্রথা নিয়ে তাইই বলতে শোনা যায়।

        • ভবঘুরে মে 21, 2011 at 3:31 অপরাহ্ন - Reply

          @SHEIKH,

          ইসলামে এসব চলবে না। স্বয়ং নবী বলেছেন তার শিক্ষা ও আদর্শ সর্বকালীন। তাই ইসলামের একটাই পরিনতি- হয় সমূলে ধ্বংস হবে অথবা গোটা দুনিয়া ইসলামি হবে। মাঝা মাঝি কোন অবস্থান নেই।

          • জনার্দন আচার্য নভেম্বর 6, 2017 at 11:31 অপরাহ্ন - Reply

            আছে মধ্য পন্থা (সুবিধাবাদী )। দাদা ছোট মুখে বড়ো কথা।

      • জনার্দন আচার্য নভেম্বর 6, 2017 at 11:27 অপরাহ্ন - Reply

        এককে বারেই না। মুমিনগো ঈমান মুজবুত। আর লাগে আছে চাপাতি। চিন্তা কইরেননা ।

    • জনার্দন আচার্য নভেম্বর 6, 2017 at 11:23 অপরাহ্ন - Reply

      কিছু হইবোনা। তখন কইবো, উম্মে হানি নবীর বিয়া করা বৌ আছিলো।

  18. জুপিটার জয়প্রকাশ মে 18, 2011 at 8:17 অপরাহ্ন - Reply

    হানীর ব্যাপারটা কোনোখানেই মৌখিক প্রচার করা হয় না। সব ক্ষেত্রেই বাদ দিয়ে যাওয়া হয়। একমাত্র লিখিত আকারেই পাবেন।

    • ভবঘুরে মে 19, 2011 at 9:33 পূর্বাহ্ন - Reply

      @জুপিটার জয়প্রকাশ,

      হানীর ব্যাপারটা কোনোখানেই মৌখিক প্রচার করা হয় না।

      ওটাই তো ইসলামিক কায়দা। যেটা বললে মানুষের মনে প্রশ্ন জাগবে তা ভুলেও উচ্চারন করা যাবে না।

  19. মাসুদ মুরশেদ মে 18, 2011 at 5:54 অপরাহ্ন - Reply

    রাশদ খলিফার ১৯ সংখ্যা টির মাহাত্য অনেকেই জানেন। আমি রসুলের জীবনের মহাগুরুত্ত পূর্ণ কিছু সংখ্যার সন্ধান পেয়েছি। যা দিয়ে নাস্তিক দের অনেক আপ্প্রচারের জবাব দেয়া যায়।
    অবিশ্বাসীদের একটি বড় আপপ্রচার হল ৬ বছর বয়সী শিশু আয়েশার সাথে ৫৪ বছর বয়সী নবির বিবাহ।
    মূর্খ নাস্তিকগন এটা বুঝতে চায়না এটা একটি ঐশী নির্দেশনা (আল কুরআন ৩৩/৩৭)।
    ব্যাপারটা সংখ্যা বিজ্ঞান দিয়ে (কিম্বা রাশাদ বিজ্ঞান) দারুন ভাবে প্রমান কোরা যায়।
    নবিজী আয়েশা কে যখন বিবাহ করেন তখন তার বয়স ৬।
    আর নবিজীর বয়স ৫৪।
    তার সাথে প্রথম সেক্স করেন তখন আয়েশ ৯ আর নবিজী ৫৭।
    এখন ৫৪ + ৯ = ৬৩ ।
    আবার ৫৭ + ৬ = ৬৩।
    ৬৩ একটা মহা গুরুত্ত পূর্ণ বিষয়। কেননা নবিজীর সারা জীবনের দৈর্ঘ্য ৬৩, অর্থাৎ নবিজীর জীবনের সাথের আয়েশার কি আচানক যোগ।

    এখানেই শেষ না। নবিজীর মেরাজ ভ্রমনে মোট সময় লেগেছিল ২৭ বছর। যা ৯ দারা নিঃশেষে বিভাজ্য। আবার ৫৪ বছর টাও ৯ ও ২৭ দারা নিঃশেষ বিভাজ্য।

    নবিজী ইন্তেকাল করেছিলেন ৬৩ বছর বয়সে, সেটাও ৯ দারা বিভাজ্য। তার মেরাজ গমনের ২৭ বছর কে ৩ পর্বে ভাগ করা হয়। ৯ বছরে গমন, ৯ বছর সেখানে আবস্থান ও ৯ বছরে প্রত্যাবর্তন। মেরাজের সাথে আয়েশার আরও মিল আছে! আয়েশা ও নবীর বিবাহিত জীবন ছিল ৯ বছর। আর তাদের যৌন জীবন ছিল ৬ বছর (আবার ৬!)।
    আবার ৬ গুনিতক ৯ সমান ৫৪ !

    সংখ্যার এমন নয় ছয় দেখেও কি অবিশ্বাসীগণ বিশ্বাস করবে না?

    • আরিফুর রহমান মে 18, 2011 at 7:41 অপরাহ্ন - Reply

      @মাসুদ মুরশেদ,

      আপনার এই অভূতপূর্ব প্রমাণ দেখে আমার চোখ খুলে গেছে। আমি নাস্তি হতে মোছলেম হতে আগ্রহী।

      পিলিজ, প্যায়ারী নবিজীর অভিসার কাহিনী পড়ে আমি যার পর নাই বেচাইন হয়ে পড়েছি। আমাকে আর কাঁদায়েন না… :lotpot:

    • শুভ্র মে 18, 2011 at 7:46 অপরাহ্ন - Reply

      @মাসুদ মুরশেদ,
      এই সংখ্যাতত্ত্ব দুধারী তলোয়ার ৷ ঈশ্বরবিরোধীতো বটেই খোদ ঈশ্বরও বিপদে পড়তে পারেন ৷ সংখ্যার মাহাত্ম্য দিয়েকি শিশু ধর্ষন জায়েজ করা যায় ৷ বয়সের যোগফল ৬৩ হলেইকি অপরাধ অপরাধ থাকেনা ?

    • আকাশ মালিক মে 18, 2011 at 8:08 অপরাহ্ন - Reply

      @মাসুদ মুরশেদ,

      সংখ্যার এমন নয় ছয় দেখেও কি অবিশ্বাসীগণ বিশ্বাস করবে না?

      আয়েশা আর নবীর বিয়ের মাঝে বয়সের হিসেবের এই কুদরতি তো জানতাম না। সুবহানাল্লাহ! যায়েদের বউ জয়নব এই খবর জানলে গর্ব করে বলতেন না, নবীর সাথে শুধুমাত্র তার বিয়েই আসমানে হয়েছিল।

    • ব্রাইট স্মাইল্ মে 18, 2011 at 9:09 অপরাহ্ন - Reply

      @মাসুদ মুরশেদ,

      সংখ্যার এমন নয় ছয় দেখেও কি অবিশ্বাসীগণ বিশ্বাস করবে না?

      সংখ্যার এমন নয় ছয় বর্ননা করে কিছু প্রমান করার কায়দা কানুন দেখে ভীমড়ি খাচ্ছি। এইসব দেখে শুনে বিশ্বাসীগনের পরিস্থিতি খুব সুবিধাজনক মনে হচ্ছে না। বোধ হচ্ছে বিশ্বাসীগনের অবিশ্বাসী হওয়াটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। 🙂

    • ভবঘুরে মে 18, 2011 at 9:49 অপরাহ্ন - Reply

      @মাসুদ মুরশেদ,

      ভাই আপনার সংখ্যা মাহত্মের অলৌকিকত্ব এভাবে জোড়া তালি দিয়ে মেলানোটা আপনাকেও রাশেদীয় অনসারী মনে হচ্ছে। মোহাম্মদ ৫১ বছর বয়েসে ৬ বছরের আয়েশাকে বিয়ে করে বলেই সর্বাধিক মত, ৫৪ নয়্

      • হৃদয়াকাশ মে 19, 2011 at 6:14 অপরাহ্ন - Reply

        @ভবঘুরে,
        সেই বাল্যকাল থেকে শুনে আসছি কোরানের আয়াত নাকি ৬৬৬৬ টি। পরে আবিষ্কার করলাম এটা ৬২০০ প্লাস সামথিং। কোরানের অলৌকিকতা প্রমানের জন্য মুসলমানরা যদি সত্য গোপন করে ৬ সংখ্যাতত্ত্বের সাহায্য নিতে পারে, তাহলে মাসুদ ভাই ইসলামকে ব্যঙ্গ করার জন্য ৫১কে ৫৪ বানালে দোষ কী ? তবে যাই হোক মাসুদের সংখ্যাতত্ত্ব পড়ে মজা পেয়েছি।

