ধরো যদি হারাই কোন দিন, স্মৃতিগুলো জড়াই পায়ে পায়ে
ধরো যদি পালাই কোন ছলনায়, খেয়ালি মেঘের মত নামহীন ঠিকানায়।

তুমি কি ডাকবে পিছু আমায়?!?

তুমি কি অভিশাপ দেবে?

আমার খুব প্রিয় একটা গানের প্রথম কয়েকটা লাইন। এই একটা মাত্র অ্যালবাম করার পর এই গানের ব্যন্ড K-OZ এক প্রকার হারিয়েই যায়। ওদের আর কোন গান বের হয়েছে বলে আমার জানা নেই। এমনকি এই অ্যালবামটার নাম পর্যন্ত আমার জানা না নেই। সম্ভবত ব্যন্ডের নামেই অ্যালবামের নাম।

না, এ পোস্ট গানের জন্য নয়। এ পোস্ট আমার নিজের বর্তমান মানসিক অবস্থার পোস্ট। সিদ্ধান্তহীনতার পোস্ট। পালিয়ে বাঁচতে চাওয়ার পোস্ট। আবার ঘুরে দাড়াতে চাওয়ার পোস্ট ও বটে। সবার সামনে আমি সিদ্ধান্তের আশায় আমার সিদ্ধান্তহীন দুর্দশাগুলোর কথা তুলে দিচ্ছি।

কেন এই পোস্ট? কি দরকার ছিল নিজের সিদ্ধান্তহীনতার কথাগুলো সবার সামনে নগ্ন করার? যত কিছুই হোক, নিজের সিদ্ধান্তটাতো শেষ পর্যন্ত নিজেকেই নিতে হয়, নাকি!! আসলে এই পোস্ট অনেকটা আমার স্বীকারোক্তি, আমার জবানবন্দীও বটে। কি করছি, কি করতে চাচ্ছি, কি করতে পারতাম এবং আরো কি কি করার আছে। নাকি পালানো ছাড়া কোন পথ নেই!?

এবার আসুন হাবুডুবু খাওয়া সিদ্ধান্তহীনতার পানাপুকুরে আপনাদের নিয়ে যাই।

প্রথমে আমার বর্তমান অবস্থায় আসা যাক। আমি বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের প্রথম বর্ষের (লেভেল ১ টার্ম ২) একজন ছাত্র। আমার স্কুল ও কলেজ লেভেলের ইচ্ছা, লক্ষ্য আকাঙ্খা যা-ই বলিনা কেন তার সবটুকুই ছিল এই স্থাপত্য বিভাগকে নিয়ে (কথাটা পুরোপুরি সত্য নয়, ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত আমার ইচ্ছা ছিল চারুকলার ছাত্র হবার। কিন্তু চট্টগ্রামে আমার পারিবারিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে ব্যপারটা এত সহজ ছিল না। এই জন্য লক্ষ্যটা পরিবর্তন করে এই স্থাপত্য বিভাগের দিকে নির্দিষ্ট করে নেই। যা হোক, এর পরে লক্ষ্য্ নিয়ে আর কোন সমস্যা বা মানসিক হতাশা টাইপও কিছু ছিল না)। সেই হিসাবে, আমার লক্ষ্যে আমি খুব সহজেই পৌছতে পেরেছি। কিন্তু এর পরে সমস্যার শুরু। আমাদের এই স্থাপত্য বিভাগ প্রচন্ড জটিল একটা বিভাগ!(খুব বেশি ভালো অর্থে ‘ডিজুস বাংলায়’ জটিল বলছি না কিন্তু! জটিলতা বোঝাতেই জটিল লিখেছি।) এখানে শেখার প্রয়োজনে, কাজের প্রয়োজনে এবং বেঁচে থাকার প্রয়োজনেই ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র জুনিয়র এবং ক্লাসের ক্লাসমেটদের মধ্যে প্রচন্ড মিথস্ক্রিয়া জনিত আন্তঃসম্পর্ক গড়ে ওঠে। আসলে প্রচন্ড কাজের চাপে যখন একগাদা সম মনা মানুষ এক জায়গায় কম্প্যাক্ট হয়ে পড়ে তখন আন্তঃসম্পর্ক, মিতস্ক্রিয়া, অন্তঃদন্দ্ব সবই অন্য সাধারনের তুলনায় অনেক বেশি হয়। এটাই নিয়ম। আমাদের ডিপার্টমেন্টে ক্লাসচলাকালীন সময়ে কি প্রচন্ড চাপের উপর দিয়ে যেতে হয় তা আসলে পরিস্থিতিতে না পড়লে বলে বোঝানো সম্ভব না। বাইরে থেকে কেউ বোঝে না। এমনকি ভর্তির আগে আমরাও বুঝিনি। অন্য ডিপার্টমেন্টগুলো যখন পরীক্ষার সময় প্রচন্ড চাপে থাকে, আর তখন আমরা পরীক্ষার সময় প্রজেক্টের কাজের চাপ না থাকার কারনে খুশিতে ঢ্যং ঢ্যং করি এবং অনেকেই পরীক্ষায় আশাতীত খারাপ ফলাফল করে!! তো এসব মিলিয়েই বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগ। স্থাপত্য বিভাগটাকে আমার ভালো লেগে গেলেও, স্থাপত্য বিষয়টার সাথে আমি এখনো পুরোপুরি একাত্ম হতে পারি নি। কোথায় যেন একটা ফাঁকাস্থান রয়ে গেছে। এখনো মেলাতে পারছিনা। এটা হয়তো সময়ের সাথে জোড়া লেগে যাবে। তবুও, এটা এখন আমার সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তহীনতা।

