আমি কেন রক্ষণশীল নই ৩ (শেষ পর্ব)

আমি কেন রক্ষণশীল নই ২
আমি কেন রক্ষণশীল নই ১

আগের পর্বের পরে…
৫।
উদারপন্থাকে রক্ষণশীলতা ও সমাজতন্ত্রের মাঝামাঝি অবস্থান বলাটা মোটের ওপর ভুল হলেও একটি বিশেষ ক্ষেত্রে একেবারে অযৌক্তিক নয়। রক্ষণশীলের আধ্যাত্মবাদ থেকে উদারপন্থী ততটাই দূরবর্তী, যতটা দূরবর্তী সে সমাজতন্ত্রীর ত্রুটিপূর্ণ যুক্তিবাদ থেকে। এই যুক্তিবাদী মনোভাবের বৈশিষ্ট্য হল যে সে সব সামাজিক সংগঠনকে ব্যক্তিগত যুক্তির আলোকে একটি বিশেষ গঠন দান করতে চায়। এই যুক্তিবাদকে উদারপন্থা সংশয়ের চোখে দেখে, রক্ষণশীলের মতই। উদারপন্থী ভালভাবেই জানে যে সবকিছুর উত্তর আমরা জানিনা, যেসব উত্তর আমাদের আছে তার নির্ভুলতা প্রশ্নাতীত নয়, এবং কিছু প্রশ্নের উত্তর কখনই মিলবে না। যুক্তি-সম্ভুত নয়, এমন প্রতিষ্ঠান বা অভ্যাসকে সমর্থন করতেও তার কার্পণ্য নেই, যদি সেগুলি উপকারী বলে প্রমাণিত হয়ে থাকে। রক্ষণশীলের সাথে তার পার্থক্য: এই অজ্ঞতাকে সে সততার সাথে মোকাবেলা করতে পারে, যুক্তির সীমাবদ্ধতার মাছকে ঐশ্বরিক জ্ঞানের শাক দিয়ে চাপা দেয়ার চেষ্টা সে করেনা। এটা স্বীকার করতেই হবে যে অনেক ব্যাপারে উদারপন্থী মূলত একজন সংশয়বাদী[১২]। অন্যদেরকে নিজেদের মত জীবন যাপন করতে দেবার সহনশীলতা জন্যে তার প্রয়োজন বেশ খানিকটা আত্ম-নিয়ন্ত্রণেরও।

এর মানে এই নয় যে উদারপন্থীকে অধার্মিক হতে হবে। সত্যিকারের উদারপন্থার সাথে ধর্মের কোন বিরোধ নেই (এবিষয়ে ফরাসী বিপ্লবের যুক্তিবাদের সাথে তার পার্থক্য বিরাট), এবং উনবিংশ শতাব্দীর মহাদেশীয় (ইউরোপীয়) “উদার”পন্থার অনুদার ধর্মবিরোধিতা আমাকে দুঃখিত করে। এধরণের ধর্মবিরোধিতা যে উদারপন্থার জন্য অবধারিত নয়, সেটার প্রমাণ উদারপন্থার বৃটিশ পূর্বসূরী, অর্থাৎ হুইগরা। বরঞ্চ, ধর্মানুরাগটা যেন একটু বেশিই ছিল এদের। কিন্তু উদারপন্থার সাথে রক্ষণশীলের পার্থক্য হল, তার নিজের আধ্যাত্মিক বিশ্বাস যতই জোরদার হোক না কেন, সে কখনই অন্যের উপর সেটা চাপানোর অধিকার দাবি করেনা, এবং ধর্মীয় ও ঐহিক ব্যাপারকে সে সম্পূর্ণ ভিন্ন রাখার পক্ষপাতী।

৬।
কেন যে আমি রক্ষণশীল নই, আশা করি তা আর অস্পষ্ট নেই। তবে অনেকে ভাবতে পারে, “উদারপন্থী” বলতে তারা যা বোঝে তার সাথে আমার অবস্থানের কোন সম্পর্ক নেই। ফলে আজকের দিনে স্বাধীনতার পার্টির জন্য “উদারপন্থী” নামটা উপযোগী কিনা, আবার এই প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে আমাকে। বাস্তবতা হচ্ছে, সারা জীবন নিজেকে উদারপন্থী হিসেবেই পরিচয় দিয়ে আসলেও ইদানিং সেটা করতে দ্বিধাবোধ করছি। এর কারণ দ্বিবিধি। প্রথমত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই অভিধার ব্যাপারে প্রকট বিভ্রান্তি; দ্বিতীয়ত, মহাদেশীয় যুক্তিবাদী উদারপন্থা বা এমনকি উপযোগিতাবাদী ইংরেজ উদারপন্থার সাথে আমার ক্রমবর্ধমান মতপার্থক্য।

উদারপন্থা বলতে যদি তাই বোঝানো হয় যা বুঝেছিলেন একজন ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ যখন তিনি ১৮২৭ সালে লিখেছিলেন, ১৬৮৮ এর বিপ্লব ছিল “সেসব নীতির জয় যাদেরকে আজকের দিনে উদারপন্থী বা সাংবিধানিক বলা হয়”[১৩] বা যদি কেউ লর্ড অ্যাকটনের সাথে একমত হয়ে বার্ক, ম্যাকলেগ্লাডস্টোনকে শীর্ষ তিন উদারপন্থী হিসেবে বিবেচনা করে, বা হ্যারল্ড লাস্কির মত টকভিললর্ড অ্যাকটনকে “উনবিংশ শতাব্দীর বিকল্পরহিত উদারপন্থী”[১৪] হিসেবে ঘোষণা দিতে পারে, তাহলে আমিও একজন গর্বিত উদারপন্থী। নিজের পাতে ঝোল টেনে এই উদারপন্থাকে “আসল” উদারপন্থা বলার লোভটাও এড়ানো কঠিন। কিন্তু সত্যিকে অস্বীকার করে লাভ নেই। আমি যাঁদের কথা উল্লেখ করলাম, তাঁদের মতামতের ঘোর বিরোধি ছিলেন বেশির ভাগ মহাদেশীয় উদারপন্থী এবং মহাদেশীয় উদারপন্থীদের লক্ষ্য ছিল পৃথিবীতে একটি পরিকল্পিত যৌক্তিক কাঠামোর প্রতিষ্ঠা করা, মুক্ত প্রবৃদ্ধি নয়। ইংল্যান্ডে উদারপন্থী নামধারীদের ক্ষেত্রেও একই কথা সত্য, অন্তত লয়েড জর্জ-এর শাসনামল থেকে। অতএব আমার “উদারপন্থা”-র সাথে আজকের দিনে ওই নামধারী রাজনৈতিক আন্দোলনগুলির কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। এই নামের সাথে যেসব ঐতিহাসিক অনুসঙ্গ জড়িয়ে গেছে তার প্রেক্ষিতে নামটিকে অপব্যবহারের হাত থেকে উদ্ধার করার চেষ্টাটাই অপচেষ্টা কিনা, এটাও একটা ভাল প্রশ্ন। আমার নিজের ক্রমশ বিশ্বাস জন্মাচ্ছে যে দীর্ঘ আনুসাঙ্গিক ব্যাখ্যা ছাড়া এই শব্দের ব্যবহার কেবল বিভ্রান্তিই বাড়ায়, এবং আজ এই অভিধাটি শক্তির উৎস নয়, দুর্বলতার উৎস।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উপায়ান্তর না দেখে কেউ কেউ “লিবার্টারিয়ান” নামটি ব্যবহার করা শুরু করেছে। জানিনা, এটাই হয়ত সমাধান, কিন্তু ব্যক্তিগত ভাবে আমি এর ঘোর বিরোধি। এটির সুস্পষ্ট কৃত্রিমতা এবং ঠেকনা দেয়া ভাব আমার কানে বাজে। আমি চাই এমন একটা নাম যা জীবনমুখী দলকে পরিচয় দান করবে, যে দলের রাজনীতি হবে মুক্ত প্রবৃদ্ধি ও বাধাহীন বিবর্তনের। কিন্তু বহু মাথা ঘামিয়েও সুবিধাজনক কোন নাম আমি বের করতে পারিনি।

৭।
মনে রাখা দরকার, আমি যেসব নীতির কথা বলছি সেগুলি যখন প্রথম পশ্চিমা বিশ্বে প্রচলিত হওয়া শুরু করে, তখন এই মতাবলম্বীদের একটা বহুপরিচিত নাম ছিল। নামটি হল “হুইগ”। ইংরেজ হুইগরাই সারা ইউরোপের উদারপন্থার পথিকৃত [১৫] এবং হুইগ ধারণাগুলি বহন করে নিয়ে গিয়েই মার্কিন উপনিবেশ-স্থাপনকারীরা অবশেষে স্বাধীনতা অর্জন ও সংবিধান রচনা করে[১৬]। বস্তুত, ফরাসী বিপ্লবের ফলে হুইগদের মধ্যে টোটালিটারিয়ান গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রী ভাবধারার ছোঁয়াচ লাগবার আগে ওই নাম দিয়েই স্বাধীনতার পার্টি পরিচিত হত।

