ফিল্ডস মিউজিয়ামের একাডেমিক অ্যাফেয়ার প্রভোষ্ট নীল এইচ শুবিন (Neil H. Shubin) একজন প্রখ্যাত জীবাশ্মবিদ। বর্তমানে তিনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রবার্ট আর, বেন্সলে অধ্যাপক এবং ওরগানিজম্যাল ও বিবর্তন জীববিজ্ঞান ফ্যাকাল্টির অ্যাসোসিয়েট ডীন । তিনি এমন কিছু জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন, যা বিবর্তনের গুরুত্বপুর্ন কয়েকটি ক্রান্তিকালীন সময় যেমন: সরীসৃপ থেকে স্তন্যপায়ী, জলজ থেকে স্থলচর প্রানী’র ‍বিবর্তন সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞানের পরিধিকে অনেকদুর এগিয়ে নিয়ে গেছে। এই আবিষ্কারগুলো গ্রীনল্যান্ড থেকে মরোক্কো পর্যন্ত্য জীবাশ্ম সন্ধানের লক্ষ্যে তাঁর বেশ কিছু অভিযানের ফসল। ২০০৬ সালে শুবিন এবং তার সহযোগীরা নেচার (Nature) জার্ণালে টিকটালিক -এর (মাছ আর উভচর প্রানীদের মধ্যবর্তী একটি প্রাণী) জীবাশ্ম আবিষ্কারের বিষয়ে প্রথম তথ্য প্রকাশ করেন। বর্তমান এই লেখাটি জানুয়ারী ২০০৯ এ দি সায়েন্টিফিক অ্যামেরিকান পত্রিকায় প্রকাশিত তার This old body এবং নোভা/ পিবিএস এর ওয়েবসাইট জন্য তার সম্পাদিত একটি ইন্টারঅ্যাক্টিভ স্লাইড শো, The zoo of you অবলম্বনে লেখার চেষ্টা করেছি আমি। ( ইন্টারঅ্যাক্টিভ স্লাইডগুলোর জন্য শুবিন তাঁর নিজের Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5-Billion-Year History of the Human Body বইটি ব্যবহার করেছেন আর মুল স্লাইডগুলো ইলাস্ট্রেশন করেছেন কাল্লিওপি মনোইয়োস।)

ভূমিকার পরিবর্তে:

আমি যখন অ্যানাটোমি পড়াতে শুরু করি,সেই একই সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমার ল্যাবরেটরীটাকে আধুনিকায়ন করার জন্য সংস্কারের কাজও শুরু করে। আপাতদৃষ্টিতে ঝামেলাকর এই যুগপৎ ব্যাপারটা পরবর্তীতে আমার জন্য বেশ লাভজনকই প্রমানিত হয় । প্রথমবারের মত অ্যানাটোমি পড়ানোর কাজটা বেশ পরিশ্রমের,এর কারণ যে শুধু অসংখ্য নাম মনে রাখতে হয় তা কিন্তু না। আমাদের শরীরের ভিতরে একবার তাকালেই নজর পড়ে, বিবর্তন প্রক্রিয়া তার চিহ্ন হিসাবে আমাদের ভেতরে কত অঙ্গ, প্রত্যঙ্গ বা কাঠামো তৈরী করে গেছে। তাদের দেখলে কখনো কখনো মনে হয় যেন এলোমেলো জটপাকানো একটা ব্যাপার। এলোমেলো বিন্যাসের একটা উদহারন হলো,শরীরের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে বেশকিছু শিরা,ধমনী,স্নায়ু বা অন্য নালীদের অত্যন্ত আজব আর জটিল ঘুরপথ বেছে নিতে দেখা যায়। কিন্তু কেন?