এখন আমার নিজের ব্যপারে কিছু বলি। আমি চুপচাপ, শান্ত স্বভাবের একজন ছেলে। ব্লগে আমি যেরকম বাচালের মত আজগুবি ভাষায় উদ্ভট উদ্ভট সব কথাবার্তা লিখে ভরিয়ে রাখি, বাস্তবে আমি তার ধারেকাছেও নেই। আমি কাজ না থাকলে একা একা নিজের মত করে সময় পার করতেই বেশি ভালোবাসি। আড্ডা খুব একটা দেই না। আড্ডায় গেলেও বলার মত খুব বেশি কথা খুঁজে পাই না। বন্ধু খুব বেশি নেই। কিন্তু যে কয়জন আছে তারাই অনেক কাছের।

এবার ধীরে ধীরে অন্য ব্যপারগুলোতে হাত দেই। আমি পড়তে ভালোবাসি। অর্থ করে বললে আউট বই পড়তে খুব ভালোবাসি। বিষয় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমার কোন বাছবিচার নেই। গল্প,কবিতা, উপন্যাস,অন্যান্য সাহিত্য,দর্শন,বিজ্ঞান,মুক্তিযুদ্ধ, মানবতা – সব স-অব পড়ি। এই এতসব পড়াই আমার মত অতি সাধারন একটা ছেলের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করেছে। আমি সবসময় কোন না কোন কাজে জড়িত থাকতে ভালোবাসি। প্রাইমারী স্কুলে খেলাধুলাসহ ক্লাসের যাবতিয় কাজে আমি থাকতাম। হাই স্কুলে স্কাউটিঙের সাথে খুব সক্রিয় ভাবে জড়িত ছিলাম। কলেজ লাইফ যদিও বইয়ের দোকানেই পেরুলো। ভার্সিটিতে এসে গত ছয় মাস ক্লাসের সাথে পাগলের মত জড়িয়ে ছিলাম। যদিও উপরে বর্নিত আমার স্বভাবের সাথে এত সক্রিয়তা যায় না, তবুও ব্যপারটা সত্যি। হাতে কোন কাজ না থাকলে আমি চুপ চাপ, কিন্তু কাজ পেলে কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বেশিরভাগ দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে নিয়ে দৌড়তে পছন্দ করি। আমার ক্লাসে আমার মতামত থাকবে না এটা আমি হজম করতে পারি না। তাই অনেকে কাজ থেকে বাঁচার জন্য সব মতামত দেয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখলেও আমি সেটা পারি না। এজন্য অনেকের বিরাগভাজন ও হতে হয়। যা হোক, এগুলো ব্যপার না। এখানে মূল পয়েন্ট হচ্ছে যে পুরো ক্লাসের দায়িত্ব নিতে গেলে মূলত অনেক ঝামেলা ঘাড়ে এসে ভর করে, যে কারনে অন্য দিকে ব্যয় করার মত সময় অনেক খানি কমে যায়।

এবার আসি আসল কথায়। এত সব কথা বলার কি দরকার ছিল? আমিতো এমন কোন কেউকেটা নই যে আমার জীবন বৃত্তান্ত ও দৈনিক কাজ কর্ম ব্লগে তুলে দিতে হবে! তাহলে ঝামেলা কোথায়?

