গ্লোবাল টাইগার সামিট ও আমাদের রাম-রহিমের জীবনমূল্য

By |2012-07-24T07:27:48+00:00নভেম্বর 21, 2010|Categories: বিতর্ক, সমাজ, সংস্কৃতি|27 Comments

গ্লোবাল টাইগার সামিট ও আমাদের রাম-রহিমের জীবনমূল্য
-জাহাঙ্গীর হোসেন

 

 

 

২১ নভেম্বর ২০১০ রাশিয়ায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণায় শুরু হলো ‘গ্লোবাল বাঘ সামিট”। বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে খোদ প্রধানমন্ত্রী সেখানে গিয়েছেন, আমাদের অহংবোধের একমাত্র আন্তজার্তিক প্রাণী ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার’ বিষয়ে সারগর্ভ কথাবার্তা বলার জন্যে। মূলত বিলুপ্তপ্রায় বাঘকে কিভাবে বাঁচানো এবং ২০২২ সালের মধ্যে এর সংখ্যা দ্বিগুণ তথা ভালভাবে বাঁচানোর কৌশলপত্র তৈরী করাই হবে এ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য। মাস খানেক আগে বহুল প্রচারিত একটি দৈনিকের রিপোর্টে সুন্দরবনের আশে-পাশের বাঘের আক্রমনে মানুষ হত্যার চিত্র ছিল নিম্নরূপ :

“……২০০০ সালে বাঘের আক্রমণে মানুষ মারা যায় ৩০-জন, ২০০১ সালে ১৯, ২০০২ সালে ২৮, ২০০৪ সালে ১৫, ২০০৫ সালে ১৩, ২০০৬ সালে ৬, ২০০৭ সালে ১০, ২০০৮ সালে ২১, ২০০৯ সালে ৩০, ২০১০ সালে (আগস্ট পর্যন্ত) ৩০ জন। ভারতীয় প্রাণী বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের মাংস মিষ্টি হওয়ার কারণেই বাঘ লোকালয়ে আসছে। বন নিরাপদ-বান্ধব না হওয়ায় বাঘের হাতে মানুষের মৃত্যুর খবর বাড়ছে। আবহাওয়ার কারণে বাঘ মানুষের মাংসে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ও ভারতের এ অঞ্চলে জলোচ্ছ্বাসে হাজার হাজার মানুষ মারা যায়। আর স্রোতের টানে ভেসে যাওয়া এসব গলিত মৃতদেহ বাঘ খায়। ফলে তারা মানুষখেকো বাঘে পরিণত হচ্ছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা”।

এখন টিভি চ্যানেলের ‘ব্রেকিং নিউজে’ কিংবা পত্রিকার পাতায় প্রায়ই চোখে পড়ে, “সুন্দরবনে মধু বা গোলপাতা কিংবা শুকনো কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে ‘ওমুক-ওমুক’ বাঘের আক্রমনে নিহত”। অনেকটা রাস্তার ‘রোড-এক্সিডেন্টে’র মত। আসলে প্রতি বছর ‘আমাদের তথাকথিত অহংকার’ সুন্দরবনের বাঘ-এর আক্রমনে আমাদের কত মাওয়ালী, বাওয়ালী, জেলে ও নিরীহ গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়, তার সঠিক পরিসংখ্যান আমরা না রাখলেও, সুন্দরবনে কতটি বাঘ আছে, তার মধ্যে পুরুষ, মহিলা ও শিশু বাঘ ক’টি ইত্যাদির সব তথ্য সংগ্রহে আমরা অত্যন্ত ব্যাকুল। সর্বশেষ জরীপ মতে, এদেশে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা ৪১৯-টি, যার মধ্যে পুরুষ বাঘ ১২১ ও মহিলা বাঘ ২৯৮-টি। বাংলাদেশের মানুষেরও এত সঠিক হিসেবে আছে কিনা আমার সন্দেহ! ‘সেন্ট পিটার্সবার্গ’ সম্মেলনের আগে এদেশে মহা উৎসাহে চমৎকার ব্যানার পোস্টারে পালন করা হলো ‘বাঘ-দিবস’। বাঘ আমাদের অহংবোধের প্রাণী হলেও, এটিই হচ্ছে সম্ভবত বিশ্বের অন্যতম কিংবা একমাত্র প্রাণী, যে কিনা তার ‘নিজ সন্তানকেও হত্যা করে আহার করে’ ক্ষুধা পেলেই। অর্থাৎ হিস্্রতা ও মানবিক নিকৃষ্টতা বাঘের মধ্যে প্রবলতর অন্য অনেক প্রাণী থেকে। কারন সাপ, হায়না কিংবা গন্ডারও তার শিশুকে ক্ষুধার জ্বালায় খেয়ে ফেলে না। এহেন প্রাণী নিয়ে আমরা “অহংকার’ করছি, সম্ভবত আমাদের অহংবোধের উপকরণের ঘাটতি এদেশে প্রকট বলেই।

