একটি অলীক আকাশযাত্রার গল্প

By |2011-02-17T19:19:48+00:00ফেব্রুয়ারী 17, 2011|Categories: কবিতা|6 Comments

আমাদের বাড়ি থেকে ফিরে যাবার সময় কিছু পালক গেঁথে দুটি ডানা দিয়ে গেছ। আপত নিরীহ ডানাদুটি গাছ হয়ে ক্রমশঃই শেকড় বাড়ায়। পাতা হয়। বসন্তে তার ফুল; শরতে বিদ্যুতের মতন চমকে দেয়া অদ্ভুত আচরণ!

আমায় এত দীর্ঘ খড়িবিহীন শাদা পৃষ্ঠার মধ্যে রেখে তোমার তখন গ্রীজলী বেয়ার, ক্যান ফুড, সমুদ্রের ফেনা ওঠা মানুষশূন্য তট আর… সেই মেয়েটা–পাথর ভেঙে পাহাড়ে ওঠার সময় যাকে তোমার আলাদা করে আর নারী বলে মনে হয় না! হাত ধরাধরি করে আকাশের দিকে যেতে যেতে একে অপরের মুখে তোমরা মানুষ দেখতে পাও; কী নাম যেন ওর?

মাঝে মাঝেই যখন ওর কথা ভাবি,ওকে খুব ভাগ্যবতী মনে হয়। ধ্যানের মধ্যে সাঁতার কাটার সময় আমার হাত দুটি নিশ্চিন্তে ওর হাত হয়ে যায়, আমার হাঁটুতে ওর মত সমুদ্রের ফেনা লেগে থাকে। প্রতীক্ষা এবং অবিশ্বাসপর্ব থেকে অনায়াসে ছুটি নেই, অভ্যাসের চুমুতে অনাস্থা জ্ঞাপণ করি নিঃশব্দে!

বুকের মধ্যে মারাত্মক একটা স্বপ্ন পুঁতে রেখে গেছ। একটি ক্ষণজন্মা সত্যিকারের সূর্যোদয়ের চিত্রকল্প সার্বক্ষণিক বেহালার মত চন্দ্রগ্রস্থ! সমস্ত সন্ধ্যা সর্ষে-ইলিশ, সমস্ত বিকেল বাড়ি ফেরায়, মধ্যরাত্রি বালিশে-চাদরে উৎসর্গ করেও শেষ পর্যন্ত পরম আকাংক্ষার ঘুম আর আসে না!

াআমি না হয় কিনতে পারিনা, তাই বলে তুমি আমায় আলাস্কার একটি টিকিট কি পাঠাতে পারো না?!

About the Author:

মন্তব্যসমূহ

  1. মোজাফফর হোসেন ফেব্রুয়ারী 18, 2011 at 10:40 পূর্বাহ্ন - Reply

    বেশ ভালো লাগলো। আরো পড়তে চাই আপু।

  2. কাজী রহমান ফেব্রুয়ারী 18, 2011 at 6:40 পূর্বাহ্ন - Reply

    এমনি স্নিগ্ধ শব্দ চয়ন বেশ অনেক দিন দেখিনি। রবি ঠাকুরের আনন্দ গানের আকুলতার ছোঁয়া লাগুক আপনার প্রানে, 🙂 মন খারাপের নয়
    /////////////////////////////////////////////////////
    একি আকুলতা ভুবনে! একি চঞ্চলতা পবনে॥
    একি মধুরমদির রসরাশি আজি শূন্যতলে চলে ভাসি,
    ঝরে চন্দ্রকরে একি হাসি, ফুল- গন্ধ লুটে গগনে॥
    একি প্রাণভরা অনুরাগে আজি বিশ্বজগতজন জাগে,
    আজি নিখিল নীলগগনে সুখ- পরশ কোথা হতে লাগে।
    সুখে শিহরে সকল বনরাজি, উঠে মোহনবাঁশরি বাজি,
    হেরো পূর্ণবিকশিত আজি মম অন্তর সুন্দর স্বপনে॥
    //////////////////////////////////////////////////////
    আলাস্কার বরফ গলে যাওয়া উষ্ণ রোমান্টিক কবিতা চাই।

  3. সংশপ্তক ফেব্রুয়ারী 17, 2011 at 9:29 অপরাহ্ন - Reply

    যাই বললেই যাওয়া যায় না,আর আসি বললেই আসা হয় না।সূর্যগ্রহণের ক্ষণে চাঁদের ছায়ামূর্তিকে বিশাল সূর্য ক্ষনিকের জন্য সূর্য গ্রাসের সুয়োগ করে দেয় । আঁধারকে কিছুটা লোভী করে তোলে। কিন্ত এরপর, চাঁদ চাঁদই থেকে যায়, ব্যস্ত সূর্য আবারো রথে সওয়ার হয়।
    পুরোনো কবিতায় পরিব্যক্তি ঘটে জন্ম নেয় অচেনা এক নতুন কবিতা। সময় থেমে থাকে সময়ের নিজস্ব ধ্রুবতায়। গ্রহান্তরের আগন্তুকেরা ঘুমোতে যায় আরো একটা নিশ্চিত সূর্যোদয়ের আশায়। (O)

    • সাইফুল ইসলাম ফেব্রুয়ারী 17, 2011 at 10:09 অপরাহ্ন - Reply

      @সংশপ্তক,
      কবিতার জবাবে কবিতা। সুন্দর। :))

      মনিকা রশিদ,
      বেশ কয়েকটি সুন্দর কল্পচিত্র কবিতায় আছে।
      এই লাইনটা খুবই ভালো লাগলঃ

      অভ্যাসের চুমুতে অনাস্থা জ্ঞাপণ করি নিঃশব্দে!

      শীঘ্রই কবিতা পাবো বলে আশা রাখি আপনার কাছ থেকে।

  4. অভিজিৎ ফেব্রুয়ারী 17, 2011 at 6:28 অপরাহ্ন - Reply

    মণিকা, এটা কি অনুগল্প নাকি এর পরে আরো কিছু আছে? হঠাৎ শেষ হয়ে গেল মনে হচ্ছে!

    আলাস্কা যাবার শখ আমারো বহুদিনের! যাওয়া হয়নি!

    • মণিকা রশিদ ফেব্রুয়ারী 17, 2011 at 7:25 অপরাহ্ন - Reply

      @অভিজিৎদা, কবিতা হিসেবে ট্যাগ করেছিলাম, মনে হয় আসেনি।

মন্তব্য করুন