        হৃদয়াকাশ

        • ভবঘুরে মে 21, 2011 at 3:33 অপরাহ্ন - Reply

          @হৃদয়াকাশ,
          ওরে বাবা , ইসলামকে ব্যাঙ্গ! আপনার জন্য দোজখের টিকেট একেবারে কনফার্ম।

          • হৃদয়াকাশ মে 21, 2011 at 6:04 অপরাহ্ন - Reply

            @ভবঘুরে,
            আমি ভাই দোজখেই যেতে চাই ( যদি থাকে)। কারণ দোজখেই তো থাকবে সমস্ত জ্ঞানী গুনী ব্যক্তিরা। মূর্খ মোল্লাদের সঙ্গে বেহেশতে গিয়ে লাভ কী ? কারণ, কথায় বলে না, মূর্খদের সঙ্গে স্বর্গে যাওয়ার চেয়ে জ্ঞানীদের সঙ্গে নরকে যাওয়া ভালো। আমি ভাই এই মতবাদে বিশ্বাসী।

          • জনার্দন আচার্য নভেম্বর 6, 2017 at 11:46 অপরাহ্ন - Reply

            বুখারি, ইবএদের তো দোযকে যাওয়া সুনিশ্চিত।
            কারণ এরাইতো হাদিসে ইসলামের গুণ কীর্তন করেছেন।
            আর মহান নবি মোহাম্মদ কোরান লিখে দুযোখে যাবার রাস্তা পাকা করেছেন।
            ইসলাম জিন্দাবাদ। নে ইসহাক, ইবনে হিশাম ও ইবনে কাছীর

    • নিটোল মে 18, 2011 at 10:55 অপরাহ্ন - Reply

      @মাসুদ মুরশেদ,

      ব্যাপারটা সংখ্যা বিজ্ঞান দিয়ে (কিম্বা রাশাদ বিজ্ঞান) দারুন ভাবে প্রমান কোরা যায়।

      :lotpot: :lotpot:

  20. পদ্মফুল মে 18, 2011 at 1:52 অপরাহ্ন - Reply

    অসাধারন লাগছে আপনার এই সিরিজ টা, অনেক নতুন নতুন জিনিস জানতে পারছি আবার কিছু জিনিস প্রথম শুনছি, যেমন মেরাজের সাথে উম্মে হানির সম্পর্ক বা এই নামে কেউ আছে তাইতো আগে কখনও শুনিনি। আর রিলেটিভিটি নিয়ে আলোচনা করলেন, যেহেতু বিজ্ঞান এর ছাত্র নই তাই এগুলো নিয়ে অনেকে তর্ক বা বড়াই করলেও ঠিক বুঝতামনা। কিন্তু আপনার বিশ্লেষনের পরে মনে হচ্ছে এটা বুঝতে তো বিজ্ঞানী হতে হয়না। সাধারণ একটা কথাই তো। দারূন বিশ্লেষণ আপনার।
    তবে উম্মে হানির সম্পর্কে আর একটু বিস্তারিত আলোচনা করুন। উপরে ও অনেকে এটার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে কমেন্ট করেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে (Y)

    • ভবঘুরে মে 18, 2011 at 6:39 অপরাহ্ন - Reply

      @পদ্মফুল,

      ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

      নীচের সাইট টি দেখতে পারেন মোহাম্মদের মেরাজ কোথা থেকে শুরু হয়েছিল:
      http://www.muhammadanreality.com/ascentionmiraj.htm

  21. কাজী রহমান মে 18, 2011 at 1:00 অপরাহ্ন - Reply

    যুক্তি আর তথ্যে ভরপুর। খুব ভালো কাজ হয়েছে।

    ইসলামি সকল উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে , ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল উম্মে হানির ঘরে আর শেষও হয়েছিল সেখানে যা বাস্তবে অত্যন্ত আপত্তিকর বিশেষ করে গভীর রাতে যখন উম্মে হানি তাদের বাড়ীতে একা অবস্থান করছিল।

    তথ্য উৎস গুলির মধ্যে হাদিস বা সুরা রেফারেন্স আছে নাকি? হানির ঘরে শুরু য় শেষ এই তথ্যসুত্র একটু পরিস্কার করে থাকলে মনে হয় ভালো হোত।

    • ভবঘুরে মে 18, 2011 at 6:05 অপরাহ্ন - Reply

      @কাজী রহমান,

      আপনি নিম্ন লিখিত সাইট গুলোতে ঢু মারতে পারেন, সবগুলোই ইসলামিক সাইট। সেখানে উম্মে হানির কথা বলা হয়েছে, আর বলা হয়েছে তার ঘর থেকেই মেরাজ শুরু হয়েছিল:
      (১)http://www.islamiclandmarks.com/saudi_house_of_umme_hani.html
      (২)http://www.ezsoftech.com/islamic/meraj.asp
      (৩)http://www.paklinks.com/gs/religion-and-scripture/437584-mairaj-the-night-of-journey.html
      (৪)http://www.help-for-the-convert.net/new_page_12.htm
      (৫)http://www.hujjat.org/index.php?option=com_content&view=article&id=114:meraj-mabath-&catid=28&Itemid=100013
      (৬) http://www.apfn.net/messageboard/08-10-06/discussion.cgi.34.html
      (৭)http://www.almujtaba.com/articles/1/000496.html
      (৮)http://forum.gexir.com/viewthread.php?tid=4210
      (৯)http://www.maaref-foundation.com/english/library/pro_ahl/holy_prophet/the_message/23.htm
      (১০)http://gurumia.com/tag/meraj-night-ascension-isra-and-miraj-night-journey/

      দেখুন।

      • কাজী রহমান মে 19, 2011 at 8:17 পূর্বাহ্ন - Reply

        @ভবঘুরে,
        ধন্যবাদ লিঙ্ক গুলির জন্য। সময় নিয়ে দেখব। আপনি চালিয়ে যান। দারুণ হচ্ছে। :clap

        • ভবঘুরে মে 19, 2011 at 9:31 পূর্বাহ্ন - Reply

          @কাজী রহমান,

          আপনি চালিয়ে যান। দারুণ হচ্ছে।

          উৎসাহ দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। আসলে বাজীমাত করার জন্য তো লিখি না। সত্য প্রকাশ ও অন্ধ মানুষকে আলোর পথে আনার সামান্যতম প্রচেষ্টামাত্র। লেখালেখির মাধ্যমে যদি একটা মাত্র মানুষও অন্ধত্ব থেকে বের হয়ে আসে তাতেই আমি সার্থক মনে করব।

          • কাজী রহমান মে 19, 2011 at 12:52 অপরাহ্ন - Reply

            @ভবঘুরে,

            সত্য প্রকাশ ও অন্ধ মানুষকে আলোর পথে আনার সামান্যতম প্রচেষ্টামাত্র।

            অসামান্য প্রচেষ্টা, মোটেও সামান্য নয়।

            ধর্মান্ধ অবস্থায় মুক্ত হওয়া অসম্ভব। একজন ধর্মভীরু বা স্রষ্টা বিশ্বাসী মানুষ মানবতার মঙ্গলালোক বঞ্চিত। এদের সহ আর সবাইকে সত্যানুসন্ধানে উৎসাহিত করে অসাধারন ভাল কাজ করছেন।

            কৃতজ্ঞতা আর শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। কষ্ট করে হলেও লিখতে থাকুন।

  22. অভিজিৎ মে 18, 2011 at 8:19 পূর্বাহ্ন - Reply

    আপনার এই পর্বটি বেশ লাগলো। বিশেষ করে আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব কপচিয়ে মিরাজকে বৈধতা দেয়ার যে চল মডার্ন ইসলামিস্টদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায়, আপনি ছোট করে হলেও সেই জায়গাটা ভাল মত ট্যাকেল করেছেন। আপনি যথার্থই লিখেছেন –

