কিভাবে শুরু হল স্বাধীন বাংলা বেতারের যাত্রা ও স্বাধীনতার ঘোষনা সম্প্রচার

By |2011-03-27T00:16:59+00:00মার্চ 26, 2011|Categories: বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ|60 Comments

স্বাধীনতা ঘোষনা নিয়ে বিতর্ক অন্তহীন,বহু লেখাই এ সম্পর্কে এসেছে। তাই আমি সে বিষয় আর নুতন করে টানবো না, আমার কাছে যদিও বিতর্কের তেমন কিছু নেই। মুজিব নাকি জিয়া এই অর্থহীন বিতর্কে মাঝখান থেকে নেপথ্যে থেকে যান স্বাধীনতার ঘোষনার সাথে সংশ্লিষ্ট আরো অনেকে। যাদের নামও হয়ত অনেকে জানে না। এ লেখার উদ্দেশ্যে তাদের কয়েকজনের ভূমিকা নিয়ে কিছু আলোকপাত করা এবং একই সংগে ২৬ শে মার্চ কেমন করে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু হল ও বংবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষনা সম্প্রচার কিভাবে শুরু হল সে বিষয়টিও জানা।

২৬ শে মার্চ প্রথম প্রহরেই বংগবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনা চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা জহুর আহমেদ চৌধুরী সহ দেশের আরো আরো বিভিন্ন এলাকায় বেতারে পৌছায়। উদাহরন হিসেবে ততকালীন ন্যাপ নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের কথা বলা যায়। সিলেটে অবস্থানকালে তিনিও স্থানীয় থানার ওয়ার্লেসের মাধ্যমে এই বার্তা পান। চট্টগ্রামে জহুর আহমেদ চৌধূরী,আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান বাবুসহ কিছু স্বেচ্ছাসেবকের সাহায্যে এই ঘোষনা হাতে হাতে লিখিত হ্যান্ডবিল আকারে শহরের বিভিন্ন যায়গায় প্রচারের ব্যাবস্থা নিলেন। এই হ্যান্ডবিলটি ছিল ইংরেজীতে। চট্টগ্রামের ডাক্তার মঞ্জুলা আনোয়ার এই হ্যান্ডবিলটির বাংলা অনুবাদ করেন যা ২৬ শে মার্চ সন্ধ্যায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে আবুল কাশেম সন্দ্বীপ পাঠ করেন। সেই অনুবাদটিঃ

“বাংগালী ভাইবোনদের কাছে এবং বিশ্ববাসীর কাছে আমার আবেদন, রাজারবাগ পুলিশ ক্যাম্প ও পিলখানা ইপিআর ক্যাম্পে রাত ১২টায় পাকিস্তানী সৈন্যরা অতর্কিতে হামলা চালিয়ে হাজার হাজার লোককে হত্যা করেছে। হানাদার পাকিস্তানী সৈন্যদের সংগে আমরা লড়ে যাচ্ছি। আমাদের সাহায্য প্রয়োযন এবং পৃথিবীর যে কোনও স্থান থেকেই হোক। এমতাবস্থায় আমি বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বলে ঘোষনা করছি। তোমরা তোমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে মাতৃ-ভূমিকে রক্ষা কর। আল্লাহ তোমাদের সহায় হউন।”

– শেখ মুজিবুর রহমান।
(দৈনিক বাংলা, ২৬শে মার্চ, ‘৮১ বিশেষ সংখ্যা)

এই সেই সাইক্লোষ্টাইল মেশিন যা দিয়ে চট্টগ্রামে বংগবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনা ছাপিয়ে বিলি করা হয়।


সূত্রঃ প্রথম আলো।
অনুসন্ধানেঃ আমার ব্লগের ব্লগার যাত্রী।

এখন একটু ফিরে দেখি এই ঘোষনাটি কিভাবে সেদিনের সেই সেই ঐতিহাসিক দিনে ঘোষিত হল।

ডাঃ আনোয়ার আলী তখন থাকতেন সিডিএ আবাসিক এলাকায়। ২৬ তারিখ সকাল বেলাতেই তারা খবর পেলেন যে চট্টগ্রামের ইপিআর সদস্যরা পাক সেনাদের সাথে লড়ে চলেছে, তাদের খাদ্য রসদ প্রযোযন। আনোয়ার আলীর বাসায় শহরের আরো কিছু লোক একত্র হলেন কিভাবে এই বাংগালী বীর সেনানীদের সাহায্য করা যায় তা নির্ধারন করতে। তারা কিছু চাঁদা উঠালেন, সিদ্বান্ত নিলেন বাজার থেকে কিছু খাদ্য সামগ্রী কিনে আনার। তবে মুশকিল হল বাজারে যাওয়া, শহরময় ব্যারিকেড ডিংগিয়ে সেই রিয়াজউদ্দিন বাজার থেকে রসদ সংগ্রহ করতে হবে, তাও দুয়েকজনের নয়, বেশ কিছু লোকের। ওয়াপদার দুজন তরুন প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম ও দিলীপ চন্দ্র দাস বাড়িয়ে দিলেন সাহায্যর হাত। আশিক একটি পিক-আপ গাড়ি (চট্টগ্রাম ট-৯৬১৫)যোগাড় করে দিলেন। গাড়ি চালিয়ে ডাঃ আনোয়ার আলী নিজেই বাজারে গিয়ে প্রয়োযনীয় জিনিসপত্র কিনে আনলেন।