যখন দেহের ভিতরের এই আভ্যন্তরীন কাঠামোগুলোকে বোঝার জন্য আমি চেষ্টা করছি তখন প্রায় একশ বছরের পুরোনো একটা বিল্ডিং এ আমাকে জায়গা দেয়া হলো। পরিকল্পনা হলো,এই বিল্ডিংটাকেই সংস্কার করা হবে আমার টিমের জন্য নতুন একটি অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরী তৈরী করার জন্য।এর দেয়াল ভেঙ্গে যখন আমরা পানি, বিদ্যুৎ আর গ্যাস এবং অন্যান্য ইউটিলিটি সরবরাহ পদ্ধতির গঠন দেখছিলাম, সেখানেও ছিল এমন জটিল একটা এলোমেলো অবস্থা, যা দেখে পুরো ব্যাপারটার কোন কুলকিনারা করা সম্ভব না। কেবল লাইন, পাইপ,নানা ধরনের তার,এলোমেলোভাবে বিচিত্র ধরনের সব লুপ তৈরী করে রেখেছে সারা বিল্ডিং জুড়ে। কারো পক্ষেই সুস্থ মস্তিষ্কে এই বিল্ডিংটাকে জটিলভাবে জটপাকানো এই জিনিস এর উপর ভিত্তি করে নতুন করে আবার তৈরী করার কথা ভাবা সম্ভব না।

১৮৯৬ সালে তৈরী করা এই বিল্ডিং এ,ইউটিলিটি সরবরাহের সব কিছুই বহু পুরোনো পরিকল্পনার ভিত্তিতে সাজানো, এবং তার উপর যোগ হয়েছে বছরের পর বছর এর উপর করে যাওয়া নানা ধরনের ক্ষনস্থায়ী সংস্কারগুলোর চিহ্ন। আপনি যদি এই আঁকা ‍বাঁকা পাইপ আর জটবাধানো তারের কাহিনী জানতে চান, তাহলে আগে আপনাকে এর ইতিহাস জানতে হবে, কিভাবে বছরের পর বছর এসব বিন্যাস নানা প্রয়োজনের চাপে পরিবর্তিত হয়েছে। আমাদের দেহের গঠনের ক্ষেত্রেও কিন্তু বিষয়টা ঠিক একইরকম।

উদহারন হিসাবে পুরুষদের শুক্রনালী বা স্পার্মাটিক কর্ডের (ছবি ১) কথা ধরা যাক। এই নালীটা ‍অন্ডকোষের থলিতে থাকা অন্ডকোষ এবং পুংলিঙ্গের মুত্রনালীর সাথে সংযোগ সৃষ্টি করে এবং অন্ডকোষ থেকে শুক্রানুদের ‍শরীরের বাইরে বের হবার একটা পথ তৈরী করে। অন্ডকোষের থলি বা স্ক্রোটাম কিন্তু পুংলিঙ্গের নীচেই থাকে, স্বভাবতই আপনার মনে প্রশ্ন আসতেই পারে,ডিজাইনটা নিঃসন্দেহে ভালো হতো যদি এতোটা ঘুরে না গিয়ে সরাসরি এই দুইটি অঙ্গের মধ্যে সংক্ষিপ্ত একটা সংযোগ স্থাপন করতো নালীটা। কিন্ত ব্যাপারটা সেরকম হয়নি, শুক্রনালী অন্ডকোষ থেকে প্রথমে উপরে উঠে আমাদের কোমরের পিউবিক অস্থির মধ্যে একটা প্যাচ খেয়ে কোমরের অস্থিসন্ধির নীচের ফাঁকা জায়গা দিয়ে অবশেষে পুংলিঙ্গের মুত্রনালীর সাথে যোগ হয় (ছবি ১ দেখুন)।এই ঘোরানো পথ-যা বেছে নেবার পেছনে ইতিহাস আছে -মেডিকেল শিক্ষার্থীদের শেখার জন্য বিরক্তিকরতো বটেই, এছাড়া যারা এই কারনে ‍বিশেষ ধরনের হার্নিয়ার শিকার হন তাদের জন্যও বিশেষ যন্ত্রনাদায়ক। শুক্রনালীর এই বাকা পথ বেছে নেবার ইতিহাস মানব যৌনগ্রন্থির বৃদ্ধি আর ক্রমবিকাশের সাথে সম্পৃক্ত (পরে এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত বলছি)।


ছবি ১ : স্পার্মাটিক কর্ড বা ভাস ডিফারেন্স(শুক্রনালী)।

সুতরাং আমাদের নিজেদের দেহের গঠন বুঝতে হলে আগে অনুজীব থেকে কেঁচো,মাছ থেকে প্রাইমেট, সবার সাথে আমাদের শারীরিক গঠনের যে সাদৃশ্য, সেই ইতিহাসটাকে বুঝতে হবে।