তার জন্মভূমি ইংল্যাণ্ডে এই নামের মৃত্যু হয়েছে দুটি কারণে। প্রথমত, এই নীতিগুলি একটা সময়ে আর কোন একটা বিশেষ পার্টির নীতি থাকেনি। দ্বিতীয়ত, এই নামধারীরা কালের বিবর্তনে আর হুইগ নামের যোগ্য থাকে নি। উনবিংশ শতাব্দীতে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে হুইগ পার্টিগুলির কার্যকলাপ র্যাডিকলদের মধ্যে তাদের নাম ডোবায়। কিন্তু তারপরও আদি নামটি হুইগ-ই, এবং “উদারপন্থা” শব্দটা হুইগবাদের স্থান দখল করেছে ফরাসী বিপ্লবের ভুল ও যুদ্ধংদেহী যুক্তিবাদ স্বাধীনতাবাদীরা আত্মীকরণ করে ফেলবার পরে। আমাদের লক্ষ্য যেহেতু ওই ঐতিহ্যকে অতি-যুক্তিবাদ, জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্রের প্রভাব মুক্ত করা, অতএব হুইগবাদ নামটিই হচ্ছে ঐতিহাসিক ভাবে সঠিক। বস্তুত, যতই আমি রাজনীতির বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাস সম্বন্ধে পরিচিত হই, ততই উপলব্ধি করি আমি আর কিছুই না, একজন “পুরোনো হুইগ” (জোর “পুরোনো” শব্দটার উপরে)।

নিজেকে পুরোনো হুইগ বলার অর্থ এই নয় যে আমি সপ্তদশ শতাব্দীর শেষে ফেরত যেতে চাই। যে ধারণাগুলি ওই সময়ে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল, সেগুলি অন্তত সত্তর-আশি বছর আগে পর্যন্ত নানান ভাবে বিকশিত হয়েছে, যদিও কোন একটি বিশেষ দলের আওতায় নয়। এর পরে জ্ঞান-বিজ্ঞানের যে প্রসার ঘটেছে তার আলোকে এই ধারণাগুলিকে আরো সফল ও সন্তোষজনক ভাবে পুনর্ব্যক্ত করা সম্ভব অবশ্যই, কিন্তু মূল নীতিগুলি সেই পুরোনো হুইগদেরই।

হুইগ নামধারী পার্টিগুলির পরবর্তী কার্যকলাপের ফলে কেউ কেউ সন্দেহ পোষণ করেছেন, আদতে হুইগ নীতি বলে আলাদা কিছু আছে কিনা। কিন্তু আমি লর্ড অ্যাকটনের সাথে একমত, “এই নীতির পিতৃপুরুষেরা অনেকেই কুখ্যাত, কিন্তু মিউনিসিপাল আইনের চেয়েও উচ্চতর আইন আছে, তাদের এই বিশ্বাস থেকেই হুইগবাদের জন্ম, আর এটাই ইংরেজদের শ্রেষ্ঠ অর্জন ও বিশ্বের জাতিগুলির জন্য তাদের উপহার”[১৭]। এই নীতির উপরেই অ্যাংলো-স্যাক্সন জাতিগুলির সাধারণ ঐতিহ্য দাঁড়িয়ে আছে। এই নীতি থেকেই মহাদেশীয় উদারপন্থা তার ভাল উপাদানগুলি পেয়েছে। এই নীতিই মার্কিন সরকারব্যবস্থার ভিত্তিভূমি। এর বিশুদ্ধ রূপ যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়া যাবে জেফারসনের র্যাডিকালবাদ বা হ্যামিলটনঅ্যাডামসের রক্ষণশীলতায় নয়, বরং “সংবিধানের পিতা” জেমস ম্যাডিসনের মতামতে[১৮]

অবশ্য এই পুরোনো নামের পুনরুত্থান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সুবুদ্ধির পরিচায়ক কিনা তা আমার জানা নেই। অধিকাংশ লোকের কাছে এই নামের বিশেষ কোন অর্থ যে আর নেই, এটা বোধহয় খারাপ নয়, বরং সুবিধাজনক। যারা বৌদ্ধিক ইতিহাসের সাথে পরিচিত, তাদের কাছে অবশ্য এই নামটিই মনে হয় সবচেয়ে অর্থবহ। সত্যিকারের রক্ষণশীল ও সমাজতন্ত্রী-থেকে-রক্ষণশীলে-রূপান্তরিত, উভয় দলের কাছেই “হুইগ” নামটা বিশেষ বিতৃষ্ণার উদ্রেক ঘটায়, এটা উল্লেখ করবার মত। কারণ এখান থেকে স্পষ্ট যে তারা খুব ভালভাবেই জানে তাদের আসল শত্রু কারা। এই নামটি সেই নির্বিকল্প নীতিগুলির জন্য প্রযোজ্য যেগুলি সবসময় এবং সর্বাবস্থায় স্বৈরাচারের বিপক্ষে।

৮।
এসব নাম-টাম আদতে গুরুত্বপূর্ণ কিনা, এপ্রশ্ন অসংগত নয়। যুক্তরাষ্ট্রে হয়ত নামটা আসলেই ততটা তাৎপর্যপূর্ন নয়। এখানে মোটের ওপর সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি স্বাধীনতা-বাদী, ফলে পুরোনো নীতিকে ধরে রাখাই অনেক ক্ষেত্রে আমাদের কাজ। অতএব স্বাধীনতার পক্ষাবলম্বনকারীরা নিজেদের রক্ষণশীল ডাকলে হয়ত খুব একটা সমস্যা নেই, যদিও সহজাত রক্ষণশীলদের সাথে নিজেদের গুলিয়ে ফেলাটা বিব্রতকর বইকি। কারণ একমতাবলম্বী হওয়াই যথেষ্ট নয়, মতটির প্রতি সমর্থন কোন দৃষ্টিকোণ থেকে আসছে সে প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ — নীতিগুলি পুরোনো বলে, নাকি সেগুলি প্রাচীনত্ব-নিরপেক্ষভাবে সমর্থযোগ্য বলে? সমষ্টিবাদের বন্যাকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে এটা ভুললে চলবে না যে স্বাধীনতাবাদ সম্মুখদর্শী, পুরনোর প্রতি রোমান্টিক নস্টালজিয়া এর উৎস নয়।

কিন্তু ইউরোপে রক্ষণশীলদের সাথে স্পষ্ট পার্থক্য সূচিত করা একেবারে অপরিহার্য, কারণ সেখানকার রক্ষণশীলেরা সমষ্টিবাদের বহু নীতি আত্মীকরণ করে ফেলেছে — এবং এই মনোভাব এতদিন ধরে পলিসি নিয়ন্ত্রণ করে এসেছে যে সমষ্টিবাদী প্রতিষ্ঠানগুলি ডালভাত হয়ে গেছে, এমনকি “রক্ষণশীল” দলগুলি বহু ক্ষেত্রে এগুলির গর্বিত স্রষ্টা[১৯]। এই পরিস্থিতিতে স্বাধীনতাবাদীকে স্পষ্ট ভাবে রক্ষণশীল বিরোধি হতে হবে, গ্রহণ করতে হবে একটি র্যাডিকাল অবস্থান, যার লক্ষ্য হবে কুসংস্কার ও অধিকারবাজির সমূল বিরোধিতা করা, এমনকি জনসমর্থনের বিপরীতে গিয়েও। কুপ্রথা সুদীর্ঘকালের প্রথা বলেই ভাল কিছু হয়ে যায় না।

আগ বাড়িয়ে ঝামেলা না পাকানোর নীতি রাজনীতিবিদের জন্য ভাল উপদেশ হতে পারে হয়ত, কিন্তু দার্শনিকের পক্ষে এতে সন্তুষ্ট থাকা সম্ভব নয়। দার্শনিক হয়ত পলিসির পরিবর্তনে ধীরতাকে মেনে নিতে পারে, এবং তাও জনগণের ইচ্ছাক্রমেই, কিন্তু স্রেফ বর্তমান জনমত একটি অবস্থানের পক্ষে বলেই সেটা হজম করতে পারে না। এখনকার অবস্থা ঠিক উনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের মতই, যখন মূল প্রয়োজন হল স্বতঃস্ফূর্ত প্রবৃদ্ধির পথের বাধাগুলি দূর করা, যেসব বাধার জন্ম দিয়েছে মানবচরিত্রের দুর্বলতা। এই অবস্থায় উদারপন্থী দার্শনিকের ভরসা সেই মানুষগুলি যারা মৌলিক ভাবেই “প্রগতিশীল”, আজ ভুল দিকে হয়ত যাত্রা করলেও নিজের বিশ্বাসকে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করার ইচ্ছা অন্তত যাদের আছে।

আশা করি আমার “পার্টি” শব্দের ব্যবহারে কেউ বিভ্রান্ত হননি। আমি স্রেফ বুঝিয়েছি একদল মানুষকে যারা একটি বিশেষ বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক অবস্থানকে রক্ষা করে চলবে। কোন বিশেষ দেশের রাজনৈতিক কামড়াকামড়ি আমার লেখার বিষয় নয়। এই লেখায় যেসব নীতির কথা তুলে ধরা হয়েছে, তাদের ভঙ্গুর অবয়বকে একত্রিত করে কিভাবে জনপ্রিয় আন্দোলন গড়ে তোলা যায়, সেটা রাজনৈতিক দার্শনিকের কাজ নয়, ও ব্যাপারে “সেসব চতুর চাণক্য, যাদেরকে রাজনীতিবিদ বা কূটনীতিবিদ নামে প্রায়ই অভিহিত করা হয়, যারা প্রতিদিনের হাওয়া বদলের প্রেক্ষিতে পদ্ধতি পরিবর্তন করে”[২০] তাদেরকেই দায়িত্ব দিতে হবে। রাজনীতির দার্শনিকের কাজ হবে শুধুমাত্র জনমত গঠন করা, জনসংগঠনের নেতৃত্ব দেয়া নয়। এই মুহূর্তে রাজনৈতিক ভাবে কি সম্ভব-অসম্ভব সে বিষয়ে চিন্তা না করে যদি দার্শনিকের নিয়ত অবস্থান হয় “সেসব সাধারণ নীতি যারা চিরদিনের”[২১] তাদের পক্ষে, কেবলমাত্র তাহলেই সে তার দায়িত্বপালনের আশা করতে পারে। এই অর্থে রক্ষণশীল রাজনৈতিক দর্শন বলে আদৌ কিছু হয় কিনা সে ব্যাপারে আমি সন্দিহান। ক্ষেত্রবিশেষে রক্ষণশীলতার ব্যবহারিক উপযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু সুদূরপ্রসারী পরিবর্তনের কোন কাঠামো তা আমাদের দিতে পারে না।

a

ফুটনোট

[১২] দেখুন Learned Hand, The Spirit of Liberty, আই. ডিলার্ড সম্পাদিত (নিউ ইয়র্ক ১৯৫২) পৃ ১৯০: “যার সত্তা স্বাধীনতাবাদী সে নিজের সঠিকতার ব্যাপারে খুব বেশি নিশ্চিত নয়”। আরো দেখুন অলিভার ক্রমওয়েলের বিখ্যাত মন্তব্য, যা পাওয়া যায় Assembly of the Church of Scotland-কে তাঁর লিখিত পত্রে (আগস্ট ৩, ১৬৫০): “অনুরোধ করছি, যীশুর নামে, আপনাদের ভুল হতে পারে এটাও একটু বিবেচনায় রাখুন ”। এটা উল্লেখের বিষয় যে ব্রিটেনের ইতিহাসের একমাত্র “স্বৈরশাসক”-এর সবচেয়ে স্মরণীয় উক্তি এটা।

[১৩] এইচ. হালাম, Constitutional History (১৮২৭) (“Everyman” সংস্করণ), খণ্ড ৩, পৃ ৯০। অনেক সময় দাবী করা হয় যে “লিবারাল” (উদারপন্থী) শব্দটি এসেছে লিবারালেস নামে উনবিংশ শতাব্দীর স্পেনীয় দলটির নাম থেকে। আমার অবশ্য মনে হয় এর উৎস অ্যাডাম স্মিথ, যেমন ধরুন The Wealth of Nations, খণ্ড ২, পৃ ৪১: “মুক্ত আমদানি ও রপ্তানির লিবারাল ব্যবস্থা” বা পৃ ২১৬: “প্রত্যেক মানুষকে তার আপন মনে নিজ আগ্রহে কাজ করতে দেয়া — সমতা, স্বাধীনতা ও ন্যায়ের লিবারাল নীতির উপর ভিত্তি করে”।

[১৪] মেরি গ্ল্যাডস্টোনকে লিখিত লর্ড অ্যাকটনের পত্র, পৃ ৪৪। আরও দেখুন টকভিলের ব্যাপারে তাঁর মতামত, যা পাওয়া যাবে Lectures on the French Revolution (লণ্ডন ১৯১০) পৃ ৩৫৭ তে: “টকভিল বিশুদ্ধতম উদারপন্থীদের একজন — উদারপন্থী এবং শুধুমাত্র উদারপন্থী, গণতন্ত্রের প্রতি গভীরভাবে সন্দিহান, এবং সন্দিহান সাম্যবাদ, কেন্দ্রীকরণ ও উপযোগিতাবাদের প্রতি”। একই ভাবে দেখুন Nineteenth Century, XXXIII (১৮৯২), পৃ ৮৮৫। এইচ. জে. লাস্কির মন্তব্য পাওয়া যাবে The Social and Political Ideas of Some Representative Thinkers of the Victorian Age, এফ.জি.সি. হার্নশ সম্পাদিত (লন্ডন, ১৯৩৩), এর “Alexis de Tocqueville and Democracy” প্রবন্ধে (পৃ ১০০): “আমার মনে হয়, টকভিল ও অ্যাকটন যে উনবিংশ শতাব্দীর বিকল্পরহিত উদারপন্থী, এ দাবীর প্রতিউত্তর দেয়া সম্ভব নয়”।

[১৫] অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুতেই একজন ইংরেজ পর্যবেক্ষকের পক্ষে বলা সম্ভব হয়েছিল, “বিদেশী যে লোকই ইংল্যাণ্ডে আসুক না কেন, হোক সে ডাচ, জার্মান, ফরাসী, ইতালীয় বা তুর্কী, কিছুদিন আমাদের মধ্যে থাকবার পরেই সে হুইগ হয়ে যায়” (এই উদ্ধৃতি পাওয়া যাবে জি. এইচ. গাটরিচের English Whiggism and the American Revolution-এ (বার্কলে, ক্যালিফোরনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, ১৯৪২) পৃ ৩)

[১৬] উনবিংশ শতাব্দীতে “হুইগ” শব্দটির যেভাবে ব্যবহার হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, তাতে লোকে ভুলে গেছে অষ্টাদশ শতাব্দীতে এই নাম ব্যবহৃত হত সেসব নীতি বোঝাতে যাদের সাহায্যে মার্কিন বিপ্লব চালিত হয়েছে, অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা, লিখিত হয়েছে সংবিধান। হুইগ দলগুলিতেই তরুণ জেমস ম্যাডিসন ও জন অ্যাডামস-এর রাজনৈতিক শিক্ষানবিসি হয়েছে (দেখুন ই. এম. বার্নসের James Madison [নিউ ব্রান্সউইক, নিউ জার্সি, রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, ১৯৩৮], পৃ ৪); এই হুইগ নীতিই ছিল, জেফারসন আমাদের জানিয়েছেন, সেসব আইনজীবিদের মূল নীতি যারা দলে দলে Declaration of Independence এ সই করেছে এবং যারা Constitutional Convention এ শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল (দেখুন Writings of Thomas Jefferson [“Memorial ed.” ওয়াশিংটন ডি.সি., ১৯০৫], খণ্ড XVI, পৃ ১৫৬)। হুইগ নীতি এতই প্রচলিত ছিল যে এমনকি ওয়াশিংটনের সৈন্যেরা পর্যন্ত হুইগদের ঐতিহ্যবাহী নীল-হলদে ইউনিফর্ম পরে যুদ্ধে গেছে। এ রংয়ের ব্যবহার করেছে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ফক্সাইটরা, এবং এই রং আজও দেখতে পাওয়া যায় এডিনবরা রিভিউ-এর প্রচ্ছদে। যদি এই সমাজতন্ত্রী প্রজন্ম হুইগবাদকে তার প্রিয় লক্ষ্যে পরিণত করে, তাহলে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ওই নামটির সম্মান পুনরুদ্ধার করা। আজ এই নামটাই শুধু বর্ণনা করে গ্ল্যাডস্টোন উদারপন্থীদের, মেইটল্যান্ড, অ্যাকটন ও ব্রাইসের প্রজন্মকে, যারা ছিল শেষ প্রজন্ম যাদের কাছে সমতা বা গণতন্ত্র নয়, মূল লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা।

[১৭] লর্ড অ্যাকটন, Lectures on Modern History (লন্ডন, ১৯০৬) পৃ ২১৮। আমি অ্যাকটনের বাক্যগুলিকে কিছুটা আগ-পিছ করেছি অর্থটা সংক্ষেপে স্পষ্ট করার জন্য।

[১৮] দেখুন এস. কে. প্যাডওভারের Introduction to The Complete Madison (নিউ ইয়র্ক, ১৯৫৩), পৃ ১০: “আজকের পরিভাষায় ম্যাডিসনকে বলা যায় মাঝামাঝি ধরণের উদারপন্থী, আর জেফারসনকে র্যাডিকাল হিসেবে স্বীকার করতে হবে”। এটা সত্য এবং গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে ই.এস. করউইনের মন্তব্য (“James Madison: Layman, Publicist, and Exegete,” New York University Law Review, XXVII, ১৯৫২, পৃ ২৮৫) যেখানে উনি উল্লেখ করেছেন ম্যাডিসনের পরবর্তী কালে “জেফারসনের প্রকাণ্ড প্রভাবের কাছে আত্মসমর্পন”-এর কথা।

[১৯] দেখুন ব্রিটিশ রক্ষণশীল দলের পলিসি পত্র, The Right Road for Britain (লণ্ডন ১৯৫০), পৃ ৪১-৪২, যেখানে যুক্তিসংগতভাবেই বলা হয়েছে “সংখ্যাগরিষ্ঠ রক্ষণশীল জোট সরকারের নতুন জনসেবামূলক পরিকল্পনাগুলি রক্ষণশীল দলের পূর্ণ সমর্থন পেয়েছে…(আমরা) পেনশন, অসুস্থতা ও বেকারত্ব ভাতা, শিল্প কারখানায় অনাচার ভাতা এবং রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য সেবার নীতিমালা তৈরি করেছি”।

[২০] অ্যাডাম স্মিথ, The Wealth of Nations, ১ম খণ্ড, পৃ ৪৩২।

[২১] উপরে দেখুন।

About the Author:

ঘন বরষা

মন্তব্যসমূহ

  1. অভিজিৎ মার্চ 4, 2011 at 7:01 অপরাহ্ন - Reply

    রৌরব,

    বিরাট বড় একটা কাজ শেষ করলেন। অনেক অনেক ধন্যবাদ এই মিশনটা সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য। আপনার অনুবাদ অনবদ্য। ফরিদ ভাই ঠিকই বলেছিলেন – যদি পয়সা দিয়ে কেউ অনুবাদক রাখার কথা ভাবলে আপনার কথাই ভাববে! 🙂

    আবারো অনেক ধন্যবাদ।

    • রৌরব মার্চ 4, 2011 at 10:48 অপরাহ্ন - Reply

      @অভিজিৎ,
      ধন্যবাদ আপনাকেও (F)

  2. আবুল কাশেম মার্চ 4, 2011 at 4:04 অপরাহ্ন - Reply

    এই পর্বটা ভাল হয়েছে; আমার বুঝতে অসুবিধা হয়নি।

    • রৌরব মার্চ 4, 2011 at 6:15 অপরাহ্ন - Reply

      @আবুল কাশেম,
      ধন্যবাদ 🙂

  3. রূপম (ধ্রুব) মার্চ 4, 2011 at 12:43 অপরাহ্ন - Reply

    চমৎকার একটা কাজ হল! তুলে রাখার মত লেখা। শেয়ার দিলাম।

    স্বাধীনতাবাদ প্রায় প্রেডিক্টেবল হয়ে উঠছিল। আঁচ করতে পারছিলাম কোন ক্ষেত্রে কি অবস্থান নিবে সে। তবে কুসংস্কারের ব্যাপারে র্যাডিকেল অবস্থান নেয়াটা একদম টের পাই নি আগে থেকে। হয়তো বুঝতেই পারছেন, আমি দু’টো কুসংস্কারের মধ্যে সাময়িকভাবে কিছুটা স্ট্র্যাটেজিক অবস্থান নেওয়ার পক্ষে, যেটা ব্যাক্তিস্বাধীনতার সাথে অবিরোধপূর্ণ, সেটার পক্ষে। ভাবতে হবে আবার।

    এবার যখন উদারপন্থার পাঠ শেষ হল, এর ভবিষ্যত নিয়ে ভাবা যায়। পৃথিবীর সবাই যদি উদারপন্থী হয়ে যায় এবং লক্ষ্য বছর সেভাবেই যাপন করে, সেক্ষেত্রে সেটা বিবর্তনগতভাবে সুবিধাজনক হবে কিনা। বৈচিত্রে একটা বড় ঘাটতি যেটা হবে, মনুষ্যজাতি সম্ভবত হিংস্রতা হারাতে পারে। আমার তো ধারণা ছিল মানুষ যত সংগ্রাম করবে, তত সে টিকে থাকার গুণাগুণ লাভ করবে। তবে বিবর্তন নিয়ে আমার ধারণা খুব পরিষ্কার না।

    সেখানে আরেকটা ব্যাপার যেটা চলে আসছে, উদারপন্থার উদারতা বা নিরীহভাবটার অনেকটাই সম্ভবত আসছে আামাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার স্বীকারোক্তিতে তার সততার কারণে। এখন, যদি আমরা সবকিছু জেনে যেতাম বা অনেককিছু জেনে যাই, সেক্ষেত্রে সে কি করবে। আমি তো বরং এমন উদারতা চাই, যেটা বিজ্ঞান দিয়ে (ধরা যাক) নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত ‘সঠিক’ বা ‘শ্রেষ্ঠ’ পথকেও বাধ্য হয়ে গ্রহণ না করতে চাওনেওয়ালাদের চাওয়াকে সম্মান করবে। কিছু ফাঁক থেকেই যাচ্ছে। বিজ্ঞান আর নিশ্চিত প্রমাণ ব্যাপার দুটো পপারীয় মতে একসাথে যায় না। সেটার কারণে জ্ঞানহীনতার স্বীকারোক্তিসম্ভূত যে উদারপন্থী, সে আমার সাথে মত মিলাবে জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার দোহাই দিয়েই। 🙁

    জিনিসটা ভালই। রক্ষণশীলতা হল মস্তিষ্কমৃতদের পথ। সামাজিক প্রেক্ষাপটে যে তথাকথিত ‘যুক্তিবাদী’ র্যাডিকাল, সে মানুষের জ্ঞানের পরিধি নিয়ে বিভ্রমে বঁুদ হয়ে আছে। দার্শনিক যুক্তিতেও সে দুর্বল। একটা প্যারাডিমে স্যাম হ্যারিসের মত সে যুক্তির বাইরে থাকে না। কিন্তু ইজ-ওট প্রবলেমের মত মৌলিক বিষয়কে সে স্যাম হ্যারিসের মতই কয়েকটা ছবি আর আবেগের তুকতাক, জারিজুরি দিয়ে সমাধান করে ফেলে।

    • রূপম (ধ্রুব) মার্চ 4, 2011 at 1:18 অপরাহ্ন - Reply

      @রূপম (ধ্রুব),

      প্রমাণিত ‘সঠিক’ বা ‘শ্রেষ্ঠ’ পথকেও

      ‘সঠিক’ বাদ। ‘শ্রেষ্ঠ’ বুঝাচ্ছি।

    • রৌরব মার্চ 4, 2011 at 10:47 অপরাহ্ন - Reply

      @রূপম (ধ্রুব),

      মনুষ্যজাতি সম্ভবত হিংস্রতা হারাতে পারে। আমার তো ধারণা ছিল মানুষ যত সংগ্রাম করবে, তত সে টিকে থাকার গুণাগুণ লাভ করবে।

      হিংস্রতা হারাতে পারে, কিন্তু সংগ্রাম তো হারানোর কথা না উদারপন্থী ব্যবস্থার — যেহেতু সে মানুষকে সমষ্টিবাদের গ্যারান্টি-গুলি দিতে নারাজ।

      সেখানে আরেকটা ব্যাপার যেটা চলে আসছে, উদারপন্থার উদারতা বা নিরীহভাবটার অনেকটাই সম্ভবত আসছে আামাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার স্বীকারোক্তিতে তার সততার কারণে।

      ঠিক।

      এখন, যদি আমরা সবকিছু জেনে যেতাম বা অনেককিছু জেনে যাই, সেক্ষেত্রে সে কি করবে। আমি তো বরং এমন উদারতা চাই, যেটা বিজ্ঞান দিয়ে (ধরা যাক) নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত ‘সঠিক’ বা ‘শ্রেষ্ঠ’ পথকেও বাধ্য হয়ে গ্রহণ না করতে চাওনেওয়ালাদের চাওয়াকে সম্মান করবে। কিছু ফাঁক থেকেই যাচ্ছে।

      আমার কাছে এ প্রশ্নটা একটু প্ল্যাটনিক মনে হয়, কারণ সবকিছু জেনে যাওয়া আমার শুধু বহুদূরবর্তী নয়, অসম্ভব ঠেকে। যদিও সবকিছু জেনে যাওয়ার বিভ্রম একটা সত্যিকারের বিপদ। তারপরও তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম আমরা “সবকিছু” জানি। আপনার মত যদি সত্যি হয়ে থাকে, অর্থাৎ “গ্রহণ না করতে চাওনেওয়ালাদের চাওয়াকে সম্মান ” করাটাই যদি ভাল কাজ হয়, এই সত্যিটাও নিশ্চয়ই সেই “সবকিছু”-র অন্তর্ভুক্ত, তাই সেটাও জেনে এবং মেনে নেব আমরা তখন।

      বিজ্ঞান আর নিশ্চিত প্রমাণ ব্যাপার দুটো পপারীয় মতে একসাথে যায় না।

      ব্যাখ্যা চাই 🙂 — এই দার্শনিক ব্যাপারগুলি আমার ভাল জানা নেই। আগেই স্বীকার করি — দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধাটাও রীতিমত কম।

      একটা প্যারাডিমে স্যাম হ্যারিসের মত সে যুক্তির বাইরে থাকে না। কিন্তু ইজ-ওট প্রবলেমের মত মৌলিক বিষয়কে সে স্যাম হ্যারিসের মতই কয়েকটা ছবি আর আবেগের তুকতাক, জারিজুরি দিয়ে সমাধান করে ফেলে।

      স্যাম হারিসকে নিয়ে আগে আপনার সাথে আলাপ হয়েছিল এরকম যেন মনে পড়ছে — কিন্তু কি আলাপ সেসব ভুলে গেছি। আমার কিন্তু হ্যারিসকে অতি যুক্তিবাদী মনে হয়নি।

      • রূপম (ধ্রুব) মার্চ 5, 2011 at 4:59 পূর্বাহ্ন - Reply

        @রৌরব,

        আমার কাছে এ প্রশ্নটা একটু প্ল্যাটনিক মনে হয়, কারণ সবকিছু জেনে যাওয়া আমার শুধু বহুদূরবর্তী নয়, অসম্ভব ঠেকে। যদিও সবকিছু জেনে যাওয়ার বিভ্রম একটা সত্যিকারের বিপদ। তারপরও তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম আমরা “সবকিছু” জানি। আপনার মত যদি সত্যি হয়ে থাকে, অর্থাৎ “গ্রহণ না করতে চাওনেওয়ালাদের চাওয়াকে সম্মান ” করাটাই যদি ভাল কাজ হয়, এই সত্যিটাও নিশ্চয়ই সেই “সবকিছু”-র অন্তর্ভুক্ত, তাই সেটাও জেনে এবং মেনে নেব আমরা তখন।

        ইউ আর রাইট। অ্যাবসলিউটলি রাইট। আমি প্ল্যাটনিক সাজছিলাম। 🙁

        ব্যাখ্যা চাই 🙂 — এই দার্শনিক ব্যাপারগুলি আমার ভাল জানা নেই। আগেই স্বীকার করি — দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধাটাও রীতিমত কম।

        অনেকটা আপনি যেমনটা বললেন, সেটাই, যে বিজ্ঞান কোন কিছু নিশ্চিতভাবে জেনে যায় না বলে পপার মনে করতেন। বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ দিয়ে একটা তত্ত্বকে কেবল ভুল প্রমাণ করতে ব্যর্থ হতে পারে। ঠিক প্রমাণ করার উপায় নেই। তবে দুটো তত্ত্বের মধ্যে আস্থার তারতম্য করা সম্ভব। যেটা বেশি পর্যবেক্ষণ দিয়ে যাচাই হয়েছে, সেটার উপর আস্থা বেশি, অনেকটা এমন আরকি। এ ব্যাপারের দর্শন নিয়ে মেশিন লার্নিংয়েও অনেক কাজ হয়েছে দেখলাম। এখনো শিখছি। ভাল মত বুঝলে লিখে দিব একদিন।

        • রৌরব মার্চ 5, 2011 at 7:49 পূর্বাহ্ন - Reply

          @রূপম (ধ্রুব),

          বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ দিয়ে একটা তত্ত্বকে কেবল ভুল প্রমাণ করতে ব্যর্থ হতে পারে।

          হুঁ। দর্শন সম্বন্ধে এসব কারণেই খুব একটা উৎসাহিত পারিনা। আমার কাছে phenomenon টা আরোই জটিল। মেশিল লার্নিং-এর কথা যখন তুললেন তার পরিভাষা যদি ব্যবহার করি, তাহলে বলতে হয় বিজ্ঞান হচ্ছে হাইপোথেসিস স্পেস ছেঁটে ক্রমশ ছোট করবার বিদ্যা। পপারের বক্তব্য (অন্তত যেটুকু বললেন) সেটাকে বড়জোর এরই একটা crude approximation বলে বোধ হচ্ছে আমার। পপারের প্রতি অন্যায় করলাম কি? ধরিয়ে দিলে খুশী হব।

          • রূপম (ধ্রুব) মার্চ 6, 2011 at 4:39 পূর্বাহ্ন - Reply

            @রৌরব,

            পপারের বক্তব্য (অন্তত যেটুকু বললেন) সেটাকে বড়জোর এরই একটা crude approximation বলে বোধ হচ্ছে আমার। পপারের প্রতি অন্যায় করলাম কি?

            একেবারেই না! ভ্লাদিমির ভ্যাপনিক দেখি‌য়েছেন, পপারের ডাইমেনশান অব থিওরি হচ্ছে ভ্যাপনিক-চেরভোনেন্কিস ডাইমেনশানেরই (VC-Dimension) একটা ত্রুটিপূর্ণ প্রচেষ্টা‌। তবে ওই যে বললাম, ব্যাপারগুলো ধরার চেষ্টা চালাচ্ছি‌। অনেক কথার সাথে একমত হতে পারি না। তখন ধরে নেই যে ব্যাপারটা বুঝি নি। এটা নিয়ে এখানে লিখলে আপনার সাথে আলাপ করা যাবে।

            বিজ্ঞান হচ্ছে হাইপোথেসিস স্পেস ছেঁটে ক্রমশ ছোট করবার বিদ্যা।

            এটা পছন্দই হয়েছে। কয়েকটা ব্যাপার যেটা, পর্যবেক্ষণের কথা আসা দরকার, সংজ্ঞাটাকে পূর্ণাঙ্গ করার জন্যে। আর অক্কামের ক্ষুরের সাথে এর মিল অনেকে পেতে পারেন। কিন্তু এটা আর অক্কামের ক্ষুর যে এক জিনিস না, সেটা পরিষ্কার হওয়া দরকার।

            • রৌরব মার্চ 6, 2011 at 5:21 অপরাহ্ন - Reply

              @রূপম (ধ্রুব),
              ধরেই ফেললেন পর্যন্ত। স্বীকার করতে হচ্ছে আজ, আমিই ভ্লাদিমির ভাপনিক (*)। Да здравствует Сталин।

              😀 ভাপনিক প্রায়ই একই কতা বলেছেন দেখে ভালই মজা পাইলাম।

              • রূপম (ধ্রুব) মার্চ 6, 2011 at 9:35 অপরাহ্ন - Reply

                @রৌরব,

                কিন্তু আমি ভাবসিলাম আপনি স্ট্যালিন। :-s

      • রূপম (ধ্রুব) মার্চ 6, 2011 at 10:17 পূর্বাহ্ন - Reply

        @রৌরব,

        সে মানুষকে সমষ্টিবাদের গ্যারান্টি-গুলি দিতে নারাজ।

        ধ্রুপদী উদারপন্থার এ ব্যাপারটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে। তবে অনেকে ঠিক এই ব্যাপারটাই সম্ভবত মানবিকতা বিরোধী হিসেবে দেখতে পারছে।

        ক্ল্যাসিকাল লিবারেলিজম আর লিবার্টারিয়ানিজ্মকে কি আপনি একই জিনিস বলবেন?

        • রৌরব মার্চ 6, 2011 at 5:17 অপরাহ্ন - Reply

          @রূপম (ধ্রুব),
          হুম। খুব কাছাকাছি জিনিস। তবে তারপরও শব্দগুলি কিছুটা ভিন্নার্থে ব্যবহার করা যায়। যেমন, অষ্টাদশ শতাব্দীর কাউকে বর্ণনা করতে হলে ধ্রুপদী উদারপন্থা ব্যবহার করব, লিবার্টারিয়ানিজম নয়।

          • রূপম (ধ্রুব) মার্চ 6, 2011 at 11:50 অপরাহ্ন - Reply

            @রৌরব,

            নব্য-উদারপন্থা বা নিওলিবারেলিজ্ম নিয়ে কিছু বলবেন। আমি ভেবেছিলাম নব্য-উদারপন্থা হল স্বাধীনতাবাদ-ঘনিষ্ঠ ধারণা। তবে একটু শঙ্কায় আছি।

            • রৌরব মার্চ 7, 2011 at 12:59 পূর্বাহ্ন - Reply

              @রূপম (ধ্রুব),
              আমিও। আপনার মন্তব্যের পরে উইকিপিয়ায় পড়লাম নব্য-উদারবাদ নিয়ে। একটা পার্থক্য আমার চোখে পড়ল। ধ্রুপদী উদারপন্থীদের অনেকো আলাদা ভাবে বাজার নিয়ে অতটা চিন্তিত ছিলেন না। তাদের কাছে মুক্ত বাজার হচ্ছে স্বাধীনতার corollary, ব্যস। নব্য উদারবাদীরা বিশেষভাবে বাজার নিয়ে চিন্তিত।

  4. স্বাধীন মার্চ 4, 2011 at 5:46 পূর্বাহ্ন - Reply

    সবগুলো পর্ব যদি একটু সময় নিয়ে পড়তে পারতাম খুবই আনন্দ পেতাম। কবে যে মুক্তি পাবো জানি না। আপাতত শুধু লিস্টি করে যাই ডিফেন্সের পরে কি কি পড়বো তা। এই সিরিজটা লিস্টির মধ্যে ঢুকালাম।

    (Y)

    • রৌরব মার্চ 4, 2011 at 6:16 অপরাহ্ন - Reply

      @স্বাধীন,

      কবে যে মুক্তি পাবো জানি না।

      ধ্রুপদী উদারপন্থাই একমাত্র মুক্তির পথ :))

  5. বন্যা আহমেদ মার্চ 4, 2011 at 1:36 পূর্বাহ্ন - Reply

    আপনার অনুবাদ কর্ম দেখে দেখে মুগ্ধতা কেবল বাড়ছেই। এবারের পর্বটার অনুবাদটা আগের পর্বগুলোর অতি-উচ্চ-মানকেও অতিক্রম করে গেছে। এই বাক্যগুলোর মূল ইংরেজিতে কী ছিল তা জানতে ইচ্ছে করছে

    নিজের পাতে ঝোল টেনে এই উদারপন্থাকে “আসল” উদারপন্থা বলার লোভটাও এড়ানো কঠিন।

    রক্ষণশীলের সাথে তার পার্থক্য: এই অজ্ঞতাকে সে সততার সাথে মোকাবেলা করতে পারে, যুক্তির সীমাবদ্ধতার মাছকে ঐশ্বরিক জ্ঞানের শাক দিয়ে চাপা দেয়ার চেষ্টা সে করেনা।

    এই লেখাটা যত পড়ছি ততই মনে হচ্ছে আর বেশীদূর পড়া ঠিক হবে না, পড়লে মেজাজটা বিগড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এই ‘উদারপন্থা’ আমার অতিপ্রিয় ‘উদারপন্থা’র সংজ্ঞার সাথে আদৌ যায় না, আসলে এরা একেবারেই তার বিপরীত মেরুতে অবস্থান করে। ব্যক্তিস্বাতন্ত্রতাবোধ এতটাই প্রবল যে মাঝে মাঝে মনে হয় এরা যেন সাধারণ মানবিকতা বোধটাও হারাতে বসেছে। আমেরিকার লিবারটেরিয়ানদের অবস্থান, বিশেষ করে রক্ষণশীলদের সাথে তাদের আঁতাতমূলক অবস্থানগুলো, আজকাল আমাকে খুব বিরক্ত করে।

    • রূপম (ধ্রুব) মার্চ 4, 2011 at 12:48 অপরাহ্ন - Reply

      @বন্যা আহমেদ,

      ব্যক্তিস্বাতন্ত্রতাবোধ এতটাই প্রবল যে মাঝে মাঝে মনে হয় এরা যেন সাধারণ মানবিকতা বোধটাও হারাতে বসেছে

      বলেন কি? ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য নিজেই তো প্রথম সারির মানবিকতা বলে মনে হয়। উদারপন্থার দ্বারা মানবিকতা বলে পরিচিত ব্যাপারটার অন্যান্য উপাদানকে হারিয়ে ফেলার উদাহরণ আছে, এমনটা তো পেলাম না। আলো ফেলতে পারেন। অবশ্য যদি না সেটা সমাজতন্ত্রী বা যুক্তিবাদী র্যাডিকালদের জোর খাটানো ‘মানবিকতা’ হয়ে থাকে।

      • বন্যা আহমেদ মার্চ 5, 2011 at 12:45 পূর্বাহ্ন - Reply

        @রূপম (ধ্রুব), আপ্নিও যেহেতু এখানে সমাজতন্ত্রের জুজু টেনে আনলেন, তাই আপনাকে সরাসরি উত্তরটা না দিয়ে একটা প্রশ্ন করি, তাহলে হয়তো আপনার চিন্তাধারার দিকটা ধরতে সুবিধা হবে আমার। আমি ঠিক নিশ্চিত না রৌরব এখানে যে উদারপন্থার কথা বলছেন সেটাকে আপনি কীভাবে দেখেন, এরা কিন্তু ‘লিবারেল’ অংশ নয়, এরা ‘লিবারেটেরিয়ান’ এবং এরা আজকালকার আমেরিকান লিবারেলদের সমাজতন্ত্রী বলে অভিহিত করতে পছন্দ করে :-Y ।
        আপনি তো মনে হয় কানাডায় থাকেন, আপনি ওখানে ( বা যে কোন উন্নত কোন পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে) যে হেলথ কেয়ার বেনিফিটটা ভোগ করেন সেটাকে কী ‘মানবিক অধিকার’ বলে মনে করেন নাকি প্রিভিলেজ হিসেবে দেখেন?

        • রূপম (ধ্রুব) মার্চ 5, 2011 at 4:36 পূর্বাহ্ন - Reply

          @বন্যা আহমেদ,

          জুজু টানলাম কই, কি বিপদ? 🙁

          সমাজতন্ত্র বললেই রক্ষণশীল হয়ে উঠলে কিভাবে হবে। 😉

          সমাজতন্ত্রী এলিমেন্ট তো লেফ্ট লিবারেলদের মধ্যে আছেই। সেটার প্রসঙ্গ তোলা তো জুজু না। আমি বলছি যে স্বাধীনতাবাদীরা এটার বিরুদ্ধে যে থাকে, সেটা আর মানবিকতার বিরুদ্ধে যাওয়াটা আমার কাছে সমতুল্য মনে হয় না। আপনার কাছে মনে হলে সেটাও বলতে পারেন।

          রৌরবের লেখার উদারপন্থাকে আমি লিবার্টারিয়ানিজ্ম বলেই মনে করি। আমেরিকার অধুনা লিবারেলরা অবশ্যই লেফ্ট লিবারেল। নামেই লেফ্ট। সমাজতন্ত্রী এখানে অবজ্ঞা না। উচিত নাম। 🙂

          নিচের দশ প্রশ্নের কুইজটা দিলে আমার মনে হয় সব ক্লিয়ার হয়ে যাবেঃ

          [img]http://theadvocates.org/admin/system/images/2010-01/quiz.jpg[/img]
          World’s Smallest Political Quiz.

          চিকিৎসা ‘পাওয়াটা’ মানবিক অধিকার মনে করি। কিন্তু সেটার জন্যে মনে করি আমাকে পয়সা দিতে হবে। পড়াশোনা করার জন্যে, বা খাবার কেনার জন্যে বা বাসস্থানের জন্যে যেমন আমাকে পয়সা দিতে হয়। সরকার সেটা দিয়ে দেয় না। বা প্রাইভেট উদ্যোগকেও বঁাধা দেয় না। ফলে কানাডা ঠিক যে উপায়ে আমাকে বেনিফিটটা দিচ্ছে, সেটাকে আমি মানবিক অধিকার মনে করি না। বরং এটা না পেলে ভাল হত। কানাডার হেল্থ সিস্টেম ইজ এ পিস অব শিট্! :-Y

          আমি মনে করি (পয়সা দিয়ে) এর চেয়ে আরও উন্নত চিকিৎসা পাবার মানবিক অধিকার আমার আছে। কিন্তু সে সুযোগ যে নেই এখানে, তাতে কোন সন্দেহ নেই।

          • বন্যা আহমেদ মার্চ 5, 2011 at 5:02 পূর্বাহ্ন - Reply

            @রূপম (ধ্রুব), আমার উত্তরটা পেয়ে গেছি, সঠিক প্রসঙ্গে সঠিক প্রশ্নটা করতে পারার জন্য কেমন যেন এক ধরণের আত্মতৃপ্তি বোধ করছি 🙂 । আপনার সাথে বিতর্কটা জমবে এবার। কানাডা এবং আমেরিকা দুই দেশেই দীর্ঘ সময় কাটানোর ফলে আমার এই দু’দেশ সম্পর্কেই মোটামুটি ভালো একটা ধারণা আছে বলতে পারেন। আর যেহেতু আমি নিজেকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন একজন মানুষ মনে করি এবং এ সম্পর্কে বেশ সক্রিয়ভাবে খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করি তাই অল্প কথায় উত্তরগুলো দিতে চাই না। তবে সমস্যা হল, আপনার প্রতিটা মন্তব্যর সাথে আমি এতটাই দ্বিমত পোষণ করি যে অল্প সময়ের পরিসরে তা লিখে শেষ করতে পারবো না। দেখি এই উইকেন্ডে সময় করে উঠতে পারি কিনা। ভালো থাকবেন।

            • রৌরব মার্চ 5, 2011 at 7:43 পূর্বাহ্ন - Reply

              @বন্যা আহমেদ,
              একটা ঝগড়ার সম্ভাবনা দেখে পরমানন্দ লাভ করছি! লাগ লাগ নারদ নারদ :rotfl: (G) :clap

            • রূপম (ধ্রুব) মার্চ 6, 2011 at 4:58 পূর্বাহ্ন - Reply

              @বন্যা আহমেদ,

              অতটা জমবে না মনে হয়। আমি সমকালীন রাজনীতি নিয়ে অতটা সচেতন না কিনা! তবে খেয়াল রাখবেন, আমি আমেরিকার সাথে তুলনা করি নি। আমি ওখানকার হেল্থ সিস্টেম সম্পর্কে জানি আরও কম। আপনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানান, কেন কানাডার এই চয়েজবিহীন সোশালিস্ট হেল্থ সিস্টেম একটা চমৎকার সিস্টেম। খালি এই বললে হবে না যে, “আমেরিকার হেল্থ সিস্টেম দেখার পর গরল পানেও রাজি আছি।”

            • রূপম (ধ্রুব) মার্চ 6, 2011 at 5:16 পূর্বাহ্ন - Reply

              @বন্যা আহমেদ,

              আমার উত্তরটা পেয়ে গেছি, সঠিক প্রসঙ্গে সঠিক প্রশ্নটা করতে পারার জন্য কেমন যেন এক ধরণের আত্মতৃপ্তি বোধ করছি

              কিন্তু এখানে ব্যাপারটা উল্টো। প্রথমে আমি আপনাকে প্রশ্ন করেছিলাম। সেটার উত্তর না করে উত্তর দেবার দায় এড়িয়ে যাওয়ামূলক একটা প্রশ্ন আপনি করেছেন, যেটাকে সঠিক প্রশ্ন বলছেন, কিন্তু অপরাধবোধের কারণে সেটা নিয়ে পুরোপুরি আত্মতৃপ্তি বোধ করতে পারছেন না, ‘কেমন যেন’ আত্মতৃপ্তি বোধ করছেন। আমি বরং সেই পালানো প্রশ্নেরও সঠিক উত্তর করেছি। ফলে যা কিছু কৃতিত্ব, আত্মতৃপ্তি এখানে, আগাগোড়াই আমার। 😀

              • বন্যা আহমেদ মার্চ 6, 2011 at 6:12 পূর্বাহ্ন - Reply

                @রূপম (ধ্রুব), আমার কিন্তু মনে হচ্ছে রৌরবের পাতা ট্র্যাপে পড়ে ভারী ভারী রাজনৈতিক আলোচনা করার চেয়ে অপরাধবোধ এবং আত্মতৃপ্তির মাত্রা কার বেশী এ নিয়ে কথা বললেই বরং বিতর্কটা আরও বেশী জমবে, আপনি রাজি থাকলে আবারো একটা প্রশ্ন দিয়ে শুরু করতে পারি :lotpot: ।

                আপনি যে আমার ‘কেমন যেন’ র অর্থটা এত সুষ্পষ্টভাবে বের করতে পেরেছেন তার জন্য (D) ।

                নাহ, আসলেই হাতে সময় নেই আজকে, একটা লেখা শেষ করার চেষ্টা করছি এক মাস ধরে, কাজের চাপে চ্যাপ্টা হয়ে ওটা শেষ করতে পারছি না দেখে মুক্তমনার এক মডারেটর ব্যাপক হয়রানি চালাচ্ছে আমার উপর। আজকে সেটা শেষ করতে পারলে আমেরিকা, কানাডা থেকে শুরু করে লিবারটেরিয়ান, সমাজতন্ত্রী, বাম উদারপন্থা, লিবারেলদের নিয়ে গালভরা সব ‘বিজ্ঞ বিজ্ঞ’ কথা লিখে ‘আসুন আমরা এখন বিতর্ক করি’ টাইপের একটা ডাক দেওয়ার আশা রইলো :-[

          • স্বাধীন মার্চ 5, 2011 at 5:43 পূর্বাহ্ন - Reply

            @রূপম (ধ্রুব),

            কানাডার হেল্থ সিস্টেম ইজ এ পিস অব শিট্!

            এই বিষয়টা নিয়ে বিস্তারিত একটি লেখা হতে পারে। আমার কাছে এই বক্তব্যটা একটু অবাক লেগেছে। আমেরিকার মেডিকেল সিস্টেম সম্পর্কে যতটুকু শুনেছি তাতে কানাডার সিস্টেম আমার কাছে বেশ ভালোই মনে হয়েছে। উন্নতি সুযোগ রয়েছে স্বীকার করি। কিন্তু একেবারে বাজে সেটা মানতে কষ্ট হচ্ছে। তোমার যুক্তিগুলো শুনতে পারলে ভালো লাগতো। সেই সাথে বন্যা আপার মন্তব্যেও বুঝতে পারছি উনার কিছু বলার রয়েছে। আমার মনে হয় উনার বক্তব্যে ভালো কিছু উঠে আসবে কারণ উনি দু’টো সিস্টেমই দেখেছেন। অপেক্ষায় রইলাম দু’জনেরই বক্তব্য শুনার জন্য।

            • রূপম (ধ্রুব) মার্চ 6, 2011 at 4:52 পূর্বাহ্ন - Reply

              @স্বাধীন,

              কানাডার হেল্থ সিস্টেম ভালো পাই না স্বাধীন ভাই। সিলেকশান প্রেসার নাই, সার্ভিস কোয়ালিটি বাড়াবে কিভাবে? তার থেকে বাংলাদেশের সিস্টেম বেটার। গরীবের জন্যে সরকারি হাসপাতাল আছে, আর যে অর্থ দিয়ে আরও ভাল সার্ভিস চায়, তার জন্যেও হাসপাতাল আছে। মানে চয়েজ আছে। এখন এই চয়েজগুলো বন্ধ করে দিলে কি সরকারি হাসপাতালের প্রভূত উন্নতি সাধন হবে?

              আমি কানাডার হাসপাতালগুলোতে যথেষ্টবার যাই নি। একবার ক্যাম্পিং থেকে আঙুল প্রায় কেটে যাওয়া এক বন্ধুকে নিয়ে ইমার্জেন্সিতে ঢোকার পর সোশালিস্ট সার্ভিসের স্বরূপ দেখেছি। বন্ধু কানাডিয়ান ছিল বলে গা করে নি, ঘন্টার পর ঘন্টা বসে বসে পত্রিকা পড়েছে। অপারেশান রুমে ডাক্তার তাদের ইমার্জেন্সি সার্ভিসের‍ যে পরিস্থিতির কথা শুনালো, ভয়ংকর। এমন কোন ধরনের রোগী নেই, যাকে ইমার্জেন্সিতে ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করতে হয় না। রিসোর্সের সাম্যবাদী বন্টন। ট্যাক্সের টাকার কি অদ্ভূত অপচয়?

              ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতাতেই মানুষের মঙ্গল নিহিত বলে আমার মনে হয়।

              • স্বাধীন মার্চ 6, 2011 at 9:10 পূর্বাহ্ন - Reply

                @রূপম (ধ্রুব),

                আমি কানাডার হাসপাতালগুলোতে যথেষ্টবার যাই নি।

                শুধু এই কারণেই তোমার ধারণা খুবই কম কানাডার হেলথ সার্ভিস সম্পর্কে। আর বাংলাদেশের সাথে তুলনা খুবই বাজে তুলনা হলো। বাংলাদেশের সাথে তুলনাই হয় না। কমপক্ষে একশত গুণ ভালো এখানকার। এই দেশে যদি থাকতেই হয় হেলথ সার্ভিস একটি কারণ।

                আমেরিকার সাথে তুলনা হলেও চলতো। তবে আমেরিকার চেয়েও এখানকার সিস্টেম ভালো বলেই জানি। বন্যাপা ভালো বলতে পারবেন।

                আমি বলতে পারছি কারণ আমাকে বহুবারই হাসপাতাল, ডাক্তারের কাছে যেতে হয়েছে।

                তোমার কথা সত্য যে সিলেকশান প্রেসার নেই, কিন্তু তাই বলে এদের জবাবদীহিতা নেই সেটা তো নয়। আলবার্টা হেলথ এর সিও এর চাকুরী চলে গেছে শুধু মাত্র সাংবাদিক সম্মেলনে তিন মিনিট দেরী করেছিল বলে। সুতরাং উন্নতির জন্য এদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইমার্জেন্সীতে ওয়েটিং টাইম কমানোর জন্য তারা চেষ্টা করছে। বিভিন্ন টেস্টিং এর ওয়েটিং টাইম কমানোর জন্যেও কাজ করছে। তবে হ্যা উপরে যেমন বলেছিলাম, যে উন্নতির সুযোগ সব সিস্টেমেই রয়েছে, এখানেও।

                বাংলাদেশের যে ব্যাবস্থার কথা বললে সেটা হলো তোমার টাকা নেই তাই সরকারী হাসপাতালে বিনা চিকিতসায় মরার যোগ্য আর টাকা থাকলে এপোলোতে যাওয়ার যোগ্য। এটা একটু অবিচার হয়ে গেলো না দরীদ্র মানুষগুলোর জন্যে।

                কানাডার আরেকটি বিষয় ভালো, তা হচ্ছে শিক্ষা। এই দু’টোতেই মুলত ট্যাক্সের টাকা তারা খরচ করে। এটাকে কোনভাবেই অপচয় বলতে পারি না। সময় কম হাতে। পরে আবার আলাপ করা যাবে।

                • রূপম (ধ্রুব) মার্চ 6, 2011 at 10:01 পূর্বাহ্ন - Reply

                  @স্বাধীন,

                  আর বাংলাদেশের সাথে তুলনা খুবই বাজে তুলনা হলো

                  এটা কেন বললেন বুঝলাম না। আমি তো সামগ্রিক সিস্টেমের তুলনা করি নি বাংলাদেশের সাথে। আমি বলেছি বাংলাদেশে চয়েজ আছে, সিলেকশান প্রেসার আছে, যেটা কানাডায় নেই। তুলনার গণ্ডি এটুকুই। আমি যেহেতু চয়েজ পছন্দ করি, তাই সেটা আমি ভাল বলেছি। কানাডার সরকারি গণ্ডির মধ্যে উন্নয়নের চেষ্টাটাতে আমি আস্থাহীন। আরেক জনের ভাবনা উল্টো হতে পারে। কিন্তু চয়েজের তুলনাটাকে হেল্থ সিস্টেমের অন্যান্য বিষয়ের সাথে মিলালে তো তুলনাটা বাজে লাগবেই।

                  • স্বাধীন মার্চ 6, 2011 at 12:34 অপরাহ্ন - Reply

                    @রূপম (ধ্রুব),

                    শব্দ চয়ণে আরেকটু সচেতন হওয়া উচিত ছিল আমার, দুঃখ প্রকাশ করছি সে জন্যে। বাজে বলতে মিন করেছি তুলনাটা সঠিক হয়নি। তোমার আগের মন্তব্য থেকেই কোট করছি।

                    তার থেকে বাংলাদেশের সিস্টেম বেটার। গরীবের জন্যে সরকারি হাসপাতাল আছে, আর যে অর্থ দিয়ে আরও ভাল সার্ভিস চায়, তার জন্যেও হাসপাতাল আছে। মানে চয়েজ আছে।

                    এখানে যদিও চয়েজের কথা বলেছো, কিন্তু প্রকান্তরে বাংলাদেশের সিস্টেম বেটার সেটাও বলেছো। সেটাতেই দ্বিমত জানিয়েছি।

                    সেই সাথে চয়েজ থাকা মানেই ভালো সেটাও মানতে পারছি না। আমাদের দেশের গণন্তন্ত্রেও যেমন চয়েজ রয়েছে দুই চোরের মধ্যে সবচেয়ে ভালো চোরকে বেছে নেওয়ার। যে সিস্টেম সে রকমের চয়েজ জনগণের সামনে নিয়ে আসে সেই সিস্টেমকেও আমি ভালো হিসেবে গ্রহন করতে পারি না।

                    আমার কাছে মনে হয় একটি সিস্টেমের মাঝে যদি জবাবদিহীতার সুযোগ থাকে তবে সেটা রাষ্টীয় মাধ্যম হোক বা প্রাইভেট মাধ্যমই হোক, আমার তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপে জনগণ বা সংসদ বা মিডিয়া বা যেভাবেই হোক জবাবদিহীতা থাকতে হবে। যদি প্রতিটি মৃত্যুর জন্য, কিংবা ভুল চিকিৎসার জন্য ডাক্তার বা হাস্পাতাল কর্তৃপক্ষের জবাবদিহীতা থাকে তবে পাবলিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেও ভালো করা সম্ভব। যেটা এই দেশে রয়েছে।

                    আর আমাদের দেশে ঠিক সেটাই নেই। যে কারণে প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতেও চিকিৎসার নামে চলে ডাকাতি। বড় বড় বিশেষজ্ঞরা রুগী দেখার নামে করে প্রহসন। কারণ কারোর কোন জবাবদিহীতা নেই। তাই চয়েজ থাকা মানেই বেটার মানতে পারছি না, যদি না সেখানেও যথেষ্ট জবাবদিহীতা থাকে।

                    আমেরিকায় আবার ভিন্ন কাহিনী যতটুকু শুনি। ওখানে হয়তো জবাবদিহীতা আছে, কিন্তু ওখানকার সমস্যা মনে হয় কর্পোরেট ইন্সুরেন্স কোম্পানীগুলো। তারা তোমার থেকে টাকা নিয়ে যায় ঠিকই কিন্তু যখন তোমার প্রয়োজন তখন নীতির প্যাঁচে ফেলে ঠিকই চিকিৎসা হতে বঞ্চিত করে। এই দেশে অন্তত সেটা হবে না। তোমার প্রয়োজন হলে ঠিকই তোমাকে দিয়ে যাবে।

                    • রৌরব মার্চ 6, 2011 at 5:07 অপরাহ্ন

                      @স্বাধীন,

                      যে সিস্টেম সে রকমের চয়েজ জনগণের সামনে নিয়ে আসে সেই সিস্টেমকেও আমি ভালো হিসেবে গ্রহন করতে পারি না।

                      এখানে কি জনগণের অত্যন্ত passive একটা ছবি আঁকা হয়ে যাচ্ছে না? “সিস্টেম” কাকে সামনে নিয়ে আসবে, তার জন্য তারা বসে আছে কেন?

            • রূপম (ধ্রুব) মার্চ 6, 2011 at 4:55 পূর্বাহ্ন - Reply

              @স্বাধীন,

              আমেরিকার মেডিকেল সিস্টেম সম্পর্কে যতটুকু শুনেছি তাতে কানাডার সিস্টেম আমার কাছে বেশ ভালোই মনে হয়েছে

              আর আমি কিন্তু তুলনা করি নি!

              • স্বাধীন মার্চ 6, 2011 at 9:14 পূর্বাহ্ন - Reply

                @রূপম (ধ্রুব),

                তুলনা না করে তো পারবে না। তুমি যে চয়েসের কথা বলেছো সেটার সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হচ্ছে আমেরিকার হেলথ সিস্টেম। অস্ট্রেলিয়াতেও এরকম সিস্টেম মনে হয়। আর সোস্যালিস্টিক মনে হয় সুইডেনেও। তুলনা না করতে চাইলেও আলোচনা তুলনা অটোমেটিক চলে আসবে।

    • রৌরব মার্চ 4, 2011 at 6:19 অপরাহ্ন - Reply

      @বন্যা আহমেদ,
      বাক্য দুটি ছিল

      But, much as I am tempted to call their liberalism true liberalism, …

      আর

      The liberal differs from the conservative in his willingness to face this ignorance and to admit how little we know, without claiming the authority of supernatural forces of knowledge where his reason fails him.

      আমেরিকার লিবারটেরিয়ানদের অবস্থান, বিশেষ করে রক্ষণশীলদের সাথে তাদের আঁতাতমূলক অবস্থানগুলো, আজকাল আমাকে খুব বিরক্ত করে।

      হে হে। পুরোটা যদি পড়েন তাহলে চেতে ওঠার আরো কারণ পাবেন 🙂

      • বন্যা আহমেদ মার্চ 5, 2011 at 12:37 পূর্বাহ্ন - Reply

        @রৌরব, নাহ নাহ মাফ করবেন, আমার উপর পরম করুনাময় উদারপন্থী দয়া বর্ষন করুন 🙁 । দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, আমি আমেরিকার লিবারটেরিয়ানদের খুব কাছের থেকে পর্যবেক্ষণ করি। আর চরম ডানপন্থী রক্ষণশীলদেরকে তো আমি রীতিমত বিনোদনের উৎস হিসেবে ব্যবহার করি। ‘ঘ্যানঘ্যানা হ্যানিটি’ বা ‘সরি প্যালিন’ দের রাখি এই লীগে, সম্পূর্ণভাবে ব্রেইনডেড হয়ে যখন টিভি দেখতে ইচ্ছে করে তখন এদেরকে দেখি আর বিবর্তনীয় সব প্রশ্ন করি নিজেকে – রক্ষণশীল বলেই কী এদের মস্তিষ্কের গঠন বদলে গেল নাকি মস্তিষ্কে গঠনগত সমস্যার কারণেই এরা রক্ষণশীল হয়ে গেল ……

        • রৌরব মার্চ 5, 2011 at 7:44 পূর্বাহ্ন - Reply

          @বন্যা আহমেদ,

          তখন এদেরকে দেখি আর বিবর্তনীয় সব প্রশ্ন করি নিজেকে – রক্ষণশীল বলেই কী এদের মস্তিষ্কের গঠন বদলে গেল নাকি মস্তিষ্কে গঠনগত সমস্যার কারণেই এরা রক্ষণশীল হয়ে গেল ……

          😀 কানাজাওয়া উত্তর দিতে পারবেন হয়ত :-s

      • বন্যা আহমেদ মার্চ 5, 2011 at 2:14 পূর্বাহ্ন - Reply

        @রৌরব, ওহ বলতে ভুলে গেছি,
        যা ভেবেছিলাম তাই… এই ইংরেজি বাক্যগুলো থেকে আমি কখনই ঝোল, মাছ আর শাকের এনালজিগুলো টেনে আনতে পারতাম না। আপনার অনুবাদের দক্ষতা দেখে আবারো বিমুগ্ধ হলাম।

মন্তব্য করুন