তিনটি অনুগল্প দিয়ে মুক্তমনায় লেখার বৌনি করলাম। নামে গল্প হলেও এগুলো গল্প নয়। নির্জলা সত্য। এ জন্যই বলে না – ট্রুথ ইজ স্ট্রেঞ্জার দ্যান ফিকশন?

পাঠকদের ভাল লাগলে মাঝে সাঝে এই রকম অনুগল্প নিয়ে হাজির হব ভাবছি। তাই কারো ভাল লাগলে আওয়াজ দিয়েন। না ভাল লাগলেও বইলেন। তাইলে আর আপনাদের অযথা ডিস্টার্ব দিমু না।

গে পাদ্রী সমাচার

gay_bible

দুই বিয়ে, চার ছেলেমেয়ে এবং কয়েক দশক ধরে কয়েক লাখ ধর্মপ্রাণ খৃষ্টান বান্দাকে হেদায়েত করার পর পাদ্রী জিম সুইলি ৫২ বছর বয়সে এসে কি অনুধাবণ করলেন? নাহ, তিনি গে। আমেরিকা জুড়ে হইচই পরে গেল, এত বড় চার্চের পাদ্রী কিনা গে ! টিভিতে সাক্ষাৎকার দিতে এসেছিলেন, তাকে এক দর্শক প্রশ্ন করে বসলো, খুবই ভালো কথা উনি গে হয়ে গেছেন, কিন্তু বাইবেলে কোথায় গেদেরকে সমর্থন করা হয়েছে, কোথায় বলা আছে যে চার্চের পাদ্রী গে হতে পারে? বাইবেলে সমকামীদের প্রতি কি পরিমাণ ঘৃণা ছড়ানো আছে সেটা তো আর নতুন করে বলার দরকার নেই! বেচারা সুইলি তো পারলে কেঁদেই ফেলেন, কাচু মাচু হয়ে বললেন, আরে ভাই বাইবেলে তো বহু কিছুই আছে। সেন্ট পলের স্লেভারি সমর্থন করা থেকে শুরু করে লোভ বেশি করলে গলায় চাকু চালানো, কিংবা নিজের সন্তান কাজকর্ম না করলে ধরে নিয়ে মেরে ফেলার কথা কি নেই পবিত্র বাইবেলে। আরে আজকের যুগে এসব কিছুই কি আর মানা যায় নাকি।


জোকারের বিবর্তন

joker_naik

কোরান হাদিস বিকৃত করলে মোল্লারা ফতোয়া দেয়। ফতোয়া না দিয়ে কি উপায় আছে? আল্লাহতালার গ্রন্থ বলে কথা। জোর গুজব – জাকির নায়েক, যিনি বাংলা ব্লগসাইটে জোকার নায়েক নামেই বেশি পরিচিত, তিনি নাকি এবার ফতোয়ার শিকার হয়েছেন। শোনা যায় এক বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, দাসীদের সাথে যৌনসম্পর্ক থাকার আয়াতগুলো নাকি আধুনিক যুগে অচল! কি? কোরাণ না সর্ববকালের জন্য প্রযোজ্য আসমানী কিতাব, এর না দাড়ি কমাও কোনদিন বদলানো যাবে না? জোকার নায়েকের তো সাহস কম না, কোরান বিকৃত করে! কোরানের কোনটা অচল আর কোনটা সচল, তা জোকার নায়েক নির্ধারণ করার কে? ফতোয়া তো তিনি খেতেই পারেন, আমি বলি খাওয়াই উচিত। এর আগে আরেকবার ওসামা বিন লাদেনকে সমর্থন করার দায়ে তিনি কাফির হিসেবে ফতোয়া পেয়েছিলেন। জাকির নায়েকের নাম জাকির নায়েক থেকে শুরু করে জোকার নায়েক হয়ে ক্রমবিবর্তনের ধারায় কাফির নায়েকে এসে ঠেকেছে। একেই বলে জোকারের বিবর্তন। এবার বোধ হয় মোল্লারা বিবর্তনেই বিশ্বাস করে বসবে।


কাঠালের আমসত্ত্ব

kathaler_amshotto

এখন থেকে আম গাছ হচ্ছে আমাদের জাতীয় বৃক্ষ। মন্ত্রিসভার আয়োজিত বৈঠকে আম গাছকে বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ হিসাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আমরা সবাই জানি কাঠাল হচ্ছে আমাদের জাতীয় ফল। কিন্তু আজ থেকে আমরা জানি কাঠাল জাতীয় ফল হলেও, ফলের গাছটি জাতীয় হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। জাতীয় গাছ হইলো গিয়া আম গাছ। আম গাছে কাঠাল ফলিয়ে আমরা এখন থেকে কাঠালের আমসত্ত্ব খাব।

জিম সুইলি হইলো গে, জোকার নায়েক হইল কাফির আর কাঠাল দিয়া বানাইলাম আমসত্ত্ব! এই হইল গিয়া আজকের গল্প।

[514 বার পঠিত]