বিশ্বের মাত্র ১৩-টি দেশে বাঘ বাস করে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। অন্য দেশগুলো হচ্ছে ভারত, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়শিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, ভুটান, নেপাল ও রাশিয়া। বিশ্বে বাঘ বসবাসকারী দেশের নামগুলো দেখলেই বোঝা যায়, ইউরোপ বা আমেরিকার উন্নত দেশগুলোতে কোন বাঘ বাস করে না এবং বর্ণিত দেশগুলো তৃতীয় বিশ্বের (রাশিয়া ছাড়া, সমাজতান্ত্রিক রাশিয়াকেও পশ্চিমারা আগে ঐ চোখেই দেখতো) গরিব দেশ। এই দেশসমূহের মানুষগুলোর নিজেদের ভাত-কাপড়ের জন্যে প্রতিনিয়ত জীবনের সাথে যুদ্ধ করতে হয়। বাংলাদেশের মানুষের বেলায় কথাগুলো আরো বেশী প্রকট ও রূঢ়ভাবে সত্য। সে ক্ষেত্রে নিজেদের নিছক বিপদে পড়ে জীবন ধারণের জন্যেই এদেশের দক্ষিণ জনপদের মানুষদেরকে সুন্দরবনে মধু, গোলপাতা বা অন্যবিধ বনজ জিনিসপত্র সংগ্রহে যেতে হয়। আর জীবন বাঁচানোর এ সংগ্রামে তাকে দিতে হয় বাঘের আক্রমনে নিজের জীবন কিংবা আহত হয়ে পঙ্গু অবস্থায় কাটাতে হয় কাল। এ ক্ষেত্রে আইন হচ্ছে বাঘের পক্ষে অর্থাৎ বাঘকে হত্যা করা যাবে না স্বাধীন দেশের মানুষ হয়েও কিন্তু বাঘ বাংলাদেশের স্বাধীন মানুষ হত্যা করলে বাঘের কোন শাস্তি নেই। এ আইনটি সম্ববত পশ্চিমারা আমাদের উপর চাপিয়েছে তাদের দেশে বাঘ নেই বলে। এমনকি যারা নিজেদের স্বার্থে আমাদের মত গরিব দেশের জন্যে এ আইন চাপিয়েছে, তারাও আমাদের নিহত অসহায় মানুষগুলো ও তাদের পরিবারের জন্য কোন মানবিক সহায়তা করে না, যেমনটি করে থাকে কোন বাঘের মৃত্যু হলে। মানে এখানে বাঘের চেয়ে মানুষের জীবন-মৃত্যু নিতান্তই তুচ্ছ!

আমেরিকা-ইউরোপের শিল্পোন্নত দেশ গুলোতে মানুষের মৌলিক চাহিদা পুরণের সংগ্রাম খুব একটা তীব্র নয়। তারা নানাভাবে বিশ্ব ও তার পরিবেশকে তাদের পক্ষে রাখতে চায় সর্বত্র। এজন্যে নানাবিধ কৌশল ও আইন করে তা প্রয়োগের দায়িত্ব চাপিয়ে দেয় আমাদের মত গরিব দেশের মানুষের উপর। ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা’র নামে বাঘ হত্যা না করতে পারাও এই জাতীয় একটি আইন। যা এদেশের মানুষের জন্যে কি কল্যাণ বয়ে আনছে, তা গভীরভাবে চিন্তার দাবী রাখে।
আজকাল টিভি চ্যানেলগুলো খুললেই আফ্রিকার হিংস্র সিংহ-বাঘ কর্তৃক জেব্রা, ওয়াইলবিস্ট, মহিষ ইত্যাদিকে ঝাপটে ধরে কিভাবে মহা উল্লাসে হত্যা করা হয়, তা দেখে আমাদের হৃদয় অনেকেরই কাঁদে। কিন্তু এদেশের হাজারো ‘নুন আনতে পান্তা ফুরানো’ টাইপের ‘ছলিমদ্দি-কলিমদ্দি’দের কিভাবে বাঘে টেনে নিয়ে হত্যার পর, তাদের অসহায় পরিবারবর্গ কিভাবে আবার নতুন জীবন যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়, তা অদ্যাবধি এদেশের কিংবা ঐ দেশীয় বহু জাতিক চ্যানেলগুলো সম্ভবত এ জন্যে দেখায় না যে, এদেশের মানুষ তখন তার স্বজনদের যে কোন ভাবে রক্ষায় এগিয়ে আসবে এবং স্বজনখেকো বন্য বাঘকে এভাবে তথাকথিত “ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের” মাধ্যমে রক্ষার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।

হ্যা, লেখার বিষয়বস্তু পাঠান্তে কোন কোন পাঠকের মনে হতে পারে, লেখক বোধহয় ভীষণভাবে এদেশের জাতীয় প্রাণী বাঘ বিদ্বেষী। আসলে আমি বর্ণিত হিংস্র বাঘ বিদ্বেষী নই, প্রকৃতপক্ষে আমি অসহায় জীবন যুদ্ধান্নেষী মানুষের জীবন সংহার বিদ্বেষী এবং তাদের অসহায় পরিবারের ব্যথায় ব্যথিত এদেশের সাধারণ মানুষ মাত্র। যা মূলত এদেশে ঘটে থাকে বর্ণিত বাঘ দ্বারা। সকল মানুষের মধ্যে সব বিষয়েই সচেতনতা থাকা জরুরী কিন্তু আমরা অনেক কাজ করি হুজুগে কিংবা অন্য কাউকে খুশি করার জন্যে কিংবা কেন করি হয়তো নিজেরাও ভাল করে জানিনা। আসলে করার জন্যেই করা কিংবা সরকারী অর্থের শ্রাদ্ধ করা আরকি! এ বিষয়ে ছোটবেলায় শোনা একটা হাসির গল্পের কথা এখানে স্মরণযোগ্য। গল্পটি হচ্ছে- একটি মিছিল যাচ্ছে এবং সবাই বলছে, “মানিনা-মানিনা”. পথচারীরা জানতে চাইলো, “কি মানেন না?” মিছিলকারীরা কোরাসের সঙ্গে বলতে বলতে চললো, “জানিনা জানিনা”। মনে হচ্ছে আমরাও যা করছি তা কেন করছি, কার জন্যে করছি, কিভাবে করছি, কোথায় করছি, এই করার পেছনে মঙ্গল বা কল্যাণ কি ইত্যাদি না জেনেই কেবল করে যাচ্ছি।

হ্যা, বিষয়টির গভীরে একটু প্রবেশ করা যাক, যে আমাদের অহংবোধের প্রাণী বাঘ আমাদের কি কি উপকার করছে ও ক্ষতির পরিমানই বা কি? আমরা যদি আবেগের বশবর্তী না হয়ে ঠান্ডা মাথায় অত্যন্ত গভীরভাবে চিন্তা করি তাহলে দেখতে পাবো, বাঘ প্রতিবছর আমাদের কত মানুষকে হত্যা করছে। তা ছাড়াও বাঘ তার নিজ সন্তান হত্যা ছাড়াও প্রতি বছর আমাদের কত হরিণ, বন মোরগ, অন্য বন্য ও গৃহপালিত প্রাণী খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে, তার পরিসংখ্যান কিন্তু কেউ করছে না। বাঘে সুন্দরবনের হরিণ না খেলে, আমাদের হরিণের সংখ্যা অনেক বেশী হতো নাকি? তাতে আমাদের কি ক্ষতি হতো? কয়েক বছর আগে ‘বাঘমুক্ত’ নিঝুম দ্বীপে মাত্র কয়েক জোড়া হরিণ ছাড়া হলেও, বর্তমানে ঈর্ষণীয়ভাবে ঐ দ্বীপে হরিণের সংখ্যা বেড়ে গেছে এবং সরকার ঐ দ্বীপের হরিণ রপ্তানী বা জনসাধারণের কাছে বিক্রির চিন্তা করছে বলে পত্রিকার রিপোর্টে প্রকাশ। নিঝুম দ্বীপে কেবল হরিণ আছে বাঘ নেই, তাতে নিঝুম দ্বীপবাসী ও সেখানে বসবাসকারী হরিণ কারোই কোন সমস্যা হচ্ছে না। হরিণের সংখ্যা ঈর্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। আর এই বাঘ রক্ষার জন্যে কত সরকারী অফিস, প্রকল্প, প্রচার প্রচারণা, পোস্টার-ব্যানার, সভা-সেমিনার তার হিসেব আমার মত সাধারণ মানুষের পক্ষে দেয়াও অত্যন্ত কষ্টকর। কিন্তু দুঃখজনক সত্য, এদেশের অসহায় ‘রাম-রহিম’দের বর্ণিত বাঘ থেকে রক্ষার কোন প্রকল্প বা বরাদ্দ কিংবা মরনোত্তর পরিবারবর্গের ভরণ পোষণের কোন ব্যবস্থা আমরা করেছি কি?

বর্ণিত বাঘ যদি এদেশে না থাকতো অথবা এখনো যদি না থাকে তবে কি কি ক্ষতি হবে আমাদের? আমরা কি বাঘ রপ্তানীর মাধ্যমে কোন বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছি? কোন বাঘ রপ্তানী করে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা পেয়েছি বলে আমার জানা নেই। হ্যা আধুনিক ধনতান্ত্রিক বিশ্ববাজারে ‘রয়েল বেঙ্গলে’র বেশ নাম ডাক আছে। তবে বাংলার নামে এদেশের বাঘের বিশ্ববাজারে বেশ নাম ডাক থাকলেও, ঐ “রয়েল বেঙ্গলের দেশের মানুষ হওয়ার কারনে” এদেশের গরিবী রংয়ের ‘সবুজ পাসপোর্টধারী’ বাংলাদেশীদের বিশ্বের কোথাও বিশেষ কোন ‘খাতির-যতœ’ করে বলে কিংবা ‘ভিসা প্রাপ্তি’তে অগ্রাধিকার ইত্যাদির কথা অদ্যবাধি শোনা যায়নি। আর আমরা প্রতি বছর আমাদের অনেক মানুষের জীবনের বিনিময়ে ‘িবশ্ব পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার নামে’ সমগ্র বিশ্বের মানুষের পক্ষে এদের রক্ষা করছি আমাদের জীবন দিয়ে। ইউরোপের উন্নত দেশগুলোতে যেমন নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, ইটালী কিংবা কানাডা প্রভৃতি দেশে ‘রয়েল বেঙ্গল’ নেই বলে কি তাদেরকে বিশ্বের মানুষ ছোট ভাবছে? আমাদের আছে বলেতো কেউ আমাদের ‘অভিজাত’ বা উচ্চ শ্রেণীর দেশের লোক মনে করছে না কোথাও। আর আমাদের দেশে বাঘ না থাকলেও ঐ কারনে আমাদের মর্যাদা বিশ্বের অন্য দেশে কমে যাবে বলে ভাবার কোন যুক্তি দেখি না। এমনকি আমাদের বর্ণিত বাঘের জন্যে এদেশটি ‘পর্যটক’-দের দেশ হিসেবেও গড়ে উঠেনি। ‘ম্যাকাও, সিঙ্গাপুর বা বাহামা’ দ্বীপপুঞ্জে আলোচ্য প্রাণী না থাকা সত্বেও, তাদের পর্যটন শিল্পে আয় আমাদের রাজস্ব বাজেটের কাছাকাছি! আর আমাদের আয়ের কথা কি আর বলবো! বাংলাদেশে যারা গার্মেন্টস ব্যবসা, আদম ব্যবসা বা অন্য কোন ব্যবসায়িক কাজে ভ্রমনে আসছে ‘টুরিস্ট ভিসা’ নিয়ে, তাদেরকে আমরা ‘বার্ষিক ফরেন টুরিস্ট’ হিসেবে ‘হিসাবে ধরে’ প্রচার চালিয়ে নিজেদের আত্মতৃপ্তি লাভ করছি। হ্যা তার মধ্যে কেউ কেউ হয়তো সুন্দরবনেও যাচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ‘ম্যানগ্রোভ বন’টি দেখার জন্যে। সেক্ষেত্রে বর্ণিত বাঘ দেখার জন্যে বিদেশী কোন টুরিস্ট এসেছিল বলেও তেমন বড় পরিসংখ্যান নেই। আমরা প্রতিনিয়ত জীবন ধারনের জন্যে মাছ, মুরগী, গরু-ছাগল ইত্যাদি হত্যা করছি যৌক্তিক কারনে, এভাবে অন্য প্রাণীরাও তাদের জীবন ধারণের জন্যে আমাদের হত্যা করবে, আর আমরা পরিবেশের নামে তা চেয়ে চেয়ে দেখবো?

তাহলে পুরো ব্যাপারটিই হচ্ছে আমাদের তথাকথিত আবেগঘন ‘আভিজাত্য‘ তথা খামোখা অসহায় মানুষের জীবনের সাথে এক ধরণের ‘প্রতারণার নামে প্রচারণা’, যা ত্যাগ করাই আমাদের জন্যে সবদিক দিয়ে শ্রেয়। আমাদের পরিবেশবাদী ও এই কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিগণকে বিনীতভাবে অনুরোধ জানাবো, আমাদের দেশের মাটি ও মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্যে, অন্য দেশের তথাকথিত ‘আমাদের মানুষের জন্যে কল্যাণহীন’ আইনের পক্ষে নয়। এ ক্ষেত্রে মানবিকতা ও যু্িক্তর প্রাধান্য অত্যাবশ্যক, তথাকথিত আবেগের চেয়ে।

জাহাঙ্গীর হোসেন (লেখক ও সমাজ গবেষক)
Email : [email protected]

About the Author:

মুক্তমনার অতিথি লেখকদের লেখা এই একাউন্ট থেকে পোস্ট করা হবে।

মন্তব্যসমূহ

  1. আদনান নভেম্বর 24, 2010 at 4:29 পূর্বাহ্ন - Reply

    মানুষকে বাঘ শিকার করতে দিতে হবে, চাষ করতে দিতে হবে, খেতে দিতে হবে, চামড়া/হাঁড়/মাংস বেঁচাকেনা করতে দিতে হবে, তা না হলে বাঘ বাঁচানো যাবেনা। এমন একটা কথা কোথায় যেনো পড়েছিলাম। আমি এই মতের সাথে একমত।

    আমরা সবাই পৃথিবী বাঁচানোর স্বপ্ন দেখছি। দেখা যাক শুধু বাঘ বাঁচাতে পারি কিনা।

  2. হোরাস নভেম্বর 23, 2010 at 11:30 অপরাহ্ন - Reply

    জাহাঙ্গীর হোসেন (লেখক ও সমাজ গবেষক)

    আশা করি উনি সমাজ গবেষক হিসাবে খুব একটা কেউকেটা গোছের কেউ নন। আর যদি হন তাইলে তাইলে :-Y ছাড়া আর কোন উপায় নাই।

  3. ক্রান্তিলগ্ন নভেম্বর 23, 2010 at 10:05 পূর্বাহ্ন - Reply

    আপনি বোধহয় ধারণা (idea) মাথায় আসা মাত্র প্রবন্ধটি লিখেছেন এবং প্রকাশ করেছেন। তাই না?

    তরিৎগতিতে লেখার জন্য ধন্যবাদ।

    তবে আমার কথার সত্যতা নিশ্চিত করবেন দয়া করে। উত্তরের অপেক্ষায় থাকলাম।

    :coffee:

  4. সংশপ্তক নভেম্বর 22, 2010 at 10:18 অপরাহ্ন - Reply

    প্রবন্ধটা পড়ে ব্যথিত হলাম। একদিকে যেমন কিছু বিবর্তনবৈকল্যে ভুক্ত বর্বর মানুষের পক্ষে সাফাই গাওয়া হয়েছে , অন্যদিকে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর , ব্যক্তিত্বশালী এবং উন্নত মানসিকতার অধিকারী চতুষ্পদ প্রানী বাঘ্রের প্রতি চরম বিদ্বেষ এখানে লক্ষণীয়।

  5. বিপ্লব রহমান নভেম্বর 22, 2010 at 7:57 অপরাহ্ন - Reply

    এ ক্ষেত্রে আইন হচ্ছে বাঘের পক্ষে অর্থাৎ বাঘকে হত্যা করা যাবে না স্বাধীন দেশের মানুষ হয়েও কিন্তু বাঘ বাংলাদেশের স্বাধীন মানুষ হত্যা করলে বাঘের কোন শাস্তি নেই। এ আইনটি সম্ববত পশ্চিমারা আমাদের উপর চাপিয়েছে তাদের দেশে বাঘ নেই বলে। এমনকি যারা নিজেদের স্বার্থে আমাদের মত গরিব দেশের জন্যে এ আইন চাপিয়েছে, তারাও আমাদের নিহত অসহায় মানুষগুলো ও তাদের পরিবারের জন্য কোন মানবিক সহায়তা করে না, যেমনটি করে থাকে কোন বাঘের মৃত্যু হলে। মানে এখানে বাঘের চেয়ে মানুষের জীবন-মৃত্যু নিতান্তই তুচ্ছ!

    :hahahee: :hahahee: :hahahee:

    • সৈকত চৌধুরী নভেম্বর 22, 2010 at 8:34 অপরাহ্ন - Reply

      @বিপ্লব রহমান,

      :hahahee:

      ভাই, আপনি ছাড়া আর কেউ এ লেখার মর্ম বোঝে নাই। দয়া করে সকলকে যদি একটু বুঝিয়ে দিতেন।

  6. আকাশ মালিক নভেম্বর 22, 2010 at 6:50 অপরাহ্ন - Reply

    কোন পাঠকের মনে হতে পারে, লেখক বোধহয় ভীষণভাবে এদেশের জাতীয় প্রাণী বাঘ বিদ্বেষী।

    শুধু বাঘ বিদ্বেষীই নয়, পশ্চিমা বিদ্বেষীও, অন্তত লেখা সেটাই প্রমাণ করে।

    • রৌরব নভেম্বর 22, 2010 at 9:08 অপরাহ্ন - Reply

      @আকাশ মালিক,
      :laugh: :lotpot:
      ওই লাইনটি দুবার হািসয়েছে আমাকে।

      bigot রা যেমন অবধারিত ভাবে “অনেকে মনে করতে পারেন আমি অমুক বিদ্বেষী, কিন্তু আসলে আমি তা না” টাইপের মন্তব্য করে, এই লাইনটি ঠিক সেরকম। প্রথমে এটাকে ওই মনোভাবের parody মনে করে হাসলাম, পরে যখন বুঝলাম লেখক মোটেও রসিকতা করছেন না, তখন আরেক চোট।

  7. তুহিন তালুকদার নভেম্বর 22, 2010 at 4:07 অপরাহ্ন - Reply

    আপনার লেখাটি স্তব্ধ করে দেওয়ার মত। যুক্তি নিয়ে রীতিমত কাবাডি খেলেছেন।

    সুন্দরবনে জীবিকা নির্বাহের জন্য অনেকে গিয়ে বাঘের হাতে মারা পড়ে এটা সত্যি কথা। কিন্তু তাই বলে বাঘের বিলুপ্তির ব্যাপারে উদাসীন হওয়া তো কোন সমাধান হতে পারে না। প্রতিদিন অনেক মানুষ সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হয়। এখন আমি যদি বলি, “সড়ক ব্যবস্থা পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের চক্রান্ত এ দেশের মানুষ মারার জন্য। দেশের দরিদ্র পরিবহন শ্রমিকেরা ধনী ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহন করতে গিয়ে দূর্ঘটনায় নির্বিচারে মারা পড়ে। এখন সমাধান হল সড়ক ব্যবস্থা তুলে দিয়ে পায়ে হাঁটা অভ্যাস করা।” – তো কেমন শোনাবে? সড়ক ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে দূর্ঘটনা ঘটলে সমাধান খুঁজতে হবে। মাথা ব্যথা হলে ওষুধ খেতে হবে, মাথা কেটে ফেলা সমাধান নয়।

    এটিই হচ্ছে সম্ভবত বিশ্বের অন্যতম কিংবা একমাত্র প্রাণী, যে কিনা তার ‘নিজ সন্তানকেও হত্যা করে আহার করে’ ক্ষুধা পেলেই। অর্থাৎ হিংস্রতা ও মানবিক নিকৃষ্টতা বাঘের মধ্যে প্রবলতর অন্য অনেক প্রাণী থেকে।

    আপনি বোধহয় ‘মাছের মা’র পুত্র শোক’ কথাটি শোনেননি। মাছের মধ্যেও একই ধরণের ব্যাপার দেখা যায়। এছাড়া নেকড়ে, হাঙর প্রভৃতি প্রাণীও স্বজাতি ভক্ষণ করে থাকে। এবার আপনার পরবর্তী পরামর্শ কি এদেরও হত্যা করার স্বপক্ষে? এমনকি অনেক মানুষও যখন অন্ধবিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে সন্তানকে মৃত্যু মুখে ঠেলে দেয়, তখন তাদের সন্তানের অকাল মৃত্যুর জন্য তারাই দায়ী থাকে।

    নিজেদের নিছক বিপদে পড়ে জীবন ধারণের জন্যেই এদেশের দক্ষিণ জনপদের মানুষদেরকে সুন্দরবনে মধু, গোলপাতা বা অন্যবিধ বনজ জিনিসপত্র সংগ্রহে যেতে হয়। আর জীবন বাঁচানোর এ সংগ্রামে তাকে দিতে হয় বাঘের আক্রমনে নিজের জীবন কিংবা আহত হয়ে পঙ্গু অবস্থায় কাটাতে হয় কাল। এ ক্ষেত্রে আইন হচ্ছে বাঘের পক্ষে অর্থাৎ বাঘকে হত্যা করা যাবে না স্বাধীন দেশের মানুষ হয়েও কিন্তু বাঘ বাংলাদেশের স্বাধীন মানুষ হত্যা করলে বাঘের কোন শাস্তি নেই।

    একটা দেশের পুরো ভূখন্ডে মানুষের বসবাসের ভূমি, কৃষিভূমি, বনভূমি ইত্যাদির একটা অনুপাত থাকা উচিত। বাংলাদেশ অধিক জনসংখ্যার চাপে
    কৃষিভূমি, বনভূমির উপর চাপ পড়ছে। তাই জীবিকা খুঁজতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে মানুষকে বনের ভিতর বাঘের আওতায় যেতে হচ্ছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করলে এর অনেকখানি সমাধান হবে। কিন্তু দেশে আর কিছু থাক না থাক জনসংখ্যার বাম্পার ফলন তো অব্যাহত আছে।

    আইন বাঘের পক্ষে, কিন্তু কাউকে হাসিমুখে মৃত্যুবরণ করে বাঘের রাজকীয়তা উপভোগ করতে হবে, এমন কথা তো কেউ বলে নি। বাঘের আক্রমণে কিভাবে আত্মরক্ষা করতে হবে এই বিষয়ে সরকার উপকূলীয় জনগণকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বলে শুনেছি।

    “রয়েল বেঙ্গলের দেশের মানুষ হওয়ার কারনে” এদেশের গরিবী রংয়ের ‘সবুজ পাসপোর্টধারী’ বাংলাদেশীদের বিশ্বের কোথাও বিশেষ কোন ‘খাতির-যত্ন’ করে বলে কিংবা ‘ভিসা প্রাপ্তি’তে অগ্রাধিকার ইত্যাদির কথা অদ্যবাধি শোনা যায়নি।

    আশ্চর্য্য আপনার যুক্তি! যাদের বিলুপ্তির ব্যাপারে আপনি উদাসীন, তাদের ব্যাপারে আপনি ভেবে দেখবেন, যদি কোন কোন বাণিজ্য আসে বা কোন সুবিধা পাওয়া যায়, তাহলে। কখনো শুনেছেন, অস্ট্রেলিয়াকে কোন ক্রিকেট ম্যাচ জিতিয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের দেশে ক্যাঙ্গারু আছে বলে?

    বাঘ দেখার জন্যে বিদেশী কোন টুরিস্ট এসেছিল বলেও তেমন বড় পরিসংখ্যান নেই।

    বাঘ তো আর নিজে টিভি ক্যামেরার সামনে গিয়ে বিজ্ঞাপন করবে না। সে দায়িত্ব তো আমাদের- টুরিস্টকে উৎসাহিত করে নিয়ে আসা।

    প্রতি বছর আমাদের কত হরিণ, বন মোরগ, অন্য বন্য ও গৃহপালিত প্রাণী খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে, তার পরিসংখ্যান কিন্তু কেউ করছে না। বাঘে সুন্দরবনের হরিণ না খেলে, আমাদের হরিণের সংখ্যা অনেক বেশী হতো নাকি?

    মানুষ মুরগী না খেলে পৃথিবীর বাতাস কত মুরগীর কক কক ধ্বনীতে মুখরিত হয়ে উঠতো! এটাই তো ফুড চেইন, তাই না? কিন্তু অতিরিক্ত মানুষের চাপে সমগ্র বিশ্বের ফুড চেইন, ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

    তাই বলে এই বলছি না যে, বাঘের হাতে মানুষ মেরে ফুড চেইন রক্ষা করতে হবে। তবে, সমাধান আছে এবং একে খুঁজতে হবে। না হলে, পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী হওয়ার দাবিই ছেড়ে দিতে হবে।

  8. তানভী নভেম্বর 22, 2010 at 1:55 অপরাহ্ন - Reply

    ফালতু পোস্ট।

    বাঘ মানুষ দুটোই কি আমাদের চিন্তায় থাকা উচিত না? বাঘের জন্য মানুষ মরে যাক বা মানুষের জন্য বাঘ বিলুপ্ত হয়ে যাক এ দুধরনের চিন্তাই কি অযাচিত নয়?

    আপনার কথাকে উলটে আমিওতো বলতে পারি যে বাঘ না থাকলে উলটো বাঙালিরা সুন্দরবনের বারোটা বাজিয়ে ছেড়ে দিত, এত দিনে বন কেটে উজার করে ফেলত। বাঘের ভয়ে অন্তত এখনো মানুষ সুন্দরবন থেকে কিছুটা দূরে আছে!! (জানি এটা খোঁড়া যুক্তি)

  9. অনন্ত বিজয় দাশ নভেম্বর 22, 2010 at 1:17 অপরাহ্ন - Reply

    কিন্তু দুঃখজনক সত্য, এদেশের অসহায় ‘রাম-রহিম’দের বর্ণিত বাঘ থেকে রক্ষার কোন প্রকল্প বা বরাদ্দ কিংবা মরনোত্তর পরিবারবর্গের ভরণ পোষণের কোন ব্যবস্থা আমরা করেছি কি?

    আমার জানা মতে এই সরকার তো কিছুদিন আগে একটি আইন করেছে হয়েছে, বাঘের হাতে মারা পড়লে ‘বাঘ-বিধবা’ ক্ষতিপূরণ পাবেন। টাকার অঙ্কটা মনে করতে পারছি না। খুব সম্ভবত লক্ষাধিক টাকা।

    সুন্দরবনের আশেপাশের মানুষের অবশ্যই বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। এ বিষয়ে দ্বিমত নেই। লেখকের কাছে প্রশ্ন, তাদের জীবন ধারণের পদ্ধতি কেমন হবে? সুন্দরবনের উদ্ভিদ কেটে? বন্যপ্রাণী হত্যা করে?

    সুন্দরবন আমাদের ন্যাচারাল হেরিটেজের অংশ। সুন্দরবনে বাঘ না থাকলে এর ইকোসিস্টেম, এর ফুডচেইন কি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় থাকবে? না রাখতে পারবেন? আজকে যে জনগোষ্ঠী সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল তারাই তো তখন বিপন্ন হয়ে পড়বে।

    আপনার মতের সাথে মোটেই সহমত হতে পারলাম না।

  10. লীনা রহমান নভেম্বর 22, 2010 at 12:23 অপরাহ্ন - Reply

    এই প্রবন্ধটার কাহিনি বুঝলামনা। :-/

  11. ইমরান মাহমুদ ডালিম নভেম্বর 22, 2010 at 12:25 পূর্বাহ্ন - Reply

    আসলে বাঘ হয়ত থাকা দরকার।কিন্তু আমার দেশের মানুষ মেরে তো আমি এই প্রজাতির লালন-পালন করতে পারি না।হয় তাদের জন্য একটা অভয়ারণ্য করে দেয়া হোক(যদিও বাঘগুলো অভযারণ্যের ধারণা বুঝবে কিনা সে বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে)অথবা ঐ অঞ্চলের মানুষগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।আমি মনে করি,মানুষ আগে।মনে হয় বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান-ও তাই বলবে, কী বলেন,যেহেতু,হকিং সাহেব বলছেন,আমার কাঠামোতে আমার বাস্তবতা-ই সঠিক।যাই হোক,মানুষকে আগে বাঁচাতে হবে

    • ফাহিম রেজা নভেম্বর 22, 2010 at 8:03 পূর্বাহ্ন - Reply

      @ইমরান মাহমুদ ডালিম,

      হয় তাদের জন্য একটা অভয়ারণ্য করে দেয়া হোক(যদিও বাঘগুলো অভযারণ্যের ধারণা বুঝবে কিনা সে বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে)অথবা ঐ অঞ্চলের মানুষগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

      অভয়ারণ্যটা করবেন কই ভাই, দ্যাশে তো ১৬-১৭ কোটি মানুষের ভারে তো পা রাখারই জায়গা নাই। আর কয়েক বছরের মধ্যে জনসংখ্যা ২০-২২ কোটিতে পৌঁছালে আমাদেরই অরণ্যে যেয়ে থাকতে হবে।

      মনে হয় বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান-ও তাই বলবে, কী বলেন,যেহেতু,হকিং সাহেব বলছেন,আমার কাঠামোতে আমার বাস্তবতা-ই সঠিক।যাই হোক,মানুষকে আগে বাঁচাতে হবে

      প্রব্লেম শুধু একখানই, এমন করে মানুষের ‘বাস্তবতার’ কারণে সব জীব সাফা করতে শুরু করলে যে কাঠামোর কথা বললেন সেটাই তো ধ্বসে পড়বে। প্রথমে বাঘ, তারপর হরিণ, আরশোলা, সাপ, ইঁদুর…… একে একে সব শেষ। মানুষ পৃথিবীর যে পরিবেশের কাঠামোর উপর ভর করে টিকে আছে সেটাই তো ভারসাম্যতা হারাবে। আমরা যে মনে করি আমাদের কাঠামোটা আলাদা একটা কিছু, সেটাই তো ভুল। এই একই কারণের দোহাই দিয়ে এর মধ্যেই পৃথিবী জোড়া পরিবেশের ভারসাম্যতা নষ্ট হয়ে যেতে শুরু করে দিয়েছে। তার আগে দেশের মানুষের গন্ডা গন্ডা ছেলে মেয়ে হওয়া বন্ধ করতে বলুন, কাঠামো তো তারাই সবচেয়ে আগে ধ্বংস করছে।

      রৌরবের মতই আমারও লেখকের প্রতি প্রশ্ন, এটা কি রম্যরচনা? নাকি মানুষের চাপে বাঘের মত একটা বিরল প্রাণীকে মেরে কেটে সাকা করে দিলেও কারও কিছু বলা উচিত না?

      • ফাহিম রেজা নভেম্বর 22, 2010 at 8:06 পূর্বাহ্ন - Reply

        মেরে কেটে সাকা করে দিলেও

        ‘মেরে কেটে সাফা করে দিলেও’ বলতে চেয়েছিলাম।

        @মুক্তমনা এডমিন, মন্তব্য এডিট করার একটা ব্যবস্থা করলে কেমন হয়? এটা না থাকার ফলে প্রায়ই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়।

        • মুক্তমনা এডমিন নভেম্বর 22, 2010 at 10:38 পূর্বাহ্ন - Reply

          @ফাহিম রেজা,

          আপাততঃ মন্তব্য এডিট করার অপশন দেয়া নিয়ে আমরা চিন্তা করছি না। আগে এ ধরনের একটি অপশন ছিলো। কিন্তু এ নিয়ে ছোট খাটো কিছু ঝুট ঝামেলা তৈরি হয়েছিলো ব্লগে। এমনকি লেখকেরাও নিজের বা অন্য কারো মন্তব্য এডিট করার অধিকার রাখেন না। এডিট করার অধিকার কেবল মডারেটরদের এক্তিয়ারে রয়েছে আপাততঃ। ব্লগে আমরা বেশ কিছু নতুন ফীচার যোগ করেছি, আরো কিছু নতুন ফীচার যোগ করা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

          আপনার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ।

          • লীনা রহমান নভেম্বর 22, 2010 at 12:22 অপরাহ্ন - Reply

            @মুক্তমনা এডমিন, আমার ব্যাক্তিগত মত হল মন্তব্য এডিট করার অপশন না রাখা। এই অপশন থাকলে বেশ কিছু ঝামেলার সৃষ্টি হতে পারে।

          • বিপ্লব রহমান নভেম্বর 22, 2010 at 7:55 অপরাহ্ন - Reply

            @মুক্তমনা এডমিন,
            অন্তত মিনিট দুয়েকের জন্য শুধুমাত্র নিজের মন্তব্য সংশোধান করার সুযোগ থাকলে মন্দ হতো না। সেক্ষেত্রে মন্তব্যের টাইপো এড়ানো যেতো।

            প্রিয় পোস্ট অপশন চালু করায় অনেক ধন্যবাদ। চলুক। :yes:

      • অনন্ত বিজয় দাশ নভেম্বর 22, 2010 at 1:25 অপরাহ্ন - Reply

        @ফাহিম রেজা,

        অভয়ারণ্যটা করবেন কই ভাই, দ্যাশে তো ১৬-১৭ কোটি মানুষের ভারে তো পা রাখারই জায়গা নাই। আর কয়েক বছরের মধ্যে জনসংখ্যা ২০-২২ কোটিতে পৌঁছালে আমাদেরই অরণ্যে যেয়ে থাকতে হবে।

        :-/ অরণ্যকে রক্ষা করতে পারলে তো। সর্বগ্রাসী ক্ষুধায় বাঘও বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, হরিণ হচ্ছে, অরণ্য বিলুপ্ত হতে আর কতদিন? আন্ডারগ্রাউন্ডে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই! :-/

  12. অসামাজিক নভেম্বর 22, 2010 at 12:02 পূর্বাহ্ন - Reply

    ভেবে দেখার মত বিষয় একটি বটে। বাঘ সংরক্ষন করা উচিত আবার মানুষের নিরাপত্তা ও নিশ্চিত করা দরকার। একটি কথা আমি স্বীকার করবো যে,লেখক সাধারন মানুষের বিপদের কথা যেভাবে তুলে ধরেছেন তা আমাকে বিষয়টি ভেবে দেখতে বাধ্য করছে, তবে, বাঘের অপ্রয়োজনীয়তা যেভাবে বলা হল সেটি মেনে নিতে পারলাম না কারন সবকিছুই অর্থনীতির মানদন্ডে পরিমাপ করা যায় না।
    সবাই এই বিষয়ে নজর দিয়ে কোন একটি উপায় বের করা অনেক জরুরী বলে মনে হচ্ছে।
    ধন্যবাদ লেখাটির জন্য।

  13. রৌরব নভেম্বর 21, 2010 at 11:26 অপরাহ্ন - Reply

    এটা কি রম্য রচনা?

    • বিপ্লব রহমান নভেম্বর 22, 2010 at 7:51 অপরাহ্ন - Reply

      @রৌরব, :lotpot: :lotpot: :lotpot:

      • রৌরব নভেম্বর 22, 2010 at 9:10 অপরাহ্ন - Reply

        @বিপ্লব রহমান, 😉

    • ক্রান্তিলগ্ন নভেম্বর 23, 2010 at 10:00 পূর্বাহ্ন - Reply

      @রৌরব, :yes:

মন্তব্য করুন