বইমেলার ভ্রমণবৃত্তান্ত ও আমার অনুভূতি

By |2011-02-06T13:09:02+00:00ফেব্রুয়ারী 6, 2011|Categories: ব্লগাড্ডা|10 Comments

বইমেলার ভ্রমণবৃত্তান্ত ও আমার অনুভূতি:
ক্যাসেট প্লেয়ারে গান শোনার সময় শরীর যেমন অটোমেটিক নাচে। তেমনই ঘটে বইমেলায় গেলে। এ আমার একান্তই ব্যক্তিগত অনুভূতি। আবেগে আপ্লুত হলেও নিজেকে কন্ট্রোলে রাখি। যেদিন যাই, সেদিন পুরোটা সময় কাটাই বইমেলায়। এমন কোনো স্টল নেই যেখানে ঢু মারি না। নতুন নুতন বইয়ের গন্ধ শুকি। কিনি বা না কিনি সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হলো বইয়ের গন্ধ শোকা। অন্যেরা আমার মত গন্ধ পেতে পছন্দ করে কি না, জানি না; কিন্তু আমাকে গন্ধ নিতেই হবে। কেন যে নতুন বইয়ের গন্ধ শুকতে ভালো লাগে তাও জানি না। কোনো লাইব্রেরী কিম্বা বইমেলায় গেলে গন্ধ শোকার নেশাটা মাথায় চাড়া দিয়ে ওঠে। বইমেলায় ঢোকার আগেই ১০/১২ টি খিলি পান সঙ্গে করে নেই। সেগুলো শেষ হলে বাইরে গিয়ে আবার নিয়ে আসি। কবি আসাদ যেমন পান খেয়ে ঠোটটা লালটুকটুকে করেন, আমিও তদ্রুপ করি। পানের নেশা বড় নেশা। একবার ধরলে ছাড়া খুবই মুশকিল। আমি আর কবি আফরোজা আপা একসাথে পান চিবুবো এমনই প্লান ছিল; কিন্তু সেই প্লান বাস্তবায়নের কোনো চেষ্টাই করি না। হঠাৎ করে মনের পরিবর্তন ঘটেছে। মোবাইল সাইলেন্ট করে রেখেছি। অনেক মিসকল উঠে আছে। কারা কারা করলো, চেয়েও দেখি না। মেলায় ঘুরবো একা, সম্পূর্ণ স্বাধীন। কেউ বলবে না- চলো ঐদিকে যাই। কারো হুকুম, কারো পরামর্শ, কারো অনুরোধ থাকবে না আমার জীবনে এই মেলায়।

গতমেলায় এসেছিলাম। তখন মুক্তমনার সাথে পরিচয় ঘটেনি। ড. অভিজিৎ রায়ের ‘সমকামিতা’ বইটি দেখেছিলাম। কেনা হয় নি ঐ সময়। লেখককে চিনতামও না। এখন চিনেছি- কিনবো না বইটি। অনেক অনুরোধ করেছিলাম ‘ধর্মে সমকামিতা’ চ্যাপটারটি মুক্তমনায় দিতে। তিনি কথাও দিয়েছিলেন, কিন্তু পরে আর সেই কথা রাখেন নি। তাছাড়া বইটি সম্পর্কে মেলার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলাম এভাবে: “বইমেলায় গেছি। বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে বই নাড়াচাড়া করে দেখছি। কিছু বইও কিনে ফেললাম। হঠাৎ করে একটি স্টলে এসে ‘সমকামিতা’ নামে বইটি দেখলাম। কেউ কেউ বইটির দিকে এক নজর তাকিয়ে চলে যাচ্ছে, কেউ কেউ হাতে তুলে আবার রেখে দিচ্ছে। কেউ কেউ ডানহাতে বইটি ধরে বাম হাতের বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে বইয়ের পাতা অতি দ্রুত কির কির করে সরিয়ে দিয়ে আবার যথাস্থানে রেখে দিচ্ছে। যতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম, কাউকেই ঐ বইটি কিনতে দেখলাম না। বইটি আমিও হাতে নিয়ে আবার রেখে দিলাম। নামটাতেই কেমন এলার্জি ফিল করলাম। হঠাৎ করে একজনের মন্তব্য কানে এলো, ‘লেখক মনে হয় দেশে সমকামিতা চালু করতে চাচ্ছে।’ আর একজন বলছে- ‘নারী বইয়ের মত বইটা ব্যান্ড হতে পারে।’ যাহোক আমি বইটা না কিনেই চলে এসেছিলাম।”

পরে শুনেছি- বইটির কাটতি ভালোই। লুকিয়ে লুকিয়ে কিনেছেও কেউ কেউ। বইটি নিয়ে নানা ব্লগে মজার মজার হাস্যরসাত্মক ঘটনার অবতারণাও লক্ষ্য করা গেছে ঐ সময়।

আমার বলা ঘটনাটি নাকি গল্পের ঝাঁপি!! বিস্তারিত জানতে চাইলে আগ্রহী পাঠকগণ এখানকার (৩-৬ নং) মন্তব্যগুলো পড়ে দেখতে পারেন। দেখুন, কিভাবে আমাকে থামস ডাউন দেয়া হয়েছে। ঠিকই তো, সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়া বাস্তববাদী যুক্তিবাদীরা তা মেনে নেবেন কেন? আর আমিই বা সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়া ঘটনা বলি কোন আক্কেলে? প্রমাণস্বরূপ ছবি দরকার।

তবে গুণমুগ্ধ পাঠকের ন্যায় — “অভিজিৎ-এর জ্ঞান-বিজ্ঞানের উপর স্বর্ণময় কাজগুলি আজ হয়ত বাংলাদেশের তথাকথিত জ্ঞানী-গুণীজন থেকে শুরু করে শিক্ষিত পড়ুয়া শ্রেণী বাঁকা চোখে দেখে বা মনে মনে তেঁতো ডেকুর তোলে; এই তাদেরই পরবর্তী জেনারেশনরাই আবার ঐ জ্ঞান-বিজ্ঞানের কাজ করা বিষয়গুলি নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করে বাঙালি সমাজকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে এতে কোন সন্দেহ নেই।” — মামুন ভাইয়ের এমন মন্তব্য নতশিরে সহমত জ্ঞাপন করতেই হবে আমাকে।

গীতা দাসের ‘তখন ও এখন’ বইটি প্রকাশ হওয়ার পেছনে আমাকে কিঞ্চিৎ পরিমাণ আসামী করা হয়েছে; এতে আমার অনুভূতিটা সুখেরই। সুখটা আরো বৃদ্ধি পাবে আফরোজা আলমের ‘ফানুস’টি বের হলে।

বড় আশা করেছিলাম- আকাশ মালিকের ‘যে সত্য বলা হয়নি’- বইটির জন্য। কিন্তু সেটি এবার প্রকাশ হয়নি। আরোও আশা ছিল- আবুল কাসেমের ‘ইসলামী কাম ও কামকেলী’ বইটি পাবার। এটাও প্রকাশ পায়নি। খাঁটি কথা হচ্ছে- মন যা চায় তা পায় না, আর যা চাই না তা-ই হাজির হয় সামনে। এ যেন অনেকটা – “আমি যে কি করি তা আমি নিজেই বুঝি না, কারণ আমি যা করতে চাই তা করি না, বরং যা ঘৃণা করি তা-ই করি।”- এর মতো। এ ধরনের বই প্রকাশ করা চাট্টি খানি কথা না। অনেক ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়।

বইমেলায় অবশ্য রক্তদান কর্মসূচিও চলে। রেড ক্রিসেন্ট, সন্ধানী সংস্থাগুলোর কর্মীবৃন্দ রক্ত সংগ্রহে সদা ব্যস্ত। সুন্দর ড্রেসে ওদেরকে দেখতে ভালোই লাগে। সেবামূলক কাজে নিয়োজিত। ভাবি মনে মনে- রক্ত দেবো কিনা? কিন্তু ঐ ভাবা পর্যন্তই, দেয়া আর হয় না। মাজুখানের ট্রেন দূর্ঘটনায় একবার রক্ত দিতে গিয়ে দূর্বল হয়ে পড়েছিলাম। সারাদিনের না খাওয়া মানুষ, রক্ত দিলে তো একটু দূর্বল হবোই। কিন্তু ঐ সময়ে প্রচন্ড আবেগীয় টানে রক্ত দিয়েছিলাম। এরপর আর কোনোদিন দেয়া হয়নি। এ পজেটিভ রক্ত এমনিতেই এভেইলেবল। লোকে বলে- ‘এ’টা নাকি গরুর রক্ত!

মেলা সম্পর্কিত তথ্যকেন্দ্রটাতেও দাঁড়িয়ে থাকি কিছুক্ষণ। প্রত্যেকটি স্টলের নম্বর দেয়া আছে; স্টলের খোঁজ পেতে নম্বরটি গুরুত্বপূর্ণ। নম্বর অনুসারে সহজেই পাওয়া যায় কাঙ্খিত স্টল।

এবারের বইমেলায় স্টলের সংখ্যা গোনা হয়নি। অবশ্য তথ্যকেন্দ্রে জিজ্ঞেস করলেই অনায়াসে তা জানা যাবে। কিন্তু নিজে গুণে গুণে দেখতে মজা পাই। নানা ধরনের প্রকাশকের সমাহার। ধর্মীয় পুস্তক প্রকাশনীও মেলাতে স্থান পায়। যেমন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটি, বাহাইসহ সনাতন ধর্মের প্রকাশনাও রয়েছে। এছাড়া শিশু একডেমী, শিল্পকলা একাডেমী। কোনো কোনো স্টল বই বিক্রির সাথে সাথে সিডিও বিক্রি করে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রামান্য চিত্র, কবিতা, গান, সিনেমার সিডি। ঐ তো, এশিয়াটিক সোসাইটির স্টল। এখান থেকেই বাংলাপিডিয়া বের হয়। বিশেষণের পর বিশেষণ যোগ করে জীবনীগুলো লেখা হয়েছে; বড়ই একপেশে- শুধুই প্রশংসা আর প্রশংসা।

বিগত বইমেলাগুলোতে একটু বেশি সময় কাটাতাম ওসমান গনি’র আগামী প্রকাশনীতে। কারণ ওখান থেকেই হুমায়ুন আজাদের বই বের হতো। এখনও রিপ্রিন্ট হয়। এবার বেশি সময় কাটাবো শুদ্ধস্বরে। কারণ একটাই- মুক্তমনার লেখকদের বই বের হয়েছে এই প্রকাশনী থেকে। বলতে পারেন, এটা অনেকটা ‘সাম্প্রদায়িক প্রীতির টান’।

বাংলা একাডেমীর স্টলে যাই। তাদের স্টলটাই সবচেয়ে বড়। নিজস্ব বিল্ডিংয়ে তাদের বইয়ের সমাহার। ব্যাগ জমা দিয়ে টোকেন নিয়ে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি মেলে। সেখানে থাকে অনেক পুরোনো বই। ৫০% পর্যন্ত কমিশন। আমার ইচ্ছা ড. ম আখতারুজ্জামান রচিত বিবর্তন-এর উপর বইটি কেনার।

চলতে চলতে হাটতে হাটতে নানান ভাবনা মাথায় আসে। কবি হাসানআল আব্দুল্লাহ মেলায় আসতে চেয়েছেন। কবে আসবেন দিন-ক্ষণ জানি না। শুধু ভাবি- এই বুঝি আজকে দেখা হবে লম্বা চুলওয়ালা মানুষটির সাথে। অনেক কবিকেই দেখতে পাই। কিন্তু কই গেলেন আমাদের মুক্তমনার কবি যিনি ‘নাস্তিকতা’ নিয়ে কবিতা লিখেছেন। যিনি লিখেছেন- “ঈশ্বর মরে গেলে আমি খুশি হবো।”

কী ব্যাপার ঐ স্টলে এত ভীড় কেন? এগিয়ে যাই কৌতুলবশত। বাংলার কথা সাহিত্যিক/ঔপন্যাসিক ইমদাদুল হক মিলন। চরম জনপ্রিয়। অটোগ্রাফ নেয়ার জন্য পাগল তরুণীরা। সদা হাস্য এই মানুষটি চমৎকার করে কথা বলেন। টিভি উপস্থাপকও বটে। একসময় তসলিমা নাসরিনের সাথে সখ্যতা ছিল। একটি নজর দিয়েই আগাতে থাকি অন্য আরেকটি স্টলের দিকে।

শুদ্ধস্বরের স্টলটি কোথায়?–মনে মনে নিজেকে জিজ্ঞেস করি। শুনেছি এখানে শুদ্ধস্বর নামে দুটি স্টল আছে। কোনটা আসল আর কোনটি নকল তা খুঁজে বের করতে হবে। আসলে, নকল বলে কিছু নেই। দুটিই আসল। একটি আহমেদ টুটুলের, অপরটি ….।

কবিতা উৎসবের প্যান্ডেলের দিকে যাই ঠিকই, কিন্তু বসি না। বসে শোনার কোনো প্রয়োজন অনুভব করি না। বইয়ের স্টলে থাকলেও মাইকের আওয়াজ কানে ভেসে আসে। একই সময়ে দুটো কাজও হয়। কান দিয়ে মাইকের আওয়াজ শোনা অপরদিকে চোখ দিয়ে বইয়ের দিকে নজর দেয়া।

আচ্ছা, আমাদের সাংবাদিক বিপ্লব রহমান কি মেলায় আসেন? তাকে কি ফোন দেবো? ভাবতে ভাবতে মোবাইলের বাটনে আঙুল টিপি।
-“হ্যালো, কালের কণ্ঠের বিপ্লব রহমানকে চাচ্ছিলাম।”
-“হ্যা, আমি বিপ্লব; কে বলছেন”।
-“আমি মাহফুজ।”
-“কোন মাহফুজ।”
-“মোকছেদ আলীকে চেনেন?”
-“ও, হ্যা হ্যা মুক্তমনা, মুক্তমনা।”
-“বইমেলায় এসেছি, ভাবলাম যদি আপনার দেখা পাই।”
-“দেখা হলে তো ভালোই হতো; কিন্তু আজ আমার হাতে প্রচুর কাজ।”

হঠাৎ কার ধাক্কায় যেন মোবাইলটা হাত থেকে পড়ে গেল। তুলে নিলাম। বন্ধ হয়ে গেছে। পুরোনো মোবাইল, এমনিতেই বিগড়ে যায়। অনেকটা অনন্তের মোবাইলের মত। ধাক্কায় আমার কল্পনার জাল ছিন্ন হয়ে যায়।

About the Author:

বাংলাদেশ নিবাসী মুক্তমনা সদস্য। নিজে মুক্তবুদ্ধির চর্চ্চা করা ও অন্যকে এ বিষয়ে জানানো।

মন্তব্যসমূহ

  1. মুক্তমনা এডমিন ফেব্রুয়ারী 6, 2011 at 1:03 অপরাহ্ন

    একাধিক লেখক লেখাটির বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি জানানোর ফলে লেখাটি প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে নেয়া হল।

    মাহফুজ সাহেবের সাম্প্রতিক বেশ ক’টি লেখা মুক্তমনায় অযাচিত বিতর্কের সৃষ্টি করেছে এবং পরিবেশ নষ্ট করেছে বলে সদস্য এবং মডারেটরগন মনে করছেন। তার লেখা এবং মন্তব্য এখন থেকে মডারেশন পার হয়ে প্রকাশিত হবে।

    ধন্যবাদ।

  2. অনন্ত বিজয় দাশ ফেব্রুয়ারী 6, 2011 at 12:40 অপরাহ্ন

    পুরোনো মোবাইল, এমনিতেই বিগড়ে যায়। অনেকটা অনন্তের মোবাইলের মত।

    কল্পনায় ভালোই তো বুনন করে যাচ্ছিলেন, তা শেষেমেশ আমার দিকে ঠেলে দিলেন যে? :-O :-s 😕

    আপনার কল্পনার জাল ছিড়ে গেলেও আমার সেই লক্কড়ঝক্কড় মার্কা মোবাইল থেকে এখনও সার্ভিস উসুল করে নিচ্ছি!! :guli: :guru:

  3. বন্যা আহমেদ ফেব্রুয়ারী 6, 2011 at 12:24 অপরাহ্ন

    লেখাটা কী প্রথম পৃষ্ঠা থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়? ধোঁয়াশা, সত্যি মিথ্যা কল্পনার জোড়াতালিতে ঢাকা বইমেলার কাহিনি পরেও শোনা যাবে, আপাতত আমরা না হয় সত্যিকারের আপডেটগুলোই শুনি। লেখককে অনুরোধ করবো লেখাটি দয়া করে প্রথম পৃষ্ঠা থেকে সরিয়ে নিতে।

  4. ফাহিম রেজা ফেব্রুয়ারী 6, 2011 at 11:14 পূর্বাহ্ন

    @মুক্তমনা এডমিন, এই লেখাটাও মাহফুজ এর আরেকটি স্কিতসোফ্রেনিক লেখা বলেই মনে হচ্ছে। বহদিন ধরে বাইরে থাকার ফলে, বইমেলার আপডেটগুলো দেখতে ভালো লাগে, তাই বলে কাল্পনিক বা এক বছর আগের বায়ুচড়া লেখা নয়। মাফহুজ সাহেব আমাকে একটি ইমেইল করে আমার সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আমার তো মনে হয় না আমি ব্লগে কখনই তেমন কিছু গোপন করেছি। মুক্তমনায় মেম্বারশীপ দেওয়ার আগে কি একটু মেন্টাল হেলথ চেক করার ব্যবস্থা করা যায়? অভিজিতের মত লেখক যখন মাহফুজের মত লেখকের লেখায় এসে নিজের বই ডিফেন্ড করেন তখন দুঃখ পাই।

    মুক্তমনার লেখক এবং ব্লগাররা সবাই যখন বাস্তব বইমেলার ছবি এবং আপডেট দিচ্ছেন তখন এই অতীতের কাল্পনিক লেখাটি মুক্তমনার উপরে ঝুলিয়ে রাখাটা ব্লগারদের জন্য অস্বস্তিকর। আমি আসলেই বুঝতে পারি না মাহফুজকে এত প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে কেন, এর আগে ওনার কয়েকটি লেখা এবং মন্তব্য মুক্তমনার পাঠকদের কাছ থেকে চরম প্রতিবাদের সম্মুখীন হয়েছে। আমি অনুরোধ করবো ওনাকে মডারেশনের আওতায় এনে আমাদের মত নন-বায়ুচড়া নরমাল ব্লগারদের একটু শান্তি দেওয়া হোক এবং মুক্তমনার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা হোক।

    আমি অনুরোধ করবো লেখাটি প্রথম পেজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হোক। আর না হলে রায়হান, লীনা এবং মাহবুব সাইদের আপডেটগুলোকে স্টিকি করে দেওয়া হোক, যাতে করে মুক্তমনা খুলেই এ ধরনের লেখা দেখতে না হয়।

  5. হেলাল ফেব্রুয়ারী 6, 2011 at 10:55 পূর্বাহ্ন

    মাহফুজ ভাই, বই মেলায় মনে হচে্ছ যাননি। কিন্তু এটা লেখায় বলে দিলেই ভাল লাগত। আপনার লেখা তো আর খারাপ না। আপনার প্রিয় খেলা বুঝি লোকোচুরি ?

  6. আফরোজা আলম ফেব্রুয়ারী 6, 2011 at 10:35 পূর্বাহ্ন

    আরে ধুশশ! মাহফুজ মনে হয় কল্পনায় লিখেছে সব তাই না? মাহফুজ রোজ কল্পনায় বইমেলায় আসে আবার যায়। কেন যে আমাদের ফাঁকি দেয় হায় ইশ্বর! :-Y

  7. অভিজিৎ ফেব্রুয়ারী 6, 2011 at 8:57 পূর্বাহ্ন

    ভাই মাহফুজ, আপনার চালাকি আমি বুঝি। খুব সরল বোকা সোকা ভাব নিয়ে একটা লেখা পোস্ট করেন আর এরে অরে গুতাগুতি করে চলে যান। আর কত ?

    . অভিজিৎ রায়ের ‘সমকামিতা’ বইটি দেখেছিলাম। কেনা হয় নি ঐ সময়। লেখককে চিনতামও না। এখন চিনেছি- কিনবো না বইটি। অনেক অনুরোধ করেছিলাম ‘ধর্মে সমকামিতা’ চ্যাপটারটি মুক্তমনায় দিতে। তিনি কথাও দিয়েছিলেন, কিন্তু পরে আর সেই কথা রাখেন নি।

    আপনি কিনবেন কি কিনবেন না তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আপনি কি কিনবেন আর কি কিনবেন না তা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আর ধর্মে সমকামিতা চ্যাপ্টারটি যে অনলাইনে দেওয়া হবে না তা তো এখানেই ক্লিয়ার করেছিলাম। বলেছিলাম যে এটা ক্রেতাদের জন্য স্পেশাল। একসময় ভেবেছিলাম অধ্যায়টা দেব, কিন্তু একটা বইয়ের সবকিছু অনলাইনে দিয়ে দিলে তো আর ক্রেতারা কিছু পান না। আর তাছাড়া ব্যাপারটি বইয়ের প্রকাশকের জন্যও অস্বস্তিকর। তিনি বহু অর্থবিনিয়োগ করে একটি বই প্রকাশ করেন। আর সবাই যদি সেটা অনলাইনেই পেয়ে যায়, তবে তার জন্যও সেটা সুফল বয়ে আনে না। প্রকাশকের সাথে কথা বলেই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ নিয়ে আপনি বার বার ঘ্যান ঘ্যান না করলেই খুশি হব এর পর থেকে।

    নামটাতেই কেমন এলার্জি ফিল করলাম। হঠাৎ করে একজনের মন্তব্য কানে এলো, ‘লেখক মনে হয় দেশে সমকামিতা চালু করতে চাচ্ছে।’ আর একজন বলছে- ‘নারী বইয়ের মত বইটা ব্যান্ড হতে পারে।’ যাহোক আমি বইটা না কিনেই চলে এসেছিলাম।” পরে শুনেছি- বইটির কাটতি ভালোই। লুকিয়ে লুকিয়ে কিনেছেও কেউ কেউ।

    আপনার এলার্জি, কিংবা অভিজ্ঞতা কোনটির প্রতিই আমি সংশয় কিংবা অবজ্ঞা করছি না। তবে আমার বইয়ের কাটিতি কিরকম কিংবা সবাইকে লুকিয়ে কিনতে হয়েছে কিনা – সেই অনুমানটুকু না করলেও চলবে। আপনাকে জানিয়ে রাখি – আমার সমকামিতা বইয়ের কাটতি ভালই। ইনফ্যাক্ট শুদ্ধস্বরে গতবার বেরুনো বইগুলোর মধ্যে আমার বইয়ের কাটতি ছিলো সর্বাধিক। বিষয়টি প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুল নিজেই স্বীকার করেছেন তার একটি সাক্ষাৎকারে

    প্রশ্ন : শুদ্ধস্বর প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে পাঠক কোন বইটি সবচেয়ে পছন্দ করেছে? পাঠকদের চাহিদা সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?

    উত্তর : অনেক বইই পাঠক পছন্দ করেছে। যেমন ২০১০এ প্রকাশিত ‘সমকামিতা’ বইটি নিয়ে ব্যাপক পাঠকের আগ্রহ লক্ষ্য করেছি। পাঠক চাহিদা নিরুপন করা খুব কঠিন কাজ। এর আগে পাঠকের শ্রেণীবিন্যাস প্রয়োজন।

    বস্তুত টুটুল পুরো সাক্ষাৎকারে একটি বইয়ের নামই উল্লেখ করেছেন, আর সেটি ছিলো আমার বই সমকামিতা।

    সমকামিতা কোন মেইনস্ট্রিম বই ছিলো না। তারপরেও এর কাটতি অবাক করার মতোই। আপনার অভিজ্ঞতা মোতাবেক সবাই বই দেখে রেখে দিলে কিংবা লুকিয়ে লুকিয়ে কিনলে সেটা হবার কথা নয়।

    আর এবারের ‘অবিশ্বাসের দর্শন’ এর কাটতি কিরকম হচ্ছে সেটা আমি না হয় নাই বললাম। এবারের মেলায় গেলেই বুঝতে পারবেন। টাইম মেশিন করে গেলে হবে না – সত্যি সত্যি যেতে হবে! 🙂

    সবাই যেখানে এবারের বইমেলার অভিজ্ঞতা লিখছে, আপনি সেখানে পুরোন কাসুন্দির ঝাঁপি উন্মোচন করে চলেছেন। নতুন কিছু লিখুন বরং।

  8. সৈকত চৌধুরী ফেব্রুয়ারী 6, 2011 at 6:47 পূর্বাহ্ন

    এবার নিশ্চয়ই অভিদা বিশ্বাস করবেন যে আপনি সত্যি সত্যি তার বই হাতে নিয়েছিলেন এবং আপনার বিবরণ সর্বৈব সত্য।(বিশ্বাস না করে যাবেন কই?)

    এরপর আর কোনোদিন দেয়া হয়নি। এ পজেটিভ রক্ত এমনিতেই এভেইলেবল। লোকে বলে- ‘এ’টা নাকি গরুর রক্ত!

    গরুর রক্ত!! মানে??

    শেষের নাটকীয় বিবরণটা চমৎকার হয়েছে। ধন্যবাদ।

    • অভিজিৎ ফেব্রুয়ারী 6, 2011 at 8:17 পূর্বাহ্ন

      @সৈকত চৌধুরী,

      এবার নিশ্চয়ই অভিদা বিশ্বাস করবেন যে আপনি সত্যি সত্যি তার বই হাতে নিয়েছিলেন এবং আপনার বিবরণ সর্বৈব সত্য।(বিশ্বাস না করে যাবেন কই?)

      মাহফুজ সাহেবের পুরানো বিষয় টেনে এনে অনাবশ্যক ঘ্যান ঘ্যান করার অভ্যাস আছে। এ লেখাটিও তার ব্যতিক্রম নয়। না আমি তার আগের গল্পকে সত্য মিথ্যা কোনটিই মনে করিনি। মোকসেদ আলীর গল্পের মত কেবল পড়ে গেছি আর পথিকের মন্তব্যে হেসে গরাগড়ি খেয়েছি, এইটুকুই।

      আর উনি নিজেই কিন্তু এই মন্তব্য শুরু করেছিলেন এই বলে –

      বইমেলা ২০০৯ এ বইমেলায় গেছি। বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে বই নাড়াচাড়া করে দেখছি। কিছু বইও কিনে ফেললাম। হঠাৎ করে একটি স্টলে এসে থেমে সমকামিতা নামে বইটি দেখলাম।

      অথচ আমার সমকামিতা বইটি বেরিয়েছিলো ২০১০ সালে। হতে পারে আমি ভুলে মূল পোস্টে ২০০৯ উল্লেখ করাতে মাহফুজ সাহেবও সেটা ধরে নিয়েই এগিয়ে গিয়েছেন। তা এগুক, আমার অসুবিধা নেই। যদিও অন্যান্যরা সন্দেহ করেছেন মাহফুজ সাহেবের বোধ হয় টাইম মেশিন আছে। 🙂

      আসলে মাহফুজ সাহেবের কোনটা গল্প আর কোনটা সত্য বোঝা মুশকিল। শুধু আমার না অনেকেরই হয়। ওই মোকসেদ আলী নিয়েই তিনি এক রহস্য করে রেখেছেন, সেটা না হয় বাদ দেই, এই লেখায় বিপ্লব রহমানকে ফোন করা নিয়ে কাহিনীর শেষ লাইনটি পড়ুন –

      ধাক্কায় আমার কল্পনার জাল ছিন্ন হয়ে যায়।

      আপনার কি মনে হয় মাহফুজ সাহেব বিপ্লবকে সত্যই ফোন করেছিলেন? :))

      কে জানে কোনদিন আবার এই লেখার সূত্র ধরে কল্পনার জালকে বাস্তব বলে জাস্টিফাই করবেন, আর অনাবশ্যকভাবে ঘ্যান ঘ্যান করতে থাকবেন!

      • আফরোজা আলম ফেব্রুয়ারী 6, 2011 at 10:42 পূর্বাহ্ন

        @অভিজিৎ,

        এইবারকার মেলায় আমার কেনা প্রথম বই ‘সমকামিতা” কেননা আমার মনে হল বইটা আমার মূল্যবান সংগ্রহের এক অংশ হয়ে থাকবে। এমন বই যা আমি স্বগর্বে কিনেছি। নিজকে ভাগ্যবান মনে করেছি, আর মনে হয়েছে এই অভিজিত’কে আমি চিনি। কি উত্তেজনাকর বিষয়।

এই আলোচনাটি শেষ হয়েছে.