স্বাধীনতা ঘোষনা নিয়ে বিতর্ক অন্তহীন,বহু লেখাই এ সম্পর্কে এসেছে। তাই আমি সে বিষয় আর নুতন করে টানবো না, আমার কাছে যদিও বিতর্কের তেমন কিছু নেই। মুজিব নাকি জিয়া এই অর্থহীন বিতর্কে মাঝখান থেকে নেপথ্যে থেকে যান স্বাধীনতার ঘোষনার সাথে সংশ্লিষ্ট আরো অনেকে। যাদের নামও হয়ত অনেকে জানে না। এ লেখার উদ্দেশ্যে তাদের কয়েকজনের ভূমিকা নিয়ে কিছু আলোকপাত করা এবং একই সংগে ২৬ শে মার্চ কেমন করে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু হল ও বংবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষনা সম্প্রচার কিভাবে শুরু হল সে বিষয়টিও জানা।

২৬ শে মার্চ প্রথম প্রহরেই বংগবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনা চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা জহুর আহমেদ চৌধুরী সহ দেশের আরো আরো বিভিন্ন এলাকায় বেতারে পৌছায়। উদাহরন হিসেবে ততকালীন ন্যাপ নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের কথা বলা যায়। সিলেটে অবস্থানকালে তিনিও স্থানীয় থানার ওয়ার্লেসের মাধ্যমে এই বার্তা পান। চট্টগ্রামে জহুর আহমেদ চৌধূরী,আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান বাবুসহ কিছু স্বেচ্ছাসেবকের সাহায্যে এই ঘোষনা হাতে হাতে লিখিত হ্যান্ডবিল আকারে শহরের বিভিন্ন যায়গায় প্রচারের ব্যাবস্থা নিলেন। এই হ্যান্ডবিলটি ছিল ইংরেজীতে। চট্টগ্রামের ডাক্তার মঞ্জুলা আনোয়ার এই হ্যান্ডবিলটির বাংলা অনুবাদ করেন যা ২৬ শে মার্চ সন্ধ্যায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে আবুল কাশেম সন্দ্বীপ পাঠ করেন। সেই অনুবাদটিঃ

“বাংগালী ভাইবোনদের কাছে এবং বিশ্ববাসীর কাছে আমার আবেদন, রাজারবাগ পুলিশ ক্যাম্প ও পিলখানা ইপিআর ক্যাম্পে রাত ১২টায় পাকিস্তানী সৈন্যরা অতর্কিতে হামলা চালিয়ে হাজার হাজার লোককে হত্যা করেছে। হানাদার পাকিস্তানী সৈন্যদের সংগে আমরা লড়ে যাচ্ছি। আমাদের সাহায্য প্রয়োযন এবং পৃথিবীর যে কোনও স্থান থেকেই হোক। এমতাবস্থায় আমি বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বলে ঘোষনা করছি। তোমরা তোমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে মাতৃ-ভূমিকে রক্ষা কর। আল্লাহ তোমাদের সহায় হউন।”

– শেখ মুজিবুর রহমান।
(দৈনিক বাংলা, ২৬শে মার্চ, ‘৮১ বিশেষ সংখ্যা)

এই সেই সাইক্লোষ্টাইল মেশিন যা দিয়ে চট্টগ্রামে বংগবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনা ছাপিয়ে বিলি করা হয়।


সূত্রঃ প্রথম আলো।
অনুসন্ধানেঃ আমার ব্লগের ব্লগার যাত্রী।

এখন একটু ফিরে দেখি এই ঘোষনাটি কিভাবে সেদিনের সেই সেই ঐতিহাসিক দিনে ঘোষিত হল।

ডাঃ আনোয়ার আলী তখন থাকতেন সিডিএ আবাসিক এলাকায়। ২৬ তারিখ সকাল বেলাতেই তারা খবর পেলেন যে চট্টগ্রামের ইপিআর সদস্যরা পাক সেনাদের সাথে লড়ে চলেছে, তাদের খাদ্য রসদ প্রযোযন। আনোয়ার আলীর বাসায় শহরের আরো কিছু লোক একত্র হলেন কিভাবে এই বাংগালী বীর সেনানীদের সাহায্য করা যায় তা নির্ধারন করতে। তারা কিছু চাঁদা উঠালেন, সিদ্বান্ত নিলেন বাজার থেকে কিছু খাদ্য সামগ্রী কিনে আনার। তবে মুশকিল হল বাজারে যাওয়া, শহরময় ব্যারিকেড ডিংগিয়ে সেই রিয়াজউদ্দিন বাজার থেকে রসদ সংগ্রহ করতে হবে, তাও দুয়েকজনের নয়, বেশ কিছু লোকের। ওয়াপদার দুজন তরুন প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম ও দিলীপ চন্দ্র দাস বাড়িয়ে দিলেন সাহায্যর হাত। আশিক একটি পিক-আপ গাড়ি (চট্টগ্রাম ট-৯৬১৫)যোগাড় করে দিলেন। গাড়ি চালিয়ে ডাঃ আনোয়ার আলী নিজেই বাজারে গিয়ে প্রয়োযনীয় জিনিসপত্র কিনে আনলেন।

