আমাদের দেহের ফিড প্রক্রিয়া বিষয়ক একটি পোস্ট

By |2011-03-30T02:03:47+00:00মার্চ 30, 2011|Categories: ব্লগাড্ডা|38 Comments

মনে করুন, এক শীতের সন্ধ্যায় আপনি বাসার বাইরে বেরুলেন শরীরে অপর্যাপ্ত পরিমানে গরম কাপড় চাপিয়ে। খানিকটা সময় কেটে যাওয়ার পর আপনার শীত লাগতে শুরু করবে, শরীর কাঁপতে থাকবে আপনার; হাঁটুতে হাঁটুতে, দাঁতে দাঁতে বাড়ি লেগে খটখট শব্দ হবে। আস্তে আস্তে এই কাঁপুনী ছড়িয়ে পড়বে শরীরের প্রত্যেকটি মাংশপেশীতে, কাঁপতে থাকবে শরীরের প্রত্যেকটি মাংশপেশীই। আপনি স্বেচ্ছায় চাইলে সেই কাপুনী হয়তো কয়েক সেকেন্ডের জন্য বন্ধ রাখতে পারবেন, কিন্তু তারপর আবারও স্বয়ংক্রিয়ভাবেই শুরু হয়ে যাবে আপনার সেই কাঁপুনী রিফ্লেক্স। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেনো এটা হয়? ওয়েল- এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র, অপেক্ষাকৃত তুচ্ছ দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাটি কিন্তু ডেমনস্ট্রেট করে প্রকৃতির একটি গুঢ় মূ্লনীতিকে; রসায়ন ও ফিজিওলজির এক শাশ্বত, সনাতন নিয়মকে।

সেই শাশ্বত নিয়মটি হচ্ছে- একটি জটিল সিস্টেমে নিয়ন্ত্রন স্থাপিত হয় সর্বদাই ফিড প্রক্রিয়ায়! জীবদেহ অগনিত চলক যেমন- রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন, শ্বসনহার, রক্তে গ্লুকোজের ঘনত্ব, রক্তের পিএইচ ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদির সমন্বয়ে গঠিত একটি জটিল জটিল সিস্টেম। একটি চলক যখন সমগ্র জীবটির বেঁচে থেকে বংশবৃদ্ধি করার সুবিধার্থে অপটিমালি চালিত হয় তখন আমরা বলি চলকটি রেগুলেটেড। যেমন- কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি বা সেল প্রলিফেরেশন যখন রেগুলেশন হারায় তখন আমরা লাভ করি ক্যান্সার যেটি কিনা সমগ্র জীবের বেঁচে থেকে বংশবৃদ্ধি করে চলার পখে মোটেও সুবিধাজনক কিছু নয়। ফিড প্রক্রিয়া হচ্ছে এমন প্রক্রিয়া যেখানে একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে একটি রেগুলেটেড চলকের মান নিয়ন্ত্রিত হয় অন্য একটি কন্ট্রোল্ড চলকের মানের তারতম্যের সাহায্যে। যেমন- আমাদের রক্তে গ্লুকোজের ঘনত্ব প্রতি লিটারে ৪ থেকে ৬ মিলিমোল, রক্তে গ্লুকোজের ঘনত্ব এর থেকে কম কিংবা বেশী হলে সেটা আমাদের বেঁচে থাকার পক্ষে কাল হয়ে দাঁড়াবে, তাই এটি একটি রেগুলেটেড চলক। এই চলকটি রেগুলেটেড রক্তে ইন্সুলিনের ঘনত্ব দ্বারা। ফলে, কোনভাবে রক্তে গ্লুকোজের ঘনত্ব বেড়ে গেলে (যেমন- আহারের পরে), রক্তে ইনসুলিনের ঘনত্বও বেড়ে যাবে। এই মাত্রাতিরিক্ত ইনসুলিন অনুঘটিত করবে কোষ অভ্যন্তরে গ্লুকোজের আপটেক, ফলে রক্তে গ্লুকোজের ঘনত্ব কমে আসবে। অর্থাৎ, ‘রক্তে গ্লুকোজের ঘনত্ব’ চলকটি রেগুলেটেড হচ্ছে ‘রক্তে ইনসুলিনের ঘনত্ব’ কন্ট্রোল্ড চলকটি দ্বারা। এটি একটি ফিড প্রক্রিয়ার উদাহারণ, আরও নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে একটি ফিডব্যাক প্রক্রিয়ার উদাহারণ। সাধারণত একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে একটি রেগুলটেড চলক খুবই সীমিত উইন্ডোতে উঠানামা করে যেমন আমাদের উপরোক্ত উদাহারণে রক্তে গ্লুকোজের ঘনত্ব চলকটির রেগুলেশন উইন্ডো প্রতি লিটারে ৪ থেকে ৬ মিলিমোল। অপরপক্ষে একটি কন্ট্রোল্ড চলক কিন্তু উঠানামা করতে পারে একটি সুবিস্তৃত উইন্ডো জুড়ে, এর কারণ হচ্ছে গিয়ে কন্ট্রোল্ড চলকের এই যথেচ্ছ উঠানামা জীবের বেঁচে থাকার উপর প্রাথমিক কোন প্রভাব ফেলে না। একটি শরীরবৃত্তিয় সিস্টেমের সবগুলো রেগুলেটেড চলক নিয়ন্ত্রণাধীন থাকাটাকে বলে হোমিওস্ট্যাসিস। প্রমিত হোমিওস্ট্যাটিক অবস্থা থেকে বিচ্যুতিকে বলে রোগ বা ব্যাধি।

ফিড প্রক্রিয়া হতে পারে দুই ধরণের, ফিডব্যাক ও ফিডফরওয়ার্ড। ফিডব্যাক লুপ হচ্ছে একটি প্রতিকারবাদী গমনপথ যেখানে রেগুলেটেড চলক প্রমিত অবস্থা থেকে বিচ্যুত হবার পর কন্ট্রোল্ড চলকের উঠানামা শুরু হয় রেগুলেটেড চলককে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে। অপরপক্ষে ফিডফরওয়ার্ড হচ্ছে একটি প্রতিরোধবাদী গমনপথ যেখানে কন্ট্রোল্ড চলক আগেই উঠানামা শুরু করে যাতে রেগুলেটেড চলক প্রমিত অবস্থা থেকে বিচ্যুত হতে না পারে। এই প্রপঞ্চ দুটির উদাহারণও দেয়া যায় ইনসুলিন সংকেত সংবহন গমনপথের মধ্য দিয়ে। যেমন- খাবারের পর রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যাচ্ছে, রক্তে গ্লুকোজের অধিক্য ঘটাচ্ছে রক্তস্রোতে ইনসুলিন নিষ্ক্রমন, নিষ্ক্রান্ত ইনসুলিন অনুঘটিত করছে কোষাভ্যন্তরে গ্লুকোজের আপটেক, ফলে রক্তে গ্লুকোজের ঘনত্ব কমে আসছে, গ্লুকোজের ঘনত্ব কমে আসার ফলে রক্তস্রোতে ইনসুলিন নিষ্ক্রমনও কমে আসছে, এভাবে চলতে চলতে একটা সময় পর রক্তে গ্লুকোজের ঘনত্ব প্রতি লিটারে ৪ থেকে ৬ মিলিমোলের মধ্যে নেমে আসছে বিধায় নতুন করে রক্তস্রোতে ইনসুলিন নিষ্ক্রমনের দরকার ফুরোচ্ছে।। এটা একটি ফিডব্যাক লুপের উদাহারণ। ফিডব্যাক লুপের সাথে সাথে অবার ফিডফরওয়ার্ড লুপের মধ্য দিয়েও কিন্তু এই রক্তে গ্লুকোজের ঘনত্ব রেগুলেটেড হয়। আপনি যখনই খাবারের ঘ্রাণ পাচ্ছেন বা খাবার খেতে রান্নাঘরে বা কোন রেস্টোরেন্টে ঢুকছেন সাথে সাথে আপনার মস্তিষ্কের কোর্টিকাল অঞ্চলগুলো হতে আমিগডালা ও ব্রেইনস্টেমের মধ্য দিয়ে অটোনোমিক গমনপথ কার্যকর হচ্ছে। স্নায়ুকোষের মধ্য দিয়ে সংকেত চলে যাচ্ছে আপনার অগ্নাশয়ের আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহান্সের বেটা কোষগুলোতে, সেই কোষগুলো রক্তে ইন্সুলিন ছেড়ে দিচ্ছে রক্তে গ্লুকোজের ঘনত্ব সেন্স করার আগেই, কেননা মস্তিষ্ক অগ্নাশয়ের বেটা কোষগুলোকে বলছে যে- এখনও না পেলেও, অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই রক্তে গ্লুকোজের ঘনত্ব নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে!! এটার ফলে লাভ যেটা হচ্ছে- লুপের ডিলে কমছে, রক্তে গ্লুকেজের উপস্থিতির আগেই ইন্সুলিনের উপস্থিতির ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই বাড়তি ইন্সুলিন দেহকোষে আপটেক হতে পারছে, ফলে সিস্টেম বেশী এফিসিয়েন্ট হচ্ছে। এটি একটি ফিডফরওয়ার্ড লুপের উদাহারণ। বস্তুত, এন্ডোক্রিনোলজির আলোকে মস্তিষ্ক অঙ্গটিকেই আপনি সংজ্ঞায়িত করতে পারেন এমন একটি সিস্টেম হিসেবে যার কাজ হচ্ছে কিনা ফিডফরওয়ার্ড লুপ সংঘটিত করার মধ্য দিয়ে সম্পুর্ণ দেহযন্ত্রকে বেশী এফিশিয়েন্ট করে তোলা! আমাদের জ্ঞান, আবেগ, প্রজ্ঞা, দর্শন সবকিছুকেই এই বি-শা-ল একটি ফিড ফরওয়ার্ড লুপের অংশ হিসেবে চিন্তা করা যেতে পারে। এর উপস্থিতির কারণেই আমারা পতঙ্গের মতো মোমের আলোয় পড়ে পুড়ে মরি না কেননা মস্তিষ্ক আমাদের সক্ষম করে এই অভিজ্ঞতা শিক্ষা করতে যে- আগুনে পড়লে পুড়ে মরতে হয়!

এতক্ষণের এই আলোচনার পর আমরা আমাদের প্রথম প্রশ্নের একটি উপযুক্ত উত্তর বোধগম্য করতে পারি। কেনো ঠান্ডায় শরীর কাঁপে? ওয়েল, আমাদের দেহের তাপমাত্রা রক্ষা করে বেইসাল মেটাবোলিক রেইট বা বিএমআর নামক একটি চলক। কাঠ যেটি কিনা বস্তুত কার্বন, পুড়িয়ে যেমন আমরা তাপ উতপন্ন করি তেমনি আমাদের খাদ্যে গ্রহন করা কার্বনও কিন্তু খুব ধীর গতিতে পুড়ে আমাদের শরীরকেকে গরম রাখে। বস্তুত আমরা যেই খাদ্য খাই তার ৫০% ব্যায় হয় আমাদের থার্মোরেগুলেশনের পেছনে! এইখানে একটা মজার ব্যাপার উল্লেখ করা যেতে পারে, এইযে আমরা বলি একটি ডিমে এতো ক্যালোরি শক্তি রয়েছে, একটি শশায় এতো ক্যালোরি শক্তি রয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি এটা আমরা কিভাবে নির্ধারণ করি? ওয়েল, আমরা একটি ডিম বা শশা নিয়ে আগুন জ্বেলে সেটা সম্পুর্ণ পুড়িয়ে ফেলি, এই রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে উতপাদিত হয় কার্বন ডাইঅক্সাইড, পানি এবং প্রচুর পরিমানে গিবস ফ্রি এনার্জি। অতপর আমরা কেলোরিমেট্রি করে পরিমাপ করি কতোটুকু ফ্রি এনার্জি বিমুক্ত হলো, যতো ক্যা্লোরি ফ্রি এনার্জি বিমুক্ত হলো একটি ডিমে ঠিক ততো ক্যালরি শক্তিই রয়েছে! মজাদার তথ্য না? এখানে উল্লেখ্য, কার্বন অক্সিডাইজ করে কার্বন ডাইঅক্সাইড, পানি ও শক্তি উতপন্ন করার মধ্য দিয়ে এই একই প্রক্রিয়ায় কিন্তু আমরাও আমাদের দেহে তাপ উতপন্ন করি। যদিও বিক্রিয়া একই কিন্তু বিক্রিয়ার গমনপথ ভিন্ন। প্রকৃতির দহন গমনপথে কার্বনের অক্সিডেশন খুব অল্প সময়ে বিমুক্ত করে বিপুল পরিমানে তাপ শক্তি, আমাদের শরীরে এই একই গমনপথ ব্যাবহার করলে আমরা পুড়েই কয়লা হয়ে যেতাম! দহন ব্যাবহার করিনা আমরা, আমরা ব্যাবহার করি অন্য একটা আরও অনেক অনেক জটিল গমনপথ যেটা কিনা অনেক ধীরগতিতে এই কার্বনের অক্সিডেশন প্রসুত ফ্রি এনার্জি বিমুক্ত করে, ফলে আমরা গরম থাকি যদিও, পুড়ে কয়লা হয়ে যাইনা! যাই হোক, ঠান্ডায় যখন কিনা আমাদের শরীর থার্মোরেগুলেশন করতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন এটা সক্রিয় করে দুটি গমনপথ, প্রথমত আমাদের রক্তস্রোতে থাইরয়েড হর্মোন যেমন টি৩ ও টি৪ নিষ্ক্রমন বেড়ে যায়, টি৩ ও টি৪ আমাদের বিএমআর বাড়িয়ে দেয় ফলে দেহে খাদ্যের অক্সিডেশন প্রসুত ফ্রি এনার্জি বিমুক্তির হার বৃদ্ধি পায়। তাতেও কাজ না হলে মাংশপেশীর কাঁপুনী শুরু হয়, এই কাঁপুনী সংঘর্ষি বা ফ্রিকশনের ফলে উতপন্ন করে বিপুল পরিমানে তাপ শক্তি। ঠান্ডা যতোই বাড়ে কাঁপুনী ততোই বাড়ে, ঠান্ডা কমে আসলে কাঁপুনি বন্ধ হয়ে যায়। এটি একটি ফিডব্যাক লুপের উদাহারণ। এবার ভাবুন, একই সমস্যা কিন্তু মস্তিষ্ক অনুঘটিত ফিডফরওয়ার্ড প্রক্রিয়ায়ও সমাধান করার ব্যাবস্থা রয়েছে আমাদের ফিজিওলজিতে। সেটি কি? ওয়েল, সেটি হচ্ছে- থার্মোমিটারে সাহায্যে বাইরের তাপমাত্রা দেখে, ঠান্ডা লাগার আগেই প্রয়োজনানুসারে গরম কাপড় পড়ে বাইরে বেরুনো!!