আপনার নিজস্ব চিড়িয়াখানা:

আপনি হয়তো আপনার নিজের সাথে হাঙ্গর, মাছি কিংবা কেঁচোর কোন মিল খুজে পাবেন না, কিন্ত এই প্রানীগুলো সহ, পৃথিবীর অন্য সকল প্রানীদের সাথে আপনার শরীরের গঠন আর এর কার্য্যাবলীর অনেক কিছুরই মিল আছে । আপনার শরীরের নানা অংশ বিশেষ : অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, অস্থি, স্নায়ু, এমনকি জীনের নানা অংশ, ভিন্ন রুপে অথচ মুলতঃ একই, আপনি খুজে পাবেন অনেক ধরনের প্রানীদের মধ্যে। কোন কোন ক্ষেত্রে এই সাদৃশ্য বিস্তৃত প্রায় অর্ধ বিলিয়ন বছর পুরোনো প্রাণীদের সাথে, যা প্রমান করে আমরা সহ পৃথিবীর সকল প্রানী আসলে একই থীমেরই অনেক রুপ।

পরবর্তী এই স্লাইডগুলো দেখলে বুঝতে পারবেন, কিছু প্রানী যেমন, হাঙ্গর,মাছি বা কেঁচোর সাথে আমাদের দেহের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের কি ধরনের সাদৃশ্য আছে। আবিষ্কার করুন আপনার সেই আভ্যন্তরীন জীবন বৃক্ষকে। নোভা/পিবিএস এর ওয়েবপেজের জন্য তৈরী করা এই স্লাইডগুলো তিনটি গ্রুপে ভাগ করা। প্রথম গ্রুপের স্লাইডগুলোতে দেখানো হয়েছে ভ্রুণাবস্থায়, ‍দ্বিতীয় ও তৃতীয় গ্রুপের স্লাইডগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে আমাদের শরীর আর মাথার বিশেষ কিছু অংশের সাথে অন্য প্রানীদের সাদৃশ্য ।

    স্লাইড গ্রুপ ১ :ভ্রুণ


স্লাইড ১: মানব ভ্রুণ ( সুত্র : নোভা/পিবিএস,ছবি: পাবলিক ডোমেইন)


স্লাইড ১.১: মানব ভ্রুণ এবং হাঙ্গর ভ্রুণ ( সুত্র : নোভা/পিবিএস। ভ্রুণের ছবির ইলাস্ট্রেশন কাল্লিওপি মনোইয়োস,Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5 Billion-Year History of the Human Body (Pantheon Books 2008) বই থেকে নেয়া)


স্লাইড ১.২: মানব ভ্রুণ এবং মাছির লার্ভা । ( সুত্র : নোভা/পিবিএস। ভ্রুণের ছবির ইলাস্ট্রেশন কাল্লিওপি মনোইয়োস, Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5-Billion-Year History of the Human Body (Pantheon Books 2008) বই থেকে নেয়া)


ছবি ২: ফ্রুট ফ্লাই


ছবি ৩: ফ্রুট ফ্লাই লার্ভা


স্লাইড ১.৩:কেঁচো ,অ্যাম্ফিওক্সাস । (সুত্র : নোভা/পিবিএস)।ইলাস্ট্রেশন কাল্লিওপি মনোইয়োস (Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5-Billion-Year History of the Human Body (Pantheon Books 2008) বই থেকে নেয়া)


ছবি ৪: অ্যাম্ফিওক্সাস।


স্লাইড ১.৪:পুরুষদের যৌনগ্রন্থির উৎপত্তি এবং ক্রমবিকাশ এবং হার্নিয়া।

হার্নিয়া:

আগে উল্লেখ করেছিলাম যে,শুক্রনালীর এই বাকা পথ বেছে নেবার ইতিহাস পুরুষদের যৌনগ্রন্থির বৃদ্ধি আর ক্রমবিকাশের সাথে সম্পৃক্ত। হাঙ্গর,মাছ এবং অন্যান্য অস্থিবিশিষ্ট প্রানীদের মতই মানুষেরও যৌনগ্রন্থির বৃদ্ধি আর ক্রমবিকাশ ঘটে। গোনাড বা যৌনগ্রন্থি :পুরুষদের অণ্ডকোষ এবং মহিলাদের ডিম্বাশয়,উভয় ক্ষেত্রেই ভ্রুণাবস্থায় তাদের অবস্থান থাকে শরীরের উপরের অংশে, যকৃত বা লিভারের কাছাকাছি, কারণ যে সকল কোষ সমুহের পারস্পরিক অবস্থান এবং সহযোগিতা থেকে এসব গ্রন্থির সৃষ্টি হয়, তাদের অবস্থান সম্ভবত এখানে বলে ধারনা করা হয়। পুর্নবয়স্ক হাঙ্গর বা মাছের যৌনগ্রন্থি সাধারনত: শরীরের উপরিভাগে যকৃতের কাছাকাছি থাকে এবং তারা তাদের এই আদি অবস্থানেই থাকে কারণ তাদের শুক্রাণু শরীরের অভ্যন্তরেই ক্রমবিকাশ এবং পূর্ণতা লাভ করতে পারে।

আমাদের মত স্তন্যপায়ী প্রানীদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটু ভিন্ন। পুরুষ ভ্রুন যখন বেড়ে উঠতে থাকে, তাদের যৌনগ্রন্থিও ধীরে ধীরে নীচে নামতে থাকে, স্ত্রী ভ্রুনদের ক্ষেত্রে এই নেমে আসাটা শরীরের ভিতরে নীচে অবস্থিত জরায়ু এবং ফেলোপিয়ান টিউবের কাছে এসে থেমে যায়, যা নিশ্চিৎ করে ডিম্বানুকে যেন জরায়ু গহবরে নিষিক্ত হবার জন্য বেশী দুরত্ব অতিক্রম না করতে হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে আরো নীচের দিকে নেমে আসে অন্ডকোষ, একেবারে স্ক্রোটাম বা অন্ডকোষের থলিতে, যা দেহের সামনে ঝুলে থাকে। কার্য্যক্ষম শুক্রানু তৈরী করার জন্য এই নেমে আসার বিষয়টা অত্যন্ত্য গুরুত্বপুর্ণ। এর একটা সম্ভাব্য কারণ হিসাবে মনে করা হয় যে, স্তন্যপায়ীরা উষ্ণ রক্ত বিশিষ্ট এবং শুক্রানুর সংখ্যা ও এর গুনগত মান দুটোই নির্ভর করে আমাদের মুল শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা অপেক্ষা কম কোন তাপমাত্রা বিশিষ্ট কোন স্থানে ক্রমবিকশিত হওয়ার উপর। সেকারনেই স্তন্যপায়ীদের অন্ডকোষ, শরীরের ভিতরের উষ্ণতা থেকে অপেক্ষাকৃত কম উষ্ণ শরীরের বাইরের অন্ডকোষের থলিতে অবস্থান করে, এই থলিটি তাপমাত্রা বাড়া কমার সাথে ওঠানামা (থলির গায়ের পেশীর সংকোচন এবং প্রসারনের মাধ্যমে) করে শুক্রানুর সুষ্ঠু বৃদ্ধিকে ‍নিশ্চিৎ করে।

এই নীচে নেমে আসার প্রক্রিয়াটা আবার কিছু সমস্যারও কারণ হয়ে দাড়ায়। যেহেতু অন্ডকোষের থলিতে নেমে আসার জন্য অন্ডকোষ দুটি কে লম্বা একটা পথ পাড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসতে হয় ফলে শুক্রনালীকেও অনেক ঘোরানো প্যাচানো পথ নিতে হয় তার কাজটা করার জন্য। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ কারনে পুরুষদের শরীরের সামনে পেটের দেয়ালে এবং নীচে একটা দুর্বল জায়গার সৃষ্টি হয়, যেখান দিয়ে অন্ত্রনালী কোন অংশ বের হয়ে এসে হার্নিয়ার কারণ হতে পারে। এই হার্নিয়া কখনও জন্মগত, যৌনগ্রন্থির সাথে অন্ত্রের কোন অংশ দেহের দেয়ালের বাইরে চলে আসতে পারে অথবা দেয়ালের দুর্বল অংশ দিয়ে বের হয়ে আসতে পারে পরবর্তীতে কোন এক সময়ে (ছবি ৫),কিছু হার্নিয়া হবার প্রবনতা আমরা উত্তরাধিকার সুত্রে পেয়েছি আমাদের মাছ অতীত আর স্তন্যপায়ী বর্তমানের কল্যানে।


ছবি ৫: ইনগুইনাল হার্নিয়া।

    স্লাইড গ্রুপ ২:শরীর


    স্লাইড ২: মানব শরীর ( সুত্র : নোভা/পিবিএস, ছবি: মারিও কাসটেলো,করবিস)


    স্লাইড ২.১:টিকটালিক এবং ঘাড় ( সুত্র : নোভা/পিবিএস)ইলাস্ট্রেশন কাল্লিওপি মনোইয়োস (Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5-Billion-Year History of the Human Body (Pantheon Books 2008) বই থেকে নেয়া)


    স্লাইড ২.২: টেরাসর এবং আমাদের হাত পা ( সুত্র : নোভা/পিবিএস),ইলাস্ট্রেশন কাল্লিওপি মনোইয়োস (Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5-Billion-Year History of the Human Body (Pantheon Books 2008) বই থেকে নেয়া)


    ছবি ৬: টেরোসর


    স্লাইড ২.৩: সী অ্যানীমোন ( সুত্র : নোভা/পিবিএস),ইলাস্ট্রেশন কাল্লিওপি মনোইয়োস (Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5-Billion-Year History of the Human Body (Pantheon Books 2008) বই থেকে নেয়া)


    ছবি ৭ : সী অ্যানীমোন।


    স্লাইড ২.৪:রাপচার্ড ডিস্ক ( সুত্র : নোভা/পিবিএস)এবং www.spineuniverse.com

      স্লাইড গ্রুপ ৩: মস্তিষ্ক


    স্লাইড ৩: মস্তিষ্ক ( সুত্র : নোভা/পিবিএস, ছবি:আদ্রিয়ানা উইলিয়ামস,করবিস)


    স্লাইড ৩.১: আদিম সরীসৃপ ও মাছ ( সুত্র : নোভা/পিবিএস),ইলাস্ট্রেশন কাল্লিওপি মনোইয়োস (Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5-Billion-Year History of the Human Body (Pantheon Books 2008) বই থেকে নেয়া)


    ছবি ৮: মানুষের কান, মধ্যকানে তিনটি ছোট অস্থি লক্ষ্য করুন (২,৩,৪)


    স্লাইড ৩.২: হাঙ্গর আর মানুষের ক্রেনিয়াল স্নায়ুগুলোর সাদৃশ্য ( সুত্র : নোভা/পিবিএস),ইলাস্ট্রেশন: কাল্লিওপি মনোইয়োস (Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5-Billion-Year History of the Human Body (Pantheon Books 2008) বই থেকে নেয়া)


    ছবি ৯: হাঙ্গর।


    স্লাইড ৩.৩ লিম্পেট ( সুত্র : নোভা/পিবিএস),ইলাস্ট্রেশন কাল্লিওপি মনোইয়োস (Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5-Billion-Year History of the Human Body (Pantheon Books 2008) বই থেকে নেয়া)


    ছবি ১০: লিম্পেট।


    ছবি ১১: নটিলাস।


    ছবি ১২: স্ক্যালোপ ।


    ছবি ১৩: মানুষের চোখ।


    স্লাইড ৩.৪:কেন আমরা হেচকি তুলি?

    কেন আমরা হেচকি তুলি:

    শুক্রনালীর মতএকই ধরনের বিবর্তনের আলোকে বিশ্লেষন, আরো অনেক ধরনের শারীরিক সমস্যার কারণ ব্যাখ্যা করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন, হেচকির কথা ধরুন, সাধারনতঃ বিরক্ত উৎপাদনকারী হেচকি, যা কয়েক সেকেন্ড বা বড়জোর মিনিট ব্যাপী স্থায়ী থাকে, বা কখনও সমস্যার কারণ হতে পারে মাসব্যাপী স্থায়ী হয়ে , কদাচিৎ স্থায়ী হতে পারে এক বছর। গলা আর বুকের পেশী সংকোচনের কারনেই মুলতঃ হেচকি উৎপত্তি হয়। এর বৈশিষ্ট্যসুচক ‘‘‘হিক’ শব্দটি হয় যখন আমরা খুব দ্রুত নিঃশ্বাস নেই এবং আমাদের গলার পেছনে একটি মাংসের পর্দার মত অঙ্গ, এপিগ্লটিস’টা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। সমস্ত ব্যাপারটি ঘটে এক ধরনের রিফ্লেক্স এর কারনে, যার উপর আমাদের সচেতন মনের কোন নিয়ন্ত্রন নেই। অনেক কারনেই ব্যাপারটা হতে পারে, যেমন, অতি দ্রুত খেতে থাকলে অথবা অতিরিক্ত বেশী খেয়ে ফেললে, কখনও আরো কঠিন অসুস্থ্যতা যেমন, বুকের কোন টিউমর হলেও ব্যাপারটা হতে পারে।

    হেচকি আমাদের বিবর্তনের দুটি স্তরের ইতিহাসের স্বাক্ষী, একটি মাছের সাথে আমাদের সম্পৃক্ততা, অপরটি উভচর প্রানীদের সাথে। আমাদের প্রধান স্নায়ুগুলো যা আমরা শ্বাস প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে প্রধানতঃ ব্যবহার করি, তার প্রত্যেকটি আমরা পেয়েছি মাছ থেকে। এক জোড়া স্নায়ু যার নাম ফ্রেনিক (Phrenic) নার্ভ, আমাদের মস্তিষ্কের মগজের তলদেশ থেকে যা নেমে এসে আমাদের বুকের খাচা আর পেটে মাঝখানে ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছদা পর্দা পযন্ত্য বিস্তৃত (ছবি ১৪)। এই আকা বাকা পথের জন্য সমস্যাও কিছু আছে। এই লম্বা পথে যে কোন জায়গায় যদি কোন ধরনের সমস্য হয়, তা আমাদের শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়াকে ব্যহত করে। এই স্নায়ুর যে কোন অংশের কোন ধরনের সমস্যাও হেচকির কারণ হতে পারে। যুক্তিসঙ্গত ভাবে পরিকল্পিত হলে অবশ্যই এই নার্ভটি মস্তিষ্ক থেকে না নেমে সরাসরি ডায়াফ্রামের কাছে স্নায়ু রজ্জু থেকে উৎপত্তি হতে পারতো। কিন্ত যেহেতু আমরা দুর অতীতে বিবর্তিত হয়েছি, আর এই ধরনের নকশা উত্তরাধিকার সুত্রে আমরা পেয়েছি আমাদের মৎস পুর্বসুরী থেকে, যাদের শ্বাসযন্ত্র ফুলকার অবস্হান ছিল মাথার কাছে ঘাড়ে, অনেক নীচে থাকা ডায়াফ্রাম বিশিষ্ট কোন প্রাণীর কাছ থেকে না।


    ছবি ১৪: ফ্রেনিক (Phrenic) নার্ভ ।

    যদি ফ্রেনিক নার্ভের এই আজব পথ আমাদের মৎস অতীতের স্মারক হয়, হেচকির উৎপত্তিও সম্ভবত আমাদের উভচর অতীতে কোন সময় হয়েছে। এবং বিজ্ঞানীরা ঠিকই খুজে পেলেন যে, হেচকির বৈশিষ্ট্যমুলক মাংশপেশী আর স্নায়বিক কার্য্যাবলী অন্য প্রানীদের মধ্যেও দৃশ্যমান। এবং সেটা যে কোন একটি প্রানী না, সুনির্দিষ্টভাবে, ব্যাঙ্গাচির মধ্যে, যারা ফুসফুস এবং ফুলকা পালাক্রমে ব্যবহার করে স্থলে আর পানিতে শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য। যখন ব্যাঙ্গাচিরা তাদের ফুলকা ব্যবহার করে, তখন মুখে, গলায় পানি পাম্প করে ও ফুলকার মধ্য দিয়ে পানি প্রবাহ করে শ্বাস নেবার সময় তাদের একটা সমস্যার মোকাবেলা করতে হয় । সেটি হলো, এ কাজটি তাদের করতে হয় এমনভাবে ফুসফুসে যাতে কোন পানি না ঢোকে। কেমন করে তারা এই সমস্যার সমাধান করে? ফুসফুসে যাতে পানি না ঢোকে সে জন্য তারা শ্বাসনালীর প্রবেশ পথ পর্দার মত গ্লটিসটা বন্ধ করে দেয় । এই হঠাৎ বন্ধ হবার প্রক্রিয়ার সাথে তারা বিবর্তনের মাধ্যমে একধরনের প্রতিক্রিয়ামুলক রিফ্লেক্স ব্যবহার আয়ত্ব করেছে, সেটা হল গ্লটিস বন্ধ হওয়ার আগে লম্বা একটা নিঃশ্বাস নেয়া। এভাবে শ্বাসনালীর মুখে গ্লটিসটাকে বন্ধ করে দেয়া আর একই সাথে অতি দ্রুত একটা নিশ্বাস নেয়া হেচকির মত একটি আচরনের কারণ। মোটকথা, তারা ফুলকা দিয়ে শ্বাস নেয় প্রলম্বিত ধরনের একটি হেচকি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। আমাদের আর ফুলকা থাকার কথা না, কিন্ত হেচকি রয়ে গেছে।

    উপসংহার:

    অন্য কোন এক সময়ে, আমাদের ইতিহাস কেটেছে প্রাচীন সমুদ্রে, ছোট নদী বা জলাশয়ে, সাভানার বিশাল প্রান্তরে। কোন অফিস বিল্ডিং, স্কী করার পাহাড়ের ঢাল বা ফুটবলের মাঠে না। অতীত এবং বর্তমানের এই অসাধারন বিভেদের অর্থই হলো আমাদের দেহ মাঝে মাঝে সমস্যায় পড়ে যায় আমাদের জানা প্রত্যাশিত কিছু কারনে। মানুষের হাটু, পেছনের এবং কব্জির প্রধান প্রধান অস্থিগুলো শত শত মিলিয়ন বছর আগে জলচর প্রানীদের মধ্যে প্রথম আবির্ভুত হয়। তাহলে আসলেই কি অবাক হবার কোন কারণ আছে, এই দুই পায়ে ভর দিয়ে হাটার জন্য যদি আমরা হাটুর কার্টিলেজ ভেঙ্গে ফেলি বা শিরদাড়ার যন্ত্রনায় ভুগি কিংবা কব্জিতে কারপাল টানেল সিনড্রোমে আক্রান্ত হই টাইপ, উল বোনা বা লেখালেখির জন্য । আমাদের মাছ এবং উভচর পুর্বসুরীরাতো এসব কিছু করেনি।

    ধরুন, প্রথমে মাছের শরীরের গঠনের একটা পরিকল্পনা আপনি হাতে নিলেন, যে জীনগুলো কেঁচোর শরীর তৈরী করেছে তাদের কিছু অদল বদল করে মাছের শরীরের পরিবর্তন করুন, তারপর আরো একটু পরিমার্জন ও পরিবর্ধন করে একে স্তন্যপায়ী প্রানীতে রুপান্তরিত করুন, এবার সেই স্তন্যপায়ী প্রানীকে এখন আরেকটু ঘষামাজা করুন, যেন সে এমন একটা প্রানী হয়, যারা দুই পায়ে সোজা হয়ে হাটে,কথা বলে, চিন্তা করে এবং হাতের আঙ্গুলের উপর যাদের সুক্ষ্ম নিয়ন্ত্রন আছে, ফলাফল হবে, সর্বনাশের একটি রেসিপি। বিনিময়ে কিছু মুল্য পরিশোধ না করে আপনি মাছের শরীরকে এতটা পরিবর্তন করতে পারবেন না । খুব সুচারুভাবে ডিজিইন করা কোন পৃথিবীতে – যেখানে অতীতের কোন সুদীর্ঘ ইতিহাস নেই, আমাদের অবশ্যই হেমারয়েডস বা পাইলস বা হার্নিয়াতে ভুগতে হত না, আর আমাদের প্রাচীন বিল্ডিংগুলোকে সংস্কার করতে বেশী অর্থও ব্যয়ও হতোনা।

    [345 বার পঠিত]