ফেরার পথে আগ্রাবাদ রোডে (বর্তমান শেখ মুজিব রোড) তিনি খেয়াল করলেন যে একজন লোক টেলিগ্রাম বলে চেচাচ্ছিল আর এক টুকরা কাগজ বিলি করছে। তিনি কৌতূহলী হয়ে একটি কাগজ সংগ্রহ করলেন। সেটি ছিল বংগবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনার ইংরেজী ওয়ার্লেস বার্তা। বাসায় এসে তিনি সেই ইংরেজী বার্তা তার স্ত্রী ডাঃ মঞ্জুলা আনোয়ারের হাতে দিলেন। মঞ্জুলা তাতক্ষনিকভাবে এর বংগানুবাদ করে ফেললেন এবং হাতে লিখে লিখে কপি করতে শুরু করে দিলেন। উদ্দেশ্য, বিলি করা। এ কাজে আরো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন আনোয়ার আলীর ভাইঝি চট্টগ্রাম বেতারের অনুষ্ঠান ঘোষিকা হোসনে আরা। সহসাই মঞ্জুলা আনোয়ার বুঝতে পারলেন যে এভাবে হাতে লিখে খুব বেশী কপি তাদের পক্ষে তৈরী সম্ভব নয়। হ্যান্ডবিল থেকে বেতারে বংগবন্ধুর ঘোষনা প্রচারই সবচেয়ে ভাল উপায়। তিনি তার স্বামী ডাঃ আনোয়ার আলীকে জানালে তিনিও তাতে সায় দিলেন।

আবারো প্রকৌশলী আশিক ও দিলীপ সহ পিক আপে করে তারা ছুটে গেলেন আগ্রাবাদস্থ চট্টগ্রাম বেতারে। সেখানে ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বেতারের নিজস্ব শিল্পী বেলাল মোহাম্মদ বেতার চালু করার জন্য উর্ধতন কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানাচ্ছেন। আরো উপস্থিত আছেন ফটিকছড়ি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপল জনাব আবুল কাশেম সন্দ্বীপ। একটি পরিপূর্ন বিপ্লবী স্বাধীন বাংলা বেতারের মূল পরিকল্পক বেলাল ছিলেন মোহাম্মদ। মুশকিল হল আগ্রাবাদস্থ এই বেতার কেন্দ্রটি ছিল খুবই কাছে চট্টগ্রাম নৌবন্দরে অবস্থানরত পাক নৌবাহিনীর শেলিং এর আওতার ভেতর। তাই চট্টগ্রাম বেতারের সহকারী আঞ্চলিক পরিচালক জনাব আবদুল কাহহার নিরপত্তার কারনে বেলাল মোহাম্মদকে পরামর্শ দিলেন কালুরঘাট ট্রান্সমিটারে চলে যাবার জন্য। এই পরিকল্পনানুযায়ী তারা বেলাল মোহাম্মদ, আবুল কাশেম সন্দ্বীপ, কাজী হোসনে আরা, ডাঃ মঞ্জুলা আনোয়ার, ডাঃ আনোয়ার আলী, কবি আবদুস সালাম, ও ইঞ্জিনিয়র দিলীপ রওনা দিলেন কালুরঘাট বেতারের উদ্দেশ্যে, পিক আপ চালালেন ইঞ্জিনিয়র আশিক। তবে তারা তখনো জানতেন না যে তাদেরও আগে ইতোপূর্বে বেলা ২টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হান্নান আনুমানিক ৫ মিনিটের এক সংক্ষিপ্ত ভাষন রেখেছিলেন দেশবাসীর উদ্দেশ্যে,বংগবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষনার আলোকেই ছিল হান্নানের সেই সংক্ষিপ্ত ভাষন। নিরাপত্তাজনিত কারনে এই প্রচার দ্রুত সমাপ্ত করতে হয়েছিল।