    আপক্ষিক তত্ত্ব মতে – কোন ব্যাক্তি যদি আলোর গতিতে চলমান হয় তাহলে তার কাছে সময় থেমে যাবে।মোহাম্মদ বোরাকের পিঠে চড়ে আলোর গতিতে আল্লাহর কাছে গেছিলেন ও ফিরে আসলেন। তাই তার কাছে সময় থেমে গেছিল। যে কারনে যখন তিনি পৃথিবীতে উম্মে হানির ঘরে চুপিসারে প্রত্যাবর্তন করলেন তখনও তার কাছে মনে হলো তিনি মুহুর্তমাত্র সময় সময় ব্যয় করেছেন এ মহান ও সীমাহীন দীর্ঘ মহাকাশ ভ্রমনে।যারা আপেক্ষিক তত্ত্ব সম্পর্কে আদৌ অবগত নন, তাদের কাছে বিষয়টি খুবই বিস্ময়কর ও অলৌকিক।আসল ফাকিটা হলো এরকম। আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুযায়ী আলোর গতিতে ভ্রমনকারী ব্যক্তির কাছে সময় স্থির হলেও যারা এক জায়গায় স্থির হয়ে অবস্থান করছে তাদের কাছে তো সময় চলমান।তার অর্থ- মোহাম্মদ আলোর গতিতে বোরাকের ডানায় ভর করে উড়ে চললে সময় তার কাছে থেমে থাকবে কিন্তু উম্মে হানি বা মক্কার লোকের কাছে থেমে থাকবে না।সুতরাং মোহাম্মদ যদি সাড়ে তের আলোক বর্ষ দুরত্ব ভ্রমন করে আবার ফিরে আসেন তার কাছে সেটা মুহুর্তমাত্র মনে হতে পারে কিন্তু উম্মে হানি বা তার সাহাবীদের কাছে সেটা হবে মোট সাতাশ বছর।অর্থাৎ দুনিয়াতে তখন বাস্তবেই সাতাশ বছর পার হয়ে যাবে। এর সোজা অর্থ- মোহাম্মদ দুনিয়াতে ফিরে এসে দেখবেন তার গোপন প্রেমিকা উম্মে হানি বৃদ্ধা হয়ে পড়েছে(এমনকি মারাও যেতে পারে), তার সাহাবীরাও সবাই বৃদ্ধ হয়ে গেছে , কেউ কেউ মারাও গেছে- অথচ তার নিজের কাছে সময়টা মনে হবে মুহুর্তমাত্র।ঘটনাটা এরকম হলেই সেটা হতো সত্যিকার আপেক্ষিকতাবাদের পক্ষে এক দারুন উদাহরন আর তখন মোহাম্মদকে আল্লাহর নবী হিসাবে বিশ্বাস না করে উপায় থাকত না। অথচ কোন কিছু না বুঝেই কিছু কিছু তথাকথিত ইসলামী পন্ডিত যাদের পর্দার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কে সামান্যতম জ্ঞান আছে বলেও মনে হয় না তারা মোহাম্মদের এক আজগুবি ও ভুয়া মিরাজ কিচ্ছার মধ্যে আপেক্ষিকতাবাদের সূত্র খুজে মরছে।

    আমি একটু ব্যাপারটাকে গাণিতিকভাবে বিশ্লেষণ করি। মোল্লারা যখন রিলেটিভিটি রিলেটিভিটি করে, তখন আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব থেকে যে টাইম ডায়ালেশনের সূত্র পাওয়া গিয়েছে সেটা ব্যবহার করেই আমি মুহম্মদ এবং উম্মে হানির ব্যাপারটা সমাধান করার চেষ্টা করব। দেখা যাক কী হয়।

    মনে করুন মুহম্মদ এবং উম্মে হানি এক বাসায় ছিলো। তারপর মুহম্মদের হঠাৎ শখ হল বোরাকে করে প্রায় আলোর বেগে মহাবিশ্ব ভ্রমণের। আর উম্মে হানি পৃথিবীতে রইলো। মুহম্মদ ইসলামিস্টদের কথামত প্রায় আলোর বেগের কাছাকাছি কোন এক বেগে মহাকাশভ্রমণ করছে, আর হানি পৃথিবীতে থাকার ফলে পার্থিব বেগে পড়ে রয়েছে। আসুন টাইম ডায়ালেশনের সুত্রটি দেখি (লেটেক্সে সমীকরণ লিখতে গিয়ে হালুয়া টাইট হয়ে গেল 🙂 ) –

    $latex T = \frac{T_0}{\sqrt{1 – \frac{v^2}{c^2}}}$

    যেখানে, T = উম্মে হানির (পার্থিব) সময়
    $latex {T_0}$ = মুহম্মদের সময়
    v = বোরাকের বেগ
    c = আলোর বেগ

    এখন যদি, মুহাম্মদের বাহন অর্থাৎ বোরাকের বেগ (v) আলোর বেগের ( c ) খুব কাছাকাছি হয়, যেমন ধরুন, v = 0.9c হয়, তবে, উপরের সমীকরণ থেকে পাওয়া যাবে –

    $latex T = 2.294 {T_0}$

    উপরে পাওয়া সমীকরণে $latex {T_0}=20$ বসালে T পাওয়া যাবে 46। অর্থাৎ, মুহম্মদের বয়স ২০ বছর পার হলে, উম্মে হানির পার হবে প্রায় ৪৬ বছর। মানে বরাকে করে প্রায় আলোর বেগে পরিভ্রমণ করে এসে মুহম্মদ দেখবেন উম্মে হানি একেবারে বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। অথচ ইসলামিক রিলেটিভিটির দাবীদারদের দাবী ঠিক উলটো। তারা দাবী করেন হানির জগ থেকে ওজু করে নাকি মুহম্মদ মেরাজে রওনা হয়েছিলেন,ফিরে এসে দেখেন সে অজুর পানি তখনও গড়াচ্ছে। তার মানে হচ্ছে মুহম্মদের ভ্রমণে দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও পার্থিব সময় একেবারেই বাড়েনি, যা রিলেটিভিটির ফলাফলের ঠিক উলটো। তার মানে রিলেটিভিটি দিয়েও মুহম্মদের মিরাজ জাস্টিফাই করা কঠিন।

    অবশ্য মুহম্মদের মিরাজের ভুয়াবাজি প্রমাণের জন্য রিলেটিভিটি ফিটির দরকার নাই। কৃষক দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বর মিরাজ সম্বন্ধে সত্যের সন্ধানে যা বলেছিলেন, সেটা তুলে ধরাই যথেষ্ট –

    ১১. মেয়ারাজ কি সত্য, না স্বপ্ন?

    শোনা যায় যে, হজরত মোহাম্মদ (দ.) রাত্রিকালে আল্লাহর প্রেরিত বোরাক নামক এক আশ্চর্য জানোয়ারে আরোহণ করিয়া আকাশভ্রমণে গিয়াছিলেন। ঐ ভ্রমণকে মেয়ারাজ বলা হয়। তিনি নাকি কোটি কোটি বৎসরের পথ অতিক্রম করিয়া আরশে পৌঁছিয়া আল্লাহর সহিত কথোপকথন করিয়াছিলেন এবং আল্লাহ তাঁহাকে ইসলামের দুইটি মহারত্ন নামাজ ও রোজা উপহার দিয়াছিলেন। ঐ রাত্রে তিনি বেহেস্ত-দোজখাদিও পরিদর্শন করিয়া গৃহে প্রত্যাবর্তন করিয়াছিলেন। ইহাতে নাকি তাঁহার সময় লাগিয়াছিল কয়েক মিনিট মাত্র।

    কথিত হয় যে, মেয়ারাজ গমনে হজরত (দ.)-এর বাহন ছিল – প্রথম পর্বে বোরাক ও দ্বিতীয় পর্বে রফরফ। উহারা এরুপ দুইটি বিশেষ জানোয়ার, যাহার দ্বিতীয়টি জগতে নাই। বোরাক – পশু, পাখী ও মানব এই তিন জাতীয় প্রাণীর মিশ্ররুপের জানোয়ার। অর্থাৎ তাহার ঘোড়ার দেহ, পাখীর মত পাখা এবং রমণীসদৃশ মুখমন্ডল। বোরাক কোন দেশ হইতে আসিয়াছিল, ভ্রমণান্তে কোথায় গেল, বর্তমানে কোথায়ও আছে, না মারা গিয়াছে, থাকিলে – উহার দ্বারা এখন কি কাজ করান হয়, তাহার কোন হদিস নাই। বিশেষত একমাত্র শবে মেয়ারাজ ছাড়া জগতে আর কোথাও ঐ নামটিরই অস্তিত্ব নাই। জানোয়ারটি কি বাস্তব না স্বপ্নিক?

    হাজার হাজার বৎসরের পুরাতন স্হাপত্যশিল্পের নিদর্শন পৃথিবীতে অনেক আছে। খৃ.পূ. তিন হাজার বৎসরেরও অধিককাল পূর্বে নির্মিত মিশরের পিরামিডসমুহ আজও অক্ষত দেহে দাঁড়াইয়া আছে। হজরতের মেয়ারাজ গমন খুব বেশীদিনে কথা নয়, মাত্র খৃষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর প্রথম দিকের ঘটনা। ঘটনাটি বাস্তব হইলে – যে সকল দৃশ্য তিনি মহাশূণ্যে স্বচক্ষে দেখিয়াছিলেন (আরশ ও বেহেস্ত-দোজখাদি), তাহা আজও সেখানে বর্তনান থাকা উচিত। কিন্তু আছে কি? থাকিলে তাহা আকাশ-বিজ্ঞানীদের দূরবীনে ধরা পড়ে না কেন?