ঝামেলাটা হচ্ছে আমি ছোট নদী থেকে ছোট একটা ভেলা নিয়ে ভাসতে ভাসতে এখন প্রায় এক উত্তাল সাগরে এসে পড়েছি। ফলাফল যা হবার তা-ই ! আপাতত আমি দিক্‌ভ্রান্ত নাবিকের মত চারিদিকে তাকাচ্ছি, কিন্তু কোন দিশে পাচ্ছি না!

চট্টগ্রাম একটা ছোট শহর। মানুষজন খুব বেশি নয়, কিন্তু কমও নয়। কিন্তু ঝামেলা হচ্ছে যে শহরের মানুষরা এত বেশি প্রাণবন্ত না। হবেই বা কি করে? শহরের প্রাণ হবার কথা যাদের তারাই তো শহর থেকে অনেক দূরে! চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় দুটোই হচ্ছে শহরের বাইরে এবং দুটোই দুপ্রান্তে। দুটোর সাথেতো শহরের কোন যোগাযোগ নেইই এমনকি দুটোর মধ্যেও কোন যোগাযোগের কোন সুযোগ নেই। আছে বলতে এক মেডিকেল কলেজ। ওরাও সর্বদা প্রচন্ড চাপের উপরেই থাকে, আর একা একা কিছু করার মত সুযোগও নেই। যার ফলাফল এই যে, শহরে চিন্তা ভাবনার ও কাজের বৈচিত্র খুবই কম। কেউ যদি ভালো মন্দ কিছু চিন্তাও করে তাও পরিবেশ পরিস্থিতির কারনে অংকুরেই বিনাশ ঘটে। চট্টগ্রামের এত কথা বলার কারন একটাই, চট্টগ্রাম আমার শহর। আমিও এই শহরেরই ছেলে। এখানে নতুনভাবে কিছু চিন্তা করলে কারো সাথে সেগুলো বলতে পারতাম না। বললেও খুব লাভ হত না।

তো এই চট্টগ্রাম থেকে যখন ঢাকায় আসলাম তখন দেখতে পেলাম আমি একা না। আমার চারপাশে অনেকেই আমার মত চিন্তা করে। কথা বার্তা আদান প্রদান করা অনেক সহজ। আসলে পরিবেশটা যে কত বড় প্রভাবক! চট্টগ্রামেরও অনেক ছেলে হয়তো আমার মতই চিন্তা ভাবনা করত! কিন্তু পরিবেশগত কারনে সে হয়ত আমাকে বলার সাহস করেনি আর আমিও তাকে বলে উঠতে পারি নি! ঢাকায় এসে এ ব্যপার অনেকের সাথেই ঘটেছে।

যা হোক, সব কিছুই যখন খোলা মেলা ভাবে ঘটেছে তখন আমার চারিদিকে অনেক রাস্তা খুলে গেছে। ফলাফল এই, আমি এখন রাস্তা খুঁজে নিতে পারছি না। শুধুমাত্র কোন এক দিকে মনোনিবেশ করতে পারছি না। সব মাথার মধ্যে ঘোট পাকাচ্ছে। কোন সিদ্ধান্তে পৌছতে পারছি না। এবার রাস্তাগুলো নিয়ে পয়েন্ট করে লিখে দেই। তাহলে ব্যপারটা সবার কাছে আরো কিছুটা পরিস্কার হবে।

১- আমি ক্লাসের সব ধরনের কাজ এবং সিদ্ধান্তে নিজেকে জড়িত রাখতে চাই। ক্লাসে আমার একটা অবস্থান তৈরি হয়েছে, আমি সেটা হারাতেও চাইনা কিন্তু আবার না ছাড়লেও অন্য দিকে সময় বের করতে পারছি না।

২- ক্লাসের বাইরে আমার অনেক কিছুই করার ইচ্ছে। কিন্তু সেখান থেকে যেকোন একটা বেছে নিতে হবে।

ক- বিজ্ঞানঃ বিজ্ঞান নিয়ে আমার অনেক আগ্রহ রয়েছে। পদার্থ বিজ্ঞান, বিবর্তনবাদ আর মনোবিজ্ঞান নিয়ে আমার যথেষ্ট আগ্রহ আছে। এসব নিয়ে আমি আরো অনেক পড়তে চাই, ব্লগে লিখতে চাই সবার সাথে তর্কবিতর্কও করতে চাই।