ফেরার পথে আগ্রাবাদ রোডে (বর্তমান শেখ মুজিব রোড) তিনি খেয়াল করলেন যে একজন লোক টেলিগ্রাম বলে চেচাচ্ছিল আর এক টুকরা কাগজ বিলি করছে। তিনি কৌতূহলী হয়ে একটি কাগজ সংগ্রহ করলেন। সেটি ছিল বংগবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনার ইংরেজী ওয়ার্লেস বার্তা। বাসায় এসে তিনি সেই ইংরেজী বার্তা তার স্ত্রী ডাঃ মঞ্জুলা আনোয়ারের হাতে দিলেন। মঞ্জুলা তাতক্ষনিকভাবে এর বংগানুবাদ করে ফেললেন এবং হাতে লিখে লিখে কপি করতে শুরু করে দিলেন। উদ্দেশ্য, বিলি করা। এ কাজে আরো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন আনোয়ার আলীর ভাইঝি চট্টগ্রাম বেতারের অনুষ্ঠান ঘোষিকা হোসনে আরা। সহসাই মঞ্জুলা আনোয়ার বুঝতে পারলেন যে এভাবে হাতে লিখে খুব বেশী কপি তাদের পক্ষে তৈরী সম্ভব নয়। হ্যান্ডবিল থেকে বেতারে বংগবন্ধুর ঘোষনা প্রচারই সবচেয়ে ভাল উপায়। তিনি তার স্বামী ডাঃ আনোয়ার আলীকে জানালে তিনিও তাতে সায় দিলেন।

আবারো প্রকৌশলী আশিক ও দিলীপ সহ পিক আপে করে তারা ছুটে গেলেন আগ্রাবাদস্থ চট্টগ্রাম বেতারে। সেখানে ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বেতারের নিজস্ব শিল্পী বেলাল মোহাম্মদ বেতার চালু করার জন্য উর্ধতন কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানাচ্ছেন। আরো উপস্থিত আছেন ফটিকছড়ি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপল জনাব আবুল কাশেম সন্দ্বীপ। একটি পরিপূর্ন বিপ্লবী স্বাধীন বাংলা বেতারের মূল পরিকল্পক বেলাল ছিলেন মোহাম্মদ। মুশকিল হল আগ্রাবাদস্থ এই বেতার কেন্দ্রটি ছিল খুবই কাছে চট্টগ্রাম নৌবন্দরে অবস্থানরত পাক নৌবাহিনীর শেলিং এর আওতার ভেতর। তাই চট্টগ্রাম বেতারের সহকারী আঞ্চলিক পরিচালক জনাব আবদুল কাহহার নিরপত্তার কারনে বেলাল মোহাম্মদকে পরামর্শ দিলেন কালুরঘাট ট্রান্সমিটারে চলে যাবার জন্য। এই পরিকল্পনানুযায়ী তারা বেলাল মোহাম্মদ, আবুল কাশেম সন্দ্বীপ, কাজী হোসনে আরা, ডাঃ মঞ্জুলা আনোয়ার, ডাঃ আনোয়ার আলী, কবি আবদুস সালাম, ও ইঞ্জিনিয়র দিলীপ রওনা দিলেন কালুরঘাট বেতারের উদ্দেশ্যে, পিক আপ চালালেন ইঞ্জিনিয়র আশিক। তবে তারা তখনো জানতেন না যে তাদেরও আগে ইতোপূর্বে বেলা ২টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হান্নান আনুমানিক ৫ মিনিটের এক সংক্ষিপ্ত ভাষন রেখেছিলেন দেশবাসীর উদ্দেশ্যে,বংগবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষনার আলোকেই ছিল হান্নানের সেই সংক্ষিপ্ত ভাষন। নিরাপত্তাজনিত কারনে এই প্রচার দ্রুত সমাপ্ত করতে হয়েছিল।