    মেয়ারাজ সম্বন্ধে পর্যালোচনা করিতে হইলে প্রথম জানা আবশ্যক যে, হজরত (দ.) –এর মেয়ারাজ গমন কি পার্থিব না আধ্যাত্মিক; অর্থাৎ দৈহিক না মানসিক। যদি বলা হয় যে, উহা দৈহিক, তবে প্রশ্ন আসে – উহা সম্ভব হইল কিভাবে?

    আকাশবিজ্ঞানীদের মতে – সূর্য ও গ্রহ-উপগ্রহরা যে পরিমাণ স্হান জুড়িয়া আছে, তাহার নাম সৌরজগত, সূর্য ও কোটি কোটি নক্ষত্র মিলিয়া যে পরিমাণ স্হান জুড়িয়া আছে তাহান নাম নক্ষত্রজগত বা নীহারিকা এবং কোটি কোটি নক্ষত্রজগত বা নীহারিকা মিলিয়া যে স্হান দখল করিয়া আছে, তাহার নাম নীহারিকাজগত।

    বিজ্ঞানীগণ দেখিয়াছেন যে, বিশ্বের যাবতীয় গতিশীল পদার্থের মধ্যে বিদ্যুৎ ও আলোর গতি সর্বাধিক। উহার সমতুল্য গতিবিশিষ্ট আর জগতে নাই। আলোর গতি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৮৬ হাজার মাইল। আলো এই বেগে চলিয়া এক বৎসরে যতটুকু পথ অতিক্রম করিতে পারে, বিজ্ঞানীগণ তাহাকে বলেন এক আলোক বৎসর।

    বিশ্বের দরবারে আমাদের এই পৃথিবী খুবই নগণ্য এবং সৌরজগতটিও নেহায়েত ছোট জায়গা। তথাপি এই সৌরজগতের এক প্রান্ত হইতে অপর প্রান্তে আলোক পৌঁছিতে সময় লাগে প্রায় ১১ ঘন্টা। অনুরূপভাবে, নক্ষত্রজগতের এক প্রান্ত হইতে অপর প্রান্তের দূরত্ব প্রায় ৪০০০ কোটি আলোক বৎসর।১১ এই যে বিশাল স্হান, ইহাই আধুনিক বিজ্ঞানীদের পরিচিত দৃশ্যমান বিশ্ব। এই বিশ্বের ভিতরে বিজ্ঞানীরা বেহেস্ত, দোজখ বা আরশের সন্ধান পান নাই। হয়ত থাকিতে পারে ইহার বহির্ভাগে, অনন্ত দূরে। হজরত (দ.)-এর মেয়ারাজ গমন যদি বাস্তব হয়, অর্থাৎ তিনি যদি সশরীরে একটি বাস্তব জানোয়ারে আরোহণ করিয়া সেই অনন্তদূরে যাইয়া থাকেন, তবে কয়েক মিনিট সময়ের মধ্যে আলোচ্য দূরত্ব অতিক্রম করা কিভাবে সম্ভব হইল? বোরাকে গতি সেকেন্ড কত মাইল ছিল?

    বোরাকের নাকি পাখাও ছিল। তাই মনে হয় যে, সেও আকাশে (শূণ্যে) উড়িয়া গিয়াছিল। শূণ্যে উড়িতে হইলে বায়ু আবশ্যক। যেখানে বায়ু নাই, সেখানে কোন পাখী বা ব্যোমযান চলিতে পারে না। বিজ্ঞানীগণ দেখিয়াছেন যে, প্রায় ১২০ মাইলের উপরে বায়ুর অস্তিত্ব নাই।১২ তাই তাঁহারা সেখানে কোনরুপে বিমান চালাইতে পারেন না, চালাইয়া থাকেন রকেট। বায়ুহীন মহাশূণ্যে বোরাক উড়িয়াছিল কিভাবে?

    নানা বিষয় পর্যালোচন করিলে মনে হয় যে, হজরত (দ.)-এর মেয়ারাজ গমন (আকাশভ্রমণ) সশরীরে বা বাস্তবে সম্ভব নহে। তবে কি উহা আধ্যাত্মিক বা স্বপ্ন?

    এ কথায় প্রায় সকল ধর্মই একমত যে, ‘সৃষ্টিকর্তা সর্বত্র বিরাজিত’। তাহাই যদি হয়, তবে তাঁহার সান্নিধ্যলাভের জন্য দূরে যাইতে হইবে কেন? আল্লাহতালা ঐ সময় কি হযরত (দ.)-এর অন্তরে বা তাঁহার গৃহে, মক্কা শহরে অথবা পৃথিবীতেই ছিলেন না?

    পবিত্র কোরানে আল্লাহ বলিয়াছেন – তোমরা যেখানে থাক, তিনি তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছেন।“ (সুরা হাদিদ – ৪)। মেয়ারাজ সত্য হইলে এই আয়াতের সহিত তাহার কোন সঙ্গতি থাকে কি?

    লেখাটির জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

    • ভবঘুরে মে 18, 2011 at 10:46 পূর্বাহ্ন - Reply

      @অভিজিৎ,

      বিশেষ করে আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব কপচিয়ে মিরাজকে বৈধতা দেয়ার যে চল মডার্ন ইসলামিস্টদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায়, আপনি ছোট করে হলেও সেই জায়গাটা ভাল মত ট্যাকেল করেছেন।

      ধন্যবাদ আপনার তারিফের জন্য। আশ্চর্য হলেও সত্য যে , এ পর্যন্ত এমন কোন লেখা পাই নি যেখানে আপেক্ষিক তত্ত্বের এ বিষয়টি ব্যখ্যা করে মিরাজের বিষয়টি অপ্রমান করা হয়েছে। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই সেটা করতে হলো, যদি কিছুটা হলেও কিছু পাঠক বিষয়টি বুঝতে পারে। চেষ্টা করেছি একেবারে সহজ সরল ভাবে বিষয়টি বোঝানোর।

      • টেকি সাফি মে 21, 2011 at 2:25 পূর্বাহ্ন - Reply

        @ভবঘুরে,

        এ পর্যন্ত এমন কোন লেখা পাই নি যেখানে আপেক্ষিক তত্ত্বের এ বিষয়টি ব্যখ্যা করে মিরাজের বিষয়টি অপ্রমান করা হয়েছে।

        পদার্থবিজ্ঞান ইন্টারের বইটা পড়লেই এইসব বুঝা যায় আর এইটা খুব স্ট্রং কিছু না ভেবে আমি মুক্তমনায় লিখিনি :-Y :-Y

        তবে ফেসবুকের ইস্লামিস্ট অ্যাস্ট্রোফিজিসিষ্ট দের ভালোই ঘোল খাইয়েছিলাম 🙂

        দেখুন আমরা আমাদের সোলার সিস্টেমটা ভালো মতই চিনি তাই বেহেশত দোযখ অন্তত পক্ষে সোলার সিস্টেমের বাইরে ঠিক?
        ধরে নিলাম নবী 2.8*10^8 মিটার/সেকেন্ড (প্রায় আলোর গতি) গতিতে ভ্রমন করেছেন। এই গতিতেও Oort could (সোলার সিস্টেমের প্রান্ত , দূরত্ব=1000AU; 1AU=149598000000 meters) পার হতে নিউটোনিয়ান হিসেবে 8904.643 ঘন্টা লাগবে! এখন এঁকে লরেঞ্জ রূপান্তরে ফেললে নবীর কাছে এই সময়টা মনে হবে 6637.13 ঘন্টা!! আর পৃথিবীতেতো 8904.643 ঘন্টাই মনে হবে, নবী গতিতে চলতেছে উনার কাছে
        6637.13 ঘন্টা মনে হবে। তার পরও 6637.13 ঘন্টা ধরলেই কার বাপের সাধ্য আছে এক রাতের মধ্যে ফিরে আসা?