খ- মুক্তিযুদ্ধঃ আসলে মুক্তিযুদ্ধের অবস্থানটা বিজ্ঞানের আগে হবে। মুক্তিযুদ্ধ ও এর বিশাল ব্যাপ্তি নিয়ে আমার পড়াশোনা করার অনেক ইচ্ছা। এর মধ্যে সরাসরি জড়িত হওয়া যায় এরকম কিছু কাজের চিন্তাভাবনাও ছিল। আশেপাশের পরিচিত মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে বসে তাদের কাহিনী সংগ্রহ করা, সেগুলো সুন্দর ভাবে লিখে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে জমা দেয়া। স্কুলের বাচ্চাদের মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে কাহিনী বলা। সচলায়তনের মুক্তিযুদ্ধ প্রজেক্টে যোগ দেয়া। এবং বন্ধুদের সাথে নিয়মিত মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পাঠচক্র বসানো। (আমি চাপা স্বভাবের হওয়ার কারনে শেষের দুইটার কোন প্রকার অগ্রগতি হয় নাই।) আরো আরো অনেক অনেক চিন্তা ভাবনা আছে আমার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। কিন্তু সবার আগে নিজের জানার ভান্ডারটা বাড়াতে হবে। সেজন্যও অনেক দৌড়াদৌড়ির প্রয়োজন আছে।

গ- মানবতাবাদঃ ধর্মের উর্ধে মানবতাবাদের স্লোগান কিভাবে সবার মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া যায়, এবং কিভাবে মানুষকে মানবতা বাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা যায় সেগুলো নিয়েও আমার কাজ করার ইচ্ছা। মুক্তমনাতেই এ নিয়ে অনেক কথাবার্তা আছে। আমি শুধু সক্রিয় ভাবে মাঠে কাজ করতে চাই।

ঘ- সেবামুলক সংগঠনঃ আমার ইচ্ছা এই যে, আমার ক্লাস বা আমার ব্যাচএর সঙ্গীসাথিদের নিয়ে আমরা সক্রিয় ভাবে একটা সেবামুলক সংগঠন করব। এবং সাথে সাথে অন্য যেকোন সেবামুলক সংগঠনে নিজেকে জড়িত রাখব। ক্লাসের ব্যপারটা কিছু কিছু শুরু করেছি। কিন্তু গোছানো নয়।

ঙ- উইকিপিডিয়াঃ বাংলা উইকিপিডিয়াকে সমৃদ্ধ করতে এবং ইংরেজি উইকিতে বাংলাদেশ নিয়ে লেখা বাড়ানোর প্রতি আমার যথেষ্ট আগ্রহ আছে। বাংলা এবং ইংলিশ উইকির মুক্তিযুদ্ধ অংশটুকু অনেক দুর্বল। আমি এ নিয়ে আমার সাধ্যমত কাজ করতে চাই। শুরুও করেছিলাম। কিন্তু ক্লাস শুরুর পরে গ্যাপ পড়ে যায়। আবার শুরু করার প্রবল ইচ্ছা আছে।

চ- টিউশনি করানোঃ ইয়ে! মানে! টাকা পয়সার প্রবল টানাটানি! দু একটা টিউশনী করাতে পারলে খারাপ হয় না! কিন্তু ক্লাস টাইমে যে চাপে থাকতে হয়! টিউশনীতে ফাঁকিবাজি ছাড়া উপায় নাই!

এগুলো বড়সড় ব্যপার। এছাড়াও ছোটখাট অনেক ব্যপার প্রতিনিয়ত মাথায় আসা যাওয়া করছে।

৩- বন্ধু, পরিবার, আত্মীয়ঃ কি আর লিখব! ঢাকায় যাওয়ার পর বেদিশে হয়ে গোছাতে গোছাতেই এখনো দিন যাচ্ছে! ঢাকায় থাকতে পরিবারকে সময় দেই না। ঢাকায়ও আত্মীয় স্বজন আছে, তাদের বাসায় ও যাই না। আর চট্টগ্রাম আসলেও ইকটু একাকিত্বের আশায় বন্ধুদের ঠিকভাবে সময় দেয়া হয় না! সব প্যচায়ে ফেলতেসি!! 🙁