কালুরঘাট কেন্দ্রে তারা পৌছানোর পর সেখানকার উপস্থিত বাংগালী নিরাপত্তা প্রহরীরা খুশী মনেই তাদের প্রবেশ করতে দেয়। অবশেষে কিছু কারিগরী প্রস্তুতির পর ২৬ শে মার্চ সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে শুরু হল ঐতিহাসিক স্বাধীন বাংলা বেতারের শুভ সম্প্রচার। আনুষ্ঠানিক ঘোষনার প্রারম্ভে বেতারের অনুষ্ঠান ঘোষিকা হোসনে আরা ও আবুল কাশেম সন্দ্বীপ কয়েকবার “বিপ্লবী স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বলছি” এ জাতীয় কিছু কথা বলে জনগনের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা চালালেন। ঘোষক আবুল কাশেম সন্দ্বীপের কন্ঠে ঘোষিত হল, “নাসরুম মিনাল্লাহে ওয়া ফাতহুন করীব, আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় নিকটবর্তি”। এর পর পরেই তিনি সকালবেলা বেতারে প্রাপ্ত বংগবন্ধুর ইংরেজী স্বাধীনতার ঘোষনার বংগানুবাদ পাঠ করলেন যা ডাঃ মঞ্জুলা আনোয়ার আগেই করে রেখেছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরান তেলাওয়াত করলেন চট্টগ্রাম বেতারের বর্ষিয়ান গীতিকার এবং কবি আবদুস সালাম। “নাহমাদুহু ওয়ানুসাল্লিহি আলা রাসূলীহিল করিম…আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় বাংলার বীর জননীর বিপ্লবী সন্তানরা। স্বাধীনতা হীন জীবনকে ইসলাম ধিক্কার দিয়েছে। আমরা আজ শোষক প্রভুত্ব লোভীদের সাথে সর্বাত্মক সংগ্রামে অবতীর্ন হয়েছি। এই গৌরবোজ্জ্বল স্বাধিকার আদায়ের যুদ্ধে, আমাদের ভবিষ্যত জাতির মুক্তিযুদ্ধে মরনকে বরন করে যে জানমাল কোরবানী দিচ্ছি, কোরানে করীমের ভাষায় তারা মৃত নহে, অমর। দেশবাসী ভাই-বোনেরা, আজ আমরা বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম করছি……নাসরুম মিনাল্লাহে ওয়া ফাতহুন করীব। জয় বাংলা”। সীমিত শক্তির এই প্রচারনা পুরো দেশবাসী শুনতে পায়নি। দূর্বল এই প্রচারনা বংগোপসাগরে অবস্থানকারী একটি জাপানী জাহাজ প্রথম গ্রহন করে। এরপর এই ঘোষনা রেডিও অষ্ট্রেলিয়া, ও তারপর বিবিসি প্রচার করে। ভারত সহ কিছু আন্তর্জাতিক পত্রপত্রিকাতেও পরদিন ২৭শে মার্চ এই ঘোষনার বরাতে মুজিব কোন এক গোপন বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতা ঘোষনা করেছেন এমন সংবাদ ছাপা হয়।

যতদুর জানা যায়, ২৬শে মার্চ সন্ধ্যায় কালুরঘাট কেন্দ্র থেকে বংগবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনা কয়েকবার বিভিন্ন কন্ঠে পাঠ করা হয়। কোন কোন সূত্রমতে সন্দ্বীপের আগে ইংরেজীতে মূল ঘোষনা পাঠ করেন ইঞ্জিনিয়র আশিক। আবদুল হান্নানও এক পর্যায়ে এখানে আসেন ও তার ভরাট কন্ঠে আবারো ঘোষনা দেন।

এরপর ২৬শে মার্চ রাত দশটার পর আরো একটি অতিরিক্ত অধিবেশন প্রচারিত হয় লন্ডন প্রবাসী সদ্য প্রত্যাগত তরুন ব্যাবসায়ী জনাব মাহমুদ হোসেনের উদ্যোগে। সহযোগী উদ্যোক্তা ছিলেন ফারুক চৌধূরী, রংগলাল দেব চৌধূরী, এবং আরো কিছু কলা কৌশলী।

এরপর পরদিন ২৭ শে মার্চ নিরাপত্তাজনিত কারনে বেলাল মোহাম্মদ নিকটস্থ পটিয়ায় অবস্থানকারী মেজর জিয়াউর রহমানকে তার বাহিনী দিয়ে প্রহরার অনুরোধ জানালে জিয়া সানন্দে রাজী হন ও বংগবন্ধুর পক্ষে আরেকটি ঘোষনা পাঠ করেন। ইতোমধ্যে বেতার সম্প্রচার আরো শক্তিশালী করা হয়। তার কন্ঠস্বর ইথারে পূর্ন শক্তিতে ধ্বনিত হলে মুক্তিযুদ্ধ পূর্নদমে সংগঠিত হয়ে যায়। বংগবন্ধুর নামে একজন বাংগালী সেনা অফিসারের এই ঘোষনা আকস্মিক আক্রমনে হতচকিত বাংগালীর মনে এনে দেয় নুতন আশার আলো। জিয়া ৩০ শে মার্চ পর্যন্ত আরো কয়েকটি ঘোষনাই পাঠ করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে বিপ্লবী স্বাধীন বাংলা বেতারে দশজন সার্বক্ষনিক কর্মী ছিলেন বেলাল মোহাম্মদের নের্তৃত্বে। তারা ছিলেন জনাব সন্দ্বীপ, সৈয়দ আবদুস শাকের (বেতার প্রকৌশলী), আব্দুল্লাহ আল ফারুক (প্রযোজক), মোস্তফা আনোয়ার (প্রযোজক), রাশেদুল হোসেন, ও আমিনুর রহমান (কারিগরী সহায়ক), শরিফুজ্জামান (টেকনিক্যাল অপারেটর), রেজাউল করিম চৌধূরী (টেকনিক্যাল অপারেটর), এবং কাজী হাবিবউদ্দিন (বেতার কর্মী নন)। ইঞ্জিনিয়র আশিক ও দিলীপ, ডাঃ আনোয়ার দম্পতি, ও কাজী হোসনে আরা ২৬শে মার্চ রাতে বেতারকেন্দ্র ত্যাগ করার পর আর ফিরে আসেননি।

স্বাধীন বাংলা বেতারের প্রতিষ্ঠাতা সেই দূঃসাহসী দশ বেতার কর্মী।

ডাঃ আনোয়ার আলী, ইঞ্জিনিয়র আশিক, ও দিলীপের ছবি পাওয়া যাবে ৭২ সালে প্রকাশিত অভজার্ভারের এই লিংকে।