        এইটা পুলাপাইনের জ্ঞ্যান মনে করে আগে না লিখে ভুল করেছি 🙁

    • বিপ্লব পাল মে 18, 2011 at 11:06 পূর্বাহ্ন - Reply

      @অভিজিৎ,
      তোমার কি আজকাল কাজ ফাজ নাই? না বন্যা বাড়ির সব কাজ করে দিচ্ছে, তুমি বেকার আ :-X ছ

      ধর্ম যেমন ফালতু, ধার্মিক লোকগুলোও ততোধিক ভুলভাল। এদের পেছনে সময় নষ্ট না করাই আমার মতে বুদ্ধিমানের কাজ।

      রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, কালিদাস যদি সেই যুগে চাষাদের কৃষি ম্যানুয়েল লিখতেন, তিনি কালিদাস হতেন না। এইসব ধার্মিকদের পেছনে সময় নষ্ট কোল্যাটেরাল ড্যামেজ।

      • শুভ্র মে 18, 2011 at 7:20 অপরাহ্ন - Reply

        @বিপ্লব পাল,
        ধর্ম ফালতু এ নিয়ে আমারও দ্বীমত নেই ৷ কিন্তু আমি মনে করি এ ধরনের লেখার প্রয়োজনীয়তা এখনো ফুরিয়ে যায়নি ৷ ধর্মকে এখন প্রায়ই বিজ্ঞানের বরাত দিয়ে নিজেকে জাহির করতে হয় ৷ যে ধর্ম একদিন বিজ্ঞানের গলা টিপে ধরতে চেয়েছে, আজ সেই ধর্মই বিজ্ঞানের ছড়ি ছাড়া দাঁড়াতে পারেনা ৷ এটাই যথেষ্ট কৌতুকের ব্যাপার ৷এধরনের লেখা আমাদের নবীন প্রজন্মকে দেবে চিন্তার খোরাক, যে কুসংস্কারের মধ্যে তাদের বেড়ে উঠতে হয় সেই অন্ধকারের মধ্যেও দেখাবে আলো ৷ এধরনের লেখাই হয়তো কোন তরুণের মনে রোপন করতে পারে সত্যানুসন্ধানীর বীজ ৷ এখনো আমাদের চারপাশে দেখি বয়স্করা খো৺ড়া যুক্তি দিয়ে কোন না কোন তরুণের সত্যানুসন্ধানী মনকে দাবিয়ে দিতে চাইছে ৷ পবিত্র (??) বিশ্বাসকে চ্যালেঞ্জ করার সাহস যোগানর জন্যও এধরনের লেখার প্রয়োজন আছে ৷

    • আল্লাচালাইনা মে 18, 2011 at 7:36 অপরাহ্ন - Reply

      @অভিজিৎ, আপনি যেই ইছলামের কথা বলছেন সেটি কিন্তু ছহি ইছলাম নয়; জাকির নায়েকের ইছলাম দিয়ে ইছলামকেতো বিচার করলে হবে না! ছহি ইছলাম কোনটা আমি জানিনা, তবে এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে ছহি ইছলাম রিলেটিভিটি, কোয়ান্টাম ফিজিক্স, থার্মোডায়নামিক্স, মেকানিক্স এগুলি কোনটির সাথেই কন্ট্রাডিক্ট করে না। আর যদি করেও থাকে তাহলে সেগুলো ভবিষ্যতে মিথ্যা প্রমানিত হবে। সমাজবৈজ্ঞিনীরাতো ইতিমধ্যেই বলেছে সায়েন্স কোন চিরন্তন বিষয় নয়! এই ত্রুটিপুর্ণ অচিরন্তন রিলেটিভিটি উতখাত হয়ে যখন ছহি রিলেটিভিটি আবিষ্কার করবে মানুষ, তখন দেখা যাবে ছহি ইছলামের সাথে সেটা ঠিকই রিকনসাইল করছে।

      @ভবঘুরে, উত্তেজিত হয়ে মোহাম্মদের উম্মে হানির সাথে ছহবত করার আকাঙ্ক্ষা যদি দমন এমনকি নাও করে থাকতে পারেন, সেটা ইছলামকে মিথ্যা প্রমানিত করে না। আমাদের সবার সেক্সুয়ালিটি একরকমের হয়না; কারও সেক্সুয়ালিটি হাইপারএকটিভ হলে এজন্য তাকে নিয়ে উপহাস করা কি উচিত? নাকি আপনি একজন হুইলচেয়ার আরোহীকে ‘খোড়া…খোড়া’ বলে উপহাস করেন? আল্লার ওলি হযরত ওছামাও (সঃ) তো উত্তেজিত হয়ে পর্নোগ্রাফি দেখতেন, তাহলে সেটার ব্যাপারে কি বলবেন? কিংবা এটা যে মোহাম্মদের প্রতি আল্লাপাকেরই নির্দেশ ছিলো না যে- ‘হে মোহাম্মদ উম্মে হানির সাথে ছহবর করে ফেলুন, নিশ্চয়ই আল্লা সর্বজ্ঞ ও পরম দয়াশীল’, এটাও কি আপনি অপ্রমান করতে পারেন কোনভাবে? পেরে যদি থাকেন তহলে, মোহাম্মদের উম্মে হানির সাথে ছহবত করাটাও ছহি ইছলাম নয়, ইতিহাস বিকৃত হয়ে থাকোতে পারে এক্ষেত্রে।

      • ভবঘুরে মে 18, 2011 at 10:21 অপরাহ্ন - Reply

        @আল্লাচালাইনা,

        কিংবা এটা যে মোহাম্মদের প্রতি আল্লাপাকেরই নির্দেশ ছিলো না যে- ‘হে মোহাম্মদ উম্মে হানির সাথে ছহবর করে ফেলুন, নিশ্চয়ই আল্লা সর্বজ্ঞ ও পরম দয়াশীল’, এটাও কি আপনি অপ্রমান করতে পারেন কোনভাবে?

        যথার্থ বলেছেন। আল্লাহর নির্দেশ থাকতে পারে। সমস্যাটা হলো মুমিন বান্দারা তা তো স্বীকার করে না। স্বীকার করলে তো ল্যাঠা চুকে যেত। তাহলে এত কষ্ট করে আর ব্লগ সাইটে নিবন্ধ লিখে মুমিন বান্দাদের অভিশাপ আর গালি শুনতে হতো না।

  23. সাজ্জাদ মে 18, 2011 at 7:37 পূর্বাহ্ন - Reply

    কোনো কোন ইসলামি পন্ডিত সহবাসের পুলক কে দুনিয়াতে আল্লাহর দেওয়া বেহেশ্তি আনন্দের সঙ্গে তুলনা করেন । সেই হিসেবে মুহাম্মাদ মিথ্যা বলেননি, সারারাত বেহেশ্তি পুলকের মধ্যে ছিলেন ।

    • ভবঘুরে মে 18, 2011 at 10:42 পূর্বাহ্ন - Reply

      @সাজ্জাদ,

      আপনার কথিত বিষয়টা শুনেছি কিন্তু কোন রেফারেন্স খুজে পাই নি।

  24. আফরোজা আলম মে 18, 2011 at 6:59 পূর্বাহ্ন - Reply

    অনেকদিন পরে আপনার লেখা পড়লাম। আসলে অনেক দিন পরে কিনা জানিনা। মুক্তমনায় আসতে পারিনা নানাবিধ কারনে বেশ কমাস। তাই মনে হচ্ছে অনেকদিন পরে। আপনার শক্তিশালী লেখা অব্যাহত থাকুক এই কামনা করি।

    • ভবঘুরে মে 18, 2011 at 10:41 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আফরোজা আলম,

      আপনাকে দেখেও ভাল লাগল। আমি তো ভেবেছিলাম একজন গুনগ্রাহী পাঠিকা হারালাম 🙁

      • আফরোজা আলম মে 18, 2011 at 4:12 অপরাহ্ন - Reply

        @ভবঘুরে,

        গুনগ্রাহী :-O
        ভুল বল্ললেন নাতো? পাঠিকা আজকাল চলে না যতোদূর জানি, আজকাল পাঠক, লেখক, ইত্যাদি। লিঙ্গ ভেদ উঠে গিয়েছে। অনেকে অবশ্য জানেন না।

        • ভবঘুরে মে 18, 2011 at 6:48 অপরাহ্ন - Reply

          @আফরোজা আলম,
          হুম লিঙ্গ ভেদ উঠে গেছে, মনে হচ্ছে আপনার কথা ঠিক। দু:খিত এর পর আর এরকম ভুল হবে না। 🙁

  25. aunik মে 18, 2011 at 1:58 পূর্বাহ্ন - Reply

    আপনার উত্তরের জন্য ধন্যবাদ। সত্যের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক (মেরাজের বিষয় ছাড়া ) কয়েকটি প্রশ্ন যদি পাঠাতেন কষ্ট করে. . . . খুব উপকার হত
    [email protected] বা এখানে দিলেও হয়।