এখন, ফিডব্যাক লুপও কিন্তু আবার দুই ধরণের হতে পারে, নেগেটিভ ফিডব্যাক লুপ এবং পজিটিভ ফিডব্যাক লুপ। নেগেটিভ ফিডব্যাক লুপে একটি চলকের প্রমিত অবস্থা থেকে বিচ্যুতি সেন্স করে রেগুলেশনের জন্য কন্ট্রোল্ড চলকের উঠানামা শুরু হয়, রেগুলেশন যতোই সম্পন্ন হতে থাকে কন্ট্রোল্ড চলকের উঠানামাও ততো স্তিমিত হতে হতে একসময় শুণ্যে মিলিয়ে যায়। যেমন- আমাদের উপরোক্ত ইনসুলিন এবং থার্মোরেগুলেশনের উদাহারণের ফিডব্যাক লুপ দুটি। অপরপক্ষে পজিটিভ ফিডব্যাক লুপে রেগুলেশন যতোই সম্পন্ন হতে থাকে কন্ট্রোল্ড চলকের উঠানামা ততোই বাড়তে থাক। জীবজগতে পজিটিভ ফিডব্যাক লুপের উদাহারণ খুবই কম দেখা যায়, তবে বেশ কিছু দেখা যায় আমাদের ম্যামালিয়ান প্রজননতন্ত্রে। বস্তুত পজিটিভ ফিডব্যাক লুপের অনুপস্থিতিতে আমরা কেউ ভুমিষ্ঠই হতাম না! আমরা যখন জেস্টেশন সম্পন্ন করে ভুমিষ্ঠ হবার জন্য অপেক্ষা করছি মাতৃজঠরে, ইউটেরাসে; আমাদের মায়ের লেবর শুরু হবার সাথে সাথে একটি রেগুলেটেড চলক প্রমিত অবস্থা থেকে বিচ্যুত হয়েছিলো। সেটা চলকটি ছিলো এই যে- ‘এই ভ্রুণটির জেস্টেশন সম্পন্ন হয়েছে, মাতৃজঠরে এখন আর এর কোন জায়গা নেই’। রেগুলেটেড চলককে এর প্রমিত অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য বা অন্যকথায় দেহ থেকে ভ্রুণটি বের করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তখন মায়ের মস্তিষ্কে পিটুইটারির পোস্টেরিয়র লোব হতে রক্তস্রোতে নিষ্ক্রান্ত হয় অক্সিটোসিন নামক একটি হর্মোন। এটির টার্গেট ছিলো ইউটেরাইন মাংশপেশী। অক্সিটোসিন গমনপথের চুড়ান্ত ফলাফল হচ্ছিলো- ইউটেরাইন মাংশপেশী ক্রম সঙ্কোচন যার ফলে আমরা বেরিয়ে আসছিলাম ইউটেরাস থেকে বার্থ কেনালের (অগর্ভবতী অবস্থায় যেই দেহগহ্বরটাকে কিনা বলা হয় যোনী) দিকে। আমাদের যাত্রাপথের মাঝে ছিলো সার্ভিক্স নামক একটি অপেক্ষাকৃতি ন্যারো সুড়ঙ্গ। সার্ভিক্সের দেয়ালে শরীর দিয়ে আমরা যখন চাপ দিচ্ছিলাম, সার্ভিক্সের গায়ে অবস্থিত অসংখ্য স্ট্রেচ রিসেপ্টর স্নায়ুকোষ সেই সংকেত পৌছে দিচ্ছিলো মায়ের মস্তিষ্কের পোস্টেরিয়র পিটুইটারি লোবে। এই সংকেত রক্তস্রোতে নিষ্ক্রান্ত করছিলো আরও বেশী অক্সিটোসিন, ফলে ইউটেরাইন মাংশপেশীর সঙ্কোচনও যাচ্ছিলো আরও বেড়ে, আমরাও এগিয়ে আসছিলাম আরেকটু সজোড়ে বার্থ কেনালের দিকে এবং সার্ভিক্সের দেয়ালে চাপও আমরা সৃষ্টি করছিলাম ততোটাই বেশী, ফলে সার্ভিক্সের গায়ে অবস্থিত স্ট্রেচ রিসেপ্টরগুলোর ফায়ারিঙ্গও যাচ্ছিলো ততোই বেড়ে, ফলে আরও বেশী অক্সিটোসিন রক্তস্রোতে নিষ্ক্রান্ত হচ্ছিলো। এভাবে চাপ বাড়তে বাড়তে একসময় আমরা মাতৃজঠর ছেড়ে বেরিয়ে আসি এরপর বেরিয়ে আসে আমাদের প্লাসেন্টা যেটি কিনা মাতৃজঠরে আমাদের খাওয়াচ্ছিলো, অক্সিজেন দিচ্ছিলো এবং করছিলো বর্জ্য নিষ্কাশন। সন্তান এবং প্লাসেন্টা বেরিয়ে আসার ফলে সার্ভিক্সে আর কোন চাপ সৃষ্টির উত থাকলো না, স্ট্রেচ রিসেপ্টরও ফায়ারিং বন্ধ করলো এবং বন্ধ হলো রক্তস্রোতে অক্সিটোসিন নিষ্ক্রমন। এটি একটি পজিটিভ ফিডব্যাক লুপের উদাহারণ। ঠিক সন্তান প্রসবের মতোই, পুলক বা ওর্গাজম লাভও কিন্তু অনুঘটিত হয় একটি পজিটিভ ফিডব্যাক লুপের দ্বারা। নিজ মনে কল্পনা করুনতো ওর্গাজম লাভের এই পজিটিভ ফিডব্যাক সার্কিট্রিটির স্বরূপ? আপনার কল্পনা ভাগাভাগি করতে পারেন মন্তব্যে, আলোচনার একটি খোরাক হবে সেটি!

অক্সিটোসিন আমার খুবই খুবই প্রিয় একটি অনু। আমি খুব নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করেছি অক্সিটোসিন টোটাল সিনথেসিস, যেই আবিষ্কারটি কিনা ১৯৫৫ সালে ফার্মাকোলজিস্ট ভিন্সেন্ট ডু ভিগ্নউডকে জেতায় কেমিস্ট্রিতে নোবেল পুরষ্কার। অক্সিটোসিন বস্তুত একটি সাইক্লিক পেপটাইড, আধুনিক সলিড স্টেইট কেমিস্ট্রির যুগে অক্সিটোসিন টোটাল সিনথেসিসের জন্য কোন মানুষও এমনকি প্রয়োজন নেই, অটোমেটেড পেপটাইড সিন্থেসাইজার নিজেই অক্সিটোসিন সংশ্লেষ করতে পারবে তুড়ি মেরে। কিন্তু ভিন্সেন্ট ডু ভিগ্নউড তার আমলে যেই সলিউশন ফেইজ সিন্থেসিস করেছিলেন সেটা ছিলো অনেক অনেক কষ্টসাধ্য। যাই হোক, অক্সিটোসিনের কিন্তু একটি ডাকনামও রয়েছে, এটিকে ডাকা হয় ‘লাভ হর্মোন’ নামে, কেননা এটি আমাদের যৌন আচরণে ব্যাপক ব্যাপক প্রভাব ফেলে থাকে। যেমন- মনে করুন মিল্ক ইজেকশন রিফ্লেক্সের কথা। শুধু সন্তান ভুমিষ্ঠ করাই নয়, ভুমিষ্ঠ সন্তানকে দুগ্ধপান করানোও অনুঘটিত করে অক্সিটোসিন। স্তনবৃন্তের চারপাশে যেই বৃত্তাকার সীমানাটা থাকে, সেটিকে কিনা বলা হয় এরিওলা, এই এরিওলা ইনার্ভেট করে বিপুল সংখ্যক সেন্সরি নিউরোন। বস্তুত স্তনবৃন্ত ও এরিওলা যে স্নায়বিকভাবে খুবই খুবই সক্রিয় এই উপসংহারে পৌছতে ফিজিওলজি বিশেষজ্ঞ হওয়াটাও নিষ্প্রয়োজন 😀 ! যাই হোক, নবজাতক যখন এরিওলা চোষে, তখন সেই সেন্সরি নিউরোন মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়, যেই সঙ্কেতের চুড়ান্ত ফলাফল গিয়ে হয় কিনা পোস্টেরিয়র পিটুইটারি লোব হতে রক্তস্রোতে অক্সিটোসিন নিষ্ক্রমন। এইবার অক্সিটোসিনের টার্গেট হয় স্তনের ল্যাক্টোগ্লান্ডগুলোর সংগ্রাহক ডাক্টগুলো ঘিরে থাকা স্মুথ মাংশপেশীগুলো। অক্সিটোসিন এই ল্যাক্টগ্লান্ড স্মুথ মাংশপেশীকোষে অবস্থিত রিসেপ্টররগুলোর সাথে সাফল্যের সহিত বন্ধন স্থাপন করলে একটি জটিল প্রাণ্রাসায়নিক ক্যাসকেড সুচীত হয়, যেই ক্যাসকেডের চুড়ান্ত ফলাফল হয় , একটি উল্লেখযোগ্য চাপ সহকারে দুগ্ধ বেরিয়ে আসে স্তন থেকে। অক্সিটোসিন ছাড়া মিল্ক ইজেকশন রিফ্লেক্স সুচীত করার আর কোন পদ্ধতি নেই!

এখন চলুন একটি প্রশ্ন করা যাক। যদি এরিওলাতে সাকলিং ওই জননীর নবজাতক দ্বারা না হয়ে অন্য কারো দ্বারা সুচীত হয়ে থাকে (নো পান ইন্টেন্ডেড!) তাহলেও কি এই অক্সিটোসিন অনুঘটিত মিল্ক ইজেকশন রিফ্লেক্স সুচীত হবে? ওয়েল, এই প্রশ্নের উত্তর উন্মুক্ত। ইমোশনালী কানেক্ট না থাকলে এই গমনপথ পুরোপুরিভাবে সক্রিয় হয় না। যেইজন্য দেখে থাকবেন গ্রামে দুধ দোহনের আগে বাছুরকে দিয়ে এরিওলা চুষিয়ে নেওয়া হয়। ফলে গাভী সন্তানের সাথে ইমোশনালি কানেক্ট হয় এবং মিল্ক ইঞ্জেকশন রিফ্লেক্স সুষ্ঠভাবে সুচীত হয়, নতুবা আশানুরুপ পরিমানে দুধ দোহন করা যায় না! মানুষের বেলাতেও এটি সত্য। এই তথ্যটির সারমর্ম হচ্ছে গিয়ে- জীবের সঙ্কেত সংবহন গমনপথগুলো আসলে স্বাধীন স্বাধীন উপায়ে কাজ করে না, বরং একটি আরেকটির সাথে জুড়ে একটি জটিল ওয়েব সৃষ্টি করে যেখানে কিনা স্বতন্ত্র গমনপথগুলোর মধ্যে চলে সর্বদাই কিচিরমিচির আদান-প্রদান। বৈজ্ঞানিক ভাষায় এই কিচিরমিচিরকেই আমরা বলি ক্রসটক। সঙ্কেত সংবহন গমনপথগুলো একে অপরের সাথে সর্বদাই ফিসফাস কথা বলে, এর একটি উদাহারণ হতে পারে আড্রেনালিন গমনপথ যেটি কিনা ইনহিবিট করে দেয় আমাদের ইনসুলিন গমনপথকে!! উপরোক্ত এই ফিড প্রক্রিয়াগুলোই কিন্তু রেগুলেট করে আমাদের শরীরবৃত্তিয় অসংখ্য অসংখ্য সকল চলক। যেখানেই আপনি অসংখ্য চলকের সমন্বয়ে গঠিত একটি জটিল সিস্টেম দেখবেন সেখানেই আপনি আশা করতে পারেন এই ফিড প্রক্রিয়াগুলো। এটা জীব ফিজিওলজির একটি অকাট্য নিয়ম!