এই দশজন সার্বক্ষনিক কর্মীকে বিভিন্নভাবে নানা পর্যায়ে যারা সহায়তা করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম; শহীদ ডাঃ মোহাম্মদ শফি, তার স্ত্রী বেগম মুশতারী শফি, মীর্জা নাসিরউদ্দিন (চট্টগ্রাম বেতারের আঞ্চলিক প্রকৌশলী), জনাব সুলতান আলী (বার্তা সম্পাদক), জনাব আবদুস সোবহান ও দেলোয়ার হোসেন (বেতার প্রকৌশলী), জনাব আবদুস শুকুর, সেকেন্দার হায়াত খান, জনাব মোসলেম খান,ও আরো অনেকে। এর মধ্যে ডাঃ শফি দম্পতির বাসা ছিল সে সময় চট্টগ্রাম প্রতিরোধের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ন ঘাটি। বেলাল মোহাম্মদ তখন সেখানেই অবস্থান করতেন। তার চরম মূল্য তাদের দিতে হয়েছিল। বেগম মুশতারী শফি হারান স্বামী ও ভাইকে। সন্তান বিহীন অবস্থায় তাকে ৭ মাস কাটাতে হয় কলকাতায়।

দুইদিন পর এই বেতার কেন্দ্রের নাম থেকে বিপ্লবী কথাটি বাদ দেওয়া হয়েছিল। পাক বাহিনী অবশেষে এই গোপন বেতার কেন্দ্র ট্র্যাক করতে পেরে ৩০শে মার্চ কালুরঘাট ট্রান্সমিটারে বিমান থেকে বোমা ফেলে। স্থলপথেও চলে কমান্ডো হামলা। জিয়া তার ক্ষুদ্র বাহিনী নিয়ে টিকতে না পেরে জীপে করে পালিয়ে যান। গোলাগুলির মাঝে তিনি যখন জিপে করে গেট দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তাকে হঠাত জিপে পড়ে যেতে দেখা যায়,এতে পাক সেনাদের ধারনা হয়েছিল যে তিনি আহত হয়েছেন,যা ছিল ভ্রান্ত। তবে এতে নিরলস বেতারকর্মীরা ভেঙ্গে পড়েননি। বীর শব্দ সৈনিকগণ ইপিআর এর সহায়তার অসীম ঝুকি নিয়ে ক্ষুদ্র এক কিলোওয়াট ট্রান্সমিটার বয়ে নিয়ে এলেন মুকাঞ্চলে। এই ভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় স্বাধীন বাংলা বেতারের অনুষ্ঠান প্রচার হয় আরো কিছুদিন। এরপর প্রবাসী স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠিত হবার পর প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন নিজেদের স্বাধীন বেতার কেন্দ্রের অসীম গুরুত্ব অনুধাবন করে আবদুল মান্নান এমএনএ কে নুতন করে পূর্ন আকারে বেতার গঠনের নির্দেশ দেন। ফলে মুজিব নগরে পঞ্চাশ কিলোওয়াটের পূর্ন শক্তির বেতারের শুভ সূচনা ঘটল ২৫শে মে, ১৯৭১ সালে; যা পরবর্তি দিনগুলিতে মুক্তিযোদ্ধা ও দেশবাসীকে দিয়ে গেছে দূর্দান্ত মানসিক বল।

সূত্রঃ একাত্তরের রনাংগন, শামসুল হূদা চৌধুরী, ১৯৮২।

মন্তব্যসমূহ

  1. Juga Mastor মার্চ 28, 2014 at 3:04 অপরাহ্ন - Reply

    বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ | স্বাধীনতা ঘোষনার পরে ২৬ শে মার্চ ১৯৭১ হইতে ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ পর্যন্ত এইদেশে হেড অব দ্য টেরিটরি কে ছিল ?? =প~

  2. বিপ্লব রহমান মার্চ 30, 2011 at 7:55 অপরাহ্ন - Reply

    স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের বীর সেনানীদের শ্রদ্ধা। …

    আদিল মাহমুদকে সাধুবাদ জানাই, মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথাকে আরেকবার উন্মোচনের জন্য। চলুক। (Y)

  3. নিদ্রালু মার্চ 28, 2011 at 9:28 অপরাহ্ন - Reply

    অসাধারণ লেখা।

  4. হোরাস মার্চ 28, 2011 at 9:21 অপরাহ্ন - Reply

    আরেকটি দারুন পোস্ট। (Y)

    লিঙ্কের এই ব্লগটি কি আপনার? ওখানে আপনার এই লেখাটি দেখলাম।

    http://sojakotha.com/sojakotharblog/

    • আদিল মাহমুদ মার্চ 29, 2011 at 5:48 পূর্বাহ্ন - Reply

      @হোরাস,

      😀

      নাহ, এটা আমি না।

      ভালই, লেখা প্রচার হচ্ছে। তবে প্রচারক সাহেব মূল সূত্রের লিংক খানা দিলেই পারতেন।

      এই ব্লগের নাম তো শুনিনি আগে। এত ব্লগে যান কখন।

      • হোরাস মার্চ 29, 2011 at 7:52 পূর্বাহ্ন - Reply

        @আদিল মাহমুদ, আরে না এতো ব্লগে যাওয়ার সময় কই? যেগুলাতে আছি তাতেই সময় বের করতে পারিনা। কালকে আপনার লেখাটা পড়ছিলাম কিন্তু কমেন্ট করার সময় ছিলো না। একটা ভুল চোখে পরেছিলো কিন্তু আজ সেটা আর খুঁজে পাইলাম না। মনে হয় ঠিক করছেন। যাই হোক, ঐটা খুঝতে একটু সার্চ দিছিলাম। সেখান থেকেই ওটার লিঙ্ক পাইছি।

  5. সেন্টু টিকাদার মার্চ 28, 2011 at 4:42 অপরাহ্ন - Reply

    ধন্যবাদ জানানোর ভাষা নেই আপানাকে ও অন্যদেরকে যারা আলোচনায় অংশ গ্রহন করে নতুন নতুন তথ্য দিয়েছেন। (F)

  6. স্বপন মাঝি মার্চ 28, 2011 at 11:40 পূর্বাহ্ন - Reply

    কোন একটি বেতার কেন্দ্র দখল করে, একটি ঘোষণা পাঠ করতে পারলেই যদি স্বাধীনতা অর্জন হয়ে যেত, তাহলে রাজনৈতিক দলের কোন প্রয়োজন থাকতো না। কতিপয় সশস্ত্র ব্যক্তি বা সেনা বা সেনা কর্মকর্তা হয়ে উঠতো ইতিহাসের চালিকা শক্তি।

    • আফরোজা আলম মার্চ 28, 2011 at 5:30 অপরাহ্ন - Reply

      @স্বপন মাঝি,

      আপনার কথা বোধগম্য হলনা। :-O

      • স্বপন মাঝি মার্চ 30, 2011 at 11:28 পূর্বাহ্ন - Reply

        @আফরোজা আলম,
        ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। অনেক আগেই সাড়া দেয়া উচিত ছিল, পারিনি। সপ্তাহে ৮০-৮৪ ঘন্টা কাজ করে, মুক্তমনায় চোখ বুলিয়ে যাই। অনেককিছু বলতে ইচ্ছে করে, পারিনা। অল্প কথায় মন্তব্য করে বসি।
        আমি মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণার কথাটা অল্পকথা বলে ফেলেছি, এই আর কি।
        ভাল থাকবেন।

  7. গোলাপ মার্চ 28, 2011 at 4:55 পূর্বাহ্ন - Reply

    @আদিল মাহমুদ,
    আনেক ধন্যবাদ এমন একটি তথ্যবহুল প্রবন্ধের জন্য। অনেক কিছু জানলাম। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নবম শ্রেনীর ছাত্র ছিলাম। সেই বিভীষিকাময় সময় ও পরিস্থিতির কথা সারা জীবনের স্মৃতি হয়ে আছে। আমাদের ‘মুক্তি সংগ্রামের’ পূর্ববর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও তার ধারাবাহিক খুটিনাটি ভাল মনে নেই। কিন্তু ‘সেই নয় মাস’ ও তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের স্মৃতি স্পষ্ঠ মনে আছে। সে ভয়াবহ দিনগুলোর কথা কখনোই ভুলার নয়!

    • আদিল মাহমুদ মার্চ 28, 2011 at 5:56 পূর্বাহ্ন - Reply

      @গোলাপ,

      ধন্যবাদ।

      আপনাদের অভিজ্ঞতাও লিখে ফেলুন।

      আমি তো শুধু জোড়াতালির ওপর দিয়ে গেছি।

      • কাজী রহমান মার্চ 28, 2011 at 10:46 পূর্বাহ্ন - Reply

        @আদিল মাহমুদ,
        ৭১ নিয়ে সব লেখাই আমাকে সেই সব ভয়ঙ্কর উত্তেজনাকর স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। ৭১ নিয়ে যত লেখা হবে তত নতুন সত্যি হয়তো প্রকাশ পাবে। লেখার এই ভালো কাজটা করে সত্যি ইতিহাস প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করলেন, ধন্যবাদ সেজন্য।
        পুরনো ঢাকার পূর্ব প্রান্ত থেকে এক অতি চঞ্চল রোমাঞ্চপ্রিয় কিশোরের চোখে দেখা স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে এবারই লেখার ইচ্ছা ছিল। হোল না, তবে ওটা লিখবই।
        যারা লিখলেন আর মন্তব্য করলেন, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা থাকলো।

        • আদিল মাহমুদ মার্চ 28, 2011 at 6:06 অপরাহ্ন - Reply

          @কাজী রহমান,

          এবার হল না কেন? কোন সময় সীমা তো নেই। সুবিধেমত সময়ে ধীরে সূস্থে লিখে ফেলুন। আফরোজা যেমন বলেছেন, আপনাদের প্রজন্মের পর নুতন প্রজন্মের কাছে দেবার মত আর কেউ থাকবে না।

          কাজেই ঢিলেমী করলে চলবে না।

          আপনাকে ধন্যবাদ।

          • কাজী রহমান মার্চ 30, 2011 at 11:11 পূর্বাহ্ন - Reply

            @আদিল মাহমুদ,
            ঠিক আছে। ঢিলেমি করবো না। ভালো থাকুন।

  8. সৈকত চৌধুরী মার্চ 27, 2011 at 1:38 পূর্বাহ্ন - Reply

    আদিল ভাইকে ধন্যবাদ মূল্যবান লেখাটির জন্য।

    (অ.ট. আপনার লেখা পড়ার জন্য অনেক দূর যেতে হয়। মুক্ত-মনায় যদি নিয়মিত লেখতেন। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত আপনার লেখাগুলো বড্ড ভাল লাগে।)

    • আদিল মাহমুদ মার্চ 27, 2011 at 4:58 পূর্বাহ্ন - Reply

      @সৈকত চৌধুরী,

      ধন্যবাদ। আরে দূরে যাই তো ফাইজলামি আর গালিগালাজ করতে 😀

    • অভিজিৎ মার্চ 27, 2011 at 8:19 পূর্বাহ্ন - Reply

      সৈকতের মতো আমিও ধন্যবাদ জানাচ্ছি মূল্যবান লেখাটির জন্য। মুক্তমনায় নিয়মিত লেখার দাবী জানাচ্ছি।

      • আফরোজা আলম মার্চ 27, 2011 at 6:11 অপরাহ্ন - Reply

        লেখাটা পড়ছি আর ততোটাই অতীতে ফিরে যাচ্ছি। “চরম পত্র” শোনার জন্য
        আমরা ক’ভাই বোন, মা ,বাবা সবার কি আকুলতা। চরম নিঃশব্দের মাঝে চলা ফেরা। এক একটা দিন কেমন ভয়ঙ্কর ছিল তা বলে বোঝাতে পারবোনা।
        আমি ছোট ছিলাম বলে যতোটা না ভয় ভাবনা ছিল তার চাইতে ভাই,বাবা, মা বোনের দিকে তাকালে বুঝতে পারতাম। কি লোম হর্ষক দিন ছিল এক একটা।
        এখনও গুলির শব্দ কোথাও শুনলে চমকে উঠি। আমার মত এমন অনেকেই আছেন হয়তো-।
        @ আদিল মহাম্মদকে ধন্যবাদ এমন এক অনুভূতিময় লেখা দেবার জন্য।

        • আদিল মাহমুদ মার্চ 28, 2011 at 5:58 পূর্বাহ্ন - Reply

          @আফরোজা আলম,

          আপনারা ভাগ্যবান, সেসব দিনের সরাসরি ছোঁয়া পেয়েছেন।

          আর আমরা শুধুই সেসবের টুকরো টুকরো ছাপ এখান সেখান থেকে নেই।

          • আফরোজা আলম মার্চ 28, 2011 at 5:28 অপরাহ্ন - Reply

            @আদিল মাহমুদ,
            কি করে বলি ভুলি,
            নাই সেই দিনের কথা সেই ১০ মাস কি ভাবে কেটেছে-
            ভুলি নাই কিছু। আমাদের বাসায় কালের স্বাক্ষী সেই ট্রাঞ্জিস্টারটা এখনো আছে।
            মাঝে মাঝে ভাবি মুক্তি যুদ্ধ যাদু ঘরে দেয়া যায় কিনা। কিন্তু, মা জীবিত আছেন।
            এও জানি তিনি দেবেন না। কেননা সেই সময়কার অনেক স্মৃতি জড়ানো আছে ট্রাঞ্জিস্টারটায়। বাবার স্মৃতি, প্রবাসী বড় ভাইয়ের স্মৃতি। যিনি সেই সময় এতো বিপদে পড়েও ট্রাঞ্জিস্টার টা কাছ ছাড়া করেননি।

            এই নিয়েই এক বই লিখেছি। ভাবছি আগামী ফেব্রুয়ারীতে প্রকাশ করব।

            আর আমরা শুধুই সেসবের টুকরো টুকরো ছাপ এখান সেখান থেকে নেই।

            আপনি যেমন করে স্বরণ করলেন পরবর্তি প্রজন্ম যেন এমন করে মনে রাখে।
            আমাদের মত যারা ছোট থেকেও অনেক ছোট ছিলাম সেই সময়। অথচ অনেক কিছু মনে আছে- আমাদের মৃত্যুর সাথে সাথে একটা অধ্যায়ের শেষ হয়ে যাবে। পরবর্তি প্রজন্মের ঊপরে নির্ভর করবে তারা সেইটাকে কী ভাবে সংরক্ষিত করে রাখবে। হয়তো আমরা তখন থাকবো না।

  9. আবুল কাশেম মার্চ 27, 2011 at 1:21 পূর্বাহ্ন - Reply

    শুনেছি স্বাধীনতার প্রথম ঘোষনা নাকি বলদা গার্ডেনের এক বেতার থেকে প্রচারিত হয়েছিল। আমার চিন্তা ছিল–ঢাকার বলদা গার্ডেনে কোনরকম বেতার প্রচার বা গ্রহণ কেন্দ্র ছিল বলে আমি কোনদিন শুনি নাই। হতে পারে শেখ সাহেবের বক্তব্য মোর্স কোডে পাঠানো হয়েছে।

    অনেকে বলেন পাকিস্তানি সেনা বাহিনীর ঢাকায় ছড়িয়ে পড়ার কিছু আগেই নাকি শেখ সাহেব স্বাধীনতা ঘোষনার বানী লিখে রেখেছিলেন। সেই বানীটাই কেউ হয়ত পাঠ করেছিল অথবা টেলিগ্রাফের মাধ্যমে পাঠিয়েছিল। তবে শেখ সাহেবের স্বাধীনতার বানী যে ইংরেজিতে ছিল তাতে কারও দ্বিমত নাই।

    আমরা ঢাকাবাসীরা প্রথম স্বাধীন বাংলা বেতার শুনি খুব সম্ভবতঃ এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি। তখন বেতার ছিল খুবই দূর্বল—অতি ক্ষীন শব্দের। আবার কিছুক্ষন শোনার পর আর শোনা যেতনা–তার পর আবার ক্ষীন স্বর শুনতাম। শুধু রাত্রেই দ্বাধীন বাংলা বেতার শোনা যেত। মাস খানেক পর বেতারটি একটু শক্তি পেল—মনে হয় তখন বেতার প্রচারিত হত কোলকাতা অথবা এর নিকটবর্তী কোন অঞ্চল থেকে।

    এর কিছুদিন পরেই নিয়মিতভাবে প্রচার হতে থাকল ‘জল্লাদের দরবার’ যা লিখতেন এবং পাঠ করতেন এম আর আখতার মুকুল। এই ‘জল্লাদের দরবার’ শোনার জন্য প্রতিটি বাঙ্গালি উন্মুখ হয়ে বসে থাকত বেতারের কাছে। আমার পরিস্কার মনে আছে–আমরা স্বাধীন বাংলা বেতারের কোন অনুষ্ঠান এক দিনের জন্যেও বাদ দিতাম না।

    আপনার এই লেখাটি অনেক তত্ত্বপূর্ণ। এতে অনেক ঘটনা এবং নাম আছে যা আমি আগে যানতাম না।

  10. নিটোল মার্চ 26, 2011 at 11:21 অপরাহ্ন - Reply

    আজকে এক জাতীয় দৈনিকে একটি বিজ্ঞাপন দেখলাম।বিএনপি’র কোনো এক নেতা দিয়েছেন বিজ্ঞাপনটি।ওখানে অনেকটা এমন লেখা ছিলো-“আজ স্বাধীনতা দিবসে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা,শহীদ রাষ্ট্রপতি,মহান স্বাধীনতার ঘোষক– জিয়াউর রহমানে প্রতি শ্রধাঞ্জলী”!! :-X

    এখন কুইজ। বলতে হবে বিজ্ঞাপনটি কোন পত্রিকায় ছাপানো হয়েছে। :))

    • আদিল মাহমুদ মার্চ 27, 2011 at 12:12 পূর্বাহ্ন - Reply

      @নিটোল,

      প্রথম আলো কি?

      তবে পত্রিকা নাম কি গুরুত্বপূর্ন? তাদের কাজই হল কে কি বলে তা প্রকাশ করা, তাই নয় কি?

      • নিটোল মার্চ 27, 2011 at 12:54 পূর্বাহ্ন - Reply

        @আদিল মাহমুদ,
        না,প্রথমা আলো নয়।তারা রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন সাধারণত খুব একটা ছাপায় না। ছাপালেও খুব কম।অন্তত আমার চোখে তেমন একটা পড়েনি।

        উত্তর ছিলো খুবই সহজ- ‘আমার দেশ’। এ দেশে এ পত্রিকা ছাড়া আর কোন পত্রিকা এই কাজ করবে? :))

        • গীতা দাস মার্চ 27, 2011 at 7:19 পূর্বাহ্ন - Reply

          @নিটোল,

          বিএনপি’র কোনো এক নেতা দিয়েছেন বিজ্ঞাপনটি।

          যদি বিজ্ঞাপন হয় তবে তা যে কোন পত্রিকাই দিতে পারে। কারণ আমাদের দেশের সংবাদপত্র নিম্নমানের পণ্যেরও বিজ্ঞাপন দেয়। ব্যবসায়িক স্বার্থ বলে কথা!

          আর ইদানিং বাংলাদেশে সংবাদপত্র ব্যবসার সাথে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক খেলা। যেজন্য কুইজ দিয়েছেন।

          • নিটোল মার্চ 27, 2011 at 7:18 অপরাহ্ন - Reply

            @গীতা দাস, হ্যাঁ,যেকোন পত্রিকাই দিতে পারে।অনেক নিম্নমানের পণ্যেরও বিজ্ঞাপন হয়-এটাও সত্যি। কিন্তু এ বিষয়টি তো কোন পণ্য নয়। এখন যদি আমি বিজ্ঞাপন দেই- “আজ স্বাধীনতা দিবসে তিরিশ হাজার শহীদদের প্রতি রইল সশ্রদ্ধ সালাম”-তখন ব্যাপারটা কেমন হবে? সংবাদপত্রের ব্যবসায়িক স্বার্থ অবশ্যই আছে।কিন্তু তার যে সামাজিক দায়িত্ব আছে সেটাও সে এড়াতে পারে না। কোন পণ্যের বিজ্ঞাপনে কিছু মানুষ হয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়,কিন্তু এমন বিজ্ঞাপনে দেশের ইতিহাস ক্ষতিগ্রস্ত হবার আশংকা থাকে। তাই এ বিষয়টি নিয়ে বললাম। আর আমি বিজ্ঞাপনের বিষয়টি হাল্কা চালেই বলেছি,আমার চোখে পড়েছে তাই।

      • নৃপেন্দ্র সরকার মার্চ 27, 2011 at 1:01 পূর্বাহ্ন - Reply

        @আদিল মাহমুদ,
        স্বাধীনতা ঘোষনা এবং স্বাধীন বাংলাবেতার কেন্দ্র সৃষ্টি বিস্তারিত ইতিহাস আগে শুনিনি। এখানে প্রকাশের জন্য ধন্যবাদ। এ ধরনের ঐতিহাসিক লেখা প্রতি বছর যেন পূনঃপ্রকাশ হয়।

        কে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষনা পাঠ করলেন তার একটা বিস্তারিত বিবরণ মুক্তমনায় এসেছিল অন্তত বছর খানেক আগে। জিয়াউর রহমানের আগে আর ও দশ জন একই ঘোষনা পত্রটি পাঠ করেছিলেন এমন বক্তব্য ছিল সেখানে। একজন মেজরের মুখ দিয়ে একই ঘোষনা পাঠের গুরুত্ব অবশ্যই বেশী।

        সাতাশে মার্চ “আমি মেজর জিয়া বলছি …” এই কথাটি ধামরাইয়ে আমার এক অগ্রজ রেডিওতে শুনতে পেয়েছেন দাবী করলেন। স্বাধীনতা বিষয়ক বক্তব্য অস্পষ্ট শুনতে পেলাম। কিন্তু আমার অগ্রজের কথা মত “আমি মেজর জিয়া বলছি …” কথাগুলো আমারও শুনতে ইচ্ছে করল। কিন্তু প্রানাতিপাত করেও শুনতে পারিনি বা বুঝতে পারিনি।

        • আদিল মাহমুদ মার্চ 27, 2011 at 1:30 পূর্বাহ্ন - Reply

          @নৃপেন্দ্র সরকার,

          আপনার কথা ঠিক। আমি যত সূত্র পড়েছি তাতে মনে হয়েছে যে ২৬শে মার্চ সন্ধ্যাবেলা কালুরঘাট থেকে বিভিন্ন কন্ঠে অন্তত ৭ বার স্বাধীনতার ঘোষনা পাঠ করা হয়। তবে তাদের সবারই দূর্ভাগ্য, দেশের লোকে তাদের ঘোষনা সেভাবে শুনতে পাননি।

          জিয়ার ঘোষনার মূল্য অপরিসীম, এটাও বিতর্কের ঊর্ধ্বে।

  11. গীতা দাস মার্চ 26, 2011 at 11:14 অপরাহ্ন - Reply

    ধন্যবাদ ইতিহাস পুনঃপাঠের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।
    কিন্তু আজকে দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকার বিশেষ সংখ্যায় মেজর জেনারেল (অবঃ) সুবিদ আলী ভূঁইয়া, এম পি ‘কুমিরার লড়াই মুক্তিযুদ্ধের প্রথম যুদ্ধ’ নামে যে লেখাটি লিখেছেন তা একচেটিয়া মনে হয়েছে। উনারা বুঝতে চান না বা বুঝেন না যে এসব ঐতিহাসিক লেখা লেখার সময় অনেক দায় দায়িত্ব থাকে।
    উনার লেখায় ১৯৭১ সালে মার্চ মাসে চট্টগ্রামে তৎকালীন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও ডি আই জি এর নাম উল্লেখ প্রয়োজন ছিল। ওথচ উনি সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট সবার নাম উল্লেখ করেছেন।উনার লেখার লিংকটি দেওয়ার চেষ্টা করলাম।

    http://www.dailykalerkantho.com/?view=details&type=gold&data=Sports&pub_no=471&cat_id=3&menu_id=137&news_type_id=1&index=11

    • আদিল মাহমুদ মার্চ 27, 2011 at 12:11 পূর্বাহ্ন - Reply

      @গীতা দাস,

      আপনার মূল অভিযোগ সত্য। আসলে জাতি হিসেবেই আমাদের যেসব দূর্বলতা আছে তার মধ্যে অন্যতম হল মুখের রাশ। অনেক সময় হয়ত তেমন কোন উদ্দেশ্যও থাকে না, তবে অবান্তর মন গড়া কথা, বা আন্দাজি কথা বলায় আমাদের জুড়ি নেই।

      তবে সুবিদ আলী সাহেবের এই লেখায় আমি তেমন কোন আলামত দেখলাম না। আমি ওনার বই অনেক বছর আগে পড়েছিলাম, মোটামুটি এমনই পড়েছিলাম। হয়ত ইচ্ছেকৃতভাবেই সেই পুলিশ অফিসারদের নামে দেননি। সেসময় এমন আরো অনেক ঘটনাই ঘটেছিল। সব বাংগালী যে হৃষ্টচিত্তে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল তাতো নয়। কিছু বাংগালী পাক বাহিনীর সাথে ১৬ই ডিসেম্বর রেকোর্সে সারেন্ডার পর্যন্ত করেছিল।

  12. হেলাল মার্চ 26, 2011 at 10:56 অপরাহ্ন - Reply

    (Y)

মন্তব্য করুন