    • ভবঘুরে মে 18, 2011 at 10:40 পূর্বাহ্ন - Reply

      @aunik,

      সত্যের সাথে সাংঘর্ষিক বিষয়ের অভাব নেই প্রচলিত ধর্ম সমূহে ও তাদের কিতাবে। অন্যান্য ধর্ম নিয়ে তেলেসমাতি কারবারের ধান্ধা অনেকটাই কমে গেছে তাদের ধর্মের সংস্কার বা তাদের মানুষ গুলোর মানসিক উন্নতির কারনে। তারা কেউই তাদের ধর্মকে রাষ্ট্র ধর্ম বানিয়ে গোটা জাতিকে অন্ধ ও বদ্ধ রাখতে চায় না যেটা চায় প্রবল ভাবে ইসলাম। যে কারনেই ইসলাম নিয়ে এত লেখা লেখি। এখানেই অনেক লেখকের লেখায় সত্যের সাথে সাংঘর্ষিক অনেক প্রশ্ন আপনি খুজে পাবেন। প্রতিটি লেখকের নাম-এর ওপর ক্লিক করলে তাদের প্রোফাইল পাতায় চলে গিয়ে সেখানে ধর্ম সম্পর্কিত নিবন্ধগুলি পড়েন, অসংখ্য প্রশ্ন পেয়ে যাবেন।

  26. aunik মে 17, 2011 at 11:32 অপরাহ্ন - Reply

    আমি আপনার কয়েকটি লেখা পড়েছি। ভালো লিখেছেন। যুক্তির প্রশংসা না করলেই না।
    আপনার কাছে দুটি বিষয় জানতে চাই: ১।
    আপনি কি সব ধর্মের ই বিপক্ষে নাকি শুধু ইসলাম? যদি সব ধর্মের বিপক্ষে হন তাহলে জানতে চাই আপনার মতে মানুষের জীবন ধারা কিরূপ হওয়া উচিত? অর্থা্ৎ মানুষ জন্মলাভ করবে, খাবে দাবে চাকরী-বাকরী করবে, বৃদ্ধ হয়ে মরে যাবে। এতটুকুই জীবন?(এ প্রশ্নটি শুধুই জানার জন্য করেছি। বিদ্রুপ বা সমালোচনা নয়। না চাইলে উত্তর দেয়ার দরকার নেই)
    ২.বোকামেয়ে কোরান নিয়ে ৬০টি প্রশ্ন করেছিল । ফন্ট সাপো্র্ট না করায় পড়তে পারিনি। সেরকম কিছু প্রশ্ন দু এক দিনে খুব দরকার যদি আমার মেইল আ্যড্রেস এ দিতেন খুব ভালো হত। আপত্তি থাকলে দরকার নেই।

    এই পোস্টের ও কিছু কিছু জায়গায় ফন্ট সাপোর্ট করেনি। আরেকটি
    প্রশ্ন আপনি পর্ন গ্রাফী কে কিভাবে দেখেন?প্রগতিশীলতা নাকি উদ্ভট?
    (সব প্রশ্ন ই জানার জন্য। অন্য কিছু নয়। ভাষা ব্যবহারে ত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন)

    • ভবঘুরে মে 18, 2011 at 1:17 পূর্বাহ্ন - Reply

      @aunik,

      আপনি কি সব ধর্মের ই বিপক্ষে নাকি শুধু ইসলাম

      আমি অন্ধত্ব ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ও সত্য অনুসন্ধানী। সত্য খুজে বেড়ানো আমার কাজ।

      যদি সব ধর্মের বিপক্ষে হন তাহলে জানতে চাই আপনার মতে মানুষের জীবন ধারা কিরূপ হওয়া উচিত? অর্থা্ৎ মানুষ জন্মলাভ করবে, খাবে দাবে চাকরী-বাকরী করবে, বৃদ্ধ হয়ে মরে যাবে। এতটুকুই জীবন?(

      বাস্তবে কি মানুষ তাই করে না ? মানুষের কাজ হবে সত্য অনুসন্ধান করা ও তা অনুসরন করা। জীবন-ধারা? সেটা মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নেবে কোনটা কখন দরকার। চুড়ান্ত আদর্শ জীবনধারা বলে কিছু নেই এই আপেক্ষিক জগতে। সেটাই আমার বক্তব্য।

    • ভবঘুরে মে 18, 2011 at 1:21 পূর্বাহ্ন - Reply

      @aunik,
      SolaimanLipi font গুগল থেকে সার্চ করে ইন্সটল করেন ফন্ট প্রব্লেম হবে না।

      প্রশ্ন আপনি পর্ন গ্রাফী কে কিভাবে দেখেন?প্রগতিশীলতা নাকি উদ্ভট?

      প্রগতিশীলতা বা উদ্ভট কোনটাই ভাবি না। তবে বিকৃত রুচির একটা বিনোদন মনে করি।

  27. মিলি মে 17, 2011 at 11:27 অপরাহ্ন - Reply

    এক রাতে মোহাম্মদ তার সাহাবীদের নিয়ে কাবা শরীফে অবস্থান করছিলেন।গভীর রাতে তিনি চুপি চুপি উঠে উম হানি( তার চাচাত বোন) এর বাড়ী হাজির হন।

    একজন চরিত্রহীন লুচ্চার পক্ষেই শুধুমাত্র এমনটা করা সম্ভব।

    পৃথিবীর সবচাইতে কাছের নক্ষত্র প্রক্মিমা সেন্টরাই এর দুরত্ব হলো ৪ আলোকবর্ষ।তার মানে আলোর গতিতে চললেও সেখানে পৌছে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসতে মোট সময় লাগবে ৮ বছর। জানা মহাবিশ্বের প্রান্ত সীমায় পৌছতে আলোর গতিতে চললেও কম পক্ষে ৩০ বিলিয়ন বছর লাগবে। তাহলে বেহেস্ত আসলে কোথায়? পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে বায়ুমন্ডল যতদুর তার মধ্যে অর্থাৎ মাত্র ৫০/৬০ কিলোমিটার উপরে? কারন তার বাইরে বোরাক তো তার ডানা দিয়ে উড়ে যেতে পারবে না। বেহেস্ত এত কাছে হলে তো অনেক আগেই মানুষ বেহেস্ত আবিস্কার করে ফেলত আর মনে হয় এতদিনে সেখানে কলোনী বানিয়ে ফেলত।

    :lotpot: :lotpot:

    খোদার কসম আমি মিথ্যা বলছি না।আল্লাহ নিজে নক্ষত্রের নামে কসম কাটছে, তার মানে নক্ষত্র আল্লাহর কাছে তার চাইতেও আরও বড় এক আল্লাহ।আল্লাহর দেখি মাথাই খারাপ হয়ে গেল।

    :hahahee: :hahahee:

  28. গোলাপ মে 17, 2011 at 10:47 অপরাহ্ন - Reply

    আমার মনে হয় এ পর্বের সাথে ১ম পর্বের ‘লিঙ্কটা’ যোগ করলে পাঠকদের সুবিধা হতো।

    • আবুল কাশেম মে 18, 2011 at 5:35 পূর্বাহ্ন - Reply

      @গোলাপ,

      আপনার মন্তব্য পড়ে পরিষ্কার আপনি ইসলাম নিয়ে প্রচুর গবেষণা করছেন এবং করছেন। আপনার প্রত্যকেটি মন্তব্য লিখে ্রাখার মত।

      আমার মনে হয় এবার আপনার সময় এসেছে ইসলামের বিরুদ্ধে কলম ধরার। আমি আপনার রচনা পড়ার জন্য অধীর আগ্রহে আছি।

      ভবঘুরে;

      আর কী লিখব? আগের মতই এই লিখাটি`ও চমৎকার হয়েছে। এক নিঃশ্বাসে পড়ে নিলাম। উম্ হানির সাথে নবীজির পরকীয়া প্রেম নিয়ে লিখার অনেক কিছু ছিল। সময়ের অভাবে বেশি মন্তব্য করতে পারছি না। আপনি আপনার কলম চালিয়ে যান। দেখবেন আপনার কলম থেকেই অনেক নতুন কলমের জন্ম হচ্ছে। আমরা এটাই চাই।

      • ভবঘুরে মে 18, 2011 at 10:55 পূর্বাহ্ন - Reply

        @আবুল কাশেম,

        ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

        আমার মনে হয় এবার আপনার সময় এসেছে ইসলামের বিরুদ্ধে কলম ধরার।

        বিষয়টিকে ঠিক এরকমভাবে বলা কেমন যেন বিসদৃশ লাগে। বরং বলা যেতে পারে সময় এসেছে সত্য প্রকাশের।