এইবার আমি আলোচনা করতে চাই কিভাবে এই এন্ডোক্রিনোলজির জ্ঞান আমাদের আধুনিক থেরাপিউটিক্সকে বিপ্লবায়িত করেছে। ভেন্টোলিনের নামতো আপনারা শুনেছেন নিশ্চয়ই, এই পোস্ট পড়ুয়া পাঠকদের মধ্যে অন্তত একজন হয়তো এটি পকেটে নিয়ে বসেও আছেন খুব সম্ভবত! কেননা একিউট এস্থমা এটাক একটি খুবই খুবই প্রিভেলেন্ট উপসর্গ, এই মুহুর্তে আমি ডজনখানেক রোগের নাম করতে পারবো যাদের একটি উপসর্গ হবে গিয়ে কিনা এই একিউট এস্থমা এটাক। এই উপসর্গেরই একটি প্রাথমিক উপসম হচ্ছে গিয়ে এই ভেন্টোলিন ইনহেলার যার ফার্মাকোলজিকাল নাম কিনা সালবিউটামল। এইখানে একটা ছোট কথা বলে নেই, ঔষধের এই জেনেরিক নাম দেবার পাশে পাশে কেনো দাঁতভাঙ্গা ফার্মাকোলজিকাল নামও আমরা দেই? উত্তর হচ্ছে গিয়ে, পেটেন্ট এক্সপায়ার হয়ে যাওয়ার পরে একটি ঔষধ একাধিক কোম্পানী একাধিক ট্রেডমার্কে ছাড়তে পারে, যেমন আমাদের উপরোক্ত উদাহারণ- সালবিউটামল বৃটিশ কোম্পানী গ্লাক্সোস্মিথক্লিন বাজারজাত করে ভেন্টোলিন নামে, আবার জার্মান কোম্পানী মার্ক বাজারজাত করে প্রভেন্টিল নামে। যদিও নাম আলাদা তাদের একটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট কিন্তু একই, তাই সেই একটিভ ইনগ্রেডিয়েন্টটির নামেই সাধারণত তাদের ডাকা হয় বৈজ্ঞানিক সমাজে। যাই হোক, প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে একিউট এস্থমা এটাক উপসম ঘটায় সালবিউটামল, কি কাজ করে এটি এবং কেনোই বা কাজ করে?

ওয়েল, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে আমাদের ফিরে যেতে হবে ৫০০ মিলিয়ন বছর আগে অজানা কোন অতল সুমুদ্রে ক্যাম্ব্রিয়ান বিষ্ফোরণের পরপরেই যখন কিনা প্রথম বিবর্তিত হয় আমাদের আড্রেনাল ব্যাবস্থা বা ফ্লাইট-ফাইট রেসপন্স। প্রকৃতি সেখানে ছিলো ততোটুকুই রুক্ষ আর নির্দয়, যতোটুকু রুক্ষ আর নির্দয় প্রকৃতির পক্ষে সর্বোচ্চ হওয়া সম্ভব। আমাদের সর্বপ্রধান হুমকী ছিলো প্রিডেশন আর মেইটের জন্য, বাসস্থানের জন্য কিংবা খাদ্যের জন্য অন্তপ্রজাতি কম্পিটিশন। টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য হয়ে দাড়িয়েছিলো আমাদের একটি ইমার্জেন্সি ব্যাবস্থা। এমন একটি ব্যাবস্থা যা কিনা শিকারির আগমনের পদশব্দ শোনার সাথে সাথেই আমাদের হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দিবে, মাংশপেশীর তার গ্লাইকোজেন ভেঙ্গে গ্লুকোজ প্রস্তুত করে শরীরকে প্রস্তুত রাখবে যুদ্ধ করার জন্য কিংবা প্রাণ নিয়ে পালানোর জন্য, শ্বসনহার বৃদ্ধি পেয়ে নিশ্চিত করবে যেনো কোষে কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌছে যায়, যুদ্ধ হলে যুদ্ধলব্ধ ইঞ্জুরীকে সবচেয়ে স্বল্পসময়ে নিরাময় করার জন্য এবং ক্ষতস্থানের ইনফেকশন রোধ করার জন্য রেডেলার্টে রাখবে আমাদের প্রতিরোধ ব্যাবস্থাকে, ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি জপতে জপতে অপ্রয়োজনীয় সকল প্রাণরাসায়নিক গমনপথ যেমন- ডাইজেশ্চন, ইরেকশন ইত্যাদি বন্ধ করে দিবে মুহুর্তের মধ্যে শক্তি সেইভ করার জন্য, মুহুর্তের মধ্যে শ্রবনযন্ত্র ও দৃষ্টিযন্ত্রকে করবে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক অনেক বেশী সংবেদনশীল, বোধবুদ্ধি লোপ পাইয়ে দেবার মধ্য দিয়ে শক্তি সেইভ করবে, এছাড়াও ফাইট দিতে হলে হাইপারএকটিভ করে তুলবে এগ্রেশন রেসপন্স এবং ফ্লাইট দিতে হলে হাইপারএকটিভ করবে এস্কেইপ রেসপন্স ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি!

ফ্লাইট-ফাইট রেসপন্স কিন্তু খুবই খুবই চমতকার একটা জিনিষ, জীবজগতের অনেক কিছুকেই এটা খুব সুসংহতভাবে ব্যাখ্যা করতে সমর্থ। যেমন- জনসমাবেশ যেমন- কনসার্ট, হজ্ব বা এইধরণের কোন পিলগ্রিমেইজ ইত্যাদিতে স্টাম্পিডে পদপৃষ্ঠ হয়ে মানুষ মারা যায় শুনে থাকবেন বোধহয়। কি হয় স্টাম্পিডে? ওয়েল, হঠাত করে খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যে একসাথে সিঙ্ক্রোনিতে অনেকগুলো মানুষের এস্কেইপ রেসপন্স সক্রিয় হয়ে যায়, মানুষ জ্ঞানবুদ্ধি হারিয়ে ছোটাছুটি শুরু করে এবং পদপৃষ্ঠ হয়ে মারা যায়। এখানে উল্লেখ্য স্টাম্পিড কিন্তু হয়ে থাকে শুধুই স্তন্যপায়ী ক্রাউডে, কয়েকলাখ সরীসৃপ একসাথে রেখে দিয়ে তাদের যতোপ্রকারের স্টিমুলি-ই দেওয়া হোক না কেনো স্টাম্পিড হয়না সাধারণত! এই জিনিষটা প্রদর্শন করে স্তন্যপায়ী জীবের একটি ইউনিক বৈশিষ্ট, পরস্পর নির্ভরশীলতা। আমরা একে অপরের উপর নির্ভর করি, একটি সমাবেশে হঠাত একজনের এস্কেইপ রেসপন্স কার্যকর হলে যখন সে হতবিহ্বল হয়ে যায়, তার দেখাদেখি অন্যান্যরাও এটা বিশ্বাস করে নেয় যে এর এস্কেইপ রেসপন্স যেহেতু কার্যকর হয়েছে তাহলে নিশ্চয়ই আসলেই এস্কেইপ রেসপন্স কার্যকর হওয়া উচিত এমন কোনো বিপদই ঘটেছে, যেমন- আগুন লেগে থাকোতে পারে, ফলে আমার এস্কেইপ রেসপন্সও কার্যকর হওয়া উচিত এই মুহুর্তেই! চেইন রিএকশনের মতো হতবিহ্বলতা ছড়িয়ে পড়ে ক্রাউডে এবং সুচীত হয় স্টাম্পিড। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কি কি স্টিমুলি স্টাম্পিডের সুচনা করে? ওয়েল, এমন যে কোনোকিছুই যা কিনা জীবকে বিপদাপন্ন বোধ করাতে পারে। যেমন- কিছুদিন আগেই কম্বোডিয়ায় একটি ঝুলন্ত ব্রিজের উপর স্টাম্পিডে সাড়ে তিনশো মানুষ মারা যায় সংবাদে দেখে থাকবেন বোধহয়, সেই স্টাম্পিডটির সুচনাকারী স্টিমুলি ছিলো মানুষের ভীরে ঝুলন্ত ব্রিজটির দোদুল্যমানতা, মানুষ বুঝতে পারেনি যে একটি ঝুলন্ত ব্রিজ দোদুল্যমান হওয়াটাই স্বাভাবিক, মানুষের চাপে সেই দোদুল্যমানতা বরং একটু বেশী প্রনান্সডই হবে, এর বেশী কিছু নয়; মানুষ মনে করতে থাকে যে ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়তে যাচ্ছে, তাদের এস্কেইপ রেসপন্স সুচীত হয় এবং সুচীত হয় স্টাম্পিড।

যাই হোক, প্রসঙ্গে ফিরে যাই, আমাদের ফাইট-ফ্লাইট রেসপন্স অনুঘটিত করে অটোনোমিক নার্ভাস সিস্টেম তার আড্রেনার্জিক নিউরনগুলোর নিউরোট্রান্সমিটার নোর‍্যাড্রেনালিনের মাধ্যমে, এবং আমাদের এন্ডোক্রাইন ব্যাবস্থা ফাইট-ফ্লাইট রেসপন্স অনুঘটিত করে তার হর্মোন আড্রেনালিনের মধ্য দিয়ে। বস্তুত অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেমের সমস্ত নিউরোনকে কার্যক্রম অনুসারে আপনি যদি ভাগ করতে চান, তবে ভাগ করতে পারেন তাদের এড্রেনার্জিক, কোলিনার্জিক, ডোপামিনার্জিক এবং গাবা বা গামা এমিনো বিউটারিক এসিড নিষ্কৃতকারী নিউরোন হিসেবে। এদের মধ্যে এড্রেনার্জিক, কোলিনার্জিক ও ডোপামিনার্জিক নিউরোন হচ্ছে উত্তেজক বা এক্সাইটেটরি, অপরপক্ষে গাবা নিষ্কৃতকারী নিউরোন প্রশমক বা ইনহিবিটরি। অর্থাৎ, একটি এড্রেনার্জিক কিংবা কোলিনার্জিক কিংবা ডোপামিনার্জিক নিউরোন ফায়ার করলে, তার সিনাপ্টিক টার্গেট নিউরোনটিও ফায়ার করবে, অপরপক্ষে একটি গাবা নিষ্কৃতকারী নিউরোন ফায়ার করলে তার সিনাপ্টিক টার্গেট নিউরোন ফায়ার করা বন্ধ করবে বা ফায়ার করতে পারবে না! যাই হোক, সিম্প্যাথেটিক নিউরোনের নিউরোট্রান্সমিটার নোর‍্যাড্রেনালিন কিংবা কিডনীর আড্রেনাল গ্লান্ড হতে রক্তস্রোতে নিষ্কৃত আড্রেনালিন আমাদের কোষে এক্সপ্রেসড আড্রেনার্জিক রিসেপ্টরগুলোর সাথে বন্ধন স্থাপন করে। এক্সপ্রেশন প্যাটার্ন যখন আমরা পর্যালোচনা করি, তখন দেখা যায় যে এই আড্রেনার্জিক রিসেপ্টরগুলো হয় বস্তুত তিন প্রকারের- ১। আলফা আড্রেনার্জিক রিসেপ্টর যা কিনা এক্সপ্রেসড হয় প্রায় সারা শরীর জুড়েই, বিশেষত শিরা ও ধমনী এবং প্রজননতন্ত্রে, ২। বেটা আড্রেনার্জিক রিসেপ্টর যা কিনা এক্সপ্রেসড হয় ফুসফুস ও হৃতপিন্ডে, এবং ৩। গামা আড্রেনার্জিক রিসেপ্টর যা কিনা এক্সপ্রেসড হয় মেদকোষে বা আডিপোসাইটে।

ফাইট-ফ্লাইট রেসপন্স সুচীত রক্তে নিষ্কৃত আড্রেনালিন বা সিনাপ্টিক ক্লেফ্টে নিষ্কৃত নোর‍্যাড্রেনালিন আমাদের হৃতপিন্ডে এক্সপ্রেসড বেটা আড্রেনার্জিক রিসেপ্টরগুলোর সাথে বন্ধন করলে পরে যেই কোষীয় গমনপথটির সুচনা হয় তার চুড়ান্ত ফলাফল হয় গিয়ে ভেইসোকন্সট্রিকশন বা রক্তনালীর সঙ্কোচন। রক্তনালীর এই সঙ্কোচন রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। মেকানিকালি রক্তচাপ চলকটি নির্ভরশীল মোটামুটি দুটি চলকের উপর হৃতপিন্ডের কর্মক্ষমতা বা কার্ডিয়াক আউটপুট এবং রক্তনালীর ব্যাস। রক্তনালীর ব্যাস যতো বড় হয় ফ্রিকশন বা সংঘর্ষ হয় ততোই বেশী; একই মুলনীতির প্রভাবে ভেইসোকন্সট্রিকশনের ফলে রক্তনালীর ব্যাস ছোট হলে ফ্রিকশন হয় কম বিধায় প্রেসার যায় বেড়ে। এভাবেই ভেইসোকন্সট্রিকশনের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় আড্রেনাল প্রতিক্রিয়ার একটি উদ্দেশ্য, রক্তচাপ বৃদ্ধি। এখন লক্ষ্য করুন, এই বেটা আড্রেনার্জিক রিসেপ্টর কিন্তু খুবই খুবই সম্ভাবনাময় একটি ড্রাগটার্গেট। আমি আমার আগের একটি পোস্টে এটিনোলল নামক একটি ড্রাগের কথা বলেছিলাম, যেটি কিনা একটি বেটা এন্টাগনিস্ট। এটিনোলল এই বেটা আড্রেনার্জিক রিসেপ্টরগুলো ইনহিবিট করে দেয় ফলে আড্রেনালিন বা নোর‍্যাড্রেনালিন আর এই রিসেপ্টরগুলোর সাথে বন্ধন করতে পারে না, ফলে আড্রেনাল ব্যাবস্থাও সক্রিয় হয়না এবং ব্লাডপ্রেসারও বাড়ে না! কাদের জীবন বাঁচায় এটা? ওয়েল, উচ্চরক্তচাপ বা হাইপারটেনশন রোগীদের। বেটা এন্টাগোনিস্টকে অনেকে বিচার করে থাকেন ফার্মাকোলজির ইতিহাসে একটি অন্যতম বৈপ্লবিক অবদান হিসেবে। প্রতি তিনজনে একজন আমরা হৃদরোগে মারা যেতে যাচ্ছি, এই পরিসংখ্যান সম্ভবত হালালও করে তাদের এই মতামতটিকে! বেটা এন্টাগোনিস্ট আবিষ্কার ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ফার্মাকোলজিস্ট স্যার জেইমস ব্ল্যাক কে নোবেল জেতায় ১৯৮৮ সালে। স্যার জেইমস ব্ল্যাক যেই ড্রাগটি আবিষ্কার করেছিলো এর নাম ছিলো প্রোপ্রানোলল। এটির সমস্যা ছিলো, এটি ছিলো অনেক অনেক বেশী লাইপোফিলিক, ফলে এটা সহজেই ব্লাড-ব্রেইন ব্যারিয়ার অতিক্রম করতো, ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা দিতো দুঃস্বপ্ন। ক্রনিক দুঃস্বপ্ন অ্যাটাকে ভোগা একজন হাইপারটেনশন রোগীর জন্য বলাই বাহুল্য কোন সুখবর নয়, তাই আমরা প্রোপ্রানোললকে একটু ঘঁষে মেজে এটিনোললে উন্নিত করি যেটি কিনা এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে মুক্ত!

যদিও হৃতপিন্ডে আড্রেনালিনের প্রতিক্রিয়া হয় কন্সট্রিকশনের মাধ্যমে রক্তচাপ বৃদ্ধি, ফুসফুসে আড্রেনালিনের প্রতিক্রিয়া কিন্তু পুরোপুরিই তার উল্টো! ফুসফুসের ব্রঙ্কিওল বা বায়ুনালীগুলো আড্রেনালিনের প্রতিক্রিয়ায় স্ফীত হ্যে উঠে যেটিকে কিনা বলা হয় ব্রঙ্কিওডায়লেশন। ব্রঙ্কিওডায়লেশনের ফলে বেশী বায়ু ফুসফুসে প্রবেশ করে, ফলে রক্তে অক্সিজেনের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়, এভাবেই আড্রেনাল প্রতিক্রিয়া অর্জিত হয়। ফুসফুসে এক্সপ্রেসড এই বেটা আড্রেনার্জিক রিসেপ্টরগুলোও কিন্তু খুবই সম্ভাবনাময় ড্রাগটার্গেট। এবং সালবিউটামল বা ভেন্টোলিন হচ্ছে এই রিসেপ্টরগুলোর এগনিস্ট। এখন, একটি থেরাপিউটিক অনু একটি রিসেপ্টরের সাথে দুইভাবে বন্ধন করতে পারে- এগনিস্ট হিসেবে এবং এন্টাগোনিস্ট হিসেবে। এন্টাএগোনিস্ট হিসেবে বন্ধন করলে রিসেপ্টরটি ইনহিবিট হয়, যেমন আমাদের উপরের উদাহারণে বেটা এন্টাগনিস্ট এটিনোলল হৃতপিন্ডের বেটা আড্রেনার্জিক রিসেপ্টরগুলোর সাথে বন্ধন করে সেগুলো ইনহিবিট করে দিয়েছে আমরা দেখলাম, ফলে আড্রেনাল প্রতিক্রিয়া অর্জিত হতে পারেনি বা রক্তনালীর সঙ্কোচন ঘটতে পারেনি। অপরপক্ষে থেরাপিউটিক অনু এগোনিস্ট হিসেবে রিসেপ্টরের সাথে বন্ধন স্থাপন করলে রিসেপ্টরটি সক্রিয় হয়। সালবিউটামল ফুসফুসের বেটা আড্রেনার্জিক রিসেপ্টরগুলোর সাথে বন্ধন করলে যেই কোষীয় গমনপথটি সক্রিয় হয় এর চুড়ান্ত ফলাফল হয় গিয়ে, বায়ুনালীর প্রসারণ সংঘটিত হয়। ফলে বেশী বায়ু ফুসফুসে প্রবেশ করে ক্রনিক এস্থমা এটাকের উপসম ঘটায়!

মুক্তমনা ব্লগ সদস্য।

মন্তব্যসমূহ

  1. মাসুদ রানা নভেম্বর 29, 2011 at 2:59 পূর্বাহ্ন - Reply

    খুব সুন্দর হয়েছে বিজ্ঞান বিষয়ক এমন একটা প্রবন্ধ লেখা । তবে মনে হয় ভাষা গুলো আরও একটু বাংলা অনুবাদ করলে ভাল হোতো তারপরও যেটুকু কষ্ট করেছেন আমাদের মত এংরেজি অজ্ঞ দের জন্য এজন্য অসংখ্য ধন্যবাদ D:\soft-14-04-11\my photo[/img]

  2. সংশপ্তক মার্চ 31, 2011 at 12:40 পূর্বাহ্ন - Reply

    অক্সিটোসিন আমার খুবই খুবই প্রিয় একটি অনু। আমি খুব নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করেছি অক্সিটোসিন টোটাল সিনথেসিস

    অক্সিটোসিন আমারও খুবই প্রিয় একটি অনু। আমাদের হেলাল সাহেবের অনুরোধে একটা প্রেমের অনু খুঁজতে ঐটাকেই প্রথমে বেছে নিয়েছিলাম। স্ত্রী মামালের ক্ষেত্রে অক্সিটোসিন ঠিকমত কাজ করলেও বিপত্তি বাঁধে পুরুষের বেলায়। উচ্চ মাত্রায় পুরুষ মামালের ল্যাকটেশন মেকানিজম ক্রিয়াশীল হয়ে পরে , অর্থ্যাৎ পুরুষ মামাল স্তন দানের পর্যায়ে চলে আসে। সে কারনে এখানে প্রেমের অনুর উপর একটা লেখা দেয়ার আর সাহস পাইনি। :))

    • আল্লাচালাইনা এপ্রিল 3, 2011 at 3:57 অপরাহ্ন - Reply

      @সংশপ্তক,

      স্ত্রী মামালের ক্ষেত্রে অক্সিটোসিন ঠিকমত কাজ করলেও বিপত্তি বাঁধে পুরুষের বেলায়। উচ্চ মাত্রায় পুরুষ মামালের ল্যাকটেশন মেকানিজম ক্রিয়াশীল হয়ে পরে

      ওমা! তাই নাকি? এইটা জানতাম না তো? নাকি কৌতুক করলেন আমার সাথে? কেননা মনে পড়ছে কিছুদিন আগে আমারও ‘ছেলে মেয়ে হর্মোনালি এক’ এইধরণের কোন একটা বক্তব্য শুনে প্রোল্যাক্টিন ব্যাবস্থা হাইপারএকটিভ হয়ে গিয়ে কাওকে না কাওকে দুগ্ধপান করাতে ইচ্ছে করছিলো!

      অর্থ্যাৎ পুরুষ মামাল স্তন দানের পর্যায়ে চলে আসে।

      কিন্তু, কিভাবে এটা হয়, মেকানিজম কি?

      • সংশপ্তক এপ্রিল 3, 2011 at 9:51 অপরাহ্ন - Reply

        @আল্লাচালাইনা,

        কৌতুক না মোটেই। আমি পুরোপুরি পজিটিভ। পুরুষ মামালের প্রোল্যাক্টিন ব্যবস্হা নিয়ে আমার কৌতুহল বহুদিনের। এটাকে যতই ভেস্টিজ বলে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছি ততই ঘটনা জটিল থেকে জটিলতরে মোড় নিয়েছে। অনু পর্যায়ের কর্মকান্ড না জেনে এবং বিশ্লেষণ না করে হুট করে কিছুকে ভেস্টিজ বলাটা ঠিক হবে না বলেই আমি সবসময় মনে করি।
        এক ধরনের পুরুষ বাঁদুর (Dyak) স্ত্রীদের পাশাপাশি নিজেরাও বাঁদুর ছানাদের দুগ্ধ দান করে যাতে বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর চাপ শুধু স্ত্রী বাঁদুরদের উপর না পড়ে। এটা যৌক্তিকও বটে। এছাড়া বিবর্তন গবেষণায় পুরুষ মামালের প্রোল্যাক্টিন ব্যবস্তা নিয়ে একধরনের নীরবতা কিংবা অসন্তোষজনক ব্যাখ্যা লক্ষ্য করা যায়। আশা করি আপনাকে আগামী দিনগুলোয় এব্যাপারে আপডেইট করতে পারবো। এটা একেবারই আনকোরা একটা রিসার্চ যা পুরুষ মহলে ভূমিকম্পের সৃষ্টি করবে বলেই আমার বিশ্বাস। (@)

        • আল্লাচালাইনা এপ্রিল 4, 2011 at 1:40 পূর্বাহ্ন - Reply

          @সংশপ্তক,

          আশা করি আপনাকে আগামী দিনগুলোয় এব্যাপারে আপডেইট করতে পারবো।

          ওপেক্ষায় থাকলাম এই বিষয়ে আপনার পোস্ট পড়ার।

  3. আসরাফ মার্চ 30, 2011 at 10:52 অপরাহ্ন - Reply

    অক্সিটোসিন আমার খুবই খুবই প্রিয় একটি অনু। আমি খুব নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করেছি অক্সিটোসিন টোটাল সিনথেসিস, যেই আবিষ্কারটি কিনা ১৯৫৫ সালে ফার্মাকোলজিস্ট ভিন্সেন্ট ডু ভিগ্নউডকে জেতায় কেমিস্ট্রিতে নোবেল পুরষ্কার। অক্সিটোসিন বস্তুত একটি সাইক্লিক পেপটাইড, আধুনিক সলিড স্টেইট কেমিস্ট্রির যুগে অক্সিটোসিন টোটাল সিনথেসিসের জন্য কোন মানুষও এমনকি প্রয়োজন নেই, অটোমেটেড পেপটাইড সিন্থেসাইজার নিজেই অক্সিটোসিন সংশ্লেষ করতে পারবে তুড়ি মেরে। কিন্তু ভিন্সেন্ট ডু ভিগ্নউড তার আমলে যেই সলিউশন ফেইজ সিন্থেসিস করেছিলেন সেটা ছিলো অনেক অনেক কষ্টসাধ্য।

    :-X :-X কিছুই বুঝি নাই।

    এইবার আমি আলোচনা করতে চাই কিভাবে এই এন্ডোক্রিনোলজির জ্ঞান আমাদের আধুনিক থেরাপিউটিক্সকে বিপ্লবায়িত করেছে। ভেন্টোলিনের নামতো আপনারা শুনেছেন নিশ্চয়ই

    উহুঁ জানিনা।

    :-Y

  4. রৌরব মার্চ 30, 2011 at 10:45 অপরাহ্ন - Reply

    আমাদের জ্ঞান, আবেগ, প্রজ্ঞা, দর্শন সবকিছুকেই এই বি-শা-ল একটি ফিড ফরওয়ার্ড লুপের অংশ হিসেবে চিন্তা করা যেতে পারে।

    (Y)

    নিজ মনে কল্পনা করুনতো ওর্গাজম লাভের এই পজিটিভ ফিডব্যাক সার্কিট্রিটির স্বরূপ?

    এখনও ঠিক ধরতে পারিনি এটি, তবে ঘোর চিন্তা চালিয়ে যাচ্ছি 🙂

    এখানে উল্লেখ্য স্টাম্পিড কিন্তু হয়ে থাকে শুধুই স্তন্যপায়ী ক্রাউডে, কয়েকলাখ সরীসৃপ একসাথে রেখে দিয়ে তাদের যতোপ্রকারের স্টিমুলি-ই দেওয়া হোক না কেনো স্টাম্পিড হয়না সাধারণত!

    😀 😀

    এই জিনিষটা প্রদর্শন করে স্তন্যপায়ী জীবের একটি ইউনিক বৈশিষ্ট…

    আমি ভেবেছিলাম, এই ইউনিক বৈশিষ্ট্যটি হবে — “স্তন্যপায়ী জীবের পা আছে, স্টাম্পিড ঘটানোর মত” (H)

    নিউরোন ফায়ার করলে, তার সিনাপ্টিক টার্গেট নিউরোনটিও ফায়ার করবে, অপরপক্ষে একটি গাবা নিষ্কৃতকারী নিউরোন ফায়ার করলে তার সিনাপ্টিক টার্গেট নিউরোন ফায়ার করা বন্ধ করবে বা ফায়ার করতে পারবে না!

    “সিনাপ্টিক টার্গেট নিউরন” কথাটি একটু ব্যাখ্যা করুন। পড়ে মনে হচ্ছে একটি নিউরন অন্য নিউরনের সুইচ হিসেবে কাজ করছে।

    আপনার লেখার স্টাইল সম্বন্ধে অযাচিত মন্তব্য করি একটা। আপনার পলেমিকাল মন্তব্য ও লেখাগুলিতে ইংরেজি শব্দের ব্যবহার আমার খুব পছন্দ, আপনার vivid চিত্রকল্পের সাথে তার সমীকরণ অসাধারণ ছন্দ সিদ্ধি অর্জন করে — যেমন ধরুন উপরে ফারুককে করা আপনার মন্তব্য। কিন্তু মূল লেখাটার মত লেখায় এটা অতটা কার্যকর নয়। আমার ব্যক্তিগত মতামত।

    • আল্লাচালাইনা মার্চ 31, 2011 at 12:04 পূর্বাহ্ন - Reply

      @রৌরব,

      “সিনাপ্টিক টার্গেট নিউরন” কথাটি একটু ব্যাখ্যা করুন। পড়ে মনে হচ্ছে একটি নিউরন অন্য নিউরনের সুইচ হিসেবে কাজ করছে।

      আপনি যথার্থই ধরেছেন। একটি নিয়রোনের দিকে যদি আপনি তাকান, তাহলে দেখবেন এর রয়েছে একটি স্ফেরিকাল সেল বডি যেখান থেকে চুলের মতো বের হয়েছে শত শত ডেনড্রাইট, আর নীচ দিক থেকে বের হয়েছে একটি লম্বা দন্ডের মতো এক্সন। একটি নিউরোনের এক্সন আরেকটি নিউরোনের ডেনড্রাইটের সাথে সিনাপ্টিক সংযোগ স্থাপন করতে পারে। দুটি ডেনড্রাইট নিজেদের মধ্যেও সিনাপ্টিক সংযোগ স্থাপন করতে পারে। এমতাবস্থায় একটি নিউরোনকে আপনি আপরটির টার্গেট বলতে পারেন। একটি ফায়ার করলে আপরটি ফায়ার করবে বা ফায়ার করা বন্ধ করবে। আমাদের মস্তিষ্কে সিনাপ্টিক সংযোগের সংখ্যা একশো ট্রিলিয়ন!!!

  5. আল্লাচালাইনা মার্চ 30, 2011 at 10:23 অপরাহ্ন - Reply

    প্রোপ্রানোলল বা এটিনোলল কাজ করে হার্টের রেট বা হৃদস্পন্দন কমানোর মাধ্যমে।

    হ্যা এটি ঠিক, আমি আমার আগের পোস্টে এই তথ্যটি সঠিক লিখলেও এই পোস্টে এটি ভুল করেছি। আড্রেনালিন এবং নোর‍্যাড্রেনালিন বস্তুত হৃদকোষের বেটা আড্রেনার্জিক রিসেপ্টর বন্ধন করে শুধু হার্টরেটই নোয় বস্তুত সম্পুর্ণ কার্ডিয়াক আউটপুটই বৃদ্ধি করে। কার্ডিয়াক আউটপুট হচ্ছে হার্টরেট আর স্ট্রোক ভলিউমের গুনফল। এবং বেটা আড্রেনার্জিক এন্টাগনিস্ট যেমন- এটিনোলল, প্রোপ্রানোললও উচ্চরক্তচাপ কমায় কার্ডিয়াক আউটপুট হ্রাস করার মধ্য দিয়ে কেননা ব্লাডপ্রেসার হচ্ছে কার্ডিয়াক আউটপুট আর পেরিফেরাল রেসিস্টেন্সের গুনফল।

    অপরপক্ষে আড্রেনালিন এবং নোর‍্যাড্রেনালিন ব্লাডভেসেলের আলফা আড্রেনার্জিক রিসেপ্টর বন্ধন করে ভেইসোকন্সট্রিকশনের মাধ্যমে ফ্রিকশন বাড়ীয়ে বৃদ্ধি করে ব্লাডপ্রেসার। ফলে আলফা আড্রেনার্জিক এন্টাগোনিস্ট যেমন- ডোক্সাযোসিন, প্রাযোসিন উচ্চরক্তচাপ কমায় ভেইসোকন্সট্রিকশন ইনহিবিট কোরে পেরিফেরাল রেসিস্টেন্স হ্রাস করার মধ্য দিয়ে।

    ঠিক করে দিচ্ছি।

    এমনিতেই পাইপের মধ্য দিয়ে যখন কোন তরল পদার্থ যায় তখন ফ্রিকশন বা সংঘর্ষ প্রেসারের উপরে খুব কম প্রভাব ফেলে।

    তথ্যটি সঠিক নয়।

    [url=http://www.flickr.com/photos/[email protected]/5573870251/][img]http://farm6.static.flickr.com/5225/5573870251_f1b9d3aaec_b.jpg[/img][/url]
    [url=http://www.flickr.com/photos/[email protected]/5573870251/]Capture1[/url] by [url=http://www.flickr.com/people/[email protected]/]fff71[/url], on Flickr

    প্রেসার সাধারনত নির্ভর করে পাইপের ব্যাস বা ডায়ামিটারের উপরে।

    তথ্যটি সঠিক তবে আগের তথ্যটির সাথে সংঘর্ষযুক্ত। ডায়ামিটার যতো বাড়বে ফ্রিকশন ততোই কমবে। এমতাবস্থায়, ডায়ামিটার বাড়লে প্রেসার কমবে, আর ফ্রিকশন কমলে প্রেসার কমবে উক্তি দুটির মধ্যে পার্থক্য কোথায়?

    তদুপরি তরলটির ঘনত্ব যদি খুব বেশি হয় , যেমনটি রক্তের , তাহলে ফ্রিকশন বা সংঘর্ষের আদৌ কোন প্রভাব থাকবে না।

    হতে পারে, তবে অ্যানিমিক নয়, প্লাজমায় রক্তকোষের অনুপাত ঠিক আছে এমন কোন সুস্থ ব্যক্তির রক্তচাপের উপর রক্তের ভিস্কসিটির কোনই প্রভাব নেই। স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তের ভিস্কসিটি একটি ধ্রুবক। রক্তচাপ মাপার সুত্রেও ভিস্কসিটিকে বিবেচনায় নেওয়া হয়না। রক্তচাপের সুত্র হচ্ছে, P=RQ যেখানে P হচ্ছে প্রেসার, R পেরিফেরাল রেসিস্টেন্স এবং Q কার্ডিয়াক আউটপুট! এই ব্যাপারে আরও আলোকিত করতে পারে আপনাকে উইকিপিডিয়া

    এই পোস্টে প্রচুর ভুল ব্যাখ্যা ও তথ্য আছে।

    আপনি আমার দুটো ভুল ধরেছেন এর মধ্যে একটি ছিলো আসলেই ভুল, অর্থাৎ আপনার সাক্সেস রেট ৫০%!!!!! এটার জন্য, বলাই বাহুল্য, অভিনন্দন জানবেন। তবে আমার মনে একটা সুপ্ত বিষ্ময় এবং কৌতুহল দেখা দিচ্ছে- মোটামুটি এতোবড়ো একটি পোস্টের সবগুলি তথ্য নিয়ে ইংরেজিতে অনুবাদ করে গুলোলিং উইকিপিডিয়ায়িং, এটাতো বেশ কয়েক ঘন্টার পেইনফুল পেইনফুল ক্লিকি ওয়ার্ক তাই না??? তবে আপনি সফল, এটা আমাকে বেশ ভালোই অস্বস্তিতে ফেলেছে। বস্তুত, আপনি যদি আমার ভুল ধরেছেন এটা দেখে কোন স্বাভাবিক মানুষ যদি প্রশ্ন তোলে যে কোন লজ্জায় আমি এখনও কচু গাছের সাথে ফাঁসি না নিয়ে মর্তোলোকে দিব্যি বর্তে আছি নির্লজ্জের মতো, খুব শক্ত কোন কারণ দর্শানো খুব সম্ভবত সম্ভব হবে না আমার পক্ষে।।

    বেশি না , দুটি সাধারন ভুলের উল্লেখ করলাম।

    আপনার হুমকী দেখে ভয় পেয়ে পুরো পোস্ট খুউব খুউব সতর্কতার সাথে রিভিশন দিয়ে ফেলেছিলাম। সেখানে আরও একটি ভুল চোখে পড়েছিলো, ভেবেছিলাম আপনাকে সবিনয় বিণীত আর্জি জানাবো সেই ভুলটি খুঁজে বের করার জন্য। আপনার এগেই অভিজিত আর আদিল মাহমুদ সেই ভুলটি ধরে ফেলে আমার সেই উদ্দেশ্য মাটি করে দিয়েছে!!! তবে এর বেশী আর দরকার নেই, একটি ভুল ধরেই যদি আপনি আমাকে প্রশ্ন করেন যে এইসব ফিজিওলজি ফুজিওলজি খালে বিলে ভাসিয়ে কেনো আমি আপনার মতোই কোরান শরীফ অধ্যয়নে বসে যাচ্ছিনা, হাফেজী শিখতে বসে যাচ্ছি না, মাদ্রাসায় ফাজিল কোর্সে ভর্তি হয়ে যাচ্ছি না, নিশ্চুপ থাকা ছাড়া খুব বেশী কোন গত্বন্তর থাকবে না আমার, কেননা আসলেই যেই সিলি সিলি ভুলটা আমি করেছি, মানে যেই ভুলটা কিনা এতোটাই গর্হিত ভুল যেটা কিনা এমনকি ফারুকও ধরে ফেলতে পারে, সেই ভুল কেউ করে করলে তার ফিজিওলজি অধ্যয়ন বন্ধ করে কোরান শরীফ বা হাদিস শরীফ অধ্যয়ন করতে বসে যাওয়া উচিত, কিংবা অধ্যয়ন করতে বসে যাওয়া উচিত কোরান, হাদিসের মতোই অন্য কোনকিছু ফিজিওলজি অধ্যয়নের তুলনায় যেটা অধ্যয়ন করতে কিনা কয়েক অর্ডার অফ ম্যাগ্নিচিউড কম ইন্টেলেকচুয়াল মেরিট লাগে!!

    ভুল ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ দিলেও আপনার একটি আচরণের সমালচনাই করবো। সেটি হচ্ছে ভেক ধরা, পোস্টে প্রচুর ভুল বেশী না মাত্র দুইডা ধরতাছি এইসব ফাঁপড়বাজি করেতো আপনি এইটাই বোঝাতে চাচ্ছেন যে- আপনি নিজে মোটামুটি ফিজিওলজি টিজিওলজি ভেজে খেয়ে বসে আছেন সেই প্রাচীন জুরাসিক যুগেই। এটাতো অবশ্যই সঠিক কোন ভেক ধরা হল না হযরত ফারুক রহমুতাল্লা? নিজেকেই প্রশ্ন করুননা আসলেই কি আপনি যা প্রিটেন্ড করছেন বা যা মেইক বিলিফ করছেন সেটা যুক্তিযুক্ত কিনা। বেশীকিছু না, আপনার প্রোফাইলে হলগ্রাম, তেল, চুল, কলমদানী, গোলাপফুল ইত্যাদির উপমা সম্বৃদ্ধ হাস্যরসে পরিপুর্ণ শোচণীয় শোচণীয় যেই পোস্টগুলো রয়েছে, আপনার কি মনে হয় একজন স্বাভাবিক মানুষকে ওই পোস্টগুলো পড়িয়ে (অবশ্যই বলপুর্বক , অন্তত কিছু বল প্রয়োগ না করলে সেই পোস্টগুলো পুরো পড়ে শেষ করা বেশ কঠিন!) যদি বলা হয় যে এই পুস্টের লেখকতো খুব্বালা ফিজিওলজি পারে, এমনিতেই পোস্ট পড়ে একদমক হাসির ঠেলায় ওষ্টাগত প্রাণ নিয়ে হিমসিম খাওয়া সেই ব্যক্তি কি নতুন আরেক দমক হাসির চাপে এইবার শ্বাসরুদ্ধ হয়েই মারা যাবে না?

    • আল্লাচালাইনা মার্চ 30, 2011 at 10:26 অপরাহ্ন - Reply

      @আল্লাচালাইনা, সরি উপরের মন্তব্যটা ফারুককে করা।

  6. রৌরব মার্চ 30, 2011 at 8:21 অপরাহ্ন - Reply

    পড়ে চলেছি। ভাল লাগছে, মন্তব্য পরে।

  7. আবুল কাশেম মার্চ 30, 2011 at 12:40 অপরাহ্ন - Reply

    আল্লাচালাইনা;

    আপনার লেখা আমি মনযোগ দিয়ে পড়ি। কিন্তু এই লেখাটার অল্প কিছু বুঝলাম–বেশীরভাগ বুঝি নাই। সেটা আপনার দোষ নয়–দোষ আমারই। আপনি যে বিষয়ে লিখেছেন তাতে আমার ঘিলু খুব অল্প।

    মনে হচ্ছে কয়েকবার পড়তে হবে সম্পূর্ণ বুঝার জন্য।

    আচ্ছা, একটা ব্যাপার আমার মনে সবসময় ঘুরপাক খাচ্ছে—আপনার নাম আল্লচালাইনা হল কেমন করে? আপনি কি আল্লা পাকের হুকুম ছাড়া চলতে ফিরতে পারেন না? আপনি কি সর্বদা হাতে অথবা পকেটে কোরান শরীফ, হাদিস, শরিয়া নিয়ে চলাফিরা করেন? নাকি অন্য কোন কারণ আছে?

    আমি ব্লগে যত নাম দেখেছি তার মাঝে আপনার নামটি খুব রহস্যজনক বা হেঁয়ালি মনে হয়েছে।

    হাসবেন না।

    • আল্লাচালাইনা মার্চ 30, 2011 at 10:23 অপরাহ্ন - Reply

      @আবুল কাশেম, আপনার নাম আল্লচালাইনা হল কেমন করে?

      অসদস্য অবস্থায় মুক্তমনায় আমি একটা মন্তব্য করেছিলাম একজন ইসলামিস্টের বিরুদ্ধে যে কিনা ইভোলিউশনের বিরুদ্ধে কথা বলছিলো। ওই মন্তব্যে একটা কোন জায়গায় আমি এমন একটা কিছু বলেছিলাম যে-“……আমি জানি আমাদের এই কষ্টার্জিত আধুনিক কাটিং এইজ বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলির উপর দিয়ে নির্দয়ভাবে আপনার মধ্যযুগীয় আল্লা চালিয়ে দিতে একফোঁটাও বিবেকে বাঁধবে না আপনার……” বা এইরকম একটা কিছু। মন্তব্যটি কম্পোজ শেষ করার পর পোস্ট যখন করবো তখন মন্তব্যকারী নামের ঘরে কি নামে লিখবো এটা আমি নির্ধারণ করতে পারছিলাম না। পাঁচ দশমিনিট নাম গুঁতাগুঁতি করে যখন পেলাম না, তখন ঐ “……আল্লা চালিয়ে দিতে একফোঁটাও বিবেকে বাঁধবে না……” মন্তব্যের আলোকেই নাম দিয়েছিলাম আল্লাচালাইনা। এটার মধ্য দিয়ে আমি বোঝাতে চেয়েছিলাম যে “আমি এইসব আল্লা টাল্লা বিজনেসের মধ্যে নাই”। এইটা খুব একটা সফিস্টিকেইটেড নাম হয়নি আমি বুঝি। মুক্তমনাও পরে সদস্যপদ দেবার সময় আমার ওই নিকেই সদস্যপদ দিয়েছিলো। সদালাপের হয়রানকেতো নিশ্চয়ই চিনেন? খাঁজা বাবা হয়রান? যাই হোক, পরে কোন একদিন হয়রানকে নিয়ে লেখা কোন একটা পোস্টে কে যেনো ফেইসবুকে হয়রানের ফ্যানক্লাবের লিঙ্ক দেয়। ওই ফ্যানক্লাবে যোগ দেওয়ার জন্য ফেইসবুকে গিয়ে দেখি ওইখানেও নিকনেইম লাগবে একটা, ঐখানেও এই নিকটাই দেই। আমার ব্লগেও একাউন্ট খুলি পরে একসময় আদিল মাহমুদ আর আকাশ মালিকের দেখাদেখি, ঐখানেও এই নিকটাই দেই। এভাবেই নিকটা ফিক্স হয়ে যায়।

      নাম দেওয়া কাজটাতে আমি খুবই খুবই অপটু। যেমন- এই পোস্টটা লিখে পোস্ট করে ফেলার পর দেখলাম যে কোন নাম দেওয়া হয়নি। কি নাম দিবো, কি নাম দিবো, নাম যে খুঁজে পাচ্ছি না কোনো! তাই নামহীন পোস্টটি ড্রাফট করে নাম খুঁজতে বেরিয়ে পরি, পাঁচ দশ মিনিট গুঁতাগুঁতি করে কোন নাম না পেয়ে নাম দেই “আমাদের দেহের ফিড প্রক্রিয়া সম্পর্কিত একটি পোস্ট”, এই নামটিও মোটেও সফিস্টিকেইটেড কোন নাম হয়নি! পৃথিবীর সকল বিশেষ্য যদি যাদুবলে বিশেষণে ট্রান্সমিউটেট করতে পারতো কোনভাবে, আমার জীবন খুবই খুবই সহজ করতো সেটা!!

  8. শেসাদ্রি শেখর বাগচী মার্চ 30, 2011 at 10:16 পূর্বাহ্ন - Reply

    ব্লাড প্রেশার বাড়ছে………।

  9. ফারুক মার্চ 30, 2011 at 5:53 পূর্বাহ্ন - Reply

    জানি না সাধারন ব্লগারদের এই পোস্ট কতটুকু কাজে দেবে বা তারা আদৌ বুঝবেন কী না? এই পোস্টে প্রচুর ভুল ব্যাখ্যা ও তথ্য আছে। বেশি না , দুটি সাধারন ভুলের উল্লেখ করলাম।

    রক্তনালীর ব্যাস যতো বড় হয় হয় ফ্রিকশন বা সংঘর্ষ হয় ততোই বেশী; একই মুলনীতির প্রভাবে ভেইসোকন্সট্রিকশনের ফলে রক্তনালীর ব্যাস ছোট হলে ফ্রিকশন হয় কম বিধায় প্রেসার যায় বেড়ে।

    এমনিতেই পাইপের মধ্য দিয়ে যখন কোন তরল পদার্থ যায় তখন ফ্রিকশন বা সংঘর্ষ প্রেসারের উপরে খুব কম প্রভাব ফেলে। প্রেসার সাধারনত নির্ভর করে পাইপের ব্যাস বা ডায়ামিটারের উপরে। পাইপ যত চিকন হবে , প্রেসার ও তত বেশি হবে। বাগানে পানি দেয়ার সময় রবারের পাইপের মুখ আঙ্গুল দিয়ে চেপে পানি অনেক দুর পর্যন্ত দেয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরি আছে।

    তদুপরি তরলটির ঘনত্ব যদি খুব বেশি হয় , যেমনটি রক্তের , তাহলে ফ্রিকশন বা সংঘর্ষের আদৌ কোন প্রভাব থাকবে না।
    Fluids with a high viscosity will flow more slowly and will generally not support eddy currents and therefore the internal roughness of the pipe will have no effect on the frictional resistance. This condition is known as laminar flow.
    রক্তনালীতে রক্তের প্রবাহ ও laminar flow।

    যেমন আমাদের উপরের উদাহারণে বেটা এন্টাগনিস্ট এটিনোলল হৃতপিন্ডের বেটা আড্রেনার্জিক রিসেপ্টরগুলোর সাথে বন্ধন করে সেগুলো ইনহিবিট করে দিয়েছে আমরা দেখলাম, ফলে আড্রেনাল প্রতিক্রিয়া অর্জিত হতে পারেনি বা রক্তনালীর সঙ্কোচন ঘটতে পারেনি।

    প্রোপ্রানোলল বা এটিনোলল কোনটাই vasodilator নয় বা রক্তনালীর সঙ্কোচন বা প্রসারনে এর কোন ভূমিকাই নেই। প্রোপ্রানোলল বা এটিনোলল কাজ করে হার্টের রেট বা হৃদস্পন্দন কমানোর মাধ্যমে।
    By blocking the stimulation of these nerves, atenolol reduces the heart rate and is useful in treating abnormally rapid heart rhythms.

    • আদিল মাহমুদ মার্চ 30, 2011 at 8:22 পূর্বাহ্ন - Reply

      @ফারুক,

      মূল লেখা এখনো পড়িনি। তবে আপনার ভুলে দেখানোতে চোখ গেল।

      কোলেষ্টেরলের কারনে ব্লাড প্রেশার বাড়ে তো রক্তনালীতে চর্বি জমে জমে ডায়া কমিয়ে দেয় বলেই জানি। এটা কি ভুল?

      পাইপ যত চিকন হবে , প্রেসার ও তত বেশি হবে।

      – ফ্লুইড মেকানিক্সের ভাষায় আপনার এই তথ্য সম্পূর্ন ভুল। আপনি কি বেগ বা ভেলোসিটির কথা বলতে চাইছিলেন?

      ব্যাপারটা হল শক্তির নিত্যতার জন্য অসম ব্যাসের পাইপের সব যায়গায় শক্তি বা এনার্জি হেড সমান হতে হবে। পাইপের ডায়া কমে আসলে পানির বেগ বৃদ্ধি পাবে, ফলে প্রেশার কমে যাবে। সাধারন চোখে মনে হতে পারে যে চিকন হলে প্রেশার বাড়ে। কিন্তু বিজ্ঞানের চোখে ঊল্টো। বার্নোলির সূত্র এটাকে ব্যাখা করে। এখানে সোজা ভাষায় দেখে নিন।

      উল্টোদিকে, ডায়া বাড়ালে বেগ কমে যাবে, প্রেশার বেড়ে যাবে।

      ল্যামিনার ফ্লো অনেকটা তত্ত্বীয়। আদর্শ ল্যামিনার ফ্লো মনে হয় না প্রাকৃতিক ভাবে হয় বলে। কারন যে সারফেসের ভেতর দিয়ে ফ্লুইড যায় তাতে সামান্য হলেও রেজিষ্ট্যান্স দেবেই, ফলে ফ্লুইডের সব লেয়ার প্যারালাল হবে না। তবে ব্যাবহারিক প্রয়োযনের জন্য রিনোল্ড নাম্বারের রেঞ্জ অনুযায়ী ল্যামিনার/টারবুলেন্ট ভাগ করা হয়।

      ব্লাড ফ্লো কে বড় নালীর ভেতর বেশীরভাগ সময়েই ল্যামিনার ধরা যায়, তবে সরু নালী (অরিফিস এফেক্টো) তে পরিবর্তনের যায়গায় খুবই টার্বুলেন্ট হতে হবে।

      হাই ভিস্কোটির তরলে রিনোন্ড নাম্বার কমে যাবে, ফলে টারবুলেন্ট থেকে ল্যামিনার হবার সম্ভাবনা বেশী, ঠিক। তবে শুধু ভিস্কোসিটিই নয়, ডায়ামিটার, ভেলোসিটির ওপরও নির্ভর করে। ভেলোসিটি খুব বেশী হলে একই ভিসকোসীটির তরলও টার্বুলেন্ট হয়ে যেতে পারে, যা হয়ত কম ভেলোসিটিতে ল্যামিনার ছিল। রক্তের ঘন্ত্ব সম্পর্কে অবশ্য আমার কোন ধারনা নেই।

      • ফারুক মার্চ 30, 2011 at 8:51 পূর্বাহ্ন - Reply

        @আদিল মাহমুদ,আমি ইন্জিনিয়ার না , আপনিই ভাল ব্যাখ্যা করতে পারবেন।
        মানুষের কার্ডিও ভাসকুলার সিস্টেম একটি closed system । এখানে
        fluid অর্থাৎ রক্তের পরিমান নির্দিষ্ট থাকে এবং হার্টের পাম্প করার ক্ষমতা যদি অপরিবর্তিত থাকে , তাহলে রক্তনালী , বড়গুলো নয় , সাধারনত ছোট (arteriole)ও সুক্ষ নালীগুলোর(capillary) সঙ্কোচনের ফলে কেন রক্তচাপ বাড়ে? মনে রাখবেন রক্তের viscosity পানির থেকে অনেক বেশি।

        • আদিল মাহমুদ মার্চ 30, 2011 at 9:17 পূর্বাহ্ন - Reply

          @ফারুক,

          ভিসকোসিটির সাথে চাপের সম্পর্ক নেই, আছে ল্যামিনার বা টার্বুলেন্ট ফ্লো কিনা তার। প্রেশার বা চাপের সাথে সম্পর্ক আছে ডায়ামিটার, গতি এসবের।

          উইকির লিংক পড়েন, খুব সোজা করে লেখা আছে। এটা ফ্লুইড মেকানিক্সের একেবারে হাতে খড়ি, খুব মজার।

          • অভিজিৎ মার্চ 30, 2011 at 5:01 অপরাহ্ন - Reply

            @আদিল মাহমুদ,

            ভাল আলোচনা হল। যাক আপনার ইঞ্জিনিইয়ারিং জ্ঞান প্রকাশিত হল। বার্নলির ইকুয়েশন সেই কবে ফ্লুইড ডাইনামিক্সে পড়েছিলাম … :))

            প্রেশারের ব্যাপারটা ঠিক আছে, কিন্তু আল্লাচালাইনা ফ্রিকশনের ব্যাপারটা যেটা লিখেছেন, সেটা মনে হয় ঠিক নয়। “রক্তনালীর ব্যাস যতো বড় হয় ফ্রিকশন বা সংঘর্ষ হয় ততোই বেশী” – এটা ঠিক নয়। ব্যাস কমলেই ফ্রিকশন বেশি হবার কথা। ফ্রিকশন ফ্যাকটর আমি যতদূর জানি ফ্রিকশন ফ্যাকটর রেনল্ডস নাম্বার আর রিলেটিভ রাফনেস ফ্যাকটরের (e/D) একটি ফাংশন।

            [img]http://www.efunda.com/formulae/fluids/images/friction_definition.gif[/img]

            এতকিছুতে না গিয়ে ওয়েবে এই ফ্রিকশন ক্যাল্কুলেটর ব্যাবহার করলেও বোঝা যাবে। ডায়ামিটার যত বাড়াবেন, দেখবেন ফ্রিকশন কমে আসছে। ঠিক বললাম নাকি?

            • আদিল মাহমুদ মার্চ 30, 2011 at 5:36 অপরাহ্ন - Reply

              @অভিজিৎ,

              আমারো এই বিদ্যা সেই ৯৪ সালের পাঠ। তারপর আর এসব নিয়ে তেমন কাজ করতে হয়নি, তবে বেসিক গুলি মনে আছে।

              ফ্রিকশনের ব্যাপারে আপনার কথাই ঠিক, আল্লাচালাইনা ভুল। যতদুর মনে পড়ে যে আপনার বলা ফাংশনের ভিত্তিতে নানান ইম্পিরিক্যাল ইকুয়েশন ও গ্রাফ আছে, মুডি ডায়াগ্রাম (ছাত্র জীবনে আমরা বলতাম মুরগী ডায়াগ্রাম) মনে হয় সবচেয়ে বেশী ব্যাবহার হয়।

              আমি ফারুক সাহেবকে পরিষ্কার করতে চেয়েছিলাম ডায়ামিটারের সাথে প্রেশারের সম্পর্ক। এটা সোজা চোখে উলটো মনে হতে পারে যেমনটা ফারুক সাহেব মনে করেছিলেন, আসলে উলটো।

              ইঞ্জিনিয়ারিং জগতে এই জাতীয় বেশ কিছু সাদা চোখে দেখা ধারনার উলটো কথা আছে। যেমন, কে বিশ্বাস করবে যে লোহা খুবই ইলাষ্টিক ম্যাটেরিয়াল?

            • আল্লাচালাইনা মার্চ 30, 2011 at 11:47 অপরাহ্ন - Reply

              @অভিজিৎ, “রক্তনালীর ব্যাস যতো বড় হয় ফ্রিকশন বা সংঘর্ষ হয় ততোই বেশী” – এটা ঠিক নয়। ব্যাস কমলেই ফ্রিকশন বেশি হবার কথা।

              আপনি এবং আদিল মাহমুদ ঠিক বলেছেন। আসলে এই তথ্যটা আমি একটা বইয়ে পড়েছিলাম, উপরে ফারুকের মন্তব্যে ক্রিনশট দিয়েছি হলুদ আন্ডারলাইন করা দেখুন। এইখানে ফ্রিকশন বলেতো আমরা বোঝাচ্ছি ব্লাড আর ব্লাডভেসেলের দেয়াল ইন্টারফেস দুটির মধ্যকার ফ্রিকশন। এই ফ্রিকশন ভেসেলের সার্ফেস এরিয়ারই ফাঙ্কশন। এখন ভেইসোডায়ালেশনের ফলে ভেসেলের সার্ফেস এরিয়া বাড়লেতো ফ্রিকশন হ্রাস পাওয়ারই কথা এবং ভেইসোকন্সট্রিকশনের ফলে ফ্রিকশন বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। আমার “রক্তনালীর ব্যাস যতো বড় হয় ফ্রিকশন বা সংঘর্ষ হয় ততোই বেশী” এই কথাটা ভুল হয়েছে; সঠিক কথাটি হবে “রক্তনালীর ব্যাস যতো ছোট হয় ফ্রিকশন বা সংঘর্ষ হয় ততোই বেশী”।।

        • আল্লাচালাইনা মার্চ 30, 2011 at 11:55 অপরাহ্ন - Reply

          @ফারুক,

          মানুষের কার্ডিও ভাসকুলার সিস্টেম একটি closed system ।

          ক্লোজড সিস্টেম হচ্ছে এমন সিস্টেম যেটা কোন পদার্থ কিংবা শক্তি ইনপুট নিতে পারে না। যেটি কিনা এমনকি একও ফেমটোগ্রাম পদার্থ কিংবা এক ফেমটোজুল শক্তিও ইনপুট হিসেবে নিবে না এমন আদর্শ ক্লোজড সিস্টেম বস্তুত মহাবিশ্ব বা বাস্তবতার কোথাও নেই, তবে গুজব শোনা যায় যে লাওহে মাহফুজে নাকি আল্লা দু একটি ক্লোজড সিস্টেম আল্লাহুপাক সংরক্ষীত অবস্থায় রেখেছেন!

          এখানে fluid অর্থাৎ রক্তের পরিমান নির্দিষ্ট থাকে

          নাহঃ রক্তের পরিমান নির্দিষ্ট থাকে না; থাকলে আমাদের ব্লাড প্রেসার, ব্লাড ভলিউম নিয়ন্ত্রন করার সুযোগ এবং প্রয়োজন দুটির কোনটিই থাকতো না। প্রতিটি নিউট্রিয়েন্টের মতোই খাদ্যে গ্রহন করা পানিও আমাদের রক্তস্রোতে শোষিত হয়, এবং আমাদের ব্লাড ভলিউম বৃদ্ধি করে। ইঞ্জুরীর ফলে ব্লাডলস হলে ব্লাড ভলিউম হ্রাস পায়।

          এবং হার্টের পাম্প করার ক্ষমতা যদি অপরিবর্তিত থাকে ,

          সেটাও কখনও অপরিবর্তিত থাকে না, শারিরীক পরিশ্রমে আমাদের কার্ডিয়াক আউটপুট বৃদ্ধি পায়, ভয় পেলে বৃদ্ধি পায়, পুলকিত হলে বৃদ্ধি পায়; আবার ঘুমালে কমে ইত্যাদি ইত্যাদি।

          তাহলে রক্তনালী , বড়গুলো নয় , সাধারনত ছোট (arteriole)ও সুক্ষ নালীগুলোর(capillary) সঙ্কোচনের ফলে কেন রক্তচাপ বাড়ে?

          বড়নালীগুলাকি সঙ্কুচিত/প্রসারিত হয়না, হলে কি এই সঙ্কোচন/প্রসারনের ফলে তাদের মধ্যকার লোকাল প্রেসার বাড়ে/কমে না? নাকি ছোটনালীগুলোর জন্য প্রকৃতির যেই নিয়ম বড়নালীগুলোর জন্য প্রকৃতির সেই নিয়ম আলাদা?

          মনে রাখবেন রক্তের viscosity পানির থেকে অনেক বেশি।

          Haematocrit ratio (ইংরেজিতে লিখলাম এইবার কপি-পেস্ট করে গুগোল করেন গিয়ে এটার মানে কি) ঠিক রয়েছে এমন একজন সুস্থ ব্যক্তির ব্লাড প্রেসার তার ব্লাড ভিস্কোসিটির সাথে কিভাবে সম্পর্কিত?

          হাস্যকর কথা খালি বলে চললেই হবে? আপনি কি খেয়াল করলেন যে আপনার উপরোক্ত মন্তব্যগুলোতে য-তো-গু-লো বাক্য রয়েছে তার একটাও বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপুর্ণ না??? এইটা কিন্তু বেশ কঠিন একটা কাজ, একজন সুস্থ মানুষকে যদি বলা হয় যে তোমাকে পরপর পাঁচটা বাক্য বলতে হবে এবং এই পাঁচটা বাক্যের মধ্যে একটা বাক্যও বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপুর্ন হতে পারবে না; আমি নিশ্চিত মানসিকভাবে সুস্থ হয়ে থাকলে ঐ ব্যক্তি এই অসাধ্য সাধনে ব্যার্থ হবে।

      • ফারুক মার্চ 30, 2011 at 8:53 পূর্বাহ্ন - Reply

        @আদিল মাহমুদ,

        পাইপের ডায়া কমে আসলে পানির বেগ বৃদ্ধি পাবে, ফলে প্রেশার কমে যাবে। সাধারন চোখে মনে হতে পারে যে চিকন হলে প্রেশার বাড়ে। কিন্তু বিজ্ঞানের চোখে ঊল্টো। বার্নোলির সূত্র এটাকে ব্যাখা করে। এখানে সোজা ভাষায় দেখে নিন।

        এটা মনে হয় open system এর জন্য।

        • আদিল মাহমুদ মার্চ 30, 2011 at 9:10 পূর্বাহ্ন - Reply

          @ফারুক,

          ???

          ওপেন সিষ্টেমে (মানে ওপেন চ্যানেল?) তো প্রেশার সব সময়ই জিরো বা বায়ু চাপের সমান।

          বার্নোলি ইকুয়েশন আগে পাইপ ফ্লোর জন্যই বলেছি।

          • ফারুক মার্চ 30, 2011 at 9:21 পূর্বাহ্ন - Reply

            @আদিল মাহমুদ,

            ওপেন সিষ্টেমে (মানে ওপেন চ্যানেল?) তো প্রেশার সব সময়ই জিরো বা বায়ু চাপের সমান।

            ওপেন সিষ্টেম বলতে বুঝিয়েছি তরল , পাইপের একদিক থেকে ঢুকে অন্য দিক দিয়ে বেরিয়ে যায় , অর্থাৎ রিসাইকেল হয় না।
            মানুষের কার্ডিও ভাসকুলার সিস্টেম একটি closed system অর্থাৎ একি রক্ত জালের মতো ছড়ানো বিভিন্ন সাইজের পাইপের মধ্যে প্রবাহিত হয়ে চলেছে।

            • আদিল মাহমুদ মার্চ 30, 2011 at 9:29 পূর্বাহ্ন - Reply

              @ফারুক,

              বার্নোলির সূত্রের সাথে আপনার ভাষার ওপেন বা ক্লোজড এর সম্পর্ক নেই।

              কারন এই বার্নোলি দিয়ে আমাদের বহু অংক করতে হয়েছে প্রেশারাইজড অবস্থায় (আপনি যাকে ক্লোজড বলছেন), মানে পাইপের একদিকে হয়ত একটা ট্যাংক লাগানো আছে…আরেক দিকেও কিছুই লাগানো আছে…

      • ফারুক মার্চ 30, 2011 at 9:12 পূর্বাহ্ন - Reply

        @আদিল মাহমুদ,

        কোলেষ্টেরলের কারনে ব্লাড প্রেশার বাড়ে তো রক্তনালীতে চর্বি জমে জমে ডায়া কমিয়ে দেয় বলেই জানি। এটা কি ভুল?

        হ্য ভুল। কোলেষ্টেরলের কারনে ব্লাড প্রেশার বাড়ে না। কোলেষ্টেরল সকল রক্তনালীতে নয় , কোন একটি বা দুটি জায়গায় কোন কারনে যদি রক্তনালীর দেয়াল ক্ষতিগ্রস্থ হয় , সেখানে জমে প্লেক তৈরি করে। এই প্লেক ঐ নির্দিষ্ট রক্তনালীর ব্যাস কমিয়ে দেয় ঠিকি , তবে সামগ্রিকভাবে রক্তচাপের ওপরে প্রভাভ বিস্তার করেনা। বিপদ ঘটে তখন যখন ঐ প্লেক ভেঙ্গে যেয়ে হার্ট বা ব্রেনের সুক্ষ রক্তনালীকে বন্ধ করে দেয়, ফলে হয় হার্ট এ্যটাক বা ব্রেন স্ট্রোক।

        • আদিল মাহমুদ মার্চ 30, 2011 at 9:40 পূর্বাহ্ন - Reply

          @ফারুক,

          এটা আমার পরিষ্কার জানা ছিল না, ধন্যবাদ। এথরোমেটিক প্ল্যাকের কথা জানতাম। তবে এই প্ল্যাকই যে সরাসরি ঝামেলা করে তা জানতাম না, আমার ধারনা ছিল ব্লাড ভেসেলের ডায়া কমে যাওয়ায় সমস্যাটা হয়, মানে পুরো দেহেরই রক্ত সঞ্চালনে বাধা দেয়।

          • আল্লাচালাইনা মার্চ 30, 2011 at 11:53 অপরাহ্ন - Reply

            @আদিল মাহমুদ,

            এটা আমার পরিষ্কার জানা ছিল না, ধন্যবাদ। এথরোমেটিক প্ল্যাকের কথা জানতাম। তবে এই প্ল্যাকই যে সরাসরি ঝামেলা করে তা জানতাম না, আমার ধারনা ছিল ব্লাড ভেসেলের ডায়া কমে যাওয়ায় সমস্যাটা হয়, মানে পুরো দেহেরই রক্ত সঞ্চালনে বাধা দেয়।

            আপনি যেটা জেনেছিলেন সেটিই ঠিক। সাধারণত এটা হয় খুবই খুবই স্বল্পহারে কেননা কোলেস্টেরল রক্তস্রোতে বাহিত হয় লো ডেন্সিটি লাইপোপ্রোটিন নামক ক্যারিয়ার অনু দ্বারা, যেটি কিনা তেলজাতীয় কোলেস্টেরলকে বানায় পানিতে সলিউবল। এথেরোস্ক্লেরোটিক প্লাক জন্মে যখন কিনা রক্তস্রোতে কোলেস্টেরল কোনভাবে প্রেসিপিটেট করে, নানাধরণের স্বাভাবিক কারণেই এই প্রেসিপিটেশন ঘটতে পারে। এই অবস্থাটি খুবই স্বাভাবিক, আমাদের প্রত্যেকের ব্লাডভেসেলেই একটু না একটু হলেও এই কোলেস্টেরলের ডেপোজিশন পাওয়া যাবে। স্বাভাবিক অবস্থায় এটা কোন বিরুপ প্রভাবও ফেলে না, কেননা কোলেস্টেরল ডেপোজিশন রক্তচাপ বাড়িয়ে দিলে ভেইসোডায়ালেশনের মাধ্যমে ভেসেলকে স্ফীত করে মস্তিষ্ক রক্তচাপ স্বাভাবিক অবস্থায় রাখতে পারে। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে যাওয়া স্বত্বেও এই পর্যায়ে এথেরোস্ক্লেরোসিস থাকে সম্পুর্ণই এসিম্পটোটিক। কিন্তু যৌবন পেরিয়ে গেলে, বয়স যতো আমাদের বাড়তে থাকে এই প্লাকের পুরুত্বও বাড়ে ততোটাই বেশী, বাড়তে বাড়তে আমাদের সাধারন রেগুলেশন আর ব্লাডপ্রেসার নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারে না, হাইপারটেনশন তখনই দেখা যায়। হাইপারটেনশন হৃদরোগের একটি অন্যতম প্রথম দিককার সিম্পটম, ফারুক যেই স্ট্রোকের কথা বলছে যে- এথেরোস্কেরটিক প্লাক ইনফ্লেমড হয়, ইনফ্লামেশন ফাইব্রিন ক্লট জন্ম দেয়, ফিব্রিন ক্লট রক্তের চাপে ভেঙ্গে ডাউনস্ট্রীম ভেসেল ব্লক করে এম্বোলিজমের জন্ম দেয়, এম্বলিজম জন্ম দেয় স্ট্রোকের, সেটা আরও অনেক অনেক পরের ব্যাপার। অনেক মানুষের কন্ডিশন এই স্ট্রোক পর্যন্ত যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমানে ডিটেরিয়রেট-ই করে না!!

            স্ট্রোক হতে পারে দুই প্রকারের, এই এম্বোলিক বা থ্রম্বোটিক স্ট্রোক যেটা কিনা ব্লক করে দিয়ে ভেসেলের রক্তপ্রবাহ বন্ধ করে স্ট্রোকের জন্ম দেয়, আর হেমোরেজিক স্ট্রোক। হেমোরেজিক স্ট্রোক হয় যখন কিনা এথেরোস্ক্লেরোটিক প্লাক এতোটাই খারাপভাবে ইনফ্লেমড হয় যে ব্লাডভেসেল একেবারে ফুঁটোই হয়ে যায়/ ছিঁড়ে যায়/ এতোটাই দুর্বল হয়ে যায় যে রক্তচাপেই ফেটে যায়। ভেসেল-অভ্যন্তরে ক্ষত এথেরোস্কেরোটিক প্লাক জন্মায় না, বরং এথেরোস্ক্লেরোটিক প্লাক ইনফ্লেমড হয়ে ক্ষতের জন্ম দেয়, এছাড়াও অন্যান্য অনেক কারণেই ব্লাড ভেসেল ইনফ্লেমড হোয়ে থ্রম্বোটিক এবং হেমরেজিক উভয়প্রকারের স্ট্রোকই জন্ম দিতে পারে! আর ফারুক যেটা বলছে যে এথেরোস্ক্লেরোটিক প্লাক জন্মে শুধু ভেসেল ওয়ালে ক্ষতের সৃষ্টি হলেই, এটা তার মনগড়া কথা অথবা কম বোঝার ফলাফল। তবে আমার অবচেতনে মৃদু আশঙ্কা হয় যে- ফারুক যে হিউম্যান ফিজিওলজি শেখার খুব একটা নির্ভরযোগ্য কোন সোর্স নয়, এই সত্যটি সম্পর্কে আপনি নিজেও নিজ অবচেতনে অবগত রয়েছেন কোন না কোন ভাবে!!

        • আল্লাচালাইনা মার্চ 30, 2011 at 11:56 অপরাহ্ন - Reply

          @ফারুক,

          হ্য ভুল। কোলেষ্টেরলের কারনে ব্লাড প্রেশার বাড়ে না।

          😀 😀 😀
          শুধুমাত্র আপনার এই একটি বক্তব্যকে যদি আপনি অভিডেন্স দ্বারা বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপুর্ণ প্রমান করতে পারেন, এটা আপনাকে নোবেল না জেতালেও পত্রিকার হেডলাইনতো অবশ্যই করবে!

          এই প্লেক ঐ নির্দিষ্ট রক্তনালীর ব্যাস কমিয়ে দেয় ঠিকি , তবে সামগ্রিকভাবে রক্তচাপের ওপরে প্রভাভ বিস্তার করেনা।

          নারে বাবাজান, বাস্তবতা মোটেও এমুন না:-[ । একজাগায় প্রশ্ন করেন “”তাহলে রক্তনালী , বড়গুলো নয় , সাধারনত ছোট (arteriole)ও সুক্ষ নালীগুলোর(capillary) সঙ্কোচনের ফলে কেন রক্তচাপ বাড়ে?””, প্রশ্ন করে নিজেই সেই প্রশ্নের উত্তর দেন, আরেকজাগায় কন রক্তনালীর ব্যাস কমলে রক্তচাপের ওপর প্রভাব পড়ে না, ক্যাম্নে কি??!!

          এইডা হচ্ছে আরেকটা মন্তব্য যেই মন্তব্যের শেষ বাক্যটা ছাড়া আরেকটা বাক্যও বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপুর্ণ না!

      • আল্লাচালাইনা মার্চ 30, 2011 at 11:51 অপরাহ্ন - Reply

        @আদিল মাহমুদ,

        পাইপের ডায়া কমে আসলে পানির বেগ বৃদ্ধি পাবে, ফলে প্রেশার কমে যাবে। সাধারন চোখে মনে হতে পারে যে চিকন হলে প্রেশার বাড়ে। কিন্তু বিজ্ঞানের চোখে ঊল্টো।

        কিন্তু ভেইসোকন্সট্রিকশন বা রক্ত বহনকারী পাইপের ডায়ামিটার কমে আসলেতো ব্লাডপ্রেসার বেড়ে যায়, মানে এইটা খুবই চিরায়ত একটা নিয়ম। উইকিপিডিয়াতে দেখতে পারেন এই ব্যাপারে, আর্টিকেলের দ্বিতীয় প্যারার প্রথম দুই লাইন জুড়ে http://en.wikipedia.org/wiki/Vasoconstriction

        কোলেষ্টেরলের কারনে ব্লাড প্রেশার বাড়ে তো রক্তনালীতে চর্বি জমে জমে ডায়া কমিয়ে দেয় বলেই জানি। এটা কি ভুল?

        না ভুল নয়, এক্কেবারে ১০০% সঠিক। কিন্তু এটাতো তাহলে আবার আপনার উপরের মন্তব্যের সাথে কন্ট্রাডিক্ট করে। নিচে এই ব্যাপারে একটা মন্তব্য করেছি। ফারুক অবান্তর কথা বলছে, মানুষ অভ্যাসের দাস কিনা!! এবং বলছে খুব সম্ভবত এটা না জেনেই যে- পার্হ্যাপ্স আপনিও প্রেসার কিছুটা বুঝেন! আইনস্টাইন যদি কোনভাবে পুনঃর্জন্ম নিয়ে পৃথিবীতে আসে তাহলে দেখবেন ফারুক আইনস্টাইনকেও সুন্দর জেনারেল রিলেটিভিটি বুঝায় দিচ্ছে এই বলে যে- “হ্যা মিস্টার আইনস্টাইন, আপনার সুত্রটি দেখলাম, বেশ ভালো সুত্র, আপনার বুদ্ধির প্রসঙ্গসাই করবো, এমনকি আমার পক্ষেও দিনে সর্বসাকুল্যে একটি কিংবা দুটির বেশী এতোটা জটিল সুত্র প্রসব করা সম্ভব নয়। তবে আপনার সুত্রটিতে দু-একটি ছোটখাটো ভুল আছে এছাড়াও আছে দু একটি ভুল ব্যাখ্যা। দাড়ান ঠিক করে দিচ্ছি……”, আইনস্টাইন দেখবেন যে পুরা হা করে শুনছে আর মনে মনে ভাবছে, কে এই বুজুর্গ আলেম???

        • আদিল মাহমুদ মার্চ 31, 2011 at 3:22 পূর্বাহ্ন - Reply

          @আল্লাচালাইনা,

          না ভুল নয়, এক্কেবারে ১০০% সঠিক। কিন্তু এটাতো তাহলে আবার আপনার উপরের মন্তব্যের সাথে কন্ট্রাডিক্ট করে।

          – আসলেই তাই। কোলেষ্টরল জমে ব্লাড ভেসেলের ডায়া কমে যাওয়ায় ফ্লুইড মেকানিক্সের নিয়ম অনুযায়ী ব্লাড প্রেশার কমে যাবার কথা, বাড়ার কথা নয়। এটা আমিও ভেবেছি। মনে হয় মেডিক্যাল টার্মের প্রেশার শব্দটা ঠিক ইঞ্জিনিয়ারিং অর্থে ব্যাবহার হয় না। যেমন, ফারুক সাহেবের আগের উদাহরন মত বাগানের পানি দেবার পাইপ চেপে সরু করে প্রেশার বাড়ানো হয়, আসলে প্রেশার বাড়ে না, বাড়ে গতি।

          মেডিক্যাল টার্মের ক্যালোরি আর ফিজিক্স এর ক্যালোরিও তো একই একক নয়।

          ফারুক ভাই মনে হয় আজ লেখা পড়ায় ব্যাস্ত আছেন, আঁটঘাট বেধেই এবার নামবেন 🙂 । আপনিও রেডি হন।

          • আল্লাচালাইনা এপ্রিল 3, 2011 at 4:10 অপরাহ্ন - Reply

            @আদিল মাহমুদ,

            ফারুক ভাই মনে হয় আজ লেখা পড়ায় ব্যাস্ত আছেন, আঁটঘাট বেধেই এবার নামবেন । আপনিও রেডি হন।

            হ্যাব্বি পড়াশুনা করতেছে মনে হয় ফারুক। এইটা আমার জীবনের প্রথম দিন যেদিন কিনা ফারুককে ইন্টারনেটে দেখা গেল না! পড়াশুনার চাপে ছেলেটা ব্লগিঙ্গও এমনকি করতে পারতেছে না? চু…চু…(U) ।

        • আদিল মাহমুদ মার্চ 31, 2011 at 3:24 পূর্বাহ্ন - Reply

          @আল্লাচালাইনা,

          তার মানে দাড়ালো যে আমি যা জানতাম সাধারন ক্ষেত্রে সেটাই ঘটে। ফারুক সাহেবের কথাও ভুল নয়, তবে সেটা হল বিশেষ বা চরম একটা কেস?

          ব্লাড ভেসেল নিজেই যে ছিড়ে যেতে পারে সেটা জানতাম না।

          তাহলে লো ব্লাড প্রেশার কি কারনে হয়, মানে এই জাতীয় ফিজিক্যাল কোন কারন আছে?

          মানসিক চাপের কারনে কিভাবে ব্লাড প্রেশার বাড়ে বা কমে যা হরদম শুনে থাকি?

          • আল্লাচালাইনা এপ্রিল 3, 2011 at 4:07 অপরাহ্ন - Reply

            @আদিল মাহমুদ,

            তাহলে লো ব্লাড প্রেশার কি কারনে হয়, মানে এই জাতীয় ফিজিক্যাল কোন কারন আছে?

            আপনি একটা চমতকার প্রশ্ন করেছেন। আসলে হাইপারটেনশন বা উচ্চরক্তচাপের মতো হাইপোটেনশন বা নিন্ম রক্তচাপ নিজেই কিন্তু একটা রোগ নয়, বরং অন্যান্য কিছু সমস্যার উপসর্গ। কেনো হাইপোটেনশন হতে পারে? ওয়েল সেটি বোঝার জন্য প্রথমে ভাবা দরকার ব্লাডপ্রেসার আসলে নির্ধারিত হয় কিভাবে? এটাকে লেখা যায় এভাবে- কার্ডিয়াক আউটপুট= স্ট্রোক ভলিউম X হার্টরেট। এবং, ব্লাডপ্রেসার= কার্ডিয়াক আউটিপুট X পেরিফেরাল রেসিস্টেন্স। ফলে, ব্লাডপ্রেসার= স্ট্রোক ভলিউম X হার্টরেট X পেরিফেরাল রেসিস্টেন্স। এর মানে হচ্ছে গিয়ে কোনভাবে হার্টোরেট, স্ট্রোকভলিউম এবং পেরিফেরাল রেসিস্টেন্স হ্রাস পেলেই হাইপোটেনশন দেখা দিবে। যেমন- হাইপোভলমিক শক বা একটি খুবই স্বল্প সময়ে বিপুল পরিমান রক্ত শরীর থেকে বেরিয়ে গেলে বা ব্লাড ভলিউম হ্রাস পেলে, কার্ডিয়াক আউটপুট হ্রাস পেয়ে হাইপোটেনশন দেখা দেয়। খুবই খুবই পটেন্ট বেটা এন্টাগোনিস্টো ব্যাবহার করলে স্ট্রোক ভলিউম ও হার্টরেট হ্রাস পেয়ে কার্ডিয়াক আউটপুট হ্রাস পাওয়ার মধ্য দিয়ে বাডপ্রেসার হ্রাস পায়। আবার আটোনমিক নার্ভাস সিস্টেমের রোগের কারণেও হাইপোটেনশন দেখা দেয়, যেমন- মাল্টিপল সিস্টেম এইট্রোফি বা এমএসএ একটি অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি যেখানে কিনা পুরো অটোনোমিক নার্ভাস সিস্টেমই আস্তে আস্তে মরে যায়, এই রোগের রোগীরদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশেরই মৃত্যুর কারণ- ট্রাকিকার্ডিয়া বা উচ্চহার্টরেট অথবা ব্রাডিকার্ডিয়া বা নিন্মহার্টোরেট, এছাড়াও হাইপারটেনশন বা হাইপোটেনশন। এটা হয় কেননা তাদের অটোনোমিক নার্ভাসসিস্টেমই যেহেতু ডিজেনেরেট করছে, তাদের অটোনোমিক রিফ্লেক্সগুলোই ঠিক থাকে না, মাত্রাতিরিক্ত ভেইসোডায়ালেশন তাদের পেরিফেরাল রেসিস্টেন্স কমিয়ে ব্লাডপ্রেসার কমিয়ে দেয়।

            মানসিক চাপের কারনে কিভাবে ব্লাড প্রেশার বাড়ে বা কমে যা হরদম শুনে থাকি?blockquote>

            বস্তুত, স্ট্রেস বা মানসিক চাপ যেটাকে বললেন এটা হাইপারটেনশনের ততোটুকুই পটেন্ট একটা কারণ, যতোটুকু পটেন্ট কিনা মাত্রাতিরিক্ত কোলেস্টেরল টেনে ওবিস হওয়াটা! সাম্প্রতীক সময়ে স্ট্রেস রেসপন্স ও হাইপারটেনশনের গভীর সম্পর্ক আমি খুব নিবীড়ভাবে অধ্যয়ন করেছি। স্ট্রেস রেসপন্সটা কি বস্তুত? ওয়েল, রক্তস্রোতে, মাত্রাতিরিক্ত আড্রেনালিনের উপস্থিতি। মনে করুন, অফিসে আপনার কাজের চাপ প্রচুর যদি আপনি দেখেন, আপনার স্ট্রেস রেসপন্স কার্যকর হবে, আপনাকে কর্মক্ষম রাখার জন্যই/ বেশী কাজ করতে সমর্থ রাখার জন্যই হার্টরেট বেড়ে যাবে, ব্লাডপ্রেসার বেড়ে যাবে! দীর্ঘ সময় রক্তচাপ বেশী থাকলে এটা আপনাকে ঝোঁকাবে সামনে আরও কোন হৃদরোগের জন্য, হৃদরোগ বস্তুত একটি নিন্মগামী স্পাইরাল, একোটা রোগ তার সামনেরটার ঘটা সরাসরি অনুঘটিত করে। তবে, আপনার দুশ্চিন্তায় পড়ার কিছু নেই, :)) আপনাকে দেখে মোটেও হাইপার এড্রেনার্জিক মনে হয়না। হাসিখুশী মানুষ একপ্রকারের উচ্চরক্তচাপের ঝুঁকি থেকে মুক্ত, সুপারফিশিয়ালি!!

  10. হোরাস মার্চ 30, 2011 at 3:48 পূর্বাহ্ন - Reply

    দারুণ কিছু তথ্য জানলাম। এককথায় অসাধারণ। (Y)

মন্তব্য করুন