কালুরঘাট কেন্দ্রে তারা পৌছানোর পর সেখানকার উপস্থিত বাংগালী নিরাপত্তা প্রহরীরা খুশী মনেই তাদের প্রবেশ করতে দেয়। অবশেষে কিছু কারিগরী প্রস্তুতির পর ২৬ শে মার্চ সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে শুরু হল ঐতিহাসিক স্বাধীন বাংলা বেতারের শুভ সম্প্রচার। আনুষ্ঠানিক ঘোষনার প্রারম্ভে বেতারের অনুষ্ঠান ঘোষিকা হোসনে আরা ও আবুল কাশেম সন্দ্বীপ কয়েকবার “বিপ্লবী স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বলছি” এ জাতীয় কিছু কথা বলে জনগনের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা চালালেন। ঘোষক আবুল কাশেম সন্দ্বীপের কন্ঠে ঘোষিত হল, “নাসরুম মিনাল্লাহে ওয়া ফাতহুন করীব, আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় নিকটবর্তি”। এর পর পরেই তিনি সকালবেলা বেতারে প্রাপ্ত বংগবন্ধুর ইংরেজী স্বাধীনতার ঘোষনার বংগানুবাদ পাঠ করলেন যা ডাঃ মঞ্জুলা আনোয়ার আগেই করে রেখেছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরান তেলাওয়াত করলেন চট্টগ্রাম বেতারের বর্ষিয়ান গীতিকার এবং কবি আবদুস সালাম। “নাহমাদুহু ওয়ানুসাল্লিহি আলা রাসূলীহিল করিম…আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় বাংলার বীর জননীর বিপ্লবী সন্তানরা। স্বাধীনতা হীন জীবনকে ইসলাম ধিক্কার দিয়েছে। আমরা আজ শোষক প্রভুত্ব লোভীদের সাথে সর্বাত্মক সংগ্রামে অবতীর্ন হয়েছি। এই গৌরবোজ্জ্বল স্বাধিকার আদায়ের যুদ্ধে, আমাদের ভবিষ্যত জাতির মুক্তিযুদ্ধে মরনকে বরন করে যে জানমাল কোরবানী দিচ্ছি, কোরানে করীমের ভাষায় তারা মৃত নহে, অমর। দেশবাসী ভাই-বোনেরা, আজ আমরা বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম করছি……নাসরুম মিনাল্লাহে ওয়া ফাতহুন করীব। জয় বাংলা”। সীমিত শক্তির এই প্রচারনা পুরো দেশবাসী শুনতে পায়নি। দূর্বল এই প্রচারনা বংগোপসাগরে অবস্থানকারী একটি জাপানী জাহাজ প্রথম গ্রহন করে। এরপর এই ঘোষনা রেডিও অষ্ট্রেলিয়া, ও তারপর বিবিসি প্রচার করে। ভারত সহ কিছু আন্তর্জাতিক পত্রপত্রিকাতেও পরদিন ২৭শে মার্চ এই ঘোষনার বরাতে মুজিব কোন এক গোপন বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতা ঘোষনা করেছেন এমন সংবাদ ছাপা হয়।

যতদুর জানা যায়, ২৬শে মার্চ সন্ধ্যায় কালুরঘাট কেন্দ্র থেকে বংগবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনা কয়েকবার বিভিন্ন কন্ঠে পাঠ করা হয়। কোন কোন সূত্রমতে সন্দ্বীপের আগে ইংরেজীতে মূল ঘোষনা পাঠ করেন ইঞ্জিনিয়র আশিক। আবদুল হান্নানও এক পর্যায়ে এখানে আসেন ও তার ভরাট কন্ঠে আবারো ঘোষনা দেন।

এরপর ২৬শে মার্চ রাত দশটার পর আরো একটি অতিরিক্ত অধিবেশন প্রচারিত হয় লন্ডন প্রবাসী সদ্য প্রত্যাগত তরুন ব্যাবসায়ী জনাব মাহমুদ হোসেনের উদ্যোগে। সহযোগী উদ্যোক্তা ছিলেন ফারুক চৌধূরী, রংগলাল দেব চৌধূরী, এবং আরো কিছু কলা কৌশলী।

এরপর পরদিন ২৭ শে মার্চ নিরাপত্তাজনিত কারনে বেলাল মোহাম্মদ নিকটস্থ পটিয়ায় অবস্থানকারী মেজর জিয়াউর রহমানকে তার বাহিনী দিয়ে প্রহরার অনুরোধ জানালে জিয়া সানন্দে রাজী হন ও বংগবন্ধুর পক্ষে আরেকটি ঘোষনা পাঠ করেন। ইতোমধ্যে বেতার সম্প্রচার আরো শক্তিশালী করা হয়। তার কন্ঠস্বর ইথারে পূর্ন শক্তিতে ধ্বনিত হলে মুক্তিযুদ্ধ পূর্নদমে সংগঠিত হয়ে যায়। বংগবন্ধুর নামে একজন বাংগালী সেনা অফিসারের এই ঘোষনা আকস্মিক আক্রমনে হতচকিত বাংগালীর মনে এনে দেয় নুতন আশার আলো। জিয়া ৩০ শে মার্চ পর্যন্ত আরো কয়েকটি ঘোষনাই পাঠ করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে বিপ্লবী স্বাধীন বাংলা বেতারে দশজন সার্বক্ষনিক কর্মী ছিলেন বেলাল মোহাম্মদের নের্তৃত্বে। তারা ছিলেন জনাব সন্দ্বীপ, সৈয়দ আবদুস শাকের (বেতার প্রকৌশলী), আব্দুল্লাহ আল ফারুক (প্রযোজক), মোস্তফা আনোয়ার (প্রযোজক), রাশেদুল হোসেন, ও আমিনুর রহমান (কারিগরী সহায়ক), শরিফুজ্জামান (টেকনিক্যাল অপারেটর), রেজাউল করিম চৌধূরী (টেকনিক্যাল অপারেটর), এবং কাজী হাবিবউদ্দিন (বেতার কর্মী নন)। ইঞ্জিনিয়র আশিক ও দিলীপ, ডাঃ আনোয়ার দম্পতি, ও কাজী হোসনে আরা ২৬শে মার্চ রাতে বেতারকেন্দ্র ত্যাগ করার পর আর ফিরে আসেননি।