এই-ই হল আমার বর্তমান অবস্থা। বিশাল ফাঁড়ার উপর আছি। ঢাকায় যাওয়ার আগে থেকেই উইকি,মুক্তমনা আর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমার সিদ্ধান্তহীনতার শুরু। যার ফলাফল ঢাকা যাওয়ার অল্প কিছুদিন আগেই একই সাথে উইকিতে লেখা এবং মুক্তমনাতে সময় দেয়া দুটোই বন্ধ হয়ে যায় এবং সাথে সাথে বিবর্তন আর্কাইভ করার সময় আমার উপর বর্তানো দায়িত্ব পালনে চরম ব্যার্থতা!! (এখনো বিবর্তন আর্কাইভে সম্পাদকদের তালিকায় নিজের নাম দেখলে লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছা করে!! ওখান থেকে আমার নামটা সরিয়ে নিলেই আসলে আমায় যথাযোগ্য সম্মান করা হবে। আমি ঐ আর্কাইভের জন্য একটা লাইনও দেইনি, তাই আমার অনুরোধ আমার নামটা সরিয়ে নেয়া হোক।) ঢাকা যাবার পর আমি পুরোই শেষ!

এত কিছু লেখার একটাই কারন। আমি সিদ্ধান্তে পৌছুতে চাই। সিদ্ধান্তহীনতা বড়ই খারাপ ব্যপার। এখনো যখন মামুন ভাই ফোনে ডাক দেন তখন মুক্তমনার কথা ভাবি, যখন আবার মেজর কামরুল হাসান স্যারের চেহারা দেখি তখন মুক্তিযুদ্ধ মাথায় ঘোরে, আবার যখন উইকি সদস্য হবার কারনে উইকি মিট আপ এর মেইল সহ উইকির বিভিন্ন অগ্রগতির মেইল আমার আইডিতে আসে তখন উইকির চিন্তা মাথায় ঘোরে!! এ এক আজব সমস্যা! আমি মুক্তি চাই! নাহলে হারানো ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না! সব কিছু থেকে হারাবো তখন! পালিয়ে যাবো!!

আর সিদ্ধান্তের ব্যপারে আপনাদেরও মতামত চাই। অন্তত তাতে যদি কিছু উপকার হয়।

আর সবশেষে আমার কষ্টকর ক্লাস প্রজেক্ট গুলোর একটার ছবি দেই। সবচেয়ে বেশি কষ্টকর প্রজেক্টগুলোর মধ্যে এটা একটা। এটার চেহারা দেখলে আর বর্ননা পড়লে অন্তত কিছু ধারনা হবে যে আমি কি রকম ফাঁড়ার উপ্রে আছি!! 🙁
 আমার texture প্রজেক্ট!!!

এই প্রজেক্টের নাম tones and texture ..এই প্রজেক্টে আমাকে আধা ইঞ্চি মোটা এবং ৬০০x৬০০ মিমি (২x২ ফিট) সাইজের প্লাই উডে গ্রিড করে গ্রিডের উপর ড্রিল মেশিন দিয়ে বিভিন্ন ব্যসের প্রায় ৩৬০০ ফুটো করতে হয়েছে এবং সেই সব ফুটোয় ২.৫ সেমি সাইজের বিভিন্ন ব্যসের বেতের টুকরো বসিয়ে একটা texture সৃষ্টি করতে হয়েছে। এটা ছিল এই প্রজেক্টের ফাইনাল জমার ছবি (ইনকমপ্লিট প্রজেক্ট এবং সে কারনে ফেল গ্রেড প্রাপ্ত!!) এর আগে প্রিলিমিনারি মডেল হিসাবে একই ম্যটেরিয়ালে ৪০০x৪০০মিমি সাইজের বোর্ডে ১৪০০ ফুটো করতে হয়েছে। এবং প্রিলি সহ পুরো প্রজেক্টের জন্য সময় ছিল মাত্র দুসপ্তাহ। ( দুসপ্তাহ শুনতে অনেক মনে হতে পারে। কিন্তু প্রথমে স্কেচ করে ডিজাইন রেডি করা, সে ডিজাইন অ্যাপ্রুভ করানো, তারপর প্রত্যেকের নিজ নিজ ম্যটেরিয়াল সিলেকশন, সিলেকশন স্যার দের পছন্দ না হলে আবার দৌড়ানো, তারপর প্রিলি করা, তারপর ফাইনাল মডেল!!) এর পরের প্রজেক্টগুলো আরো দির্ঘদিন ব্যপ্তির এবং আরো কঠিন হয়েছে!!

(ছবিটা আপলোডের ব্যপারে সাহায্য করার জন্য সৈকত ভাইকে বিশেষ ধন্যবাদ! নাহলে আমার যন্ত্রণাটুকু বোঝানো যেত না!! আর সবশেষে আবার আরেকটি বিরক্তিকর পোস্টের অবতারনা ঘটানোর জন্য বিশেষভাবে ক্ষমাপ্রার্থী!)

[509 বার পঠিত]