        আর হ্যা, পারলে উম্মে হানির বিষয়টি নিয়ে একটু বিস্তারিত লিখলে খুব ভাল হতো। সত্যিই ৯৯% মুসলমান জানে না , গভীর রাতে উম্মে হানির ঘর থেকে মেরাজ শুরু হয়েছিল আর শেষও হয়েছিল সেখানে যার নিহিতার্থ মোটেও শোভনীয় বা ভদ্রচিত নয়। আজ পর্যন্ত আমি কোন ওয়াজ মাহফিল বা ইমামের মুখ থেকে এ কথাটি শুনিনি। কারনও সঙ্গত। বুঝলাম না , এ সমস্ত মোল্লা মৌলভী কি করে বিষয়টি জানার পর মোহাম্মদকে এত শ্রেষ্ট জ্ঞান করে ? অবশ্য, এসব লুচ্ছামি যদি চরিত্রের একটা মাপকাঠি হয় তাহলে বিষয়টি ভিন্ন যা মোল্লাদের কাজ কামের মধ্যে মাঝে মাঝে ফুটে ওঠে। অনেক মোল্লাকেই দেখা যায় নাবালিকা ধর্ষণ করে ধরা খেতে।

        • মাহবুবুর রহমান মে 19, 2011 at 12:59 পূর্বাহ্ন - Reply

          পৃথিবীর প্রথম থকেই ভবঘুরের দ্লভুক্ত শয়তানরা কত চেষ্টা করলো ইসলাম এর বিরুদ্ধে কিন্তু কোনই সুরাহা পেলো না …………… এসকল ফালতু জিনিস নিয়ে তারাও নবীজিকে অনেক পরীক্ষায় ফেলেছিল কিন্তু সব সময় তাদের উত্তর ছিল – ইসলাম গ্রহণ । কারণ ইসলামই পবিত্র ধর্ম , যা স্বয়ং আল্লাহ্‌ থেকে প্রেরিত ।

          • ভবঘুরে মে 19, 2011 at 9:27 পূর্বাহ্ন - Reply

            @মাহবুবুর রহমান,

            পৃথিবীর প্রথম থকেই ভবঘুরের দ্লভুক্ত শয়তানরা কত চেষ্টা করলো ইসলাম এর বিরুদ্ধে কিন্তু কোনই সুরাহা পেলো না …………… এসকল ফালতু জিনিস নিয়ে তারাও নবীজিকে অনেক পরীক্ষায় ফেলেছিল কিন্তু সব সময় তাদের উত্তর ছিল – ইসলাম গ্রহণ

            আহ কি সুন্দর ভাষা! এই না হলে মুমিন বান্দা!
            ভাই, আপনি প্রমান করুন, নিবন্ধে যা বর্ননা করা হয়েছে তা মিথ্যা, বানানো ও মনগড়া। প্রমান করতে পারলে আপনার কাছে বায়াত নিয়ে মুমিন বান্দা হয়ে যাব। একটা কথা ভাল করে শুনে রাখেন, আপনি যে ভাষায় কথা বলছেন, আপনাদের ভাষায় ইহুদি, নাসারা, কাফের এরাও যদি ঠিক একই ভাষায় কথা বলত, দুনিয়াতে কোন মুসলমানের চিহ্ন খুজে পাওয়া যেত না। ওরা নিতান্ত ভাল উদায় হৃদয় বলে তাদের করুনায় আপনারা এখনো বেঁচে আছেন। তবে আপনারা যদি আপনাদের মানসিকতার পরিবর্তন না করেন ভবিষ্যতে ওরা ভবিষ্যতে এত ভদ্রতা বা উদারতা বা সহিষ্ণুতা দেখাবে মনে করার কোন কারন নেই। আর সে ক্ষেত্রে যে আল্লাহ বা জিব্রাইল ফেরেস্তা রক্ষা করতে এগিয়ে আসে না তার ভুরি ভুরি প্রমান হলো- মধ্যযুগে স্পেন থেকে মুসলমানদেরকে ঝেটিয়ে বিদায়, সাম্প্রতিক কালে আফগানিস্তান, ইরাক। এমনকি বিন লাদেনকে বাঁচানোর জন্যও আল্লাহ বা ফিরিস্তা এগিয়ে আসে নি। আসলে যারা শয়তান তাদেরকে বাঁচানোর জন্য আল্লাহ বা ফিরিস্তার এগিয়ে আসার কথাও নয়, ভবিষ্যতে কোন মানুষও এদেরকে বাঁচাতে এগিয়ে আসবে না। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। সুতরাং সময় থাকতে সত্য জিনিসটা কি তা জেনে গ্রহন করাই বুদ্ধিমানের মত কাজ হবে।

      • গোলাপ মে 19, 2011 at 11:43 পূর্বাহ্ন - Reply

        আপনার মন্তব্য পড়ে পরিষ্কার আপনি ইসলাম নিয়ে প্রচুর গবেষণা করছেন এবং করছেন। —
        আমার মনে হয় এবার আপনার সময় এসেছে ইসলামের বিরুদ্ধে কলম ধরার।

        কাশেম ভাই /ভবঘুরে,
        বেশ লজ্জাই ফেললেন! ইসলামের খুঁটি-নাটি অনেক অনেক তথ্য জেনেছি আপনাদের বিভিন্ন লিখাই। আমি মুক্ত-মনার অনেক পূরনো পাঠক, প্রায় সেই শুরু থেকে। এখান থেকে অনেক কিছু শিখেছি /জেনেছি। অপার্থিব, আকাশ মালিক, অভিজিৎ দা, মিজান রহমান, সৈকত চৌধুরী সবার লিখা থেকে অনেক অজানা তথ্য জানার সৌভাগ্য হয়েছে। কোন দিন লিখবো বলে চিন্তা করি নাই।

        রক্ষনশীল খোদাভীরু মুসলীম পরিবারে জন্ম, জন্ম সুত্রে গোঁড়া মুসলামান। প্রথম খটকা টা লাগলো সেই ১৯৭১ সালে বিজয় দিবসের পর, আমি তখন স্কুলের শেষ বর্ষে পড়ি। জেলা শহরে বিহারী পাড়ার এক প্রান্তে বাসা, সমবয়েসী বিহারী ছেলেরাই ছিল আমার সহপাঠী ও বন্ধু-বান্ধব মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পূর্ব পর্যন্ত। তাদেরই বাসা-বাড়ী, আসবাবপত্র সব কিছু লুট-পাট করে নিয়ে যাচ্ছে বাংগালীরা। এমন কি তাদের দালানের ইট পর্যন্ত । যেমন করে তারা আমাদের বাসা-বাড়ীর সমস্ত কিছু লুট করেছিল ২৬শে মার্চের পরের সময়গুলোতে, আমরা সবকিছু ফেলে গিয়েছিলাম গ্রামে। আব্বা পরহেজগার মানুষ, তার মন কিছুতেই এ বিষয়ে (অন্যের সম্পত্তি লুট) সায় দিচ্ছিল না, যদিও আমরা সবকিছু হারিয়েছি। এ ব্যপারে ইসলামী বিধান কি তা জানার জন্য আব্বা মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে জানতে চাইলেন। আমিও তখন আব্বার পাশে। ইমাম সাহেব জ্ঞানী মানুষ, একাধারে “কোরাণে ক্বারী এবং হাফেজ”-আমাদের ঐ জেলা শহরের বিশিষ্ট আলেম। তিনি অবলীলায় বললেন, “ইসলামী দৃষ্টিতে এটা সম্পূর্ন জায়েজ। এটা গনিমতের মাল, ‘আপনি নিতে পারেন”। তখন ছোট ছিলাম, বেশী কিছু বুঝতাম না। এটুকু বুঝতাম অন্যের জিনিষ নেয়া উচিৎ নয়।

        ২য় খটকাটা লাগলো ১৯৭৫ সালের দিকে। আমার এক নিকট-আত্মীয় ‘ইসলামিক হিস্টিতে” অনার্স পড়েন। থাকেন দুরের এক শহরে।তার বাসায় বেড়াতে গিয়ে তার ঐ বইগুলো পড়ে খুবই হতাশ হলাম। জানলাম শান্তির ধর্মের ‘অশান্তি’ সেই ১ম থেকেই শুরু। কিন্তু এটার জন্য ‘মানুষ দায়ী’ ধর্ম নয় এ চিন্তার বাহিরে কিছুই ভাবতে পারি নাই।

