মিসিং শারিয়া!

By |2011-02-11T00:22:27+00:00ফেব্রুয়ারী 10, 2011|Categories: গল্প, ধর্ম, ব্লগাড্ডা, মানবাধিকার|28 Comments

ভার্সিটি থেকে বাসায় এসেই মেইল বক্সে ঢুকলাম, স্যারের হ্যান্ড আউট পাঠানোর কথা। কোন ম্যাসেজ পেলাম না। কিছুদিন আগের একটা মেইল চোখে পড়ল, সাবজেক্ট খুব ইন্টারেস্টিং লাগায় পড়তে বসলাম। মেইলের সাবজেক্টঃ মিসিং শারিকা; মাহবুব ভাই পাঠিয়েছেন। ভাবলাম উনার মাথা খারাপ হয়ে গেল নাতো! প্রেমে ট্রেমে পরলেন কিনা, পড়তে পড়তে বুঝলাম যে নাহ! উনার হিসেবে মাথা ঠিকই আছে। আমিই বিষয় বস্তু ভুল দেখেছি, বিষয় বস্তু শারিকা নয়, শারিয়া! মেইল পড়ে মাথামুন্ডু কিছুই বুঝতে পারলাম না, ইনবক্স ভাল মত ঘেটে তিনটা মেইল পেলাম।

————————————————————

কপি ফরম মাহবুব_ভাই@JIW,com আশাকরি আল্লার দয়ায় ভাল আছো। বেশ কিছুদিন হল জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডে এসেছি। যদিও নবীজি বলেছেন চীন দেশে যেতে, কিন্তু ওখানে নাস্তিকের সংখ্যা বেশী। নাস্তিকরা বড়ই খারাপ মানুষ, জানি তুমি বলবা তারা কম্যুনিষ্ট, বাট তুমি নিজেও জানো সকল কম্যুনিষ্ট নাস্তিক। তবে চীন দেশে না যাওয়াতে যে এইখানে আরামে আছি তা কিন্তু নহে, ঈমান আমল নিয়া বড়ই টেনশিত থাকতে হয়। যে কোন সময় পেটের মধ্যে হারাম ঢুকে যেতে পারে। হারাম ঢুকলে ঈমান তার সাথে বসবাস করতে পারে না। আমার ধারনা কিছুটা হারাম ঢুকে গেছে, মাঝে মাঝেই এখানকার বেগানা নারীদিগকে দেখলে মধ্যপ্রাচ্যের মিনার খাড়া হয়া যায়। তাহাকে কিছুতেই দমায় রাখতে পারি না। সুন্নতি লেবাসের মধ্য দিয়া বারবার প্রকাশিত হয়ে পরে। আমাদের প্রিয় নবী শয়তানের আসর হতে মুক্ত ছিলেন, তারপরেও একদা এক নারীকে দেখিয়া তার বাধ ভাঙ্গিয়া যাবার উপক্রম হইলে তিনি তৎক্ষনাৎ গৃহে ফিরিয়া সোহবত সারিলেন। সাহাবী দিগকে কহিলেন যে একজন নারী শয়তানের রুপ ধারণ করিয়া তার দিকে আগাই আসিলে তিনি এই পন্থা অবলম্বন করিয়াছেন। এইখানে আমার কোন স্ত্রী নাই, তাই রাসুলের আদেশও মান্য করতে পারিনা।

যাহোক, যেই জন্যে তোমাকে লিখছি, দেশের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হয়া যাচ্ছে, কিছুদিন আগে পত্রিকায় আমার গ্রামের একটা খবর পড়লাম, “মধ্যযুগীয় বর্বরতায় কিশোরীর মৃত্যু: ভেতরের খবরে তারা লিখেছে ব্যভিচারের দায়ে চৌদ্দ বছর বয়সী এক কিশোরীর বেত্রাঘাতে মৃত্যু ঘটেছে। পত্রিকা ওয়ালার কতবড় সাহস যে আল্লার আইনকে বর্বর বলে আখ্যায়িত করেছে! আরো লিখেছে রহিমা নামক মেয়েটি অনেকদিন ধরেই পাশের গ্রামের মোস্তফার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। বুধবার সন্ধ্যায় গ্রামের লোকেরা বিষয়টি টের পেয়ে উভয়কে হাতে নাতে ধরে ফেলে, সালিশে বিচার নির্ধারিত হয় যে, যেহেতু ঘটনাটি মোস্তফার গ্রামে ঘটেছে, তাই রহিমাই মোস্তফাকে ফুসলিয়েছে। মোস্তফা গ্রামের মাতব্বরের শ্যালক, আমি তাকে চিনি, কয়েকবার সে আমার সাথে জমাতে গিয়েছিল। তাকে না ফুসলালে এরকম ঘটনা ঘটতো না। এ জন্যেই নবী বলেছেন যে বেগানা নারী শয়তানের রুপ ধারণ করে, তাই নারীকে বোরখা পরতে বলা হয়েছে যাতে নারীকে দেখে পুরুষের বাধ ভেঙ্গে না যায়। দয়াল নবী পুরুষদের সমস্যা নিয়ে বড়ই দয়ালু ছিলেন বলেই এমন বিধান দিয়ে গিয়েছেন। আসলে তিনি নিজেইতো এর ভুক্তভোগী ছিলেন, আর মোস্তফা ভাই সামান্য মানুষ মাত্র। তার উপর শয়তানের আসর অবসম্ভবী।

ঘটনাটি জানার পর গ্রামের বাড়ীতে যোগাযোগ করি, ছোটভাই মারফত জানতে পারলাম মেয়ের বাবাকে মাতবর সাব তার সাথে বিয়ের পয়গাম পাঠায়ছিল, কিন্তু মেয়ের বাবা বুড়া ভাম বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। মাতবর সাবের বয়সই বা কত! বড়জোড় পয়তাল্লিশ হবে। আর মেয়েওতো মাশাল্লা বালেগাই ছিল। এরকম বিয়ের উদাহরণ কি ধর্মে নাই? এমনিতেই হিন্দি সিনেমা নাটক দেখে আজকাল মেয়ে মানুষরা প্রি-ম্যাচিউর সেক্স রোগে ভুগতেসে, এই কারণে তাদেরকে যথাসম্ভব দ্রুত বিয়ে দেয়া উচিত। বিয়ের পয়গাম কিছুতেই ফিরায়া দেয়া উচিত হয় নাই। এখন মেয়ে দোষ করেছে আর তারা মাতবর সাহেবের শ্যলকের উপর ধর্ষণের কেস করেছে, তাদের দাবী মেয়ে নাকি ঐ গ্রামের ম্যাডামের কাছে পড়তে যেত, কতবড় চালবাজ! সালিশের সময়ও আল্লার বিধান তারা ভংগ করেছে, তিরিশটা দোররা মারার পর চেতনা দেখতে না পেয়ে বাকী সত্তুরটা বারি দিতে না দিয়ে তারা মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। অথচ কুরানে বলা আছে মারার সময় কোন দয়া দাক্ষিন্ন মনে যতে না জাগে। এদের কারণেই তো সমাজে পরকিয়া সহ নানান রকমের অনাচারের সৃষ্টি হচ্ছে। দেশে এসে এসব অনাচারের বিপক্ষে শক্ত কিছু করতে হবে। বাকী দোররা গুলোও পাপিষ্ঠের কবরের উপর মেরে আসতে হবে।

বিষয়টি নিয়ে বেশ বিচলিত ছিলাম। তোমাকে লিখে হালকা বোধ করছি।
————————————————————

এসব লিখে তিনি হালকা হলেও তা পড়ে অনেক ভারি বোধ করলাম। ভাবছি পরের মেইলগুলো পড়ে দেখব কিনা, ভাবতে ভাবতে মেইল লোডিং হয়ে গেল।

————————————————————

কপি ফরম মাহবুব_ভাই@WJI,com তোমাকে তিনদিন আগে লিখেছি, কোন জবাব পেলাম না। এদিকে মহান আল্লাহ পাক আমার উপর তার অসীম রহমত নাজিল করেছেন। কাফের মুশরিকদের দেশে এসে ব্যপক সমস্যায় পড়েছিলাম। তখনই আল্লা পাক বিশ্ব জামাতি ইসলামীর এক নেতার সাথে আমার মোলাকাত ঘটায় দিলেন। তিনি এক মসজিদের ঈমাম। আমাকে কয়েকদিন লক্ষ্য করেই তিনি আমার সমস্যা বুঝে গেলেন। আমাকে বললেন বিবাহ করতে ইচ্ছুক কিনা। আমি চুপ থাকায় তিনি বললেন ইয়া ব্রাদার! পুরুষ মানুষ চুপ থাকেনা, আসসুকুতু নিসফুর রিদা অর্থাৎ মৌনতা সম্মতির লক্ষণ ইহা শুধু নারীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আমি তাকে টাকা পয়সার সমস্যা বলতেই তিনি বললেন এসব কোন ব্যাপরি না! মেয়ের বাবাই সব ব্যবস্থা করে দেবেন, তিনি সৎকর্মশীল পাত্র খুজছেন, আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনি শুধু সৎকর্মশীলই নন, জ্ঞানী মানুষ বটে! এবার তার কানে কানে আরেকটি সমস্যা বললাম। তিনি আমাকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলে মেয়ের বাবার সাথে ফোনে আলাপ করলেন। আমাকে বললেন মেয়ের বাবা আপনার সততায় মুগ্ধ, তিনি এতেও রাজী, আমি আলহামদুলিল্লাহ পড়লাম। ইমাম সাহেব আমাকে ছোট্ট একটা সমস্যার কথা জানালেন, তিনি বললেন মেয়ের ১৬ বছর পূর্ণ হয়নি, তাই বিয়েটা গোপনে হবে, যেহেতু মেয়ের বাবা রাজী আছেন, তাই ধর্মমতে কোন সমস্যা নাই সেটা আপনিও জানেন, যা সমস্যা এখানকার সেক্যুলার ইহুদী নাসারাদের আইন। আমরা জানি আল্লার আইনের উপর কোন আইন নাই তাই না? তবে এক বছর পেট বানানো থেকে একটু দুরেই থাকবেন। আর বাকী সমস্যা আপনার আর আমার ক্ষেত্রে একই। মেয়েকে নিয়া কোন সমস্যা নাই, মেয়ে ধর্মপ্রাণ, পর্দানশীল, শুদ্ধভাবে কুরান পড়তে পারে, আবার বাংলাতেই কথা বলে। আল্লার অনুমতি থাকলে আগামি শুক্রবার বাদ জুমা আমরা পরিণয় সুত্রে আবদ্ধ হব। আমাদের জন্যে দোয়া করবা।

————————————————————

মেইল পড়ে আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম! ঠিক পড়ছি কিনা নাকি অন্য কারো মেইল পড়ছি তা আরেকবার দেখলাম। নাহ! একই মেইল আইডি থেকে আসা তিনটা মেইল, ভাবতে ভাবতে শেষ মেইলটা আবার ওপেন করলাম।

————————————————————

Form: [email protected]
Subject: মিসিং শারিয়া 

বন্ধু! তুমি আমাকে ভুলে গেলা নাকি? ছয়মাসেও আমার মেইলের জবাব দাও নাই, এদিকে আমি খুবই কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। বিবাহের পর তোমার দ্বিতীয় ভাবির সাথে আনন্দেই ছিলাম। চারদিক যেন রহমতে রহমতে পূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তাকে নিয়ে ঘুরেছি ফিরেছি, খেলেছি। খেলেছি মানে আশাকরি বুঝতে পারছো। এর মধ্যে দেশে যাবার বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিল। আমার দ্বিতীয় বিয়ের ব্যাপারটি দেশে কাউকে জানাইনি। তোমার দ্বিতীয় ভাবীও বিষয়টি জানতো না, শুধু তার বাবা আর ইমাম সাহেব জানতেন। যেহেতু ইসলামে এ নিয়ে কোন সমস্যা নাই, তাই কারো কোন সমস্যা থাকার কথা না। কিন্তু দেশে আসার পর একদিন ফোনে তোমার প্রথম ভাবীর সাথে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর কথা হয়ে যায়। ভীষণ ক্ষিপ্ত হয়ে সে আমাকে প্রায় মারতে বসেছিল, আরেকটু হলেই আমি শহীদ হয়ে যেতাম! কোন রকমে বেচেছি। এরপর সে বাপের বাড়ীতে চলে যায়, তারে নিয়া আমার আগেই সন্দেহ ছিল, একা বাড়িতে থাকে, বাড়িতে আমার জোয়ান ছোট ভাই আছে, ধর্মে তার সাথে সম্পর্ক অতীব নিষিদ্ধ, অথচ সে ভাইকে আদর যত্ন করত বলে খবর পেতাম। কিছুদিন পর সে তালাক চেয়ে আমাকে চিঠি পাঠায়। সে কোনভাবেই রাজী না যে আমার সাথে আর ঘর করবে। আমি তাকে তালাক দেয়নি, যদি সে তার ভুল বুঝতে পেরে আমার কাছে ক্ষমা চায়, তাহলে আমি তাকে গ্রহন করতে রাজি, তাকে সমান সমান অধিকার দিব, যেই রাতে আমি তার কাছে থাকবো না, সে-রাতে তিনি জিকির আযকার আর তাহাজ্জুদে ব্যস্ত থাকতে পারবেন। সপ্তাহে ছয়দিন পালা করে উভয়কে সময় দিব, সপ্তম দিন আমার ইবাদতের দিন থাকবে, সেদিন উভয়ের থেকে দূরে থাকব, আমাকে ছেড়ে গেলে দেন-মোহরের টাকা ফেরত দেয়া তাদের জন্যে কঠিন হবে, এসব জানিয়ে তাকে চিঠি দিলাম। এর কয়েকদিন পর তারা কেস করে, থানা পুলিশ দৌড়ে আমার জান যায় যায় অবস্থা। কোন রকমে গ্রাম থেকে পালিয়ে এসেছি। তোমাদের আইনে অনুমতি ছাড়া বিয়ে করায় তালাক চাওয়া বৈধ আছে, কিন্তু শরিয়া আইনে এইটা কোন গ্রাউন্ড-ই না। এই ব্যাপারটা কেউ বুঝল না। এদিকে আমার ইংল্যান্ডে যাবারো উপায় নাই। মেয়েটা আমার প্রথম বিয়ের কথা জানতো না, বাবাই তার কাছে গোপন করে রেখেছিল। সে জানার পর চাচাদের সহায়তায় আইনের আশ্রয় নিয়েছে। বড়ই মুসিবতের মধ্যে আছি, যদিও বল হারাই নাই, আল্লার উপর ভরসা নিয়া চলছি, আহারে আমার স্বপ্নের ঘর আর গড়া হইল না। আমার উপর তারা যে জুলুম করল এর বিচার আল্লাহ করবেন।

তোমারে অনেক খুজতেসি, বাড়ী পাল্টাইসো মনে হয়। ফোন নাম্বারটাও নাই। আমি শরিয়ারে বড়ই মিস করতেসি। আই এম মিসিং দ্যা ল’স অব শরিয়া ;-(

————————————————————

মেইল পড়া শেষ করে একটা মিশ্র অনুভুতি নিয়ে বসে থাকলাম কিছুক্ষণ। মনে মনে ভাবলাম আপনার মতন নোংরা মানুষদের সাথে আর যোগাযোগ রাখতে চাই না। শরিয়া বা ইসলাম তোমাকে শাস্তি না দিতে পারলেও মানুষের অনুভুতিতে আঘাত দিয়ে যে অপরাধ তুমি করেছো তার শাস্তি তুমি অবশ্যই পাবা। তোমার কাছে বালিকা মানেই সেক্স মেশিন। আর মেশিনের মালিকানা তোমরা খরিদ করে নাও মহরানার নামে। মর্মান্তিক হলেও সত্য যে তোমাদের মত মানুষেরা আজ ব্লগ সহ বিভিন্ন জায়গায় বিরচরণ করছে, যারা শরিয়ার আইন গেল বলে যারপরাণাই চিন্তিত। তাদের অনেকেই কিশোরীটিকে প্রি-ম্যাচিউর সেক্স রোগে আক্রান্ত বলে আখ্যায়িত করেছে! কেউ আবার নিয়ে এসেছে পরকীয়া কে, সমাজের দুর্বলতা কে। এরা মেয়েদেরকে প্যাকেটাইজ করে পুরুষের চোখে নারীর শয়তান রুপের আগ্রাসান থেকে রক্ষা করতে চায়, কিন্তু পুরুষদের এই ধরনের বৈধ পরকীয়ায় এদের কোন বিকার ঘটে না। এদের এ অনুভুতিরো উদ্রেক হয় না যে নারীরাও এতে কষ্ট পায়, কারণ এটিকে তারা অপরাধই গণ্য কর না। এ ধরনের আচরণ তাদের কাছে ভীষণ ভাবে নৈতিক। নারীকেই বরং মেনে নিতে বলা হয়, তাকে দেখানো হয় জাহান্নামের ভয় অথবা জান্নাতের লোভ। চিন্তার বদ্ধ পুকুরে পঁচে যাওয়া মতবাদের দুর্গন্ধ এদের কাছে মেশক আম্বরের মত মনে হয়। বিবেকের কাছে এদের দায়বদ্ধ নেই, আর তাই এরা প্রত্যাশা করে কেতাবের মত মানুষ গড়তে। ধর্মের ঠুলি পরা এসব চোখ এমন বর্বর আইনের কোনই ত্রুটি খুজে পায় না। তার উপর কালজয়ী এক বাণীতো আছেই, “আসল দোষ ইসলামের না!”

ডিসক্লেইমারঃ এই গল্পে সকল চরিত্র কাল্পনিক। বাস্তবের সাথে শুধু ঘটনাগুলার মিল খুজে পাওয়া যেতে পারে। প্রথম ঘটনা আমাদের গ্রামে বা শহরে, মুল্লা আধুষ্যিত মুসলিম বিশ্বে প্রায়ই ঘটতে দেখা যায়। বাকী দুটি ঘটনা দুজন মুসলিম নারীর। গল্পের প্রয়োজনে কিছুটা পরিবর্তিত করা হয়েছে। মুল ঘটনা এখান থেকে পড়ে নিতে পারেন ঘটনা এক এবং ঘটনা দুই। দ্বিতীয় গল্পটি খুবই খারাপ লেগেছে, তারচেয়েও বেশী খারাপ লেগেছে উত্তর পড়ে।

About the Author:

বাংলাদেশনিবাসী মুক্তমনা ব্লগ সদস্য।

মন্তব্যসমূহ

  1. আবুল কাশেম ফেব্রুয়ারী 12, 2011 at 2:46 অপরাহ্ন - Reply

    আনাস;

    আপনার আগের লেখাও পড়েছি। কিন্তু এই লেখাটি খুব সূপাঠয়’।

    শারিয়া আর`ও দেখবেন। মিশরেও শারিয়া হবে—এই মর্মে মুসলিম ব্রাদারহুড এক বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এর পর শারিয়ার সয়লাব আর কে ঠেকাবে? দেখবেন বাংলাদেশও পরিপূর্ণ শারিয়া হবে। এখন`ও বাংলাদেশে শারিয়া চলছে–তবে সীমিত ভাবে।

    আর ব্রিটেনে? ওখান`কার এক পাদ্রী তো সাফ সাফ বলে দিয়েছে শারিয়া আইন ব্রিটেনের জন্য ভালোই হবে।

  2. সংশয় ফেব্রুয়ারী 12, 2011 at 9:46 পূর্বাহ্ন - Reply

    সকল কম্যুনিষ্ট নাস্তিক।

    এই লাইনটা একটু ব্যাখ্যা করবেন প্লিজ। আমি অনেক সমস্যায় আছি এই লাইন নিয়ে।

    আসলেই কি সকল কম্যুনিষ্ট নাস্তিক? স্টার্লিন,মাও,লেনিন,ইত্যাদি এরা কি নাস্তিক ছিলেন ?

    নাস্তিক মানেতো হচ্ছে কোন সুপারন্যাচারাল টেররিষ্টের উপর বিশ্বাসের অনুপস্থিতি, তাই না? আমি অন্তত তাই জানি। কিন্তু এর সাথে কম্যুনিষ্ট এর কি সম্পর্ক?

    • আনাস ফেব্রুয়ারী 12, 2011 at 1:52 অপরাহ্ন - Reply

      @সংশয়,

      এটাও একটা কমন ধারনা। নাস্তিকরা খারাপ তা প্রমানের জন্যে এদের কাজকেই তারা টেনে আনে। চীনের নাস্তিকরা এ খারাপ কাজ করেছে তাই সকল নাস্তিক বা নাস্তিকতা একটা খারাপ বিষয় তা নিয়ে ব্লগে লেখাও পাবেন। এটিও বিশ্বাসীদের চিন্তার সংকীর্ণতার ফসল হিসেবে নিতে পারেন।

  3. ফাহিম রেজা ফেব্রুয়ারী 11, 2011 at 9:46 পূর্বাহ্ন - Reply

    এই যুগে বসেও মানুষ এভাবে ভাবে! ধর্ম মানুষকে যে কীভাবে অন্ধ করে দেয়!

  4. রূপম (ধ্রুব) ফেব্রুয়ারী 11, 2011 at 9:45 পূর্বাহ্ন - Reply

    উত্তরগুলো পড়ে আমারও খারাপ লাগল।

    কোনো মাজহাব এখনও গজায় নি, যারা মেয়েটার পক্ষ নিবে? একাধিক বিয়েকে একটা কোরানিক-কথার-কথা বলে প্রতিষ্ঠা করতে পারবে? রুমি কি বলে? সুফিরা কি বলে?

    কত কিছুই তো লেখা আছে। যেটা তে নারীকে শোষণ করা যায়, সেই আয়াত কি আর মোল্লারা ছাড়তে চায়? মানুষে কি মনে করে আবার ফিরে যায় কাঠমোল্লাটার কাছেই।

    • আনাস ফেব্রুয়ারী 11, 2011 at 10:28 পূর্বাহ্ন - Reply

      @রূপম (ধ্রুব),

      কোরানের একটা আয়াত ছাড়লেইতো কুরান তার অবস্থান হারাবে। যেভাবেই হোক সবাইকে কোরানের মতন হতে হবে। সমাজে দুই ধরনের মুসলিম দেখা যায়, একদল কঠোরভাবে কোরান অনুসরণ করার চেষ্টা করে, আরেকদল কঠোর কোরান অনুসারীদের কর্মকান্ড দেখে বলে দোষ ইসলামের না।

      • রূপম (ধ্রুব) ফেব্রুয়ারী 11, 2011 at 11:54 পূর্বাহ্ন - Reply

        @আনাস,

        এ ব্যাপাের খ্রিস্টান আর ইহুদিদের পুস্তক নিয়ে আমার বেশ আগ্রহ। ওদের গ্রন্থে তো অনেক মারমার কাটকাট কথা আছে। অন্তত খ্রিস্টান মোল্লারা আর সেগুলো ধরে রাখে না। এতে কি ওদের বাইবেলের আর অবস্থান নাই? ওরা এই অবস্থান হারানোটা মানে? বাইবেল হারানোর পরেও তাদের বিশ্বাসটা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিশ্বাস হিসেবে কিভাবে সুখে শান্তিতে বেঁচে আছে?

        আর ইহুদিদের মোল্লারা তাদের পুস্তকের অবস্থান পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছে বলে মনে হয় না। বলতে শুনি যে, এসব বিচারের জন্য দক্ষ বিচারক পৃথিবীতে নেই। তারা আরও বলে যে তাদের তৃতীয় মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা পাবার আগ পর্যন্ত তোরাতের আইন কার্যকর না। ফলে তাদের মোল্লারা এখনো মৌলবাদের মধ্যেই আছে। কেবল অপেক্ষা করছে। খ্রিস্টানরা কিভাবে মানিয়ে নিয়েছে তাদের পুস্তকের বাণীর সাথে তাদের আচরণের তফাতটা, এটা একটা আগ্রহের বিষয়।

      • রূপম (ধ্রুব) ফেব্রুয়ারী 11, 2011 at 12:23 অপরাহ্ন - Reply

        @আনাস,

        আরেকদল কঠোর কোরান অনুসারীদের কর্মকান্ড দেখে বলে দোষ ইসলামের না।

        কোরান-এর যা কিছু মহত্ব, বিশেষত্ব, ব্যাখ্যা, তা তো মানুষেরই আরোপিত। এখন কোরানের একটা আয়াতের ব্যাখ্যা করতে যাওয়া হল অনেকটা রবীঠাকুরের ব্যাখ্যা না করে যাওয়া পংক্তি ব্যাখ্যা করতে যাওয়ার মত। নানান অর্থ আসবে। বিশেষ কোনোটাকে কি আপনি বলতে পারেন যে অমুকটা হল রবীঠাকুরের পংক্তির সঠিক ব্যাখ্যা?

        তেমনি ‘কোরান অনুসারী’ বলতে আপনি ঠিক কি বোঝাচ্ছেন? কোনটা কোরানের সঠিক অনুসরণ আর কোনটা অনুসরণ না? একটা অবিশেষ লেখার মানুষের করা নানান অর্থের মধ্যে কোনটাই তো সঠিক অনুসরণ হয়ে ওঠার কথা না। সকল ব্যাখ্যাই এখানে সমান অবান্তর! সেখানে কোরানের সঠিক অনুসরণ বলা মানে বরং স্বীকার করে নেয়া যে এটা একটা সাধারণ বইয়ের চেয়ে আলাদা।

        ফলে কোরানের সঠিক অনুসরণ বলে কিছু থাকার কথা না। সেক্ষেত্রে কোরান পড়ে যদি কষ্টক্লেশে কেউ অহিংস বিশ্বাস বের করে আনতে পারে, তার সাথে আমার আর ঝগড়া কিসে? তাকে যদি দেখাতে যাই, এই দেখ তোমার কোরানে খুন করার কথা লেখা। তুমি কোরানের সঠিক ব্যাখ্যা গ্রহণ করছো না, তাহলে তো আমিও কোরানের মোল্লাদের মতই করছি। আমার পাঠ-কে অন্যের পাঠের চেয়ে সঠিকতর দাবী করছি। যেখানে কোন পাঠেরই কোন ভ্যালিডিটি নেই, সেখানে সঠিক পাঠের ধারণা তো অবান্তর। এটা অনেকটা এরকম যে, দাবী করছি, কাফকার মেটামরফসিসের কেবল একটাই মানে আছে। অন্যগুলো ভুল মানে।

        আমার এই চিন্তা ইদানিংকার। চিন্তাটা ভুল হতে পারে। হয়তো একটা বইকে জলের মত পরিষ্কারভাবে পাঠ করা এবং এর একমাত্র উদ্দিষ্ট মানেটা বোঝা সম্ভব। এমনটা হলে জানতে চাই।

        যাহোক, যারা এরকম বলতে পারে যে কোরানে খুনের আহ্বান বা পিটানোর আহ্বানের মত শুনতে বাণীগুলোর মর্মার্থ আসলে ওরকম না, তাদের এই প্রচেষ্টাকে আমি সাধুবাদই জানাই। এই পাঠ তাদের কৃতিত্ব। বিশ্বাস থেকে বের হয়ে আসতে না পারার ব্যর্থতা তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে গিয়ে এই অহিংস পাঠের কৃতিত্বটা তাদের দিতেও আমার কোন আপত্তি হয় না। আর পাঠের অনন্যতা বলতে যদি কিছু না থাকে, তখন তাদেরকে কোরানের বিভীষিকাময় পাঠটার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে গেলে নিজেকেই বরং ওই মহত্বের সামনে মোল্লা মোল্লা মনে হয়।

        • আনাস ফেব্রুয়ারী 11, 2011 at 2:45 অপরাহ্ন - Reply

          @রূপম (ধ্রুব),

          আপনাকে ইদ্ভিদের গল্প শুনাই। পৃথিবীতে এক প্রকার উদ্ভিদ আছে যাকে আমরা আগাছা বলি, আগাছা নিজেই বাঁচে, আগাছাকে আগাছা এ জন্যে বলা হয় যে এর কোন উপকারিতা নেই, এটি ফল দেয় না, ছায়া দেয়না। আরেক প্রকার উদ্ভিদ, যারা ছায়া দেয় ফল দেয়। আগাছা সব জায়গাতেই জন্মে, বিশেষ করে মুল গাছের আশ্রয়ে অনেক প্রকার আগাছা বেড়ে উঠতে দেখা যায়। দূর থেকে মনে হতে পারে এসব আগাছা গাছেরই অংশ, কাছে গেলে বোঝা যায় আগাছা আসলে আগাছাই। একটা মুল গাছের শেকড় অনেক গভীরে প্রোথিত থাকে, মুল গাছের একাধিক জাত থাকতে পারে, যা একাধিক স্বাদের একই রকম ফল দিতে পারে। যেমন লেংরা আম ফজলি আম, ইত্যাদি। যদি কখনো একটা গাছ বিষাক্ত ফল দিতে শুরু করে, তখন সেই গাছটি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমরা মানুষেরা গাছের ফল খেয়ে জীবন ধারণ করি। ইসলাম একটা সম্পূর্ণ গাছ, এই গাছের বীজ বুনে গিয়েছে মুহাম্মাদ। মুহাম্মাদের জীবনেই সেই গাছ পরিপুর্ণ ফল দিয়েছে, সেই ফল দেখতে কেমন তা ব্যাখ্যা করার কোন প্রয়োজন নেই, আকৃতির বা স্বাদের ভিন্নতা থাকতে পারে। যেমন শিয়া এবং সুন্নি মতবাদ হচ্ছে সেই গাছে দুটি প্রজাতি, যার আকৃতি কিছুটা ভিন্ন, স্বাদেও কিছুটা ভিন্ন। কিন্তু মুল যে ফল তথা ইসলাম তার ধরণ নিয়ে ব্যাখ্যার কোন প্রয়োজন নেই, ব্যাভিচার সংক্রান্ত আইন সুরা নুরের ২ নং আয়াত

          ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে একশ’ করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকর কারণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।

          এই আয়াত নিয়ে মুল্লা টুল্লার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দৃষ্টিভংগির কোন প্রয়োজন নেই, সোজা সাপ্টা বোধগম্য ভাষায় বলে দেওয়া আছে। একজন পুরুষ কতজন নারীকে একত্রে বিয়ের মাধ্যমের আবদ্ধ রাখতে পারবে সেই বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য আছে, এখানেও মুল্লা টুল্লা কারো বক্তব্যের কোন প্রয়োজন নেই, এখন যারা এই গাছের ফল খেতে চায়, তাদের কোন দোষ নেই, কারণ গাছটা এই ফল দিচ্ছে এবং অনেকেই এই ফল খেতেই অভ্যস্ত। এই গাছের পরিচর্যা করার জন্যে প্রতিষ্ঠান রয়েছে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ধর্মীয় রাজনৈতিক দল সমুহ এই গাছের পরিচর্যা করে। আমাদের লেখনি বা বক্তব্য তাদের বিপক্ষে, আমরা এই ধরনের গাছগুলো উপ্রে ফেলতে চাই, কিন্তু এসব গাছের মুল অনেক গভীরে প্রোথিত, হাজার বছরের জীবন এদের, তাই বিষয়টা সহজ নয়, যত গভীরে যে গাছের মুল, ততই তা ঝড়ের মোকাবেলায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। এখন এ গাছের আশ্রয়ে যেসব আগাছা রয়েছে, যেমন সুফিবাদ, মরমী বাদ, রুমী বাদ, পীরবাদ, দেওয়ানবাগীবাদ, সন্যাস বাদ, শান্তিবাদ, বাদ বাদ বাদ, এসব আসলেই বাদ, এদের বিপক্ষে আমার বলার কিছু নেই, মুল গাছ উপ্রে গেলে এরা আরেক জায়গায় জীবন গড়বে, এদের শেকড় কিছুটা মজবুত হয় মুল গাছের দীর্ঘ জীবনের কারণে। এইসব আগাছার কোন ফল নেই, নেই কোন ছায়া, অর্থাৎ সমাজ সঙ্ঘ চলার যে বিস্তারিত নিয়ম বিধি, অর্থব্যবস্থার জন্যে ধারা সমুহ, সরকার পরিচালনার গাইড লাইন, তা এইসব মতবাদের নেই। কারণ তাদের কোন বেসিস বা মুল নেই একমাত্র জীবন ধারনের জন্যে কিছু মুল ছাড়া। অতএব কেন আমরা সেসব নিয়ে মাথা ব্যাথা করছি তা বুঝতে পারছি না।

          কিছুদিন আগে আমার সাথে এক সুফির কথা হয়েছে যে আপনার মতই ইসলামের লজ্জাস্থানে নেকরা বাধায় ব্যস্ত। (সবাক দার সৌজন্যে) ইসলাম বা কুরান সম্পর্কে তার বক্তব্য নিম্নরুপ

          1. i am a fan of sufism. i dont believe in conventional religions anymore

          2. i believe with all other holy books, quran also has been changed and modified to serve rulers’ agenda from time to time
          কোরান ইটসেলফ চেঞ্জ।

          3. present islam and quran are just a mere shadow of their real carnations

          4. every human being in God reincarnated. killing one is killing God himself সর্বেশ্ববাদ। তথা সকল কিছুই ঈশ্বর।

          5. every human being is muslim (or i should say, God’s material form). only God decides who gets to enter heaven or hell
          6. i at every so called muslim, hindu, jewish, christian, and atheist. they know nothing

          7. meditation/sufism is the ultimate way to enlighten urself, find ur true self, and find God within

          8. this is not the only life. u will be born again in a different life form, depending on ur deeds in this life
          পুনর্জনম।

          আপনি হাওয়া থেকে হাওয়া মার্কা কথা বললেতো হবে না। ইসলাম একটা পরিপূর্ণ মতবাদ তাদের কাছে যারা এই মতবাদে বিশ্বাসী। মানুষের উপর এর প্রয়োগ পদ্ধতি এবং কুরানের আয়াতের প্রায়োগিক রুপ মুহাম্মাদের জীবনেই প্রতিফলিত, উল্টোটাও দেখতে পারেন যে মুহাম্মাদের জীবনটাই কোরান। কোরানেই মুর্তাদদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, এ আয়াতের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই, এসব আয়াত রবিন্দ্রনাথের কবিতা না। রুপক কোন কথা এই আয়াতে নেই। কোন ব্যক্তি এ আয়াত অনুসরণ করতে চাইলে মুসলিমরা নৈতিক ভাবেই এর বিরোধীতা করতে অক্ষম, তার প্রমাণ প্রতারিত নারীদের কে দেয়া নারীদেরই উত্তর। আমার এই লেখা মুক্তমানায় এসেছে বলে গালিটালি দেখছেন না, কিন্তু সামুতে দিলে ঠিকই দেখতেন গালির ঝড় কেমনে উঠত। এসব অস্বীকার করে আপনি কোন বক্তব্য দিতে চাইলে সেটা অনর্থক কথা বাড়ানো ছাড়া আর কিছুই হবে না।

          • রূপম (ধ্রুব) ফেব্রুয়ারী 11, 2011 at 6:30 অপরাহ্ন - Reply

            @আনাস,

            আপনার বক্তব্য সংক্ষেপে হল গিয়ে কোরানের আয়াত স্পষ্ট। আমার নিজের ব্যাক্তিগত কিছু যায় আসে না, কোরানের কথা স্পষ্ট না রূপক, যেখানে এর কোন মাহাত্ম্যই আমার কাছে নেই। এর লজ্জাস্থানে ন্যাকড়া বেঁধে কোন লাভও ফলে আমার নেই। 🙂

            তবে, সাধারণ মুসলমান এই স্পষ্ট আয়াতগুলোকে কিভাবে মোকাবিলা করবে, সেটা নিয়ে আমার আগ্রহ আছে। সুরা নুরের আয়াতটা আমি জানি। এটা নিয়ে মাত্র ক’দিন আগে ফেসবুকে আলোচনা করেছিলাম মুসলমান এটাকে কিভাবে ডিল করে দেখার জন্যে। আপনার পর্যবেক্ষণ হয়তো ঠিক। ওই বাণীগুলো হয়তো জলের মত পরিষ্কার। বিশেষ করে আগের আয়াতটা (২৪:০১) স্পষ্টতাকে আরো জোরালো করে। আমার মূল আগ্রহ হচ্ছে খ্রিস্টানরা যেভাবে তাদের পুস্তকের মারামারির বাণী দ্বারা এখন আর বিচলিত হয় না, মুসলমানরা তেমন কিছু একটা বের করতে পারল কিনা। আমার ফেসবুক নোটের আলোচনা থেকে বের হল, মুসলমান বরং মনে করে যে, ক্ষেত্র বিশেষে এই আইন প্রযোজ্য। মানে এই বাণীর স্পষ্টতা মুসলমান কাটিয়ে উঠতে ততটা পারে নি।

            এখন খ্রিস্টানরা কিভাবে পারছে?

            আমার ধারণা, বাইবেল যে ঈশ্বর-রচিত, এই ভুল খ্রিস্টানদের অনেক আগেই ভেঙ্গে গেছে। কিন্তু একই ভুলটা মুসলমানের এখনো ভাঙ্গে নি। মানে পুস্তকের বিশুদ্ধতা মুসলমানের বিশ্বাসের অংশ, খ্রিস্টানের নয়।

            আমি মনে করি না বিশ্বাসবিহীন জগত এই সহস্রাব্দে দেখা যাবে না। তবে বিশ্বাসের দুর্বলতা প্রতিনিয়ত ধরিয়ে দেয়াটা স্বকীয়ভাবেই গুরুত্বপূর্ণ, এবং সেটা আরও আরও শক্তিশালীই হবে। ফলশ্রুতিতে বিশ্বাস তার রূপ যথেষ্ট পরিমাণে পাল্টে নিবে। মানুষের ব্যাক্তিস্বাধীনতায় আঘাত হানে না, এমন বিশ্বাসের পকেটে গিয়ে বিশ্বাসী মন স্থিত হবে। নিউ এজ ফেজ কিসব যেন আছে, তারপর যেরকম বললেন, পুনর্জন্ম, সর্বেশ্বরবাদ, এসব নিরীহ অথচ অর্থহীন বিশ্বাসে মানুষ স্থিত হবে। মানুষের ব্যাক্তিস্বাধীনতার সাথে সাংঘর্ষিক না বলে কোন পক্ষের সাথেই দ্বন্দ্ব তৈরি হবে না। তবে একটা বিজ্ঞানমনস্ক সমাজের অনেকটা বিপরীতেই কাজ করবে এরা। বিজ্ঞানের আলো না ফেলা প্রকোষ্ঠগুলোতে এসবের বিচরণ ঘটেই যাবে।

            মানে আপনার ফল দেয়া গাছগুলো উপড়ে যেতে পারে, আগাছাগুলো থেকেই যাবে। আগাছাগুলো উপড়ে ফেলতে চান না?

            • রূপম (ধ্রুব) ফেব্রুয়ারী 12, 2011 at 2:13 পূর্বাহ্ন - Reply

              @রূপম (ধ্রুব),

              বাই দা ওয়ে। আপনার সুফি মহাশয়ের বক্তব্য কিন্তু বেশ আশাব্যঞ্জক। পুস্তকের বিশুদ্ধতাকে অস্বীকার করছে সে। মুসলমানের মৌলবাদের একটা বড় শর্ত আমার হল পুস্তকের বিশুদ্ধতায় বিশ্বাস। কোটি কোটি মুসলমানের পুস্তক নির্ভরতা কমে গেলে মোল্লা নির্ভরতাও অনেকাংশে হ্রাস পাবে। মুসলমান নিজের জাজমেন্টের উপর চললে ব্যক্তিস্বাধীনতার জন্যে সেটা শ্রেয়তর পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।

            • আনাস ফেব্রুয়ারী 12, 2011 at 1:38 অপরাহ্ন - Reply

              @রূপম (ধ্রুব),

              আগাছা থাকবেই, মুল গাছের পরিচর্যাকারীরাই সেই আগাছা দূর করবে। যেমন বিবর্তন নিয়ে ভুল ধারনা বা কোন মতধারার গোষ্ঠী তৈরী হলে মুল স্ট্রিমের লোকেরাই তা প্রতিরোধ করবে। আগাছা মুলত তৈরী হয় দুর্বলতা বা ফাক ফোকরের উপর ভিত্তি করে। সেসব যতদিন থাকবে ততদিন আগাছা হবেই।

              ইহুদী বা খ্রীষ্টানরা যে পারছে সেরকম পর্যবেক্ষন আমার নেই। খ্রীষ্টান আধুষ্যিত অঞ্চলে মৌলবাদী খ্রীষ্টানদের তৎপরতা রয়েছেই, তাদের অবস্থা আমাদের দেশের মৌলবাদী সংগঠন গুলোর মত। জনতার চাপে যতটা সম্ভব নিজেদেরকে চালিয়ে নিচ্ছে।

              সাধারণভাবে মুসলিম জনগোষ্ঠী আর অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে মোটা দাগে পার্থক্য হচ্ছে প্র্যাকটিস। প্রতিদিন পাচবার নামাজী মুসলমান জনগোষ্ঠী আর রবিবার চার্চে যাওয়ার জনগোষ্ঠীর মধ্যে পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। আর জন্ম থেকেই মুসলিম শিশুরা তাদের স্বর্ণ যুগের গল্প শুনে এসেছে, ফলে তারা “ইসলামিক” শান্তিময় সমাজের একটি স্বপ্ন নিয়ে সবসময় পরিচালিত হয়। তাছারা জান্নাত জাহান্নামের বিস্তারিত লোভ ধর্মীয় শিক্ষা থেকে মুসলমানরাই সবচেয়ে বেশী অর্জন করে। ফলে একে বাস্তব ভেবে বিভ্রান্ত যুবকেরাই মৌলবাদীদের সহজ টার্গেটে পরিণত হয়।

              সুফি মহাশয় মুলত ইসলামের এরকম একটি মৌলিক বিষয়কে রক্ষা করতে যেয়েই আমার প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন। প্রকাশ্যে তিনি এসব কথা বললে আশাব্যঞ্জক মনে হত। উপমহাদেশের কথাই বিবেচনা করেন, এখানে সুফিরাই ইসলামকে এনেছে, কিন্তু মৌলবাদী ইসলামের বিপক্ষে এরা ধুয়ে গেছে। যেহেতু এরা আগাছা, তাই মুল গাছকে রক্ষা করাও এদের স্বার্থের অংশ। তাই এদেরকেও ক্ষতিকর মনে করি।

              একটা বিজ্ঞানমনস্ক সমাজের অনেকটা বিপরীতেই কাজ করবে এরা। বিজ্ঞানের আলো না ফেলা প্রকোষ্ঠগুলোতে এসবের বিচরণ ঘটেই যাবে।

              একমত। এ যায়গাতেই আগাছা জন্মাবে। বিজ্ঞান মনস্কতা অনেক জরুরী একটা বিষয়। বিশ্বাস ব্যাপারটা তৈরী হয় ভয় আর অসহায়ত্ব থেকে। এসব দূর না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বাস ব্যাপারটা নিভু নিভু হলেও জ্বলবে।

              • রূপম (ধ্রুব) ফেব্রুয়ারী 12, 2011 at 2:07 অপরাহ্ন - Reply

                @আনাস,

                প্রকাশ্যে তিনি এসব কথা বললে আশাব্যঞ্জক মনে হত

                😀

          • গোলাপ ফেব্রুয়ারী 12, 2011 at 11:09 পূর্বাহ্ন - Reply

            @আনাস,

            মানুষের উপর এর প্রয়োগ পদ্ধতি এবং কুরানের আয়াতের প্রায়োগিক রুপ মুহাম্মাদের জীবনেই প্রতিফলিত, উল্টোটাও দেখতে পারেন যে মুহাম্মাদের জীবনটাই কোরান।

            মুহাম্মাদকে না জানলে কুরানের কিছুই বুঝা যায় না। কুরান সহি ভাবে বুঝার জন্যে মুহাম্মদের জীবন ইতিহাস (সিরাত) জানা অবশ্য কর্তব্য।

            কোন ব্যক্তি এ আয়াত অনুসরণ করতে চাইলে মুসলিমরা নৈতিক ভাবেই এর বিরোধীতা করতে অক্ষম ।

            শুধু কোরান নয়, মুহাম্মদের অনুসরনকারীদেরকে ও মুসলিমরা নৈতিক ভাবে বিরোধীতা করতে সম্পূর্নভাবে অক্ষম। কারন তা ইসলামের একদম basic and fundamental tenants ‘শাহাদা’ঃ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস (কুরান) এবং মুহাম্মাদের (সিরাত এবং হাদিস) প্রতি বিশ্বাসের (two almost equally important halves of Islamic creed) পরিপন্থি – যা স্বীকার না করলে কেহই নিজেকে মুসলমান দাবী করতে পারবে না।

            আপনার লিখাটি খুব ভাল লাগলো। আরো বেশি বেশি লিখুন।

        • আনাস ফেব্রুয়ারী 11, 2011 at 2:55 অপরাহ্ন - Reply

          @রূপম (ধ্রুব),

          আরেকদল কঠোর কোরান অনুসারীদের কর্মকান্ড দেখে বলে দোষ ইসলামের না।

          আমার এই কথার মানেই আপনি বোঝেন নি। ইসলামের দোষ না বলতে তারা এইটা বলেনা যে এই আয়াত বা আইন ইসলামে নেই। শরিয়া আইন প্রয়োগের বৈধ বডির অনুপস্থিতিতে শরিয়া আইন প্রয়োগ শরিয়া সম্মত নয়। তাই এই ধরনের আইন প্রয়োগে ইসলামের দোষ নেই, অর্থাৎ শরিয়া আইন বলবৎ থাকলে এই ধরনের আইন প্রয়োগ ইসলাম সম্মত হত, যেমন আফগানিস্তান ইরান বা ভবিষয়তের কোন সঠিক ইসলাম অনুসারে ইসলামী রাষ্ট্রে এই ধরনের আইন চললে তা ঠিক আছে। ইসলামী রাষ্ট্র কতৃক পরিচালিত জিহাদ বা যুদ্ধ ঠিক আছে, যেমনিভাবে ওমরের আগ্রাসন ঠিক আছে। উহা ইসলাম সম্মত, ওমর বা মুহাম্মাদ কতৃক পাথর মেরে মানুষ হত্যা ঠিক আছে, উহা ইসলাম সম্মত। আশাকরি কিছুটা পার্স্পেক্টিভ পাবেন।

          • রূপম (ধ্রুব) ফেব্রুয়ারী 11, 2011 at 6:36 অপরাহ্ন - Reply

            @আনাস,

            আমি ভুলই বুঝেছি তাহলে। ‘বৈধ বডি থাকলে এই আইন প্রয়োগ ঠিক আছে’, এমন বক্তব্যের সাথেই আমি বেশি পরিচিত। এটা তো অনেকটা ইহুদি রাবিদের মতই হল। তৃতীয় মন্দির নির্মাণের আগে মারমার আইনের প্রয়োগ নয়!

        • গোলাপ ফেব্রুয়ারী 12, 2011 at 12:27 অপরাহ্ন - Reply

          @রূপম (ধ্রুব),

          তেমনি ‘কোরান অনুসারী’ বলতে আপনি ঠিক কি বোঝাচ্ছেন? কোনটা কোরানের সঠিক অনুসরণ আর কোনটা অনুসরণ না?

          সঠিক অনুসরণ হচ্ছে সেটাই যা মুহাম্মদের জীবনীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ন।
          মুহাম্মাদ তার ১২ বছরের মক্কা জীবনে (৬১০-৬২২) বহূবিধ প্রচেষ্টার পর মাত্র ১৫০ জনের মত মানুষকে তার দলে আনতে পেরেছিলেন। আর তার ১০ বছরের (৬২২-৬৩২) মদীনা জীবনে জীহাদের মাধ্যমে (৬৬ টা যুদ্ধ – গড়ে প্রতি ৬ সপ্তাহে ১ টা x১০ বছর) হাজার হাজার মানুষকে তার দলে এনেছিলেন। এক কথায় আজকের মুসলিম উম্মা জিহাদের ফসল, মক্কা প্রচেষ্টা সম্পূর্ন ব্যর্থ।

          সাধারণ মুসলমান এই স্পষ্ট আয়াতগুলোকে কিভাবে মোকাবিলা করবে, সেটা নিয়ে আমার আগ্রহ আছে।

          তিন ভাবেঃ
          ১) ইসলামের ইতিহাস, কুরানের তর্জমা এবং সিরাত -হাদিস সম্ভন্ধে পুরাপুরি ওয়াকিবহাল না হয়ে (অজ্ঞ মুস্লীম) – ‘জীহাদি’ মুসলমানদের কার্যকলাপ “ইসলাম বিরোধী” আখ্যা দিয়ে।
          ২) Hypocrite হয়ে।
          ৩) চাতুরতা এবং Taqyya আশ্রয়ের মাধ্যমে।

          তবে বিশ্বাসের দুর্বলতা প্রতিনিয়ত ধরিয়ে দেয়াটা স্বকীয়ভাবেই গুরুত্বপূর্ণ, এবং সেটা আরও আরও শক্তিশালীই হবে।

          সম্পূর্ন একমত।

  5. রামগড়ুড়ের ছানা ফেব্রুয়ারী 11, 2011 at 12:23 পূর্বাহ্ন - Reply

    “strong” ট্যাগ বন্ধ করতে ভূলে গিয়েছিলেন,কমেন্ট সহ সব বোল্ড হয়ে গিয়েছিল। ঠিক করে দিলাম।

  6. শ্রাবণ আকাশ ফেব্রুয়ারী 10, 2011 at 11:08 অপরাহ্ন - Reply

    এইখানে আমার কোন স্ত্রী নাই, তাই রাসুলের আদেশও মান্য করতে পারিনা।

    এখন কি যে হবে রে! প্রবাসীদের সম্পর্কে ক্লিয়ার করে না বলার জন্য আল্লারে মাইনাস।

    কোথায় যেন একটা কমেন্ট পড়েছিলাম যে হিজাব বোরখা তুলে দিলে মেয়েদের কাছ থেকেই বেশী মাইনাস আসবে। যদিও এখানে আপনি দেখিয়েছেন যে দুটি মেয়েই শরিয়া আইনের বিপক্ষে গেছে (আল্লাহ তাদেরকে শরিয়া আইনের মাহাত্ম্য বোঝার তৌফিক দান করুন), তবুও মনে হয় সমাজে এর উল্টোটাই ঘটে। অশিক্ষা, অর্থনৈতিক সমস্যা আর দোজখের ভয়ের সুযোগ নিয়ে এদেরকে সহজেই কাবু করে ফেলা যায়। যেহেতু ধর্মে মেয়েরাই বেশী অবহেলিত, তাই এইসব ধর্মীয় বিধি-বিধানের ব্যাপারে তাদের কাছ থেকেই বেশী প্রতিবাদ আসা উচিত। কবে যে এরা মানুষ হবে!

    তার উপর কালজয়ী এক বাণীতো আছেই, “আসল দোষ ইসলামের না!”

    এর উপর কোনো বাণী হয় না। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাণীতে ভূষিত করা হোক।

    • আনাস ফেব্রুয়ারী 11, 2011 at 10:22 পূর্বাহ্ন - Reply

      @শ্রাবণ আকাশ,

      শিক্ষা, অর্থনৈতিক মুক্তি ইত্যাদি অনেক বড় বিষয়। আগের যুগে বা বর্তমানেও এটা আরব নারীদের ক্ষেত্রে তেমন কোন সমস্যা না। সমস্যা হচ্ছে অনারব কালচারের ক্ষেত্রে। যেসব কালচার আগে থেকেই বহু বিবাহের ব্যবকতায় অভ্যস্ত ছিল না। গল্পটার মুল চরিত্রের মানসিকতা সম্পন্ন মানুষ আমাদের আশপাশেই থাকে, তারা সরল মনেই এসব বিষয়কে গ্রহনযোগ্য মনে করে, বিয়ে বহির্ভূত প্রেম এদের কাছে গর্হিত অপরাধ অথচ স্ত্রীকে না জানিয়ে অন্যত্র বিয়ে করা মোটেও খারাপ বিষয় না। পাপ ও অপরাধের পার্থক্যটা এখানেই আমার চোখে পড়েছে। গুগল সার্চ দিলে এরকম অসংখ্য ঘটনা পাওয়া যায়, আপত্তিটা বেশীরভাগ ক্ষেত্রে শিক্ষিত অনারব নারীর কাছ থেকে পাওয়া। তাদের উত্তরে অনেকে আবার বলেছেন যে স্ত্রীকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার কাজটি অনৈতিক । কিন্তু কোন কিছু অনৈতিক ব্যাপারটা আগমন ঘটল কিভাবে তা ভেবে দেখার সময় নেই, কারণ পেছনে জাহান্নামের ডান্ডা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে না!

      এর উপর কোনো বাণী হয় না। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাণীতে ভূষিত করা হোক।

      😛

      সর্বশ্রেষ্ট বাণী “আল্লা সব জানে” এইটার যায়গা দখল করার মতন হয় নাই। তাই উপরের বাণী কালজয়ীই থাক।

      • শ্রাবণ আকাশ ফেব্রুয়ারী 12, 2011 at 4:01 পূর্বাহ্ন - Reply

        @আনাস, হুম ঠিকই তো!
        তবে বাণীগুলোকে ক্রমান্বয়ে সাজানো উচিত। অলরেডী কোথাও থাকলে লিঙ্ক দিবেন প্লীজ।

        • আনাস ফেব্রুয়ারী 12, 2011 at 12:54 অপরাহ্ন - Reply

          @শ্রাবণ আকাশ,

          কয়েকটা বাণীর সমন্বয় করেছিলেন দুরের পাখি নামক ব্লগার। পড়ে দেখতে পারেন। দারুন হাসির ছিল এই প্রসংগটি।

          • শ্রাবণ আকাশ ফেব্রুয়ারী 13, 2011 at 6:04 পূর্বাহ্ন - Reply

            @আনাস, ধন্যবাদ লিঙ্কের জন্য। যদিও মনে হয় আগে একবার পড়া ছিল। গত কয়েকমাস ধরে ওখানে পড়ে আসছি। গালাগালি করা বা হজম করার অভিজ্ঞতা না থাকাতে ওখানে কোনোদিন রেজঃ করব না বলে ঠিক করেছিলাম। কিন্তু কিন্তু মাঝে মাঝে অংশ নিতে এত ইচ্ছে হয় যে সাত দিন আগে রেজঃ করেছি ফেলেছি। কিন্তু এখনো “সেফ” হয় নি।

            হাদিস-কোরান নিয়ে পিছলামীতে আমি কয়েকবার পড়েছিলাম। হাদিস থেকে কিছু দেখালেই বলে হাদিসের দরকার নেই, কোরানেই সব আছে। আবার কোরান নিয়ে বললে বলে কোরান ভালোভাবে বুঝতে হলে হাদিস-তাদিস হেন তেন সহ পড়তে হবে!

  7. হোরাস ফেব্রুয়ারী 10, 2011 at 10:40 অপরাহ্ন - Reply

    দ্বিতীয় গল্পটি খুবই খারাপ লেগেছে, তারচেয়েও বেশী খারাপ লেগেছে উত্তর পড়ে।

    দ্বিতীয় লিঙ্কটায় ক্লিক করে গল্পটা আর প্রথম কয়েকটা উত্তর পড়লাম। আমি বাকরুদ্ধ। উত্তর গুলা আবার আসছে মেয়েদের কাছ থেকেই। কি পরিমাণ ব্রেন ওয়াশড হইলে সবরকম আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিয়ে এরকম কিছু মেনে নিতে পারে তা এদের না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।

    • আনাস ফেব্রুয়ারী 11, 2011 at 10:06 পূর্বাহ্ন - Reply

      @হোরাস,

      এর চাইতেও নিস্ময়কর মজার ঘটনা আছে, একবার এক নারীর সাথে তর্ক করার সময় বলেছিলাম জাহান্নামে নারীর সংখ্যা বেশী থাকবে। সে জবাবে বলেছিল জান্নাতে নারীর সংখ্যা বেশী থাকবে, প্রমাণ হিসেবে একটা হাদিস দিয়েছিল যেখানে বলা হয়েছে যে জান্নাতে প্রতিটা পুরুষের জন্যে দুজন মানব নারী বরাদ্দ থাকবে! জান্নাতেও সতীন!

  8. sobak ফেব্রুয়ারী 10, 2011 at 9:18 অপরাহ্ন - Reply

    আনাস ভাই, মাহবুব ভাইয়ের তিনটা মেইল পড়ে বড়ই তৃপ্তিতো হইলাম। হৃদয়ে শান্তি নামিয়া আসিলো। কিন্তু শেষে এসে বড়োই ব্যাথাতুর মনে হইলো। দুশ্চিরত্র প্রথম স্ত্রীর বেশরিয়তি কাজে মাহবুব ভাইয়ের জীবনটা ধ্বংস হইয়ে গেলো। নিশ্চয় আল্লাহ বিচার করিবেন।

    • আনাস ফেব্রুয়ারী 11, 2011 at 10:03 পূর্বাহ্ন - Reply

      @sobak,

      হুমম! আপনি “প্রি ম্যাচিউর” ব্যাপারটার ইংগিত নিশ্চই বুঝেছেন। তাদের মস্তিস্কের গন্ডগোল কেমনে দূর হবে? তবে আপনার নেকরা সংক্রান্ত মন্তব্যটা দারুণ ছিল। নায়েফের সাথে কমেন্ট পড়ে হাহাপগে অবস্থা।

মন্তব্য করুন