স্বাধীন বাংলা বেতারের প্রতিষ্ঠাতা সেই দূঃসাহসী দশ বেতার কর্মী।

ডাঃ আনোয়ার আলী, ইঞ্জিনিয়র আশিক, ও দিলীপের ছবি পাওয়া যাবে ৭২ সালে প্রকাশিত অভজার্ভারের এই লিংকে।

এই দশজন সার্বক্ষনিক কর্মীকে বিভিন্নভাবে নানা পর্যায়ে যারা সহায়তা করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম; শহীদ ডাঃ মোহাম্মদ শফি, তার স্ত্রী বেগম মুশতারী শফি, মীর্জা নাসিরউদ্দিন (চট্টগ্রাম বেতারের আঞ্চলিক প্রকৌশলী), জনাব সুলতান আলী (বার্তা সম্পাদক), জনাব আবদুস সোবহান ও দেলোয়ার হোসেন (বেতার প্রকৌশলী), জনাব আবদুস শুকুর, সেকেন্দার হায়াত খান, জনাব মোসলেম খান,ও আরো অনেকে। এর মধ্যে ডাঃ শফি দম্পতির বাসা ছিল সে সময় চট্টগ্রাম প্রতিরোধের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ন ঘাটি। বেলাল মোহাম্মদ তখন সেখানেই অবস্থান করতেন। তার চরম মূল্য তাদের দিতে হয়েছিল। বেগম মুশতারী শফি হারান স্বামী ও ভাইকে। সন্তান বিহীন অবস্থায় তাকে ৭ মাস কাটাতে হয় কলকাতায়।

দুইদিন পর এই বেতার কেন্দ্রের নাম থেকে বিপ্লবী কথাটি বাদ দেওয়া হয়েছিল। পাক বাহিনী অবশেষে এই গোপন বেতার কেন্দ্র ট্র্যাক করতে পেরে ৩০শে মার্চ কালুরঘাট ট্রান্সমিটারে বিমান থেকে বোমা ফেলে। স্থলপথেও চলে কমান্ডো হামলা। জিয়া তার ক্ষুদ্র বাহিনী নিয়ে টিকতে না পেরে জীপে করে পালিয়ে যান। গোলাগুলির মাঝে তিনি যখন জিপে করে গেট দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তাকে হঠাত জিপে পড়ে যেতে দেখা যায়,এতে পাক সেনাদের ধারনা হয়েছিল যে তিনি আহত হয়েছেন,যা ছিল ভ্রান্ত। তবে এতে নিরলস বেতারকর্মীরা ভেঙ্গে পড়েননি। বীর শব্দ সৈনিকগণ ইপিআর এর সহায়তার অসীম ঝুকি নিয়ে ক্ষুদ্র এক কিলোওয়াট ট্রান্সমিটার বয়ে নিয়ে এলেন মুকাঞ্চলে। এই ভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় স্বাধীন বাংলা বেতারের অনুষ্ঠান প্রচার হয় আরো কিছুদিন। এরপর প্রবাসী স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠিত হবার পর প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন নিজেদের স্বাধীন বেতার কেন্দ্রের অসীম গুরুত্ব অনুধাবন করে আবদুল মান্নান এমএনএ কে নুতন করে পূর্ন আকারে বেতার গঠনের নির্দেশ দেন। ফলে মুজিব নগরে পঞ্চাশ কিলোওয়াটের পূর্ন শক্তির বেতারের শুভ সূচনা ঘটল ২৫শে মে, ১৯৭১ সালে; যা পরবর্তি দিনগুলিতে মুক্তিযোদ্ধা ও দেশবাসীকে দিয়ে গেছে দূর্দান্ত মানসিক বল।

সূত্রঃ একাত্তরের রনাংগন, শামসুল হূদা চৌধুরী, ১৯৮২।

[280 বার পঠিত]