        ৩য় ধাক্কাটা পেলাম ‘কুরানের” বাংলা তরজমা পড়ার পর। ১৯৮৩ সালের দিকে। বিশ্বাসই হচ্ছিল না বিশ্বব্রন্মান্ডের সৃষ্টিকর্তা “আল্লাহর” বৈশিষ্ট এমন হতে পারে! জানলাম, “সে চায় মানুষ তাকে মহান বলে ‘স্বীকার’ করুক, অস্বীকারকারীর (সমস্ত অমুস্লীম) স্থান সোজা দোজখ তা সে যত ভাল কাজই করুক না কেন! তাকে সালাম করতে হবে /যাবতীয় তোশামদে খুশী হন তিনি, না করলে হন রুষ্ঠ -ব্যবস্হা করেন অনন্তকাল শাস্তির”! আমার এক আত্মীয় সিনিয়ার ভাইকে ( যিনি ইঞ্জিনিয়ারিং এ ডক্টরেট এবং ঢাকা কাকরাইল মসজিদের নিয়মিত খেদমতগার ) যখন বললাম ‘কুরানে আল্লাহর বর্ননার সাথে আমদের শহরের ‘সন্ত্রাসী’ সম্রাট ভাইয়ের বেশ মিল আছে। সম্রাট ভাইকে গন্য-মান্য করে চললে, সকাল বিকাল দেখা হলে সালাম দিলে অনেক সুবিধা মেলে এবং তার অপছন্দের কো্ন কাজ না করলে ভয়ের কোন কারন নাই”। শুনে তিনি প্রচন্ড রেগে গেলনে এবং বললেন, ‘ মিয়া তুমি ফাজলামু পাইছো, আল্লাহর সাথে সামান্য এক ‘সন্ত্রাসীর’ তুলনা করো! তোমার তো কোন ঈমানই নাই!”

        নিজের ধর্মটাকে আরো ভালভাবে জানার আগ্রহ নিয়ে সেই থেকে শুরু। ইসলামকে সঠিকভাবে জানার জন্য প্রয়োজন “শুধু মুহাম্মাদ” কে জানা। শুধুই মুহাম্মাদ।গত ১৪০০ বছর ধরে মুহাম্মাদকে ‘আড়াল” করে রাখা হয়েছে তার শৌর্য-বীর্য- বিরোত্ত-মহানুভবতার কাব্য কাহিনী রচনা, বক্তৃতা বিবৃতিতে। মুহাম্মাদ পৃথিবীর “শ্রেষ্ঠ সফলকাম” ব্যক্তিদের একজন। কিন্তু তার সফলতার ‘পিছনে যে ইতিহাস (মদীনার ১০ বছর)’ তা বড়ই ভয়ঙ্কর ও বেদনাদায়ক, সমস্ত মানব জাতীর জন্য। সে ইতিহাস না জানলে মুহাম্মাদের চরিত্রের এক বিরাট অংশ অজানা থেকে যায়। আর তা জানলে মুহাম্মাদের বর্নিত কুরানে “আল্লাহর” চিত্র কেন যে এক প্রবল পরাক্রমশালী, নিষ্ঠুর, তোষামদ প্রিয়, “সন্ত্রাসীর” অনুরুপ তা বুঝতে পাঠকদের কোনই অসুবিধা হবে না।

        • ভবঘুরে মে 19, 2011 at 11:56 পূর্বাহ্ন - Reply

          @গোলাপ,

          আপনি যথার্থ বলেছেন। ইসলামকে জানতে গেলে আগে জানতে হবে মোহাম্মদকে। অথচ আমরা মোহাম্মদের একটা কল্পিত ছবি একে কোরান ও হাদিসের ওপর পূর্ণ আস্থা জ্ঞাপন করি ও নি:শর্ত আত্মসমর্পন করি। মোহাম্মদকে ভাল মতো জানতে পারলে কোরান কি জিনিস আর ইসলাম কেমন ধর্ম তা জানা যায় ভালমতো।

        • আবুল কাশেম মে 20, 2011 at 2:03 পূর্বাহ্ন - Reply

          @গোলাপ,

          জন্ম সুত্রে গোঁড়া মুসলামান। প্রথম খটকা টা লাগলো সেই ১৯৭১ সালে বিজয় দিবসের পর, আমি তখন স্কুলের শেষ বর্ষে পড়ি।

          আমাদের অনেকের একই অভিজ্ঞতা। ১৯৭১-এ আমরা যা দেখেছি এবং অভিজ্ঞতা লাভ করেছি–তা থেকে আঁচ করা যায় ইসলামের কুৎসিত দিকগুলি।

          ইসলামকে সঠিকভাবে জানার জন্য প্রয়োজন “শুধু মুহাম্মাদ” কে জানা। শুধুই মুহাম্মাদ।গত ১৪০০ বছর ধরে মুহাম্মাদকে ‘আড়াল” করে রাখা হয়েছে তার শৌর্য-বীর্য- বিরোত্ত-মহানুভবতার কাব্য কাহিনী রচনা, বক্তৃতা বিবৃতিতে।

          একে বারি সত্যি কথা। তাই আমরা কলম ধরেছি মুহাম্মদ তথা নবীজির স্বরূপ উন্মোচন করতে। নবীজি ছাড়া ইসলাম নাই । নিবীজিই হচ্ছেন আল্লাহ্‌ এবং আল্লাহ হচ্ছেন নবীজি। আসলে নবীজির ইসলাম এক ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছু নয়–সবই মিথ্যা, জালিয়াতি। এই-ই হচ্ছে আসল কথা।

  29. গোলাপ মে 17, 2011 at 10:16 অপরাহ্ন - Reply

    তথাকথিত ইসলামী পন্ডিত যাদের পর্দার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কে সামান্যতম জ্ঞান আছে বলেও মনে হয় না তারা মোহাম্মদের এক আজগুবি ও ভুয়া মিরাজ কিচ্ছার মধ্যে আপেক্ষিকতাবাদের সূত্র খুজে মরছে।

    শ্রোতারা যদি ততোধিক অজ্ঞ হয় তাহলে “পান্ডিত্য” ফলাতে অসুবিধা কোথায়? ধরা পড়ার ভয় তো নেই!

    কারো নিকট অন্য কেউ যদি সম্পদ গচ্ছিত রাখে আর তা ফেরত দেয় অথচ একই সাথে সেই একই ব্যাক্তি যদি বানিয়ে বানিয়ে কিচ্ছা তৈরী করে মানুষকে ধোকা দেয় বা বিপথে পরিচালিত করে- তাকে আর যাই হোক সত্যবাদী বলা যায় না।

    আর জোরপূর্বক ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে অপরের ‘ঘর-বাড়ী-সম্পত্তি-লুন্ঠন” ও মুক্ত মানুষকে দাস-দাসীতে পরিনত কারীকে আর যাই হোক “বিবেকবান বা মহান” বলা যায় না।

    @ভবঘুরে,
    আবারো প্রমান করলেন নিজেকে একজন শক্তিশালী লেখক হিসাবে। লিখাটি দারুন! আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

    • ভবঘুরে মে 18, 2011 at 1:25 পূর্বাহ্ন - Reply

      @গোলাপ,

      শ্রোতারা যদি ততোধিক অজ্ঞ হয় তাহলে “পান্ডিত্য” ফলাতে অসুবিধা কোথায়? ধরা পড়ার ভয় তো নেই!

      একমত।
      ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। আমি আপনার মন্তব্য মনোযোগ দিয়ে পড়ি কারন তাতে প্রচুর তথ্য থাকে। আমার ধারনা আপনি আমার চাইতে অনেক ভালো লিখতে পারেন। কিন্তু এই ব্লগে আপনার লেখা তো দেখি না।

    • সৈকত চৌধুরী মে 24, 2011 at 1:30 পূর্বাহ্ন - Reply

      @গোলাপ,

      আপনি যদি ব্লগ লেখা শুরু করে দেন তবে দারুণ হবে। আপনার লেখা পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম।

  30. নিটোল মে 17, 2011 at 5:48 অপরাহ্ন - Reply

    বাকরুদ্ধ আমি!!

    মেরাজের কোনো ঘটনা ঘটেনি এটা বোঝার জন্য রকেট সায়েন্টিস্ট হতে হয় না। সাধারণ যুক্তি-বুদ্ধি প্রয়োগ করলেই ব্যাপারটা পরিস্কার হয়ে যায়। কিন্তু মেরাজের পেছনে যে কাহিনী আছে তা আমার জানা ছিলো না। আমাদেরকে যখন স্কুলের হুজুরেরা এই কাহিনী শুনিয়েছেন তখন উম্মে হানির বাড়িতে যাওয়ার কথা পুরোটাই চেপে গেছেন -তা আজকে বুঝতে পারলাম।

    সত্য প্রকাশ পাবেই; যেকোনো ভাবেই,যেকোনো সময়েই।

    লেখককে ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন