আমিনীরা সবাই মনুর প্রেতাত্মা

লিখেছেনঃ মিলন আহমেদ

আমার মা। বাল্যকাল কাটিয়েছেন তাঁর বাবার বাড়িতে। সেই সংসারে তাঁর বাবা ছাড়াও ছিল তাঁর মা, ছিল ভাই-বোন। সেখানে সকল কর্তৃত্ব ছিল তাঁর বাবার। খেয়েছেন, পরেছেন বটে কিন্তু তা অবশিষ্টাংশ। মাছ হয়ত খেয়েছেন তবে মাছের মাথার স্বাদটা তিনি সেখান থেকে কোনদিন পাননি। ভাল মাছটা, ভাল মাংসটুকু খেয়েছেন তাঁর বাবা অথবা তাঁর ভাই। তারপর আমার মায়ের বিয়ে হল, এলেন আমার বাবার বাড়িতে। শুরু হল কলুর বলদের মত ঘানি টানা।  সংসারে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম, কিন্তু কর্তৃত্ব তাঁর স্বামীর। চরম দারিদ্রতা। সিংহভাগ কষ্ট আমার মায়ের। বাসি, পচা, পান্তা ছিল তাঁর কপালের সাথে জোড়া লাগানো। ননদ-জায়ের অত্যাচারের সাথে ছিল অনাহার-অর্ধাহার। কাউকে বুঝতে দিতে চাননি তাঁর সীমাহীন কষ্টের কথা। দীর্ঘদিনের স্বামীর সংসারে ছিল দুঃখ-কষ্টের পাহাড়। মাছ-মাংস সব-সময় জুটতো না। যদি কখনও জুটতো তা তাঁর স্বামীকে অথবা ছেলেকে দিয়ে খাওয়াতেন। অবশিষ্টাংশ হয়ত কোনোদিন দু’একটু পেতেন, কিন্তু মাছের মাথা যে তাঁর পেটে কোনোদিন যায়নি সে কথা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি। এরপর আমার বাবার মৃত্যু হল। আমার মা এখন থাকেন ছেলের সংসারে। তিনি এখন বাড়ির অতিরিক্ত মানুষ। তাঁর নিজের কোনো বাড়ী কখনও ছিল না এবং এখনও নেই। বাল্যকালে পিতার, যৌবনকালে স্বামীর এবং বৃদ্ধকালে সন্তানের উপর নির্ভরশীল। শুধু আমার মা নয়, এদেশের সকল মা-ই মানুষের মর্যাদা পায় না। কারণ সম্পত্তিতে নারীর কোনো অধিকার এ দেশে নেই। দেশটা চলছে মনুসংহীতা অনুযায়ী এবং তা টিকিয়ে রাখার এজেন্সি নিয়েছে ফজলুল হক আমিনীরা। আমিনীরা সবাই মনুর প্রেতাত্মা। মনু বলেছেন,

‘পিতা রক্ষতি কৌমারে, ভর্ত্তা রক্ষতি যৌবনে।

রক্ষতি স্থবিরে পুত্রা, ন স্ত্রী স্বাতন্ত্র্যমর্হতি।’

মনুসংহীতা অনুযায়ী নারীকে কুমারীকালে রক্ষা করবে পিতা, যৌবনে  রক্ষা করবে স্বামী এবং বার্ধক্যে রক্ষা করবে পুত্ররা। নারী কখনই স্বাধীন থাকার যোগ্য নয়। নারী অসম্পূর্ণ মানুষ, যার নিজের শক্তি নেই নিজেকে রক্ষা করার। তবে মজার বিষয় হল, মনুসংহীতা হিন্দু ধর্মের বিষয় হলেও হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রগুলো মনুর বক্তব্যকে লাথি মেরে ফেলে দিয়েছে অনেক আগেই। আমার জানামতে, ভারতে Uniform family code জারির মাধ্যমে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পিতার সম্পত্তিতে পুত্র-কন্যার সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে অনেক আগেই। হিন্দুরা যখন মনুসংহীতাকে ডাস্টবিনে ফেলে দিচ্ছে তখন আমাদের আমিনীরা তা রক্ষা করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। আমার বিশ্বাস তারা সুযোগ পেলে নারীকে আবার চিতায় তুলবে। মাদ্রাসার ছাত্রদের এক হাতে কুরআন শরীফ আর এক হাতে লাঠি দিয়ে পাঠাচ্ছে যাও মনুসংহীতাকে রক্ষা কর। হরতালের নামে ভাংচুর কর। মানুষের জান-মালের ক্ষতি কর। কিসের রাষ্ট্র। কিসের গণতন্ত্র। ফতোয়ার রাজত্ব কায়েম কর। মহিলারা মানুষ না। মানুষ হলেও অর্ধেক মানুষ। সম্পত্তিতে তাদের কোনো অধিকার থাকবে না। পুরুষের সেবা করার জন্য তারা দুনিয়ায় এসেছে। নারী অশুভ, নারী দূষিত, নারী কামদানবী। গত ৪ এপ্রিল এভাবেই হরতালের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করল আমিনী বাহিনী। হরতাল যদিও পালিত হয়নি কিন্তু তারা শত শত গাড়ী ভাংচুর করল। পুলিশের গাড়ীতে আগুন দিল। পুলিশকে মারধর করল, অস্ত্র লুট করল, ওয়াকিটকি লুট করল। যেখানে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার ক্ষমতায় এবং নির্বাচিত কোনো বিরোধী দল হরতাল ডাকেনী, সেখানে চললো তাণ্ডব। শিক্ষানীতি তারা মানবে না। মানবে কেন ? বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষিত হলে জাতি তো এগিয়ে যাবে। আর জাতি এগিয়ে গেলে, সচেতন হলে ধর্ম ব্যবসা চলবে না। তাদের কথা ফতোয়া চালু করতে হবে, আমরা র্দোরা মারবো। তাদের আরও কথা প্রস্তাবিত নারী উন্নয়ন নীতি বাতিল করতে হবে। নারী উন্নয়ন নীতির ২৩.৫ নং এবং ২৫.২ নং ধারায় তাদের আপত্তি। দেখা যাক, সেখানে কি আছে। ধারা ২৩.৫ ঃ “সম্পদ, কর্মসংস্থান, বাজার ও ব্যবসায় নারীকে সমান সুযোগ ও অংশিদারিত্ব দেয়া।” এবং ধারা ২৫.২ ঃ “উপার্জন, উত্তরাধিকার, ঋণ, ভূমি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্জিত স¤পদের ক্ষেত্রে নারীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রদান করা।”

ত্রিভূজের তিন কোণের সমষ্টি দুই সমকোণের সমান একথা যেমন সত্যি, তেমনি আজকের বিশ্বে নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া জাতীয় অগ্রগতি সম্ভব নহে এ কথাও ধ্রুববসত্য। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সেইদেশ তত উন্নত যেদেশের নারী বেশি ক্ষমতায়িত। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জনগণের কাছে অগ্রগতির প্রতিশ্র“তি দিয়ে ম্যাণ্ডেড নিয়েছে। ছোট্ট একটু দেশে ১৭ কোটি মানুষ। কাজেই হাজারও সমস্যায় জর্জরিত এই দেশকে একটি সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে অবশ্যই নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করতে হবে সবার আগে। নারীর উন্নয়নের অর্থ দেশের উন্নয়ন। সমাজের উন্নয়ন। দেশের প্রতিটি মানুষের উন্নয়ন। ধর্মের নামে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে নিচে চাপা দিয়ে রেখে জাতীয় উন্নয়নের শ্লোগান হাস্যকর এবং স্ব-বিরোধী। ধর্ম ব্যবসায়ীদের মুখে কত কথাই না আমরা শুনেছি। কত হাজার বার যে শুনেছি ‘ইসলামে নারী নেতৃত্ব হারাম’। আমিনী সাহেবের কাছে প্রশ্ন করতে চাই বেগম খালেদা জিয়ার সাথে জোট করা হারাম কি না। ইসলামে কত কিছু হারাম ছিল বলে মৌলভী সাহেবরা বক্তৃতা বিবৃতি দিয়েছেন তার কোনো ইয়ত্তা নেই। একসময় তারা বলত ইংরেজী পড়া হারাম। নবাব আব্দুল লতিফ ১৮৭০ সালে উত্তর প্রদেশ থেকে মাওলানা কেরামত আলীকে এনে গড়ের মাঠে বক্তৃতা করিয়েছিলেন ইংরেজীকে হালাল করার জন্য। এখন দেখি ধর্ম ব্যবসায়ীরাও ইংরেজীতে কথা বলে এবং তাদের ছেলে-মেয়েদেরকে ইংরেজী মাধ্যমে পড়ায়। এক সময় ছবি তোলা হারাম ছিল। এখন তারা ঠিকই টেলিভিশনে নুরানী চেহারা দেখায়।

এই দেশটি ধর্ম-নিরপেক্ষ চেতনা নিয়েই স্বাধীন হয়েছে। একমাত্র স্বাধীনতা বিরোধীরাই নারী অধিকারের বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারে। প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী কোনো সময়ই জাতীয় অগ্রগতি মেনে নেয় না। আমি আতংকগ্রস্থ, আমার মনে হচ্ছে একটি অশুভ রাজনীতি আমাদের গ্রাস করতে এগিয়ে আসছে। বিরোধী দল অবশ্যই সুস্থ ধারায় সরকারের বিরোধীতা করবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমার ভয় হচ্ছে, কারণ প্রকাশ্য বক্তৃতায় শুনতে পাচ্ছি, ‘পিতার যে পরিণতি, কন্যারও তা হবে।’ তার মানে তারা বলছে, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা ঠিক ছিল এবং শেখ হাসিনাকেও হত্যা করা হবে। দেশের এই পরিস্থিতি সরকারকে  অত্যন্ত শক্তহাতে মোকাবেলা করতে হবে। পাশাপাশি কয়েক ডজন নারীবাদী ও মানবতাবাদী সংগঠনকে আঙ্গুল চুষলে হবে না। এছাড়া সকল প্রগতিশীল এবং বিজ্ঞানমনস্ক মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের মায়েরা যেভাবে সম্পত্তিহীন এবং অসহায় জীবন পার করেছেন, সারা জীবনে মাছের মাথার স্বাদটা পাননি, আমাদের মেয়েদের যেন তা না করতে হয়।

লেখকঃ নারীবাদী কলামিস্ট, ঈশ্বরদী, বাংলাদেশ।

ই-মেইল- [email protected]

About the Author:

মুক্তমনার অতিথি লেখকদের লেখা এই একাউন্ট থেকে পোস্ট করা হবে।

মন্তব্যসমূহ

  1. শ্রাবণ আকাশ এপ্রিল 17, 2011 at 10:57 পূর্বাহ্ন - Reply

    অসাধারণ টাইটেল!

  2. তটিনী এপ্রিল 15, 2011 at 1:46 অপরাহ্ন - Reply

    @তামান্না ঝুমু,
    ঈশ্বর কে পৃথিবী থেকে হটালেই যে পৃথিবীর মঙ্গল সাধন হবে আমি তা মনে করিনা।কারণ,সমস্যা তো ঈশ্বরের মধ্যে না,মানুষের মধ্যে।আর ঈশ্বর তো একটি বিশ্বাস মাত্র,কেউ সেটা করবে কেউ করবে না।পৃথিবীর অনেক জায়গাতেই কিন্তু নাস্তিকতার চর্চা খুব ভালভাবেই হয়,কিন্তু সেখানেও যে তারা পুরোপুরি ভাল আছে তা কিন্তু না।কারণ সেখানেও আছে আমিনীর অনুরূপ বিকৃভ মানসিকতার দূষিত কিছু মানুষ।তারাও সাধারণ মানুষর জীবন দুর্বিষহ করছে শুধু প্রেক্ষপট ভিন্ন।ভাই,আসুন আমরা পৃথিবী থেকে এই সব আমিনী দেরকে হটিয়ে পৃথিবীর মঙ্গল সাধন করি,আর একদিন নিশ্চয়ই আমরা সফল হব।

  3. তটিনী এপ্রিল 15, 2011 at 12:53 অপরাহ্ন - Reply

    ভিন্নধর্মী একটি লেখা।ভাল লাগলো

  4. ব্রাইট স্মাইল্ এপ্রিল 15, 2011 at 3:23 পূর্বাহ্ন - Reply

    দেশটা চলছে মনুসংহীতা অনুযায়ী এবং তা টিকিয়ে রাখার এজেন্সি নিয়েছে ফজলুল হক আমিনীরা।

    কথাটি বেশ মজার এবং সত্য।

    ইসলামে কত কিছু হারাম ছিল বলে মৌলভী সাহেবরা বক্তৃতা বিবৃতি দিয়েছেন তার কোনো ইয়ত্তা নেই। একসময় তারা বলত ইংরেজী পড়া হারাম। নবাব আব্দুল লতিফ ১৮৭০ সালে উত্তর প্রদেশ থেকে মাওলানা কেরামত আলীকে এনে গড়ের মাঠে বক্তৃতা করিয়েছিলেন ইংরেজীকে হালাল করার জন্য। এখন দেখি ধর্ম ব্যবসায়ীরাও ইংরেজীতে কথা বলে এবং তাদের ছেলে-মেয়েদেরকে ইংরেজী মাধ্যমে পড়ায়। এক সময় ছবি তোলা হারাম ছিল। এখন তারা ঠিকই টেলিভিশনে নুরানী চেহারা দেখায়।

    ঠেলায় যখন পরা হয় বা পরিবেশ পরিস্থিতি যখন অনুকুলে থাকেনা বা লোভ সামলানো যখন অসাধ্য হয়ে পরে তখন এইসব মাওলানা সাহেবদের কাছে হারাম জিনিষ হালাল হতে বেশী সময় লাগেনা।

  5. বোকা বলাকা এপ্রিল 14, 2011 at 10:21 অপরাহ্ন - Reply

    গোড়ায় গলদ। সংবিধানে বিসমিল্লাহ্ সংযোজন আর রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বজায় রেখে কোরান বিরোধী নারী নীতিমালা প্রনয়ন করলে তো আমিনীরা ফাল পাড়বেই।সরকার নারী নীতিমালা প্রনয়ন করে তা বাস্তবায়ন করতে চায় অথচ সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ্ আর ইসলাম ধর্ম তাড়াতে ভয় পায় কেন।তাদের তো প্রচুর জনসমর্থন দেয়া হয়েছে।

  6. নিটোল এপ্রিল 14, 2011 at 7:41 অপরাহ্ন - Reply

    @আসরাফ,

    মুক্তমনার সদস্যদের চিন্তার বৈচিত্রে আমি প্রায়ই খুব আশ্চার্য হই।

    আমিও। :-s

  7. আদম অনুপম এপ্রিল 14, 2011 at 1:08 অপরাহ্ন - Reply

    গত কয়েকদিন আগে একটি দৈনিক পত্রিকায় একটি খবর পড়লাম, যশোরে আমিনীর জনসভায় দুই নারী টিভি সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহ করতে গেছে বলে আমিনীরা হা রে রে করে তেড়ে এসেছে তাকে হেনস্থা করে বিদায় করতে! সাংবাদিদের অপরাধ উনারা ‘নারী’! তাঁদের উপস্থিতি এখানে হারাম! বাহ! চমৎকার(?!) আমার প্রশ্ন হচ্ছে, নারীদের যদি ওদের এতোই অসহ্য লাগে তাহলে কেন ওরা একজন নারীকে বিয়ে করে? একজন পুরুষ বা গেলমানকে বিয়ে করলেই পারে। জন্ম নেবার পর না হয় সে বুঝতে পারে নি কিন্তু এখন তো সে জানে সে একজন পুরুষের গর্ভে জন্ম গ্রহন করে নি! জন্ম নিয়েছে একজন নারীর গর্ভে। এখন তো লজ্জায় নিজেকে ঘেন্না করা উচিৎ। কেন সে একজন নারীর গর্ভে জন্মগ্রহন করল- এই লজ্জায়-ঘৃণায়-অপরাধে আতœহত্যা করা উচিৎ!

  8. kobutor এপ্রিল 13, 2011 at 11:10 অপরাহ্ন - Reply

    ইসলাম নাকি নারীকে সবচেয়ে বেশি অধিকার দিয়েছে!!! এই তার সম্মান!!??

  9. হিমু ব্রাউন এপ্রিল 13, 2011 at 10:55 অপরাহ্ন - Reply

    আমিনীরা সবাই মনুর প্রেতাত্মা (F) (F)
    অসাধারণ

  10. তামান্না ঝুমু এপ্রিল 13, 2011 at 10:45 অপরাহ্ন - Reply

    পৃথিবীতে যতদিন ধর্ম বেঁচে থাকবে ও যতদিন ঈশ্বর বেঁচে থাকবে(যার কখনো জন্মই হয়নি) ততদিন পৃথিবীর সর্বাঙ্গিন উন্নতি সম্ভব নয়। ধর্ম তথা ঈশ্বরকে পৃথিবী থেকে অবিলম্বে হটাতে হবে, পৃথিবীর মঙ্গলের জন্য। সেটা কিভাবে সম্ভব? লেখাটি ভাল লেগেছে । মুক্তমনায় স্বাগতম।

  11. রৌরব এপ্রিল 13, 2011 at 10:42 অপরাহ্ন - Reply

    নারী নীতিতে কি আছে সেটা কি স্পষ্ট? কোথায় যেন দেখলাম উত্তরাধিকার বিষয়ে এই নীতির বক্তব্য স্পষ্ট নয়।

    • বাসার এপ্রিল 15, 2011 at 8:40 অপরাহ্ন - Reply

      @রৌরব,সরকারের এত সাহস ‍নেই। ‍

  12. জনৈক রাকিব এপ্রিল 13, 2011 at 10:21 অপরাহ্ন - Reply

    শিক্ষানীতি তারা মানবে না। মানবে কেন ? বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষিত হলে জাতি তো এগিয়ে যাবে। আর জাতি এগিয়ে গেলে, সচেতন হলে ধর্ম ব্যবসা চলবে না। তাদের কথা ফতোয়া চালু করতে হবে, আমরা র্দোরা মারবো। তাদের আরও কথা প্রস্তাবিত নারী উন্নয়ন নীতি বাতিল করতে হবে। নারী উন্নয়ন নীতির ২৩.৫ নং এবং ২৫.২ নং ধারায় তাদের আপত্তি। দেখা যাক, সেখানে কি আছে। ধারা ২৩.৫ ঃ “সম্পদ, কর্মসংস্থান, বাজার ও ব্যবসায় নারীকে সমান সুযোগ ও অংশিদারিত্ব দেয়া।” এবং ধারা ২৫.২ ঃ “উপার্জন, উত্তরাধিকার, ঋণ, ভূমি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্জিত স¤পদের ক্ষেত্রে নারীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রদান করা।”
    (Y) (F)

    :guli: আমিনির :-[ মত কিটগুলি কিভাবে যে আমাদের সমাজকে একে একে গ্রাস করে নিচ্ছে …।এদের বিরুদ্দে ব্যপক জনমত চাই।ব্যপক জনমত

  13. লীনা রহমান এপ্রিল 13, 2011 at 9:44 অপরাহ্ন - Reply

    ভাল লিখেছেন।
    আমি হতবাক হয়ে রই যখন দেখি আমিনী লোকটা রাজনৈতিক কোন বড় পদে না থাকলেও কিরকম স্পর্ধার সাথে কথা বলে!

  14. গীতা দাস এপ্রিল 13, 2011 at 7:40 অপরাহ্ন - Reply

    হরতাল যদিও পালিত হয়নি কিন্তু তারা শত শত গাড়ী ভাংচুর করল। পুলিশের গাড়ীতে আগুন দিল। পুলিশকে মারধর করল, অস্ত্র লুট করল, ওয়াকিটকি লুট করল। যেখানে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার ক্ষমতায় এবং নির্বাচিত কোনো বিরোধী দল হরতাল ডাকেনী, সেখানে চললো তাণ্ডব।

    কাজেই হরতাল হয়েছে, তবে আওয়ামীলীগ বা বি এন পি ডাকলে যেভাবে হয় সেভাবে নয়। আমার জানা কয়েকজন ইচ্ছে করে বের হয়েছে হরতাল ভঙ্গ করার মনোভাব নিয়ে, তবে প্রতিরোধ করার জন্য নয়।
    কে করবে প্রতিরোধ ? ভাই ই যে হরতাল চায় বোনকে ঠকাতে। বাবা -মা হরতাল চায় মেয়েকে ঠকাতে।
    যাহোক, সে এক পুরানো বির্তক।
    আপনার লেখায় একটা ভিন্নতা রয়েছে, সে বিষয়ে কাজী রহমান আগেই বলেছেন। অনেকদিন পরে লিখলেন।আশা করি শীঘ্রই আবার আপনার ভিন্ন ধর্মী আরেকটি লেখা পাব।

  15. বিজন এপ্রিল 13, 2011 at 12:57 অপরাহ্ন - Reply

    আমি এবার যেদিন খুলনা থেকে আসি, আমার পাশে এক পুরুষ ও দুই মহিলা আলচনা করছিলেন, তার সার মর্ম ছিল যে হুজুররা শুধু পারে মহিলাদের সাথে, তা ছাড়া আন্য কোন ভাল কাজের সাথে তারা নাই বা আর কিছু পারে না।

    তো আসলে তাই তারা মনে করে নারি দের দমন করলে তাদের ইসলামি শাসন কর্যকর হয়ে যাবে।

    • স্বপন মাঝি এপ্রিল 14, 2011 at 11:53 পূর্বাহ্ন - Reply

      @বিজন,
      গ্রামে একটা কথা খুব চালু ছিল, ” মোল্লার দৌড় মরজিদ ( মসজিদ) পর্যন্ত, কুত্তার দৌড় পায়খানা পর্যন্ত।”

  16. নিটোল এপ্রিল 13, 2011 at 12:15 অপরাহ্ন - Reply

    দারুণ লিখেছেন! মুক্তমনায় স্বাগতম। (F)

  17. কাজী রহমান এপ্রিল 13, 2011 at 10:35 পূর্বাহ্ন - Reply

    দেশটা চলছে মনুসংহীতা অনুযায়ী এবং তা টিকিয়ে রাখার এজেন্সি নিয়েছে ফজলুল হক আমিনীরা। আমিনীরা সবাই মনুর প্রেতাত্মা।

    সহজ অথচ ভিন্ন দৃষ্টির এই ভঙ্গিটা চমৎকার লাগলো।

    হিন্দুরা যখন মনুসংহীতাকে ডাস্টবিনে ফেলে দিচ্ছে তখন আমাদের আমিনীরা তা রক্ষা করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। আমার বিশ্বাস তারা সুযোগ পেলে নারীকে আবার চিতায় তুলবে। মাদ্রাসার ছাত্রদের এক হাতে কুরআন শরীফ আর এক হাতে লাঠি দিয়ে পাঠাচ্ছে যাও মনুসংহীতাকে রক্ষা কর।

    তুলনা করে দেখানোর পদ্ধতি ভালো তবে মোল্লারা তো সামাজিক পৃষ্টপোষকতায় চব্বিশ ঘণ্টাই সুযোগের মধ্যে বসবাস করে। জনমত, চাই ব্যাপক জনমত, কষ্ট করে তা সৃষ্টি করতে হবে। লেখাটি কিন্তু নতুন রূপে পুরানো এবং বর্তমান সমস্যাগুলোকেই নিয়ে এসেছে। তবে জনমত তৈরিতে এটি সাহায্য করবে বটে। লেখার এই কথাগুলো কিভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় তা নিয়ে ভাবলে বরং বেশী ভালো হয় বলে আমি মনে করি।

    সুন্দর লেখাটির জন্য ধন্যবাদ।মুক্তমনায় স্বাগতম। (F)

মন্তব্য করুন